| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * বাংলাদেশের ভয়াবহ ১১ ট্রেন দুর্ঘটনা   * মায়ের জন্য সুপাত্র চান ছেলে   * সৌদিতে লাইভ শো চলাকালে ৩ জনকে ছুরিকাঘাত   * পরীক্ষার চাপ কমাতে শিক্ষার্থীদের ‘কবরে শুয়ে থাকার’ পরামর্শ   * মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলা, স্বাগত জানিয়েছে কানাডা   * হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার   * গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ইসলামিক জিহাদের কমান্ডার নিহত   * মেক্সিকোতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিচ্ছেন বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট   * রাজস্থানে লেকের ধারে হাজার হাজার পাখির মৃত্যু   * ৩১ বছর পরেও দর্শক মাতাচ্ছেন সেই মাধুরী  

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও দুই ড্রিমলাইনার

স্টাফ রিপোর্টার

আরও দুটি অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হচ্ছে। আসছে ২০ ও ২২ ডিসেম্বর। ড্রিমলাইনার দুটির বর্তমানে ব্র্যান্ডিং, লোগো লাগানো ও রঙ করাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রথম ড্রিমলাইনার আসছে আগামী ২০ ডিসেম্বর, অপরটি দুদিন পর ২২ ডিসেম্বর। যদিও এখনও পর্যন্ত এ দুটির নামকরণ করা হয়নি। ইতোমধ্যে চল্লিশটি নামের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন এয়ারক্রাফট দুইটি আগমন নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চতুর্থ ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ ‘রাজহংস’ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি বোয়িং কেনার আগ্রহ দেখান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাজহংসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয় সিয়াটলের বোয়িং কারখানায় চীনের অর্ডার দেয়া কয়েকটি অত্যাধুনিক সিরিজের ড্রিমলাইনার পড়ে রয়েছে অবিক্রিত অবস্থায়। এরপরই তিনি দুটি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশনা প্রদান করেন।

দুটি ড্রিমলাইনারের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে বাংলাদেশের পথে রওনা দেবে ১৯ ডিসেম্বর। দ্বিতীয়টি সেখান থেকে উড়বে ২১ ডিসেম্বর।

 
বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও দুই ড্রিমলাইনার
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

আরও দুটি অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হচ্ছে। আসছে ২০ ও ২২ ডিসেম্বর। ড্রিমলাইনার দুটির বর্তমানে ব্র্যান্ডিং, লোগো লাগানো ও রঙ করাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রথম ড্রিমলাইনার আসছে আগামী ২০ ডিসেম্বর, অপরটি দুদিন পর ২২ ডিসেম্বর। যদিও এখনও পর্যন্ত এ দুটির নামকরণ করা হয়নি। ইতোমধ্যে চল্লিশটি নামের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন এয়ারক্রাফট দুইটি আগমন নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চতুর্থ ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ ‘রাজহংস’ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি বোয়িং কেনার আগ্রহ দেখান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাজহংসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয় সিয়াটলের বোয়িং কারখানায় চীনের অর্ডার দেয়া কয়েকটি অত্যাধুনিক সিরিজের ড্রিমলাইনার পড়ে রয়েছে অবিক্রিত অবস্থায়। এরপরই তিনি দুটি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশনা প্রদান করেন।

দুটি ড্রিমলাইনারের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে বাংলাদেশের পথে রওনা দেবে ১৯ ডিসেম্বর। দ্বিতীয়টি সেখান থেকে উড়বে ২১ ডিসেম্বর।

 
সংশোধিত বাজেটে পিকেএসএফ পাচ্ছে ২৫০ কোটি টাকা
                                  

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘দরিদ্র পরিবারের সম্পদ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি (সমৃদ্ধি)’ কর্মসূচির জন্য চলতি ২০১৯-২০ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেট থেকে বিশেষ অনুদান বাবদ ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সংস্থাটিকে সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে ১৬০ কোটি টাকাসহ মোট ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার সম্মতি জ্ঞাপন করেছে সরকার।

সম্প্রতি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মুর্শেদা জামান স্বাক্ষরিত একটি সরকারি চিঠি অর্থ সচিবের নিকট পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয় যে, পিকেএসএফ-এর সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় ঋণ ও সহায়ক অন্যান্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২২ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৫০ কোটি এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিশেষ অনুদান বাবদ ৯০ কোটি টাকা এবং সুদমুক্ত ঋণ বাবদ ১৬০ কোটি টাকাসহ মোট ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে ওই দু’টি খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।

পিকেএসএফ থেকে জানানো হয় যে, চলতি অর্থবছরে অনুদান বাবদ মাত্র ১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা চলতি অর্থবছরের ব্যয়ের তুলনায় নিতান্তই কম। চলতি অর্থ বছরে কর্মসূচিটির জন্য পিকেএসএফ কর্তৃক মোট ব্যয় বাজেট ধরা হয়েছে ৩০১ কোটি টাকা। যার মধ্যে ঋণ বিতরণ ২০০ কোটি টাকা এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন ব্যয় ১০১ কোটি টাকা।

২০১৯-২০ অর্থ বছরে পিকেএসএফ-এর পূর্ববর্তী কোডে সরকারের বাজেটে অর্থ বরাদ্দ না থাকাতে কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে মর্মে পিকেএসএফ থেকে জানানা হয়েছে। ‘সমৃদ্ধি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পূর্ববর্তী বছরের ন্যায় ‘পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন’- এর অনুকূলে বিশেষ অনুদান বাবদ ৯০ কোটি টাকা এবং সুদমুক্ত ঋণ বাবদ ১৬০ কোটি টাকাসহ মোট ২৫০ কোটি টাকা এবং ভবিষ্যতে মধ্য মেয়াদি বাজেটের আওতায়ও অনুরূপ বরাদ্দ অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এমতাবস্থায়, পিকেএসএফ-এর প্রস্তাব মোতাবেক ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পূর্ববর্তী বছরের ন্যায় ‘পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন’ এর অনুকুলে ২৫০ কোটি টাকা এবং ভবিষ্যতে মধ্য মেয়াদি বাজেটের আওতায় অনুরূপ বরাদ্দ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

 
ঊর্ধ্বমুখী বাজারে বাড়ল মূল্য আয় অনুপাত
                                  

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

গেল সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দেশের শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের উত্থান হয়। সেই সঙ্গে দাম বাড়ে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সসহ বাকি দুটি সূচকেরও উত্থান হয়। সূচকের এই উত্থানের মধ্যে বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৬২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের এই দাম বাড়ার কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই বেড়েছে প্রায় এক শতাংশ। গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১২ দশমিক ৬১ পয়েন্টে, যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত বেড়েছে দশমিক ১২ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৫ শতাংশ।

খাত ভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বরাবরের মতো সব থেকে কম পিই রেশিও রয়েছে ব্যাংক খাতের। সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৭ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যাংক খাতের পিই বেড়েছে দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পিই ১০ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট থেকে কমে ১০ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর পরের স্থানে রয়েছে সেবা ও আবাসন খাত। এ খাতের পিই ১৩ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট থেকে কমে ১২ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতের পিই ১২ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট থেকে কমে ১২ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে, বীমা খাতের ১৫ দশমিক ৩০ থেকে ১৪ দশমিক ৩০, প্রকৌশল খাতের ১৩ দশমিক ৭৫ থেকে ১৩ দশমিক ২৪, বস্ত্র খাতের ১৫ দশমিক ৭৮ থেকে ১৫ দশমিক ৮৮, খাদ্য খাতের ১৬ দশমিক ৩৭ থেকে ১৫ দশমিক ৪৬, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৮ দশমিক ৩৬ থেকে ১৭ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।


বাকি খাতগুলোর পিইও রেশিও ২০ পয়েন্টের ওপরে। এর মধ্যে- বিবিধ খাতের পিই ১৯ দশমকি ৮০ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ২০ দশমিক ৩২ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ১৯ দশমিক ৬১ থেকে ২১ দশমিক ৩৫, তথ্যপ্রযুক্তির ২১ দশমিক ৯০ থেকে ২৬ দশমিক ২১, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ২৩ দশমিক ২৯ থেকে ২৪ দশমিক ৭৫, সিরামিক খাতের ২৬ দশমিক শূন্য ৫ থেকে ২৭ দশমিক ৮০, চামড়া খাতের ২৪ দশমিক ৪৯ থেকে ২৩ দশমিক ৫৭, সিমেন্ট খাতের ৩০ দশমিক ১৬ থেকে ২৫ দশমিক ৭০, পেপার খাতের ২২ দশমিক ৬৬ থেকে ২৬ দশমিক ১২ এবং পাট খাতের ৪০৬ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট থেকে ৩৮৯ দশমিক ২১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

 
পিপলস লিজিং অবসায়ন চান না আমানতকারীরা
                                  

অর্থনীতি ডেস্ক
পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-কে অবসায়ন না করে পুনর্গঠন অথবা অন্য যেকোনো উপায়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয় ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন আমানতকারীরা।

শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিতে আমানতকারীদের কাউন্সিল` ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়।


সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-

১. পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-কে অবসায়ন না করে পুনর্গঠন (রি-কনস্ট্রাকশন) অথবা অন্য যেকোনো উপায়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় দ্রুত ফেরত দেয়া।

২. চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. অবিলম্বে পিপলস লিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া। বিশেষ করে তারা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য তাদের বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা, তাদের সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা।


সংবাদ সম্মেলনে আমানতকারীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন কাউন্সিলের প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, আমরা মনে করি বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

‘আমাদের আকুল আবেদন, এখনই পিপলস লিজিং-কে অবসায়ন না করে ব্যক্তি আমানতকারীদের আমানত দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে সরকার যেভাবে ফারমার্স ব্যাংক-কে অবসায়ন না করে পদ্মা ব্যাংক নামে পুনর্গঠন করে গ্রাহকদের আমানত ফিরিয়ে দিয়েছে, ঠিক তেমনি পিপলস লিজিং-কে অবসায়ন না করে পুনর্গঠন করে নতুন নামে চালু এবং গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

আতিক বলেন, আমাদের সকল সঞ্চয় লুট করে পিপলস লিজিংয়ের পরিচালকসহ অন্যান্যরা আরাম-আয়েশি জীবন-যাপন করছে, বিদেশে গিয়ে সেকেন্ড হোম বানাচ্ছে। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এমন দুর্নীতি তিনি কখনওই প্রশ্রয় দেবেন না বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা পিপলস লিজিংয়ের প্রতারণার শিকার। আমরা বাঁচতে চাই। আমাদের বাঁচানোর পথ সুগম করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করছি। আমরা আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আমাদের মতো অসহায় আমানতকারীদের জীবন বাঁচাবে এবং বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

তিনি বলেন, আমরা প্রায় ছয় হাজার আমানতকারী সরল বিশ্বাসে আমাদের সঞ্চিত ও কষ্টার্জিত অর্থ আমানত হিসাবে পিপলস লিজিংয়ে জমা রেখেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে আমরা, পিপলস লিজিংয়ের ক্ষুদ্র আমানতকারীরা কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাচ্ছি না।

‘ফলে আমরা চরম অসহায় অবস্থায়, দুশ্চিন্তায় দিন যাপন করছি। কোথায় গেলে এ টাকা ফেরত পাব, তার কোনো নিশ্চয়তাও পাচ্ছি না। আমাদের হাজারও আমানতকারী এবং তাদের লক্ষাধিক পরিবারের সদস্য এক অনিশ্চিত জীবন-যাপন করছে। এ টাকা থেকে অনেক অবসরপ্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সংসারের ব্যয় নির্বাহ হতো, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া চলত, চিকিৎসায় ব্যয় হতো। আজ সব বন্ধ। ইতোমধ্যে এক আমানতকারী টাকা ফেরত পাবার অনিশ্চয়তায় হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেছেন। ক্যান্সার আক্রান্ত এক আমানতকারী অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেন না’- যোগ করেন আতিক।

তিনি বলেন, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের লুটপাট ও অনিয়মের কারণে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে পিপলস লিজিং। আমানতকারীদের আমানত তারা ফেরত দেয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক পিপলস লিজিংয়ের ওপর সঠিক নজরদারি না করায় একটি অসাধু চক্র, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। চক্রান্তকারীরা বিভিন্ন কৌশলে, নামে-বেনামে আমানতকারীদের অর্থ বাগিয়ে নিয়েছে। এখানেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। পরিকল্পনা মাফিক তারা প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

পিপলস লিজিংয়ের আমনতকারীদের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভীত যে, এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে চক্রটি সমস্ত দায়দেনা থেকে মুক্তি পাবে এবং বিদেশে পাচার হবে শত কোটি টাকা। এটি একটি দুর্নীতির মডেল তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান সহজেই অনুসরণ করতে চাইবে এবং দেশের অর্থনীতিকে অস্থীতিশীল করে তুলবে।’

‘এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা রহস্যজনক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, পিপলস লিজিংয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে এখন আমানতকারীরা টাকা পাচ্ছে না। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের পথে নিয়ে হাজার হাজার আমানতকারীকে অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিচ্ছে। পিপলস লিজিংয়ের এ অবস্থার কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং খাত বিপদের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ জনগণ ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানিতে তাদের আমানতের টাকা রাখতে ভয় পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সঠিক নজরদারি ও সঠিক তদারকি না করার কারণে পিপলস লিজিংয়ের পরিচালকরা অনিয়ম ও দুর্নীতি করার সুযোগ পেয়েছে।

আতিক বলেন, ছয় হাজার আমানতকারীর আমানত ফেরতের ব্যবস্থা না করে ব্যাংলাদেশ ব্যাংক একতরফাভাবে পিপলস লিজিং-কে গত জুলাই মাসে অবসায়ন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পূর্ণ দায়ভার, দ্রুত ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া। কিন্তু বাস্তবে প্রায় পাঁচ মাস চলছে এখনও বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যক্তি আমানকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া শুরু করেনি। তাই তারা দুশ্চিন্তায় দিনযাপন করছে।

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্বাহী পরিচালক বিভিন্ন মিডিয়াতে বলেছেন, পিপলস লিজিংয়ের সম্পদের চেয়ে লাইবেলিটি বা দায়দেনা কম আছে। তাহলে আমাদের প্রশ্ন, ব্যক্তি আমানতকারীদের ৭০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক ফেরত দিতে দেরি করছে কেন। বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, বন্ধ হয়ে যাওয়া পিপলস লিজিংয়ের সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তিন হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বলা হলেও চলতি বছর ওই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের সম্পদের পরিমাণ এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বিপরীতে দায় আছে দুই হাজার কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ঋণ দিয়েছে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৪৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৫৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে পিপলস লিজিংয়ের উদ্যোক্তা পরিচালকরা।’

কাউন্সিলের আহ্বায়ক মো. আনোয়ারুল হক-সহ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিতি ছিলেন প্রশান্ত কুমার দাস, রানা ঘোষ, কামার আহমেদ, সামিয়া বিনতে মাহবুব, আবু নাসের বখতিয়ার, ড. নাশিদ কামাল প্রমুখ।

 
ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন পাঁচ সাংবাদিক
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

গত কর বছরের (২০১৮-২০১৯) সর্বোচ্চ ১৪১ করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, চ্যানেল আইয়ের ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব নিউজ শাইখ সিরাজ ও সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল।

‘জাতীয় ট্যাক্স কার্ড নীতিমালা, ২০১০ (সংশোধিত)’ এর বিধান অনুযায়ী ব্যক্তি পর্যায়ে ৭৪টি, কোম্পানি পর্যায়ে ৫৭টি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আটটিসহ মোট ১৪১টি ট্যাক্স কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে প্রাপ্তদের নামের তালিকার গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ৫ নভেম্বরে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সাংবাদিকদের মধ্যে সর্বোচ্চ কর দিয়ে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন এই পাঁচ সাংবাদিক। এদের মধ্যে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বৃহৎ করদাতা ইউনিটে কর প্রদান করেন।

ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি ঢাকা কর অঞ্চল-৭ এ কর প্রদান করে থাকেন। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মালেকও পাচ্ছেন ট্যাক্স কার্ড। তিনি চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ এ কর প্রদান করেন।

বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব নিউজ শাইখ সিরাজ পাচ্ছেন ট্যাক্স কার্ড। তিনি ঢাকা কর অঞ্চল-৭ এ ট্যাক্স প্রদান করেন। এছাড়া সাংবাদিকদের মধ্যে পঞ্চম সর্বোচ্চ কর প্রদান করে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। ঢাকা কর অঞ্চল-৩ এ তিনি কর প্রদান করে থাকেন বলে জানা গেছে।

ট্যাক্স কার্ডধারীরা যেকোনো জাতীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাবেন। স্থল, জল ও আকাশপথে সরকারি কোটা অনুসারে আসন ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন তারা। কার্ডধারীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসাসুবিধা ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।


এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং নাগরিক কর প্রদানে উৎসাহিত করতে সেরা করদাতা হিসেবে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, তরুণ, খেলোয়াড়, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, সাংবাদিক, নারী চাকরিজীবী, অভিনয় ও কণ্ঠশিল্পীসহ ১৮টি বিভাগে এই কর পুরস্কার প্রদান হবে।

 
সর্বোচ্চ কর দিয়ে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন মাশরাফি সাকিব তামিম
                                  

স্টাফ রিপোর্ট

গত কর বছরের (২০১৮-২০১৯) সর্বোচ্চ ১৪১ করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজাসহ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং ওপেনার তামিম ইকবাল।

‘জাতীয় ট্যাক্স কার্ড নীতিমালা, ২০১০ (সংশোধিত)’ এর বিধান অনুযায়ী, ব্যক্তি পর্যায়ে ৭৬টি, কোম্পানি পর্যায়ে ৫৭টি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৮টিসহ মোট ১৪১টি ট্যাক্স কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে প্রাপ্তদের নামের তালিকার গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ কর দিয়ে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন জাতীয় দলের এই তিন ক্রিকেটার। এদের মধ্যে ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ঢাকা কর অঞ্চল-১ অফিসে কর প্রদান করেন।

ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি ঢাকা কর অঞ্চল-৭-এ কর প্রদান করে থাকেন। এ ছাড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ কর প্রদান করে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ঢাকা কর অঞ্চল-১-এ তিনি কর প্রদান করে থাকেন বলে জানা গেছে।

ট্যাক্স কার্ডধারীরা যেকোনো জাতীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাবেন। স্থল, জল ও আকাশপথে সরকারি কোটা অনুসারে আসন ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন তারা। কার্ডধারীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা সুবিধা ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং নাগরিক কর প্রদানে উৎসাহিত করতে সেরা করদাতা হিসেবে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, তরুণ, খেলোয়াড়, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, সাংবাদিক, নারী চাকরিজীবী, অভিনয় ও কণ্ঠশিল্পীসহ ১৮টি বিভাগে এই কর পুরস্কার প্রদান করা হবে।

 
ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন তাহসান, এস ডি রুবেল ও মমতাজ
                                  

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

গত কর বছরের (২০১৮-২০১৯) সর্বোচ্চ ১৪১ করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী তাহসান রহমান খান, এস ডি রুবেল ও মমতাজ বেগম।

‘জাতীয় ট্যাক্স কার্ড নীতিমালা, ২০১০ (সংশোধিত)’ এর বিধান অনুযায়ী ব্যক্তি পর্যায়ে ৭৪টি, কোম্পানি পর্যায়ে ৫৭টি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আটটিসহ মোট ১৪১টি ট্যাক্স কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে প্রাপ্তদের নামের তালিকার গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ৫ নভেম্বর প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সর্বোচ্চ কর দিয়ে শিল্পী (গায়ক-গায়িকা) ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন এই তিন কণ্ঠশিল্পী। এদের মধ্যে তাহসান রহমান খান ঢাকা কর অঞ্চল-১ এ কর প্রদান করে থাকেন। এস ডি রুবেল ঢাকা কর অঞ্চল-১২ এ কর প্রদান করেন এবং মমতাজ বেগমও কর অঞ্চল-১২ এ কর প্রদান করেন।

ট্যাক্স কার্ডধারীরা যেকোনো জাতীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাবেন। স্থল, জল ও আকাশপথে সরকারি কোটা অনুসারে আসন ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন তারা। কার্ডধারীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসাসুবিধা ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং নাগরিক কর প্রদানে উৎসাহিত করতে সেরা করদাতা হিসেবে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, তরুণ, খেলোয়াড়, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, সাংবাদিক, নারী চাকরিজীবী, অভিনয় ও কণ্ঠশিল্পীসহ ১৮টি বিভাগে এই কর পুরস্কার প্রদান হবে।

 
সুইস ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলেছে বাংলাদেশ : রাষ্ট্রদূত
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এইচ ই রেনে হোলেনস্টাইন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বাণিজ্য পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উচ্চ প্রবৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো, যা সুইস ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলেছে।’

বুধবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় এই মন্তব্য করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত এই সুইস রাষ্ট্রদূত।

রেনে হোলেনস্টাইন দেশের বর্তমান বিনিয়োগ সেবা ও অগ্রাধিকার খাত সম্পর্কে জানতে চাইলে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা করাই বিডার প্রধান কাজ। এখন ঘরে বসেই বিডার রেজিস্ট্রেশন, ই-টিন, ভিসা ওয়ার্ক পারমিট, ওয়েবসাইটে প্রেরিত রেমিট্যান্স, রয়্যালিটি, বহির্মুখী প্রত্যাবাসন ফি, টেকনিক্যাল নো-হাউ প্রভৃতি ভার্চুয়াল সেবা বিনিয়োগকারী অনলাইনের মাধ্যমেই পাবেন, এ জন্য বিডা কার্যালয়েও আসার কোনো দরকার হবে না।’

এ সময় দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থা, পোর্ট ফ্যাসেলিটি, টেকনোলজিক্যাল নলেজ প্রভৃতি নিয়েও আলোচনা হয়।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘অধিক হারে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, টেলিকমিনিকেশনসহ সবধরনের বিনিয়োগ সেবা অতিদ্রুত দেয়া সম্ভব।’

সাক্ষাৎকালে বিডার পরিচালক মো. আরিফুল হক ও শাহ মো. মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।

 
সেরা ১৪১ করদাতা ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

 

সেরা করদাতা হিসেবে ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড দেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এদের মধ্যে ব্যক্তি রয়েছেন ৭৪ জন, বাকিগুলো প্রতিষ্ঠান। সবার নামের তালিকা উল্লেখ করে ৫ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

 

ব্যক্তি পর্যায়ে ট্যাক্স কার্ড দিতে ‘বিশেষ শ্রেণি’ এবং ‘আয়ের উৎস বা পেশা’ নামের দুটি শ্রেণি করা হয়েছে। বিশেষ শ্রেণির মধ্যে রয়েছে সিনিয়র সিটিজেন, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নারী এবং তরুণ।

 

আয়ের উৎস বা পেশার মধ্যে রয়েছে ১৩টি শ্রেণি। এগুলো হচ্ছে ব্যবসায়ী, বেতনভোগী, ডাক্তার, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি, হিসাবরক্ষক, নতুন করদাতা, খেলোয়াড়, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী (গায়ক-গায়িকা) এবং অন্যান্য। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোম্পানি পর্যায়ে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছে ৫৭টি কোম্পানি।

 

যোগ্য করদাতা হিসেবে সবাইকে চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা দেবে সরকার। নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যাক্স কার্ডধারীদের সরকার বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান এবং সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানাবে। যেকোনো ভ্রমণে সড়ক, বিমান বা জলপথে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন।

 

স্ত্রী-স্বামী, নির্ভরশীল পুত্র-কন্যা নিজেদের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কেবিন সুবিধাও দেয়া হবে। এছাড়া বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার এবং তারকা হোটেলসহ সব আবাসিক হোটেলে বুকিং পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন। ট্যাক্স কার্ড দেয়ার পর থেকে এর মেয়াদ থাকবে এক বছর।

 
ব্যবসায়ীদের দোষে তৈরি পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব: টিপু মুনশি
                                  

স্টাফ রিপোর্টার


বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, তৈরি পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় গার্মেন্টস মালিকদের দোষে। ব্যবসায়ীদের পরামর্শ নিয়েই এটি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিজেদের প্রতিযোগিতা ও কম দামে পণ্য বিক্রির কারণেই গত তিন মাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তৈরি পোশক রফতানিতে প্রবাহ কমেছে।’ বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গার্মেন্টস শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে আলোচনার পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, ‘‘আমরা নানাবিধ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। এনআরবির চেয়ারম্যান ও অর্থসচিব সমস্যাগুলোর বিষয়ে শুনেছেন। সমস্যাগুলোর সমাধানে তারা কাজ করবেন। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পে যে ‘নেগেটিভ গ্রোথ’ সেটা কীভাবে বাড়ে, সেজন্য নেতারা পরামর্শ দিয়েছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা (এনবিআর ও অর্থ বিভাগ) কাজ করবেন। কিছু সমস্যা আমাদের হয় ক্লিয়ারেন্সের জন্য, জাহাজীকরণের জন্য অনেক সময় লাগে, বন্দরে দীর্ঘ সময় থাকে। এছাড়াও অনেক কারণ রয়েছে। এসব ব্যাপারে কথা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কথা, সবগুলোই বিবেচনায় নিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করে আমরা ব্যবস্থা নেবো। মূলত আলোচনা হয়েছে রেডিমেট গার্মেন্টসের গত তিন মাসে যে ‘নেগেটিভ গ্রোথ’ সেখান থেকে কীভাবে ফিরে আসতে পারি।”


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডলারের দাম নিয়ে যে সমস্যা, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেটা নিয়ে কী করা যায়, ব্যাংকগুলোর ডলার কেনা-বেচার মধ্যে যে পার্থক্য, সেটাও আমাদের ব্যবসায়ী নেতারা তুলে ধরেছেন। ডলারের রিভ্যালুয়েশনের কথা বলেছি। সেগুলো তারা দেখবেন। আর ব্যাংক ইন্টারেস্ট একটি বড় ফ্যাক্টর— বিশেষ করে প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) একনেকের বৈঠকে বিশাল আলোচনা হয়েছে, কীভাবে সেটি কমানো যায়। কারণ ১২ থেকে ১৪ শতাংশ প্রাইভেট ব্যাংকগুলো এই ইন্টারেস্ট দেয়। সেটা কীভাবে কমানো যায়। আরেকটি বিষয় আলোচনা হয়েছে ট্যাক্সেশনের রেভিনিউ কালেকশন দরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। যেটা আমাদের ব্যবসায়ী নেতারা পরামর্শ দিয়েছেন ট্যাক্সের পরিধি বাড়াতে। যাদের ট্যাক্স দেওয়ার সামর্থ আছে, তারা ট্যাক্সেশনের বাইরে রয়েছেন। সেটা কাভার করলে রেগুলার যারা ট্যাক্স দেন তাদের ওপরে চাপ কমবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অর্থ সচিব বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে কিছু বিষয় দেখবেন। অন্যান্য যে ব্যাপার এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেছেন ও সাজেশন দিয়েছেন— এসব ছোটখাটো সমস্যা যখনই আসবে আপনারা আমার কাছে আসেন। আমি তাৎক্ষণিক সেগুলোর সমাধান করবো।’
ব্যবসায়ীদের সমস্যা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ আমাদের ব্যবসায়ীদের একটা সমস্যা আছে, সেটা তাদের দোষ। তারা নিজেরা নিজেরা আন্ডারকাট করে প্রাইজটা এমন অবস্থায় নিচ্ছেন, যাতে করে দামও পাচ্ছেন না। আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী। তাই আমি জানি, সে ধরনের একটি সমস্যা রয়েছে। কারণ, অনেক সময় দেখা যায় কাজ পাওয়ার জন্য তারা (গার্মেন্টস মালিক) দাম কমিয়ে দিচ্ছে। সেটার প্রভাব পড়ছে মোট রফতানি হিসাবের ওপর। তবে তার চেয়েও বড় কথা, আমাদের প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য সুবিধাগুলো দরকার। যদি ৭ থেকে ১০ দিন ক্লিয়ারেন্স পেতে সময় লেগে যায়, বায়ার যদি দেখে সিডিউল টাইমের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ দিন বেশি লাগে, তাহলে দামের ক্ষেত্রে তারা শর্তে আসতে চান না। এসব কারণে অনেক কারখানাকে বিমানে মাল পাঠাতে হয়। একবারে মাল পাঠাতে সে বছরের সব লাভ চলে যাবে। সময়ের ব্যাপার। সরকার বিবেচনায় নেবেন। ফ্যাক্টরিগুলোর কাছে আবেদন, আমরা নিজেরা আন্ডারকাট না করে আমাদের ব্র্যান্ড ভালো করা দরকার। বাজারে গ্লোবাল পরিচিতি বাড়ানো দরকার। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আশাবাদী। সামনের দিনগুলোতে হয়তো ইমপ্রুভ করবে। কিন্তু কবে নাগাদ করবে সেটা বলা মুশকিল। ’

নগদ সহায়তার বিষয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘যেটুকু নগদ সহায়তা পাচ্ছি, তাতে কিছু ট্যাক্সেশনের ব্যাপার এসেছে। সেটা এনবিআরের চেয়ারম্যান অত্যন্ত সিমপ্যাথিটিক। তিনি বলেছেন সেটা ঠিক করে দেবেন। যেটা ট্যাক্স এসেছে সেটা কমাবে বলে মনে হয়েছে।

এক হিসাবেই সব মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন
                                  

নিউজ ডেস্ক

তাৎক্ষণিক শহরে কিংবা গ্রামে দ্রুত টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এ সেবা গ্রাহকের কাছে আরও জনপ্রিয় করতে এবার ইন্টার-অপারেবিলিটি (আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা) সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আগামী বছরের শুরুতে এ সেবা চালু হবে। এর ফলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের একটি প্রতিষ্ঠানে হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খুলে অন্য সব প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষণিক সহজে লেনদেন করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এখন একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব খুলে গ্রহক শুধুমাত্র ওই প্রতিষ্ঠানের অন্য গ্রাহকের সঙ্গে লেনদেন করতে পারেন। ইন্টার-অপারেবিলিটি সিস্টেমে গ্রাহক একটি হিসাব খুলে সবগুলো এমএফএস-এর গ্রাহকের সঙ্গে লেনদেন করতে পারবেন।

অর্থাৎ একটি হিসাব থেকে বর্তমানে এমএফএস সেবা দেয়া ১৬টি প্রতিষ্ঠানেই অর্থ আদান-প্রদান করা যাবে। বিকাশের হিসাবধারীরা ইউক্যাশ, রকেট, এমক্যাশের গ্রাহকের সঙ্গে লেনদেন করতে পারবেন। আবার ইউক্যাশের গ্রাহক বিকাশ, শিওর ক্যাশসহ সব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের সঙ্গে লেনদেন করতে পারবেন। এছাড়া এমএফএস হিসাবধারীরা যেকোনো ব্যাংক হিসাবেও লেনদেন করতে পারবেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট স্যুইচ-এর সহযোগিতায় এ সেবা দেবে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। ইতোমধ্যে এ সেবা চালুর জন্য পরীক্ষামূলক কাজ চলছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এটি চালু হবে। এতে করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী যেসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসংখ্যা কম তারা বেশি উপকৃত হবেন। কারণ তাদের লেনদেনের পরিধি বাড়বে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আরও জনপ্রিয় করতে আন্তঃঅপারেটিং লেনদেন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতে এ সেবা চালু করা সম্ভব হবে। এটি চালু হলে একটি হিসাব খুলে সব ব্যাংকে এমএফএস অর্থ লেনদেন করা যাবে। একাধিক হিসাব খোলোর প্রয়োজন হবে না।


এ সেবা চালু হলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রতি গ্রাহকের আগ্রহ আরও বেশি হবে বলে প্রত্যাশা করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্বাহী পরিচালক।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবায় নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ লিমিটেড। দেশের এমএফএস-এর প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহকই তাদের। ইন্টার-অপারেবিলিটির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির হেড অব কর্পোরেট কমিউনিকেশন অ্যান্ড পিআর শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ইন্টার-অপারেবিলিটির মাধ্যমে গ্রাহক লেনদেনে আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। আমাদের সক্ষমতাও বাড়বে। এ বিষয়ে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সেক্টরের রেগুলেটর হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত দেবে তা প্রতিপালনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

তবে ইন্টার-অপারেবিলিটি সিস্টেমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ডাক বিভাগের ‘নগদ’। কারণ তারা এমএফএস-এর সেবা দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমের আওতায় নেই। তাই ‘নগদ’- এর গ্রাহকরা এ সুবিধা পাবেন না।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ইন্টার-অপারেবিলিটি সেবা এমএফএস-এর গ্রাহকদের জন্য একটি সুসংবাদ। এটি চালু হলে একটি হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খুলেই সবগুলো কোম্পানির মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন করতে পারবেন। এতে সেবার আওতা আরও বেড়ে যাবে। আমি মনে করি, এটি ভালো উদ্যোগ।

এদিকে এমএফএস হালনাগাদ পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে, বর্তমানে মোট ১৬টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত কোটি ৫৯ লাখ ৭৮ হাজার। যা আগের মাস আগস্টে ছিল সাত কোটি ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এমএফএস-এর মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৭০ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ১৮১ কোটি ১১ লাখ টাকা আদান-প্রদান হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা।

আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয় লাখ ৫১ হাজার ৭৭৮ জন। এর মাধ্যমে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবার মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেয়া হচ্ছে।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরপরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে ‘বিকাশ’। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সিংহভাগই বিকাশের দখলে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমএফএস লেনদেনের সর্বশেষ ১৯ মে’র নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক তার অ্যাকাউন্টে দিনে পাঁচবার ৩০ হাজার টাকা ক্যাশ-ইন বা জমা করতে পারেন। মাসে ২৫ বার সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ক্যাশ-ইন করা যায়। আগে প্রতিদিন দুবার সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জমা করতে পারতেন একজন গ্রাহক। মাসে ২০ বার এক লাখ টাকা ক্যাশ-ইন করা যেত।

 
এটিএম বুথে জাল ও ছেঁড়া নোটে ভোগান্তি
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

বেসরকারি চাকরিজীবী এম আর রহমান। জরুরি প্রয়োজনে যান রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে। পকেটে নগদ টাকা নেই। গাড়ি ভাড়া দেবেন বলে ইউসিবির ভিসা কার্ড দিয়ে ব্যাংক এশিয়ার এলিফ্যান্ট রোডের বুথ থেকে টাকা তুলতে যান। কিন্তু টাকা তুলেই বিপাকে পড়েন রহমান। কারণ বুথ থেকে যে ৫০০ টাকার নোট বের হয়েছে তা ছেঁড়া। নোটের কোনার একটা অংশ নেই। উপায় না পেয়ে এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে গাড়িভাড়া পরিশোধ করেন তিনি।

বেসরকারি ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এক গ্রাহককেও বুথ থেকে টাকা তুলে বিপাকে পড়তে হয়। গত ১৭ অক্টোবর ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের বুধ থেকে টাকা তুলে ওই ব্যাংকেরই একটি শাখায় জমা দিতে যান নজরুল ইসলাম। ওই শাখা দুটি নোট জাল হিসেবে শনাক্ত করে। পরে পাঞ্চ করে ফুটো করে দেয়া হয় নোট দুটি। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যখন বলি যে, আপনাদের বুথ থেকেই মাত্র টাকা তুলেছি। তখন অফিসার বলেন, বুথগুলো ম্যানেজমেন্ট করে থার্ড পার্টি। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।’

এভাবে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা। তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিকারও মিলছে না। ভোগান্তিতে পড়া রহমান বলেন, গত ৬ অক্টোবর ইউসিবির ভিসা কার্ড দিয়ে ব্যাংক এশিয়ার এলিফ্যান্ট রোডের বুথ থেকে টাকা তুললে ছেঁড়া নোট বের হয়। নোটের কোনার ছোট একটা অংশ ছিল না। সেখানে আলাদা কাগজের টুকরা লাগানো ছিল। সঙ্গে সঙ্গে কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিলে তারা বলে, ‘আপনার উচিত ছিল বুথের ক্যামেরার সামনে নোটটা ধরে রাখা। যেহেতু করেননি তাহলে নিকটস্থ ব্রাঞ্চে যান, তারা নোটের অবস্থা দেখে বলতে পারবেন এবং বদলে দিতে পারেন। কিন্তু পাশে কোনো শাখা না পাওয়ায় আমি বদলাতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ত্রুটি নোট বুথের ক্যামেরার সামনে ধরা, সংশ্লিষ্টদের জানানো- এত ঝামেলা না করে সেবা উন্নত করলেই পারে। কারণ তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা। সবাই তা-ই করে। এ কারণে ব্যাংকের উচিত বুথে জাল, ছেঁড়া ও ত্রুটিপূর্ণ নোট না রাখা। তাহলে গ্রাহক এ ধরনের সমস্যায় পড়বে না।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনের তাগিদে এটিএম বুথে লেনদেন বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে ভোগান্তিও। কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া, বুথে জাল ও ছেঁড়া নোট, সবসময় পর্যাপ্ত টাকা না থাকাসহ নানা জটিলতা রয়েছে এটিএম বুথগুলোতে। যেহেতু গ্রাহক তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেন করেন তা-ই সেবার মান নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন।

বুথ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলোকে ইতোমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে। অবহেলা বা প্রতারণার অভিযোগের প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানা ও কর্মকর্তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ নিয়মিত পরিদর্শন করি। এখন পর্যন্ত বেশকয়েকটি ব্যাংককে সতর্ক করে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাদের জাল ও ছেঁড়া নোট না দেয়াসহ সেবার মান বাড়াতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটিএম সেবার মান বাড়াতে কঠোর হয়েছে। যদি কোনো ব্যাংকের এটিএম সেবা নিয়ে অবহেলা বা প্রতারণার অভিযোগ আসে এবং তা প্রমাণ হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানা ও কর্মকর্তাকে শাস্তি আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটিএম সেবার মান বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যাংকগুলো চেষ্টা করছে। আশা করি, আগামীতে এটিএম সেবার মান আরও উন্নত হবে।

এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এটিএম বুথের সেবা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। যেহেতু এ সেবার আওতা বেড়েছে, কিছু সমস্যাও হচ্ছে। তবে কিছু ব্যাংক তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে এ সেবা দিচ্ছে। তাদের ভুলের কারণে অনেক সময় সমস্যা তৈরি হয়। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছি।

‘আশা করছি, গ্রাহক আগামীতে আরও ভালো সেবা পাবে’- বলেন ব্যাংক নির্বাহীদের এ নেতা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থাপিত ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইস বাংলাদেশের (এনপিএসবি) চ্যানেল ব্যবহার করে এক ব্যাংকের গ্রাহক আরেক ব্যাংকের বুথ থেকে সহজে টাকা তুলতে পারেন। তবে নিজ ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহার করে টাকা তুলতে বার্ষিক চার্জের বাইরে কোনো খরচ হয় না। এক ব্যাংকের গ্রাহক আরেক ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহার করে টাকা তুললে প্রতি লেনদেনে ১৫ টাকা চার্জ দিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এনপিএসবির আওতায় রয়েছে ৫১টি ব্যাংকের এটিএম বুথ।

সবশেষ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথ রয়েছে ১০ হাজার ৭২২টি। গত আগস্টে এক ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহার করে আরেক ব্যাংকের গ্রাহক ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে এক হাজার ৭৮০ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন।

 
ব্যাংকের সংকট বাড়ছে
                                  

নিউজ ডেস্ক

>> তলানীতে গিয়ে ঠেকছে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা
>> ১২টি ব্যাংকের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কমেছে
>> ব্যয় কমাতে না পারলেও পরিচালন ব্যয় বাড়ছে নিয়মিত
>> পুঁজিবাজারের বর্তমান দুরবস্থার জন্য দায়ী ব্যাংক খাত

নানা দুর্নীতি আর অনিয়মের কবলে পড়া দেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্যে রয়েছে। দিন যত যাচ্ছে সংকটের মাত্রা তত বাড়ছে। ভেঙে পড়ছে একের পর এক ব্যাংকের আর্থিক ভিত। ফলে আস্তে আস্তে তলানীতে গিয়ে ঠেকছে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা।

দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে নিমজ্জিম আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে নতুন করে লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়েছে আরও দুটি ব্যাংক। এছাড়া ১২টি ব্যাংকের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগের মুনাফা গত বছরেও কমেছিল। অর্থাৎ বেশির ভাগ ব্যাংকের মুনাফা ধারাবাহিকভাবে কমেই যাচ্ছে।

মুনাফার পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানিগুলোর ক্যাশ ফ্লো বা পরিচালন নগদ প্রবাহ এবং সম্পদের নেতিবাচক প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। তালিকাভুক্ত ছয়টি ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। সম্পদের মূল্য কমেছে চারটির এবং একটির সম্পদের মূল্য ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।

চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত ২৯টি ব্যাংক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লোকসান থেকে বের হতে পারেনি। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৩ পয়সা।


ব্যাংকটির সঙ্গে এবার নতুন করে লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়েছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এর মধ্যে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ৩০ পয়সা মুনাফা করেছিল ব্যাংকটি। শেয়ারপ্রতি ১২ পয়সা লোকসান করা এক্সিম ব্যাংক গত বছর শেয়ারপ্রতি ২ পয়সা লোকসান করেছিল। তবে ২০১৭ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ব্যাংক দুটি মুনাফা করেছিল।

এদিকে মুনাফায় থাকলেও ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কমে গেছে।

এর মধ্যে সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের মুনাফা গত বছরও কমেছিল। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর মুনাফা ধারাবাহিকভাবে কমছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংক কোম্পানিগুলোর আর্থিক চিত্র অশনিসংকেত দিচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে ব্যাংক কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। এগুলো ব্যাংক খাতের সংকটের চিত্রই ইঙ্গিত করছে। নানা রকম দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়া এবং সার্বিকভাবে ঋণ বিতরণের পরিমাণ কমে যাওয়া ও খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া ব্যাংকগুলোর সংকটের পেছনের অন্যতম কারণ।

এ বিষয়ে বংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতের চিত্র অবশ্যই সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে বেশির ভাগ ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। এর পেছনের অন্যতম কারণ হিসেবে রয়েছে- ঋণ বিতরণ থেকে আয় কমে যাওয়া, বিতরণ করা ঋণের একটি বড় অংশ খেলাপি হয়ে যাওয়া। এর সঙ্গে ব্যাংকগুলো ব্যয় কমাতে পারছে না, অথচ পরিচালন ব্যয় বাড়ছে। সার্বিকভাবে ব্যাংকগুলো একধরনের সমস্যার মধ্যে আছে।

তিনি বলেন, ‘মানুষের সঞ্চয় কমে গেছে। অনেকে ব্যাংকমুখী হচ্ছেন না। আবার লোনও দিতে পারছেন না। পুঁজিবাজারের অবস্থাও ভালো নয়। এটিও ব্যাংকের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্যাংকগুলো যে সংকটের মধ্যে পড়েছে তা শুরু হয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক দিয়ে। পর্যায়ক্রমে তা সংক্রামক ব্যাধির মতো সার্বিক ব্যাংক খাতে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা দুঃখজনক ব্যাপার।’

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের গভর্ন্যান্স ম্যানেজমেন্টের (শাসন ব্যবস্থা) অনেক অবনতি হয়েছে। এখনও দুর্নীতি কমেনি। অনেকগুলো তো এখনও দুর্নীতি থেকে বেরই হয়নি, অনেকে রিপোর্টও দেয় না। বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া রিপোর্ট ঘষামাজা করে দেয়। আইএমএফ এমন অনেক পয়েন্ট-আউট করে দিয়েছে।

এদিকে ছয়টি ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো গত বছরও ঋণাত্মক ছিল। চলতি বছর দুটি ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো নতুন করে ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। অবশ্য চলতি বছর ঋণাত্মক ক্যাশ ফ্লো থেকে নয়টি ব্যাংক বেরিয়ে এসেছে। ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ নগদ টাকার সংকট দেখা দেয়া।

চলতি বছর ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক অবস্থায় থাকা বা নগদ অর্থ সংকটে পড়া ছয়টি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে- সিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক।

এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে রূপালী ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৬৭ টাকা ৮ পয়সা। বড় ধরনের নগদ অর্থ সংকটে থাকা ব্যাংকটির সম্পদের মূল্য কমে গেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৯ টাকা ৯০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪১ টাকা ৫৭ পয়সা।

আগের বছরের তুলনায় সম্পদের মূল্য কমে যাওয়া ব্যাংকের তালিকায় আরও রয়েছে- যমুনা ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও এবি ব্যাংক। আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের সম্পদের মূল্য আগের মতোই ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, পুঁজিবাজার বর্তমানে যে দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এজন্য প্রধানত দায়ী ব্যাংক খাত। ব্যাংক খাতের সংকটের কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। এ খাতের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে পুঁজিবাজার আপনা-আপনিই ঘুরে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, ধারাবাহিকভাবে ব্যাংকের যদি ইনকাম কমে যায়, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাবে। যে কারণে প্রভিশন বেশি রাখতে হচ্ছে। এতে মুনাফার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে ব্যাংক খাতের পাশাপাশি পুঁজিবাজারও ভুগছে।

ব্যাংকগুলোর আর্থিক চিত্র-

ব্যাংকের নাম

শেয়ারপ্রতি আয়

ক্যাশ ফ্লো

শেয়ারপ্রতি সম্পদ

জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৯

জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৮

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০১৯

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০১৮

সেপ্টেম্বর ২০১৯

সেপ্টেম্বর ২০১৮

এবি ব্যাংক

.০৪

.০১

৩২.৬৭

(১১.৭৯)

৩১.৬৮

৩২.০৭

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

(.২৭)

.৩০

১০.৭২

.০৫

১৯.১৬

২০.৩৯

ব্যাংক এশিয়া

.৮৮

.৬৮

১৫.৮৬

৪.৫০

২১.৩৪

১৯.৭০

ব্র্যাক ব্যাংক

.৭০

১.০৬

১৩.২৩

৩.৩৫

৩১.৩৭

২৬.৪৫

সিটি ব্যাংক

.৭৬

.৮৫

(৩.৬৭)

১৭.৭৬

২৪.৭৯

২৪.৫২

ঢাকা ব্যাংক

.৪৭

.৫০

৮.৫২

(২.৯৩)

২০.৯৬

১৯.৭৫

ডাচ বাংলা

২.৯০

২.০৭

১৮.৯০

১৬.৯৫

৫২.৮৭

৪৩.০৮

ইবিএল

.৮৮

.৯২

৫.০২

১২.৪৩

২৯.৮১

২৮.৭৯

এক্সিম

(.১২)

(.০২)

১১.১৩

(৮.৭৯)

১৯.৪২

১৮.৪৪

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক

.৩৫

.১১

(৩.১৪)

(৫.৫৮)

১৬.৭৭

১৪.১৮

আইসিবি ইসলামী ব্যাংক

(.২০)

(.২৩)

.০০৩

(.২৫৬)

(১৬.৯৬)

(১৬.২৮)

আইএফআইসি

.৪৪

.১৫

১.৫২

৩.৫৩

১৭.৫২

১৫.৪৫

ইসলামী ব্যাংক

.১৪

.২৬

২৮.৮৮

(১১.১৬)

৩৫.৬৭

৩২.৬৭

যমুনা ব্যাংক

১.২০

.৬৭

১০.৬৬

(৩.২৭)

২২.০২

২৩.২২

মার্কেন্টাইল

.৫৭

.৬৬

২.২৩

২.৩৭

২২.২৮

২২.০৭

এমটিবি

.৫১

.৪৩

১৩.৭৬

(২.৪২)

২২.৭৮

১৯.৮২

এনসিসি

.৮২

.৭১

৫.৬৩

৯.৮৩

২০.৮০

১৮.৮৭

ওয়ান ব্যাংক

.২২

.৩৫

৫.৩২

৭.৮৩

১৭.৮৯

১৭.২১

প্রিমিয়ার ব্যাংক

.৪১

.৩৮

২.৩১

১.৪৪

১৮.৩৯

১৫.৪৭

প্রাইম ব্যাংক

.৪৪

.৪৫

(১.৯৮)

৪.৭৫

২৩.২৫

২২.৩৭

পূবালী ব্যাংক

.৫৬

.৫১

১.৯৯

৮.৫৮

২৮.২১

২৬.৩০

রূপালী ব্যাংক

.১৪

.১৪

(৬৭.০৮)

(২৯.৯১)

৩৯.৯০

৪১.৫৭

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক

.২৯

.৩৬

১০.১৯

৪.০৫

১৭.৩৪

১৫.৭৮

এসআইবিএল

.৩৫

.৪০

১৬.২৮

(৫.১১)

১৮.৪১

১৬.৬৬

সাউথ ইস্ট ব্যাংক

.৫৮

.৭৬

১৪.৪৪

(৪.০১)

২৬.৮৪

২৬.৮০

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক

.৩৬

.০২

৭.৮০

৩.৯৫

১৫.৮৭

১৪.৩০

ট্রাস্ট ব্যাংক

.৯৩

.৬৫

৩৮.১৫

১৯.২৪

২৪.২৮

২০.২২

ইউসিবি

.৭২

.৬৬

(.৫৬)

(৫.৪৯)

২৬.৩৪

২৩.৮৮

উত্তরা ব্যাংক

.৬২

১.২১

(১৪.২৩)

১০.৫৫

৩৭.১৩

৩৫.৫৩

 
দুর্দিনে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক
                                  

অর্থনীতি ডেস্ক


>> এমডি ও পরিচালকদের পেছনে অধিকাংশ ব্যয়
>> বছর ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বাড়ল ৪০০ কোটি টাকা
>> প্রভিশন বেড়েছে ৪৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা
>> জুলাই-সেপ্টেম্বরে লোকসান ২৮ কোটি ৬৭ লাখ

দুর্দিনে পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও পরিচালকদের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ, পরিচালন আয় কমে যাওয়া, খেলাপি ঋণ ও প্রভিশনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকটি এবার লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে প্রতি তিন মাস পরপর আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হয়। এরই আলোকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এ প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির বিনিয়োগ ও কমিশন থেকে আয় আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু আমনতকারীদের আমানতের বিপরীতে যে পরিমাণ মুনাফা দিয়েছে তার তুলনায় আয় বাড়েনি। ফলে কমেছে পরিচালন মুনাফা।

অপরদিকে বেড়েছে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন পারিতোষিক। এর সঙ্গে প্রভিশনবাবদ রাখতে হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। ফলে চূড়ান্তভাবে ব্যাংকটি লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ব্যবসা করা ব্যাংকগুলো এখন খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। কয়েক বছর ধরে বেশকিছু ব্যাংক স্ট্রাগল করছে। ব্যাংকগুলোয় সুশাসনের অভাব দেখা দিয়েছে। এমডিদের বেতন-ভাতার ক্ষেত্রেও কোনো শৃঙ্খলা নেই। যে যেমন খুশি পারিশ্রমিক নিচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকের খরচের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। খরচের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।


আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বরে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক বিনিয়োগ থেকে আয় করে ৭২৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৫৯ কোটি ৬০ লাখ। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় ব্যাংকটির বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে ৬৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

এদিকে শেয়ার ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকেও ব্যাংকটির আয় বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে শেয়ার ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকে আয় হয় ১৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল নয় কোটি ৩৩ লাখ। সে হিসাবে আগের বছরের তুলনায় শেয়ার ও সিকিউরিটিজের বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে নয় কোটি ছয় লাখ টাকা।

অপরদিকে আমানতকারীদের আমানতের বিপরীতে মুনাফাবাবদ চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে দিতে হয় ৫১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৩৬ কোটি ৮০ লাখ। অর্থাৎ আমানতের বিপরীতে মুনাফা পরিশোধে ব্যাংকটির ব্যয় বেড়েছে ৮২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এ ব্যয় বাড়ার কারণে ব্যাংকটির পরিচালন আয় আগের বছরের তুলনায় কমে গেছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির পরিচালন আয় হয় ৩০২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩০৭ কোটি ১৮ লাখ। এ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় পরিচালন আয় কমেছে চার কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

পরিচালন আয় কমে গেলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পেছনে ব্যাংকটির ব্যয় বেড়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন পারিতোষিকবাবদ ব্যাংক থেকে নেন ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংক থেকে নেন এক কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল এক কোটি ২৭ লাখ।

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পাশাপাশি ব্যাংকটির পরিচালকদের পেছনেও মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে। তবে এ খরচের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কমেছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে পরিচালকরা সম্মানিবাবদ ব্যাংক থেকে নেন সাত লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে পরিচালকরা সম্মানিবাবদ নেন ৮৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, যা আগের বছরে ছিল এক কোটি ১২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

এদিকে ব্যাংকটির দেয়া ঋণের বড় একটি অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। এ কারণে মোটা অঙ্কের প্রভিশন রাখতে হয়েছে।

জুলাই-সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির কী পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে, এ তথ্য পাওয়া যায়নি। জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ৪২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি হওয়ায় ব্যাংকটিকে মোটা অঙ্কের প্রভিশন রাখতে হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরের জন্য প্রভিশন রাখতে হয় ১১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে রাখা প্রভিশনের পরিমাণ ছিল ৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রভিশনের পরিমাণ বেড়েছে ৪৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

খেলাপি ঋণের কারণে প্রভিশন বেড়ে যাওয়া ব্যাংকটি চূড়ান্তভাবে লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির লোকসান হয় ২৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এতে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি ৩০ পয়সা হারে ৩৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছিল।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার হাসান এ প্রসঙ্গে জাগো নিউজকে বলেন, ‘আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ক্যামেলস রেটিংয়ে খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে। সেই ব্যাংকের লোকসানের খাতায় নাম লেখানো খারাপ লক্ষণ। ব্যাংকটির প্রভিশনের চিত্র দেখলে বুঝা যাচ্ছে, মোটা অঙ্কের ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে, যা মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এটি সার্বিক ব্যাংক খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’

সার্বিক বিষয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরমান আর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ব্যাংকটির জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জালাল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মতামত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকটির এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে ব্যাংক খাতের সার্বিক অবস্থা ভালো নয়। অনেক ব্যাংক আর্থিক প্রতিবেদনে তথ্য গোপন করে। কিন্তু আমরা এবার কোনোপ্রকার তথ্য গোপন না করে আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছি। এ কারণে হয়তো আর্থিক অবস্থা একটু খারাপ দেখাচ্ছে। তবে বছর শেষে এ চিত্র থাকবে না। আমরা আশা করছি, বছর শেষে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ভালো অবস্থানে থাকবে।

তৈরি পোশাক শিল্পে ঘাড়ে ভিয়েতনামের নিশ্বাস
                                  

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। তবে সেই মুকুট আর কত দিন থাকবে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ বাংলাদেশের ঘাড়ে ভিয়েতনাম নিশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে। যেকোনো সময়ে দেশটি বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিসটিকস রিভিউ ২০১৯–এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং চীন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ভারত, তুরস্ক, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—এই শীর্ষ দশটি অঞ্চল ও দেশ ৪২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা বিশ্বের মোট রপ্তানির ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে চীন। বৈশ্বিক বাজারে দেশটির হিস্যা ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ।


পোশাক রপ্তানিতে চীনের পেছনেই এক এক করে আছে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ৩ হাজার ২৯২ কোটি এবং ভিয়েতনাম ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। উভয় দেশের বাজার হিস্যা এখন প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। গত বছর ১০ শীর্ষ রপ্তানিকারকের মধ্যে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ভিয়েতনামের বাজার হিস্যা বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

ডব্লিউটিওর গত দুই বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভিয়েতনাম পোশাক রপ্তানিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। যেমন ২০১৭ সালে দেশটি ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। তখন তাদের বাজার হিস্যা ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানেই তাদের রপ্তানির পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলার বেড়েছে। বদৌলতে দেশটির বাজার হিস্যা ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। আর বাংলাদেশের বাজার হিস্যা কমেছে। ২০১৭ সালে ২ হাজার ৯২১ কোটি ডলারের রপ্তানির বিপরীতে বাজার হিস্যা ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। রপ্তানি ৩৭১ কোটি ডলার বাড়লেও গত বছরের চেয়ে বাজার হিস্যা দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।

বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের হিস্যা এখন ৬ দশমিক ৪ শতাংশ
আর ভিয়েতনামের ৬ দশমিক ২ শতাংশ

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে ১১ দশমিক ৪৬ ও ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ কমেছে। অক্টোবর মাসেও পোশাক রপ্তানি কমার আশঙ্কা প্রবল। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পণ্য রপ্তানির তথ্য দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে জানান পোশাকশিল্পের একাধিক উদ্যোক্তা।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘ভিয়েতনাম যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেলে অবাক হব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক চাহিদায় একধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিদেশের ক্রেতারা বেছে বেছে কিনছেন, কম কিনছেন। তাঁরা ভ্যালু অ্যাডেড পোশাক চাচ্ছেন। সেটির জন্য হয়তো আমরা এখনো প্রস্তুত না।’

নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ভিয়েতনামে প্রচুর চীনা বিনিয়োগ আছে। সে জন্য তারা বহুমুখী পোশাক উৎপাদনে বেশ এগিয়ে গেছে। তাই আমাদেরও বহুমুখী পণ্য উৎপাদনে চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে।’

ডব্লিউটিওর তথ্যানুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো গত বছর সম্মিলিতভাবে ১৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এ ছাড়া ভারত ১ হাজার ৭০০ কোটি, তুরস্ক ১ হাজার ৬০০ কোটি, হংকং ১ হাজার ৪০০ কোটি, ইন্দোনেশিয়া ৯০০ কোটি, কম্বোডিয়া ৮০০ কোটি এবং যুক্তরাষ্ট্র ৬০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে।

পোশাক আমদানিতে শীর্ষস্থানে আছে ইইউ। গত বছর ইইউর সদস্য ২৮টি দেশ ২০ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ৯ হাজার ২০০ কোটি, জাপান ৩ হাজার কোটি, হংকং ১ হাজার ৩০০ কোটি, কোরিয়া ও কানাডা প্রতিটি ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার, চীন, রাশিয়া ও সুইজারল্যান্ড প্রতিটি ৮০০ কোটি ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া ৭০০ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম গত বৃহস্পতিবার বলেন, ‘ভিয়েতনামের বার্ষিক পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ২২ হাজার কোটি ডলার। তার মধ্যে তৈরি পোশাক তাদের ষষ্ঠ শীর্ষ রপ্তানি পণ্য। তারপরও ভিয়েতনাম যদি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে সেটি হবে দুঃখজনক। কারণ তৈরি পোশাক আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে অনেক কাজ হলেও বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের ক্ষমতায় ও প্রযুক্তিতে উন্নয়ন হয়নি। এই জায়গায় দ্রুত উন্নতি করতে হবে। না হলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অনেক পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে ভিয়েতনাম।’

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে
                                  

অনলাইন ডেস্ক : মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা, বাড়ছে লেনদেনও। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত শহর কিংবা গ্রামে, গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ফলে প্রতিদিনই গ্রাহকের সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে, বর্তমানে মোট ১৬টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে তাদের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫৯ লাখ ৭৮ হাজার। যা আগের মাস আগস্টে ছিল ৭ কোটি ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার। অর্থাৎ এক মাসে গ্রাহক বেড়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

টানা তিন মাস একবারও লেনদেন করেনি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করে থাকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই হিসাবে সেপ্টেম্বর শেষে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৮৯ হাজার।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এমএফএসে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৭০ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৮১ কোটি ১১ লাখ টাকা আদান-প্রদান হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৮ জন।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবা। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেয়া হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত মাসজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়েছে ১২ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। যা আগের মাসের চেয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। উত্তোলন হয়েছে ১১ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। যা আগস্টের তুলনায় সাড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কম।

এমএফএসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ৮ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ প্রায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ কোটি ৬২ লাখ টাকায়। বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৫৬২ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩৯২ কোটি টাকা। সরকারি পরিশোধ ৮১ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৬০৬ কোটি টাকা।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরপরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমএফএস লেনদেনের সর্বশেষ ১৯ মের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক তার অ্যাকাউন্টে দিনে পাঁচবারে ৩০ হাজার টাকা ক্যাশ ইন বা জমা করতে পারবেন। আর মাসে ২৫ বারে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ক্যাশ ইন করা যায়। আগে প্রতিদিন দুইবারে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জমা করতে পারতেন একজন গ্রাহক। আর মাসে ২০ বারে এক লাখ টাকা ক্যাশ ইন করা যেত।

 

   Page 1 of 12
     অর্থ-বাণিজ্য
বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও দুই ড্রিমলাইনার
.............................................................................................
সংশোধিত বাজেটে পিকেএসএফ পাচ্ছে ২৫০ কোটি টাকা
.............................................................................................
ঊর্ধ্বমুখী বাজারে বাড়ল মূল্য আয় অনুপাত
.............................................................................................
পিপলস লিজিং অবসায়ন চান না আমানতকারীরা
.............................................................................................
ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন পাঁচ সাংবাদিক
.............................................................................................
সর্বোচ্চ কর দিয়ে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন মাশরাফি সাকিব তামিম
.............................................................................................
ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন তাহসান, এস ডি রুবেল ও মমতাজ
.............................................................................................
সুইস ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলেছে বাংলাদেশ : রাষ্ট্রদূত
.............................................................................................
সেরা ১৪১ করদাতা ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন
.............................................................................................
ব্যবসায়ীদের দোষে তৈরি পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব: টিপু মুনশি
.............................................................................................
এক হিসাবেই সব মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন
.............................................................................................
এটিএম বুথে জাল ও ছেঁড়া নোটে ভোগান্তি
.............................................................................................
ব্যাংকের সংকট বাড়ছে
.............................................................................................
দুর্দিনে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক
.............................................................................................
তৈরি পোশাক শিল্পে ঘাড়ে ভিয়েতনামের নিশ্বাস
.............................................................................................
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে
.............................................................................................
রাজধানীতে বেড়েছে শীতকালীন সবজির সরবরাহ
.............................................................................................
বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি নেই শিগগির মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে
.............................................................................................
৪৫ টাকায় পেঁয়াজ মিলবে ঢাকার ৩৫ পয়েন্টে
.............................................................................................
কমেছে পেঁয়াজের দাম
.............................................................................................
শেয়ার বিক্রি করবে এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা
.............................................................................................
কৃষি পদক পেল প্রাণ
.............................................................................................
পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়েছে
.............................................................................................
হিলিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে
.............................................................................................
স্বর্ণের দাম কমল
.............................................................................................
হিলিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বেড়েছে
.............................................................................................
সেপ্টেম্বরে ঢাকায় টেক্সটাইল গার্মেন্টস শিল্প প্রদর্শনী
.............................................................................................
স্বর্ণের নতুন দাম আজ থেকে কার্যকর
.............................................................................................
দশ হাজার ইএফডি মেশিন কেনার কার্যাদেশ দিল এনবিআর
.............................................................................................
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
.............................................................................................
বকেয়া পরিশোধ ছাড়া ট্যানারিতে চামড়া বিক্রি করবেন না আড়তদাররা
.............................................................................................
২০ আগস্টের আগেই চামড়া কিনবে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন
.............................................................................................
ডেঙ্গুতে প্রকৌশলীসহ ৪ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
স্মরণকালের সর্বনিম্ন দামে বিক্রি কোরবানির চামড়া
.............................................................................................
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
.............................................................................................
কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ
.............................................................................................
ফের বাড়ল সোনার দাম
.............................................................................................
শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখতে নির্দেশ
.............................................................................................
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা ৩১ জুলাই
.............................................................................................
দাম কমছে পেঁয়াজের
.............................................................................................
ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
.............................................................................................
হিলিতে ঢুকছে ভারতীয় পেঁয়াজ, দাম প্রতিকেজি ২১ টাকা
.............................................................................................
ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ
.............................................................................................
স্যানিটারি ন্যাপকিনের কাঁচামালের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার
.............................................................................................
বগুড়ার শেরপুরে প্রায় পাঁচশ’ দেশি মুরগির খামার গড়ে উঠেছে
.............................................................................................
সবজির দাম দ্বিগুণ
.............................................................................................
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
এমটিবি পীরেরবাগ এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার-এ ডেসকো বিল সংগ্রহ সেবার উদ্বোধন
.............................................................................................
বিকাশ-রকেট-নগদের ব্যালেন্স জানতে পয়সা লাগবে
.............................................................................................
বেড়েছে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]