| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিচ্ছে চীন, পানি সংকটের আশঙ্কা ভারতে   * চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, ৯৪% কার্যকর মডার্নার ভ্যাকসিন   * সাপাহারে বে-সরকারি ক্লিনিকে অভিযান, অর্থদন্ড ৭৫ হাজার টাকা   * ভাস্কর্যকে মূর্তির সাথে তুলনা বিভ্রান্তি-উস্কানির অপচেষ্টা মাত্র : তথ্যমন্ত্রী   * ২৩ পৌরসভায় বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা   * ৯৯৯-এ ফোন করে মিথ্যা তথ্য দিলে শাস্তি   * ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে নোমানী সভাপতি, মশিউর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত   * কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উদ্যোগে ২ দিন ব্যাপী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের সূচনা   * কাঁচা খেজুররস খেতে সতর্কতা !   * করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও শনাক্ত বেড়েছে  

   মতামত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ‘বঙ্গমাতা’

‘সারা জীবন তুমি সংগ্রাম করেছ, তুমি জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করেছ, তুমি জানো যে এ দেশের মানুষের জন্য কী চাই, তোমার থেকে বেশি কেউ জানে না, তোমার মনে যে কথা আসবে তুমি শুধু সেই কথাই বলবে, কারো কথা শুনতে হবে না। তুমি নিজেই জানো তোমাকে কী বলতে হবে। তোমার মনে যে কথা আসবে তুমি সে কথাই বলবা।’

যে মহীয়সী নারীর এমন দৃঢ়প্রত্যয় সাহস জোগানোর ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ৭ই মার্চের অমর ভাষণ দিয়েছিলেন, বাঙালি জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের নেপথ্য শক্তি—তিনি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। ডাকনাম রেণু। ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা শেখ জহুরুল হক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের জ্ঞাতি সম্পর্কের চাচা এবং গ্রামের বর্ধিষ্ণু কৃষক পরিবার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন, ‘একটা ঘটনা লেখা দরকার, নিশ্চয়ই অনেকে আশ্চর্য হবেন। আমার যখন বিবাহ হয় তখন আমার বয়স বারো-তেরো বছর হতে পারে। রেণুর বাবা মারা যাবার পরে ওর দাদা আমার আব্বাকে ডেকে বললেন যে আমার সাথে তার এক নাতনির বিবাহ দিতে হবে। কারণ তিনি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ওদের দুই বোনকে লিখে দিয়ে যাবেন। রেণুর দাদা আমার আব্বার চাচা। মুরব্বির হুকুম মানার জন্যই রেণুর সাথে আমার বিবাহ রেজিস্ট্রি করে ফেলা হলো। আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে। তখন কিছুই বুঝতাম না, রেণুর বয়স তখন বোধ হয় তিন বছর হবে। রেণুর যখন পাঁচ বছর বয়স তখন তার মা হোসনে আরা বেগম মারা যান। একমাত্র রইল তার দাদা। রেণুর সাত বছর বয়সে দাদাও মারা যান। তারপর সে আমার মায়ের কাছে চলে আসে। রেণুদের ঘর আমার ঘর পাশাপাশি ছিল, মধ্যে মাত্র দুই হাত ব্যবধান।’

শেখ মুজিবের মা বেগম সায়রা খাতুন পাঁচ বছর বয়সে মাতৃহীন রেণুকে ঘরে তুলে নেন এবং নিজের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে শিক্ষাদীক্ষা ও গৃহকর্মে বড় করে তোলেন। শৈশব থেকেই রেণু শেখ মুজিবসহ পরিবারের ছোট-বড় সব সদস্যের কাছে নিজেকে আপন হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে বড় সন্তান খোকা (শেখ মুজিবের ছোটবেলার ডাকনাম), যাঁর সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক, তাঁর চলাফেরা, কিশোর বয়স থেকেই নানা কর্মকাণ্ড, খানিকটা দুরন্তপনা, বেপরোয়া ও সাহসী মনোভঙ্গি কিশোরী ফজিলাতুন্নেছা রেণুর জন্যও বড় হওয়ার প্রেরণা ও মুগ্ধতার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের যেকোনো বিপর্যয়ে, অসুখ-বিসুখে উদ্ধারকর্মী হিসেবে শেখ মুজিবের সঙ্গে নিজেও তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ান।

মহীয়সী এই নারী প্রেমময়ী স্ত্রী, স্বার্থ বিসর্জক, ত্যাগী নারী ও আদর্শ মাতা যেমন ছিলেন, অন্যদিকে নিজেকে একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলেন। চিন্তাচেতনা ও আদর্শের সমান অংশীদারি অর্জনে সমর্থ হন। বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের সুখ-দুঃখের সঙ্গী বহুমাত্রিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এই নারী মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে হয়ে ওঠেন বঙ্গমাতা।

প্রাথমিক জীবনে নিজের লেখাপড়া বেশি দূর না এগোলেও স্বামীর শিক্ষার ব্যাপারে তাঁর নজর ছিল অতন্দ্র।
বঙ্গবন্ধু লিখেছেন “কলকাতা যাব, পরীক্ষাও নিকটবর্তী। লেখাপড়া তো মোটেই করি না। ভাবলাম কিছুদিন লেখাপড়া করব। মাহিনা বাকি পড়েছিল, টাকা-পয়সার অভাবে। রেণুর কাছে আমার অবস্থা প্রথমে জানালাম। আব্বাকে বললে তিনি অসন্তুষ্ট হলেন মনে হলো। কিছুই বললেন না। টাকা দিয়ে আব্বা বললেন, ‘কোনো কিছুই শুনতে চাই না। বিএ পাস ভালোভাবে করতে হবে। অনেক সময় নষ্ট করেছ, ‘পাকিস্তানের আন্দোলন’ বলে কিছুই বলি নাই। এখন কিছুদিন লেখাপড়া কর।’ আব্বা-মা, ভাই-বোনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রেণুর ঘরে এলাম বিদায় নিতে। দেখি কিছু টাকা হাতে করে দাঁড়িয়ে আছে। ‘অমঙ্গল অশ্রুজল’ বোধ হয় অনেক কষ্টে বন্ধ করে রেখেছে। বলল, ‘একবার কলকাতা গেলে আর আসতে চাও না। এবার কলেজ ছুটি হলেই বাড়ি এসো।’” প্রয়োজনে নিজের জমির ধান বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি নিয়মিত স্বামীকে সহযোগিতা করে গেছেন। স্বামীর পাশে থেকে মানবতার জন্য কাজ করে গেছেন। জীবনে ঝুঁকি নিয়েছেন বহুবার। আড়াল থেকেই তিনি বাংলার মানুষের সেবা করে গেছেন আজীবন।

বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীর প্রথম পাতা শুরু করেছিলেন সঙ্গী সহধর্মিণীর কথা দিয়ে। কেননা বেগম মুজিবের তাগিদেই এই প্রজন্মের বাঙালি আজ হাতে পেয়েছে স্বাধিকার আন্দোলনের এক অমূল্য দলিল। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের কাহিনি রচনার পেছনে স্ত্রীর যে উদ্যোগ ও উৎসাহ পেয়েছেন তাঁর বর্ণনায় লিখেছেন—
“আমার স্ত্রী আমাকে কয়েকটা খাতাও কিনে জেল গেটে জমা দিয়ে গিয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ যথারীতি পরীক্ষা করে খাতা কয়টা আমাকে দিয়েছেন। রেণু আরো একদিন জেল গেটে বসে আমাকে অনুরোধ করেছিল। ‘বসেই তো আছ, লেখো তোমার জীবনের কাহিনি।’ বললাম, লিখতে যে পারি না; আর এমন কী করেছি যা লেখা যায়! আমার জীবনের ঘটনাগুলো জেনে জনসাধারণের কি কোনো কাজে লাগবে? কিছুই তো করতে পারলাম না। শুধু এইটুকু বলতে পারি, নীতি ও আদর্শের জন্য সামান্য একটু ত্যাগ স্বীকার করতে চেষ্টা করেছি।”

সেই ছোট্টবেলা থেকে এবং পরবর্তীকালে স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের এক আত্মত্যাগী সহযোগী হয়ে ওঠেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন ও কারাজীবনেও তিনি এক অনুকরণীয় ত্যাগী নারী হিসেবে আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। স্ত্রী হিসেবে তাঁর জীবনকালে কখনো স্বামীকে একনাগাড়ে দুই বছর কাছে পাননি। কিন্তু কোনো দিন কোনো অনুযোগ-অভিযোগ ছিল না, কখনো বলেননি যে তুমি রাজনীতি ছেড়ে দাও, চলে আসো বা সংসার করো বা সংসারের খরচ দাও। জীবনে কোনো প্রয়োজনে কোনো দিন বিরক্ত হননি। যত কষ্টই হোক কখনো ভেঙে পড়তে দেখা যায়নি তাঁকে।

একদিকে ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার সামলানো, আবার কারাগারে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তাঁর মনোবল দৃঢ় রাখা; অন্যদিকে আইনজীবীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মামলার খোঁজখবর নেওয়া। নিজের সোনার অলংকার বিক্রি করেও মামলার খরচ জুগিয়েছেন। নিজেকে বঞ্চিত করে তিনি স্বামীর আদর্শ ও সংগঠনের জন্য নিজের সম্বল প্রায় সবই বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর স্বামী দেশের জন্য কাজ করছেন, মানুষের কল্যাণের জন্য করছেন। টাকার অভাব, সংসার চালাতে হচ্ছে, আওয়ামী লীগের নেতাদের সাহায্য দরকার, কেউ অসুস্থ তাকে টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু কখনোই এসব কথা কাউকে বলতেন না। নীরবে কষ্ট করে সমস্যার সমাধান করেছেন।

এমনও দিন গেছে মামলা চালাতে গিয়ে তাঁর কাগজপত্র, উকিল জোগাড় করতে অনেক খরচ হয়ে গেছে। এদিকে বাজারও করতে পারেননি। কোনো দিন বলেননি যে টাকা নাই, বাজার করতে পারলাম না। চাল-ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করেছেন। আচার দিয়ে ছেলে-মেয়েদের বলেছেন যে প্রতিদিন ভাত-মাছ খেতে ভালো লাগে নাকি। আসো, আজকে আমরা গরিব খিচুড়ি খাই, এটা খেতে খুব মজা। একজন মানুষ, তাঁর চরিত্র কতটা সুদৃঢ় থাকলে যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা ধারণ করতে পারেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে পদে পদে তিনি আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গেছেন। প্রকাশ্যে প্রচারে কখনোই আসেননি।

১৯৬৬ সালে ছয় দফা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রথম তিন মাসে আটবার গ্রেপ্তার হন। পাকিস্তান সরকার ৮ মে বঙ্গবন্ধুকে আবার গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করে। ৭ জুন ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট সফলভাবে পালনে বেগম মুজিবের ভূমিকা ছিল অন্যতম। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি লুকিয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তাঁদের ছোট ফুফুর ফ্ল্যাট বাসায় চলে যেতেন। ওখানে গিয়ে নিজের স্যান্ডেল বদলাতেন, কাপড় বদলে, বোরকা পরে একটা স্কুটার ভাড়া করে ঢাকায় পড়ুয়া ছোট ভাইকে নিয়ে ছাত্রনেতা আর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতেন। আন্দোলন চালাবে কিভাবে তার পরামর্শ, নির্দেশনা তিনি নিজেই দিতেন। আবার ওই বাসায় ফিরে এসে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নিজের বাসায় ফিরতেন। বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে সারা দেশে এই ধর্মঘট যাতে পালিত হয় এবং চলমান আন্দোলনের সফলতার জন্য তিনি নিরলস কাজ করে যেতেন। সবই করতেন গোপনে এবং রাজনৈতিক মেধায়।

একটা সময় এলো ছয় দফা, না আট দফা? পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নেতারা চলে এলেন ঢাকায়। তদানীন্তন শাহবাগ হোটেলে থাকতেন নেতারা। বেগম মুজিব মাঝে মাঝে বড় মেয়ে হাসুকে (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনা) পাঠাতেন তাঁদের স্ত্রীদের একটু খোঁজখবর নিয়ে আসার জন্য, আর সেই সঙ্গে কে কে আছে একটু দেখে এসে তাঁকে জানাতে। ছোট ভাই রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে রুমে রুমে গিয়ে সব দেখেশুনে মাকে এসে রিপোর্ট দিতেন শেখ হাসিনা। বেগম মুজিবের একটা ভালো নেটওয়ার্ক ছিল সারা দেশে। কোথায় কী হচ্ছে তার সব খবর চলে আসত তাঁর কাছে। সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক নেতাই বেগম মুজিবের প্রতি আস্থাশীল ছিলেন।

আওয়ামী লীগের মধ্যে সে সময় খুব গোলমাল। একদল পিডিএমএ যোগদান করার পক্ষে, আর একদল ছয় দফা। ১৯ মে ১৯৬৬ সালে ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাড়িতে ওয়ার্কিং কমিটির বর্ধিত সভা। ডেকোরেটর, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সে যুগে ছিল না, নিজ হাতে রান্না করে তিন দিন সবাইকে খাইয়েছেন বেগম মুজিব। সঙ্গে বিভক্ত নেতাদের নানা পরামর্শ দিয়েছেন, সাবধান করেছেন যেন ছয় দফা থেকে আট দফার দিকে চলে না যায়। বেগম মুজিবের মানসিক দৃঢ়তা সেই সময়ের রাজনৈতিক জাতীয় সংকট উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কার্যকর ছিল।

নেতাদের নানামুখী পরামর্শে তিনি শুধু বলতেন, ‘লেখাপড়া জানি না কী বুঝব, খালি এটুকু বুঝি যে ছয় দফা আমাদের মুক্তির সনদ, এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’ জেলখানা থেকে শেখ মুজিব দৃঢ় উচ্চারণে জানিয়ে দিয়েছেন, আর যাই হোক ছয় দফা থাকতেই হবে। ছয় দফা থেকে একচুল এদিক-ওদিক হওয়া যাবে না। বিশেষ কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত হলো ছয় দফা ছাড়া আর কিছু হবে না।

বেগম মুজিবের স্মরণশক্তি ছিল অসাধারণ। একবার যা শুনতেন তা আর ভুলতেন না। স্লোগান থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক পরামর্শ, নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত আসত বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে।

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকাকালে প্রতিদিন কী বিপুল আগ্রহে স্ত্রীর আগমনের প্রতীক্ষায় থাকতেন তা তাঁর লেখনীতে দেখতে পাই। ঘরে-বাইরে বেগম মুজিবই ছিলেন তাঁর পরামর্শক, উপদেষ্টা, সহচর আর নির্ভরতার আশ্রয়স্থল। সে সময়ের লেখা কারাগারের রোজনামচা থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।

১৫ জুন ১৯৬৬
দুঃখ করে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘মাত্র ২০ মিনিট সময় যাবতীয় আলাপ করতে হবে। কথা আরম্ভ করতেই ২০ মিনিট কেটে যায়। নিষ্ঠুর কর্মচারীরা বোঝে না যে স্ত্রীর সাথে দেখা হলে আর কিছু না হউক একটা চুমু দিতে অনেকেরই ইচ্ছা হয়, কিন্তু উপায় কী? আমরা তো পশ্চিমা সভ্যতায় মানুষ হই নাই। তারা তো চুমুটাকে দোষণীয় মনে করে না। স্ত্রীর সাথে স্বামীর অনেক কথা থাকে, কিন্তু বলার উপায় নাই।’

২৬ জুন ১৯৬৬
রেণু স্যারিডন খেতে দিতে চাইত না। ভীষণ আপত্তি করত। বলত, হার্ট দুর্বল হয়ে যাবে। বলতাম, আমার হার্ট নাই, অনেক পূর্বেই শেষ হয়ে গেছে। বাইরে তার কথা শুনি নাই কিন্তু জেলের ভিতর তার নিষেধ না শুনে পারলাম না।

৬ জুলাই ১৯৬৬
বিকালে চা খাবার সময় সিকিউরিটি জমাদার সাহেবকে আসতে দেখে ভাবলাম বোধ হয় বেগম সাহেবা এসেছেন। গত তারিখে আসতে পারেন নাই অসুস্থতার জন্য। ‘চলিয়ে, বেগম সাহেবা আয়া।’ আমি কি আর দেরি করি? তাড়াতাড়ি পাঞ্জাবি পরেই হাঁটা দিলাম গেটের দিকে। রেণুকে জিজ্ঞাসা করলাম,
‘খুব জ্বরে ভুগেছ। এখন কেমন আছ?’
‘পায়ে এখনো ব্যথা। তবে জ্বর এখন ভালোই।’
 বললাম, ‘ঠাণ্ডা লাগাইও না’।
আজ অনেক সময় কথা বললাম। সময় হয়ে গেছে, ‘যেতে দিতে হবে।’ বিদায় দিয়ে আমার স্থানে আমি ফিরে এলাম।
কখনো কখনো স্ত্রীর উপস্থিতি কামনায় আকুল হয়ে উঠতেন, অপেক্ষা করে থাকতেন, না এলে মুষড়ে পড়তেন কিছুক্ষণের জন্য—

২১ জুলাই ১৯৬৬
ভেবেছিলাম আজ রেণু ও ছেলে-মেয়েরা দেখতে আসবে আমাকে। হিসাবে পাওয়া যায় আর রেণুও গত তারিখে দেখা করার সময় বলেছিল, ‘২০ বা ২১ তারিখে আবার আসব।’ চারটা থেকে চেয়েছিলাম রাস্তার দিকে। মনে হতে ছিল এই বোধ হয় আসে খবর। যখন ৫টা বেজে গেল তখন ভাবলাম, না অনুমতি পায় নাই।

শেখ মুজিবের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেগম ফজিলাতুন্নেছা ছিলেন অফুরান প্রেরণার উত্স। ১৯৬৬-তে ছয় দফা ঘোষণার পর থেকে শেখ মুজিব যখন বারবার জেলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তখন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বেগম মুজিবের কাছে ছুটে আসতেন। তিনি তাঁদের বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন এবং লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাতেন। জেলখানায় দেখা করার সময় ছেলে-মেয়েদের শিখিয়ে নিতেন একটু হৈচৈ করার জন্য, আর ওই ফাঁকে বাইরের সমস্ত রিপোর্ট স্বামীর কাছে দেওয়া আর তাঁর কাছ থেকে পরবর্তী করণীয় নির্দেশনা জেনে নেওয়া। নির্দেশনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

১৭ মার্চ ১৯৬৭
আজ আমার ৪৭তম জন্মবার্ষিকী। আমার জন্মবার্ষিকী আমি কোনো দিন নিজে পালন করি নাই। বেশি হলে আমার স্ত্রী এই দিনটাতে আমাকে ছোট্ট একটি উপহার দিয়ে থাকত। পাঁচটাও বেজে গেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে জমাদার সাহেব বললেন, ‘চলুন, আপনার বেগম সাহেবা ও ছেলে-মেয়েরা এসেছে।’ তাড়াতাড়ি কাপড় পরে রওয়ানা করলাম জেলগেটের দিকে। ছোট মেয়েটা আর আড়াই বত্সরের ছেলে রাসেল ফুলের মালা হাতে করে দাঁড়াইয়া আছে। মালাটা নিয়ে রাসেলকে পরাইয়া দিলাম। ছেলে-মেয়েদের চুমা দিলাম। সিটি আওয়ামী লীগ একটা বিরাট কেক পাঠাইয়া দিয়াছে। রাসেলকে দিয়েই কাটালাম, আমিও হাত দিলাম। জেলগেটের সকলকে কিছু কিছু দেওয়া হলো।

ছয়টা বেজে গিয়াছে, তাড়াতাড়ি রেণুকে ও ছেলে-মেয়েদের বিদায় দিতে হলো। রেণুও বড় চাপা, মুখে কিছুই প্রকাশ করে না। ফিরে এলাম আমার অস্তানায়।

১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রথমে মুক্তি দিয়ে জনগণের প্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে জেলগেটেই সেনাবাহিনীর লোকজন পুনরায় গ্রেপ্তার করে ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে যায়। পাঁচ মাস তাঁর পরিবার জানতেও পারেনি তিনি কোথায় আছেন, কিভাবে আছেন, বেঁচে আছেন কি না? পুরো পরিবার নিয়ে চরম উত্কণ্ঠা, উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তায় কেটেছে বঙ্গমাতার। আগরতলা মামলায় সামরিক বাহিনীর ইন্টারোগেশনের সম্মুখীনও হতে হয়েছে একাধিকবার ।

দেশের অনেক, এমনকি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নেতারা বেগম মুজিবের কাছে আসতেন দেখা করতে, পরামর্শ নিতে, নির্দেশনা জানতে। আইয়ুব খান ভুট্টোকে মন্ত্রিত্ব থেকে বের করে দিলে সে-ও ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাসায় ছুটে আসে। পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা এলে পর্দার আড়াল থেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন বেগম মুজিব। কখনোই সামনে আসতেন না। ছেলে-মেয়েদের বলতেন, ‘ওদের সাথে তো আর আমরা থাকব না, কেন দেখা করব? ওদের চেহারাও আমার দেখতে ইচ্ছা করে না।’ বঙ্গবন্ধু এমএনএ, এমপি-মন্ত্রী থাকাকালে অনেকবার করাচি গেছেন। বেগম মুজিব একবারের জন্যও তাঁর সঙ্গী হন নাই। কখনো যেতে চাইতেন না। সবার আগে তিনিই বুঝেছিলেন এ দেশ স্বাধীন হয়ে যাবে। তাঁর মধ্যে এই চেতনা অত্যন্ত তীব্র ছিল এবং বিশ্বাসও ছিল।

আগরতলা মামলা নিষ্পত্তির জন্য আইয়ুব খান লাহোরে গোলটেবিল বৈঠক ডাকে। প্রস্তাব দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে ছাড়া হবে প্যারোলে। বেগম মুজিব স্বামীর কাছে খবর পাঠালেন যেন তাঁর সঙ্গে পরামর্শ না করে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত না নেন। জানালেন দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছে। মামলা তুলে বঙ্গবন্ধুসহ বন্দি ৩৫ জনের সবাইকে মুক্তি দিলেই গোলটেবিল বৈঠক হতে পারে, অন্যথা একা যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে যে দূরদর্শিতা তিনি সেদিন দেখিয়ে ছিলেন তা পরবর্তী সময়ে আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের পথের নির্দেশনা দিয়েছিল।

নেপথ্যে থেকে উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে এবং ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। বন্দি থেকেও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার চোখ এড়িয়ে দলের নেতাদের নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন। বেশ কয়েকবার গোয়েন্দা সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ ও শাস্তি-নির্যাতনের হুমকি দেয়, তবু তিনি ছিলেন অকুতোভয়।

দেশের উত্তাল পরিস্থিতিতেও প্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছেন জাতির জনককে। পাঁচ সন্তানকে যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন এই মহীয়সী নারী। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ইতিহাসে শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিণী নন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের নেপথ্যের অন্যতম অনুপ্রেরণাদানকারী মহীয়সী নারী। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকেছেন তিনি। ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের সময়ও জীবনের মতো মরণের সহযাত্রী হলেন শেখ মুজিবের। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আজ সশরীরে বেঁচে না থাকলেও তিনি বেঁচে আছেন প্রত্যেক দেশপ্রেমিক বাঙালির হূদয়ে। তাঁর দেশপ্রেম ও আদর্শ অনুপ্রেরণার উত্স হয়ে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য নীরবে-নিভৃতে কাজ করে যাওয়া এক মহীয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একে অপরের সম্পূরক। বঙ্গবন্ধুর আপসহীন নেতৃত্ব ও বজ্রকঠিন ব্যক্তিত্বের যে দুর্বারতা তার উেস ছিলেন বেগম মুজিব। স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু; কিন্তু এই নেতৃত্বকে সহায়ক শক্তি, নির্যাতনবরণের ধৈর্য ও প্রেরণা জুুগিয়েছেন এই মহীয়সী সংগ্রামী নারী। মনেপ্রাণে একজন আদর্শ বাঙালি নারী ছিলেন বঙ্গমাতা। ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকেও সুখ-শান্তি তাঁর কাছে বড় হয়ে ওঠেনি। ত্যাগের মনোভাব নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা ও শক্তি জুগিয়েছেন। রাজনৈতিক ও জাতীয় সংকট উত্তরণে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম যেমন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে চিরকাল ইতিহাসের পাতায় অম্লান থাকবে, তেমনি বাঙালি জাতি চিরকাল স্মরণ করবে তাঁর প্রিয়তমা পত্নী ‘বঙ্গমাতা’ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। আজ ৮ আগস্ট বঙ্গমাতার জন্মদিন। তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

রিয়াজ আহমেদ , লেখক : অধ্যাপক

বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ‘বঙ্গমাতা’
                                  

‘সারা জীবন তুমি সংগ্রাম করেছ, তুমি জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করেছ, তুমি জানো যে এ দেশের মানুষের জন্য কী চাই, তোমার থেকে বেশি কেউ জানে না, তোমার মনে যে কথা আসবে তুমি শুধু সেই কথাই বলবে, কারো কথা শুনতে হবে না। তুমি নিজেই জানো তোমাকে কী বলতে হবে। তোমার মনে যে কথা আসবে তুমি সে কথাই বলবা।’

যে মহীয়সী নারীর এমন দৃঢ়প্রত্যয় সাহস জোগানোর ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ৭ই মার্চের অমর ভাষণ দিয়েছিলেন, বাঙালি জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের নেপথ্য শক্তি—তিনি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। ডাকনাম রেণু। ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা শেখ জহুরুল হক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের জ্ঞাতি সম্পর্কের চাচা এবং গ্রামের বর্ধিষ্ণু কৃষক পরিবার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন, ‘একটা ঘটনা লেখা দরকার, নিশ্চয়ই অনেকে আশ্চর্য হবেন। আমার যখন বিবাহ হয় তখন আমার বয়স বারো-তেরো বছর হতে পারে। রেণুর বাবা মারা যাবার পরে ওর দাদা আমার আব্বাকে ডেকে বললেন যে আমার সাথে তার এক নাতনির বিবাহ দিতে হবে। কারণ তিনি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ওদের দুই বোনকে লিখে দিয়ে যাবেন। রেণুর দাদা আমার আব্বার চাচা। মুরব্বির হুকুম মানার জন্যই রেণুর সাথে আমার বিবাহ রেজিস্ট্রি করে ফেলা হলো। আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে। তখন কিছুই বুঝতাম না, রেণুর বয়স তখন বোধ হয় তিন বছর হবে। রেণুর যখন পাঁচ বছর বয়স তখন তার মা হোসনে আরা বেগম মারা যান। একমাত্র রইল তার দাদা। রেণুর সাত বছর বয়সে দাদাও মারা যান। তারপর সে আমার মায়ের কাছে চলে আসে। রেণুদের ঘর আমার ঘর পাশাপাশি ছিল, মধ্যে মাত্র দুই হাত ব্যবধান।’

শেখ মুজিবের মা বেগম সায়রা খাতুন পাঁচ বছর বয়সে মাতৃহীন রেণুকে ঘরে তুলে নেন এবং নিজের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে শিক্ষাদীক্ষা ও গৃহকর্মে বড় করে তোলেন। শৈশব থেকেই রেণু শেখ মুজিবসহ পরিবারের ছোট-বড় সব সদস্যের কাছে নিজেকে আপন হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে বড় সন্তান খোকা (শেখ মুজিবের ছোটবেলার ডাকনাম), যাঁর সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক, তাঁর চলাফেরা, কিশোর বয়স থেকেই নানা কর্মকাণ্ড, খানিকটা দুরন্তপনা, বেপরোয়া ও সাহসী মনোভঙ্গি কিশোরী ফজিলাতুন্নেছা রেণুর জন্যও বড় হওয়ার প্রেরণা ও মুগ্ধতার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের যেকোনো বিপর্যয়ে, অসুখ-বিসুখে উদ্ধারকর্মী হিসেবে শেখ মুজিবের সঙ্গে নিজেও তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ান।

মহীয়সী এই নারী প্রেমময়ী স্ত্রী, স্বার্থ বিসর্জক, ত্যাগী নারী ও আদর্শ মাতা যেমন ছিলেন, অন্যদিকে নিজেকে একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলেন। চিন্তাচেতনা ও আদর্শের সমান অংশীদারি অর্জনে সমর্থ হন। বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের সুখ-দুঃখের সঙ্গী বহুমাত্রিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এই নারী মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে হয়ে ওঠেন বঙ্গমাতা।

প্রাথমিক জীবনে নিজের লেখাপড়া বেশি দূর না এগোলেও স্বামীর শিক্ষার ব্যাপারে তাঁর নজর ছিল অতন্দ্র।
বঙ্গবন্ধু লিখেছেন “কলকাতা যাব, পরীক্ষাও নিকটবর্তী। লেখাপড়া তো মোটেই করি না। ভাবলাম কিছুদিন লেখাপড়া করব। মাহিনা বাকি পড়েছিল, টাকা-পয়সার অভাবে। রেণুর কাছে আমার অবস্থা প্রথমে জানালাম। আব্বাকে বললে তিনি অসন্তুষ্ট হলেন মনে হলো। কিছুই বললেন না। টাকা দিয়ে আব্বা বললেন, ‘কোনো কিছুই শুনতে চাই না। বিএ পাস ভালোভাবে করতে হবে। অনেক সময় নষ্ট করেছ, ‘পাকিস্তানের আন্দোলন’ বলে কিছুই বলি নাই। এখন কিছুদিন লেখাপড়া কর।’ আব্বা-মা, ভাই-বোনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রেণুর ঘরে এলাম বিদায় নিতে। দেখি কিছু টাকা হাতে করে দাঁড়িয়ে আছে। ‘অমঙ্গল অশ্রুজল’ বোধ হয় অনেক কষ্টে বন্ধ করে রেখেছে। বলল, ‘একবার কলকাতা গেলে আর আসতে চাও না। এবার কলেজ ছুটি হলেই বাড়ি এসো।’” প্রয়োজনে নিজের জমির ধান বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি নিয়মিত স্বামীকে সহযোগিতা করে গেছেন। স্বামীর পাশে থেকে মানবতার জন্য কাজ করে গেছেন। জীবনে ঝুঁকি নিয়েছেন বহুবার। আড়াল থেকেই তিনি বাংলার মানুষের সেবা করে গেছেন আজীবন।

বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীর প্রথম পাতা শুরু করেছিলেন সঙ্গী সহধর্মিণীর কথা দিয়ে। কেননা বেগম মুজিবের তাগিদেই এই প্রজন্মের বাঙালি আজ হাতে পেয়েছে স্বাধিকার আন্দোলনের এক অমূল্য দলিল। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের কাহিনি রচনার পেছনে স্ত্রীর যে উদ্যোগ ও উৎসাহ পেয়েছেন তাঁর বর্ণনায় লিখেছেন—
“আমার স্ত্রী আমাকে কয়েকটা খাতাও কিনে জেল গেটে জমা দিয়ে গিয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ যথারীতি পরীক্ষা করে খাতা কয়টা আমাকে দিয়েছেন। রেণু আরো একদিন জেল গেটে বসে আমাকে অনুরোধ করেছিল। ‘বসেই তো আছ, লেখো তোমার জীবনের কাহিনি।’ বললাম, লিখতে যে পারি না; আর এমন কী করেছি যা লেখা যায়! আমার জীবনের ঘটনাগুলো জেনে জনসাধারণের কি কোনো কাজে লাগবে? কিছুই তো করতে পারলাম না। শুধু এইটুকু বলতে পারি, নীতি ও আদর্শের জন্য সামান্য একটু ত্যাগ স্বীকার করতে চেষ্টা করেছি।”

সেই ছোট্টবেলা থেকে এবং পরবর্তীকালে স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের এক আত্মত্যাগী সহযোগী হয়ে ওঠেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন ও কারাজীবনেও তিনি এক অনুকরণীয় ত্যাগী নারী হিসেবে আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। স্ত্রী হিসেবে তাঁর জীবনকালে কখনো স্বামীকে একনাগাড়ে দুই বছর কাছে পাননি। কিন্তু কোনো দিন কোনো অনুযোগ-অভিযোগ ছিল না, কখনো বলেননি যে তুমি রাজনীতি ছেড়ে দাও, চলে আসো বা সংসার করো বা সংসারের খরচ দাও। জীবনে কোনো প্রয়োজনে কোনো দিন বিরক্ত হননি। যত কষ্টই হোক কখনো ভেঙে পড়তে দেখা যায়নি তাঁকে।

একদিকে ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার সামলানো, আবার কারাগারে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তাঁর মনোবল দৃঢ় রাখা; অন্যদিকে আইনজীবীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মামলার খোঁজখবর নেওয়া। নিজের সোনার অলংকার বিক্রি করেও মামলার খরচ জুগিয়েছেন। নিজেকে বঞ্চিত করে তিনি স্বামীর আদর্শ ও সংগঠনের জন্য নিজের সম্বল প্রায় সবই বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর স্বামী দেশের জন্য কাজ করছেন, মানুষের কল্যাণের জন্য করছেন। টাকার অভাব, সংসার চালাতে হচ্ছে, আওয়ামী লীগের নেতাদের সাহায্য দরকার, কেউ অসুস্থ তাকে টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু কখনোই এসব কথা কাউকে বলতেন না। নীরবে কষ্ট করে সমস্যার সমাধান করেছেন।

এমনও দিন গেছে মামলা চালাতে গিয়ে তাঁর কাগজপত্র, উকিল জোগাড় করতে অনেক খরচ হয়ে গেছে। এদিকে বাজারও করতে পারেননি। কোনো দিন বলেননি যে টাকা নাই, বাজার করতে পারলাম না। চাল-ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করেছেন। আচার দিয়ে ছেলে-মেয়েদের বলেছেন যে প্রতিদিন ভাত-মাছ খেতে ভালো লাগে নাকি। আসো, আজকে আমরা গরিব খিচুড়ি খাই, এটা খেতে খুব মজা। একজন মানুষ, তাঁর চরিত্র কতটা সুদৃঢ় থাকলে যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা ধারণ করতে পারেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে পদে পদে তিনি আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গেছেন। প্রকাশ্যে প্রচারে কখনোই আসেননি।

১৯৬৬ সালে ছয় দফা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রথম তিন মাসে আটবার গ্রেপ্তার হন। পাকিস্তান সরকার ৮ মে বঙ্গবন্ধুকে আবার গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করে। ৭ জুন ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট সফলভাবে পালনে বেগম মুজিবের ভূমিকা ছিল অন্যতম। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি লুকিয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তাঁদের ছোট ফুফুর ফ্ল্যাট বাসায় চলে যেতেন। ওখানে গিয়ে নিজের স্যান্ডেল বদলাতেন, কাপড় বদলে, বোরকা পরে একটা স্কুটার ভাড়া করে ঢাকায় পড়ুয়া ছোট ভাইকে নিয়ে ছাত্রনেতা আর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতেন। আন্দোলন চালাবে কিভাবে তার পরামর্শ, নির্দেশনা তিনি নিজেই দিতেন। আবার ওই বাসায় ফিরে এসে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নিজের বাসায় ফিরতেন। বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে সারা দেশে এই ধর্মঘট যাতে পালিত হয় এবং চলমান আন্দোলনের সফলতার জন্য তিনি নিরলস কাজ করে যেতেন। সবই করতেন গোপনে এবং রাজনৈতিক মেধায়।

একটা সময় এলো ছয় দফা, না আট দফা? পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নেতারা চলে এলেন ঢাকায়। তদানীন্তন শাহবাগ হোটেলে থাকতেন নেতারা। বেগম মুজিব মাঝে মাঝে বড় মেয়ে হাসুকে (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনা) পাঠাতেন তাঁদের স্ত্রীদের একটু খোঁজখবর নিয়ে আসার জন্য, আর সেই সঙ্গে কে কে আছে একটু দেখে এসে তাঁকে জানাতে। ছোট ভাই রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে রুমে রুমে গিয়ে সব দেখেশুনে মাকে এসে রিপোর্ট দিতেন শেখ হাসিনা। বেগম মুজিবের একটা ভালো নেটওয়ার্ক ছিল সারা দেশে। কোথায় কী হচ্ছে তার সব খবর চলে আসত তাঁর কাছে। সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক নেতাই বেগম মুজিবের প্রতি আস্থাশীল ছিলেন।

আওয়ামী লীগের মধ্যে সে সময় খুব গোলমাল। একদল পিডিএমএ যোগদান করার পক্ষে, আর একদল ছয় দফা। ১৯ মে ১৯৬৬ সালে ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাড়িতে ওয়ার্কিং কমিটির বর্ধিত সভা। ডেকোরেটর, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সে যুগে ছিল না, নিজ হাতে রান্না করে তিন দিন সবাইকে খাইয়েছেন বেগম মুজিব। সঙ্গে বিভক্ত নেতাদের নানা পরামর্শ দিয়েছেন, সাবধান করেছেন যেন ছয় দফা থেকে আট দফার দিকে চলে না যায়। বেগম মুজিবের মানসিক দৃঢ়তা সেই সময়ের রাজনৈতিক জাতীয় সংকট উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কার্যকর ছিল।

নেতাদের নানামুখী পরামর্শে তিনি শুধু বলতেন, ‘লেখাপড়া জানি না কী বুঝব, খালি এটুকু বুঝি যে ছয় দফা আমাদের মুক্তির সনদ, এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’ জেলখানা থেকে শেখ মুজিব দৃঢ় উচ্চারণে জানিয়ে দিয়েছেন, আর যাই হোক ছয় দফা থাকতেই হবে। ছয় দফা থেকে একচুল এদিক-ওদিক হওয়া যাবে না। বিশেষ কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত হলো ছয় দফা ছাড়া আর কিছু হবে না।

বেগম মুজিবের স্মরণশক্তি ছিল অসাধারণ। একবার যা শুনতেন তা আর ভুলতেন না। স্লোগান থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক পরামর্শ, নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত আসত বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে।

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকাকালে প্রতিদিন কী বিপুল আগ্রহে স্ত্রীর আগমনের প্রতীক্ষায় থাকতেন তা তাঁর লেখনীতে দেখতে পাই। ঘরে-বাইরে বেগম মুজিবই ছিলেন তাঁর পরামর্শক, উপদেষ্টা, সহচর আর নির্ভরতার আশ্রয়স্থল। সে সময়ের লেখা কারাগারের রোজনামচা থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।

১৫ জুন ১৯৬৬
দুঃখ করে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘মাত্র ২০ মিনিট সময় যাবতীয় আলাপ করতে হবে। কথা আরম্ভ করতেই ২০ মিনিট কেটে যায়। নিষ্ঠুর কর্মচারীরা বোঝে না যে স্ত্রীর সাথে দেখা হলে আর কিছু না হউক একটা চুমু দিতে অনেকেরই ইচ্ছা হয়, কিন্তু উপায় কী? আমরা তো পশ্চিমা সভ্যতায় মানুষ হই নাই। তারা তো চুমুটাকে দোষণীয় মনে করে না। স্ত্রীর সাথে স্বামীর অনেক কথা থাকে, কিন্তু বলার উপায় নাই।’

২৬ জুন ১৯৬৬
রেণু স্যারিডন খেতে দিতে চাইত না। ভীষণ আপত্তি করত। বলত, হার্ট দুর্বল হয়ে যাবে। বলতাম, আমার হার্ট নাই, অনেক পূর্বেই শেষ হয়ে গেছে। বাইরে তার কথা শুনি নাই কিন্তু জেলের ভিতর তার নিষেধ না শুনে পারলাম না।

৬ জুলাই ১৯৬৬
বিকালে চা খাবার সময় সিকিউরিটি জমাদার সাহেবকে আসতে দেখে ভাবলাম বোধ হয় বেগম সাহেবা এসেছেন। গত তারিখে আসতে পারেন নাই অসুস্থতার জন্য। ‘চলিয়ে, বেগম সাহেবা আয়া।’ আমি কি আর দেরি করি? তাড়াতাড়ি পাঞ্জাবি পরেই হাঁটা দিলাম গেটের দিকে। রেণুকে জিজ্ঞাসা করলাম,
‘খুব জ্বরে ভুগেছ। এখন কেমন আছ?’
‘পায়ে এখনো ব্যথা। তবে জ্বর এখন ভালোই।’
 বললাম, ‘ঠাণ্ডা লাগাইও না’।
আজ অনেক সময় কথা বললাম। সময় হয়ে গেছে, ‘যেতে দিতে হবে।’ বিদায় দিয়ে আমার স্থানে আমি ফিরে এলাম।
কখনো কখনো স্ত্রীর উপস্থিতি কামনায় আকুল হয়ে উঠতেন, অপেক্ষা করে থাকতেন, না এলে মুষড়ে পড়তেন কিছুক্ষণের জন্য—

২১ জুলাই ১৯৬৬
ভেবেছিলাম আজ রেণু ও ছেলে-মেয়েরা দেখতে আসবে আমাকে। হিসাবে পাওয়া যায় আর রেণুও গত তারিখে দেখা করার সময় বলেছিল, ‘২০ বা ২১ তারিখে আবার আসব।’ চারটা থেকে চেয়েছিলাম রাস্তার দিকে। মনে হতে ছিল এই বোধ হয় আসে খবর। যখন ৫টা বেজে গেল তখন ভাবলাম, না অনুমতি পায় নাই।

শেখ মুজিবের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেগম ফজিলাতুন্নেছা ছিলেন অফুরান প্রেরণার উত্স। ১৯৬৬-তে ছয় দফা ঘোষণার পর থেকে শেখ মুজিব যখন বারবার জেলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তখন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বেগম মুজিবের কাছে ছুটে আসতেন। তিনি তাঁদের বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন এবং লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাতেন। জেলখানায় দেখা করার সময় ছেলে-মেয়েদের শিখিয়ে নিতেন একটু হৈচৈ করার জন্য, আর ওই ফাঁকে বাইরের সমস্ত রিপোর্ট স্বামীর কাছে দেওয়া আর তাঁর কাছ থেকে পরবর্তী করণীয় নির্দেশনা জেনে নেওয়া। নির্দেশনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

১৭ মার্চ ১৯৬৭
আজ আমার ৪৭তম জন্মবার্ষিকী। আমার জন্মবার্ষিকী আমি কোনো দিন নিজে পালন করি নাই। বেশি হলে আমার স্ত্রী এই দিনটাতে আমাকে ছোট্ট একটি উপহার দিয়ে থাকত। পাঁচটাও বেজে গেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে জমাদার সাহেব বললেন, ‘চলুন, আপনার বেগম সাহেবা ও ছেলে-মেয়েরা এসেছে।’ তাড়াতাড়ি কাপড় পরে রওয়ানা করলাম জেলগেটের দিকে। ছোট মেয়েটা আর আড়াই বত্সরের ছেলে রাসেল ফুলের মালা হাতে করে দাঁড়াইয়া আছে। মালাটা নিয়ে রাসেলকে পরাইয়া দিলাম। ছেলে-মেয়েদের চুমা দিলাম। সিটি আওয়ামী লীগ একটা বিরাট কেক পাঠাইয়া দিয়াছে। রাসেলকে দিয়েই কাটালাম, আমিও হাত দিলাম। জেলগেটের সকলকে কিছু কিছু দেওয়া হলো।

ছয়টা বেজে গিয়াছে, তাড়াতাড়ি রেণুকে ও ছেলে-মেয়েদের বিদায় দিতে হলো। রেণুও বড় চাপা, মুখে কিছুই প্রকাশ করে না। ফিরে এলাম আমার অস্তানায়।

১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রথমে মুক্তি দিয়ে জনগণের প্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে জেলগেটেই সেনাবাহিনীর লোকজন পুনরায় গ্রেপ্তার করে ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে যায়। পাঁচ মাস তাঁর পরিবার জানতেও পারেনি তিনি কোথায় আছেন, কিভাবে আছেন, বেঁচে আছেন কি না? পুরো পরিবার নিয়ে চরম উত্কণ্ঠা, উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তায় কেটেছে বঙ্গমাতার। আগরতলা মামলায় সামরিক বাহিনীর ইন্টারোগেশনের সম্মুখীনও হতে হয়েছে একাধিকবার ।

দেশের অনেক, এমনকি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নেতারা বেগম মুজিবের কাছে আসতেন দেখা করতে, পরামর্শ নিতে, নির্দেশনা জানতে। আইয়ুব খান ভুট্টোকে মন্ত্রিত্ব থেকে বের করে দিলে সে-ও ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাসায় ছুটে আসে। পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা এলে পর্দার আড়াল থেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন বেগম মুজিব। কখনোই সামনে আসতেন না। ছেলে-মেয়েদের বলতেন, ‘ওদের সাথে তো আর আমরা থাকব না, কেন দেখা করব? ওদের চেহারাও আমার দেখতে ইচ্ছা করে না।’ বঙ্গবন্ধু এমএনএ, এমপি-মন্ত্রী থাকাকালে অনেকবার করাচি গেছেন। বেগম মুজিব একবারের জন্যও তাঁর সঙ্গী হন নাই। কখনো যেতে চাইতেন না। সবার আগে তিনিই বুঝেছিলেন এ দেশ স্বাধীন হয়ে যাবে। তাঁর মধ্যে এই চেতনা অত্যন্ত তীব্র ছিল এবং বিশ্বাসও ছিল।

আগরতলা মামলা নিষ্পত্তির জন্য আইয়ুব খান লাহোরে গোলটেবিল বৈঠক ডাকে। প্রস্তাব দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে ছাড়া হবে প্যারোলে। বেগম মুজিব স্বামীর কাছে খবর পাঠালেন যেন তাঁর সঙ্গে পরামর্শ না করে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত না নেন। জানালেন দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছে। মামলা তুলে বঙ্গবন্ধুসহ বন্দি ৩৫ জনের সবাইকে মুক্তি দিলেই গোলটেবিল বৈঠক হতে পারে, অন্যথা একা যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে যে দূরদর্শিতা তিনি সেদিন দেখিয়ে ছিলেন তা পরবর্তী সময়ে আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের পথের নির্দেশনা দিয়েছিল।

নেপথ্যে থেকে উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে এবং ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। বন্দি থেকেও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার চোখ এড়িয়ে দলের নেতাদের নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন। বেশ কয়েকবার গোয়েন্দা সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ ও শাস্তি-নির্যাতনের হুমকি দেয়, তবু তিনি ছিলেন অকুতোভয়।

দেশের উত্তাল পরিস্থিতিতেও প্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছেন জাতির জনককে। পাঁচ সন্তানকে যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন এই মহীয়সী নারী। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ইতিহাসে শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিণী নন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের নেপথ্যের অন্যতম অনুপ্রেরণাদানকারী মহীয়সী নারী। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকেছেন তিনি। ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের সময়ও জীবনের মতো মরণের সহযাত্রী হলেন শেখ মুজিবের। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আজ সশরীরে বেঁচে না থাকলেও তিনি বেঁচে আছেন প্রত্যেক দেশপ্রেমিক বাঙালির হূদয়ে। তাঁর দেশপ্রেম ও আদর্শ অনুপ্রেরণার উত্স হয়ে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য নীরবে-নিভৃতে কাজ করে যাওয়া এক মহীয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একে অপরের সম্পূরক। বঙ্গবন্ধুর আপসহীন নেতৃত্ব ও বজ্রকঠিন ব্যক্তিত্বের যে দুর্বারতা তার উেস ছিলেন বেগম মুজিব। স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু; কিন্তু এই নেতৃত্বকে সহায়ক শক্তি, নির্যাতনবরণের ধৈর্য ও প্রেরণা জুুগিয়েছেন এই মহীয়সী সংগ্রামী নারী। মনেপ্রাণে একজন আদর্শ বাঙালি নারী ছিলেন বঙ্গমাতা। ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকেও সুখ-শান্তি তাঁর কাছে বড় হয়ে ওঠেনি। ত্যাগের মনোভাব নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা ও শক্তি জুগিয়েছেন। রাজনৈতিক ও জাতীয় সংকট উত্তরণে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম যেমন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে চিরকাল ইতিহাসের পাতায় অম্লান থাকবে, তেমনি বাঙালি জাতি চিরকাল স্মরণ করবে তাঁর প্রিয়তমা পত্নী ‘বঙ্গমাতা’ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। আজ ৮ আগস্ট বঙ্গমাতার জন্মদিন। তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

রিয়াজ আহমেদ , লেখক : অধ্যাপক

দেশে করোনার ২য় পর্যায়ের ধাক্কা আসতে পারে : ডা. বেনজির
                                  

মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে দ্বিতীয় পর্যায়ের ধাক্কা লাগতে পারে বলে গণমাধ্যমে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ। দীর্ঘ সময় ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বাংলাদেশে নিম্নমুখী না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি একথা বলেন।
 
ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, যেসব দেশ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, তারা যে কাজগুলো সঠিকভাবে করেছে আমরা সেই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে না পারার কারণেই আমাদের দেশে করোনাভাইরাস দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও নিম্নগামী হচ্ছে না। এক্ষেত্রে চীনের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। চীন খুব কম সময়ে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করছে। চীন থেকেই করোনা ভাইরাসের শুরু হয়। চীনের আগে কোনো দেশেতো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়নি।
 
‘করোনাভাইরাস সম্পর্কে চীনের কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। তারপরেও তারা তো খুব কম সময়েই করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে। দেড়শ কোটি লোকের বাসস্থান চীনে, তারা করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেললো। চীন কী করেছে- ট্রেসিং, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন এবং লকডাউন। পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম অস্ট্রেলিয়া সঠিকভাবে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে। এই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে না পারার কারণেই আমরা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।
 
করোনাভাইরাস বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে হয়তো করোনাভাইরাসের সেকেন্ডারি একটা ওয়েব আসতে পারে। আমাদের দেশের চিত্রটা হয়তো যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ভারতের মতো হতে পারে। কিছুদিন করোনাভাইরাস দম ধরে থেকে আবারো ঊর্ধ্বগতিতে যেতে পারে। আমরা একদিকে ট্রেসিং করতে পারছি না, আক্রান্ত ব্যক্তিদের ট্রেসিং করে আইসোলেটেড করা, কোয়ারেন্টিন করা, তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছিল তাদের আইডেন্টিফাই করা, এগুলোর কোনটাই সঠিক ভাবে হচ্ছে না।
 
‘করোনাভাইরাসের মতো একটা জীবাণু, সেটাতো আর বসে থাকবে না। লোকজনের মাস্ক পরা কমে যাচ্ছে, অফিস আদালত খুলে যাচ্ছে, পরিবহনও চলছে। তাহলে বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে করোনাভাইরাস যদি নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে, সংক্রমণের ক্ষমতা কমিয়ে না ফেলে, তাহলে বাংলাদেশ সেকেন্ডারি একটা ওয়েবের দিকে যাবে। ’
 
বর্তমানে দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য করণীয় জানতে চাইলে আইইডিসিআরের সাবেক এ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কিছুটা আক্ষেপ করে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য করণীয় বিষয় আমরাতো বহুবার বলেছি। আমরাতো বলেই যাচ্ছি, কিন্তু যারা প্রয়োগ করার কথা তারাতো কানে তুলো দিয়ে বসে আছে। এখন সব থেকে জরুরি হলো করোনাভাইরাসের হট স্পটগুলোতে অনুসন্ধান চালানো, কারা ওইসব স্পটের লোকজনের সংস্পর্শে এসেছেন। তাদের ট্রেস করা। এখন জরুরিভিত্তিতে এন্টিজেন কিট দিয়ে দ্রুত করোনাভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা করা। বাড়িতে বসেই যেন ১৫ মিনিটের মধ্যেই করোনা আক্রান্তদের শনাক্ত করা যায়।
 
‘এরপর আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আইসোলেটেড করার ব্যবস্থা করা। ঠিক একইভাবে যারা করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের কোয়ারেন্টিন করা। মানুষের চলাচল সীমিত করা। ঠিক যেমনটা আমরা পূর্ব রাজাবাজার ও ওয়ারীতে করেছি। এগুলোর কোনোটাই তো এখন হচ্ছে না। আমরা শুধু বলেই যাচ্ছি। কিন্তু করার কেউ নেই।

মানুষের বিবেকবোধ কোথায়?
                                  

বিশ্বসহ সারাদেশ যখন করোনা মহামারীতে আক্রান্ত এবং সাথে আমাদের দেশের মানুষগুলো বন্যায় বিপর্যস্ত ঠিক সেই সময় কিছু বিবেকহীন মানুষ বন্যার পানি নিয়ে কি উল্লাসে মেতে উঠেছে। তাহলে মানুষের বিবেকবোধ আর কোথায় রইল? ইতিমধ্যে এই পানিতে পড়ে  মারাও গেছেন। পানি নিয়ে এত আনন্দিত হওয়ার কি আছে পারলে অসহায় মানুষের মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। বললেন জেলা- শেরপুর পৌর শাখা আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত

মার্কিন বিশেষজ্ঞের বার্তা, ১৯১৮ সালের ফ্লু`র মতোই মারণরূপ নিতে পারে করোনা
                                  

 ১৯১৮ সালের ফ্লুর মতোই মারণরূপ নিতে পারে করোনাভাইরাস, এমনই সতর্কবার্তা দিলেন বিশিষ্ট মার্কিন সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফসি।

তাই বিশেষভাবে যুবসম্প্রদায়কে তার সাবধানবাণী, বেপরোয়া মনোভাব দেখিয়ে বিপত্তি যেন না বাড়ান তারা। ঘটনাচক্রে এদিনই যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ হাজার টপকে গেল, এখনও পর্যন্ত যা সর্বোচ্চ। আর মৃত্যু হয়েছে ৯০০ জনের।
সম্প্রতি একটি বক্তৃতায় ফসি বলেন, কমবয়সীরা বলতেই পারেন, বয়স্কদের তুলনায় আমাদের সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে নিজেকে যেমন সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে হবে, তেমনই এটি দেখতে হবে যে তোমার থেকে অন্য কারও দেহে যেন সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের যা পরিস্থিতি তাতে ফসির এমন বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে নয়, অজান্তেই এই বিপত্তির অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন যুবসম্প্রদায়।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরাগভাজন এই বিশেষজ্ঞের পিছনে অবশ্য আদাজল খেয়ে লেগেছে হোয়াইট হাউস। তার মতামত নির্ভরযোগ্য নয় বলে প্রচার চলছে নানা ভাবে।

কোরবানির গরু অনলাইনে কিনবেন বাণিজ্যমন্ত্রী
                                  

আসন্ন ঈদুল আজহায় পশু বিক্রির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ডিএনসিসি ডিজিটাল হাট’ থেকে গরু কেনার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

আজ শনিবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে ডিএনসিসি ডিজিটাল হাটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আসন্ন কোরবানিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোরবানি পশু বিক্রির অনলাইন প্লাটফর্ম এ সময়ের জন্য প্রয়োজন ছিল। তাই ডিএনসিসি ডিজিটাল হাট সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ। মানুষ যাতে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে সে জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমিও এই অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ডিজিট্ল পদ্ধতিতে গরু কিনতে চাই এবং কোরবানি দিতে চাই।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশেনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইমরান হোসেন।

এক মাসে চার বলিষ্ঠ নেতা হারাল আ.লীগ
                                  

এক মাসের মধ্যে সামনের সারির চার নেতাকে হারাল বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যু হয়। এর আগে মোহাম্মদ নাসিম, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যু হয়।

রাজনৈতিক জীবনে তারা প্রত্যেকেই প্রভাবশালী ছিলেন এবং দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট উত্তরণ ও উন্নয়নে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ পরিচয় দিয়েছেন। এই চার নেতার মধ্যে মোহাম্মদ নাসিম, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও বদরউদ্দিন আহমদ কামরান করোনা পজিটিভ ছিলেন।

মোহাম্মদ নাসিম:

১৩ জুন শনিবার রাজধানীর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

৫ জুন থেকে তিনি কোমায় ছিলেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে ১ জুন রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। পরে তার করোনা টেস্ট করা হয়। ওইদিন রাতে তার করোনা পজিটিভ আসে।

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলেও পরদিন মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থার উন্নতি হয়। ৫ জুন ভোরে তিনি স্ট্রোক করেন। ওই দিনই তার অপারেশন করা হয়। পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। অপারেশনের পর চিকিৎসকরা তাকে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। ওই সময় পার হওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মেডিকেল বোর্ড নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ওই বোর্ডের তত্ত্বাবধানেই তিনি কোমায় ছিলেন। এরমধ্যে ৯ জুন তার করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে।

মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী। ১৯৯৬ সালে স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে ৬ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ষাটের দশকে ছাত্র রাজনীতির জীবন শুরু হলেও পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি প্রভাবে ছাত্রলীগে যোগদান করেন মোহাম্মদ নাসিম। ছাত্র অবস্থায় ১৯৬৬ সালে তিনি পাবনা অঞ্চলে `ভুট্টা আন্দোলন` সংগঠিত করলে বাবা মনসুর আলীর সঙ্গে কারারুদ্ধ হন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর নাসিম আওয়ামী লীগের পাবনা জেলা শাখার যুগ্মসচিব হন। ১৯৭৩ সালের পর তাকে বাংলাদেশ যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের পরে তাকে এর সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত করা হয়। পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের পর মোহাম্মদ নাসিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় দীর্ঘদিন তাকে কারাগারে থাকতে হয়।

১৯৮১ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন নাসিম। ওই সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুব সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালে নাসিমকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালের সম্মেলনে দলের প্রচার সম্পাদক মনোনীত হন। ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে তিনি দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০০২ সালের আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ একটি ছিল। এরপর থেকে বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০০২ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দলের সম্মেলনে তাকে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য পদে রাখা হয়। ২০১২ সালের সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। পরপর তিন মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ সালে মোহাম্মদ নাসিম প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। সিরাজগঞ্জ-১ সংসদীয় আসন (কাজীপুর) থেকে ৫বার বিজয়ী হন তিনি। ১৯৯১-এ তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ১/১১ সরকারের দেয়া মামলার কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ওই নির্বাচনে তার ছেলে তানভীর শাকিল জয় দলীয় মনোনয়ন পান। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে নাসিম মনোনয়ন পান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন। ২০১৯ সালের নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন।

মোহাম্মদ নাসিম পাবনার এডওয়ার্ড কলেজে পড়াশোনা করেন। তিনি ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা আন্দোলনের এক সমাবেশে অংশ নিতে পাবনায় যান এবং পরে তিনি মনসুর আলীর বাড়িতে যান। তিনি জানতে পারেন যে নাসিম ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠতায় নাসিম আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের একটি অনুষ্ঠানে হাজির হন এবং পরবর্তীকালে এই ছাত্র সংগঠনে যোগ দেন। এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশের পর তিনি ঢাকায় এসে জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন ও এখান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

মোহাম্মদ নাসিমের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলায়। তার বাবা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী।

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন:

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। তার বয়স হয়েছিলো ৭৭ বছর। তিনি নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন।

গত ২ জুন জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য সাহারা খাতুনকে। অবস্থার অবনতি হলে ১৯ জুন সকালে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে ২২ জুন দুপুরে তাকে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে (হাইডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৬ জুন সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

এরপর তার অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৬ জুলাই চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে থাইল্যান্ড নেয়া হয়। সেখানে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

সাহারা খাতুনের জন্ম ১৯৪৩ সালের পহেলা মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া, তিনি আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে একজন আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

সাহারা খাতুন ছাত্র জীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। বাংলাদেশ সরকারের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন।

শেখ মো. আবদুল্লাহ:
১৩ জুন রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনিও করোনা পজেটিভ ছিলেন। শেখ আবদুল্লাহ ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি টেকনোক্র্যাট কোটায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুল্লাহ কর্মজীবনের শুরুতে সুলতানশাহী কেকানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে গোপালগঞ্জ ও ঢাকা জজকোর্টে ওকালতি পেশায় জড়িত হন। প্রথমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বোর্ড অব গভর্নরস`র সদস্য ও পরবর্তীকালে ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন তিনি।

১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার কেকানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শেখ মো. আবদুল্লাহ। আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলনে অংশ নেন এবং সেসময় যুবলীগে যোগ দিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০ সালের সাধরণ নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মুজিব বাহিনীতে যোগ দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। স্বাধীনতার পর তিনি গোপালগঞ্জ জেলা শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরান:
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুন সোমবার ভোররাত তিনটায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

৫ জুন সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে কামরানের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়। পরদিন তীব্র জ্বর ও বমির জন্য নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৭ জুন তাকে ঢাকায় এনে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ৮ জুন তাকে প্লাজমা থেরাপি দেয়া হয়। প্লাজমা থেরাপির পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। তবে তাকে সেখানে আইসিইউতে রেখে অক্সিজেন সাপোর্টে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তিনি মারা যান।

কামরান সিলেট পৌরসভার কনিষ্ঠ কমিশনার হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি সিলেট পৌরসভায় কমিশনার হিসাবে তিনবার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সিলেট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন হলে তিনি হন ভারপ্রাপ্ত মেয়র হন।

২০০৩ সালের মার্চে মুহাম্মদ আবদুল হককে পরাজিত করে তিনি সিলেট মহানগরের মেয়র হন। ২০০৫ সালে, একটি টেনিস কোর্টের উদ্বোধন করতে গেলে, হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশ সদস্যরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালায়।

২০০৭ সালে তিনি সিলেট কিচেন মার্কেট ঘুষ মামলায় গ্রেপ্তার হন। মামলায় জামিন পেলেও কামরানকে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার দায়ের করা অন্য মামলায় আটক করা হয়। ২০০৮ সালে কারাবন্দি অবস্থায় মেয়র নির্বাচনের প্রতিযোগিতা করার জন্য মনোনয়ন ফরম জমা দেন ও মেয়র হিসেবে দ্বিতীয়বার নির্বাচনে জয় লাভ করেন। ২০০৮ সালের ১৭ আগস্ট তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। পরে, ২০১৩ ও ২০১৮ সালের মেয়র নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন তিনি।

২০০২ সালের সম্মেলনে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০৫ এবং ২০১১ সালের সম্মেলনেও পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।

টেস্ট কমায় বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
                                  

গত এক সপ্তাহে এক লাফে করোনা টেস্টের সংখ্যা কমেছে গড়ে প্রায় বিশ শতাংশ। আইইডিসিআর বলছে, অযথা টেস্টকে নিরুৎসাহিত করায় গত সাত দিনে কমেছে করোনা টেস্টের সংখ্যা। নতুন পরিকল্পনায় কেবল উপসর্গ নিয়ে আসাদেরকেই পরীক্ষার আওতায় আনছেন তারা, নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্ট। তার উপর ফি নির্ধারণেও কমেছে টেস্টের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত কোভিড মোকাবিলায় আবারো ভুল করছে বাংলাদেশ, শঙ্কা আছে বড় বিপর্যয়ের।

দেশের সংক্রমণের হার দেখে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, হয়তো করোনা সংক্রমণের চূড়া অতিক্রম করছে বাংলাদেশ। এনিয়ে রয়েছে বিরোধী মতও। এমন বাস্তবতায় চলতি মাসের শুরু থেকে করোনা পরীক্ষার যেন ক্রমেই নিম্নমুখী। ২ জুলাই যেখানে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ছিল আঠারো হাজার সেখানে পরের ছয়দিন এই সংখ্যা তেরো চৌদ্দ আর ১৫ হাজারে।

করোনাকালের এই পর্যায়ে যখন বারবার টেস্ট বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা তখন কেন এমন হাল। আইইডিসিআর বলছে, অহেতুক টেস্ট নিরুৎসাহিত করতেই কেবল উপসর্গ দেখে পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করছেন তারা। এছাড়া প্রথমবার নেগেটিভ আসলে পরবর্তী টেস্ট না করার পরামর্শ এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। ফি নির্ধারণের পর এমনিতেও কমেছে কিছুটা চাপ।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, আমরা উপসর্গ ছাড়া কোনো রোগীর টেস্ট এখন করছি না। এছাড়া শনাক্তকৃত ব্যক্তি নেগেটিভ কিনা সেটা দেখার জন্যও আমরা টেস্ট করছি না। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, এজন্যই টেস্টের সংখ্যা কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সিদ্ধান্তে হয়তো দৃশ্যমান সংক্রমণের পরিসংখ্যানটা স্বস্তিদায়ক দেখাবে। তবে এতে করোনা পরিস্থিতির আসল চিত্র থেকে যাবে অন্তরালে। যা ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজীর আহমদ বলেন, টেস্ট কমে গেলে রোগী কেন কমে গেল? তার মানে কি এমন টেস্ট বাড়ালে রোগী বেড়ে যাবে? যদি আমরা সত্যিকার রোগীকে মিস করি, তবে তাদের মাধ্যমে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিটা বেড়ে যাবে। টেস্ট কমানো থেকে সরে এসে র‌্যাপিড টেস্টের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

পুষ্টি সঠিকভাবে না পেলে ওষুধ আর হাসপাতাল দিয়ে কাজ হবে না
                                  

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসসহ যে কোনও রোগ থেকে রক্ষায় শুধু হাসপাতাল এবং ওষুধ দিয়ে সুরক্ষা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাসপাতাল আর ওষুধ নয়, আমাদের প্রয়োজন ভেজালমুক্ত খাদ্য। এটিই পারে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। নিউট্রিশন যদি আমরা সঠিকভাবে না পাই তবে তো ওষুধ আর হাসপাতাল দিয়ে কাজ হবে না।

বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন বঙ্গবাজারে অবস্থিত আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগারের উদ্বোধন শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমরা করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি। কিন্তু এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা যদি শুধু ওষুধ কিনি আর হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কিনি তাহলে তো স্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে না। কারণ আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজন প্রপার নিউট্রিশন। এ নিউট্রিশন যদি আমরা সঠিকভাবে না পাই তবে তো ওষুধ আর হাসপাতাল দিয়ে কাজ হবে না। তাই আমাদের ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতে হবে। আজ আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার উদ্বোধন করলাম। আশা করছি এটির সুফল আমরা সবাই পাবো। বিশেষ করে ঢাকাবাসী। তবে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের জন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হলো জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। ঢাকাবাসী যেন স্বাস্থ্যকর খাদ্যগুলো পায় সেটা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ দক্ষ জনবল নিয়ে একটি আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ ডিএসসিসিতে এমনি একটি আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার উদ্বোধন হলো। এর মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণে যত খাদ্য পণ্য বিক্রি হবে সেসব খাদ্য সামগ্রীর মান আমরা নিশ্চিত করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আগে থেকেই এ দায়িত্ব দেওয়া ছিল, খাদ্য-পণ্যগুলোর মান নির্ণয় করা। কিন্তু এতোদিন আমাদের সেই স্বয়ংসপূর্ণতা ছিল না। আজ এ আধুনিক ল্যাবরেটরির মাধ্যমে আমরা সে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলাম। এখন থেকে যেকোনও খাদ্য-পণ্যের সঠিক মান নির্ণয়ের মাধ্যমে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো। এতো দিন আমরা ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান করলেও ভেজালকারীরা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে যে আমরা সঠিকভাবে পরীক্ষা না করেই তাদের জরিমানা করেছি। এখন থেকে সে সুযোগ থাকবে না।

করোনা ভাইরাস: সরকারী ত্রাণ, প্রণোদনা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন
                                  

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই ক্রান্তিকালে জাতি হিসেবে আমাদের সকলের কাঙিক্ষত, প্রত্যাশিত ও অলংঘনীয় গুরুদায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। জাতীয় জীবনের এই সংকট মোকাবেলায় আপনি আমি ও আমাদের যে যার আবস্থান থেকে রাষ্ট্রের সুনাগরিক হিসেবে সঠিক ও যর্থাথ দায়িত্ববোধে উদ্ভ’দ্ধ হয়ে নিজেদের মেধা, মমনশীলতা, দক্ষতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে যুগোপযোগি কৌশল অবলম্বন পূর্বক সাহায্য ও সহযোগিতা করা নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এছাড়াও ক্ষুধা, দারিদ্র্য মুক্ত, বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও উন্নত সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে মুজিব শতবর্ষের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশের তরে ত্যাগ স্বীকার করে প্রতিদান দ্য়োও  দেশের ,দশের ,সময়ের দাবী।
বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) থেকে উদ্ভ’ত এই মহাদুর্যোগ রাষ্ট্র কিংবা সরকারের পক্ষে একা মোকাবেলা প্রায় অসম্ভব। এ জন্য আমাদের ধর্ম, বর্ণ, দল-মত, বিভিন্ন শ্রেণীপেশার-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের মধ্যকার স্বার্থগত দ্ব›দ্ব -বিরোধর ঊর্ধ্বে ওঠে কিংবা মিমাংশা-নিষ্পত্তি করে জাতীয় একাত্মতা সৃষ্টি করতে হবে। কারণ দল-মত-পথের চেয়ে দেশের স্বার্থই সবচেয়ে বড়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এখনো সে রকম কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ পর্যবেক্ষণে পরিলক্ষিত হয়নি। দৃশ্যত হবে কি-না তাও নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ,সংশয় রয়েছে। যদি আমরা এমনটাই করতে না পারি বা ব্যর্থ হই তা হলে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা তথা সরকারী ত্রাণ ,প্রণোদনাসহ অন্যান্য সরকারী সাহায্য সুপরিকল্পিত ,সমন্বিত ও সুষমভাবে বন্টন করতে ব্যর্থ হবো।
ইতোমধ্যে সরকারী ত্রাণ বিতরণে বিশৃংখলা, সমন্বয়হীনতা, স্থান-কাল-পাত্র ভেদাভেদ, দলীয় পরিচয় বিবেচনা, দলীয় পরিচয়ে ডিলারশীপ প্রদান, অসম বন্টনসহ নানা অনিয়ম সকলের দৃষ্টিগোচরীভ’ত হয়েছে। এছাড়াও জনপ্রতিনিধি নামধারী তথাকথিত মেম্বার, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, মেয়র এবং স্বার্থান্বেষী দলবাজ নেতা-কর্মী কর্তৃক সরকারী ত্রাণ আত্মসাৎ, চুরি এবং ইদুরের বৈশিষ্টধারণ করে গর্তে লুকিয়ে রাখার মত নির্লজ্জ্ব, ন্যাক্কারজনক ,অমার্জনীয়, আত্মঘাতী ঘটনা সংগঠিত হয়েছে যা জাতীয় জীবনে আরো একটি নেতিবাচক ইতিহাস রচিত হয়েছে। যে কোন রাষ্ট্র জাতীয় সংকটকাল মোকাবেলা ও সংকট উত্তরণের নিমিত্তে জাতীয় মাসসিক শক্তি, চেতনা, ইতিহাস -ঐতিহ্য এর শক্তিতে বলীয়ান হয়ে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাষ্ট্র ,জনগণ ও রাষ্ট্রূীয় যন্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে পুনরোজ্জীবিত করে অর্থনৈতিক চাকা সহ সামগ্রিক সূচক সচল ও গতিশীল করা হয়। এ জন্য কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দেয়া হয়। এতদপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র তথা রাষ্ট্রীয় সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টদের পুর্ণ্যদ্যেমে সেবা প্রদানের জন্যও উৎসাহমূলক প্রণোদন্ াঘোষনা করা হয়। বর্তমান প্রেক্ষিতে আমাদের দেশের সরকারও করোনা সংকট মোকাবেলায় কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য , সেবাখাত সহ বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষনা করা হয়েছে।
                                                পাতা/০২
জাতি প্রত্যাশা করে, রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা বন্টনে সংর্কীণ দলীয় পরিচয়, নির্দিষ্ট ধর্ম-বর্ণ,দল-মত, গোষ্ঠী, স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা না করে সততা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটিয়ে সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় এনে সুপরিকল্পিত, সমন্বিত ও সুশৃংখলভাবে দক্ষতার সাথে সুষমভাবে বন্টন করা হবে। আর এ জন্য সর্বাগ্রে যেটি প্রয়োজন সেটি হচ্ছে জাতীয় ঐক্য। কারণ ঐক্যমত্যেই ঐশ্বর্য, মতানৈক্যই মাশুল। এই জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সবার মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ গড়ে ওঠবে । সবার মাঝে ন্যায়বোধ ও জাতীয় মানসিক শক্তি এবং মানবিক গুলাবলীর বিকাশ ঘটব্।ে  আর এর মাধ্যমে  বর্তমান সংকট ও তৎপরবর্তী নানা চ্যালেঞ্জ এর সুষ্ঠু ও সফলভাবে সমাধান করা যাবে মর্মে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি স্বস্তিদায়ক নয়। এমন কি বিদ্বেষপূর্ণ, বিবেদপূর্ণ, একগুয়ে, অনমনীয়, অসৌজন্যমূলক এবং অগণতান্ত্রিক। ফলশ্রæতিতে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় যন্ত্র বা রাষ্ট্রীয় সংগঠন, অর্থনৈতিক বিবিধ শক্তি তথা রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিবিধ শক্তি বা উপাদান ভারসাম্যপূর্ণ নয়। অর্থনৈতিক শক্তি তথা কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ,কর্তৃত্ব, প্রভাব-প্রতিপত্তি  সমাজের মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে পুঞ্জিভ’ত। অর্থ্যাৎ যারা দলীয় নেতা-কর্মী  তাঁরাই এমপি, তাঁরাই সরকার, তাঁরাই মন্ত্রি, তাঁরাই আইনপ্রণেতা। আবার তাঁরাই কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-ব্যাণিজ্যের মালিক। অধিকন্তু তাঁরাই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এনজিও, দাতাগোষ্ঠী, বহুজাতিক কোম্পানী, চাপসৃষ্টিকারীগোষ্ঠী , মিডিয়া, সিভিল সোসাইটি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণকর্তা। এই রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে সরকারী প্রণোদনা যখন যেভাবে বন্টন করা হোক না কেন তা চক্রাকার আবর্তে বৃত্তের মধ্যেই থাকবে। আপামর জনসাধারণ এর সুফল ভোগ থেকে বরাবরই বি ত থাকবে কিংবা বৈষম্যের শিকার হবে। যে মহৎ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের সর্বস্তরের শ্রেণী-পেশার মানুষকে টার্গেট করে ন্যায়নীতির ভিত্তিতে প্রণোদনা বন্টনের কথা তা ব্যর্থতায় পর্যবশিত হবে।
রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার মধ্যকার সর্ম্পক যদি একাকার হয় কিংবা পার্থক্য নিরূপন করা যায় না, তখন রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন ঘটে। সমাজের বিপুল সংখ্যক জনগণ যদি আইন সভার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন অর্থনৈতিক শক্তি বা গোষ্ঠীর নেতারা রাজনৈতিক ক্ষমতায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বা চাপসৃষ্টি করে নিজেদের স্বার্থের অনুক’লে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে পরিচালনা করে। ফলশ্রæতিতে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে চরম অরাজকতা, বিশৃংখলা, অস্তিতিশীলতা , সহিংসতা, পেশী শক্তির ব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি সহ নানা অসামাজিক, অনৈতিক ,অমানবিক অপকর্ম সংঘঠিত হয়। ইতোমধ্যে জাতি এই দুষ্টচক্রের মুখোশ উন্মোচন করেছে অথবা নিজেদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিজস্ব স্বরূপ প্রদর্শন করেছে। সম্প্রতি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সফল রাষ্ট্রনায়ক, দেশরতœ, স্বাধীন বাংলাদের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে অকপটে স্বীকার করে বলেছেন-” বৃত্তবানদের চাই চাই গেল না”। এই দুষ্ট দুর্বৃত্তচক্রের চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই, সীমা নেই,শুধুই অতৃপ্তি, অসন্তুষ্টি, আগা-গোড়া গ্রাস করার লালসা-বাসনা। সাম্প্রতিক কালের সরকারী ত্রাণ চুরি, আত্মসাৎ, ইদুর
                                         পাতা/০৩
স্বভাবের মত চাল-ডাল-তেল গর্তে লুকিয়ে রাখা, নগদ সহায়তা প্রদানে অনিয়ম, পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ইত্যাদি ছিল পরবর্তী বিষয়গুলোর দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা । যেমন খাদ্যে ভেজাল, সড়ক দূর্ঘটনা, ক্যাসিনো কান্ড, রূপপুরের বালিশ কান্ড, হসপিটালের পর্দা কান্ড, ব্যাংক কেলেংকারী, শেয়ার বাজার কেলেংকারী, দিবালোকে নরহত্যা  ইত্যাদি।
করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং তৎপ্রেক্ষিতে করোনা উত্তর জটিল সমীকরণ ঘটবে, থাকবে নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাও। যেমনঃ সামাজিক অস্তিরতা, দারিদ্য্র, দুর্ভিক্ষ, বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, মুদ্রাস্ফীতি, বাজার সংকোচন, অর্থনৈতিক মন্দাসহ অনাকাঙিক্ষত অস্তিতিশীল পরিবেশ। এমন কি রাজনৈতিক অস্তিরতার দরুণ নেতৃত্বের সংকট, বৈধতার সংকট, জনবিক্ষোভ-বিদ্রোহ ও ঘটতে পারে। যদি আমরা এই রাজনৈতিক দুষ্ট চক্রাকার বৃত্তকে বা রাজনৈতিক দূর্বৃত্তপনা ভাঙতে না পারি কিংবা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হই তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের জাতীয় জীবনে নানা সংকট, সমস্যা ও মানবিক বিপর্যয়ও সৃষ্টি হতে পারে।
সরকারই হচ্ছে জনগণের আশা-ভরসার কেন্দ্র স্থল। সরকারের সদিচ্ছা ও মহৎ উদ্যোগ যেমনঃ বিচারবুদ্ধি, সংযম, সহিষ্ণুতা, নৈতিকতা, উদার গণতান্ত্রিক মনোভাব, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালনা, জনগণকে সুশিক্ষিত, সুনাগরিক, ন্যায়পরায়ন, বিবেকবান ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন করে গড়ে তোলা এবং অপর পক্ষে জনগণের অধিকার ও দায়িত্ববোধ সচেতন হ্ওয়া, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ,পারস্পরিক সমঝোতা ও সহমর্মিতাই পারে মোদ্দাকথায়, সরকারের সদিচ্ছা ও জনগণের সচেতনতাই পারে রাজনৈতিক দূর্বৃত্তপনা ভাঙতে  কিংবা নিয়ন্ত্রণ করে সংকট মোকাবেলা ও উদ্ভ’ত সমস্যা, চ্যালেঞ্জ এর সুষ্ঠু সমাধান করতে।
দেশের প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞা প্রকাশের এখনই সময়। এখনই সময় দেশ মাতৃকার কল্যাণে প্রতিদান দেওয়ার। কারণ মানুষ র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্বাঁচে আশায়, দেশ বাঁচে মানুষের ভালবাসায়। মা, মাটি ও মানুষকে সুরক্ষা করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে জীবনকে স্বার্থক ও মহৎ করে তুলি। কবির কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে আমরাও বলি-
”স্বার্থক জন্ম মাগো, জন্মেছি এই দেশে
 স্বার্থক জনম মাগো, তোমায় ভালবেসে”।
                                                      -----০----
লেখকঃ মো. আবদুস সালাম, ব্যাংকার এবং কক্সবাজার সুইমিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও চীফ কোচ।

প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে করোনাভাইরাস: গবেষণা
                                  

প্রাথমিক পর্যায়ে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) যে আকার বা চরিত্র ছিল, তার পরিবর্তন ঘটছে। ফ্লোরিডার গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে করোনাভাইরাস। গবেষকদের মতে, চীনে যখন প্রথম করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে, তখন যে পরিমাণে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছিলেন, এখন অনেক দ্রুত ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাস আরও শক্তিশালী হচ্ছে। দ্রুত মানবশরীরে প্রবেশের ক্ষমতা ধারণ করেছে। ফলে সংক্রমণও বাড়ছে।

এই ভাইরাস নিজের সারফেস প্রোটিন বদলাচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে বদলে যাচ্ছে করোনা চরিত্র। যে মানব কোষে আগে করোনা জায়গা করতে পারত না, এখন সারফেস প্রোটিন বদলানোর ফলে সেখানেও হামলা চালাতে পারছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীর মধ্যে করোনার কোনো লক্ষণ না পাওয়া গেলেও হঠাৎই শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে তার। চিকিৎসার শুরুর আগেই মৃত্যু হচ্ছে রোগীর। মেডিকেল রিপোর্টের তথ্যমতে, যদি কোনো ব্যক্তির থেকে অন্তত ২০০ জন করোনা আক্রান্ত হন, তবে তার এই ভাবে মৃত্যু হতে পারে। মেডিকেল পরিভাষায় এই ব্যক্তিকে বলা হচ্ছে সুপার স্প্রেডার।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলার পেডাপুডি ও সংলগ্ন এলাকায় এ রকম এক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায় সম্প্রতি। যার নিজের কোনো করোনার লক্ষণ ছিল না। অথচ তিনি সুপার স্প্রেডার ছিলেন। স্থানীয় কাঁকিনাড়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আধাঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের অ্যাসিম্পোট্যোম্যাটিক রোগীরা প্রাথমিকভাবে সুস্থ বলেই মনে করা হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে বিভিন্ন অংশের ক্ষতিসাধন করে চলে। আচমকাই এদের রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে চিকিৎসার বিন্দুমাত্র সুযোগও এই ধরনের রোগীরা দেন না। ফলে তারা মারা যান।

গবেষকরা করোনার এই চরিত্র বদলকে বলছেন D614G। বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর হার কমলেও ভয়াবহতা একই থাকছে করোনাভাইরাসের। আপাতত গবেষকরা এই নতুন D614G-র চরিত্র রহস্য উদঘাটনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একাধিক নমুনাও এজন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট

করোনা সন্দেহ হলে কী করবেন, কোথায় যাবেন?
                                  



করোনাভাইরাসের এই সময়ে জ্বর, শুকনো কাশি অথবা শরীর ব্যথার উপসর্গ দেখা দিলে স্বাভাবিকভাবেই এখন অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ ছাড়া হাসপাতালে রোগীর প্রচণ্ড চাপ ও প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়া হাসপাতালে যাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছেন।

তবে এখন প্রশ্ন হলো– আপনার শরীরে যদি করোনাভাইরাস সংক্রমণের একাধিক উপসর্গ দেখা দেয় তবে কী করবেন?

এ বিষয়ে তথ্য জানিয়েছেন ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন।

আসুন জেনে নিই কী করবেন?

১. করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম উপসর্গ হলো জ্বর ও শুকনো কাশি। এ ছাড়া শরীরের পেশিতে ব্যথা, গলাব্যথা, স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি না থাকা, শ্বাসকষ্ট, কখনও পেট খারাপ ও বমি বা বমি বমি ভাব থাকতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে সেলফ আইসোলেশনে থাকতে হবে।


২. সম্ভব হলে আলাদা একটি ঘরে থাকুন। প্রাতঃকর্ম এবং অন্যান্য কাজের জন্য বাইরে বের হবেন না। খাবার, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধ ঘরের দরজার বাইরে রেখে যাবেন পরিবারের সদস্যরা। এ ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে অন্যদের থেকে অন্তত ছয়ফুট দূরত্বে থাকুন ও মাস্ক পরুন।

৩. জ্বরের সঙ্গে আরও এক বা একাধিক উপসর্গ দেখা গেলে নমুনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. নমুনা পরীক্ষা রিপোর্ট আসা পর্যন্ত বসে না থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে ৪ থেকে ৫ বার গরম পানির গার্গল করুন। এ ছাড়া দিনে কয়েক বার গরম পানির ভাপ নিন।


৫. এ সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার খান। প্রতিদিন প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খান। স্যুপ খেতে পারেন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান।

৬. শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা খেয়াল রাখুন। পালস অক্সিমিটার নামে ছোট একটি মেডিকেল যন্ত্র এ ক্ষেত্রে হাতের কাছে রাখতে পারেন।

৭. ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও অ্যাজমার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা আছে এমন রোগীকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

৮. এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

গর্ভবতী মায়েরা প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হবেন না
                                  

গর্ভবতী মায়েদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেছেন, গর্ভবতী মায়েরা প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হবেন না। এবং একান্ত প্রয়োজন হলে লোকসমাগম বেশি আছে এমন স্থান এড়িয়ে চলবেন। তবে ঘরে থাকলেও নিয়মিতভাবে হাটাহাটি করবেন। হালকা ব্যায়াম করবেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

ডা. নাসিমা বলেন, বর্তমানে কভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও দেশের সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান যেমন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবতী মায়েদের সকল সেবা চালু আছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আপনাদের নিকটবর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে গর্ভকালীন সেবা নিন।

অনলাইন বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৪ জন। এটি একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এনিয়ে মোট মারা গেলেন ১,৮৪৭ জন। এছাড়া একই সময়ে আরও ৩,৬৮২ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১,৪৫,৪৮৩ জন।

‘১৩ ঘণ্টায় ১০ মিনিট’ অলৌকিকভাবে বাঁচার বর্ণনা দিলেন সুমন
                                  

পানির নিচে ১৩ ঘণ্টাই জ্ঞান ছিল বলে জানিয়েছেন সদরঘাটের শ্যামবাজারে লঞ্চডুবি থেকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার হওয়া যুবক সুমন ব্যাপারী। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের করিডরে গণমাধ্যমের কাছে বেঁচে ফেরার ঘটনা তুলে ধরেন তিনি। উদ্ধার হওয়ার পর থেকে সুমন ব্যাপারী সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা এখন বেশ ভালো। ১৩ ঘণ্টা পুরো সময়টাতেই প্রার্থনা করে কাটিয়েছেন বলে জানান তিনি।

সুমন ব্যপারী জানান, প্রথমে দিকে পেটে একটু পানি প্রবেশ করলেও বাকি পুরো সময়টা নিরাপদে ছিলেন। এসময় লঞ্চডুবির পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি তো মনে করেছি ১০ মিনিটি হয় আটকে আছি! পানির উপর উঠে এসে শুনি ১৩ ঘণ্টা হয়েছে। আল্লাহপাক যা চায় তাই হয়। কারণ আমি তো ওইখানে মৃত্যুবরণ করতে পারতাম। পানির নিচে থাকা অবস্থায় পানি খেয়েছিলাম। কিন্তু প্রস্রাব করার পর পেট ক্লিয়ার হয়ে গেছে। এরপর উপরে উঠে আসি!

সুমন ব্যাপারীর ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন মুন্সিগঞ্জের কাটপট্টি লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চে উঠিছিলেন তিনি। নিজেকে একজন ক্ষুদ্র  ফল ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন তিনি। তাকে কখন হাসপাতালে থেকে ছাড়পত্র দেয়া হবে এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাননি হাসপাতালের পরিচালক। প্রসঙ্গত, সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় এমএল মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটি ডুবে যায়। এঘটনায় ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই মুন্সীগঞ্জের। এছাড়া লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার প্রায় ১৩ ঘণ্টার সোমবার রাত ১১টার দিকে সুমন ব্যাপারী উদ্ধার হন।

এ ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এছাড়া, মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা ও তাৎক্ষণিক ভাবে দাফন করা জন্য ১০ হাজার টাকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

করোনার আরো তিনটি নতুন উপসর্গের সন্ধান পেয়েছে সিডিসি
                                  

করোনার আরো তিনটি লক্ষণের কথা জানিয়েছেন মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র দ্যা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সিডিসি। গোটা বিশ্বের নানা রোগ শনাক্ত করে তা নিয়ে নতুন নতুন গবেষণা করে এই লক্ষণগুলোর সন্ধান করে সিডিসি। করোনা ভাইরাস নিয়েও তাঁরা গবেষণাগারে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। যে বিজ্ঞানী-গবেষকরা মার্কিন সংস্থায়  গবেষণা করছেন তাঁরাই সংস্থার ওয়েবসাইটে অই নতুন উপসর্গের উল্লেখ করেছেন।

নাকে সর্দি, বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়া এই তিনটি নতুন উপসর্গের কথা জানিয়েছে সিডিসি। এর আগে জ্বর,শ্বাস কষ্ট, কফ, শুকনা কাশি, গায়ে ব্যাথা,মাথা ব্যাথা, খাবারে অরুচি, অবসাদ এই লক্ষণগুলো ছিল। করোনার সব লক্ষণ নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি আপডেট জানানোর কথা রয়েছে সিডিসির।

এর আগে এপ্রিলে করোনার নতুন কিছু লক্ষণ সংযোজন করে সিডিসি। করোনার শুরুতে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের কথা অন্যতম লক্ষণ হিসেবে চলে আসছিল। করোনা আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ প্রকাশ পায় ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে। যাদের হার্টের সমস্যা বা ডায়বেটিস রয়েছে তাদের ঝুঁকির মাত্রাও বেশি।  

করোনার এই লক্ষণগুলোর মধ্যে যেকোন তিনটি দেখা দিলেই অবিলম্বে জরুরী চিকিৎসা সেবা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সিডিসি।

নিজে সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন হতে বলুন : হানিফ সংকেত
                                  

অনলাইন ডেস্ক:
কভিড-১৯ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত। এতে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ভিডিওবার্তায় তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের দৈনন্দিন আচরণ ও চলাফেরাতে পরিবর্তন আনতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া কারোরই উচিত হবে না। আমরা যে কেউ যেকোনো সময় এই রোগে আক্রান্ত হতে পারি। কারণ আমরা সবাই এখন এই রোগের ঝুঁকিতে এ রয়েছি। তাই প্রয়োজন সচেতনতা ও সতর্কতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চিকিৎসক ও সর্বস্তরের মানুষকেই এই বিষয়ে সচেতন করছেন। শুধু নিজে সতর্ক থাকলেই চলবে না। সবাইকেই সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো গুজবে কান দেবেন না। গুজব ছড়ানোটা বিভ্রান্তিকর ও অপরাধও। তাই গুজবে কান দেন দেবেন না, আতঙ্কিত হবেন না। নিজে সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন হতে বলুন।

 
মহামারী রোধে মহানবী (সা.) এর নির্দেশনা অত্যন্ত কার্যকর: মার্কিন গবেষক
                                  

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বে এখন আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। চীনের উহান থেকে উৎপত্তি এই ভাইরাস এখন তাণ্ডব চালাচ্ছে ইউরোপজুড়ে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে ইউরোপের ইতালিতে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬০১ জন, আর স্পেনে মারা গেছে ৫৩৯ জনের। ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসের এই প্রকোপকে ‘বিশ্ব মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে অসংখ্য উপায় ও উপকরণের শরণাপন্ন হচ্ছেন গবেষকরা। কিন্তু এ থেকে পরিত্রাণের তেমন কোনও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।
এই সংকটাপন্ন সময়ে তরুণ মার্কিন গবেষক ড. ক্রেগ কন্সিডাইন করোনা প্রতিরোধে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির একজন গবেষক হিসেবে কর্মরত। খবর দ্য নিউজ উইকের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমিউনোলজিস্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অ্যান্থনি ফসি এবং মেডিক্যাল রিপোর্টার ডাক্তার সঞ্জয় গুপ্তের মতো বিজ্ঞ চিকিৎসকরা করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টিনের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে সুস্থ লোকদের জন্য জনসমাগম এড়িয়ে একাকী জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই করোনা থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

অথচ আপনারা কি জানেন মহামারির সময়ে সর্বপ্রথম কে এই কোয়ারেন্টাইনের উদ্ভাবন করেছেন? আজ থেকে প্রায় ১৩শ’ বছর আগে ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মাদই (সা.) পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ‘কোয়ারেন্টাইন’-এর ধারণা দেন। তাঁর সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনও সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ছিল না। তবে তিনি এসব রোগব্যাধিতে করণীয় সম্পর্কে তার অনুসারীদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন এককথায় তা ছিল দুর্দান্ত! তাঁর মূল্যবান সেই পরামর্শ মানলেই করোনার মতো যেকোনও মহামারী থেকে যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করা যায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি (মহানবী) বলেছেন, “যখন তুমি কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনতে পাও তখন সেখানে প্রবেশ কোরো না। পক্ষান্তরে প্লেগ যদি তোমার অবস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে ওই জায়গা ত্যাগ কোরো না।” তিনি আরও বলেছেন, “সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ মানুষের থেকে দূরে থাকবে।”

এভাবে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিস্থিতিতে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর অনুসারীদের বিশেষ করে রোগব্যাধিতে আক্রান্ত লোকদের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করতেন। এ ব্যাপারে তাঁর অমূল্য কিছু কথামালা হল, ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ’, ‘ঘুম থেকে জেগেই দুই হাত ধৌত করো। কেননা ঘুমের মধ্যে তোমার হাত কোথায় স্পর্শ করেছে তুমি জান না’, ‘খাওয়ার আগে ও পরে ধৌতকরণের মধ্যেও বরকত রয়েছে’ ইত্যাদি।

মোটকথা, তাঁর অনুসারীরা যেকোনও পরিস্থিতির সম্মুখীন হোক তা থেকে পরিত্রাণের ব্যাপারেই তিনি তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। ধর্মীয় ক্ষেত্রে তিনি যেমন ব্যাপক অবদান রেখে অমর হয়ে আছেন, ঠিক তেমনই মানুষের জীবনযাপন বিষয়ক মহামূল্যবান যে পরামর্শ তিনি দিয়ে গেছেন তা আজও অনুকরণীয়।

 

   Page 1 of 4
     মতামত
বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ‘বঙ্গমাতা’
.............................................................................................
দেশে করোনার ২য় পর্যায়ের ধাক্কা আসতে পারে : ডা. বেনজির
.............................................................................................
মানুষের বিবেকবোধ কোথায়?
.............................................................................................
মার্কিন বিশেষজ্ঞের বার্তা, ১৯১৮ সালের ফ্লু`র মতোই মারণরূপ নিতে পারে করোনা
.............................................................................................
কোরবানির গরু অনলাইনে কিনবেন বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
এক মাসে চার বলিষ্ঠ নেতা হারাল আ.লীগ
.............................................................................................
টেস্ট কমায় বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
.............................................................................................
পুষ্টি সঠিকভাবে না পেলে ওষুধ আর হাসপাতাল দিয়ে কাজ হবে না
.............................................................................................
করোনা ভাইরাস: সরকারী ত্রাণ, প্রণোদনা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন
.............................................................................................
প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে করোনাভাইরাস: গবেষণা
.............................................................................................
করোনা সন্দেহ হলে কী করবেন, কোথায় যাবেন?
.............................................................................................
গর্ভবতী মায়েরা প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হবেন না
.............................................................................................
‘১৩ ঘণ্টায় ১০ মিনিট’ অলৌকিকভাবে বাঁচার বর্ণনা দিলেন সুমন
.............................................................................................
করোনার আরো তিনটি নতুন উপসর্গের সন্ধান পেয়েছে সিডিসি
.............................................................................................
নিজে সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন হতে বলুন : হানিফ সংকেত
.............................................................................................
মহামারী রোধে মহানবী (সা.) এর নির্দেশনা অত্যন্ত কার্যকর: মার্কিন গবেষক
.............................................................................................
করোনা প্রতিরোধে বিনামূল্যে মাস্ক দিতে হাইকোর্টে ব্যারিস্টার মওদুদের পরামর্শ
.............................................................................................
করোনা নিয়ে মোদির পরামর্শ
.............................................................................................
বিদেশিদের ঘরে থাকার পরামর্শ আইইডিসিআরের
.............................................................................................
ঢাকা প্রেসক্লাব দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২০-২১ : সভাপতি- মোঃ মাসুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক- মোঃ মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু
.............................................................................................
আগামী সপ্তাহ থেকে অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন শুরু : তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
সাংবাদিক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আর নেই
.............................................................................................
ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি লাবলু আর নেই
.............................................................................................
দুদককে ক্ষমা চাইতে হবে, সাংবাদিকদের বিক্ষোভ
.............................................................................................
নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড নিয়ে নোয়াবের বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে বিএফইউজে-ডিইউজে
.............................................................................................
ডিআরইউ`র দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
৬৫ বারের মতো পেছালো সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
.............................................................................................
বাসস`র সাবেক বিশেষ সংবাদদাতা মুজিবুল হকের ইন্তেকাল
.............................................................................................
নবম ওয়েজ বোর্ড কার্যকর ও গণমাধ্যম কর্মী আইন পাসের দাবি সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের
.............................................................................................
মাহফুজ উল্লাহর দ্বিতীয় জানাজা হবে জাতীয় প্রেসক্লাবে
.............................................................................................
পিআইবির নতুন চেয়ারম্যান আবেদ খান
.............................................................................................
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধন চেয়ে রাস্তায় সম্পাদকরা
.............................................................................................
গোলাম সারওয়ারের মরদেহ দেশে
.............................................................................................
গোলাম সারওয়ারের মরদেহ আসছে আজ, বৃহস্পতিবার দাফন
.............................................................................................
বদি মাদকের গডফাদার, প্রমাণ কী?
.............................................................................................
কারা তুলে নিয়েছিলেন জানেন না উৎপল
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন আজ
.............................................................................................
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
.............................................................................................
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের আন্দোলনে নামার হুমকি
.............................................................................................
এভ্রিল বাদ, ‘সেরা সুন্দরী’র মুকুট জেসিয়ার
.............................................................................................
ভারতে গরু মেরে সাম্প্রদায়িক অশান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র ফাঁস
.............................................................................................
কাঁদলেন এভ্রিল
.............................................................................................
ঢাকায় ভারতের অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবিতে ২০ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী অনশন কর্মসূচি
.............................................................................................
বাসস`র সাবেক সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল ইসলামের ইন্তেকাল
.............................................................................................
নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবিতে ৩০ জুলাই থেকে কঠোর আন্দোলন
.............................................................................................
তাড়াশ রিপোর্টার্স ইউনিটির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
সাংবাদিক মেহেদী হাসান পলাশের মাতার ইন্তেকাল, ডিআরইউ`র শোক
.............................................................................................
রমজানের আগেই নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার দাবি
.............................................................................................
চলে গেলেন সমকাল পত্রিকার সার্কুলেশন প্রধান অমিত রাইহান
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD