| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * করোনা ভাইরাসে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে মানবিক হওয়ার আহ্বান   * আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠাতে পারে কুয়েত   * মৃত্যু বেড়ে ২৩০৫, মোট শনাক্ত ১৮১১২৯   * অক্টোবরেই আসছে অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন, দাম থাকবে নাগালে   * স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও অধিদপ্তরের ডিজির অপসারণের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ৪ দফা   * ব্রাজিলে করোনায় মারা গেছে ৭০ হাজার ৪০০, আক্রান্ত ১৮ লাখ   * দেশে আনা হয়েছে সাহারা খাতুনের মরদেহ   * মার্চ মাসের যাত্রা বাতিলের টিকিটের টাকা ফেরত দেবে রেল   * আইসিইউ সংকটে যুক্তরাষ্ট্রে   * দেশে আরো ২৯৪৯ জনের করোনা শনাক্ত  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
জেরুজালেমের ৫০০ বছরের ইতিহাস উন্মুক্ত

জেরুজালেমের ইতিহাসসংক্রান্ত বৃহৎ তথ্যভাণ্ডার উন্মুক্ত করেছে ‘দি ইউনাইডেট নেশন রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্ক এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজিস ইন দ্য নেয়ার ইস্ট’ (ইউএনআরডাব্লিউএ)। উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডারের মধ্যে আছে আড়াই লাখ পৃষ্ঠার বই, ম্যাপ, পাণ্ডুলিপি ও জেরুজালেমের বিভিন্ন সময়ের ছবি। ১৫২৮ সাল-পরবর্তী জেরুজালেমের ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত এতে উঠে এসেছে। সংস্থাটির অনলাইন লাইব্রেরিতে এসব নথিপত্র পাওয়া যাবে।

সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরি ইউএনআরডাব্লিউএ-কে এসব তথ্য সংগ্রহ ও উন্মুক্তকরণের কাজে সহযোগিতা করে। কিং আবদুল আজিজ লাইব্রেরির আরব ইউনিয়ন বিভাগ বিশ্বের বিভিন্ন পাঠাগারকে আরব ও ইসলামী সংস্কৃতি তুলে ধরতে সহযোগিতা করে থাকে। আরবের অন্যতম সমৃদ্ধ এই পাঠাগারে রয়েছে বই, জার্নাল, নথিপত্র, পাণ্ডুলিপি ও ছবির তিন মিলিয়নের একটি বিরাট সংগ্রহশালা।

সূত্র : আরব নিউজ

জেরুজালেমের ৫০০ বছরের ইতিহাস উন্মুক্ত
                                  

জেরুজালেমের ইতিহাসসংক্রান্ত বৃহৎ তথ্যভাণ্ডার উন্মুক্ত করেছে ‘দি ইউনাইডেট নেশন রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্ক এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজিস ইন দ্য নেয়ার ইস্ট’ (ইউএনআরডাব্লিউএ)। উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডারের মধ্যে আছে আড়াই লাখ পৃষ্ঠার বই, ম্যাপ, পাণ্ডুলিপি ও জেরুজালেমের বিভিন্ন সময়ের ছবি। ১৫২৮ সাল-পরবর্তী জেরুজালেমের ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত এতে উঠে এসেছে। সংস্থাটির অনলাইন লাইব্রেরিতে এসব নথিপত্র পাওয়া যাবে।

সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরি ইউএনআরডাব্লিউএ-কে এসব তথ্য সংগ্রহ ও উন্মুক্তকরণের কাজে সহযোগিতা করে। কিং আবদুল আজিজ লাইব্রেরির আরব ইউনিয়ন বিভাগ বিশ্বের বিভিন্ন পাঠাগারকে আরব ও ইসলামী সংস্কৃতি তুলে ধরতে সহযোগিতা করে থাকে। আরবের অন্যতম সমৃদ্ধ এই পাঠাগারে রয়েছে বই, জার্নাল, নথিপত্র, পাণ্ডুলিপি ও ছবির তিন মিলিয়নের একটি বিরাট সংগ্রহশালা।

সূত্র : আরব নিউজ

এবারের হজে কাবা ছোঁয়া নিষিদ্ধ
                                  

 প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। এই ভাইরাসের তাণ্ডবে অসহায় হয়ে পড়েছে বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। অন্যান্য দেশের মতো সৌদি আরবেও হানা দিয়েছে এই ভাইরাস। এর বিষাক্ত ছোবলে ইতোমধ্যে দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৫ শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৯১৬ জনের।

করোনাভাইরাসের এমন পরিস্থিতিতে এবারের হজ বাতিলের শঙ্কা জেগেছিল। শেষ পর্যন্ত হজ হচ্ছে, তবে সৌদি আরবের বাইরের কেউ হজ করতে পারবেন না। প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বেড়ে যাওয়ার পর হজের জন্য কিছু স্বাস্থ্যবিধি ঘোষণা করেছে সৌদি সরকার।
সোমবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, এবারের হজ পালনের সময় কাবা স্পর্শ করতে পারবেন না হাজীরা। নিষিদ্ধ করা হয়েছে সব ধরনের সমাবেশ ও সভা।

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে এবারের হজে এক হাজার জনকে সুযোগ দেওয়ার কথা গত জুনে জানায় সৌদি সরকার। আধুনিক যুগে প্রথমবার বিদেশি মুসলিমদের জন্য হজ নিষিদ্ধ করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এবার নতুন করে কিছু স্বাস্থ্যবিধি যুক্ত করল সৌদি সরকার।

ইসলামের পবিত্র নির্দশন কাবা স্পর্শ করা যাবে না এবারের হজে। নামাজের সময় তো বটেই, কাবা শরীফ তাওয়াফের সময়ও দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে হাজীদের মধ্যে। রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়।

সীমিত সংখ্যক হাজী মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতে যাওয়ার অনুমতি পাবেন। ১৯ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এবারের হজ, এই সময়ে হাজী ও আয়োজকদের প্রত্যেকের জন্য সর্বদা মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা  হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, সৌদি প্রেস এজেন্সি, দ্য স্ট্রেইট টাইমস

১২ জুলাই থেকে টাকা ফেরত পাবেন হজ নিবন্ধনকারীরা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজে যাওয়ার জন্য যারা নিবন্ধন করেছেন, তারা টাকা ১২ জুলাই থেকে টাকা ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

হজ বিষয়ক সভা শেষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো নুরুল ইসলাম বুধবার (২৪ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি আরো জানান, প্রাক-নিবন্ধন এবং নিবন্ধন যথারীতি ২০২১ (১৪৪২ হিজরি) সালের প্রাক নিবন্ধন এবং নিবন্ধন হিসেবে কার্যকর থাকবে। ২০২১ সালে কোনো কারণে হজ প্যাকেজ এর ব্যয় বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলে তা বর্তমানে হজযাত্রীর জমাকৃত অর্থের সমন্বয় করা হবে।

কোন হজযাত্রী হজের টাকা উত্তোলন করতে চাইলে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ যাত্রীদের জন্য তিনি অনলাইনে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করবেন এবং কোন প্রকার সার্ভিস চার্জ কর্তন ছাড়াই তাকে তার সমুদয় অর্থ ফেরত প্রদান করা হবে।

তবে এবছর যারা নিবন্ধন করেছেন, তারা ২০২১ সালে অগ্রাধিকার পাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন হাব সভাপতি।

আল্লাহর ভয় মন-দীলে রাখতে হবে, করোনা আক্রান্ত রোগী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না : জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিববুল্লাহ হিল বাকী নদভী
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আজ শুক্রবার রাজধানীসহ সারাদেশে মসজিদগুলোতে জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে। জুমার নামাজের দু’ঘন্টা আগ থেকেই বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রত্যেক প্রবেশ পথে জীবাণুনাশক বুথ স্থাপন করা হয়। অনেক মসজিদে জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় মুসল্লিরা রাস্তার ওপর বৃষ্টিতে ভিজে জুমার নামাজ আদায় করেন। নগরীর মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজমেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে জুমার নামাজে প্রচুর মুসল্লির সমাগম ঘটে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আজ জুমার খুৎবা পূর্ববয়ানে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিববুল্লাহ হিল বাকী নদভী বলেন, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। করোনা রোগী হলেই তার সেবাশ্রুষাএ আমরাবাদ দিয়ে দিচ্ছি। তিনি বলেন, হাদীসে আছে যতক্ষণ একজন ব্যক্তিরোগীর সেবা করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকবে। কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।
পেশ ইমাম মুফতি মুহিববুল্লাহ হিল বাকী নদভী আরও বলেন, যতে গুলো লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তাদের সেবা করতে গিয়ে শতকরা কত ভাগ লোক আক্রান্ত হয়েছে। বরং সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খুবই কম। আক্রান্ত হবার শঙ্কায় এসব রোগীর সেবা বাদ দেয়া একেবারেই অমানবিক। তিনি বলেন, সুস্থ্য থাকতে আপনি যদি কোনো রোগীর সেবা থেকে দূরে সরে থাকেন আপনি আক্রান্ত হলে অন্যরাও আপনার সেবা থেকে দূরে থাকবে। পেশ ইমাম মুফতি মুহিববুল্লাহ হিল বাকী নদভী বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মারা গেলে তার প্রতি কোনো খারাপ ধারণার পরিবর্তে উনি যে শহীদি মর্যাদা পেয়েছেন তার জন্য তারপ্রতি সম্মানবোধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার দাফন কাফনের সহযোগিতা থেকেও দূরে থাকছে কতিপয় নিকটতম প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজনরা। সঃঝচঁচঁ এ ধরণের কাজ মোটেই উচিত হবে না। অনেক জায়গায় শোনা যাচ্ছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন কাফনে বাধা দেয়া হচ্ছে। অথচ করোনায় মৃত ব্যক্তির ৩ ঘন্টা পরে তার জীবাণুর অস্তিত্ব থাকে না বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্বীকৃত।
চকবাজারের ইসলামবাগ বড় মসজিদের খতীব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি আজ খুৎবার বয়ানে বলেন, মুমিনকে যে কোনো পরিস্তিতিতে ঈমানের ওপর অবিচল থাকতে হবে। ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ধৈর্য্য ও সংযমের মাধ্যমে ঈমানী গুণ অর্জন করতে হবে। সক্ষমদেরকে অক্ষমদের পাশে থাকতে হবে। মাওলানা আফেন্দি বলেন,সকল ধরণের অমানবিক আচরণ বন্ধ করতে হবে। অনাচারের পথ ছেড়ে আল্লাহ ও তার রসূলের (সা.) পূর্ণ অনুগত হতে হবে। তা’হলেই আল্লাহর রহমত মুমিনের ওপর বর্ষিত হবে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলার ধর্মশুর হামিদিয়া মাদরাসার মোহতামীম ও রুহিতপুর বাজার শাহী মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা নুরুল হক হামিদী খলিফা পীর সাহেব মধুপুর খুৎবাহ পূর্ব বয়ানে বলেন,করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ভয় নহে, ভয় করতে হবে মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎকে। করোনার আতংকে মানবতা হারিয়ে ফেলছি, এই মানবতাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। ঈমানী শক্তি ধরে রাখতে হবে। অনেকে হজ করার জন্য নিয়ত করেছেন, তাঁদের মন-দীল পরিস্কার করতে হবে। শুধু জুম`আর নামাজ আদায় করলে হবে না, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে। মুসলমানদের পাঁচ বেনা বাঁ স্তম্ভ নামাজ,রোজা, কালেমা,হজ ও যাকাত পুনাঙ্গভাবে আকরে ধরে রাখতে হবে। অর্থসম্পদ থাকলে হজ করা জরুরি। যাকাত বাঁ দানের মাধ্যমে আল্লাহ তার বান্দাকে বিভিন্ন মহামারির বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হতে নিরাপদ দূরত্বই বজায় রেখে নামাজ আদায় করি।

কামরাঙ্গীরচর হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) মসজিদের খতিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী খুৎবার বয়ানে বলেন, আল্লাহ তায়ালা তারবান্দাদেরকে অসংখ্যা নেয়ামত দান করেছেন। বান্দার উচিৎ সেসব নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা এবং অধিকহারে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত বন্দেগিতে লিপ্ত থাকা। আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত সমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় নেয়ামত হচ্ছে তাওহিদ অথাৎ ঈমানের নেয়ামত। মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করার জন্য চতুরমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। আল্লাহপ্রদত্ত দ্বিতীয় নেয়ামত হচ্ছে এলেম। এলেম যাতে মুসলমানদের সন্তানরা শিখতে না পারে এ জন্য হাটহাজারী মাদরাসাসহ দ্বীনি মাদরাসগুলোর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করে চলছে। যে কোনো মূল্যে মুসলমানদের ঈমান ও আমলের হেফাজত করতে হবে। মাওলানা মিয়াজী মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের পাদুর্ভাব থেকে হেফাজতের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনেচলা এবং বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার পড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মুসলিম কখনও হিংসুক হতে পারে না
                                  

ফয়জুল্লাহ আমান : আত্মার রোগসমূহের মাঝে অন্যতম একটি হচ্ছে হিংসা।হিংসুক হিংসার কারণে ভেতরে ভেতরে জ্বলতে থাকে। কারো কোনো গুণ তার সহ্য হয় না।

এজন্য কারো ভালো কিছু দেখলেই তার শত্রুতে পরিণত হয়।শত্রুতা করাই হয় তার কাজ। ঠিক ইবলিস শয়তানের মত। ইবলিস যখন আদমের গুণ দেখতে পেল তখনই সে তার শত্রু হয়ে গেল।

হিংসা থেকেই সে বলল, আনা খাইরুম মিনহু। আমি তার চেয়ে ভালো। হে মাবুদ, তুমি তাকে আমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছ? আমি তার বংশধরদের পথভ্রষ্ট করে ছাড়ব। (বানু ইসরাইল, আয়াত: ৬২)

হজরত আদম পৃথিবীতে আসলেন। তার সন্তানদের ভেতর শয়তানের এ পঁচা গুণটি সংক্রমিত হলো। কাবিল হিংসা করল হাবিলকে। হিংসায় জ্বলে নিজের ভাইকে হত্যা করল।

হিংসা এমন এক রোগ যা সুস্থ মানুষের মন বিগড়ে দিতে দেরি করে না। বিবেচনা বোধ একেবারে লোপ পায়। বিবেক বলে কিছু থাকে না হিংসুকের।

নবীর সন্তান হয়েও হিংসার কারণে কী জঘন্য কর্ম করেছিল ইউসুফের (আ.) ভাইয়েরা।

‘তারা বলল, পিতার কাছে ইউসুফ ও তার ভাই আমাদের চেয়ে বেশি প্রিয়, অথচ আমরা একটি সংহত দল; আমাদের পিতা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে। তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো অথবা তাকে কোথাও ফেলে আস, ফলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু তোমাদের প্রতিই নিবিষ্ট হবে, তারপর তোমরা ভালো মানুষ হয়ে যাবে।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৮-৯)

নিজেদের বৈমাত্রিয় ভাইকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েও তাদের নিজেদেরকে বিভ্রান্ত মনে হয়নি। আর অপেক্ষাকৃত ছোট বলে ইউসুফ ও বিন ইয়ামিনকে অধিক আদর করেন বলে ইয়াকুবকে (আ.) বিভ্রান্ত বলে ফেলল। ভাইকে হত্যা করা বা গুম করা অপরাধ তা তারা বুঝতে পারছিল। কিন্তু নিজেদেরকে এই বলে বুঝ দিল যে, আমরা এই অন্যায় করার পর খুব ভালো মানুষ হয়ে যাব।

হিংসুক এমনই হয়। তার স্বাভাবিক বোধ বুদ্ধি লোপ পায়। যে করে হোক অনিষ্ট সাধন করেই সে শান্ত হয়। এজন্যই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা হিংসুক থেকে আশ্রয় নিতে শিখিয়েছেন।

আল্লাহ ইরশাদ করেন, ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ। আর আমি প্রভাতের প্রভুর নিকট আশ্রয় নিচ্ছি হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে। (সুরা ফালাক)

রাসুল (সা.) বলেন, খবরদার হিংসা থেকে বেঁচে থাক, হিংসা সব নেক আমল খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন শুকনো ঘাস খেয়ে ফেলে। (আবু দাউদ)

সত্যি হিংসা আগুনের মতই হিংসুকের পেটের ভেতর জ্বলতে থাকে। হিংসুকের হিংসাকে পরোয়া না করলে সে আগুন হিংসুককেই জ্বালিয়ে সারখার করে দেয়।

এ জন্য কেউ হিংসা করলে তাতে খুব বিচলিত হবার কিছু নেই। হিংসাকারী ভালো কোনো কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। সে শুধু নষ্ট করতে জানে। জ্বালাতে জানে। জ্বালানোর মত কিছু না থাকলে নিজের ভেতরেই জ্বলতে থাকে। তাকে জ্বলতে দেয়া উচিত। তুষের মত সে জ্বলুক।

বুযুর্গরা দোয়া করতেন, হে আল্লাহ, আমাকে যেন মানুষ হিংসা করে, আর আমি যেন কাউকে হিংসা না করি। এর অর্থ হচ্ছে আমাকে অনেক গুণের আধার বানাও, আমার গুণ দেখে যেন সবাই হিংসায় জ্বলে; আর আমার ভেতর কোনো অপূর্ণতা রেখ না, অপূর্ণতা থাকলেই তো আমি অন্যকে হিংসা করব।

আপনার ভেতর যখন গুণ থাকবে তখন লোকেরা আপনাকে হিংসা করবেই। এ নিয়ে আপনার এজন্য দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বরং কেউ হিংসা করলে আপনার খুশি হওয়া উচিত। যখন আপনার ভেতর কোনো গুণের অভাব থাকে তখনই আপনি অন্যের ভেতর সে গুণ দেখে তাকে হিংসা করবেন।

আরব কবি বলেন, একটা দিন কোনো হিংসুকের হিংসা থেকে মুক্ত থাকা খুবই মন্দ কথা। নিকৃষ্ট মানুষকেই কেউ হিংসা করে না। হে খোদা আমি যেন এমন নিকৃষ্ট না হই যে, আমাকে আর কেউ হিংসা করে না।
সত্যি অযোগ্য অপদার্থ লোকদের কেউ হিংসা করতে যায় না।

প্রিয় পাঠক, এজন্য হিংসা না করে নিজেকে এমন ভাবে গড়ে তুলুন যেন অন্যরা সবাই আপনাকে হিংসা করতে পারে। হিংসুটে না হয়ে হিংসার পাত্র হবার চেষ্টা করুন।

রাসুল (সা.) বলেন, ইমান ও হিংসা কারো ভেতর একত্র হতে পারে না। (মুসলিম)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা পরস্পর হিংসা বিদ্বেষ করো না, একে অপরকে ধোকা দিয়ো না, সম্পর্ক ছিন্ন করো না, হে আল্লাহর বান্দারা তোমরা সবাই ভাই ভাই হয়ে যাও। (মুসলিম)

এবার বর্তমান সমাজের দিকে তাকিয়ে দেখুন। মুসলিম সমাজে ইসলামের এ শিক্ষাগুলো কতটুকু আছে? অন্যদের দিকে না তাকিয়ে প্রত্যেকে যার যার অবস্থা যাচাই করুন।

আমরা আজকাল সবাই কি একটু বেশিই হিংসুটে হয়ে যাচ্ছি না? কেন? এমন হিংসুটে ভাব কেন? অন্যের ভালোটা সইতে এত কষ্ট হয় কেন? তার কারণ হচ্ছে আমরা আর সত্যিকার মুসলিম নেই।

ইমানের মূল মর্ম আমরা হারিয়ে ফেলেছি। মগজহীন খোসা নিয়ে আছি আমরা।

ইমান নিয়ে কবরে যেতে হলে আমাদের স্বভাব পাল্টাতে হবে। বদলাতে হবে নিজেদেরকে। গুণীর গুণের স্বীকৃতি দেয়া শিখুন। কারো ভালো কিছু দেখে কষ্ট হলে কষ্ট ভেতরেই রাখুন। বাইরে যেন প্রকাশ না পায়। ভেতরে ভেতরে কিছুক্ষণ জ্বলুন। একসময় ঠাণ্ডা হয়ে যাবেন।

নিজের চিকিৎসা নিজেকেই করতে হবে। নিজেকে গড়ার কাজ করলে এসব রোগ বাসা বাঁধতে পারে না। একজন ইমানদার কখনও অন্যের ভালো দেখে হিংসা করতে পারে না। অন্যের সুখে সুখী হওয়াই ইমানদারের লক্ষণ।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সবাইকে হিংসার দোষ থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

অহংকার যে কারণে পতনের মূল
                                  

ফয়জুল্লাহ আমান

অহংকার ও দম্ভ সব আত্মিক রোগের মূল। আরবিতে একে উম্মুল আমরাজ বলা হয়।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ অহংকারিদের পছন্দ করেন না। (সুরা: নাহল, আয়াত: ২৩) রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (মুসলিম শরীফ)

অহংকার ও বিনয়, কোনটি ভালো? এ প্রশ্নের উত্তর জানার আগে আপনি প্রশ্ন করতে পারেন অহংকারীদের নামের তালিকায় কে কে আছেন? আর বিনয়ীদের নামের তালিকায় কারা আছেন?

আমরা দেখতে পাই অহংকারীদের ভেতর শীর্ষে আছে ইবলিস। ইবলিস শয়তান বলেছিল, আমি আদমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ বললেন, অহংকার করা তোমার উচিত নয়, যাও লাঞ্ছিত হয়ে বের হয়ে যাও এখান থেকে। (সুরা আরাফ)

মানুষের ভেতর অহংকারী ছিল নমরুদ, ফেরাউন, আবু জাহেল। অহংকারে ফেরাউন বলেছিল, আমি তোমাদের বড় রব। নমরুদ আবু জাহেল আবু লাহাব উতবা শায়বা আরও অসংখ্য লোক দম্ভ ভরে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল।

এর বিপরীতে বিনয়ী ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সব মনীষীরা। হযরত আদম (আ.) থেকে নিয়ে আখেরি পয়গম্বর পর্যন্ত সব নবী রাসূল অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। সাহাবী তাবেয়ি ও আল্লাহর ওলিরা সবাই বিনয়ের চর্চা করতেন। অহংকার থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতেন।

দাম্ভিকদের শেষ পরিণতি মোটেও শুভ হয় না। বিনয়ী মানুষকে সবাই ভালোবাসে। মানুষের এবং আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে আমাদের অবশ্যই বিনয়ী হতে হবে।

বিনয়ী বিনয় প্রকাশ করার কারণে তার সম্মান কমে যায় না। যে আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বন করে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। (তাবারানি)

আর যারা অহংকার করে কাল কেয়ামতে তাদেরকে বিন্দুর আকৃতি দেয়া হবে, সব মানুষ তাদেরকে পদদলিত করবে। আল্লাহর কাছে দাম্ভিক লোক এতটাই অপছন্দের।

অহংকার থেকেই হিংসা, ক্রোধ, বিদ্বেষ ও শত্রুতার দোষ ঘর করে মনের ভেতর। আভ্যন্তরীণ এমন অসংখ্য রোগ অহংকারীর ভেতরটাকে শেষ করে দেয়। ভালো কোনো গুণই আর সে ধরে রাখতে পারে না।

কারো কাছ থেকে ভালো কোনো উপদেশ গ্রহণের মত তার অবস্থা থাকে না। সবাইকে সে নিজের চেয়ে ছোট মনে করতে থাকে। নিজেকে বড় মনে করার রোগ একবার গেড়ে বসলে ধীরে ধীরে এটা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সা.-এর নির্দেশনা মান্য করার গুণ থেকেও বঞ্চিত হয়।

অহংকার হৃদয়ের রোগ হলেও এর প্রকাশ বাহ্যিক আচরণের মাধ্যমেই হয়। অন্যদের প্রতি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য প্রকাশের মাধ্যমে সে তার অহংকার প্রকাশ করতে থাকে। কপাল কুচকে থাকে সব সময়। চেহারায় অন্য রকম একটা ভাব নিয়ে আসে। অন্যদের প্রতি চরম এক ঘৃণা ফুটে ওঠে তার কথাবার্তা ও আচরণে।

হযরত ইবন আব্বাস (রা.) বলেন, লোকে বলে আমি সম্ভ্রান্ত। অথচ সম্ভ্রান্ত হওয়া বা আভিজাত্য অর্জন করতে হয় তাকওয়ার মাধ্যমে।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন, আল্লাহর নিকট তোমাদের ভেতর সবচেয়ে সম্মানিত হচ্ছে তাকওয়ার অধিকারী। (হুজুরাত, আয়াত: ১৩)

কেউ তাকওয়ার গুণ অর্জন ছাড়া অভিজাত হতে পারে না। সম্পদ, সৌন্দর্য, জ্ঞান, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও অন্য কোনো গুণ নয়, একমাত্র তাকওয়া মানুষকে অভিজাত করে।

আর তাকওয়া যার অর্জিত হবে সে কখনও অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে না। নিজেকে সে কখনও অভিজাত বা সম্ভ্রান্ত দাবি করবে না। কারণ গর্ব করা ও দাম্ভিকতা প্রদর্শন আল্লাহর কাছে খুবই অপছন্দনীয়।

অবশ্য সুন্দর ভাবে চলা ও পরিপাটি হয়ে থাকার নাম অহংকার নয়। রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহ সুন্দর, তাই সৌন্দর্য পছন্দ করেন। সুন্দর পোষাক পরার নাম অহঙ্কার নয়, অহঙ্কার হচ্ছে, সত্য অস্বীকার করা আর মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা। (তিরমিযি)

রাসূল (সা.) খুব বিনয়ী ছিলেন। খুব সাধারণভাবে চলা ফেরা করতেন। খাবার খাওয়ার সময় গোলামের মত বসে খাবার খেতেন। দীর্ঘ দিন যাবৎ নিজের জন্য পৃথক কোনো আসনও তিনি গ্রহণ করেননি। যার ফলে দূর থেকে কেউ এসে সাহাবিদের থেকে রাসূলকে (সা.) আলাদা করতে পারত না।

একটা বাদিও রাসূলকে (সা.) যদি মদীনার পথের মাঝে দাঁড় করিয়ে কথা বলত; রাসূল (সা.) তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন।

হযরত আনাস বর্ণনা করেন, একবার মদীনা মুনাওয়ারায় এক সাধারণ দাসী রাসূলের (সা.) হাত ধরে তার একটি কাজে নিয়ে গেল, রাসূল (সা.) তার কাজ করে দিলেন। অহঙ্কারে হাত ছুটিয়ে নেননি।

মুহাদ্দিস ইবন ওয়াহাব বলেন, একবার আমি আব্দুল আযীয ইবন আবি রাওয়াদের (রহ.) মজলিসে বসলাম। তার পায়ের সঙ্গে আমার পা লেগে গিয়েছিল, আমি পা সরিয়ে নিলে তিনি আমার কাপড় ধরে তার দিকে টান দিলেন।

আর বললেন, তোমরা আমার সঙ্গে এমন আচরণ করো কেন? আমি কি অহঙ্কারী রাজা বাদশাহদের মত? খোদার কসম, আমার চোখে তোমাদের ভেতর আমার চেয়ে অধম আর কেউ নেই।

মুসলিম মনীষীদের বিনয়ের অসংখ্য গল্প আছে। আজকে আমরা ইসলামের এ শিক্ষা কতটুকু ধারণ করতে পারছি?
কতটুকু বিনয়ের চর্চা রয়েছে আমাদের ভেতর? জান্নাত পেতে চাইলে অহংকার ত্যাগ করে বিনয়ী হবার বিকল্প কিছু নেই। আমাদের অবশ্যই বিনয়ী হতে হবে।

কারণ আমরা মুসলিম। আর একজন মুসলিম সবসময় উচু পর্যায়ের বিনয়ী ও বিনম্র।

জুমার খুতবা চলাকালীন দানবাক্স চালানো কি জায়েজ?
                                  

শিহাব সাকিব

মুসলমানদের কাছে শুক্রবার সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এর রয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য।

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দিন হল শুক্রবার। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং তা থেকে বের করে দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়েছে। আর এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (সহিহ মুসলিম: ৮৫৪)

শুক্রবারের অন্যতম আমল হল জুমার নামাজ। এর ফজিলত অপরিসীম।

এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, যে গোসল করে জুমায় আসে এবং সামর্থ্য মাফিক নামাজ পড়ে চুপচাপ ইমামের খুতবা শুনে ও জুমার নামাজ আদায় করে তার পেছনের দশদিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (সহিহ মুসলিম: ৮৫৭-২৬)

জুমার পূর্বের দুই খুতবা জুমার আবশ্যকীয় অংশ। মুসল্লিদের জন্য তা মনযোগ ও গুরুত্বের সঙ্গে শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন অন্য কোন কাজ করা, কথাবার্তা বলা, নামাজ পড়া জায়েজ নেই। এমনকি পাশে কেউ কথা বললে তাকে `চুপ কর` বলতেও নিষেধাজ্ঞা এসেছে হাদিসে।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন খুতবা চলা অবস্থায় যদি তোমার পাশের সাথীকে বল চুপ কর তাহলে তুমি একটি অনর্থক ও মন্দ কাজ করলে। (সহিহ বুখারি: ৯৩৪, সহিহ মুসলিম: ৮৫১)

খুতবা শোনার এত এত ফজিলত ও না শোনার গুনাহের কথা বর্ণিত হলেও দুঃখজনক বিষয় হল আমাদের সমাজে খুতবাতে ব্যত্যয় ঘটে এমন কাজ আয়োজন করে করা হয় প্রতিনিয়ত।

তন্মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি হল কোন কোন মসজিদে খুতবা চলাকালীন দানবাক্স চালানো হয়। এটা ঠিক নয়। যেখানে খুতবার সময় নামাজ পড়া, অন্যকে চুপ করতে বলাও গুনাহের কাজ, ‍যদিও অন্য সময় তা উত্তম। সেখানে দানবাক্স চালানো তো আরও বড় গুনাহের কাজ। সুতরাং তা পরিহার করা জরুরি।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওজু করে জুমার জন্যে মসজিদে এল। তারপর মনযোগের সঙ্গে খুতবা শুনল এবং নিরবতা পালন করল তার দশ দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে নুড়ি স্পর্শ করল সে অনর্থক ও গুনাহের কাজ করল। (মুসলিম, ৮৫৭:২৭)

এ বিষয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম মুফতি মানসুরুল হক বলেন, ‘খুতবা চলাকালীন দানবাক্স চালানো মারাত্মক ভুল। এতে গুনাহ তো হয়ই উপরন্তু জুমার ফজিলতও বাতিল হয়ে যায়।’

মসজিদের জন্য দান করা ও দান সংগ্রহ করা অনেক সওয়াবের কাজ। এসব কাজে মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা উচিৎ। আর এক্ষেত্রে উত্তম পন্থা হল সবাই নিজ উদ্যোগে দায়িত্বশীলদের কাছে অনুদান পৌঁছে দেয়া।

হ্যা, একান্ত প্রয়োজন হলে সুন্নত নামাজের আগে বা পরে অথবা একদম ফরজ নামাজ শেষ করে দানবাক্স চালাতে সমস্যা নেই।

উল্লেখ্য, কোন কোন বুযুর্গ দানবাক্স চালিয়ে অনুদান সংগ্রহ করা পছন্দ করেন না। অতএব কর্তৃপক্ষের কাছে মসজিদের চাঁদা ওঠানোর জন্যে উত্তম কোন বিকল্প ভাবার অনুরোধ রইল।

আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে মহিমান্বিত ‍জুমার দিনের যথার্থতা বোঝার ও তার মাহাত্ম্য রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা, আদদুররুল মুখতার, রাদ্দুল মুহতার, মাসিক আল কাউসার ও মাসিক রহমানি পয়গাম।

শাওয়াল মাসের ৬ রোজার গুরুত্ব
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ইবাদতের মাধ্যমেই বান্দা মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভ করে। প্রতিটি নেক কাজেই রয়েছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান। আল্লাহতায়ালা বলেন, আমি জিন ও মানব জাতিকে আমারই ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি (সূরা যারিয়াত : ৫৬)।

আল্লাহতায়ালা সূরা আনয়ামের ১৬০ নম্বর আয়াতে বলেন, কেউ কোনও সৎকাজ করলে সে তার ১০ গুণ সওয়াব পাবে।
মহানবী (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, তোমরা যেকোনো নেক আমলই করবে, আমার কাছে তার ১০ গুণ সওয়াব প্রস্তুত আছে (হাদিসে কুদসি)।
আল্লাহ বলেন, আমার প্রত্যেক বান্দা আমারও ইবাদত করবে এবং তার মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে। ইবাদত মূলত দুই প্রকার। ফরজ ইবাদত, যেমন- নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি। নফল ইবাদত, যেমন- নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-খয়রাত, নফল রোজা রাখা ইত্যাদি।

আল্লাহর কাছে সেই প্রিয় হবে, যখন তার প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। সুখে-দুঃখে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে, তাঁকেই ভালোবাসবে। ফরজ ইবাদত সম্পন্ন করার সাথে সাথে নফল ইবাদতে অধিক মনযোগী হবে। নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে নফল রোজা বান্দাকে অতি সহজেই মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয়। কারণ রোজা এমন একটি ইবাদত যা জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঢালস্বরূপ এবং এর প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ দিয়ে থাকেন।

মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসে ফরজ রোজা পালন করল, এরপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়দিন রোজা পালন করল, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল (সহিহ মুসলিম)। তার মানে যখন রমজান মাসের রোজা রেখে তার সাথে সাথে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখল সে এই রোজার কারণে মহান আল্লাহর দরবারে পূর্ণ একটি বছর রোজা রাখার সওয়াব পেয়ে গেল।

পবিত্র জুমআতুল বিদা আজ
                                  

ধর্ম ডেস্ক : পবিত্র জুমআতুল বিদা আজ । এ জুমআ দ্বারা রমজানের শেষ জুমআকে বোঝানো হয়ে থাকে। জুমআতুল বিদাকে ইবাদতের বিশেষ দিন মনে করে গুরুত্ব দেয়া হয়। কোনো কোনো মানুষের ধারণা, এর বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদা রয়েছে। ফলে তারা এ জুমআ আদায়ের জন্য এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদে গমন করে। ইসলামি শরিয়তে জুমআতুল বিদা বলে আলাদা কোনো ফজিলত নেই।

তবে একথা ঠিক যে, জুমআর দিন অনেক ফজিলত ও মর্যাদার দিন। আর রমজানের কারণে জুমআর দিনের মর্যাদাও বেড়ে যায়। জুমআতুল বিদার বিশেষ ফজিলতের কথা না ভেবে যেহেতু আজই রমজানের শেষ জুমআ তাই জুমআ আদায়ে কুরআন-সুন্নাহ ঘোষিত ফজিলত লাভে সচেষ্ট হওয়া প্রত্যেক ঈমানদার মুসলমানের জন্য জরুরি।

ইতিমধ্যে রমজানে মুমিন মুসলমান তিনটি জুমআ অতিবাহিত করেছেন। আজ রমজানের বিদায়ী জুমআর দ্বার প্রান্তে। তাই কুরআন নাজিলের মাসের মর্যাদা ও বরকতের সঙ্গে জুমআর মর্যাদা ও ফজিলতে মুমিন রোজাদারের আমল ও হৃদয় হোক আলোকিত।

জুমআর নামাজের মর্যাদা সম্পর্কে হজরত সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, `তোমরা জুমআর নামাজে উপস্থিত হও এবং ইমামের কাছাকাছি হয়ে দাঁড়াও। কেননা যে ব্যক্তি জুমআর নামাজে সবার পেছনে উপস্থিত হবে, জান্নাতে প্রবেশ ক্ষেত্রেও সে সবার পিছনেই পড়ে থাকবে।` (মুসনাদে আহমদ)

মুসলিম উম্মাহর কাছে জুমআর দিনটি সপ্তাহিক ইবাদতের দিন এবং ঈদ হিসেবে গণ্য। এ দিনের ফজিলত এমনিতেই বেশি। তবে রমজানের শেষ দশকে হওয়ার কারণে এ জুমআর সঙ্গে শেষ দশকের ফজিলতও যোগ হয়েছে। জুমআর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সূর্যোদয় হওয়ার সবগুলো দিনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ও শ্রেষ্ঠ হলো জুমআর দিন। এই জুমআর দিনেই হজরত আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন এবং জুমআর দিনই তাকে জান্নাত দান করেন এবং জুমআর দিনেই তাকে জান্নাত থেকে এই দুনিয়ায় প্রেরণ করেন এবং কেয়ামতও এই জুমআর দিনেই অনুষ্ঠিত হবে। (মুসলিম)।

পাঁচ শ্রেণির লোক ব্যতিত জুমআর নামাজ ত্যাগ করা কবিরা গোনাহ। তারা হলো-
- ক্রীতদাস;
- স্ত্রীলোক;
- অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক;
- মুসাফির এবং
রোগাক্রান্ত ব্যক্তি। (আবু দাউদ)

জুমআ নামাজ না পড়ার পরিণাম-
- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পরপর তিনটি জুমআ বিনা ওজরে ও ইচ্ছা করে ছেড়ে দেবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। (তিরমিযী,আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জুমআ ত্যাগকারী লোকেরা হয় নিজেদের এই খারাপ কাজ হতে বিরত থাকুক, নতুবা আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তাদের এই গোনাহের শাস্তিতে তাদের অন্তরের ওপর মোহর করে দেবেন। পরে তারা আত্মভোলা হয়ে যাবে। অতপর সংশোধন লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে। (মুসলিম)

- হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা এই রকম- যে ব্যক্তি পর পর তিনটি জুমআ পরিত্যাগ করবে, সে ইসলামকে পিছনের দিকে নিক্ষেপ করল। (মুসলিম)।

সুতরাং আমরা জামআ`র নামাজ পরিত্যাগ না করে সবার আগে আগে রমজানের শেষ জুমআর নামাজ তথা জুমাআতুল বিদা আদায় করতে মসজিদে উপস্থিত হওয়া। বিগত জীবনের ভুল-ভ্রান্তি ও গোনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা জরুরি।

সতর্কতা
ইসলামের প্রাথমিক যুগেও জুমাআর প্রচলন ছিল। সে সময় জুমআর দিনকে ইয়াওমে আরুবা বলা হতো। যা ইয়াহুদি, খ্রিস্টান তথা জাহেলি সম্প্রদায়ের লোকেরা পালন করতো। তারা জুমআর দিনে গল্প-গুজব, হাসি-ঠাট্টা, আমোদ-ফুর্তির আসর বসাত। এই ছিল তাদের জুমআর সংস্কৃতি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুমিন মুসলমানকে এ ধরনের উৎসব থেকে হেফাজত করুন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের শেষ জুমআ আদায়ের মাধ্যমে নিজেদের বিগত জীবনের সব গোনাহ থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন। জুমআর ফজিলত ও মর্যাদাকে রমজনের ফজিলতের সঙ্গে বাড়িয়ে মুমিনের সব আমলকে কবুল করার মাধ্যমে তাদের হৃদয়ে হেদায়েতের আলোতে ভরপুর করে দিন। আমিন।

যে কারণে রমজানকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতে ভাগ করা হয়েছে
                                  

ফয়জুল্লাহ আমান

রোজার মাস উপলক্ষে আমাদের দেশে বহু প্রতিষ্ঠান ক্যালেন্ডার ছাপে। ক্যালেন্ডারে রমজানের তিন দশককে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। প্রথম দশক রহমত। দ্বিতীয় দশক মাগফিরাত। আর তৃতীয় দশক নাজাত।


রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। বিষয়টি আমাদের সবারই জানা। হজরত সালমান (ফার্সি) রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এ বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, রমজান এমন এক মাস, যার শুরুতে রহমত, মাঝে মাগফিরাত এবং শেষে জাহান্নাম থেকে মুক্তি। (ইবন খুজাইমা ১৮৮৭)

রমজান পুরোটাই তো রহমতের। প্রশ্ন জাগে তাহলে এভাবে ভাগ করার কী অর্থ থাকতে পারে?

তিরমিজির হাদিসে রয়েছে, `প্রতি রাতেই জাহান্নাম থেকে অসংখ্য মানুষকে মুক্ত করা হয় রমজানে।` রহমত মাগফিরাত ও নাজাতে ভাগ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অনেকেই বুঝতে পারেন না।

কোনো কোনো হাদিস বিশারদ এজন্য হাদিসের সনদ নিয়ে ঘাটাঘাটি করেছেন। এ হাদিসের সনদে আলি ইবন যায়েদ নামে একজন বর্ণনাকারী আছেন।

তার ব্যাপারে অনেক মুহাদ্দিসের অভিমত হচ্ছে- তার স্মৃতি শক্তি ছিল দুর্বল; অনেক সময় তিনি বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করেছেন। কাজেই তার থেকে বর্ণিত হাদিস বোধগম্য না হলে গ্রহণ করা উচিত নয়।

একজন বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে রাসুল সা.-এর একটি হাদিসকে অস্বীকার করার দুঃসাহস করা উচিত নয়। চলমান পৃথিবীর মানুষের জন্য এ হাদিস বোঝা দুস্কর কিছু নয়। পাঠক আপনি চিন্তা ভাবনা করলে আপনার কাছেও এর অর্থ আশা করা যায় স্পষ্ট হয়ে যাবে।

আজকের মানুষ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের ভাগের ব্যাপারে সহজ একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে নিতে পারে। আসুন কিছুক্ষণ একটি হাদিসের মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করি।

সারা বিশ্বেই বর্তমানে অসংখ্য দিবস পালিত হয়। নারী দিবস, মা দিবস, বাবা দিবস, শ্রমিক দিবস, ভাষা দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস আরও কত যে দিবস রয়েছে তার হিসেব করা সহজ কথা নয়।

বৎসরের এমন কোনো দিন নেই যে দিনে কোথাও না কোথাও কোনো দিবস পালিত হয় না। তো মা দিবসের অর্থ এ নয় যে, সে দিনই মায়ের খোঁজ খবর নিতে হবে। মূলত এসব দিবস করা হয় বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার উদ্দেশ্যে।

কোনো বিষয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রকাশ করা হয় এভাবে দিবস ঠিক করে। দিবস ছাড়া সপ্তাহও ঘোষণা করা হয়। যেমন পুলিশ সপ্তাহ বা আরও অনেক বিষয়েই সপ্তাহ পালন করার রীতি রয়েছে।

এসব হচ্ছে প্রতীকি অর্থে করা হয়। এর আক্ষরিক কোনো ব্যাখ্যা করা যায় না।

সভ্যতার উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে এধরনের নানান সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। একটি সমাজ ও সভ্যতার এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব কালচারের বিশেষ গুরুত্ব থাকে।

অবাক হতে হয় আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে আমাদের প্রিয় রাসুল সা. এই ধারাটি চালু করে গেছেন। সভ্য পৃথিবীকে শিখিয়ে গিয়েছেন কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য এভাবে দিবস নির্ধারণ করে সমাজে তার প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে হয়।

এটি প্রিয় নবীজীর উদ্ভাবনী ক্ষমতার দৃষ্টান্ত যেমন পাশাপাশি ইসলামের সাংস্কৃতিক উৎকর্ষতার অনন্য পরিচায়কও বটে। প্রথম দশক রহমত। এই দশকে দশকে ভাগ করার বিষয়টি প্রতীকী অর্থে ধরে নিলে আর কোনো সমস্যা থাকে না।

এটাকে আলঙ্কারিকও বলতে পারেন। এর মাধ্যমে রমজানের প্রতিটি দশকের গুরুত্ব যেমন বোঝায়, রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের প্রয়োজনীয়তার প্রতিও স্পষ্ট দিক নির্দেশনা করে।

সাধারণত আমাদের রমজানের শুরুতে ইবাদত বন্দেগির প্রতি আগ্রহ থাকে প্রচুর। পরে ধীরে ধীরে এ আগ্রহে ভাটা পড়ে। এ হাদিসের মাধ্যমে রাসুল সা. আমাদেরকে একটা ম্যাসেজ দিতে চেয়েছেন। আর তা হচ্ছে এই যে, রমজান পুরোটাই রহমত। কিন্তু আল্লাহর রহমতে সিক্ত হয়ে হয়ে তোমাকে সব পাপ ক্ষমা করিয়ে নিতে হবে। তারপর চূড়ান্ত মুক্তি ও নাজাতের জন্য তোমাকে রমজানের শেষ পর্যন্ত সিয়াম সাধনা করে যেতে হবে।

রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে মুমিন মুসলিমদের। প্রতিদিন নাজাত দেয়া হলেও শেষ রোজায় মূলত সব থেকে বেশি সংখ্যক মানুষকে নাজাত দেওয়া হয়। তাই শেষ দশককে নাজাতের দশক বলা হয়েছে।

সব রোজাদারই পাপমুক্ত নির্মলতায় স্নিগ্ধ হয়ে ঈদ উদযাপন করে। রোজার শেষে ঈদ দেয়ার তাৎপর্যও এখান থেকে স্পষ্ট হয়।

আরাফার দিন জিলহজের নয় তারিখেও আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন। তাই এরপর দিন ঈদুল আজহা উদযাপন হয়।

একইভাবে রমজানের পর ঈদুল ফিতর মহা খুশি হয়ে হাজির হয় মুসলিমদের জীবনে। কারণ তারা সূচিতার সায়রে অবগাহন শেষে পূত পবিত্র হয়ে এসেছে।

প্রথম দশকে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দারা রহমতে সিক্ত হয়ে যায়। রমজানের শুরুতেই তারা পবিত্র মাসের পূর্ণ বরকত পেতে থাকে।

দ্বিতীয় দশকে যাদের ছোট খাটো পাপ আছে তারা নিজেদের সব পাপ মাফ করিয়ে নিতে পারে। ইসলামের অনুসারীদের ভেতর যাদের মন খুব কঠোর তাদের হৃদয় গলতে সময় লাগে।

কিন্তু আল্লাহ এমাসে কাউকেই বঞ্চিত করেন না। মাস শেষ হবার আগে আগে প্রতিটি মুমিনই নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে নেওয়ার মহা সুযোগ পায়।

সত্যি, কী সুন্দর নবীজীর একেকটি হাদিস! আর আমাদের মালিক পরওয়ার কত দয়াময়! তার পাপী তাপী বান্দাদেরকে কাছে টানার কী সুন্দর পথ তৈরি করে রেখেছেন।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সবাইকে এ রমজানে নিজেদের সত্যিকার মুমিন মুসলিম হওয়ার তাওফিক দিন। আমীন।

শর্ত সাপেক্ষে দেশের সব মসজিদ খুলে দেয়া হচ্ছে
                                  

অনলাইন ডেস্ক : শর্তসাপেক্ষে দেশের সব মসজিদ খুলে দেয়া হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে)। আজকের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার জোহর থেকে দেশের মসজিদগুলো খুলে দেয়া হচ্ছে। তবে মসজিদে জামায়াতের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত মানতে হবে। সেগুলো হল- দুইজন মুসল্লির মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়া দুই কাতার পর এক কাতারের জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি প্রস্তুত করা হচ্ছে। আজকের মধ্যে জারি করা হবে।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে জানানো হয়, পবিত্র রমজানে স্টাফ ছাড়া অর্থাৎ খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেমরা ছাড়া কেউ মসজিদে তারাবি নামাজ আদায় করতে পারবেন না। ঘরেই নামাজ আদায় করতে হবে।

তার আগে ৬ এপ্রিল করোনায় সংক্রমিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘরেই সব নামাজ আদায় করার নির্দেশনা দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে পাঁচটি দফা দেওয়া হয়। এগুলো হলো- করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম ব্যতীত অন্য সব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসস্থানে নামাজ আদায় এবং জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়। মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজে অনধিক পাঁচজন ও জুমার নামাজে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। জনস্বার্থে বাইরের মুসল্লি মসজিদের ভেতরে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও ধর্মীয় উপাসনালয়ের পরিবর্তে নিজ নিজ বাসস্থানে উপাসনা করতে হবে।

এতদিন ওই নির্দেশনাটিই বলবত ছিল। তারাবির জন্যও একই নির্দেশনা মানা হচ্ছিল।

তবে এবার মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে মুসল্লিদের জন্য। যদিও জামায়াতে মুসল্লিদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং দুই কাতারের মাঝে এক কাতারের জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে।

এবার ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে সত্তর টাকা থেকে দুই হাজার দুইশত টাকা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : এবার সর্বনিম্ন ফিতরা সত্তর টাকা জনপ্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ধনী শ্রেণির জন্য জনপ্রতি সর্বোচ্চ দুই হাজার দুইশত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিশিষ্ট মুফতি ও আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় সাদকাতুল ফিতরের এ হার চূড়ান্ত করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ বিভাগ এতথ্য জানিয়েছে। গত বছর ফিতরা জনপ্রতি সর্বোচ্চ এক হাজার নয়শত আশি টাকা ও সর্বনিম্ন সত্তর টাকা ছিল। তার আগের বছরে ছিল সর্বোচ্চ দুই হাজার তিনশত ত্রিশ টাকা এবংসর্বনিম্ন সত্তর টাকা।ইসলামী শরিয়াহ মতে আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির, যব ইত্যাদি পণ্য গুলোর যে কোনো একটি দ্বারা ফিতরা দেয়া যায়। দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনিরের সর্বোচ্চ বাজার মূল্যের ভিত্তিতে এই ফিতরা নির্ধারণ করা হয়। তবে খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্যের কারণে স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় করা যায়। ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের আগে মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উপরোক্ত পণ্য গুলোর যে কোনো একটি পণ্য বা এর বাজার মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করতে পারেন।

মসজিদে খুৎবাহ পূর্ব বয়ানে করোনা ভাইরাসের মহামারি থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাইতে হবে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আজ শুক্রবার পবিত্র কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ীই জীবন চালাতে হবে। মাহে রমজান এসেছে তাকওয়া শিক্ষা দেয়ার জন্য। কুরআন নাযেলের এ মাসে তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমেই আল্লাহপাকের নৈকট্য লাভ করতে হবে। প্রাণঘাতী মহামারী করোনাভাইরাস থেকে হেফাজতের লক্ষ্যে মহান আল্লাহ’র কাছে বেশি বেশি পানাহ চাইতে হবে। বেশি বেশি তাওবাহ ইস্তেগফার করতে হবে। মাহে রমজানে ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে ঈমানকে সমৃদ্ধ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আজ শুক্রবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে রমজানের প্রথম জুমার খুৎবাহ পূর্ব বয়ানে মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান এসব কথা বলেন। দূরত্ব বজায় রেখে কয়েকজন মুসল্লি নিয়ে বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের গেইটগুলো বন্ধ ছিল।

এছাড়া রাজধানীসহ সারাদেশের মসজিদগুলোতে সীমিত আকারে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। বিভিন্ন মসজিদের ইমাম খতীবরা খুৎবাহ পূর্ব সংক্ষিপ্ত বয়ানে ও মোনাজাতে ভয়াবহ মহামারী থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীকে হেফাজতের জন্য মহান আল্লাহপাকের কাছে বিশেষ দোয়া করা হয়। ইমামরা মোনাজাতে বলেন, হে আল্লাহ! পবিত্র মাহে রমজানের বরকতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস তুমি’ উঠিয়ে নাও। করোনার গজব দিয়ে তুমি আমাদের ধ্বংস করে দিও না।

বায়তুল মোকাররমের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, আল্লাহপাকের গজব করোনায় গোটা বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। এ গজব আল্লাহই দিয়েছেন আল্লাহপাকই তা’ উঠিয়ে নিবেন। আমাদের গুনাহ ও নানামুখী অপরাধের কথা স্মরণ করে আল্লাহ’র দরবারে বেশি বেশি ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, ভয়াবহ মহামারী থেকে হেফাজতের লক্ষ্যে বিত্তশালীদের অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। ইমাম বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, বান্দা অসহায় মানুষের প্রতি যতক্ষণ পর্যন্ত সাহায্য সহযোগিতা দিতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দা আল্লাহপাকের সাহায্য পেতে থাকবে।

মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখানের জামি`আ হালীমিয়া মধুপুর মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও খতমে নবুওয়াতসংরক্ষণকমিটিবাংলাদেশ আমীর - আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর মাদরাসার জামে মাসজিদে আজ খুৎবাহ পূর্ব বয়ানে বলেন, যা কিছু হওয়ার আল্লাহ্ থেকে হবে। ওমা তাহাছাবনা ইয়া শাআল্লাহ্ আল্লাহ্ তাআ`লা যা করবেন, হাতাই হবে। আল্লাহ্ রাব্বুল ইজ্জৎ সামান্য আজমাইন হিসেবে সাড়া দুনিয়ায় একটু নাড়া দিয়ে অবস্থা পেশ করছে, তাতে সাড়া পৃথিবীর রাজা বাদশাহরা ফেল হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ যদি পুরোপুরি নারাজ হয়ে যায় আমরা কেউ কোনোভাবে বাঁচতে পারবোন, দুনিয়াতেই দোজখের টুকরা হয়ে যাবো। মানুষ এখন সবজায়গা থেকে ফিরিয়ে দেয়, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী ফিরিয়ে দেয়, ডাক্তার ফিরিয়ে দেয়, করোনার ভাইরাসের ভয়ে বাবা-মা ও ফিরে থাকে। চাকরি বাকরি নাই, ব্যাংক খালি নাই, নাই নাই একমাত্র মালিক ডাকে বান্দা ফিরে আসো, তওবাহ করেছো, আবার গুনাহ করেছো, আবার তাওবাহ্ ভেঙ্গেছো, শতবার ভাঙ্গ, হাজার বার ভাঙ্গ এরপরও ফিরে ফিরে আসো। আমি সারংশ বলে ছিলাম, আমাদের না বাঁচার রাস্তা কোনো দেশের সরকার অস্ত্র- সস্ত্র দিয়ে বাঁচাতে পাবেনা, যা কিছু করছে তা আমাদেরকে মারার জন্য করছে। তারা যে আমাদের বাচাঁতে পারবেনা তার পরীক্ষা একদম হয়ে গেছে। সুতরাং আল্লাহর দিকে রুজু করি, দোয়া ইউনুস বেশি বেশি পড়তে থাকবো। রমজান মাস ইনশাআল্লা, রহমতের সময় চলছে, আল্লাহর দয়ার হাত দিয়ে মায়ার হাত দিয়ে মহামারি করোনা ভাইরাসেরআপ্রাদুর্ভাব থেকে বান্দার প্রতি রহম করবেন। রাজধানীর ইসলামবাগ বড় মসজিদের খতীব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি আজ খুৎবাহ পূর্ব বয়ানে বলেন, মহামারী করোনা আল্লাহ’র হুকুমে এসেছে এবং তার হুকুমেই যাবে। সুতরাং আল্লাহর কাছে ঈমান নিয়ে ফিরে আসতে হবে। তিনি বলেন, তাওবার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ জীবন যাপনে সকলকে মনোযোগি হতে হবে।

চকবাজার শাহী মসজিদের খতীব মুফতি মিনহাজ উদ্দিন আজ সীমিত আকারে জুমার বয়ানে বলেন, মাহে রমজান গুনাহ ক্ষমার মাস। তাওবাহ ইস্তেগফারের মাস। এ পবিত্র মাসের দিন-রাতগুলোকে কাজে লাগাতে পারলে মহান আল্লাহপাক সমস্ত বালা-মুসিবত মহামারী করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি দিবেন ইনশাআল্লাহ।

চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু
                                  

অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে মুসলমানদের বহু প্রতীক্ষিত সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান।

আজ শুক্রবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এক সংবাদ সম্মেলনে চাঁদ দেখার বিষয়টি জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ।

রমজান উপলক্ষে শুক্রবার রাত থেকেই শুরু হচ্ছে তারাবির নামাজ। রাতের প্রথমভাগে তারাবি নামাজ আর শেষ ভাগে সেহরি শুরু হবে।

জানা গেছে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ থেকে রমজান মাস শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশ জর্ডান, ফিলিস্তিন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমানে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস।

উল্লেখ্য, হিজরি সনের রমজান মাসকে পবিত্র মাস হিসেবে গণ্য করে থাকেন বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়। মাসজুড়ে রোজা রাখার পর উদযাপন করেন ঈদুল ফিতর। সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর থেকে বাংলাদেশে পবিত্র রমজান শুরু হয়।

রোজায় ইফতার মাহফিল নয়, তারাবিতে অংশ নিতে পারবে ১২ জন
                                  

অনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে পবিত্র রমজান মাসে সারা দেশের মসজিদগুলোতে এশা ও তারাবির নামাজে সর্বোচ্চ ১০ মুসল্লি ও দুই হাফেজসহ মোট ১২ জন অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া রমজান মাসে ইফতার মাহফিলের নামে কোনও ধরনের অনুষ্ঠান করা যাবে না।

আজ বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইতোপূর্বে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় ও জামাতের বিষয়ে যেসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল তা আগের মতোই কার্যকর থাকবে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনাসহ আগামীকাল শুক্রবার সার্কুলার জারি করবে মন্ত্রণালয়।

এদিকে, করোনাভাইরাসে দেশে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মারা গেছেন ১২৭ জন। গত একদিনে নতুন করে ৪১৪ জন শনাক্ত হয়েছে। এখন মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৮৬ জনে।

কবে শুরু রমজান, জানা যাবে শুক্রবার
                                  

অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র রমজান মাস কবে শুরু হবে তা জানা যাবে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শনিবার বা রোববারেই দেশে শুরু হবে পবিত্র রমজান। এজন্য বৈঠক ডেকেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সংবাদমধ্যমকে বলেন, রমজান মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনায় শুক্রবার মাগরিবের পর (সন্ধ্যা ৭টায়) সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

রাজধানীর বায়তুল মুকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে কমিটির এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হিজরি ১৪৪১ সনের রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে রমজান মাস গণনা শুরু হবে ও মুসলমানরা রোজা রাখা শুরু করবেন। সেক্ষেত্রে শুক্রবার রাতেই এশার নামাজের পর ২০ রাকাত বিশিষ্ট তারাবি নামাজ পড়া শুরু হবে। রোজা রাখতে শেষ রাতে প্রথম সেহরিও খাবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭ টেলিফোন ও ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।


   Page 1 of 8
     ইসলাম
জেরুজালেমের ৫০০ বছরের ইতিহাস উন্মুক্ত
.............................................................................................
এবারের হজে কাবা ছোঁয়া নিষিদ্ধ
.............................................................................................
১২ জুলাই থেকে টাকা ফেরত পাবেন হজ নিবন্ধনকারীরা
.............................................................................................
আল্লাহর ভয় মন-দীলে রাখতে হবে, করোনা আক্রান্ত রোগী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না : জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিববুল্লাহ হিল বাকী নদভী
.............................................................................................
মুসলিম কখনও হিংসুক হতে পারে না
.............................................................................................
অহংকার যে কারণে পতনের মূল
.............................................................................................
জুমার খুতবা চলাকালীন দানবাক্স চালানো কি জায়েজ?
.............................................................................................
শাওয়াল মাসের ৬ রোজার গুরুত্ব
.............................................................................................
পবিত্র জুমআতুল বিদা আজ
.............................................................................................
যে কারণে রমজানকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতে ভাগ করা হয়েছে
.............................................................................................
শর্ত সাপেক্ষে দেশের সব মসজিদ খুলে দেয়া হচ্ছে
.............................................................................................
এবার ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে সত্তর টাকা থেকে দুই হাজার দুইশত টাকা
.............................................................................................
মসজিদে খুৎবাহ পূর্ব বয়ানে করোনা ভাইরাসের মহামারি থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাইতে হবে
.............................................................................................
চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু
.............................................................................................
রোজায় ইফতার মাহফিল নয়, তারাবিতে অংশ নিতে পারবে ১২ জন
.............................................................................................
কবে শুরু রমজান, জানা যাবে শুক্রবার
.............................................................................................
আল-গাফুর, আল্লাহর মহান এক নাম
.............................................................................................
একাকী ইবাদতের মাধ্যমে শবেবরাত পালন করুন : আল্লামা শফী
.............................................................................................
পবিত্র শবে বরাত আজ
.............................................................................................
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এ সময়ের জরুরি আমল
.............................................................................................
নামাজ-প্রার্থনা নিজঘরে, জুমায় সর্বোচ্চ ১০ জন
.............................................................................................
মসজিদে জামাত চলবে, তবে সংক্ষিপ্ত: ইফা
.............................................................................................
মহামারী বা দূরারোগ্য ব্যধি থেকে পরিত্রাণের দোয়া
.............................................................................................
পারস্পরিক ঘৃণা বিদ্বেষ সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে
.............................................................................................
যেমন ছিল মহানবী (সা.)-এর মেহমানদারি
.............................................................................................
মানুষের মনের গোপন কথাও কি আল্লাহ জানেন?
.............................................................................................
আল্লাহ যাদের ওপর কখনো নাখোশ হবেন না
.............................................................................................
হজরত আবু বকরকে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি
.............................................................................................
মুসলিমরা বাবরি মসজিদ না পেলেও শিখরা পেয়েছে শহীদগঞ্জ গুরুদারা!
.............................................................................................
১০ নভেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী
.............................................................................................
নামাজে ভুল হলে সাহু সেজদা দেবেন কীভাবে?
.............................................................................................
জান্নাতে মুমিনদের জন্য জুমআর দিন যেমন হবে
.............................................................................................
নরওয়েতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন ইসলাম গ্রহণ করছেন!
.............................................................................................
সৌদিতে ১০৩ দেশের কুরআন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় বাংলাদেশের শিহাব
.............................................................................................
মুহররম আল্লাহর মাস
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর
.............................................................................................
যে বিশেষ ২ গুণে নারীদের জান্নাত সুনিশ্চিত
.............................................................................................
কোরবানির গোশতের সামাজিক বণ্টন কি জায়েজ?
.............................................................................................
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন যে আমল করবেন
.............................................................................................
যে কাজে ইহরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ভেঙে যায়
.............................................................................................
জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে কমিটির সভা বুধবার
.............................................................................................
শিশুর প্রতি ভালোবাসায় জান্নাত লাভ করা যায়
.............................................................................................
জর্ডানে কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হাফেজ ত্বকী
.............................................................................................
হজ যাদের ওপর ফরজ
.............................................................................................
কোরবানির ঈদ হতে পারে ১২ আগস্ট
.............................................................................................
পবিত্র লাইলাতুল কদর শনিবার
.............................................................................................
সারা দেশে আজকের ইফতার ও সেহেরির সময়সূচি
.............................................................................................
যে কাজে রোজার কাজা-কাফফারা বাধ্যতামূলক
.............................................................................................
রোজার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
.............................................................................................
পবিত্র মাহে রমজান শুরু
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD