| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ   * আকাশে বোয়িং ৭৮৭ প্লেনের ককপিটে ধোয়া, জরুরি অবতরণ   * জিমেইলে `পাসওয়ার্ডযুক্ত ই-মেইল` পাঠাবেন যেভাবে   * ঢাকায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত   * জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সভাপতি আটক   * স্বাধীনতা পদক-২০১৯ হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী   * ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের জন্য নিউজিল্যান্ডে জাতীয় স্মরণসভা   * বালুরঘাটে হেলে পড়েছে ছয়তলা ভবন   * এবার যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদে আগুন, চিরকুটে ক্রাইস্টচার্চ হামলার তথ্য   * মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি  

   মতামত
  অপু-শাকিব কাহিনী : যা শিখলাম
 

সারওয়ার-উল-ইসলাম

আমাদের দেশের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে একটা প্রবণতা আছে এ রকম, বাজার যখন তাদের ভালো তখন তাঁরা বিয়ের বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চান।
এই মানসিকতাটা কেন?
বিয়ের কথা জানাজানি হলে কি তাঁদের ছবি কম চলবে? ছবি ফ্লপ খাবে? এই আশঙ্কাটা কার? প্রযোজক নাকি পরিচালকের? নাকি অভিনেতা-অভিনেত্রীর?
যদি এটা আশঙ্কাই হয়ে থাকে তবে এই আশঙ্কা থেকে কি সুফল বা কল্যাণ বয়ে আনছে?
যে অভিনেতা বা অভিনেত্রী বিয়ে করে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, কিন্তু ওই আশঙ্কার কারণে বিয়েটা গোপনে রাখেন, তাতে দুজনের জীবন কি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায় না?
ধরে নিই, একজন অভিনেতার সব ছবি সুপার-ডুপার হিট হয়। অন্যদিকে গোপনে বিয়ে করা তাঁর স্ত্রী একসময়ের হিট অভিনেত্রী মা হওয়ার কারণে লম্বা সময় চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকায় বাজার পড়তির দিকে। পরিচালকরা তাঁর প্রতি আগ্রহী দেখান না আগের মতো। এখন যদি সেই অভিনেত্রী তাঁর মা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে উত্থাপন করেন, তা হলে কি সেটা অপরাধ? নাকি সেটা তাঁর অধিকার?
পরিচালক প্রযোজক বা ওই অভিনেতার জন্য সেই উত্থাপন বা ফাঁস করে দেওয়াটা কি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে?
তা হলে প্রশ্ন, দাম্পত্য জীবন বড় নাকি ব্যবসা? স্বামীর অধিকার বা সন্তানের পিতৃত্ব দাবি আগে নাকি টাকা আগে? সবচেয়ে বড় কথা মানবিকতা আগে নাকি অর্থ আগে?
যদি তাই হয় তবে বলতে হবে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিয়ে করা ঠিক না। বা বিয়ে করলেও সন্তান জন্ম দেওয়ার চিন্তা করা উচিত না।
এটা হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান চলচ্চিত্র-নাটকজগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষদের মানসিকতা। আমরা এটাকে কি বাহবা দেব না `ধিক্কার` জানাব সেই প্রশ্ন সবার কাছে।
`ধিক্কার` শব্দটা ব্যবহার করলাম এই জন্য যে, এই যদি হয় আমাদের চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষদের অবস্থা তা হলে বুঝতে হবে তাঁদের মানসিকতা কতটা নিচু পর্যায়ের। তা হলে তো তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েই এই জগতে প্রবেশ করতে পারেন যে, বিয়েশাদী তাঁরা করবেন না যতদিন তাঁরা বুড়ো না হবেন, যতদিন তাঁদের বাজার না পড়ে যাবে।
বিষয়টা কি ভাবনার না, তাঁদের এই মানসিকতা দেখে মনে হয় নায়করাজ রাজ্জাক, মিষ্টি মেয়ে কবরী, বিউটি কুইন শাবানা, ড্রিম গার্ল ববিতার মতো বহু সুপারহিট ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বিয়ে না করেই খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছিলেন।
কিংবা পাশের দেশের অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, অজয়-কাজল, মাধুরী দীক্ষিতরা বিয়ে না করেই সুপারহিট হয়েছিলেন।
হায়রে আমাদের মানসিকতা! হায়রে আমাদের অর্থ আয়ের `রুচিহীন` চিন্তাধারা! এভাবে গোপনে বিয়ে করে সন্তান জন্ম দিয়ে সমাজে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়ে অনেক রুচিহীন মানসিকতার প্রকাশ ঘটান তাঁরা। তাঁরা মনে করেন, আকাশের `তারা` হয়ে গেলে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে যান। সমাজ, সংসার, ধর্মীয় মূল্যবোধ সব তুচ্ছ তাঁদের কাছে। এসব তথাকথিত `তারা`রা সমাজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে নিজেদের সম্পৃক্ত করে মহান হওয়ার ধান্দা খোঁজেন।
আসলে এখন শটকাটে অনেক কিছু পাওয়া সম্ভব। মিডিয়ার কল্যাণে রাতারাতি বিখ্যাত হওয়ার মওকা আছে। দু-একটা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে মিডিয়ার সঙ্গে ভালো ভাব রেখে চললে অনেকেই সুপারডুপার অভিনেতা-অভিনেত্রী হয়ে যান। তখন আর নিচের দিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করেন না। মনে করেন পুরো জাতি তাঁর জন্য পাগল। তাই তাঁর সবকিছু সবাই সহজেই মেনে নেবে।
এই নিম্ন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে হবে সেই মানুষদের, যাঁরা এখনো চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত আছেন মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে। যে মূল্যবোধের কারণে এখনো সমাজ ও রাষ্ট্র তাঁদের সম্মান দেয়।
আর যাঁরা আলু-পটোলের ব্যবসা বাদ দিয়ে বা অন্য কোনো অনৈতিক-রুচিহীন ধান্দায় চলচ্চিত্রের প্রযোজক বা পরিচালক হয়ে গেছেন, যাঁরা টাকার গুণে যশখ্যাতি পেয়েছেন অথচ বাংলাদেশের ঐহিত্য-ইতিহাস থেকে সব সময় দূরে থাকেন; সিনেমা বানান অন্যেরটা দেখে বা চুরি করে, তাঁরা যতদিন এই ইন্ডাস্ট্রিজে থাকবেন ততদিন এই রুচিহীন মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটতেই থাকবে।
অপু বিশ্বাসের মতো নায়িকাদের টেলিভিশনে শিশুসন্তানসহ হাজির হয়ে স্ত্রীর অধিকার আদায়ের জন্য কাকুতি মিনতি জানাতে হবে। পরবর্তী সময়ে যা ঘটছে, তা সচেতন পাঠকমাত্রই জানেন।
শেষ দৃশ্যে চলচ্চিত্রশিল্পে `নিষিদ্ধ` হতে থাকবেন শাকিবের মতো অভিনেতারা।
এই চর্চার অবসান দেখতে চাই আমরা।
লেখক : ছড়াকার ও সাংবাদিক।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 288        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     মতামত
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মালিকানা ২ ব্যক্তির কাছে : মির্জা ফখরুল
.............................................................................................
দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেবেন অনন্ত জলিল
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের অবশ্যই দ্রুত ফিরিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
মিয়ানমার সফর বাতিল করলেন প্রিন্স চার্লস
.............................................................................................
অপু-শাকিব কাহিনী : যা শিখলাম
.............................................................................................
বই-ই মানুষকে পরিপূর্ণ করে
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া দ্বন্দ্ব: আরেকটি মহারণ?
.............................................................................................
নববর্ষ: ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব ।। যতীন সরকার
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]