| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * গণপরিবহন চলাচলে একটি পরিকল্পনার অনুরোধ কাদেরের   * ছুটি শেষে ১৫ জুন পর্যন্ত নানা নির্দেশনায় প্রজ্ঞাপন জারি   * ইউনাইটেডের ১২ অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের ৯টিই মেয়াদোত্তীর্ণ   * গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ১৫, আক্রান্ত ২০২৯   * বৌভাত খেয়ে ফেরার পথে নৌকাডুবি, কনের বাবাসহ নিখোঁজ ৪   * খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুর রেজ্জাক খান সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত   * রাজধানীতে যেসব এলাকায় করোনা রোগী বেশি   * করোনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার মৃত্যু   * বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ৫৭ হাজার   * ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুনে মৃত ৫ জনই করোনা রোগী  

   কৃষি সংবাদ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বগুড়ায় মরিচের বাম্পার ফলন

বগুড়ায় হাসতে শুরু করেছে মরিচ চাষীরা। মরিচের মত লাল হাসিতে ভরে উঠতে শুরু করেছে চাষীদের মনও। বগুড়ায় এবারও মরিচের বাম্পার ফলন পেতে যাচ্ছি চাষীরা। কৃষি বিভাগ বলছে চলতি বছর জেলায় এবার প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি মরিচ উৎপাদন হবে। বগুড়ায় ভাল মরিচের ফলন পেতে চাষীরা রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে মরিচ। জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলায় চাষীরা সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ করে থাকে। এখন সেই চাষের পর মরিচ রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে সেসব বাজারে তুলে বিক্রি করা হবে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, অর্থকরী ফসল মরিচ চাষ করে কৃষক লাভবান হয় বলে মরিচ চাষে তারা প্রতিবছর আগ্রহ দেখায়। চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফলন পাওয়া গেছে প্রতি হেক্টরে ২.৫ মে.টন করে। সেই হিসেবে ফলন পাওয়া যাবে এবছর ১৮ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে জেলায় মরিচ চাষ হয় ৭ হাজার ৬৬৬ হেক্টর জমিতে। ফলন পাওয়া যায় প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন।

কৃষি অফিস বলছে, মরিচ চাষে প্রতি বিঘায় ফলন পাওয়া যায় ৮ থেকে ৯ মন। জমি উর্বরা হলে ১০ মন মরিচ পাওয়ার সম্ভবানা থাকে। জমি থেকে লাল মরিচ উঠে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মন। সেই মরিচ শুকিয়ে ১০ মন পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা হাজার টাকা। শুকনা মরিচ এবছর বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা মন। জেলার মরিচ চাষীদের উঠানে এখন মরিচ শুকানোর কাজ চলছে। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আহমেদ জানান, বগুড়ার সোনাতলায় এবার ১৩৬০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। ওই উপজেলার কৃষকেরা তিনটি হাইব্রিড জাতের মধ্যে সনিক, ১৭০১ ও বিজলী প্লাস এবং স্থানীয় উন্নত জাতের মরিচের ব্যাপক করেছে।

এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। মরিচের বীজ বপনের ৩০-৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং ৬০-৭০ দিনের মধ্যে কৃষক গাছ থেকে মরিচ উত্তোলন শুরু করে। এটি একটি অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। এই উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে রাক্ষুসী যমুনা ও বাঙালী নদী। তাই বন্যার পর চরাঞ্চলে এবং অন্য জমিতে পলি জমায় প্রতিবছর সেগুলো জমিতে মরিচের বাম্পার ফলন হয়। প্রতিবিঘা জমিতে ১২/১৫ মন মরিচ উৎপন্ন হয়। প্রতিমন কাচা মরিচ হাটে বাজারে ১৬শ টাকা থেকে ১৮শ টাকায় বিক্রয় করতে দেখা গেছে। আবার টোপা ও সুট মচির ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ও বালুয়া হাট সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক তাদের উৎপাদিত কাঁচা মরিচ ও শুকনা মরিচ বাজারজাত করণ করছে। সোনাতলায় উৎপন্ন মরিচ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেচা বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এবার কৃষক ভালো দাম পেয়ে নগদ অর্থ ঘরে তুলতে সক্ষম হচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা খাবুলিয়া এলাকায় সাইদুর রহমান জানান, এবার তিনি ৬/৭ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। প্রতিবছর তিনি ওই পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করেন। মরিচ চাষে লাভ ভাল হয়। এমনকি সারাবছর খাওয়া চলে। সোনাতলার পাকুল্যা এলাকার কৃষক ছলিম উদ্দিন জানান, এবার তিনি ৫/৬ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে তিনি মোটা অংকের টাকা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

ঠাকুরপাড়া এলাকার বুলু প্রামানিক জানান, এবার তিনি ৬/৭ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের মরিচ বপন করেছেন। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা মরিচ বিক্রি করেছেন। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফলন পাওয়া গেছে এখন পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে ২.৫ মে.টন করে। ফলন পাওয়ার গড় একই থাকলে জেলায় মরিচের বাম্পার ফলন হবে।

 
বগুড়ায় মরিচের বাম্পার ফলন
                                  

বগুড়ায় হাসতে শুরু করেছে মরিচ চাষীরা। মরিচের মত লাল হাসিতে ভরে উঠতে শুরু করেছে চাষীদের মনও। বগুড়ায় এবারও মরিচের বাম্পার ফলন পেতে যাচ্ছি চাষীরা। কৃষি বিভাগ বলছে চলতি বছর জেলায় এবার প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি মরিচ উৎপাদন হবে। বগুড়ায় ভাল মরিচের ফলন পেতে চাষীরা রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে মরিচ। জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলায় চাষীরা সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ করে থাকে। এখন সেই চাষের পর মরিচ রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে সেসব বাজারে তুলে বিক্রি করা হবে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, অর্থকরী ফসল মরিচ চাষ করে কৃষক লাভবান হয় বলে মরিচ চাষে তারা প্রতিবছর আগ্রহ দেখায়। চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফলন পাওয়া গেছে প্রতি হেক্টরে ২.৫ মে.টন করে। সেই হিসেবে ফলন পাওয়া যাবে এবছর ১৮ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে জেলায় মরিচ চাষ হয় ৭ হাজার ৬৬৬ হেক্টর জমিতে। ফলন পাওয়া যায় প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন।

কৃষি অফিস বলছে, মরিচ চাষে প্রতি বিঘায় ফলন পাওয়া যায় ৮ থেকে ৯ মন। জমি উর্বরা হলে ১০ মন মরিচ পাওয়ার সম্ভবানা থাকে। জমি থেকে লাল মরিচ উঠে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মন। সেই মরিচ শুকিয়ে ১০ মন পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা হাজার টাকা। শুকনা মরিচ এবছর বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা মন। জেলার মরিচ চাষীদের উঠানে এখন মরিচ শুকানোর কাজ চলছে। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আহমেদ জানান, বগুড়ার সোনাতলায় এবার ১৩৬০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। ওই উপজেলার কৃষকেরা তিনটি হাইব্রিড জাতের মধ্যে সনিক, ১৭০১ ও বিজলী প্লাস এবং স্থানীয় উন্নত জাতের মরিচের ব্যাপক করেছে।

এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। মরিচের বীজ বপনের ৩০-৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং ৬০-৭০ দিনের মধ্যে কৃষক গাছ থেকে মরিচ উত্তোলন শুরু করে। এটি একটি অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। এই উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে রাক্ষুসী যমুনা ও বাঙালী নদী। তাই বন্যার পর চরাঞ্চলে এবং অন্য জমিতে পলি জমায় প্রতিবছর সেগুলো জমিতে মরিচের বাম্পার ফলন হয়। প্রতিবিঘা জমিতে ১২/১৫ মন মরিচ উৎপন্ন হয়। প্রতিমন কাচা মরিচ হাটে বাজারে ১৬শ টাকা থেকে ১৮শ টাকায় বিক্রয় করতে দেখা গেছে। আবার টোপা ও সুট মচির ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ও বালুয়া হাট সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক তাদের উৎপাদিত কাঁচা মরিচ ও শুকনা মরিচ বাজারজাত করণ করছে। সোনাতলায় উৎপন্ন মরিচ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেচা বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এবার কৃষক ভালো দাম পেয়ে নগদ অর্থ ঘরে তুলতে সক্ষম হচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা খাবুলিয়া এলাকায় সাইদুর রহমান জানান, এবার তিনি ৬/৭ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। প্রতিবছর তিনি ওই পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করেন। মরিচ চাষে লাভ ভাল হয়। এমনকি সারাবছর খাওয়া চলে। সোনাতলার পাকুল্যা এলাকার কৃষক ছলিম উদ্দিন জানান, এবার তিনি ৫/৬ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে তিনি মোটা অংকের টাকা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

ঠাকুরপাড়া এলাকার বুলু প্রামানিক জানান, এবার তিনি ৬/৭ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের মরিচ বপন করেছেন। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা মরিচ বিক্রি করেছেন। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফলন পাওয়া গেছে এখন পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে ২.৫ মে.টন করে। ফলন পাওয়ার গড় একই থাকলে জেলায় মরিচের বাম্পার ফলন হবে।

 
পেঁয়াজের বিকল্প নিয়ে গবেষণায় সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানী
                                  

 

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

রান্নার অন্যতম উপকরণ পেঁয়াজ। ভারত এই পণ্য রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে এর ঝাঁজ (দাম) বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। তাই বলে বাঙালির রান্নায় পেঁয়াজ থাকবে না তা কেমন করে হয়। এমন অবস্থায় পেঁয়াজের বিকল্প খুঁজছিলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ‘চিভ’ নামে এক মসলার জাত চাষে সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

দীর্ঘদিন ‘চিভ’ নিয়ে গবেষণা শেষে উত্তর চীন, সাইবেরিয়া ও মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের মসলা জাতীয় বহুবর্ষজীবী ফসল চাষে এ সাফল্য পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূর আলম চৌধুরী। এ কাজে তার সহযোগী ছিলেন ড. মোস্তাক আহমেদ, ড. আলাউদ্দিন খান ও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

 

তারা উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন চিভের ওপর গবেষণা করেন। এতে তারা সফলও হয়েছেন। উদ্ভাবন করেছেন বছর জুড়েই চাষ ও ফলনের উপযোগী বারি চিভ-১ নামের একটি জাত।

পেঁয়াজ ও রসুনের স্বাদ বা গুণাগুণ থাকায় আপৎকালীন সময়ে এর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে ‘চিভ’- এমন ভাবনায় ২০১৭ সালে গবেষণা শুরু করেন বারি’র বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তারা বারি চিভ-১ নামের একটি উচ্চ ফলনশীল জাত অবমুক্ত করেছেন। এই ফসলকে ঘিরে অনেকটা পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প তৈরিতে আশার সঞ্চার হয়েছে।


বারির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূর আলম চৌধুরী জানান, পৃথিবীর অনেক দেশে চিভ সাধারণত স্যুপ, সালাদ ও চাইনিজ ডিসে ব্যবহৃত হয়। এর পাতা লিলিয়ান আকৃতির ফ্ল্যাট, কিনারা মসৃণ ও এর ভালভ লম্বা আকৃতির। চিভের স্বাদ অনেকটা পেঁয়াজ-রসুনের মতো। পণ্যটি হজমে সাহায্য ও রোগ নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণাগুণও বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান। চিভ সাধারণত দেশের পাহাড়ি এলাকা সিলেট ও চট্টগ্রামে চাষ হয়ে থাকে। এছাড়াও এখন দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা, বগুড়া ও লালমনিরহাট এলাকায় চিভ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। চিভ গাছ একবার লাগালে দীর্ঘদিন ধরে ফল পাওয়া যায়। বাড়ির আঙিনায় বা টবে এই ফসলের চাষ করা যায়।

 

এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরও জানান, বিবিএস ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী আমাদের দেশে বর্তমানে বাৎসরিক পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৭.৩৫ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদা রয়েছে ২২ লাখ মেট্রিক টন। বাকি পেঁয়াজ বিদেশ থেকে আনতে হয়। পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে চিভকে ব্যবহার করা গেলে আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে। এছাড়াও চিভের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি সারা বছর ধরেই চাষ করা যায়।

 

বারি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের চিভ-১ গাছের উচ্চতা ৩০-৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাতার দৈর্ঘ্য হয় ২৩-৩০ সেন্টিমিটার। ভাল্ভ লম্বা আকৃতির, দৈর্ঘ্য এক থেকে দেড় সেন্টিমিটার। প্রতি হেক্টরে পাতাও গাছসহ উৎপাদন হয় ১০-১২ টন। চারা লাগানোর সময় থেকে ৬৫-৭০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ শুরু হয়। বছরে ৪-৫বার ফসল সংগ্রহ করা যায়।

 

বারির মশলা ফসল বিশেষজ্ঞ গাজীপুর আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্রের (বিএআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প হিসেবে আদর্শ একটি মশলা জাতীয় ফসল চিভ। এর গুণাগুণ পেঁয়াজ-রসুনের চেয়েও বেশি। ব্যাপকভাবে চাষ করা গেলে দেশে পেঁয়াজ-রসুনের ঘাটতি চিভ দিয়েই মেটানো সম্ভব হবে।

আলু চাষে ব্যস্ত নীলফামারীর কৃষকেরা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : কৃষি নির্ভর উত্তরের জেলা নীলফামারীর প্রধান ফসল ধান, আলু ও ভুট্টা। আগাম আমন ধান ঘরে তুলতে না তুলতেই আগাম আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোমর বেঁধে নেমেছেন আলু চাষে। কৃষি বিভাগ বলছে, আগাম আলু চাষ এ অঞ্চলে লাভজনক হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের।

এক সময়ের অভাবী জনপদ হিসেবে পরিচিত নীলফামারী এখন বদলে যাওয়া এক জনপদ। কৃষি বিভাগের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও ব্যবহার, জমি এক ফসলি থেকে তিন/চার ফসলি, কৃষক ও কৃষি শ্রমিকের অক্লান্ত শ্রম আর চেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এ জনপদ। কাজের অভাবে এখন আর আশ্বিন ও কার্তিক মাসে কৃষক বা কৃষি শ্রমিকরা বেকার থাকেন না। জেলার তিন উপজেলার বেশ কিছু জমিতে আগাম আমন ধান কাটার পাশাপাশি চলছে আগাম আলু চাষ। তবে জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা আগাম আলু চাষে এগিয়ে। আগাম অলু চাষ শুরু হয়েছে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। আগাম আলু ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে বাজারে চলে আসবে। এর দামও ভালো পাওয়া যায়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আলুর বীজ রোপণে কিছুটা দেরি হলেও ভালো ফলনে আশাবাদী কৃষকেরা।

আলু উৎপাদনে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সঠিকভাবে সার ও কীটনাশকের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, তারা সুষ্ঠুভাবে যেন চাষ করতে পারে এ বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করে যাব।

এবার আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন হবে ১২ টন বলে আশা কৃষি বিভাগের।

 
আশ্বিন মাসের কৃষি
                                  

কাশফুলের শুভ্রতা, দিগন্ত জোড়া সবুজ আর সুনীল আকাশে ভেসে বেড়ানো চিলতে সাদা মেঘ আমাদের মনে করিয়ে দেয় বর্ষার শেষে আনন্দের বার্তা নিয়ে শরৎ এসেছে। সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা। বর্ষা মৌসুমের সবটুকু ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া আর চলতি মৌসুমের পুরো পাওনা আদায় করতে কার্যকরি প্রস্তুতি নেবার সময় এখন। এ প্রেক্ষিতে আসুন সংক্ষেপে জেনে নেই আশ্বিন মাসের বৃহত্তর কৃষি ভুবনের করণীয় বিষয়গুলো।

আমন ধান
আমন ধানের বয়স ৪০-৫০ দিন হলে ইউরিয়ার শেষ কিস্তি প্রয়োগ করতে হবে।
সার প্রয়োগের আগে জমির আগাছা পরিস্কার করে নিতে হবে এবং জমিতে ছিপছিপে পানি রাখতে হবে।
এ সময় বৃষ্টির অভাবে খরা দেখা দিতে পারে। সে জন্য সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। ফিতা পাইপের মাধ্যমে সম্পূরক সেচ দিলে পানির অপচয় অনেক কম হয়।
নিচু এলাকায় আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থানীয় উন্নত জাতের শাইল ধানের চারা রোপন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি গুছিতে ৫-৭টি চারা দিয়ে ঘন করে রোপন করতে হবে।
শিষ কাটা লেদা পোকা ধানের জমি আক্রমণ করতে পারে। প্রতি বর্গমিটার আমন জমিতে ২-৫টি লেদা পোকার উপস্থিতি মারাত্মক ক্ষতির পূর্বাভাস। তাই সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় মাজরা, পামরি, চুঙ্গী, গলমাছি পোকার আক্রমণ হতে পারে। এক্ষেত্রে নিয়মিত জমি পরিদর্শণ করে, জমিতে খুটি দিয়ে, আলোর ফাঁদ পেতে, হাতজাল দিয়ে পোকা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
খোলপড়া, পাতায় দাগ পরা রোগ দেখা দিতে পারে। তাছাড়া সঠিক বালাইনাশক সঠিক মাত্রায়, সঠিক নিয়মে, সঠিক সময় শেষ কৌশল হিসাবে ব্যবহার করতে হবে।


নাবি আমন রোপণ

কোন কারণে আমন সময় মতো চাষ করতে না পারলে আশ্বিনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিআর ২২, বিআর ২৩, বিনাশাইল বা স্থানীয় জাতের চারা রোপণ করা যায়।
গুছিতে ৫-৭টি চারা রোপণ করতে হবে।
অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ইউরিয়া প্রয়োগ ও অতিরিক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে কাঙ্খিত ফলন পাওয়া যায় এবং দেরির ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়।
আখ

আখের চারা উৎপাদন করার উপযুক্ত সময় এখন।
সাধারণত বীজতলা পদ্ধতি এবং পলিব্যগ পদ্ধতিতে পারা উৎপাদন করা যায়।
পলিব্যাগে চারা উৎপাদন করা হলে বীজ আখ কম লাগে এবং চারার মৃত্যুহার কম হয়।
চারা তৈরি করে বাড়ির আঙ্গিনায় সুবিধাজনক স্থানে সারি করে রেখে খড় বা শুকনো আখের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
চারার বয়স ১-২ মাস হলে মূল জমিতে রোপন করতে হবে।
কাটুই বা অন্য পোকা যেন চারার ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিনা চাষে ফসল আবাদ

মাঠ থেকে বন্যার পানি নেমে গেলে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় বিনা চাষে অনেক ফসল আবাদ করা যায়।
ভুট্টা, গম, আলু, সরিষা, মাসকালাই বা অন্যান্য ডাল ফসল, লালশাক, পালংশাক, ডাটাশাক বিনা চাষে লাভজনকভাবে অনায়াসে আবাদ করা যায়।
সঠিক পরিমান বীজ, সামান্য পরিমান সার এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে লাভ হবে অনেক।
যেসব জমিতে উফশী বোরো ধানের চাষ করা হয় সেসব জমিতে স্বল্প মেয়াদি টরি-৭ ও কল্যাণী জাতের সরিষা চাষ করতে পারেন।
শাক-সবজি

আগাম শীতের সবজি উৎপাদনের জন্য উঁচু জয়গা কুপিয়ে পরিমাণ মতো জৈব ও রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া প্রয়োগ করে শাক উৎপাদন করা যায়।
শাকের মধ্যে মুলা, লালশাক, পালংশাক, চিনা শাক, সরিষা শাক অনায়াসে করা যায়।
সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, টমেটো, বেগুন, ব্রকলি বা সবুজ ফুলকপিসহ অন্যান্য শীতকালীন সবজির চারা তৈরি করে মূল জমিতে বিশেষ যতেœ আবাদ করা যায়।
কলা

অন্যান্য সময়ের থেকে আশ্বিন মাসে কলার চারা রোপণ করা সবচেয়ে বেশি লাভজনক। এতে ১০-১১ মাসে কলার ছড়া কাটা যায়।
ভাল উৎস বা বিশ্বসস্ত চাষি ভাইয়ের কাছ থেকে কলার অসি চারা সংগ্রহ করে রোপণ করতে হবে।
কলার চারা রোপণের জন্য ২-২.৫ মিটার দূরত্বে ৬০ সেমি. চওড়া এবং ৬০ সেমি গভীর গর্ত করে রোপণ করতে হবে।
গর্তপ্রতি ৫-৭ কেজি গোবর, ১২৫ গ্রাম করে ইউরিয়, টিএসপি ও এওপি সার এবং ৫ গ্রাম বরিক এসিড ভালভাবে মিশিয়ে৫-৭ দিন পর অসি চারা রোপণ করতে হবে।
কলা বাগানে সাথি ফসল হিসেবে ধান, গম, ভুট্টা ছাড়া যে কোন রবি ফসল চাষ করা যায়।
গাছপালা

বর্ষায় রোপণ করা চারা কোনো কারণে মরে গেলে সেখানে নতুন চারা রোপণের উদ্যোগ নিতে হবে।
রোপণ করা চারার যত্ন নিতে হবে এখন। যেমন- বড় হয়ে যাওয়া চারার সঙ্গে বাঁধা খুঁটি সরিয়ে দিতে হবে এবং চারার চারদিকের বেড়া প্রয়োজনে সরিয়ে বড় করে দিতে হবে। মরা বা রোগাক্রান্ত ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে।
চারা গাছসহ অন্যান্য গাছে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় এখন।
গাছের গোড়ার মাটি ভালো করে কুপিয়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। দুপুর বেলা গাছের ছায়া যতটুকু স্থানে পড়ে ঠিক ততটুকু স্থান কোপাতে হবে। পরে কোপানো স্থানে জৈব ও রাসায়নিক সার ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে।
প্রাণিসম্পদ

হাঁস-মুরগির কলেরা, ককসিডিয়া, রাণীক্ষেত রোগের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রাথমিকভাবে টিকা প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রাণি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক।
এ মাসে হাঁস-মুরগির বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে পারেন। বাচ্চা ফুটানোর জন্য অতিরিক্ত ডিম দেবেন না। তাছাড়া ডিম ফুটানো মুরগির জন্য অতিরিক্ত বিশেষ খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
আশ্বিন মাসে গবাদিপশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো দরকার।
গবাদি পশুকে খোলা জায়গায় না রেখে রাতে ঘরের ভিতরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
পানিতে জন্মানো পশু খাদ্য এককভাবে না খাইয়ে শুকিয়ে খরের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
এ সময় ভুট্টা, মাসকলাই, খেসারি বুনো ঘাস উৎপাদন করে গবাদিপশুকে খাওয়াতে পারেন।
গর্ভবতী গাভীকে, সদ্য ভূূমিষ্ঠ বাছুর ও দুধালো গাভীর বিশেষ যতœ নিতে হবে।
এ সময় গবাদি প্রাণির মড়ক দেখা দিকে পারে। তাই গবাদিপশুকে তড়কা, গলাফুলা, ওলান ফুলা রোগের জন্য প্রতিষেধক, প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চত করতে হবে।
মৎস্যসম্পদ

বর্ষায় পুকুরে জন্মানো আগাছা পরিস্কার করতে হবে এবং পুকুরের পাড় ভালো করে বেধে দিতে হবে।
পুকুরের মাছকে নিয়মিত পুষ্টিকর সম্পুরক খাবার সরবরাহ করতে হবে।
এ সময় পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে।
তাছাড়া পুকুরে জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রোগ সারাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ।
এ সময় সরকারি ও বেসরকারি মাছের খামার থেকে জিওল মাছের পোনা সংগ্রহ করে পুকুরে ছাড়ার ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, আশ্বিন মাসে সারা দেশ জুড়ে ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু হয়। আমন ধান রক্ষাসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতির মাত্রা কমানোর জন্য এ অভিযান চলে। এককভাবে বা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় ইঁদুর দমন করলে কোন লাভ হবে না। ইঁদুর দমন কাজটি করতে হবে দেশের সকল মানুষকে একসাথে মিলে এবং ইঁদুর দমনের সকল পদ্ধতি ব্যবহার করে। ইঁদুর নিধনের ক্ষেত্রে যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় সেগুলো হলো- পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চাষাবাদ, গর্তে ধোঁয়া দেয়া, ফাঁদ পাতা, উপকারী প্রাণী যেমন- পেঁচা, গুইসাপ, বিড়াল দ্বারা ইঁদুর দমন, বিষটোপ এবং গ্যাস বড়ি ব্যবহার করা। আসুন সবাই একসাথে ইঁদুর দমন করি। কৃষির যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার নিকটস্থ উপজেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা ১৬১২৩ এ নম্বরে যে কোনো মোবাইল অপারেটর থেকে কল করে নিতে পারেন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা কৃষিকে নিয়ে যাবে উন্নতির শিখরে।


কৃষিবিদ মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন
তথ্য অফিসার (কৃষি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫

নওগাঁয় আমের ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগান ব্যবসায়ীরা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ল্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত, মল্লিকা, নাগ ফজলি শেষে নওগাঁর বরেন্দ্রর হাটে উঠতে শুরু করেছে আম্রপলি জাতের সুস্বাদু আম। মৌসুমের মাঝামাঝি সব জাতের আম গাছ থেকে নামানোর পর এক সাথে হাটে তোলায় কেনা বেচায় জমজমাট আড়ৎগুলো। গেল দু বছর আম বেচাকেনায় নানা কারণে লোকসান দিলেও এবার অনেকটা দ্বিগুণ দর পাওয়ায় দারুণ খুশি বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। বরেন্দ্রর সুমিষ্ট আম বিদেশের রপ্তানির সুযোগ চায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা। আর কৃষি বিভাগ বলছে, বিদেশে রপ্তানি উপযোগী আম উৎপাদনে কাজ করছে তারা।

জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকার বাগান থেকে পঞ্চম ধাপের আম নামানো হচ্ছে। ল্যাংড়া, খিরসাপাত, নাগ ফজলি মল্লিকা শেষে সব শেষ গাছ খেকে সুমিষ্ট জাতের আম আম্রপলি গাছ থেকে নামানোর পর হাটে তোলা হচ্ছে । মৌসুমের মাঝামাঝিতে পরিপক্ব আম এক সাথে হাটে তোলায় কেনাবেচায় জমজমাট আড়ৎগুলো। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এসব আম কিনতে ভিড় করছেন জেলার সাপাহার আমের হাটে। এবার অনেকটা দ্বিগুণ দরে আম বিক্রি করতে পারায় বাড়তি লাভের আশা করছেন বাগান মালিকরা।

জেলার আড়ৎগুলোতে আম্রপালি ২৩শ থেকে ২৪শ টাকা, ল্যাংড়া ২২শ থেকে ২৩শ টাকা এবং মল্লিকা ও স্থানীয় জাতের আম ১৪শ থেকে ১৬শ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

নওগাঁর সাপাহারের আম ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি কার্তিক চন্দ্র সাহা বলেন, এখন আমের দাম মণে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি। বর্তমানে এখানে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসেছে।

বরেন্দ্র’র সুস্বাদু জাতের আম বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সরকারের সহায়তা চান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

নওগাঁর সাপাহারের উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আলী বলেন, এটা আমরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করতে পারলে আমরা একটা ভালো ফলাফল পাব বলে মনে করি।

পোরশা উপজেলার চেয়ারম্যান মো. মুনজুর মোরশেদ বলেন, আমাদের হিমসাগর ও খিরসাপাত যেভাবে জিআইএ সার্টিফিকেট পেয়েছে সেভাবে যাতে আমাদের ল্যাংড়া আমটাও সার্টিফিকেট পায় সেই ব্যবস্থা করার জন্য আমি তাদের দৃষ্টি কামনা করছি।

বিদেশে রপ্তানি উপযোগী নিরাপদ ও গুণগত মানের আম উৎপাদনে কৃষি বিভাগ বাগান মালিকদের সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

নওগাঁর পোরশা উপজেলার কৃষি অফিসার মো. মাহফুজ আলম বলেন, কৃষি বিভাগের কৃষকরা যেই পরিচর্যা করেছে তাতে কৃষকরা খুশি, কৃষি বিভাগ খুশি এবং দেশবাসী নিরাপদ আম খেতে পারছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার ১৯ হাজার হেক্টর জমির আম বাগান থেকে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা।

বরগুনায় কাঁকড়া চাষ প্রসার লাভ করছে
                                  

অনলাইন ডেস্ক : জেলার মৎস্য চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে কাঁকড়া চাষে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন। গত ১৫ বছরে এ অঞ্চলে কাঁকড়ার চাষ প্রসার লাভ করেছে। জেলার প্রায় দেড় হাজার কাঁকড়া ঘেরে কয়েক হাজার মৎস্য চাষির জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। অনুকূল পরিবেশের কারণে দিনদিন কাঁকড়া চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট চাষি ও মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছে। শুরুর দিকে বরগুনা জেলার আমতলী, পাথরঘাটা, তালতলী উপজেলায় বেশীরভাগ কাঁকড়া ঘের গড়ে উঠলেও বামনা, বেতাগী ও বরগুনা সদরের মৎস্য চাষিরাও আগ্রহভরে কাঁকড়া চাষ শুরু করেছেন।

আমতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়ায় মনির গাজীর বড় সাইজের ডোবা সাদৃশ্য পুকুরটির চারপাশ বাশেঁর চাটাই ও মশারীর জাল দিয়ে ঘেরা। মাঝ বরাবর চাটাইয়ের বেড়া ও মশারীর জাল পুকুর দুইভাগে ভাগ করেছে। এ এলাকায় সাধারণত মাছ চাষের জলাশয়ে এত সুরক্ষা দেখা যায় না। সবুজ নামের এক কর্মী পুকুরে নেমে হাতরিয়ে বড় বড় সাইজের কাঁকড়াতুলে আনছে। ঐ যুবকটি জানাল এখানে ছোট ছোট কাঁকড়া পরিচর্যা করে বড় করা হয়। কাঁকড়া জন্য খুব বেশী পরিচর্যা দরকার পড়েনা। নিয়মিত খাবার দিলেই চলে। তবে পুকুরপাড়ে শক্ত ও ভাল বেড়ার দরকার পড়ে। না হলে কাঁকড়াগুলো হেটে হেটেই চলে যাবে। এখানকার কাঁকড়া খুলনা ও বাগেরহাটে চালান করা হয়।

ঘেরের পাশেই মনির গাজী’র তার মাছের আড়ত। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে গত ১৫ বছর ধরে তিনি গলদা ও বাগদা চিংড়িসহ বিভিন্ন সাদা মাছের আড়তদারী করছেন। স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে কাঁকড়া কিনে তা খুলনা, বাগেরহাট এলাকায় চালান করতেন। জেলেদের জালে ধরা কাঁকড়াগুলো আড়তে আসতে আসতেই দুর্বল হয়ে পড়ত। কাঁকড়াগুলোকে খুলনা পাঠানোর সময়ে অর্ধেকই মারা পড়ত। সেসময় থেকেই মনির ভাবতে শুরু করলেন কীভাবে তরতাজা কাঁকড়া চালানে পাঠানো যায়। সে ভাবনা থেকেই গত বছর তিনি কাঁকড়া নাসিং শুরু করেন। মনির জানালেন, ‘চালানে পাঠালে এখনও কাঁকড়া মারা পড়ে। তবে খুবই কম পরিমানে।’ মনির গাজীর সাফল্য দেখে ঐ এলাকার শতাধিক উদ্যোগী মানুষ কাঁকড়া চাষ শুরু করেছেন।

আমতলী উপজেলার মৎস্য দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জগদিশ চন্দ্র বসু জানিয়েছেন, ‘উপকূলীয় এলাকা হিসেবে বরগুনাতে কাঁকড়া মোটাতাজা করণ ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। ভার্দ্র থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত জেলেদের জালে প্রচুর কাঁকড়ার বাচ্চা ধরা পড়ে এবং অহেতুক মারা পড়ে। সেগুলোকে মোটতাজাকরণের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন সম্ভব। জেলা মৎস্য বিভাগ কাঁকড়া চাষে উদ্যোগীদের প্রশিক্ষণসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

জেলার পাথরঘাটায় কয়েক বছর আগে প্রায় তিন একর জায়গা ইজারা নিয়ে কাঁকড়ার ঘের করেছিলেন বরিশালের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ করে ঘেরে তা বড় করা হয়। বাজার থেকে ছোট ও গুড়া মাছ কিনে কাঁকড়াকে খাওয়ানো হয়। ৪১ দিন পড়ে ঐ কাঁকড়াগুলো প্রায় ৭শ থেকে ৮শ গ্রাম ওজনের হয়। বারমাস চলে কাঁকড়ার ব্যবসা। প্রতি দেড় মাসে ৫০ হাজার টাকা মূলধনে ১ লাখের বেশী টাকা আসে বলে তিনি জানান।

উন্নত পদ্ধতিতে কাঁকড়ার চাষ ও মোটাতাজাকরণে পাথরঘাটায় এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক প্রশিক্ষিত চাষি রয়েছেন। যাদের আয়ের উৎসই এখন কাঁকড়া চাষ। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে এ চাষিদের কারিগরী সহযোগিতা করছে সংগ্রাম নামের একটি স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।

চাষিরা বলছেন, মৎস্য আহরণ ও ধান চাষের চেয়ে বেশি লাভবান হওয়াতে কাঁকড়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন তারা। সাধারণ শক্ত খোলসযুক্ত ও নরম খোলসযুক্ত এ দুই ধরনের কাঁকড়া রফতানি করা হয়। রফতানিকরা কাঁকড়ার ৯৫ ভাগ হলো শক্ত খোলসযুক্ত। পাথরঘাটার বিভিন্ন ছোট ছোট খাল, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে আহরণকারীরা আহরণ করে চাষিদের কাছে বিক্রি করে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আহরণকারীরা নদী-নালায় ছোট ছোট কাঁকড়া আহরণ করছেন। খামারে বাচ্চা কাঁকড়া বড় করা এবং খোলস পাল্টানো কাঁকড়া ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক কাঁকড়ার বিক্রয়যোগ্য আকার পর্যন্ত মোটাতাজাকরণ করা হয়।

পাথরঘাটার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল জানান, কৃষি চাষের বিকল্প কাঁকড়া চাষ। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের কোনো আইনগত বাধা নেই। চাষি যেটাকে লাভবান মনে করবে সেটিই করতে পারবে।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরদার মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, কাঁকড়া চাষ লাভজনক। সরকারিভাবে আমরা কিছু সংখ্যক কাঁকড়া চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমরা সব সময় তাদের পরমার্শ দিচ্ছি। অনেকেই কাঁকড়া চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। বাসস

গম চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি হিলির চাষিরা
                                  

আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি পোঁকা মাকড়ের প্রকোপ না থাকায় দিনাজপুরের হিলিতে গম চাষে প্রত্যাশামতো ফলন পেয়েছেন চাষিরা।

উপজেলায় বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণ গম উৎপাদন হওয়ায় বেশ খুশি কৃষক। এতে আবাদ খরচ উঠে আসার পাশাপাশি আগামী মৌসুমের জন্য উন্নতমানের বীজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন তারা। স্থানীয় কৃষি অফিস বলছে, চলতি বছর শুধু হিলিতেই দেড়শো হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে কয়েক জাতের গম।

যশোরের গদখালিতে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালিতে জমে ওঠেছে ফুলের বেচাকেনা।এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এ বাজারে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম। সামনের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বসন্ত উৎসব ও ভ্যালেনটাইন দিবস উপলক্ষে ফুল বেচা-কেনায় ব্যস্ত ফুল চাষি ও ক্রেতারা। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারি ফুল ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন গদখালিতে।সারা বছর ফুলচাষিরা ফুল বিক্রি করলেও তাদের মূল লক্ষ্য থাকে ফেব্রুয়ারি মাসের তিনটি উৎসব। এছাড়া বাংলা নববর্ষেও ফুলের জমজমাট বেচাকেনা হয়ে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গদখালি ও পানিসার এলাকায় সাড়ে ৬ হাজারের বেশি কৃষক বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন রজনীগন্ধ্যা, গোলাপ, রডস্টিক, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, জিপসি, কেলেনডোলা, চন্দ্রমল্লিকাসহ ১২ ধরনের ফুল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৩ উপজেলায় ফুল চাষ হয়ে থাকে।এ জেলায় মোট ৬৪৬ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলায় ফুল চাষ হয়েছে ৬৩৫ হেক্টর জমিতে। ঝিকরগাছায় ফুল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৮শ’ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে বলে জানান ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম ।এ উপজেলার গদখালি, পানিসারা, হাড়িয়া, নীলকন্ঠ নগর, চাওরা, কৃষ্ণচন্দ্রপুর, চাঁদপুর, বাইশা, পাটুয়াপাড়া, নারানজালি গ্রামসহ প্রায় ৫০টি গ্রামে ফুল চাষ হয়ে থাকে। এছাড়া শার্শা উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে এবং কেশবপুর উপজেলায় ফুল চাষ হয়েছে ১ হেক্টরের সামান্য বেশি জমিতে।
পানিসারা গ্রামের ফুলচাষি হারুন-অর-রশিদ ও আবু মুসা জানান, তারা প্রত্যেকে এক একরের বেশি জমিতে ফুল চাষ করেছেন। ফুলের উৎপাদনও ভালো হয়েছে।ইংরেজি নববর্ষসহ সামনের তিনটি উৎসবে তারা সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি করে থাকেন।গদখালি বাজারের ফুলের পাইকারি ব্যবসায়ী আবু সাইদ জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই ফুলের বাজার দর বেশ ভালো। চলতি মাসে সামনের তিন উৎসবের আগে ফুলের দাম আরো বাড়বে। ফলে চাষিরা লাভবান হবে বলে তিনি জানান। এ বাজারের ফুলের আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী শেখ আহমেদ বাসসকে বলেন, তিনি প্রতিদিন ঢাকা ও চট্রগ্রামে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ফুল পাইকারি বিক্রি করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর দাস বাসসকে জানান,এ উপজেলার গদখালি, পানিসারা, নাভারন ও মাগুরা ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হয়ে থাকে।এ চারটি ইউনিয়নের সাড়ে ৬ হাজারের বেশি ফুল চাষি ফুল চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন।এ বছর উপজেলায় ৬৩৫ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে। ফুলের চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রদর্শনীসহ ফুলচাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে। বাসস

সীমান্ত এলাকায় গম চাষে নিষেধাজ্ঞা
                                  


অনলাইন ডেস্ক
ভারতে আগামী দুই বছর বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গম চাষ করা যাবে না বলে জানিয়েছে সে দেশের কৃষি দপ্তর। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে গমের ফসলে হুইট ব্লাস্ট নামের একটি ছত্রাক রোগ ছড়িয়ে পড়ার পরে কৃষি বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ওই রোগ ভারতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত অঞ্চলের যেসব এলাকায় এবছর গম চাষ করেছিলেন, তা ইতিমধ্যেই জ্বালিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় পরের দুবছর যাতে কেউ গম চাষ না করেন, তার জন্য এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রচার।
পশ্চিমবঙ্গের দুটি জেলা - নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদের ওপরে কৃষি দপ্তরের বিশেষ নজর দিচ্ছে - কারণ সেখান থেকেই ভারতে রোগ ছড়ানোর সবথেকে বেশী সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ ও সীমান্তবর্তী এলাকা হরিহরপাড়ার জন প্রতিনিধি মোশারফ হোসেন জানান, "গত মরসুমে শুধু আমাদের মুর্শিদাবাদ জেলাতেই প্রায় ৪৮০ হেক্টর জমিতে বোনা গম এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
প্রথমে ব্রাজিলে গমের ফলনে এই ছত্রাক রোগ দেখা যায় - তারপরে সেটি দক্ষিণ আমেরিকার নানা দেশেও ছড়ায়। এটা এশিয়ার এই অঞ্চলের রোগ নয়। তবে বাংলাদেশও সম্প্রতি ওই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যৌথ গবেষণা কেন্দ্র চালু
                                  

অনলাইন ডেস্ক : এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি যৌথ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র চালু হয়েছে। 

চীন-দক্ষিণ এশিয়ার এক্সপো কর্তৃপক্ষের একটি ওয়েব পোস্ট অনুযায়ী দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই যৌথ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি কৃষিখাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবনে যৌথভাবে কাজ করবে।
গত ১২ থেকে ১৮ জুন কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়া কমিউনিটি এক্সপো এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ফেয়ার (এসএসএসিইআইএফ) -এ ইউনান প্রদেশের ভাইস-গভর্নর ঝাং ঝুলিন এ কথা জানান।
ইউনান একাডেমি অফ এগ্রিকালচার সায়েন্স এবং জিয়াংসু একাডেমি এগ্রিকালচার সায়েন্স সেন্টারটি প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
এ সময় ভাইস-গভর্নর ঝাং বলেন, ইউনান দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলবায়ু ও পরিবেশের অংশ, তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।বাসস

দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলার ধানে `ব্লাস্টের সংক্রমণ`
                                  

অনলাইন ডেস্ক : গমের পর এবার দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও যশোরে ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ছত্রাক নাশক ছিটিয়েও রোধ করা যাচ্ছে না ব্লাস্টের সংক্রমণ। ভয়াবহ এ রোগের সংক্রমণ যাতে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ কৃষি বিজ্ঞানীদের।

আর কদিন পরেই শুরু হবে বোরো ধান মাড়াই মৌসুম। সবুজ বর্ণ ফিকে হয়ে সোনালী বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে মাঠের ধান। পাকা ধানে গোলা ভরার স্বপ্নে কৃষক যখন বিভোর ঠিক তখনি দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ জেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ। ছত্রাকজনিত এ রোগের আক্রমণে ধানের শীষ সাদা ও পাতা ধূসর বর্ণ ধারণ করছে। শুকিয়ে চিটায় পরিণত হচ্ছে ধান।

খুলনা, চুয়াডাঙ্গা সাতক্ষীরা নড়াইল বাগেরহাট ও যশোর জেলায় এ বছর ধানে ব্লাস্টের সংক্রমণ ঘটেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, পাঁচ জেলার ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ১১শ` হেক্টর জমির ধান। শেষ সময়ে এসে ধানে ব্লাস্টের সংক্রমণ দেখা দেয়ায় দিশেহারা কৃষকেরা।

গমের পর প্রধান খাদ্যশস্য ধানে ব্লাস্টের সংক্রমণ ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে সর্তক করেছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, `যখন শীষে আক্রমণ হয় তখন ছত্রাক নাশক দিয়ে কোন উপকার হয় না। সম্মিলিত একটা প্রয়াস এবং জরুরি ব্যবস্থা নেয়া উচিত এই ব্লাস্ট প্রতিরোধে। কারণ এটা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।`

২০১৬ সালে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গাসহ ৮ জেলার ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণে গমের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ঐ এলাকার ৮০-৯০ শতাংশ গমের আবাদ কমে যায়। এমন অবস্থায় ঐ অঞ্চলে ব্লাস্ট সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি কৃষকের। সূত্র: সময় টিভি

হালদায় ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মাছ
                                  

অনলাইন ডেস্ক : চট্টগ্রামের হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা-মাছ ডিম ছেড়েছে। এক বছরের বিরতিতে পুনরায় ডিম সংগ্রহ করতে পেরে আনন্দিত হালদা তীরের মৎস্যজীবীরা।

আজ শনিবার সকালে হালদা নদীর গবেষক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া জানান, হালদা একমাত্র নদী যেখান থেকে প্রাকৃতিকভাবে মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। তবে দূষণসহ মানবসৃষ্ট কিছু কারণে গত বছর ডিম সংগ্রহ করা যায়নি।
স্থানীয় লোকজন এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৭০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি জানান।

সংগ্রহ করা এসব ডিম থেকে ১১ কোটির বেশি রেণু উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চার দিন বয়স হলে এসব রেণু বেচাকেনার হাট বসবে হালদার তীরে।

এবার ধানে ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণ
                                  

এশিয়া বাণী ডেস্ক : এবার ধানে দেখা দিয়েছে ব্লাস্ট রোগ। এতে দিশেহারা যশোর, চুয়াডাঙ্গাসহ আশেপাশের কয়েক জেলার কৃষকরা। ধান কাটার আগ মুহুর্তে শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে এ অঞ্চলের চাষীরা। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এ রোগে আক্রান্ত হলে ক্ষতি প্রায় শতভাগ। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে সহায়তার আশ্বাস তাদের।

কৃষকরা জানান, বেশ হৃষ্টপুষ্টই ছিলো ক্ষেতের ধানগাছ। তাই আশা ছিলো, বাম্পার ফলনের। কিন্তু হঠাৎই ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে, সব স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ তাদের।

ব্লাস্ট একটি ছত্রাক জনিত রোগ। তাপমাত্রার তারতম্য ও বাতাসে আর্দ্রতা বাড়লে, দেখা দেয় এ রোগের প্রকোপ। প্রথমে ধানের শীষে আক্রমণ করে জীবানু। ফলে, উপরিভাগে পৌঁছায় না কোনো খাদ্য। এতে, ধানের বদলে দেখা দেয় চিটা। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ব্লাস্ট রোগে ক্ষতির সম্ভাবনা শতভাগ।

এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে, শুধু আশ্বাস নয়; সহায়তার অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা চান, কৃষকরা।

ভোলায় যে কারণে অসময়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরমুজ
                                  

ভোলায় তরমুজের ভালো ফলন হলেও টানা বৃষ্টি আর প্রবল জোয়ারে অধিকাংশ ক্ষেতের তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। লক্ষ্য ছাড়িয়ে তরমুজের আবাদ হওয়ায় শুরুতে খুশি থাকলেও ক্ষেতে পানি জমে নষ্ট হয়ে যায় তরমুজ।

ভোলায় এ বছর লক্ষমাত্রার চেয়ে অনেক বেশী তরমুজের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে লক্ষমাত্রা ছিল ১০ হাজার পাঁচশ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ১২ হাজার পাঁচশ হেক্টরে। তবে ফসল ঘরে তোলার ১০/১৫ দিন আগে টানা বৃষ্টি আর প্রবল জোয়ারে অধিকাংশ অপরিপক্ক তরমুজে পঁচন ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।

বৃষ্টির কারণে জেলার প্রায় ৪০ ভাগ ক্ষেতের তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন তরমুজের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।


কিশোরগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো আবাদ
                                  

ডেস্ক রিপাের্ট : কিশোরগঞ্জের ভৈরবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চারটি ইউনিয়নে বোরো আবাদ ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষি কর্মকর্তা জানান, ভৈরবের ৭টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ২শ ৩৫ হেক্টর ইরি ও বোরে ধানের আবাদ হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মেঘনা, কালি ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৩শ ৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকটা বাধ্য হয়ে কৃষকরা আধাপাকা ধান কেটে ঘরে আনলেও বেশির ভাগই চিটা। এতে ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

   Page 1 of 1
     কৃষি সংবাদ
বগুড়ায় মরিচের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
পেঁয়াজের বিকল্প নিয়ে গবেষণায় সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানী
.............................................................................................
আলু চাষে ব্যস্ত নীলফামারীর কৃষকেরা
.............................................................................................
আশ্বিন মাসের কৃষি
.............................................................................................
নওগাঁয় আমের ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগান ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
বরগুনায় কাঁকড়া চাষ প্রসার লাভ করছে
.............................................................................................
গম চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি হিলির চাষিরা
.............................................................................................
যশোরের গদখালিতে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা
.............................................................................................
সীমান্ত এলাকায় গম চাষে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যৌথ গবেষণা কেন্দ্র চালু
.............................................................................................
দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলার ধানে `ব্লাস্টের সংক্রমণ`
.............................................................................................
হালদায় ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মাছ
.............................................................................................
এবার ধানে ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণ
.............................................................................................
ভোলায় যে কারণে অসময়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরমুজ
.............................................................................................
কিশোরগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো আবাদ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD