| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * ঈদে রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ২৯ জুলাই   * সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বনদস্যু বাহিনী প্রধানসহ নিহত ২   * ছেলেধরা ও গণপিটুনি বিষয়ে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা   * উত্তরাঞ্চলে পানি কিছুটা কমলেও নদীগুলোর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর   * সৌদি পৌঁছেছেন ৭৫ হাজার ৫৯০ হজযাত্রী   * হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ থেকে প্রিয়া সাহা বহিষ্কার   * দুদক পরিচালক এনামুল বাছির গ্রেফতার   * চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৮ বাড়িতে বন্য হাতির তাণ্ডব   * আদালতে মিন্নির দু`টি আবেদন নামঞ্জুর   * পেশায় ইমাম, জিন তাড়ানোর নামে করতেন নারী-শিশু ধর্ষণ  

   স্বাস্থ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
শিশুর ডেঙ্গু হলে

ডা. আবু সাঈদ শিমুল
এখন চারদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এ থেকে শিশুদেরও রেহাই নেই। ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। এডিস মশার কারণে এ রোগ হয়। বর্ষা এবং বর্ষা-পরবর্তী সময়ে রোগটি দেখা যায়। ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশা কামড়ানোর পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে সাধারণত রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। কিছু রোগী কোনো উপসর্গ ছাড়াই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

রোগের লক্ষণ: উচ্চ তাপমাত্রা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, সারা শরীরের মাংসে এবং গিঁটে গিঁটে ব্যথা, চামড়ার নিচে ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি এবং জ্বর কমে যাওয়ার চার থেকে সাত দিন পর ছোট ছোট লাল দাগ দেখা দেয়, যা চাপ দিলেও মিশে যাবে না। এ ছাড়া দাঁতের গোড়া ও নাক থেকে রক্ত বের হতে পারে। ডেঙ্গু ভাইরাসের একটি বিশেষত্ব হলো, এটি রক্তনালিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে জলীয় অংশ বের করে দেয়। ফলে রোগী পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়। বড়দের চেয়ে শিশুরা পানিশূন্য হয় বেশি। ফলে তীব্র পানিশূন্য হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ার এবং জটিলতার শঙ্কাও তাদের বেশি।

চিকিৎসা: পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবারই শিশুর জ্বরের প্রধান চিকিৎসা। ডেঙ্গু হলেই মানুষ মনে করে প্লাটিলেট তথা সাদা রক্ত বুঝি দিতেই হবে। হন্যে হয়ে সবাই এই রক্ত খুঁজতে থাকেন। মূলত খুবই অল্প সংখ্যক রোগীরই প্লাটিলেট প্রয়োজন হয়। তাই ডেঙ্গুতে গুরুত্ব দিতে হবে পানি ও তরল খাবার খাওয়ানোর প্রতি। বুকের দুধ, পানি, ডাবের পানি, স্যালাইন, জুস, লেবুর শরবত ইত্যাদি একটু পরপরই শিশুর মুখে তুলে দিন। খাওয়ার রুচি কমে যায় বলে এমন খাবার দিন যাতে যথেষ্ট পুষ্টি আছে যেমন- খিচুড়ি।

জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল বড়ি, সিরাপ বা সাপোজিটরি ব্যবহার করুন, যার জন্য যেটা প্রযোজ্য। তবে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না। অ্যান্টিবায়েটিক দেওয়াও অপ্রয়োজনীয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বাচ্চাকে মশারির মধ্যে রেখে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে। স্কুলে যাওয়া বা অন্য কাজ থেকে পাঁচ-সাত দিন চিকিৎসকের পরামর্শে বিরত রাখুন। আপাতত সুস্থ বাচ্চাদেরও নিয়মিত একই পরীক্ষা বেশ কয়েকবার করিয়ে দেখতে হবে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে কি-না। অন্য পরীক্ষাও করতে হবে। এটা চিকিৎসারই অংশ। একই পরীক্ষা বারবার করছে বলে বিভ্রান্ত হবেন না।

সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা বাড়িতেই সম্ভব। জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে নিতে হবে। পর্যাপ্ত স্যালাইন দিলেই হয়। প্লাটিলেট দিতে হয় খুবই অল্পসংখ্যক বাচ্চাকে। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন না। সবাই সচেতন হলে এবং আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখলে এবং বাসায় জমানো পানি ফেলে দিলে ডেঙ্গু নিরাময় সম্ভব।

লেখক: কনসালট্যান্ট শিশু বিভাগ মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

শিশুর ডেঙ্গু হলে
                                  

ডা. আবু সাঈদ শিমুল
এখন চারদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এ থেকে শিশুদেরও রেহাই নেই। ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। এডিস মশার কারণে এ রোগ হয়। বর্ষা এবং বর্ষা-পরবর্তী সময়ে রোগটি দেখা যায়। ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশা কামড়ানোর পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে সাধারণত রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। কিছু রোগী কোনো উপসর্গ ছাড়াই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

রোগের লক্ষণ: উচ্চ তাপমাত্রা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, সারা শরীরের মাংসে এবং গিঁটে গিঁটে ব্যথা, চামড়ার নিচে ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি এবং জ্বর কমে যাওয়ার চার থেকে সাত দিন পর ছোট ছোট লাল দাগ দেখা দেয়, যা চাপ দিলেও মিশে যাবে না। এ ছাড়া দাঁতের গোড়া ও নাক থেকে রক্ত বের হতে পারে। ডেঙ্গু ভাইরাসের একটি বিশেষত্ব হলো, এটি রক্তনালিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে জলীয় অংশ বের করে দেয়। ফলে রোগী পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়। বড়দের চেয়ে শিশুরা পানিশূন্য হয় বেশি। ফলে তীব্র পানিশূন্য হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ার এবং জটিলতার শঙ্কাও তাদের বেশি।

চিকিৎসা: পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবারই শিশুর জ্বরের প্রধান চিকিৎসা। ডেঙ্গু হলেই মানুষ মনে করে প্লাটিলেট তথা সাদা রক্ত বুঝি দিতেই হবে। হন্যে হয়ে সবাই এই রক্ত খুঁজতে থাকেন। মূলত খুবই অল্প সংখ্যক রোগীরই প্লাটিলেট প্রয়োজন হয়। তাই ডেঙ্গুতে গুরুত্ব দিতে হবে পানি ও তরল খাবার খাওয়ানোর প্রতি। বুকের দুধ, পানি, ডাবের পানি, স্যালাইন, জুস, লেবুর শরবত ইত্যাদি একটু পরপরই শিশুর মুখে তুলে দিন। খাওয়ার রুচি কমে যায় বলে এমন খাবার দিন যাতে যথেষ্ট পুষ্টি আছে যেমন- খিচুড়ি।

জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল বড়ি, সিরাপ বা সাপোজিটরি ব্যবহার করুন, যার জন্য যেটা প্রযোজ্য। তবে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না। অ্যান্টিবায়েটিক দেওয়াও অপ্রয়োজনীয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বাচ্চাকে মশারির মধ্যে রেখে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে। স্কুলে যাওয়া বা অন্য কাজ থেকে পাঁচ-সাত দিন চিকিৎসকের পরামর্শে বিরত রাখুন। আপাতত সুস্থ বাচ্চাদেরও নিয়মিত একই পরীক্ষা বেশ কয়েকবার করিয়ে দেখতে হবে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে কি-না। অন্য পরীক্ষাও করতে হবে। এটা চিকিৎসারই অংশ। একই পরীক্ষা বারবার করছে বলে বিভ্রান্ত হবেন না।

সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা বাড়িতেই সম্ভব। জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে নিতে হবে। পর্যাপ্ত স্যালাইন দিলেই হয়। প্লাটিলেট দিতে হয় খুবই অল্পসংখ্যক বাচ্চাকে। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন না। সবাই সচেতন হলে এবং আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখলে এবং বাসায় জমানো পানি ফেলে দিলে ডেঙ্গু নিরাময় সম্ভব।

লেখক: কনসালট্যান্ট শিশু বিভাগ মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

গাঁটের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে...
                                  

আমাদের মধ্যে অনেকেই হাঁটু বা গাঁটের ব্যথায় ভুগছেন। শরীরচর্চার ঘাটতি, অনিয়মিত ডায়েট, ক্যালসিয়ামের অভাবে ধীরে ধীরে এই সমস্যা বাড়তে থাকে। প্রথমদিকে হাঁটু বা গাঁটের ব্যথাকে আমরা তেমন গুরুত্ব দিতে চাই না। পরে যখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়, তখন একগাদা ওষুধ খেয়েও খুব একটা ফল মেলে না। তাই গাঁটের ব্যথায় ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আগেই ব্যবস্থা নিন। আসুন জেনে নিন গাঁটের ব্যথা উপশমের কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি-

হলুদ-আদার মিশ্রণ: দুই কাপ পানির সঙ্গে হলুদ ও আদা ফুটিয়ে নিন। ফুটে যখন মোটামুটি আধ-কাপের মতো হয়ে যাবে তখন সেটিকে আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। এরপর হলুদ-আদার ওই মিশ্রণে ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিন। দিনে অন্তত দুইবার এই মিশ্রণ পান করুণ। গাঁটের ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

লবন-পানির সেঁক: এপসম সল্ট বা ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সমৃদ্ধ সৈন্ধব লবন যে কোনো ব্যথা উপশমে কার্যকরী। ছোট এক কাপ সৈন্ধব লবন পানির মধ্যে গুলে নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার সেটা ফুটিয়ে ব্যথার জায়গায় ৩০-৪০ মিনিট ধরে সেঁক দিন। এভাবে নিয়মিত সেঁক দিলে গাঁটের ব্যথায় দ্রুত উপকার পাওয়া যাবে।

ঠান্ডা-গরম সেঁক: হট ওয়াটার ব্যাগে গরম পানি নিয়ে ব্যথার জায়গায় ৫ মিনিট সেঁক দিন। জায়গাটা গরম হয়ে উঠলে সেখানে বরফ ঘষে মালিশ করুন। এই পদ্ধতিতে মোটামুটি ৩০ মিনিট গরম-ঠান্ডা সেঁক দিন। গাঁটের ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

মেথি: যে কোনো জ্বালা-যন্ত্রণা দ্রুত কমাতে মেথি অত্যন্ত কার্যকরী। গাঁটের ব্যথায় কষ্ট পেলে নিয়মিত সামান্য গরম পানিতে মেথি ভিজিয়ে পান করুণ। অথবা সারা রাত এক গ্লাস পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে ওই মেথি ভেজানো পানি পান করুন। গাঁটের ব্যথায় উপকার পাবেন।

মরিচ গুঁড়া ও নারকেল তেলের মিশ্রণ: চিকিত্সকদের মতে, গাঁটের ব্যথা কমাতে ক্যাপসাইসিন অত্যন্ত কার্যকর। লালমরিচে প্রচুর পরিমাণ ক্যাপসাইসিন রয়েছে। আধাকাপ নারকেল তেলে ২ চামচ লালমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে ব্যথার জায়গায় অন্তত ২০ মিনিট মালিশ করুন। এরপর উষ্ণ পানিতে জায়গাটা ভালো করে পরিষ্কার করে ফেলুন। দিনে অন্তত ২-৩ বার এই পদ্ধতিতে মালিশ করলে গাঁটের ব্যথা কমবে।

গাজর-লেবুর মিশ্রণ: দুটি মাঝারি মাপের গাজরের রস করে তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে সেটি খালি পেটে পান করুন। নিয়মিত এই মিশ্রণ পান করলে অল্প সময়ের মধ্যেই গাঁটের ব্যথায় উপকার পাওয়া যাবে। সূত্র: জিনিউজ

ডেঙ্গু রোগের যেসব লক্ষণ দেখা যায়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সারা বিশ্বে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে। বিশেষ করে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্তমহাসাগরীয় দ্বীপ এলাকাগুলোতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। সম্প্রতি দেশে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বেড়েছে। আজ আমরা জেনে নেব ডেঙ্গু হওয়ার আগে কিংবা এ রোগ হওয়ার সময় যে পাঁচটি লক্ষণ দেখা যায়।

উচ্চমাত্রায় জ্বর
ডেঙ্গু হলে আপনার সর্বোচ্চ ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর উঠতে পারে। আর এ জ্বরটি থাকবে চার থেকে সাতদিন পর্যন্ত। যদি আপনার জ্বর হয়ে থাকে এবং চারদিনের বেশি হয় তাহলে খুব তাড়াতাড়িই ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

প্রচণ্ড মাথা ব্যথা
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে প্রচণ্ড মাথা ব্যথার সাথে সাথে চোখের ভেতরের দিকে ব্যথা করে। মাথাব্যথা ডেঙ্গু রোগের অন্যতম পূর্বলক্ষণ।

শরীর ব্যথা
হাড় ভাঙলে যেরকম তীব্র ব্যথার অনুভূতি হয় মানুষের, ডেঙ্গু হলেও ঠিক এইধরনের হাড়ভাঙার মতো ব্যথা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে শরীরের জয়েন্টে তীব্র ব্যথা হয়, এর পাশাপাশি ব্যথা হয় পেশীতেও। এমনকি ডেঙ্গু সেরে গেলেও এই ব্যথাগুলো অনেকদিন শরীরে থাকে।

র‌্যাশ
জ্বর হওয়ার এক থেকে দুইদিনের সময় সারা শরীরে লালচে র‌্যাশ দেখা যায়। যাকে বলা হয় স্কিন র‌্যাশ, অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এসময় আক্রান্তের চোখ হলদেটে এবং ত্বক বেশ শুষ্ক দেখায়।

রক্তকণিকা কমে যায়
ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা থাকলেই খুব তাড়াতাড়ি করে নেবেন প্লাটিলেট টেস্ট। এসময় প্লাটিলেট কিংবা রক্তকণিকার পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। প্লাটিলেট কাউন্ট যদি ২০ হাজার এর নিচে হয় তাহলে রোগীর রক্তজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বমি বমি ভাব
ডেঙ্গু হলে আক্রান্তের বমি বমি ভাব হয়, এমনকি মাঝে মাঝে বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়।

হেপাটাইটিস থেকে রক্ষা পেতে ৭ পরামর্শ
                                  

অনলাইন ডেস্ক : হেপাটাইটিস একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। মোট পাঁচ ধরনের হেপাটাইটিস ভাইরাস আছে। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই। অনেকের হয়তো জানা নেই, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই হেপাটাইটিসের প্রকোপ বাড়ে।

সময়মতো চিকিৎসা না করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে হেপাটাইটিসের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত। হেপাটাইটিস প্রতিরোধে যেসব বিষয় অনুসরণ করা জরুরি

১. কখনও কাটা ফল খাওয়া ঠিক নয়। খেতে ইচ্ছে করলে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ফল কাটিয়ে তবেই খান।

২. রাস্তার খাবার-দাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। রাস্তার পাশের মশলাদার, তেলেভাজা জাতীয় অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়।

৩. রাস্তা ঘাটে বেরিয়ে পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনে সঙ্গে পানি নিয়ে বের হওয়া ভাল। পানি শেষ হয়ে বোতলজাত পানি পান করুন।

৪. অন্যের ব্যবহার করা চিরুনি, দাড়ি কাটার সরঞ্জাম, আইলাইনার, লিপস্টিক, কানের দুল বা ওই জাতীয় কিছু ব্যবহার করা ঠিক নয়।

৫. দাড়ি কাটার সরঞ্জাম নিরাপদে পরিচ্ছন্ন জায়গায় সরিয়ে রাখুন।

৬. বাড়িতে পানি ফুটিয়ে খান।

৭. এক বছর বয়স থেকেই শিশুদের হেপাটাইটিসের প্রতিষেধক বা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

সূত্র : জি নিউজ

কিডনির ভীতিকর সাত রোগ
                                  

কিছু কিডনির সমস্যা ক্রনিক বা দীর্ঘ মেয়াদে কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। কিছু কিডনির সমস্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খারাপ দিকে যায় এবং কিডনি বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটায়।

এ ধরনের সমস্যা দ্রুত নির্ণয় ও চিকিৎসা করলে দীর্ঘ মেয়াদে কিডনি রোগ ও কিডনি বিকল হওয়া প্রতিরোধ করা যায়।

তাই কিডনি বিকল হওয়া প্রতিরোধে সাত কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকুন। আমেরিকান কিডনি ফান্ড প্রকাশ করেছে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন।

১. প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া

প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া কিডনি অথবা মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণের অন্যতম একটি লক্ষণ। সাধারণত কারণের ওপর নির্ভর করে এর চিকিৎসা করা হয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. প্রস্রাবে প্রোটিন যাওয়া

প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন যাওয়া কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। সবার রক্তে প্রোটিন থাকে। একটি ভালো কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ও তরল ছেঁকে বের করে। কিডনি একটু ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রস্রাবের মধ্য দিয়ে প্রোটিন বের হয়। এই প্রোটিন অ্যালবুমিন নামে পরিচিত। কিডনি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে সমস্যা সমাধানে চিকিৎসা করুন।

৩. কিডনির পাথর

পাথর হওয়া খুব প্রচলিত কিডনির সমস্যা। পাথর বড় হলে ব্যথা হয়। পাথর ছোট হলে খুব সহজেই মূত্রতন্ত্রে নড়াচড়া করতে পারে এবং অনেক সময় এর কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। কিডনির পাথর দূর করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪. হঠাৎ কিডনি বিকল

হঠাৎ করে কিডনি এক ঘণ্টা বা একদিন কাজ করা বন্ধ করে দিলে একে হঠাৎ কিডনি বিকল বলা হয়। এটি খুব জটিল সমস্যা। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিতে পারলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাসপাতালে থাকা খুব দুর্বল রোগীর ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা হয়।

৫. কিডনির সংক্রমণ

কিডনির সংক্রমণ সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। জ্বর, বমি, কোমরব্যথা ইত্যাদি এর লক্ষণ। পুরুষের তুলনায় নারীরা এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। কিডনির ক্ষতি প্রতিরোধে দ্রুত সংক্রমণ প্রতিরোধ করা জরুরি।

৬. কিডনি ব্যথা

কিডনির ব্যথা সাধারণত পিঠের মাঝখানে বা পাশে করে। তবে কোমরব্যথা মানেই কিন্তু কিডনির সমস্যা নয়। তাই কিডনির কারণে কোমরব্যথা হোক আর এমনিতেই কোমরব্যথা হোক, রোগ জটিল হওয়ার আগে চিকিৎসকের কাছে যান।

৭. হেপাটাইটিস সি ও কিডনির রোগ

হেপাটাইটিস সি-এর কারণে লিভার আক্রান্ত হয়। তবে হেপাটাইটিস সি ও কিডনি রোগের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। এই হেপাটাইটিস কিডনি রোগ তৈরি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হেমোডায়ালাইসিসের (এটি কিডনি ফেইলিউরের রোগীদের এক ধরনের চিকিৎসা) সময় কিডনি রোগীরা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বিএসএমএমইউ
                                  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএসএমএমইউ) ২০০ মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিল ও উপাচার্য় অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন পরীক্ষার্থীরা।

সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো তারা ভিসি কার্যালয় ঘেরাও করেছেন। পরীক্ষা বাতিল ও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

আন্দোলনকারী চাকরি প্রত্যাশী চিকিৎসকদের দাবি, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে। ভিসি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ তাদের স্বজনদের নিয়োগ দিতে পরীক্ষার ফলাফলে টেম্পারিং করা হয়েছে।

তারা জানান, এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা বিভিন্ন কোর্সে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়েই তাদের চাকরি হবে বলে প্রত্যাশা করেছিলেন। লিখিত পরীক্ষাও তাদের ভালো হয়েছে। অনিয়মের কারণেই তারা বাদ পড়েছেন বলে মনে করেন।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে করণীয়
                                  

অনলাইন ডেস্ক : হঠাৎ প্রেসার কমে যাওয়ার কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ হলো অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা ইত্যাদি। প্রেসার কমলে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড়, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা হতে দেখা দেয়। তাই প্রেসার কমে গেলে বাড়িতেই প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

১. স্ট্রং কফি, হট চকোলেট এবং যেকোনো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেয়ে নিতে পারেন।

২. ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে। পুদিনাপাতা বেটে এতে মধু মিশিয়ে পান করলে কাজে দেবে।
৩. লবণে আছে সোডিয়াম, যা রক্তচাপ বাড়ায়। তবে বেশি লবণ না খাওয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে চিনি বাদ দিন।

৪. আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে পান করুন। এছাড়া, দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

৫. বিটের রস হাই ও লো প্রেসার- উভয়টির জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

৬. হাইপার টেনশনের ওষুধ হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে কিসমিস। আধা কাপ কিসমিস সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে কিসমিস ভেজানো পানি খেয়ে নিন। এছাড়া, পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন।

বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস আজ
                                  

বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস আজ ১০ এপ্রিল। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিমেনের জন্মবার্ষিকীর দিনে পৃথিবীব্যাপী এ দিবসটি পালন করা হয়।

২০০৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী হ্যানিমেনের জন্মদিন ‘বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশে যাত্রা শুরু বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবসের এবং বিশ্ব হোমিওপ্যাথি আন্দোলনে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

দিবসটি পালনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং সারাদেশের হোমিও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে কেক কাটা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড আজ (বুধবার) বিকেল ৩টায় রাজধানীর কাকরাইলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক উপস্থিত থাকবেন।

ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বেগুন
                                  

অনলাইন ডেস্ক : বেগুন একটি অতি পরিচিত ও সহজলভ্য সবজি। এটি প্রায়ই আমাদের খাদ্য তালিকায় থাকে। তবে যখন স্বাস্থ্য রক্ষা বা ওজন কমানোর বিষয় বিবেচনা করা হয় তখন বেগুনকে ধরা হয় না। অথচ ১০০ গ্রাম বেগুনে মাত্র ২৫ ক্যালোরি থাকে। খাদ্যআঁশে ঠাঁসা এই সবজি খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে!

এছাড়াও বেগুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, ভিটামিন বি সিক্স, রিবোফ্লাভিন, নায়াসিন এবং থায়ামিন।

এগুলো আমাদের দেহের ‘মেটাবোলিজম’ সক্রিয় রাখে। ফলে খাবার ভালো হজম হয় এবং শরীরে মেদ জমে না।
অ্যালার্জির সমস্যা না থাকলে আরও অনেক কারণেই বেগুন নিয়মিত খেতে পারেন যে কেউ। এই সবজি আমাদের শরীরের ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারসহ নানা রোধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

বেগুনের বিভিন্ন গুণাগুণ
ক্যান্সার প্রতিরোধ: বেগুনে ফাইটোকেমিকল অ্যান্থোসায়ানিনস থাকে, যার কারণে বেগুনের রং এত চমৎকার দেখায়। এটা আমাদের হৃদপিণ্ডের রক্ষণাবেক্ষণের কাজও করে। এছাড়া বেগুনে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টরেল দমিয়ে রাখে। আর এই অ্যান্থোসায়ানিনস এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ: বেগুনে উচ্চ মাত্রায় আঁশ এবং কম পরিমাণে দ্রবণীয় শর্করা থাকে, ফলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কাজেও বেগুন ভূমিকা রাখতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: বেগুন একটা ক্ষারধর্মী খাবার। এটি পরিপাকতন্ত্রের অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য ঠিক রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সচল রাখে।

ডিম কীভাবে খাওয়া ভালো?
                                  

মো. ইমদাদ হোসেন শপথ

ডিম প্রাণীজ প্রোটিনের খুব ভালো একটি উৎস। অনেকের কাছে খুব প্রিয় একটি খাবারের নাম ডিম। ডিমে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ডিম শুধু আদর্শ প্রোটিনই নয়, বরং অনেক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এটি শরীরের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে অনেক কার্যকর।

একটি ডিম থেকে অনেক পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। যেমন : ভিটামিন বি৬, বি১২, রিবোফ্লাভিন, ফলিক এসিড, আয়রন, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ প্রভৃতি। ডিমের প্রোটিন শরীরে খুব ভালো মতো কাজে লাগে। এটি মাংসপেশির গঠনে সাহায্য করে। ডিমে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা অনেক কম।

তবে বিভিন্ন গবেষণা বিভিন্ন সময় এই প্রিয় খাবারটি খাবে কি খাবে না, এ নিয়ে শঙ্কায় ফেলে।

কোনো কোনো গবেষণা বলে, প্রতিদিন ডিম খাওয়া যাবে, আবার কোনো গবেষণা বলে সপ্তাহে দুটি। শরীরের প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রার গ্রহণ করা উচিত। খাবারের, কোলেস্টেরলই শুধু রক্তের কোলেস্টেরল বাড়ানোর মূলে নয়, বরং সম্পৃক্ত চর্বি ও ট্রান্সফ্যাট, যা অনান্য খাবার থেকে আসে, তাও রক্তের কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমের কুসুম বরং রক্তে খারাপ চর্বি বা এলডিএল কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়াতে সাহায্য করে।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, যাদের রক্তে কোলেস্টেরল ও এলডিএলের মাত্রা ঠিক থাকে, তাদের জন্য দৈনিক কোলেস্টেরল গ্রহণের পরিমাণ ২৫০ মিলিগ্রাম।

সাধারণত একটি ডিমের কুসুম থেকে প্রায় ১৬৫ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল পাওয়া যায়।

কোনো কোনো গবেষণায় ডিমের কুসুম এবং এর উপকারিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। আবার কোনো কোনো গবেষণায় এর ক্ষতি তুলে ধরা হয়েছে। আসলে, গবেষণাগুলো শুধু ডিমের ওপর ভিত্তি করে এর একটি ফলাফল তুলে ধরে। দৈনিক জীবনযাত্রার সঠিক নিয়ম মেনে চললে, মাংস ও তেলের গ্রহণ সীমিত করলে, ভাজা পোড়া খাবার কম খেলে, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন গ্রহণ করলে, নিয়মিত হাঁটলে, একটি দেশি ডিম রোজ খেলে খুব কি ক্ষতি? তবে ডিমকে কীভাবে রান্না করে খাচ্ছেন তার ওপর ক্ষতি অনেক নির্ভর করে। অনেক তেলে ডিম ভেজে রোজ খেলে তা থেকে ক্ষতি হলে হতেও পারে। আবার ডিম কী দিয়ে খাবেন সেটাও কিন্তু বিবেচনার বিষয়। পরোটা, লুচি, খিচুড়ি, বিরিয়ানি ইত্যাদির সঙ্গে ডিম খেলে তা থেকে শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ারই কথা। লাল আটার রুটি, সিরিয়াল মিল্ক আর ডিম সিদ্ধ, ব্রেড আর ডিম- এভাবে খেলে তা তেমন ক্ষতিকর নয়।

অনেকে ডায়রিয়া হলে ডিম খাওয়া বন্ধ রাখে। অথচ ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর পুষ্টি ঘাটতি হয়। তাই ডায়রিয়া হলে একটা ডিম খাওয়া যেতে পারে। যেকোনো বয়সে ডিম একটা আদর্শ প্রোটিন। তবে কিডনি রোগে ডিম খাবে কি খাবে না তা নির্ভর করবে পুষ্টিবিদের ওপর।

খাদ্যের অভ্যাস পরিবর্তন না করে যদি ডিমসহ অন্যান্য কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার গ্রহণ করা হয়, তখনই বিপদ ঘটার আশঙ্কা থাকে। ডিম পরিমিত পরিমাণে খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। একটি খাবার অনেক স্বাস্থ্যকর হলেও সেটি অতিরিক্ত গ্রহণ উপকারের পাশাপাশি অপকারও করে থাকে এটাই স্বাভাবিক। দৈনিক চাহিদার তুলনায় যেকোনো খাবার বেশি গ্রহণ না করাই ভালো।

ডিম প্রোটিনের খুব ভালো উৎস। বরং রোজ মাংস না খেয়ে তার পরিবর্তে একটি ডিম খাওয়া যেতে পারে।

লেখক : পুষ্টিবিদ, থাইরোকেয়ার বাংলাদেশ।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও ভালো রাখার উপায়
                                  

অনলাইন ডেস্ক : মারাত্মক যেসব অসুখের রোগীর সংখ্যা দিনদিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিডনির সমস্যা তার মধ্যে অন্যতম। কিডনি আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পাঁচটি ধাপে কিডনি বিকলের দিকে অগ্রসর হয়। প্রথম চারটি ধাপ পর্যন্ত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় করা সম্ভব। কিন্তু একবার পাঁচ নম্বর ধাপে চলে গেলে তখন বেঁচে থাকার উপায় হলো ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজন। এসব পদ্ধতি অত্যান্ত ব্যয়বহুল, যা অনেকের পক্ষেই বহন করা সম্ভব হয় না। তাই এই ব্যাধি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো কিডনি বিকলতা প্রতিরোধ করা।


দুর্বলতা
কিডনি সমস্যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হচ্ছে দুর্বলতা। আর এই দুর্বলতা আসে রক্তশূন্যতা থেকে। কিডনি যদি ঠিকমতো কাজ না করতে পারে তাহলে রক্ত ক্রমাগত দূষিত হতে থাকে। যার কারণে রক্তে নতুন করে ব্লাড সেল উৎপন্ন হয় না। এছাড়াও কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে তা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন এরিথ্রোপ্রোটিন উৎপন্ন করতে পারে না।

চোখে ঝাপসা দেখা
কিডনির সমস্যা আপনার চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা মানসিক অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে। কারণ শরীরের বর্জ্য পদার্থের একটি বড় অংশ হচ্ছে ইউরিয়া। কিডনির সমস্যার কারণে ইউরিয়া শরীর থেকে বের না হয়ে বরং রক্তে মিশে যায়। এই দূষিত রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছে মানসিক অস্থিরতা, ঝাপসা দেখা এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে। যদি ইউরিয়ার পরিমাণ অত্যধিক হয় তাহলে তা মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে, যার ফলাফলে রোগী কোমাতে পর্যন্ত চলে যেতে পারেন।

শ্বাসকষ্ট
যখন কিডনি কাজ করা বন্ধ করতে শুরু করে, তখন শরীরের বর্জ্য পদার্থ রক্তে মিশতে শুরু করে। এই বর্জ্য পদার্থের বেশিরভাগই হচ্ছে অম্লীয় পদার্থ। তাই এই বর্জ্য যখন রক্তের সাথে ফুসফুসে পৌঁছায় তখন ফুসফুস সেই বর্জ্য বের করার জন্য কার্বনডাই অক্সাইড ব্যবহার করা শুরু করে। যার কারণে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ফুসফুসে ঢুকতে পারে না। এতে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে।

শরীরে চুলকানি
কিডনির অক্ষমতায় শরীরে প্রিউরিটাস দেখা দেয়। প্রিউরিটাস আসলে চুলকানির মেডিক্যাল নাম। শরীরের রক্তে যখন বর্জ্য পদার্থ মিশতে শুরু করে তখন চুলকানির উপসর্গ দেখা দেয় কারণ ওই বর্জ্যের মধ্যে ফসফরাস থাকে। যেসব খাবারে ফসফরাস থাকে যেমন দুধজাতীয় খাবার, সেগুলো হজমের পর ফসফরাস বর্জ্য হিসেবে মূত্রের সাথে বের হতে পারে না। যার কারণে এটি রক্তে মিশে চামড়ায় চুলকানি সৃষ্টি করতে থাকে।

অরুচি
শরীরের বর্জ্য পদার্থের আরেকটি উপাদান হচ্ছে অ্যামোনিয়া। যদি অ্যামোনিয়া রক্তে মেশে তাহলে তা শরীরে প্রোটিন নষ্ট করে ফেলে। কিডনির অক্ষমতায় শরীর বর্জ্য হিসেবে অ্যামোনিয়া ফিল্টার করতে পারে না। রক্তে অত্যধিক পরিমাণের অ্যামোনিয়া মুখে অরুচি, ওজন হারানোর মত সমস্যার সৃষ্টি করে।

প্রস্রাবের রং পরিবর্তন এবং রক্তক্ষরণ
কিডনির সমস্যায় প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হয়ে যায়। কারণ, কিডনির অক্ষমতায় রেনাল টিউবিউলসের ক্ষতি হয়, যা পলিইউরিয়ার সৃষ্টি করে। কিডনির অক্ষমতা যত বৃদ্ধি পাবে, প্রস্রাবের পরিমাণ ততই কমবে এবং রং গাঢ় হলুদ কিংবা কমলা রং হয়ে যাবে। সেই সাথে প্রস্রাবের সাথে রক্তক্ষরণ এবং অত্যধিক ফেনা হতে পারে।

ব্যথা
একটি জেনেটিক কন্ডিশনের কারণে শরীরের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে কিডনি এবং লিভারে এক ধরনের ফ্লুইড ভর্তি সিস্ট বা গুটির সৃষ্টি হয়। এই সিস্টের মধ্যে থাকা ফ্লুইড এক ধরনের বিশেষ টক্সিন বহন করে, যা শরীরের শিরা বা ধমনী গুলোতে ক্ষতি করতে পারে। একাধিক শিরার বা ধমনীর ক্ষতি হলে তা শরীরে ব্যথা সৃষ্টি করে। সাধারণত এই ব্যথাগুলো শরীরের পেছনের অংশে, পায়ে কিংবা কোমরে হতে পারে।

বমি
রক্তে বর্জ্য পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনি রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।

ফোলা ভাব
কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দেয়। কিডনিতে রোগ হলে এই বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয়। বাড়তি পানি শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে।

সবসময় শীত বোধ হওয়া
কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়। আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।


কিডনি ভালো রাখার উপায়:

*ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রক্তের শর্করা এবং প্রস্রাবের অ্যালবুমিন পরীক্ষা করা ও রক্তের হিমোগ্লোবিন এওয়ানসি (নিয়ন্ত্রণে রাখা।

*ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের কিডনির কার্যকারিতা প্রতি ৬ মাস অন্তর পরীক্ষা করা।

*উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

*শিশুদের গলা ব্যথা, জ্বর ও ত্বকে খোস-পাঁচড়ার দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করা উচিত। কারণ এগুলো থেকে কিডনি প্রদাহ বা নেফ্রাইটিস রোগ দেখা দিতে পারে।

*ডায়রিয়া, বমি ও রক্ত আমাশয়ের কারণে রক্ত পড়ে ও লবণশূন্য হয়ে কিডনি বিকল হতে পারে। তাই দ্রুত খাবার স্যালাইন খেতে হবে। প্রয়োজনে শিরায় স্যালাইন দিতে হবে।

*চর্বিজাতীয় খাবার ও লবণ কম খাওয়া এবং পরিমিত পানি পান করা।

*প্রস্রাবের ঘন ঘন ইনফেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া।

*চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক ও তীব্র ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করা।

*মাত্র দুটি পরীক্ষায় জানা যায় কিডনি রোগ আছে কি-না এবং একটি সহজ সমীকরণে বের করা যায় কিডনি শত ভাগের কত ভাগ কাজ করছে। একটি হলো- প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা মাইক্রো অ্যালবুমিন যায় কি-না এবং অন্যটি রক্তের ক্রিয়েটিনিন।

ডায়ালাইসিসের ব্যয় যোগাতে না পেরে মারা যাচ্ছেন ৯০ শতাংশ রোগী
                                  

ডায়ালাইসিসের ব্যয় মেটাতে না পেরে ৯০ ভাগ কিডনি রোগীই মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালে কিডনির ডায়ালাইসিস ব্যয় প্রকৃত খরচের দ্বিগুণ তিনগুণ হওয়ায় মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ হচ্ছে সিংহভাগের। সমস্যা সমাধানে হোম ডায়ালাইসিসের সুযোগ সৃষ্টি ও সীমিত লাভে ডায়ালাইসিস সেবা দিতে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের প্রতি আহ্বান চিকিৎসকদের।

জমি, দোকান ও সবশেষ স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে কেবল মৃত্যুকে পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন ফরিদা বেগম। দীর্ঘদিন ডায়ালাইসিসের খরচ ও বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ বাণিজ্যের খপ্পরে পড়ে শেষ হয়েছে ৫০ লাখের বেশি টাকা। স্বামীর কাঁধে ক্রমাগত ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় আশঙ্কায় এখন ফরিদার মনেও।

ফরিদা বেগম বলেন, `সব সময় টাকা পয়সা থাকে না। জমি জমা সব বিক্রি করে দিয়েছি। তাতেও টাকায় কুলাচ্ছে না।`

সরকারি হাসপাতালেই সপ্তাহে ডায়ালাইসিস ও আনুষঙ্গিক ব্যয় অন্তত ১০ হাজার টাকা। হাসপাতাল ভেদে বেসরকারিতে এই ব্যয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বেসরকারি সেবা কেন্দ্রগুলো প্রকৃত খরচের কয়েকগুণ মুনাফা করায় পথে নামতে বাধ্য হচ্ছে লাখো পরিবার।

রোগীর এক আত্মীয় বলেন, `৪০ হাজার টাকার নিচে কোনো রোগী সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাসিস করতে পারে না।` এক রোগী বলেন, `স্বাস্থ্যখাতে যে দুর্নীতি হচ্ছে তা বন্ধ করতে পারলে জেলা পর্যায়ে ডায়ালাসিস সুবিধা দেয়া সম্ভব।`

এক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতায় উন্নত দেশগুলোর মতো ব্যাপকভাবে হোম ডায়ালাইসিসের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা এম এ সামাদ বলেন, কিছু প্রশিক্ষণ দিলেই ঘরে করা সম্ভব। তিন ব্যাগ পানি বদলাতে হয় সরকার যদি কোনোভাবে এটার ব্যবস্থা করে তাহলে ৯০ ভাগ রোগীকে এটার আওতায় আনা যেতে পারে।

কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, `আমরা হিসাব করে দেখেছি প্রতিদিন লাভ ছাড়াই ২৩শ’ টাকায় ডায়ালাসিস করা সম্ভব।`

ব্যয় কমানোসহ প্রতিটি জেলায় কিডনি রোগের সেবা ছড়িয়ে দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানান জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট পরিচালক অধ্যাপক ডা নুরুল হুদা লেলিন। তিনি বলেন, ‘যদি সদিচ্ছা থাকে মানুষকে সেবা দেয়ার তাহলে প্রাইভেট হাসপাতালে সেবার মান বাড়িয়ে খরচের হার কমিয়ে আনা উচিত।’

ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন রোগীদের মাত্র ২০ ভাগ চিকিৎসা নিতে পারেন। এদের মধ্যে আবার ৮০ থেকে ৯০ ভাগ অর্থের অভাবে মাঝপথে চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। তাই সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ব্যয় নাগালের মধ্যে আনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

দ্রুত কলেরা রোগনির্ণয় পদ্ধতির উদ্ভাবন
                                  

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ এবং বহির্বিশ্বে কলেরা রোগ সংক্রমণের শুরুতে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে তা শকরার লক্ষ্যে আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানীরা ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কলকিট নামের একটি ডিপস্টিক তৈরি করেছে।

তিন বছরব্যাপী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত গবেষণা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার শেষে সাশ্রয়ী এই দ্রুত রোগনির্ণয় পরীক্ষা (আরডিটি) এ ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতির সকল চাহিদা ও দিকনির্দেশনা পূরণ করেছে। কলকিট আরডিটি মলে ভিব্রিও কলেরি চিহ্নিত করতে সক্ষম। এটি এমন একটি ইমিউনোক্রোমাটোগ্রাফিক ডিপস্টিক পরীক্ষা পদ্ধতি যা মলের নমুনাযুক্ত টিউবের মধ্যে ডুবালে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে যথাযথ ফলাফল (খালি চোখে দৃশ্যমান রঙিন ব্যান্ড) প্রদর্শন করে।

মঙ্গলবার আইসডিডিআরবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কলকিটের গবেষণাগার ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা-সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল প্লস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেসে প্রকাশিত হয়েছে।

এতে দেখা যায় যে, মাঠপর্যায়ে ভিব্রিও কলেরি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কলকিটের সংবেদনশীলতা ও নির্দিষ্টতা বিদেশি আরডিটির অনুরূপ। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে মোট ৭,৭২০ জন রোগীর মলের নমুনা পরীক্ষা করা হয় যেখানে দেখা গেছে, কলকিটের সংবেদনশীলতা শতকরা ৭৬ ভাগ ও নির্দিষ্টতা শতকরা ৯০ ভাগ এবং অন্যান্য প্রচলিত আরডিটির ক্ষেত্রে এগুলো ছিল যথাক্রমে শতকরা ৭২ ও ৮৬.৮ ভাগ। কলেরা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট মান হলো গবেষণাগারে মল কালচার পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ, যা নমুনা তৈরি, পরিবহনে বিলম্ব, দক্ষ কর্মী, সময় (২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা) এবং ব্যয়ের (নমুনা প্রতি ৬ থেকে ৮ মার্কিন ডলার) মতো বিষয়ের প্রতি সংবেদনশীল।

জনস্বাস্থ্য খাতের পরিপ্রেক্ষিতে, কলেরার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলার জন্য অবিলম্বে রোগনির্ণয় একান্ত অপরিহার্য, কারণ কলেরা জীবাণু খুব দ্রুত ছড়িয়ে অল্পসময়ের মধ্যেই মহামারীর আকার ধারণ করতে পারে। তাই, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় অগ্রাধিকার পায় দ্রুততম সময়ে সঠিকভাবে রোগ চিহ্নিত করতে সক্ষম, সাধারণ ও সাশ্রয়ী এবং সহজে সংরক্ষণ করা যায় এমন একটি পদ্ধতি। ডিপস্টিক পরীক্ষা পদ্ধতি তেমনই একটি পদ্ধতি। মহামারী প্রবণ এলাকা ও আশপাশের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত রোগের প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ, রোগের মৌসুমভিত্তিক ব্যাপকতা পর্যবেক্ষণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে কলেরা জরিপের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহারে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

আইসিডিডিআরবির সংক্রামক রোগ বিভাগের বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী কলকিট তৈরির কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায় যে, এই অঞ্চল থেকেই বিশ্বের সাতটি মহামারীর সবগুলোর বিস্তার ঘটেছে। কলেরা রোগের দ্রুত শনাক্তকরণের ওপর এ রোগের ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে। বর্তমানে কলেরা শনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে গবেষণাগারে মলের কালচার পরীক্ষার পাশাপাশি আমদানিকৃত দ্রুত রোগনির্ণয় কিট ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে উৎপন্ন একটি আরডিটি কলকিট রয়েছে, যা দেশের আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করবে এবং ভবিষ্যতে কলেরার ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোয় রফতানির সুযোগ তৈরি করবে। এর মধ্য দিয়ে প্রাচীন এই রোগের মোকাবেলা এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কলেরা প্রতিরোধক উপকরণ, যেমন কলেরা টিকা এবং দ্রুত রোগনির্ণয় করার কিটের মাধ্যমে সম্ভব হবে।

আইসিডিডিআরবি এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) যৌথ ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে ইনসেপ্টা কর্তৃক উৎপাদিত কলকিট বাংলাদেশের ২২টি কলেরা জরিপ সাইটে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কলেরা একটি অতি প্রাচীন রোগ। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মানুষ এ রোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যার সিংহভাগ রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ কলেরার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ রোগটির জন্য প্রধানত ভিব্রিও কলেরি নামের একটি জীবাণু দায়ী, ভিব্রিও কলেরির ২০০-রও বেশি সেরোটাইপ রয়েছে। সেরোগ্রুপ `ও১` এবং `ও১৩৯` রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু এবং এগুলো মহামারী ও রোগের আঞ্চলিক প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী।

তবে, গত দশকে ভিব্রিও কলেরি `ও১৩৯`-এর কারণে কোনো মহামারী ঘটেনি, কেবল রোগের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেখা গেছে। কলকিট ভিব্রিও কলেরি সেরোগ্রুপ `ও১` শনাক্তকরণে অত্যন্ত কার্যকর। এটির উৎপাদন আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে; এটির মূল্য প্রায় ৩ মার্কিন ডলার।

আড়াই কোটি শিশু খাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
                                  

দেশের আড়াই কোটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র থেকে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো খাবে।

আজ (বৃহস্পতিবার) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যে ভিটামিন খাওয়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ নিরাপদ। কোনো প্রকার গুজবে কান না দিয়ে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গত ১৯ জানুয়ারি ছিল ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের নির্ধারিত দিন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভারতের একটি কোম্পানি থেকে আমদানিকৃত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পেইন স্থগিত করে।

ক্যান্সারের ১১ লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না
                                  

মানুষকে যে রোগগুলো বেশি ভোগায়, তার মধ্যে ক্যান্সার সবচেয়ে ভীতিকর। ক্যান্সার শরীরে একবার বাসা বেঁধে ফেললে রোগীকে বাঁচিয়ে ফেরানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। ক্যান্সার হয়ে গেলে আরও অনেক রোগ চেপে বসে শরীরে। তখন রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা একেবারে দুঃসাধ্যই হয়ে যায়। তবে কেউ যদি প্রাথমিক পর্যায়েই এই মরণব্যাধি শনাক্ত করে ফেলতে পারে, তার বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানিই উজ্জ্বল থাকে।
সেজন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, দুঃখ করার চেয়ে নিজেকে সুস্থ রাখাই দরকার বেশি। তাই শরীরে কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে, বিশেষত উদ্বেগজনক কোনো উপসর্গ বোঝা গেলে, অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

কিন্তু ক্যান্সারের লক্ষণ বোঝার ওপায় কী? স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট দিয়েছে ১১টি লক্ষণ। এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে ঘাবড়ে না গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে রোগী ও স্বজনদের।

১. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
আপনি যদি দীর্ঘ সময় ধরে ক্লান্তিবোধ করেন অথবা অবসাদে ভোগেন তবে সেটা অনেক রোগেরই কারণ হতে পারে, হতে পারে ক্যান্সারও। মলাশয়ের ক্যান্সার বা রক্তে ক্যান্সার হলে সাধারণত এমন উপসর্গ দেখা যায়। তাই, আপনি যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি ক্লান্তিবোধ করেন অথবা দীর্ঘসময় ধরে ক্লান্ত থাকেন, অবিলম্বে চিকিৎসাসেবা নিন।

২. আকস্মিক ওজন হ্রাস
কোনো কারণ ছাড়া হঠাৎ করেই দ্রুতগতিতে যদি ওজন হারাতে থাকেন, তবে ভাবনার কারণ আছে। অনেক ক্যান্সারই সাধারণত হুট করে ওজন কমিয়ে ফেলে। তাই শরীরের ওজনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে সবসময়।
৩. দীর্ঘদিনের ব্যথা

দৃশ্যত কোনো কারণ (যেমন জখম-আঘাত) ছাড়া যদি আপনি দীর্ঘদিন ধরে শরীরের কোনো স্থানে ব্যথায় ভোগেন, তবে তাতে ওষুধও কাজ না করলে এ নিয়ে ভাবনার কারণ আছে। শরীরের কোন জায়গায় ব্যথা করছে তার ওপর নির্ভর করছে রোগী ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত নাকি ডিম্বাশয়, পায়ুপথ বা মলাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত।

৪. অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড
আপনি যদি শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক কোনো মাংসপিণ্ড দেখতে পান অথবা মাংস জমাট হতে দেখেন কিংবা এ ধরনের পরিবর্তন বুঝতে পারেন, তবে এটা তেমন কিছুরই লক্ষণ, যা আপনার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত। এমনকি আপনার শরীরে কোনো পরিবর্তন স্বাভাবিক মনে হলেও পর্যবেক্ষণ করুন, এরপর অন্তত চিকিৎসককে জানান।

৫. ঘন ঘন জ্বর
ক্যান্সার শরীরে জেঁকে বসলে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এতে ঘন ঘন জ্বর দেখা দেয়। দুর্ভাবনার ব্যাপার হলো, কিছু ক্যান্সারের শেষ পর্যায়েরই উপসর্গ ঘন ঘন জ্বর। তবে ব্ল্যাড ক্যান্সারসহ এ ধরনের কিছু ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়েই ঘন ঘন জ্বর দেখা দেয় শরীরে।
৬. ত্বকে পরিবর্তন

অনেকেই ত্বকের ক্যান্সারের ব্যাপারে সচেতন নন। ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তনই এমন ক্যান্সার শনাক্ত করার সহজ উপায়। তাই ত্বকে অতিরিক্ত তিল বা ফ্রিকেল অথবা আঁচিলের দিকে খেয়াল করুন। যদি এর রং, আকারে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ত্বক লালচে হয়ে যাওয়া, ফস্কুড়ি পড়ে যাওয়া এবং রক্তক্ষরণও অন্যান্য ক্যান্সারের উপসর্গ।

৭. দীর্ঘস্থায়ী কাঁশি
আপনি যদি দেখেন যে ওষুধ সেবনের পরও কাশি সারছেই না, তবে শীতকালীন কাশির চেয়েও এটা বেশি কিছু ধরে নিতে হবে। আর এই কাশির কারণে যদি আপনার বুক, পিঠ বা কাঁধে ব্যথা করে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৮. মল-মূত্রত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন
যদি মল বা মূত্রত্যাগের জন্য ঘন ঘন শৌচাগারে যেতে হয়, তবে এখানে ক্যান্সার নিয়ে ভাবনার কারণ আছে। ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যও মলাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণ। মূত্রত্যাগের সময় অন্ত্রে ব্যথা বা রক্তক্ষরণ মূত্রথলির ক্যান্সারের উপসর্গ।

৯. অকারণে রক্তক্ষরণ
যদি কাশির সময় রক্তক্ষরণ হয়, তবে এটা ক্যান্সারের বড় লক্ষণ। এছাড়া স্ত্রী অঙ্গ (ভ্যাজিনা) বা মলদ্বার থেকে রক্তক্ষরণসহ এ ধরনের অন্যান্য অস্বাভাবিকতাও ক্যান্সারের উপসর্গ।

১০. খাবার গ্রহণে সমস্যা
কেউ খাবার খেলেই যদি নিয়মিত বদহজমে ভোগেন, তবে পেট, কণ্ঠনালী বা গলার ক্যান্সার নিয়ে ভাবনার কারণ আছে। অবশ্য সাধারণত এসব উপসর্গকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। তবু অসুস্থতাকে কখনো এড়িয়ে যেতে নেই।

১১. অন্যান্য উপসর্গ
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলোকে ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ মনে করা হয়। তবে এর বাইরেও অনেক লক্ষণ আছে ক্যান্সারের। এগুলোর মধ্যে আছে পা ফুলে যাওয়া, শরীরের আকারে বা অনুভূতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ইত্যাদি।

সবশেষ কথা হলো, ক্যান্সারের অনেক কারণ বোঝাও যায় না, এমনকি অন্য ক্যান্সারের চিকিৎসার পরবর্তী পরিণতি হিসেবে আরেক ক্যান্সার দেখা দেয়। তাই শরীরের যেকোনো অসুস্থতাকেই গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। বিশেষ করে বয়স ৩০-৪০ বছর পেরিয়ে গেলে অবশ্যই প্রতি অর্ধবছর বা প্রতিবছর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।

আশার কথা এই যে, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারলে বেশিরভাগ ক্যান্সারেরই চিকিৎসা সম্ভব। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, বলিউড অভিনেত্রী মনিষা কৈরালা বা ভারতের ক্রিকেটার যুবরাজ সিংরা কিন্তু ক্যান্সার জয় করে দাপটের সঙ্গেই ফিরেছেন স্ব স্ব অঙ্গনে।

ছেলে শিশু বেশি জন্মায় কেন?
                                  

ব্রিটেনে প্রতি বছরই জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্যে ছেলে বাচ্চার সংখ্যা মেয়ে বাচ্চার চেয়ে বেশি। রানি ভিক্টোরিয়ার সময় থেকে এমন কোনো বছর নেই যেখানে মেয়ে শিশু বেশি জন্মেছে। উদাহরণস্বরূপ ২০১৭ সালে ব্রিটেনে মেয়ে শিশু জন্মেছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৫ জন। এ সময় ছেলে শিশু জন্মেছে প্রায় ১৭ হাজার বেশি-মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৭১ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক হিসাব মতে, সদ্য জন্মানো শিশুদের মধ্যে প্রাকৃতিক জেন্ডার অনুপাত হলো প্রতি ১০০ মেয়ে শিশুর বিপরীতে জন্ম নিচ্ছে ১০৫ ছেলে শিশু। সারা পৃথিবীতেই এ অনুপাত মোটামুটি একই। শুধু চীন বা ভারতের মতো কিছু দেশ ছাড়া। কারণ সেখানে পিতামাতার কাছে ছেলে শিশু অধিক কাঙ্ক্ষিত বলে মনে করা হয়।

 কিন্তু ঠিক কী কারণে ছেলে শিশু বেশি জন্মায়-তা এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা। তাই এ নিয়ে একাধিক তত্ত্ব আছে। প্রথম তত্ত্বটা হলো: পুরুষ হিসেবে বেড়ে ওঠাটাই একটা বিপজ্জনক ব্যাপার। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, জীবনের প্রতি ক্ষেত্রেই তার অল্প বয়সে মারা যাবার সম্ভাবনা মেযেদের চাইতে বেশি। সেটা হতে পারে তা দুর্ঘটনা, ঝুঁকি নেয়া, আত্মহত্যা বা স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা এমন যেকোনো কারণে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড স্টাইনজালৎস বলছেন, যেকোনো স্থান-কাল-পাত্রেই পুরুষের মারা যাবার ঝুঁকি নারীর চেয়ে বেশি। তাই বিবর্তনের নিয়মেই পুরুষ শিশুর জন্ম বেশি হচ্ছে যাতে শেষ পর্যন্ত পরিণত বয়সে নারী ও পুরুষের সংখ্যায় একটা সমতা থাকে।

সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে, সেটা নির্ধারণ হয় যেভাবে

সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারিত হয় পুরুষের শুক্রাণু থেকেই-এ কথা হয়তো অনেকেই এখন জানেন। নারীর ডিম্বাণুকে নিষিক্তকারী শুক্রাণুটি যদি ওয়াই ক্রোমোজোম বহনকারী হয়, তাহলে সন্তান হবে ছেলে। আর সেই শুক্রাণু যদি এক্স ক্রোমোজোম বহনকারী হয় তাহলে সন্তান হবে মেয়ে।

এখন কোটি কোটি শুক্রাণুর মধ্যে নিষিক্তকরণের প্রতিযোগিতায় কোনটি জয়ী হবে-তা নির্ভর করে পিতামাতার বয়সে, নারীর ঋতুচক্র, মানসিক অবস্থা, খাদ্য, এমনকি কোন ভঙ্গিতে তাদের যৌনমিলন ঘটছে তার ওপর।

বলা হয়, ওয়াই ক্রোমোজোমবাহী পুরুষ শুক্রাণু জরায়ুর ভেতর বেশি সময় বাঁচে না কিন্তু তারা দ্রুত ছুটতে পারে। অন্যদিকে নারী শুক্রাণু ধীরগতিতে চলে কিন্তু বাঁচতে পারে বেশি সময়। তাই জনপ্রিয় একটি তত্ত্ব হলো : নারীর ঋতুচক্রের কোন সময়টায় দম্পতি কতবার মিলিত হচ্ছেন এবং কতদিন বিরতি দিচ্ছেন-তার ওপর নির্ভর করে সন্তান মেয়ে না ছেলে হবে।

নারীর ডিম্বস্ফোটন বা ওভুল্যুশনের ঠিক আগে বা পরে যৌনমিলন হলে যে শুক্রাণুগুলো দ্রুত ছুটতে পারে তারাই ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হতে পারে এবং ছেলে সন্তানের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর বিপরীতটা হলে অর্থাৎ ওভুলেশনের কয়েকদিন আগে একাধিকবার যৌনমিলন হবার পর কয়েকদিন বিরতি দিলে কন্যাসন্তানের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

কিন্তু অভিভাবকরা যাই বলুন, বিজ্ঞানীরা অবশ্য মনে করেন এসব পরিকল্পনা করে যৌনমিলন করেও ফলাফলে বিশেষ কোনো পার্থক্য হয় না। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা-মা যদি মানসিক চাপে থাকেন তাহলে মেয়ে শিশু জন্মের সম্ভাবনা বাড়ে।

অন্যদিকে যুদ্ধ বা সংঘাতের মধ্যে যে বাবা-মায়েরা বাস করছেন তাদের ছেলে সন্তান বেশি হতে পারে। প্রশ্ন হলো- এ রকম পরিকল্পিত যৌনমিলনে যদি কাজ না-ই হয়, তাহলে কি আসলে গর্ভাবস্থার সময় অন্য কিছু ঘটছে?

বিজ্ঞানীরা বলেন, কিছু গবেষণায় আভাস পাওয়া গেছে যে, গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে কন্যা ভ্রুণ নষ্ট হয়ে যাবার ঝুঁকি বেশি। কিন্তু অন্য কিছু জরিপে দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার শেষদিকে পুরুষ ভ্রুণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে এবং এর ফলে মৃত শিশুর জন্ম হতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, আসলে গর্ভকালীন সময়ে ঠিক কী ঘটে এবং কেন ঘটে তা নির্ভূলভাবে বলা খুবই কঠিন। মোটের ওপর, আমরা এটাই দেখি যে, ছেলে ভ্রুণই পরিণত অবস্থা পর্যন্ত বেশি পৌঁছায় এবং ছেলে শিশুর জন্মই বেশি হয়।


   Page 1 of 8
     স্বাস্থ্য
শিশুর ডেঙ্গু হলে
.............................................................................................
গাঁটের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে...
.............................................................................................
ডেঙ্গু রোগের যেসব লক্ষণ দেখা যায়
.............................................................................................
হেপাটাইটিস থেকে রক্ষা পেতে ৭ পরামর্শ
.............................................................................................
কিডনির ভীতিকর সাত রোগ
.............................................................................................
ভিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বিএসএমএমইউ
.............................................................................................
হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে করণীয়
.............................................................................................
বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস আজ
.............................................................................................
ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বেগুন
.............................................................................................
ডিম কীভাবে খাওয়া ভালো?
.............................................................................................
কিডনি রোগের লক্ষণ ও ভালো রাখার উপায়
.............................................................................................
ডায়ালাইসিসের ব্যয় যোগাতে না পেরে মারা যাচ্ছেন ৯০ শতাংশ রোগী
.............................................................................................
দ্রুত কলেরা রোগনির্ণয় পদ্ধতির উদ্ভাবন
.............................................................................................
আড়াই কোটি শিশু খাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
.............................................................................................
ক্যান্সারের ১১ লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না
.............................................................................................
ছেলে শিশু বেশি জন্মায় কেন?
.............................................................................................
শীতে শ্যাম্পু করার ভয়? নিজেই তৈরি করুন ড্রাই শ্যাম্পু
.............................................................................................
ঠান্ডাজনিত সমস্যা দূর করে যেসব পানীয়
.............................................................................................
জলপাই কেন খাবেন?
.............................................................................................
যে কারণে রোগীরা মিথ্যা কথা বলেন
.............................................................................................
দাঁতের ব্যথার ঘরোয়া সমাধান
.............................................................................................
টুথপেস্ট দিয়ে রূপচর্চা করবেন যেভাবে
.............................................................................................
শীতেও চুল সুন্দর রাখার ৫ উপায়
.............................................................................................
জেনে নিন কটন বাড ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক
.............................................................................................
মাছের ফর্মালিন দূর করার সহজ উপায়
.............................................................................................
সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় নিহত ৪৩
.............................................................................................
যেসব খাবার একসঙ্গে খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে
.............................................................................................
প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে পুরুষ, বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি!
.............................................................................................
অফিসেই করতে পারেন যে ব্যায়াম
.............................................................................................
কিডনি রোগের ১০ লক্ষণ, জানেন কি?
.............................................................................................
নারী পুরুষের মধ্যে ১০টি অবাক করা মানসিক পার্থক্য
.............................................................................................
যা করলে মাথাব্যথা কমে
.............................................................................................
অতিরিক্ত ওষুধে আপনার যে অদ্ভুত ‘রোগ’ হতে পারে
.............................................................................................
সত্যিই কি আবহাওয়ার সঙ্গে ব্যথার সম্পর্ক আছে?
.............................................................................................
ইমাম হোসেনকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন
.............................................................................................
খালেদার চিকিৎসায় দুই চিকিৎসক নিয়ে আপত্তি বিএনপির
.............................................................................................
মেডিকেল বোর্ড অপেক্ষা করেছে, খালেদা জিয়াকে দেখেনি
.............................................................................................
খালেদাকে বিকালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হচ্ছে
.............................................................................................
খালেদার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মেডিকেল বোর্ড কারাগারে
.............................................................................................
১০০ বছরের ডেলটা প্ল্যান অনুমোদন
.............................................................................................
চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন রাষ্ট্রপতিচিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন রাষ্ট্রপতি
.............................................................................................
খালেদা জিয়া অসুস্থ
.............................................................................................
খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নেওয়া হবে : আইনমন্ত্রী
.............................................................................................
বিকেলে খালেদার সঙ্গে দেখা করবেন তার চিকিৎসকরা
.............................................................................................
মুক্তামণি আর নেই
.............................................................................................
‘খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা না পাওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’
.............................................................................................
রাজীব হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি
.............................................................................................
শাহরিন ও শাহীনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন
.............................................................................................
যুবরাজের মৃত্যু
.............................................................................................
বিকেলে সিঙ্গাপুর নেয়া হচ্ছে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীকে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]