| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * তুরস্কে বিমান বিধ্বস্ত   * ঢাকা কলেজ ছাড়লেন আবরারের ছোট ভাই   * চট্টগ্রামে কভার্ড ভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২   * সুন্দরবনে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ বনদস্যু নিহত   * ১০ দিনের রিমান্ডে সম্রাট   * হাগিবিসের তাণ্ডবে মৃত বেড়ে ৬৬   * সম্রাটকে আদালতে নেওয়া হয়েছে   * চাঞ্চল্যকর তুহিন হত্যায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা   * মানবতাবিরোধী অপরাধে গাইবান্ধার পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড   * ইসলামপুরে ৫ কোটি টাকার অবৈধ বন্ডেড কাপড় জব্দ  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
জান্নাতে মুমিনদের জন্য জুমআর দিন যেমন হবে

ইসলাম ডেস্ক : রহমত বরকত মাগফিরাতে ভরপুর হচ্ছে জুমআর দিন। মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক বড় মর্যাদার দিন। অনেক বুজুর্গানে দ্বীনের জুমআর দিনকে নফল হজের চেয়ে মর্যাদার দিন হিসেবে মনে করতেন।

জুমআর দিন মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার কারণ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সূর্য উঠে এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমআর দিনটিই হলো সর্বোত্তম দিন। কারণ-
- হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ইয়াহুদি তাঁকে বলল, ‘হে আমিরুল মুমিনিন ! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, তা যদি আমাদের ইয়াহুদি জাতির উপর অবতীর্ণ হতো, তবে অবশ্যই আমরা সেই দিনকে ঈদ হিসাবে পালন করতাম, তিনি বললেন, ‘কোন আয়াত’? সে বলল, ‘আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।’ (সূরা মায়েদা : আয়াত ৩) হজরত ওমর বললেন, ‘এটি যে দিনে এবং যে স্থানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমরা জানি। তিনি সেদিন আরাফায় দাঁড়িয়েছিলেন আর সেটা ছিল জুমুআ’র দিন।’ (বুখারি)

- এই দিনেই আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল; এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল (আবু দাউদ) এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল (মুসলিম) এই দিনে তাঁকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছিল, এই দিনেই তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছিল এবং এই দিনেই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছিল (আবু দাউদ)

জুমআর দিনের করণীয় সম্পর্কে কুরআনের ঘোষণা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।’ (সূরা জুমআ : আয়াত ৯)

জুমআর দিনের ফজিলত
- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুমিনের জন্য জুমআর দিন হল সাপ্তাহিক ঈদের দিন। তিনি আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহ পাকের কাছে জুমআর দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের মত শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটি আল্লাহর কাছে অতি মর্যাদা সম্পন্ন।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)
- হে মুসলমানগণ! জুমআর দিনকে আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের জন্য (সাপ্তাহিক) ঈদের দিন হিসাবে নির্ধারণ করেছেন (جَعَلَهُ اللهُ عِيْدًا)। তোমরা এদিন মেসওয়াক কর, গোসল কর ও সুগন্ধি লাগাও।’ (মুয়াত্তা, ইবনু মাজাহ, মিশকাত)

- জুমআর রাতে বা দিনে যে ব্যক্তি ঈমান নিয়ে মারা যায়; আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি দেন।’ (তিরমিজি)

জান্নাতে জুমআর দিন
- জান্নাতে প্রতি জুমআর দিনে জান্নাতিদের হাট বসবে। জান্নাতি লোকেরা সেখানে একত্রিত হবেন। সেখানে এমন মনমুগ্ধকর বাসাত বইবে, যে বাতাসে জান্নাতিদের সৌন্দর্য অনেক গুণ বেড়ে যাবে এবং তাদের স্ত্রীরা তা দেখে অভিভূত হয়ে পড়বে। পাশাপাশি তাদের স্ত্রীদেরও অনুরূপ সৌন্দর্য বেড়ে যাবে।’ (মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালে জুমআর দিনের মর্যাদা ও ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। জুমআর দিনের করণীয় যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জান্নাতে মুমিনদের জন্য জুমআর দিন যেমন হবে
                                  

ইসলাম ডেস্ক : রহমত বরকত মাগফিরাতে ভরপুর হচ্ছে জুমআর দিন। মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক বড় মর্যাদার দিন। অনেক বুজুর্গানে দ্বীনের জুমআর দিনকে নফল হজের চেয়ে মর্যাদার দিন হিসেবে মনে করতেন।

জুমআর দিন মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার কারণ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সূর্য উঠে এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমআর দিনটিই হলো সর্বোত্তম দিন। কারণ-
- হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ইয়াহুদি তাঁকে বলল, ‘হে আমিরুল মুমিনিন ! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, তা যদি আমাদের ইয়াহুদি জাতির উপর অবতীর্ণ হতো, তবে অবশ্যই আমরা সেই দিনকে ঈদ হিসাবে পালন করতাম, তিনি বললেন, ‘কোন আয়াত’? সে বলল, ‘আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।’ (সূরা মায়েদা : আয়াত ৩) হজরত ওমর বললেন, ‘এটি যে দিনে এবং যে স্থানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমরা জানি। তিনি সেদিন আরাফায় দাঁড়িয়েছিলেন আর সেটা ছিল জুমুআ’র দিন।’ (বুখারি)

- এই দিনেই আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল; এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল (আবু দাউদ) এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল (মুসলিম) এই দিনে তাঁকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছিল, এই দিনেই তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছিল এবং এই দিনেই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছিল (আবু দাউদ)

জুমআর দিনের করণীয় সম্পর্কে কুরআনের ঘোষণা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।’ (সূরা জুমআ : আয়াত ৯)

জুমআর দিনের ফজিলত
- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুমিনের জন্য জুমআর দিন হল সাপ্তাহিক ঈদের দিন। তিনি আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহ পাকের কাছে জুমআর দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের মত শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটি আল্লাহর কাছে অতি মর্যাদা সম্পন্ন।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)
- হে মুসলমানগণ! জুমআর দিনকে আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের জন্য (সাপ্তাহিক) ঈদের দিন হিসাবে নির্ধারণ করেছেন (جَعَلَهُ اللهُ عِيْدًا)। তোমরা এদিন মেসওয়াক কর, গোসল কর ও সুগন্ধি লাগাও।’ (মুয়াত্তা, ইবনু মাজাহ, মিশকাত)

- জুমআর রাতে বা দিনে যে ব্যক্তি ঈমান নিয়ে মারা যায়; আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি দেন।’ (তিরমিজি)

জান্নাতে জুমআর দিন
- জান্নাতে প্রতি জুমআর দিনে জান্নাতিদের হাট বসবে। জান্নাতি লোকেরা সেখানে একত্রিত হবেন। সেখানে এমন মনমুগ্ধকর বাসাত বইবে, যে বাতাসে জান্নাতিদের সৌন্দর্য অনেক গুণ বেড়ে যাবে এবং তাদের স্ত্রীরা তা দেখে অভিভূত হয়ে পড়বে। পাশাপাশি তাদের স্ত্রীদেরও অনুরূপ সৌন্দর্য বেড়ে যাবে।’ (মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালে জুমআর দিনের মর্যাদা ও ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। জুমআর দিনের করণীয় যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নরওয়েতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন ইসলাম গ্রহণ করছেন!
                                  

অনলাইন ডেস্ক : উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডেনিভিয়ান দেশ নরওয়ে। দেশটিতে যখন ‘স্টপ ইসলামাইজেশন’-এর নামে ইসলাম ও মুসলমানদের নিষিদ্ধের জোর দাবিতে আন্দোলন করছে একটি ইসলাম বিদ্বেষী দল। ঠিক তখনই ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য এসেছে অনেক বড় সুখবর। নরওয়েতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন ভিন্নধর্মী লোক মুসলমান হচ্ছে।

ইউরোপের এ দেশটিতে ইসলাম গ্রহণের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় দৈনিক ভারডেনস গ্যাঙ্গে-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নরওয়ের সুপ্রাচীন ও সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অসলো বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল স্টাডিজ অ্যান্ড অরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের একজন গবেষকের বরাতে ভারডেনস গ্যাঙ্গে-এর প্রতিবেদন বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় তিন হাজার নরওয়েজিয় নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করছে। যা ১৯৯০ সালের সময় থেকে ৬ গুণেরও বেশি।

প্রতিবেদনের হিসাবে গড়ে প্রতিদিন ইসলাম গ্রহণকারী মুসলিমের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৮ জনেরও বেশি। ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগে নরওয়ের নারীরা মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করতে বেশি আগ্রহী ছিল।

তবে মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করার এ প্রবণতা আগের চেয়ে এখন কমে গেলেও নারীদের মধ্যে বেড়ে গেছে ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ অধ্যয়ন ও গবেষণা। যার ফলে আগের তুলনায় ইসলামের দিকে ঝুঁকছে বেশির ভাগ নারী ও পুরুষ।

অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় নরওয়ের ইসলাম গ্রহণকারী ২ নারীর বক্তব্যে ইসলাম গ্রহণের বিষয়গুলো সুস্পষ্ট। তাদের মতে-
মনিকা সালমুক নরওয়েজিয় ইসলাম গ্রহণকারী নারী মনিকা সালমুক। ৪ বছর আগে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে গবেষণা ও অধ্যয়ন শুরু করে সে। বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে অধ্যয়নের পর সে নিজের জন্য ইসলামকে বেছে নেয়।

সোলভা নাবিলা স্যাক্সেলিন
৪২ বছর বয়সী নরওয়েজিয় স্বেচ্ছাসেবী নারী সোলভা নাবিলা স্যাক্সেলিন। নরওয়েতে আশ্রয় নেয়া মুসলিম শরণার্থীদের সাহায্যে তিনি কাজ করেন। মুসলিম শরণার্থীদের সহযোগিতা করতে তাদের সংস্পর্শে গিয়ে ইসলাম গ্রহণের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন সোলভা নাবিলা স্যাক্সেলিন।

নরওয়েতে ইসলাম
১৯৫০ সালের দিকে নরওয়েতে মুসলমানের অবস্থান স্পষ্ট ছিল না। ১৯৬০ সালের দিকে দৃশ্যমান হতে থাকে মুসলিমদের অবস্থান। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ১৯৭৪ সালে প্রথম মসজিদ গড়ে ওঠে।

১৯৬০ সালের পরবর্তী সময়ে নরওয়েতে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে বর্তমানে নরওয়েতে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। গত ২০১১ সালের তথ্য মতে নরওয়েতে মোট জনসংখ্যার ২.৩ শতাংশ মুসলিম।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের জুন মাসে ‘স্টপ ইসলামাইজেশন’ গ্রুপের এক সভায় ইসলাম, কুরআন ও হিজাবের ব্যাপারে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুলিশি প্রহরায় এক জনসমাবেশে প্রকাশ্যে পবিত্র কুরআনুল কারিম ছুঁড়ে ফেলেন অ্যানা ব্রাটেন নামে এক নারী নেত্রী।

সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কুরআনের কপিটি সংরক্ষণে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে অ্যানা ব্রাটেন পবিত্র কুরআনের কপিটি প্রতিবাদকারী মুসলিমের দিকে ছুড়ে ফেল দেন।

এ ঘটনার ৪ মাসের ব্যবধানে অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল স্টাডিজ অ্যান্ড অরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের গবেষণার ফলাফল ও ভারডেনস গ্যাঙ্গে-এর প্রতিবেদনটি ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য অনেক বড় সুসংবাদ।

সৌদিতে ১০৩ দেশের কুরআন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় বাংলাদেশের শিহাব
                                  

বাংলাদেশের হাফেজ শিহাব উল্লাহ সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার তৃতীয় দলে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। খবর সংবাদ সংস্থা ইউএনবির।

কাবা শরিফ মসজিদের নতুন ভবনে এই ৪১তম কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটিতে আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়া সৌদি আরবের ইসলামি বিষয়কমন্ত্রী শেখ ড. আব্দুললতিফ বিন আব্দুলআজিজ আল-শেখ এবং হারাম শরিফের জ্যেষ্ঠ ইমাম আব্দুল রহমান আল-সুদাইস উপস্থিত ছিলেন।

এবার ১০৩টি দেশের ১৪৬ জন কুরআনের হাফেজ (যারা সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেন, তাদেরকে হাফেজ বলা হয়) এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন বিভাগে ১২ জন প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হয়।

বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া প্রতিযোগিতার শুরুতেই কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন।

হাফেজ শিহাবকে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল এবং মক্কার গভর্নর খালিদ আল-ফয়সালের পক্ষ থেকে একটি সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে। কুমিল্লার সন্তান শিহাব যাত্রাবাড়ীর তাহফিজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদরাসার শিক্ষার্থী।

সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানটিতে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। আব্দুল্লাহ জানান, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।

মুহররম আল্লাহর মাস
                                  

ধর্ম ডেস্ক : হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। কুরআনে সম্মানিত ৪ মাসের একটি। হাদিসে এ মাসকে আল্লাহর মাস হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। মুহররম মাসব্যাপী নফল রোজা ও তাওবা-ইসতেগফারে অতিবাহিত করার জোর উপদেশ দেয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (মুসলিম)

প্রতিটি দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর সবই মহান আল্লাহর। কিন্তু এ হাদিসে মুহররমকে আল্লাহ মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর কারণই বা কী?

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়-
দুনিয়ার সব মসজিদই ‘বায়তুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর। আবার কাবা শরিফও ‘বায়তুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর। কিন্তু কাবা শরিফের মর্যাদার তুলনায় দুনিয়ার সব মসজিদের মর্যাদা সমান নয়।

ঠিক এভাবেই সব মাস আল্লাহর হলেও মুহররম মাসের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণেই এ মাসকে আল্লাহর মাস হিসেবে ঘোষণা করে আলাদা মর্যাদা ও গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এ মাসের বিশেষ ফজিলতের সঙ্গে তাওবা বা ক্ষমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস বর্ণিত রয়েছে। আর তাহলো-

এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের পর আপনি আমাকে কোন মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দেন? উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
‘তুমি যদি রমজানের পর আরও কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মুহাররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেছেন। এদিনটিতে ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমদ)

ইসলামি স্কলারদের মতে, হাদিসে নির্দেশিত মুহররমের এ দিনটি হলো ১০ মুহররম বা আশুরার দিন। এ দিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অনেকে তাওবা কবুল করবেন।

তবে শুধু মুহররমের দিনই তাওবা করতে হবে এমন নয়, বরং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম আমল হলো- প্রতিদিন একশত বার তাওবা করার আমল। তাই বছর মাস সপ্তাহের বিশেষ দিন বিবেচনা না করে মুমিন ব্যক্তি প্রতিদিনই আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা-ইসতেগফার করে থাকে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, মহররমের নফল রোজা রাখার পাশাপাশি বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা। কুরআন-সুন্নায় এসেছে, এমন কিছু তাওবা-ইসতেগফার তুলে ধরা হলো, যেগুলোর অর্থ ও ভাব বুঝে মহান আল্লাহ কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুমিন। আর তাহলো-

رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ
উচ্চারণ : রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)
অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

> সব সময় ইসতেগফার পড়া-
أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

আর সকালে এবং সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া-
أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

মুসলিম উম্মাহর উচিত মুহররমমাস জুড়ে আল্লাহ ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজসহ তাওবা-ইসতেগফারে অতিবাহিত করা। আশা করা যায়, আল্লাহর মাসের ইবাদত ও তাওবা-ইসতেগফার ধন্য হবে মুমিনের জীবন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মুহররম মাসের হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। তাওবা-ইসতেগফার, রোজা ও বেশি বেশি নফল নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের আকাশে শনিবার সন্ধ্যায় পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে নতুন বছর ১৪৪১ হিজরি। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

তিনি সভায় জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪১ সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আশুরা পালিত হবে।

হিজরি সনের প্রথম মাস হচ্ছে মহররম। আশুরার দিন দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। শিয়ারা বিশেষভাবে আশুরা পালন করে।

কারবালা প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এর শাহাদাতবরণের শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত পালিত হয় আশুরা। তবে ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা অসংখ্য তাৎপর্যময় ঘটনায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।

এই দুনিয়া সৃষ্টি, হজরত আইয়ুব (আ.) এর কঠিন পীড়া থেকে মুক্তি, হজরত ঈসা (আ.) এর আসমানে জীবিত অবস্থায় উঠে যাওয়াসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মহররমের ১০ তারিখ অবিস্মরণীয় ও মহিমান্বিত।

এই পৃথিবীর মহাপ্রলয় বা কিয়ামত মহররমের ১০ তারিখে ঘটবে বলে বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. খলিলুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. জহির আহমদ, ওয়াকফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফায়জুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম, সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আলমগীর রহমান, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শাহ মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবদুর রহমান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি নেয়ামত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

যে বিশেষ ২ গুণে নারীদের জান্নাত সুনিশ্চিত
                                  

ধর্ম ডেস্ক : কুরআনুল কারিমে পয়গাম্বর হজরত নূহ ও লুত আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের জাহান্নামের অধিবাসী বলা হয়েছে। আবার ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আছিয়াকে মুমিন নারীদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ জান্নাতি বলা হয়েছে।

বিবাহিত ঈমানদার নারীরা বিশেষ ২টি গুণের কারণে লাভ করবে চিরস্থায়ী জান্নাত। তাদের জন্য জান্নাতের মধ্যে নির্মাণ করা হবে আলাদা ঘর। যেখান থেকে তারা আল্লাহর দিদার লাভ করবে। নারীদের সে গুণ দুটি হলো-

>> স্বামীর দোষা প্রচার না করা তার প্রশংসা ও সহযোগিতা করা। অর্থাৎ অন্য মানুষের কাছে স্বামী দোষ বা কুৎসা বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা।
>> স্বামীকে অভিশাপ না দিয়ে তাদের জন্য কল্যাণে দোয়া করা। অর্থাৎ স্বামীর জন্য বদদোয়া বা তাদের কথা ও কাজের অকল্যাণ কামনা না করা।

আর স্ত্রীরা কারণে-অকারণে স্বামীদের সঙ্গে এ দুটি কাজই বেশি করে থাকে। সামান্য কারণেই স্বামীকে দোষারোপ করে কিংবা কথায় কথায় অভিশাপ দিয়ে থাকে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

কেননা এ দুইটি কারণই একজন ঈমানদার নারীকে নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে পয়গাম্বর নূহ ও লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের কথা উল্লেখ করে বলেন-
‘আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য নূহ ও লূতের স্ত্রীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন; তারা আমার দুই নেককার বান্দার স্ত্রী ছিল। কিন্তু তারা তাদের স্বামী সঙ্গে খেয়ানত করেছিল। তারা (নূহ ও লূত আলাইহিস সালাম) আল্লাহর মোকাবেলায় তাদের (স্ত্রীদের) কোনো কাজেই আসতে পারেনি। দুই জনকে বলে দেয়া হয়েছে যাও, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সঙ্গে তোমরাও প্রবেশ কর।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১০)

এ আয়াতে খেয়ানত বলতে নবীদের স্ত্রীরা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল এটি বুঝানো হয়নি বরং তারা নবিদের সঙ্গে ঈমানের পথে হাটেনি বরং তারা নবিদের বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের সহযোগিতা করেছিল।

নবিদের কাছে যারা ঈমান নিতে আসতো তাদের তথ্য অন্যের কাছে দিয়ে দিতো। নবিদের ব্যাপারে লোকদের বলে বেড়াতো- এ লোক একজন পাগল। তারা তাদের স্বামী নামে চোগলখুরী করতো। তাদের নামে কুৎসা রটনা বা বদনাম বলে বেড়াতো। যার ফলে নবীদের সঙ্গে সংসার করা সত্বেও তারা জাহান্নামী।

পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের (নারীদের) উদ্দেশ্যে ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আসিয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। যিনি ফেরাউন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন ঠিকই ফেরাউনের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ বা বদদোয়া করেনি। আবার তার কোনো দোষও বলে বেড়াননি। আল্লাহ বলেন-
‘আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর (আসিয়া) দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। যখন সে দোয়া করলো- হে আমার রব! আমার জন্য তোমার কাছে জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দাও। আমাকে ফেরাউন ও তার খারাপ কাজ-কর্ম থেকে রক্ষা করো এবং আমাকে অত্যাচারি সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১১)

এ আয়াতের আলোকে বুঝা যায় যে, ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া স্বামী অবিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তার ব্যাপারে বদদোয়া করেনি এবং তার কোনো দোষও বর্ণনা করেনি বরং তার অত্যাচার ও দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার হওয়ার আবেদন করেছেন। আল্লাহ তাআলা স্বামীদের অধিকারের ব্যাপারে বিশ্বাসী নারীদের জন্য এ আয়াত তুলে ধরেছেন।

এ আয়াতের তাফসিরে এসেছে-
ফেরাউনের স্ত্রীর নাম ছিল আসিয়া। তিনি হজরত মুসা আলাইহিস সালামের আহ্বানে ঈমান এনেছিলেন। ফেরাউন তার হাত ও পায়ে পেরেক দিয়ে আটকিয়ে মাথার ওপ গরম তেল ঢেলে দিয়েছিলেন। যার ফলে তার মাথার চুল ও চামড়াগুলো ওঠে গিয়েছিল। সে সময় ফেরেশতারা তার সামনে জান্নাতের দৃশ্য তুলে ধরেছিলেন। ফলে ফেরাউনের শাস্তি তার কাছে সহজ হয়েগিয়েছিল। আর তখন তিনি আল্লাহর কাছে উল্লেখিত দোয়া করেছিলেন।

সুতরাং প্রত্যেক ঈমানদার নারীর উচিত যে, স্বামীর ব্যাপারে চোগলখুরী না করা। স্বামীদের দোষ বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা। স্বামীর জন্য বদদোয়া বা অভিশাপ না দেয়া। বরং স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞপনের পাশাপাশি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। ফলে তারা পাবে সুনিশ্চিত জান্নাত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীকে কুরআনে এ দুই আয়াত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে স্বামীদের আনুগত্য করার তাওফিক দান করুন। সব সময় স্বামীদের পাশে থেকে তাদের কল্যণমূলক কাজে সহযোগিতা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কোরবানির গোশতের সামাজিক বণ্টন কি জায়েজ?
                                  

অনলাইন সংস্করণ : কোরবানির গোশত বণ্টনের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,‌ ‌তোমরা খাও এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্র লোকদের খাওয়াও` (হজ্জ ২৮)।

আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‌তোমরা নিজেরা খাও, যারা চায় না তাদের খাওয়াও এবং যারা নিজেদের প্রয়োজন পেশ করে তাদের খাওয়াও` (হজ্জ ৩৬)।

ইবনু মাসঊদ (রা.) কোরবানির গোশত তিনভাগ করে একভাগ নিজেরা খেতেন, একভাগ যাকে চাইতেন তাকে খাওয়াতেন এবং একভাগ ফকির-মিসকিনকে দিতেন।

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) হুজুর (সা.)-এর কোরবানির গোশত বণ্টন সম্পর্কে বলেন, তিনি একভাগ নিজের পরিবারকে খাওয়াতেন, একভাগ গরিব প্রতিবেশীদের দিতেন এবং একভাগ ফকিরদের দিতেন।

অতএব কোরবানির গোশত তিনভাগ করা উত্তম ও মুস্তাহাব মাত্র। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। প্রয়োজনে বণ্টনে কম-বেশি করাতেও কোনো দোষ নেই (আল-মুগনী ১১/১০৮; মির`আত ২/৩৬৯; ঐ, ৫/১২০ পৃঃ)।

উল্লেখ্য, কোরবানির গোশত যতদিন খুশি রেখে খাওয়া যায় (তিরমিজী হা/১৫১০, মিশকাত হা/২৭৪৪)।

বর্তমানে বিভিন্ন মহল্লায় প্রচলন রয়েছে, কোরবানির গোশতের এক-তৃতীয়াংশ একস্থানে জমা করে মহল্লায় যারা কোরবানি করতে পারেননি তাদের তালিকা করে সুশৃংখলভাবে তাদের মধ্যে বিতরণ করা ও প্রয়োজনে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। কাজটি দেখতে ভালো হলেও এটি জায়েজ নয়। কেননা এই প্রচলনের ফলে কারও দিতে মনে না চাইলেও তাকে সমাজের খাতিরে দিতে হয়।

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলমানে মাল তার সন্তুষ্টি ছাড়া গ্রহণ করা হালাল নয়।

(মুসনাদে আহমদ : ১৫/২৯৩, রদ্দুল মুহতার : ৬/৪২৭, আলমগিরী/হিন্দিয়া : ৫/৩০০, হেদায়াহ : ৪/৪৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪)

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন যে আমল করবেন
                                  

ধর্ম ডেস্ক : আরবি (হিজরি) বছরের শেষ মাস জিলহজ। কুরআনে বর্ণিত হারাম মাসসমূহের একটি। এ মাসে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র হজ। এ মাসের ফজিলত বর্ণনায় নাজিল হয়েছে কুরআনের আয়াত। এ মাসের ইবাদত-বন্দেগি করতে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন এমন ইবাদত রয়েছে যা পালন করা মোস্তাহাব। এ দিনগুলোতে নামাজ, রোজা, দান-সাদকাসহ বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগি করার জন্য গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আর তাহলো-

>> নামাজ
জিহজের প্রথম ১০ দিন ফরজ নামাজগুলো অন্যান্য সময়ের মতোই যথা সময়ে আদায় করা। পাশাপাশি বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা। এমনিতেই বেশি বেশি নফল নামাজ বান্দাকে আল্লাহ অতি কাছে নিয়ে যায়। তাই জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনও বেশি বেশি নামাজ পড়া। হাদিসে এসেছে-
হজরত সাওবান রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘তুমি বেশি বেশি সেজদা কর। কারণ তুমি এমন কোনো সেজদা কর না, যার কারণে আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন না এবং তোমার গোনাহ ক্ষমা করেন না। (মুসলিম)

>> রোজা
আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে রোজা অন্যতম আমল। এ দিনগুলোতে রোজা পালনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জিলহজ মাসের আরাফার দিন রোজা পালন সম্পর্কে হাদিসের ঘোষণা এমন-
হজরত হুনাইদা বিন খালেদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন, তার স্ত্রী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিলহজ মাসের নয় তারিখ, আশুরার দিন ও প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোজা পালন করতেন।’ (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ, আবু দাউদ)

>> তাসবিহ
জিলহজ মাসের এ ফজিলতপূর্ণ প্রথম দশকে তাকবির (اَللهُ اَكْبَر), তাহলিল (لَا اِلهَ اِلَّا الله) ও তাহমিদ (اَلْحَمْدُ لِلَّه) বেশি বেশি পড়া। হাদিসে এসেছে-
হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তোমরা বেশি বেশি তাকবির, তাহলিল, ও তাহমিদ পড়।

ইমাম বুখারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ‘হজরত ইবনে ওমর, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু জিলহজের এ ১০ দিন তাকবির বলতে বলতে বাজারের জন্য বের হতেন। মানুষরাও তাদের দেখে দেখে তাকবির বলতো।

ইমাম বুখারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন, ‘ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মিনায় তার তাবুতে তাকবির বলতেন, লোকেরা তা শুনতো অতঃপর মানুষরাও তার অনুসরণ করে তাকবির বলতো। এক সময় পুরো মিনা তাকবিরের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠতো।

সুতরং সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণে মুমিন মুসলমানের উচিত, জিলহজ মাসের প্রথম দিনগুলোতে বেশি বেশি নামাজ, রোজা, দান-সাদকা, তাসবিহ পাঠসহ যাবতীয় নফল ইবাদত ও ভালো কাজে অতিবাহিত করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন রোজা পালনসহ যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে কাজে ইহরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ভেঙে যায়
                                  

ধর্ম ডেস্ক : হজ ও ওমরাহ পালনকারীর ইহরাম যৌনাচার ও যৌন মিলনে ভেঙে যাবে। বাতিল হয়ে যাবে ইহরাম। পুনরায় তাকে ইহরাম বাঁধতে হবে। এ ছাড়াও ইহরাম অবস্থায় অনেকগুলো কাজ আছে যেগুলোর জন্য ইহরাম ভাঙবে না কিন্তু ফিদইয়া দেয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে।

আবার কেউ যদি নিজের অজ্ঞতাবশত কিংবা ভুলে বা ঘুমের ঘোরে ইহরামের জন্য নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলে, তবে তার জন্য যেমন কোনো গোনাহ নেই আবার এর জন্য ফিদইয়াও দিতে হবে না।

ইহরাম অবস্থায় সেসব নিষিদ্ধ কাজগুলো হলো-
>> ইহরামের কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা। তবে দেহে সুগন্ধি ব্যবহারে দোষ নেই।
>> স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের জন্যই মাথার চুল এবং যে কোনো উপায়ে শরীরের যে কোনো স্থানের পশম ওঠানো।
>> হাত ও পায়ের নখ কাটা।
>> পশু-পাখী কিংবা যে কোনো প্রাণী শিকার করা। এমনকি শিকার ধরতে শিকারিকে ইশারা-ইঙ্গিতে সহযোগিতা করা। তবে ক্ষতিকর হিংস্র জীব-জন্ত বা প্রাণী মারার অনুমতি রয়েছে।
>> যাবতীয় যৌনচার, ও যৌন মিলন একেবারেই নিষিদ্ধ। কারণ যৌনাচারের কারণে ইহরাম ভেঙে যাবে। ফলে পুনরায় ইহরাম বাধতে হবে। এছাড়াও বিয়ের প্রস্তাব, বিয়ের আক্বদ বা যৌন আলোচনা করাও নিষেধ।
>> পুরুষের জন্য পাগড়ি, টুপি ও রুমাল ব্যবহার করা। তবে প্রচণ্ড গরম কিংবা বৃষ্টিতে ছাতা বা ছাতা সাদৃশ্য জিনিস ব্যবহার করায় দোষ নেই।
>> পুরুষের জন্য কোনো প্রকার সেলাই করা কাপড় পরা। হতে পারে তা জুব্বা, পাঞ্জাবি, শার্ট, গেঞ্জি ও মোজা ইত্যাদি সেলাই করা কাপড় পরা। তবে তালি বা পট্টি লাগানো ইহরামের কাপড় পরায় কোনো দোষ নেই।
>> নারীদের জন্য মুখ ঢাকা এবং হাত মোজা ব্যবহার করা। তবে নারীরা মুখ থেকে কাপড় আলাদা রাখতে হেলমেট ব্যবহার করে নিকাব পড়ায় কোনো দোষ নেই। কেননা পর পুরুষের সামনে মুখ ঢেকে রাখা ওয়াজিব।
>> ইহরাম অবস্থায় ঝগড়া-বিবাদ করা এবং ইসলামি শরিয়ত বিরোধী যে কোনো বাজে কথা বলা ও বাজে কাজ করা।

মনে রাখতে হবে
ইহরামের মূল উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়ার সব চাকচিক্য সাজ-সজ্জা থেকে নিজেকে বিরত রেখে একান্তভাবে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। আবার পুরুষের সেলাইবিহীন কাপড় পরার উদ্দেশ্য হলো সব জৌলুস ও প্রদর্শনী থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ ও নিবেদত প্রাণ হয়ে যাওয়া। যেখানে দুনিয়ার কোনো লোভ কিংবা মোহ থাকবে না।

সুতরাং হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে হেফাজত থাকা জরুরি। কারণ ইহরাম বাতিল ও ক্ষতিগ্রস্ত হলে হজের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধনে বাধাগ্রস্ত হবে হাজি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারীকে বিশুদ্ধ ইহরামে হজ ও ওমরাহ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে কমিটির সভা বুধবার
                                  

এশিয়া বাণী ডেস্ক : পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বুধবার (৩ জুলাই) সভা ডেকেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

আজ মঙ্গলবার ইসলামী ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। টেলিফোন নম্বর ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭; ফ্যাক্স নম্বর ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১।

শিশুর প্রতি ভালোবাসায় জান্নাত লাভ করা যায়
                                  

অনলাইন ডেস্ক : শিশুদের ভালোবাসলে জাহান্নাম হারাম হয়ে যায় আর জান্নাত আবশ্যক হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় গর্ভধারিনী কিংবা দুগ্ধদানকারী মায়ের অনেক ফরজ ইবাদতও শিথিল করে দিয়েছেন।

হাদিসে এসেছে- হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি একটি শিশু নিয়ে নবী কারিম (সা.) কাছে এসে শিশুটিকে চুমু দিতে লাগলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দৃশ্য দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, শিশুটির প্রতি কি তোমার দয়া জেগে উঠেছে? সে বলল, ‘হ্যাঁ’, হে আল্লাহর রাসুল! তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ তায়ালা তোমার প্রতি এর চেয়েও বেশি দয়া করেন। কেননা তিনি দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (বুখারি)

হজরত আয়েশা (রা.) এর কাছে এক নারী দুটি কন্যা শিশু নিয়ে আসলেন। তিনি তাদের ৩টি খেজুর দিলেন। ওই নারী দুই শিশু সন্তানকে ২টি খেজুর দিলেন। বাকি একটি সে নারী মুখে দিতে যাবেন, এমন সময় শিশুরা সেটিও খেতে চাইলে ওই নারী নিজে না খেয়ে খেজুরটি দুই টুকরো করে দুই শিশু সন্তানকে দিয়ে দিলেন।
শিশুদের প্রতি তাদের মায়ের ভালোবাসা দেখে হজরত আয়েশা (রা.) চমকে গেলেন। তিনি এ ঘটনাটি বিশ্বনবি (সা.) কে বর্ণনা করলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আয়েশা, আল্লাহ তাআলা ওই নারীকে এ ভালোবাসার বিনিময়ে জান্নাত দান করবেন অথবা এ ভালোবাসার বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।’ (মুসলিম)
আল্লাহ তাআলা শিশুদের অধিকারের প্রতি এত বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন যে, শিশু মায়ের গর্ভে আসার কারণে গর্ভবর্তী নারীর জন্য কষ্টকর সব কাজকে সহজ করে দেন।

জর্ডানে কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হাফেজ ত্বকী
                                  

অনলাইন ডেস্ক : জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হয়েছেন বাংলাদেশি হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী। বিশ্বের ৬২ দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে কাতারের প্রতিযোগী, তৃতীয় স্থান বাহরাইন, চতুর্থ পাকিস্তান ও পঞ্চম স্থান অর্জন করে সৌদি আরবের প্রতিযোগী।

উল্লেখ্য, হাফেজ সাইফুর রহমান ২০১৪ সালে এনটিভি আয়োজিত পিএইচপি কোরআনের আলো প্রতিভার সন্ধানে প্রতিযোগিতায় প্রায় ৩০ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তারপর ২০১৫ সালে জেদ্দায় আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান, ২০১৬ সালে বাহরাইনে তৃতীয় স্থান ও ২০১৭ সালে কুয়েত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

হাফেজ ক্বারী নেসার উদ্দিন আহমেদ আন নাসেরী পরিচালিত মারকাজুত তাফফিজ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার ছাত্র ত্বকী। তার বাবা মাওলানা বদিউল আলম, ধলপুর লিচুবাগান নাদিয়াতুল কুরআন হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং রামপুরার বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব।

এদিকে শুক্রবার রাত ১টার দিকে কাতার এয়ারলাইনসে একটি ফ্লাইটে ঢাকায় করেন বাংলাদেশের এই কৃতী হাফেজ। এ সময় তাকে সংবর্ধনা দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তার মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্ররা।

হজ যাদের ওপর ফরজ
                                  

ইসলাম ডেস্ক : হজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও সাম্যের সপ্রতিভ প্রতীক। এটি ইসলামের অন্যতম স্তম্ভও বটে। অন্য কোনো ইবাদতে যা একসঙ্গে পাওয়া না গেলেও হজে আর্থিক ও কায়িক শ্রমের সমন্বয় রয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ পবিত্র হজ পালনে সৌদি গমন করেন। সেখানে গিয়ে তারা আল্লাহপ্রেমের পাঠ চুকিয়ে রাসুলপ্রেমের ষোলকলা পূর্ণ করেন। মহা সৌভাগ্য ও পুণ্যের এই মিছিলে বাংলাদেশি হাজিরাও শামিল হন।


স্বাভাবিকভাবে ‘হজ’ অর্থ মহৎ কাজের ইচ্ছে করা। পারিভাষিকভাবে হজ বলে, হজের নিয়তসহ ইহরাম ধারণ করে নির্দিষ্ট দিনে আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ও কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। (ফাতাওয়া শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৪)

আর ‘ওমরাহ’ অর্থ পরিদর্শন করা। ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণ করা, এরপর তাওয়াফ ও সাঈ করে মাথা মুণ্ডন করে ইহরামমুক্ত হওয়াকে ওমরাহ বলে। (ফাতহুল বারি, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৫৯৭)

হজের সওয়াব ও ফজিলত
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর মকবুল হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’ (বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০৬)

হজ না আদায়ের অশুভ পরিণতি
রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে বলেছেন, ‘হজ ফরজ হওয়ার পর তা আদায় না করে মৃত্যুবরণ করা ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করার নামান্তর।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ১৬৭)

হজের সময় ও নির্ধারিত স্থান
হজের নির্দিষ্ট সময়—শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম ১০ দিন। বিশেষত ৮ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন। এ পাঁচ দিনই মূলত হজ পালন করা হয়। হজের নির্ধারিত স্থান—কাবা শরিফ, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফা। (আসান ফিকাহ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৫১)

হজের যত প্রকার
এক. ইফরাদ
শুধু হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই ইহরামেই হজের সব আমল সম্পন্ন করা।

দুই. তামাত্তু
শুধু ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওমরাহর কাজ সমাপ্ত করা। এরপর মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া। অতঃপর ওই সফরেই হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজের সব আমল সম্পাদন করা।

তিন. কিরান
একসঙ্গে ওমরাহ ও হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই (একই) ইহরামেই ওমরাহ ও হজ পালন করা। এ তিন প্রকারের মধ্যে উত্তম হলো ‘কিরান।’ কিন্তু ইহরাম দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞাবলি সঠিকভাবে মেনে চলতে না পারার আশঙ্কা থাকলে হজে তামাত্তুই উত্তম। (ফাতাওয়া শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫২৯)

হজ ফরজ কার ওপর
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মক্কায় গিয়ে হজকার্য সম্পন্ন করে ফিরে আসার সামর্থ্য রাখে, এমন প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে নারীদের জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকা শর্ত। (ফাতাওয়া শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৫)

মাহরাম: যাদের সঙ্গে কখনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায় না, তারাই মাহরাম। যেমন—পিতা, পুত্র, আপন ও সত্ভাই, দাদা-নানা, আপন চাচা ও মামা, ছেলে বা নাতি, জামাতা, শ্বশুর, দুধভাই, দুধ ছেলে প্রমুখ। তবে একা একা দুধভাইয়ের সঙ্গে এবং যুবতি শাশুড়ির জামাতার সঙ্গে যাওয়া নিষেধ। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৬৪)

হজ ফরজ হওয়ার শর্ত
হজ ফরজ হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে। এক. মুসলিম হওয়া। দুই. বিবেকবান হওয়া, পাগল না হওয়া। তিন. বালেগ হওয়া, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। চার. আজাদ বা স্বাধীন হওয়া—অর্থাৎ কারো গোলাম বা দাস না হওয়া। পাঁচ. দৈহিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়া।

হজ ফরজ হয়েছে কিনা জানবেন যেভাবে
হজ ও জাকাতের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। তাই কারো ওপর জাকাত ফরজ না হয়েও তার ওপর হজ ফরজ হতে পারে। হজ ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য হলো, জাকাতের সম্পর্ক নির্ধারিত নিসাবের সঙ্গে। হজের সম্পর্ক মক্কায় আসা-যাওয়ার খরচের সঙ্গে। সুতরাং স্থাবর সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রয় করে কেউ যদি হজ আদায় করতে সক্ষম হয় এবং হজ থেকে ফিরে এসে বাকি সম্পত্তি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, তাহলে তার ওপর হজ ফরজ। (ইমদাদুল আহকাম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৫২; আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৫১৬)

একইভাবে ব্যবসায়ীর দোকানে যে পরিমাণ পণ্য আছে, তার কিছু অংশ বিক্রয় করলে যদি হজ করা সম্ভব হয় এবং ফিরে এসে যদি বাকি পণ্য দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা যায়, তাহলে তার ওপরও হজ ফরজ। (ইমদাদুল আহকাম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৫৩)

নিজের হজ আগে, পরে অন্যের হজ
মনে রাখতে হবে যে আগে নিজের হজ আদায় করবে। পরে মাতা-পিতার চিন্তা করবে। সামর্থ্য থাকলে তাঁদের নিয়ে একসঙ্গে হজ করবে। অন্যথায় আগে নিজের ফরজ আদায় করবে। (রহিমিয়া, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২৮২)

অনেকে মনে করে সন্তানের বিয়ে আগে দিতে হয়। তারপর হজ আদায় করতে হয়। অথচ এ কথা ইসলামসমর্থিত নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের বিয়েও খুবই জরুরি। তাই বলে সন্তানের বিয়ের জন্য হজে বিলম্ব করা যাবে না। (রহিমিয়া, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২৭৬)

হজ ফরজ হওয়ার পর করণীয়
হজ যে বছর ফরজ হয়, ওই বছরই আদায় করে নেওয়া উচিত। অহেতুক কারণে বিলম্ব করা গুনাহ। একবার হজ ফরজ হলে তা আর কখনো মাফ হয় না। (আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৫২৮) মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজের ইচ্ছা করে, সে যেন তা দ্রুত আদায় করে নেয়। কেননা মানুষ কখনো অসুস্থ হয়ে পড়ে, কখনো সম্পদ খরচ হয়ে যায়, কখনো সমস্যার সম্মুখীন হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস, নং: ২০৭)

হজে যাওয়ার আগে মানুষের অধিকার
হজে যাওয়ার প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর করণীয় হলো, মানুষের অধিকারের প্রতি যত্নবান হওয়া। ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করা। ইবাদতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা শুধরে নেওয়া। তাওবা-ইস্তিগফার করা। এমন সফরসঙ্গী নির্বাচন করা, যিনি নেককার ও সহযোগিতাকারী। বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা। হজের মাসআলা-মাসায়েল শেখা। (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২২০)

নিয়ত হতে হবে বিশুদ্ধ
হজে যাওয়ার সময় নিয়ত বিশুদ্ধ করে নিতে হবে। মহান আল্লাহর হুকুম পালনার্থে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হজ করছি—এমন নিয়ত করতে হবে। লোকে হাজি বলবে, সম্মান দেখাবে, প্রসিদ্ধি অর্জন হবে, ব্যবসা ভালো জমবে, নির্বাচনে ভালো করা যাবে—এ ধরনের মনোভাব নিয়ে হজ করলে সাওয়াব তো হবেই না; বরং লৌকিকতার কারণে গুনাহ হবে। (মুসলিম, হাদিস নং: ১৯০৫)

যাবতীয় খরচ হালাল হতে হবে
হজের সার্বিক কাজে যেসব টাকা খরচ করা হবে, তা হালাল হতে হবে। হজের মধ্যে হারাম টাকা খরচ করাও হারাম। যে হজে হারাম টাকা খরচ করা হয়, সে হজ কবুল হয় না। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৫১৯)

কোরবানির ঈদ হতে পারে ১২ আগস্ট
                                  

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে আগামী ১ আগস্ট আরবি মাস জিলহজের নতুন চাঁদ দেখা যেতে পারে। সে অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে ১১ আগস্ট। সে অনুযায়ী পরদিন বাংলাদেশে ঈদ হতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসকে বলেন, এ বছর জিলহজ মাসের চাঁদ দেখায় কোনো সমস্যা হবে না। আরব দেশগুলো থেকে খালি চোখেই এ চাঁদ দেখা যাবে।
‘প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি আরব জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ঘোষণা দেবে। অন্য মুসলিম দেশগুলো এটা অনুমোদন দিয়ে হজ মৌসুম শুরু করবে।’

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশেই জিলহজ মাসের চাঁদ ১ আগস্ট দেখা যাবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে একই মত দিয়েছেন আরব ইউনিয়ন ফর স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সায়েন্সের (এইউএএস) সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান। তিনি জানান, আশা করা হচ্ছে, আগামী ১ আগস্ট জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাবে ও এর মাধ্যমে হজ মৌসুম শুরু হবে।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঈদ পালনের পরদিন বাংলাদেশে ঈদ পালন করতে দেখা যায়। তাই মধ্যপ্রাচ্যে ১১ আগস্ট ঈদ হলে পরদিন ১২ আগস্ট বাংলাদেশে ঈদ হওয়ার কথা।

পবিত্র লাইলাতুল কদর শনিবার
                                  
 

 

অনলাইন ডেস্ক : যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আগামীকাল শনিবার (১ জুন) দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর পালিত হবে।

এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে শবে কদরের রাত হাজার রাতের চেয়ে পুণ্যময়। মহান আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হাজার রাতের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র শবে কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনী। পবিত্র শবেকদরের রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আল্লাহ’র নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগী করবেন।

পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে পবিত্র আল কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ শনিবার দিবাগত রাতে মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। এ রাতে মুসলমানগণ নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাত করবেন।
পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে রোববার সরকারি ছুটি।
এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আজ শুক্রবার বাসস’কে বলেন, ‘১ জুন শনিবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।’
তিনি বলেন, এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর (বেলা দেড়টায়) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াজ পেশ করবেন মিরপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব ড. মুফতি আবদুল মুকিত আযহারী।

জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদেই তারাবীর নামাজের পর থেকে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন থাকবে।
পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিওসমূহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। এছাড়া সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হবে। বাসস

 

সারা দেশে আজকের ইফতার ও সেহেরির সময়সূচি
                                  

রমজান মাসের ইফতার খাওয়ার শেষ সময় ও সেহেরি গ্রহণের সময়সূচি তুলে ধরা হলো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সৌজন্যে।

প্রদত্ত প্রথম ছকে পুরো মাস এবং আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী শুধুমাত্র ঢাকা জেলার জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সাথে ঢাকা জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য আছে।

ঢাকার সময়ের সাথে কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য কতিপয় জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে, ঢাকার সময়ের সাথে কত মিনিট যোগ বা বিয়োগ করলে অন্য জেলার সেহরি ও ইফতারের সময় পাওয়া যাবে তা জানতে নিচের ছক দেখুন।


   Page 1 of 6
     ইসলাম
জান্নাতে মুমিনদের জন্য জুমআর দিন যেমন হবে
.............................................................................................
নরওয়েতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন ইসলাম গ্রহণ করছেন!
.............................................................................................
সৌদিতে ১০৩ দেশের কুরআন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় বাংলাদেশের শিহাব
.............................................................................................
মুহররম আল্লাহর মাস
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর
.............................................................................................
যে বিশেষ ২ গুণে নারীদের জান্নাত সুনিশ্চিত
.............................................................................................
কোরবানির গোশতের সামাজিক বণ্টন কি জায়েজ?
.............................................................................................
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন যে আমল করবেন
.............................................................................................
যে কাজে ইহরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ভেঙে যায়
.............................................................................................
জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে কমিটির সভা বুধবার
.............................................................................................
শিশুর প্রতি ভালোবাসায় জান্নাত লাভ করা যায়
.............................................................................................
জর্ডানে কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হাফেজ ত্বকী
.............................................................................................
হজ যাদের ওপর ফরজ
.............................................................................................
কোরবানির ঈদ হতে পারে ১২ আগস্ট
.............................................................................................
পবিত্র লাইলাতুল কদর শনিবার
.............................................................................................
সারা দেশে আজকের ইফতার ও সেহেরির সময়সূচি
.............................................................................................
যে কাজে রোজার কাজা-কাফফারা বাধ্যতামূলক
.............................................................................................
রোজার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
.............................................................................................
পবিত্র মাহে রমজান শুরু
.............................................................................................
পবিত্র রমজান উপলক্ষে সারাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপি কর্মসূচি
.............................................................................................
ঘূর্ণিঝড়ে যে দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
রমজানে যে বিশেষ দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
নামাজরত অবস্থায় কল বেজে উঠলে কী করবেন?
.............................................................................................
কুরআন মুখস্থ করলো ৩ বছরের শিশু
.............................................................................................
যে ৪ আমলে রমজান মাস সাজাতে বলেছেন বিশ্বনবি
.............................................................................................
নেককার বান্দার ৩ আলামাত
.............................................................................................
২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত
.............................................................................................
তাহাজ্জুদ নামাজে বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন
.............................................................................................
আজ পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
আগামীকাল পবিত্র শবে মিরাজ
.............................................................................................
আগামীকাল পবিত্র শবে মি‘রাজ
.............................................................................................
শবে মেরাজ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররমে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল
.............................................................................................
আগুন নেভাতে যে দোয়া পড়তে হয়
.............................................................................................
তাহাজ্জুদ নামাজে যে সুফল লাভ করে মুমিন
.............................................................................................
রমজানের প্রস্তুতিতে রজব মাস
.............................................................................................
শবে মেরাজ ৩ এপ্রিল
.............................................................................................
নারীর যে মর্যাদা দিয়েছে ইসলাম
.............................................................................................
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপে বৃষ্টিতে মুসল্লীদের দুর্ভোগ : মঙ্গলবার আখেরী মোনাজাত
.............................................................................................
সাদপন্থীদের ইজতেমা শুরু, বৃষ্টিতে দুর্ভোগ
.............................................................................................
সব প্রস্তুতি শেষ, শুক্রবার শুরু বিশ্ব ইজতেমা
.............................................................................................
আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলন শুক্রবার
.............................................................................................
মুমিন বান্দার কুরআনি আমল যেমন হবে
.............................................................................................
বিশ্ব হিজাব দিবস ও পর্দা প্রসঙ্গ
.............................................................................................
যে পোশাকে নারীদের নামাজ নিষিদ্ধ
.............................................................................................
যৌন মিলন নিষিদ্ধ, এবার উপায় !
.............................................................................................
নামাজে ভয় প্রসঙ্গে বিশ্বনবি যা বললেন
.............................................................................................
আখেরি চাহর সোম্বা আজ
.............................................................................................
এবছর সৌদিতে মারা গেছেন ১৩১ জন, দেশে ফিরেছেন ৮৫ হাজার হাজি
.............................................................................................
পবিত্র হজ আজ
.............................................................................................
এবার হজে যাওয়া হলো না ৬০৬ জনের
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]