| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * নিউইয়র্কে রাত্রিকালীন কারফিউ বলবৎ থাকবে ৭ জুন পর্যন্ত   * লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার `মূল হোতা` ড্রোন হামলায় নিহত   * মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু   * গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৬৯৫ জনের করোনা শনাক্ত   * লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যায় ৩৮ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা   * আত্রাইয়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যু   * করোনায় বিশ্বে একদিনে আক্রান্ত এক লাখ ১৬ হাজার, মৃত্যু ৪৬৬৯   * গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রাজিলে করোনায় ১ হাজার ২৬২ জনের প্রাণহানি   * করপোরেশেনর রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, লেশমাত্র রাখব না : তাপস   * জনগণের কল্যাণের কথাই সরকার সবচেয়ে বেশি চিন্তা করছে : প্রধানমন্ত্রী  

   প্রবাস -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
হাজারের অধিক প্রবাসী বাংলাদেশি মৃত্যদেহ হাসপাতালের মর্গে, ফ্লাইট বন্ধ থাকায় দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না

মিয়া আবদুল হান্নান : প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাস ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে সৌদি আরবে । দেশটি থেকে সকল ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বাংলাদেশিদের লাশ জমা হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালের হিমাঘারে । পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় স্থানীয় ভাবে লাশগুলো দাফনও করা যাচ্ছে না। এদিকে সৌদি আরবে মারা যাওয়া প্রবাসীর লাশ বাংলাদেশে পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। স্থানীয় ভাবে লাশ দাফনের জন্য সৌদি আরব সরকার বাংলাদেশ দূতাবাসকে বার বার চাপ দিচ্ছেন। চলমান করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালের হিমাগারে লাশ রাখার জায়গা সংকুলান হচ্ছে না।

জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণকারী প্রবাসীদের লাশ স্থানীয় ভাবে দাফনের জন্য তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অফিস বন্ধ থাকায় মৃত্যু প্রবাসী কর্মীদের স্বজনদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করে লাশ দাফনের অনুমতি সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি সূত্র জানায়, প্রতিবছর সৌদি আরবে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন কারণে মারা যায়। দেশটিতে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭৭ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ২ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের লাশ বিভিন্ন হাসপাতাল মর্গে পড়ে রয়েছে। যথাসময়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেলে যথাযথ ভাবে লাশ দাফন করা সম্ভব হবে।

গত বছরও সৌদি আরবে মারা যাওয়া ৯৯৮ জনের মধ্যে ১১৩ জনের লাশ ছাড়া বাকিদের লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বাকি লাশগুলো পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে দাফন করা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই কারো অনুকূলে নহে।
করোনা মহামারীর সঙ্কটকালে সব পরিবারকে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সৌদি আরবে মরদেহ দাফনের অনুমতি দিতে অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস ও কনস্যুলেট জেনারেল জেদ্দা। লাশ সৌদি আরবে স্থানীয়ভাবে দাফন করা হলেও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল থেকে তিন লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পাবে মৃত্যু ব্যক্তির পরিবার।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তা শরিফুল আলম আজ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সনে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ৩ হাজার ৬৫৮ জন প্রবাসী কর্মীর লাশ দেশে আনা হয়েছে। বিমান বন্দর থেকে এসব লাশ দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে (নগদ সহায়তা) সর্বমোট বার কোটি আশি লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া একই বছর চার হাজার সাতাত্তর জন মৃত্যু প্রবাসী কর্মীর পরিবারের মাঝে জনপ্রতি তিন লাখ টাকা করে এক শত বিশ কোটি দশ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে অফিস বন্ধ থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যের লাশ দাফনে স্বজনদের অনুমতি নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মহামারী সঙ্কটের দরুণ অফিস বন্ধ থাকায় গত আড়াই মাস যাবত হাজার হাজার প্রবাসী মৃত কর্মীর স্বজনরা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে তিন লাখ টাকার আর্থিক অনুদান পাচ্ছে না। এসব মৃত্যু বাংলাদেশের প্রবাসীর অসহায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রতিদিন মৃত্যু প্রবাসী কর্মীদের অনেক অসহায় পরিবার আর্থিক অনুদান পাওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গেইটে গিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছে। তারা অনলাইনের মাধ্যমে তিন লাখ টাকার আর্থিক অনুদান জরুরিভিত্তিতে আসন্ন ঈদের আগেই পরিশোধের দাফন কাফন ও মৃত্যু ব্যক্তি পরিবারের আর্থিক ক্ষতিপূরন পাওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

হাজারের অধিক প্রবাসী বাংলাদেশি মৃত্যদেহ হাসপাতালের মর্গে, ফ্লাইট বন্ধ থাকায় দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাস ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে সৌদি আরবে । দেশটি থেকে সকল ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বাংলাদেশিদের লাশ জমা হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালের হিমাঘারে । পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় স্থানীয় ভাবে লাশগুলো দাফনও করা যাচ্ছে না। এদিকে সৌদি আরবে মারা যাওয়া প্রবাসীর লাশ বাংলাদেশে পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। স্থানীয় ভাবে লাশ দাফনের জন্য সৌদি আরব সরকার বাংলাদেশ দূতাবাসকে বার বার চাপ দিচ্ছেন। চলমান করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালের হিমাগারে লাশ রাখার জায়গা সংকুলান হচ্ছে না।

জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণকারী প্রবাসীদের লাশ স্থানীয় ভাবে দাফনের জন্য তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অফিস বন্ধ থাকায় মৃত্যু প্রবাসী কর্মীদের স্বজনদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করে লাশ দাফনের অনুমতি সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি সূত্র জানায়, প্রতিবছর সৌদি আরবে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন কারণে মারা যায়। দেশটিতে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭৭ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ২ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের লাশ বিভিন্ন হাসপাতাল মর্গে পড়ে রয়েছে। যথাসময়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেলে যথাযথ ভাবে লাশ দাফন করা সম্ভব হবে।

গত বছরও সৌদি আরবে মারা যাওয়া ৯৯৮ জনের মধ্যে ১১৩ জনের লাশ ছাড়া বাকিদের লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বাকি লাশগুলো পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে দাফন করা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই কারো অনুকূলে নহে।
করোনা মহামারীর সঙ্কটকালে সব পরিবারকে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সৌদি আরবে মরদেহ দাফনের অনুমতি দিতে অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস ও কনস্যুলেট জেনারেল জেদ্দা। লাশ সৌদি আরবে স্থানীয়ভাবে দাফন করা হলেও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল থেকে তিন লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পাবে মৃত্যু ব্যক্তির পরিবার।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তা শরিফুল আলম আজ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সনে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ৩ হাজার ৬৫৮ জন প্রবাসী কর্মীর লাশ দেশে আনা হয়েছে। বিমান বন্দর থেকে এসব লাশ দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে (নগদ সহায়তা) সর্বমোট বার কোটি আশি লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া একই বছর চার হাজার সাতাত্তর জন মৃত্যু প্রবাসী কর্মীর পরিবারের মাঝে জনপ্রতি তিন লাখ টাকা করে এক শত বিশ কোটি দশ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে অফিস বন্ধ থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যের লাশ দাফনে স্বজনদের অনুমতি নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মহামারী সঙ্কটের দরুণ অফিস বন্ধ থাকায় গত আড়াই মাস যাবত হাজার হাজার প্রবাসী মৃত কর্মীর স্বজনরা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে তিন লাখ টাকার আর্থিক অনুদান পাচ্ছে না। এসব মৃত্যু বাংলাদেশের প্রবাসীর অসহায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রতিদিন মৃত্যু প্রবাসী কর্মীদের অনেক অসহায় পরিবার আর্থিক অনুদান পাওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গেইটে গিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছে। তারা অনলাইনের মাধ্যমে তিন লাখ টাকার আর্থিক অনুদান জরুরিভিত্তিতে আসন্ন ঈদের আগেই পরিশোধের দাফন কাফন ও মৃত্যু ব্যক্তি পরিবারের আর্থিক ক্ষতিপূরন পাওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা সঙ্কটে, আজ দুই শতাধিক কর্মী স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করছে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মহামারি প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মহাসঙ্কটে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল তেল সমৃদ্ধ দেশ ওমানে কয়েক লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। অর্থনৈতিক মন্দার এবং তেলের দাম সর্বনিন্ম পর্যায়ে নেমে আসায় অভিবাসী প্রবাসী কর্মীদের পরিবর্তে ওমানের

নাগরিকদের কর্মক্ষেত্রে নিয়োগের ঘোষণা দেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির সরকার একটি বিশেষ ফ্লাইট যোগে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাস্কাট থেকে দু’শতাধিক বাংলাদেশি কর্মীদের স্বদেশে ফেরত পাঠাচ্ছেন। এসব প্রবাসী কর্মীদের অনেকেই অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করতো বলে জানা গেছে। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কল্যাণ ডেস্কে কর্মরত এডি ফখরুল আলম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিমানবন্দরে পৌঁছার পর পরই তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে খাবার ও পানীয়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল থেকে জন প্রতি পাঁচ হাজার করে টাকার আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মেজর (অব) সুজাউল হক ও দ্বিতীয় সচিব আনোয়ার হোসেনের সাথে একাধিকভার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন ধরেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল বিদেশী কর্মীদের সরিয়ে ওমানের নাগরিকদের চাকরি দেয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ে সরকারের আদেশনির্দেশাদি পালন করতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলোকে তাগিদ দিয়েছেন ওমান সরকার। বিশেষত উচ্চ পদগুলোর ক্ষেত্রে এই নির্দেশ আগে পালন করতে বলা হয়েছে। নাগরিকদের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এই নির্দেশ দেয়া হয়। ওমানের অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারি খাতের সংস্থাগুলোকে পরিচালনামূলক পদসহ সব ক্ষেত্রে বিদেশী কর্মীদের পরিবর্তে নিজ দেশের জনসাধারণদের নিয়োগের জন্য ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত সময় সিমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বিদেশি শ্রমিক এখনও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর পরিচালক পদ দখল করে আছে। ওমানের জনসংখ্যা ৪৬ লাখ। এর মধ্যে ৪০ শতাংশেরও বেশি বিদেশী এবং তারা বেশ কয়েক দশক ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ ওমানের উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করছে তারা।
দেশটির নির্মাণ খাত, সেবা সেক্টর, জ্বালানি খাত, মৎস্য খাতসহ বিভিন্ন সেক্টরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রম করে প্রতি বছর প্রচুর বাংলাদেশি রিমিটারদের পাঠানো
। রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতো।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, ১৯৭৬ সনে ১১৩জন কর্মী প্রেরণের মধ্য দিয়ে দেশটিতে জনশক্তি রফতানি শুরু হয়। ২০১৯ সনে ওমানে ১২ হাজার ২২৬ জন মহিলা গৃহকর্মীসহ সর্বমোট ৭২ হাজার ৬৫৪ নারী- পুরুষ কর্মী চাকরি লাভ করে। চলতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটিতে ১২ হাজার ৩০৭ জন কর্মী কর্মসংস্থান লাভ করেছে। এ দু’মাসে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীরা ১৮৬ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।
এছাড়া, বর্তমানে দেশটিতে লক্ষাধিক প্রবাসী বিভিন্ন কারণে দেশটিতে অবৈধের তালিকায় পড়েছেন। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে পরিস্থিতির মধ্যে সীমাহীন
ভোগান্তিতে রয়েছেন তারা। কাজ নেই, খেতেও পারছেন না অনেকে । ত্রাণের জন্য সরকার থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলেও তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ জানিয়েছেন অনেক প্রবাসীরা বাংলাদেশের কর্মীরা । ওমানে অভিবাসী প্রবাসী কর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয় নাগরিকদের নিয়োগের ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বায়রার ইসির অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ আলী আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, তেলের দাম শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেই প্রবাসী কর্মীদের চাকরি নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকির পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। বায়রা নেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের মহাসঙ্কটকালে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যাতে বাংলাদেশি কর্মীদের ছাঁটাই না করা হয় সে ব্যাপারে সরকারকে তড়িৎগতিতে ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় রেমিট্যান্স খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তিনি বর্হিবিশ্বে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়,পররাষ্ট্র মন্ত্রণলয় ও বায়রার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। প্রবাসী মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলো থেকে অবৈধভাবে বসবাসকারিগন ফেরত আসাতে তাদের সামাল দূরহ ব্যপার হয়ে দাড়াতে পারে।

আমিরাতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর
                                  

অনলাইন ডেস্ক : করোনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানকারী বাংলাদেশিকর্মীদের মধ্যে যাদের বর্তমান চাকরিস্থল থেকে চাকরি চলে গেছে বা যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তারা অন্যত্র নতুন করে চাকরির চেষ্টা করতে পারবেন।

একইসঙ্গে দেশটিতে বর্তমানে যারা ভিজিট ভিসায় গিয়ে অবস্থান করছে তারা চাইলে চাকরির ভিসাও নিতে পারবেন।
বুধবার এক বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকাস্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ দূতাবাস।

বার্তায় বলা হয়, আরব আমিরাতে যাদের চাকরি চলে গেছে বা ভিসা ক্যান্সেল হয়ে গেছে তারা অন্যত্র চাকরির চেষ্টা করতে পারবেন। দূতাবাস আরব আমিরাতের সরকারসহ বিভিন্ন সূত্রে অবহিত হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিক যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা ভিসা ট্রান্সফার করতে পারবেন। একইসঙ্গে যারা ভিজিট ভিসায় আমিরাতে অবস্থান করছেন তারা চাকরির ভিসাও নিতে পারবেন।

বার্তায় আরও বলা হয়, অনেকেই বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইছেন। তবে নিয়মিত ফ্লাইট চালু হওয়ার আগে বাংলাদেশে ভ্রমণ করার আপাতত কোনো সুযোগ নেই। সরকার নিয়মিত ফ্লাইট চালুর চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভব হলে এ মুহূর্তে দেশে ফিরে না গিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থানের পরামর্শ দেয়া হয় দূতাবাসের বার্তায়।

আমিরাতে করোনায় প্রাণ গেল ৩১ বাংলাদেশির
                                  

অনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ পর্যন্ত ৩১ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রায় ১৪ দিন করোনার সঙ্গে লড়াই করে গত রোববার (১০ মে) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মারা যান। সোমবার (১১ মে) দুবাইয়ের মুহাইছেনা কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়। এছাড়া করোনায় মারা যান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রফিক আলী। ১০ মে রাস আল খাইমায় স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় করোনায় মৃত চট্টগ্রামের হাটহাজারীর নাঙ্গলমোরা ইউনিয়নের বাদশা মিয়ার মরদেহ। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ধর্মপুর ইউনিয়নের দুই সহোদর শাহ আলম ও বেদারুল ইসলামের মরদেহও দাফন করা হয় স্থানীয় কবরস্থানে।

৩ মে রাস আল খাইমায় দাফন সম্পন্ন হয় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার দিদারুল ইসলাম বাবুলের। আবুধাবির বানিয়াছ কবরস্থানে দাফন করা হয় চাঁদপুরের ইদ্রিস ভূঁইয়াকে। হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী আল আইন আল ফুয়াতে সৌভন মিত্র নামে একজনের সৎকার করা হয়। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লিটন কান্তি সাহার মরদেহর সৎকারের প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।

আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিজানুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩১ প্রবাসী বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের প্রায় প্রত্যেকের মরদেহ সমাহিত করা হয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন কবরস্থানে। এছাড়া দু-একজনের মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। সম্প্রতি দূতাবাসকে সরাসরি অবগত করার আগেই কিছু মরদেহের দাফন হয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

মালয়েশিয়ায় আটকে পড়াদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট আসছে ১৩ মে
                                  

অনলাইন ডেস্ক : বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে চলমান মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) চলায় ভিসিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় গিয়ে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যেগ গ্রহণ করেছে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ।

প্রথম ব্যাচের যাত্রীদের মালিন্দো এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে আগামী ১৩ মে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় ফেরার সব কিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রত্যেক যাত্রীর স্বপক্ষে দূতাবাসের সনদ ইস্যু এবং যাতায়াতের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করছে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ।

যাত্রীদের টিকিট ও মেডিকেলের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলমগীর জলিল বলে সুত্রে জানা যায়। এ নিয়ে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক MCO (Movement Control Order) জারির প্রেক্ষিতে যে সকল সম্মানিত বাংলাদেশি ভাই ও বোনেরা মালয়েশিয়ায় আটকা পড়েছেন তাদের প্রথম ব্যাচের ( ইতোমধ্যেই যাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে) দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য Malindo Air এর চার্টার্ড ফ্লাইটের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ আগামী ১৩/৫/২০২০।

এই চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনায় বাংলাদেশ সরকারের সাথে সমন্বয় (CAAB অনুমোদন), মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদন, প্রত্যেক যাত্রীর স্বপক্ষে দূতাবাসের সনদ ইস্যু এবং যাতায়াতের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ যাবতীয় কার্যক্রম হাইকমিশন সম্পন্ন করছে। এ বিশেষ ফ্লাইটের যাত্রীদের টিকিট ও মেডিকেল এর কাজে জনাব মোঃ আলমগীর জলিল (সাবেক প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি) সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন। আপনাদের যাত্রা শুভ হোক। ধন্যবাদ। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া।

অবৈধ অভিবাসী কর্মীরা কাজে যোগদান থেকে বঞ্চিত : নিজ খরচে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী অভিবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। লকডাউন কিছুটা শিথিল করায় ভিসা পারমিট, ইনস্যুরেন্স ও সিআইডিবি কার্ড (লেবার -মাসুমা বেগমের কারিগর সেক্টরে কাজ করার অনুমতি পত্র) দেখিয়েই অভিবাসী কর্মীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি স্ব স্ব কর্মীকেই পরিশোধ করতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যারা টিকে যাবে কেবলমাত্র তারাই কাজে যোগদানের সুযোগ পাবে। এক্ষেত্রে দেশটিতে ঘরবন্দি লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসী কর্মী স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় দেশটিতে বসবাসকারী দু’লক্ষাধিক অবৈধ বাংলাদেশি কর্মী লকডাউন শিথিল করার পরেও কাজে যোগদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এতথ্য জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ ছয় সপ্তাহ পর গতকাল সোমবার থেকে লকডাউন কিছুটা শিথিল করেছে মালয়েশিয়া সরকার। এতে দেশটিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় খুলতে শুরু করেছে। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য মানুষের চলাচল বেড়েছে। এ অবস্থায় কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ না নেয়া হলে নভেল ১৯ করোনাভাইরাস পুনরায় আঘাত হানতে পারে। এজন্যই মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী কর্মীদের জন্য করোনার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে মালয়েশিয়ার সরকার।

অবশ্য দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করলেও বেশ কয়েকটি রাজ্য কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একমত হতে চাইছে না। মালয়েশিয়ার মোট তেরটি রাজ্যের মধ্যে নয়টির কর্তৃপক্ষ কড়াকড়ি আরো কিছুদিন চালিয়ে নেয়া অথবা বিধিনিষেধ আরো কঠোর করার পক্ষে মত দিয়েছেন মহামারি মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের পাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে গত ১৮ মার্চ থেকে লকডাউন আরোপ করে মালয়েশিয়া সরকার। মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাঈল সাবরি ইয়াকুব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ব্যবসার সব খাতে কর্মরত প্রবাসী অভিবাসীদের বাধ্যতামূলকভাবে কভিড-১৯ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে পরীক্ষার খরচ তাদেরই বহন করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরের কোতোয়ারাস্থ রাজধানী রেষ্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী প্রবাসী ব্যবসায়ী কাজী সালাহ উদ্দিন জানান, মালয়েশিয়ায় করোনা ঠেকাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বাধ্যতামূলক করায় দেশটিতে ঘরবন্দি দু’লক্ষাধিক অবৈধ বাংলাদেশি কর্মী সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তারা স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না এবং কাজে যেতে পারবে না। প্রবাসী ব্যবসায়ী কাজী সালাহ উদ্দিন বলেন, এসব অবৈধ কর্মী দু’তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট অবদানল রেখেছে। তারা বর্তমানে দক্ষ কর্মী হিসেবেই দেশে প্রচুর রেমিট্যান্স পাঠাতো স্বদেশে, বাংলাদেশ।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কাজী সালাহ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে প্রচুর অভিবাসী কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। ভ্রাতৃ-প্রতীম মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের চমৎকার সর্ম্পক রয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার করোনা ভাইরাসের মহামারীর এ ভয়াবহ সঙ্কটকালে মানবিক দৃষ্টি দিয়ে এসব অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দিয়ে কাজে যোগদানের ব্যবস্থা করলে তারা দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট সফলতার অংশিদারের ভূমিকা রাখতে পারবে। তিনি এ ব্যাপারে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেয়ার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামান করেন। মালয়েশিয়ার সিম্বোল চাহায়া(এম) এসডিএন-বিএইচডি’র ডিরেক্টর রাজিবুল হাসান আজ কুয়ালালামপুর থেকে সাংবাদিকদের জানান, গত জানুয়ারি থেকে ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় গিয়ে যারা আটকা পড়েছেন তারা লকডাউন ছাড়ার পর পরই কোনো প্রকার জরিমানা ব্যতীত বিমানের টিকিট কেটেই দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, দেশটিতে বসবাসকারী অন্যান্য অবৈধ বাংলাদেশিকে এ সুযোগ দেয়া হলে অনেকেই দেশে চলে আসতো।গত সপ্তাহে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, কুয়ালালামপুরের একটি নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে কভিড-১৯ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিবাসী কর্মীদের জন্য করোনা পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা আরোপ করল মালয়েশিয়া সরকার।

মহামারি করোনার ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত অভিবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ শত শত অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সমালোচনাও করা হয়। তবে নিরাপত্ত বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাঈল সাবরি ইয়াকুব গ্রেফতারের পক্ষেই সাফাই গান। অবশ্য তিনি জানান, আটককৃতদের সবারই করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সবারই ফল নেগেটিভ এসেছে।
মালয়েশিয়ায় প্রায় ২০ লাখ নিবন্ধিত অভিবাসী প্রবাসী কর্মী কাজ করেন। তবে তাদের অনেকের কাছেই যথাযথ কাগজপত্র নেই বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেন। মালয়েশিয়ার অভিবাসী কর্মীদের বেশির ভাগই ইন্দোনেশিয়া, ভারত,নেপাল, বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে আসা।

কুয়ালালামপুর থেকে ভেস্ট মার্কেটিং এসডিএন-বিএইচডি’র ডিরেক্টর মোঃ রুহুল আমিন আজ মঙ্গলবার জানান, করোনা ভাইরাসেরপ্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অভিবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ খুবই ভালো উদ্যোগ। কিন্ত দেশটিতে অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ ভিসা পারমিট, ইনস্যুরেন্স ও সিআইডিবি কার্ডের না থাকায় তারা স্বাস্থ্য পরীক্ষার মুখোমুখি হতে পারছে না। তিনি বলেন, দেশটির সাধারণ ক্ষমার আওতায় গত ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব অবৈধ দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় বৈধতা লাভের সুযোগ দিলে উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। তিনি এব্যাপারে সরকারের উচ্চ মহলে ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়ার ওপরগুরুত্ব পূর্ণ বলে মনে করেন।

অর্থনৈতিক মন্দায় অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা : সৌদি আরব থেকেই ফিরবে দশ লাখ কর্মী
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : অর্থনৈতিক মন্দায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ফেরার ঝুঁকিতে পড়ছেন। নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নাও, না হলে বিভিন্নভাবে তাদের সমস্যায় ফেলা হবে, বাংলাদেশের জন্য ঠিক এমন হুমকিই এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এ পরিস্থিতিতে কেবল সৌদি আরব থেকেই বিতাড়িত হবেন প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী। সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস গত মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এমন তথ্য জানিয়েছে। মরণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারীর সঙ্কটকালে দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ঘরবন্দি। এর মধ্যে প্রায় চার লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি অবৈধ। সৌদিতে আকামার ফি দ্বিগুণ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে এসব বাংলাদেশি অবৈধ হয়েছে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারীতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেলের দাম সর্ব নিন্ম পর্যায়ে নেমে এসেছে। এতে সৌদি আরবসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অর্থনীতিতে ভাটার টান শুরু হয়েছে। অভিবাসী কর্মীদের কমিয়ে স্ব স্ব দেশের অর্থনীতির চাকাকে কোনো মতে টিকিয়ে রাখার চিন্তা-ভাবনা করছে এসব দেশগুলো।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, শুধু সৌদি আরব নয়, কুয়েত, কাতার, ইরাক, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলো অবৈধ কর্মীদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ থেকে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। জনশক্তি রফতানির দ্বিতীয় বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতও বাংলাদেশি অবৈধ কর্মীর পাশাপাশি আসামি ফেরত পাঠাতে চাইছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বিশেষ করে সৌদি আরব থেকে কত কর্মী ফেরত আসবে তা ভাবতেও পারছি না। তিনি বলেন, সৌদ আরব সরকার বাংলাদেশিদের ফেরত আনার বিষয়ে তাগিদ দিচ্ছে। কিন্তু আমরা তাদের বলেছি, এক সঙ্গে এত লোক আনতে পারবো না। আমরা আমাদের কর্মীদের অবশ্যই নিয়ে আসব। তবে ধাপে ধাপে আনতে চাই।
তিনি বলেন, তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের অর্থনীতি কিছুটা কঠিন অবস্থায় রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলোতে আগামীতে আমাদের কর্মীর চাহিদা কমবে। এছাড়া ছোটখাটো অপরাধে জেলে থাকা প্রবাসীদের ক্ষমা করে জেল থেকে সোজা বিমানে তুলে দিচ্ছে।
বিএমইটির সূত্র জানায়, চলতি ২০২০ সালের নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির ১৫ দিনেই প্রবাসীরা প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে দেশে। এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে দুই সপ্তাহে এত বেশি রেমিট্যান্স আসেনি। শুধু জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরবের প্রবাসী কর্মীরা ৬২৯ দশমিক উনআশি মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন।

১৯৭৬ সনে ২১৭ জন কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে সৌদি আরবের বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানি শুরু হয়। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ৪১ লাখ ৪৪ হাজার নয় শত বাহত্তর জন নারী পুরুষ কর্মী চাকুরি নিয়ে গেছে। এছাড়া কুয়েতের চারটি অস্থায়ী ক্যাম্পে সাড়ে চার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি কর্মী দেশটির সাধারণ ক্ষমার আওতাদেশে ফেরার জন্য মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তারা গত পহেলা রমজান থেকে সেহরি ও ইফতারিতে প্রয়োজনীয় খাবার পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠছে। গত মাসের শেষের দিকে দু’টি ফ্লাইট যোগে দুই শত সাতচল্লিশ জন কর্মীকে কুয়েত থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দেশটিতে প্রায় ১৭ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি রয়েছে। এসব অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও ফেরত পাঠানো হবে।বায়রার যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে লাখ লাখ প্রবাসী কর্মী ফেরত আসার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গতকাল রোববার সাংবাদিকদের বলেন, সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরব থেকে প্রচুর কর্মী ফেরত আসলে রেমিট্যান্স খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় আসবে। আগ থেকে সরকারের উচ্চ পর্যয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ২০৩০ ভিশন এর আওতায় দেশটিতে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ শুরু হলে প্রচুর বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরবের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের কারণে সেখানে থাকা বৈধ ও অবৈধ অন্য দেশের নাগরিকদের বিতাড়নের নীতি নিয়েছে দেশটির সরকার। এখন আর সাধারণ ক্ষমা করে পুনরায় বৈধ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না সৌদি আরব সরকার। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস আশঙ্কা করছে, এবার পাঁচ থেকে দশ লাখ বাংলাদেশীকে বিতাড়িত করবে সৌদি আরব সরকার।এ পরিস্থিতিতে গত বছরের শেষ দিক থেকে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি আরব সরকার ঘোষিত স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রাম (এসইপি) আওতায় পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া, অবৈধ হয়ে যাওয়া অনিবন্ধিত বাংলাদেশি কর্মীদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশকে চাপ দিচ্ছে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে। শুরুতে অবৈধ ও আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের নিয়ে আসতে বলছে। তারপর হয়তো বৈধভাবে যেসব বাংলাদেশী রয়েছেন, তাদের বিভিন্ন উপায়ে সৌদি আরবে থাক কঠিন করে দেবে দেশটি। এর উদাহরণ আমাদের সামনেই রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাঁচ থেকে দশ লাখ মানুষকে হয়তো এখনই ধরে বিতাড়িত করবে না সৌদি আরব সরকার। তবে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বিশালসংখ্যক বাংলাদেশীকে নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত করবে দেশটি। সম্প্রতি সৌদি আরব সরকার এক লাখ বাংলাদেশি কর্মীর ভিসা বাতিল করেছে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে। যদিও দেশটির সরকার এসব ভিসার জমাকৃত ফি ফেরত দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।সৌদি আরব থেকে একাধিক সূত্র জানায়, ২০৩০ ভিশন অনুযায়ী পুরো সৌদিআরব শ্রমবাজারে সত্তর শতাংশ সৌদি আরবের নাগরিককে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে দেশশটির। এটি বাস্তবায়নে সব দেশের অভিবাসী কর্মীদের ক্রমান্বয়ে ছাঁটাই করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে সাৌ সরকার। এরই মধ্যে সৌদি আরব সরকার আকামার ফি দ্বিগুণ বাড়িয়েছে।

বিভিন্ন দোকান-পাট শপিংমলে ষ্টেশেনারিদের চাকুরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যার কারণে এরই মধ্যে মিসরের ১১ লাখ নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা সৌদি আরব ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আরো দেশের নাগরিকরা সৌদি আরব ছাড়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।

প্রবাসীদের খাবার নাই দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশি কর্মীরা, এরমধ্যেই মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার হতাশা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মালয়েশিয়ায় লকডাউনে ঘর বন্দী বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীরা বাংলাদেশের সরকারের দেয়া ত্রাণ জুটেনি ভাগ্যে। লকডাউনের ঘর বন্দী বাংলাদেশি সহ সাতশতাধিক প্রবাসী গ্রেফতার করেছে মালয়েশিয়া সরকারের পুলিশ। মরার উপর খড়ার ঘা, এমনিতে প্রাণঘাতী করোনা মহামারীর লকডাউন চলাকালে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের গ্রেফতার শুরু হয়েছে। এতে দেশটিতে ঘরবন্দি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। শুক্রবার দেশটির কুয়ালালামপুরস্থ সিটি ওয়ান প্লাজা, শ্রীলঙ্গার ম্যানশন ও মালয় ম্যানশনে ইমিগ্রেশন পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ৭ শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমারের অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থীও রয়েছেন। কুয়ালালামপুর থেকে নির্ভর যোগ্য সূত্র এতথ্য নিশ্চিত করেছে। করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে লকডাউন চলছে।

কুয়ালালামপুর থেকে ভেস্ট মার্কেটিং এসডিএন বিএইচ ডি’র ডিরেক্টর মো. রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ সিটি ওয়ান প্লাজাসহ কয়েকটি ভবনে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু বাংলাদেশিসহ ৭ শতাধিক অবৈধ অভিবাসী কর্মীকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিয়ে গেছে। এতে দেশটিতে ঘরবন্দি অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, দেশটিতে মহামারীর মধ্যে যেখানে মানুষের চলাচল ও ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে সেই মুহূর্তে এমন আটকের ঘটনা উদ্বেগের। রুহুল আমিন দেশটিতে বসবাসকারী ঘরবন্দি বাংলাদেশি কর্মীদের যাতে গ্রেফতার না করে সে জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর অনুরোধ জানান। তিনি দেশটিতে যেসব অবৈধ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছে চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদেরকে বৈধতার দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওই দেশটিতে প্রায় ২০ লাখ নিবন্ধিত বিদেশী কর্মী বসবাস করছে। এছাড়া উপযুক্ত নথিপত্র ছাড়াই আরও বিপুল সংখ্যক অবৈধ কর্মী দেশটিতে অবস্থান করছে। অনেক মালয়েশিয়ান এসব অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের বিরুদ্ধে করোনার বিস্তার ছড়ানোর অভিযোগ তুলে বলছেন, তারা দেশের সরকার ও মানুষের জন্য জান মালের ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকার দেশটিতে ঘরবন্দি বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশনে চল্লিশ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্ত হাই কমিশনার মোঃ সহীদুল ইসলামের একগুঁয়েমির দরুণ অধিকাংশ অসহায় কর্মীরা ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না বলেও একাধিক ভুক্তভোগিরা জানিয়েছে। মরার উপর খড়ার ঘা, অবৈধ প্রবাসী কর্মীরা আতঙ্কে রয়েছে।

আজ শনিবার কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের শ্রম সচিব জহিরুলের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ব্রুনাইতে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই চল্লিশ দালাল চক্রের প্রতারণা শিকার প্রবাসীরা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মহামারি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জনকারী দেশ ব্রুনাই মুসলিম দেশ। আর ব্রুনাইতে প্রতারণার শিকার প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি কর্মীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। কাজ কর্ম না থাকায় ঘরবন্দি এসব কর্মীরা খাদ্য সঙ্কটে পড়েছে। দেশে তাদের পরিবার পরিজনরাও চরম হতাশায় ভুগছে। পরিবার পরিজনের সুখের স্বপ্ন গড়তে ভিটেমাটি বিক্রি করে তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা ব্যয় করে দালাল চক্রের মাধ্যমে তারা ব্রুনাই গিয়েছিল। দালাল চক্র এসব কর্মীদের শর্তানুযায়ী কোনো কাজ দিতে পারেনি। কোনো কোনো মাসে বিভিন্ন স্থানে ৫/৭ দিন কাজ দিতে পারলেও সারামাস বসে থাকতে হয়। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অস্বাস্থ্যকর রুমে আটকে রেখেছে। ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে একাধিক ভুক্তভোগি এসব তথ্য জানিয়েছে।

এশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় তেল সমৃদ্ধ দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি কর্মী অবস্থান করছে। মরণঘাতী মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এসঙ্কটকালে প্রবাসী কর্মীদের ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য ব্রুনাইস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনার এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন সরকারের কাছে সোয়া কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে ছিল। কিন্ত সরকার ত্রাণ সহায়তার জন্য মাত্র ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।

হাই কমিশনারের ব্যক্তিগত তদারকিতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটির ৭শ’ প্রবাসী কর্মীকে পঞ্চাশ ব্রুনাই ডলার করে নগদ সহায়তা দেয়া হয়েছে । আর মাত্র ১৩০ জন প্রবাসীকে পঞ্চাশ ডলার করে ত্রাণ সহায়তা দেয়া যাবে। আরো নতুন করে ত্রাণের অর্থ বরাদ্দ জরুরি হয়ে পড়েছে। ব্রুনাই হাই কমিশনের কর্মকর্তা ড. আবু নাঈম আজ বুধবার সাংবাদিকদের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশটিতে গত ১২ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্তের বিষয়টি শনাক্ত হয়। এ যাবত ১৩৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে ১২৪ জনই সুস্থ্য হয়ে বাসায় ফিরেছেন। সচেনতার কারণে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মাত্র একজন লোক মারা গেছে।
বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের প্রবাসী ব্যবসায়ী কাসেম শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে।
আজ বুধবার ব্রুনাই থেকে প্রতারণার শিকার পাবনার রফিকুল ইসলাম, খুলনার মোস্তফা, ওমর ফারুক ও আব্দুল আউয়াল কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ঢাকা জেলার কুখ্যাত প্রতারক আব্দুর রহিম ব্রুনাইতে ভূয়া কোম্পানী খুলে সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে আমাদেরকে আট মাস আগে ব্রুনাই এনে বিমান বন্দর থেকে সরাসরি জঙ্গলের মধ্যে একটি ঘরে আটকে রাখে। এ যাবত কোনো কাজ দিতে না পেরে তার আরেক দালাল ফরিদপুরের কামরুল হাসান কামুসহ বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।

বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে সে জেলে হাজতে রয়েছে। তারা জানান, হাই কমিশন থেকে পঞ্চাশ ডলার ত্রাণ সহায়তা পাওয়া গেছে। দেশের আত্নীয় স্বজন থেকে টাকা নিয়ে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশের আত্নীয় স্বজনও খাবারের টাকা পাঠাতে পারছে না। তাদের মতে, প্রায় চল্লিশ জন দালালচক্র ব্রুনাইতে নামে বেনামে ভূয়া কোম্পানী খুলে বাংলাদেশ থেকে চড়া অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী এনে বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে কাজ না দিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবরুদ্ধ করে রাখছে। তারা এসব প্রতারক দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিকট জানায়। এছাড়া পাবনার সোলায়মান হোসেন তিন মাস আগে বাড়ী থেকে টাকা নিয়ে ব্রুনাই থেকে দেশে ফিরে এসে প্রতারক আব্দুল রহিমের বিরুদ্ধে ঢাকার সিআইডিতে মামলা দিয়েছে। তার কাছ থেকে তিন লাখ নব্বই হাজার টাকা নিয়ে ব্রুনাইতে কোনো কাজ দিতে পারেনি দালাল চক্র। সে গ্রামের বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহার অনিদ্রায় দিন কাটাচ্ছে।

হাইকমিশনের দেয়া ত্রাণ পায়নি ক্ষুধার্ত অনাহারি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মরণঘাতী মহামারী করোনাভাইরাসের পাদুর্ভাবে মালয়েশিয়ায় ঘরবন্দি অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে অনাহার অর্ধাহারে ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার। দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে পৃথক পৃথক ভাবে অসহায় প্রবাসীদের মাঝে কিছু কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের একগুঁয়েমি ও সিদ্ধান্তহীনতার দরুণ অবরুদ্ধ অধিকাংশ ক্ষুধার্ত প্রবাসীদের ভাগ্যে ত্রাণ জুটছে না। অসহায় অশিক্ষিত লাখ লাখ কর্মী অনলাইনে হাই কমিশনের বিতর্কিত ত্রাণের ফরম পূরণ করতে না পারায় তাদের ভাগ্যে ত্রাণ জুটছে না। ত্রাণ না পেয়ে অসহায় কর্মীরা চরমভাবে ক্ষুদ্ধ। কুয়ালালামপুর থেকে একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সরকার মালয়েশিয়ায় অসহায় বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে দ্রুত ত্রাণ সামগ্রি পৌঁছে দিতে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনকে চল্লিশ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কুয়ালালামপুরস্থ হাই কমিশনার মোঃ শহীদুল ইসলাম বাংলাদেশি কমিউনিটির কারো সাথে পরামর্শ না নিয়ে ত্রাণ নেয়ার জন্য অনলাইনে ফরম পূরণ করার আহবান জানান। এতে দামি দামি কন্ডোমিনিয়ামে বসবাসকারী শিক্ষিত বাংলাদেশিরাই এ সুযোগটি লুফে নেয়। সাড়ে ৬ হাজার প্রবাসী অনলাইনে ফরম পূরণ করে হাই কমিশনের ত্রাণ নিচ্ছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ স্বচ্ছল প্রবাসী শিক্ষিত বাংলাদেশি। অসহায় ক্ষুধার্ত প্রবাসীরা ত্রাণের জন্য হাই কমিশনে দফায় দফায় মোবাইল ফোন করেও কোনো সাড়া পাচ্ছে না। মালয়েশিয়া থেকে একাধিক ভুক্তভোগী প্রবাসী কর্মী এসব তথ্য জানিয়েছে।

হাই কমিশন স্থানীয় একটি এনজিও এম টি ইউ সি’র মাধ্যমে ফরম পূরণকারীদের মাঝে ত্রাণের প্যাকেট বিতরণ করছে। আজ মঙ্গলবার হাই কমিশনার মোঃ শহীদুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কুয়ালালামপুর থেকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ২৫ এপ্রিল হাই কমিশন কুয়ালালামপুর ও সেলাঙ্গরের বিভিন্ন এলাকায় ২০০ প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করে। এর মধ্যে মাত্র দুই-একজন অসহায় প্রবাসী বাকি সবাই দামি দামি কন্ডোমিনিয়ামে থাকেন। ত্রাণ প্রাপ্তদের অনেকেই ২৫০০ থেকে ৩০০০ রিংগিত বাড়ি ভাড়া দিয়ে কন্ডোমিনিয়ামে থাকেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ মালয়েশিয়া শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অহিদুর রহমান আজ মঙ্গলবার কুয়ালালামপুর থেকে সাংবাদিকদেরকে জানান, হাই কমিশনের একগুঁয়েমির দরুণ মালয়েশিয়ায় ত্রাণ বিতরণে সরকারের ভালো উদ্যোগকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। হাই কমিশনের বিতরণ ত্রাণ বিশ ভাগ অসহায় কর্মীর ভাগ্যেও জুটেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাই কমিশনার মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জেলার সামাজিক সংগঠনগুলোকে ডেকে পরামর্শ নিয়ে ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নিলে অসহায় ক্ষুধার্ত প্রবাসীরা ত্রাণের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো না। তবে শোনা যাচ্ছে হাই কমিশন কর্তৃক পরবর্তী উদ্যোগে নতুন প্রক্রিয়ায় ত্রাণ বিতরণের চেষ্টা চালাবে।
আজ মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার পেনাংস্থ জর্জ টাউনের কমতার থেকে ঝিনাইদহের প্রবাসী কর্মী কবির শেখ, খবির মিয়া, মোকাব্বির হোসেন, নাহিদ ও যশোরের মাসুম কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদেরকে বলেন, ১০ দিন আগে জর্জ টাউনের প্রবাসী ব্যবসায়ী মোঃ শহীদুল ইসলামের ওয়ান্ডারলাইট মিনি মার্কেটের অসহায় শত শত প্রবাসী কর্মীর নাম , পাসপোর্ট নম্বর ও মোবাইল নম্বর জমা নেয়া হলেও হাই কমিশনের কোনো ত্রাণ ভাগ্যে জুটেনি। পেনাংস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের অস্থায়ী কার্যালয়ের মাধ্যমে কিছু ত্রাণ পাঠালেও তা’ অসহায় ক্ষুধার্ত প্রবাসী কর্মীদের ভাগ্যে জুটেনি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মালয়েশিয়ার পেনাংস্থ মুসলিম কমিউনিটি অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট প্রবাসী ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন রিপন আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, পেনাংয়ে লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অনেক দিন যাবত ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছে। হাই কমিশনের ত্রাণ এসব প্রবাসীদের ভাগ্যে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত জুটেনি। শুনেছি অসহায় প্রবাসীদের নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে যথা সাধ্য অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশি ও মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম চলছে। জাতীয় শ্রমিক লীগ মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি নাজমুল ইসলাম বাবুল আজ মুঠোফোনে জানান, হাই কমিশন থেকে ত্রাণ নেয়ার জন্য বেশির ভাগই স্বচ্ছল প্রবাসী তারা সরকারি বিনা মূল্যের ত্রাণ পাওয়ার লক্ষ্যে সখে বসবর্তি হয়ে অনলাইনে আবেদন করেছে। তাদের ত্রাণের প্রয়োজন ছিল না। আর অসহায় ক্ষুধার্ত কর্মীরা ত্রাণ পাচ্ছে না। গতকাল পর্যন্ত হাই কমিশন সাড়ে ৫ হাজার প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করছে বলে তিনি দাবি করেন।

মালদ্বীপে পর্যটন খাত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে ফেরার চাপ
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মহামারি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আতঙ্কে পর্যটন নির্ভর মালদ্বীপে লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফেরাতে বাড়ছে চাপ। দেশটির পর্যটন খাত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব বাংলাদেশি কর্মী চরম খাদ্য সঙ্কটের মুখে পড়েছে। দেশটির পক্ষে কর্মহীন এসব কর্মীদের তিন বেলা খাওয়ানো মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের পরিবার পরিজনরাও চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। মালদ্বীপ সরকার দেশটিতে বসবাসকারী এক লাখ বিশ হাজার বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত চার মাস ধরে মৎস্য আহরণ ছাড়া অন্য ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম নেই দেশটিতে। দেশটিতে এক লাখ বিশ হাজার বাংলাদেশি পর্যটন খাত, সেবাসহ বিভিন্ন সার্ভিস সেক্টরে কাজ করতো। বর্তমানে বেকার অভিবাসী কর্মীদের নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে দেশটির সরকার। মালদ্বীপ সরকার এসব বাংলাদেশিদের দ্রুত ফেরত নিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চাপ দিচ্ছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার মালদ্বীপে পর্যটন ও মৎস্য শিল্প ছাড়া অন্য তেমন কোনও শিল্প নেই। কৃষিপণ্যের প্রায় প্রতিটি তাদের আমদানি করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে লক্ষাধিক বিদেশিকে কোনও কাজ ছাড়া তাদের পক্ষে খাওয়ানো মুশকিল বলে তারা আমাদের জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে আমরা তাদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছি এবং সব বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

আজ সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমদ মনিরুছ সালেহীন এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদেরকে বলেন, এক সময়ে মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশিরা ভালোই ছিল। অতিরিক্ত সচিব বলেন, চলমান সঙ্কটকালে কিছু দেশ থেকে প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তার মধ্যে মালদ্বীপের নামও রয়েছে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসীদের ব্যাপার নিয়ে এ যাবত আমরা চারটি মিটিং করেছি। আরো মিটিং করা হবে। প্রবাসীদের সর্ম্পকে কথা বলার জন্য আজ মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব টি কে এম মুশফিকুর রহমানের মোবাইলে একাধিক বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে কুয়েত-বাহরাইন থেকে অবৈধ কর্মীদের ফেরত পাঠানো শুরু
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মহামারী করোনাভাইরাস ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত ও বাহরাইন থেকে অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীরা ফেরত আসা শুরু হয়েছে। বাহরাইনের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ১৫০ জন কর্মী রোববার ইফতারির আগেই খালি হাতে ঢাকায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার কুয়েত থেকেও সাধারণ ক্ষমার আওতায় দেশটির একটি ছোট ফ্লাইট যোগে ১২১ জন অবৈধ কর্মী দেশে পৌঁছবে। বিমান বন্দরে ফেরত আসা কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে বলে জানা গেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, করোনার কারণে জেলখানা ও ডিটেনশন ক্যাম্প খালি করার অংশ হিসেবে এসব কর্মীকে ফেরত পাঠাচ্ছে বাহরাইন। এ মাসেই কুয়েতের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে অপেক্ষমান সাড়ে চার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীর দেশে ফেরা শুরু হচ্ছে। এসব প্রবাসী কর্মী চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং ভিটেমাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে কুয়েতে গিয়েছিল। অনেকেই অভিবাসন ব্যয়ের টাকাই তুলতে পারেনি। তাদের পরিবার পরিজন চরম হতাশায় ভুগছেন।

করোনাভাইরাস মহামারীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী গৃহবন্দি। এদের অনেকেই খাদ্য সঙ্কটে পড়ে অনাহার অনিদ্রায় দিন কাটাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ চলতি মাসের প্রথম দিকে বর্হিবিশ্বে গৃহবন্দি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য বিদেশে ২২টি মিশনে অতিরিক্ত ৫ কোটি টাকা জরুরি বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্ত মিশনগুলোর ত্রাণ বিতরণে ধীরগতির কারণে ক্ষুধার্ত প্রবাসী কর্মীদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। ভুক্তভোগি একাধিক প্রবাসী কর্মী এসব অভিযোগ তুলছে। সরকার সউদীর অবরুদ্ধ অসহায় প্রবাসীদের জরুরিভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ৪০ লাখ টাকা ও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ৪০ লাখ টাকা পাঠায়। রিয়াদস্থ দূতাবাস তাৎক্ষণিভাবে ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্ত জেদ্দাস্থ কনসাল জেনারেল ফয়সল আহমদের একগুঁয়েমির দরুণ সউদীর পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার অসহায় কর্মীর ত্রাণ পাওয়ার আবেদনের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মাত্র ৭শ’ কর্মীর মাঝে নির্দিষ্ট পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দৈনিক ইনকিলাবে একটি খবরও ছাপা হয়েছিল। পরের দিন সিজি কয়েক জনের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন মাত্র।

কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস ঠেকাতে কুয়েত সরকার অবৈধ বাংলাদেশিদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় দেশে ফেরত পাঠাতে উদ্যোগ নিয়েছে। আজ সোমবার কুয়েতের একটি ফ্লাইট যোগে ১২১জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এসব কর্মী দেশটির কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে খালি হাতে দেশে ফিরছে। জেল-জরিমানা ছাড়া দেশে ফিরতে চলতি মাসের মাঝামাঝি কুয়েত পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করেছেন ৪ হাজার ৪ শ ২৮ বাংলাদেশি। প্রথমে কোনো রকম সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে এসব কর্মীদের বিদ্যুতবিহীন একটি স্কুলে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল। সেখানে খাবার ও পানির তীব্র সঙ্কটের সম্মুখীন হয় এসব কর্মী। প্রথম রোজায় অনেকের ভাগ্যে সেহরিও জুটেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে তাদের দুর্ভোগ এবং এর ধারাবাহিকতায় বিক্ষোভের ভিডিও নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরে তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়।

সম্প্রতি কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের এ সংক্রান্ত নোটিশে ৩ শর্তের অন্যতম শর্ত ছিল দেশটির সরকারই অবৈধ কর্মীদের বিমান বা টিকেটের ব্যবস্থা করবে, তবে সেটি না হওয়া পর্যন্ত একটি স্থানে (প্রত্যাবাসন পূর্ব ক্যাম্পে) তাদের রাখা হবে। ওই ক্যাম্পে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু কুয়েত সরকারই ব্যবস্থা করবে। যারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরবে তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় দেশটিতে যেতে পারবে। কুয়েত সরকারের বিমান ভাড়ায় দেশে ফেরার সুবিধায় দেয়ায় স্বেচ্ছায় ধরা দেন অবৈধ ওই বাংলাদেশিরা।

নিউইয়র্কে প্রবাসীদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
                                  

অনলাইন ডেস্ক : করোনায় নাজুক পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের পাশে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি, জামাইকা মুসলিম সেন্টার, ফোবানা, আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশন, জেবিবিএ, বিল্ডিং আওয়ার মুভমেন্ট, বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি, মজুমদার ফাউন্ডেশন প্রভৃতি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) নিউইয়র্কস্থ ‘জ্যাকসন হাইটস বিজনেস এসোসিয়েশন’সহ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দুই শতাধিক প্রবাসীর মধ্যে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করা হয়। এ সময় জানানো হয় যে, এক সপ্তাহ পর পুনরায় একেকটি বাক্সে ২০ পাউন্ড চাল, পিয়াজের বস্তা, মসুরের ডাল, চিনি, লবন, ছোলা বুট, তেল, ন্যাপকিন বিতরণ করা হবে। ইতিমধ্যেই অন্তত ৫০ প্রবাসীর বাসায় খাদ্য দ্রব্যের প্যাকেট পৌঁছানো হয়েছে। জ্যাকসন হাইটসে খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্ট চত্বরে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন জেবিবিএর নেতৃবৃন্দের মধ্যে হারুন ভূইয়া, মোহাম্মদ আলম নমী, ফাহাদ সোলায়মান প্রমুখ।

বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মানিক জানান, ইতিমধ্যেই ২৮ প্রবাসীর লাশ দাফন-কাফনে সহায়তা করা হয়েছে। সমিতির কেনা কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে। এই সমিতির সেক্রেটারি জাহিদ মিন্টু জানান, দুর্দশাগ্রস্ত প্রবাসী বিশেষ করে নবাগতদের মধ্যে খাদ্য-সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কারণ, তারা যুক্তরাষ্ট্রে আসার পরই সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারেননি। তারা সরকারের প্রণোদনাও পাবেন না। এমন মানুষের মধ্যে রমজানেও চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, পিয়াজ, লবন, মুড়ি ইত্যাদি বিতরণ করা হবে।
এদিকে, ফোবানার ভাইস চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী জানান, যারা মহাসংকটে পড়েছেন এবং বাসার বাইরেও যেতে পারছেন না, এমন অসহায় প্রবাসীদের তালিকা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী এক সপ্তাহের চাল, ডাল, তেল, লবন, পিয়াজ, আদা, মুড়ি, খেজুরসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রি সংশ্লিষ্টদের বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে।

করোনায় নিউইয়র্কে আরও ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
                                  

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি : করোনায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার নিউইয়র্কের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬০ বাংলাদেশির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেল।

হাসপাতাল এবং স্বজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে ৩ প্রবাসীর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার এবং সেক্রেটারি রুহুল আমিন সিদ্দিকী।

ব্রুকলীনে কর্টিলিউ রোডের বাসিন্দা নোয়াখালীর সন্তান অধ্যাপক করিমুল হকের শ্যালিকা কাজী নাসরীন মোনা (৫০) মায়মনিডেস হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। এদিন ভোররাতে মৌলভীবাজার জেলা সদরের সৈয়দপুর রোড অধিবাসী শওকত হাসান চৌধুরী শোয়েব (৫৭) কুইন্স জেনারেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। এলমহার্স্ট হাসপাতালে মারা গেছেন জ্যাকসন হাইটসের সিংহ মার্কা বিল্ডিংয়ের বাসিন্দা এবং বরিশালের গৌরনদীর সন্তান সমীর দেবনাথ (৪৮)। একইদিন সকালে কুইন্সের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাবনার কাশিনাথপুরের সন্তান সাইফুল খান বাবুল (৬৯) ইন্তেকাল করেছেন বলে তার স্বজনেরা জানান।

গত এক সপ্তাহের মধ্যে সোমবার (২০ এপ্রিল) নিউইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে কম মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা ৪৪৩। অপরদিকে, সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিউইয়র্ক স্টেটে মারা গেছে ৪৭৮ জন। এ তথ্য জানিয়ে স্টেট গভর্ণর এ্যান্ড্রু ক্যুমো নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংকালে বলেন, গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি হচ্ছে সর্বচেয়ে কম। একইভাবে হাসপাতালে ভর্তির হারও কমেছে। গভর্ণর বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে সবকিছু পুনরায় চালুর পথ সুগম হবে।

উল্লেখ্য, ১৫ মে পর্যন্ত নিউইয়র্কে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। অপর স্টেটসমূহে ১ মে পর্যন্ত বিশেষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সকলকে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে করোনায়ভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দেশটির ডরমিটরিগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। সিঙ্গাপুরে সবচেয়ে বড় ক্লাস্টার হিসেবে পংগল এস ১১ ডরটিরিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ১৩টি ডরমিটরিকে আইসোলেশন হিসেবে ঘোষণা করেছে । দেশটির ডরটিরিগুলোতে গাদাগাদি করে বসবাস করছে প্রবাসী কর্মীরা। সিঙ্গাপুর থেকে একাধিক সূত্র এতথ্য জানিয়েছে।

গত শুক্রবার দেশটিতে ৯৪২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭০ জন বাংলাদেশি কর্মী আক্রান্ত হয়েছে। এ যাবত দেশটিতে ২ হাজার ৬০০ জন প্রবাসী কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, শনিবার আক্রান্তদের বেশিরভাই ওয়ার্ক পাশ হোল্ডার। এদের মধ্যে ৮৯৩ জনই ডরমিটরিতে অবস্থান করতো। এছাড়া ২৭ জন ডরমিটরির বাইরে বাস করতো। ১৪ জন স্থানীয় নাগরিক। দেশটিতে করোনাভাইরাসে সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৮৮ জন। এতে এযাবত মারা গেছে ১১জন। শনিবার পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৭৪০ জন।

এদিকে, শনিবার পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, এযাবত দেশটিতে ৫শ’ বাংলাদেশি নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। কুয়েতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রবাসী ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল বেলাল (৬৮) নামে এক বাংলাদেশি মারা গেছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ জনে। তার গ্রামের বাড়ি চট্রগাম জেলার সন্দীপ উপজেলার সারিগেইট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে। কুয়েতে তার প্রবাসী দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির জাতীয় দৈনিক আরব টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে। বর্তমানে কুয়েতে ১৩৪জন বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশি গায়িকার মৃত্যু
                                  

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক সময়ের পল্লীগীতির জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী বীনা মজুমদার।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই পল্লীগীতি শিল্পী।

মঙ্গলবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বীনা মজুমদারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী মিলি সুলতানা।

তিনি লিখেছেন, ‌‘করোনার মুহূর্মুহু থাবায় মায়ার বাঁধন থেকে মুক্তি নিয়ে চলে গেলেন ফরিদপুরের বীনা মজুমদার। আল্লাহ তাকে বেহেশতের মেহমান বানিয়ে নিন, আমিন।’

বীনা মজুমদার ছিলেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত পল্লীগীতি শিল্পী। বেশ কয়েক বছর ধরে নিউইয়র্কে বসবাস করছিলেন।

বীনা মজুমদারের মৃত্যুতে সংগীতভূবনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে । সংগীত শিল্পীদের গ্রুপ রেশ ও বাংলাদেশ ফোক আর্ট কাউন্সিল শোক প্রকাশ করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সংগীতাঙ্গনের অনেকেই তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন।


   Page 1 of 7
     প্রবাস
হাজারের অধিক প্রবাসী বাংলাদেশি মৃত্যদেহ হাসপাতালের মর্গে, ফ্লাইট বন্ধ থাকায় দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না
.............................................................................................
ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা সঙ্কটে, আজ দুই শতাধিক কর্মী স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করছে
.............................................................................................
আমিরাতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর
.............................................................................................
আমিরাতে করোনায় প্রাণ গেল ৩১ বাংলাদেশির
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় আটকে পড়াদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট আসছে ১৩ মে
.............................................................................................
অবৈধ অভিবাসী কর্মীরা কাজে যোগদান থেকে বঞ্চিত : নিজ খরচে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক
.............................................................................................
অর্থনৈতিক মন্দায় অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা : সৌদি আরব থেকেই ফিরবে দশ লাখ কর্মী
.............................................................................................
প্রবাসীদের খাবার নাই দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশি কর্মীরা, এরমধ্যেই মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার হতাশা
.............................................................................................
ব্রুনাইতে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই চল্লিশ দালাল চক্রের প্রতারণা শিকার প্রবাসীরা
.............................................................................................
হাইকমিশনের দেয়া ত্রাণ পায়নি ক্ষুধার্ত অনাহারি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা
.............................................................................................
মালদ্বীপে পর্যটন খাত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে ফেরার চাপ
.............................................................................................
করোনাভাইরাস ঠেকাতে কুয়েত-বাহরাইন থেকে অবৈধ কর্মীদের ফেরত পাঠানো শুরু
.............................................................................................
নিউইয়র্কে প্রবাসীদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
.............................................................................................
করোনায় নিউইয়র্কে আরও ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
.............................................................................................
সিঙ্গাপুরে করোনায়ভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশি গায়িকার মৃত্যু
.............................................................................................
সৌদি আরবে ক্ষুধার্ত প্রবাসীদের ভাগ্যে ত্রাণ জুটছে না
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আরো ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় ১২ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত
.............................................................................................
কাজ না করলেও শতভাগ বেতন পাবেন সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশি শ্রমিকরা
.............................................................................................
সুখবর: কুয়েতে অবৈধ প্রবাসীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা
.............................................................................................
সৌদি আরবে করোনায় প্রথম বাংলাদেশির মৃত্যু
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় কেড়ে নিলো ২৪ বাংলাদেশির প্রাণ
.............................................................................................
করোনা সংক্রমণে নিউইয়র্কেই ১৫ বাংলাদেশির মৃত্যু
.............................................................................................
বাংলাদেশিদের কাতারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের পরিচয়পত্র দিতে নিবন্ধন শুরু
.............................................................................................
গ্রিসে এনামুলের মরদেহের ছবি ভাইরাল, পাওয়া যাচ্ছে না লাশ
.............................................................................................
কাফালা ব্যবস্থা বাতিল করতে যাচ্ছে সৌদি আরব
.............................................................................................
নিউইয়র্কে মুজিববর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবে ৩১ সংগঠন
.............................................................................................
স্বপ্নের শহর বার্গামো
.............................................................................................
৯২ বাংলাদেশি আটক, মালয়েশিয়ায় বিচারে বসছে বিশেষ আদালত
.............................................................................................
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনে শেষ সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের ঢল
.............................................................................................
মালয়েশিয়া ত্যাগে সময় কমছে, কর্মীদের নাভিশ্বাস উঠছে
.............................................................................................
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির পরিচয়পত্র পেশ
.............................................................................................
স্পেনে প্রবেশের চেষ্টায় ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
.............................................................................................
নিথর দেহে দেশের মাটিতে লিবিয়ায় নিহত ৩ বাংলাদেশি
.............................................................................................
দায় নিচ্ছেন না নিয়োগকর্তা, সৌদি থেকে ফিরলেন আরও ১২৫ বাংলাদেশি
.............................................................................................
ধড়পাকড়ে স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন, ফিরলেন আরও ২১৫ কর্মী
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় নতুন বীমার আওতায় দুই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি
.............................................................................................
পেনসিলভানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি কৃতিছাত্রীর মৃত্যু
.............................................................................................
সৌদি থেকে পাঁচ দিনে ফিরলেন ৪২১ জন কর্মী
.............................................................................................
নির্যাতনের শিকার সেই সুমি সৌদি পুলিশের হেফাজতে
.............................................................................................
শিশু প্রতিবন্ধী, বাংলাদেশি পরিবারকে ফেরত পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় ধরপাকড় আতঙ্কে প্রবাসী বাংলাদেশিরা
.............................................................................................
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : চলছে মারিং কাটিং
.............................................................................................
বেলজিয়ামের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশি শায়লা
.............................................................................................
তিউনিশিয়ায় নৌকাডুবিতে ৩৭ বাংলাদেশি নিহত
.............................................................................................
পূর্ব লন্ডনে তারাবির সময় মসজিদে গুলি
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় কন্টেইনার চাপায় ১০ বাংলাদেশি আহত
.............................................................................................
সৌদিতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ বাংলাদেশি নিহত
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD