| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * রুম্পা হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল স্টামফোর্ড   * প্রধান বিচারপতির প্রস্তাব ভালো লেগেছে প্রধানমন্ত্রীর   * ভালোই আছেন খালেদা জিয়া, ভুগছেন শুধু গিরার ব্যথায়   * খালেদার মুক্তির দাবিতে রোববার বিক্ষোভ করবে বিএনপি   * মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন সেই অগ্নিদগ্ধ ধর্ষিতা তরুণী   * বাগদাদে বিক্ষোভে অস্ত্রধারীদের হামলায় পুলিশসহ নিহত ১৯   * সিঙ্গাপুরের ৪০ শীর্ষ ধনীর তালিকায় বাংলাদেশি আজিজ   * আবারও আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ   * পাকিস্তানের গর্বে আঘাত হেনেছে অস্ট্রেলিয়া!   * কোহলি ঝড়ে রেকর্ডগড়া জয় ভারতের  

   আদালত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিচারপতিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং জেলা জজ সমপর্যায়ের বিচারকরা সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

সম্প্রতি রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।



এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা এবং জেলা জজ সমপর্যায়ের বিচারকরা বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকার ও নৈশভোজে মিলিত হবেন।

এদিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নৈশভোজে অংশগ্রহণের জন্য বঙ্গভবনে সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে ৭ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০১৯ অনুষ্ঠান চলছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিচারপতিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং জেলা জজ সমপর্যায়ের বিচারকরা সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

সম্প্রতি রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।



এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা এবং জেলা জজ সমপর্যায়ের বিচারকরা বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকার ও নৈশভোজে মিলিত হবেন।

এদিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নৈশভোজে অংশগ্রহণের জন্য বঙ্গভবনে সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে ৭ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০১৯ অনুষ্ঠান চলছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে: প্রধান বিচারপতি
                                  

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে। আমরা আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে। এজলাসে বসে আদালতের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।’

 

খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল ও জামিনবিষয়ক শুনানির দিন ধার্যের আদেশ দেওয়ার পরও আদালতকক্ষে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অবস্থান-হইচইয়ের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

 

খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানিয়ে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন আজ বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে দাখিল হয়নি। এটিসহ দুটি প্রতিবেদন কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে সকালে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ১২ ডিসেম্বর বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় আসবে।

 

এই শুনানি চলাকালেই রাষ্ট্রপক্ষ ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে হইচই হয়। হইচইয়ের মধ্যেই আদালত আদেশ দেন।

 

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতকক্ষে অবস্থান নেন। তাঁরা হইচই করতে থাকেন।

 

সকাল ১০টার দিকে দিকে বিচারপতিরা আদালতকক্ষ ত্যাগ করেন।

 

বিচারপতিরা চলে যাওয়ার পরও বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীরা আদালতকক্ষে বসে থাকেন।

 

বিরতির পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচারপতিরা এজলাসে আসেন। অন্য মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। তখনো বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীরা আদালতকক্ষে বসে ছিলেন। তাঁরা হইচই করেন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলে স্লোগান দেন।

 

একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ডায়াসে দাঁড়ান। এ সময় আদালত বলেন, তাঁরা আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখেননি।

 

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমি শেষবারের মতো কথা বলতে চাই।’

 

আদালত বলেন, ‘আমরা আদেশ দিয়েছি। আর কোনো কথা শুনব না।’

 

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার আরজি জানান।

 

আদালত বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৃহস্পতিবার শুনব।’

 

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তুমুল হইচই করেন।

 

হইচইয়ের মধ্যে আদালতের ক্রম অনুসারে মামলা ডাকা হয়। ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে শুনানির জন্য দাঁড়ান আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা টেবিল চাপড়ান। শুনানি করার চেষ্টা করেন আজমালুল হোসেন কিউসি।

 

এ সময় বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ছাড়া আর কোনো শুনানি হবে না।

 

একপর্যায়ে সরকার-সমর্থক ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়।

 

দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী স্লোগান দেন, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। তাঁরা ‘খালেদা জিয়া’, ‘খালেদা জিয়া’ বলেন স্লোগান দেন।

 

আজমালুল হোসেন কিউসি যে মামলা শুনানির জন্য দাঁড়িয়েছিলেন, সেটির জন্য বৃহস্পতিবার দিন রাখেন আদালত।

 

পরে বিচারপতিরা আদালতের এজলাস ত্যাগ করেন।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত অবমাননা করেছেন
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে খালেদার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দাখিল না করা নিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হৈচৈয়ের ফলে আদালত অবমাননা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, তারা নজিরবিহীন হট্টগোল করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার খালেদার জামিন শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের উত্তর হলে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন তিনি।

 

এরআগে খালেদার জামিন শুনানিতে হট্টগোল করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ ৬ জন বিচারক এজলাস ছেড়ে উঠে যান।

 

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তারা আদালত অবমাননা করেছেন। আপিল বিভাগের ভেতরে, আদালতের এজলাজ কক্ষে নজিরবিহীন হট্টগোল করেছেন। তাদের হট্টগোলের বিষয়ে আমি আশা করি প্রধান বিচারপতি ব্যবস্থা নেবেন। আর ভবিষ্যতে যদি এরকম করেন তাহলে আদালতে মামলা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে যাবে।

 

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদলতে বহিরাগতদের নিয়ে এসিছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

আদালতে আজ খালেদার মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ওই প্রতিবেদন এখনও তৈরি হয়নি। সে মোতাবেক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় আবেদন করা হয়। এ সময় প্রধান বিচারপতি এ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। খালেদার আইনজীবীরা অবশ্য চাচ্ছিলেন ৭ ডিসেম্বর যেন এ দিন ধার্য করা হয়।

 

বুধবারই বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেছিলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুসারে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে পর্যালোচনা সভা করেন। কিন্তু তার কাছে (উপাচার্যের মাধ্যমেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে) এখনও মেডিকেল বোর্ড প্রতিবেদন দেয়নি। ফলে বৃহস্পতিবার আদালতে রিপোর্ট দাখিল হচ্ছে না।’

খালেদার মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন দাখিল করেনি কর্তৃপক্ষ
                                  

 

 

    নিজস্ব প্রতিবেদক

 

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানাতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার রিপোর্ট (প্রতিবেদন) আজ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) আদালতে দাখিলের নির্দেশনা দেয়া ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে এ প্রতিবেদন তৈরি না হওয়াতে তা আজ আদালতে দাখিল করা হয়নি।

 

খালেদার স্বাস্থ্যগত তথ্যের বিষয়ে আদালতের কাছে সময় চেয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ সময় প্রধান বিচারপতি এ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। খালেদার আইনজীবীরা অবশ্য চাচ্ছিলেন ৭ ডিসেম্বর যেন এ দিন ধার্য করা হয়।

 

এর আগে মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য বুধবার জানিয়েছিলেন, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন রোগব্যাধির রিপোর্টসহ সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা সভা করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার আদালতে সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন দাখিলের ব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি তারা। এ কারণে বৃহস্পতিবার তারা আদালতে সময় প্রার্থনা করবেন।

 

বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেছিলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুসারে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে পর্যালোচনা সভা করেন। কিন্তু তার কাছে (উপাচার্যের মাধ্যমেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে) এখনও মেডিকেল বোর্ড প্রতিবেদন দেয়নি। ফলে বৃহস্পতিবার আদালতে রিপোর্ট দাখিল হচ্ছে না।’

 

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন দাখিলের পাশপাশি আজ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার জামিন শুনানিও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ শুনানিতে স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দাখিল না করা নিয়ে হৈচৈ করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ ৬ জন বিচারক তাদের আসন থেকে উঠে যান।

 

খালেদার স্বাস্থ্যগত তথ্যের বিষয়ে আদালতের কাছে সময় চান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের কাছে প্রতিবেদন আছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কীসের প্রতিবেদন, ওটা ড্যাবের প্রতিবেদন। জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিএসএমএমইউর। গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন।’

 

এ পর্যায়ে বিএনপির আইনজীবীরা আদালতে হৈচৈ শুরু করেন। তবে মওদুদ আহমদসহ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকরা তাদের আসন থেকে উঠে যান।

খালেদার জামিন শুনানি, হট্টগোলে এজলাস ছাড়লেন বিচারকরা
                                  

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে খালেদার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দাখিল না করা নিয়ে হৈচৈ করেছেন দলটির আইনজীবীরা। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ ৬ জন বিচারক এজলাস ছেড়ে উঠে যান।

 

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বৃহত্তর আপিল বেঞ্চে শুনানিতে খালেদার স্বাস্থ্যগত তথ্যের বিষয়ে আদালতের কাছে সময় চান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের কাছে প্রতিবেদন আছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কীসের প্রতিবেদন, ওটা ড্যাবের প্রতিবেদন। জয়নুল আবেদীন বলেন, বিএসএমএমইউর।

 

জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন।’

 

এ পর্যায়ে বিএনপির আইনজীবীরা আদালতে হৈচৈ শুরু করেন। তবে মওদুদ আহমদসহ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকরা এজলাস ছেড়ে যান।

 

এর আগে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। খালেদার আইনজীবীরা অবশ্য চাচ্ছিলেন ৭ ডিসেম্বর যেন এ দিন ধার্য করা হয়।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ‌্যালয়ের চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডকে এ প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) আদালতে দাখিলের নির্দেশনা দেয়া ছিল। কিন্তু কিছু স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন প্রস্তত করলেও আরও কিছু প্রতিবেদন প্রস্তুত না হওয়াই তা আজ সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হয়নি।

খালেদার বিষয়ে জাতি উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক   

 

সারা জাতি বৃহস্পতিবার বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, উচ্চ আদালত থেকে দেশনেত্রী ন্যায়বিচার পাবেন। বেগম খালেদা জিয়া দেশের সিনিয়র সিটিজেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দুইবারের বিরোধী দলীয় নেতা ও দেশের জনপ্রিয় শীর্ষ রাজনীতিবিদ এবং গুরুতর অসুস্থ। তার জামিন পাওয়া ন্যায়সঙ্গত অধিকার। এ ধরনের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অনেকেই জামিন পেয়েছেন, সেটির নজিরও অসংখ্য রয়েছে।’

 

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

 

রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে ৬৬৫ দিন হলো অবৈধ ক্ষমতার জোরে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আইন-আদালত, ন্যায়বিচার, সংবিধান, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, বয়স, অসুস্থতাসহ সব বিবেচনায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়া আইনগত অধিকার। দেশ-বিদেশের আইনজ্ঞরা বলছেন, এই মামলায় জামিন না পাওয়া বিস্ময়কর। তিনি নিশ্চিতভাবেই জামিনের হকদার।’

 

তিনি বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশের মানুষ অব্যাহতভাবে দাবি জানাচ্ছে তার জামিনের। অথচ স্বাভাবিক এই জামিন নিয়ে কত রকমের টালবাহানা করা হচ্ছে! সরকার দলীয় লোকেরা প্রকাশ্যে হুমকি ও ঘোষণা দিয়ে জামিনে বাধা দেয়া হচ্ছে। দেশনেত্রীকে জেলে রেখে হত্যার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি করবেন। বৃহস্পতিবারের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন দিতে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ’

 

বিএনপির সিনিয়র এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘৭৫ বছর বয়সী দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের অবস্থা এতো ভয়ংকর যে, এই মুহূর্তে তাকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে জীবনহানির চরম ঝুঁকি রয়েছে। সুচিকিৎসার অভাবে তার যে ড্যামেজ হচ্ছে, সেটা আর ফিরে আসবে না। তার বাম হাত ও শরীরের বাম দিক প্রায় প্যারালাইজড হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কারও সাহায্য ছাড়া তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। তার এই গুরুতর অসুস্থতায় দেশবাসী শুধু উদ্বিগ্নই নন বরং দেশনেত্রীর জামিনে বাধা ও চিকিৎসা না দিয়ে তাকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য এটি যে সরকারের অশুভ পরিকল্পনারই অংশ, তা জনগণ বিশ্বাস করে।’

 

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রীকে নিয়ে সরকারের অশুভ ষড়যন্ত্রের আরেকটি জলজ্যান্ত প্রমাণ হলো গত ২৫ দিন ধরে তার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না। এটি জেলকোডের চরম লঙ্ঘন। এটির মাধ্যমে বিধি-বিধানকে উপেক্ষা করে প্রতিহিংসার বিধানকেই চরিতার্থ করা হচ্ছে। গত ১৩ নভেম্বরের পর থেকে আর সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। আমরা বর্তমানে তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম আশঙ্কায় দিনাতিপাত করছি।’

 

 

খালেদা জিয়ার জামিন না হলে দলের পক্ষ থেকে কী ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ‘পরে জানানো হবে।’

 

খালেদা জিয়াকে কীভাবে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে হায়াত মউত আল্লাহর হাতে, এটা কি হুমকি না? প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তারেককে বাড়াবাড়ি না করতে।’

অনিয়মের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখার সবাইকে বদলি
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক


অনিয়মের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখার কর্মচারীদের বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার মো. সাইফুর রহমান।

তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এফিডেবিট শাখার সবাইকে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।



তবে কতজনকে বদলি করা হয়েছে তার সঠিক সংখ্যা বলতে পারেননি সাইফুর রহমান।

এর আগে গতকাল (সোমবার) সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসানোর পরও চলা অনিয়ম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এক মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চে এই হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

সোমবার এক মামলা আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকার কথা থাকলেও সেটি ৮৭ নম্বর ক্রমিকে দেখা যায়। এই অনিয়মের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তখন প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কী আর করবো বলেন? এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসিয়েও অনিয়ম রুখতে পারছি না।

এসময় আপিল বেঞ্চে আরও চার বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন।

তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেকেই মামলার তালিকা উপর-নিচ করে কোটিপতি হয়ে গেছেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের অনেক আইনজীবীও আদালতে আসেন না, বেতন বেশি হওয়ার কারণে এমন হচ্ছে! বেতন কম হলে তারা ঠিকই কষ্ট করে আদালতে আসতেন।

এরপর প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক এক আদেশে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসানকে আপিল বিভাগে তলব করেন। তবে, মামলার সিরিয়াল করা নিয়ে মেহেদী হাসানের ব্যাখ্যায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। পরে ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

এফিডেভিট শাখার অনিয়ম নিয়ে হতাশ প্রধান বিচারপতি
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক


সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসানোর পরও চলা অনিয়ম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এক মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চে এই হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

সোমবার এক মামলা আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকার কথা থাকলেও সেটি ৯০ নম্বর ক্রমিকে দেখা যায়। এই অনিয়মের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।



তখন প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কী আর করবো বলেন? এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসিয়েও অনিয়ম রুখতে পারছি না।

আপিল বেঞ্চে আরও চার বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন।

তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেকেই মামলার তালিকা ওপর নিচ করে কোটিপতি হয়ে গেছেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের অনেক আইনজীবীও আদালতে আসেন না, বেতন বেশি হওয়ার কারণে এমন হচ্ছে। বেতন কম হলে তারা ঠিকই কষ্ট করে আদালতে আসতেন।

এরপর প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক এক আদেশে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসানকে আপিল বিভাগে তলব করেন। তবে, মামলার সিরিয়াল করা নিয়ে মেহেদী হাসানের ব্যাখায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। পরে ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

রাজীব-দিয়ার মৃত্যু : জাবালে নূরের চালকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক   

 

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) নিহতের ঘটনায় করা মামলায় জাবালে নূর পরিবহনের চালকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

রোববার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী এনায়েত হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়।

 

এর আগে গত ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ৪১ সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন সাক্ষ্য দেন।

 
razib

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে বাসচাপায় নিহত হন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম।

 

ঘটনার দিনই নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

 

 

 

২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। ২৫ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন দুপুরে চালক ও তাদের সহকারীরা বেশি লোক ওঠানোর লোভে যাত্রীদের কথা না শুনে এবং তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে জিল্লুর রহমান উড়াল সড়কের ঢালের সামনে রাস্তা ব্লক করে দাঁড়ান। এ সময় আরেকটি বাসের চালক মাসুম বিল্লাহ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪-১৫ শিক্ষার্থীর ওপর গাড়িটি উঠিয়ে দেন। ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত হন নয়জন।

 

 

জাবালে নূরের যে তিন বাসের রেষারেষিতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে, সেগুলোর নিবন্ধন নম্বর হলো- ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭, ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭ এবং ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৫৮০। এর মধ্যে ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের চাপায় নিহত হন দুই শিক্ষার্থী। বাসটি চালাচ্ছিলেন মাসুম বিল্লাহ।

 

ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭ নম্বর বাসের চালক ছিলেন জুবায়ের এবং ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৫৮০ নম্বর বাসের চালক ছিলেন সোহাগ।

 

 

 

মামলায় আসামি করা হয় ছয়জনকে। তাদের মধ্যে জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী এনায়েত হোসেন কারাগারে। জাবালে নূর পরিবহনের আরেক মালিক শাহাদাত হোসেন জামিনে। তার পক্ষে মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। চালকের সহকারী কাজী আসাদ এখনও পলাতক।

 

রাজীব-দিয়ার নির্মম ওই মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা শহরের প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করেন তারা। এমনকি কীভাবে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে হয় সেটিও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন তারা।

 

ওই সময় শিক্ষার্থীদের দাবির অন্যতম ছিল- বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যাকারী চালকের ফাঁসির দাবি, সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি না চলা, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করা।

 

 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ পাস হয়। পাসকৃত আইনে সড়কে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে’ প্রাণহানি ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়। এছাড়া কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 

এক বছর আগে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বাধার মুখে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। অবশেষে গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয় ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’। যদিও আইনটি পুরোপুরি কার্যকরের আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সর্ষের ভেতরে ভূত : আইএসের টুপি নিয়ে হাইকোর্ট
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিম্ন আদালতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও হলি আর্টিসান মামলায় দণ্ডিত দুই আসামির মাথায় আইএসের চিহ্ন সম্বলিত টুপি কীভাবে এল তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক মামলার শুনানির পর পত্রিকার প্রতিবেদন ও আইএস নিয়ে কাজ করা আইনজীবীর নিরপত্তার প্রসঙ্গ টেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন আদালত। হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।



এ সময় আদালতে আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, আইএসের টুপি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। পত্রপত্রিকায় আইএসের টুপি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। আমি তো আইএস ইস্যুতে কথা বলেছি। এখন তো আমি আমার (আইনজীবী জেড আই খান পান্না) নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। তখন হাইকোর্ট বলেন, মানবাধিকার কর্মীদের বুকে সাহস নিয়ে থাকতে হবে।

তখন আইনজীবী আদালতকে বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা এ বিষয়ে জানে না। অন্যদিকে কারা কর্তৃপক্ষও বলছে টুপি কারাগার থেকে আসেনি। তাহলে আই এসের টুপি দিল কে? ফেরেশতা নাকি শয়তান? তখন হাইকোর্ট বলেন, সর্ষের ভেতরে ভূত।

পরে আইনজীবী জেড আই খান পান্নার নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে (ডিএজি) হাইকোর্টের মৌখিক নির্দেশনা দেন।

দেশে ইতিহাসে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মামলার ৮ আসামির মধ্যে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি একজন মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান খালাস পেয়েছেন। বুধবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাকিবুল হাসান রিগানের মাথায় জঙ্গি সংগঠন ‘আইএসের টুপি’ দেখা যায়। রিগ্যান ছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনের মাথাও আইএসের টুপি দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্ব মহলে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কারা বেষ্টনীর মধ্যে কীভাবে আসামিদের মাথায় এ ধরনের টুপি এল?

দিয়ার আত্মা শান্তি পাবে এমন রায় চাই
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমার মেয়েকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটা দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। গাড়ি একটু স্লো করলে মেয়েকে হারাতে হতো না। তাকে হারিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে এমন রায় চাই। রায়ে যেন আমরাও শান্তি পাই।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় করা মামলার রায় রোববার ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করবেন।



রায়ের প্রত্যাশা জানতে চাইলে কাছে এমন মন্তব্য করেন মামলার বাদী নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম কালু।

তিনি বলেন, এটা সড়ক দুর্ঘটনা নয়। অদক্ষ ড্রাইভার (চালক) আমার মেয়েকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।


ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, রোববার বিকেল ৩টার দিকে রাজীব-দিয়ার মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও যুক্তি উপস্থাপনে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন প্রত্যাশা করছি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী টি এম আসাদুল হক বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন আর সর্বনিম্ন শাস্তি ১০ বছরের জেল। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আশা করছি, আসামিরা খালাস পাবেন।



এর আগে ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ৪১ সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন সাক্ষ্য দেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে বাসচাপায় নিহত হন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬)।


ঘটনার দিনই নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। ২৫ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন-দুপুরে চালক ও তাদের সহকারীরা বেশি লোক ওঠানোর লোভে যাত্রীদের কথা না শুনে এবং তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে জিল্লুর রহমান উড়াল সড়কের ঢালের সামনে রাস্তা ব্লক করে দাঁড়ান। এ সময় আরেকটি বাসের চালক মাসুম বিল্লাহ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪-১৫ শিক্ষার্থীর ওপর গাড়িটি উঠিয়ে দেন। ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত হন নয়জন।


জাবালে নূরের যে তিন বাসের রেষারেষিতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে, সেগুলোর নিবন্ধন নম্বর হলো- ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭, ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭ এবং ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৫৮০। এর মধ্যে ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের চাপায় নিহত হয় দুই শিক্ষার্থী। বাসটি চালাচ্ছিলেন মাসুম বিল্লাহ।

ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭ নম্বর বাসের চালক ছিলেন জুবায়ের এবং ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৫৮০ নম্বর বাসের চালক ছিলেন সোহাগ।



মামলায় আসামি করা হয় ছয়জনকে। তাদের মধ্যে জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী এনায়েত হোসেন কারাগারে। জাবালে নূর পরিবহনের আরেক মালিক শাহাদাত হোসেন জামিনে রয়েছেন। তার পক্ষে মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। চালকের সহকারী কাজী আসাদ এখনও পলাতক।

রাজীব-দিয়ার নির্মম ওই মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করেন তারা। এমনকি কীভাবে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে হয় সেটিও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন তারা।


ওই সময় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর অন্যতম ছিল- বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যাকারী চালকের ফাঁসির দাবি, সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি না চলা, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ পাস হয়। পাসকৃত আইনে সড়কে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে’ প্রাণহানি ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়। এছাড়া কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এক বছর আগে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বাধার মুখে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। অবশেষে গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয় ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’। যদিও আইনটি পুরোপুরি কার্যকরের আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

 

তলবে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম হাইকোর্টে
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাইকোর্টের তলবে হাজির হয়েছেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম। ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়ার পর এক ব্যক্তিকে চার মাসেও আদেশের কপি না দেয়ার ব্যাখ্যা দিতে তাকে তলব করেন হাইকোর্ট।

রোববার (১ ডিসেম্বর) নির্ধারিত দিনে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।



এর আগে গত ১৮ নভেম্বর র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমকে তলব করেন হাইকোর্ট।

সাজা দেয়ার চার মাস পরও আদেশের কপি দেয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে মো. মিজান মিয়া ১৭ নভেম্বর রিটটি করেন। এর আগে চলতি বছরের ১৮ জুলাই অভিযান চালিয়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মিজান মিয়াকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের তপু এন্টারপ্রাইজ নামের একটি পশুখাদ্য প্রস্তুতকরণ কারখানার ব্যবস্থাপক মিজান। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম সাখাওয়াত হোসেন খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

রাজীব-দিয়ার মৃত্যুর রায় বিকেলে, সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক   

 

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) নিহতের ঘটনায় করা মামলার রায় আজ রোববার (১ ডিসেম্বর) ঘোষণা করা হবে।

 

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ বিকেল ৩টার দিকে এ রায় ঘোষণা করবেন। রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষ। অপরদিকে, নিহত দিয়ার আত্মা শান্তি পাবে- এমন রায় চান তার বাবা।

 

 

 

ইতোমধ্যে রায় শোনার জন্য কারাগারে থাকা চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল ইসলাম।

 

তিনি বলেন, জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী এনায়েত হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে তাদের আদালতে উঠানো হবে।

 

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, ‘রোববার বিকেল ৩টার দিকে রাজীব-দিয়ার মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও যুক্তি উপস্থাপনে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন প্রত্যাশা করছি।’

 

রায়ের প্রত্যাশা জানতে চাইলে মামলার বাদী নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম কালু বলেন, ‘আমার মেয়েকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটা দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। গাড়ি একটু স্লো করলে মেয়েকে হারাতে হতো না। তাকে হারিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে-এমন রায় চাই। রায়ে যেন আমরাও শান্তি পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা সড়ক দুর্ঘটনা নয়। অদক্ষ ড্রাইভার (চালক) আমার মেয়েকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী টি এম আসাদুল হক বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন আর সর্বনিম্ন শাস্তি ১০ বছরের জেল। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আশা করছি, আসামিরা খালাস পাবেন।’

 

 

 

এর আগে ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ৪১ সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন সাক্ষ্য দেন।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে বাসচাপায় নিহত হন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬)।

 

ঘটনার দিনই নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

 

২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। ২৫ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন দুপুরে চালক ও তাদের সহকারীরা বেশি লোক ওঠানোর লোভে যাত্রীদের কথা না শুনে এবং তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে জিল্লুর রহমান উড়াল সড়কের ঢালের সামনে রাস্তা ব্লক করে দাঁড়ান। এসময় আরেকটি বাসের চালক মাসুম বিল্লাহ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪-১৫ শিক্ষার্থীর ওপর গাড়িটি উঠিয়ে দেন। ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত হন নয়জন।

 

জাবালে নূরের যে তিন বাসের রেষারেষিতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে, সেগুলোর নিবন্ধন নম্বর হলো-ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭, ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭ এবং ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৭৫৮০। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের চাপায় নিহত হন দুই শিক্ষার্থী। বাসটি চালাচ্ছিলেন মাসুম বিল্লাহ।

 

 

 

ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭ নম্বর বাসের চালক ছিলেন জুবায়ের এবং ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৭৫৮০ নম্বর বাসের চালক ছিলেন সোহাগ।

 

মামলায় আসামি করা হয় ছয়জনকে। তাদের মধ্যে জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী এনায়েত হোসেন কারাগারে। জাবালে নূর পরিবহনের আরেক মালিক শাহাদাত হোসেন জামিনে রয়েছেন। তার পক্ষে মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। চালকের সহকারী কাজী আসাদ এখনও পলাতক।

 

রাজীব-দিয়ার নির্মম ওই মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে তারা। এমনকি কীভাবে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে হয় সেটিও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় তারা।

 

ওইসময় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর অন্যতম ছিল-বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যাকারী চালকের ফাঁসির, সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি না চলা, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করা।

 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে জাতীয় সংসদে ‘সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮’ পাস হয়। পাসকৃত আইনে সড়কে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে’ প্রাণহানি ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়। এছাড়া কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 

গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 

 

 

এক বছর আগে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বাধার মুখে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। অবশেষে গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয় ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’। যদিও আইনটি পুরোপুরি কার্যকরের আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

 

বাসচাপায় রাজীব-দিয়ার মৃত্যু : রায় রোববার
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক   

 

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় রোববার (১ ডিসেম্বর) ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করবেন।

 

এর আগে ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।এ মামলায় ৪১ সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন সাক্ষ্য দেন।

 

 

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে বাসচাপায় নিহত হন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬)।

 

আহত হয় আরও ১০-১৫ শিক্ষার্থী। ঘটনার দিনই নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

 

২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। ২৫ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন দুপুরে চালক ও তাদের সহকারীরা বেশি লোক ওঠানোর লোভে যাত্রীদের কথা না শুনে এবং তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে জিল্লুর রহমান উড়াল সড়কের ঢালের সামনে রাস্তা ব্লক করে দাঁড়ান। এ সময় আরেকটি বাসের চালক মাসুম বিল্লাহ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪-১৫ শিক্ষার্থীর ওপর গাড়িয়ে উঠিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং নয়জন আহত হয়।

 

জাবালে নূরের যে তিন বাসের রেষারেষিতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে, সেগুলোর নিবন্ধন নম্বর হলো- ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭, ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭ এবং ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৫৮০। এর মধ্যে ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের চাপায় নিহত হয় দুই শিক্ষার্থী। বাসটি চালাচ্ছিলেন মাসুম বিল্লাহ।

 

 

 

ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭ নম্বর বাসের চালক ছিলেন জুবায়ের এবং ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৫৮০ নম্বর বাসের চালক ছিলেন সোহাগ।

 

এ মামলার ছয় আসামি। এদের মধ্যে জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী এনায়েত হোসেন কারাগারে। জাবালে নূর পরিবহনের আরেক মালিক শাহাদাত হোসেন জামিনে রয়েছেন। তার পক্ষে মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। চালকের সহকারী কাজী আসাদ এখনও পলাতক।

আদালতে মিন্নি, রিফাত হত্যার চার্জ গঠনের শুনানি ১ জানুয়ারি
                                  

বরগুনা প্রতিনিধি


বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১ জানুয়ারি।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন। চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য থাকায় এদিন সকালে বরগুনা কারাগারে থাকা আট আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। সেই সঙ্গে আদালতে হাজির হন মৃত রিফাতের স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

 

এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু বলেন, বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচ নম্বর আসামি পলাতক মুসা ব্যতীত অন্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে বাদী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করেছেন। এরপর অধিকতর শুনানি ও চার্জ গঠনের আদেশের জন্য আগামী ১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত।

তিনি আরও বলেন, আদালতে উপস্থিত আট আসামির মধ্যে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক তিন নম্বর আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত এবং নয় নম্বর আসামি মো. সাগর জামিনের আবেদন করেন। পরে আদালতে তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন।

গত ৬ নভেম্বর রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের চার্জ গঠনসহ বিচারের জন্য প্রস্তুত করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।


গত ২৬ জুন বরগুনার সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; দুই ভাগে বিভক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনো পলাতক রয়েছেন। এছাড়া নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে রয়েছেন। আর অন্যরা কারাগারে রয়েছেন।

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৩), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), হাসান (১৯), মুসা (২২), আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), সাগর (১৯) ও কামরুল ইসলাম সাইমুন (২১)।

নুসরাতের ভিডিও ছড়ানোয় ওসি মোয়াজ্জেমের ৮ বছরের কারাদণ্ড
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক   

 

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-শামস জগলুল হোসেন এ রায় ঘোষণা করবেন।এতে করে বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার প্রথম রায় ঘোষণা করা হলো।

 

এর আগে গত ২০ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-শামস জগলুল হোসেন। এ মামলায় ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

 

 

গত ১৭ জুলাই বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-শামস জগলুল হোসেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ১৭ জুন আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ২৭ মে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আসামি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

গত ১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আদালত তার জবানবন্দি নিয়ে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত।

 

চলতি বছরের গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এমন অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করেন এবং নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন।

 

মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছেন নুসরাত জাহান রাফি। সেই কান্নার ভিডিও করছেন সোনাগাজী থানার ওসি। নুসরাত তার মুখ দুই হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবার ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’

 

 

 

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা এবং তা ভিডিও করেন। পরে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ওসি মোয়াজ্জেম অত্যন্ত অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষায় নুসরাতকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন। নুসরাতের বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নও করতে শোনা যায় ওসি মোয়াজ্জেমকে।

অধ্যক্ষের নিপীড়নের ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

 

গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় গেলে মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান।

 

সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেন। নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নুসরাতের।

 

গত ২৪ অক্টোবর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির ফাঁসি ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ঘোষণা করেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ।

 

মৃত্যুদণ্ডাদেশ-প্রাপ্তরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।


   Page 1 of 36
     আদালত
সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিচারপতিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
.............................................................................................
বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে: প্রধান বিচারপতি
.............................................................................................
বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত অবমাননা করেছেন
.............................................................................................
খালেদার মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন দাখিল করেনি কর্তৃপক্ষ
.............................................................................................
খালেদার জামিন শুনানি, হট্টগোলে এজলাস ছাড়লেন বিচারকরা
.............................................................................................
খালেদার বিষয়ে জাতি উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে
.............................................................................................
অনিয়মের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখার সবাইকে বদলি
.............................................................................................
এফিডেভিট শাখার অনিয়ম নিয়ে হতাশ প্রধান বিচারপতি
.............................................................................................
রাজীব-দিয়ার মৃত্যু : জাবালে নূরের চালকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন
.............................................................................................
সর্ষের ভেতরে ভূত : আইএসের টুপি নিয়ে হাইকোর্ট
.............................................................................................
দিয়ার আত্মা শান্তি পাবে এমন রায় চাই
.............................................................................................
তলবে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম হাইকোর্টে
.............................................................................................
রাজীব-দিয়ার মৃত্যুর রায় বিকেলে, সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ
.............................................................................................
বাসচাপায় রাজীব-দিয়ার মৃত্যু : রায় রোববার
.............................................................................................
আদালতে মিন্নি, রিফাত হত্যার চার্জ গঠনের শুনানি ১ জানুয়ারি
.............................................................................................
নুসরাতের ভিডিও ছড়ানোয় ওসি মোয়াজ্জেমের ৮ বছরের কারাদণ্ড
.............................................................................................
খালেদার মেডিকেল রিপোর্ট চেয়েছেন আপিল বিভাগ
.............................................................................................
এমপি লিটন হত্যায় কাদের খানসহ ৭ জনের ফাঁসি
.............................................................................................
গ্যাটকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ৮ জানুয়ারি
.............................................................................................
জঙ্গিদের মূলোৎপাটনের চেষ্টার প্রমাণ রায়ে
.............................................................................................
পটিয়ার চার গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানি তোলা নিষেধ
.............................................................................................
আবরারের মৃত্যু : ক্ষতিপূরণ শুনানিতে পরিবারকে চান হাইকোর্ট
.............................................................................................
গণপিটুনিতে রেনু হত্যা : প্রতিবেদন ২৪ ডিসেম্বর
.............................................................................................
গ্রামীণফোনকে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ
.............................................................................................
গ্রামীণফোনের পাওনা টাকার মীমাংসা বাইরে নয় : আপিল বিভাগ
.............................................................................................
আবরার হত্যা : চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
.............................................................................................
দুদকের মামলায় সম্রাট ৬ দিনের রিমান্ডে
.............................................................................................
সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স হবে ৬০ বছর
.............................................................................................
৬৯ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন
.............................................................................................
চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদার জামিন খারিজের বিরুদ্ধে আপিল
.............................................................................................
২০০ কোটি টাকা বিটিআরসিকে দিতে রাজি গ্রামীণ ফোন
.............................................................................................
কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট
.............................................................................................
আবরার হত্যার প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়ে গেল
.............................................................................................
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ
.............................................................................................
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিতে প্রতারণা : রাজস্ব কর্মকর্তার কারাদণ্ড
.............................................................................................
দণ্ডিত শিশুদের মুক্তির আদেশের খোঁজ জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
.............................................................................................
খালেদার ৮ মামলায় অ‌ভি‌যোগ গঠন শুনা‌নি ২৯ জানুয়া‌রি
.............................................................................................
ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
.............................................................................................
ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন নুসরাতের দুই বন্ধু
.............................................................................................
দুর্নীতি মামলায় হাই কোর্টে লতিফ সিদ্দিকীর জামিন
.............................................................................................
হাইকোর্টের আদেশের পরও মুক্তি পাচ্ছে না শিশুরা
.............................................................................................
দণ্ডপ্রাপ্ত ১২১ শিশুকে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের
.............................................................................................
আজহারুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল
.............................................................................................
অশীতিপর রাবেয়া খাতুনকে মামলা থেকে অব্যাহতি : হাইকোর্ট রায়
.............................................................................................
এসকে সিনহার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৫ ডিসেম্বর
.............................................................................................
ড. ইউনূসকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
.............................................................................................
পাবলিক প্লেসে নিরাপদ মাতৃদুগ্ধ পানের ব্যবস্থা করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
.............................................................................................
মুন সিনেমা হলের রেজিস্ট্রি ১০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্নের নির্দেশ
.............................................................................................
জি কে শামীম ও খালেদের ৭ দিনের রিমান্ড
.............................................................................................
৫ দিনের রিমান্ডে পাগলা মিজান
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]