| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * ঢাকাকে হারিয়ে জয়ে ফিরল খুলনা   * ঢাকাকে হারিয়ে জয়ে ফিরল খুলনা   * ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিচ্ছে চীন, পানি সংকটের আশঙ্কা ভারতে   * চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, ৯৪% কার্যকর মডার্নার ভ্যাকসিন   * সাপাহারে বে-সরকারি ক্লিনিকে অভিযান, অর্থদন্ড ৭৫ হাজার টাকা   * ভাস্কর্যকে মূর্তির সাথে তুলনা বিভ্রান্তি-উস্কানির অপচেষ্টা মাত্র : তথ্যমন্ত্রী   * ২৩ পৌরসভায় বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা   * ৯৯৯-এ ফোন করে মিথ্যা তথ্য দিলে শাস্তি   * ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে নোমানী সভাপতি, মশিউর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত   * কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উদ্যোগে ২ দিন ব্যাপী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের সূচনা  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
দান-সাদকায় যেসব সুবিধা লাভ হয়

ধর্ম ডেস্ক : দান-সাদকাহ মর্যাদাপূর্ণ একটি গুণ। আল্লাহ তাআলা এ গুণটিকে ঈমান ও নামাজের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা ঈমানের বিষয়। এর সঙ্গে দান-সাদকার বিষয়টি সম্পৃক্ত করার কারণ কী?

কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী যেসব গুণের মাধ্যমে মুমিনরা হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাহলো-
- আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করা।
- নামাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং
- তাদের জন্য বরাদ্দকৃত জীবিকা থেকে দান করা।


সুরা বাকারার শুরুর দিকে মুমিন মুসলমানের পরিচয় আল্লাহ তাআলা এভাবেই তুলে ধরেন-
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
`যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদের যে জীবিকা দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।` (সুরা বাকারা : আয়াত ৩)

এ আয়াতে কারিমায় ঈমান এবং নামাজের সঙ্গে দানের কথা উল্লেখ করার অন্যতম কারণ হলো- কোনো মানুষই দুনিয়াতে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মতো সম্পদ নিয়ে জন্মায় না। অতপর মহান আল্লাহর অনুগ্রহে সে জীবিকা লাভ করে। তাই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তা থেকে তার পথে ব্যয় করার নির্দেশ দেন। এবং এটিকে মুমিন ব্যক্তির অন্যতম গুণ হিসেবে সাব্যস্ত করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِن تُبْدُواْ الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِن تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاء فَهُوَ خَيْرٌ لُّكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَيِّئَاتِكُمْ وَاللّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
`যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতইনা উত্তম। আর যদি দান গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্যে আরও উত্তম। আর আল্লাহ তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খুব খবর রাখেন।` (সুরা বাকারা : আয়াত ২৭১)

কুরআনুল কারিমের এ আয়াতে দান সাদকার মাধ্যমে পাপ মোচনের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে। এ আমলে গোনাহ মাফ করে দেবেন বিষয়টি শুধু এমন নয় বরং এ আমলের মাধ্যমে বান্দার গোনাহকে আগুনের মতো জালিয়ে দেন। হাদিসে বর্ণনায় তা প্রমাণিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয় সাহাবি হজরত মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অনেক উপদেশ দেন। তন্মধ্যে দান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য তুলে ধরেন। তাহলো-
وَالصّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ المَاءُ النّارَ
অর্থাৎ আর দান সাদকা পাপকে (এমনভাবে নিভিয়ে দেয়) মোচন করে; যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।` (তিরমিজি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের জন্য অন্যতম সুযোগ হলো, নিজেদের গোনাহকে দান-সাদকার বিনিময়ে মিটিয়ে নেয়া। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে মুমিনের প্রকৃত গুণের বিকাশ ঘটানো। আর এতে আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদা যেমন বেড়ে যাবে তেমনি গোনাহ মুক্ত হবে মুমিন।

আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানকে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে অসহায় গরিবদের মাঝে নিজেদের জীবিকা থেকে দান করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহর উপদেশে নিজেদের জীবন সাজানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

দান-সাদকায় যেসব সুবিধা লাভ হয়
                                  

ধর্ম ডেস্ক : দান-সাদকাহ মর্যাদাপূর্ণ একটি গুণ। আল্লাহ তাআলা এ গুণটিকে ঈমান ও নামাজের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা ঈমানের বিষয়। এর সঙ্গে দান-সাদকার বিষয়টি সম্পৃক্ত করার কারণ কী?

কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী যেসব গুণের মাধ্যমে মুমিনরা হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাহলো-
- আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করা।
- নামাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং
- তাদের জন্য বরাদ্দকৃত জীবিকা থেকে দান করা।


সুরা বাকারার শুরুর দিকে মুমিন মুসলমানের পরিচয় আল্লাহ তাআলা এভাবেই তুলে ধরেন-
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
`যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদের যে জীবিকা দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।` (সুরা বাকারা : আয়াত ৩)

এ আয়াতে কারিমায় ঈমান এবং নামাজের সঙ্গে দানের কথা উল্লেখ করার অন্যতম কারণ হলো- কোনো মানুষই দুনিয়াতে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মতো সম্পদ নিয়ে জন্মায় না। অতপর মহান আল্লাহর অনুগ্রহে সে জীবিকা লাভ করে। তাই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তা থেকে তার পথে ব্যয় করার নির্দেশ দেন। এবং এটিকে মুমিন ব্যক্তির অন্যতম গুণ হিসেবে সাব্যস্ত করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِن تُبْدُواْ الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِن تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاء فَهُوَ خَيْرٌ لُّكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَيِّئَاتِكُمْ وَاللّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
`যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতইনা উত্তম। আর যদি দান গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্যে আরও উত্তম। আর আল্লাহ তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খুব খবর রাখেন।` (সুরা বাকারা : আয়াত ২৭১)

কুরআনুল কারিমের এ আয়াতে দান সাদকার মাধ্যমে পাপ মোচনের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে। এ আমলে গোনাহ মাফ করে দেবেন বিষয়টি শুধু এমন নয় বরং এ আমলের মাধ্যমে বান্দার গোনাহকে আগুনের মতো জালিয়ে দেন। হাদিসে বর্ণনায় তা প্রমাণিত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয় সাহাবি হজরত মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অনেক উপদেশ দেন। তন্মধ্যে দান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য তুলে ধরেন। তাহলো-
وَالصّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ المَاءُ النّارَ
অর্থাৎ আর দান সাদকা পাপকে (এমনভাবে নিভিয়ে দেয়) মোচন করে; যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।` (তিরমিজি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের জন্য অন্যতম সুযোগ হলো, নিজেদের গোনাহকে দান-সাদকার বিনিময়ে মিটিয়ে নেয়া। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে মুমিনের প্রকৃত গুণের বিকাশ ঘটানো। আর এতে আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদা যেমন বেড়ে যাবে তেমনি গোনাহ মুক্ত হবে মুমিন।

আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানকে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে অসহায় গরিবদের মাঝে নিজেদের জীবিকা থেকে দান করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহর উপদেশে নিজেদের জীবন সাজানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

মধুখালীতে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্রীকে (২০) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার এক যুবকের বিরুদ্ধে।

প্রতিবেশী চুন্নু শেখের ছেলে মো. রবিন শেখের (২০) বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মধুখালী থানায় রোববার (২৯ নভেম্বর) রাতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। অভিযুক্ত রবিন শেখ ওই ছাত্রীর সঙ্গে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে একসঙ্গে অনার্স শাখায় পড়ালেখা করেন।

কলেজছাত্রীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য বাড়ি থেকে কামারখালী বাজারের এসকে কম্পিউটারে আসেন ছাত্রী। সেখান থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শেষ করে বিকাশ থেকে টাকা তোলার জন্য যাওয়ার পথে রবিনের সঙ্গে দেখা হয়। তখন রবিন নিজ মোবাইল থেকে ওই ছাত্রীকে বিকাশের টাকা দেয়ার কথা বলে ছাত্রীর নাম্বার থেকে টাকা নিজ মোবাইলে নেন। পরে বাড়িতে গিয়ে টাকা দিয়ে দেয়া হবে বলে জানান।

রবিন বাড়িতে ফিরে ওই ছাত্রীকে মোবাইলে ফোন করে তার বাড়িতে টাকা নেয়ার জন্য আসতে বলেন। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ওই ছাত্রী তার বাড়িতে টাকা নিতে আসলে রবিন ঘরে যেতে বলেন। এ সময় ওই ছাত্রী দরজায় দাঁড়িয়ে টাকা চাইলে রবিন ছাত্রীকে টেনে ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

তখন রবিনের বাবা-মা বাড়ি থাকলেও ছাত্রীর চিৎকারে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন ছাত্রী। এমন সময় মেয়ের সন্ধানে বাড়িতে এসে মেয়েকে নাম ধরে ডাক দিলে রবিন ঘর থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় রাতেই মধুখালী থানায় মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলম মাসুম বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সত্য ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

মধুখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

কর্মসংস্থান তৈরি ও দারিদ্র্য দূর করবে জাকাত
                                  

ধর্ম ডেস্ক : ইসলামের মৌলিক ৫ স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি ফরজ ইবাদত জাকাত। নির্ধারিত নিসাবের মালিক ধনী মুসলিমের ওপর নামাজ, রোজা ও হজের মতো এটিও অবশ্য পালনীয়। কিন্তু বর্তমান সমাজের চিত্র হলো এই, আমরা নামাজ, রোজা ঠিকই আদায় করছি, কিন্তু জাকাত আদায়ের ব্যাপারে উদাসীন। অথচ প্রতিবছর একবার জাকাত আদায় করতে হয়।

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের ৩২ স্থানে জাকাত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নামাজের নির্দেশের পরপরই ২৮ জায়গায় জাকাত আদায়ের নির্দেশ এসেছে। এ নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্যই হলো নামাজের মতোই জাকাত অবশ্য পালনীয় ইবাদত। আল্লাহ তাআলা একাধিক আয়াতে বলেন-
`তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো এবং জাকাত আদায় করো।` (সুরা বাকারা : আয়াত ৪৩)
`তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ তাঁর রাসুল এবং মুমিনগণ- যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দেয় এবং বিনম্র।` (সুরা মায়েদা : আয়াত ৫৫)

জাকাত দেয়ার সময়
নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছর শেষে ইসলামি শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত অংশ গরিব মুসলিমকে প্রদান করতে হয়। এ জাকাত দান নয় বরং এটি ধনীর সম্পদে গরিবের অধিকার।

বর্তমান সমাজের অর্থব্যবস্থার একটি লক্ষ্যণীয় দিক হলো-
একদিকে মুষ্টিমেয় মানুষের কাছে অধিক সম্পদ রক্ষিত; আবার অন্যদিকে বেশিরভাগ মানুষ মিলে ভোগ করছে সামান্য সম্পদ। অর্থাৎ ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে আর গরীব আরও নিস্ব হচ্ছে।

জাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা
ইসালামের ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালু করার পর সেখানে জাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত মানবিক রাষ্ট্রে রূপ নেয় মদিনা মুনাওয়ারা।

ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু জাকাত আদায়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, `যারা একটি উটের রশি পরিমাণ সম্পদও জাকাত দিতে অস্বীকার করবে; তাদের বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষণা করলাম।` (বুখারি) খলিফার এ ঘোষণার মর্মার্থই ছিল, গরিবের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্পদ জমা করে রাখা পুঁজিপতির ব্যাপারে ইসলামের কঠোর অবস্থান কেমন হবে, তা সুস্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়া।

জাকাত না দেয়ার পরিণাম
জাকাত মানে পবিত্রতা, শুদ্ধি ও বৃদ্ধি পাওয়া। জাকাত আদায়ের মাধ্যমে ব্যক্তির অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র হয়ে যায়। সম্পদের বরকত বেড়ে যায়। শারীরিক ইবাদতের মধ্যে যেমন নামাজ শ্রেষ্ঠ; তেমনই আর্থিক ইবাদতের মধ্য জাকাত সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ। জাকাত আদায় না করার শাস্তি বা পরিণাম খুবই ভয়াবহ। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে বলেছেন, `হে ঈমানদারগণ! পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রাখছে। আর যারা স্বর্ণ ও রুপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আজাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে পোড়ানো হবে আর (সেদিন বলা হবে) এগুলো (সেই সম্পদ) যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে। সুতরাং এখন জমা করে রাখা সম্পদের স্বাদ গ্রহণ কর।` (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৩৫)

জাকাতের বিধান দেয়ার কারণ
ধনী-গরিবের সমতা আনতে ইসলামে জাকাতের সুন্দর বিধান প্রদান করা হয়েছে। সমাজের মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে সব সম্পদ যাতে জমা হতে না পারে। সমাজের সব মানুষের মধ্যে একটা সমতা যাতে আসে। এ কারণেও জাকাতের ভূমিকা অপরিসীম।

অধ্যাপক বেনহাম ভালো রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, `যে রাষ্ট্র ব্যাপকভাবে জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তা-ই কল্যাণ রাষ্ট্র।`

আর সামাজিক নিরাপত্তা বলতে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ন্যূনতম অর্থনৈতিক প্রয়োজন পূরণের নিশ্চয়তাকেই বোঝায়। আর তাই জনগণের কল্যাণের কথা ভেবে ইসলামে জাকাত ব্যবস্থার বিকল্প নেই। জাকাতভিত্তিক রাষ্ট্র চালু হলে সুদভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা দূর হবে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের অধিকাংশ ধনী জাকাত দেয় না। জাকাত দিলেও সঠিক হিসাব করে প্রকৃত ব্যক্তিকেও দেয় না। আর যারা জাকাত দেয়; তাদের অধিকাংশই লোক দেখানো প্রচার সর্বস্ব দান করে।

কুরআনুল কারিমের ঘোষণা মতে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাকাত আদায় এবং বণ্টনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা জরুরি। কিন্তু কোনো রাষ্ট্র যদি ইসলামি রাষ্ট্র না হয়, তাহলে সেখানকার জাকাতদাতারা নিজ উদ্যোগে তার উদ্বৃত্ত সম্পদের হিসাব করে জাকাত দিতে হবে।

জাকাত যেভাবে দিতে হয়
জাকাত এমনভাবে দেয়া উচিত যেন জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি দ্রুতই স্বাবলম্বী হয়ে যেতে পারে। প্রতিবছর যেন এক ব্যক্তিকে জাকাত দিতে না হয়। আর জাকাত গ্রহণকারী ব্যক্তিও যেন আর জাকাত গ্রহণ না করে। ন্যূনতম ২-৩ বছরের মধ্যে যেন স্বাবলম্বী হয়ে নিজেও জাকাত দিতে সক্ষম হয়ে উঠতে পারেন।

আমাদের দেশে দেখা যায়, অনেক সম্পদশালী লোক দেখানোর জন্য হাজার হাজর মানুষ জড়ো করে কম দামি লুঙ্গি আর মানহীন শাড়ি দিয়ে বিদায় করেন। অথচ এতো লোক জড়ো না করে প্রতিবছর নির্ধারিত সংখ্যক লোককে বড় অঙ্কের মূলধন দিলে; তারা নিজেরাও তার মাধ্যমে অল্প দিনেই স্বাবলম্বী হতে পারতেন। আর জাকাতের এ অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই সর্বপ্রথম নিকটাত্মীয়দের প্রাধান্য দেয়া উত্তম।

মনে রাখা জরুরি
জাকাত দেয়ার সময় আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমার সম্পদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের ওপর গরিবের অধিকার রয়েছে। আমি কেবল সেই অধিকারটি পালন করছি। বিষয়টি এমন, জাকাতদাতা হচ্ছেন দেনাদার আর গ্রহীতা হচ্ছেন পাওনাদার। পাওনাদারকে যেভাবে সম্মানের সঙ্গে সময়মতো অর্থ পরিশোধ করতে হয়, ঠিক তেমনিভাবেই জাকাতের অর্থও হকদারকে পরিশোধ করতে হবে। আবার কর্মঠ গরিবদের আত্ম-কর্মসংস্থানে সহায়তা করে স্বাবলম্বী করার জন্য জাকাতের অর্থ ব্যয় করার মাধ্যমেই দারিদ্র্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব হবে।

দ্বীনের প্রচার-প্রসার ও দ্বীনি শিক্ষার বিস্তারেও জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যায়। যথার্থ কারণে ঋণগ্রস্ত এবং ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়লে, তাদের ঋণমুক্তির জন্যও জাকাতের অর্থ দিয়ে সাহায্য করা যাবে।

মুসাফির যদি আর্থিক অসুবিধায় পড়েন, তবে তাকে জাকাতের অর্থ দিয়ে সাহায্য করা যাবে, যদিও তার বাড়ির অবস্থা ভালো থাকে।

পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়-
ইসলামের সোনালি যুগের শাসনব্যবস্থায় জাকাত নেয়ার মতো লোক পাওয়া যেত না। তখন মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইয়াহুদিসহ সব জাতি-গোষ্ঠীর নাগরিক বৈষম্যহীন সামজের গর্বিত সদস্য হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতো।

শাসকবর্গ জাকাতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা রাখতেন। জাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা তো দূরের কথা, একটা শাড়ি-লুঙ্গি নিতে গিয়ে মানুষ ২ দিন ৩ রাত ধনীর দরজার সামনে বসে থাকতে হতো না।

দেশে এত বেশি বৈষম্য লক্ষণীয় যে, কোটিপতির সংখ্যা লক্ষাধিক হলেও ১০ লাখেরও বেশি পথশিশু রাস্তায় ঘুমায়। জাকাত ব্যবস্থা চালু হলে এ দেশের একটি শিশুরও মাথা গোজাবার জন্য আকাশ নামক খোলা ছাদকে বেছে নিতে হতো না।

বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে জাকাত ব্যবস্থার বিকল্প কিছুই হতে পারে না। তাই সামাজিক বৈষম্য দূর করতে এবং ফরজ বিধান পালন করতে সব বিত্তবান মুসলিমকে সঠিকভাবে জাকাত প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই অসহায় ব্যক্তিদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বিরাজ করবে সুখ ও শান্তি।

লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

যেসব অবিশ্বাসে মানুষের ঈমান থাকে না
                                  

ধর্ম ডেস্ক : বিশ্বাস দুনিয়ার সেরা দামি জিনিস। বিশ্বাসের ওপর ভর করেই মানুষ বেঁচে থাকে। সব ধর্ম-বর্ণ-জাতিগোষ্ঠীর মানুষের কাছে বিশ্বাসের গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু মুমিন মুসলমানের কাছে ইসলামের প্রতি বিশ্বাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

কেননা ইসলামের সব বিধানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেই মানুষ ঈমানদার মুসলিম হয়। এর ওপর ভিত্তি করেই পরকালের ভালো-মন্দের চূড়ান্ত ফয়সালা নির্ধারিত হবে।

মানুষ ইচ্ছা-অনিচ্ছায় কিংবা ঝগড়া-বিবাদে যদি অন্যায়ভাবে কাউকে একটি গালি দেয় কিংবা সে যা নয়, ওই নামে সম্বোধন করে ডাকে; এসব কারণে মানুষ গোনাহের সম্মুখীন হয়। তা মানুষের বিশ্বাসের মারাত্মক পরিপন্থী কাজ।

কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো বিষয়ে সম্বোধন করা ঠিক নয়; যে কাজের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। যদি তা করা হয় তবে তা অনেক সময় কুফরে পরিণত হয়। কেননা কোনো কিছুকে গোপন করাই হচ্ছে কুফর বা অবিশ্বাস।

তাছাড়া প্রাপ্যক্ষেত্রে শুকরিয়া না করলে কিংবা অকৃতজ্ঞ হওয়া কুফরের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই ইসলামের বিশ্বাস মর্যাদা শুধু বেশিই নয়, বরং মুক্তির একমাত্র পথও বটে।

ইসলামি শরিয়তে ঈমান বা বিশ্বাস সম্পর্কে বক্তব্য হলো- `আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রতি ওহির মাধ্যমে যেসব বিধি-নিষেধ দিয়েছেন তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও মেনে নেয়ার নামই ঈমান। এ সব বিষয়ের ওপর বিশ্বাসস্থাপন করা ফরজ। এ বিধানের বাইরে কোনো একটি অস্বীকার করাই কুফর বা অবিশ্বাস। যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানের অবাধ্য হয়ে তাকে মিথ্যা বলে জানবে, শরিয়তের আলোকে ওই ব্যক্তিই কাফের বা অবিশ্বাসী।


ইসলামিক স্কলাররা এমন পাঁচটি বিষয়ের ব্যাপারে একমত। যে পাঁচটি বিষয়ে বিশ্বাসস্থাপন না করলে যে কেউ কাফের বা কুফরির সঙ্গে জড়িত। তাহলো-

- আল্লাহ প্রেরিত নবি-রাসুলদের মিথ্যা সাব্যস্ত করা কুফরি।

- আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দেয়া হুকুম-আহকাম অহংকার করে অমান্য করার পাশাপাশি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো।

- নবি-রাসুলদের ব্যাপারে সত্য-মিথ্যা সাক্ষ্য না দিয়ে তাদের উপক্ষো করা এবং তাদের ব্যাপারে অমনোযোগী হওয়াও কুফর।

- আল্লাহ তাআলা প্রেরিত নবি-রাসুলদের ব্যাপারে সন্দেহ, সংশয় পোষণ করাও কুফরি।

- মুখে ঈমানের কথা বলে অন্তরে বা গোপনে তা অস্বীকার করাও কুফরি।

এ ছাড়া আরও কিছু কাজ ও বিশ্বাস আছে, যা মানুষকে ঈমানহারা করে দেয়। তাহলো-

- আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করা।

- বিচার ফয়সালায় আল্লাহর বিধান ও মানুষের মাঝে সমঝোতাকারী হিসেবে কাউকে সাব্যস্ত করা।

- আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা ব্যক্তিকে কাফের বা অবিশ্বাসী মনে না করে সঠিক পথের অনুসারী মনে করাও কুফরি।

- সমস্যা সমাধানে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনার বিপরীতে অন্য কোনো ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনাকে উত্তম বলে মনে করাও কুফরি।

- রাসুলু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে কোনো দিকনির্দেশনাকে ঘৃণা বা অপছন্দ করাও কুফরি।

- কুরআনের আয়াত বা বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রোপ কিংবা উপহাস করাও কুফরি।

- যে কোনো যাদু-টোনা করা কুফরি। এ কারণে মানুষের শান্তি ও সুসম্পর্ক নষ্ট হয়।

- ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কিত যে কোনো বিষয়ে মুসলমানদের বিপক্ষে মুশরিকদের সহায়তা করাও কুফরি।

- আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত কুরআনুল কারিমের বিধানকে অস্বীকার করা বা পিঠ দেখানোও কুফরি।

বিশেষ করে

এমন বিশ্বাস রাখা যে, কিছু কিছু ব্যক্তির জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের দেয়া জীবন বিধানের বিপরীতে কিছু কিছু বিষয়ে নিজস্ব মতামত বা ইখতিয়ার পোষণ করা। তাও মারাত্মক কুফরি।

সুতরাং মানুষের বিশ্বাস হতে হবে সুস্পষ্ট ও নির্মল। যে বিশ্বাসে থাকবে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো কাজ। যা মানুষকে ঈমানহারা করে দেয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের সব বিধানের ওপর যথাযথ বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। ঈমানের মতো মহামূল্যবান সম্পদ নিরাপদ রাখতে ইসলামের বিধানের প্রতি যথাযথ বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। কুফর ও শিরক থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পবিত্র কোরআনে ঐক্যবদ্ধ থাকার শিক্ষা
                                  

মাহমুদ আহমদ 

মানুষ আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। সমগ্র মানুষকে সামাজিকভাবে একতাবদ্ধ করার জন্যই আল্লাহপাক যুগে যুগে অসংখ্য নবী রাসুল পাঠিয়েছেন।

মানব জাতি হিসেবে কারো মাঝে কোন ভেদাভেদ নেই। সবাই এক আল্লাহর সৃষ্টি এবং একই সত্তা থেকে সবার সৃষ্টি।

যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, `হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রভু-প্রতিপালকের তাকওয়া অবলম্বন কর, যিনি একই সত্তা থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন` (সুরা আন নেসা, আয়াত: ১)।

এখানে কোন ধর্ম বা জাতির কথা বলা হয়নি বরং বলা হয়েছে `হে মানুষ` অর্থাৎ সব মানুষের কথা বলা হয়েছে।
আবার বলা হয়েছে, তিনি একই প্রাণ থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি তা থেকেই এর জোড়া সৃষ্টি করেছেন` (সুরা আয যুমার, আয়াত: ৬)।

তাই একজন মানুষ সে যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন মানুষ হিসেবে সবাই একই সম্প্রদায়ভূক্ত। তাই কাউকে অবজ্ঞা করার কোন সুযোগ নেই।

যেভাবে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, `আর মানবজাতি একই সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে তারা মতভেদ করল` (সুরা ইউনুস, আয়াত: ১৯)।

আল্লাহতায়ালা ইচ্ছা করলে সবাইকে একই ধর্মের অনুসারী বানাতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি নিজেই যেহেতু মানুষকে বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত করেছেন তাই আমাদেরকেও ভিন্ন ধর্মের অনুসারীর প্রতি মন্দ আচরণ করা মোটেও ঠিক নয়।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে: `আর তোমার প্রভু-প্রতিপালক যদি চাইতেন অবশ্যই তিনি সব মানুষকে এক উম্মত বানিয়ে দিতেন। কিন্তু তারা সব সময় মতভেদ করতেই থাকবে` (সুরা হূদ, আয়াত: ১১৮)।

একইভাবে পবিত্র কোরআনের বিভিন্নস্থানে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন: `আর আল্লাহ চাইলে তিনি তাদেরকে এক উম্মত বানিয়ে দিতেন, কিন্তু তিনি যাকে চান নিজ কৃপার অন্তর্ভূক্ত করেন। আর যালেমদের জন্য কোন বন্ধুও নেই এবং কোন সাহায্যকারীও নেই` (সুরা আশ শুরা, আয়াত: ৮)।

`আর আল্লাহ যদি চাইতেন তিনি অবশ্যই তোমাদের সবাইকে একই উম্মতে পরিণত করে দিতেন। কিন্তু যে পথভ্রষ্ট হতে চায় তিনি তাকে পথভ্রষ্ট হতে দেন এবং যে সঠিক পথ পেতে চায় তিনি তাকে সঠিক পথ দেখান। আর তোমরা যা-ই করতে সে সম্পর্কে তোমাদের অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে` (সুরা আন নাহল, আয়াত: ৯৩)।

`আর আল্লাহ যদি চাইতেন তোমাদের সবাইকে তিনি একই উম্মত করে দিতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তা দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করতে চান। অতএব তোমরা সৎকাজে পরস্পর প্রতিযোগিতা কর` (সুরা আল মায়েদা, আয়াত: ৪৮)।

`নিশ্চয় তোমাদের এই উম্মত একই উম্মত এবং আমিই তোমাদের প্রভু-প্রতিপালক। অতএব তোমরা আমার ইবাদত কর` (সুরা আল আম্বিয়া, আয়াত: ৯২)।

`আর জেনে রাখ, তোমাদের এ সম্প্রদায় একটিই সম্প্রদায়। আর আমি তোমাদের প্রভু-প্রতিপালক। অতএব তোমরা কেবল আমাকেই ভয় কর` (সুরা আল মোমেনুন, আয়াত: ৫২)।

পবিত্র কোরআনে উপরোক্ত বিষয়টি বার বার কেন উল্লেখ হয়েছে? নিশ্চয় এর কোন বিশেষ কারণ রয়েছে। মহান আল্লাহ হচ্ছেন সকল জ্ঞানের আধার।

তিনি জানতেন যে, এমন এক সময় আসবে, যখন মানুষ একে অপরের ধর্ম নিয়ে মতবিরোধ করবে, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, এক ধর্মের অনুসারী অন্য ধর্মের লোকদের তুচ্ছ জ্ঞান করবে।

তাই আল্লাহ পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি চাইলে এক উম্মতভুক্তই করতেন সকলকে কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি আমাদেরকে যাচাই করার জন্য ধর্মের বিষয়টি স্বাধীন করে দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআন আমাদের এই শিক্ষাই দেয়, আমরা যেন সকল মানুষের প্রতি দয়াশীল হই। যেহেতু আমাদের সবার সৃষ্টির মূল একটাই। আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাদেরকে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠিতে বিভক্ত করেছেন।

আজকে সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায় শুধু অশান্তি আর অশান্তি। এক ধর্মের অনসারী ভিন্ন ধর্মের অনুসারীকে যেন সহ্যই করতে পারে না। মানবতা বলতে মনে হয় কিছুই অবশিষ্ট নেই।

সবাই নিজ নিজ স্বার্থ অর্জনের জন্য ব্যস্ত। একে অপরের প্রতি নেই কোন প্রেম-ভালবাসা। আমরা কি পারি না সবাই মিলে ঐকবদ্ধ হয়ে এক সাথে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে? দেশকে মায়ের মত ভালোবাসতে?

আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টির পর দু`টি পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। একটি হল ভাল আর অপরটি হল মন্দ। যে ভাল কাজ করবে সে তার প্রতিদান পাবে আর যে মন্দ কাজ করবে সেও তার প্রতিদান পাবে।

আল্লাহতায়ালা ধর্মের ব্যাপারে কারো ওপর কোন ধরণের বল প্রয়োগের অনুমতি দেন নি। এ ব্যাপারে সবার স্বাধীনতা রয়েছে।

আমরা যদি পবিত্র কোরআনের শিক্ষার ওপর আমল করি তাহলে কিন্তু আমাদের সমাজে কোন ধরনের অরাজকতা থাকতে পারে না

তাই আসুন, আমরা সবাই সবাইকে ভালবাসি এবং সকল ধর্মের অনুসারীকে ভালবাসি আর একে অপরের সুখ-দু:খের সঙ্গী হই।

আমরা যদি এমনটি করি তবেই না আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ ও দেশ গড়তে পারব।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ২৭ নভেম্বর
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের আকাশে সোমবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হিজরি রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) থেকে ১৪৪২ হিজরি সনের রবিউস সানি মাস শুরু হবে। এ হিসেবে আগামী ২৭ নভেম্বর শুক্রবার (১১ রবিউস সানি) সারাদেশে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হবে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সভায় সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এবার ২৯ দিনেই শেষ হলো রবিউল আউয়াল মাস।

`ইয়াজদাহম` অর্থ এগারো, আর `ফাতিহা` অর্থ দোয়া করা। মহান আল্লাহ তায়ালার ওলি বড় পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (র.)-এর মৃত্যু দিবস উপলক্ষে মুসলিমদের দোয়া অনুষ্ঠানই হচ্ছে `ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম`। এ দিন মুসলমানদের ঐচ্ছিক ছুটির দিন।

ইসলামের অন্যতম প্রচারক আবদুল কাদের জিলানী হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি মৃত্যুবরণ করেন। সারাবিশ্বের সকল মুসলমান ওই দিনটি ফাতেহা-ই ইয়াজদাহম হিসেবে পালন করে আসছে।

সভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজান-উল-আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়া, ওয়াকফ প্রশাসক এস এম তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের পিএসও আবু মোহাম্মদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ ও চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ক্বারি শেখ নুরাইন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত
                                  

অনলাইন ডেস্ক : সুদানের বিখ্যাত ক্বারী শেখ নুরাইন মোহাম্মদ সিদ্দিক শুক্রবার এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সবচেয়ে নিখুঁত ও দরদিকণ্ঠে তেলওয়াতকারীদের একজন ছিলেন তিনি।

রাজধানী খার্তুমের জনবহুল ওমডুম্যান এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এতে শেখ নুরাইন ছাড়াও কোরআনের আরও তিন হাফেজের প্রাণহানি ঘটেছে। তারা হলেন, আলী ইয়াকুব, আবদুল্লাহ আওয়াদ করিম ও মোহান্নাদ আল-কিনানি।

আফ্রিকান দেশটির ধর্মমন্ত্রী নাসেরুদ্দিন মুফরেহ এক ফেসবুক পোস্টে তার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শেখ নুরাইন ও তার সঙ্গে থাকা তিন কোরআনে হাফেজের মৃত্যুতে আমি শোকাহত।

আদদুরি কিরাত বিশেষভাবে তেলওয়াতের জন্য বিশ্বজুড়ে তার খ্যাতি ছিল। তার মৃত্যুতে সামাজিকমাধ্যমে শোকের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

মোহাম্মদ শাব্বা নামের একজন লিখেছেন, আমার প্রিয় কোরআন তেলাওয়াতকারী শেখ নুরাইন মোহাম্মদ আর নেই। আমি বিধ্বস্ত ও ব্যথিত।

মুসলিম ডেইলির এক টুইটার পোস্টে বলা হয়েছে, দুঃখজনকভাবে ক্বারি শেখ নুরাইন সড়কে নিহত হয়েছেন। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন ও জান্নাত নসিব করুন।

১০টি রহমত কামিয়ে নিন একবার দরুদ পড়ে
                                  

মোহাম্মদ মোস্তাকিম হোসাইন 

বান্দার জন্য যে সময় বা যা কিছু দরকার, সে সময় ও তা-ই দিয়ে থাকেন মহান স্রষ্টা বান্দার কল্যাণের জন্য।

আল্লাহতায়ালা সূরা ফুরকানের ৬২নং আয়াতে উল্লেখ করেছেন- `আর তিনি এমন সত্তা, যিনি রাত ও দিনকে একে-অন্যের পশ্চাতে আসার আদেশ দিয়েছেন সেই ব্যক্তির জন্য, যে বুঝতে চায় অথবা শোকর আদায় করার ইচ্ছা করে।`

হিজরি সালের মাসগুলোর মধ্যে রবিউল আউয়াল মাস অন্যতম। এ মহান মাস মানব ইতিহাসে তথা মুসলমানদের জন্য উজ্জ্বলতম অধ্যায়।

আমরা জানি, রবি অর্থ বসন্ত; শাওয়াল অর্থ প্রথম; অর্থাৎ প্রথম বসন্ত। আমাদের দেশে বসন্তকাল যেমন সবার প্রিয়, নতুন পত্র-পল্লবে ও গন্ধে বৃক্ষ যেমন শোভা লাভ করে, তেমনি আমাদের কাছে প্রিয় ছিল রবিউল আউয়াল বা প্রথম বসন্ত।

বসন্ত এলে যেমন গাছের পুরনো পাতা ঝরে গিয়ে নতুন পাতার মাধ্যমে গাছপালা নতুন করে সজীবতা লাভ করে, তেমনি এ মাসে বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের কারণে অতীতের সব নবীদের শরিয়ত বাতিল হয়ে বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শরিয়ত-রিসালাত নামক ইসলাম পূর্ণতা লাভ করে।

রবিউল আউয়াল মাস হচ্ছে ইসলামি বর্ষপুঞ্জির তৃতীয় মাস। সৈয়দ ইবনে তাউস তার আল ইকবাল নামক গ্রন্থে বলেন- রবিউল আউয়াল হচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কেননা এ মাসেই নবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন।

এ মাস যে কারণে বিখ্যাত তা হচ্ছে- দোজাহানের বাদশাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালিন, রহমাতুল্লিল আলামিন বিশ্বনবী শেষ নবী ও উম্মতের জন্য শাফায়াতের কাণ্ডারি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ঘটেছিল এ মাসে।

যার জন্য ধন্য বিশ্বজগৎ; আলোকিত মরুপ্রান্তর যার কারণে চিরভাস্বর মদিনাতুল মোনাওয়ারাহ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেছেন- `সমগ্র বিশ্ব জগতের জন্য আপনাকে রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।`

রবিউল আউয়াল মাসেই নবী (সা.) মা খাদিজাতুল কোবরাকে বিবাহ করেন। এ মাসে মদিনায় হিজরত করেন। এ মাসের ১৬ তারিখে মসজিদে কোবা নির্মাণ করেন।

নবী (সা.) বলেছেন, সে ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মু`মিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি ওই ব্যক্তির কাছে তার পিতামাতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হব। (মুসলিম)। অর্থাৎ নিজের জীবনসহ অন্যসব কিছুর চেয়ে রাসূল (সা.)কে বেশি ভালোবাসতে হবে।

এ মাসে বেশি বেশি দরুদ পড়তে হবে। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেন- যে আমার ওপর একবার দরুদ পড়বে, আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত বর্ষণ করবেন; তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তার জন্য ১০টি রহমতের দরজা খুলে দেবেন। (মুসনাদে আহমদ ও নাসাঈ)।

লেখক : ইসলামি গবেষক

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
                                  

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : আজ (শুক্রবার) ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই দিনে আরবের মরুপ্রান্তরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রায় এক হাজার ৪০০ বছর আগে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নেন তিনি। আবার এই দিনে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। এ জন্য এটি ওফাত দিবসও। বিভ্রান্ত মানুষদের পথ দেখিয়ে ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। তাই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিশ্ববাসীসহ মুসলিম উম্মাহর আনন্দের দিন। আবার এদিনই তিনি মারা যাওয়ায় একইসঙ্গে এটি মুসলিম বিশ্বের জন্য কষ্টের দিনও।

এই দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় রওশন এরশাদ বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের সরকারি স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।

দিনটি উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা ও কোরআন খতমসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, মসজিদ ও মাদরাসা। তবে সবকিছু হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। আর কারোনার কারণে কিছুটা সীমিত পরিসরে।

ইসলাম ধর্মমতে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) নবুয়তের সিলসিলায় শেষ নবী। তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সারা আরব বিশ্ব যখন পৌত্তলিকতায় বিশ্বাস করত, তখন মহান আল্লাহ-তায়ালা তার প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদকে (সা.) রহমতস্বরূপ বিশ্বজগতে পাঠিয়েছিলেন।

সবধরনের কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খলা ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা বহন করে এনেছেন তিনি। নিজ যোগ্যতা, মহানুভবতা, সহনশীলতা, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সীমাহীন দুঃখ-কষ্টের বিনিময়ে প্রিয় নবী জীবনাদর্শ রেখে গেছেন।

মহানবীর জন্মদিন উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। তাই দৈনিক পত্রিকা অফিসগুলোও বন্ধ থাকবে। শনিবার কোনো পত্রিকা প্রকাশিত হবে না। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় পত্রিকা বের করা যাবে। চলবে অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোও।

শুক্রবার ঈদে মিলাদুন্নবী
                                  

ডেস্ক রিপাের্ট : আগামীকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রতিবছরই বাংলাদেশে দিনটি পালন করেন মুসলিম সম্প্রদায়। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও দিনটি পালনে দেশব্যাপী নানা আয়োজন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল মাসে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। আর ৬৩ বছর বয়সে একই দিনে তিনি (সা.) ইহলোক ত্যাগ করেন।

মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস ১২ রবিউল আউয়াল ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করা হয়। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর দিনটি বাংলাদেশে সরকারি ছুটির দিন এবং দেশের মুসলিমরা এদিন বিশেষ ইবাদত করে থাকেন। দিনটি উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা ও কোরআনখানিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, মসজিদ ও মাদ্রাসা।

সকালবেলা নিয়মিত যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি
                                  

ধর্ম ডেস্ক : সুন্নাতি জীবন-যাপন মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে দেখিয়েছেন সঠিক পথের সন্ধান। সুখ ও বরকতময় জীবন লাভের পাথেয় ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নিজে আমল করেছেন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমলগুলো মুমিন মুসলমানদের জন্য অনুকরণীয় শিক্ষা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মতি ফজরের নামাজের পরপরই আল্লাহর কাছে হালাল রিজিক কামনা করতেন। এমন জ্ঞান কামনা করতেন, যাতে মানুষের উপকার হয়। আর নিজের আমলগুলো কবুল হওয়ার জন্যও প্রার্থনা করতেন। এটি মূলত উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো একটি দোয়া ও নসিহত। হাদিসে এসেছে-

হজরত উম্মু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজ পড়ে সালাম ফিরিয়ে বলতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً

উচ্চারণ : `আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ ওয়া রিযকান তায়্যিবা ওয়া আমালান মুতাকাব্বিলা।`

অর্থ : `হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা করছি, উত্তম-পবিত্র রিজিক কামনা করছি এবং কবুল হওয়ার মতো কর্ম তৎপরতা কামনা করছি।` (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

দিনের শুরুতে ফজরের নামাজের সালাম ফেরানোর পরপর এ দোয়া পড়তেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ আমলটি প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার। কেননা মুমিন মুসলমানের তো হালাল রিজিক, উপকারি জ্ঞান, কবুলযোগ্য আমলই জীবনে একমাত্র চাওয়া-পাওয়া।`

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতিদিন ফজরের নামাজের সালাম ফেরানোর পরপর হাদিসে নির্দেশনা অনুযায়ী এ আমল ও দোয়াটি যথাযথ করার তাওফিক দান করুন। হালাল রিজিক, উপকারি জ্ঞান এবং নেক আমলগুলো কবুল করুন। আমিন।

ঈদে মিলাদুন্নবী ৩০ অক্টোবর
                                  

ডেস্ক রিপাের্ট : শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেশের আকাশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর (১২ রবিউল আউয়াল) শুক্রবার পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

সভায় অতিরিক্ত সচিব জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪২ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য রোববার (১৮ অক্টোবর) সফর মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর (১২ রবিউল আউয়াল) দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) পালিত হবে।

আরবি `ঈদে মিলাদুন্নবী`র শাব্দিক অর্থ- মহানবীর (স.) জন্মদিনের আনন্দোৎসব। মুসলমানরা ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এর জন্ম ও মৃত্যু (ওফাত) দিবস হিসেবে পালন করেন। কারণ এ দিনই রাসুলে করীম (স.) ইন্তেকালও করেন। সেই হিসেবে আগামী ৩০ অক্টোবর ১২ রবিউল আউয়াল।

বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) দিন সাধারণ ছুটি।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের হিজরি রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। আরবের মরু প্রান্তরে শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রচার শুরু করেন তিনি। তার আবির্ভাব এবং ইসলাম ধর্মের প্রচার বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

দীর্ঘ ২৩ বছর ইসলাম ধর্ম প্রচার করে ৬৩ বছর বয়সে ১২ রবিউল আউয়ালই মহানবী (স.) মৃত্যুবরণ করেন। দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) হিসেবে সারা পৃথিবীর মুসলমানরা পালন করেন।

ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) দিন মসজিদ ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আজ
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হবে আজ শনিবার।

১৪৪২ হিজরি সনের পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ নির্ধারণ ও চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার মাগরিবের নামাজের পর সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

টেলিফোন নম্বর: ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭। এবং ফ্যাক্স নম্বর: ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন `তোমরা ইস্তিফার কর`: খুৎবাহ পূর্ব বয়ানে পেশ ইমামগন
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের রবের দরবারে ইস্তিগফার কর। (তাহলে) তিনি তোমাদের প্রতি পর্যাপ্ত বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তোমাদের মাল, সন্তান, বাগ-বাগিচায় বরকত দিবেন এবং তোমাদের জন্য নহর সৃষ্টি করে দিবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা বান্দার তাওবায় অধিক খুশি হন। রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে পেশ ইমামরা এসব কথা বলেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিভিন্ন মসজিদে উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষীত হয়। নগরীর মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রচুর মুসল্লির সমাগম ঘটে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ পেশ ইমাম মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেম খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, কারো নেয়ামত দেখে তা ধ্বংসের কামনা করাই হিংসা। যা সম্পূর্ণরূপে হারাম। স্মরণ রাখতে হবে হিংসা অন্তরাত্মার নিকৃষ্টতম একটি ব্যাধি। কারণ হিংসুক সব সময় হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। কোরআন ও হাদীসেও হিংসা এবং হিংসুককে কঠিণ ভাবে নিন্দা করা হয়েছে। হিংসুকের অনিষ্ঠ থেকে পানাহ চাইতে পবিত্র কোরআনে তাগিদ দেয়া হয়েছে। রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থেকো। কারণ হিংসা নেক আমলসমূহকে গ্রাস করে নেয়, যেভাবে আগুন গ্রাস করে লাকড়ি (অথবা ঘাস)। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৯০৫) অপর হাদীসে ইরশাদ হয়েছে সন্দেহ নেই, হিংসা নেক আমলসমূহের নূর ও আলোকে নিভিয়ে দেয়। হাদীস শরীফে এসেছে রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু তা`আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা মানুষের উপর দয়া করো রব্বুল আলামীন স্বয়ং তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। মনে রাখতে হবে হিংসুক হিংসার অন্তরালে বহু গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়। অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তোমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না, একে অন্যের পেছনে লেগে থেকো না, একে অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও, পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও। সুতরাং আসুন আমরা হিংসা-বিদ্বেষ,গীবত,কুদৃষ্টিসহ সকল প্রকার গুনাহ থেকে বিরত থাকি। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন!

জয়তুন বৃক্ষের কথা
                                  

আতিক আল মাসউদ

১. ত্বীন ফল জরায়ু ক্যান্সারের প্রতিষেধক; ২. ব্লাড প্রেসার এবং স্নায়ুরোগ কমাতে কার্যকর; ৩. মায়ের দুধ উৎপাদনে সাহায্য করে; ৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও হাঁপানি রোগ নিরাময়ে ভূমিকা রাখে; ৫. ত্বকের সমস্যা, চুলের রোগ, কিডনি ও লিভার নিরাপদ রাখতে খুবই উপকারী।

জয়তুন বৃক্ষ যেসব চিকিৎসার উপশমও বলা হয়েছে-

১. এ বৃক্ষ প্রজনন প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে; ২. ক্যান্সার বিস্তারের বিরুদ্ধে মেমব্রেনকে সতেজ করে; ৩. যৌন উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে; ৪. চুল ও দাড়িতে ব্যবহারে চুল পাকার প্রবণতা কমায়; ৫. স্মৃতিভ্রম দূর করে; ৬. টিউমারকে ধ্বংস করে দেয়।

ত্বীন ও জয়তুন দিয়ে আসলে কি ওপরে বর্ণিত ফলগুলোকে নির্দেশ করা হল এমন প্রশ্নের জবাব হিসেবে মুফাসসিরদের শিরোমণি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, ইকরামা ও মুজাহিদ প্রমুখ বলেন-

এটি হল ওই ত্বীন বা ডুমুর, যা থেকে তোমরা খেয়ে থাক এবং ওই জয়তুন যা থেকে তোমরা তেল বের করে ব্যবহার করে থাক। (কুরতুবি, ইবনে কাসির)।

জয়তুনকে আল্লাহ উদাহরণ হিসেবে অন্য জায়গায় ব্যবহার করেছেন। প্রদীপটি প্রজ্বলিত করা হয় পূত-পবিত্র জয়তুন বৃক্ষের তেল দিয়ে। (সূরা নূর ২৪-৩৫)। এতে বোঝা যায়, এ জয়তুন বৃক্ষটি ছিল সূরা ত্বীনের সেই উপকারী বৃক্ষ। আবার সূরা মোমিনের ২০নং আয়াতে আল্লাহ বলেন-

অর্থাৎ- এবং সৃষ্টি করি এক বৃক্ষ, যা জন্মে সিনাই পর্বতে। এতে উৎপন্ন হয় ভোজনকারীদের জন্য তেল ও ব্যঞ্জন। সিনাই পর্বতে যেই গাছটি পাওয়া যায় সেটিও সূরা ত্বীনের আলোচিত বৃক্ষটি। মুফাসসিররা এটিই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। (তাফসিরে তবরি)।

সুতরাং বোঝা যায়, ত্বীন ও জয়তুন নিয়ে বিজ্ঞান যা বলল এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস এ ফলকে কেন্দ্র করে উপস্থাপিত তথ্যাদি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

লেখক : শিক্ষার্থী, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসা

পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ১৪ অক্টোবর
                                  

অনলাইন ডেস্ক : দেশের আকাশে শুক্রবার সন্ধ্যায় পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে ১৪৪২ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাস গণনা শুরু হবে। সেই অনুযায়ী আগামী ১৪ অক্টোবর (বুধবার, ২৬ সফর) আখেরি চাহার শোম্বা পালিত হবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

আরবি ভাষায় সফর মাসের শেষ বুধবার-কে ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ বলা হয়। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৭ সফরের বুধবার হযরত মুহম্মদ (স.) দীর্ঘ সময় রোগ ভোগের পর সুস্থতা বোধ করে গোসল করেছিলেন বলে হাদিস শরিফসহ বিভিন্ন কেতাবে উল্লেখ আছে। বৃহস্পতিবার থেকে রাসূল (স.) আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার তিনি ইন্তেকাল করেন।

বাংলাদেশে আখেরি চাহার শোম্বার দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।

চাঁদ দেখা কমিটির সভায় জানানো হয়, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী শুক্রবার বাংলাদেশের আকাশে সফর মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়া গেছে।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব এস এম মাহফুজুল হক, সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী, ওয়াকফ প্রশাসক এস এম তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) মুহা. নেছার উদ্দিন জুয়েল, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (পিএসও) আবু মোহাম্মদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল মান্নান, মাদরাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ মো. আলমগীর রহমান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


   Page 1 of 10
     ইসলাম
দান-সাদকায় যেসব সুবিধা লাভ হয়
.............................................................................................
মধুখালীতে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ
.............................................................................................
কর্মসংস্থান তৈরি ও দারিদ্র্য দূর করবে জাকাত
.............................................................................................
যেসব অবিশ্বাসে মানুষের ঈমান থাকে না
.............................................................................................
পবিত্র কোরআনে ঐক্যবদ্ধ থাকার শিক্ষা
.............................................................................................
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ২৭ নভেম্বর
.............................................................................................
ক্বারি শেখ নুরাইন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত
.............................................................................................
১০টি রহমত কামিয়ে নিন একবার দরুদ পড়ে
.............................................................................................
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
.............................................................................................
শুক্রবার ঈদে মিলাদুন্নবী
.............................................................................................
সকালবেলা নিয়মিত যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি
.............................................................................................
ঈদে মিলাদুন্নবী ৩০ অক্টোবর
.............................................................................................
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আজ
.............................................................................................
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন `তোমরা ইস্তিফার কর`: খুৎবাহ পূর্ব বয়ানে পেশ ইমামগন
.............................................................................................
জয়তুন বৃক্ষের কথা
.............................................................................................
পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ১৪ অক্টোবর
.............................................................................................
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেসব পরামর্শ দেয় ইসলাম
.............................................................................................
আশুরায় যেসব আমল করতে হবে
.............................................................................................
১০ মহররম পবিত্র আশুরা: বিশেষ তাৎপর্য পূর্ণ দিন
.............................................................................................
বিশ্রামের সময় যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি
.............................................................................................
আশুরার রোজায় এক বছরের গুনাহ মাফ হয়
.............................................................................................
আজ জুম`আ বার মহররম মাসের শুরু
.............................................................................................
৩০ আগস্ট পবিত্র আশুরা
.............................................................................................
হাজিদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চত করতে এ্যাপ ও ব্রেসলেট ব্যবহার
.............................................................................................
শুরু হলো হজের কার্যক্রম, হাজিরা যাচ্ছেন মিনায়
.............................................................................................
ভালোবেসে বিয়ে, স্ত্রীকে হত্যা করে শ্বশুরবাড়িত টানিয়ে রাখল স্বামী
.............................................................................................
নতুন ইতিহাস-বিশ্বজুড়ে একইদিনে হতে পারে কোরবানি
.............................................................................................
জেরুজালেমের ৫০০ বছরের ইতিহাস উন্মুক্ত
.............................................................................................
এবারের হজে কাবা ছোঁয়া নিষিদ্ধ
.............................................................................................
১২ জুলাই থেকে টাকা ফেরত পাবেন হজ নিবন্ধনকারীরা
.............................................................................................
আল্লাহর ভয় মন-দীলে রাখতে হবে, করোনা আক্রান্ত রোগী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না : জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিববুল্লাহ হিল বাকী নদভী
.............................................................................................
মুসলিম কখনও হিংসুক হতে পারে না
.............................................................................................
অহংকার যে কারণে পতনের মূল
.............................................................................................
জুমার খুতবা চলাকালীন দানবাক্স চালানো কি জায়েজ?
.............................................................................................
শাওয়াল মাসের ৬ রোজার গুরুত্ব
.............................................................................................
পবিত্র জুমআতুল বিদা আজ
.............................................................................................
যে কারণে রমজানকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতে ভাগ করা হয়েছে
.............................................................................................
শর্ত সাপেক্ষে দেশের সব মসজিদ খুলে দেয়া হচ্ছে
.............................................................................................
এবার ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে সত্তর টাকা থেকে দুই হাজার দুইশত টাকা
.............................................................................................
মসজিদে খুৎবাহ পূর্ব বয়ানে করোনা ভাইরাসের মহামারি থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাইতে হবে
.............................................................................................
চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু
.............................................................................................
রোজায় ইফতার মাহফিল নয়, তারাবিতে অংশ নিতে পারবে ১২ জন
.............................................................................................
কবে শুরু রমজান, জানা যাবে শুক্রবার
.............................................................................................
আল-গাফুর, আল্লাহর মহান এক নাম
.............................................................................................
একাকী ইবাদতের মাধ্যমে শবেবরাত পালন করুন : আল্লামা শফী
.............................................................................................
পবিত্র শবে বরাত আজ
.............................................................................................
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এ সময়ের জরুরি আমল
.............................................................................................
নামাজ-প্রার্থনা নিজঘরে, জুমায় সর্বোচ্চ ১০ জন
.............................................................................................
মসজিদে জামাত চলবে, তবে সংক্ষিপ্ত: ইফা
.............................................................................................
মহামারী বা দূরারোগ্য ব্যধি থেকে পরিত্রাণের দোয়া
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD