| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * ২৯ তারিখ থেকে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু   * এখন পর্যন্ত ৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন   * উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার ৭৩.৯৩%   * ৮ দিন পর বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক   * রাজবাড়ীতে বিপৎসীমার ওপরে পদ্মার পানি   * মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি মিন্নি   * রংপুরবাসীর ভালোবাসায় পল্লী নিবাসে চিরশায়িত এরশাদ   * প্রতি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর   * আদালতে খুন : বিচারকদের নিরাপত্তা চেয়ে রিট   * এইচএসসি পরীক্ষার ফল বুধবার  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
যে কাজে ইহরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ভেঙে যায়

ধর্ম ডেস্ক : হজ ও ওমরাহ পালনকারীর ইহরাম যৌনাচার ও যৌন মিলনে ভেঙে যাবে। বাতিল হয়ে যাবে ইহরাম। পুনরায় তাকে ইহরাম বাঁধতে হবে। এ ছাড়াও ইহরাম অবস্থায় অনেকগুলো কাজ আছে যেগুলোর জন্য ইহরাম ভাঙবে না কিন্তু ফিদইয়া দেয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে।

আবার কেউ যদি নিজের অজ্ঞতাবশত কিংবা ভুলে বা ঘুমের ঘোরে ইহরামের জন্য নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলে, তবে তার জন্য যেমন কোনো গোনাহ নেই আবার এর জন্য ফিদইয়াও দিতে হবে না।

ইহরাম অবস্থায় সেসব নিষিদ্ধ কাজগুলো হলো-
>> ইহরামের কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা। তবে দেহে সুগন্ধি ব্যবহারে দোষ নেই।
>> স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের জন্যই মাথার চুল এবং যে কোনো উপায়ে শরীরের যে কোনো স্থানের পশম ওঠানো।
>> হাত ও পায়ের নখ কাটা।
>> পশু-পাখী কিংবা যে কোনো প্রাণী শিকার করা। এমনকি শিকার ধরতে শিকারিকে ইশারা-ইঙ্গিতে সহযোগিতা করা। তবে ক্ষতিকর হিংস্র জীব-জন্ত বা প্রাণী মারার অনুমতি রয়েছে।
>> যাবতীয় যৌনচার, ও যৌন মিলন একেবারেই নিষিদ্ধ। কারণ যৌনাচারের কারণে ইহরাম ভেঙে যাবে। ফলে পুনরায় ইহরাম বাধতে হবে। এছাড়াও বিয়ের প্রস্তাব, বিয়ের আক্বদ বা যৌন আলোচনা করাও নিষেধ।
>> পুরুষের জন্য পাগড়ি, টুপি ও রুমাল ব্যবহার করা। তবে প্রচণ্ড গরম কিংবা বৃষ্টিতে ছাতা বা ছাতা সাদৃশ্য জিনিস ব্যবহার করায় দোষ নেই।
>> পুরুষের জন্য কোনো প্রকার সেলাই করা কাপড় পরা। হতে পারে তা জুব্বা, পাঞ্জাবি, শার্ট, গেঞ্জি ও মোজা ইত্যাদি সেলাই করা কাপড় পরা। তবে তালি বা পট্টি লাগানো ইহরামের কাপড় পরায় কোনো দোষ নেই।
>> নারীদের জন্য মুখ ঢাকা এবং হাত মোজা ব্যবহার করা। তবে নারীরা মুখ থেকে কাপড় আলাদা রাখতে হেলমেট ব্যবহার করে নিকাব পড়ায় কোনো দোষ নেই। কেননা পর পুরুষের সামনে মুখ ঢেকে রাখা ওয়াজিব।
>> ইহরাম অবস্থায় ঝগড়া-বিবাদ করা এবং ইসলামি শরিয়ত বিরোধী যে কোনো বাজে কথা বলা ও বাজে কাজ করা।

মনে রাখতে হবে
ইহরামের মূল উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়ার সব চাকচিক্য সাজ-সজ্জা থেকে নিজেকে বিরত রেখে একান্তভাবে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। আবার পুরুষের সেলাইবিহীন কাপড় পরার উদ্দেশ্য হলো সব জৌলুস ও প্রদর্শনী থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ ও নিবেদত প্রাণ হয়ে যাওয়া। যেখানে দুনিয়ার কোনো লোভ কিংবা মোহ থাকবে না।

সুতরাং হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে হেফাজত থাকা জরুরি। কারণ ইহরাম বাতিল ও ক্ষতিগ্রস্ত হলে হজের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধনে বাধাগ্রস্ত হবে হাজি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারীকে বিশুদ্ধ ইহরামে হজ ও ওমরাহ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে কাজে ইহরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ভেঙে যায়
                                  

ধর্ম ডেস্ক : হজ ও ওমরাহ পালনকারীর ইহরাম যৌনাচার ও যৌন মিলনে ভেঙে যাবে। বাতিল হয়ে যাবে ইহরাম। পুনরায় তাকে ইহরাম বাঁধতে হবে। এ ছাড়াও ইহরাম অবস্থায় অনেকগুলো কাজ আছে যেগুলোর জন্য ইহরাম ভাঙবে না কিন্তু ফিদইয়া দেয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে।

আবার কেউ যদি নিজের অজ্ঞতাবশত কিংবা ভুলে বা ঘুমের ঘোরে ইহরামের জন্য নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলে, তবে তার জন্য যেমন কোনো গোনাহ নেই আবার এর জন্য ফিদইয়াও দিতে হবে না।

ইহরাম অবস্থায় সেসব নিষিদ্ধ কাজগুলো হলো-
>> ইহরামের কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা। তবে দেহে সুগন্ধি ব্যবহারে দোষ নেই।
>> স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের জন্যই মাথার চুল এবং যে কোনো উপায়ে শরীরের যে কোনো স্থানের পশম ওঠানো।
>> হাত ও পায়ের নখ কাটা।
>> পশু-পাখী কিংবা যে কোনো প্রাণী শিকার করা। এমনকি শিকার ধরতে শিকারিকে ইশারা-ইঙ্গিতে সহযোগিতা করা। তবে ক্ষতিকর হিংস্র জীব-জন্ত বা প্রাণী মারার অনুমতি রয়েছে।
>> যাবতীয় যৌনচার, ও যৌন মিলন একেবারেই নিষিদ্ধ। কারণ যৌনাচারের কারণে ইহরাম ভেঙে যাবে। ফলে পুনরায় ইহরাম বাধতে হবে। এছাড়াও বিয়ের প্রস্তাব, বিয়ের আক্বদ বা যৌন আলোচনা করাও নিষেধ।
>> পুরুষের জন্য পাগড়ি, টুপি ও রুমাল ব্যবহার করা। তবে প্রচণ্ড গরম কিংবা বৃষ্টিতে ছাতা বা ছাতা সাদৃশ্য জিনিস ব্যবহার করায় দোষ নেই।
>> পুরুষের জন্য কোনো প্রকার সেলাই করা কাপড় পরা। হতে পারে তা জুব্বা, পাঞ্জাবি, শার্ট, গেঞ্জি ও মোজা ইত্যাদি সেলাই করা কাপড় পরা। তবে তালি বা পট্টি লাগানো ইহরামের কাপড় পরায় কোনো দোষ নেই।
>> নারীদের জন্য মুখ ঢাকা এবং হাত মোজা ব্যবহার করা। তবে নারীরা মুখ থেকে কাপড় আলাদা রাখতে হেলমেট ব্যবহার করে নিকাব পড়ায় কোনো দোষ নেই। কেননা পর পুরুষের সামনে মুখ ঢেকে রাখা ওয়াজিব।
>> ইহরাম অবস্থায় ঝগড়া-বিবাদ করা এবং ইসলামি শরিয়ত বিরোধী যে কোনো বাজে কথা বলা ও বাজে কাজ করা।

মনে রাখতে হবে
ইহরামের মূল উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়ার সব চাকচিক্য সাজ-সজ্জা থেকে নিজেকে বিরত রেখে একান্তভাবে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। আবার পুরুষের সেলাইবিহীন কাপড় পরার উদ্দেশ্য হলো সব জৌলুস ও প্রদর্শনী থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ ও নিবেদত প্রাণ হয়ে যাওয়া। যেখানে দুনিয়ার কোনো লোভ কিংবা মোহ থাকবে না।

সুতরাং হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে হেফাজত থাকা জরুরি। কারণ ইহরাম বাতিল ও ক্ষতিগ্রস্ত হলে হজের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধনে বাধাগ্রস্ত হবে হাজি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারীকে বিশুদ্ধ ইহরামে হজ ও ওমরাহ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে কমিটির সভা বুধবার
                                  

এশিয়া বাণী ডেস্ক : পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বুধবার (৩ জুলাই) সভা ডেকেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

আজ মঙ্গলবার ইসলামী ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। টেলিফোন নম্বর ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭; ফ্যাক্স নম্বর ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১।

শিশুর প্রতি ভালোবাসায় জান্নাত লাভ করা যায়
                                  

অনলাইন ডেস্ক : শিশুদের ভালোবাসলে জাহান্নাম হারাম হয়ে যায় আর জান্নাত আবশ্যক হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় গর্ভধারিনী কিংবা দুগ্ধদানকারী মায়ের অনেক ফরজ ইবাদতও শিথিল করে দিয়েছেন।

হাদিসে এসেছে- হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি একটি শিশু নিয়ে নবী কারিম (সা.) কাছে এসে শিশুটিকে চুমু দিতে লাগলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দৃশ্য দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, শিশুটির প্রতি কি তোমার দয়া জেগে উঠেছে? সে বলল, ‘হ্যাঁ’, হে আল্লাহর রাসুল! তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ তায়ালা তোমার প্রতি এর চেয়েও বেশি দয়া করেন। কেননা তিনি দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (বুখারি)

হজরত আয়েশা (রা.) এর কাছে এক নারী দুটি কন্যা শিশু নিয়ে আসলেন। তিনি তাদের ৩টি খেজুর দিলেন। ওই নারী দুই শিশু সন্তানকে ২টি খেজুর দিলেন। বাকি একটি সে নারী মুখে দিতে যাবেন, এমন সময় শিশুরা সেটিও খেতে চাইলে ওই নারী নিজে না খেয়ে খেজুরটি দুই টুকরো করে দুই শিশু সন্তানকে দিয়ে দিলেন।
শিশুদের প্রতি তাদের মায়ের ভালোবাসা দেখে হজরত আয়েশা (রা.) চমকে গেলেন। তিনি এ ঘটনাটি বিশ্বনবি (সা.) কে বর্ণনা করলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আয়েশা, আল্লাহ তাআলা ওই নারীকে এ ভালোবাসার বিনিময়ে জান্নাত দান করবেন অথবা এ ভালোবাসার বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।’ (মুসলিম)
আল্লাহ তাআলা শিশুদের অধিকারের প্রতি এত বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন যে, শিশু মায়ের গর্ভে আসার কারণে গর্ভবর্তী নারীর জন্য কষ্টকর সব কাজকে সহজ করে দেন।

জর্ডানে কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হাফেজ ত্বকী
                                  

অনলাইন ডেস্ক : জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হয়েছেন বাংলাদেশি হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী। বিশ্বের ৬২ দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে কাতারের প্রতিযোগী, তৃতীয় স্থান বাহরাইন, চতুর্থ পাকিস্তান ও পঞ্চম স্থান অর্জন করে সৌদি আরবের প্রতিযোগী।

উল্লেখ্য, হাফেজ সাইফুর রহমান ২০১৪ সালে এনটিভি আয়োজিত পিএইচপি কোরআনের আলো প্রতিভার সন্ধানে প্রতিযোগিতায় প্রায় ৩০ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তারপর ২০১৫ সালে জেদ্দায় আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান, ২০১৬ সালে বাহরাইনে তৃতীয় স্থান ও ২০১৭ সালে কুয়েত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

হাফেজ ক্বারী নেসার উদ্দিন আহমেদ আন নাসেরী পরিচালিত মারকাজুত তাফফিজ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার ছাত্র ত্বকী। তার বাবা মাওলানা বদিউল আলম, ধলপুর লিচুবাগান নাদিয়াতুল কুরআন হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং রামপুরার বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব।

এদিকে শুক্রবার রাত ১টার দিকে কাতার এয়ারলাইনসে একটি ফ্লাইটে ঢাকায় করেন বাংলাদেশের এই কৃতী হাফেজ। এ সময় তাকে সংবর্ধনা দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তার মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্ররা।

হজ যাদের ওপর ফরজ
                                  

ইসলাম ডেস্ক : হজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও সাম্যের সপ্রতিভ প্রতীক। এটি ইসলামের অন্যতম স্তম্ভও বটে। অন্য কোনো ইবাদতে যা একসঙ্গে পাওয়া না গেলেও হজে আর্থিক ও কায়িক শ্রমের সমন্বয় রয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ পবিত্র হজ পালনে সৌদি গমন করেন। সেখানে গিয়ে তারা আল্লাহপ্রেমের পাঠ চুকিয়ে রাসুলপ্রেমের ষোলকলা পূর্ণ করেন। মহা সৌভাগ্য ও পুণ্যের এই মিছিলে বাংলাদেশি হাজিরাও শামিল হন।


স্বাভাবিকভাবে ‘হজ’ অর্থ মহৎ কাজের ইচ্ছে করা। পারিভাষিকভাবে হজ বলে, হজের নিয়তসহ ইহরাম ধারণ করে নির্দিষ্ট দিনে আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ও কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। (ফাতাওয়া শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৪)

আর ‘ওমরাহ’ অর্থ পরিদর্শন করা। ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণ করা, এরপর তাওয়াফ ও সাঈ করে মাথা মুণ্ডন করে ইহরামমুক্ত হওয়াকে ওমরাহ বলে। (ফাতহুল বারি, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৫৯৭)

হজের সওয়াব ও ফজিলত
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর মকবুল হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’ (বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০৬)

হজ না আদায়ের অশুভ পরিণতি
রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে বলেছেন, ‘হজ ফরজ হওয়ার পর তা আদায় না করে মৃত্যুবরণ করা ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করার নামান্তর।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ১৬৭)

হজের সময় ও নির্ধারিত স্থান
হজের নির্দিষ্ট সময়—শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম ১০ দিন। বিশেষত ৮ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন। এ পাঁচ দিনই মূলত হজ পালন করা হয়। হজের নির্ধারিত স্থান—কাবা শরিফ, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফা। (আসান ফিকাহ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৫১)

হজের যত প্রকার
এক. ইফরাদ
শুধু হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই ইহরামেই হজের সব আমল সম্পন্ন করা।

দুই. তামাত্তু
শুধু ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওমরাহর কাজ সমাপ্ত করা। এরপর মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া। অতঃপর ওই সফরেই হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজের সব আমল সম্পাদন করা।

তিন. কিরান
একসঙ্গে ওমরাহ ও হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই (একই) ইহরামেই ওমরাহ ও হজ পালন করা। এ তিন প্রকারের মধ্যে উত্তম হলো ‘কিরান।’ কিন্তু ইহরাম দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞাবলি সঠিকভাবে মেনে চলতে না পারার আশঙ্কা থাকলে হজে তামাত্তুই উত্তম। (ফাতাওয়া শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫২৯)

হজ ফরজ কার ওপর
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মক্কায় গিয়ে হজকার্য সম্পন্ন করে ফিরে আসার সামর্থ্য রাখে, এমন প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে নারীদের জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকা শর্ত। (ফাতাওয়া শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৫)

মাহরাম: যাদের সঙ্গে কখনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায় না, তারাই মাহরাম। যেমন—পিতা, পুত্র, আপন ও সত্ভাই, দাদা-নানা, আপন চাচা ও মামা, ছেলে বা নাতি, জামাতা, শ্বশুর, দুধভাই, দুধ ছেলে প্রমুখ। তবে একা একা দুধভাইয়ের সঙ্গে এবং যুবতি শাশুড়ির জামাতার সঙ্গে যাওয়া নিষেধ। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৬৪)

হজ ফরজ হওয়ার শর্ত
হজ ফরজ হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে। এক. মুসলিম হওয়া। দুই. বিবেকবান হওয়া, পাগল না হওয়া। তিন. বালেগ হওয়া, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। চার. আজাদ বা স্বাধীন হওয়া—অর্থাৎ কারো গোলাম বা দাস না হওয়া। পাঁচ. দৈহিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়া।

হজ ফরজ হয়েছে কিনা জানবেন যেভাবে
হজ ও জাকাতের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। তাই কারো ওপর জাকাত ফরজ না হয়েও তার ওপর হজ ফরজ হতে পারে। হজ ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য হলো, জাকাতের সম্পর্ক নির্ধারিত নিসাবের সঙ্গে। হজের সম্পর্ক মক্কায় আসা-যাওয়ার খরচের সঙ্গে। সুতরাং স্থাবর সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রয় করে কেউ যদি হজ আদায় করতে সক্ষম হয় এবং হজ থেকে ফিরে এসে বাকি সম্পত্তি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, তাহলে তার ওপর হজ ফরজ। (ইমদাদুল আহকাম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৫২; আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৫১৬)

একইভাবে ব্যবসায়ীর দোকানে যে পরিমাণ পণ্য আছে, তার কিছু অংশ বিক্রয় করলে যদি হজ করা সম্ভব হয় এবং ফিরে এসে যদি বাকি পণ্য দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা যায়, তাহলে তার ওপরও হজ ফরজ। (ইমদাদুল আহকাম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৫৩)

নিজের হজ আগে, পরে অন্যের হজ
মনে রাখতে হবে যে আগে নিজের হজ আদায় করবে। পরে মাতা-পিতার চিন্তা করবে। সামর্থ্য থাকলে তাঁদের নিয়ে একসঙ্গে হজ করবে। অন্যথায় আগে নিজের ফরজ আদায় করবে। (রহিমিয়া, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২৮২)

অনেকে মনে করে সন্তানের বিয়ে আগে দিতে হয়। তারপর হজ আদায় করতে হয়। অথচ এ কথা ইসলামসমর্থিত নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের বিয়েও খুবই জরুরি। তাই বলে সন্তানের বিয়ের জন্য হজে বিলম্ব করা যাবে না। (রহিমিয়া, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২৭৬)

হজ ফরজ হওয়ার পর করণীয়
হজ যে বছর ফরজ হয়, ওই বছরই আদায় করে নেওয়া উচিত। অহেতুক কারণে বিলম্ব করা গুনাহ। একবার হজ ফরজ হলে তা আর কখনো মাফ হয় না। (আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৫২৮) মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজের ইচ্ছা করে, সে যেন তা দ্রুত আদায় করে নেয়। কেননা মানুষ কখনো অসুস্থ হয়ে পড়ে, কখনো সম্পদ খরচ হয়ে যায়, কখনো সমস্যার সম্মুখীন হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস, নং: ২০৭)

হজে যাওয়ার আগে মানুষের অধিকার
হজে যাওয়ার প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর করণীয় হলো, মানুষের অধিকারের প্রতি যত্নবান হওয়া। ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করা। ইবাদতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা শুধরে নেওয়া। তাওবা-ইস্তিগফার করা। এমন সফরসঙ্গী নির্বাচন করা, যিনি নেককার ও সহযোগিতাকারী। বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা। হজের মাসআলা-মাসায়েল শেখা। (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২২০)

নিয়ত হতে হবে বিশুদ্ধ
হজে যাওয়ার সময় নিয়ত বিশুদ্ধ করে নিতে হবে। মহান আল্লাহর হুকুম পালনার্থে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হজ করছি—এমন নিয়ত করতে হবে। লোকে হাজি বলবে, সম্মান দেখাবে, প্রসিদ্ধি অর্জন হবে, ব্যবসা ভালো জমবে, নির্বাচনে ভালো করা যাবে—এ ধরনের মনোভাব নিয়ে হজ করলে সাওয়াব তো হবেই না; বরং লৌকিকতার কারণে গুনাহ হবে। (মুসলিম, হাদিস নং: ১৯০৫)

যাবতীয় খরচ হালাল হতে হবে
হজের সার্বিক কাজে যেসব টাকা খরচ করা হবে, তা হালাল হতে হবে। হজের মধ্যে হারাম টাকা খরচ করাও হারাম। যে হজে হারাম টাকা খরচ করা হয়, সে হজ কবুল হয় না। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৫১৯)

কোরবানির ঈদ হতে পারে ১২ আগস্ট
                                  

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে আগামী ১ আগস্ট আরবি মাস জিলহজের নতুন চাঁদ দেখা যেতে পারে। সে অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে ১১ আগস্ট। সে অনুযায়ী পরদিন বাংলাদেশে ঈদ হতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসকে বলেন, এ বছর জিলহজ মাসের চাঁদ দেখায় কোনো সমস্যা হবে না। আরব দেশগুলো থেকে খালি চোখেই এ চাঁদ দেখা যাবে।
‘প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি আরব জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ঘোষণা দেবে। অন্য মুসলিম দেশগুলো এটা অনুমোদন দিয়ে হজ মৌসুম শুরু করবে।’

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশেই জিলহজ মাসের চাঁদ ১ আগস্ট দেখা যাবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে একই মত দিয়েছেন আরব ইউনিয়ন ফর স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সায়েন্সের (এইউএএস) সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান। তিনি জানান, আশা করা হচ্ছে, আগামী ১ আগস্ট জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাবে ও এর মাধ্যমে হজ মৌসুম শুরু হবে।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঈদ পালনের পরদিন বাংলাদেশে ঈদ পালন করতে দেখা যায়। তাই মধ্যপ্রাচ্যে ১১ আগস্ট ঈদ হলে পরদিন ১২ আগস্ট বাংলাদেশে ঈদ হওয়ার কথা।

পবিত্র লাইলাতুল কদর শনিবার
                                  
 

 

অনলাইন ডেস্ক : যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আগামীকাল শনিবার (১ জুন) দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর পালিত হবে।

এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে শবে কদরের রাত হাজার রাতের চেয়ে পুণ্যময়। মহান আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হাজার রাতের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র শবে কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনী। পবিত্র শবেকদরের রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আল্লাহ’র নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগী করবেন।

পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে পবিত্র আল কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ শনিবার দিবাগত রাতে মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। এ রাতে মুসলমানগণ নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাত করবেন।
পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে রোববার সরকারি ছুটি।
এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আজ শুক্রবার বাসস’কে বলেন, ‘১ জুন শনিবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।’
তিনি বলেন, এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর (বেলা দেড়টায়) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াজ পেশ করবেন মিরপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব ড. মুফতি আবদুল মুকিত আযহারী।

জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদেই তারাবীর নামাজের পর থেকে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন থাকবে।
পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিওসমূহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। এছাড়া সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হবে। বাসস

 

সারা দেশে আজকের ইফতার ও সেহেরির সময়সূচি
                                  

রমজান মাসের ইফতার খাওয়ার শেষ সময় ও সেহেরি গ্রহণের সময়সূচি তুলে ধরা হলো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সৌজন্যে।

প্রদত্ত প্রথম ছকে পুরো মাস এবং আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী শুধুমাত্র ঢাকা জেলার জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সাথে ঢাকা জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য আছে।

ঢাকার সময়ের সাথে কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য কতিপয় জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে, ঢাকার সময়ের সাথে কত মিনিট যোগ বা বিয়োগ করলে অন্য জেলার সেহরি ও ইফতারের সময় পাওয়া যাবে তা জানতে নিচের ছক দেখুন।

যে কাজে রোজার কাজা-কাফফারা বাধ্যতামূলক
                                  

ধর্ম ডেস্ক : কুরআন নূর ও হেদায়েত লাভে রমজানের রোজা পালনের বিকল্প নেই। এটি পালন করা মহান আল্লাহর বিধান ও নির্দেশ। যা মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরজ। আল্লাহ বলেন-

‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা আল্লাহর ভয় অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

অন্য আয়াতে রমজানে হেদায়েত লাভে আল্লাহ ঘোষণা করেন- ‘যারা রমজান মাস পাবে তারা যেন রোজা রাখে।’ (সুরা বাক্বারা : আয়াত ১৮৫)

আল্লাহ তাআলা বান্দার কষ্ট হবে এসব বিষয়েও দৃষ্টি রেখেছেন। যেমন যারা দূরে কোথাও সফর করবে। কিংবা রোগে-শোকে অসুস্থ থাকবে তাদের জন্য রমজানের রোজা পরে আদায় সাপেক্ষে শিথিল করার ঘোষণাও দিয়েছেন।

সুরা বাক্বারার ১৮৪ ও ১৮৫নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ কিংবা ভ্রমণ অবস্থায় থাকে তারা পরে তা পালন করে নয়।’

আবার অসুস্থতার জন্য যারা কোনোভাবেই রোজা রাখতে সক্ষম নয়, তারা যদি সম্পদশালী হয় তবে তাদের রোজার বিধান হলো, তারা প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন করে মিসকিনকে সাহরি ও ইফতার খাওয়াবে। যদি তারা একাধিক ব্যক্তিকে খাবার দেয় তবে তা আরো উত্তম বলেও ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

রোজা রাখার ব্যাপারে যেমন শর্তারোপ করা হয়েছে আবার যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেলে তবে তার জন্য রয়েছে কাজা ও কাফফারার বিধান। সেসব কাজ ও বিধান হলো-

>> দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস
রোজা রেখে দিনের বেলায় স্বামী-স্ত্রী মেলামেশা করলে। তাতে বীর্যপাত হোক আর না হোক। সে ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর কাযা ও কাফফারা আবশ্যক হয়ে যাবে। হাদিসে এসেছে-

- ‘এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি রোজা রেখে স্ত্রী সহবাস করেছি। বিশ্বনবি তার উপর কাফফারা আবশ্যক করেছিলেন। (বুখারি, তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)

- মুহাম্মাদ ইবনে কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘বিশ্বনবি ঐ ব্যক্তিকে (যে স্ত্রী-সহবাসে লিপ্ত হয়েছিল) কাফফারা আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে কাযা আদায়েরও আদেশ করেছিলেন।’ (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক)

তবে রোজার মাসে রাতের বেলায় স্ত্রী সঙ্গে মেলামেশায় কোনো বাঁধা নেই। আর তাতে রোজার কোনো ক্ষতিও হবে না।

>> খাওয়া ও পান করা
বিনা কারণে দিনের বেলায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো খাবার খেলে কিংবা পানীয় গ্রহণ করলে ওই ব্যক্তির ওপর কাজা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করা আবশ্যক।

- এক ব্যক্তি রমজানে রোজা রেখে (ইচ্ছাকৃতভাবে) পানাহার করলো। বিশ্বনবি তাকে আদেশ করলেন, ‘সে যেন একজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেয় অথবা (একাধারে) দুই মাস রোজা রাখে কিংবা ৬০জন মিসকিনকে (এক বেলা) খাবার খাওয়ায়।’ (দারাকুতনি)

- ইমাম জুহরি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘রমজানে রোজা রেখে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করবে; তার হুকুম ইচ্ছাকৃতভাবে দিনে সহবাসকারীর অনুরূপ।’ অর্থাৎ তাকে কাযা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে।

>> ধূমপান
বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা পান করলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং এ কাজে কাযা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে।

বিশেষ করে-
সাহরির শেষ সময় জেনেও যারা পানাহার করে (সুবহে সাদিক হয়ে গেছে জানা সত্ত্বেও) আজান শোনা যায়নি বা এখনো ভালোভাবে আলো ছড়ায়নি এ ধরনের ভিত্তিহীন অজুহাতে খাবার গ্রহণ করে কিংবা স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশায় লিপ্ত হয়। সে ব্যক্তির রোজ বিশুদ্ধ হবে না।

আর যদি এ কাজগুলো ঐ নির্ধারিত সময়ে রোজার নিয়ত করার পর পুনরায় করে থাকে তবে তাদের জন্য কাযা-কাফফারা দুটোই জরুরি হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘রোজার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সহবাস বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোষক এবং তোমরা তাদের পোষাক। আল্লাহ জানতেন, তোমরা আত্ম প্রতারণা করছ। তাই তিনি তোমাদের প্রতি সদয় হয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন। অতএব তোমরা তোমাদের পত্নীদের সঙ্গে সহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা (সন্তান) লিখে রেখেছেন, তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর; যতক্ষণ সকালের কালো রেখা থেকে সাদা রেখা প্রকাশ হয়, তৎপর রোজাকে রাত পর্যন্ত পূর্ণ কর এবং তোমরা মসজিদে ইতেকাফ অবস্থায়ও স্ত্রী সহবাস করো না। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। সুতরাং এ সবের ধারে কাছেও যেও না। এভাবে আল্লাহ মানব জাতির জন্য নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করে থাকেন; হয়তো তরা পরহেজগারী অবলম্বন করবে। (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৭)

রোজার বিধান মানুষের জন্য কল্যাণের বিধান। এ বিধান পালনেই মানুষ আল্লাহর রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত পেয়ে থাকে। তাই রোজার বিধান পালনে কৃপনতা কিংবা অবহেলা নয় বরং কুরআনের হেদায়েত গ্রহণের চেষ্টা নিয়োজিত হওয়াই সর্বোত্তম কাজ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রোজা কাজা ও কাফফরা আবশ্যক হওয়ার বিষয়গুলো থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। রোজার বিধানগুলো যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

রোজার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রোজা রাখা ফরজ। তবে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন, মুকিম (মুসাফির নয়), সুস্থদেহি হতে হবে। রোজা রাখার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে।

পাঠকদের জন্য রোজার কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা বর্ণনা করা হলো-
রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোজা ভাঙ্গবে না। তবে ইচ্ছাকৃত এ পরিমাণ রক্ত বের করা মাকরুহ, যার দ্বারা রোজাদার খুব দুর্বল হয়ে যায়। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ১/১৯৯-২০০)

দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে যদি তা থুথুর সাথে ভেতরে চলে যায়, আর রক্তের পরিমাণ থুথুর সমান বা বেশি হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (আহসানুল ফাতওয়া ৪/৪৩৪)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) ও ইকরিমা (রহ.) বলেন, (পেটে বা মস্তিস্কে) কোনো কিছু প্রবেশ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়। (বুখারী শরীফ ১/২৬০)

ছোলা-দানার চেয়েও কম দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকা খাবার খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙ্গবে না, তবে মাকরুহ হবে। হ্যাঁ মুখ থেকে বের করে তা খেলে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাজা ওয়াজিব হবে। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ১/২০৩)

দাঁতের ফাঁকে থেকে যাওয়া (একটি ছোলা পরিমাণ বা তার অধিক) খাবার মুখ থেকে বের না করে খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ১/২০২)

রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট, টুথ পাউডার, মাজন বা কয়লা দিয়ে দাঁত মাজা মাকরুহ। রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। কোনো ব্যক্তি যদি হাঁপানি অথবা অ্যাজমার কারণে ইনহেলার ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, তাহলে রোজা ভাঙার অনুমতি আছে। তবে ওই রোজা পরে কাজা করতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/৩৯৫)

রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় কুলি করার সময় যদি পানি গলার ভেতর চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। (দুররে মুখতার : ১/১৫০)

কোনো কারণে রোজা ভেঙে গেলেও দিনের বেলায় পানাহার করা যাবে না। সারা দিন রোজাদারের মতো থাকা ওয়াজিব। (হিদায়া : ১/১৮৫)

কানে তেল বা ওষুধ প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যাবে। এতে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। তবে গোসল করার সময় যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে পানি প্রবেশ করে, তাহলে রোজা ভাঙবে না। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৯৬)

পায়খানার রাস্তায় ডুশ ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৪)

ভুলক্রমে পানাহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। (বুখারি : ১৯৩৩)

রোজা অবস্থায় চোখে সুরমা বা শরীরে তেল, আতর ইত্যাদি ব্যবহার সম্পূর্ণ জায়েজ। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। এমনকি যদি সুরমা ব্যবহারের পর থুথু কিংবা শ্লেষ্মায় রং পরিলক্ষিত হয়, তবু রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। (ফাতহুল কাদির : ৪/৩২৭)

পবিত্র মাহে রমজান শুরু
                                  

আজ থেকে শুরু পবিত্র মাহে রমজান। মুসলমানদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস এটি। সোমবার (৬ মে) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। রাতে প্রথম তারাবির নামাজ আদায়ে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নামে।

সোমবার মাগরিবের নামাজের পর চট্টগ্রামের আকাশে ভেসে ওঠে পবিত্র মাহে রমজান মাসের চাঁদ। প্রায় একই সময় রাজধানী ও ফেনীসহ দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও রমজানের চাঁদ দেখার খবর পাওয়া যায়। ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী চাঁদ দেখা যাওয়ায় পরের দিন থেকেই শুরু হবে রোজা পালন।

পরে সোমবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইসলামি ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদ দেখা যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। এছাড়া আগামী ১ জুন দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র শবে কদর পালনের ঘোষণাও দেন তিনি।

রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাতেই এশার নামাজের সঙ্গে মসজিদে মসজিদে শুরু হয়েছে তারাবির নামাজ আদায়। প্রথম দিনের তারাবির নামাজ হওয়ায় রাজধানীসহ সব মসজিদে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে সারাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপি কর্মসূচি
                                  

অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র রমজান যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে পালনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন সারাদেশে মাসব্যাপি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় র‌্যালি ও সমাবেশ, পবিত্র কুরআন শিক্ষা, ইসলামী বইমেলা, হালাল পণ্য বিক্রি ও প্রদর্শনী, ইসলামি ক্যালিগ্রাফি, পুস্তক ও মহানবী (সা.) এর জীবনীভিত্তিক পোস্টার প্রদর্শনী, ইফতার মাহফিল প্রভৃতি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার একথা জানানো হয়।

মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় র‌্যালি ও সমাবেশ : পবিত্র রমযানের পবিত্রতা রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে র‌্যালি শুরু হবে।

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোঃ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে এই র‌্যালি বায়তুল মুকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব, সচিবালয় ও জিপিও হয়ে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে। এছাড়া সকল বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুরূপ র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

পবিত্র কুরআন শিক্ষা : বায়তুল মুকাররমে ১ হতে ২৫ রমজান পর্যন্ত বয়স্কদের জন্য বোগদাদী কায়দায় কুরআন শিক্ষা দেয়া হবে। মহিলা ও পুরুষদের পৃথক ব্যাচে প্রতিদিন ৩টি ব্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১ম ব্যাচ: বেলা ১২টা হতে দুপুর ১টা, ২য় ব্যাচ: দুপুর ২টা হতে বিকাল ৩টা এবং ৩য় ব্যাচ: বিকাল ৫টা হতে ৬ টা।

ইসলামী বইমেলা: বায়তুল মুকাররমের দক্ষিণ চত্বরে ১ রমযান থেকে মাসব্যাপি ইসলামি বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

হালাল পণ্য বিক্রি ও প্রদর্শনী : মাহে রমজানে বায়তুল মুকাররমের দক্ষিণ সাহানে মাসব্যাপি হালাল পণ্য বিক্রয় ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। মেলায় বিশেষ কমিশনের ইসলামী বই বিক্রয় করা হবে।

ইসলামি ক্যালিগ্রাফি, পুস্তক ও মহানবী (সা.) এর জীবনীভিত্তিক পোস্টার প্রদর্শনী : বায়তুল মুকাররমের উত্তর সাহানে ইসলামি ক্যালিগ্রাফি, পুস্তক ও নবী করিম (সা.) এর জীবনীভিত্তিক পোস্টার প্রদর্শনী হবে। প্রতিদিন বাদ যোহর থেকে মাগরিব নামাযের পূর্ব পর্যন্ত প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ইফতার মাহফিল : জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার রোজাদার মুসল্লিদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হবে।

বাদ যোহর তাফসির ও প্রাক তারাবীহ্ আলোচনা : মাহে রমজানে জাতীয় মসজিদে প্রতিদিন বাদ যোহর তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রতিদিন তারাবীহ নামাজে পঠিতব্য আয়াতের ওপর তারাবীহ নামাজের পূর্বে আলোচনা করা হবে।

খতমে বোখারী ও মাসয়ালা-মাসায়েল আলোচনা: পবিত্র রমজান মাসে বায়তুল মুকাররমের পূর্ব সাহানে প্রতিদিন বাদ আসর থেকে খতমে বোখারী (দরসে হাদীস) ও রমযানে মাসয়ালা মাসায়েল সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

কিয়ামুল লাইল : জাতীয় মসজিদে ২০ রমজান দিবাগত রাত থেকে ২৬ রমজান দিবাগত রাত পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ৭ দিনব্যাপি কিয়ামুল লাইল নামাযে তিলাওয়াতের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন শরীফ এক খতম সম্পন্ন করা হবে।

ইতিকাফের ব্যবস্থা : পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিন বায়তুল মুকাররমে আগ্রহী মুসল্লীদের জন্য ইতিকাফের ব্যবস্থা করা হবে।

সালাতুত্তাসবীহ্ আদায় : মাহে রমজানের ২৮ তারিখ দিবাগত রাতে জাতীয় মসজিদে ফজিলতপূর্ণ নামাজ সালাতুত্তাসবীহ আদায় করা হবে।

৬৭ হাজার ৩৬৮টি মসজিদে কুরআন শিক্ষা প্রদান : মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৬৭ হাজার ৩৬৮টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসে এলাকাবাসীদের কুরআন শিক্ষা প্রদান করা হবে।

১ হাজার ১০টি দারুল আরকাম মাদ্রাসায় আলোচনা সভা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত ১হাজার ১০টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পবিত্র রমজানের গুরুত্ব ও মাসয়ালা-মাসায়েল শিক্ষা প্রদান করা হবে।

ইসলামিক মিশনের ৫০টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠান : ইসলামিক মিশনের ৫০টি কেন্দ্রের ৪২৫টি মক্তব ও ১৯টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার মাধ্যমে পবিত্র রমজান মাসে এলাকাবাসীকে পবিত্র কুরআন শিক্ষা প্রদান করা হবে এবং তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বাসস

ঘূর্ণিঝড়ে যে দোয়া পড়বেন
                                  

ধর্ম ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ো বাসাত থেকে মুক্ত থাকতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন। কেননা মহান আল্লাহই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়দাতা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা বাতাসকে গালি দিও না। তবে যদি তোমরা একে তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেখতে পাও, তবে এ দোয়া করবে-

اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ خَيْرِ مَا فَيْهَا وَ خَيْرِمَا أُمِرَتْ بِهِ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ شَرِّ مَا فَيْهَا وَ شَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরি মা ফিহা ওয়া খাইরি মা উমিরাত বিহি, ওয়া নাউজুবিকা মিন শাররি হাজিহির রিহি ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উমিরাত বিহি’ (তিরমিজি, মিশকাত)

অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট এ বাতাসের ভালো দিক, এতে যে কল্যাণ রয়েছে তা এবং যে উদ্দেশ্যে তা নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার উত্তম দিকটি প্রার্থনা করছি। এবং তোমার নিকট এর খারাপ দিক হতে, এতে যে অকল্যাণ রয়েছে তা হতে এবং এটা যে উদ্দেশ্যে আদেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার মন্দ দিক হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

বিপদাপদ থেকে আত্ম-রক্ষায় প্রতিদিনের দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় নিন্মোক্ত দোয়াটি পড়ে; তাকে কোনো বিপদাপদ ও বালা-মুছিবত স্পর্শ করবে না-
بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِيْ الْأَرْضِ وَلَا فِيْ السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الُعَلِيْم
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহিল লাজি লা ইয়াদূররু মাআস মিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামিই ওয়াহুয়া সামিয়ুল আলিম।’ (তিরমিজি, ইবনু মাজাহ, মিশকাত)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, যেন তাঁর উম্মতকে দুর্যোগ ও বিপর্যয় দিয়ে এক সঙ্গে ধ্বংস করে দেয়া না হয়।

এ সব বিপদকালীন সময়ে বিশ্বনবি বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার করতেন এবং অন্যদেরকেও তা পড়তে নির্দেশ দিতেন।

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত ঘূর্ণিঝড়, প্রবল ঝড়ো বাতাস ও বিপদ-আপদে উল্লেখিত দোয়া পড়া এবং বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঘূর্ণিঝড়ে হাদিসের শেখানো দোয়া পড়ার এবং বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

রমজানে যে বিশেষ দোয়া পড়বেন
                                  

ধর্ম ডেস্ক : রমজান অনেক মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ মাস। এ মাসে মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি অবিরত রহমত বরকত নাজিল করেন। আর বান্দাকে মাগফেরাত ও নাজাত দান করেন। শাবান মাসের শেষ দিন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতদের বিশেষ তাসবিহ ও দোয়া পড়তে বলেছেন।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস জুড়ে তাসবিহ, ইসতেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে অতিবাহিত করা ছিল উম্মতের জন্য বিশেষ নসিহত। যাতে মানুষ এ বিশেষ তাসবিহ, ইসতেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেকে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে পরিপূর্ণভাবে তৈরি করতে পারেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘শাবান মাসের শেষ দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্য বক্তব্য দেন যে, ‘হে লোক সকল! অবশ্যই তোমাদের সামনে মহান মাস, বরকতময় মাস উপস্থিত। এ মাসে তোমরা ৪টি কাজ বেশি বেশি আদায় কর। এর মধ্যে দু’টি কাজ আল্লাহর জন্য আর দু’টি কাজ তোমাদের নিজেদের জন্য।

আল্লাহ জন্য ২ কাজ হলো (তাসবিহ) এ সাক্ষ্য দেয়া যে, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
আর নিজের জন্য যে দুই কাজ করতে বলেছেন, তাহলো- জান্নাত লাভের দোয়া করা এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চাওয়া।’

হাদিসে ঘোষিত বিশেষ দোয়া

> তাসবিহ পড়া অর্থাৎ এ সাক্ষ্য দেয়া-
- لَا اِلَهَ اِلَّا الله
উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’
অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

> ইসতেগফার করা অর্থাৎ ক্ষমা চাওয়া। হাদিসে অনেক ইসতেগফার এসেছে। এর যে কোনোটি পড়লেই হবে-
- اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم اِنَّ اللهَ غَفُوْرُ الرَّحِيْم
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম।
অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।

- اَسْتَغْفِرُوا اللهَ العَظِيْم اّللَّذِى لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ : মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি এক ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী এবং তার দিকেই আমরা ফিরে যাবো।’

- رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ : রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব্ আলাইয়্যা ইন্নাকা আংতাত তাওয়াবুর রাহিম।`
অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি অতিশয় তাওবাকবুলকারী, দয়াবান।`

- اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্বতানি; ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আ’হদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্বা’তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু আবুউলাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া; ওয়া আবুউ বিজামবি ফাগফিরলি ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি আমার সাধ্যমত তোমার প্রতিশ্রুতিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। আমার ওপর তোমার অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমার পাপও স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ব্যতিত কোনো ক্ষমাকারী নেই।’

> জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া-
- اَللَّهُمَّ اَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَ اَجْرِنَا مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলনাল জান্নাতা ওয়া আঝিরনা মিনান নার।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও।’

- اَللهُمَّ انَّ نَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান নার।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাই।’

হাদিসে পাকে আরো এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা ৩ বার জান্নাতের আশা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করবে, জান্নাত-জাহান্নাম আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তির দোয়া কবুলে সুপারিশ করবে।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরো রমজান মাস জুড়ে বেশি বেশি তাওহিদের ঘোষণা, ইসতেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা, জান্নাতের আশা ও জাহান্নাম থেকে নাজাতের দোয়া করার কথা বলেছেন।

আল্লাহ তাআলা রমজানজুড়ে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখিত তাসবিহ, ইসতেগফার ও দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করে রমজানের রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

নামাজরত অবস্থায় কল বেজে উঠলে কী করবেন?
                                  

প্রশ্ন : নামাজের মাঝখানে কল বেজে উঠলে তখন কী করণীয়। নামাজ নষ্ট না করে রিং বন্ধ করার কোনো ব্যবস্থা আছে কি? বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর: নামাজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পরিপূর্ণ একাগ্রতা ও খুশু-খুযুর সঙ্গে তা আদায় করা কাম্য। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-“নিশ্চয়ই সফল মুমিন তারাই যারা নিজেদের নামাজে আন্তরিকভাবে বিনীত”-সূরা মুমিনুন:১

খুশুর অর্থ, অন্তরকে বিনয়ের সঙ্গে নামাজের অভিমুখী করা। আর খুযুর অর্থ,বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে নত করা। নামাজে উভয়টি কাম্য। তাই নামাজে পরিপূর্ণ একাগ্রতা আনার জন্য মসজিদে প্রবেশের আগেই হয় মোবাইল একেবারে বন্ধ করা, আর নাহয় অন্তত রিংটোন বন্ধ করে রাখা আবশ্যক।

কারণ মসজিদে রিং বেজে উঠলে শুধু নিজের নামাজেরই একাগ্রতা নষ্ট হয় না;বরং অন্যদের নামাজেও বিঘ্নতা সৃষ্টি হয় যা অপরাধের মাত্রাকে আরও বাড়িযে দেয়।

উল্লিখিত সতর্কতা অবলম্বন করা সত্ত্বেও ভুলে কখনো মোবাইল বন্ধ করা না হলে এবং নামাজ অবস্থায় রিং বেজে উঠলে সেক্ষেত্রে নামাজ থেকেই রিং বন্ধ করতে হবে। নামাজ অবস্থায় রিং বন্ধ করার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো-

. এক হাতের সাহায্যে মোবাইল পকেটে রেখেই বন্ধ করবে। দুই হাত ব্যবহার করবেন না। পকেট থেকে মোবাইল বের করতে হলে সেক্ষেত্রেও এক হাতে বন্ধ করবেন। মোবাইল বের করে পকেটের কাছে রেখেই না দেখে দ্রুত বন্ধ করে পকেটে রেখে দিবেন।

. এক হাত দ্বারা বন্ধ করতে গিয়ে মোবাইল পকেট থেকে বের করে দেখে দেখে বন্ধ করবেন না। অবশ্য বন্ধ করার জন্য বাটন দেখার প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে বাটন দেখে দ্রুত বন্ধ করা যাবে। এ কারণে নামাজ নষ্ট হবে না। তবে কার কল আসল তা ইচ্ছাকৃত দেখলে নামাজ মাকরুহ হবে। কেননা নামাজ অবস্থায় কোন লেখা দেখা এবং বোঝার চেষ্টা করা মাকরুহ। তাই এ থেকে বিরত থাকা জরুরি। (আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৫৯;শরহুল মুনইয়া,পৃ.৪৪৭;আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৪,৬২৪)

. মোবাইল বন্ধের জন্য একসঙ্গে দুই হাত ব্যবহার করা যাবে না। কারণ একসঙ্গে দুই হাত ব্যবহার করলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। অবশ্য দুই হাত ব্যবহার করা ছাড়া বন্ধ করা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রেও বন্ধ করতে হবে। যেন অন্যদের নামাজে বিঘ্নতা সৃষ্টি না হয়। আর ওই নামাজ পুনরায় পড়তে হবে। . সেজদা অবস্থায় রিং বেজে উঠলে সেক্ষেত্রে সেজদা থেকে না ওঠে পূর্বোক্ত পন্থায় এক হাতে রিং বন্ধ করবে। এক্ষেত্রে রিং বা মোবাইল বন্ধ করার জন্য ইমামকে সেজদায় রেখে সেজদা থেকে উঠা যাবে না।

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম
উস্তায ও নায়েবে মুফতি,ফতোয়া বিভাগ,জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ,ঢাকা-১২১৭

কুরআন মুখস্থ করলো ৩ বছরের শিশু
                                  

ধর্ম ডেস্ক : কুরআন আল্লাহর কিতাব। এ কিতাবের সংরক্ষণের দায়িত্ব মহান আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা তা মানুষের হৃদয়ে সংরক্ষণ করেছেন। যা ইচ্ছা করলেও কেউ হৃদয় থেকে মুছে দিতে পারবে না। যার প্রমাণ আজারবাইজানের ৩ বছরের ফুটফুটে জাহরা। এ বয়সেই সে মুখস্থ করেছে পবিত্র কুরআন।

জাহরা হোসাইন। বয়স মাত্র ৩ বছর। এ বয়সে কুরআন মুখস্থ করে সারা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে সে। আর তাতেই সে দেশটির সবচেয়ে কনিষ্ঠ হাফেজ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে বসবাসকারী কনিষ্ঠ হাফেজ জাহরার মা জানান, ‘জাহরা যখন তার গর্ভে তখন তিনি বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করতেন। উচ্চস্বরের কুরআনের তেলাওয়াত মনোযোগ সহকারে শুনতেন।

জাহরার জন্মের পর ছড়া কিংবা কবিতার পরিবর্তে জাহরাকে ঘুম পাড়াতে কুরআনের ছোট ছোট সুরাগুলো তেলাওয়াত করতেন।

জাহরার বয়স যখন ১ বছর তখন থেকেই তার মা লক্ষ্য করেন যে, জাহরা তার তেলাওয়াত করা ছোট ছোট সুরাগুলো তার সাথে তেলাওয়াতের চেষ্টা করছে। মেয়ের এ আগ্রহ দেখে সে কুরআন তেলাওয়াত বাড়িয়ে দেন। আর এভাবেই ৩ বছর বয়সে কোনো শিক্ষক ছাড়াই মায়ের কাছ থেকে শুনে শুনে জাহরা পবিত্র কুরআনের ৩৭টি সুরা মুখস্থ করে ফেলেছে।

জাহরার কুরআন মুখস্থে তার মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। কারণ তার জন্মের আগে থেকে মায়ের নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত এবং জন্মের পর ঘুম লাগানোর সময় কুরআনের অবিরাম তেলাওয়াতই জাহরাকে কুরআনের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে।

আল্লাহ তাআলা ৩ বছরের ছোট্ট জাহরা হোসাইনকে কুরআনের পাখি হিসেবে কবুল করুন। জাহরার মতো সব শিশুকেই কুরআনের আবহে বেড়ে ওঠার তাওফিক দান করুন। আমিন।


   Page 1 of 6
     ইসলাম
যে কাজে ইহরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ভেঙে যায়
.............................................................................................
জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে কমিটির সভা বুধবার
.............................................................................................
শিশুর প্রতি ভালোবাসায় জান্নাত লাভ করা যায়
.............................................................................................
জর্ডানে কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হাফেজ ত্বকী
.............................................................................................
হজ যাদের ওপর ফরজ
.............................................................................................
কোরবানির ঈদ হতে পারে ১২ আগস্ট
.............................................................................................
পবিত্র লাইলাতুল কদর শনিবার
.............................................................................................
সারা দেশে আজকের ইফতার ও সেহেরির সময়সূচি
.............................................................................................
যে কাজে রোজার কাজা-কাফফারা বাধ্যতামূলক
.............................................................................................
রোজার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
.............................................................................................
পবিত্র মাহে রমজান শুরু
.............................................................................................
পবিত্র রমজান উপলক্ষে সারাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপি কর্মসূচি
.............................................................................................
ঘূর্ণিঝড়ে যে দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
রমজানে যে বিশেষ দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
নামাজরত অবস্থায় কল বেজে উঠলে কী করবেন?
.............................................................................................
কুরআন মুখস্থ করলো ৩ বছরের শিশু
.............................................................................................
যে ৪ আমলে রমজান মাস সাজাতে বলেছেন বিশ্বনবি
.............................................................................................
নেককার বান্দার ৩ আলামাত
.............................................................................................
২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত
.............................................................................................
তাহাজ্জুদ নামাজে বিশ্বনবি যে দোয়া পড়তেন
.............................................................................................
আজ পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
আগামীকাল পবিত্র শবে মিরাজ
.............................................................................................
আগামীকাল পবিত্র শবে মি‘রাজ
.............................................................................................
শবে মেরাজ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররমে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল
.............................................................................................
আগুন নেভাতে যে দোয়া পড়তে হয়
.............................................................................................
তাহাজ্জুদ নামাজে যে সুফল লাভ করে মুমিন
.............................................................................................
রমজানের প্রস্তুতিতে রজব মাস
.............................................................................................
শবে মেরাজ ৩ এপ্রিল
.............................................................................................
নারীর যে মর্যাদা দিয়েছে ইসলাম
.............................................................................................
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপে বৃষ্টিতে মুসল্লীদের দুর্ভোগ : মঙ্গলবার আখেরী মোনাজাত
.............................................................................................
সাদপন্থীদের ইজতেমা শুরু, বৃষ্টিতে দুর্ভোগ
.............................................................................................
সব প্রস্তুতি শেষ, শুক্রবার শুরু বিশ্ব ইজতেমা
.............................................................................................
আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলন শুক্রবার
.............................................................................................
মুমিন বান্দার কুরআনি আমল যেমন হবে
.............................................................................................
বিশ্ব হিজাব দিবস ও পর্দা প্রসঙ্গ
.............................................................................................
যে পোশাকে নারীদের নামাজ নিষিদ্ধ
.............................................................................................
যৌন মিলন নিষিদ্ধ, এবার উপায় !
.............................................................................................
নামাজে ভয় প্রসঙ্গে বিশ্বনবি যা বললেন
.............................................................................................
আখেরি চাহর সোম্বা আজ
.............................................................................................
এবছর সৌদিতে মারা গেছেন ১৩১ জন, দেশে ফিরেছেন ৮৫ হাজার হাজি
.............................................................................................
পবিত্র হজ আজ
.............................................................................................
এবার হজে যাওয়া হলো না ৬০৬ জনের
.............................................................................................
সৌদির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে প্রথম হজ ফ্লাইট
.............................................................................................
অহঙ্কার মানুষকে ধ্বংস করে
.............................................................................................
নামাজের সময় আল্লাহ প্রিয়নবিকে যে দোয়া পড়তে বলেছেন
.............................................................................................
পবিত্র শবে মেরাজ আজ
.............................................................................................
৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে হেফাজতে
.............................................................................................
ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু কাল
.............................................................................................
তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না মাওলানা সাদ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]