| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * আমরা ধর্মঘট ডাকিনি, ট্রাক শ্রমিকরা বাস চলতে দিচ্ছেন না   * বাসের দেখা মিলছে না, হেঁটেই গন্তব্যে মানুষ   * শুভ জন্মদিন বুবলী   * তাসকিনের সঙ্গে অভিনয়ে ফিরলেন শখ   * দেশের বাইরে মুক্তি পাচ্ছে একটি সিনেমার গল্প   * পিছিয়ে যাচ্ছে সৃজিত-মিথিলার বিয়ে   * নায়িকা শুভশ্রীর বাথটাবের ছবি ভাইরাল   * এক রাতের জন্য কত টাকা নেন, জবাব দিলেন স্বস্তিকা   * ভবনে বসবাসের সনদ নিতে রাজউকের মাইকিং   * এবার ঢাকার বাইরে বুথ থেকে টাকা চুরি  

   স্বাস্থ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ডায়াবেটিস হয় কেন?

নিউজ ডেস্ক

দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই আগে থেকে সচেতন না হলে কিংবা রোগটি নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে রোগীর কিডনি, চোখ, হৃৎপিণ্ড ও পা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়। এছাড়া নানা রকম শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ ও লক্ষণগুলো জেনে নিতে হবে-

যে কারণে হয়: প্রতিটি রোগের পেছনে কতগুলো কারণ থাকে। ডায়াবেটিসও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই জেনে নিন কারণগুলো।
১. জেনেটিক বা বংশগত কারণে ইনসুলিন তৈরি কম হলে।
২. জেনেটিক বা বংশগত কারণে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে গেলে।
৩. নানা ধরনের সংক্রামক ব্যধির কারণে হতে পারে।
৪. অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগের কারণেও হয়।
৫. ওষুধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শে এলে এ রোগ হতে পারে।
৬. অন্যান্য হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৭. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলেও হয়।



লক্ষণসমূহ: কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে সহজেই চিহ্নিত করা যায় ডায়াবেটিস। যত আগে ডায়াবেটিস চিহ্নিত করা যায়, ততই ভালো। কারণ তখনই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
১. ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া।
২. পানি পিপাসা বেশি বেশি লাগবে।
৩. শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হবে।
৪. বেশি বেশি ক্ষুধা পাবে।
৫. স্বাভাবিকভাবে খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমতে থাকবে।
৬. যেকোনো ধরনের ক্ষত শুকাতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দেরী হবে।
৭. নানা রকম চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।
৮. চোখে কম দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।

তাই ডায়াবেটিস থেকে নিজেকে রক্ষা করার সময় এখনই। কারণ ও লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রেখে প্রত্যেককেই সচেতন হতে হবে। আসুন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সচেষ্ট হই।

 
ডায়াবেটিস হয় কেন?
                                  

নিউজ ডেস্ক

দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই আগে থেকে সচেতন না হলে কিংবা রোগটি নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে রোগীর কিডনি, চোখ, হৃৎপিণ্ড ও পা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়। এছাড়া নানা রকম শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ ও লক্ষণগুলো জেনে নিতে হবে-

যে কারণে হয়: প্রতিটি রোগের পেছনে কতগুলো কারণ থাকে। ডায়াবেটিসও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই জেনে নিন কারণগুলো।
১. জেনেটিক বা বংশগত কারণে ইনসুলিন তৈরি কম হলে।
২. জেনেটিক বা বংশগত কারণে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে গেলে।
৩. নানা ধরনের সংক্রামক ব্যধির কারণে হতে পারে।
৪. অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগের কারণেও হয়।
৫. ওষুধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শে এলে এ রোগ হতে পারে।
৬. অন্যান্য হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৭. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলেও হয়।



লক্ষণসমূহ: কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে সহজেই চিহ্নিত করা যায় ডায়াবেটিস। যত আগে ডায়াবেটিস চিহ্নিত করা যায়, ততই ভালো। কারণ তখনই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
১. ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া।
২. পানি পিপাসা বেশি বেশি লাগবে।
৩. শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হবে।
৪. বেশি বেশি ক্ষুধা পাবে।
৫. স্বাভাবিকভাবে খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমতে থাকবে।
৬. যেকোনো ধরনের ক্ষত শুকাতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দেরী হবে।
৭. নানা রকম চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।
৮. চোখে কম দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।

তাই ডায়াবেটিস থেকে নিজেকে রক্ষা করার সময় এখনই। কারণ ও লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রেখে প্রত্যেককেই সচেতন হতে হবে। আসুন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সচেষ্ট হই।

 
১০০ জনে ২৬ গর্ভবতী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত
                                  

নিউজ ডেস্ক

>> মাত্র ২৬ শতাংশ গর্ভবতী ডায়াবেটিস সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন
>> এক বছরের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন ১৫ শতাংশ
>> চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কোনো গাইডলাইন নেই

দেশে গর্ভকালীন সময়ে নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। প্রতি ১০০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে ২৬ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, সন্তান প্রসবের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে ওই গর্ভবতী নারীদের ১৫ শতাংশ টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাজনক তথ্য পাওয়া গেছে।



বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) এক গবেষণা জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত বছর দেশের ৬৪ জেলার ৭ সহস্রাধিক গর্ভবতী নারীর ওপর এ গবেষণা জরিপ পরিচালিত হয়। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এ ধরনের ছোটখাটো জরিপ পরিচালিত হলেও দেশব্যাপী পরিচালিত এ ধরনের জরিপ এই প্রথম।

এ গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বাডাসের সেন্টার ফর গ্লোবাল রিসার্চের কো-অর্ডিনেটর বিশ্বজিৎ ভৌমিক সঙ্গে আলাপকালে জানান, আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক সমিতির (আইডিএফ) যে সাতটি অঞ্চল রয়েছে সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলাতে প্রতি ১০০ জনে ২৫ জন গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু গবেষণা জরিপে বাংলাদেশে ২৬ দশমিক ৪ জন পাওয়া যায়। তবে আশঙ্কার ব্যাপার হলো ১০ বছর পর এ গর্ভকালীন নারীরা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে পরিণত হবেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫ শতাংশ মাত্র এক বছরের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন।



তিনি জানান, গর্ভবতী নারীদের মধ্যে মাত্র ২৬ শতাংশের ডায়াবেটিস সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে। গর্ভবতী বিভিন্ন পেশাজীবী নারীর মধ্যে ডাক্তার, নার্স ও নিউট্রিশনিস্টদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫২ জন ডায়াবেটিস সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানান, তার স্ত্রী দ্বিতীয় সন্তানসম্ভবা। গাইনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর তার ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। প্রাথমিক গর্ভাবস্থা থাকায় চিকিৎসক তেমন কোনো ওষুধ দেননি। কিন্তু তার স্ত্রীর কখনও ডায়াবেটিস খুব বেশি আবার কখনও কমে হাইপো হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে ও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। এমন অবস্থায় ভয় পাচ্ছেন, চিকিৎসক বদল করবেন কি না ভাবছেন।


বাডাসের সেন্টার ফর গ্লোবাল রিসার্চে কো-অর্ডিনেটর বিশ্বজিৎ ভৌমিকের কাছে চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও এসব নারীর চিকিৎসা পদ্ধতি কি হবে সে সম্পর্কে কোনো গাইডলাইন নেই। ফলে গর্ভকালীন নারীদের সুচিকিৎসার পথে এটি একটি বাধা।

 
অতি মহামারিতে রূপ নিচ্ছে ডায়াবেটিস : আক্রান্ত ৪ কোটি!
                                  

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেনের বাড়ির গৃহপরিচারিকা মধ্যবয়সী আলেয়া খাতুন। কয়েকমাস আগেই গ্রাম থেকে এসে তার বাসায় কাজ নেন। সম্প্রতি তার পেটে টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকের কাছে গেলে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। অস্ত্রোপচারের আগে অপারেশনের জন্য শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন কি-না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন তিনি উচ্চ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। সারাজীবন গ্রামে কাটানো আলেয়া খাতুন স্বপ্নেও ভাবেননি তার ডায়াবেটিস হবে। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ডায়াবেটিস কমিয়ে তবেই অস্ত্রোপচার হয় তার। এটি কোন গল্প নয়, বাস্তব ঘটনা।

 

এক সময় ডায়াবেটিস বড় লোকের রোগ এবং রোগটি শহরের মানুষের মধ্যেই বেশি হয় এমন কথা লোক মুখে শোনা গেলেও সময়ের পরিক্রমায় ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যার ব্যবধান শহর-গ্রাম ও ধনী-দরিদ্রের মাঝে কমে এসেছে। শহরের মতো গ্রামের মানুষও এখন আধুনিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এক সময় গ্রামের মানুষ নিজের জমিতে চাষ করা চাল, ডাল, পুকুর, খাল-বিলের মাছ, বাড়ির আঙিনায় কিম্বা জমিতে চাষ করা তাজা শাকসব্জি খাওয়াতে অভ্যস্ত থাকলেও আধুনিকায়নের ফলে তারাও এখন ফাস্ট ফুড কালচারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এক সময় চা খেতেও গ্রামের ছোট্ট কাঁচা রাস্তা দিয়ে দু`মাইল পায়ে হেঁটে দূরের বাজারে গেলেও এখন শহরের মতো পাকা রাস্তা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল বা গাড়িতে যাতায়াত করেন। আধুনিকায়নের আশীর্বাদ এখন অভিশাপ হয়ে দেখা দিচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও কায়িক পরিশ্রম হ্রাস পাওয়াসহ নানা কারণে শহর ও গ্রামে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যার ব্যবধান অনেক কমে এসেছে।

 

 

 

দেশে জাতীয়ভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের কোনো পরিসংখ্যান নেই। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ছোটখাট গবেষণা জরিপ ও অনুমিত পরিসংখ্যান অনুসারে শতকরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলা হতো।

 

বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতি (বাডাস) গত বছর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে নভেম্বর মাস জুড়ে দেশের প্রতিটি উপজেলাসহ সর্বমোট ৮০০ স্পটে মোট ১ লাখ লোকের (যাদের ডায়াবেটিস নেই) ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ৪ জন মানুষের মধ্যে ১ জন (অর্থাৎ ২৫ শতাংশ) ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। দেশের মোট জনসংখ্যার হিসেবে দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি।

 

গবেষণা সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত চট্টগ্রামে ও সর্বনিম্ন সিলেটে। যে ১ লাখ মানুষের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের মধ্যে শতকরা ৭০ জন এ রোগটি সম্পর্কে জানেন। কিন্তু খুব ভালোভাবে জানেন মাত্র ৩৯ শতাংশ মানুষ। যাদের ওজন বেশি ও কায়িক পরিশ্রম কম করেন এবং যাদের পরিবারে ডায়াবেটিস রোগি রয়েছে তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার বেশি।

 

১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আসুন পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি। এর প্রাক্কালে আজ বুধবার রাজধানীর বারডেম হাসপাতাল মিলনায়তনে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাডাস সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, ডায়াবেটিস অতিমহামারি আকার ধারণ করছে। এক সময় এ রোগটি অপ্রতিরোধ্য বলা হলেও বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হওয়ায় এটি প্রতিরোধযোগ্য।

 

 

এ রোগ প্রতিরোধের জন্য ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ডায়াবেটিস হলে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও কায়িক পরিশ্রমের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলে সুস্থ থাকা সম্ভব। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন প্রাণহানির কারন হতে পারে। এ কারণে অতি মহামারি রোগটি প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে দেশব্যাপী ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 
স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ১৫ জেলায় দেড় সহস্রাধিক মেডিকেল টিম
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রবল শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর প্রভাবে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ১৫ জেলায় দেড় সহস্রাধিক মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

মেডিকেল অফিসার/সহকারী সার্জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স মিডওয়াইফ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য সহকারী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ও অন্যান্য কর্মচারীদের সমন্বয়ে প্রতিটি মেডিকেল টিম গঠিত হয়েছে।

চাহিদা অনুসারে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর জন্য সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপোর্ট (সিএমএসডি)-তে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পাঠানো হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার সকাল সাড়ে ১১টায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুসারে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল যে ১৫টি জেলায় আঘাত হানতে পারে সেগুলো হলো : ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও কক্সবাজার। এসব জেলাতে মোট ৪ হাজার ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের সাথে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং উপদ্রুত এলাকার কন্ট্রোল রুমের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 
প্রাপ্তবয়স্কদের ১৭ শতাংশ মানসিক রোগে ভুগছে
                                  

 

স্বাস্থ্য ডেস্ক

 

দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশ ও শিশুদের ১৪ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৭ শতাংশ মানসিক অবসাদজনিত (ডিপ্রেশন) এবং শিশুদের মধ্যে ৫ দশমিক ৯ ভাগ স্নায়ুবিকাশজনিত মানসিক সমস্যায় ভুগছে।

 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের কনভেনশন হলে আয়োজিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপের (২০১৮-১৯) ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথি ছিলেন।

 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল বিভাগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনে এ জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।জরিপ করা হয় প্রাপ্তবয়স্ক ৭ হাজার ২৭০ জন ও ২ হাজার ২৪৬ জনের ওপর।

 

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলালউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রাপ্তবয়স্ক ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ মানসিক রোগীদের মধ্যে ৯২ শতাংশ কোনো প্রকার চিকিৎসক গ্রহণ করে না। অপরদিকে ১৩ দশমিক ৬ ভাগ শিশু রোগীদের মধ্যে ৯৪ শতাংশই কোনো প্রকার চিকিৎসা গ্রহণ করে না।

 

তবে আশার খবর হলো, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যে ৮ শতাংশ চিকিৎসা গ্রহণ করেন তাদের ৮০ শতাংশ রোগী বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা অর্থাৎ প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

 

এর আগে সর্বশেষ ২০০৫ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ হয়েছিল।

 
ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় দুই-তৃতীয়াংশই মেয়ে
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক

সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের সদ্য প্রকাশিত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা অনেক বেশি ভালো করেছে। ফল বিশ্লেষণে জানা গেছে, সরকারি ডেন্টাল কলেজের সাধারণ ৫৩২টি আসনের মধ্যে ১৭০ জন ছেলে ও ৩৬২ জন মেয়ে পাস করেছে। অর্থাৎ চলতি বছরে ছেলেদের তুলনায় দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যক মেয়ে শিক্ষার্থী ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই এগিয়ে ছিল। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব এসব তথ্য জানান।

গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল গতকাল শনিবার প্রকাশিত হয়। চলতি বছর ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীর মোট সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ১১৬ জন।

 

আবেদনকারীদের মধ্যে শুক্রবারের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১৯ হাজার ৭৮৮ জন (৭৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ)। অনুপস্থিত ছিল পাঁচ হাজার ৩২৮ জন। মোট আবেদনকারীর মধ্যে পুরুষ আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল আট হাজার ৮ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ছয় হাজার ২০৭। মেয়ে আবেদনকারী ১৭ হাজার ১০৮ জনের মধ্যে অংশ নেয় ১৩ হাজার ৫৮১ জন।

ভর্তি পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেয়ে পাস করেছে ১৭ হাজার ৫১৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছে দুই হাজার ২৭১ জন।

১০০ নম্বরের নৈব্যক্তিক প্রশ্নপত্রে নেয়া পরীক্ষায় সাধারণ আসনে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থী পেয়েছে ৯২ দশমিক ৫০ নম্বর। সংরক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৮৫ দশমিক ২৫ এবং পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী কোটায় সর্বোচ্চ ৭৯ নম্বর উঠেছে। শীর্ষ নম্বরপ্রাপ্ত আরও ৯ জন শিক্ষার্থীর নম্বর হলো যথাক্রমে ৯০, ৮৮, ৮৮, ৮৭, ৮৬ দশমিক ৭৫, ৮৬ দশমিক ৫০, ৮৬ দশমিক ৫০, ৮৬ দশমিক ৫০ এবং ৮৬ দশমিক ২৫।

মোট অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দুই হাজার ৮৭৮ জন ৪০-৫০ নম্বর, চার হাজার ৩০৩ জন ৫০-৬০নম্বর, পাঁচ হাজার ৮০৬ জন ৬০-৭০ নম্বর, চার হাজার ৭৬ জন ৭০-৮০ নম্বর, ৪৫২ জন ৮০-৯০ নম্বর এবং দুইজন ৯০-১০০ এর মধ্যে নম্বর পেয়েছে।

স্তন ক্যানসার রোধে যা খাবেন
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে নারীর স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার দিন দিন বাড়ছে। গবেষকেরা বলছেন, জীবনাচরণ পাল্টে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। এর মধ্যে খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টিও রয়েছে।

যাঁদের ওজন বেশি, স্থূলতায় ভুগছেন, তাঁদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট হতে হবে।


প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার খেলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। আঁশজাতীয় খাবার পরিপাক ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, বর্জ্য নিঃসরণ ও কোষ্ঠ পরিষ্কারে ভূমিকা রাখে।

তাজা ফলমূল ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। বেরি–জাতীয় ফল যেমন, ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ও ব্ল্যাক রাস্পবেরি বিশেষ উপকারী। ডালিমে আছে এলাইডিক অ্যাসিড, যা উচ্চমানের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। হলুদ, সবুজ ও কমলা রঙের শাকসবজি ও ফলে আছে ফাইটোকেমিক্যাল ক্যারোটিনয়েডস। এ ধরনের শাকসবজি ও ফলের মধ্যে রয়েছে গাজর, মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টি আলু, পালংশাক ইত্যাদি। এগুলো বেশি করে খান। ক্রুসিফেরাস সবজি যেমন ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদিতে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে। এ ছাড়া এসব সবজিতে গ্লুকোসিনোলেট নামের যৌগও থাকে। এগুলো ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক।

গোটা শস্যদানা, যেমন লাল চাল, ওটস, বার্লি বা কর্নে আছে প্রচুর আঁশ ও ম্যাগনেসিয়াম। এগুলোও ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

গবেষণায় ভিটামিন ডি–এর অভাবের সঙ্গে স্তন ক্যানসারের একটি সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ডিমের কুসুম, হেরিং মাছ, সার্ডিন মাছ, স্যামন, ভিটামিন ডি ফরটিফায়েড কমলার রস, টক দইয়ে এই ভিটামিন থাকে।

সয়াবিন ও সয়া পণ্য, যেমন টফু, সয়া বাদাম, সয়া দুধ ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। দৈনিক ২ থেকে ৩ কাপ গ্রিন–টি পান করা ভালো। এ ছাড়া তিসিতে ওমেগা–৩, লিগন্যান্স ও আঁশ আছে। তিসির বীজ, তিসির তেল ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ উপকারী।

জলপাইয়ের তেল, অ্যাভোকেডো, বাদামে উপকারী চর্বি আছে। এগুলো বিশেষ উপকারী। এ ছাড়া সপ্তাহে অন্তত তিন দিন শীতল পানির মাছ খেতে পারেন।

মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার, ট্রান্স ফ্যাট, অ্যালকোহল, ফাস্ট ফুড ও লাল মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

 
হার্ট সতেজ রাখতে খাদ্যাভ্যাসে আনুন পাঁচ পরিবর্তন
                                  

অনলাইন ডেস্ক : বিজ্ঞানীরা বলেছেন, খাদ্যাভ্যাসে মাত্র পাঁচটি পরিবর্তন এনে হৃদরোগ ও স্ট্রোক থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারি।

ব্রিটেনে পুষ্টি ফাউন্ডেশন তাদের নতুন এক প্রতিবেদনে বলেছে, বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও এই দুটি কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

এক পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটেনে যতো মানুষের অকাল মৃত্যু হয়, তার অন্তত চার ভাগের এক ভাগের মৃত্যুর জন্য দায়ী হৃদরোগ।

স্বাস্থ্য গবেষকরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

পুষ্টি ফাউন্ডেশনের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মানুষের দেহের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অণুজীব মাইক্রোবায়োম যদি সুস্থ থাকে এবং কোমরের আকার যদি খুব বেশি বেড়ে না যায়, পাশাপাশি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখা যায়, তাহলেই হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনেই এসব অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে খাবার-দাবারের বেলায় কী ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে?

১. বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খান
যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ আছে, সেসব খাবার খাবেন। এসব খাবারের কারণে শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে সাহায্য করে এই ব্যাকটেরিয়া।

বেশি আঁশ আছে এরকম সবজির মধ্যে রয়েছে শিম ও মটরশুঁটি জাতীয় সবজি, কলাই ও ডাল জাতীয় শস্য এবং ফলমূল।

পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আলু এবং শেকড় জাতীয় সবজি খোসাসহ রান্না করলে সেগুলো থেকেও প্রচুর আঁশ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া তারা হোলগ্রেইন আটার রুটি এবং বাদামী চাল খাবারও পরামর্শ দিয়েছেন।

২. স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট-বাঁধা চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলুন
খাদ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেসব খাবারে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট-বাঁধা চর্বি থাকে, সেসব খাবার খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে বেড়ে যায় হৃদরোগের ঝুঁকিও। চিজ, দই, লাল মাংস, মাখন, কেক, বিস্কিট ও নারকেল তেলে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।

তারা বলেছেন, হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে হলে স্যাচুরেটেড নয় এমন চর্বি (যেসব খাবারের ওপর চর্বি জমাট বাঁধে না) সে ধরনের খাবার খেতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে, তেল সমৃদ্ধ মাছ, বাদাম ও বীজ। অলিভ, রেপসিড, সানফ্লাওয়ার, কর্ন এবং ওয়ালনাট তেল দিয়ে রান্নার বিষয়ে তারা জোর দিয়েছেন।

দুধের বেলায় স্কিমড বা সেমি-স্কিমড (দুধ থেকে চর্বি সরিয়ে নেয়া) দুধ খেতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে খাবারে যাতে বাইরে থেকে চিনি মেশানো না থাকে। লাল মাংসের বদলে খেতে হবে মুরগির মাংস। মুরগির চামড়া তুলে ফেলে দিন। গরুর মাংস খেলে তার ওপর থেকে চর্বি ফেলে দিয়ে রান্না করতে হবে।

সপ্তাহে অন্তত একদিন এমন মাছ খেতে হবে, যাতে প্রচুর তেল আছে। ক্রিস্প ও বিস্কিটের বদলে নানা ধরনের বাদাম ও বীজ খেতে পারেন।

৩. লবণকে বিদায় জানান
লবণ বেশি খেলে শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এর ফলে বৃদ্ধি পায় হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও। ব্রিটেনে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হয় যে এনএইচএস থেকে, তাদের পরামর্শ হলো- দিনে সর্বোচ্চ ৬ গ্রাম (এক চা চামচের পরিমাণ) লবণ খাওয়া যেতে পারে।

তারা বলেছেন, লবণ কম-বেশি খাওয়া একটি অভ্যাসের ব্যাপার। লবণ যতো কম খাওয়া হবে তার চাহিদাও ততো কমে যাবে।
এই অভ্যাস বদলাতে মাত্র চার সপ্তাহের মতো সময় লাগে। এই সময় পর দেখা যাবে আপনি যে খাবারের সঙ্গে লবণ খাচ্ছেন না, সেটি আপনি বুঝতেই পারবেন না।

খাদ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন, লবণের পরিবর্তে মশলা দিয়ে খাবার প্রস্তুত করলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে।

৪. ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খাবেন
যেসব খাবারে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ বেশি থাকে, সেগুলো আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এসব খাবার হৃদরোগের ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো খনিজ উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করে। হৃদরোগের যেসব কারণ আছে, সেগুলো ঠেকাতেও এসব খনিজ ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।

অনেক খাদ্য বিশেষজ্ঞ মনে করেন, স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েটের মাধ্যমেই এসব ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া সম্ভব।এসবের জন্য ট্যাবলেটের ওপর নির্ভর করতে হবে না। তবে তার মধ্যে ব্যতিক্রম হচ্ছে ভিটামিন ডি।

কারো শরীরে ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব থাকলে যেসব খাবার খাওয়া প্রয়োজন :

প্রতিদিন পাঁচটি ফল বা সবজি খাওয়া। ছোট্ট এক গ্লাস জুস। শিম ও ডাল জাতীয় শস্যও খেতে পারেন। বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবারে থাকে ভিটামিন ই। মাছ, দুগ্ধজাত খাবার ও হোলগ্রেইনে পাওয়া যায় ভিটামিন বি। কলা, আলু এবং মাছে পটাশিয়াম।
ডাল ও হোলগ্রেইনে ম্যাগনেসিয়াম। দুগ্ধজাত খাবার ও সবুজ পাতার সবজি থেকে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম।

৫. বেশি মোটা হলে ক্যালরি কমিয়ে দিন
হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়ার জন্য উপরের চারটি ধাপ অনুসরণ করলেই আপনি অনেক দূর অগ্রসর হয়েছেন। কারণ আপনি যদি চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড চর্বিযুক্ত খাবার কম খান, ভিটামিন ও মিনারেল আছে- এরকম খাবার বেশি খান, তাহলে আবার মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম। মনে রাখতে হবে মোটা হলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে কোমরে চর্বি জমা হলে। পুরুষের কোমর যদি ৩৭ ইঞ্চি আর নারীর কোমর ৩১ দশমিক ৫ ইঞ্চির বেশি হয় তাহলে ওজন কমাতে হবে।

ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরও যেসব উপায় :
১. প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।
২. সপ্তাহে অন্তত আড়াই ঘণ্টা ব্যায়াম করুন।
৩. মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলুন।
৪. ধূমপান ছেড়ে দিন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

গেঁটে বাত কেন হয়
                                  

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ
রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি হলে হতে পারে গেঁটে বাত। কিছু খাবার আছে, যেগুলো খেলে শরীরে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। তা এতটা বেশি যে কিডনি সেটা শরীর থেকে বের করতে পারে না এবং ক্রমেই আপনার শরীরের এর উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এটি বেড়ে গেলে হাঁটুসহ বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ইউরিক এসিড জমা হতে থাকে। তাতে অস্থিসন্ধি ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়।

মূত্রের মাধ্যমে যে পরিমাণ স্বাভাবিক ইউরিক এসিড বেরিয়ে যায়, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ যখন শরীর তৈরি করে, তখনই সমস্যা দেখা দেয়। একটু সচেতন হয়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ইউরিক এসিড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এই সমস্যায় যেসব খাবার পরিহার করা উচিত সেগুলো হলো– বেশি চর্বিযুক্ত মাংস, যেমন গরু, খাসি, ভেড়া ও মহিষের মাংস, কলিজা, মগজ, মাছের ডিম, চিংড়ি মাছ, কাঁকড়া, শামুক, ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলতে হবে। সব রকমের ডাল, বাদাম, মটরশুঁটি, শিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। কিছু শাকসবজি যেমন– পালংশাক, পুঁইশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, ঢেঁড়স ও পাকা টমেটো খাবেন না। অ্যালকোহল, ক্যাফেইন জাতীয় পানীয়, চা, কফি, কোমল পানীয় পরিহার করা ভালো।

তবে চর্বিহীন মাংস যেমন– ছোট মুরগির মাংস, মাছ, কুসুম ছাড়া ডিম পরিমাণমতো খাওয়া যাবে। বেশি আঁশযুক্ত খাবার যেমন– সবজি, শাক ইত্যাদি খেতে পারেন। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার যেমন– লেবু-চা, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন পেয়ারা, আমলকী, কমলা খেতে পারেন। বেশি পরিমাণ পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।

লেখক: সাবেক ডিন মেডিসিন অনুষদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স, যেসব বিষয় জেনে রাখা জরুরি
                                  

আবার ছড়িয়ে পড়ছে অ্যানথ্রাক্স। সম্প্রতি কয়েকটি জেলায় অ্যানথ্রাক্স রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এজন্য এই রোগ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

অ্যানথ্রাক্স নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে রোগটি সম্পর্কে আদ্যোপান্ত উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের অ্যানথ্রাক্স মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা-এক ধরনের অ্যানথ্রাক্স হয় পরিপাকতন্ত্রে, আরেক ধরনের অ্যানথ্রাক্স শরীরের বাইরের অংশে সংক্রমণ ঘটায়।

পরিপাকতন্ত্রে অ্যানথ্রাক্স জীবাণুর সংক্রমণ হলে সাধারণত হালকা জ্বর, মাংসপেশীতে ব্যথা, গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে বাংলাদেশে যে অ্যানথ্রাক্স দেখা যায় তা শরীরের বাইরের অংশে প্রভাব ফেলে। এ ধরনের অ্যানথ্রাক্সে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোঁড়া বা গোটা হয়ে থাকে। ফোঁড়া ঠিক হয়ে গেলে হাতে, মুখে বা কাঁধের চামড়ায় দাগ দেখা যেতে পারে।

যেসব এলাকায় গবাদিপশু পালন করা হয় সেসব এলাকাতেই সাধারণত অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ বেশি দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা জানান, বাংলাদেশে সাধারণত কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকাতেই অ্যানথ্রাক্স হয়ে থাকে। আর অ্যানথ্রাক্স গরু, ছাগল, মহিষ-এই ধরনের প্রাণীর মধ্যে প্রথম দেখা যায়। এসব প্রাণীর মাধ্যমেই অ্যানথ্রাক্স মানুষের মধ্যে ছড়ায়। মূলত অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর মাংস কাটার সময় মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স ছড়ানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, ‘পশু জবাই করা, সেটির মাংস কাটাকাটি করা এবং মাংস ধোয়া বা রান্নার সময় অনেকক্ষণ মাংস, রক্ত ও হাড্ডির সংস্পর্শে থাকতে হয়। সে সময় আক্রান্ত পশুর রক্তের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে অ্যানথ্রাক্স।’

মাংস কাটাকাটির সময় মানুষের শরীরের চামড়ায় কোনোরকম ক্ষত থাকলে তার দেহে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু প্রবেশ করার সম্ভাবনা বেশি তাকে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে পশুর অ্যানথ্রাক্স হলেও অনেকসময় তা জবাই করে মাংস কম দামে বিক্রি করে ফেলা হয়। ওই মাংস কাটাকাটি করার সময় অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’

তবে আইইডিসিআরের এই পরিচালক নিশ্চিত করেন, পশু থেকে মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ হলেও মানুষ থেকে অন্য মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ হয় না।

ফ্লোরাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর মাংস খেয়ে পরিপাকতন্ত্রে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশে সাধারণত যেভাবে মাংস রান্না করে খাওয়া হয় তাতে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু মাংসে টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে বিদেশে ‘হাফ ডান’ অবস্থায় মাংস রান্না করে খাওয়া হয়, সেই পদ্ধতিতে রান্না করলে মাংসে জীবাণু থাকার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে যেভাবে মাংস রান্না করা হয়, ওই পদ্ধতিতে রান্না করলে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু থাকার সম্ভাবনা খুব কম থাকে বলে বলছেন আইইডিসিআরের এই কর্মকর্তা। তবে, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর মাংস না খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে দুই ধরনের পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মীরজাদী সাবরিনা। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, যাদের গরু, মহিষ, ছাগলের মতো গবাদি পশু রয়েছে, তারা যেন তাদের পশুকে নিয়মিত অ্যানথ্রাক্সের টীকা দেন তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পশুর যদি অ্যানথ্রাক্স হয়েই যায়, সেক্ষেত্রে পশুকে দ্রুত মাটির নিচে পুঁতে ফেলা প্রয়োজন।’

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল
                                  

ডেস্ক রিপাের্ট : মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শেখ মুজিবুর রহমান এনডিসি বলেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে যেতে সরকারি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় চিকিৎসক স্বল্পতার জন্য যেসব চিকিৎসক ট্রেনিংয়ে আছেন তাদের ট্রেনিং বাদ দিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও গুজব প্রতিরোধ-সংক্রান্ত একটি পর্যালোচনা সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, ‘এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ইস্যু হচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসন্ন ঈদের ছুটি ঢাকাতেই উপভোগের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছুটি বাতিলও করা হয়েছে। যেমন- স্বস্থ্য বিভাগ।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের যেসব কর্মকর্তা ডেঙ্গু চিকিৎসার সঙ্গে জাড়িত তাদের ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আর অন্যদের ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে না যাওয়ার ব্যাপারে কঠিনভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত সচিব আরও বলেন, ‘চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে বর্তমানে যেসব চিকিৎসক বিভিন্ন ট্রেনিং কোর্সে আছেন তাদের ট্রেনিং বাদ দিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোনো জায়গায় বেডের স্বল্পতা রয়েছে, আবার কোনো কোনো হাসপাতলে সব বেড ব্যবহার হয় সেগুলোও প্রোপারলি ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, তারা তাদের নিজ নিজ উদ্যোগে কর্মস্থল ও আবাসন- এসব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। স্কাউটদের সমন্বয়ে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটিতে শিক্ষার্থীদের টিম গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও গুজব বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য শিক্ষার্থীদের কাজ করতে বলা হয়েছে।

ঢাকাসহ কতটি জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে সঠিক তথ্যটা তার কাছে নেই। ইতোমধ্যে সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ডেঙ্গু, গুজব ও বন্যায় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

তবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার প্রকাশিত খবর, দেশের ৫৯ জেলায় ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই ঢাকা থেকে নিজ নিজ জেলায় গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।

যেসব জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে সেসব জেলায় ডেঙ্গু চিকিৎসা আছে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য আসেনি যে, কোনো জেলা ম্যানেজমেন্টের বাইরে চলে গেছে।’

ডেঙ্গু বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর ফেল করেছে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ডেঙ্গু তো আজকে নতুন কিছু নয়। হয়তো প্রাদুর্ভাবটা এখন বেশি। তবে মশা ধ্বংসে ওষুধের কার্যকারিতার বিষয়টা উঠে এসেছে। এজন্য যথাযথ ও মানসম্মত ওষুধ যাতে আসে সে বিষয়ে বলা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তির সংখ্যা তিন হাজার ৮৪৭ জন। এখন পর্যন্ত সারাদেশে ১৩ হাজার ৬৩৭ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে নয় হাজার ৭৪০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।

ডেঙ্গু আক্রান্তে মারা গেছেন আটজন। তবে মৃত্যুর সংখ্যাটা একটু বাড়তে পারে।

গত চারদিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, আটজন মারা গেছেন। এমন প্রশ্নে ভারপ্রাপ্ত সচিব শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী আজ পর্যন্ত আটজনই মারা গেছেন। তবে এ সংখ্যাটা বাড়তেও পারে। কিছু রোগী ক্রিটিকাল রয়েছেন, তাই এ সংখ্যাটা বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের তথ্য গোপন করা হচ্ছে না। এসব তথ্য দিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মাহামারি ঘোষণার পর্যায়ে এসেছে কি-না, জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, এখনও এ পর্যায়ে আসেনি। ম্যানেজমেন্টের বাইরে চলে গেলে মহামারি ঘোষণা করা হয়। এ পর্যায়ে এখনও আসেনি।

পাইলস বা অর্শ চিকিৎসায় হোমিও প্রতিবিধান
                                  

ডা. মুহাম্মদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
পাইলস রোগটির সাথে আমরা হাজার বছর ধরে পরিচিতি। এহা একপ্রকার ধাতুগত পীড়া। মলদ্বারের ভিতরে বা বাহিরের চার পাশের শিরা গুলো ফুলে মটরদানা কিংবা অঙ্গুরের মত কিংবা ছাগলের বাটের মত ছোট ছোট গলি বা টিউমার হলে তাকে অর্শ বা হেমোরয়েড বলে। অর্শ প্রধানত দুই প্রকার যথা অন্তর্বলি ও বহির্বলি এইছাড়া এক প্রকার অর্শকে মিশ্র বলি বলে। যেটি বাহির উভয় স্থানে থাকে।

বয়স- ৩০-৬০ বৎসর বয়সের ভেতর এই রোগের প্রকোপ সব চেয়ে বেশী। ২০ বৎসর বয়সের নিচে পাইলস খুব একটা দেখা যায় না। পাইলস সনাক্ত করা খুব সহজ কাজ নয়। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক কেবল যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে পাইলস সনাক্ত করতে পারেন।

কখনো কখনো টয়লেটে বসিয়ে কোথ দিতে হয়ে। আমাদের কাছে বিভিন্ন রোগী আসিয়া বলে আমার পাইলস। তখন রোগী লক্ষণ দেখি বুঝি পাই এনাল ফিশার, পলিপ অথবা ফিস্টুলা অর্থাৎ মলদ্বারের যে কোন রোগকে সবাই পাইলস হিসেবে জানেন। কিন্তু এইখানে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। এই রোগ মহিলাদের চেয়েও পুরুষের কিছুটা বেশী হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ বৎসর বয়সের উর্দ্ধে জনসংখ্যার ৫০% বা কোন না কোন সময় পাইলস এর সমস্যায় ভোগেন।

কারনঃ নানা কারনে অর্শ হতে পারে। প্রধান করান লিভারের মধ্যে এবং ধমনীতে রক্তাধিক্য হলে অর্শ হয়। এছাড়া অলস প্রকৃতির লোকের সারা দিন বসে বসে থাকা, ঘিয়ে ভাজা বা অধিক মসলা যুক্ত রান্না খাওয়া, কষ্ট বধ্যতার জন্য অধিক কোথ দিয়ে পায়খানা করা। ঘন ঘন জোলাপের ঔষুধ খাওয়া মলদ্বারের ক্রিরমির অত্যচারের জন্য বার বার খোটলানোর কামরিপুর উত্তেজনার কারনে এবং মাতা, পিতার এই রোগ থাকলে সন্তানের ও অর্শ হয়।

লক্ষণঃ সময় সময় র্বলী গুলি চুলকায়। ধপ ধপ করে ব্যাথা করে এবং জ্বালাপোড়া করে। কাটা পোটার মত বেদনা এবং কোমরে বেদনা। মল ত্যাগকালে র্বলী থেকে রক্তস্রাব হয়। কোন কোন সময় রক্তস্রাব হয় না।
আনুষাঙ্গিক চিকিৎসাঃ তিনটি বিষয়ে লক্ষ রাখিতে হইবে।

১। আহার ও ভ্রমন সম্ভন্দে নিয়ম পালন।
২। নিয়মিত পায়খানা পরিস্কার হওয়ার ব্যবস্থা।
৩) অর্শের স্থানটিকে ভালোভাবে পরিস্কার রাখা।

অ্যালোপ্যাথীক চিকিৎসাঃ অর্শে কোন সুচিকিৎসা হয় না। অস্ত্রে প্রসার ছাড়া কোন গতি নাই। কিন্তু তাতেও রোগ নিমূল হইয়া সারিতে পারে না। অতএব প্রথম থেকেই অর্গানন অনুসরনকারী হোমিও প্যাথিতে চিকিৎসা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। যে পুরাতন রোগ বীজ রোগীর দেহে বর্তমান থাকিয়া এই রোগের সৃষ্টি করিয়াছে সেই ধাতুগত দোষ দুরি করনার্থ উপযুক্ত সোরাদোষ ঔষুধ সেবন না করিলে শুধু অস্ত্রপচার বা অ্যালোপ্যাথী ঔষুধ খাইলে কোন লাভ হইবে না।

হোমিও প্রতিবিধানঃ রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়। আবার অনেক চিকিৎসক বের হইছে নিজেদেরকে অর্শ ভগন্দেরের চিকিৎসক বলে থাকে। কিন্তু ঐ সব ডাক্তার বাবুরা রোগীদেরকে ইনজেকশানের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকে। আবার মলম বা ক্রিম লাগাইতে রোগীদেরকে বলে। যেটা সাময়িক নিরাময়। কিন্তু পরে জঠিল আকার ধারন করে।

এইরকম অনেক চিকিৎসক চট্টগ্রাম ফেনীসহ অনেক জায়গায় এইসব রোগীর অপচিকিৎসা দিয়ে থাকে। এইজন্য যেসব ডাক্তার নিজেদেরকে হানেমানের উত্তশ্বরী বলে থাকে তারা যেন রোগীর সঠিক লক্ষন নির্বাচন করতে পারলে তাহালে হোমিওতে অর্শরোগীর চিকিৎসা আল্লাহর রহমতে দেওয়া সম্ভব।

প্রাথমিক ভাবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকগন যেসব মেডিসিন নির্বাচন করে থাকে যেমন: এলুমিনা, এলো, আর্সেনিক এল, এন্টিম ক্রোড, এমন কার্ব, নার্কস ভোম, সালফার, ইস্কিউর্লাস হিপ, কলিন সোনিয়া, এসিডি নাইট্রেকাম ইত্যাদি সহ আরো অনেক ঔষুধ লক্ষনের উপর আসতে পারে। এইসব ঔষুধ গুলা বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক ছাড়া নিজে নিজে ব্যবহার করলে রোগ আরোও জঠিল আকারে পৌছতে পারে।

লেখক
ডাঃ মুহাম্মাদ মাহতাব হোসেন মাজেদ
স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি
কো-চেয়ারম্যান হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
ইমেইলঃ drmazed96@gmail.com
মোবাইল: ০১৮২২-৮৬৯৩৮৯

ডেঙ্গু টেস্টের মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করলো স্বাস্থ্য অধিদফতর
                                  

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ মোকাবিলায় প্রাইভেট হাসপাতাল- ক্লিনিক, ডায়াগনিস্টিক সেন্টারগুলোর পরিচালক-ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা` সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


রোববার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার (হাসপাতাল) ডা. শাহ্‌ আলম সিদ্দিকী।

সভায় ডেঙ্গু টেস্টের মূল্য নির্ধারণসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। নিম্নে এগুলো তুলে ধরা হলো:

১) ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য টেস্টগুলোর মূল্য নিম্নরূপ হবে:

ক) NS1- ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ); পূর্বমূল্য ছিল ১২০০ – ২০০০ টাকা।

খ) IgM + IgE অথবা IgM/ IgE- ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ), যার পূর্বমূল্য ছিল ৮০০ – ১৬০০ টাকা

গ) CBC (RBC + WBC + Platelet + Hematocrit)- ৪০০ টাকা (সর্বোচ্চ) যার পূর্বমূল্য ছিল ১০০০ টাকা।

এই মূল্য তালিকা আজ রোববার (২৮ জুলাই) থেকে কার্যকর হবে। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই মূল্য তালিকা কার্যকর থাকবে।

২) সব প্রাইভেট হাসপাতাল-ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য একটি ‘ওয়ান স্টপ সেন্টার’ চালু করবে।
৩) সব হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
৪) ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যার অনুপাতে ডাক্তার, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করা হবে।

মেরুদণ্ডের ক্ষতি হয় যেসব কারণে
                                  

অনলাইন ডেস্ক : শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। মেরুদণ্ডে কোনও রকম সমস্যা থাকলে ওঠা, বসা, দাঁড়ানো— সব কিছুতেই সমস্যা হতে পারে। কখনও কখনও এই সমস্যার কারণে অনেকে পঙ্গুও হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুল এবং খারাপ অভ্যাসের কারণে শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন-

১. দীর্ঘদিন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যারা বসে কাজ করেন তাদের শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ডের সমস্যা তৈরি হয়।

২. যদি দীর্ঘদিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না হয়, সে ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের সমস্যা হতে পারে।

৩. খুব ভারী ব্যাগ (যেমন- ল্যাপটপ ব্যাগ, বইয়ের ব্যাগ বা অন্যান্য ভারী জিনিসপত্র) নিয়মিত পিঠে নিলে কাঁধে আর পিঠে অতিরিক্ত চাপ পড়ে মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪. অতিরিক্ত বিশ্রাম, আলস্যের ফলেও মেরুদণ্ডের সমস্যা দেখা দেয়।

৫. ঘুমানোর অস্বাভাবিক ভঙ্গীতে পিঠ, কোমর বেঁকিয়ে শোওয়ার অভ্যাসের কারণে মেরুদণ্ডের সমস্যা হতে পারে।।

৬. নিয়মিত হাই হিল পরার অভ্যাস বা শক্ত জুতা পরার অভ্যাসে মেরুদণ্ডে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়। এই অভ্যাসের কারণে পরবর্তী সময় মেরুদণ্ডে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।

৭. দীর্ঘক্ষণ ঝুঁকে বসে মোবাইলে চ্যাট বা ল্যাপটপে ব্যস্ত থাকলে মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এটাও পরবর্তীতে সমস্যা তৈরি করে।

৮. দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি বা বাইক চালালে মেরুদণ্ডের সমস্যা হতে পারে।

৯. হঠাৎ করে কোনও ভারী জিনিস তোলার চেষ্টা করলে মেরুদণ্ডে টান লাগতে পারে।

১০. খুব শক্ত কিংবা সমান নয় এমন বিছানায় দীর্ঘদিন ধরে শুলে মেরুদণ্ডের সমস্যা হতে পারে। সূত্র : জি নিউজ

রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ে যেসব কারণে
                                  

অনলাইন ডেস্ক : গোটা বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এটি একটি প্রচলিত সমস্যা।এটি নিয়ন্ত্রণে নানা থাকলে শরীরে নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়। সঠিক খাদ্যাভাস ও জীবনযাপন পদ্ধতির মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে নানা কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। যেমন-

১. বেশি পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে ডায়াবেটিস থাকলে অতিরিক্ত ভাত বা আলু না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

২. দীর্ঘদিন ব্যায়াম না করলে বা শারীরিক ভাবে সচল না থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে৷

৩. যারা নিয়মিত ওষুধ খান বা ইনসুলিন নেন, তারা ওষুধ খেতে বা ইনসুলিন নিতে ভুলে গেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।

৪. জ্বর হলে বা যেকোনও রকম অসুস্থতার কারণেও শরীরে ভারসাম্য নষ্ট হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে৷

৫. অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেও হঠাৎ করে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।

৬. টেলিভিশন দেখতে দেখতে কিংবা কম্পিউটারে অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করতে করতে ভারী ধরনের খাবার খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।

৭. দিনের বেশিরভাগ সময় শুয়ে-বসে কাটালে রক্ত শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।সূত্র : নিউজ এইট্টিন

শিশুর ডেঙ্গু হলে
                                  

ডা. আবু সাঈদ শিমুল
এখন চারদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এ থেকে শিশুদেরও রেহাই নেই। ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। এডিস মশার কারণে এ রোগ হয়। বর্ষা এবং বর্ষা-পরবর্তী সময়ে রোগটি দেখা যায়। ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশা কামড়ানোর পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে সাধারণত রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। কিছু রোগী কোনো উপসর্গ ছাড়াই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

রোগের লক্ষণ: উচ্চ তাপমাত্রা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, সারা শরীরের মাংসে এবং গিঁটে গিঁটে ব্যথা, চামড়ার নিচে ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি এবং জ্বর কমে যাওয়ার চার থেকে সাত দিন পর ছোট ছোট লাল দাগ দেখা দেয়, যা চাপ দিলেও মিশে যাবে না। এ ছাড়া দাঁতের গোড়া ও নাক থেকে রক্ত বের হতে পারে। ডেঙ্গু ভাইরাসের একটি বিশেষত্ব হলো, এটি রক্তনালিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে জলীয় অংশ বের করে দেয়। ফলে রোগী পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়। বড়দের চেয়ে শিশুরা পানিশূন্য হয় বেশি। ফলে তীব্র পানিশূন্য হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ার এবং জটিলতার শঙ্কাও তাদের বেশি।

চিকিৎসা: পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবারই শিশুর জ্বরের প্রধান চিকিৎসা। ডেঙ্গু হলেই মানুষ মনে করে প্লাটিলেট তথা সাদা রক্ত বুঝি দিতেই হবে। হন্যে হয়ে সবাই এই রক্ত খুঁজতে থাকেন। মূলত খুবই অল্প সংখ্যক রোগীরই প্লাটিলেট প্রয়োজন হয়। তাই ডেঙ্গুতে গুরুত্ব দিতে হবে পানি ও তরল খাবার খাওয়ানোর প্রতি। বুকের দুধ, পানি, ডাবের পানি, স্যালাইন, জুস, লেবুর শরবত ইত্যাদি একটু পরপরই শিশুর মুখে তুলে দিন। খাওয়ার রুচি কমে যায় বলে এমন খাবার দিন যাতে যথেষ্ট পুষ্টি আছে যেমন- খিচুড়ি।

জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল বড়ি, সিরাপ বা সাপোজিটরি ব্যবহার করুন, যার জন্য যেটা প্রযোজ্য। তবে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না। অ্যান্টিবায়েটিক দেওয়াও অপ্রয়োজনীয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বাচ্চাকে মশারির মধ্যে রেখে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে। স্কুলে যাওয়া বা অন্য কাজ থেকে পাঁচ-সাত দিন চিকিৎসকের পরামর্শে বিরত রাখুন। আপাতত সুস্থ বাচ্চাদেরও নিয়মিত একই পরীক্ষা বেশ কয়েকবার করিয়ে দেখতে হবে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে কি-না। অন্য পরীক্ষাও করতে হবে। এটা চিকিৎসারই অংশ। একই পরীক্ষা বারবার করছে বলে বিভ্রান্ত হবেন না।

সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা বাড়িতেই সম্ভব। জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে নিতে হবে। পর্যাপ্ত স্যালাইন দিলেই হয়। প্লাটিলেট দিতে হয় খুবই অল্পসংখ্যক বাচ্চাকে। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন না। সবাই সচেতন হলে এবং আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখলে এবং বাসায় জমানো পানি ফেলে দিলে ডেঙ্গু নিরাময় সম্ভব।

লেখক: কনসালট্যান্ট শিশু বিভাগ মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


   Page 1 of 9
     স্বাস্থ্য
ডায়াবেটিস হয় কেন?
.............................................................................................
১০০ জনে ২৬ গর্ভবতী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত
.............................................................................................
অতি মহামারিতে রূপ নিচ্ছে ডায়াবেটিস : আক্রান্ত ৪ কোটি!
.............................................................................................
স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ১৫ জেলায় দেড় সহস্রাধিক মেডিকেল টিম
.............................................................................................
প্রাপ্তবয়স্কদের ১৭ শতাংশ মানসিক রোগে ভুগছে
.............................................................................................
ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় দুই-তৃতীয়াংশই মেয়ে
.............................................................................................
স্তন ক্যানসার রোধে যা খাবেন
.............................................................................................
হার্ট সতেজ রাখতে খাদ্যাভ্যাসে আনুন পাঁচ পরিবর্তন
.............................................................................................
গেঁটে বাত কেন হয়
.............................................................................................
ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স, যেসব বিষয় জেনে রাখা জরুরি
.............................................................................................
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল
.............................................................................................
পাইলস বা অর্শ চিকিৎসায় হোমিও প্রতিবিধান
.............................................................................................
ডেঙ্গু টেস্টের মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করলো স্বাস্থ্য অধিদফতর
.............................................................................................
মেরুদণ্ডের ক্ষতি হয় যেসব কারণে
.............................................................................................
রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ে যেসব কারণে
.............................................................................................
শিশুর ডেঙ্গু হলে
.............................................................................................
গাঁটের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে...
.............................................................................................
ডেঙ্গু রোগের যেসব লক্ষণ দেখা যায়
.............................................................................................
হেপাটাইটিস থেকে রক্ষা পেতে ৭ পরামর্শ
.............................................................................................
কিডনির ভীতিকর সাত রোগ
.............................................................................................
ভিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বিএসএমএমইউ
.............................................................................................
হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে করণীয়
.............................................................................................
বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস আজ
.............................................................................................
ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বেগুন
.............................................................................................
ডিম কীভাবে খাওয়া ভালো?
.............................................................................................
কিডনি রোগের লক্ষণ ও ভালো রাখার উপায়
.............................................................................................
ডায়ালাইসিসের ব্যয় যোগাতে না পেরে মারা যাচ্ছেন ৯০ শতাংশ রোগী
.............................................................................................
দ্রুত কলেরা রোগনির্ণয় পদ্ধতির উদ্ভাবন
.............................................................................................
আড়াই কোটি শিশু খাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
.............................................................................................
ক্যান্সারের ১১ লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না
.............................................................................................
ছেলে শিশু বেশি জন্মায় কেন?
.............................................................................................
শীতে শ্যাম্পু করার ভয়? নিজেই তৈরি করুন ড্রাই শ্যাম্পু
.............................................................................................
ঠান্ডাজনিত সমস্যা দূর করে যেসব পানীয়
.............................................................................................
জলপাই কেন খাবেন?
.............................................................................................
যে কারণে রোগীরা মিথ্যা কথা বলেন
.............................................................................................
দাঁতের ব্যথার ঘরোয়া সমাধান
.............................................................................................
টুথপেস্ট দিয়ে রূপচর্চা করবেন যেভাবে
.............................................................................................
শীতেও চুল সুন্দর রাখার ৫ উপায়
.............................................................................................
জেনে নিন কটন বাড ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক
.............................................................................................
মাছের ফর্মালিন দূর করার সহজ উপায়
.............................................................................................
সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় নিহত ৪৩
.............................................................................................
যেসব খাবার একসঙ্গে খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে
.............................................................................................
প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে পুরুষ, বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি!
.............................................................................................
অফিসেই করতে পারেন যে ব্যায়াম
.............................................................................................
কিডনি রোগের ১০ লক্ষণ, জানেন কি?
.............................................................................................
নারী পুরুষের মধ্যে ১০টি অবাক করা মানসিক পার্থক্য
.............................................................................................
যা করলে মাথাব্যথা কমে
.............................................................................................
অতিরিক্ত ওষুধে আপনার যে অদ্ভুত ‘রোগ’ হতে পারে
.............................................................................................
সত্যিই কি আবহাওয়ার সঙ্গে ব্যথার সম্পর্ক আছে?
.............................................................................................
ইমাম হোসেনকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]