| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ   * আকাশে বোয়িং ৭৮৭ প্লেনের ককপিটে ধোয়া, জরুরি অবতরণ   * জিমেইলে `পাসওয়ার্ডযুক্ত ই-মেইল` পাঠাবেন যেভাবে   * ঢাকায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত   * জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সভাপতি আটক   * স্বাধীনতা পদক-২০১৯ হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী   * ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের জন্য নিউজিল্যান্ডে জাতীয় স্মরণসভা   * বালুরঘাটে হেলে পড়েছে ছয়তলা ভবন   * এবার যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদে আগুন, চিরকুটে ক্রাইস্টচার্চ হামলার তথ্য   * মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি  

   উপ-সম্পাদকীয়
  সিরিয়া হামলায় মধ্যপ্রাচ্য বনাম রুশ হিসাব
 

রবার্ট ফিস্ক: সিরিয়ার খান শেইখুন শহর থেকে পাওয়া ছবিগুলো ভয়ংকর; কিন্তু ট্রাম্প ও তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে এ মুহূর্তের বড় প্রশ্নটি হচ্ছে রাশিয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কী করবে!

সিরিয়ার শহরটিতে রাসায়নিক গ্যাস কি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ব্যবহার করেছেন? এ প্রশ্নের উত্তর তো রাশিয়ার জানা থাকা উচিত। রুশরা সিরিয়ার কোথায় নেই! তারা আছে সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে; আছে মন্ত্রণালয় ও সেনা সদর দপ্তরেও। রাশিয়া যদি এখন বলে ব্যাপক প্রাণঘাতী সেই গ্যাস সিরীয়রা ব্যবহার করেনি—এ দাবির ব্যাপারে তাদের নিজেদের আগে সুনিশ্চিত হতে হবে।

গ্যাস হামলায় ক্রুদ্ধ হওয়ার কথা বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছেন। এ হামলা চালানোর কথা রাশিয়াকে কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দিয়েছিল। এখন ওয়াশিংটন দাবি করছে, তারা রাশিয়াকে মাত্র এক ঘণ্টা আগে সতর্ক করেছিল। সত্যটি হচ্ছে এক ঘণ্টা নয়, বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে হামলার সিদ্ধান্তের কথা রাশিয়ার কানে দেওয়া হয়। এরপর রাশিয়াও সিরিয়াকে সম্ভবত সতর্ক করে দিয়ে বলে, যত দ্রুত পারো ঘাঁটি থেকে সব যুদ্ধবিমান সরাও। সিরিয়ার এ যুদ্ধে রুশদের হত্যা করা যাবে না, ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু করা মানেই হতাহত হওয়া। অতএব, পাঠাও আগাম বার্তা।

সিরীয় সেনাবাহিনী সম্ভবত খানিকটা রূঢ় স্বভাবের! পূর্বাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পো পুনর্দখল করার পর তারা কি ভেবেছিল যে এমন কিছু করতে হবে, যাতে দ্রুত যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়? এ প্রশ্ন এখন তুলতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, সেনা কর্মকর্তারা যেসব এলাকায় বাস করেন, এমনকি যেসব গ্রামে তাঁদের পরিবারের বাস, সেসব এলাকায় গ্যাস হামলা চালানো হয়েছে। সিরীয়দের অভিযোগ, তুরস্ক এই গ্যাস দুই জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদা সমর্থক জাবাত আল নুসরা ও ইসলামিক স্টেটকে দিয়েছে। রুশদের দাবি হচ্ছে, সিরিয়ার রাজধানী দামাসকাসে যেসব গ্যাস হামলা হয়েছে সেগুলোর রাসায়নিক উপাদান এসেছিল লিবিয়া থেকে, যা তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় ঢোকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইপরেস ও গাজায় অস্ত্র হিসেবে গ্যাসের আবির্ভাব এবং অটোমান তুর্কিদের বিরুদ্ধে জেনারেল আলেনবির এ গ্যাস ব্যবহার এমন ভয়ংকর দৃশ্য তৈরি করে, যা এমনকি হিটলারও মিত্রবাহিনীর ওপর ব্যবহারের সাহস পাননি। কিন্তু সাদ্দাম কী করলেন? তিনি হালাবজার কুর্দদের ওপর রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহার করলেন। সাদ্দামকে ফাঁসিতে ঝোলানোর পরও বাগদাদের আদালতে শোনা গিয়েছিল কিভাবে ওই হামলার আদেশ দেওয়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সিরিয়ার সেনারা কি নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করবে?

সেদিনের হামলার শিকার শহরের ছবিগুলো আমাদের একটা নিশ্চিত বার্তা দেয়। এ দৃশ্য ভয়ংকর। অসহ্য। আবার আমাদের আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলের আড়াই লাখ বেসামরিক মানুষের কথাও ভুলে গেলে চলবে না; পরে যারা কমে দেড় লাখ হলো, তারপর হলো ৯০ হাজার। বিশ্বের যেসব সংঘাতের খবর গণমাধ্যমে অনেক দুর্বলভাবে এসেছে তার মধ্যে অন্যতম সিরিয়ার সংঘাত। এ পর্যন্ত কতজন মারা পড়ল যেন? চার লাখ? সাড়ে চার লাখ, নাকি পাঁচ লাখ? শেষেরটি সর্বশেষ প্রাপ্ত উপাত্ত। গ্যাসে মোট কতজনের প্রাণহানি হলো হিসাবটা আমরা কোথায় শেষ করব? সিরিয়ার সরকারকে বিশ্বাস করার জন্যই কি এ হিসাব করব? যখন আগের শেষ গ্যাস হামলাটি হলো দামাসকাসে, জাতিসংঘ তাদের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনের মাঝখানে শুধু এটুকু বলল, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যাপারে ‘কমপ্রোমাইজ’ করা হয়েছে।

কিন্তু তারপর আমরা রুশদের কাছে গেলাম। তারা সব গ্যাস অস্ত্র প্রত্যাহারে সিরিয়াকে সাহায্য করার কথা বলল। ওবামা যখন সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের ওপর বিমান হামলার হুমকি দিলেন, রাশিয়া সমর্থন দিল; হুমকিটি যখন পরে প্রত্যাহার করা হয় সমর্থন তখনো দেওয়া হলো।

সে যা-ই হোক, এবার রুশরা দেখল ট্রাম্প কী করতে পারেন যদি তিনি বিশ্বাস করেন (সত্যি যদি বিশ্বাস করেন) যে রাসায়নিক অস্ত্র সত্যি ব্যবহার করা হয়েছে। আর আমি জানতে পেরেছি যে রুশরা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা আগেই জেনে গিয়েছিল এবং জেনেছিল অনেক আগেই। এরপর সরে আসার আগে তারা কি সত্যি কোনো সিরীয় বিমানঘাঁটিতে কোনো সিরীয় বিমান রেখে এসেছিল? এ ধরনের কোনো অস্ত্র কি তারা বিমানঘাঁটির রানওয়েতে ফেলে আসতে পারে? কিংবা কোনো সুরক্ষিত বাংকারে?

বাস্তবে সিরিয়ায় এ মার্কিন হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্কের যতটা যোগসূত্র আছে, তার চেয়ে বেশি আছে ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্কের। এটি এমন এক সমস্যা, যা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে কাজ করতে হবে। অবশ্যই করতে হবে বাশার আল আসাদকেও। আরো একটি বিষয়ে পাঠক আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, আর তা হচ্ছে দামাসকাস ও মস্কোর মধ্যে রাতে যদি কোনো ফোনালাপ হয়, তা হবে দীর্ঘ।

 

লেখক : খ্যাতিমান ব্রিটিশ সাংবাদিক ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি ইনডিপেনডেন্ট থেকে ভাষান্তর



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 287        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     উপ-সম্পাদকীয়
পরমাণু অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী আচরণ
.............................................................................................
আমার গেলাস সদাই থাক অর্ধেক পূর্ণ
.............................................................................................
লাখো কন্ঠে বিদ্রোহী কবিতা
.............................................................................................
বৈশাখ বাঙালির সার্বজনীন অসাম্প্রদায়িক উৎসব
.............................................................................................
সিরিয়া হামলায় মধ্যপ্রাচ্য বনাম রুশ হিসাব
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]