| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * জুভেন্টাসের জয় রোনালাদোর জোড়া গোলে   * জগৎপ্রকাশ নড্ডা বিজেপির নতুন সভাপতি   * ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড, দুইজন খালাস, সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা মামলায়   * শিশু ধর্ষণ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কেন দেয়া হবে না : হাইকোর্ট   * মতিউর রহমানসহ ছয়জনকে গ্রেফতার ও হয়রানি না করার নির্দেশ   * প্রিন্স হ্যারি-মেগান রাজকীয় পদবি হারাচ্ছেন   * ইয়েমেনে সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে হামলায় নিহত ৬০   * যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর `বিপজ্জনক আক্রমণ` : ট্রাম্পের আইনজীবী   * মাঘের শুরুতেই বৃষ্টিতে ভিজলো রাজশাহী   * আওয়ামী লীগ ও নৌকার ব্যাকগ্রাউন্ড লাগে না : আতিকুল ইসলাম  

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোন সম্পর্ক নেই গ্রেফতারি পরোয়ানার সঙ্গে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফৌজদারি অপরাধের মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এর সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই।’

রোববার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

গত বছরের ১ নভেম্বর প্রথম আলোর কিশোর ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার (১৫)। ঘটনার পরদিন প্রথমে মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন আবরারের বাবা মজিবুর রহমান। পরে ৬ নভেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আমিনুল হকের আদালতে অবহেলাজনিত কারণ উল্লেখ করে আরেকটি মামলা করেন আবরারের বাবা।

ওই হত্যা মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এটা নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও বিশিষ্ট নাগরিকরা বিবৃতি দেন।

বিষয়টি কীভাবে দেখছেন- জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, যে কেউ বিবৃতি দিতে পারে। আমাদের দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। যে কেউ তার মত প্রকাশ করতে পারে। আমি দেখেছি কাগজে, ৪৭ বিশিষ্টজন এ ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে এ ৪৭ জন ছাড়াও আরও হাজার হাজার বিশিষ্টজন বা বুদ্ধিজীবী আছেন। তারা তাদের বিৃবতি দিতেই পারেন।’

 

‘তবে কোনো অবহেলাজনিত মৃত্যু হওয়ার পর সেটি যদি লুকানোর অপচেষ্টা করা হয় বা একই সঙ্গে পোস্টমর্টেম না করে দাফন করা হয়- এগুলো তো নিশ্চয়ই অপরাধ। প্রথমত, অবহেলাজনিত মৃত্যু, যদিও এটি এখনও ইনভেস্টিগেশন পর্যায়ে আছে, সেটি হওয়ার পর, সেটিকে লুকানোর চেষ্টা কিংবা এ ধরনের অপমৃত্যু হলে পোস্ট মর্টেম ছাড়া দাফনের জন্য যারা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল তাদের পক্ষ থেকে প্ররোচনা দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। অভিযোগ সত্য-মিথ্যা সেটি তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনাগুলোর সঠিক বিচার যাতে হয়, যারাই দায়ী…। কারা দায়ী সেটা আদালত ঠিক করবে। যারা দায়ী তাদের যাতে সঠিক বিচার হয় সেজন্য আমি আশা করব যে, বিশিষ্টজনরা বিবৃতি দিয়েছেন সেজন্য তারা একটি বিবৃতি দেবেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তারা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য বিবৃতি দিয়েছিল। যখন ফিলিস্তিনে মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেটির বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয় না। সুতরাং তাদের বিবৃতি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যারা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য বিবৃতি দেয় আর ফিলিস্তিনে পাখি শিকারের মতো মানুষ শিকার করা হয় সেটির বিরুদ্ধে যখন বিবৃতি দেয় না, তাহলে সেই সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা আগে কোথায় ছিল তা বলতে চাই না, এখন কোথায় গেছে সেটি নিয়ে তো অনেকের মনে প্রশ্ন আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটির সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই। একটি ফৌজদারি অপরাধের কারণে মামলা হয়েছে। আদালত সেখানে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালত তো স্বাধীন, কোথায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবে বা করবে না, সেটি আদালতের এখতিয়ারের বিষয়। তবে এটির সঙ্গে কোনোভাবেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সম্পর্ক নেই। কারণ এটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো সংবাদের জন্য মামলা হয়নি, গণমাধ্যমে কোনো কিছু বলার জন্য তো মামলা হয়নি।’


জামিন নিতে হাইকোর্টে উপস্থিত মতিউর রহমানসহ অন্যরা

রোববার সকালে আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে উপস্থিত হন মতিউর রহমানসহ ১০ জন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও অন্যতম সংবিধান প্রণেতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল-ইসলামের চেম্বারে তাদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে বলে জানান জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক।

ডিটিএইচের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হবে

জি ফাইভ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে ভারতের প্রোগ্রামগুলো দেখা যাচ্ছে, সেখানে বিজ্ঞাপন যাচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ভারত নয় সারা পৃথিবীর বিভিন্ন অ্যাপ দিয়ে এগুলো হচ্ছে। এগুলো একটা রেজুলেশনের মধ্যে আনতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিষয়টি শুধু আমাদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এটির সঙ্গে আইসিটি মিনিস্ট্রি, টেলিকম মিনিস্ট্রি যুক্ত। আমরা যৌথভাবে বিষয়গুলো আলোচনা করেছি। অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগ, নেটফ্লিক্স, গুগলের মাধ্যমে যেগুলো হচ্ছে তার একটা রেজুলেশনের মধ্যে আনতে আমার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

অবৈধ ডিটিএইচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কত দূর- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবৈধ ডিটিএইচ যারা লাগিয়েছেন এ মাসের এক তারিখ থেকে সেগুলোর ওপর নজরদারি হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় অভিযানও চলানো হয়েছে। সেটি আমরা আগামী দিনগুলোতে আরও ব্যাপকতর করব।’

এছাড়া সম্প্রতি ভারত সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শংকর ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎসহ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

 
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোন সম্পর্ক নেই গ্রেফতারি পরোয়ানার সঙ্গে
                                  

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফৌজদারি অপরাধের মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এর সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই।’

রোববার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

গত বছরের ১ নভেম্বর প্রথম আলোর কিশোর ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার (১৫)। ঘটনার পরদিন প্রথমে মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন আবরারের বাবা মজিবুর রহমান। পরে ৬ নভেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আমিনুল হকের আদালতে অবহেলাজনিত কারণ উল্লেখ করে আরেকটি মামলা করেন আবরারের বাবা।

ওই হত্যা মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এটা নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও বিশিষ্ট নাগরিকরা বিবৃতি দেন।

বিষয়টি কীভাবে দেখছেন- জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, যে কেউ বিবৃতি দিতে পারে। আমাদের দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। যে কেউ তার মত প্রকাশ করতে পারে। আমি দেখেছি কাগজে, ৪৭ বিশিষ্টজন এ ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে এ ৪৭ জন ছাড়াও আরও হাজার হাজার বিশিষ্টজন বা বুদ্ধিজীবী আছেন। তারা তাদের বিৃবতি দিতেই পারেন।’

 

‘তবে কোনো অবহেলাজনিত মৃত্যু হওয়ার পর সেটি যদি লুকানোর অপচেষ্টা করা হয় বা একই সঙ্গে পোস্টমর্টেম না করে দাফন করা হয়- এগুলো তো নিশ্চয়ই অপরাধ। প্রথমত, অবহেলাজনিত মৃত্যু, যদিও এটি এখনও ইনভেস্টিগেশন পর্যায়ে আছে, সেটি হওয়ার পর, সেটিকে লুকানোর চেষ্টা কিংবা এ ধরনের অপমৃত্যু হলে পোস্ট মর্টেম ছাড়া দাফনের জন্য যারা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল তাদের পক্ষ থেকে প্ররোচনা দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। অভিযোগ সত্য-মিথ্যা সেটি তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনাগুলোর সঠিক বিচার যাতে হয়, যারাই দায়ী…। কারা দায়ী সেটা আদালত ঠিক করবে। যারা দায়ী তাদের যাতে সঠিক বিচার হয় সেজন্য আমি আশা করব যে, বিশিষ্টজনরা বিবৃতি দিয়েছেন সেজন্য তারা একটি বিবৃতি দেবেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তারা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য বিবৃতি দিয়েছিল। যখন ফিলিস্তিনে মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেটির বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয় না। সুতরাং তাদের বিবৃতি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যারা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য বিবৃতি দেয় আর ফিলিস্তিনে পাখি শিকারের মতো মানুষ শিকার করা হয় সেটির বিরুদ্ধে যখন বিবৃতি দেয় না, তাহলে সেই সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা আগে কোথায় ছিল তা বলতে চাই না, এখন কোথায় গেছে সেটি নিয়ে তো অনেকের মনে প্রশ্ন আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটির সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই। একটি ফৌজদারি অপরাধের কারণে মামলা হয়েছে। আদালত সেখানে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালত তো স্বাধীন, কোথায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবে বা করবে না, সেটি আদালতের এখতিয়ারের বিষয়। তবে এটির সঙ্গে কোনোভাবেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সম্পর্ক নেই। কারণ এটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো সংবাদের জন্য মামলা হয়নি, গণমাধ্যমে কোনো কিছু বলার জন্য তো মামলা হয়নি।’


জামিন নিতে হাইকোর্টে উপস্থিত মতিউর রহমানসহ অন্যরা

রোববার সকালে আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে উপস্থিত হন মতিউর রহমানসহ ১০ জন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও অন্যতম সংবিধান প্রণেতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল-ইসলামের চেম্বারে তাদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে বলে জানান জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক।

ডিটিএইচের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হবে

জি ফাইভ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে ভারতের প্রোগ্রামগুলো দেখা যাচ্ছে, সেখানে বিজ্ঞাপন যাচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ভারত নয় সারা পৃথিবীর বিভিন্ন অ্যাপ দিয়ে এগুলো হচ্ছে। এগুলো একটা রেজুলেশনের মধ্যে আনতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিষয়টি শুধু আমাদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এটির সঙ্গে আইসিটি মিনিস্ট্রি, টেলিকম মিনিস্ট্রি যুক্ত। আমরা যৌথভাবে বিষয়গুলো আলোচনা করেছি। অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগ, নেটফ্লিক্স, গুগলের মাধ্যমে যেগুলো হচ্ছে তার একটা রেজুলেশনের মধ্যে আনতে আমার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

অবৈধ ডিটিএইচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কত দূর- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবৈধ ডিটিএইচ যারা লাগিয়েছেন এ মাসের এক তারিখ থেকে সেগুলোর ওপর নজরদারি হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় অভিযানও চলানো হয়েছে। সেটি আমরা আগামী দিনগুলোতে আরও ব্যাপকতর করব।’

এছাড়া সম্প্রতি ভারত সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শংকর ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎসহ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

 
ই-পাসপোর্ট মিলবে রাজধানীর আগারগাঁও, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী থেকে
                                  

স্টাফ রিপোর্টার


প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর প্রাথমিকভাবে রাজধানীর আগারগাঁও, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী থেকে ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।


রোববার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

 
মানবতার সেবায় রক্তদান এবার বাণিজ্য মেলায়
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে। মানবতার সেবায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থাটির রক্তদান কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপ।

মাসব্যাপী ২৫তম বাণিজ্য মেলায় রেড ক্রিসেন্টের কর্মসূচি চলছে মূল ফটক দিয়ে সামনে পশ্চিম পাশে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের পেছনে।

মেলায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিদা পারভিন জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিবারের মত এবারও মেলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ। মেলায় মানবতার সেবায় যারা রক্তদান করছেন তাদের রক্ত বিনা মূল্যে পাঁচটি জরুরি পরিক্ষা করা হচ্ছে।

যেমন, রক্তের গ্রুপ, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, এইচআইভি এবং সিফলিস ভাইরাস আছে কি-না। পাশাপাশি রক্ত দাতার রক্তে এসব জীবাণু পাওয়া গেলে গোপনীয়তা রক্ষা করে পরামর্শ বা চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া যে স্বেচ্ছায় রক্তদান করছেন তাকে একটি আইডি কার্ড দেয়া হয়। কার্ডধারী ব্যক্তির কখনও প্রয়োজন পড়লে ফ্রি রক্ত দেয়া হবে।


শাহিদা পারভিন জানান, রক্ত দিলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। ১৮-৬০ বছরের কমপক্ষে ৪৫ কেজি ওজন এমন প্রতিটি সুস্থ মানুষ চাইলেই স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে পারেন। এক ব্যাগ রক্ত দিতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট। মেলাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি থেকে সংগৃহীত রক্ত মানবতার সেবায় ব্যবহার করা হয়।


বাণিজ্য মেলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে আসা মাহবুব বলেন, মেলায় এসেছি ঘুরতে, কেনাকাটা করতে। এখানে রেড ক্রিসেন্ট রক্তদানের ব্যবস্থা রেখেছে দেখে রক্ত দিলাম।

এর আগে রক্ত দিয়েছে কি-না জানতে চাইলে মাহবুব জানান, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব অনেককেই রক্ত দিয়েছি। তবে রেড ক্রিসেন্টে এবারই প্রথম রক্ত দিলাম। কার কখন রক্তের প্রয়োজন হবে তা কেউ জানি না। আমার রক্তে একজন মানুষ সুস্থ হবে এটার চেয়ে বড় আনন্দ কী হতে পারে। এজন্যই রক্ত দিলাম। এ পর্যন্ত যে কয়েকবার রক্ত দিয়েছি কোনো সমস্যা হয়নি। তাই আমি মনে করি সুস্থ্য মানুষের নিয়মিত রক্ত দেয়া উচিত। এতে একজন অসহায় মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচে।

 
ভারতের জনগণ নানা সমস্যার মধ্যে আছে : শেখ হাসিনা
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি না কেন (ভারত সরকার) এটা করলো। তবে এটা দরকার ছিল না।’

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে সেখানকার সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ সরকারপ্রধান এ কথা বলেন।

তিন দিনের আরব আমিরাত সফরে গিয়ে ‘আবুধাবি সাসটেইনিবিলিটি উইক’ ও ‘জায়েদ সাসটেইনেবিলিটি অ্যাওয়ার্ড সেরিমনি’সহ কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর গত ১৪ জানুয়ারি দেশে ফেরেন তিনি।

ব্যস্ত কর্মসূচিরই ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী গালফ নিউজকে ওই সাক্ষাৎকার দেন। এটি তাদের অনলাইনে প্রকাশ হয় শনিবার (১৮ জানুয়ারি)।

গত ডিসেম্বরে ভারতের সংসদে পাস হয় সিএএ। সংসদে বিলটি পাসের সময় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ‘ধর্মীয় নির্যাতনের’ শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দিতে এ আইন করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে কেউ দেশান্তরী হয়নি বলে জানিয়ে আসছে ঢাকা।

একদিকে সিএএ, অন্যদিকে আসাম রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশের কারণে ভারত থেকে অনেকে বাংলাদেশে চলে আসছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়ায়।


নাগরিকত্ব সংশোধন আইনবিরোধী বিক্ষোভ চলছে ভারতজুড়ে

তবে এনআরসি প্রকাশের পর ভারত থেকে কেউ বাংলাদেশে আসছে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত থেকে উল্টো অভিবাসন হচ্ছে না (কেউ আসছে না)। বরং ভারতের জনগণ নানা সমস্যার মধ্যে আছে।’

সিএএ পাস এবং দেশজুড়ে এনআরসি কার্যকর করার ঘোষণা দেয়ার পর ভারতজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সেই বিক্ষোভ রক্তপাতেও গড়িয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এনআরসি কার্যকর হলে যেসব ভারতীয় মুসলিম তাদের নাগরিকত্বের নথিপত্র দেখাতে পারবেন না, তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা (এখনো) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সিএএ এবং এনআরসিকে বাংলাদেশ সবসময় ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দেখে আসছে। ভারত সরকারও বারবার বলে আসছে যে, এনআরসি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এমনকি গত অক্টোবরে আমার নয়াদিল্লি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগত আমাকে একই কথা বলে নিশ্চিত করেছেন।’

বিস্তৃত ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হতেই হবে
প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে বাস্তুচ্যুত করে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকেই রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি এবং এর সমাধানও সেখানে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনসহ তাদের এমন অজস্র সংকট মোকাবিলায় কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ এখনো নেয়নি মিয়ানমার। প্রত্যাবাসনে (এখন পর্যন্ত) দুটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে, একজন রোহিঙ্গাও স্বেচ্ছায় ফিরতে রাজি হয়নি। এতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার সফল হয়নি।’


এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বোঝা বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকাল বয়ে বেড়াবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন সরকারপ্রধান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই সমস্যা যদি থেকেই যায়, তবে তা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সেজন্য এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজ করে যাওয়া উচিত।

সরকারপ্রধান জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ এতদিন গ্যাসে নির্ভর করত। গ্যাস ফুরিয়ে আসায় উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এখন কয়লাসহ অন্য উৎসের দিকে নজর দিতে হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের দিকে মনোযোগ বাড়ালেও পরিবেশের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কীভাবে তার সরকার উন্নয়ন করে যাচ্ছে, তা-ও তুলে ধরেন সাক্ষাৎকারে।

 
আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা
                                  

গাজীপুর প্রতিনিধি

দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। মোনাজাতে ইহকালে শান্তি, পরকালে মাগফেরাত এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে এই আখেরি মোনাজাতে লাখো মুসল্লি অংশ নেন।

মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লির মাওলানা জমশেদ। মোনাজাতে লাখ লাখ মুসল্লির ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে পুরো টঙ্গী প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।


এর আগে রোববার বাদ ফজর থেকে হেদায়েতি বয়ান শুরু হয়। সকাল থেকে ইজতেমায় বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইকবাল হাফিজ। আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। চার দিন বিরতির পর গত ১৭ জানুয়ারি (শুক্রবার) ফজর নামাজের পর আম বয়ানের মাধ্যমে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। গত ১২ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে আখেরি মোনাজাতের দিন ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে ১৬টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করছে। এছাড়া বিআরটিসির শতাধিক বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

 
বৃত্তাকার রেলপথ প্রকল্প : সমীক্ষার বৃত্তেই আটকা পড়ে আছে
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকায় বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্য সমীক্ষার কাজ শুরু হয় চার বছর আগে। কয়েক ধাপে এই কাজের সময় বৃদ্ধি করেও সম্পন্ন হচ্ছে না সমীক্ষার কাজ। এতে আটকা পড়েছে মূল প্রকল্পের কাজ।


এদিকে মূল প্রকল্পের কাজে হাত দিতে না পারায় চাওয়া যাচ্ছে না উন্নয়ন সহযোগীর ঋণ। চলমান সমীক্ষা প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এখনও চূড়ান্ত ফিজিবিলিটি রিপোর্ট দাখিল না করায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধেও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই জটিলতা পরিহার ও সমীক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রকল্পের মেয়াদ আরো বৃদ্ধির প্রস্তাব গেছে পরিকল্পনা কমিশনে।

সাধারণত সমীক্ষা প্রকল্পের মেয়াদ ছয় মাস থেকে এক বছর বৃদ্ধি করা যায়। এরইমধ্যে কয়েক ধাপে এই সময় প্রায় চার বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে সমীক্ষা প্রস্তাব মেয়াদ বৃদ্ধির যথাযথ কারণ উল্লেখ করে সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নতুন করে আবারও পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে খসড়া ফিজিবিলিটি রিপোর্ট এবং ফাইনাল ফিজিবিলিটি রিপোর্ট নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে দাখিল করার জন্য তাগিদ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

জানা যায়, সমীক্ষার রিপোর্ট সম্পন্ন করতে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রথমে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ মেয়াদে জরুরি ভিত্তিতে সমীক্ষা চালানোর সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। পরে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকল্পের মেয়াদ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, অনুমোদিত সমীক্ষা প্রস্তাবে পরামর্শক কাজের মূল প্যাকেজের আওতায় কেনাকাটার জন্য সিঙ্গেল সোর্স সিলেকশনের সংস্থান ছিল। সেই অনুযায়ী ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিয়েশন কোম্পানিকে (আইআইএফসি) নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু আইআইএফসি’র প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে নতুন করে অন্যান্য কোম্পানি প্রস্তাব দাখিল করে। মূলত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যই প্রকল্পটির কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন হচ্ছে না।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘পরামর্শকদের সঙ্গে চুক্তিতে বিলম্ব হওয়ায় কিছু সময় আরো লাগবে। আশা করছি এই সময়েই প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে। বলা যায় প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। এর পরে ইআরডি’র (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) মাধ্যমে আমরা উন্নয়ন সহযোগীর সন্ধান করবো।’

যানজটে বেহাল নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এজন্য রাজধানী ঢাকার চারদিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ করতে চায় সরকার। বৃত্তাকার রেলপথ বাস্তবায়িত হলে ঢাকাসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার ও মুন্সিগঞ্জের মানুষ কোনো ধরনের যানজটে না পড়েই সহজেই রাজধানীতে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ হলে ঢাকা থেকে চাপ কমবে।

সূত্র জানায়, সম্ভাব্য বৃত্তাকার রেলপথটি হবে আব্দুল্লাহপুর-ধউর-বিরুলিয়া-গাবতলী-রায়েরবাজার—বাবুবাজার-সদরঘাট- ফতুল্লা- চাষাঢ়া- সাইনবোর্ড- শিমরাইল-পূর্বাচল সড়ক থেকে তেরমুখ পযর্ন্ত। এছাড়া এর পাশাপাশি নৌরুটও করা হবে। যেখানে উন্নতমানের ওয়াটার বাস চলাচল করবে। নৌরুটের পাশে নদীতীর ঘেঁষে হবে ইকোপার্ক, ওয়াকওয়ে। এজন্যও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

ঢাকার চারপাশে ৯১ কিলোমিটার সার্কুলার রুট করার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও রেলপথের দৈর্ঘ্য হবে ৮০ কিলোমিটার। যা কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী পাওয়া গেলে একটি প্রকল্পের আওতায় ঢাকার চারপাশে ৮০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। অথচ মূল প্রকল্প নেওয়ার আগে সমীক্ষা কাজেই চলে গেছে কয়েক বছর। আর যত দ্রুত এই সমীক্ষা শেষ হবে তত দ্রুত আলোর মুখ দেখবো মূল প্রকল্প।

 
নির্বাচন কমিশন আমাদের যে নির্দেশনা দিচ্ছে আমরা সেটাই করছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

একই দিনে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং সরস্বতী পূজার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের (ইসির), তাই এখানে কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।


শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মধুবাগে শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ও সরস্বতী পূজা একই দিন হলেও বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের। এই সিদ্ধান্ত তারা নেবে। এতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হবে এমন কোনো কারণ নেই। আমরা মনে করি সবাই সবার গুরুত্বটা বোঝেন। নির্বাচন কমিশন যা বলবেন আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেই দিকে নজর রেখেই কাজ করবে।

‘এছাড়া আমাদের জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অনেক দায়িত্ববান। কাজেই কোনো কিছুতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয় এমন কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন কমিশন আমাদের যে নির্দেশনা দিচ্ছে আমরা সেটাই করছি। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।’

এর আগে মন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি, তারপর দেশের স্বাক্ষরতার হার একদম কমে যায়। ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর এখন দেশের স্বাক্ষরতার হার ৭৩ ভাগে পৌঁছেছে। এখন অভিভাবকরা বুঝতে শিখেছেন শিক্ষার বিকল্প নেই।

‘জোর গলায় বলতে পারি, দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে মানুষ তার সন্তানদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করছেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রী বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সব স্কুলে ইমারতসহ সবক্ষেত্রে সুন্দর ও উন্নত করা হয়েছে। এ কারণে আমরা সবস্তরে শিক্ষার সুফল পাচ্ছি’।

নির্বাচনে যেসব ওয়াদা আমরা করেছিলাম একের পর এক তাতে সফল হচ্ছি। এই কারণে বাংলাদেশ আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। শুধু শিক্ষার হার না, সবকিছুতে আমরা সফল থেকে সফলতর হচ্ছি। যা বলে শেষ করা যাবে না, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান টিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুস সাত্তার, প্রতিষ্ঠানটির গর্ভনিং বডির সভাপতি সুফি সুলতান আহমেদ প্রমুখ।

 
দেশের বৃহৎ জুমার নামাজ আদায় ইজতেমা ময়দানে
                                  

গাজীপুর প্রতিনিধি

টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকেই এ জামাতে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের ঢল নামে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মুসল্লিসহ গাজীপুর ও ঢাকার আশপাশের সব জেলার মুসল্লি এতে অংশ নেয়।

জুমার নামাজে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দানের আশপাশের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও খালি জায়গায় অবস্থান নেয় মানুষ। এছাড়া অনেকেই বাড়ির ছাদ, নৌকা, গাড়ির ছাদে পাটি, পলিথিন, চট ও পত্রিকা বিছিয়ে নামাজে অংশ নেয়।

এর আগে বাদ ফজর আমবয়ানে শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। দ্বিতীয় পর্ব পরিচালনা করছেন মাওলানা সাদের অনুসারীরা।

৩ দিনব্যাপী ইজতেমার এ পর্বের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আম ও খাস বয়ান, তালিম, তাশকিল, ৬ উছুলের হাকিকত, দরসে কোরআন, দরসে হাদিস, চিল্লায় নাম লেখানো, নতুন জামাত তৈরি ও যৌতুকবিহীন বিয়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ আছর ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রাক বয়ান শুরু করেন বাংলাদেশের ফায়সাল সুরা ওয়াসিফুল ইসলাম। পরে বাদ মাগরিব বয়ান করেন ভারতের মাওলানা শামীম।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বাদ ফজর বয়ান করেন মদিনার মাওলানা ওসমান। আগামী রোববার (১৯ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। এর আগে গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) থেকে রোববার (১২ জানুয়ারি) পর্যন্ত ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমারও প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় কয়েক লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে এদিন দেশের বৃহৎ জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার থেকেই ইজতেমা ময়দানে ভিড় জমান ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এখনও ইজতেমা ময়দানে মানুষের আগমন চলছে। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত তাদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ইজতেমার প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও থাকছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের সব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি করছে।

এ পর্বের ইজতেমা পরিচালনার ব্যাপারে বাংলাদেশের ফায়সাল সুরা ওয়াসিফুল ইসলাম জানান, ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভি এ ইজতেমায় আসবেন না। তবে নিজামুদ্দিনের পক্ষ থেকে তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি ও আলেমসহ ৩২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইজতেমায় এসেছেন। তাদের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হবে এ পর্বের ইজতেমা।

বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকেই মানুষ অংশ নিয়েছেন দ্বিতীয় পর্বের এ ইজতেমায়। তারা জেলাভিত্তিক নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন।

শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরে থেকেও ইজতেমায় অংশ নিতে এসেছেন অনেক অতিথি। সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, ইরাক, তুরস্ক, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকে এসেছেন তারা।

এদিকে আগত মুসল্লিদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিতে দ্বিতীয় পর্বেও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান ইজতেমা ময়দানের উত্তর পাশে নিউ মন্নু কটন মিলের ভেতরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

 
ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়
                                  

স্টাফ রিপোর্টার


সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জমজমাট হয়ে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায় হাজার হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়। বিপুল জনসমাগমে খুশি বিক্রেতারাও। ছুটির দিন বাবা-মার সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে শিশুরাও মেতে উঠেছে আনন্দে। ঘুরে বেড়ানো, কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া আর অস্থায়ী শিশু পার্কগুলোর বিভিন্ন রাইডে উঠে খুশি তারা। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সরেজমিন বাণিজ্যমেলায় গেলে এসব দৃশ্য চোখে পড়ে।

এদিন ঘড়ির কাঁটা ১০টা ছোঁয়ার আগে থেকেই টিকেট কাউন্টারের সামনে দেখা যায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর লাইন। পরে মূল ফটক উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরপরই দীর্ঘ সারিতে মেলায় প্রবেশ করে তারা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তাদের সংখ্যা। দুপুর ১২টার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মেলা প্রাঙ্গণ। ছাড় বা বিভিন্ন রকম অফার চলছে এসব স্টলগুলোতে দেখা যায় ক্রেতদের উপচে পড়া ভিড়।

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন শিল্পী আক্তার। তিনি বলেন, যানজট আর কর্মব্যস্ততার কারণে অন্যদিন মেলায় আসা হয় না। ছুটির দিন হওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে মেলায় এসেছি। কেনাকাটার পাশাপাশি একটু ঘোরাঘুরি করবো, খাওয়াদাওয়া করবো।

বিক্রির ব্যাপারে স্টাইল কালেকশনের ম্যানেজার হাবিব বলেন, এবারের মেলায় প্রথম দিকে বিক্রির পরিমাণ খুবই কম ছিল। এখন অনেক ভালো হচ্ছে। দর্শনার্থী বেশি হলে বিক্রি বেশি হয়, এখন মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি।

উপহার ও ছাড়ে পণ্য বিক্রি: মেলায় বিভিন্ন স্টলে নানা রকম উপহার ও ছাড়ে পণ্য বিক্রি চলছে। ৪০৫ টাকা মূল্যের বসুন্ধরা নুডলস পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩২০ টাকায়। তা বাদেও এ প্যাকেজের সঙ্গে পাওয়া যাবে ৩টি গিফট। এর মধ্যে আছে একটি ঝুড়ি, একটি টিফিন বক্স আর একটি বাটি।

মিনিস্টার ফ্রিজ কিনলে দেওয়া হচ্ছে হরেক রকম উপহার, এর সঙ্গে থাকছে ভ্রমণ টিকিট। ওয়ালটন ইলেকট্রনিক্স পণ্য কিনলেও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মাত্রার ছাড় ও উপহার। মোবাইল কোম্পানি স্যামস্যাং ছাড়ের পাশাপাশি ইন্টারনেট অফারও দিচ্ছে।

কাশ্মীরী আচার দিচ্ছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। বিকাশ অ্যাপে কেনাকাটায় ছাড় মিলছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে গৃহস্থালী পণ্যের বিভিন্ন স্টলে দেওয়া হচ্ছে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। ননস্টিক কড়াইসহ রান্নার নানা উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৩০ টাকায়।

ব্লেজারেও ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে অনেক স্টলে।

বিক্রি বেড়েছে: মেলায় প্রথম কয়েক দিন বিক্রিতে খরা গেলেও এখন ক্রমেই বিক্রি বাড়ছে। সপ্তাহের অন্যদিন সকাল বেলার দিকে তেমন একটা বিক্রিবাট্টা না হলেও দুপুরের পর থেকেই বিক্রি বেড়ে যায়। আর চ্ছুটির দিন তো সকাল থেকেই শুরু হচ্ছে বিক্রি।

এখন পর্যন্ত ক্রোকারিজ পণ্যই বিক্রিতে শীর্ষে আছে বলে জানান বিক্রেতারা। এরপরই রয়েছে প্লাস্টিক সামগ্রী, পোশাক ও প্রসাধন। এসব স্টলে সবসময় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় লেগেই আছে। এছাড়া বিক্রি বেড়েছে খাদ্যপণ্যের।

শিশুর বিনোদন ‘শিশু পার্ক’: অভিভাবকদের সঙ্গে মেলায় এসেছে শিশুরাও। কেনাকাটার চেয়ে মেলার দুই পাশে বসানো অস্থায়ী দুটি শিশু পার্কই তাদের বেশি আগ্রহের জায়গা। জাম্পিং, হানিসিং, মিনিট্রেন, মিনি হেলিকপ্টারসহ দুটি পার্কে ১০টি করে মোট ২০টি রাইড আছে। সেগুলোতে মনের আনন্দে হেসে খেলে বেড়াচ্ছে শিশুরা।

 

দর্শনার্থীদের ঢল ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায়
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) হওয়ায় সকাল ১০টা থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে।


‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার প্রযুক্তির মহাসড়ক’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেলায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, ট্রিপল প্লে (এক ক্যাবলে ফোন লাইন, ইন্টারনেট ও টেলিভিশন সংযোগ), মোবাইল অ্যাপ, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা ও নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

জেডটিই, হুয়াওয়ে, নকিয়া ও এরিকসন তাদের ফাইভ–জি প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট টেলিমেডিসিন ও এটিএম সেবা দেখাচ্ছে দর্শনার্থীদের।

মেলায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির টিভি ও মোবাইলসহ নানা পণ্য কিনছে দর্শনার্থীরা। এতে আইটি খাতের উদ্যাক্তারাও এসেছেন।

মেলায় আসা দর্শনার্থী সায়হাম বলেন, মেলায় এসে পঞ্চম প্রজন্মের (ফাইভ–জি) মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারলাম। সরকারি বিভিন্ন সেবা কীভাবে নিতে হবে সেটাও জানতে পারলাম। এটা ভালো লাগার জায়গা।

আরেক দর্শনার্থী মানসুর হাদি বলেন, এ মেলা একটি ভালো উদ্যোগ। এখানে এসে প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারলাম।

রোবট। ছবি: জি এম মুজিবুরডিজিটাল প্রযুক্তির মহাসড়ক বিনির্মাণে অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং পরিবর্তিত বিশ্বে নতুন সভ্যতার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, রোবটিকস, বিগডেটা, ব্লকচেইন ও ফাইভ–জির বিস্ময়কর প্রভাব এ মেলায় উঠে আসছে।

মেলায় ইন্টারনেট সংযোগদাতাসহ ৮২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এতে ২৫টি স্টল, ২৯টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২৮টি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত ৮টায় মেলা শেষ হবে।

 
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কাযর্ক্রম : একই ধাঁচের প্রকল্প ৬ বার, চলছে ২৭ বছর ধরে!
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

সরকারের উন্নয়ন বাজেটের আওতায় বিনিয়োগধর্মী একটি বিশেষ কাজ নির্দিষ্ট মেয়াদে সম্পন্ন করার জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। নতুন নিয়ম হয়েছে চার বারের বেশি কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে না। অথচ ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কাযর্ক্রম’ একই ধরনের প্রকল্প ছয় বার নেয়া হয়েছে।

 

 

নতুন করে সপ্তম পর্যায়ে প্রকল্প নেয়ার আবেদন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ৭ম পর্যায়ে প্রকল্প নেয়ার জন্য নানা ধরণের যুক্তি তুলে ধরেছে সংস্থাটি । তবে বেঁকে বসেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ও অর্থ বিভাগ। একই ধরনের প্রকল্প বার বার হাতে না নিয়ে একে রাজস্বের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে অর্থবিভাগ ও আইএমইডি।

 

নতুন করে সপ্তমবারের মতো একই ধরনের প্রকল্প নেয়ার প্রস্তাব গেছে পরিকল্পনা কমিশন। আইএমইডি জানায়, সপ্তম পর্যায়ে প্রকল্পের জনবল বেতন, সম্মানী দেয়ার বিষয়ে স্টিয়ারিং কমিটির কোনো এখতিয়ার নেই। এই জন্য দরকার প্রকল্পের কাযর্ক্রম রাজস্ব বাজেটের আওতায় পরিচালনা করা।

 

অন্যদিকে অর্থবিভাগ জানায়, ২৭ বছর ধরে কোনো প্রকল্প চলতে পারে না। নতুন করে এই প্রকল্পের আওতায় অর্থ বরাদ্দ দেয়াটাও তাই অযৌক্তিক। একে প্রকল্প না ভেবে ভিন্ন দৃষ্টিতে ভাবতে হবে।

 

অর্থবিভাগের যুগ্ম সচিব আব্দুর রহমান খান বলেন, কোনো প্রকল্প ২৭ বছর ধরে চলতে পারে না। এটা কোনো গ্রামারের মধ্যেও পড়ে না। প্রকল্প সব সময় নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হতে হবে। নানা চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তবে এটা নিয়ে ভিন্নভাবে পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

 

অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশন জানায়, প্রকল্পের প্রস্তাবিত সপ্তম পর্যায়ে ছাত্র ছাত্রীদের বই দেয়ার জন্য মুদ্রণ খাত হতে ইতোমধেই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে যেহেতু শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ প্রকল্পের নিয়মিত জনবল নন, সেহেতু তারা শিক্ষা কাযর্ক্রম চলমান রাখতে পারেন।

 

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি সরকারের বিশেষ বিবেচনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি যথাসময়ে সম্পন্ন হবে। এ প্রেক্ষাপটে ৭ম পর্ায়ে প্রকল্প অনুমোদনের পূর্ব পযর্ন্ত প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়সহ জেলা ও উপজেলা শিক্ষাকেন্দ্র, দারুল আরকাম মাদ্রাসা এবং রিসোর্স সেন্টারের কাযর্ক্রম চলমান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

প্রকল্পটি জননন্দিত বৃহৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪টি জেলা, ৫০৫টি উপজেলা, থানা ও জোনে চলমান। ৩২ হাজার প্রাক-প্রাথমিক, ৪১ হাজার কুরআন শিক্ষা এবং ৭৬৮টি বয়স্ক কেন্দ্রেসহ মোট ৭৩ হাজার ৭৬৮টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত ছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি ৭ম বারের মতো প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের সকল কেন্দ্র চালু রাখাসহ প্রকল্পের আওতায় নিয়োজিত জনবলের বেতন, সম্মানী ও ভাতা পরিশোধের প্রস্তাব করা হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রকল্পটি ৭ম পর্যায়ে অনুমোদন পাবে বলে আশা করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

 

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম বলেন, আশা করছি সপ্তম পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের সঙ্গে পাবলিক সেন্টিমেন্ট বা জনগণের অনুভূতি জড়িত। ইচ্ছা করলেই প্রকল্প বন্ধ করা যাবে না। সকল বিষয় আমরা সমাধান করেছি, ৭ম পর্যায়ে হতে আর বাধা নেই। বর্তমানে শিক্ষকদের মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা বেতন দেয়া হচ্ছে। সামনে তা বাড়িয়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকা করা হবে।

 

রাজস্ব আওতায় আনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সচিব বলেন, এই বিষয়েও আলোচনা চলছে।

 

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বৃহৎ প্রকল্প। আর্থ সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও শিক্ষা বিস্তারের কাজে মসজিদের ইমাম সাহেবদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৩ সালে মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক এবং ঝরেপড়া (ড্রপ-আউট) কিশোর-কিশোরী ও অক্ষরজ্ঞানহীন বয়স্কদের জন্য মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। এ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রমের ইতোমধ্যে ৬টি পর্যায় শেষ করে এটিকে ৭ম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্পে মসজিদের ইমামগণ মসজিদকেন্দ্রে শিশু ও বয়স্ক শিক্ষার্থীদেরকে বাংলা, অংক, ইংরেজি, আরবি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দান করছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত স্থানে এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তার ও র্কোস সম্পন্নকারীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী অধিকাংশই সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠি।

 

এ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রতিটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ জন, সহজ কুরআন শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ জন ও বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫জন। ধারাবাহিকভাবে চলমান এ প্রকল্পটির আওতায় ১ম পর্যায়ে মোট ৯৪ হাজার ৫৯০জন, দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ৭ লক্ষ ২৩ হাজার ৮৮০ জন, ৩য় পর্যায়ে মোট ১৬ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় ৪র্থ পর্যায়ে প্রকল্পের মাধ্যমে ২৯ লক্ষ ৩৭ হাজার ৬০০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্র্রাথমিক ও পবিত্র কুরআন শিক্ষা প্রদান করা হয়। ৫ম পর্যায়ে জানুয়ারী ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট ৬৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান করা হয়েছে,যার অগ্রগতি শতভাগ।

 

এ  হিসেবে প্রকল্প কার্যক্রম খরচ অর্থাৎ প্রথম পর্যায় ১৯৯৩ সাল অর্থাৎ প্রকল্পের ১ম পর্যায় থেকে ৫ম পর্যায়ের ২০১৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক, সহজ কুরআন শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষাস্তরসহ মোট ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯৫০ জনকে শিক্ষা দান করা হয়েছে।

 

আগ্রহী আলেমদের জন্য দ্বিনী দাওয়াতভিত্তিক কর্মসংস্থান এবং সাক্ষরতা হার আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে একনেকে ১ হাজার ৫শত ৯৩ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ রেখে ২০১৫ হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক  ৬ষ্ঠ পর্যায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।

 

অনুমোদিত প্রকল্পটির মাধ্যমে সারাদেশব্যাপী ৩২ হাজারটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র ৪৪ লক্ষ ১০ হাজার জন শিশু শিক্ষার্থীকে অক্ষর জ্ঞানদানসহ নৈতিকতা শিক্ষা দিয়ে আসছে। ৭৬৮টি বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশে ৯৬ হাজার জন বয়স্ক (পুরুষ, মহিলা এবং জেলখানার কয়েদি) নিরক্ষরকে সাক্ষর করার পাশাপাশি ধর্মীয়  শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।

 

৪১ হাজারটি সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫১ লক্ষ ১০ হাজার জন স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও ঝরেপড়া কিশোর-কিশোরীদেরকে স্বাক্ষর জ্ঞানদানসহ শুদ্ধভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষা ও বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।  ৩টি শিক্ষা স্তরে ৫ বছর মেয়াদে সর্বমোট ৯৬ লক্ষ ১৬ হাজার জনকে শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

 

প্রকল্পের মোট ব্যয়  ২ হাজার ২৭২ কোটি ৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের শুরু থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে পযর্ন্ত আর্থিক অগ্রগতি ২ হাজার ৭৩ কোটি ৬৮ লাখ, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৯১ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৯৭ শতাংশ। 

জানুয়ারিতেই সৌদি থেকে ফিরতে হলো দেড় হাজার বাংলাদেশিকে
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরব থেকে আরও ১০৯ বাংলাদেশিকে ফিরে আসতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ বিমানযোগে তারা দেশে ফেরেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৬ দিনে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার ফেরা সিলেটের তালেব (৩০) মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। রাতেই তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাঁচ বছর আগে শ্রমিক হিসাবে সৌদি যান তালেব। কিন্তু গত দুই মাস আগে সেখানে মানসিক ভারসাম্য হারান তিনি।


তবে মাত্র দুই মাস আগে সৌদি গিয়েছেলন নোয়াখালীর আজিম হোসেন। পাসপোর্টে তিন মাসের ভিসা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তিনি বলেন, বাজার করার জন্য মার্কেটে যাওয়ার সময় পুলিশ আটক করে। গ্রেফতারের সময় পুলিশের সঙ্গে নিয়োগকর্তার কথা বলার পরেও তাকে দেশে পাঠানো হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের রুহুল আমিন, কুমিল্লার ফিরোজ হোসেন ও মানিক, শরিয়তপুরের মিলন, যশোরের মোসলেম উদ্দিন, বগুড়ার মেহেদি হাসান, গাজীপুরের রাজিবসহ ১০৯ বাংলাদেশির বেশিরভাগেরই এমন অবস্থা।

দেশে ফেরা কর্মীদের অভিযোগ, আকামা তৈরির জন্য নিয়োগ কর্তাকে টাকা দিলেও আকামা করে দেয়নি। পুলিশ গ্রেফতারের পর নিয়োগ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কর্মীর দায় নিচ্ছে না।

বরাবরের মতো বৃহস্পতিবারও ফেরত আসাদের মাঝে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগীতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে জরুরি সহায়তা দেয়া হয়।


ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ২০১৯ সালের ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন বছর শুরুর ১৬ দিনে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি সৌদি থেকে ফিরতে বাধ্য হলেন। তাদের প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। কয়েকমাস আগে গিয়েছিলেন এমন লোকও আছেন। তারা সবাই ভবিষ্যত নিয়ে হতাশায় ভুগছেন।

শরিফুল হাসান গত বছরের পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ কর্মী দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার ৭৮৯, মালয়েশিয়া থেকে ১৫ হাজার ৩৮৯, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছয় হাজার ১১৭, ওমান থেকে সাত হাজার ৩৬৬, মালদ্বীপ থেকে দুই হাজার ৫২৫, কাতার থেকে দুই হাজার ১২, বাহরাইন থেকে এক হাজার ৪৪৮ ও কুয়েত থেকে ৪৭৯ বাংলাদেশি শূন্য হাতে ফিরেছেন, যাদের পরিচয় ডিপোর্টি।



তিনি আরও বলেন, এই মানুষগুলোর পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত। ফেরত আসা প্রবাসীদের আমরা শুধু বিমানবন্দরে সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছি না, তারা যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেজন্য কাউন্সিলিং, দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও আর্থিকভাবেও পাশে থাকতে চাই। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সবাই মিলে কাজটি করতে হবে।

তিনি বলেন, এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয় সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।

 
তুরাগপাড়ে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু, আজ বৃহত্তর জুমার নামাজ
                                  

 

গাজীপুর প্রতিনিধি 

 

 

আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে মুখর কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গীর তুরাগপাড়ের বিশ্ব ইজতেমা ময়দান। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপস্থিতিতে চলেছে ইমান ও আখলাকের উপর বয়ান।

 

মঙ্গলবার থেকেই ইজতেমায় অংশ নিতে ৬৪টি জেলার মুসল্লিরা ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছেন। ১৯ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা।

 

দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমারও প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় কয়েক লক্ষ মুসল্লি নিয়ে বৃহৎ জুমার নামাজ আদায় করা হবে। জুমার নামাজে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকার বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেবেন।

 

 

৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের সমন্বয়ক হাজী মুনির হোসেন জানান, মঙ্গলবার থেকে অনেক মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে চলে আসায় বৃস্পতিবার বাদ ফজর থেকে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে প্রাক বয়ান চলতে থাকে। বাদ ফজর প্রাক বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুফতি শেহজাত, বয়ানের অনুবাদ করেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম মুফতি আজিম উদ্দিন, বাদ জোহর বয়ান পেশ করেন ভূপাল মুরব্বি ইকবাল হাফিজ। বয়ানের তরজমা করেন, কাকরাইলের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা মনির ইউছুফ, বাদ আসর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, বাদ মাগরিব মূল আমবয়ান করেন ভারতের মাওলানা শামীম তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা জিয়া বিন কাসেম।

 

শুক্রবার বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা চেরাগ আলী। তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আশরাফ আলী।

 

 

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আমির ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসেফুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভি এ ইজতেমায় আসবেন না। তবে নিজামুদ্দিনের পক্ষ থেকে তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বি ও আলেমসহ ৩২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে বিশ্ব ইজতেমায় এসে পৌঁছেছেন। তাদের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হবে বিশ্ব ইজতেমা। এ ছাড়া বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে দ্বিতীয় পর্বের এ ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে আসছেন মুসল্লিরা। তারা জেলা ভিত্তিক নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন।

 

হাজী মো. মনির হোসেন জানান, ইতোমধ্যে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, ইরাক, তুরস্ক থেকে শুরু করে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে বিদেশি মেহমানসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইজতেমা স্থলে হাজির হয়েছেন। এ পর্বের ইজতেমায় আগত মানুষের ঢল অব্যাহত থাকবে রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত।

 

 

এ পর্বেও মুসল্লিদের জন্য থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া অসুস্থ মুসল্লিদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মহানগর পুলিশ জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারি সকল দফতর সার্বক্ষণিক ভাবে মুসল্লিদের সেবা দানে ব্যস্ত সময় পার করছে।

 
শাহবাগে সড়ক অবরোধ, সিটি নির্বাচন পেছানোর দাবি
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

সরস্বতী পূজার দিন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে সড়ক অবরোধ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।


এতে ওই এলাকার আশেপাশের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে নির্বাচন পেছানোসহ ৩ দফা দাবিতে ১৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বুধবার সেই আল্টিমেটাম শেষ হয়।

এরপর সকালে রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ করে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও করতে যাত্রা শুরু করেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। সেসময় পুলিশ তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিলে, মিছিল নিয়ে শাহবাগে এসে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা৷ দুপুর আড়াইটা পর্যন্তও ওই বিক্ষোভ চলছিল৷

শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত তিনদফা দাবি:

১. আগামী ৩০শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ আগামী ১৫ জানুয়ারি বেলা ১২টার মধ্যেই পরিবর্তন করতে হবে৷

২. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের দায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার ও কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করতে হবে৷

৩. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে পরদিন বেলা ১২টায় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা ও নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে।

গত ২২ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য ৩০ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেন।

কিন্তু একই তারিখ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজা থাকায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন তার প্রতিবাদ করে নির্বাচন পেছানোর দাবি তোলে।

এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন।

তবে সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত মঙ্গলবার রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন।

 
ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ : ধর্ষনের পর ৫০০ টাকা দাবি করেছিল মজনু
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের সব আলামত মিলেছে। ওই ঘটনায় গ্রেফতার মজনু ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দেয়া তথ্যে হুবহু মিল পেয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।


এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি যেসব আলামত উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছিল, তার প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। ওই রিপোর্টের সাথে ধর্ষক মজনুর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনের মিল রয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হাসপাতালে তার কাছ থেকে নেয়া তথ্যের সঙ্গে মজনুকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের হুবহু মিল রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এখন কেবল ওই তরুণীর ভ্যাজাইনাল সোয়াবের সঙ্গে মজনুর ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন মেলানো বাকি। এ ছাড়া বাকি সব পরীক্ষার প্রতিবেদন মিলেছে। তাতে এটি প্রতীয়মান হয় যে মজনুই ওই ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছে।

গ্রেফতারের পরদিন গত ৮ জানুয়ারি মজনুকে আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি মজনুর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেদিন থেকেই ডিবির হেফাজতে মজনুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে মজনু। ঢাবি শিক্ষার্থী ছাড়াও মজনু গত ১০ বছর ধরে একাধিক তরুণী, ভবঘুরে, প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক নারীকে ধর্ষণ করেছে। অনেককে হত্যার হুমকি দিয়েও ধর্ষণ করেছে মজনু।

জিজ্ঞাসাবাদে মজনু জানায়, ঘটনার দিন পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে ওই ছাত্রীকে ঝোঁপের আড়ালে নিয়ে যায় সে৷ এ সময় ওই ছাত্রী চিৎকার চেচামেচি করলেও রাস্তায় চলাচলকারী দ্রুতগতির যানবাহনের শব্দে তা ঢাকা পড়ে যায়। এক পর্যায়ে সে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের পর ওই তরুণীর কাছে সে ৫০০ টাকা দাবি করে। মেয়েটি তার ব্যাগে টাকা আছে জানালে মজনু অন্ধকারে ব্যাগ খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে ব্যাগ পাওয়ার পর ভেতরে টাকা খুঁজতে থাকে সে। আর এই ফাঁকে মেয়েটি ছুটে পালায় ঘটনাস্থল থেকে।

আলোচিত ওই ঘটনার পর গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর শেওড়া রেল ক্রসিং থেকে মজনুকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে এলিট এই ফোর্সটির গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, মো. মজনু পেশায় দিনমজুর ও হকার। তবে এই পেশার আড়ালে সে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধেও জড়িত ছিল। ধর্ষণের মতো অপকর্মও এটাই প্রথম নয়। মজনু মূলত একজন সিরিয়াল রেপিস্ট। সে আগেও এমন অপকর্ম করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

সারওয়ার বিন কাশেম আরো বলেন, মজনুর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা গ্রামে। দশ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় আসে সে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে অন্যান্য অপরাধমূলক কাজের পাশাপাশি সিরিয়াল রেপের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

ঘটনার দিন কুর্মিটোলার ওই স্থানে ওঁৎ পেতে ছিল মজনু। ঢাবি ছাত্রীকে দেখে সে আলোড়িত হয়, তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং পাজাকোলা করে তাকে উঠিয়ে ঝোঁপের মধ্যে নিয়ে যায়। জায়গাটা ঝোঁপের আড়াল, মানুষের চলাচল খুবই সীমিত ছিল। সেখানে ওই ছাত্রীকে গলা চেপে ধরে একাধিকবার হত্যারও চেষ্টা করে মজনু।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি কুর্মিটোলা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় বাস থেকে নামার পর ধর্ষণের শিকার হন ঢাবি শিক্ষার্থী। তিনি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্ষণিকা’ নামের দোতলা বাসে (ঢাবি-টঙ্গী রুট) বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যায় কুর্মিটোলায় বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে ওই ছাত্রীকে একজন ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে উল্লেখ করা হয়।

 
নৌবাহিনীর সফল মিসাইল ফায়ার বঙ্গোপসাগরে
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

বানৌজা বঙ্গবন্ধু থেকে​: দুপুর সাড়ে ১২টা। কাউন্ট ডাউন শুরু। ৫, ৪, ৩, ২, ১। সবার চোখ তিনটি জাহাজের দিকে। হঠাৎ আগুনের ঝলকানি বঙ্গোপসাগরে। সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলি উড়িয়ে ছুটে গেলো বানৌজা দুর্জয়ের দূরপাল্লার সারফেস টু সারফেস মিসাইল।

এরপর ফায়ার করা হয় বানৌজা দুর্দান্ত থেকে আরেকটি মিসাইল। দুইটি মিসাইল ১২ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বার্ষিক সমুদ্র মহড়ার চূড়ান্ত দিনের চিত্র এটি।

এ মহড়ার মূল প্রতিপাদ্য- সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সমুদ্র সম্পদের হেফাজত, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিধানসহ চোরাচালান রোধ, জলদস্যুতা দমন, উপকূলীয় এলাকায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমুদ্র এলাকার প্রহরা নিশ্চিতকরণ।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ‘এক্সারসাইজ সেফ গার্ড ২০১৯’ শীর্ষক এ মহড়ায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি ‘বানৌজা বঙ্গবন্ধু’ থেকে সমাপনী দিবসের মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, কমান্ডার বিএন ফ্লিট রিয়ার অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বানৌজা বঙ্গবন্ধুর অধিনায়ক ক্যাপ্টেন কেইউএম আমানত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

১৮ দিনব্যাপী মহড়ায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট, করভেট, ওপিভি, মাইন সুইপার, পেট্রোল ক্রাফট, মিসাইল বোট, মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্রাফট ও হেলিকপ্টার প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, সেনা ও বিমানবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট মেরিটাইম সংস্থাগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে।

চার ধাপে অনুষ্ঠিত মহড়ার বিশেষ দিকগুলো হচ্ছে- নৌবহরের বিভিন্ন কলাকৌশল অনুশীলন, সমুদ্র এলাকায় পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, লজিস্টিক অপারেশন, ল্যান্ডিং অপারেশন, উপকূলীয় এলাকার নৌ স্থাপনাগুলোর মহড়া ইত্যাদি।

চূড়ান্ত দিনের মহড়ায় ছিলো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে মিসাইল উৎক্ষেপণ, শোল্ডার লাঞ্চড স্যাম ফায়ারিং, অ্যান্টি এয়ার রেপিড ওপেন ফায়ার, আরডিসি ফায়ার, ডিবিএসএস/ নৌকমান্ডো মহড়া ও নৌযুদ্ধের কলাকৌশল।

 

   Page 1 of 141
     জাতীয়
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোন সম্পর্ক নেই গ্রেফতারি পরোয়ানার সঙ্গে
.............................................................................................
ই-পাসপোর্ট মিলবে রাজধানীর আগারগাঁও, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী থেকে
.............................................................................................
মানবতার সেবায় রক্তদান এবার বাণিজ্য মেলায়
.............................................................................................
ভারতের জনগণ নানা সমস্যার মধ্যে আছে : শেখ হাসিনা
.............................................................................................
আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা
.............................................................................................
বৃত্তাকার রেলপথ প্রকল্প : সমীক্ষার বৃত্তেই আটকা পড়ে আছে
.............................................................................................
নির্বাচন কমিশন আমাদের যে নির্দেশনা দিচ্ছে আমরা সেটাই করছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
দেশের বৃহৎ জুমার নামাজ আদায় ইজতেমা ময়দানে
.............................................................................................
ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়
.............................................................................................
দর্শনার্থীদের ঢল ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায়
.............................................................................................
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কাযর্ক্রম : একই ধাঁচের প্রকল্প ৬ বার, চলছে ২৭ বছর ধরে!
.............................................................................................
জানুয়ারিতেই সৌদি থেকে ফিরতে হলো দেড় হাজার বাংলাদেশিকে
.............................................................................................
তুরাগপাড়ে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু, আজ বৃহত্তর জুমার নামাজ
.............................................................................................
শাহবাগে সড়ক অবরোধ, সিটি নির্বাচন পেছানোর দাবি
.............................................................................................
ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ : ধর্ষনের পর ৫০০ টাকা দাবি করেছিল মজনু
.............................................................................................
নৌবাহিনীর সফল মিসাইল ফায়ার বঙ্গোপসাগরে
.............................................................................................
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মিসাইল উৎক্ষেপণ দুপুরে
.............................................................................................
শাহজালালে ৭ ঘণ্টা পর ফ্লাইট ওঠানামা শুরু
.............................................................................................
২১তম স্প্যান বসলো পদ্মাসেতুতে
.............................................................................................
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বাংলাদেশে একটি হাইটেক পার্ক স্থাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
নিয়ম লঙ্ঘন করা মামলায় ড. ইউনূসকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের ৯ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বসবেন
.............................................................................................
অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
তীব্র যানজট বিমানবন্দর সড়কে
.............................................................................................
১২ মুসল্লির মৃত্যু প্রথম পর্বের ইজতেমায়
.............................................................................................
আখেরি মোনাজাতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বিশ্ব ইজতেমা : মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় শেষ হলো প্রথম পর্ব
.............................................................................................
সড়ক দুর্ঘটনা : ২০১৯ সালে ৭ হাজার ৮৫৫ জনের প্রাণহানী
.............................................................................................
হাসপাতালে গিয়ে ১০ টাকার টিকিটে চোখের চিকিৎসা করালেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
তীব্র শীতেও ইজতেমায় মুসল্লিদের ঢল
.............................................................................................
ভারত সফর বাতিল শাহরিয়ার আলমের
.............................................................................................
ঢাকাকে বাঁচাতে আমাদের সকল পরিকল্পনা শুরু করতে হবে : তা‌বিথ
.............................................................................................
দ্বিতীয় দফা ইসির সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগ
.............................................................................................
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব : আরও ৪ মুসল্লির মৃত্যু
.............................................................................................
সিরিয়াল রেপিস্ট ছিল গ্রেফতারকৃত মজনু : র‌্যাব
.............................................................................................
সিরিয়াল রেপিস্ট ছিল গ্রেফতারকৃত মজনু : র‌্যাব
.............................................................................................
ধর্ষক গ্রেপ্তার : ধর্ষণকারীর কাছে ঢাবি ছাত্রীর মোবাইল ফোন
.............................................................................................
যাচাই-বাছাই না করে শেয়ার দেবেন না : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ঘটনাস্থলের দুটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার
.............................................................................................
পিলখানা ট্র্যাজেডি : ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়
.............................................................................................
কারও পক্ষ নিচ্ছে না বাংলাদেশ : ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব
.............................................................................................
সরকারের এক বছর পূর্তি: ১০ বছরের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলছে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি
.............................................................................................
মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
দুদক কাউকে গ্রেফতারের এখতিয়ার রাখে না : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে শাহবাগে অবরোধ
.............................................................................................
বাণিজ্য মেলা শুক্রবার বন্ধ
.............................................................................................
নরপিশাচকে ধরতে পুলিশ তৎপর আছে : ঢাবি ভিসি
.............................................................................................
ধর্ষণের শিকার ঢাবির সেই ছাত্রী ছাত্রী ট্রমায় ভুগছেন
.............................................................................................
মেডিকেল ইউনিট করা হবে পুলিশের জন্য : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
গণতন্ত্রের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় পুলিশ সাহসিকতার ভূমিকা পালন করছে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]