| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * করোনা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ৩২ দেশের ২৩৯ গবেষকের চ্যালেঞ্জ   * আবারও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারে ‘না’ করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা   * বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড আজ   * সৌদিতে করোনায় পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশির মৃত্যু, আক্রান্ত প্রায় ২০ হাজার   * ট্রাম্পের বিপক্ষে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন কার্দাশিয়ানের স্বামী কেনি   * মৃত্যু বেড়ে ২০৫২, মোট শনাক্ত ১৬২৪১৭   * কাতার বিশ্বকাপের চমক ‘রোবট রেফারি’   * শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিস গ্রেফতার   * ১ কোটি ১৩ লাখ ছাড়াল আক্রান্ত, মৃত্যু ৫ লাখ ৩৩ হাজার   * করোনায় মৃত্যুর তালিকায় পাঁচে মেক্সিকো  

   অপরাধ ও অনিয়ম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পাপুলের থাবায় ভিটামাটিহারা পাঁচ শতাধিক পরিবার

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম ও শ্যালিকা ইয়াসমিনের থাবায় কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবার এখন ভিটামাটি হারা। সেলিনা ও তাঁর স্বজনদের ড্রেজারের হানায় কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, যার মধ্যে ভিটামাটি বিলীন হয়েছে পাঁচ শতাধিক পরিবারের। একইভাবে শত বছরের পুরনো স্কুল, মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানও মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। ভিটামাটি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রতিকার চেয়ে এমপি সেলিনা ইসলাম ও তাঁর ক্যাডারদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট মামলাসহ জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন দপ্তরে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এমপি সেলিনা ও তাঁর স্বজনদের ক্যাডার বাহিনী দিনের পর দিন এভাবে ফসলি জমি ড্রেজিং করে সাবাড় করেছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সেলিনার লোকজন উল্টো মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে ক্ষতিগ্রস্তদের।

কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শ্রমিক হিসেবে কুয়েতে গিয়েছিলেন একসময়ের হতদরিদ্র সেলিনা। সেখানে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে বিয়ে হয়। পরবর্তী সময়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে মানবপাচার ও ভিসা ট্রেডিংসহ বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে হয়ে যান হাজার কোটি টাকার মালিক। ২০০৭ সালে সেই সেলিনার চোখ পড়ে মেঘনা উপজেলার বালুমহালের দিকে। এরপর এমপি হয়ে বালুমহাল লুটে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। এমপি সেলিনার নির্দেশে অবৈধভাবে মেঘনা উপজেলার ছয়টি গ্রামের চরের মাটি কাটা শুরু হয়। প্রথম দিকে কোনো ইজারা ছাড়াই মাটি কাটা শুরু করলেও ২০১১ সালে সেলিনা তাঁর মালিকানাধীন ফোর পয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের লাইসেন্সে সরকার থেকে কয়েকটি বালুমহাল ইজারা নেন। কিন্তু ইজারাকৃত মহাল ছেড়ে সাধারণ মানুষের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার মহোৎসব শুরু করে দেয় সেলিনার বোন ইয়াসমিন প্রধানের ক্যাডার বাহিনী।

শুধু সেলিনার ঠিকাদারি লাইসেন্সই নয়, তাঁর পিএস বশিরের নামে থাকা ফাহাদ ট্রেডার্স ও ভাতিজা জাকির হোসেনের নামে করা জালাল এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমেও মেঘনা উপজেলায় শত শত বিঘা জমি কেটে নেওয়া হয়। এভাবে বালুমহালের নামে সেলিনার সিন্ডিকেট প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করে ক্ষতিগ্রস্তরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের রামপ্রসাদের চর গ্রামের মৃত মোন্তাজ উদ্দিনের ছেলে হোসেন মোহাম্মদ মোহসিন এমপি সেলিনার থাবায় হারিয়েছেন সাড়ে তিন বিঘা জমি। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে দুদক, জেলা প্রশাসন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়াসহ উচ্চ আদালতে তিনটি রিট মামলাও করেছিলেন মোহসিন। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সেলিনার লোকজন মোহসিনসহ তাঁর ছয় ভাইয়ের বিরুদ্ধে উল্টো ছয়টি মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেন। চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলাগুলো করা হয় জমি হারানো ওই ছয় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ক্ষতিগ্রস্ত মোহসিন বলেন, ‘এমপি সেলিনা ইসলাম ও তাঁর বোন, ভাতিজা, ভাগ্নে এবং পিএসের লাইসেন্স দিয়ে নামমাত্র কিছু বালুমহাল ইজারা নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে কেটে নিয়েছে আমাদের ফসলি জমি। বাধা দেওয়ায় উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছেন। এই সেলিনা সিন্ডিকেটের কারণে উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবার ভিটামাটি হারিয়েছে।’ গত ২৪ জুন কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনেও এই দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করেছেন মোহসিন।

ক্ষুব্ধকণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গত ১২ বছরে এই অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন, থানা, জেলা প্রশাসন, দুদক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু সেলিনার মাটি কাটা কেউ বন্ধ করতে পারেনি।’ চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের আব্দুল বারীর মালিকানাধীন রামপ্রসাদের চরের পশ্চিম পার ও পূর্ব পারের ২৫ বিঘা জমির মাটি অবৈধভাবে কেটে নিয়েছেন এমপি সেলিনা ও তাঁর স্বজনরা। মাটিখেকোদের কারণে পশ্চিমপাড়ায় রামপ্রসাদের চরের শুধু জমিই বিলীন হয়নি, মেঘনাগর্ভে চিরতরে হারিয়ে গেছে পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ ও পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও।

স্থানীয় হবীবুল্লাহ মাস্টার, ডা. শরিয়াতুল্লাহ, ডা. আব্দুস সালাম, ইমাম হোসেন, আ. লতিফ দোকানদার, নুরুল আমিন, শাহাবুদ্দিন আমিন, শাহজাহান, সেন্টু, মুকবুল, মোন্নাফ, আ. মজিদ, আলেক, ফালু, আ. আউয়াল, মানিক মিয়া, সোলেমান, জামাল, কামাল, মোস্তফা, সাখাওয়াত, কুদ্দুস সরকার, নজরুল সরকার, বারু সরকারসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, তৎকালীন মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা পারভিনসহ ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করেই সেলিনা ইসলাম ইজারার নামে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন এবং জোরপূর্বক মাটি কাটার উৎসব জারি রেখেছেন। সেলিনার কাছ থেকে প্রতি মাসে মাসোহারা পায় প্রশাসনের ওই সিন্ডিকেট। শুধু তা-ই নয়, উচ্চ আদালতে রিট মামলা চলমান থাকার পরও কুমিল্লা জেলা প্রশাসন মেঘনা উপজেলার বালুমহালের দরপত্র আহ্বান করেছে, যা আইনত কোনোভাবেই করতে পারে না।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে মেঘনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, ‘অভিযোগ সত্য। একটি সিন্ডিকেটের কারণে কয়েক শ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে ওদের এমন অন্যায় কাজ করতে দিইনি। সরকারের উচিত এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন এমপি সেলিনা ইসলামের ছোট বোন ইয়াসমিন প্রধান। তিনি  বলেন, ‘আমি বালুমহাল ইজারা নিইনি, আমার লাইসেন্সে অন্য কাজ করি।’ কিন্তু এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ, বোনের পক্ষ হয়ে আপনিই এসব দেখভাল করেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘বোনের কাজ বোনই করেন। আর আমার বোন আগে এটা করেছেন, এখন করেন না।’

এ বিষয়ে এমপি সেলিনার বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায় না। তাঁর সেলফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সেলিনার স্বামী লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল মানি লন্ডারিং, মানবপাচারসহ নানা রকম অভিযোগে কুয়েতে বিচারের মুখোমুখি হয়ে কারাবন্দি আছেন। দুদক গত ১৭ জুন ইমিগ্রেশন পুলিশকে দেওয়া চিঠিতে পাপুলের স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, তাঁদের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও সেলিনার অপর বোন জেসমিনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া পাপুল দেশে ফিরলে তাঁরও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

পাপুলের থাবায় ভিটামাটিহারা পাঁচ শতাধিক পরিবার
                                  

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম ও শ্যালিকা ইয়াসমিনের থাবায় কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবার এখন ভিটামাটি হারা। সেলিনা ও তাঁর স্বজনদের ড্রেজারের হানায় কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, যার মধ্যে ভিটামাটি বিলীন হয়েছে পাঁচ শতাধিক পরিবারের। একইভাবে শত বছরের পুরনো স্কুল, মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানও মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। ভিটামাটি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রতিকার চেয়ে এমপি সেলিনা ইসলাম ও তাঁর ক্যাডারদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট মামলাসহ জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন দপ্তরে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এমপি সেলিনা ও তাঁর স্বজনদের ক্যাডার বাহিনী দিনের পর দিন এভাবে ফসলি জমি ড্রেজিং করে সাবাড় করেছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সেলিনার লোকজন উল্টো মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে ক্ষতিগ্রস্তদের।

কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শ্রমিক হিসেবে কুয়েতে গিয়েছিলেন একসময়ের হতদরিদ্র সেলিনা। সেখানে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে বিয়ে হয়। পরবর্তী সময়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে মানবপাচার ও ভিসা ট্রেডিংসহ বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে হয়ে যান হাজার কোটি টাকার মালিক। ২০০৭ সালে সেই সেলিনার চোখ পড়ে মেঘনা উপজেলার বালুমহালের দিকে। এরপর এমপি হয়ে বালুমহাল লুটে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। এমপি সেলিনার নির্দেশে অবৈধভাবে মেঘনা উপজেলার ছয়টি গ্রামের চরের মাটি কাটা শুরু হয়। প্রথম দিকে কোনো ইজারা ছাড়াই মাটি কাটা শুরু করলেও ২০১১ সালে সেলিনা তাঁর মালিকানাধীন ফোর পয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের লাইসেন্সে সরকার থেকে কয়েকটি বালুমহাল ইজারা নেন। কিন্তু ইজারাকৃত মহাল ছেড়ে সাধারণ মানুষের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার মহোৎসব শুরু করে দেয় সেলিনার বোন ইয়াসমিন প্রধানের ক্যাডার বাহিনী।

শুধু সেলিনার ঠিকাদারি লাইসেন্সই নয়, তাঁর পিএস বশিরের নামে থাকা ফাহাদ ট্রেডার্স ও ভাতিজা জাকির হোসেনের নামে করা জালাল এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমেও মেঘনা উপজেলায় শত শত বিঘা জমি কেটে নেওয়া হয়। এভাবে বালুমহালের নামে সেলিনার সিন্ডিকেট প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করে ক্ষতিগ্রস্তরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের রামপ্রসাদের চর গ্রামের মৃত মোন্তাজ উদ্দিনের ছেলে হোসেন মোহাম্মদ মোহসিন এমপি সেলিনার থাবায় হারিয়েছেন সাড়ে তিন বিঘা জমি। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে দুদক, জেলা প্রশাসন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়াসহ উচ্চ আদালতে তিনটি রিট মামলাও করেছিলেন মোহসিন। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সেলিনার লোকজন মোহসিনসহ তাঁর ছয় ভাইয়ের বিরুদ্ধে উল্টো ছয়টি মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেন। চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলাগুলো করা হয় জমি হারানো ওই ছয় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ক্ষতিগ্রস্ত মোহসিন বলেন, ‘এমপি সেলিনা ইসলাম ও তাঁর বোন, ভাতিজা, ভাগ্নে এবং পিএসের লাইসেন্স দিয়ে নামমাত্র কিছু বালুমহাল ইজারা নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে কেটে নিয়েছে আমাদের ফসলি জমি। বাধা দেওয়ায় উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছেন। এই সেলিনা সিন্ডিকেটের কারণে উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবার ভিটামাটি হারিয়েছে।’ গত ২৪ জুন কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনেও এই দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করেছেন মোহসিন।

ক্ষুব্ধকণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গত ১২ বছরে এই অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন, থানা, জেলা প্রশাসন, দুদক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু সেলিনার মাটি কাটা কেউ বন্ধ করতে পারেনি।’ চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের আব্দুল বারীর মালিকানাধীন রামপ্রসাদের চরের পশ্চিম পার ও পূর্ব পারের ২৫ বিঘা জমির মাটি অবৈধভাবে কেটে নিয়েছেন এমপি সেলিনা ও তাঁর স্বজনরা। মাটিখেকোদের কারণে পশ্চিমপাড়ায় রামপ্রসাদের চরের শুধু জমিই বিলীন হয়নি, মেঘনাগর্ভে চিরতরে হারিয়ে গেছে পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ ও পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও।

স্থানীয় হবীবুল্লাহ মাস্টার, ডা. শরিয়াতুল্লাহ, ডা. আব্দুস সালাম, ইমাম হোসেন, আ. লতিফ দোকানদার, নুরুল আমিন, শাহাবুদ্দিন আমিন, শাহজাহান, সেন্টু, মুকবুল, মোন্নাফ, আ. মজিদ, আলেক, ফালু, আ. আউয়াল, মানিক মিয়া, সোলেমান, জামাল, কামাল, মোস্তফা, সাখাওয়াত, কুদ্দুস সরকার, নজরুল সরকার, বারু সরকারসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, তৎকালীন মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা পারভিনসহ ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করেই সেলিনা ইসলাম ইজারার নামে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন এবং জোরপূর্বক মাটি কাটার উৎসব জারি রেখেছেন। সেলিনার কাছ থেকে প্রতি মাসে মাসোহারা পায় প্রশাসনের ওই সিন্ডিকেট। শুধু তা-ই নয়, উচ্চ আদালতে রিট মামলা চলমান থাকার পরও কুমিল্লা জেলা প্রশাসন মেঘনা উপজেলার বালুমহালের দরপত্র আহ্বান করেছে, যা আইনত কোনোভাবেই করতে পারে না।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে মেঘনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, ‘অভিযোগ সত্য। একটি সিন্ডিকেটের কারণে কয়েক শ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে ওদের এমন অন্যায় কাজ করতে দিইনি। সরকারের উচিত এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন এমপি সেলিনা ইসলামের ছোট বোন ইয়াসমিন প্রধান। তিনি  বলেন, ‘আমি বালুমহাল ইজারা নিইনি, আমার লাইসেন্সে অন্য কাজ করি।’ কিন্তু এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ, বোনের পক্ষ হয়ে আপনিই এসব দেখভাল করেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘বোনের কাজ বোনই করেন। আর আমার বোন আগে এটা করেছেন, এখন করেন না।’

এ বিষয়ে এমপি সেলিনার বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায় না। তাঁর সেলফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সেলিনার স্বামী লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল মানি লন্ডারিং, মানবপাচারসহ নানা রকম অভিযোগে কুয়েতে বিচারের মুখোমুখি হয়ে কারাবন্দি আছেন। দুদক গত ১৭ জুন ইমিগ্রেশন পুলিশকে দেওয়া চিঠিতে পাপুলের স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, তাঁদের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও সেলিনার অপর বোন জেসমিনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া পাপুল দেশে ফিরলে তাঁরও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

স্বামীর দেওয়া আগুনে শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে ছাই
                                  

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পুলিশ কনস্টেবল স্বামীর হাতে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে স্ত্রী ব্র্যাক কর্মচারী ইয়াছমিন আক্তার এখন মৃত্যু পথযাত্রী। পুলিশ কনস্টেবল প্রকাশ প্রেমানন্দ ওরফে শোভন আহমেদ তার স্ত্রী ইয়াছমিনের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতের এ ঘটনার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা ব্র্যাকের ব্যবস্থাপনায় মুমূর্ষু অবস্থায় ইয়াছমিন আক্তারকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ ও ইয়াছমিন আক্তারের স্বজনরা জানান, পুলিশ কনস্টেবল প্রকাশ প্রেমানন্দ বেশ কয়েক বছর আগে নেত্রকোণা সদর উপজেলার নবাব আলীর মেয়ে ইয়াছমিন আক্তারকে বিয়ে করে মুসলিম হন। বিয়ে নিবন্ধন সূত্রে প্রকাশ প্রেমানন্দ তার নাম রাখেন শোভন আহমেদ। প্রকাশ প্রেমানন্দ বর্তমানে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত। তার স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার দেওয়ানগঞ্জ ব্র্যাক অফিসে কর্মসূচি সংগঠক পদে চাকরি করেন। কয়েক বছর ধরে এই দম্পতি দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার বাজারিপাড়া এলাকায় জনৈক আবুল কালাম আজাদের বাসায় ভাড়া থাকেন। ইয়াছমিন আক্তারের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তাদের সংসারে দশ বছর বয়সের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পুলিশ কনস্টেবল প্রকাশ প্রেমানন্দ তার স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

দেওয়ানগঞ্জের ওই বাসায় গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের পারিবারিক কলহের জের ধরে প্রকাশ প্রেমানন্দ হত্যার উদ্দেশে তার দশ বছর বয়সের মেয়ের সামনেই স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তারের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় ইয়াছমিনের চিৎকারে প্রতিবেশী কয়েকটি বাসার লোকজন সেখানে গিয়ে শরীরে পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং তার স্বামীকে আটক করে দেওয়ানগঞ্জ থানায় জানান। পরে পুলিশ দ্রুত ওই বাসায় গিয়ে প্রকাশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ব্র্যাক অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজন ওই বাসায় ছুটে যান। পরে রাতেই ব্র্যাকের উদ্যোগে মুমূর্ষু অবস্থায় ইয়াছমিন আক্তারকে জরুরি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

ব্র্যাকের জামালপুর জেলা সমন্বয়ক মো. মুনির হোসেন খান কালের কণ্ঠকে জানান, শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় ইয়াছমিন আক্তারের মুখমণ্ডল, হাত-পা, বুক, পেটসহ শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। খবর পেয়ে রাতেই দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে মুমুর্ষূ অবস্থায় ইয়াছমিন আক্তারকে প্রথমে জামালপুর সদর হাসপাতালে, এরপর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখান থেকে তাকে আজ বুধবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

ব্র্যাক সমন্বয়ক মো. মুনির হোসেন খান ঢাকায় বার্ন ইউনিটে ভর্তি ইয়াছমিন আক্তারের সাথে থাকা তার ছোট বোন আসমা আক্তার সেতুর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, বুধবার রাত আটটার পর থেকে ইয়াছমিন আক্তারের শারীরিক অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি কথাও বলতে পারছেন না। ওই বার্ন ইউনিটে তার চিকিৎসা চলছে।

দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম ময়নুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পুলিশ কনস্টেবল প্রকাশ প্রেমানন্দকে আসামি করে দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটির বাদী হয়েছেন ইয়াছমিন আক্তারের সহোদর বড় বোন হাজেরা বেগম। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রকাশ প্রেমানন্দকে আদালতের মাধ্যমে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার ৬০১ নারী ও শিশু
                                  

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬০১ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে একক ধর্ষণের শিকার ৪৬২ জন এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৩৪ জন। ধর্ষণের শিকার হওয়াদের মধ্যে ৪০ জনের বয়স ৬ বছর এবং ১০৩ জনের বয়স ১২ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৭ নারীকে। আর ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন সাতজন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে ১২৬ জন নারীর ওপর।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চলতি বছরের ছয় মাসের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বুধবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা যায়, গত ছয় মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১০৩ জন নারী। এর মধ্যে যৌন হয়রানরি কারণে আত্মহত্যা করেছেন নয়জন নারী। এ ছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে একজন নারী এবং আটজন পুরুষ নিহত হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ছয় মাসে যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপসহ নারী নির্যাতনের অনেক ঘটনা ঘটেছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ছুটি ঘোষণার পরও দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারী নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার সংবাদ প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হতে থাকে।

এদিকে চলতি বছরে এ পর্যন্ত পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২৫৩ জন নারী। এর মধ্যে স্বামী ও তার পরিবারের দ্বার হত্যার শিকার হয়েছে ১৬৩ জন নারী। পারিবারিক নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৪০ নারী। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে এপ্রিল মাসে ৩৪ জন এবং মে মাসে ৫৫ জন নির্যাতনের শিকার হন। জুন মাসে ৭০ জন নারী নির্যাতনের শিকার হন যার মধ্যে ২১ জন স্বামী দ্বারা, ৯ জন পরিবারের সদস্য দ্বারা এবং ১০ জন নিজ পরিবারের সদস্য দ্বারা হত্যার শিকার হয়েছেন। যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ৯৪ জন নারী। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪২ জন। যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৩৩ জনকে, যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১৫ জন নারী। এ ছাড়া স্বামীর গৃহ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন ৪ নারী। এ সময়ের মধ্যে ২২ জন গৃহকর্মী বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন ৪ জন। ধর্ষনের শিকার হয়েছেন ৪ জন। এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ১২ জন নারী।

বছরের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্নস্থানে শিশুদের হত্যা এবং নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাকে। গত ছয় মাসের এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলাকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের নানা নৃসংশ ঘটনা ঘটে। এ ছয় মাসে ৬৮০ শিশু নানা সহিংসতার ও ২৯৭ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ৩৯৯টি ধর্ষণ ও ৯টি বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময়ের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩৮টি প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দির ও পূজামন্ডপে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৭ জন। এ ছাড়া আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ১টি বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।  এদিকে এ সময়কালে গণপিটুনীর ঘটনায় মারা গেছেন মোট ২২ জন যার মধ্যে ঢাকাতে সর্বোচ্চ ৮ জন মারা গেছেন।

ছয় মাসে সীমান্তে নিহত হয়েছেন ২৫ জন। এর মধ্যে ২১ জন গুলিতে এবং শারীরিক নির্যাতনে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১৫ জন ও অপহরণের শিকার হয়েছেন ১৩ জন।

২০ কোটি টাকা আমরা খেয়ে ফেলিনি: ঢামেক পরিচালক
                                  

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত সেখানকার চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দুই মাসে ব্যয় এক লাখ টাকা৷ এটা থাকা-খাওয়া এবং যানবাহনের খরচ৷ তারা দুই মাসের এই খরচ মেটাতে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে৷ কিন্তু এই খরচ নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন৷ বিশ্লেষকেরা বলছেন, শুধু ঢাকা মেডিকেল নয়, এর সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও জড়িত৷ প্রশ্ন উঠেছে মন্ত্রণালয় একে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলেও অনুমোদন দিলো কীভাবে? খবর- ডয়েচে ভেলের।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে মে-জুন মাসের জন্য এই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ও এই বরাদ্দ পাশ করেছে৷ আর তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় এখন হই-চই শুরু হয়েছে৷ ঢাকা মেডিকেল এর ভবন-২ ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিউটের করোনা ইউনিটের জন্য চিকিৎসক , স্বাস্থ্যকর্মী এবং অন্যান্য কর্মচারীদের জন্য এই খরচ ধরা হয়েছে৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার জাতীয় সংসদে এই খরচ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এক মাসে ২০ কোটি টাকা খাবারের বিল, এটি অস্বাভাবিকই মনে হচ্ছে৷ এটি আমরা পরীক্ষা করে দেখছি৷ এত অস্বাভাবিক কেন হবে? যদি কোনো অনিয়ম হয়, অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেবো৷’’

অবশ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে এম নাসিরউদ্দিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই টাকা আমরা বরাদ্দ পেয়েছি দুই মাসের খাবার, যানবাহন, হোটেল ভাড়ার জন্য৷ এখনো খরচ হয়নি৷ আমরা বিল পেলে সেই অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করব৷ আমরা ২০ কোটি টাকা খেয়ে ফেলেছি বলে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে৷ বিল কম হলে টাকা সরকারি কোষাগারে থেকে যাবে৷’’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট দেখেই পাশ করেছে৷ কোনো অসঙ্গতি থাকলে তারা তো অনুমোদন দিত না বলে দাবী করেন পরিচালক৷

ঢাকা মেডিকেলের তথ্য অনুযায়ী সেখানে এখন ৭০০ করোনা রোগী আছেন৷ করোনা চিকিৎসায় এখন তাদের মোট দুই হাজার চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, অন্যান্য কর্মচারী ও আনসার কাজ করেন৷ তাদের প্রত্যেকের দিনে দুই বেলার খাবার ও সকালের নাস্তার খরচ ধরা হয়েছে ৫০০ টাকা৷ তাদের থাকার জন্য ৩০টি হোটেল ভাড়া করা হয়েছে৷ যার বেড ভাড়া ৫০০ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা৷ তাদের আনা নেয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া করা হয়েছে ৷ এছাড়া চারটি ডাবল ডেকার বাসও ভাড়া করা হয়েছে৷ এইসব খরচ বাবদ ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে৷ যে ৩০টি হোটেল ভাড়া করা হয়েছে তারমধ্যে রিজেন্সি ও লা-ভিঞ্চির মত হোটেলও আছে৷

হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সাত দিন দায়িত্ব পালনের পর ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে থাকেন৷ সুস্থ থাকলে পরের সাত দিন তারা বাসায় থাকেন৷ যারা আক্রান্ত হন তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়৷ ২১ দিনের থাকা খাওয়া এবং যানবাহন সবই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় হয়৷ এই সবকিছুর খরচই এর মধ্যে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷

পরিচালক বলেন,‘‘আমাদের মাসে ৫০ লাখ টাকা যায় যানবাহনে, হোটেল ভাড়া আছে৷ খাবার খরচ আছে৷ পরিচ্ছন্নতার খরচ আছে৷ আমরা রেলওয়ে হাসপাতালের কোভিড ইউনিটও চালাই৷ ২০ কোটি টাকার মধ্যে এক কোটি টাকা ওই হাসপাতালের জন্য৷ আমরা যে ব্যয় করেছি তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী করেছি৷’’

ঢাকা মেডিকেলে কোভিড চিকিৎসার শুরুতে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়৷ এর বাইরে আর কোনো টাকা এখনো খরচ করা হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করে৷ এখন বিল তৈর হচ্ছে৷ নতুন ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ থেকে সেই বিল পরিশোধ হবে৷

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিরউদ্দিন বলেন,‘‘এটা অংকের ব্যাপার৷ যোগ, বিয়োগ, ভাগ করলেই বোঝা যাবে৷ রাখঢাকের কিছু নাই৷’’ তার কথা অনুযায়ী ২০ কোটি টাকাকে ২০০০ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে ভাগ করলে জনপ্রতি দুই মাসে খরচ হয় এক লাখ টাকা৷ আর মাসে ৫০ হাজার টাকা৷ প্রতিদিন গড়ে মাথাপিছু খরচ এক হাজার ৬৬৬ টাকা৷

দীর্ঘ হচ্ছে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপকর্মের তালিকা
                                  

টিকিট কালোবাজারি, ট্রেনের তেল বা মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি, টেন্ডার কিংবা নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সে সঙ্গে আছে রেলওয়ের জমি দখল করে বিক্রি অথবা নিজ ক্ষমতাবলে দোকান নির্মাণের অভিযোগও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা কিংবা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব অপকর্ম করে বেড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না রেল কর্মকর্তারা। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে-তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

গত ২৭ জুন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী সেল ডিপোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (স্টোর) মো. ইউনুসের সহায়তায় অবৈধভাবে রেলের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম পাচারকালে ৪ জনকে আটক করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে নিজ ক্ষমতাবলে মুচলেকা নিয়ে এক আসামিকে ছেড়ে দেয় রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান পরিদর্শক ইসরাফিল মৃধা। গ্রেফতার অপর তিনজনসহ রেল কর্মকর্তা মো. ইউনুসকে আসামি করে মামলা দায়ের করে আরএনবি। গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ইউনুসকে গ্রেফতারে সংশ্লিষ্ট দফতরে অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে আরএনবি। কিন্তু এখনও পাহাড়তলীর সেল ডিপোয় বহাল আছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (স্টোর) মো. ইউনুস। নিজ ক্ষমতাবলে এক আসামিকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় আরএনবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান পরিদর্শক ইসরাফিল মৃধাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আরএনবি সহকারী কমান্ড্যান্ট সত্যজিৎ দাশ যুগান্তরকে বলেন, ‘নিজ ক্ষমতাবলে আসামি ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় আরএনবির প্রধান পরিদর্শক ইসরাফিল মৃধাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কারখানা শাখার চিফ ইন্সপেক্টর রেজওয়ানুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। চুরি এবং আসামি ছেড়ে দেয়ার ঘটনা তদন্ত হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, ‘চুরিতে সহায়তার অভিযোগে সেল ডিপোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (স্টোর) মো. ইউনুসকে গ্রেফতারের অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে চিঠি লেখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অনুমতি পাওয়া যায়নি। তবে ইউনুসকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে শুনেছি।’

এদিকে গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের প্লাটফরম থেকে ৮টি আসনের ২টি ট্রেনের টিকিট এবং টিকিট বিক্রির ২ হাজার ২৫০ টাকাসহ গ্রেফতার করা হয় আরেফিন আহমেদ (২৮) নামে এক রেলওয়ে কর্মচারীকে। গ্রেফতার আরেফিন আহমেদ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত।

রেলওয়ে থানার ওসি মো. মোস্তাফিজ ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘স্টেশন এলাকায় কালোবাজারিতে টিকিট বিক্রির সময় হাতেনাতে আরেফিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, তিনি রেলওয়ের কর্মচারী। পাহাড়তলী কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরকে অবহিত করেছি। বর্তমানে আরেফিন আহমেদ কারাগারে রয়েছেন।’

এর আগে চাকরি দেয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অলি উল্লাহ সুমন নামে এক রেলওয়ে কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় তিনি গ্রেফতারও হন। অলি উল্লাহ সুমন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার কার্যালয়ে সহকারী পরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন।

দুদক সূত্র জানায়, ‘প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, মিজানুর রহমান সুমন নামে এক ব্যক্তিকে চাকরি দেয়ার নামে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ, বিভিন্ন ব্যাংক ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অপরাধে রেলওয়ের কর্মচারী অলি উল্লাহ সুমনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়। তিনি ২০০৫ সালের ১৬ জানুয়ারি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার দফতরে পিয়ন হিসেবে যোগদান করে।

চট্টগ্রামে বেশিরভাগ রেলওয়ের জমি বেদখল হয়ে গেছে। দখলদারদের মধ্যে বেশিরভাগই রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী। আবার কোথাও কোথাও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা কিংবা সন্ত্রাসীদের সহায়তায় যৌথভাবে জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। রেলওয়ের দখলকৃত জমিতে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দোকানপাট, বহুতল ভবন, মৎস্য খামার। অধিকাংশ দখলদারের বিষয়ে নীরব রেলওয়ের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া রেলের ডিপো থেকে তেল চুরি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে কতিপয় রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে বলে রেলওয়ের অফিসপাড়ায় প্রচার আছে।

ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব, শিক্ষক বহিষ্কার
                                  

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ছাত্রীদের উত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে একজন শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ থেকে এই তদন্ত কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কোটালীপাড়া এস এন ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক মিলন হোসেন আট বছর আগে বিদ্যালয়টির বিজ্ঞান বিভাগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।

নিয়োগের পর থেকেই তিনি ছাত্রীদের উত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসার অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। একাধিক ছাত্রীকে উত্যক্ত ও অনৈকিত প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়টিতে একাধিকবার সালিশি বৈঠক করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত বুধবার কলেজ পড়ুয়া ওই বিদ্যালয়টির এক সাবেক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি ওই ছাত্রী তার অভিভাবকদের জানায়। ওই ছাত্রীর অভিভাবক ঘটনাটি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আতিকুজ্জামান বাদলকে জানান।

আতিকুজ্জামান বাদল গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের জরুরী সভা ডেকে শিক্ষক মিলন হোসেনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

ওই সভা থেকে সাতদিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আতিকুজ্জামান বাদল বলেন, মিলন হোসেন এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই একাধিক ছাত্রীকে উত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক করা হয়েছে। মিলন হোসেন মেধাবী শিক্ষক হওয়ার কারণে এতোদিন তাকে বিদ্যালয়ে রেখেছি। তাকে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু সে সংশোধন হয়নি। তাই তাকে আমরা সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

তিনি আরো বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যদি তিনি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে আমরা চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নেব।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য রতন মিত্র বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে শিক্ষক মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আগামী বৃহস্পতিবার আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবো।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই ছাত্রীর অভিভাবক বলেন, আমার মেয়েকে শিক্ষক মিলন দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে জানিয়েছি। শিক্ষকের কাছ থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা লাভ করবে। সেই শিক্ষকই যদি ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা এসব শিক্ষকদের কাছ থেকে ভালো কী আশা করতে পারি!

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, মিলন হোসেন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে শিক্ষকসুলভ কোনো আচরণ করেন না। এছাড়া তার বিষয়ে আমার আর বেশি কিছু বলার নেই।

অভিভাবক সদস্য পারভীন বেগম বলেন, মিলন হোসেন যদি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে থাকেন, তাহলে অনেক অভিভাবকই তাদের মেয়েদের এই বিদ্যালয়ে পড়ানো বন্ধ করে দেবেন।

শিক্ষক মিলন হোসেন বলেন, ভালো শিক্ষক হিসেবে এলাকায় আমার একটি সুনাম রয়েছে। যে কারণে আমাকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেটি আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ধরনের খারাপ লোক বিদ্যালয়ের রাখা ঠিক না। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ থেকে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তার প্রতিবেদন পাওয়ার পরে আমরা মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক
                                  

সারাদেশের বিভিন্ন জেলার ৯৪ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার, জেলা পরিষদ সদস্য, পৌরসভার কাউন্সিলর এমন জন প্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

করোনা মহামারীতে এসব জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সুবিধাদি আত্মসাত করা, হাতেনাতে গ্রেফতার হওয়া সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। দুদক জানায়, এই ৯৪ জন প্রতিনিধিদের মধ্যে ৩০ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ৬৪ জন ইউপি সদস্য রয়েছেন। এসব জন প্রতিনিধিদের ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।

আজ শনিবার দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জনকন্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান,কমিশনের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এ কে এম সোহেলের নেতৃত্বে যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে কমিশন এই ৯৪ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, এই জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এরমধ্যে সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎ, ভুয়া মাস্টাররোলের মাধ্যমে সরকারি চাল আত্মসাৎ, সরকারি ১০ টাকা কেজির চাল কালোবাজারে বিক্রি, জেলেদের ভিজিএফ-এর চাল আত্মসাৎ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দরিদ্রদের সাহায্যের তালিকায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম, উপকারভোগীদের ভুয়া তালিকা প্রণয়ন করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সামগ্রী আত্মসাৎ ইত্যাদি রয়েছে।

এই বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ইতোমধ্যে কমিশন সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ২১টি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলায় অনেকে গ্রেফতারও হয়েছেন। মামলাগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। নতুন করে এই ৯৪ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ত্রাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

নাসিমকে নিয়ে কটূক্তি, রাবি শিক্ষক জাহিদুর বরখাস্ত
                                  

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানকে গত ১৮ জুন থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর আইন অনুযায়ীই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৭ জুন মধ্যরাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কোয়ার্টার থেকে কাজী জাহিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।


তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সদ্য প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়।

৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত, ৬০ বছরের বৃদ্ধের জেল
                                  

৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করাসহ নানা অপরাধে নড়াইলের নড়াগাতি থানার পানিপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলী খন্দকার নামে (৬০) এক ব্যক্তিকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নড়াগাতি থানা পুলিশ অভিযুক্ত আইয়ুব আলীকে আটক করে শুক্রবার দুপুরে কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেটের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে তিনি ওই কারাদণ্ড দেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর দিকে কটুক্তি করতো। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে পাশের বাজারে যাওয়া জন্য আইয়ুব আলীর ভ্যানে উঠে। চলতি পথে আইয়ুব আলী তাকে কুপ্রস্তাব দেয় ও শরীরের আপত্তিকর স্থানে হাত দেয়। পরে মেয়েটি বাড়িতে এসে তার মাকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে নড়াগাতি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে।

আইয়ুব আলী পানিপাড়া গ্রামের কালা মিয়া খন্দকারের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ভ্যানচালক।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজিবুল আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করায় তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

পাপুলের সহযোগী কুয়েতের নারী ব্যবসায়ীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
                                  

কুয়েতে আটক বাংলাদেশি সংসদ সদস্য (এমপি) শহিদ ইসলাম পাপুলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে সে দেশের এক নারী ব্যবসায়ীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কুয়েতের বিচার বিভাগ। ঘুষ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ওই নারী ব্যবসায়ীকে। পরে দুই হাজার দিনার জামানতে তাকে জামিন দেওয়া হলেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিচার বিভাগ।

পাপুলের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণকারী হিসাবে চিহ্নিত কুয়েতি কর্মকর্তাদের একজন ওই নারী ব্যবসায়ীর ভাই। ওই কর্মকর্তাসহ তিনজনকে এর আগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা।

কুয়েতি গণমাধ্যমের খবরে ওই নারী ব্যবসায়ী ও তার কোম্পানির নাম প্রকাশ করা হয়নি। পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির মত ওই নারীর কোম্পানিরও অনেক সরকারি কাজের চুক্তি রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। আটকের পরদিন থেকে টানা ১৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর বুধবার তাকে কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

পাপুলের মদদদাতা হিসাবে ইতোমধ্যে সাতজনকে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা; তাদের মধ্যে কুয়েতের দুইজন বর্তমান এবং একজন সাবেক পার্লামেন্ট সদস্যও রয়েছেন।

আগামী ৬ জুলাই এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের কথা রয়েছে। এর আগ পর্যন্ত পাপুলকে কারাগারে রাখা হবে। সূত্র : আরব টাইমস।

ভূতুড়ে বিল তৈরিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে
                                  

করোনার দুঃসময়ে আকাশচুম্বী বিদ্যুৎ বিলের বোঝা, এখন বড় দুশ্চিন্তা সাধারণ গ্রাহকের কাছে। লকডাউনের পর বাড়তি ১০ গুণ টাকা, গ্রাহকের কাঁধে চাপিয়ে দেয়ার বিলও তৈরি হয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। বিতরণ সংস্থাগুলোর দাবি, ৩০ জুনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা হবে বিল সংক্রান্ত জটিলতা। এসব ভূতুড়ে বিল তৈরিতে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। করোনার থাবা থেকে রক্ষা পেতে প্রায় আড়াইমাসের সাধারণ ছুটিতে কার্যত স্তব্ধ ছিলো পুরো দেশ।

সবকিছুর মতো এ সময় বন্ধ হয়ে যায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার থেকে রিডিং নিয়ে বিদ্যুৎ বিল তৈরীর কাজও। সংকটের এই সময়ে তিন মাস পর্যন্ত গ্রাহকের বিলম্ব বিল পরিশোধের মাশুলেও ছাড় দিয়েছে সরকার। কিন্তু, গ্রাহককে সুবিধা দিতে গিয়ে বিল তৈরীর অনিয়মে এখন বড় ফাঁদে পড়েছেন গ্রাহকরাই।

ভুক্তভোগীরা জানান, লকডাউনের এই সময়ে কখনোই রিচার্জ বন্ধ রাখিনি। সর্বোচ্চ বিল ১২ হাজার টাকা আসে, সেখানে এক মাসে ২৪ হাজার টাকা ক্যানো আসলো? এই বাড়তি টাকা এখন কে দিবে?

মহামারীর এই দুঃসময়ে বিল সমন্বয়ের নামে প্রি-পেইড ও পোস্ট পেইড শ্রেণির ভুক্তভোগীদের দুশ্চিন্তা `প্রিন্সিপাল বিল` নামের এই টাকা কী তবে গ্রাহকের ঘাড়েই বর্তাবে ?
ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার দাবি মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ গ্রাহকের বিলে অভিযোগ উঠেছে। তারা বলছেন, গরমে ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি মার্চ থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ায় এই জটিলতা তৈরী হয়েছে।

ঢাকা ডেসকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কাওসার আমীর আলী জানান, এই লকডাউনের কারণে অধিকাংশ গ্রাহক তাদের বাসায় ছিলো সে কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় বিল একটু বেশি এসেছে। ডিপিডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান জানান, অনেকের এই তিন মাসের বিলটা অনেক বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নাই। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

বাড়তি বিলের এই বিড়ম্বনা তদারকিতে এরই মধ্যে অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে টাস্কফোর্স গঠন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কোম্পানিগুলোর দাবি, বিল কাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

ঢাকা ডেসকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কাওসার আমীর আলী আরও জানান, গ্রাহককে তার ব্যবহারের বেশি বিল পরিশোধ করতে হবে না। এর সঙ্গে যদি কেউ যদি জড়িত থাকে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হবে। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে এটার সমাধান করতে হবে। বিল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে রোববার থেকে অনলাইনে অভিযোগ নিষ্পত্তি শুরু করবে ডিপিডিসি। আর ডেসকো গ্রাহকরা ফোন করেও সেবা পাবেন এই ভূতুড়ে বিলের কবল থেকে।

সোনারগাঁওয়ে কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি
                                  

অনলাইন ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মামুরদী গ্রামে সোমবার গভীর রাতে এক কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে।

এক দল ডাকাত ওই প্রবাসীর বাড়ির সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর থেকে পুরো মামুরদী এলাকায় ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের মামুরদী গ্রামের কুয়েত প্রবাসী কামাল হোসেনের বাড়িতে সোমবার গভীর রাতে ১০/১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়।

এসময় ডাকাতদল ওই প্রবাসীর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার পর সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। পরে আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ দেড় লাখ টাকা, আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

বাড়ির মালিক কামাল হোসেন জানান, সোমবার রাতে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। দিবাগত রাত ১টার দিকে ১০/১২ জনের একটি ডাকাত দল ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রথমে ভেতরে প্রবেশ করে।

পরে ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে নগদ দেড় লাখ টাকা, আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উপজেলার জামপুর, বারদী, নোয়াগাঁও, সনমান্দী ও পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে একাধিক ডাকাত দল সক্রিয় হয়ে উঠে।

ডাকাতদল এই সময়ে বিভিন্ন বাড়িঘরে ডাকাতি করে থাকে। বর্ষা মৌসুমে থানা পুলিশের টহল জোরদার ও গ্রামে গ্রামে পাহারার ব্যবস্থা না করলে ডাকাতি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) শরীফ আহমেদ জানান, এ ব্যাপারে থানায় এখনও পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাবনায় ১১ মামলার আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত
                                  

অনলাইন ডেস্ক : পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আবদুস সোবহান (৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

পুলিশের দাবি, নিহত সোবহান ১১ মামলার আসামি ও মাদক সম্রাট। তিনি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার করমজা সরদারপাড়া গ্রামের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে।

রোববার ভোরে সাঁথিয়া পার-করমজা কবরস্থানসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

সাঁথিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, একদল মাদক ব্যবসায়ী করমজা ঈদগাহ মাঠে মাদকের বড় একটি চালান কেনাবেচা করছে– এমন সংবাদের ভিত্তিতে সাঁথিয়া থানার পুলিশের একটি দল অভিযানে বের হয়।

করমজা কবরস্থান এলাকায় পৌঁছামাত্র কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা শর্টগানের গুলি ছোড়ে।

এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে সোবহানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন রোববার সকাল ৬টার দিকে তিনি মারা যান।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসীরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। নিহত সোবহান মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য জসিম উদ্দিন ও মামুনুর রশিদ আহত হয়েছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩০ গ্রাম হেরোইন, একটি ওয়ান শুটারগান, এক রাউন্ড কার্তুজ, একটি হাঁসুয়া, দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। তার বিরুদ্ধে সাঁথিয়া, বেড়া ও আমিনপুর থানায় ১১টি মাদক মামলা রয়েছে।

সাড়ে ১১ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের এসআই গ্রেফতার
                                  

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোড এলাকা থেকে সাড়ে ১১ হাজার পিস ইয়াবাসহ পুলিশের একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আতিকুল ইসলাম নামের পুলিশের ওই কর্মকর্তা বান্দরবান জেলা আদালতে কর্মরত। একই সময়ে তার সহযোগী রেজাউর রবকেও গ্রেফতার করা হয়। সোমবার বিকালে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ এ অভিযান চালায়।

পুলিশ জানিয়েছে, এসআই আতিকুল ২৩ মার্চ থেকে ছুটিতে ছিলেন। ওই সুযোগে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে ঢাকায় আসেন। ওই দু’জনের কাছে ইয়াবা বিক্রির নগদ ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেন, পিকআপে করে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে তথ্য পেয়ে শাহজাহান রোড থেকে সেটি আটক করা হয়। এরপর গাড়ির সিট ও দু’জনের দেহ তল্লাশি করে ১১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়।

তিনি বলেন, গ্রেফতারের পর জানা যায় আতিকুল পুলিশের একজন এসআই। তিনি বান্দরবান জেলার কোর্টে কর্মরত, অপরজন রেজাউর রব তার সহকারী।
তারা দু’জন মিলে এ এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিল। মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল আলীম বলেন, চক্রটি আগেও ইয়াবা নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন পুলিশ তাদের ধরার জন্য ওঁৎ পেতে ছিল।

বান্দরবান জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ২৩ মার্চ এসআই আতিকুল ক্যাজুয়েল লিভে গেলেও সময়মতো যোগদান করেনি। সে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিল। কাজে যোগ দেয়ার পর তাকে নিয়ম অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হতো।

অফিস থেকে তুলে নিয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় তুলে নিয়ে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম মো. রাশেদ (৩২)।

শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত রাশেদ চরএলাহি ৮নং ওয়ার্ড গাংচিল গ্রামের আবুল হাসেম প্রকাশ বাদী হাসেমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাশেদের মাটিকাটার মেশিন, ট্রাক্টর ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার ব্যবসা ছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিল্লার বাজারের নিজ ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানে বসে কাজ করছিলেন তিনি।

এসময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাসেম বাজারের দিকে নিয়ে যায়।

এরপর ১৫-২০ জন মিলে রাশেদকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে ফেলে যায়।

এলাকায় আধিপত্য নিয়ে রাশেদের ভাই দেলোয়ারের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল মেম্বারের বিরোধ রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

নিহত রাশেদের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মোজাম্মেল মেম্বারের নেতৃত্বে স্থানীয় ইকবাল, মেহরাজ ও বেচু মাঝিসহ অন্তত ১৫-২০ জন কিল্লার বাজার থেকে রাশেদকে তুলে নিয়ে যায়।

পরে তারা হাসেম বাজারে নিয়ে প্রকাশ্যে রাশেদকে পিটিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। গুরুতর অবস্থায় রাশেদকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন বলেন, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত বলা যাবে।

নিহতের মরদেহ বর্তমানে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

নিরীহ বানরগুলোর ওপর এ কেমন নির্মমতা!
                                  

অনলাইন ডেস্ক : মাদারীপুরে বিষ খাইয়ে ১২টি বানরকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে মাদারীপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড এলাকার মধ্যখাগদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানায়, বিকেলে ওই এলাকায় অপরিচিত বেশ কয়েকজন যুবক কলা, মুড়ি, চিড়া বানরগুলোকে খেতে দিয়ে চলে যায়। খাবার খেয়ে মুহূর্তের মধ্যেই মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে নিরীহ প্রাণীগুলোর। মাটিতে ঢলে পড়ে বেশ কয়েকটি বানর। পরে ১২টি বানর মারা যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছে সামাজিক বন বিভাগ।
মাদারীপুর সামাজিক বন বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইদ্রিস মিয়া জানান, চরমুগরিয়ায় দুই থেকে আড়াই হাজার বানর বসবাস করে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত বানরগুলোকে খাবারও দেয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে ওই এলাকার ১২টি বানর মারা গেছে। তার মধ্যে স্থানীয়রা ১১টি বানরকে মাটি দিলেও নমুনা হিসেবে পরীক্ষার জন্য একটি বানরকে প্রাণী সম্পদ অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এস এম জহির আকন বলেন, মাদারীপুরের চর মুগরিয়া কলেজ রোডে বিষ প্রয়োগে বানর হত্যার খবর পেয়ে বন সংরক্ষক যশোর, ডিএফও ফরিদপুর এবং সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার সাথে বিষয়টি আলোচনা করি। ফরিদপুর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি টিম সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। মাদারীপুর জেলা প্রশাসন এ বিষয়টি নজরদারি করছে। সূত্র: সময় সংবাদ


   Page 1 of 26
     অপরাধ ও অনিয়ম
পাপুলের থাবায় ভিটামাটিহারা পাঁচ শতাধিক পরিবার
.............................................................................................
স্বামীর দেওয়া আগুনে শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে ছাই
.............................................................................................
ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার ৬০১ নারী ও শিশু
.............................................................................................
২০ কোটি টাকা আমরা খেয়ে ফেলিনি: ঢামেক পরিচালক
.............................................................................................
দীর্ঘ হচ্ছে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপকর্মের তালিকা
.............................................................................................
ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব, শিক্ষক বহিষ্কার
.............................................................................................
প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক
.............................................................................................
নাসিমকে নিয়ে কটূক্তি, রাবি শিক্ষক জাহিদুর বরখাস্ত
.............................................................................................
৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত, ৬০ বছরের বৃদ্ধের জেল
.............................................................................................
পাপুলের সহযোগী কুয়েতের নারী ব্যবসায়ীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
ভূতুড়ে বিল তৈরিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে
.............................................................................................
সোনারগাঁওয়ে কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি
.............................................................................................
পাবনায় ১১ মামলার আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত
.............................................................................................
সাড়ে ১১ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের এসআই গ্রেফতার
.............................................................................................
অফিস থেকে তুলে নিয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা
.............................................................................................
নিরীহ বানরগুলোর ওপর এ কেমন নির্মমতা!
.............................................................................................
জমি নিয়ে বিরোধ : ছোট ভাইকে কুপিয়ে মারল বড় ভাই
.............................................................................................
ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক
.............................................................................................
জামালপুরে ৫০৪ বস্তা চাল উদ্ধার, আ.লীগ নেতা আটক
.............................................................................................
রাঙামাটিতে ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা
.............................................................................................
করোনা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে কলেজ শিক্ষক গ্রেপ্তার
.............................................................................................
প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত মুক্তি খালেদা জিয়ার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
করোনা নিয়ে ফেসবুকে গুজব ছড়ানোয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আটক
.............................................................................................
গত ২৫ দিনে রাজধানীতে গামছা পার্টি কেড়ে নিল চারজনের প্রাণ
.............................................................................................
মাদকদ্রব্য আত্মসাত; শার্শা থানার ওসিসহ ৫ পুলিশ ক্লোজড
.............................................................................................
ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ: মজনুর বিরুদ্ধে চার্জশিট
.............................................................................................
বিবস্ত্র করে সাংবাদিক রিগ্যানকে পেটানো হয়
.............................................................................................
আইসিটি মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার
.............................................................................................
পাপিয়ার নামে ৪ কোটি টাকা থাইল্যান্ডের ব্যাংকে !
.............................................................................................
ফের পিছিয়েছে গ্যাটকো মামলার শুনানি
.............................................................................................
কলেজ জীবনেও ছাত্রী হোস্টেলেও গড়েছিলেন পাপিয়ার ‘পাপের আস্তানা’
.............................................................................................
সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে তিন কোটি টাকা খরচ করেছিলেন পাপিয়া
.............................................................................................
আপিলেও আদেশ বহাল ২০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দের
.............................................................................................
ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়া
.............................................................................................
শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে দুর্নীতির অভিযোগ, ৮ জনকে দুদকে তলব
.............................................................................................
ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস করে প্রতারণার চেষ্টা
.............................................................................................
ঢাকার নবনির্বাচিত কাউন্সিলর সাখাওয়াত গ্রেফতার
.............................................................................................
১০ মাসে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ৮ খুন
.............................................................................................
ফেনী বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ আন্ত জেলার ডাকাত দলের ২ সদস্য আটক
.............................................................................................
বাসায় ডেকে নিয়ে চারজন মিলে গৃহকর্মীকে ধর্ষণ: গ্রেফতার ২
.............................................................................................
সীতাকুণ্ডে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩
.............................................................................................
দুই মেয়ের সামনে বাবাকে উলঙ্গ করে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল
.............................................................................................
আড়াইহাজারে পুলিশের সঙ্গে `বন্দুকযুদ্ধে` ডাকাত নিহত
.............................................................................................
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ধানক্ষেত থেকে নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
সীতাকুণ্ডে চিকিৎসক শাহ আলম হত্যার হোতা `বন্দুকযুদ্ধে` নিহত
.............................................................................................
গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
ময়মনসিংহের সেই লাগেজে মিলল মাথাবিহীন মরদেহ
.............................................................................................
টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত
.............................................................................................
টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক কারবারি নিহত
.............................................................................................
সুন্দরবনে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ বনদস্যু নিহত
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD