| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * শ্রমিকদের খুশি রাখতে শাজাহান খানকে কিছু কথা বলতে হয় : কাদের   * স্বর্ণ জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ১২৩ রান   * মাদক মামলায় সম্রাট-আরমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট   * অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন দিনে সরকারি, রাতে বেসরকারি   * শুধু আর্থিক নয় সামাজিক-রাজনৈতিক দুর্নীতিও শুরু হয়েছে   * দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে উড়িয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ   * কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেখানো হলো ‘ন ডরাই’   * তিন ক্যামেরার সেরা চার স্মার্টফোন   * নিউজিল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, একজনের মৃত্যু   * মিস ইউনিভার্স হলেন আফ্রিকার কৃষ্ণসুন্দরী  

   কৃষি সংবাদ
  আশ্বিন মাসের কৃষি
 

কাশফুলের শুভ্রতা, দিগন্ত জোড়া সবুজ আর সুনীল আকাশে ভেসে বেড়ানো চিলতে সাদা মেঘ আমাদের মনে করিয়ে দেয় বর্ষার শেষে আনন্দের বার্তা নিয়ে শরৎ এসেছে। সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা। বর্ষা মৌসুমের সবটুকু ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া আর চলতি মৌসুমের পুরো পাওনা আদায় করতে কার্যকরি প্রস্তুতি নেবার সময় এখন। এ প্রেক্ষিতে আসুন সংক্ষেপে জেনে নেই আশ্বিন মাসের বৃহত্তর কৃষি ভুবনের করণীয় বিষয়গুলো।

আমন ধান
আমন ধানের বয়স ৪০-৫০ দিন হলে ইউরিয়ার শেষ কিস্তি প্রয়োগ করতে হবে।
সার প্রয়োগের আগে জমির আগাছা পরিস্কার করে নিতে হবে এবং জমিতে ছিপছিপে পানি রাখতে হবে।
এ সময় বৃষ্টির অভাবে খরা দেখা দিতে পারে। সে জন্য সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। ফিতা পাইপের মাধ্যমে সম্পূরক সেচ দিলে পানির অপচয় অনেক কম হয়।
নিচু এলাকায় আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থানীয় উন্নত জাতের শাইল ধানের চারা রোপন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি গুছিতে ৫-৭টি চারা দিয়ে ঘন করে রোপন করতে হবে।
শিষ কাটা লেদা পোকা ধানের জমি আক্রমণ করতে পারে। প্রতি বর্গমিটার আমন জমিতে ২-৫টি লেদা পোকার উপস্থিতি মারাত্মক ক্ষতির পূর্বাভাস। তাই সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় মাজরা, পামরি, চুঙ্গী, গলমাছি পোকার আক্রমণ হতে পারে। এক্ষেত্রে নিয়মিত জমি পরিদর্শণ করে, জমিতে খুটি দিয়ে, আলোর ফাঁদ পেতে, হাতজাল দিয়ে পোকা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
খোলপড়া, পাতায় দাগ পরা রোগ দেখা দিতে পারে। তাছাড়া সঠিক বালাইনাশক সঠিক মাত্রায়, সঠিক নিয়মে, সঠিক সময় শেষ কৌশল হিসাবে ব্যবহার করতে হবে।


নাবি আমন রোপণ

কোন কারণে আমন সময় মতো চাষ করতে না পারলে আশ্বিনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিআর ২২, বিআর ২৩, বিনাশাইল বা স্থানীয় জাতের চারা রোপণ করা যায়।
গুছিতে ৫-৭টি চারা রোপণ করতে হবে।
অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ইউরিয়া প্রয়োগ ও অতিরিক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে কাঙ্খিত ফলন পাওয়া যায় এবং দেরির ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়।
আখ

আখের চারা উৎপাদন করার উপযুক্ত সময় এখন।
সাধারণত বীজতলা পদ্ধতি এবং পলিব্যগ পদ্ধতিতে পারা উৎপাদন করা যায়।
পলিব্যাগে চারা উৎপাদন করা হলে বীজ আখ কম লাগে এবং চারার মৃত্যুহার কম হয়।
চারা তৈরি করে বাড়ির আঙ্গিনায় সুবিধাজনক স্থানে সারি করে রেখে খড় বা শুকনো আখের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
চারার বয়স ১-২ মাস হলে মূল জমিতে রোপন করতে হবে।
কাটুই বা অন্য পোকা যেন চারার ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিনা চাষে ফসল আবাদ

মাঠ থেকে বন্যার পানি নেমে গেলে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় বিনা চাষে অনেক ফসল আবাদ করা যায়।
ভুট্টা, গম, আলু, সরিষা, মাসকালাই বা অন্যান্য ডাল ফসল, লালশাক, পালংশাক, ডাটাশাক বিনা চাষে লাভজনকভাবে অনায়াসে আবাদ করা যায়।
সঠিক পরিমান বীজ, সামান্য পরিমান সার এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে লাভ হবে অনেক।
যেসব জমিতে উফশী বোরো ধানের চাষ করা হয় সেসব জমিতে স্বল্প মেয়াদি টরি-৭ ও কল্যাণী জাতের সরিষা চাষ করতে পারেন।
শাক-সবজি

আগাম শীতের সবজি উৎপাদনের জন্য উঁচু জয়গা কুপিয়ে পরিমাণ মতো জৈব ও রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া প্রয়োগ করে শাক উৎপাদন করা যায়।
শাকের মধ্যে মুলা, লালশাক, পালংশাক, চিনা শাক, সরিষা শাক অনায়াসে করা যায়।
সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, টমেটো, বেগুন, ব্রকলি বা সবুজ ফুলকপিসহ অন্যান্য শীতকালীন সবজির চারা তৈরি করে মূল জমিতে বিশেষ যতেœ আবাদ করা যায়।
কলা

অন্যান্য সময়ের থেকে আশ্বিন মাসে কলার চারা রোপণ করা সবচেয়ে বেশি লাভজনক। এতে ১০-১১ মাসে কলার ছড়া কাটা যায়।
ভাল উৎস বা বিশ্বসস্ত চাষি ভাইয়ের কাছ থেকে কলার অসি চারা সংগ্রহ করে রোপণ করতে হবে।
কলার চারা রোপণের জন্য ২-২.৫ মিটার দূরত্বে ৬০ সেমি. চওড়া এবং ৬০ সেমি গভীর গর্ত করে রোপণ করতে হবে।
গর্তপ্রতি ৫-৭ কেজি গোবর, ১২৫ গ্রাম করে ইউরিয়, টিএসপি ও এওপি সার এবং ৫ গ্রাম বরিক এসিড ভালভাবে মিশিয়ে৫-৭ দিন পর অসি চারা রোপণ করতে হবে।
কলা বাগানে সাথি ফসল হিসেবে ধান, গম, ভুট্টা ছাড়া যে কোন রবি ফসল চাষ করা যায়।
গাছপালা

বর্ষায় রোপণ করা চারা কোনো কারণে মরে গেলে সেখানে নতুন চারা রোপণের উদ্যোগ নিতে হবে।
রোপণ করা চারার যত্ন নিতে হবে এখন। যেমন- বড় হয়ে যাওয়া চারার সঙ্গে বাঁধা খুঁটি সরিয়ে দিতে হবে এবং চারার চারদিকের বেড়া প্রয়োজনে সরিয়ে বড় করে দিতে হবে। মরা বা রোগাক্রান্ত ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে।
চারা গাছসহ অন্যান্য গাছে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় এখন।
গাছের গোড়ার মাটি ভালো করে কুপিয়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। দুপুর বেলা গাছের ছায়া যতটুকু স্থানে পড়ে ঠিক ততটুকু স্থান কোপাতে হবে। পরে কোপানো স্থানে জৈব ও রাসায়নিক সার ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে।
প্রাণিসম্পদ

হাঁস-মুরগির কলেরা, ককসিডিয়া, রাণীক্ষেত রোগের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রাথমিকভাবে টিকা প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রাণি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক।
এ মাসে হাঁস-মুরগির বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে পারেন। বাচ্চা ফুটানোর জন্য অতিরিক্ত ডিম দেবেন না। তাছাড়া ডিম ফুটানো মুরগির জন্য অতিরিক্ত বিশেষ খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
আশ্বিন মাসে গবাদিপশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো দরকার।
গবাদি পশুকে খোলা জায়গায় না রেখে রাতে ঘরের ভিতরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
পানিতে জন্মানো পশু খাদ্য এককভাবে না খাইয়ে শুকিয়ে খরের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
এ সময় ভুট্টা, মাসকলাই, খেসারি বুনো ঘাস উৎপাদন করে গবাদিপশুকে খাওয়াতে পারেন।
গর্ভবতী গাভীকে, সদ্য ভূূমিষ্ঠ বাছুর ও দুধালো গাভীর বিশেষ যতœ নিতে হবে।
এ সময় গবাদি প্রাণির মড়ক দেখা দিকে পারে। তাই গবাদিপশুকে তড়কা, গলাফুলা, ওলান ফুলা রোগের জন্য প্রতিষেধক, প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চত করতে হবে।
মৎস্যসম্পদ

বর্ষায় পুকুরে জন্মানো আগাছা পরিস্কার করতে হবে এবং পুকুরের পাড় ভালো করে বেধে দিতে হবে।
পুকুরের মাছকে নিয়মিত পুষ্টিকর সম্পুরক খাবার সরবরাহ করতে হবে।
এ সময় পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে।
তাছাড়া পুকুরে জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রোগ সারাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ।
এ সময় সরকারি ও বেসরকারি মাছের খামার থেকে জিওল মাছের পোনা সংগ্রহ করে পুকুরে ছাড়ার ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, আশ্বিন মাসে সারা দেশ জুড়ে ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু হয়। আমন ধান রক্ষাসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতির মাত্রা কমানোর জন্য এ অভিযান চলে। এককভাবে বা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় ইঁদুর দমন করলে কোন লাভ হবে না। ইঁদুর দমন কাজটি করতে হবে দেশের সকল মানুষকে একসাথে মিলে এবং ইঁদুর দমনের সকল পদ্ধতি ব্যবহার করে। ইঁদুর নিধনের ক্ষেত্রে যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় সেগুলো হলো- পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চাষাবাদ, গর্তে ধোঁয়া দেয়া, ফাঁদ পাতা, উপকারী প্রাণী যেমন- পেঁচা, গুইসাপ, বিড়াল দ্বারা ইঁদুর দমন, বিষটোপ এবং গ্যাস বড়ি ব্যবহার করা। আসুন সবাই একসাথে ইঁদুর দমন করি। কৃষির যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার নিকটস্থ উপজেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা ১৬১২৩ এ নম্বরে যে কোনো মোবাইল অপারেটর থেকে কল করে নিতে পারেন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা কৃষিকে নিয়ে যাবে উন্নতির শিখরে।


কৃষিবিদ মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন
তথ্য অফিসার (কৃষি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 119        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     কৃষি সংবাদ
পেঁয়াজের বিকল্প নিয়ে গবেষণায় সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানী
.............................................................................................
আলু চাষে ব্যস্ত নীলফামারীর কৃষকেরা
.............................................................................................
আশ্বিন মাসের কৃষি
.............................................................................................
নওগাঁয় আমের ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগান ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
বরগুনায় কাঁকড়া চাষ প্রসার লাভ করছে
.............................................................................................
গম চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি হিলির চাষিরা
.............................................................................................
যশোরের গদখালিতে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা
.............................................................................................
সীমান্ত এলাকায় গম চাষে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যৌথ গবেষণা কেন্দ্র চালু
.............................................................................................
দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলার ধানে `ব্লাস্টের সংক্রমণ`
.............................................................................................
হালদায় ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মাছ
.............................................................................................
এবার ধানে ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণ
.............................................................................................
ভোলায় যে কারণে অসময়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরমুজ
.............................................................................................
কিশোরগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো আবাদ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]