| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * শিশু ধর্ষণ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কেন দেয়া হবে না : হাইকোর্ট   * মতিউর রহমানসহ ছয়জনকে গ্রেফতার ও হয়রানি না করার নির্দেশ   * প্রিন্স হ্যারি-মেগান রাজকীয় পদবি হারাচ্ছেন   * ইয়েমেনে সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে হামলায় নিহত ৬০   * যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর `বিপজ্জনক আক্রমণ` : ট্রাম্পের আইনজীবী   * মাঘের শুরুতেই বৃষ্টিতে ভিজলো রাজশাহী   * আওয়ামী লীগ ও নৌকার ব্যাকগ্রাউন্ড লাগে না : আতিকুল ইসলাম   * গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোন সম্পর্ক নেই গ্রেফতারি পরোয়ানার সঙ্গে   * নারীর আয়ে ৬৪ দেশের শীর্ষে বাংলাদেশ   * ওজনের কারণে ট্রাকে করে নেওয়া হলো গ্রেপ্তারকৃত আইএস নেতা নিমাহ  

   সারা দেশ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মাঘের শুরুতেই বৃষ্টিতে ভিজলো রাজশাহী

 রাজশাহী প্রতিনিধি

 

শীতার্ত প্রকৃতিতে মাঘের অভিষেক ঘটেছে সদ্যই। শিশির ভেজা শীতলতা ছড়িয়ে এরইমধ্যে বিদায় নিয়েছে পৌষ। বাংলা পঞ্জিকার হিসেবে চলছে মাঘের প্রথম সপ্তাহ। আর এরইমধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে পদ্মাপাড়ের শহর রাজশাহীতে।

 

 

মাঘের শেষে বৃষ্টি হলে ফসলের উপকার হয় ও দেশের কল্যাণ হয়। তবে শুরুর বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হবে না, বলছে কৃষি বিভাগ।

 

এদিকে, টানা শৈত্যপ্রবাহ শেষে রাজশাহীর তাপমাত্রা প্রতিদিনই বাড়ছে। সর্বশেষ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এক অঙ্কের ঘরে ছিল গত ১৫ জানুয়ারি। ওইদিন রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর থেকে প্রতিদিনই তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়ছে। রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

তবে সকাল থেকে কুয়াশা ও মেঘের কারণে রাজশাহীতে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এর ওপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহীতে একপশলা বৃষ্টি হয়েছে। মূলত বৃষ্টির কারণেই এদিন শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে উত্তরেরএ জনপদে। বৃষ্টির কারণে সাপ্তাহিক ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে ঘরে থেকে বেরিয়েই দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবী মানুষ।

 

সকালে যাদের স্কুল ছুটি হয়, তাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে বেশি। ছুটি শেষে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে গিয়ে ছোট্ট শিশু ও তাদের অভিভাবকরা ভিজেছেন শীতের বৃষ্টিতে। বৃষ্টির কারণে সড়কে রিকশা চলাচল হঠাৎ করেই কমে আসে। বৃষ্টির পানিতে মহানগরীর শালবাগান, নিউমার্কেট ও মাস্টারপাড়ার কাঁচা বাজার কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে।

 

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আনোয়ারা বেগম বলেন, রোববার সকাল ১০টা ২৫ মিনিট থেকে রাজশাহীতে বৃষ্টি শুরু হয়। একপশলা বৃষ্টিতে ভিজে পুরো শহর। এ সময় রাজশাহীতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বেলা ১১টার পর আর বৃষ্টি হয়নি। তবে এখনও আকাশ মেঘলা রয়েছে।

 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) শামসুল আলম বলেন, মাঘের শেষে বৃষ্টি বরাবরই কৃষিজাত ফসলের জন্য আশির্বাদ। তবে কেবলমাত্র মাঘ মাস শুরু হয়েছে। এ সময় রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। এটিও খারাপ বা ক্ষতিকর নয় ফসলের জন্য। আরও ১/২ দিন এমন বৃষ্টি হলেও ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না।

মাঘের শুরুতেই বৃষ্টিতে ভিজলো রাজশাহী
                                  

 রাজশাহী প্রতিনিধি

 

শীতার্ত প্রকৃতিতে মাঘের অভিষেক ঘটেছে সদ্যই। শিশির ভেজা শীতলতা ছড়িয়ে এরইমধ্যে বিদায় নিয়েছে পৌষ। বাংলা পঞ্জিকার হিসেবে চলছে মাঘের প্রথম সপ্তাহ। আর এরইমধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে পদ্মাপাড়ের শহর রাজশাহীতে।

 

 

মাঘের শেষে বৃষ্টি হলে ফসলের উপকার হয় ও দেশের কল্যাণ হয়। তবে শুরুর বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হবে না, বলছে কৃষি বিভাগ।

 

এদিকে, টানা শৈত্যপ্রবাহ শেষে রাজশাহীর তাপমাত্রা প্রতিদিনই বাড়ছে। সর্বশেষ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এক অঙ্কের ঘরে ছিল গত ১৫ জানুয়ারি। ওইদিন রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর থেকে প্রতিদিনই তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়ছে। রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

তবে সকাল থেকে কুয়াশা ও মেঘের কারণে রাজশাহীতে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এর ওপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহীতে একপশলা বৃষ্টি হয়েছে। মূলত বৃষ্টির কারণেই এদিন শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে উত্তরেরএ জনপদে। বৃষ্টির কারণে সাপ্তাহিক ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে ঘরে থেকে বেরিয়েই দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবী মানুষ।

 

সকালে যাদের স্কুল ছুটি হয়, তাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে বেশি। ছুটি শেষে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে গিয়ে ছোট্ট শিশু ও তাদের অভিভাবকরা ভিজেছেন শীতের বৃষ্টিতে। বৃষ্টির কারণে সড়কে রিকশা চলাচল হঠাৎ করেই কমে আসে। বৃষ্টির পানিতে মহানগরীর শালবাগান, নিউমার্কেট ও মাস্টারপাড়ার কাঁচা বাজার কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে।

 

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আনোয়ারা বেগম বলেন, রোববার সকাল ১০টা ২৫ মিনিট থেকে রাজশাহীতে বৃষ্টি শুরু হয়। একপশলা বৃষ্টিতে ভিজে পুরো শহর। এ সময় রাজশাহীতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বেলা ১১টার পর আর বৃষ্টি হয়নি। তবে এখনও আকাশ মেঘলা রয়েছে।

 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) শামসুল আলম বলেন, মাঘের শেষে বৃষ্টি বরাবরই কৃষিজাত ফসলের জন্য আশির্বাদ। তবে কেবলমাত্র মাঘ মাস শুরু হয়েছে। এ সময় রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। এটিও খারাপ বা ক্ষতিকর নয় ফসলের জন্য। আরও ১/২ দিন এমন বৃষ্টি হলেও ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না।

মৌলভীবাজারে স্ত্রীসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যার পর যুবকের আত্মহত্যা
                                  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নির্মল (৩০) নামে এক যুবক। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। রোববার (১৯ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের পাল্লাতল চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- নির্মল (৩০), তার স্ত্রী জলি (২৬), শাশুড়ি লক্ষ্মী (৪৩), প্রতিবেশী বসন্ত (৩৭) ও বসন্তের মেয়ে শিউলি (৬)। নিহতরা পাল্লাতল এলাকায় চা শ্রমিকের কাজ করতেন।



পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর ৫টার দিকে নির্মল ও ডলির মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ডলিকে মারধর করতে থাকলে ডলি দৌড়ে অন্য ঘরে বাবা-মায়ের কাছে চলে আসে। তখন নির্মল ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডলিকে কোপাতে থাকে। তাকে রক্ষা করতে শাশুড়ি ছুটে আসলে তাকেও কোপায় নির্মল। এ সময় দুই প্রতিবেশী এগিয়ে আসলে তাদেরকেও সে কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হলে ঘাতক নির্মল নিজের ঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

ঘটনার পর গুরুতর আহত একজনকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভোজন কৈরী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুখ আহমদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 
ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব : আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে ইজতেমায় আসছেন মুসল্লিরা
                                  

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিনে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বাদ ফজর থেকে লাখ লাখ মুসল্লির উদ্দেশে বয়ান শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআন-হাদিসের আলোকে এ বয়ান চলবে রাত পর্যন্ত। এরই মধ্যে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান।

রোববারের (১৯ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে ইজতেমায় আসছেন মুসল্লিরা। মোনাজাতের আগ পর্যন্ত এ ঢল অব্যাহত থাকবে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।


আর এ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। এ বারের দুটি পর্বের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি। এতে যোগ দেন মাওলানা জুবায়ের অনুসারী মুসল্লিরা। ১৭ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্বের তিনদিনের ইজতেমায় যোগ দেন দিল্লির মাওলানা সা’দ অনুসারিরা।

চলছে বয়ান : দুদিন ধরে সার্বক্ষণিক ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত রয়েছেন মুসল্লিরা। প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ঈমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের ওপর বয়ান করা হচ্ছে। তাবলিগের ছয় উসুলের (মৌলিক বিষয়ে) ওপর আলোচনা চলছে।

তাশকিল : ইজতেমা প্যান্ডেলের উত্তর-পশ্চিমে তাশকিলের কামরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি খিত্তায় তাশকিলের জন্য বিশেষ স্থান রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে আল্লাহর রাস্তায় বের হতে ইচ্ছুকরা নাম তালিকাভুক্ত করে সেখানে অবস্থান করছেন। কাকরাইল মসজিদের মুরব্বিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্বীনের মেহনতে পাঠানো হবে।

ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লি : ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনই জর্ডান, লিবিয়া, আফ্রিকা, লেবানন, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ইরাক, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের ৩৫ দেশ থেকে দেড় সহস্রাধিক মুসল্লি আসেন। ভাষাভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ময়দানে রয়েছেন বিদেশি মেহমানরা।

নিরাপত্তা ও যান চলাচল : আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের মিরেরবাজার থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত, কামারপাড়া থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত এবং বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ থাকবে।


তিনি বলেন, ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশ এলাকা কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। প্যান্ডেলের ভেতরে ও বাইরে মুসল্লি বেশে রয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহস্রাধিক সদস্য।

বিশেষ ট্রেন : এদিকে আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আখাউড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে রেলওয়ে বিভাগ। মোনাজাতের আগে ও পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে। ইজতেমায় আগত যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে অতিরিক্ত টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 
প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তিন প্রাণ
                                  

যশোর প্রতিনিধি

আগামী ২৩ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) শফিকুল ইসলাম জ্যোতি ও ডা. তনিমা ইয়াসমিন পিয়াশার বউভাতের অনুষ্ঠান। কিন্তু তার আগেই মর্মান্তিক প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা কেড়ে নিল পিয়াশার প্রাণ। প্রাইভেটকার চালাচ্ছিলেন পিয়াশার স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতি। আহত হয়েছেন তিনিও। আর দুর্ঘটনায় পিয়াশার সঙ্গে প্রাণ গেছে তার বড়বোন তানজিলা ইয়াসমিন ইয়াশা ও খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী তিথীর।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম জ্যোতি অসুস্থ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন।



শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে শহরের বিমান অফিস মোড়ে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আঘাত করে পাশের দেয়াল ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে তিনজন নিহত ও শিশুসহ চারজন আহত হন।

নিহতরা হলেন- যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার শফিকুল ইসলাম জ্যোতির স্ত্রী ডা. তনিমা ইয়াসমিন পিয়াশা (২৫), শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়ক (আরএন) সুমন ইসলামের স্ত্রী তানজিলা ইয়াসমিন ইয়াশা (৩০), একই এলাকার মনজুর হোসেনের স্ত্রী তিথী (৩৫)। পিয়াশা ও ইয়াশা আপন দুই বোন। আর তিথি তাদের খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী।

আহতরা হলেন- পিয়াশার স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতি (৩২), নিহত তিথীর মেয়ে মানিজুর মাশিয়াব (৪), তাদের আত্মীয় হৃদয় (২৫) ও শাহিন (৩৫)।

নিহতদের স্বজন রোহান উদ্দিন জানান, বছর খানেক আগে ডা. তনিমা ইয়াসমিন পিয়াশার সঙ্গে শফিকুল ইসলাম জ্যোতির বিয়ে হয়। আগামী ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পিয়াশাকে ঘরে তুলে নেয়ার জন্য তারিখ নির্ধারিত ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে এর প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছিল।


নিহতদের স্বজন ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে শফিকুল ইসলাম জ্যোতি নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মীয়দের বাড়িতে দাওয়াত দিতে বের হন। রাত ১টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে শহরের বিমান অফিস মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আঘাত করে পাশের দেয়াল ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে প্রাইভেটকারে থাকা শিশুসহ সাতজনই আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে আনার আগেই ওই তিন নারী মারা যান।



যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. কাজল কান্তি মল্লিক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত তিথীর স্বামী মঞ্জুর হোসেন বলেন, শুক্রবার রাতে শফিকুল ইসলাম জ্যোতি প্রাইভেটকার নিয়ে আমাদের বাসায় আসেন। শহরে ঘুরতে বের হওয়ার কথা বলে গাড়িতে আমার স্ত্রী ও সন্তানকে তুলে নেন। ওই গাড়িতে আমার খালাতো দুই বোনও ছিল। তারা শহরের পালবাড়ি, আরবপুর এলাকায় আলোকসজ্জা দেখতে ও বিয়ের দাওতায় দিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনা ঘটে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন ডা. তনিমা ইয়াসমিন পিয়াশার স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতি। তিনি পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন। দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটলো তা জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

 
মাদকমুক্ত মডেল থানা রুপান্তরে যুগোপযুগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন ওসি দিদারুল ফেরদাউস
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদক, সন্ত্রাস ,জলদস্যুমুক্ত মডেল কুতুবদিয়া রুপান্তরে যুগোপযুগী তড়িৎ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন কুতবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদাউস। গত আড়াই বছরে তিনি কুতুবদিয়াকে করেছেন বাসযোগ্য চমৎকার দ্বীপ। পর্যটন নগরী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়াকে পর্যটকদের হাতছানি দিতে উপজেলা প্রশাসন ও কুতবদিয়া থানা পুলিশের সার্বিক তত্ত্ববধানে সৈান্দর্য বর্ধন , বেড়ীবাধঁ নির্মাণ, এবং যোগাযোগ প্রক্রিয়া যাতে গতিশীল হয় ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগত ৫০ বছরের রেকর্ডকে ভেঙ্গে দিয়ে জলদস্যুতার বিচরণকে করেছেন শূণ্যতে রুপান্তর। প্রাপ্ত তথ্য মতে , দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া জলদস্যু এবং ডাকাতদের মারাত্মক বিচরণ ছিলো। বীরদর্পে ডাকাতরা তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করতো।

দ্বীপের মানুষ ছিলো খুবই অসহায়। প্রতিটি নৌকা সাগরে মাছ ধরতে গেলে জলদস্যুদের কবলে পড়তে হত। জলদস্যুদের দিতে হতো চাদাঁ। চাদাঁ না দিলে জলদস্যুরা মাঝিমাল্লাদের উপর নির্যাতন চালাতো, অপহরণ করে নিয়ে যেতো তাদের। এমন পরিস্থিতিতে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারতো না।

অবশেষে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় অপরাধীদের আতঙ্ক চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ফেরদাউস যোগদান করলেন। দ্বীপ উপজেলার মানুষের জন্য তিনি উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে পুলিশিং কার্যাবলী বাস্তবায়নে কাজ করছেন একাগ্রচিত্তে। জলদস্যুদের ডেরায় তিনি অপারেশন পরিচালনা করে শতাধিক ডাকাতকে তিনি আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হন। সুপরিকল্পনা , সৃজনশীল চিন্তা চেতনা এবং বৈচিত্রায়ন গুণাবলির বাস্তবিক প্রয়োগে আজ দ্বীপের মানুষ জলদস্যুমুক্ত এবং সুন্দর বাসযোগ্য মডেল থানা পেয়ে সফলতার নিশ্বাস ফেলছেন।

কুতুবদিয়া থানায় কর্মরত দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বিগত আড়াই বছর আগে জলদস্যুদের অভায়রণ্য ছিলো দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া। কিন্তু ওসি স্যার যোগদানের পর যুগোপুযোগী সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ পুলিশিং কার্যাবলি পরিচালনা করে আজ তিনি জলদস্যু দমনে সফল হয়েছেন। বঙ্গোপসাগর হয়েছে জেলেদের জন্য অধিকতর নিরাপদ এবং জীবন নির্বাহের শেষ আশ্রয়স্থল।

তিনি আরো জানান, এক সময় কুতুবদিয়া মাদকের আখড়া ছিলো। বিশেষ করে সদর বড়ঘোপ, উত্তর মগডেইল ,চাঁনমিয়া পাড়া , ঝাউতলা , বিদ্যুৎ মার্কেট, দক্ষিণ ধুরুণ ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার ছিলো । এমনকি ঐসব এলাকায় বাংলা মদ তৈরীর কারখানা ছিলো ।বাংলা মদগুলো বিক্রি করা হতো, বড়ঘোপ বাজার , ধুরুণ বাজার সহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লার ছোট ছোট দোকানগুলোতে এবং বিভিন্ন পয়ন্টে। বাংলা মদের পাশাপাশি গাজাঁ এবং মরণ নেশা ইয়াবার ও প্রসার লাভ করেছিলো। এসব কারণে দ্বীপ উপজেলার মানুষ যুব সমাজ নিয়ে আতঙ্কিত ছিলো। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিলো নড়বড়ে। এলাকায় চুরি ছিনতাই রাহাজানি ছিলো ভয়াবহ। এমন পরিস্থতিতে দ্বীপের মানুষের জন্য আশার জলন্ত প্রদ্বীপ নিয়ে যোগদান করে বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে রাত দিন কাজ করে দ্বীপের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন ওসি দিদারুল ফেরদাউস। দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া রুপান্তরিত হলো বাসযোগ্য চমৎকার অধিকতর নিরাপদ ভূমি। তড়িৎ সিদ্ধান্ত এবং মরণমুখী অপারেশন পরিচালনা করে আজ কুুতুবদিয়ার মানুষ শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন।

কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা হাজী বেলালুল ইসলাম বলেন, মাদক র্নিমূলের দ্বরাপ্রান্তে কুতুবদিয়া থানা। পাশাপাশি বর্তমান ওসির দূরদর্শীতায় শিক্ষা , সংস্কৃতি এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং তরান্তিত হয়েছে শিক্ষা সংস্কৃতি এবং ক্রীড়ার অভবানীয় সাফল্য। এমনকি ওসির চৌকস পুলিশিং কার্যবালির বাস্তবায়নে দ্বীপের মানুষ শান্তিতে আছেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ চমৎকার। জলদস্যুদের বিচরণ শূণ্যতে রুপান্তরিত হয়েছে এবং জেলে ও মাঝিরা রয়েছে অধিকতর নিরাপত্তার বেষ্টনিতে আবদ্ধ।

থানা সূত্রে জানায়, এ পর্যন্ত ৮৭ টি মাদক মামলায় ২৯৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।১৯ হাজার ৯৯৭ পিচ ইয়াবা , ১২৮ লিটার মদ প্রায় ৬ কেজি গাজাঁ উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিদারুল ফেরদাউস জানান, বর্তমান কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইকবাল হোসাইন এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রতন দাশ গুপ্ত (কুতুবদিয়া- মহেশখালী)স্যারদের নির্দেশে কুতুবদিয়া উপজেলাকে মাদক,সন্ত্রাস এবং জলদস্যুমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকসহ মডেল কুতুবদিয়া রুপান্তরে যুগোপুযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কুতুবদিয়া থানা পুলিশ তার টিমদের সাথে নিয়ে মাদক নির্মুলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন । মুজিববর্ষের অঙ্গিকার , পুলিশ হবে জনতার এ প্রাতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে জনকল্যাণে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর। বলতে গলে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ জনকল্যাণে কাজ করে সততা ও ন্যায় নীতিকথায় অবিচল আছেন।

তিনি আরো জানান,গত ২৩ নভেম্বর মহেশখালীতে যে ৯৬ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের মধ্যে ১৩ জন ছিলো দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার । বিগত সাড়ে ৩বছরে শতাধিক জলদস্যুকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ নিশ্চয়তা দিতে পারি, দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া মডেল কুতুবদিয়া থানা হিসেবে রুপান্তরিত হয়েছে। ভবিষ্যতে মাদক এবং জলদস্যু যাতে উত্থান ঘটতে না পারে এবং এদের তৎপরতা যাতে বৃদ্ধি না পায় সে লক্ষ্যে পুলিশিং কার্যক্রমকে বেগবান করে আইনশৃঙ্খলা পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখাসহ যাবতীয় জনকল্যাণমুখী কাজ বাস্তবায়ন করে মুজিব বর্ষের অঙ্গিকার পুলিশ হবে জনতার এ প্রাতিপাদ্য উদ্দেশ্যকে সেবার মাধ্যমে পরিপূর্ণতা দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলাদেশ রুপান্তরে অংশীদার হতে পারবো ।

 
ময়মনসিংহে ঘন কুয়াশায় ৪ বাস-ট্রাকের সংঘর্ষ
                                  

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 

 

ঘন কুয়াশার কারণে ময়মনসিংহের ত্রিশালে চার বাস-ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন ও কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার কাজির শিমলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতের নাম বাবুল হোসেন (৪০)। তার বাড়ি শেরপুর জেলায়। তিনি শেরপুর চেম্বার অব কমার্স পরিবহনের চালকের সহকারী। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একপাশে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

 

ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মুনিম সারোয়ার বলেন, বুধবার সকালে ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাজির শিমলা এলাকায় বালুভর্তি ট্রাক বালু আনলোড করে ঘোরানোর সময় শেরপুর থেকে ছেড়ে আসা শেরপুর চেম্বার অব কমার্স পরিবহনের একটি বাস পেছন দিক থেকে ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই বাসের চালকের সহকারী বাবুল হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ওই বাসের পেছনে গৌরীপুর থেকে ছেড়ে আসা আরিশা পরিবহনের আরেকটি বাস ধাক্কা দেয়। ঘন কুয়াশায় দেখতে না পেয়ে নেত্রকোনা থেকে ছেড়ে আসা নেত্র পরিবহনের আরও একটি বাস তার পেছনে ধাক্কা দেয়। এ সময় চার বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে বাসের কমপক্ষে আট যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ত্রিশাল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান জানান, এ দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একপাশে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহনগুলো সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

 
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিচার চাইলেন মা
                                  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি


শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের জবরদখল গ্রামের গৃহবধূ আকলিমা বেগমের (৩০) হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন মা সাহিদা বেগম।

মায়ের দাবি, একই গ্রামের গিয়াসউদ্দিন সরদারের ছেলে আল-আমিন সরদার (৩৫) আকলিমাকে হত্যা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কাঁচিকাটা ইউনিয়নবাসী।

এ নিয়ে রোববার (১২ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়। এতে নিহতের মা সাহিদা বেগম, বাবা শরীফ সরদার, ভাই সাইফুল ইসলামসহ ইউনিয়নবাসী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা সাহিদা বেগম।

জানা যায়, ১৩ বছর আগে প্রেম করে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের জবরদখল গ্রামের গিয়াসউদ্দিন সরদারের ছেলে আল-আমিন সরদারের সঙ্গে একই গ্রামের শরীফ সরদারের মেয়ে আকলিমা বেগমের বিয়ে হয়। রিয়া মনি (৬) নামে এক মেয়ে ও রিয়াজ (১২), মিরাজ (৮) নামে দুটি ছেলে রয়েছে তাদের।


মেয়ে হত্যার বিচার চাইলেন আকলিমার বাবা-মা

বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য আকলিমাকে নির্যাতন করতেন আল-আমিন। একদিন আল-আমিন কলস দিয়ে আঘাত করে আকলিমার কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন। আকলিমা নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাবার বাড়ি থেকে ধাপে ধাপে পাঁচ লাখ টাকাও দেয় আল-আমিনের পরিবারকে। আরও দেড় লাখ টাকা যৌতুকের জন্য ৮ ডিসেম্বর রাতে নির্যাতন করে হত্যার পর আকলিমাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।


৯ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে আকলিমার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। পরে স্বামী আল-আমিনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকলিমার মা বলেন, যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে হত্যা করেছে আল-আমিন। আমার মেয়ের যে ময়নাতদন্ত হয়েছে তা সঠিক হয়নি। আমি পুনরায় ময়নাতদন্ত চাই। আমার মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।


আকলিমার খুনির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

আকলিমার ভাই সাইফুল সরদার বলেন, আল-আমিন যখন আমার বোনকে নির্যাতন করতেন তখন ঘরের মধ্যে বিকট শব্দ করে সাউন্ড বক্স বাজাতেন। যাতে করে প্রতিবেশীরা নির্যাতনের শব্দ না পান। এভাবে নির্যাতন করে আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। আমার বোনের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। আল-আমিনের ফাঁসি চাই।

সখিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, আকলিমার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে আত্মহত্যা করেছে। তার স্বামী আল-আমিন জেলহাজতে। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

 
মসজিদে মাইকিং : গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ৩
                                  

যশোর প্রতিনিধি

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। উপজেলার প্রেমবাগ গ্রামের মজুমদারপাড়ার রেলক্রসিংয়ের সামনে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তাদের বয়স ৩৫-৪০ বছরের মধ্যে। এ ঘটনায় আহত একজনকে আটক করেছে পুলিশ।



স্থানীয়রা জানায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যশোর সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রামে একটি পিকআপভ্যানে করে কয়েকজন সন্দেহভাজন গরুচোর আসেন। তারা খোরশেদ আলীর বাড়ির গোয়ালে ঢুকে তিনটি গরু চুরি করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির মালিক চিৎকার শুরু করেন। এলাকাবাসী জড়ো হয়ে চোরদের ধাওয়া করে এবং তাদের ধরতে এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন। এরপর এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে দুজন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হয়েছেন এক গরুচোর।

অভয়নগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, ভোরে একদল সংঘবদ্ধ গরুচোর চুরি করতে গেলে এলাকাবাসী টের পেয়ে মসজিদে মাইকিং করেন। এ সময় সবাই মিলে তাদের ধাওয়া করে তিনজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলে দুজন এবং আহত অবস্থায় অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর আরেকজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি মো. তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক গরুচোর। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

 
ঝেঁকে বসেছে তীব্র শীত, থাকতে পারে আরও ২-৩ দিন
                                  

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

প্রায় সারাদেশেই শনিবার (১১ জানুয়ারি) থেকে রোদের দেখা নেই। রয়েছে বাতাস, সঙ্গে তীব্র শীত। রোববারও (১২ জানুয়ারি) একই অবস্থা বিরাজ করছে।

 

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আরও দুই-তিন দিন একই অবস্থা থাকতে পারে। এরপর থেকে হয়তো আবহাওয়ার অবস্থা কিছুটা উন্নতি বা তাপমাত্রা বাড়তে পারে।

 

 

 

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, ‘মেঘলা আকাশ আজকেও থাকবে। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে হয়তো কমে আসতে পারে। বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। তবে শীতের তীব্রতা দুই-তিন দিন একই রকম থাকবে। এখন যে বাতাসের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে, তা ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে। ১৫ জানুয়ারি থেকে হয়তো তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।’

 

তিনি বলেন, ‘আজকে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একটা স্টেশনে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে শৈত্যপ্রবাহ বলি না। এজন্য আজকে শৈত্যপ্রবাহ বইছে বলছি না।’

 

অন্যদিকে পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রোববার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তার পরবর্তী দুই দিনে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। তার পরবর্তী পাঁচ দিনে রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

আর সোমবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬-১২ ঘণ্টা বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পরে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

 

উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

 
রাজশাহীর যৌনকর্মীরা যক্ষ্মা ঝুঁকিতে
                                  

 

অনলাইন ডেস্ক

 

যৌনকর্মী ও খদ্দেররা যক্ষ্মা ছড়ানোর জন্য অন্যতম উৎস হলেও রাজশাহী শহরের বিপুল সংখ্যক নারী যৌনকর্মী যক্ষ্মা ছড়ানোর এই মারাত্মক বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত নন। তাদের প্রায় অর্ধেক জানেনই না যে যক্ষ্মা সংক্রামক রোগ। ৯০ শতাংশ সুপ্ত যক্ষ্মা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না তারা। রাজশাহী শহরের নারী যৌন কর্মীদের ওপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

গবেষকরা বলছেন, যক্ষ্মা ঝুঁকিতে রয়েছেন রাজশাহী শহরের নারী যৌনকর্মীরা।

 

গবেষণায় বলা হয়েছে, মোট ২২৫ জন নারী যৌনকর্মীর ৪৩.১ শতাংশ শহর থেকে, ৩৪.৭ গ্রাম থেকে ২২.২ শতাংশ বস্তি এলাকা থেকে আসা। যক্ষ্মা বিস্তার সম্পর্কে জানেন না ৭৬% শতাংশের বেশি নারী যৌনকর্মী। ৪১% এর বেশি অনুভব করেছেন যে যক্ষ্মা একটি অসংক্রামক রোগ। অর্ধেক যক্ষ্মা ছড়ায় এ বিষয়টি জানলেও খুব বেশি গুরুত্ব দেন না।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম হোসেনের তত্ত্বাবধানে ‘Knowledge of tuberculosis among female sex workers in Rajshahi city, Bangladesh: a cross sectional study’ শিরোনামের এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল রাজশাহী নগরীতে নারী যৌনকর্মীদের যক্ষ্মা সম্পর্কিত জ্ঞানের মূল্যায়ন। বিএমসি জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণা সম্পন্ন করেছেন পাঁচ সদস্যের গবেষক দল।

 

গবেষকরা বলছেন, মূলত দুই ধরনের যৌনকর্মী আছেন। কেউ স্বামী বা পরিবারের নির্যাতনে এই পেশায় আসতে বাধ্য হয়েছেন। আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত অর্থ আয়ের জন্য যৌন কর্মের পথ বেছে নিয়েছেন।

 

যক্ষ্মা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান পরিমাপ করা হয়েছে ৬টি ভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে। পরে যক্ষ্মা সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানের অভাব সংশ্লিষ্ট কারণগুলি খুঁজে বের করার জন্য ‘Chi-square test’ ও ‘multinomial logistic regression mode’ নামের দুইটি টেস্ট ব্যবহার করা হয়।

 

 

গবেষকরা দেখেছেন- শিক্ষা, মাসিক পারিবারিক আয়, বয়স, বৈবাহিক অবস্থা এবং যৌন ট্রেডিং স্থান যক্ষ্মা সম্পর্কিত জ্ঞানের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পৃক্ত। ৪২.২% শতাংশ কিছুটা যক্ষ্মা সম্পর্কে জানেন। তুলনামূলকভাবে শিক্ষিতরা কম শিক্ষিত লোকের চেয়ে যক্ষ্মা সম্পর্কে ধারণা বেশি রাখেন।

 

যৌনকর্মীদের যক্ষ্মা ঝুঁকি কেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে গবেষক ড. গোলাম হোসাইন বলেন, এ শহরে কোনো বৈধ পতিতালয় নেই এ জন্য তারা রাস্তা, বিভিন্ন হোটেল বা বস্তি এলাকার বিভিন্ন স্থানে তাদের যৌনকর্ম সম্পাদন করেন। যার অধিকাংশ জায়গা যক্ষ্মার ঝুঁকি সম্পন্ন। এছাড়া নারী যৌন কর্মীদের কাছে যারা আসেন তারা দূর থেকে ভ্রমণের পর একটা চাহিদা থেকে এটা করেন। অধিকাংশই বাস কিংবা রিকশা ড্রাইভার। যৌনকর্মীরা সচেতন না হওয়ার অসচেতনভাবেই এসব স্থান ও ব্যক্তিদের সঙ্গে যৌনকর্ম সম্পাদনের কারণে যক্ষ্মার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সে কারণেই তাদের সচেতনতার প্রয়োজন ।

 

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. নাজিব ওয়াদুদ বলেন, এইচআইভি সম্পর্কে একটু সচেতন হলেও সংক্রামক এই রোগটি সম্পর্কে যৌনকর্মীরা জানেন না, এটা খুব মারাত্মক বিষয়। যদিও তারা এবং তাদের ক্লায়েন্টরা যক্ষ্মা ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা এটি। সরকার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ, এনজিও এবং গবেষকরা যৌথভাবে বাংলাদেশে যক্ষ্মা রোগের প্রকোপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

 
বীজতলা তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় আক্রান্ত
                                  

 

গাইবান্ধা প্রতিনিধি


গাইবান্ধার ৭ উপজেলার সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লাগানো হয়েছে ইরি-বোরো বীজ। কিন্তু ইরি-বোরোর চারা বা বীজতলা তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় আক্রান্ত হয়েছে। তাই ক্রমেই চারাগুলো কালো, লাল বা সাদা বর্ণের হয়ে পঁচে মারা যাচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগ জানায়, এতে হতাশার কিছু নেই। পলিথিন দিয়ে জমি ঢেকে বা জমিতে পানি আটকে রেখে বা প্রতিদিন সকালে বাশের কঞ্চি দিয়ে কুয়াশা ফেলে ধান গাছের চারা বাঁচানো সম্ভব।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাইবান্ধা জেলায় চলতি সপ্তাহ থেকে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। পাশাপাশি গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। এতে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। শীতের প্রভাব পড়েছে ক্ষেত-খামার ও ইরি-বোরো বীজতলায়। ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়ে ধানের চারাগুলো কালো, লাল বা সাদা বর্ণের হয়ে পঁচে মারা যাচ্ছে।


সদর উপজেলার কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘৫ শতাংশ জমিতে এবার বোরোর বীজ লাগানো হয়েছে। কিন্তু শীতের কারণে বীজের চারাগুলো সাদা বর্ণের হচ্ছে। জানি না, চারাগুলো জমিতে রোপণ করা সম্ভব হবে কি-না।’

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক ময়নুদ্দিন আকন্দ বলেন, ‘গতবছর বন্যার পরে চড়া দামে আমনের চারা কিনতে পারিনি বলেই আমনের আবাদ না করে জমি পরিত্যক্ত রেখেছিলাম। এ বছর যদি ঘন কুয়াশায় বোরোর চারা মারা যায়, তাহলে কোনোভাবেই বোরোর চাষ সম্ভব না।’



সাঘাটা উপজেলার তেলিয়ান গ্রামের কৃষক তোফাজ্জান হোসেন বলেন, ‘শীতের কারণে এবার বোরোর চারা সাদা বর্ণের হয়ে গেছে। এমন আবহাওয়া যদি সপ্তাহখানেক থাকে, তাহলে চারাগুলো পচে যেতে পারে। ফলে আমাদের বোরো চাষে চারা সঙ্কট দেখা দিতে পারে।’


গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শীতে আক্রান্ত বীজতলার বিষয়ে মাঠে মাঠে ঘুরে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাকছুদুর রহমান বলেন, ‘এ বছর জেলায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রায় ৫ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। শীতে বীজতলা নিয়ে হতাশার কিছু নেই।’

 
প্রেমিকার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে ৪ বছর ধরে ধর্ষণ
                                  

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

মন্দিরে গিয়ে প্রেমিকাকে সিঁদুর পরিয়ে বিয়ের নামে চার বছর ধরে ধর্ষণ অভিযোগ উঠেছে সজীব আহম্মেদ (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। সোমবার ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে সজীবের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলার রেললাইন কলাবাগান এলাকার রহমাতউল্লাহর ছেলে সজীবের সঙ্গে সনাতন ধর্মের ওই নারীর ৭ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক হয়। সজীব চার বছর আগে শহরের একটি মন্দিরে সিঁদুর পরিয়ে হিন্দু ধর্মমতে বিয়ে করেন মেয়েটিকে। তবে বিবাহ নিবন্ধন করেননি তারা। বিবাহ নিবন্ধন করতে বললেও আজ কাল বলে কালক্ষেপণ করেন সজীব।

এদিকে বিবাহ নিবন্ধন ছাড়াই চার বছর শারীরিক সম্পর্ক করেন তারা। গত ২ ডিসেম্বর রাতে ওই নারী বিবাহের নিবন্ধন করার কথা বললে সজীব অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যান। তখন থেকেই যোগাযোগ বন্ধ রাখেন। এ ঘটনায় সজীবের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন ওই নারী।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন জানান, মামলা হওয়ার পর থেকে আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সজীব প্রতারণা করে হিন্দু ধর্মের নারীকে সিঁদুর পরিয়ে বিয়ের নাটক করে টানা ৪ বছর ধর্ষণ করেছে।

 
সড়কে ঝরল ৬ প্রাণ
                                  

 

ফরিদপুর প্রতিনিধি

 

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর সদর উপজেলার মল্লিকপুর নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহতরা হলেন, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ওলামাদলের সভাপতি ডা. শরীফুল ইসলাম (৪০), তার মেয়ে তাবাচ্ছুম (৮), ভাগ্নি তানজিলা (১৮), শ্যালিকা তাকিয়া আক্তার (১৩), বন্ধু এসআই ফারুক হোসেন ও মাইক্রোবাসের চালক নাহিদ। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ডা. শরীফুল ইসলামের স্ত্রী রিমি আক্তার। রিমি আক্তারকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

 

জানা যায়, সিলেটের সুনামগঞ্জ থেকে বেনাপোলের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মল্লিকপুর নামক স্থানে পৌঁছালে বোয়ালমারী থেকে ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের ৪ জনসহ ৬ জন মারা যান।

 

 

কানাইপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ এসআই সাফুর আহমেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মরদেহগুলো ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

 
১৭ কোটির সংস্কার কাজে বালুর বদলে মাটি!
                                  

 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

 

 

রাজাপুর মেডিকেল মোড় থেকে সাতুরিয়া স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার সংস্কারকাজ। রোববার ছবিটি তোলা

ঝালকাঠির রাজাপুরে রাস্তা সংস্কারে এবার বালুর বদলে বেলে মাটি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টির পানির সঙ্গে এ বেলে মাটি মিশে রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচলে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ রাস্তার সংস্কার কাজের মান ও মানুষের ভোগান্তি নিয়ে প্রতিবাদ করছেন অনেকে। ভাইরাল হয়েছে ওই রাস্তার ছবি ও ভোগান্তির চিত্র।

 

জানা যায়, উপজেলার মেডিকেল মোড় থেকে সাতুরিয়া স্কুল-সংলগ্ন স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত নয় কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার ও সড়ক উন্নয়নের নামে দীর্ঘদিন ধরে খুঁড়ে বালু ফেলে রাখা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাস্তাটি যেন কাদা-পানির খালে পরিণত হয়েছে। এতদিন রাস্তায় বালু ফেলে রাখলেও শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় এলাকার মানুষ বুঝতে পারেননি বালুর বদলে বেলে মাটি ব্যবহার করেছেন ঠিকাদার। হঠাৎ বৃষ্টিতে ঠিকাদারের দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যায়। এ নিয়ে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই রাস্তাটি সংস্কারের নামে খুঁড়ে রাখা হয়। পরে খুঁড়ে রাখা রাস্তায় বেলে মাটি ও লোকাল বালু দেয়ায় বৃষ্টিতে রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। এতে জনসাধারণ এবং সড়কে গাড়িচালক ও যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, পরিত্যক্ত বেলে মাটি দেয়ায় রাস্তার অবস্থা এমন হয়েছে।

 

 

উপজেলা কাঠিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন মিলন বলেন, ‘প্রথমে মনে করেছিলাম লোকাল বালু, এখন দেখা গেল হুলার হাটের বেলে মাটি দেয়া হয়েছে রাস্তায়। জীবনে অনেক রাস্তার কাজ করতে দেখেছি তবে এমন দুর্নীতির খেলা চোখে পড়েনি। রাজাপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথেই দেখলাম কাদা-পানির ঢেউ উঠেছে রাস্তায়। আসলে এটা ঠিকাদরের দোষ নয়, এগুলো দেখভালের জন্য একটা দফতর আছে। তারা মাল খেয়ে এদিকে আসে না, আর দেখেও না। ভাবতেছি এ বেলে মাটির ওপরে কার্পেটিং হলে অবস্থাটা কী হবে? আল্লাহর খেলায় পাপের লেজ বের হয়ে গেল। এনারা যে খেলা খেলেছিল তার ওপরে বড় খেলা খেলে আল্লাহ বৃষ্টি দিয়া সাধারণ মানুষকে আসল রূপটা দেখাই দিছে।’

 

মিলন নামের ওই ব্যক্তি আরও বলেন, ‘রাস্তাটার এ দৈন্যদশা আজ নতুন নয়। বছরে দু-তিনবার রাস্তাটি মেরামত হয়। কর্তৃপক্ষ মাল কামাবার একটা ঘটি হিসাবে ব্যবহার করছে রাস্তটি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে যথেষ্ট তৎপর কিন্তু দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ তার সঙ্গে প্রতারণা করছে আর দুর্নাম হচ্ছে সরকারের।’

 

 

 

 

স্থানীয় নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান মিল্টন বলেন, আমাদের উপজেলায় ঠিকাদারির কাজ যে কত নিম্নমানের তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। মা-হারা সন্তানের যেমন অবস্থা, আমাদের রাজাপুর উপজেলার জনগণও একই অবস্থায় আছে। রাস্তার অবস্থা এমন যে, বাসযাত্রীরা নাগর দোলায় ওঠার আনন্দ পায়।

 

ঝালকাঠি কুতুবনগর মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মান্নান জানান, সরকারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও যাদের কারণে রাস্তা বা ভবন মেয়াদোত্তীর্ণের আগেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায় তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।

 

ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল উন্নয়ন প্রতিনিধি মো. কবিরুল ইসলাম ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘সরকারের উন্নয়নের জোয়ার এখান থেকে চলে যাওয়ার কারণে কিছু কাদা-পানি হইছে।’

 

 

সংস্কার কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা রাজাপুরের নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, গোপালগঞ্জের ঠিকাদারসহ আমরা কয়েকজন মিলে কাজটি করছি। সিলেট ও ঢাকা থেকে বালু এনে কিছু পাথর মিশিয়ে গ্রেডিং করেছিলাম। হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় একটু অসুবিধা হয়েছে। ভেকু মেশিন দিয়ে বালু অপসারণ করে নতুনভাবে মানসম্মত বালু ও পাথর দিয়ে পুনরায় গ্রেডিং কাজ চলমান রয়েছে।

 

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ মো. নাবিল হোসেন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘রাজাপুর মেডিকেল মোড় থেকে সাতুরিয়া স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত নয় কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে। কার্যাদেশে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। এটি সংস্কার কাজে প্রায় ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

 

 

সবসময় দফতরের পক্ষ থেকে রাস্তার সংস্কার কাজের তদারকি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

রাস্তাটির সংস্কারের জন্য বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হাত বদল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 
কর্মসূচি প্রত্যাহার : পাটকল শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন
                                  

খুলনা প্রতিনিধি

আগামী ১৬ জানুয়ারির মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের আশ্বাসে আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরেছেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা। টানা পাঁচদিন আমরণ অনশন কর্মসূচির পর শনিবার (৪ জানুয়ারি) ভোরে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। ফলে মিলে ফের উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে গোটা শিল্পাঞ্চলে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি কমিশনের স্লিপ প্রদান করা হবে- এমন আশ্বাসে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি। ১৬ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) মজুরি কমিশনের স্লিপ স্লিপ প্রদান করা হবে। ফলে শনিবার ভোর ৬টা থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাটকল খুলনায়। খুলনার সাতটি পাটকলে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। যারা সবাই কাজে যোগদান করেছেন। ফলে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে।

মিলগুলো হচ্ছে- ক্রিসেন্ট জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল ও ইস্টার্ন জুট মিল।

বিজেএমসি সূত্রে জানা যায়, আমরণ অনশনের সময় খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলের মধ্যে যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিল বাদে বাকি ৭টি পাটকলের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এ পাটকলগুলোতে প্রতিদিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭২ দশমিক ১৭ মেট্রিক টন। সেখানে চালু থাকা ওই দুটি পাটকলে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৮৬ দশমিক ৩৯ মেট্রিক টন। পাটকলগুলোতে প্রতিদিনের উৎপাদিত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। সে হিসেবে শ্রমিকদের পাঁচদিনের অনশনে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে গত ১৫, ২২ ও ২৬ ডিসেম্বর তিন দফা বৈঠক হলেও তাতে কোনো সুফল আসেনি। সর্বশেষ ২৬ ডিসেম্বরের বৈঠকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় ওই দিন ২৯ ডিসেম্বর দুপুর থেকে আবারও ১১ দফা দাবিতে অনশন করার ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা। সেই অনুযায়ী শ্রমিকরা অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেন।


বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাতে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠক শেষে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পাটকল শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে বলে ঘোষণা দেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। এরপর অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা।

 
তীব্র শীতেও অনশনে পাটকল শ্রমিকরা
                                  

 

নরসিংদী প্রতিনিধি 

 

নরসিংদীতে তৃতীয় দিনের মতো পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। মঙ্গলবারও (৩১ ডিসেম্বর) প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে শ্রমিকরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। ৩৬ ঘণ্টার আন্দোলনে হারুনুর রশিদ ও দুলাল মিয়া নামে দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের ফলে মিলের সকল ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে গত রোববার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাংলাদেশ পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের ডাকে ইউনাইটেড-মেঘনা-চাঁদপুর (ইউএমসি) জুট মিলের শ্রমিকরা মিল গেটের সামনে এ আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। এ অনশনে ইউএমসি জুট মিলের স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক রয়েছেন।

 

এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন শ্রমিকরা। টানা পাঁচদিন আন্দোলনের পর আলোচনার জন্য কর্মসূচি স্থগিত করে কাজে যোগ দেন তারা।

 

অনশন কর্মসূচিতে ইউএমসি জুট মিলের সিবিএর সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক কামাল মিয়া, কাউছার আহাম্মেদ,সুমন খন্দকার,জাকির হোসেন,দেলোয়ার হোসেন, নন সিবিএ পরিষদের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান, মোশারফ হোসেন,কাউযুম প্রধান, শামসুল আরেফিন, ইসা হাবিব রিপন সরকারসহ সাধারণ শ্রমিকরা অনশনে উপস্থিত রয়েছেন।

 

 

শ্রমিক নেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘরে চাল নেই। বাজার নেই। সন্তানদের মুখে দু-মুঠো ভাত ঠিক মতো তুলে দিতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে আন্দোলনে নেমেছি। সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন বাড়ায়নি। আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের প্রতি এমন বৈষম্য কেন?

 

 

ইউএমসি জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন চলছে। এখন পযর্ন্ত প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো খোঁজখবর নেয়নি। এরই মধ্যে আমাদের দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।


   Page 1 of 117
     সারা দেশ
মাঘের শুরুতেই বৃষ্টিতে ভিজলো রাজশাহী
.............................................................................................
মৌলভীবাজারে স্ত্রীসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যার পর যুবকের আত্মহত্যা
.............................................................................................
ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব : আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে ইজতেমায় আসছেন মুসল্লিরা
.............................................................................................
প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তিন প্রাণ
.............................................................................................
মাদকমুক্ত মডেল থানা রুপান্তরে যুগোপযুগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন ওসি দিদারুল ফেরদাউস
.............................................................................................
ময়মনসিংহে ঘন কুয়াশায় ৪ বাস-ট্রাকের সংঘর্ষ
.............................................................................................
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিচার চাইলেন মা
.............................................................................................
মসজিদে মাইকিং : গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ৩
.............................................................................................
ঝেঁকে বসেছে তীব্র শীত, থাকতে পারে আরও ২-৩ দিন
.............................................................................................
রাজশাহীর যৌনকর্মীরা যক্ষ্মা ঝুঁকিতে
.............................................................................................
বীজতলা তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় আক্রান্ত
.............................................................................................
প্রেমিকার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে ৪ বছর ধরে ধর্ষণ
.............................................................................................
সড়কে ঝরল ৬ প্রাণ
.............................................................................................
১৭ কোটির সংস্কার কাজে বালুর বদলে মাটি!
.............................................................................................
কর্মসূচি প্রত্যাহার : পাটকল শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন
.............................................................................................
তীব্র শীতেও অনশনে পাটকল শ্রমিকরা
.............................................................................................
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে নাভিশ্বাস পঞ্চগড়ে, তাপমাত্রা ৫.২ ডিগ্রি
.............................................................................................
তাপসের সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা
.............................................................................................
পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত
.............................................................................................
সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ
.............................................................................................
সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্তানসহ ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু
.............................................................................................
‘আমি যে সেবা দিতে পারবো, যে কাজ করতে পারবো তা অন্য প্রার্থীরা দিতে পারবে না : আখততারুজ্জামান বাবু
.............................................................................................
প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
.............................................................................................
ডিমলায় চরম দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ
.............................................................................................
রিং অব ফায়ারের সাক্ষী হলো এশিয়ার মানুষ
.............................................................................................
রংপুরে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ দুইজনের মৃত্যু
.............................................................................................
পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে বাবা-মাকে কুপিয়ে হত্যা ছেলের
.............................................................................................
৯ জানুয়ারি সংসদের শীতকালীন অধিবেশন
.............................................................................................
মেহেরপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
মাদকবিরোধী সচেতনতার লক্ষ্যে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ‘বিচ ম্যারাথন’
.............................................................................................
বন্দুকযুদ্ধে পাবনায় ১১ মামলার আসামি নিহত
.............................................................................................
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট : ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত
.............................................................................................
আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পার্বত্য ভূমি কমিশনের সভা বিলম্বিত
.............................................................................................
ঘন কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তিনজনের
.............................................................................................
সিরাজগঞ্জে দেবে গেছে ব্রিজ, উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলার মানুষ ভোগান্তিতে
.............................................................................................
তীব্র শীতে জুবুথুবু তিস্তা পারের বাসিন্দারা
.............................................................................................
বইছে শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
.............................................................................................
ঘন কুয়াশায় ঢাকা কুড়িগ্রাম, বাড়ছে শীতের তীব্রতা
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর স্বজনের নামও রাজাকারের তালিকায়
.............................................................................................
রাজাকারের তালিকায় রাজা অংশৈ প্রু
.............................................................................................
রাতারগুলে এক গণশৌচাগার নির্মাণে খরচ ৩০ লাখ টাকা
.............................................................................................
খুলনায় আরও এক পাটকল শ্রমিকের মৃত্যু
.............................................................................................
কেরানীগঞ্জে আল- আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে মতবিনিময় সভা
.............................................................................................
হেঁটে ৬৪ জেলা পাড়ি দেবেন কাউছার
.............................................................................................
প্রাচীরের পাশে মিলল প্রতিবন্ধী কিশোরীর বিবস্ত্র লাশ
.............................................................................................
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের শাহাদতবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
দাম কম, মুখে হাসি নেই ধানচাষিদের
.............................................................................................
কিশোর টিটোর জীবনের বিনিময়ে হানাদার মুক্ত হয় সাভার
.............................................................................................
কাজে ফিরেছেন পাটকল শ্রমিকরা
.............................................................................................
বারান্দায় গৃহবধূর লাশ, ঘরে ঝুলন্ত স্বামী
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]