| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * পেঁয়াজের পর এবার সিলেটে লবণ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড   * এক বছর নয়, আরও বেশি সময়ের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছেন শাহাদাত রাজীব   * খুলনা বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত, দুর্ভোগে যাত্রীরা   * পদ্মা সেতুর আড়াই কিলোমিটার দৃশ্যমান হচ্ছে আজ   * ফুটবলের এসএ গেমস প্রস্তুতি শুরু বৃহস্পতিবার   * মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়েই অসুস্থ নুসরাত!   * নতুন সিনেমার প্রথম পোস্টারেই ভাইরাল কাজল   * পুরুষদের জন্য গর্ভনিরোধক ইনজেকশন!   * ককপিটে নিয়ে কেবিন ক্রুদের কুপ্রস্তাব দেন পাইলট ইশরাত   * লিবিয়ায় বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
হজরত আবু বকরকে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি

ইসলাম ডেস্ক

স্বচ্ছ ও পরিশুদ্ধ ঈমানদার ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতিটি কাজেই আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করেন। জিকির-আজকারে অতিবাহিত হয় মুমিনের প্রতিটি ক্ষণ। এছাড়া প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয় উম্মতকে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহ তাআলার জিকির আজকার করার উপদেশ দিয়েছেন।

আল্লাহর জিকিরেই সিক্ত হয় মুমিনের অন্তর। এ কারণেই সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বিভিন্ন আমল জেনে নিতেন এবং সে অনুযায়ী আমল ও ইবাদতে সময় অতিবাহিত করতেন।



ইসলামের প্রথম খলিফা ও প্রিয় নবির হিজরতের সঙ্গেী হজরত আবু বকর ছিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনিও বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জানতে চান সকাল সন্ধ্যায় পড়ার তাসবিহের আমল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সকাল-সন্ধ্যায় পড়ার তাসবিহও বলে দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি দোয়া কথা বলুন, যা আমি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করব। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বল-
اَللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَطِرَ السَّمَوَاتِ وَ الْاَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيئٍ وَ مَلِيْكِهِ أَشْهَدُ أنْ لَّا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ يَفْسِىْ وَ مِنْ سَرِّ الشَيْطَانِ وَ شِرْكِهِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আলিমাল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি ফাত্বিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি রাব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালিকিহ, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আংতা আউজুবিকা মিন শাররি নাফসি ওয়া মিন শাররি শায়ত্বানি ওয়া শিরকিহি।’



অর্থ : হে আল্লাহ! (আপনি) দৃশ্য-অদৃশ্য সব বিষয় অবগত; আসমান-জমিনের সৃষ্টিকর্তা; প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই- আমার মনের (নফসের) অনিষ্টতা থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে এবং শিরক থেকে।’- এ দোয়াটি সকাল-সন্ধ্যায় এবং শয্যায় (ঘুমাতে) যাওয়ার সময়ও বলবে।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)


হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শেখানো প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ দোয়া রয়েছে আল্লাহ তাআলার জাত ও সিফাতের ঘোষণা। রয়েছে সবচেয়ে বড় অনিষ্টতা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘোষণা। যা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্যও জরুরি।



আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শেখানো দোয়াটি নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যায় পড়ার তাওফিক দান করুন। এ দোয়া পড়ার মাধ্যমে আল্লাহ একত্ববাদ ও শিরকমুক্ত ঈমানের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার সব অনিষ্টতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হজরত আবু বকরকে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি
                                  

ইসলাম ডেস্ক

স্বচ্ছ ও পরিশুদ্ধ ঈমানদার ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতিটি কাজেই আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করেন। জিকির-আজকারে অতিবাহিত হয় মুমিনের প্রতিটি ক্ষণ। এছাড়া প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয় উম্মতকে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহ তাআলার জিকির আজকার করার উপদেশ দিয়েছেন।

আল্লাহর জিকিরেই সিক্ত হয় মুমিনের অন্তর। এ কারণেই সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বিভিন্ন আমল জেনে নিতেন এবং সে অনুযায়ী আমল ও ইবাদতে সময় অতিবাহিত করতেন।



ইসলামের প্রথম খলিফা ও প্রিয় নবির হিজরতের সঙ্গেী হজরত আবু বকর ছিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনিও বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জানতে চান সকাল সন্ধ্যায় পড়ার তাসবিহের আমল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সকাল-সন্ধ্যায় পড়ার তাসবিহও বলে দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি দোয়া কথা বলুন, যা আমি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করব। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বল-
اَللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَطِرَ السَّمَوَاتِ وَ الْاَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيئٍ وَ مَلِيْكِهِ أَشْهَدُ أنْ لَّا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ يَفْسِىْ وَ مِنْ سَرِّ الشَيْطَانِ وَ شِرْكِهِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আলিমাল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি ফাত্বিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি রাব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালিকিহ, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আংতা আউজুবিকা মিন শাররি নাফসি ওয়া মিন শাররি শায়ত্বানি ওয়া শিরকিহি।’



অর্থ : হে আল্লাহ! (আপনি) দৃশ্য-অদৃশ্য সব বিষয় অবগত; আসমান-জমিনের সৃষ্টিকর্তা; প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই- আমার মনের (নফসের) অনিষ্টতা থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে এবং শিরক থেকে।’- এ দোয়াটি সকাল-সন্ধ্যায় এবং শয্যায় (ঘুমাতে) যাওয়ার সময়ও বলবে।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)


হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শেখানো প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ দোয়া রয়েছে আল্লাহ তাআলার জাত ও সিফাতের ঘোষণা। রয়েছে সবচেয়ে বড় অনিষ্টতা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘোষণা। যা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্যও জরুরি।



আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শেখানো দোয়াটি নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যায় পড়ার তাওফিক দান করুন। এ দোয়া পড়ার মাধ্যমে আল্লাহ একত্ববাদ ও শিরকমুক্ত ঈমানের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার সব অনিষ্টতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মুসলিমরা বাবরি মসজিদ না পেলেও শিখরা পেয়েছে শহীদগঞ্জ গুরুদারা!
                                  

নিউজ ডেস্ক

মুসলিমরাই পারে ত্যাগ করতে। মুসলিমদের ত্যাগ পুরো বিশ্বের জন্য রোল মডেল। বার বার এমনটিই প্রমাণিত হয়েছে। আর এতেই যুগে যুগে বিজয় লাভ করেছে ইসলাম। যদিও ভারতের অযোধ্যায় অন্যায়ভাবে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সে স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীরা।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আদালতের রায়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পাকিস্তানের লাহোর শহীদগঞ্জের গুরুদারার শিখ ধর্মাবলম্বীরা। ভিন্ন মত পোষণ করেছেন ভারতের সাবেক বিচারপতি অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায়।


ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত শনিবার (৯নভেম্বর) ষোল শতকের প্রাচীন ধ্বংস করে দেয়া বাবরি মসজিদ-এর জায়গাকে হিন্দুদের হাতে তুলে দিয়েছে। সেখানে এবার নির্মাণ করা হবে রাম মন্দির।

মুসলমানরা তাদের ৪০০ বছরেরও বেশি পুরনো মসজিদ-এর জায়গা যেদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হারালো ঠিক সেদিনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার দেশের শিখ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ যাত্রার জন্য বিনা পাসপোর্ট ও মাসুলে পাকিস্তানের শহীদগঞ্জের গুরুদারায় যাওয়ার জন্য কর্তারপুর করিডোরের উদ্বোধন করেছেন। মুসলমানদের অনেকেই এটিকে কাঁটা ঘায়ে লবন ছিটানোর মতো মনে করেছে।

পাকিস্তানের লাহোর শহীদগঞ্জ মসজিদ (গুরুদারার) রয়েছে আরো চাঞ্চল্যকর ইতিহাস। মসজিদের পক্ষে যে ইতিহাসের দাবি অনেক শক্তিশালী। যা এখন শিখ ধর্মাবলম্বীদের দখলে। যেখানে এক সময় মসজিদ ছিল। এমনই এক সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানরা বাবরি মসজিদের ক্ষতিপূরণ থাক দূরের কথা মসজিদের জায়গাও বুঝে পায়নি অথচ পাকিস্তানে সংখ্যালঘু শিখরা তাদের মসজিদ দখল করে বানানো গুরুদারা ঠিকই ফেরত পেয়েছিল। যেখানে তীর্থযাত্রায় যেতে বিনা পাসপোর্ট ও ফি ছাড়াই করিডোর উম্মোচন করেছে প্রধানমন্ত্রী মোদি।


বাবরি মসজিদের মামলার রায় ইস্যুতে পাকিস্তানের শিখ ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, ‘লাহোরের শহীদগঞ্জ গুরুদারা থেকে ভারতের সংখ্যাগুরু হিন্দুদের শিক্ষা নেয়া উচিত ছিল।’

পাকিস্তানের শহীদগঞ্জের (মসজিদ) গুরুদারার ইতিহাস
ভারতের বাবরি মসজিদ এবং লাহোর শহীদগঞ্জ গুরুদারার মাঝে অনেক মিল রয়েছে। দুটোর জন্যেই অনেক মামলা মোকদ্দমা করতে হয়েছে। তবে পার্থক্য নিরূপণ হয়েছে মামলার রায় নিয়ে। আর তাহলো-

পাকিস্তানের শহীদগঞ্জের শিখরা মসজিদ দখল করে গুরুদ্বারা বানিয়েও তা ফেরত পেয়েছিল আর ভারতের মুসলিমরা অযোধ্যায় স্থাপনা দখল করা ছাড়া খালি জায়গা নির্মাণ করা মসজিদ ও জায়গা ফেরত পেল না।

১৬৫৩ সালে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের আমলে লাহোরের কোতোয়াল আবদুল্লাহ খান শহীদগঞ্জ মসজিদ নির্মাণ করেন। সেটি ১৭৯৯ সাল পর্যন্ত ১৫২ বছর মসজিদ হিসেবে ব্যবহার হয়।

১৭৯৯ সালে যখন রাজা রঞ্জিত সিংয়ের নেতৃত্বে শিখ সেনারা শহীদগঞ্জ দখল করে। তখন থেকে তারা শহীদগঞ্জ মসজিদটিকে শিখদের উপাসনালয় গুরুদারায় পরিণত করে এবং মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে ১৮৪৯ সালে ব্রিটিশরা শিখদের পরাজিত করে লাহোর দখল করে। সে সময় মসলিমরা গুরুদারা থেকে মসজিদটি ফেরত পেতে ব্রিটিশ আদালতে আবেদন করে। ব্রিটিশরা মুসলমানদের সে আবেদন ৫১ বছর দেরি হওয়ার অজুহাতে খারিজ করে দেয়। যার ফলে লাহোরের শহীদগঞ্জ মসজিদ এখনো শিখরা গুরুদারা হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে।

মুসলমানরা এরপর গুরুদারাকে মসজিদে রূপান্তরিত করতে অনেক সুযোগই পেয়েছে কিন্তু তারা তা করেনি। এমনকি ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান দেশ ভাগের সময়ও অল্প কয়েক জন শিখ ছাড়া প্রায় সবাই শহীদগঞ্জ গুরুদারা ছেড়ে চলে যায়। শহীদগঞ্জে মসজিদ ভেঙে নির্মিত গুরুদারা আজও অক্ষত অবস্থায় শিখদের উপসনালয় হিসেবেই ব্যবহৃত হয়।

দেশভাগের পর থেকে মুসলিম ইচ্ছা করলেই লাহোরের শহীদগঞ্জের এ গুরুদারাকে দখল করে মসজিদ বানাতে চাইলে বাধা দেয়ার কেউ ছিল না এবং এখনও নেই। কিন্তু মুসলিমরা এটা করেননি।

এ কারণেই বাবরি মসজিদ মামলার রায়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন শিখ নেতারা বলছেন-
‘সংখ্যালঘুদের অধিকার কীভাবে সংরক্ষণ করতে হয়, পাকিস্তানের লাহোরের শিখদের গুরুদারা থেকে পুরো ভারতের শিক্ষা নেয়া উচিত।’

শুধু তা-ই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা দিয়েছে মুসলিমরা। আবার মুসলিমদের সহযোগিতায় অনেক জায়গায় ভিন্নধর্মী উপাসনালয় তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও মন্দির রক্ষায় মানববন্ধন তৈরি করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

বাবরি মসজিদ ইস্যুতে ভারতের মুসলমানরা বাবরি ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ ও মসজিদের জায়গা না পেলেও তারা শান্তি ও সম্প্রীতির বৃহত্তর স্বার্থে ভারতের আদালতের রায় মেনে নিয়েছে। দেশটির সংখ্যালঘু মুসলমানরা ইসলামের সুন্দর সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে আর নিজ জাতি ও বিবেকের কাছে হেরে গেছে ভারতীয় আদালত ও কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। শহীদগঞ্জের (মসজিদ) গুরুদারাই এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত...

 
১০ নভেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী
                                  

অনলাইন ডেস্ক : আগামী ১০ নভেম্বর সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) পালিত হবে।

আজ সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররমস্থ সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ধর্মসচিব ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে আজ ১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। তাই আগামীকাল থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। এই প্রেক্ষিতে আগামী ১০ নভেম্বর সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা) পালিত হবে।

সভায় ওয়াকফ প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুঃ আঃ হামিদ জমাদ্দার, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মীর মোঃ নজরুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) মোঃ খলিলুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাসস

নামাজে ভুল হলে সাহু সেজদা দেবেন কীভাবে?
                                  

ইসলাম ডেস্ক : নামাজ মুসলমানদের প্রধান ইবাদত। অনেক সময় খেয়ালের ভুলে মানুষ নামাজে ভুল করে থাকে। নামাজে ভুল হয়ে গেলে বা নির্ধারিত কোনো রোকন আদায় করতে না পারলে কিংবা অতিরিক্ত করে ফেললে তা বিশুদ্ধ করতে সেজদা দিতে হয়। আর এটিই হলো সাহু সেজদা।

নামাজে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য কেবল সাহু সেজদা দেয়া ওয়াজিব। যদি কোনো ফরজ তরক হয় তবে সাহু সেজদায় নামাজ শুদ্ধ হবে না। পুনরায় নামাজ পড়ে নিতে হবে।

অনেকেরই জানা নেই যে, সাহু সেজদা কী? কীভাবে সাহু সেজদা আদায় করতে হয়? সাহু সেজদা কি নামাজের মধ্যেই দিতে হয় নাকি নামাজ শেষ করে দিতে হয়? এ সেজদার জন্য আলাদা কোনো দোয়া আছে কি?

সাহু সেজদা হলো- নামাজে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য যে সেজদা দেয়া হয়। ইচ্ছাকৃত ভুল করে সাহু সেজদা দিলে নামাজ হবে না। পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে। এ সেজদা নামাজের শেষ বৈঠকে আদায় করতে হয়। নামাজ শেষ করে পুনরায় আলাদা শুধু সেজদা করলে সাহু সেজদা আদায় হবে না।

সাহু সেজদা করবেন যেভাবে

যে নামাজে ভুল হয়, ওই নামাজে থাকা অবস্থায় শেষ বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ে ডান দিকে সালাম ফেরাতে হয়। অতঃপর বাম দিকে সালাম না ফিরিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সেজদায় চলে যেতে হয়। নামাজের সেজদার মতো ২টি সেজদা আদায় করতে হয়।

২টি সেজদা আদায় করে পুনরায় তাশাহহুদ, দরূদ এবং দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করতে হয়।

যদি কেউ ৩/৪ রাকাআত বিশিষ্ট নামাজের প্রথম বা দ্বিতীয় রাকাআতে ভুল করে তবে তিনি প্রথম বৈঠকে সাহু সেজদা আদায় করবে না বরং শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর দরূদ পড়ার আগে ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সেজদা আদায় করবে।

সাহু সেজদার জন্য আলাদা কোনো দোয়া নেই। এ সেজদায়ও ৩/৫/৭ বার (سُبْحَانَ رَبِّىَ الْاَعْلَى) ‘সুব্‌হানা রাব্বিয়াল আলা’ তাসবিহ আদায় করতে হয়।

তবে সেজদায় কুরআন-সুন্নার সব দোয়া করা যায়। যদি কেউ কুরআন সুন্নায় বর্ণিত দোয়াগুলো জানে তবে সে দোয়া পড়তে বাধা নেই।

আবার দুই সাহু সেজদার মাঝেও দোয়া পড়া যায়। তাতেও কোনো বাধা নেই। হাদিসে এসেছে-
হজরত ইবনে আব্বার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই সেজদার মাঝে বলতেন-
اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনি, ওয়া আফিনি, ওয়ারযুকনি। (মুসলিম, মিশকাত)
অর্থ : হে আল্লাহ আপনি আমাকে মাফ করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমাকে শান্তি দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নির্ভুল ও বিশুদ্ধভাবে একনিষ্ঠতার সঙ্গে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। অনিচ্ছাকৃত কারো ভুল হয়ে গেলে যথাযথভাবে সাহু সেজদা আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জান্নাতে মুমিনদের জন্য জুমআর দিন যেমন হবে
                                  

ইসলাম ডেস্ক : রহমত বরকত মাগফিরাতে ভরপুর হচ্ছে জুমআর দিন। মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক বড় মর্যাদার দিন। অনেক বুজুর্গানে দ্বীনের জুমআর দিনকে নফল হজের চেয়ে মর্যাদার দিন হিসেবে মনে করতেন।

জুমআর দিন মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার কারণ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সূর্য উঠে এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমআর দিনটিই হলো সর্বোত্তম দিন। কারণ-
- হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ইয়াহুদি তাঁকে বলল, ‘হে আমিরুল মুমিনিন ! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, তা যদি আমাদের ইয়াহুদি জাতির উপর অবতীর্ণ হতো, তবে অবশ্যই আমরা সেই দিনকে ঈদ হিসাবে পালন করতাম, তিনি বললেন, ‘কোন আয়াত’? সে বলল, ‘আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।’ (সূরা মায়েদা : আয়াত ৩) হজরত ওমর বললেন, ‘এটি যে দিনে এবং যে স্থানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমরা জানি। তিনি সেদিন আরাফায় দাঁড়িয়েছিলেন আর সেটা ছিল জুমুআ’র দিন।’ (বুখারি)

- এই দিনেই আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল; এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল (আবু দাউদ) এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল (মুসলিম) এই দিনে তাঁকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছিল, এই দিনেই তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছিল এবং এই দিনেই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছিল (আবু দাউদ)

জুমআর দিনের করণীয় সম্পর্কে কুরআনের ঘোষণা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।’ (সূরা জুমআ : আয়াত ৯)

জুমআর দিনের ফজিলত
- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুমিনের জন্য জুমআর দিন হল সাপ্তাহিক ঈদের দিন। তিনি আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহ পাকের কাছে জুমআর দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের মত শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটি আল্লাহর কাছে অতি মর্যাদা সম্পন্ন।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)
- হে মুসলমানগণ! জুমআর দিনকে আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের জন্য (সাপ্তাহিক) ঈদের দিন হিসাবে নির্ধারণ করেছেন (جَعَلَهُ اللهُ عِيْدًا)। তোমরা এদিন মেসওয়াক কর, গোসল কর ও সুগন্ধি লাগাও।’ (মুয়াত্তা, ইবনু মাজাহ, মিশকাত)

- জুমআর রাতে বা দিনে যে ব্যক্তি ঈমান নিয়ে মারা যায়; আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি দেন।’ (তিরমিজি)

জান্নাতে জুমআর দিন
- জান্নাতে প্রতি জুমআর দিনে জান্নাতিদের হাট বসবে। জান্নাতি লোকেরা সেখানে একত্রিত হবেন। সেখানে এমন মনমুগ্ধকর বাসাত বইবে, যে বাতাসে জান্নাতিদের সৌন্দর্য অনেক গুণ বেড়ে যাবে এবং তাদের স্ত্রীরা তা দেখে অভিভূত হয়ে পড়বে। পাশাপাশি তাদের স্ত্রীদেরও অনুরূপ সৌন্দর্য বেড়ে যাবে।’ (মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালে জুমআর দিনের মর্যাদা ও ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। জুমআর দিনের করণীয় যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নরওয়েতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন ইসলাম গ্রহণ করছেন!
                                  

অনলাইন ডেস্ক : উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডেনিভিয়ান দেশ নরওয়ে। দেশটিতে যখন ‘স্টপ ইসলামাইজেশন’-এর নামে ইসলাম ও মুসলমানদের নিষিদ্ধের জোর দাবিতে আন্দোলন করছে একটি ইসলাম বিদ্বেষী দল। ঠিক তখনই ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য এসেছে অনেক বড় সুখবর। নরওয়েতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন ভিন্নধর্মী লোক মুসলমান হচ্ছে।

ইউরোপের এ দেশটিতে ইসলাম গ্রহণের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় দৈনিক ভারডেনস গ্যাঙ্গে-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নরওয়ের সুপ্রাচীন ও সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অসলো বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল স্টাডিজ অ্যান্ড অরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের একজন গবেষকের বরাতে ভারডেনস গ্যাঙ্গে-এর প্রতিবেদন বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় তিন হাজার নরওয়েজিয় নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করছে। যা ১৯৯০ সালের সময় থেকে ৬ গুণেরও বেশি।

প্রতিবেদনের হিসাবে গড়ে প্রতিদিন ইসলাম গ্রহণকারী মুসলিমের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৮ জনেরও বেশি। ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগে নরওয়ের নারীরা মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করতে বেশি আগ্রহী ছিল।

তবে মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করার এ প্রবণতা আগের চেয়ে এখন কমে গেলেও নারীদের মধ্যে বেড়ে গেছে ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ অধ্যয়ন ও গবেষণা। যার ফলে আগের তুলনায় ইসলামের দিকে ঝুঁকছে বেশির ভাগ নারী ও পুরুষ।

অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় নরওয়ের ইসলাম গ্রহণকারী ২ নারীর বক্তব্যে ইসলাম গ্রহণের বিষয়গুলো সুস্পষ্ট। তাদের মতে-
মনিকা সালমুক নরওয়েজিয় ইসলাম গ্রহণকারী নারী মনিকা সালমুক। ৪ বছর আগে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে গবেষণা ও অধ্যয়ন শুরু করে সে। বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে অধ্যয়নের পর সে নিজের জন্য ইসলামকে বেছে নেয়।

সোলভা নাবিলা স্যাক্সেলিন
৪২ বছর বয়সী নরওয়েজিয় স্বেচ্ছাসেবী নারী সোলভা নাবিলা স্যাক্সেলিন। নরওয়েতে আশ্রয় নেয়া মুসলিম শরণার্থীদের সাহায্যে তিনি কাজ করেন। মুসলিম শরণার্থীদের সহযোগিতা করতে তাদের সংস্পর্শে গিয়ে ইসলাম গ্রহণের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন সোলভা নাবিলা স্যাক্সেলিন।

নরওয়েতে ইসলাম
১৯৫০ সালের দিকে নরওয়েতে মুসলমানের অবস্থান স্পষ্ট ছিল না। ১৯৬০ সালের দিকে দৃশ্যমান হতে থাকে মুসলিমদের অবস্থান। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ১৯৭৪ সালে প্রথম মসজিদ গড়ে ওঠে।

১৯৬০ সালের পরবর্তী সময়ে নরওয়েতে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে বর্তমানে নরওয়েতে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। গত ২০১১ সালের তথ্য মতে নরওয়েতে মোট জনসংখ্যার ২.৩ শতাংশ মুসলিম।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের জুন মাসে ‘স্টপ ইসলামাইজেশন’ গ্রুপের এক সভায় ইসলাম, কুরআন ও হিজাবের ব্যাপারে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুলিশি প্রহরায় এক জনসমাবেশে প্রকাশ্যে পবিত্র কুরআনুল কারিম ছুঁড়ে ফেলেন অ্যানা ব্রাটেন নামে এক নারী নেত্রী।

সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কুরআনের কপিটি সংরক্ষণে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে অ্যানা ব্রাটেন পবিত্র কুরআনের কপিটি প্রতিবাদকারী মুসলিমের দিকে ছুড়ে ফেল দেন।

এ ঘটনার ৪ মাসের ব্যবধানে অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল স্টাডিজ অ্যান্ড অরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের গবেষণার ফলাফল ও ভারডেনস গ্যাঙ্গে-এর প্রতিবেদনটি ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য অনেক বড় সুসংবাদ।

সৌদিতে ১০৩ দেশের কুরআন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় বাংলাদেশের শিহাব
                                  

বাংলাদেশের হাফেজ শিহাব উল্লাহ সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার তৃতীয় দলে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। খবর সংবাদ সংস্থা ইউএনবির।

কাবা শরিফ মসজিদের নতুন ভবনে এই ৪১তম কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটিতে আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়া সৌদি আরবের ইসলামি বিষয়কমন্ত্রী শেখ ড. আব্দুললতিফ বিন আব্দুলআজিজ আল-শেখ এবং হারাম শরিফের জ্যেষ্ঠ ইমাম আব্দুল রহমান আল-সুদাইস উপস্থিত ছিলেন।

এবার ১০৩টি দেশের ১৪৬ জন কুরআনের হাফেজ (যারা সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেন, তাদেরকে হাফেজ বলা হয়) এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন বিভাগে ১২ জন প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হয়।

বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া প্রতিযোগিতার শুরুতেই কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন।

হাফেজ শিহাবকে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল এবং মক্কার গভর্নর খালিদ আল-ফয়সালের পক্ষ থেকে একটি সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে। কুমিল্লার সন্তান শিহাব যাত্রাবাড়ীর তাহফিজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদরাসার শিক্ষার্থী।

সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানটিতে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। আব্দুল্লাহ জানান, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।

মুহররম আল্লাহর মাস
                                  

ধর্ম ডেস্ক : হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। কুরআনে সম্মানিত ৪ মাসের একটি। হাদিসে এ মাসকে আল্লাহর মাস হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। মুহররম মাসব্যাপী নফল রোজা ও তাওবা-ইসতেগফারে অতিবাহিত করার জোর উপদেশ দেয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (মুসলিম)

প্রতিটি দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর সবই মহান আল্লাহর। কিন্তু এ হাদিসে মুহররমকে আল্লাহ মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর কারণই বা কী?

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়-
দুনিয়ার সব মসজিদই ‘বায়তুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর। আবার কাবা শরিফও ‘বায়তুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর। কিন্তু কাবা শরিফের মর্যাদার তুলনায় দুনিয়ার সব মসজিদের মর্যাদা সমান নয়।

ঠিক এভাবেই সব মাস আল্লাহর হলেও মুহররম মাসের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণেই এ মাসকে আল্লাহর মাস হিসেবে ঘোষণা করে আলাদা মর্যাদা ও গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এ মাসের বিশেষ ফজিলতের সঙ্গে তাওবা বা ক্ষমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস বর্ণিত রয়েছে। আর তাহলো-

এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের পর আপনি আমাকে কোন মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দেন? উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
‘তুমি যদি রমজানের পর আরও কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মুহাররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেছেন। এদিনটিতে ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমদ)

ইসলামি স্কলারদের মতে, হাদিসে নির্দেশিত মুহররমের এ দিনটি হলো ১০ মুহররম বা আশুরার দিন। এ দিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অনেকে তাওবা কবুল করবেন।

তবে শুধু মুহররমের দিনই তাওবা করতে হবে এমন নয়, বরং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম আমল হলো- প্রতিদিন একশত বার তাওবা করার আমল। তাই বছর মাস সপ্তাহের বিশেষ দিন বিবেচনা না করে মুমিন ব্যক্তি প্রতিদিনই আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা-ইসতেগফার করে থাকে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, মহররমের নফল রোজা রাখার পাশাপাশি বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা। কুরআন-সুন্নায় এসেছে, এমন কিছু তাওবা-ইসতেগফার তুলে ধরা হলো, যেগুলোর অর্থ ও ভাব বুঝে মহান আল্লাহ কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুমিন। আর তাহলো-

رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ
উচ্চারণ : রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)
অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

> সব সময় ইসতেগফার পড়া-
أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

আর সকালে এবং সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া-
أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

মুসলিম উম্মাহর উচিত মুহররমমাস জুড়ে আল্লাহ ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজসহ তাওবা-ইসতেগফারে অতিবাহিত করা। আশা করা যায়, আল্লাহর মাসের ইবাদত ও তাওবা-ইসতেগফার ধন্য হবে মুমিনের জীবন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মুহররম মাসের হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। তাওবা-ইসতেগফার, রোজা ও বেশি বেশি নফল নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের আকাশে শনিবার সন্ধ্যায় পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে নতুন বছর ১৪৪১ হিজরি। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

তিনি সভায় জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪১ সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আশুরা পালিত হবে।

হিজরি সনের প্রথম মাস হচ্ছে মহররম। আশুরার দিন দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। শিয়ারা বিশেষভাবে আশুরা পালন করে।

কারবালা প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এর শাহাদাতবরণের শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত পালিত হয় আশুরা। তবে ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা অসংখ্য তাৎপর্যময় ঘটনায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।

এই দুনিয়া সৃষ্টি, হজরত আইয়ুব (আ.) এর কঠিন পীড়া থেকে মুক্তি, হজরত ঈসা (আ.) এর আসমানে জীবিত অবস্থায় উঠে যাওয়াসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মহররমের ১০ তারিখ অবিস্মরণীয় ও মহিমান্বিত।

এই পৃথিবীর মহাপ্রলয় বা কিয়ামত মহররমের ১০ তারিখে ঘটবে বলে বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. খলিলুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. জহির আহমদ, ওয়াকফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফায়জুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম, সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আলমগীর রহমান, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শাহ মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবদুর রহমান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি নেয়ামত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

যে বিশেষ ২ গুণে নারীদের জান্নাত সুনিশ্চিত
                                  

ধর্ম ডেস্ক : কুরআনুল কারিমে পয়গাম্বর হজরত নূহ ও লুত আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের জাহান্নামের অধিবাসী বলা হয়েছে। আবার ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আছিয়াকে মুমিন নারীদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ জান্নাতি বলা হয়েছে।

বিবাহিত ঈমানদার নারীরা বিশেষ ২টি গুণের কারণে লাভ করবে চিরস্থায়ী জান্নাত। তাদের জন্য জান্নাতের মধ্যে নির্মাণ করা হবে আলাদা ঘর। যেখান থেকে তারা আল্লাহর দিদার লাভ করবে। নারীদের সে গুণ দুটি হলো-

>> স্বামীর দোষা প্রচার না করা তার প্রশংসা ও সহযোগিতা করা। অর্থাৎ অন্য মানুষের কাছে স্বামী দোষ বা কুৎসা বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা।
>> স্বামীকে অভিশাপ না দিয়ে তাদের জন্য কল্যাণে দোয়া করা। অর্থাৎ স্বামীর জন্য বদদোয়া বা তাদের কথা ও কাজের অকল্যাণ কামনা না করা।

আর স্ত্রীরা কারণে-অকারণে স্বামীদের সঙ্গে এ দুটি কাজই বেশি করে থাকে। সামান্য কারণেই স্বামীকে দোষারোপ করে কিংবা কথায় কথায় অভিশাপ দিয়ে থাকে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

কেননা এ দুইটি কারণই একজন ঈমানদার নারীকে নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে পয়গাম্বর নূহ ও লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের কথা উল্লেখ করে বলেন-
‘আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য নূহ ও লূতের স্ত্রীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন; তারা আমার দুই নেককার বান্দার স্ত্রী ছিল। কিন্তু তারা তাদের স্বামী সঙ্গে খেয়ানত করেছিল। তারা (নূহ ও লূত আলাইহিস সালাম) আল্লাহর মোকাবেলায় তাদের (স্ত্রীদের) কোনো কাজেই আসতে পারেনি। দুই জনকে বলে দেয়া হয়েছে যাও, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সঙ্গে তোমরাও প্রবেশ কর।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১০)

এ আয়াতে খেয়ানত বলতে নবীদের স্ত্রীরা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল এটি বুঝানো হয়নি বরং তারা নবিদের সঙ্গে ঈমানের পথে হাটেনি বরং তারা নবিদের বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের সহযোগিতা করেছিল।

নবিদের কাছে যারা ঈমান নিতে আসতো তাদের তথ্য অন্যের কাছে দিয়ে দিতো। নবিদের ব্যাপারে লোকদের বলে বেড়াতো- এ লোক একজন পাগল। তারা তাদের স্বামী নামে চোগলখুরী করতো। তাদের নামে কুৎসা রটনা বা বদনাম বলে বেড়াতো। যার ফলে নবীদের সঙ্গে সংসার করা সত্বেও তারা জাহান্নামী।

পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের (নারীদের) উদ্দেশ্যে ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আসিয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। যিনি ফেরাউন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন ঠিকই ফেরাউনের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ বা বদদোয়া করেনি। আবার তার কোনো দোষও বলে বেড়াননি। আল্লাহ বলেন-
‘আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর (আসিয়া) দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। যখন সে দোয়া করলো- হে আমার রব! আমার জন্য তোমার কাছে জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দাও। আমাকে ফেরাউন ও তার খারাপ কাজ-কর্ম থেকে রক্ষা করো এবং আমাকে অত্যাচারি সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১১)

এ আয়াতের আলোকে বুঝা যায় যে, ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া স্বামী অবিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তার ব্যাপারে বদদোয়া করেনি এবং তার কোনো দোষও বর্ণনা করেনি বরং তার অত্যাচার ও দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার হওয়ার আবেদন করেছেন। আল্লাহ তাআলা স্বামীদের অধিকারের ব্যাপারে বিশ্বাসী নারীদের জন্য এ আয়াত তুলে ধরেছেন।

এ আয়াতের তাফসিরে এসেছে-
ফেরাউনের স্ত্রীর নাম ছিল আসিয়া। তিনি হজরত মুসা আলাইহিস সালামের আহ্বানে ঈমান এনেছিলেন। ফেরাউন তার হাত ও পায়ে পেরেক দিয়ে আটকিয়ে মাথার ওপ গরম তেল ঢেলে দিয়েছিলেন। যার ফলে তার মাথার চুল ও চামড়াগুলো ওঠে গিয়েছিল। সে সময় ফেরেশতারা তার সামনে জান্নাতের দৃশ্য তুলে ধরেছিলেন। ফলে ফেরাউনের শাস্তি তার কাছে সহজ হয়েগিয়েছিল। আর তখন তিনি আল্লাহর কাছে উল্লেখিত দোয়া করেছিলেন।

সুতরাং প্রত্যেক ঈমানদার নারীর উচিত যে, স্বামীর ব্যাপারে চোগলখুরী না করা। স্বামীদের দোষ বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা। স্বামীর জন্য বদদোয়া বা অভিশাপ না দেয়া। বরং স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞপনের পাশাপাশি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। ফলে তারা পাবে সুনিশ্চিত জান্নাত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীকে কুরআনে এ দুই আয়াত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে স্বামীদের আনুগত্য করার তাওফিক দান করুন। সব সময় স্বামীদের পাশে থেকে তাদের কল্যণমূলক কাজে সহযোগিতা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কোরবানির গোশতের সামাজিক বণ্টন কি জায়েজ?
                                  

অনলাইন সংস্করণ : কোরবানির গোশত বণ্টনের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,‌ ‌তোমরা খাও এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্র লোকদের খাওয়াও` (হজ্জ ২৮)।

আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‌তোমরা নিজেরা খাও, যারা চায় না তাদের খাওয়াও এবং যারা নিজেদের প্রয়োজন পেশ করে তাদের খাওয়াও` (হজ্জ ৩৬)।

ইবনু মাসঊদ (রা.) কোরবানির গোশত তিনভাগ করে একভাগ নিজেরা খেতেন, একভাগ যাকে চাইতেন তাকে খাওয়াতেন এবং একভাগ ফকির-মিসকিনকে দিতেন।

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) হুজুর (সা.)-এর কোরবানির গোশত বণ্টন সম্পর্কে বলেন, তিনি একভাগ নিজের পরিবারকে খাওয়াতেন, একভাগ গরিব প্রতিবেশীদের দিতেন এবং একভাগ ফকিরদের দিতেন।

অতএব কোরবানির গোশত তিনভাগ করা উত্তম ও মুস্তাহাব মাত্র। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। প্রয়োজনে বণ্টনে কম-বেশি করাতেও কোনো দোষ নেই (আল-মুগনী ১১/১০৮; মির`আত ২/৩৬৯; ঐ, ৫/১২০ পৃঃ)।

উল্লেখ্য, কোরবানির গোশত যতদিন খুশি রেখে খাওয়া যায় (তিরমিজী হা/১৫১০, মিশকাত হা/২৭৪৪)।

বর্তমানে বিভিন্ন মহল্লায় প্রচলন রয়েছে, কোরবানির গোশতের এক-তৃতীয়াংশ একস্থানে জমা করে মহল্লায় যারা কোরবানি করতে পারেননি তাদের তালিকা করে সুশৃংখলভাবে তাদের মধ্যে বিতরণ করা ও প্রয়োজনে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। কাজটি দেখতে ভালো হলেও এটি জায়েজ নয়। কেননা এই প্রচলনের ফলে কারও দিতে মনে না চাইলেও তাকে সমাজের খাতিরে দিতে হয়।

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলমানে মাল তার সন্তুষ্টি ছাড়া গ্রহণ করা হালাল নয়।

(মুসনাদে আহমদ : ১৫/২৯৩, রদ্দুল মুহতার : ৬/৪২৭, আলমগিরী/হিন্দিয়া : ৫/৩০০, হেদায়াহ : ৪/৪৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪)

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন যে আমল করবেন
                                  

ধর্ম ডেস্ক : আরবি (হিজরি) বছরের শেষ মাস জিলহজ। কুরআনে বর্ণিত হারাম মাসসমূহের একটি। এ মাসে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র হজ। এ মাসের ফজিলত বর্ণনায় নাজিল হয়েছে কুরআনের আয়াত। এ মাসের ইবাদত-বন্দেগি করতে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন এমন ইবাদত রয়েছে যা পালন করা মোস্তাহাব। এ দিনগুলোতে নামাজ, রোজা, দান-সাদকাসহ বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগি করার জন্য গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আর তাহলো-

>> নামাজ
জিহজের প্রথম ১০ দিন ফরজ নামাজগুলো অন্যান্য সময়ের মতোই যথা সময়ে আদায় করা। পাশাপাশি বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা। এমনিতেই বেশি বেশি নফল নামাজ বান্দাকে আল্লাহ অতি কাছে নিয়ে যায়। তাই জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনও বেশি বেশি নামাজ পড়া। হাদিসে এসেছে-
হজরত সাওবান রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘তুমি বেশি বেশি সেজদা কর। কারণ তুমি এমন কোনো সেজদা কর না, যার কারণে আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন না এবং তোমার গোনাহ ক্ষমা করেন না। (মুসলিম)

>> রোজা
আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে রোজা অন্যতম আমল। এ দিনগুলোতে রোজা পালনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জিলহজ মাসের আরাফার দিন রোজা পালন সম্পর্কে হাদিসের ঘোষণা এমন-
হজরত হুনাইদা বিন খালেদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন, তার স্ত্রী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিলহজ মাসের নয় তারিখ, আশুরার দিন ও প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোজা পালন করতেন।’ (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ, আবু দাউদ)

>> তাসবিহ
জিলহজ মাসের এ ফজিলতপূর্ণ প্রথম দশকে তাকবির (اَللهُ اَكْبَر), তাহলিল (لَا اِلهَ اِلَّا الله) ও তাহমিদ (اَلْحَمْدُ لِلَّه) বেশি বেশি পড়া। হাদিসে এসেছে-
হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তোমরা বেশি বেশি তাকবির, তাহলিল, ও তাহমিদ পড়।

ইমাম বুখারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ‘হজরত ইবনে ওমর, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু জিলহজের এ ১০ দিন তাকবির বলতে বলতে বাজারের জন্য বের হতেন। মানুষরাও তাদের দেখে দেখে তাকবির বলতো।

ইমাম বুখারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন, ‘ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মিনায় তার তাবুতে তাকবির বলতেন, লোকেরা তা শুনতো অতঃপর মানুষরাও তার অনুসরণ করে তাকবির বলতো। এক সময় পুরো মিনা তাকবিরের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠতো।

সুতরং সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণে মুমিন মুসলমানের উচিত, জিলহজ মাসের প্রথম দিনগুলোতে বেশি বেশি নামাজ, রোজা, দান-সাদকা, তাসবিহ পাঠসহ যাবতীয় নফল ইবাদত ও ভালো কাজে অতিবাহিত করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন রোজা পালনসহ যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে কাজে ইহরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ভেঙে যায়
                                  

ধর্ম ডেস্ক : হজ ও ওমরাহ পালনকারীর ইহরাম যৌনাচার ও যৌন মিলনে ভেঙে যাবে। বাতিল হয়ে যাবে ইহরাম। পুনরায় তাকে ইহরাম বাঁধতে হবে। এ ছাড়াও ইহরাম অবস্থায় অনেকগুলো কাজ আছে যেগুলোর জন্য ইহরাম ভাঙবে না কিন্তু ফিদইয়া দেয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে।

আবার কেউ যদি নিজের অজ্ঞতাবশত কিংবা ভুলে বা ঘুমের ঘোরে ইহরামের জন্য নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলে, তবে তার জন্য যেমন কোনো গোনাহ নেই আবার এর জন্য ফিদইয়াও দিতে হবে না।

ইহরাম অবস্থায় সেসব নিষিদ্ধ কাজগুলো হলো-
>> ইহরামের কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা। তবে দেহে সুগন্ধি ব্যবহারে দোষ নেই।
>> স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের জন্যই মাথার চুল এবং যে কোনো উপায়ে শরীরের যে কোনো স্থানের পশম ওঠানো।
>> হাত ও পায়ের নখ কাটা।
>> পশু-পাখী কিংবা যে কোনো প্রাণী শিকার করা। এমনকি শিকার ধরতে শিকারিকে ইশারা-ইঙ্গিতে সহযোগিতা করা। তবে ক্ষতিকর হিংস্র জীব-জন্ত বা প্রাণী মারার অনুমতি রয়েছে।
>> যাবতীয় যৌনচার, ও যৌন মিলন একেবারেই নিষিদ্ধ। কারণ যৌনাচারের কারণে ইহরাম ভেঙে যাবে। ফলে পুনরায় ইহরাম বাধতে হবে। এছাড়াও বিয়ের প্রস্তাব, বিয়ের আক্বদ বা যৌন আলোচনা করাও নিষেধ।
>> পুরুষের জন্য পাগড়ি, টুপি ও রুমাল ব্যবহার করা। তবে প্রচণ্ড গরম কিংবা বৃষ্টিতে ছাতা বা ছাতা সাদৃশ্য জিনিস ব্যবহার করায় দোষ নেই।
>> পুরুষের জন্য কোনো প্রকার সেলাই করা কাপড় পরা। হতে পারে তা জুব্বা, পাঞ্জাবি, শার্ট, গেঞ্জি ও মোজা ইত্যাদি সেলাই করা কাপড় পরা। তবে তালি বা পট্টি লাগানো ইহরামের কাপড় পরায় কোনো দোষ নেই।
>> নারীদের জন্য মুখ ঢাকা এবং হাত মোজা ব্যবহার করা। তবে নারীরা মুখ থেকে কাপড় আলাদা রাখতে হেলমেট ব্যবহার করে নিকাব পড়ায় কোনো দোষ নেই। কেননা পর পুরুষের সামনে মুখ ঢেকে রাখা ওয়াজিব।
>> ইহরাম অবস্থায় ঝগড়া-বিবাদ করা এবং ইসলামি শরিয়ত বিরোধী যে কোনো বাজে কথা বলা ও বাজে কাজ করা।

মনে রাখতে হবে
ইহরামের মূল উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়ার সব চাকচিক্য সাজ-সজ্জা থেকে নিজেকে বিরত রেখে একান্তভাবে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। আবার পুরুষের সেলাইবিহীন কাপড় পরার উদ্দেশ্য হলো সব জৌলুস ও প্রদর্শনী থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ ও নিবেদত প্রাণ হয়ে যাওয়া। যেখানে দুনিয়ার কোনো লোভ কিংবা মোহ থাকবে না।

সুতরাং হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে হেফাজত থাকা জরুরি। কারণ ইহরাম বাতিল ও ক্ষতিগ্রস্ত হলে হজের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধনে বাধাগ্রস্ত হবে হাজি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারীকে বিশুদ্ধ ইহরামে হজ ও ওমরাহ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে কমিটির সভা বুধবার
                                  

এশিয়া বাণী ডেস্ক : পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বুধবার (৩ জুলাই) সভা ডেকেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

আজ মঙ্গলবার ইসলামী ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। টেলিফোন নম্বর ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭; ফ্যাক্স নম্বর ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১।

শিশুর প্রতি ভালোবাসায় জান্নাত লাভ করা যায়
                                  

অনলাইন ডেস্ক : শিশুদের ভালোবাসলে জাহান্নাম হারাম হয়ে যায় আর জান্নাত আবশ্যক হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় গর্ভধারিনী কিংবা দুগ্ধদানকারী মায়ের অনেক ফরজ ইবাদতও শিথিল করে দিয়েছেন।

হাদিসে এসেছে- হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি একটি শিশু নিয়ে নবী কারিম (সা.) কাছে এসে শিশুটিকে চুমু দিতে লাগলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দৃশ্য দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, শিশুটির প্রতি কি তোমার দয়া জেগে উঠেছে? সে বলল, ‘হ্যাঁ’, হে আল্লাহর রাসুল! তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ তায়ালা তোমার প্রতি এর চেয়েও বেশি দয়া করেন। কেননা তিনি দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (বুখারি)

হজরত আয়েশা (রা.) এর কাছে এক নারী দুটি কন্যা শিশু নিয়ে আসলেন। তিনি তাদের ৩টি খেজুর দিলেন। ওই নারী দুই শিশু সন্তানকে ২টি খেজুর দিলেন। বাকি একটি সে নারী মুখে দিতে যাবেন, এমন সময় শিশুরা সেটিও খেতে চাইলে ওই নারী নিজে না খেয়ে খেজুরটি দুই টুকরো করে দুই শিশু সন্তানকে দিয়ে দিলেন।
শিশুদের প্রতি তাদের মায়ের ভালোবাসা দেখে হজরত আয়েশা (রা.) চমকে গেলেন। তিনি এ ঘটনাটি বিশ্বনবি (সা.) কে বর্ণনা করলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আয়েশা, আল্লাহ তাআলা ওই নারীকে এ ভালোবাসার বিনিময়ে জান্নাত দান করবেন অথবা এ ভালোবাসার বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।’ (মুসলিম)
আল্লাহ তাআলা শিশুদের অধিকারের প্রতি এত বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন যে, শিশু মায়ের গর্ভে আসার কারণে গর্ভবর্তী নারীর জন্য কষ্টকর সব কাজকে সহজ করে দেন।

জর্ডানে কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হাফেজ ত্বকী
                                  

অনলাইন ডেস্ক : জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হয়েছেন বাংলাদেশি হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী। বিশ্বের ৬২ দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে কাতারের প্রতিযোগী, তৃতীয় স্থান বাহরাইন, চতুর্থ পাকিস্তান ও পঞ্চম স্থান অর্জন করে সৌদি আরবের প্রতিযোগী।

উল্লেখ্য, হাফেজ সাইফুর রহমান ২০১৪ সালে এনটিভি আয়োজিত পিএইচপি কোরআনের আলো প্রতিভার সন্ধানে প্রতিযোগিতায় প্রায় ৩০ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তারপর ২০১৫ সালে জেদ্দায় আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান, ২০১৬ সালে বাহরাইনে তৃতীয় স্থান ও ২০১৭ সালে কুয়েত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

হাফেজ ক্বারী নেসার উদ্দিন আহমেদ আন নাসেরী পরিচালিত মারকাজুত তাফফিজ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার ছাত্র ত্বকী। তার বাবা মাওলানা বদিউল আলম, ধলপুর লিচুবাগান নাদিয়াতুল কুরআন হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং রামপুরার বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব।

এদিকে শুক্রবার রাত ১টার দিকে কাতার এয়ারলাইনসে একটি ফ্লাইটে ঢাকায় করেন বাংলাদেশের এই কৃতী হাফেজ। এ সময় তাকে সংবর্ধনা দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তার মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্ররা।


   Page 1 of 6
     ইসলাম
হজরত আবু বকরকে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি
.............................................................................................
মুসলিমরা বাবরি মসজিদ না পেলেও শিখরা পেয়েছে শহীদগঞ্জ গুরুদারা!
.............................................................................................
১০ নভেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী
.............................................................................................
নামাজে ভুল হলে সাহু সেজদা দেবেন কীভাবে?
.............................................................................................
জান্নাতে মুমিনদের জন্য জুমআর দিন যেমন হবে
.............................................................................................
নরওয়েতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন ইসলাম গ্রহণ করছেন!
.............................................................................................
সৌদিতে ১০৩ দেশের কুরআন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় বাংলাদেশের শিহাব
.............................................................................................
মুহররম আল্লাহর মাস
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর
.............................................................................................
যে বিশেষ ২ গুণে নারীদের জান্নাত সুনিশ্চিত
.............................................................................................
কোরবানির গোশতের সামাজিক বণ্টন কি জায়েজ?
.............................................................................................
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন যে আমল করবেন
.............................................................................................
যে কাজে ইহরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ভেঙে যায়
.............................................................................................
জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে কমিটির সভা বুধবার
.............................................................................................
শিশুর প্রতি ভালোবাসায় জান্নাত লাভ করা যায়
.............................................................................................
জর্ডানে কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হাফেজ ত্বকী
.............................................................................................
হজ যাদের ওপর ফরজ
.............................................................................................
কোরবানির ঈদ হতে পারে ১২ আগস্ট
.............................................................................................
পবিত্র লাইলাতুল কদর শনিবার
.............................................................................................
সারা দেশে আজকের ইফতার ও সেহেরির সময়সূচি
.............................................................................................
যে কাজে রোজার কাজা-কাফফারা বাধ্যতামূলক
.............................................................................................
রোজার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
.............................................................................................
পবিত্র মাহে রমজান শুরু
.............................................................................................
পবিত্র রমজান উপলক্ষে সারাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপি কর্মসূচি
.............................................................................................
ঘূর্ণিঝড়ে যে দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
রমজানে যে বিশেষ দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
নামাজরত অবস্থায় কল বেজে উঠলে কী করবেন?
.............................................................................................
কুরআন মুখস্থ করলো ৩ বছরের শিশু
.............................................................................................
যে ৪ আমলে রমজান মাস সাজাতে বলেছেন বিশ্বনবি
.............................................................................................
নেককার বান্দার ৩ আলামাত
.............................................................................................
২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত
.............................................................................................
তাহাজ্জুদ নামাজে বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন
.............................................................................................
আজ পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
আগামীকাল পবিত্র শবে মিরাজ
.............................................................................................
আগামীকাল পবিত্র শবে মি‘রাজ
.............................................................................................
শবে মেরাজ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররমে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল
.............................................................................................
আগুন নেভাতে যে দোয়া পড়তে হয়
.............................................................................................
তাহাজ্জুদ নামাজে যে সুফল লাভ করে মুমিন
.............................................................................................
রমজানের প্রস্তুতিতে রজব মাস
.............................................................................................
শবে মেরাজ ৩ এপ্রিল
.............................................................................................
নারীর যে মর্যাদা দিয়েছে ইসলাম
.............................................................................................
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপে বৃষ্টিতে মুসল্লীদের দুর্ভোগ : মঙ্গলবার আখেরী মোনাজাত
.............................................................................................
সাদপন্থীদের ইজতেমা শুরু, বৃষ্টিতে দুর্ভোগ
.............................................................................................
সব প্রস্তুতি শেষ, শুক্রবার শুরু বিশ্ব ইজতেমা
.............................................................................................
আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলন শুক্রবার
.............................................................................................
মুমিন বান্দার কুরআনি আমল যেমন হবে
.............................................................................................
বিশ্ব হিজাব দিবস ও পর্দা প্রসঙ্গ
.............................................................................................
যে পোশাকে নারীদের নামাজ নিষিদ্ধ
.............................................................................................
যৌন মিলন নিষিদ্ধ, এবার উপায় !
.............................................................................................
নামাজে ভয় প্রসঙ্গে বিশ্বনবি যা বললেন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]