| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * রুম্পা হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল স্টামফোর্ড   * প্রধান বিচারপতির প্রস্তাব ভালো লেগেছে প্রধানমন্ত্রীর   * ভালোই আছেন খালেদা জিয়া, ভুগছেন শুধু গিরার ব্যথায়   * খালেদার মুক্তির দাবিতে রোববার বিক্ষোভ করবে বিএনপি   * মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন সেই অগ্নিদগ্ধ ধর্ষিতা তরুণী   * বাগদাদে বিক্ষোভে অস্ত্রধারীদের হামলায় পুলিশসহ নিহত ১৯   * সিঙ্গাপুরের ৪০ শীর্ষ ধনীর তালিকায় বাংলাদেশি আজিজ   * আবারও আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ   * পাকিস্তানের গর্বে আঘাত হেনেছে অস্ট্রেলিয়া!   * কোহলি ঝড়ে রেকর্ডগড়া জয় ভারতের  

   অন্যান্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বয়স্ক শিক্ষায় পিছিয়ে বাংলাদেশের নারীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক

বয়স্ক সাক্ষরতার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে বাংলাদেশের অগ্রগতি হলেও পুরুষের চেয়ে নারীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

৬০ বছরের বেশি বয়সী ৫৮ শতাংশ শহুরে ও ৪০ শতাংশ গ্রামীণ পুরুষ সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন, যেখানে মাত্র ২৪ শতাংশ শহুরে ও ১২ শতাংশ গ্রামীণ নারী সাক্ষর জ্ঞান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বয়স্ক শিক্ষা নিয়ে ইউনেস্কোর চতুর্থ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে গ্রাম ও শহরে লিঙ্গভিত্তিক সাক্ষরতার হার তুলে ধরা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

তবে নতুন প্রজন্মের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে সাক্ষরতার বৈষম্য মোচনে সফল হয়েছে বাংলাদেশ। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের মধ্যে সাক্ষরতার হার শহরে ৮০ শতাংশ ও গ্রামে ৭৪ শতাংশ, যেখানে একই বয়সী মেয়েদের মধ্যে এই হার যথাক্রমে ৮৩ শতাংশ ও ৮১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষাই প্রধান হলেও প্রায় এক তৃতীয়াংশ দেশে পাঁচ শতাংশেরও কম ১৫ বছর বা তার চেয়ে বয়সীরা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়।

বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠী শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, যাদের মধ্যে প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্ক, বৃদ্ধ, শরণার্থী ও অভিবাসী এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্যরা রয়েছেন।
গ্রামে যথাযথভাবে বয়স্ক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে এশিয়ায় গণশিক্ষা কেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এসব শিক্ষাকেন্দ্রের (সিএলসি) সংখ্যা, যেগুলোতে সাক্ষরতা, দক্ষতা ও নানা কারিগরি প্রশিক্ষণে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

তবে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে হলে বয়স্ক শিক্ষায় অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে ইউনেস্কো।

বয়স্ক শিক্ষায় সবার সুযোগ ও সুবিধা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগসহ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বয়স্ক শিক্ষায় পিছিয়ে বাংলাদেশের নারীরা
                                  


নিজস্ব প্রতিবেদক

বয়স্ক সাক্ষরতার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে বাংলাদেশের অগ্রগতি হলেও পুরুষের চেয়ে নারীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

৬০ বছরের বেশি বয়সী ৫৮ শতাংশ শহুরে ও ৪০ শতাংশ গ্রামীণ পুরুষ সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন, যেখানে মাত্র ২৪ শতাংশ শহুরে ও ১২ শতাংশ গ্রামীণ নারী সাক্ষর জ্ঞান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বয়স্ক শিক্ষা নিয়ে ইউনেস্কোর চতুর্থ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে গ্রাম ও শহরে লিঙ্গভিত্তিক সাক্ষরতার হার তুলে ধরা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

তবে নতুন প্রজন্মের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে সাক্ষরতার বৈষম্য মোচনে সফল হয়েছে বাংলাদেশ। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের মধ্যে সাক্ষরতার হার শহরে ৮০ শতাংশ ও গ্রামে ৭৪ শতাংশ, যেখানে একই বয়সী মেয়েদের মধ্যে এই হার যথাক্রমে ৮৩ শতাংশ ও ৮১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষাই প্রধান হলেও প্রায় এক তৃতীয়াংশ দেশে পাঁচ শতাংশেরও কম ১৫ বছর বা তার চেয়ে বয়সীরা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়।

বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠী শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, যাদের মধ্যে প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্ক, বৃদ্ধ, শরণার্থী ও অভিবাসী এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্যরা রয়েছেন।
গ্রামে যথাযথভাবে বয়স্ক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে এশিয়ায় গণশিক্ষা কেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এসব শিক্ষাকেন্দ্রের (সিএলসি) সংখ্যা, যেগুলোতে সাক্ষরতা, দক্ষতা ও নানা কারিগরি প্রশিক্ষণে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

তবে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে হলে বয়স্ক শিক্ষায় অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে ইউনেস্কো।

বয়স্ক শিক্ষায় সবার সুযোগ ও সুবিধা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগসহ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিয়ে করেছেন গুলতেকিন
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিয়ে করেছেন গুলতেকিন খান। সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমদকে বিয়ে করেন তিনি। নতুন এই দম্পতির পরিবারসূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সম্প্রতি ঢাকাতেই ছোট পরিসরে গুলতেকিন-আফতাবের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমদের কবি এবং লেখক হিসেবে পরিচিতি রয়েছে।

Swapno offer
প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন খান। গুলতেকিনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ সালে। ২০০৩ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আফতাব আহমদ আগে বিয়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। আফতাব আহমদ অভিনেত্রী আয়েশা আখতারের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন।
প্রিয়জনদের সঙ্গে আফতাব–গুলতেকিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
প্রিয়জনদের সঙ্গে আফতাব–গুলতেকিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
আফতাব আহমদের সঙ্গে গুলতেকিনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। গেল ২ আগস্ট আফতাব আহমদের জন্মদিনে গুলতেকিন নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি কবিতা পোস্ট করেন—


তোমার জন্যে মাত্রা বৃত্তে
গুলতেকিন খান
(আফতাব আহমেদ, জন্মদিনে, তোমাকে...)

তোমার জন্যে মাত্রা বৃত্তে লিখবো বলে যখন ভাবি
ছিপের তিন মাল্লা মিলে হারিয়ে ফেলে নাকের ছবি
যখন ভাবি তোমায় নিয়ে উঠবো গিয়ে নতুন তীরে
শ্যাওলা জলে নোলক খুঁজে পানকৌড়ি যায় না ফিরে।

এমন একটা ছন্দ পেতাম তোমায় নিয়ে মুখ ঢাকা যায়
বৈঠা হেনে ছিপটি টেনে হয়ে গেছি আজ অসহায়
ঝড়ে ডোবার জাহাজ তুমি নও যে সেটা সবাই জানে
তোমার কিছু যায় আসে না মানে কিংবা অসম্মানে।

তোমার জন্যে মাত্রা বৃত্তে লিখবো বলে ভাবতে থাকি
নাগর দোলায় একটু সময়, আর কিছুটা থাকুক বাকি।

 
‘বুলবুল’র শঙ্কা কাটিয়ে সৈকতে পর্যটকরা
                                  

কক্সবাজার প্রতিনিধি        

 

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব মুক্ত হয়েছে দেশ। সোমবার সকালে তুলে নেয়া হয়েছে সব সতর্ক সংকেত। এরপর ঝলমলে রোদে আবারও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি।

 

বৈরি আবহাওয়ায় পর্যটকরা তিনদিন হোটেলে বন্দি সময় পার করলেও সোমবার সকাল থেকে সৈকতে ভিড় জমাচ্ছেন তারা। কয়েকদিনের আতঙ্ক কাটিয়ে স্থানীয়রাও যোগ দিয়েছেন তাদের সঙ্গে।

 

এদিকে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে আনন্দ যেন বিষাদে রূপ না নেয় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে দুর্ঘটনা রোধে তৎপর আছেন লাইফগার্ড কর্মীরা।

 

এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তিনদিন সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া পর্যটকরাও সোমবার তীরে ফিরেছেন। সংকেত নামিয়ে ফেলার পর পরই সকাল সাড়ে নয়টায় এলসিটি কুতুবদিয়া ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনিং সেন্টমার্টিন গিয়ে তাদের নিয়ে বিকেলেই টেকনাফে ফিরে আসে। পর্যটকদের নিরাপদে রেখে টেকনাফে পৌঁছে দিতে পেরে শুকরিয়া জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ।

 

পুরুষদের পাশাপাশি নরীরাও ভিড় করছেন সৈকতে

কেয়ারী ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনিং এবং কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, কোনো যাত্রী ছাড়াই সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে জাহাজ দুটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এরপর গত বৃহস্পতিবার থেকে আটকে পড়া প্রায় ১২শ’ পর্যটককে নিয়ে বিকেলে সেগুলো আবার টেকনাফ ফিরে আসে।

 

কক্সবাজার সৈকতে বিপদাপন্ন পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করা ‘সী সেইফ লাইফগার্ডের’ সুপারভাইজার মো. ওসমান গনি জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবলের প্রভাবে শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টির পাশাপাশি সাগর খুবই উত্তাল ছিল। সে সময় বেড়াতে আসা সিংহভাগ পর্যটক হোটেল রুমে, লবিতে বসে অলস সময় পার করলেও কিছু তরুণ পর্যটক ভয় উপেক্ষা করে সাগরে নেমেছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমে সংকেত উঠে যাওয়ায় এখন সব বয়সের পর্যটকরা সৈকতে নামছেন। নিজের মতো গোসল, হৈ হল্লুড় করে আনন্দ করছেন।

 

তিনি আরও জানান, অনেক পর্যটক আনন্দে মেতে ঢেউয়ের খেই হারিয়ে ভেসে যান। এমন পরিস্থিতি এড়াতে লাইফগার্ডকর্মীরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। যারা একটু বিপৎসীমা অতিক্রম করছেন তাদের কাছে গিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হচ্ছে।

 

ঢাকার বনশ্রী থেকে স্ব-পরিবারে আসা আবীর ইসলাম বলেন, এসেছি শনিবার। তখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রুমেই বন্দি থাকতে হয়েচিল। এখন আকাশ পরিষ্কার। তাই সবাই মিলে ঢেউয়ের ছোঁয়ায় আনন্দ করছি।

 

 

কলাতলীর হোটেল হোয়াইট অর্কিডের মহা-ব্যবস্থাপক (জিএম) রিয়াদ ইফতেখার বলেন, অক্টোবরের শুরু থেকে পর্যটন মৌসুম চলছে। ছুটিরদিন ছাড়াও পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে কমবেশি। সব হোটেলেই কোলাহল রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) থেকে শনিবার (৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত পর্যন্ত ভোগান্তিতে ছিলেন পর্যটকসহ স্থানীয়রা। কিন্তু এখন পরিষ্কার আকাশে পর্যটক ও স্থানীয় ভ্রমণ পিপাসুরা সাগরের সান্নিধ্য নিচ্ছেন।

 

পর্যটকদের ভেসে যাওয়া রোধে তৎপর লাইফগার্ড কর্মীরা

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, যে কোনো ধরনের দুর্যোগ এড়াতে প্রস্তুতি ছিল আমাদের। বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি থেকে আল্লাহ কক্সবাজারবাসীকে রক্ষা করেছেন। এখন সতর্কতা সংকেতও নেই। তাই স্থানীয়দের মতো পর্যটকরাও নির্বিঘ্নে আনন্দ উপভোগ করছেন।

 

তিনি বলেন, পর্যটকদের যে কোনো ধরনের হয়রানি এড়াতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টহলে আছেন। প্রতিটি হোটেলে ম্যাজিস্ট্রেটের নম্বর দেয়া আছে। কোনো ধরনের হয়রানি হলে ফোনে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ নজর রেখে মাঠে রয়েছে পুলিশ। পর্যটন এলাকায় ট্যুরিষ্ট পুলিশের পাশাপাশি আমাদেরও দৃষ্টি রয়েছে।

 
জরুরি অবস্থায় পৌঁছেছে জলবায়ু সঙ্কট
                                  

নিউজ ডেস্ক

 

নতুন একটি গবেষণা বলছে, বিশ্বে জলবায়ু সঙ্কট জরুরি অবস্থায় পৌঁছেছে। গবেষণাটি সমর্থন করেছেন বিশ্বের ১৫৩টি দেশের প্রায় ১১ হাজার বিজ্ঞানী।

 

 

বুধবার (৬ নভেম্বর) এমন তথ্যই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

 

গত ৪০ বছরের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে চালানো ওই গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ। মানুষ যে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়া তা মোকাবিলা সম্ভব নয়।

 

গবেষকরা জানান, পরিবেশ যে হুমকির মুখে আছে, সেই বিষয়ে সতর্ক করা তাদের নৈতিক কর্তব্য।

 

স্যাটেলাইট ডাটা অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে, নতুন গবেষণাটি বলছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় যে বিপর্যয় ঘটবে, তা বুঝতে শুধু বিশ্বের উপরিভাগের তাপমাত্রা পরিমাপ করাই পর্যাপ্ত নয়।

 

তাই গবেষকরা গত ৪০ বছরের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দীর্ঘসময়ের জলবায়ু পরিবর্তনের নির্দেশকগুলো গ্রাফের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন।

 

জনসংখ্যা ও প্রাণীদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার, মাংস উৎপাদন, বিশ্বজুড়ে মাংস উৎপাদনের পরিমাণ, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহার করা হয়।

 

সম্প্রতি বেশকিছু অগ্রগতি হয়েছে। যেমন- নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি যুগে বায়ু ও সৌর শক্তির ব্যবহার ৩৭৩ ভাগ করে বাড়ছে। তারপরও এটি জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ থেকে ২৮ গুণ কম।

 

নির্দেশক অনুযায়ী জলবায়ু সঙ্কট জরুরি অবস্থায় পৌঁছেছে।

 

গবেষণা প্রবন্ধটির প্রধান লেখক ইউনিভার্সিটি অব সিডনির প্রফেসর ড. থমাস নিউসাম বলেন, জরুরি অবস্থার মানে হলো, আমরা যদি এখনই কার্বন নিঃসরণ, খামারে পশু উৎপাদনের হার, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার না কমাই, তাহলে আমাদের ধারণার চেয়ে প্রকট রূপ ধারণ করবে এই সঙ্কট।

 

আগেই বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এমন সতর্কবার্তাগুলো নতুন গবেষণাটিতে থাকলেও তা অন্যগুলো থেকে আলাদা। এতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই সঙ্কট কতোটা তীব্র এবং বিষয়টি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের জনগণ ও সরকারের উদ্যোগ কতোটা অপর্যাপ্ত।

 

গবেষণায় ছয়টি ক্ষেত্র দেখানো হয়েছে, যেখানে জরুরি পদক্ষেপ নিলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

 

জ্বালানি ব্যবহার: রাজনীতিবিদদের উচিত কার্বন ফি বেশি নির্ধারণ করা, যেন জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমে। জীবাশ্ম জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করতে হবে।

 

দূষক কমানো: মিথেন, হাইড্রোফ্লুরোকার্বন- এধরনের দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাওয়া দূষকগুলোর ব্যবহার কমালে আগামী কয়েক যুগের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমে যাবে।

 

প্রকৃতি সংরক্ষণ: বনগুলো রক্ষা করতে হবে। নতুন বনায়ন জরুরি। তাহলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

 

খাদ্যাভ্যাস: খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। প্রাণীজাত খাবার খাওয়া কমিয়ে উদ্ভিদজাত খাবার খেতে হবে। একইসঙ্গে খাবার অপচয় কমাতে হবে।

 

অর্থনীতি: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে ছুটে উৎপাদন বাড়ানোর হার থামাতে হবে।

 

জনসংখ্যা: বিশ্বের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ শিশুর জন্ম হয়।

 

১৫৩টি দেশের প্রায় ১১ হাজার গবেষক-বিজ্ঞানী এই গবেষণাটি সমর্থন করেছেন। সমর্থনদাতাদের সই রয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে।

 

ড. নিউসাম বলেন, কার্বন নিঃসরণ করে, তাপমাত্রা বাড়িয়ে আমরা যে গত ৪০ বছর ধরে জলবায়ু বিপর্যয় ডেকে এনেছি, এটা উপলব্ধি করতে বড়সড় বিজ্ঞানী হতে হয় না।

 

এ পর্যন্ত অসংখ্য জলবায়ু সম্মেলন হলেও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে সবাই। একারণে গবেষকরা বিরক্ত। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা জলবায়ু আন্দোলন নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন তারা। কারণ মানুষের মধ্যে জলবায়ু সচেতনতা বাড়ছে।

 

বিশ্বজুড়ে মানুষের জন্মহার কিছুটা কমেছে- এটি একটি আশার কথা হলেও বিপর্যয় মোকাবিলায় এনিয়েও কাজ করতে হবে বলে জানান গবেষকরা।

চীনের এই গ্রামে সবাই কোটিপতি
                                  

নিউজ ডেস্ক

আধুনিক জীবনযাপনের সব রকম সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন গ্রামটি দেখলে মনে হয় কাঁচা রাস্তা, মাটির বাড়ি আর ফসলের ক্ষেতে ভরা। কিন্তু দেখে যাই মনে হোক না কেন গ্রামটির প্রত্যেকটি মানুষ কোটিপতি। স্থাপত্য আর নির্মাণশৈলীও অসাধারণ। কেননা এমন গ্রামেই রয়েছে ৭২তলা ভবন।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের ঝিয়াংসু প্রদেশে অবস্থিত এই গ্রামের নাম হুয়াক্সি। যেটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গ্রাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে হুয়াক্সি নয় গ্রামটি আসলে দেশটিতে ‘সুপার ভিলেজ’ নামেই সমধিক পরিচিত।



গ্রামটির গোড়াপত্তন ঘটে ১৯৬১ সালে। অন্যা গ্রামের মতোই তখন সেখানে ক্ষেত-খামার, কাঁচা বাড়িঘর, কদর্মাক্ত রাস্তাঘাট ছিল। কিন্তু চীনে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সম্পাদক উ রেনবাওয়ের প্রচেষ্টায় গ্রামটি আধুনিক রূপ পায়। তখন হুয়াক্সিকে সামজিক (সোশ্যালিস্ট) গ্রামে ডাকা হতো।


আজ গ্রামটি শুধু আধুনিকই হয়নি, এর প্রত্যেক বাসিন্দা এখন প্রচুর সম্পদের মালিক। একদিন যিনি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, আজ তিনিও কোটিপতি। এই গ্রামে যিনি সর্বনিম্ন সম্পদের মালিক তারও সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ১০ লাখ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা সোয়া কোটি টাকার সমান।

গ্রামটির বাসিন্দা মোটে দুই হাজার। স্থানীয় প্রশাসন গ্রামের প্রত্যেক বাসিন্দাকে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি এবং জীবনযাপনের সব রকম সুবিধা দিয়ে থাকে। সুবিধাটি পেতে সেখানকার মানুষকে ব্যক্তিগত কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না। তবে সবাই এই সুবিধা নেন না। যারা অলস তারাই এটি নিয়ে থাকেন।


গ্রামটিতে ৭২ তলার ভবন, বিলাসবহুল শপিং মলসহ আছে অত্যাধুনিক সব থিম পার্ক। বড় বড় বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এসবের মালিক সকল গ্রামবাসী। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বার্ষিক লাভের এক-পঞ্চমাংশ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্টন করে দেয়।


গ্রামটিতে চোখে পড়ার মতো ব্যাপার হলো, প্রতিটি ঘরের স্থাপত্যের ধরন, আকার আর নকশার মধ্যে কোনো পার্থক্যই নেই। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, ছোট ছোট হাজারো হোটেল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে চাইলে যেকোনো জরুরি মুহূর্তে কোনো ফি ছাড়া হেলিকপ্টার সুবিধাও পাওয়া যায়।

তবে চীনের এই কোটিপতিদের গ্রামের একটা বিষয়ে বেশ কড়াকড়ি। যদি কেউ গ্রাম ছেড়ে একবার চলে যায় তাহলে তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দেয় প্রশাসন। এছাড়া জুয়া আর মাদক এখানে নিষিদ্ধ। সপ্তাহের প্রতিটি দিন নিজ নিজ কাজ করতে হয় সবাইকে। সাপ্তাহিক ছুটি বলে এখানে কিছু নেই।

 
সন্তান প্রসবের সময় কুকুরকে পুড়িয়ে হত্যা
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


বাড়িতে ঢুকে উৎপাত করত। সেই অপরাধে সন্তান প্রসবের সময় একটি কুকুরের শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে মায়ের পেট থেকে বেরিয়েই তিনটি কুকুরছানা জীবন্ত অবস্থায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। সে সময় ওই মা কুকুরের পেটে আরও একটি বাচ্চা ছিল।

দগ্ধ হয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে কুকুরটি। খবর পেয়ে পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা গিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু, তাকে আর বাঁচানো যায়নি। এমন অমানবিক ঘটনা ঘটেছে ভারতের বর্ধমানের গোদা এলাকার খন্দকার পাড়ায়।

মঙ্গলবার স্থানীয় পশুপ্রেমী সংগঠনের তরফ থেকে এ বিষয়ে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বর্ধমান পশু হাসপাতালে কুকুরটির ময়নাতদন্তও করা হয়েছে। এই ঘটনায় আসিয়া বিবি নামে এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পরেই এলাকা থেকে পালিয়েছেন ওই নারী।

প্রসবের সময়ে কুকুর ও তার সদ্যোজাত সন্তানদের এভাবে জীবন্ত দগ্ধ করার ঘটনা কোনও মানুষ ঘটাতে পারে এমনটা ভাবাই যায় না। স্থানীয় পশু প্রেমী সংগঠনের তরফ থেকে অর্ণব দাস পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই এলাকার বাসিন্দাদের মাধ্যমেই এই নৃশংস ঘটনার খবর পান তিনি। গত রোববার বিকেলে আসিয়া বিবি নামের এক নারী গর্ভবতী কুকুরটির গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

পরে খবর পেয়ে পশুপ্রেমী সংগঠনের কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন তিনটি কুকুর ছানা পুড়ে গেছে। আর মা কুকুরটি দগ্ধ অবস্থায় ছটফট করছে। তারা চিকিৎসা শুরু করলেও কুকুরটিকে বাঁচনো যায়নি। সোমবার বিকেলে কুকুরটি মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার মৃত কুকুরটিকে নিয়ে থানায় যান তারা। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।

 
কেন ট্রেড ইউনিয়ন চান না মালিকরা?
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা, মালিকপক্ষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং শ্রমিক শ্রেণীর কল্যাণে আইন স্বীকৃত সংগঠনই হলো ট্রেড ইউনিয়ন। দেশে প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কারখানাগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন থাকা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।


শ্রমিক নেতারা বলছেন, সাভারের রানা প্লাজা ধসের আগে বাংলাদেশের প্রধান শিল্প পোশাক খাতে ট্রেড ইউনিয়নের ধারা খুবই কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে গুটি কয়েক পোশাক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন হলেও অজানা কারণে বেশ কয়েকটি কারখানার মালিক এর বিপক্ষে। এসব পোশাক করাখানাগুলোতে মালিকদের জন্যই ট্রেড ইউনিয়ন হচ্ছে না।

শ্রম অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সব খাতে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৩১৫টি ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন করা হয়েছে। যার মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২০৮ টি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৯২ টি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩০২ টি ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন করা হয়।

জানা গেছে, শ্রমিকেরা তৈরি পোশাক কারখানায় ইউনিয়ন করার কারণে বরখাস্ত হওয়াসহ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। অসৎ শ্রম আচরণ, ব্যবস্থাপনা ও ভাড়াটে গুণ্ডাদের হাতে মৌখিক বা শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।

সম্প্রতি ট্রেড ইউনিয়নের কারণে আশুলিয়ার দুটি কারখানায় চাকরি হারানো পোশাক শ্রমিকেরা বলেন, মালিকরা চান না তাদের কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা হোক। কারণ ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে শ্রমিকদের যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে চালাতে পারবেন না। শ্রমিকদের বাৎসরিক ছুটিসহ নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না। আর এটি থাকলে কারখানা ট্রেড ইউনিয়নে যে আইন আছে সে অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। শ্রমিকদের কোনো সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না।আশুলিয়ার ইউফোরিয়া নামে একটি পোশাক কারখানার ফটকের সামেন ছাঁটাই শ্রমিকদের ছবি টানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: বাংলানিউজ তবে অভিযোগ আছে খোদ ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়েও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনেক শ্রমিক নেতাই ব্যক্তিস্বার্থে মালিকপক্ষের হয়ে কাজ করেন। এজন্য ইউনিয়নগুলোকে দাঁড় করানো সম্ভব হয় না।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাকশ্রমিক বলেন, আমাদের কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে। তবে তারা মালিকদেরই কথা শোনে, শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার কথা ভাবে না। এর মধ্য শ্রমিকরা কারখানায় আরেকটি ট্রেড ইউনিয়ন করার কথা ভাবলে শ্রমিক প্রতিনিধি ও শ্রম অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মালিকের সঙ্গে সমঝোতা করে ট্রেড ইউনিয়নটির আবেদন বাতিল করে দিয়েছে। পাশাপাশি একসঙ্গে ৯৬ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করে দেয়।এদিকে কারখানায় ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার প্রতিষ্ঠা নিয়ে বেশিরভাগ মালিকের মধ্যেই অনীহা কাজ করে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

তারা বলেন, পাট শিল্প ধ্বংসের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন দায়ী ছিল বলে অজুহাত দেন মালিকরা। যদিও বাস্তবে শিল্প টেকসই করতে ট্রেড ইউনিয়নের প্রয়োজন রয়েছে। তবে মালিকরা প্রভাব খাটিয়ে এ বিষয়টিকে দমিয়ে রাখতে চান। এ কারণে শিল্প টেকসই হয় না।

‘মালিকপক্ষ এখন পর্যন্ত এ মানসিকতা থেকে বের হতে পারেননি। ট্রেড ইউনিয়নের তৎপরতা দেখলেই ছাঁটাইসহ নানা কৌশল ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে আবেদন বাতিল করা হয়।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, একটি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে শ্রমিক-মালিক উভয়পক্ষই লাভবান হয়। মালিকের উৎপাদন বাড়ে আর শ্রমিক ন্যায়সংগত অধিকার পায়। এক কথায়, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা হয়। যে কারখানায় বেসিক ইউনিয়ন থাকে সেখানে বিশৃঙ্খলা-অসন্তোষ হয় না।

‘কিন্তু বর্তমানে পোশাক কারখানার মালিকরা ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করতে চান না। বিভিন্ন কৌশলে কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে বাধা দেন মালিকরা। সেই সঙ্গে যে শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে চায়, তাদের চিহ্নিত করে ছাঁটাই করা হয়। মূলত মালিকরা ভাবেন, ট্রেড ইউনিয়ন করলে তাদের মুনাফা কমে যাবে, কারখানায় অসন্তোষ হবে, কারখানা নিজের মতো থাকবে না ইত্যাদি। এটি একদমই ভুল ধারণা।’

তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে কারখানা ভালোভাবে চলে শ্রমিকরা-মালিকের অধিকার আদায় হয়, কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি হয়।

এদিকে, ট্রেড ইউনিয়ন না করার কারণ হিসেবে কারখানার মালিক ও কর্মকর্তারা জানান, কারখানার শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন করেন না। মূলত ট্রেড ইউনিয়ন করে বাইরের শ্রমিক নেতারা। যদি কোনো কারখানায় শ্রমিকরা নিজ উদ্যোগে ট্রেড ইউনিয়ন চায়, কারখানার মালিকের এখানে কিছুই বলার থাকবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারখানার কর্মকর্তা বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন কারখানার শ্রমিকরা কেউ করে না। মূলত শ্রমিকরা জানেই না ট্রেড ইউনিয়ন কী? এখানে কিছু শ্রমিক নেতা তাদের স্বার্থ লাভের জন্য শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রম অধিদপ্তরের কারখানার ট্রেড ইউনিয়নের জন্য আবেদন করে। শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন করা মানে তাদের কাছে জিম্মি হয়ে যাওয়া। বিষয়টি মূলত শ্রমিক নেতাদের হাতে রিমোট দিয়ে কারখানার ভেতরে বোমা রাখার মতো। তখন শ্রমিক নেতারা যা দাবি করবে সেটাই মানতে হবে। শুধু শ্রমিক নেতাদের পকেট ভরবে, অথচ শ্রমিকরা কোনো সুযোগ সুবিধা পাবে না।

তিনি বলেন, কিছু অসাধু শ্রমিক নেতারা ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে ব্যবসা করছে। এখন কিছু কিছু শ্রমিক নেতা আছে যারা ট্রেড ইউনিয়নের জন্য আবেদন করে না। তারা আবেদন করে টাকা ইনকামের জন্য। ট্রেড ইউনিয়ন আমরাও চাই, কিন্তু সেটাতে যেন শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা পায়, শ্রমিকরা যেন সঠিক অধিকার পায়।

বিষয়টি নিয়ে নাবা নিটওয়্যার লিমিটেডের মালিক এনায়েত উদ্দিন মোহাম্মদ কায়সার খান বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন হলে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। শ্রমিকরা যদি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ট্রেড ইউনিয়ন করতো, কোনো ঝামেলা ছিলো না। গত একবছরে আমাকে না জানিয়ে শ্রমিক নেতারা দু’বার ট্রেড ইউনিয়নের নাম করে টাকা নিয়েছে কারখানা থেকে।

‘আবার সবাই মিলে ট্রেড ইউনিয়ন বাদও দিয়েছে। এটি শ্রমিক নেতাদের বর্তমান ব্যবসা। তারা শ্রমিকদের বিক্রি করে টাকা কামাচ্ছ। এই ট্রেড ইউনিয়ন কেলেঙ্কারির সঙ্গে শুধু শ্রমিক নেতারা জড়িত না, এখানে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও জড়িত। শ্রম মন্ত্রণালয় ও ট্রেড ইউনিয়নের লোকজন মিলে হুমকি দেয় কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য। তখন কিছু টাকা দিলে ছয় মাস তারা চুপচাপ থাকে।’

এই চক্রের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শ্রমিক, শ্রমিক নেতা ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের লোকজন যদি ট্রেড ইউনিয়ন করতে চায়, করুক। এতে যদি কারখানা চালাতে পারি চালাবো নয় তো বন্ধ করে দেবো।

এদিকে কোনো কারখানার ২০ শতাংশ শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন করতে রাজি হলেই সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা হবে বলে জনিয়েছেন শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক শেখ বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, কেবলমাত্র শ্রমিকরা চাইলেই ট্রেড ইউনিয়ন গঠন সম্ভব।

‘তারা ট্রেড ইউনিয়নে সমর্থন দিলে মালিকরা এখানে কিছু করতে পারবেন না। অনেক সময় শ্রমিকদের হয়ে শ্রমিক নেতারা ট্রেড ইউনিয়নের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনে যদি কোনো কারচুপির চিহ্ন পাওয়া যায়, তাহলে আমরা সেই আবেদন বাতিল করে দেই।’

তিনি বলেন, কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে দুর্নীতির যথাযথ প্রমাণ নিয়ে কেউ অভিযোগ দিলে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 
আয়েশামণি কার কাছে যাবে?
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত আয়েশা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মা-বাবা ফেলে চলে গেছেন। গত বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া আয়েশাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। স্বজন না থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আয়েশার দায়িত্ব নেয়। ভর্তির পর থেকে আয়েশার ঠিকানা হাসপাতালের শিশু বিভাগের ২০৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯ নম্বর বেড।

চলতি বছরের জুলাই থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই আয়েশার পাশে দাঁড়িয়েছে নিবেদন নামের একটি অলাভজনক সংস্থা। আয়েশাকে দেখাশোনা ও পুনর্বাসনের জন্য কাজ করছে সংস্থাটি। মূলত ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে পরিচিতজনদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন সহায়তা দিয়েই কাজ করছে সংস্থাটি।


নিবেদনের বিভিন্ন কাগজপত্রে আয়েশার আনুমানিক জন্ম সাল ২০১০। সম্প্রতি হাসপাতালটির ২০৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকের টেবিলের পাশেই আয়েশার বিছানা। সে তার পুতুলটি ওই টেবিলের ওপর রেখেই খেলছে। একজন নারী চিকিৎসক আয়েশাকে হাতের চুড়ি আর একটি চশমা কিনে দিয়েছেন। কিন্তু আয়েশার এখন একটি মুঠোফোন লাগবে। কানের কাছে হাত নিয়ে তা সে দেখাতেও পারে। আয়েশা কথা বলতে পারে না। হাঁটতে পারে না। তবে সে অন্যের কথা বুঝতে পারে। সে অনুযায়ী প্রশ্নের উত্তর দেওয়ারও চেষ্টা করে।

হাসপাতালে পুতুলখেলায় ব্যস্ত আয়েশা। ছবি: মানসুরা হোসাইন
হাসপাতালে পুতুলখেলায় ব্যস্ত আয়েশা। ছবি: মানসুরা হোসাইন
নিবেদনের পক্ষে লাইজু বেগম সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত আয়েশার পাশে থাকেন। লাইজু বেগমকেই আয়েশা মা ডাকে। আর নিবেদনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শুভ মজুমদারকে আয়েশা বাবা ডাকে। শুভ মজুমদারের কাছেই আয়েশার যত বায়না। তাঁকেই জানাল যে তার একটি মুঠোফোন লাগবে। এ ছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এমনকি ওয়ার্ডের অন্য রোগীর স্বজনেরাও আয়েশার দেখভাল করেন। এভাবেই দিন কাটছে আয়েশার।

তবে নিবেদনের সভাপতি মারজানা সাফাত বললেন, হাসপাতালে বিভিন্ন জীবাণু ও রোগীদের মধ্যে একটি শিশু বড় হতে পারে না। আয়েশা বড় হচ্ছে। ফলে তার নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখতে হবে। বর্তমানে রাজধানীর চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার নামের একটি বেসরকারি সংস্থা আয়শাকে নিতে চাইছে। এ জন্য আদালতের অনুমতি লাগবে। সেই অনুমতি পাওয়ার জন্য একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক বরাবর আবেদনও করা হয়েছে বিষয়টি জানিয়ে।

চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার নামের প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন সমাদ্দার জানালেন, তাঁরা আয়েশাকে নিতে চাইছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে অসহায় প্রবীণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি পাঁচজন প্রতিবন্ধী শিশু আছে। তাই আয়েশার কোনো অযত্ন হবে না। এখন আদালতের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

আয়েশার পাশে দাঁড়িয়েছে ‘নিবেদন’ নামের একটি সংস্থা। ছবি: মানসুরা হোসাইন
আয়েশার পাশে দাঁড়িয়েছে ‘নিবেদন’ নামের একটি সংস্থা। ছবি: মানসুরা হোসাইন
মারজানা জানালেন, আয়েশার সঙ্গেই পরী নামের এক বছর দুই মাসের এক প্রতিবন্ধী শিশু ছিল। এই শিশুকেও তার মা-বাবা হাসপাতালে ফেলে চলে গিয়েছিলেন। তাকেও লাইজু বেগম দেখভাল করতেন। তবে সম্প্রতি আদালতের অনুমতিতে শিশুটির স্থান হয়েছে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনে।

মারজানা বললেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন সিট স্বল্পতাসহ বিভিন্ন কারণে আয়েশাকে নিতে পারছে না। আয়েশাকে নিতে এখন পর্যন্ত তার মা-বাবা বা স্বজন কেউ আসেননি। আসবেন কি না, তা জানেন না কেউ। বিভিন্ন জায়গায় আয়েশার ছবি সাঁটিয়ে তার স্বজনের খোঁজ করা হয়েছে। তাই আয়েশাকে কেউ নেবে কি না, তা অজানাই রয়ে গেছে।

 
লিভার দিয়ে নাতির জীবনদান
                                  

নিউজ ডেস্ক

ছোট বাচ্চাদের প্রায়ই আদর করে ‘কলিজার টুকরা’ শব্দ দু’টি উচ্চারণ করি আমরা। ভারতে সেটিই প্রমাণ করলেন এক নানী।


দেশটির রায়পুরে ৯ মাসের নাতি পিযুষকে নিজের যকৃৎ দান করে দিলেন শিশুটির নানী। ঘটনাটি প্রচণ্ড নাড়া দিয়েছে সবাইকে।

জন্মের সময় জন্ডিস নিয়েই পৃথিবীতে আসে ছোট্ট পিযুষ কুন্ডু। এরপর অনেক চিকিৎসা করা হলেও ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে শিশুটির যকৃৎ। চিকিৎসকরা বলেই দেন, শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব শুধু লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট (যকৃৎ স্থানান্তর) করা হলেই।

রায়পুরের স্থানীয় বাসিন্দা দীপা কুন্ডু ছেলেকে নিয়ে এরপর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের হাসপাতালে যোগাযোগ শুরু করেন যকৃৎ পুনঃস্থাপনের। প্রথমত পাওয়া যাচ্ছিল না, দ্বিতীয়ত শিশুটির সাথে ম্যাচ করেনি কারও যকৃৎ।

ধীরে ধীরে প্রাণপ্রদ্বীপ স্তিমিত হয়ে আসছিল ছোট্ট পিযুষের। শিশুটির বাবা-মা শেষপর্যন্ত হাল ছেড়ে দিলেও এগিয়ে আসে নানী লক্ষী সরকার। পিযুষের সাথে ম্যাচ হয়ে যায় তার যকৃৎ। স্বেচ্ছায় পিযুষকে যকৃৎ দান করতে চান ৪৫ বছর বয়সী লক্ষী।

এরপরও অনিশ্চিতই থাকে পিযুষের জীবন। অপারেশনের ১৫ লাখ রুপি সংগ্রহ করতে পারেন না তার বাবা-মা। এগিয়ে আসেন চিকিৎসকরা। ওর অপারেশনের জন্য সাহায্য চাওয়া হয় সবার কাছে।

অবশেষে গত ১০ সেপ্টম্বের মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে অপারেশন হয় পিযুষের। ওর ওজন মাত্র সাড়ে পাঁচ কেজি হওয়ায় ভয় পেয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তবে ছোট্ট পিযুশ ভালোভাবেই সাড়া দেয় বেঁচে থাকার। তার নানীর মাত্র ৩০ শতাংশ যকৃৎ এর টুকরা নিয়ে বেঁচে যায় পিযুষ। হাসপাতাল থেকে শুক্রবার (১ নভেম্বর) সুস্থদেহে বাড়ি ফেরে লক্ষী সরকারের কলিজার টুকরা।

 
রাইড শেয়ারিং: শর্ত পূরণ কবে জানে না কেউ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

প্রায় দেড় বছর অপেক্ষার পরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শর্ত পূরণ ছাড়াই রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন দিয়েছে বিআরটিএ, ওই সব শর্ত কবে পূরণ হবে সে বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।


ভাড়া কীভাবে নেওয়া হবে সে বিষয়ে নীতিমালায় নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে কি না, তা নজরদারিও করা হচ্ছে না।

নীতিমালার কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বলছে সনদ পাওয়া রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো। অপরদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ ও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কারিগরি দিক দিয়ে রাইড শেয়ারিং সেবা সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনও তৈরি হয়নি।

গণপরিবহনের সঙ্কটের ঢাকা শহরে ২০১৬ সালে রাইড শেয়ারিং সেবা চালু হওয়ার পর দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ভাড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে এই সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি ‘রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০১৭’ অনুমোদন করে সরকার। ওই বছরের ৮ মার্চ থেকে এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শর্ত পূরণের অভাবে তা আটকে যায়।

পরে নীতিমালার কয়েকটি বিষয়ে ছাড় দিয়ে গত ১ জুলাই থেকে রাইড শেয়ারিং সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান ও মোটরযানের তালিকাভুক্তির সনদ বা এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করে বিআরটিএ। এরইমধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠান এই অনুমোদন পেয়েছে।

এগুলো হল- পিকমি লিমিটেড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড, ওভাই সলিউশনস লিমিটেড, চালডাল লিমিটেড, পাঠাও লিমিটেড, ইজিয়ার টেকনোলজিস লিমিটেড, আকাশ টেকনোলজি লিমিটেড, সেজেস্টো লিমিটেড, সহজ লিমিটেড, উবার বাংলাদেশ লিমিটেড, বাডি লিমিটেড ও আকিজ অনলাইন লিমিটেড।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উবার, পাঠাও, সহজ, ওভাই ও পিকমি যাত্রীসেবা দিলেও নীতিমালার বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে পারেনি তারা।
নীতিমালা অনুযায়ী রাইড শেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশনে এসওএস সুবিধা (জরুরি সেবাপ্রাপ্তি), পুলিশ কন্ট্রোলরুমকে সতর্কবার্তা পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, প্রতিটি রাইড পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা এবং কন্ট্রোল রুম প্রয়োজনে সরাসরি দেখতে পারে সে ব্যবস্থা রাখতে হবে।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের যাবতীয় তথ্যাবলী বাংলাদেশের মধ্যেই প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করতে হবে, তথ্য কোনোভাবেই বাংলাদেশের বাইরে পাঠানো যাবে না- নীতিমালার এই শর্তটিও পালন করতে পারেনি কোনো প্রতিষ্ঠান।

এসব শর্ত অনতিবিলম্বে পূরণ করা হবে- এই অঙ্গীকার দিয়ে তালিকাভুক্তির আবেদন করে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এসব শর্ত কতদিনের মধ্যে পূরণ করা হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি।

নীতিমালার শর্তগুলো কবে বাস্তবায়ন করা হবে জানতে চাইলে লিখিত জবাবে উবার বলেছে, রাইড শেয়ারিংয়ের সুবিধাগুলো বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করছে তারা।

“এসওএস ইন্টিগ্রেশন নিয়ে ৯৯৯-এর সাথে কাজ করছি, শীঘ্রই এটি বাস্তবায়িত হবে। উবার ইতোমধ্যে অ্যাপ্লিকেশনটির এসওএস বাটনে ৯৯৯ বিভাগের কন্ট্রোল রুমকে যুক্ত করেছে।”

দেশের মধ্যে তথ্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধতার বিরোধিতা করে উবার বলছে, “আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই যে, উবার খুব উচ্চমানের তথ্য নিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং তথ্য সর্বোচ্চ গোপনীয়তার সাথে সংরক্ষিত আছে কি না তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। যেহেতু উবারের মতো অ্যাপগুলো অন্যান্য দেশের নাগরিক এবং বাংলাদেশিরা একইভাবে ব্যবহার করছে তাই শুধু বাংলাদেশেই তথ্য সংরক্ষণ ও সঞ্চালন আমাদের সেবার মানের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং এটি অন্যান্য দেশের নাগরিকদের গোপনীয়তার উপরেও প্রভাব ফেলবে।”

শর্ত পূরণ কবে নাগাদ জানতে চাইলে ওভাই’র সহকারী ব্যবস্থাপক (রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) সৈয়দ ফখরুদ্দিন মিল্লাত বলেন, তারাও কারিগরি দিকগুলো ‘ঠিক করে রেখেছেন’।
“এসওএসসহ অন্যান্য বিষয়ে আমাদের দিক থেকে আমরা তৈরি আছি। পুলিশের দিক থেকে যখন আমাদের অবকাঠামোগত সুবিধা দিতে পারবে তখন সঙ্গে সঙ্গেই আমরা এই সেবা দিতে পারব। আর সার্ভারের বিষয়ে বিআরটিএকে অঙ্গীকার করা হয়েছে যে, তথ্যগুলো পাচার হবে না। দেশে যদি ভবিষ্যতে এসব সুবিধা সুলভ হয় তাহলে আমরা সার্ভার দেশেই নিয়ে আসার চেষ্টা করব।”

রাইড শেয়ারিং নীতিমালার তিনটি বিষয়ের সমন্বয় করবে পুলিশের ৯৯৯ সেবা বিভাগ। তবে এজন্য প্রয়োজনীয় অনেক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি এখনও আনা হয়নি বলে পুলিশ সদরদপ্তরে ৯৯৯-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ জানিয়েছেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কবে এসব আনা হবে তাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

“রাইড শেয়ারিং কোম্পানির অ্যাপে সেবাদানের যে লিংকআপ আছে সেটা আমাদের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এই ইন্টিগ্রেশন করার জন্য আমাদের সিস্টেমে কিছু কাজ এখনও বাকি আছে, প্রক্রিয়াধীন আছে। তাদের সিস্টেমের উপযোগী করার জন্য আমাদের যে যন্ত্রপাতি লাগবে সেগুলো বিদেশ থেকে কিনতে হবে। যেহেতু আমরা সরকারি প্রতিষ্ঠান, এগুলো কিনতে হলে আগে বাজেটের ব্যাপার আছে। আমাদের অথরিটি আমাদের বাজেট দেবে, সেটা প্রকিউর করার জন্য আমাদের অনুমোদন দেবে। এরপর আমি টেন্ডার কল করব। এটা কতদিন লাগবে বলা যাচ্ছে না।

“যন্ত্রপাতি এনে ইনস্টল করে পরে তাদের সঙ্গে আমরা বৈঠকে বসব।”

নিজেদের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় শর্ত পূরণের বিষয়ে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বিআরটিএর পরিচালক লোকমান হোসেন মোল্লা।

তিনি বলেন, “পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে থাকায় আমাদের সফটওয়্যারে কিছু জটিলতা আছে। সব কিছু কমপ্লিট করার পরে, যেমন ১৫ বা ২০টা কোম্পানিকে অনুমোদন দিলাম। অথবা এক লাখ বা দেড় লাখ গাড়িকে তালিকাভুক্ত করলাম, তখন আমরা আর তাদের ছাড় দেব না।
“তখন যেই তারিখে শেষ (শর্ত পূরণ) হওয়ার কথা, সেই তারিখেই শেষ করতে হবে।”

ভাড়া দেখার কেউ নেই

রাইড শেয়ারিং নীতিমালায় কোম্পানিগুলোকে ২০১০ সালের ট্যাক্সিক্যাব নীতিমালা অনুযায়ী ভাড়া রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মটরসাইকেলের ভাড়া নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

ট্যাক্সিক্যাব নীতিমালা অনুযায়ী, ইকোনমি ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া প্রথম দুই কিলোমিটারের জন্য ৫০ টাকা, পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য ১২ টাকা ভাড়া আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতি দুই মিনিটের জন্য ৩ টাকা ওয়েটিং চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের এপ্রিলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া সংশোধন করে সরকার। এ সময় প্রথম দুই কিলোমিটার ৮৫ টাকা, পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ৩৪ টাকা, কল চার্জ ২০ টাকা এবং প্রতি দুই মিনিটের ওয়েটিং চার্জ ৮ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

এরপর ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে সরকার। প্রথম দুই কিলোমিটারের জন্য অটোরিকশার ভাড়া ৪০ টাকা, পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ১২ টাকা, ওয়েটিং চার্জ প্রতি মিনিট দুই টাকা এবং সর্বনিম্ন ভাড়া ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

ভাড়া নিয়ে রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কোনো নজরদারি আছে কি না জানতে চাইলে বিআরটিএর পরিচালক লোকমান হোসেন মোল্লা বলেন, বর্তমানে বিআরটিএর লোকবলের অভাবে কারণে ‘এটা করা কঠিন’।
“আমাদের আইসিটির লোকবল নাই। আমরা সেন্ট্রাল ই-মনিটরিং সিস্টেম করতে পারলে ভালো হত। কিন্তু সেটা করা অনেক সময়ের ব্যাপার।”

বিআরটিএর এই কর্মকর্তা বলেন, “রাইড শেয়ারিং পৃথিবীর সব দেশেই ইনফরমাল সেক্টর। এ কারণে অন্য কোনো দেশের মডেলও আমরা পাইনি। আমরা তাও নীতিমালা করে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এনেছি। কিন্তু পৃথিবীর কোথাও এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।”

ভাড়া নিয়ে কোনো সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করলে সে বিষয়ে বিআরটিএ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

“প্রত্যেকটি রাইড শেয়ারিংয়ের ওয়েবসাইটে কমপ্লেইন বক্স আছে। কেউ অভিযোগ করলে তারা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়। ফলোআপটা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আমাদের জানাবে এমনটা তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। কিন্তু সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যদি সুরাহা না করে সেক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতা আমাদের কাছে সরাসরি অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।”

হ্যাকারের কবজায় সাত দিন
                                  

নিউজ ডেস্ক

জীবনের অনেক ঘটনাই রোমাঞ্চকর উপন্যাসকেও হার মানায়। আবার জীবনযাপনের কিছু ঘটনা ছুঁয়ে যায় হৃদয়, স্মৃতিতে গেঁথে থাকে আজীবন। বাস্তবের রুদ্ধশ্বাস কাহিনি ও জীবন যেমন বিভাগে ছুটির দিনে প্রতি সপ্তাহেই পাঠকের এ ধরনের লেখা তুলে ধরে। ৪ নভেম্বর প্রথম আলোর ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছুটির দিনের এ দুটি বিভাগে পাঠকের বিশেষ লেখা আহ্বান করা হয়েছিল। তাতে সাড়া দিয়ে প্রচুর লেখা পাঠিয়েছেন পাঠকেরা। সেসব থেকে বাছাই করা লেখা নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের ছুটির দিনে।
এলিজা বিনতে এলাহী
এলিজা বিনতে এলাহী
জুলাই, ২০১৯। দিনটি কখনোই ভুলব না। তাৎক্ষণিক একটি ঘটনা আমার কর্মচাঞ্চল্য, উদ্দীপনা, উৎসাহ, বাধাহীন ভ্রমণ সবকিছুতেই খুব ভয়ংকর প্রভাব ফেলেছিল। সেদিন আনুমানিক রাত নয়টা। আমি কিছুতেই আমার ফেসবুক, মেসেঞ্জার খুলতে (লগ–ইন) পারছিলাম না।

বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলাম, ফলাফল একই। আচমকা একটি খুদে বার্তা আমার মুঠোফোনে ভেসে উঠল, ‘আমি হ্যাকার, আপনার ফেসবুক ও মেসেঞ্জার আমার দখলে। আমার কথা যদি আপনি শোনেন, তাহলে কিছু হবে না। কিন্তু আমার কথা না শুনলে আপনার ক্ষতি হবে।’ এই কথাগুলো সে লিখল হোয়াটসঅ্যাপে। আমি যশোরে রেডক্রসের গেস্টহাউসে আমার রুমে একা বসে ভয়ে তাকিয়ে আছি খুদে বার্তাটির দিকে। ৬৪ জেলা ভ্রমণের শেষ ৯ জেলা ভ্রমণ করতে তখন যশোরে অবস্থান করছিলাম। সঙ্গে পরিবারের কেউ নেই, পাশের ঘরে আমার ভ্রমণ দলের দুই সদস্য। মুঠোফোন সচল থাকার পরও নিজেকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হচ্ছিল, একা লাগছিল। খানিক বসে থেকে পাশের ঘরে গিয়ে দলের দুজনকে সব জানালাম। সেই হ্যাকার একের পর এক খুদে বার্তা পাঠিয়ে যাচ্ছে, আমি হুমকিপূর্ণ মেসেজগুলো দেখছি, কিন্তু কোনো উত্তর দিচ্ছি না। তারপর সে ফোন করতে লাগল। ফোন ক্রমাগত বেজে যাচ্ছে, কিন্তু আমি ধরছি না দেখে হ্যাকার আরও রেগে গিয়ে জঘন্য ভাষায় বার্তা পাঠাতে লাগল।

আঁতিপাঁতি করে খুঁজছি, কাকে ফোন দেব, কী পদক্ষেপ নেব, কী করা উচিত। নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু অজানা আশঙ্কায় খুব চঞ্চল হয়ে উঠছিলাম। অবশেষে ক্রমাগত রিং হওয়ার কারণে, আমার দলের এক সদস্য সেই ফোন রিসিভ করল। তখন হ্যাকার ৫০ হাজার টাকা দাবি করে বলল, কালকের মধ্যে টাকা না পেলে আমার নগ্ন ছবি বানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে দেবে। ততক্ষণে সে আমার মেসেঞ্জার থেকে নানান আজেবাজে পর্ন সাইটের লিংক আমার বন্ধুদের পাঠাতে লাগল। কেউ কেউ মুঠোফোনে সেই কথা আমাকে জানাল। আবার কেউ কেউ আমি ভেবেই তার সঙ্গে আলাপ জুড়ে দিল, যা আমি পরে বুঝেছি।


পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে, আমি মুঠোফোনে বেশ কয়েকজনের কাছে সাহায্য চাইলাম, যেন আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কথাটা তারা নিজের টাইমলাইনে লিখে পোস্ট করে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনকে বলেছি কথাটা। আমি নিশ্চিত হলাম এই ভেবে, এখন আর হ্যাকার কাউকে বিরক্ত করবে না বা বিপদে ফেলবে না। কিন্তু তারপরও ফোন আসতে থাকল। আবারও সবাইকে অনুরোধ করলাম। তিনজন আমার হয়ে স্ট্যাটাস দিল।

.
.
আমি ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি নিলাম সে রাতেই। বাসে উঠতে যাব, এমন সময় বাসা থেকে জানানো হলো, আমার প্রোফাইলে কিছু বাজে ছবি পোস্ট করা হয়েছে। এরপর আবার ফোন আর বার্তা। এবার শুভাকাঙ্ক্ষীদের। বন্ধুরা খবর নিচ্ছে, কেউ সাবধান করছে, সান্ত্বনা দিচ্ছে, কেউবা জিজ্ঞাসা করছে, ছবিগুলো আমারই কি না। আমি উত্তর দেব, না ভয় পাব, না মন খারাপ করব, অথবা হতাশ হব, কাঁদব, উদ্বিগ্ন হব, চিন্তিত হব, লজ্জা পাব—কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার বন্ধু-সংযুক্তি একেবারে কম নয়। সেখানে আমার ছাত্রছাত্রী, আমার ছেলের বন্ধুরা, আত্মীয়স্বজন, অফিসের সহকর্মী, নানান দেশের শিক্ষকেরা আছেন।

বাসে বসে মনে হচ্ছিল, কখন ঢাকা পৌঁছাব। প্রতিটা সেকেন্ড এত দীর্ঘ, সেদিন উপলব্ধি করেছি। একদিকে হ্যাকারের পাঠানো বার্তা, অন্যদিকে শুভাকাঙ্ক্ষীদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে। কারণ, আমার মেসেঞ্জার থেকে যাঁদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে, তাঁদের কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছিলেন, আপনার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে নিজের অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলো। শুধু মনে হচ্ছিল, এই বিপদ থেকে কীভাবে রক্ষা পাব।

নির্ঘুম রাত পার করে ভোরে এসে নামলাম ঢাকায়। সাংবাদিক বন্ধু সোহেলীর সহায়তায় গেলাম ঢাকার সাইবার ক্রাইম বিভাগে, তারা অভিযোগ নিল অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার নানা চেষ্টা করতে থাকলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। কারণ, অ্যাকাউন্ট ফিরে পেলেই, হ্যাকারের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু হ্যাকারের ক্রমাগত হুমকি আর জঘন্য ভাষার গালাগাল আমাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তুলছিল। ধীরে ধীরে খবর পেতে থাকলাম, আমার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সে আরও প্রায় ৪০ জনের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা চাইছে, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই আমার শিক্ষার্থী। নিজেকে অপরাধী মনে হতে থাকল।

সাইবার ক্রাইম কর্মকর্তারা আমাকে বলে দিলেন, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া অবধি হ্যাকারকে শান্ত রাখুন টাকা জোগাড় করছি বলে। আমিও তাই করতে থাকলাম। কিন্তু দিনরাত হ্যাকার হুমকি দেওয়া বন্ধ রাখেনি। সে রাত দুইটা–তিনটার সময়ও বার্তা পাঠাতে থাকল। সকালে উঠে সাইবার ক্রাইম অফিসে যেতাম, সন্ধ্যায় সেখান থেকে আসতাম। প্রতিদিনই মনে হতো, এই বুঝি ফেরত পাব অ্যাকাউন্ট আর মুক্তি পাব হ্যাকারের কাছ থেকে। কিসের ভ্রমণ, কিসের মিশন, পুরো সাত দিন হ্যাকার সামলানো আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের উত্তর দেওয়া।

অবশেষে ঠিক হলো, টাকা মোবাইল অ্যাপে পাঠানো হবে। সে সময় হ্যাকারকে শনাক্ত করা হবে। পুরোপুরি সিনেমার কায়দায় আমি সাইবার ক্রাইম অফিসে বসে মোবাইল অ্যাপে টাকা পাঠালাম। টাকা যার কাছে গেল, সেই নম্বরের লোককে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকল। কিন্তু হ্যাকারকে শনাক্ত করা যায়নি, উপরন্তু সে বুঝে ফেলেছে, আমি পুলিশের সহায়তা নিয়েছি। আর যায় কোথায়! সে আবারও আমার প্রোফাইল থেকে ছবি প্রকাশ করল। যে বন্ধুদের স্মৃতি মলিন হয়ে গিয়েছিল, তাঁদের স্মৃতি আবারও জাগ্রত হলো, পুনরায় আমার ছবি দেখে। হ্যাকার স্ট্যাটাস দিয়েছিল ‘আমি একটু ফেমাস হতে চাই’। একজন তো লিখে পাঠাল ‘আপা, এভাবে কি ফেমাস হওয়া যায়?’ সেই বন্ধুকে আমি উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি।

আমি পুলিশের সহায়তা নিয়েছি দেখে হ্যাকার আমাকে বার্তা পাঠানো বন্ধ করে দিল। শেষে ফেসবুকের কাছে আবেদন করে অ্যাকাউন্ট ফেরত পেয়েছি। এক মাস পর আমি আবার ভ্রমণে বের হয়েছি। কিন্তু পুরো বিষয়টা নিয়ে ভেতরের ভয় আর অস্বস্তি কাটেনি অনেক দিন। এমনকি এই লেখা লেখার সময়ও আমি অস্বস্তি নিয়ে লিখছি। কারণ, আমি হ্যাকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। মামলা করার কারণেই পুলিশ এই বিষয়টা নিয়ে এগোতে পেরেছে। হ্যাকার ধরা পড়েছে। এখন তার ভাই আর বাবা আমাকে ক্রমাগত ফোন করছে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য।

সেই সাত দিন আমি এখনো ভুলতে পারি না। পুরো বাংলাদেশ ভ্রমণের ভিন্ন এক আমেজ থেকে হ্যাকার আমাকে সাত দিনের জন্য ভয়ংকর একটি জায়গায় বন্দী করে রেখেছিল মানসিকভাবে। সে সময় আমি বুঝেছি, যে মেয়েদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তাদের ট্রমা কত ভয়াবহ।

 
ঝলকেই লোহার রড, বেসবল ব্যাট ভাঙেন তিনি
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ফোনবুক, লোহার রড, বেসবল ব্যাট সবকিছুই মুহূর্তেই দুই হাতের জোরেই ভেঙে দিতে প্রস্তুত। অভাবনীয় এই শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে বর্তমানে হারকিউলিস নামে পরিচিতি লাভ করা এই ব্যক্তির নাম মনোজ চোপড়া। তিনি ভারতের ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরের বাসিন্দা।

মনোজ চোপড়া ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। দেশব্যাপী এখন হারকিউলিস নামেই পরিচিত তিনি। তার অবশ্য আরও একটি নাম রয়েছে, ‘ছত্তীসগড় জায়ান্ট’।

শুধু ভারতেরই নয়, মনোজ এশিয়ার মধ্যেও সবচেয়ে শক্তিশালী পুরুষ। বিশ্বে শক্তিশালীর তালিকার ১৪ নম্বরে রয়েছেন তিনি। গিনেস বুকে নামও রয়েছে তার।
পেশায় একসময় ব্যবসায়ী ছিলেন মনোজ। কিন্তু বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ে নতুন করে শুরু করেছেন জীবন। শক্তি প্রদর্শন করাই মনোজের পেশা এখন।

১৯৮৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি রায়পুরের মেল বিউটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হন। মনোজের উচ্চতা ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি, ওজন ১৫৫ কিলোগ্রাম। বেঙ্গালুরুর একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক ছিলেন তিনি। ৬টা গাড়ি ছিল তার। হঠাৎই তার সব গাড়ি একসঙ্গে খারাপ হতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে ব্যবসায়। এতটাই খারাপ প্রভাব পড়েছিল যে ব্যবসা একেবারেই ডুবে যায়। এতে প্রচণ্ড হতাশ হয়ে পড়েন মনোজ। সন্দেহবশত ব্যবসার এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে মারধর করে জেলেও যান।

এর বছর খানেক পর ডব্লিউডব্লিউই ভারতে ট্যালেন্ট হান্ট করতে এসেছিল। সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নজরে আসেন তিনি। ডব্লিউডব্লিউই-এর পক্ষ থেকে তাকে আমেরিকায় পাঠানো হয় কুস্তির কৌশল শেখার জন্য।

ডব্লিউডব্লিউই তাকে ১৮ মাস ধরে লস অ্যাঞ্জেলসে প্রশিক্ষণ দেয়। সেই সময়ে মনোজ কখনও গ্যাস স্টেশন, গাড়ি-টয়লেট পরিষ্কার করে উপার্জন করেছেন। কিন্তু এভাবে আর চালাতে পারছিলেন না তিনি। ফলে বাধ্য হয়েই ডব্লিউডব্লিউই-এর প্রশিক্ষণ মাঝরাস্তায় ফেলে রেখে ভারতে ফিরে আসেন। শুরু হয় নতুন জীবন।

বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি মনোজ। এমন কিছু বোধহয় নেই যা তিনি ভাঙতে পারবেন না। তার সামনে যা দেবেন তাই মুহূর্তেই ভেঙে দেবেন তিনি।

ভারতে তিন হাজারের বেশি শো করেছেন তিনি। এর বাইরে শো-এর সুবাদে কানাডা, আমেরিকাতে প্রায়ই উড়ে যেতে হয় তাকে।

 
মসজিদের বাইরে জুতা সাজাচ্ছেন অমুসলিম ব্যক্তি
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের আল-মাওয়াদ্দাহ মসজিদের বাইরে মুসল্লিদের জুতা সারি সারি সাজিয়ে রাখতে দেখা যায় ‘আঙ্কেল স্টিভেন’ নামের এক অমুসলিমকে। তাকে এমন কাজ করতে দেখে ওই ঘটনা ফেসবুকে তুলে ধরেছেন ইরফান মুস্তাফা নামের এক মুসল্লি।

মুস্তাফা বলেছেন, আমি তাকে প্রতি সপ্তাহে মসজিদের বাইরে একই কাজ করতে দেখি। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, মুসল্লিরা মসজিদে এসে যখন প্রচণ্ড সূর্যের তাপে বাইরে অবস্থান করতে পারে না। মসজিদের ভেতরে এসিতে নামাজ আদায় করে তখন আঙ্কেল স্টিভেন প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই মুসল্লিদের জুতা সারি সারি করে সাজিয়ে রাখতে ব্যস্ত সময় পার করেন।

যখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কেন এমন করেন। তিনি হেসে জবাব দেন, দেখতে পরিস্কার লাগে। তিনি বলেন, আমি প্রতি শুক্রবার এখানে আসার চেষ্টা করি এবং আমি পাশেই বাস করি।
মুস্তাফা বলেন, তিনি আঙ্কেল স্টিভেনের এমন কাজ তাকে স্পর্শ ও অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি লিখেন, আঙ্কেল স্টিভেনের কাজ দেখে আমি তার প্রশংসা না করে পারছি না।
তিনি আরও লিখেন, বৈচিত্র্য কোনও সীমানা মানে না এবং আঙ্কেল স্টিভেন তারই প্রমাণ।
মুস্তাফা বলেন, ছোট কাজও গুরুত্ব রাখে এবং আমি নিশ্চিত আমরা কোনও কিছুর মর্ম উপলব্ধি করতে পারি এবং আঙ্কেল স্টিভেনকে আমরা অনুকরণ করতে পারি।

অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে `রহস্যময়` মাছ
                                  

অনলাইন ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র সৈকতে বিড়াল চোখের রহস্যময় একটি প্রাণী উঠে এসেছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

শুক্রবার, কোজি সি-সাইড এসকেপ রহস্যময় প্রাণীটির ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে। ছবিতে দেখা যায় সৈকতের বালুতে শুয়ে রোদ পোহাচ্ছে উদ্ভট প্রাণীটি। ভিক্টোরিয়া`স জিপসল্যান্ড অঞ্চলে অবস্থিত গোল্ডেন বিচ থেকে অদ্ভুত প্রাণীর ছবিটি তোলা হয়। শার্ক প্রজাতির বিরল ক্যাটশার্কটি তখন ছোট মাছ খাচ্ছিল বলে জানিয়েছে ফক্স নিউজ। অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য থাকলেও প্রাণীটি মানুষের জন্য হুমকি নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু কিছু ক্যাটশার্ক আছে যারা অন্ধকারে এমন আলো ধারণের ক্ষমতা রাখে যাতে অন্য ক্যাটশার্কের কাছে বার্তা পাঠানো যায়।
সায়েন্টিফিক রিপোর্ট-এ প্রকাশিত এক গবেষণার ফল অনুযায়ী, সমুদ্রে দুই প্রজাতির শার্ক দেখা যায়, একটি চেইন ক্যাটশার্ক এবং অপরটি সোয়েল ক্যাটশার্ক। এরা সমুদ্রের নীল আলো শুষে নিতে পারে এবং ওই নীল আলো পুনরায় নির্গত করতে পারে। এর কারণ হচ্ছে প্রাণীটি নিজেই উজ্জ্বল সবুজ রং ধারণ করার ক্ষমতা রাখে।

গভীর সাগর দিয়ে ছুটবে ট্রেন
                                  

অনলাইন ডেস্ক : সমুদ্রের তলা দিয়ে ছুটবে ট্রেন। সে জন্য ইউরোপে তৈরি হচ্ছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ রেলপথ। জেনে নিন তার খুঁটিনাটি।

উত্তর ইউরোপের দুই দেশ ফিনল্যান্ড ও এস্তোনিয়া। তাদের মাঝে রয়েছে ফিনল্যান্ড উপসাগর। তার নীচ দিয়ে ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ রেলপথ তৈরি হতে চলেছে। এই প্রকল্পে খরচ পড়বে দেড় হাজার কোটি ইউরো।

ইংল্যান্ড ও উত্তর ফ্রান্সের মাঝে ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল টানেলই এতদিন পৃথিবীর মধ্যে দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ রেলপথ ছিল। তার চেয়েও দীর্ঘ হতে চলেছে এস্তোনিয়ার রাজধানী তালিন থেকে ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি পর্যন্ত বিস্তৃত নয়া সুড়ঙ্গ রেলপথ।
ফেরিতে চড়ে তালিন থেকে হেলসিঙ্কি পৌঁছতে এই মুহূর্তে দু’ঘণ্টা সময় লাগে। সুড়ঙ্গ রেলপথ তৈরি হলে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট। প্রতিদিন দু’ঘণ্টা পেরিয়ে তালিন থেকে হেলসিঙ্কি যান বহু মানুষ। সুড়ঙ্গ রেলপথ তৈরি হলে তারা সকলেই উপকৃত হবেন।

সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ যদিও এখনও শুরু হয়নি। তবে এখন থেকেই তা নিয়ে উন্মাদনা শুরু হয়েছে দু’দেশের মানুষের মধ্যে। গতবছরের ডিসেম্বর থেকে অনলাইন টিকিট বুকিংও শুরু হয়ে গেছে। ভাড়া ৫০ ইউরো।

বরফের তৈরি হোটেল!
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ফিনল্যান্ডে কিট্টিলা এলাকা ফিন্নিশে সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে একটি আইস হোটেল। এই হোটেলটি তৈরি হয়েছে শুধুমাত্র বরফ ও বরফের গুঁড়ো দিয়ে। কেউ যদি এই হোটেলে নিজেদের বিয়ে সারতে চান সে ব্যবস্থাও রয়েছে হোটেলের মধ্যে কিংস ল্যান্ডিং নামের হলে।

উত্তর মেরুর আর্টিক সার্কেলের ১২০ মাইল উপরে ফিন্নিশে তৈরি করা হয়েছে এই ল্যাপল্যান্ড হোটেল। ৮ লক্ষ ৮০ হাজার পাউন্ড বরফ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে হোটেলটি। বিভিন্ন দেশের ১২ জন শিল্পী প্রায় ৫ সপ্তাহ ধরে তৈরি করেছেন গেম অফ থ্রোনসের চরিত্র সম্বলিত বরফের হোটেল। আনন্দবাজার।


   Page 1 of 5
     অন্যান্য
বয়স্ক শিক্ষায় পিছিয়ে বাংলাদেশের নারীরা
.............................................................................................
বিয়ে করেছেন গুলতেকিন
.............................................................................................
‘বুলবুল’র শঙ্কা কাটিয়ে সৈকতে পর্যটকরা
.............................................................................................
জরুরি অবস্থায় পৌঁছেছে জলবায়ু সঙ্কট
.............................................................................................
চীনের এই গ্রামে সবাই কোটিপতি
.............................................................................................
সন্তান প্রসবের সময় কুকুরকে পুড়িয়ে হত্যা
.............................................................................................
কেন ট্রেড ইউনিয়ন চান না মালিকরা?
.............................................................................................
আয়েশামণি কার কাছে যাবে?
.............................................................................................
লিভার দিয়ে নাতির জীবনদান
.............................................................................................
রাইড শেয়ারিং: শর্ত পূরণ কবে জানে না কেউ
.............................................................................................
হ্যাকারের কবজায় সাত দিন
.............................................................................................
ঝলকেই লোহার রড, বেসবল ব্যাট ভাঙেন তিনি
.............................................................................................
মসজিদের বাইরে জুতা সাজাচ্ছেন অমুসলিম ব্যক্তি
.............................................................................................
অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে `রহস্যময়` মাছ
.............................................................................................
গভীর সাগর দিয়ে ছুটবে ট্রেন
.............................................................................................
বরফের তৈরি হোটেল!
.............................................................................................
জীবন বাঁচাতে শ্বাসরোধ করে সিংহকে মেরে ফেললো যুবক!
.............................................................................................
মৌলভীবাজারের বাইক্কা বিল মাছের পাশাপাশি পাখিদেরও অভয়াশ্রম
.............................................................................................
একই চেহারার হতে গিয়ে যমজ বোনের কাণ্ড!
.............................................................................................
বরের বয়স ১০, কনের ৮
.............................................................................................
কান্নার জন্য ‘সুদর্শন’ পুরুষ ভাড়া!
.............................................................................................
কম্বোডিয়ায় সড়ক হবে বঙ্গবন্ধুর নামে
.............................................................................................
সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান নিখোঁজ
.............................................................................................
প্যারাডাইস পেপারসে আসা ব্যক্তিদের ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হবে: দুদক চেয়ারম্যান
.............................................................................................
প্রজাপতি মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড়
.............................................................................................
আয়কর মেলার প্রথম দিনেই উপচে পড়া ভিড়
.............................................................................................
গাজর ভেবে দামী গাড়ি খেয়ে ফেললো বোকা গাধা
.............................................................................................
মেজাজ ভালো থাকলেই শুধু ফ্লুয়ের টিকা কাজ করে?
.............................................................................................
বিক্ষোভের মুখে কবর থেকে তিমি উত্তোলন
.............................................................................................
৩ মাইল লম্বা বিয়ের শাড়ি প্রদর্শন, বিতর্কের মুখে দম্পতি
.............................................................................................
সমুদ্রের হাজার মাইল পথ পাড়ি দেয়া পাখি কেন পথ হারায় না?
.............................................................................................
শরীরে অ্যালকোহল বানিয়ে ঠাণ্ডায় বাঁচে গোল্ডফিশ
.............................................................................................
বিয়ের যাত্রী নিয়ে কারাগারে হঠাৎ নামল হেলিকপ্টার
.............................................................................................
অদ্ভূত প্রাণী `টার্ডিগ্রেড`: কোন বিপদেই যে কাবু হয় না
.............................................................................................
নাচে-গানে যেখানে মৃতদের বিদায় জানানো হয়
.............................................................................................
জরিমানা করা ৫ বছরের শিশুর কাছে অনেক চাকরির প্রস্তাব
.............................................................................................
চীনের শপিং আসক্ত স্ত্রীদের জন্য স্বামী `জমা রাখা`র সার্ভিস
.............................................................................................
কৃত্রিম মা হাঁস
.............................................................................................
পৃথিবীর সব চেয়ে আলসে দেশ কোনগুলো?
.............................................................................................
ইউটিউবে `গ্যাংনাম স্টাইল`কে টপকে শীর্ষে `সি ইউ অ্যাগেইন`
.............................................................................................
কুকুরের সমান টিকটিকি!
.............................................................................................
ছোট্ট মশার কামড়, ভয়ংকর ১২ রোগ
.............................................................................................
কেন এক পায়ে খাড়া থাকে ফ্লেমিঙ্গো পাখিরা?
.............................................................................................
হৃদয় আকৃতির হীরা বিক্রি বিশ্ব রেকর্ডে
.............................................................................................
জেনে নিন কেমন যাবে আজকের দিনটি
.............................................................................................
৮২ বছর বয়সে স্কুলের গণ্ডি পার হলেন তিনি
.............................................................................................
রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে দিনটি
.............................................................................................
রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আপানার আজকের দিনটি
.............................................................................................
রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে দিনটি
.............................................................................................
রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আপনার আজকের দিনটি
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]