| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * নির্বাচন কমিশন আমাদের যে নির্দেশনা দিচ্ছে আমরা সেটাই করছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   * নরেন্দ্র মোদী ভারতের নাগরিক কি-না নথিপত্র চেয়ে পিটিশন   * মাদকমুক্ত মডেল থানা রুপান্তরে যুগোপযুগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন ওসি দিদারুল ফেরদাউস   * সিঙ্গাপুরে শ্রমিক সঙ্কট : ফেরত পাঠানো শ্রমিকদের খুঁজছে কোম্পানীগুলো   * দেশের বৃহৎ জুমার নামাজ আদায় ইজতেমা ময়দানে   * ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়   * ঢাকা দুই সিটি নির্বাচন : `সরকারকে দোষারোপ করা অযৌক্তিক`   * মিয়ানমার যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট   * আসিফের প্রিয়া শাবনূর   * ‘রোনালদোর চেয়ে মেসির ব্যালন ডি অর বেশি দেখা বিরক্তিকর’  

   প্রবাস -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
৯২ বাংলাদেশি আটক, মালয়েশিয়ায় বিচারে বসছে বিশেষ আদালত

 নিউজ ডেস্ক

   

মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের সাধারণ ক্ষমার সুযোগ শেষ হওয়ার পর থেকেই অভিযান শুরু করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। বছরের প্রথম চারদিনে অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩১৫ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এর মধ্যে ৯২ বাংলাদেশি রয়েছেন। আটকদের রাখা হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে।

 

এদিকে আটকদের বিচার করতে আগামীকাল সোমবার দুটি বিশেষ আদালত বসছে। একটি বসবে দেশটির সেলাঙ্গর রাজ্যের সিমুনিয়ায় অন্যটি কেডা লঙ্কাতে।

 

অভিবাসন বিভাগের আইনের ১৯৫৯ ধারায় অবৈধ অভিবাসীদের আটকের পর বিশেষ আদালতে দ্রুত বিচার পরিচালনা করা হবে বলে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বার্নামার খবরে বলা হয়েছে।

 

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতারে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন পুলিশ ১ থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২৫টি অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ২ হাজার ১০ জনকে আটক করে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। এর মধ্যে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ৩১৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ৯২ জন, বাকিরা অন্য দেশের।

 

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, যেসব অবৈধ কর্মী সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নেননি, তাদের আটক করা হবে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন আটক কর্মীদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

 

 

ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান খায়রুল দাজাইমি দাউদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ আগস্ট থেকে সরকারের দেয়া সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন দেশের ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৭১ জন দেশে ফিরে গেছেন।

 

এর আগে ২৯ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানালেও তা আমলে নেয়নি দেশটির সরকার। পরবর্তী সময়ে গত ২৭ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তান সেরি মহিউদ্দিন ইয়াছিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ অভিবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ দেয়ার কারণেই অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সরকার আর কোনো সুযোগ দিতে চায় না। এদিকে পাঁচ বছরের মধ্যে পাঁচটি রূপরেখার মাধ্যমে বছরে ৭০ হাজার অবৈধ শ্রমিক বা অভিবাসীকে বিতাড়িত করার ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, পাঁচটি রূপরেখার ভিত্তিতে দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে। আর সেই অভিযানে যারা গ্রেফতার হবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে সরকার।

 

অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে মালয়েশিয়া সরকারের নেয়া নতুন পাঁচ কৌশল হচ্ছে—এক, প্রয়োগকৃত অভিযান পদ্ধতি, যা দেশব্যাপী অবৈধদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। দুই, আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ নীতি, যা নতুন আইনের খসড়া প্রণয়ন এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগের নীতিগুলোর সমন্বয় সম্পর্কিত বাস্তবায়ন। তিন, প্রবেশপথ ও বর্ডার নিয়ন্ত্রণ কৌশল, যা দেশের সীমানা এবং প্রবেশপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ। চার, বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত নীতিগুলোর সমন্বয়। পাঁচ, মিডিয়া এবং প্রচার কৌশল, যা অবৈধদের বিষয়ে মিডিয়া কাভারেজ, প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধি।

 

প্রসঙ্গত, গত ১ আগস্ট থেকে ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচি চালু করে মালয়েশিয়ার সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় সুযোগ নিয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৭১ কর্মী দেশে ফিরে গেছেন। এরপরও বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসীও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে টানা অভিযান পরিচালনা করবে অভিবাসন বিভাগ। এর আগে ২০১৬ সালে অবৈধকর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল মালয়েশিয়ার সরকার। ওই সময় বৈধ হতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ছয় লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক। তবে শেষ পর্যন্ত বৈধ হওয়ার সুযোগ পান ২ লাখ ৮০ হাজার ১১০ জন।

 

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে কোনো বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দেয়নি মালয়েশিয়া। তবে এর আগে ভিসা পাওয়া কর্মীরা সেপ্টেম্বরের পরও মালয়েশিয়া গেছেন। সব মিলিয়ে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় গেছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ জন।

৯২ বাংলাদেশি আটক, মালয়েশিয়ায় বিচারে বসছে বিশেষ আদালত
                                  

 নিউজ ডেস্ক

   

মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের সাধারণ ক্ষমার সুযোগ শেষ হওয়ার পর থেকেই অভিযান শুরু করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। বছরের প্রথম চারদিনে অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩১৫ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এর মধ্যে ৯২ বাংলাদেশি রয়েছেন। আটকদের রাখা হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে।

 

এদিকে আটকদের বিচার করতে আগামীকাল সোমবার দুটি বিশেষ আদালত বসছে। একটি বসবে দেশটির সেলাঙ্গর রাজ্যের সিমুনিয়ায় অন্যটি কেডা লঙ্কাতে।

 

অভিবাসন বিভাগের আইনের ১৯৫৯ ধারায় অবৈধ অভিবাসীদের আটকের পর বিশেষ আদালতে দ্রুত বিচার পরিচালনা করা হবে বলে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বার্নামার খবরে বলা হয়েছে।

 

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতারে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন পুলিশ ১ থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২৫টি অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ২ হাজার ১০ জনকে আটক করে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। এর মধ্যে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ৩১৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ৯২ জন, বাকিরা অন্য দেশের।

 

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, যেসব অবৈধ কর্মী সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নেননি, তাদের আটক করা হবে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন আটক কর্মীদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

 

 

ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান খায়রুল দাজাইমি দাউদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ আগস্ট থেকে সরকারের দেয়া সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন দেশের ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৭১ জন দেশে ফিরে গেছেন।

 

এর আগে ২৯ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানালেও তা আমলে নেয়নি দেশটির সরকার। পরবর্তী সময়ে গত ২৭ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তান সেরি মহিউদ্দিন ইয়াছিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ অভিবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ দেয়ার কারণেই অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সরকার আর কোনো সুযোগ দিতে চায় না। এদিকে পাঁচ বছরের মধ্যে পাঁচটি রূপরেখার মাধ্যমে বছরে ৭০ হাজার অবৈধ শ্রমিক বা অভিবাসীকে বিতাড়িত করার ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, পাঁচটি রূপরেখার ভিত্তিতে দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে। আর সেই অভিযানে যারা গ্রেফতার হবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে সরকার।

 

অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে মালয়েশিয়া সরকারের নেয়া নতুন পাঁচ কৌশল হচ্ছে—এক, প্রয়োগকৃত অভিযান পদ্ধতি, যা দেশব্যাপী অবৈধদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। দুই, আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ নীতি, যা নতুন আইনের খসড়া প্রণয়ন এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগের নীতিগুলোর সমন্বয় সম্পর্কিত বাস্তবায়ন। তিন, প্রবেশপথ ও বর্ডার নিয়ন্ত্রণ কৌশল, যা দেশের সীমানা এবং প্রবেশপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ। চার, বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত নীতিগুলোর সমন্বয়। পাঁচ, মিডিয়া এবং প্রচার কৌশল, যা অবৈধদের বিষয়ে মিডিয়া কাভারেজ, প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধি।

 

প্রসঙ্গত, গত ১ আগস্ট থেকে ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচি চালু করে মালয়েশিয়ার সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় সুযোগ নিয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৭১ কর্মী দেশে ফিরে গেছেন। এরপরও বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসীও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে টানা অভিযান পরিচালনা করবে অভিবাসন বিভাগ। এর আগে ২০১৬ সালে অবৈধকর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল মালয়েশিয়ার সরকার। ওই সময় বৈধ হতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ছয় লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক। তবে শেষ পর্যন্ত বৈধ হওয়ার সুযোগ পান ২ লাখ ৮০ হাজার ১১০ জন।

 

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে কোনো বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দেয়নি মালয়েশিয়া। তবে এর আগে ভিসা পাওয়া কর্মীরা সেপ্টেম্বরের পরও মালয়েশিয়া গেছেন। সব মিলিয়ে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় গেছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ জন।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনে শেষ সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের ঢল
                                  

 

নিউজ ডেস্ক

সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচির শেষের দিকে বাঁধভাঙা ঢল নেমেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন অফিসগুলোতে। আর এ ঢল সামলাতে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও ইমিগ্রেশন বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলছে এই কার্যক্রম।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৮টায় কাউন্টার খোলার আগে, মধ্যরাতের প্রথম দিকে বা তার আগে থেকে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রয়েছেন। হাজার হাজার অভিবাসী লাইনে প্রতীক্ষায় থাকলেও একটি ইমিগ্রেশন অফিস থেকে প্রতিদিন গড়ে ইস্যু করা হচ্ছে ৪০০টি ‘স্পেশাল পাস’। বাকিদের লাইনেই থাকতে হচ্ছে পরের দিনের প্রত্যাশায়। কারণ অবৈধ হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে চায় না তারা। তাই প্রতিক্ষা কষ্টের হলেও শুধু জরিমানা দিয়ে দেশে ফেরার এ সহজ সুযোগ কোনো অভিবাসী হাতছাড়া করতে চায় না।

 

এদিকে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তিনগুণ বেড়েছে ফ্লাইটের ভাড়া। ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় ফ্লাইটে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়ার প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় আকাশ পথের পাশাপাশি সাগর পথেই বেশি লোক ফিরছে।

 

বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে লোক আসলেও যাওয়ার সময় আকাশ পথই একমাত্র উপায়। বাংলাদেশ সরকার টিকিট প্রতি ১২ হাজার বাংলাদেশি টাকা করে ভর্তুকি দিচ্ছে। তবে শর্ত হলো, অবশ্যই ট্রাভেল পারমিট থাকতে হবে। এই ভর্তুকির টিকিট বিমানের কুয়ালালামপুরের অফিস থেকে সরাসরি কিনতে হবে। এজেন্টের কাছ থেকে কেনার সুযোগ দেয়নি বিমান। ফলে বাংলাদেশিরা সরকার প্রদত্ত সুবিধা সহজে নিতে পারছে না।

 

গত ১ আগস্ট থেকে চালু হওয়া ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচির সুবিধা দিতে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অফিসে ৮০টি বুথ খোলে। ডেটলাইন ৩১ ডিসেম্বর যতই কাছে আসছে, ভিড় ততই বাড়ছে। শুরুর দিকে ভিড় ছিল পুত্রজায়া ও জালান দুতা ইমিগ্রেশনে। অন্যান্য ইমিগ্রেশনে তেমন ভিড় ছিল না।

 

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাংলাদেশি ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে ফেরত যেতে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন অফিসে টোকেনের অপেক্ষা করছিলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘টানা ৪ দিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) স্পেশাল পাস হাতে পাই। এই কয়দিনে গোসল কিংবা খাওয়া-দাওয়া কিছুই করতে পারিনি। পেট বাঁচানোর তাগিদে শুধু রুটি খেয়েছি। কারণ আমি ভয়ে ছিলাম যে, এই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টোকেন পাবো কি না।’

 

দুই দফায় ইমিগ্রেশন অফিসে উপস্থিত হয়েও সিরিয়াল না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত টিকিট ফেলে দিতে হলো সিলেটের সুমন চন্দ্র দেব, জামালপুরের ইসমাইল ও ময়মনসিংহের জামালকে।

 

তারা জানান, ‘আমরা দুই দফা আসার পরও রেজিস্ট্রেশন করতে পারলাম না। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ১০টায় এয়ার এশিয়ায় দেশে ফেরার কথা ছিল। স্পেশাল পাস না পাওয়ায় আর যাওয়া হয়নি। বাড়তি কোনো টাকা-পয়সা না থাকায় দেশ থেকে টাকা এনে আবার টিকিট নিয়ে ফিরতে হবে।’

 

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের ফেসবুক পেজে পেনাং ইমিগ্রেশন অফিসের তথ্য প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বিদেশি অবৈধ নাগরিকদের সেবা দিতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৪০০ জনকে স্পেশাল পাসে দিতে পারছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ চিত্র কমবেশি সবকটি ইমিগ্রেশন অফিসের। বাকি থেকে যাচ্ছে অনেকেই।

 

 

এই বাকিরা আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্পেশাল পাস না পেলে কী হবে? এমন প্রশ্ন করছেন অনেকেই। কেউ বলছেন মেয়াদ বেড়েছে, কেউ বলছেন মেয়াদ বাড়বে। এমন দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাঝে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতো ইনদিরা খায়রুল জাইমি স্পষ্ট বলেছেন, এখন পর্যন্ত ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচি মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের তরফ থেকে হয়নি।

 

বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ অভিবাসীদের দেশে ফিরে যাওয়ার চাহিদাকে বিবেচনা করে এর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য মালয়েশিয়া সরকারের কাছে অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে।

 

এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়া সরকারের প্রবর্তিত ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচির আওতায় অনিয়মিত কর্মীদের দেশে প্রত্যাবর্তনে গড়ে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩শ ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হচ্ছে।

 

এতো ট্রাভেল পাস এবং পাসপোর্টধারী অবৈধদের ঠিক কতজন সুবিধা নিচ্ছে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন। আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজ নিজ দেশে ফিরেছেন ৩৯ হাজার বাংলাদেশীসহ ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ইন্দোনেশিয়ার ৫৩ হাজার ৩২৮ জন। ভারতের ২২ হাজার ৯৬৪ ও মিয়ানমারের ৬ হাজার ৯২৩ জন। বাকিরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

 

এ পরিসংখ্যান উল্লেখ করে ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অবৈধ অভিবাসীকে ‘বি-ফোর-জি’ পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজ নিজ দেশে ফিরে না গেলে তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের ১৫(১) ২৯৫৯/৬৩ ধারায় ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ৫ বছরের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে এবং বেত্রাঘাত শাস্তি দেয়া হবে।

 

তবে যারা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে ইমিগ্রেশনে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে স্পেশাল পাস পাচ্ছেন না তাদের কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলামের নির্দেশে ট্রাভেল পারমিট যেদিন আবেদন করছেন সেদিন বিকেলেই দিচ্ছি, সামাজিকে যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছি। বিভিন্নভাবে প্রচার করে লোকদেরকে উদ্বুদ্ধ করছি যেন সরাসরি দূতাবাস ও ইমিগ্রেশন থেকে সেবা নেয়। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে যাচ্ছি। অনেকে আমাদের কাছে জানাচ্ছে, আমরা ইমিগ্রেশনকে জানাচ্ছি, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘অপরদিকে বিমানবন্দরে গিয়েও অনেকের ট্রাভেল পারমিট সম্পর্কে এয়ারলাইন্সগুলো সন্দিহান হলে সেগুলোও ক্লিয়ার (পরিষ্কার) করে দিচ্ছি। কারণ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন অন্য দেশের নাগরিক ফলস বা ছবি বদল করে অন্যের ট্রাভেল পারমিট নিয়ে ইমিগ্রেশনে বা বিমানবন্দরে গিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমাদের কাছে রেকর্ড থাকায় তাৎক্ষণিক যাচাই করে এদের থামিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেকে গ্রেফতার হয়েছে। অনেকে পালিয়ে গেছে। এভাবে হাইকমিশন থেকে ইস্যু করা ট্রাভেল পারমিটে ছবি বা তথ্য পরিবর্তন করে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই।’

 

জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের বিপদগ্রস্ত নাগরিক যাতে সেবা পায় সেজন্য হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম একটি টিম করে দিয়েছেন।

 

মালয়েশিয়ার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তথ্য মতে, গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অতিরিক্ত ১৬টি ফ্লাইট চালু করেছে। এই ১৬টি ফ্লাইটে ‘ব্যাক ফর গুড’ এর টিকিটধারী যাত্রীরা শুধু এই ১২ হাজার টাকা ভর্তুকি পাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ যাত্রী-ক্রেতা জানাচ্ছেন, বিমান অফিসে গেলেও ভর্তুকি মূল্যের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।

 

অন্যদিকে এ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ বিমান ছাড়া অন্য এয়ারলাইন্সে ব্যাক ফর গুডের যাত্রীরা এ সুবিধা পাচ্ছেন না। এ নিয়ে দেশে ফিরে যেতে যারা অন্য এয়ারলাইন্সে টিকিট করেছে বা যাবে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

 

এ বিষয়ে প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণ নিয়ে সোচ্চার সংগঠনগুলো বলছে, ব্যাক ফর গুডের আওতায় দেশে ফেরত আসছেন এমন সবাইকে এই ভর্তুকির আওতায় আনা হলে কোনো বৈষম্য হবে না। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য করতে পারে না। বৈষম্য করলে তা স্পষ্ট সংবিধানের লঙ্ঘন হবে।

 

তারা বলছেন, শেষের দিকে যেভাবে বাংলাদেশসহ অন্য ১৬টি দেশের অবৈধ নাগরিকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে এ কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধি করলে মালয়েশিয়া সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে।

মালয়েশিয়া ত্যাগে সময় কমছে, কর্মীদের নাভিশ্বাস উঠছে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : বাংলাদেশ বিমান টিকেটে ১২ হাজার টাকা ভর্তকি দিবে সরকার। আমগামীকাল ১৪ ডিসেম্বর তা কার্যকরী হবে। মালয়েশিয়া থেকে সারাধণ ক্ষমার ( ব্যাক ফর গুড) আওতায় আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল অবৈধ প্রবাসী কর্মীদের নিজ নিজ দেশে ফিরতে হবে। বাংলাদেশিসহ ১ লাখ ১১ হাজার অবৈধ অভিবাসী কর্মী মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগে আত্মসমর্পণ করে স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। দেশে ফেরার ফ্লাইটের টিকিটের মূল্য আকাশচুম্বি হওয়ায় অসহায় কর্মীদের ওয়ান ওয়ে টিকিট কিনতে নাভিশ্বাস উঠেছে। জনশক্তি রফতানির অন্যতম দেশ মালয়েশিয়ায় ৭ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মী কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছে।

দশ সিন্ডিকেটের অনৈতিক কারণে ২০১৮ সনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহথির মোহাম্মদ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ ঘোষণা করেন। গত ৬ নভেম্বর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুকরণের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বহু দেন দরবারের পর চলতি মাসের প্রথম দিকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর এম কুলাসেগারান নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশে সফরে আসার কথা ছিল। কিন্ত দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী বাংলাদেশের সফর বাতিল করে ভারতের দিল্লী চলে যান।

বায়রার ইসির অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ আলী মালয়েশিয়ার ওয়ান ওয়ে ফ্লাইটের টিকিটের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গতকাল বলেন, সরকার বার বার অভিবাসন ব্যয় কমাতে বলছেন। কিন্ত অসহায় কর্মীরা মালয়েশিয়া থেকে খালি হাতে দেশে ফিরবে তাদের এয়ার টিকিটের দাম কেন দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ওয়ান ওয়ে টিকিটের দাম ছিল ২০ হাজার টাকা থেকে ২২ হাজার টাকা । বর্তমানে একজন কর্মীকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে পাঠাতে ৫২ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকায় এয়ার টিকিট কিনতে হচ্ছে। এতে বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তিনি বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের বিমান ভাড়া দ্রুত সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনা এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে জোরালো ভূমিকার রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


মালয়েশিয়া থেকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বরের পরেও যেসব অবৈধ অভিবাসী দেশটিতে থেকে যাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে মালয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। গত ১ আগষ্ট থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরেছে। অবৈধ প্রবাসী কর্মীদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বহু দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ১৪ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা কুয়ালালামপুর রুটে অতিরিক্ত ১৬টি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে। তা’ও ওয়ান ওয়ে টিকিটের মূল্য ১২ শ’ ৯৪ রিংগিত নির্ধারণ করেছে (ল্যাগেজ ছাড়া)। ল্যাগেজসহ কুয়ালালামপুর থেকে দেশে ফেরার বিমানের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭শ’ ৯৪ রিংগিত। বিজনেস ক্লাসের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪২৪ রিংগিত এবং ল্যাগেজসহ টিকিটের মূল্য ২৯২৯ রিংগিত। এতে অবৈধ প্রবাসী কর্মীরা চরমভাবে ক্ষুদ্ধ হয়েছে।
গত সোমবার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনের লেবার কাউন্সেলর জহিরুল ইসলাম বিমানের ভাড়া বৃদ্ধি প্রসঙ্গে এশিয়াবাণীকে বলেন, বিমানের অতিরিক্ত ১৬ ফ্লাইটের ভাড়া হাই কমিশন নির্ধারণ করেনি। ভাড়া নির্ধারণ করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। এ যাবত কত অবৈধ বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরেছে এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রম সচিব বলেন, আমরা এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারবো না। তিনি বলেন, কোনো খবর জানতে হলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে চলে যাওয়ার সর্বাধিক সংখ্যক অংশগ্রহণকারী দেশ হচ্ছে, ইন্দোনেশিয়া (৪২,২৯৯), বাংলাদেশ (৩০,০৯৮), ভারত (১৯,৯৯৯), পাকিস্তান (৫,৭৫৫) এবং মিয়ানমার (৫,৩৩২)। এছাড়া নেপাল, নাইজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন এবং চীনা নাগরিকও রয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক খায়রুল দাজাইমি আবু দাউদ ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল অবৈধ অভিবাসীকে বি-ফোর জি পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। যারা ঐ সময়ের মধ্যে দেশে ফিরবেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শেষ দিকে দেশটির ইমিগ্রেশনের প্রতিটি কাউন্টারে অবৈধ অভিবাসীদের প্রচন্ড ভিড় । এ ভিড় কমাতে দেশটি সরকারি ছুটি শনি ও রোববারেও ইমিগ্রেশন বিভাগ কাজ করছে।

জাতীয় শ্রমিক লীগ মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি নামজুল ইসলাম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম হাওলাদার গত সোমবার কুয়ালালামপুর থেকে এশিয়াবাণীকে জানান, ওয়ান ওয়ে বিমানের টিকিট কিনতে অবৈধ কর্মীদের নাভিশ্বাস উঠছে। ৬/৭ শ’ রিংগিতের এয়ার টিকিট বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৬শ’ রিংগিত থেকে ২ হাজার রিংগিত। বিপুল সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশি কর্মী এয়ার টিকিট যোগাতে না পারায় ইমিগ্রেশনে আবেদন জমা দিতে পারেনি। কনফার্ম এয়ার টিকিট না থাকায় বি-ফোর জি কর্মসূচির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক অবৈধ কর্মী। নেতৃদ্বয় বিপদগ্রস্ত অবৈধ কর্মীদের স্বল্প ভাড়ায় দেশে ফিরিয়ে নেয়ার কার্যকরী উদ্যোগ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা দেশটি বন্ধ শ্রমবাজার অবিলম্বে চালুর জন্যও প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কুয়ালালামপুরস্থ বেস্ট মার্কেটিং এসডিএন বিএইচ ডি’র পরিচালক রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাক ফর গুড কর্মসূচি ঘোষণার আগে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক অবৈধ অভিবাসীদের জেল, জরিমানা ও বিভিন্ন ধরনের আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হতো, যা ছিল অত্যান্ত কষ্টকর। মালয়েশিয়া সরকারের সাধারণ ক্ষমার সুযোগ পেয়ে দেশে ফিরতে অবৈধ বাংলাদেশিরা দারুণভাবে উচ্ছ্বসিত। কিন্ত এয়ার টিকিটের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসী কর্মীরা দিশেহারা। তিনি বলেন, কনফার্ম এয়ার সংগ্রহ করতে না পেরে হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি কর্মী ইচ্ছা থাকা সত্বেও বি ফোর জি কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারছে না। মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবৈধ কর্মীদের নির্বিঘেœ দেশে ফেরার সুবিধার্থে বি ফোর জি কর্মসূচির মেয়াদ আরো ছয় মাস বৃদ্ধির লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে দ্রুত আলোচনা করে কার্যকরী উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির পরিচয়পত্র পেশ
                                  

 নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ সদর দফতরে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজের কাছে এ পরিচয়পত্র পেশ করেন।

 

রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘে বাংলাদেশের ৫০তম স্থায়ী প্রতিনিধি। পরিচয়পত্র পেশকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের নিকট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন তিনি। গত ২৯ নভেম্বর স্থায়ী মিশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ।

 

এ সময় গুতেরেজ বাংলাদেশকে জাতিসংঘের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। মহাসচিব বলেন, `বাংলাদেশ জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ একটি সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে`।

 

ঢাকায় ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানান রাবাব ফাতিমা। তিনি বলেন, `জন্ম শতবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় বৈশ্বিকভাবে উদযাপন করা হবে`।

 

ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদযাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে রাবাব ফাতিমা বলেন, `নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরের সঙ্গেও জন্ম শতবার্ষিকীর কর্মসূচি উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ`। এ সময় তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

 

পেশাদার কূটনীতিক রাবাব ফাতিমা ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র সার্ভিসে যোগদান করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং কলকাতা ও বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানের পূর্বে তিনি জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

মানবাধিকার বিষয়াবলিতে রাষ্ট্রদূত তার রয়েছে ব্যাপক অভিজ্ঞতা। লন্ডনের কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটে মানবাধিকার বিভাগের প্রধান এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাও রয়েছে এ কূটনীতিকের।

 

পরিচয়পত্র প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারিক মো. আরিফুল ইসলাম, মিনিস্টার মনোয়ার হোসেন, জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি-বিনির্মাণ বিষয়ের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মিজ রোজম্যারি এ. ডিকারলো এবং মহাসচিবের শেফ দ্য ক্যাবিনেট মিজ মারিয়া লুইজা রিবিরিয়ো ভিয়োট্টি।

স্পেনে প্রবেশের চেষ্টায় ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
                                  

নিউজ ডেস্ক

ভাগ্য বদলের চেষ্টায় দালালের মাধ্যমে স্পেনে প্রবেশ করতে গিয়ে চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। মরক্কো থেকে প্লাস্টিকের নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের মেলেইয়াতে প্রবেশের চেষ্টা করলে মাঝ সমুদ্রে তাদের সলিল সমাধি হয়।

গত ২৬ নভেম্বর হৃদয়বিদারক ওই ঘটনা ঘটে। তবে শুক্রবার ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়া যায়। নিহতদের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে।



নৌকাডুবিতে তাদের দেহ মেলেইয়া দ্বীপে ভেসে উঠলে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত উদ্ধার করে ম্যানিলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাতেই তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

গুরুতর আহত আরও ৫৯ জনকে ওই দ্বীপ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নৌকাডুবিতে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১৬জন। তবে, আহত বা নিখোঁজ কারও পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি ম্যানিলা কর্তৃপক্ষ।

নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনের বাড়ি সিলেট জেলায় বলে জানা গেছে। স্পেনপ্রবাসী মেহরাজ হাসান ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহতদের একজন ১৮ বছরের তরুণ। তার নাম আবু আশরাফ। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে তার পরিবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।


আশরাফের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের পেছিখুমরা গ্রামে। তিনি আশিক মিয়ার ছেলে। এছাড়া একই নৌকায় থাকা বাকি তিন বাংলাদেশির মধ্যে দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের একজন হলেন জাকির হোসেন। পিতা আফতাব উদ্দিন, গ্রামের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার সুড়িকান্দি গ্রামে। অপর নিখোঁজ তরুণের নাম জালাল উদ্দীন, তার গ্রামের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার পকুয়া গ্রামে।


নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর দুই মাস আগে স্পেনে যাওয়ার উদ্দেশে এক দালালের মাধ্যমে প্রথমে তারা আলজেরিয়ায় যান। সেখান থেকে ২০ দিন আগে আফ্রিকার মরক্কোয় পৌঁছান। পরে কয়েক দফায় দালালরা তাদের স্পেনে পাঠানোর চেষ্টা করে কিন্তু ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ গত সোমবার দালালদের সহায়তায় মরক্কোর নাদুর এলাকা থেকে নৌকায় সাগরপথে আশরাফসহ ৭৮ জন তরুণ স্পেনের ম্যানিলার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

সমুদ্র পাড়ি দেবার আগে গত রোববার নিহত আশরাফ ইমো অ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা বলেন। তখন আশরাফ পরিবারকে জানান, ৭৮ জনের একটি দল নৌকায় করে স্পেনের ম্যানিলার উদ্দেশে রওনা হবেন। আশরাফ পরিবারকে এটাও জানান যে, ‘দালালরা বলেছে, নৌকায় বেশি দূরত্বে যেতে হবে না, নদী পার হবার দূরত্ব-সমান পথ পাড়ি দিতে হবে।’ যদিও বাস্তবে সেটা ছিল ভূমধ্যসাগরের জিব্রাল্টার চ্যানেল পাড়ি দেবার সমান।

এরপর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। গত মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা আশরাফের খালাত ভাই স্বজনদের জানান, আশরাফকে বহনকারী নৌকাটি সমুদ্রে ডুবে গেছে এবং আশরাফসহ চার বাংলাদেশি মারা গেছে।



একাধিক সূত্র ও নিহতদের পরিবার থেকে আরও জানা যায়, ভাগ্য বদলের জন্য ইউরোপে যাবার আশায় দালালদের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়। টাকার বড় অংশও পরিশোধ করা হয়। নিহতদের মধ্যে আশরাফ প্রায় এক বছর দুই মাস আগে স্পেনে যাবার উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন।

মেহরাজ হাসান এক মাস আগে দালালের মাধ্যমে মরক্কো হয়ে স্পেনে সাগর পথে প্রবেশ করেন। তিনি জানান, ওই মানবপাচার গ্রুপে তিনিও ছিলেন। সৌভাগ্যবশত এক মাস আগে তিনি জীবিত স্পেনে প্রবেশ করতে পেরেছেন।

তিনি আরও জানান, নৌকাডুবিতে নিহত বেশির ভাগই বড়লেখা বিয়ানীবাজারের। দালালরা তাদের প্রথমে বিমানযোগে মরক্কো থেকে স্পেন পাঠানোর কথা বলে নিয়ে আসে। তারপর নৌকা দিয়ে সাগর পথে পাড়ি দিতে বলে। এর প্রতিবাদ করলে দালালরা তাদের বলে, এটা সাগর নয় ছোট একটি খাল। এটি পাড়ি দিলেই স্পেন।

মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে আসা মেহরাজ হাসান আরও বলেন, আমাদের এভাবেই ব্ল্যাকমেইল করে দালাল চক্র।

নিথর দেহে দেশের মাটিতে লিবিয়ায় নিহত ৩ বাংলাদেশি
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক   

 

 

লিবিয়ায় নিহত তিন কর্মীর মরদেহসহ ১৫২ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তাঁরা।

 

বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত তিনজন হলেন- রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাবুল হোসেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এরশাদ, নাটোরের লালপুর উপজেলার নজরুল ইসলাম। তাদের তিনজনের মধ্যে বাবুল ড্রোন হামলায়, এরশাদ বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এবং নজরুল বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

 

 

 

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, লিবিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধানে এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সক্রিয় সহায়তায় লিবিয়ার মিসরাতা বিমানবন্দর থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফেরেন তারা।

 

 

১৫২ জনের মধ্যে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা ও ত্রিপোলিতে ড্রোন হামলায় মারাত্মকভাবে আহত ১০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন।

 

গত ১৮ নভেম্বর লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির অদূরে একটি বিস্কুট তৈরির কারখানায় ড্রোন হামলায় ৭ জন নিহতের খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ছিলেন বলে দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর এস এম আশরাফুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।

দায় নিচ্ছেন না নিয়োগকর্তা, সৌদি থেকে ফিরলেন আরও ১২৫ বাংলাদেশি
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

সৌদি আরব থেকে আরও ১২৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ বিমানযোগে দেশে ফেরেন তারা। এ নিয়ে নভেম্বরের তিন সপ্তাহে ২ হাজার ৬১৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।

 

বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১০ মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ২১ হাজার বাংলাদেশি।

 

 

 

শুক্রবার রাতে ফেরা নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজারে আফজাল (২৬) মাত্র আড়াই মাস আগে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। ভাগ্য এতটাই খারাপ যে, রুম থেকে বের হয়েছিলেন বাজার করার জন্য কিন্তু পথ থেকে তাকে ধরে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আকামাও ছিল আফজালের।

 

আফজালের মত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কামরুলও ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ করে আড়াই মাস আগে সৌদি গিয়েছিলেন। কিন্তু তাকেও দেশে ফিরতে হয়েছে শূন্য হাতে। দুই বছর ধরে সেলুনে কাজ করতেন কুমিল্লার নন্দন কুমার। আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই নিয়োগকর্তাকে সাড়ে ছয় হাজার রিয়াল দিয়েছিলেন কিন্তু আকামা করে দেয়া হয়নি তাকে। পুলিশের হাতে নন্দন গ্রেফতারর হলে নিয়োগকর্তাকে ফোন দিলেও দায়িত্ব নেয়নি। ফলে তাকেও শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে।

 

 

 

একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্টু মিয়া ও সাইদুল ইসলাম, নরসিংদির নাইম, হবিগঞ্জের ফারুক হোসেন ও ঢাকার সাইফুল ইসলাম।

 

দেশে ফেরা কর্মীদের অভিযোগ, আকামা তৈরির জন্য কফিলকে (নিয়োগকর্তা) টাকা প্রদান করলেও তিনি আকামা তৈরি করে দেয়নি। পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর কফিলের সাথে যোগাযোগ করলেও গ্রেফতার হওয়া কর্মীদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেয়নি। বরং কফিল প্রশাসনকে বলেছেন, ক্রুশ (ভিসা বাতিল) দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিতে।

 

 

এদিকে বরাবরের মতো শুক্রবারও ফেরত আসা বাংলাদেশিদের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়।

 

 

 

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২২ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের তিন সপ্তাহে ২৬১৫ জন ফিরেছেন। প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। যারা কয়েক মাস আগে গিয়েছিলেন তাদের কেউই খরচের টাকা তুলতে পারেননি। তারা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায়।

 

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি তিনদিন পর সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের যে যৌথ বৈঠক হবে সেখানে নারীকর্মীদের পাশাপাশি পুরুষদের বিষয়েও আলোচনা হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করতে দু`দেশকেই কাজ করতে হবে।

ধড়পাকড়ে স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন, ফিরলেন আরও ২১৫ কর্মী
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

 

>> এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয়

>> ফেরত আসা সবাই ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায়

>> ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত

 

সৌদি আরব থেকে আরও ২১৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বুধবার রাতে দুটি পৃথক ফ্লাইটে তারা ঢাকায় আসেন। বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে নভেম্বর মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে মোট এক হাজার ৫৬১ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। আর চলতি বছর সব মিলিয়ে সৌদি আরব থেকে ফিরলেন ২১ হাজার বাংলাদেশি।

 

 

 

বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ ফ্লাইটে ৮৬ জন এবং রাত ১টা ১৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০২ বিমানযোগে ১২৯ জন বাংলাদেশি ফেরত আসেন।

 

গতকাল ফেরত অসাদের একজন কিশোরগঞ্জের সোহরাব। মাথায় জড়ানো মাফলার ছাড়া কিছুই আনতে পারেননি। তিনি জানান, দুই বছর আগে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে অনেক স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। কিন্তু ধরপাকড়ে তার সব স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন। সোহরাবের অভিযোগ, রুম থেকে তাকে ধরে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

 

সাড়ে ছয় লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন গাজীপুরের হারুন। তিনি জানান, একটি নির্মাণাধীন কোম্পানিতে কাজ করতেন। কর্মস্থল থেকে রুমে ফেরার পথে ধরপাকড়ের শিকার হয়ে তাকে ফিরতে হলো।

 

 

 

 

টাঙ্গাইল জেলার শাহবুল ইসলাম জানান, বিদেশে যাওয়ার আগে দেশে তিনি নিয়মিত গাড়ি চালাতেন। দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স জাভেদ ওভারাসিজের প্রলোভনে পড়ে চার মাস আগে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ড্রাইভিং ভিসা নিয়ে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু ৪ মাস কোনো বেতন পাননি। এখন ধরপাকড়ের শিকার হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে।

 

সিলেটের কামাল আহাম্মেদ, টাঙ্গাইলের মো. জাহেদ আলী, গাজীপুরের ইমরান, কুমিল্লার ইব্রাহিম, নরসিংদীর বাবুলসহ আরও অনেকেই জানালেন, তারা তাদের খরচের টাকাটাও তুলতে পারেননি।

 

বরাবরের মতো প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় গতকালও ফেরত আসাদের খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা দেয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

 

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার বাংলাদেশিকে শুধু সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হলো। দেশে ফেরা অনেক কর্মীর অভিযোগ, আকামা তৈরির জন্য তারা কফিলকে (নিয়োগকর্তা) টাকা দিলেও কফিল আকামা তৈরি করে দেয়নি। এখন পুলিশ যখন তাদের গ্রেফতার করছে, কফিল কোনো দায় নিচ্ছে না। বিষয়গুলো দুঃখজনক। ফেরত আসা সবাই ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায়। এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয়, সেজন্য যাওয়ার অগেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।

মালয়েশিয়ায় নতুন বীমার আওতায় দুই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি
                                  

 

নিউজ ডেস্ক

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন বীমার আওতায় নিবন্ধিত হচ্ছেন প্রবাসীরা। এর আওতায় দুই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিবন্ধিত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ প্রক্রিয়ায় দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার (সকসো) অধীনে কর্মীদের নাম নিবন্ধন করা হচ্ছে।

 

এদিকে দেশটিতে কর্মরত বৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের শতভাগ বীমার আওতায় নিয়ে আসতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্টরা নিরলস চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। নিবন্ধন নিশ্চিত করার জন্য নিয়োগকর্তা এবং সাকসোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে অগ্রগতি ফলোআপ করছেন দূতাবাসের সংশ্লিষ্টরা।

 

 

বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং বাংলাদেশে ওয়েজ অর্নাস ওয়েল ফেয়ার বোর্ডের সহযোগিতায় বেনিফিট প্রদান করবে মালয়েশিয়ার সোশ্যাল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন। তাই গত ২৩ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়ার সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষে সকসোর ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ইনকিক জন রিবা অনাক মারিনের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-সচিব মো. আমিনুর রহমান, বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলার মো. জহিরুল ইসলাম, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রোগ্রামার পাপ্পু মজুমদার ও দূতাবাসের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার মি. সিলভা।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশি কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন বিধান চালু করার ঘোষণা দিয়েছিল দেশটির মন্ত্রিপরিষদ। ওইদিনই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সে-দেশের মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। সে-দিন মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার অধীনে এই ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সেই মোতাবেক কর্মরত বিদেশি কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন বিধানের আওতায় কোম্পানির মালিকপক্ষ তাদের বিদেশি কর্মীদের বীমার আওতায় নিববন্ধন শুরু করেছেন।

 

 

এর আগে মালয়েশিয়ার সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার অধীনে শুধু স্থানীয় নাগরিকরাই এ সুবিধা পেতেন। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কর্মস্থলে দুর্ঘটনার পরিমাণ কমাতেই এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এটি সফল বাস্তবায়ন হলে নিয়োগকর্তারা বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সচেষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান বলেলেন, বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে নিবন্ধন করতে হবে এবং কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা আইন ১৯৬৯ (অ্যাক্ট-৪) এর আওতায় আনতে হবে।

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, এতে কর্মসংস্থানে ক্ষতির পরিকল্পনার অধীনে চিকিৎসা সুবিধা, অস্থায়ী কর্ম অক্ষমতা সুবিধা, স্থায়ী অক্ষমতা সুবিধা এবং পুনর্বাসন সুবিধার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন খরচের সুবিধা দেয়া হবে।

 
পেনসিলভানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি কৃতিছাত্রীর মৃত্যু
                                  


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বাংলাদেশি কৃতিছাত্রী। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার দিবাগত রাতে স্থানীয় হাসপাতালে মেহেরুন চৌধুরী (১৯) নামের এ কৃতিছাত্রীর মৃত্যু হয়। তাকে প্রায় ৩৮ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ফিলাডেলফিয়া শহরে গাড়ি চালিয়ে যাবার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন মেহেরুন চৌধুরী। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে পেন প্রেসবাইটেরিয়ান মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করে। এ সময় মেহেরুনের ভাইও ঐ গাড়িতে ছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তার ভাই।


মেহেরুন চৌধুরীর বাবা লুৎফর চৌধুরী মিঠুর ফিলাডেলফিয়ার অপারডারবি এলাকার বাসিন্দা। তিনি ফিলাডেলফিয়ার সকল প্রবাসীদের অত্যন্ত প্রিয়মুখ। তার দেশের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায়।

 
সৌদি থেকে পাঁচ দিনে ফিরলেন ৪২১ জন কর্মী
                                  

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সৌদি আরব থেকে আরও ৯৬ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ বিমানযোগে তারা দেশে ফেরেন।

এ নিয়ে এ মাসের প্রথম পাঁচদিনেই মোট ৪২১ জন ফিরলেন। এর মধ্যে ১ নভেম্বর ১০৪ জন, ২ নভেম্বর ৭৫ জন, ৩ নভেম্বর ৮৫ জন, ৪ নভেম্বর ৬১ জন ও গতকাল ৬ নভেম্বর ৯৬ জন ফিরেছেন।

বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দশ মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ২০ হাজার ৬৯২ বাংলাদেশি।

গতকাল ফেরাদের একজন কিশোরগঞ্জের তোফাজ্জল জানান, মাত্র আড়াই মাস আগে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। এর মধ্যেই তাকে ফিরতে হলো।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহিউদ্দিন জানান, তিনি তিন বছর ধরে ছিলেন সৌদি আরবে। সাড়ে ১৮ হাজার রিয়াল দিয়ে ইকামা নবায়ন করেছিলেন। কিন্তু তাকে এখন ধরপাকড়ে পড়ে ফেরত আসতে হলো শূন্য হাতে।

গাজীপুরের মো. হান্নান মিয়া জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে সৌদি আরবে। বৈধ আকামা থাকা সত্ত্বেও সৌদি পুলিশ রাস্তা থেকে ধরে। আকামা দেখানোর পরেও তাকে ছাড়া হয়নি।


নোয়াখালীর জয়নাল, ময়মনসিংহের আলম, জামালপুরের সবুজ মিয়া, বরিশালের মামুনসহ আরও অনেকই তাদের দুরবস্থার কথা জানান।

ফিরবেন তিন নারী: সৌদি আরবে তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার তিন নারী আজ দেশে ফিরবেন। পরিবারের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল ব্র্যাক। আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় তারা ঢাকা ফিরবেন। এরা হলেন, শাহিদা, মনোয়ারা, মিনা।

বরাবরের মতো গতকাল ফেরত আসাদেরও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ বছরের কোন মাসে কত কর্মী ফিরেছে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি গত দুই মাস ধরে ধরপাকড়ের তীব্রতা বেড়েছে।

তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন ইকামা থাকলেই বৈধ। কিন্তু কেউ যদি বৈধ ইকামা থাকার পরেও যেখানে কাজ করার কথা সেখানে না করে অন্য জায়গায় কাজ করেন, সৌদি আইন অনুযায়ী সেটাও অপরাধ। এই বিষয়গুলো কর্মীদের বোঝাতে হবে। আর রিক্রুটিং এজেন্সিকেও নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনো একজন কর্মী যেখানে যান সেখানে গিয়ে সেই কাজ পান। ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।

 
নির্যাতনের শিকার সেই সুমি সৌদি পুলিশের হেফাজতে
                                  

 

স্টাফ রিপোর্টার
সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সুমি আক্তারকে তার কর্মস্থল থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে সেখানকার পুলিশ।


সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে জেদ্দার দক্ষিণ-দক্ষিণে নাজরান এলাকার কর্মস্থল থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা।

এর আগে রাতে এ বিষয়ে সুমির স্বামী নুরুল ইসলাম বলেন, আমার সঙ্গে আজ দুপুরে একবার কথা হয়েছে সুমির। সে সময় সুমি বলেছে, তাকে নেওয়ার জন্য সৌদি পুলিশ আসবে। পরে রাতে ৮টার দিকে আবার কথা হলে সুমি জানায়, কিছু সময়ের মধ্যে পুলিশ এসে আমাকে নিয়ে যাবে। এখন আর ফোন দিয়েন না।

কনস্যুলেটের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সুমিকে থানায় নিয়ে আসা হলেও তার এখানকার নিয়োগকর্তা (কফিল) তাকে ছাড়তে চাইছেন না। তিনি বলছেন, তিনি সুমিকে আরও রাখতে চান। কারণ এখানে সুমিকে আনতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে, এই টাকা সেবায় শোধ হয়নি। সুমিকে ছাড়তে হলে যারা বাংলাদেশ থেকে মধ্যস্থতা করে (রূপসী বাংলা ওভারসিজ) তাকে সেখানে পাঠিয়েছে, তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে দিতে হবে সৌদির কফিলকে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে কনস্যুলেট।

গত ৩০ মে সুমি ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’র মাধ্যমে সৌদি আরব যান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই স্বজনদের কাছে তার ওপর নির্যাতনের ঘটনা বলতেন সুমি। দালালরা বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাকে যে বিক্রি করে দিয়েছে সে কথা জানতেন না সুমি। সৌদি যাওয়ার সপ্তাহখানেক পর থেকে শুরু হয় তার ওপর মারধর, যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতন।

সম্প্রতি ফেসবুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ওপর পাশবিক নির্যাতনের কথা বলে সুমি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান। পরে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এ নিয়ে রোববার (৩ নভেম্বর) বাংলানিউজে সংবাদ প্রকাশ হয় ‘সৌদি থেকে ফিরতে চান নির্যাতিতা সুমি’।

সংবাদটি দেখার পর সুমি আক্তারকে ফেরাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। পরে সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় থেকে কর্মকর্তারা তার (সুমি) সঙ্গে কথা বলেন। এরপরই তাকে হেফাজতে আনার প্রক্রিয়ায় যায় সৌদি পুলিশ।

সুমি আক্তার পঞ্চগড় জেলার বোদা সদর থানার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। দুই বছর আগে আশুলিয়ার চারাবাগের নুরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

সুমির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নুরুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রীকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। তার চোখে আঘাত করা হয়েছে, চোখে দেখতে পারছে না। এজন্য আমি থানায় মামলা করেছি এবং বিভিন্ন জায়গায় কাগজপত্র দিয়েছি। আমার একটাই দাবি আমার স্ত্রীকে বাংলাদেশে দেখতে চাই।

 
শিশু প্রতিবন্ধী, বাংলাদেশি পরিবারকে ফেরত পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
                                  

প্রবাস ডেস্ক
শিশুটির বয়স মাত্র পাঁচ বছর। জন্মের পর দেখা যায়, তার মাথা তুলতে কষ্ট হচ্ছে। সে সহজে মাথা তুলতে পারছে না। তার হাতেও সামান্য ত্রুটি ছিল। কোনো কিছু ধরতে পারত না। কিন্তু আগের সেসব সমস্যা এখন আর নেই। সে এখন অনেক ভালো আছে। পড়াশোনাতেও কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। সে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে, সবকিছু শিখছে, বাসায় শিশুতোষ ভিডিও দেখছে। ফুটবলও খেলছে। অথচ অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ বলছে, সে শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাই তাকে দেশে রাখা যাবে না। তাকেসহ তার পরিবারকে ফিরে যেতে হবে দেশে।

ভুক্তভোগী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই পরিবারটিকে ফেরত পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটিতে জন্মগ্রহণ করা শিশুটি কিছুটা প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারসহ তার ভিসার আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, আদিয়ান নামে শিশুটি অস্ট্রেলিয়ার ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে’ বলে এমন আশঙ্কা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

২০১১ সালে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে যান আদিয়ানের বাবা ড. মেহেদি হাসান ভূঁইয়া। পরের বছরেই বাংলাদেশে এসে বিয়ে করে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। ২০১৩ সালে স্ত্রী রেবেকা সুলতানাকেও তিনি দেশটিতে নিয়ে যান। সেখানে গিলং হাসপাতালে আদিয়ানের জন্ম হয়।

আদিয়ানের জন্মের কয়েক মাস পরেই তার পরিবার লক্ষ্য করে, সে সহজে মাথা তুলতে পারছে না। সম্ভবত জন্মের কিছু সময় আগে বা পরে স্ট্রোকের কারণে সে হালকা সেরিব্রাল প্যালসিতে আক্রান্ত হয়।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি ডিগ্রিসহ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন মেহেদি হাসান ভূঁইয়া। এরপর ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্য সরকার কর্তৃক দক্ষ অভিবাসী হিসেবে স্থায়ী ভিসা পান। যার মাধ্যমে পরিবারসহ তিনি অস্ট্রেলিয়া আজীবন থাকার নিশ্চয়তা পান।


কিন্তু আদিয়ানের শারীরিক অক্ষমতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় পুরো পরিবার দেশটিতে বসবাসের যোগ্যতা হারায়। অস্ট্রেলিয়ার কঠোর অভিবাসী নীতির ‘ওয়ান ফেলস অল ফেল’ কারণে একজনের কারণে পরিবার সব সদস্যকে দেশটি থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভূঁইয়া পরিবার আপিল করে। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল ট্রাইব্যুনাল।
আদিয়ানের বাবা জানিয়েছেন, ফিজিক্যাল থেরাপির মাধ্যমে সে দিন দিন উন্নতি করছে। সে এখন অনেক ভালো আছে। পড়াশোনাতেও কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে। সে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে, সবকিছু শিখছে, বাসায় শিশুতোষ ভিডিও দেখছে। মোবাইলও ব্যবহার কতে পারে।

এ ঘটনায় আদিয়ানের বিষয়ে অনুসন্ধান চালায় অস্ট্রেলিয়ার গার্ডিয়ান প্রতিনিধি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, আদিয়ান বেশ সরব। সে ফুটবল খেলতে ভালোবাসে এবং সে তার শারীরিক অক্ষমতাকে বেশ ভালোভাবেই মোকাবিলা করছে।

আদিয়ানের চিকিৎসা-সংক্রান্ত আড়াই বছরের (২০১৬-২০১৯) কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আপিল ট্রাইব্যুনাল। পরে তারা তাদের সিদ্ধান্তে জানায়, আদিয়ানের কিছু শারীরিক দুর্বলতা রয়েছে এবং স্থায়ী প্রকৃতির। এজন্য তার বিশেষ ধরনের সেবা প্রয়োজন, এমনকি স্কুলেও। তাই অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারটি অবদান রাখলেও অভিবাসী নীতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের।

তবে আপিল ট্রাইব্যুনালের এই যুক্ত মানতে নারাজ বাবা মেহেদী হাসান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘আমার কিছুতেই মাথায় আসছে না যে, একটা ছেলের বাম হাতে সামান্য দুর্বলতা আছে। কিন্তু তার জন্য বিশেষ শিক্ষা কেন দরকার হবে? কিন্তু আমি যতদূর জানি, বিশেষ শিক্ষা তো কেবল তাদেরই দরকার হয় যারা মূল ধারার স্কুলে যেতে পারে না।’

তবে এখানেই দমে যাননি আদিয়ানের পরিবার। অস্ট্রেলিয়া থাকার শেষ সুযোগ হিসেবে তারা দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী ডেভিড কোলম্যানের কাছে আপিল করেছেন। এক্ষেত্রে মন্ত্রী তার ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য নন।

বর্তমানে বিশেষ ভিসায় রয়েছেন আদিয়ানের পরিবার। এ বিষয়ে মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত তারা দেশটিতে আরও তিন মাস থাকার সুযোগ পাবেন।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, অভিবাসন মন্ত্রীর কাছে আপিল করে পক্ষে রায় গেছে-এমন বেশ কিছু উদাহরণও রয়েছে। এর আগে বধির ছেলেকে নিয়ে এ রকম সমস্যায় পড়েছিলেন দেশটিতে সাত বছর ধরে থাকা এক ভুটানিজ পরিবার। পরে ওই পরিবার থাকার অনুমতি পায়। অস্ট্রেলিয়ায় ১০ বছর নার্স হিসেবে কর্মরত এক ফিলিপিনো নার্সকেও ভিসা মঞ্জুর করেন মন্ত্রী।

 
মালয়েশিয়ায় ধরপাকড় আতঙ্কে প্রবাসী বাংলাদেশিরা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচিতে অবৈধ অভিবাসীরা তেমন আগ্রহী না হওয়ায় দেশটির অভিবাসন বিভাগ প্রতিদিনই ধরপাকড় চালাচ্ছে। এর ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বৈধ প্রবাসীরাও।

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের জন্য দেশে ফেরায় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু মালয়েশিয়া ত্যাগে তারা আগ্রহী না হওয়ায় অভিবাসন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত গ্রেফতার হচ্ছেন অবৈধ বাংলাদেশিরা।

মালয়শেয়িয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান আমরা কেউ অবৈধ হতে চাইনি। আমরা বৈধ পথেই এসেছি। প্রতারণার কারণে আমরা অবৈধ হয়ে গেছি।

এদিকে হাজার হাজার রিঙ্গিত জমা দিয়েও বৈধতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ এ শ্রমিকদের।

তারা জানান, পাসপোর্ট-ভিসার জন্য তারা অনেক টাকা দিয়ে যাচ্ছ। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। বের হলেই পুলিশ ধরছে তাদের।

দেশটিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযানে আটক করা হয় প্রায় ৩৬ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে। আটকদের যাচাই-বাছাই শেষে গ্রেফতার দেখানো হয় ৮ হাজার ৫৬ জন বাংলাদেশিকে। এ সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের চাকরি দেয়া বা তাদের সহায়তা করার অভিযোগে ৯২২ কোম্পানি মালিককেও আটক করা হয়।

১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশত্যাগের সুযোগ পাওয়ার পরও যারা অবস্থান করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : চলছে মারিং কাটিং
                                  

অনলাইন ডেস্ক : মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে মারিং কাটিং। দু’দেশের সরকারের সিদ্ধান্তকে পাস কাটিয়ে একটি চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে বাজারটি তাদের দখলে নিতে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্থগিতের প্রায় এক বছর অতিবাহিত হতে চলেছে।

এখনও মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি শ্রমিক নেয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসলেও বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন চলতি মাসেই সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে সামনে এনে চক্রটি আঁট-ঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বন্ধ শ্রমবাজার ইস্যুতে চলতি মাসের যে কোন সময় মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। এ সফরেই ভিসা চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে, কর্মী নেবে মালয়েশিয়া। তাদের অধিকার বেশি। তাদের কিছু চাহিদা থাকতে পারে। তারা কিভাবে কর্মী নেবে, মেডিকেল, ট্রেনিং সেটা তাদের বেশি অধিকার। আমরা গেলে একটা পর্যায়ে চলে আসবো বললেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের যে পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া এবার চালু হবে, তাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি যেন বাছাই হয়, লোক পাঠানোর খরচ যেন সাশ্রয়ী হয়, কোথাও কোনো আইন যেন লঙ্ঘন না হয়- তা নিশ্চিত করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের কার্যক্রম ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বাংলাদেশসহ সোর্স কান্ট্রিভুক্ত ১৬ দেশ থেকেই বিদেশি কর্মী আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে আবার কোন প্রক্রিয়ায় বিদেশি কর্মী নেয়া শুরু হবে সেজন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নির্দেশে মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন) মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ করছে।

তাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেই স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে দেশটি শ্রমিক নেয়ার কার্যক্রম শুরু করবে বলে সে দেশে থাকা রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের একাধিক বৈঠকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মীর অভিবাসন খরচ, বেতন, থাকা, চিকিৎসা, দেশে ফিরে যাওয়া এবং দীর্ঘ স্থায়ী কল্যাণের বিষয়ে কাজ করছে মালয়েশিয়া সরকার। তাদের নিকট শ্রমিকের প্রতারণা ও অবহেলার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা নিয়েছে।

তিনি বলেন, এসব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাধা কি এবং করণীয় কি তা মালয়েশিয়া সরকার দেখছে। আমাদের পক্ষ থেকে সাজেশন দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সফরকালে এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আশাকরি দ্রুতই কর্মী নিয়োগ শুরু হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে হাই কমিশনার বলেন, এখনো যারা অবৈধভাবে থাকার জন্য মালয়েশিয়ায় আসার চিন্তা করছে, তারা যেনো ভুলেও এভাবে না আসে। এখন অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আসা মানেই বিপজ্জনক। আর অবৈধভাবে এলে মালয়েশিয়া সরকার কোনোভাবেই তাদের কাজ করার সুযোগ দেবে না। বরং দেশের মান কমবে।’

এদিকে চলতি বছরের ১৪ মে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী (তখন প্রতিমন্ত্রী) ইমরান আহমদ মালয়েশিয়া সফরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন ও মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সাথে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের অগ্রগতি হিসেবে ২৯ ও ৩০ মে মালয়েশিয়ায় দু’দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আরেকটি বৈঠক হয়। কিন্তু সেখান থেকেও শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে কোন রূপরেখা পাওয়া যায়নি।

৭ জুলাই মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুউদ্দিন বিন আব্দুল্লাহর বাংলাদেশ সফরের বৈঠক শেষে পরারাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানালেন, আগস্টেই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এরপর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদও একই কথা বলেন।

আগস্ট শেষ হলেও শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। এবার অপেক্ষার চোখ সেপ্টেম্বরে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কর্মী প্রেরণের আগেই মেডিকেল সেন্টার দখলে নিতে বেশ কিছুদিন ধরে নানা উপায়ে চেষ্টা তদবির চলছে। সেটার পর এখন ট্রেনিং সেন্টারের নতুন ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছে একটি গ্রুপ। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি দখলের চেষ্টা করছে তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বায়রার এক নেতা বলেন, ‘২০ বছরের বেশি সময় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাচ্ছি, এতদিন তো সিআইডিবি লাইন্স বা সনদ লাগেনি। এখন নতুন করে এটিকে সামনে আনা হচ্ছে। এর কারণ, একটি গ্রুপ তাদেরকে (সিআইডিবি প্রতিনিধি) একটা পদ্ধতি বানাতে চাচ্ছে। তারা বলবে কর্মী যেতে তাদের নির্ধারিত এই কয়েকটি ট্রেনিং সেন্টারের সনদপত্র লাগবে।

কোনো ট্রেনিং না করিয়েই, দেখা যাবে সনদের জন্য অতিরিক্ত ১০ টাকা করে দিতে হচ্ছে কর্মীদের। এমন হলে অভিবাসন ব্যয় বাড়বে এবং ব্যবসাও গুটি কয়েক মানুষের কাছে চলে যাবে। এর আগেও একটি শ্রমবাজারে এমন কাজ করা হয়েছিল। সিআইডিবির সনদ নিয়েই কি মালয়েশিয়ায় কর্মী যেতে হবে?

আর এই প্রতিনিধি এনে বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে কী জানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়? মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, এ বিষয়ে কিছুই জানে না তিনি। কিছুই জানানো হয়নি মন্ত্রীকে। মন্ত্রী বললেন, যে কোন পদ্ধতিই করুক না কেনো, সিন্ডিকেট হতে দেব না। সিন্ডিকেটের খারাপ দিকটা আমরা জানি। কর্মী মারার সিন্ডিকেট আর হবে না।

বেলজিয়ামের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশি শায়লা
                                  

প্রবাস ডেস্ক : বেলজিয়ামের পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশি শায়লা শারমিন। আজ দেশটিতে নির্বাচন অনষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর শায়লা।

বেলজিয়ামের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি প্রার্থী হচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে বেলজিয়ামে মূলধারার সংস্কৃতির সমন্বিতকরণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।

ইতোমধ্যে তিনি দেশটির এন্টারপেন কাউন্সিলর হিসেবে (পিভিডিএ) নির্বাচিত হয়েছেন এবং এখনও তিনি স্বপদে বহাল থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

শায়লা শারমিন বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেলজিয়াম অর্থাৎ সমগ্র ইউরোপে সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করাই আমার স্বপ্ন।

তিনি বলেন, একটা সময় বাংলাদেশি প্রবাসীরা এখানে নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হতো, বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হতো, অনেক সংগ্রামের ফলে আমরা সেসব পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি।


   Page 1 of 5
     প্রবাস
৯২ বাংলাদেশি আটক, মালয়েশিয়ায় বিচারে বসছে বিশেষ আদালত
.............................................................................................
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনে শেষ সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের ঢল
.............................................................................................
মালয়েশিয়া ত্যাগে সময় কমছে, কর্মীদের নাভিশ্বাস উঠছে
.............................................................................................
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির পরিচয়পত্র পেশ
.............................................................................................
স্পেনে প্রবেশের চেষ্টায় ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
.............................................................................................
নিথর দেহে দেশের মাটিতে লিবিয়ায় নিহত ৩ বাংলাদেশি
.............................................................................................
দায় নিচ্ছেন না নিয়োগকর্তা, সৌদি থেকে ফিরলেন আরও ১২৫ বাংলাদেশি
.............................................................................................
ধড়পাকড়ে স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন, ফিরলেন আরও ২১৫ কর্মী
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় নতুন বীমার আওতায় দুই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি
.............................................................................................
পেনসিলভানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি কৃতিছাত্রীর মৃত্যু
.............................................................................................
সৌদি থেকে পাঁচ দিনে ফিরলেন ৪২১ জন কর্মী
.............................................................................................
নির্যাতনের শিকার সেই সুমি সৌদি পুলিশের হেফাজতে
.............................................................................................
শিশু প্রতিবন্ধী, বাংলাদেশি পরিবারকে ফেরত পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় ধরপাকড় আতঙ্কে প্রবাসী বাংলাদেশিরা
.............................................................................................
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : চলছে মারিং কাটিং
.............................................................................................
বেলজিয়ামের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশি শায়লা
.............................................................................................
তিউনিশিয়ায় নৌকাডুবিতে ৩৭ বাংলাদেশি নিহত
.............................................................................................
পূর্ব লন্ডনে তারাবির সময় মসজিদে গুলি
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় কন্টেইনার চাপায় ১০ বাংলাদেশি আহত
.............................................................................................
সৌদিতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ বাংলাদেশি নিহত
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বাংলাদেশিসহ ১০ জন নিহত
.............................................................................................
স্পেনে নানা আয়োজনে জাতির জনকের জন্মবার্ষিকী পালন
.............................................................................................
নিউজিল্যান্ডে নিহতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় বিনোদনকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ নিহত ৬
.............................................................................................
ইন্দোনেশিয়ায় ২০০ ‘বাংলাদেশি’ আটক
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় হঠাৎ পুলিশের ফাঁদ : ৩২০ প্রবাসী আটক
.............................................................................................
শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতা চান সৌদি বাদশাহ
.............................................................................................
আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন বিচারপতি সিনহা
.............................................................................................
ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় ২ নাইজেরিয়ান আটক
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি আহত
.............................................................................................
সিন্ডিকেটমুক্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, আলোচনার পর নতুন সিদ্ধান্ত
.............................................................................................
ভারত গেলেন এরশাদ
.............................................................................................
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা
.............................................................................................
জেদ্দায় পৌঁছেছে প্রথম হজ ফ্লাইট
.............................................................................................
মদিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি নিহত
.............................................................................................
নতুন জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ
.............................................................................................
স্ত্রী হত্যাচেষ্টার দায়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশির ১৮ বছরের জেল
.............................................................................................
চীন, রাশিয়া, ভারত, জাপানকে পাশে চায় বাংলাদেশ
.............................................................................................
তারেককে দেশে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হব: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
দণ্ডিত তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরাতে আলোচনা চলছে : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রী, লন্ডন যাবেন বিকেলে
.............................................................................................
মায়ের চিকিৎসার খরচ যোগাতে বিদেশে গিয়েছিলেন হিমেল
.............................................................................................
২৩ জনের লাশ আসছে আজ
.............................................................................................
মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন পাইলট আবিদ সুলতান
.............................................................................................
বাংলাদেশের উড়োজাহাজ নেপালে বিধ্বস্ত
.............................................................................................
চীনে জাহাজ-ট্যাঙ্কার সংঘর্ষ, দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ
.............................................................................................
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ বাংলাদেশি নিহত
.............................................................................................
দেশে ফিরে ‘চিফ জাস্টিস লাইব্রেরী’ স্থাপন করতে চান সিনহা
.............................................................................................
কুয়েতে এসি বিস্ফোরণে মা-সন্তানসহ ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু!
.............................................................................................
রাতেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি সিনহা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]