| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * খাগড়াছড়িতে বজ্রাঘাতে মা-ছেলের মৃত্যু   * হন্ডুরাসে বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ৫   * এসএ পরিবহনের কুরিয়ারে এলো এক লাখ ইয়াবা   * ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ   * অভিনেত্রী মায়া ঘোষ আর নেই   * সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে অনলাইন কজ-লিষ্ট ব্যবহারের অনুরোধ   * উপসাগরে উত্তেজনা : জরুরি বৈঠকের আহ্বান সৌদি আরবের   * বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু আজ   * ধ্যান ভাঙলেন মোদি   * সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা, শাহজালালে ডিজিটাল পাসপোর্টসহ ৪ রোহিঙ্গা আটক  

   লাইফস্টাইল -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
যে পাঁচটি বিষয় নিয়ে পুরুষরা কথা বলে না

অনলাইন ডেস্ক : প্রতি ৪০ সেকেন্ডে পৃথিবীতে একজন ব্যক্তি আত্মহত্যা করে। যারা নিজের জীবন এভাবে শেষ করে দেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা পুরুষ।

নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলা অথবা কোন বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার প্রবণতা সম্ভবত তাদের কম।

এক্ষেত্রে জেনে নেয়া জরুরি যে পাঁচটি বিষয় নিয়ে পুরুষদের কথা বলা দরকার।

নিঃসঙ্গতা নিয়ে কথা বলুন
বিবিসি নিজে ওয়েলকাম কালেকশন নামে একটি সংস্থার সাথে নিঃসঙ্গতা নিয়ে জরিপ চালিয়েছিল।

তাতে দেখা গেছে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি নিঃসঙ্গতা অনুভব করে।

খুব দীর্ঘ সময়ের নিঃসঙ্গতা একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় দেখা গেছে সহজে নিরাময় হয়না শরীরে এমন রোগের জন্ম দেয় নিঃসঙ্গতা।

তা মানুষের মধ্যে বেপরোয়া আচরণের জন্ম দেয়।

একাকীত্বের সাথে স্মৃতিভ্রংশ জনিত রোগেরও সম্পর্ক রয়েছে।

২০১৭ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে বিশেষ করে পুরুষদের জন্য এই নিঃসঙ্গতা থেকে বেরিয়ে আসা মুশকিল।

এই গবেষণার প্রধান রবিন ডানবার বলছেন, যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিশাল ফারাক তারা দেখতে পেয়েছেন।

পুরুষরা নিজেদের একাকীত্ব স্বীকারও করেন না। ২০১৭-১৮ সালে যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, `একা বোধ করি না` এই কথাটিই বরং পুরুষরা মেয়েদের তুলনায় বেশি বলেন।

কান্না ও পুরুষালী ধারণা
সমাজের প্রচলিত একটি কথাই রয়েছে যে `ছেলেদের কাঁদতে নেই`।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউগভ-এর ২০১৮ সালের এক হিসেব অনুযায়ী দেশটির ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী পুরুষদের ৫৫ শতাংশ মনে করেন কান্না পুরুষের আচরণের সাথে যায় না বা কান্না পুরুষালী বিষয় নয়।

আত্মহনন প্রবণতায় ভোগে এমন মানুষদের সহায়তা করে অস্ট্রেলিয়ান দাতব্য প্রতিষ্ঠান লাইফলাইন। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক কোলম্যান ওড্রিসকল বলছেন, "আমরা খুব ছোটবেলা থেকে ছেলেদের এমনভাবে তৈরি করি যেন তাদের আবেগ প্রকাশ করতে নেই। সমাজ সেভাবেই ছেলেদের বড় করে তোলে। তাদের ধারনা দেয়া হয় যে আবেগ প্রকাশ করা দুর্বলতার লক্ষণ।"

অথচ বহু গবেষণায় দেখা গেছে নিজের মন হালকা করার জন্য কান্না খুব কাজে আসে।


পরিবারের জীবিকার প্রধান দায়িত্ব পুরুষের জন্য বড় চাপ
যুক্তরাজ্যে এক গবেষণায় দেখা গেছে ৪২ শতাংশ পুরুষরা মনে করে তাদের নারী সঙ্গীদের তুলনায় তাদের আয় বেশি হওয়া উচিৎ।

সেরকম একজন নাইজেরিয়ান ফুটবলার অলুমাইড ডরুযাইয়ে। তিনি বলছেন, "আমি দেখেছি আমার বাবা ছিলেন পরিবারের প্রধান রুটির যোগানদাতা। দিনরাত খাটতেন। আমিও সেরকমই হয়েছি। যেকোনভাবেই হোক আমাকে অর্থ উপার্জন করতে হয়েছে কারণ আমাকে সেই পুরুষের ভূমিকাটি নিতে হয়েছে।"

পরিবারের সবার রুটির যোগান দেয়া পুরুষের দায়িত্ব এই ধারনার কারণে পুরুষরা অনেকেই বাড়তি চাপের মধ্যে থাকেন।

পুরুষদের জন্য এই দায়িত্ব বাড়তি বোঝা বলে মনে করা হয়। অর্থনৈতিক বোঝা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।

বেকারত্বের সাথে আত্মহত্যার সম্পর্ক রয়েছে বলে ২০১৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে।


সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও বাস্তবতা
গবেষকরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সম্ভবত খুব গভীর প্রভাব ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা যত বেশি সময় কাটাই তাতে আমরা আরও বেশি নি:সংগ ও বিষণ্ণ হয়ে পরি।

এই গবেষণার লেখক মেলিসা হান্ট বলছেন, "সামাজিক যোগাযোগের ব্যবহার কমিয়ে দিলে সাধারণত বিষণ্ণতা ও নিঃসঙ্গতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।"

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এমন কি আছে যা আসলে ক্ষতিকর?

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক অস্কার ইয়াবারা বলছেন, "সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যা দেখা যায় তা খুব কম ক্ষেত্রেই বাস্তব জীবনের প্রতিফলন। আপনি এতে ঢুকে যা দেখছেন তা সচরাচর খুবই বাছাই করা বিষয়াদি। কিন্তু মানুষ তবুও নিজের জীবনের সাথে তার তুলনা করে।"

নিজের শরীর সম্পর্কে ধারণা
যুক্তরাজ্যে গত বছর লাভ আইল্যান্ড নামে টেলিভিশনে একটি রিয়ালিটি শোতে অংশ নিয়ে কিছুটা খ্যাতি অর্জন করেছিলেন এমন একজন জশ ডেনজেল।

তিনি বলছেন, এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে তিনি সারাদিন জিমে কাটাতেন।

তারপরও আয়নায় নিজের দিকে তাকাতেন এবং নিজের শরীর নিয়ে সংকোচ বোধ করতেন।

তিনি বলছেন, "এখনো সৈকতে হয়ত আমার পাশ দিয়ে দারুণ সিক্স প্যাক শরীর নিয়ে কেউ হেঁটে যাচ্ছে, আমি তখন নিজের দিকে তাকিয়ে নিজেকেই খুব হীন পুরুষ মনে হয়েছে।"

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি দারুণ ফিগার নিয়ে এখন অনেকেই খুব চিন্তা করেন।

তাই স্থূল হয়ে যাওয়া বা শরীরের কোন খুঁতের সাথেও মানসিক স্বাস্থ্যের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করা হয়।

এই সকল বিষয় নিয়ে পুরুষদের খোলাখুলি আলাপ করাকেই এখন উৎসাহিত করা হচ্ছে।

নিজের আবেগকে দুরে ঠেলে না দিয়ে, বোতল বন্দি করে না রেখে তার সংস্পর্শে এলেই বরং মানসিক স্বাস্থ্যের উপকার হয়- সেই বার্তা দেয়া হচ্ছে পুরুষদের।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

যে পাঁচটি বিষয় নিয়ে পুরুষরা কথা বলে না
                                  

অনলাইন ডেস্ক : প্রতি ৪০ সেকেন্ডে পৃথিবীতে একজন ব্যক্তি আত্মহত্যা করে। যারা নিজের জীবন এভাবে শেষ করে দেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা পুরুষ।

নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলা অথবা কোন বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার প্রবণতা সম্ভবত তাদের কম।

এক্ষেত্রে জেনে নেয়া জরুরি যে পাঁচটি বিষয় নিয়ে পুরুষদের কথা বলা দরকার।

নিঃসঙ্গতা নিয়ে কথা বলুন
বিবিসি নিজে ওয়েলকাম কালেকশন নামে একটি সংস্থার সাথে নিঃসঙ্গতা নিয়ে জরিপ চালিয়েছিল।

তাতে দেখা গেছে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি নিঃসঙ্গতা অনুভব করে।

খুব দীর্ঘ সময়ের নিঃসঙ্গতা একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় দেখা গেছে সহজে নিরাময় হয়না শরীরে এমন রোগের জন্ম দেয় নিঃসঙ্গতা।

তা মানুষের মধ্যে বেপরোয়া আচরণের জন্ম দেয়।

একাকীত্বের সাথে স্মৃতিভ্রংশ জনিত রোগেরও সম্পর্ক রয়েছে।

২০১৭ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে বিশেষ করে পুরুষদের জন্য এই নিঃসঙ্গতা থেকে বেরিয়ে আসা মুশকিল।

এই গবেষণার প্রধান রবিন ডানবার বলছেন, যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিশাল ফারাক তারা দেখতে পেয়েছেন।

পুরুষরা নিজেদের একাকীত্ব স্বীকারও করেন না। ২০১৭-১৮ সালে যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, `একা বোধ করি না` এই কথাটিই বরং পুরুষরা মেয়েদের তুলনায় বেশি বলেন।

কান্না ও পুরুষালী ধারণা
সমাজের প্রচলিত একটি কথাই রয়েছে যে `ছেলেদের কাঁদতে নেই`।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউগভ-এর ২০১৮ সালের এক হিসেব অনুযায়ী দেশটির ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী পুরুষদের ৫৫ শতাংশ মনে করেন কান্না পুরুষের আচরণের সাথে যায় না বা কান্না পুরুষালী বিষয় নয়।

আত্মহনন প্রবণতায় ভোগে এমন মানুষদের সহায়তা করে অস্ট্রেলিয়ান দাতব্য প্রতিষ্ঠান লাইফলাইন। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক কোলম্যান ওড্রিসকল বলছেন, "আমরা খুব ছোটবেলা থেকে ছেলেদের এমনভাবে তৈরি করি যেন তাদের আবেগ প্রকাশ করতে নেই। সমাজ সেভাবেই ছেলেদের বড় করে তোলে। তাদের ধারনা দেয়া হয় যে আবেগ প্রকাশ করা দুর্বলতার লক্ষণ।"

অথচ বহু গবেষণায় দেখা গেছে নিজের মন হালকা করার জন্য কান্না খুব কাজে আসে।


পরিবারের জীবিকার প্রধান দায়িত্ব পুরুষের জন্য বড় চাপ
যুক্তরাজ্যে এক গবেষণায় দেখা গেছে ৪২ শতাংশ পুরুষরা মনে করে তাদের নারী সঙ্গীদের তুলনায় তাদের আয় বেশি হওয়া উচিৎ।

সেরকম একজন নাইজেরিয়ান ফুটবলার অলুমাইড ডরুযাইয়ে। তিনি বলছেন, "আমি দেখেছি আমার বাবা ছিলেন পরিবারের প্রধান রুটির যোগানদাতা। দিনরাত খাটতেন। আমিও সেরকমই হয়েছি। যেকোনভাবেই হোক আমাকে অর্থ উপার্জন করতে হয়েছে কারণ আমাকে সেই পুরুষের ভূমিকাটি নিতে হয়েছে।"

পরিবারের সবার রুটির যোগান দেয়া পুরুষের দায়িত্ব এই ধারনার কারণে পুরুষরা অনেকেই বাড়তি চাপের মধ্যে থাকেন।

পুরুষদের জন্য এই দায়িত্ব বাড়তি বোঝা বলে মনে করা হয়। অর্থনৈতিক বোঝা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।

বেকারত্বের সাথে আত্মহত্যার সম্পর্ক রয়েছে বলে ২০১৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে।


সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও বাস্তবতা
গবেষকরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সম্ভবত খুব গভীর প্রভাব ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা যত বেশি সময় কাটাই তাতে আমরা আরও বেশি নি:সংগ ও বিষণ্ণ হয়ে পরি।

এই গবেষণার লেখক মেলিসা হান্ট বলছেন, "সামাজিক যোগাযোগের ব্যবহার কমিয়ে দিলে সাধারণত বিষণ্ণতা ও নিঃসঙ্গতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।"

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এমন কি আছে যা আসলে ক্ষতিকর?

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক অস্কার ইয়াবারা বলছেন, "সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যা দেখা যায় তা খুব কম ক্ষেত্রেই বাস্তব জীবনের প্রতিফলন। আপনি এতে ঢুকে যা দেখছেন তা সচরাচর খুবই বাছাই করা বিষয়াদি। কিন্তু মানুষ তবুও নিজের জীবনের সাথে তার তুলনা করে।"

নিজের শরীর সম্পর্কে ধারণা
যুক্তরাজ্যে গত বছর লাভ আইল্যান্ড নামে টেলিভিশনে একটি রিয়ালিটি শোতে অংশ নিয়ে কিছুটা খ্যাতি অর্জন করেছিলেন এমন একজন জশ ডেনজেল।

তিনি বলছেন, এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগে তিনি সারাদিন জিমে কাটাতেন।

তারপরও আয়নায় নিজের দিকে তাকাতেন এবং নিজের শরীর নিয়ে সংকোচ বোধ করতেন।

তিনি বলছেন, "এখনো সৈকতে হয়ত আমার পাশ দিয়ে দারুণ সিক্স প্যাক শরীর নিয়ে কেউ হেঁটে যাচ্ছে, আমি তখন নিজের দিকে তাকিয়ে নিজেকেই খুব হীন পুরুষ মনে হয়েছে।"

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি দারুণ ফিগার নিয়ে এখন অনেকেই খুব চিন্তা করেন।

তাই স্থূল হয়ে যাওয়া বা শরীরের কোন খুঁতের সাথেও মানসিক স্বাস্থ্যের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করা হয়।

এই সকল বিষয় নিয়ে পুরুষদের খোলাখুলি আলাপ করাকেই এখন উৎসাহিত করা হচ্ছে।

নিজের আবেগকে দুরে ঠেলে না দিয়ে, বোতল বন্দি করে না রেখে তার সংস্পর্শে এলেই বরং মানসিক স্বাস্থ্যের উপকার হয়- সেই বার্তা দেয়া হচ্ছে পুরুষদের।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

টাক পড়া বন্ধে যা খাবেন
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : টাক পড়ে যাওয়া এখন খুব স্বাভাবিক একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বয়স হয়তো ত্রিশও ছোঁয়নি, অথচ টাক পড়ার কারণে দেখতে লাগে বয়স্ক। এরকম সমস্যায় ভুগে থাকেন অধিকাংশ পুরুষই।

বেশ কয়েকটি কারণে অকালে চুল ঝরে যেতে পারে। তার মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ, ব্যাকটেরিয়ার কারণে সংক্রমণ বা অ্যালার্জি, রক্তস্বল্পতা, আবহাওয়া, অপুষ্টি এবং দূষিত পানি অন্যতম। তবে অকালে চুল ঝরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারণ হিসেবে সামনে আসে অপুষ্টি।

পুষ্টিবিদদের মতে, কয়েকটি খাবার বা মশলা নিয়মিত খেতে পারলে অপুষ্টিজনিত কারণে চুল ঝরা বন্ধ হয়ে যাবে। নতুন চুলও গজাবে। চলুন জেনে নেই কোন খাবারগুলো আপনার টাক পড়া রোধ করবে-

আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। চুলের পরিচর্যায় যুগ যুগ ধরেই আমলকীর ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রতিদিন একটা করে আমলকী খেতে পারলে অকালে চুল ঝরে যাওয়া থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

পালং শাকে রয়েছে ভিটামিন বি, সি, ই, আর ভিটামিন এ। এ ছাড়াও এতে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও আয়রন। এই উপাদানগুলি চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে।

চুলের পরিচর্যায় মেথি অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। মেথিতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড যা চুলের গোড়া শক্ত করে অকালে অতিরিক্ত চুল ঝরে যাওয়া রুখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন মেথি ভেজানো পাবেন খেতে পারলে ফল পাবেন।

নারিকেল তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লরিক অ্যাসিড যা চুলে প্রোটিনের জোগান দিয়ে গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। মাথায় নারিকেল তেল মাখার সঙ্গে সঙ্গে নারিকেল তেলে রান্না করে খেতে পারলেও অকালে চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যায় দুর্দান্ত ফল মিলবে।

ইফতারে পান করুন লেবুর শরবত
                                  

অনলাইন ডেস্ক : রমজান মাসে প্রচণ্ড গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত সবার। এই গরমে প্রাণ জুড়াতে শরবতের জুড়ি নেই। গরমে লেবুর শরবত শরীরের জন্য বেশ উপকারি। তাই ইফতারে খেতে পারেন লেবুর শরবত। লেবুর শরবত সারাদিনের রোজার ক্লান্তি দূর করবে। এছাড়া নিয়মিত লেবু পানি খাওয়া শুরু করলে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

লেবুর শরবতে সারবে যে সব রোগ:

১. একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, লেবু শরবত লিভারে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে। ফলে লিভারের যেকোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

২. লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, যা দেহের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে।

৩. ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লেবু পানি খেলে দেহের ভেতরে পিএইচ লেভেলের ভারসাম্য ঠিক থাকে। ফলে দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৪. সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, টিবি রোগের চিকিৎসায় ওষুধের সঙ্গে লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেলে ওষুধের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৫. বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন লেবু খেলে দেহের ভেতরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৬. লেবুর পানি ব্যবহারে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে। ত্বকের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনে। পাশাপাশি ব্ল্যাক হেডস এবং বলিরেখা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭. নিয়মিত লেবু পানি খেলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্তি মেদ ঝরে যায়। লেবুর ভেতরে পেকটিন নামক একটি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। ওজনও কমে।

৮. লেবু খেলে এনার্জির ঘাটতি দূর হয়। ঘুম থেকে উঠে চা বা কফি না খেয়ে প্রতিদিন এক গ্লাস করে লেবুর পানি খান। ফলে সকাল সকাল শরীর এবং মস্তিষ্ক চাঙ্গা হয়ে উঠতে একেবারেই সময় লাগে না।

৯. লেবুর শরবতে শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা কমে যায়। যারা অ্যাসমা বা কোনও ধরনের রেসপিরেটরি প্রবলেমে ভুগছেন তারা খেতে পারেন লেবুর শরবত।

১০. স্ট্রেস এবং অবসাদের থেকে মুক্তি দেবে লেবুর শরবত। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, নিয়মিত লেবুর পানি খেলে স্ট্রেস একেবারে কমে যায়।

১১. লেবু পানিতে থাকে প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম, যা রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখে। যারা এ রোগে ভুগছেন তারা প্রতিদিন সকাল-বিকাল লেবু পানি খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন দারুন ফল পাবেন।

১২. বদ হজম, কনস্টিপেশন, বারংবার পেট খারাপসহ নানাবিধ পেটের রোগে খেতে পারেন লেবুর শরবত। ফলে স্টমাক অ্যাসিডের ক্ষরণ ঠিক মতো হতে শুরু করবে। ফলে রোগের প্রকোপ তো কমবেই, শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বা টক্সিনও বেরিয়ে যাবে।

১৩. মুখ থেকে খুব দুর্গন্ধ হলে লেবু পানি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন বদগন্ধ একেবারে কমে যাবে। এছাড়া মাড়ি থেকে রক্তপাত এবং দাঁতে যন্ত্রণা হওয়ার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে লেবুর শরবত।

১৪. লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ। যে কোনও ধরনের সংক্রমণ, বিশেষত গলার সংক্রমণ কমাতে দারুণভাবে কাজ করে লেবুর পানি।

গরমে ডাবের পানি কেন খাবেন?
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ডাবের পানি স্বাস্থ্যকর কিংবা পেটের সমস্যায় উপকারী–এ কথা সবারই জানা। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড এই গরমে একটু স্বস্তি পেতে ডাবের পানির জুড়ি নেই। আসুন জেনে নিই ডাবের পানির উপকারিতা:

পেট ঠান্ডা রাখে
ডাবের পানিতে রয়েছে অতি সূক্ষ্ম আঁশ, যা পেটকে ঠান্ডা রাখে। তাছাড়া ডাবের পানি শুধু পিপাসাই মেটায় না, খেতেও সুস্বাদু। এর বাই বিপাক ক্রিয়া বা মেটাবোলিজমও ঠিক রাখে ডাবের পানি। এসব তথ্য জানিয়েছেন জার্মান পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. অলিভার হান।

রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম
কলায় যে পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে, তার দ্বিগুণ পটাশিয়াম থাকে ডাবের পানিতে। ডাবের পানি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রেখে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সহায়তা করে।

খেলোয়াড়দের জন্য এনার্জি ড্রিংক
ডাবের পানিতে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মিনারেল, যা খেলোয়াড়দের জন্য এনার্জি ড্রিংকের কাজ করে। তাছাড়া ডাবে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানকে রক্ত তাড়াতাড়ি শুষে নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে করা এক সমীক্ষা থেকে এই তথ্য জানা যায়।

মিষ্টি পানীয়র বিকল্প
১০০ মিলি লিটার ডাবের পানিতে ১৫ থেকে ২০ ক্যালোরি থাকে। তবে ডাবে প্রাকৃতিক মিষ্টি থাকার ফলে মিষ্টি পানীয় কোকাকোলা বা ফান্টার বিকল্প হিসেবে পান করা যেতে পারে। এতে ওজন তো বাড়বেই না, বরং কমবে।

ওজন কমাতে চান?
ওজন কমানো তখনই সম্ভব, যখন কেউ শরীরের জন্য যতটা এনার্জি প্রয়োজন, তারে চেয়ে কম খাবার গ্রহণ করে। তাই বিজ্ঞানীরা নিয়মিতই সেসব খাবার খুঁজে বেড়ান, যেসব খাবার এই শর্ত পূরণ করতে পারে। আর ডাবের পানি তার একটি। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল সেকথাই জানিয়েছেন।

রোজায় খেজুর খাবেন যে কারণে
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ইফতারে খেজুর খাওয়ার অভ্যাস প্রায় সবারই আছে। অন্যান্য পরিচিত ইফতারির পাশাপাশি খেজুর কিন্তু প্রতিদিন থাকবেই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন কেন প্রতিদিন ইফতারে খেজুর রাখা হয়? আসলে এই ফলটির রয়েছে অনেক উপকারিতা। 

সারাদিন রোজা রাখার পর পেট খালি থাকে বলে শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। খেজুর সেটি দ্রুত পূরণে সাহায্য করে। চলুন জেনে নেই খেজুরের আরও কিছু উপকারিতা-

খেজুরে রয়েছে প্রচুর আয়রন। প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস দেহের আয়রনের অভাব পূরণ করে এবং রক্তস্বল্পতা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। যাদের এই রক্তস্বল্পতার সমস্যা রয়েছে তাদের প্রতিদিন খেজুর খাওর অভ্যাস করা উচিত।

অনেকেরই খাওয়ার রুচি থাকে না। তাদেরকে নিয়মিত খেজুর খেতে দিলে রুচি ফিরে আসবে।

খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে, শুষ্ক কাশি এবং এজমায় উপকারী।

শক্ত খেজুর পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি খালি পেটে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। তাজা খেজুর নরম এবং মাংসল যা সহজেই হজম হয়।

হৃদপিণ্ডের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন খেজুর খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। সারারাত খেজুর পানিতে ভিজিয়ে সকালে পিষে খাওয়ার অভ্যাস হার্টের রোগীর সুস্থতায় কাজ করে।

খেজুর বিভিন্ন ক্যান্সার থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে অনেক ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন খেজুর লাংস ও ক্যাভিটি ক্যান্সার থেকে শরীরকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

খেজুরে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল বিদ্যমান থাকায় অনেক রোগ নিরাময় করা সম্ভব। সাথে সাথে আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে।

খেজুরে আছে ডায়েটরই ফাইবার যা কলেস্টোরল থেকে মুক্তি দেয়। ফলে ওজন বেশি বাড়ে না, সঠিক ওজনে শরীরকে সুন্দর রাখা যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পক্ষাঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য খেজুর খুবই উপকারী।

ঝড়-বৃষ্টিতে ত্বকে যেসব সমস্যা হতে পারে
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগ আমাদের জীবনযাপনে প্রভাব তো ফেলেই, এমনকি এর চিহ্ন রেখে যায় আমাদের শরীরেও। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে হঠাৎ আসা ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে আপনার ত্বকের ক্ষতির কারণ। ঝড়ের ধুলো বা বৃষ্টি থেকেও ত্বকে র‌্যাশ, চুলকানি বা অ্যালার্জি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে ও এর পরে বাতাসে প্রচুর পরিমাণে ধুলো ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিকের কণা ঘুরে বেড়ায়।

বিভিন্ন জিনিসপত্র বা পুরনো বাড়ি ইত্যাদি ভেঙে তার গুঁড়া বাতাসের ধুলোর সঙ্গে মিশে মানুষের ত্বকের সংর্স্পশে এলে অ্যালার্জি হয়। সংক্রমণ ঘটে। বাতাসের সঙ্গে ভেসে আসা রাসায়নিকের কারণে যে অ্যালার্জি হয় তাকে এয়ার বার্ন অ্যালাজি বলা হয়।

বৃষ্টির পরে জমে থাকা পানি ত্বকের সমস্যার অন্যতম কারণ। জমে থাকা নোংরা পানি পায়ে লাগলে ইনফেকশন র্পযন্ত হতে পারে। এক্ষত্রে মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম-

ঝড়ের মধ্যে রাস্তায় না বেরনোই ভালো। কারণ এই সময়ে ধুলোর নাকে-মুখে লেগে বিভিন্ন অ্যালার্জি হতে পারে। আর ঝড়ের পরেও যতটা সম্ভব ঢাকা পোশাক পরতে হবে। নাকে প্রয়োজনে মাস্ক পরে বের হতে হবে।

আশেপাশে গাছপালা বা বাড়ি ভেঙে পড়লে তার সংর্স্পশে না যাওয়ার চেষ্টা করুন। এর থেকেও ত্বকে সমস্যা হতে পারে।

ত্বকের সংক্রমণ দেখা দিলে ঝড় পড়েও জানলা-দরজা বন্ধ করে রাখুন যাতে ধুলো না ঢুকতে পারে। অনেক সময় বাতাসে ঝড়ের জীবাণু থেকেই যায়।

পায়ে নোংরা পানি বা কাদা লাগলে বাসায় ফিরে পা ধুয়ে হালকা গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখুন। নখের ভিতরে নোংরা জমছে কি না দেখে ভালো করে পরিষ্কার করুন। নয়তো ফাঙ্গাস হওয়ার ভয় থেকে যায়।

চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খাবেন না, কোনো মলমও ব্যবহার করবেন না। অনেক মলম ও ওষুধে স্টেরয়েড থাকে। সেসব এড়িয়ে চলুন।

হাঁটুর সুস্থতায় যা করবেন
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : যারা হাঁটুর সমস্যায় ভুগেন তারাই জানেন এটা আমাদের শরীরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটু সুস্থ না থাকলে চলাফেরা যেমন কঠিন হয়ে যায় তেমনি ভারী কোনও কাজও করা যায় না। এজন্য হাঁটু সুস্থ রাখার চেষ্টা করতে হবে। দেখে নিন হাঁটু সুস্থ রাখতে কী করবেন-

সাঁতার
হাঁটু ভালো রাখতে ও আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কমাতে সাঁতার খুব উপকারী ব্যায়াম। এই ব্যায়াম হাড়কে শক্তিশালী রাখে, পাশাপাশি হাঁটুর জয়েন্টের আশপাশের পেশিকেও ভালো রাখে।

ভিটামিন-সি
ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোলাজেন হাঁটুর কার্টিলেজের প্রধান উপাদান। এটি হাড়ের বৃদ্ধির জন্য জরুরি। ভিটামিন সি হাড় ক্ষয় ও হাড়ের ফ্র্যাকচার প্রতিরোধে কাজ করে।

ম্যাসাজ
হাঁটুর ব্যথা কমাতে এবং হাঁটুকে শক্তিশালী রাখতে ম্যাসাজ একটি চমৎকার উপায়। এটি রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখে। এতে হাঁটু ভালোভাবে পুষ্টি পায়, হাঁটু শক্ত থাকে।

ভিটামিন-ডি
হাড় ভালো রাখার জন্য ভিটামিন ডি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে ফ্র্যাকচার ও হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে। শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণের জন্যও এই ভিটামিন প্রয়োজন।

প্রদাহরোধী খাবার
হাঁটুর প্রদাহ হলে ব্যথা তৈরি হয়, হাঁটু দুর্বল হয়ে পড়ে। এজন্য হাঁটু ভালো রাখতে প্রচুর প্রদাহরোধী খাবার খাওয়া প্রয়োজন। প্রদাহরোধী খাবারের মধ্যে রয়েছে কাঠবাদাম, মিষ্টি আলু, পালংশাক, ব্লুবেরি, অ্যাভাক্যাডো, আদা, রসুন, জলপাইয়ের তেল, স্যামন, ফ্ল্যাক্সিড ইত্যাদি।

গরমে সুস্থ থাকতে ১০ পরামর্শ
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।এই গরমে ডায়েরিয়া,আমাশয়,কলেরা,জন্ডিস,টাইফয়েড, চিকেনপক্সসহ বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রকোট বাড়ছে।

তীব্র তাপদাহের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ডায়েরিয়া,আমাশয়,কলেরা রোগের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।তাই গরমে সব ধরনের রোগ থেকে বাঁচতে আমাদের সচেতন হতে হবে। এদিকে গভীর সাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমেই উপকূলের দিকে আসছে। ১৮ জেলা ও তার আশপাশের অঞ্চলে কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে।এ ক্ষেত্রে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ উঠতে পারে ৮০ কিলোমিটারের ওপরে বলে জানান আবহাওয়াবিদ মুহম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে তাপদাহ,যাতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর বলছে,এই গরম থাকবে আরো অন্তত দুই দিন।

এ বিষয়ে ঢামেক টেলিমেডিসিন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ যায়েদ হোসেন বলেন,কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে।এই প্রচণ্ড গরমে ডায়েরিয়া,আমাশয়,কলেরা, জন্ডিস,টাইফয়েড,চিকেনপক্সসহ বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রকোট বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সচেতনতাই হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ।

আসুন প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে ডা.মোহাম্মদ যায়েদ হোসেনের পরামর্শ জেনে নেই।

১. বাইরে বের হলেই সূর্যের আলো এড়িয়ে চলুন।

২. বাইরে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করতে হবে।

৩. প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।

৪. সুতি কাপড় পরুন।

৫. আরামদায়ক জুতা পরুন।

৬. বাইরের খাবার খাবেন না।

৭. বাসি খাবার খাবেন না।

৮. ঘরে পানিভর্তি বালতি রাখুন।

৯. প্রতিদিন অবশ্যই গোসল করতে হবে। প্রয়োজনে একাধিকবার করা যেতে পারে।

১০. হিট স্ট্রোক যেন না হয় সেক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

সকালে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : কাঁচা ছোলার গুণ সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যপোযোগী ছোলায় আমিষ প্রায় ১৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৬৫ গ্রাম, ফ্যাট মাত্র ৫ গ্রাম, ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ প্রায় ১৯২ মাইক্রোগ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ আছে।

এছাড়াও ছোলায় বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক উপকার। উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক যাবে। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ছোলার কিছু চমকপ্রদ গুণাগুণ হল-

ডাল হিসেবে : ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজ এর চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ।


হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে : অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায়, হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে : আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে, যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

রক্ত চলাচল : অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।

ক্যান্সার রোধে : কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়। আর তাই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্থ থাকুন।

রমজানে : রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। আমাদের দেশে ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয়। দেহকে করে দৃঢ়, শক্তিশালী, হাড়কে করে মজবুত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা অপরিহার্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে : ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।

ডায়াবেটিসে উপকারী : ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে।

কোলেস্টেরল : ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

রক্তের চর্বি কমায় : ছোলার ফ্যাটের বেশিরভাগই পলি আনস্যাচুয়েটেড। এই ফ্যাট শরীরের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়, বরং রক্তের চর্বি কমায়।

অস্থির ভাব দূর করে : ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়।

রোগ প্রতিরোধ করে : কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক যে কোনো অসুখের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

জ্বালাপোড়া দূর করে : সালফার নামক খাদ্য উপাদান থাকে এই ছোলাতে। সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমায়।

মেরুদণ্ডের ব্যথা দূর করে : এছাড়াও এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা কমায়। ছোলা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। এতে আমিষ মাংস বা মাছের পরিমাণের প্রায় সমান। তাই খাদ্যতালিকায় ছোলা থাকলে মাছ মাংসের প্রয়োজন পরে না। ত্বকে আনে মসৃণতা। কাঁচা ছোলা ভীষণ উপকারী। তবে ছোলার ডালের তৈরি ভাজা-পোড়া খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। তাই হজমশক্তি বুঝে ছোলা হোক পরিবারের শক্তি।

মুখে ব্রণের দাগ? জেনে নিন দূর করার উপায়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : শারীরিক সৌন্দর্যের কারণে আলাদা করেই সবার নজর কাড়ে সুন্দরী রমনী। কিন্তু ব্রণ চলে যাবার পরে তার দাগ যেন নাছোড়বান্দা। সেই দাগ তাড়াতে কত কী ক্রিম কেনা হলো, এমনকি ছুটলো পার্লারেও। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না।

অনুসূয়ার মতো এমন সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। কিন্তু ত্বকের এই নাছোড়বান্দা দাগ তাড়াতে কাজে লাগাতে পারেন ঘরোয়া কিছু উপায়। নিয়মিত কিছুদিন ব্যবহার করলেই দাগ উধাও হয়ে যাবে।

অ্যালো ভেরা জেল
অ্যালো ভেরার পাতা কেটে চামচ দিয়ে জেলটা বের করে নিন। ভালো করে ঘেঁটে পাতলা করে নিন। এবার মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছে তারপর জেলটা দাগের উপর আলতো করে লেপে দিন। আপনার কাজ শেষ। জেলটা ধীরে ধীরে ত্বকে শুষে যাবে। পরপর কয়েকদিন দুই-তিনবার করে লাগালেই দেখবেন দাগ ফিকে হয়ে আসছে।

লেবুর রস
একচামচ টাটকা পাতিলেবুর রস লাগবে। মুখ পরিষ্কার করে নিয়ে পাতিলেবুর রসে তুলো ডুবিয়ে দাগের উপর লাগান। দশ মিনিট রেখে কোমল ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। লেবুর স্বাভাবিক ব্লিচিং গুণ দাগ তুলে দেবে, ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতেও সাহায্য করবে যাতে দাগ হালকা হয়ে যাবে।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার
এক চাচামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার আর এক চা চামচ পানি একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। তুলোয় করে মিশ্রণটা নিয়ে পরিষ্কার মুখে দাগের উপর লাগান। মিনিট দশেকের মধ্যেই শুকিয়ে যাবে। তখন আর একবার মুখ ধুয়ে নিন। প্রতিদিন লাগাতে হবে।

নারিকেল তেল
এক চাচামচ কোল্ড-প্রেসড নারিকেল তেল হালকা গরম করে নিন। মুখ পরিষ্কার করে সারা মুখে মাসাজ করুন। তেলটা ধুয়ে ফেলবেন না, ত্বকে শুষে যেতে দিন। প্রতিদিন লাগালে নারিকেল তেল স্কার টিস্যু নিরাময় করে দাগ মিলিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন। এবার গরম পানিতে তোয়ালে ডুবিয়ে নিংড়ে নিয়ে সেই তোয়ালে মুখের উপর কয়েক মিনিট চেপে ধরে থাকুন যাতে সব রোমছিদ্র খুলে যায়। এরপর মুখে মধু লাগিয়ে দশ মিনিট রাখুন। দশ মিনিট পর বরফঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। প্রতিদিন লাগাতে হবে।

গরমে অসুস্থতা থেকে রক্ষা পেতে যা জানা জরুরি
                                  

বৈশাখ মাস শুরু হতে না হতেই বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। বুধবার দুপুর দুইটায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যদিও আর্দ্রতার কারণে বাস্তবে গরম ছিল আরো বেশি।

মঙ্গলবার ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি।

আবহাওয়া দপ্তর বলছে, ১৮ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে কী করতে হবে?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসক ডা. বেনজীর আহমেদ বলছেন, গরমের সময় শুধুমাত্র সতর্ক থেকে অনেক বিপদ এড়ানোর যেতে পারে।

তিনি এজন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:

সূর্যের আলো এড়িয়ে চলা
সকাল ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত রোদের তীব্রতা বেশি থাকে। এ সময় জরুরি কাজ না থাকলে বাইরে বের না হওয়াটাই ভালো।

ছাতা ব্যবহার
বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করা, যাতে সরাসরি রোদের মধ্যে থাকতে না হয়। এ সময় চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপও ব্যবহার করা যেতে পারে।

মি. আহমেদ বলছেন, যারা মাঠেঘাটে কাজ করেন, তারা মাথায় `মাথাল` জাতীয় টুপি ব্যবহার করতে পারবেন, যা তাদের রোদ থেকে রক্ষা করবে।

বেশি করে পানি পান করা
গরমে ঘাম হয়ে শরীর থেকে প্রচুর পরিষ্কার পানি বের হয়ে যায়, তখন ইলেট্রোলাইট ইমব্যালান্স তৈরি হতে পারে। এ কারণে এই সময়টাতে প্রচুর পানি পান করতে হবে।

লবণ মিশিয়ে পানি পান করতে পারলে আরো ভালো। ফলের জুস খাওয়া শরীরের জন্য ভালো, তবে এ জাতীয় জুস খাওয়ার সময় দেখে নিতে হবে সেটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত পানি দিয়ে তৈরি কিনা। খোলা, পথের পাশের দুষিত পানি বা সরবত এড়িয়ে চলতে হবে।

সূতির কাপড় পরতে হবে
গরমের এই সময়টায় জিন্স বা মোটা কাপড় না পরে সুতির নরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে। এ ধরণের কাপড়ে অতিরিক্ত ঘাম হবে না এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করবে। গরমের সময় কালো বা গাঢ় রঙের কাপড় এগিয়ে সাদা বা হালকা রঙের কাপর পরিধান করা ভালো, কারণ হালকা কাপড় তাপ শোষণ করে কম।

সঠিক জুতা নির্বাচন
গরমের সময় খোলামেলা জুতা পরা উচিত, যাতে পায়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। কাপড় বা সিনথেটিকে বাদ দিয়ে চামড়ার জুতা হলে ভালো, কারণ এতে গরম কম লাগে। সম্ভব হলে মোজা এড়িয়ে চলা যেতে পারে।

ভারী ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন
এ জাতীয় খাবার হজম করতে সময় বেশি লাগে। ফলে সেটি শরীরের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে এবং শরীরের উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সেটি আরো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

খাবারের মেন্যু থেকে গরমের সময় তেলযুক্ত খাবার, মাংস, বিরিয়ানি, ফাস্টফুড ইত্যাদি বাদ দেয়া যেতে পারে। বরং শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খাওয়া যেতে পারে।

পুরনো বা বাসী খাবার না খাওয়া

গরমে খাবার-দাবার তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাসী খাবার বা আগের দিন রান্না করা খাবার খাওয়ার আগে দেখে নিতে হবে যে, সেটি নষ্ট কিনা। এ জাতীয় খাবার খেলে ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানাসহ পেটের অসুখ হতে পারে।

ঘরে পানি ভর্তি বালতি রাখা
এসি না থাকলেও সমস্যা নেই। ঘরের ভেতর ফ্যানের নীচে একটি পানি ভর্তি বালতি রাখুন, যা ঘরকে খানিকটা ঠাণ্ডা করে তুলবে।

হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা
প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে।

ফলে মাংসপেশি ব্যথা, দুর্বল লাগা ও প্রচণ্ড পিপাসা হওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব ইত্যাদি লক্ষণ দেখা গেলে প্রেশার পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রতিদিন অবশ্যই গোসল করা
গরমের সময় প্রতিদিন অবশ্যই গোসল করতে হবে, যা শরীর ঠাণ্ডা রাখবে। দিনে একাধিকবার হাত, মুখ, পায়ে পানি দিয়ে ধুতে পারলে ভালো।

বাইরে বের হলে একটি রুমাল ভিজিয়ে সঙ্গে রাখতে হবে, যা দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর মুখ মুছে নেয়া যাবে।

বিবিসি বাংলা

বেলের কিছু উপকারিতা
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : গোলগাল নিরীহ দেখতে একটি ফল। কাঁচা থাকতে সবুজ আর পাকলে হলদেটে। শক্ত খোসার এই ফলটি উপকারী ফল হিসেবে বেশ পরিচিত। এই ফলের গাছের নিচে ন্যাড়া নাকি একবারই যায়! ঠিক ধরেছেন! বলছি বেলের কথা। বেলে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান ছাড়াও আছে আরও অনেক পুষ্টিগুণ। ১০০ গ্রাম বেলে রয়েছে পাবেন ১.৮ গ্রাম প্রোটিন, ৩১.৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৩ গ্রাম ফ্যাট, ৫৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ, ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ৮৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৬০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম।

কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়
বেল মল পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। নিয়মিত রোজ টানা ৩ মাস যদি আপনি বেলের শরবত খেতে পারেন তাহলে আপনার মল আর কঠিন থাকবে না। কোষ্ঠকাঠিন্য আর হবে না। পাকা বেলের শাঁস বের করে চিনি আর পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে খান।

ডায়েরিয়া কমায়
কাঁচা বেল ডায়েরিয়ার জন্য অব্যর্থ ওষুধ। যদি অনেক দিন ধরে আপনি এই সমস্যায় ভোগেন তাহলে বেল খান। কাঁচা বেল স্লাইস করে কেটে রোদে শুকিয়ে নিন। তারপর তা গুঁড়া করে নিন আর এই গুঁড়া ১ চামচ নিয়ে ব্রাউন সুগার আর গরম পানিতে মিশিয়ে খান। দিনে দুই বার খেতে হবে এই পানি। আর ফল পেতে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।

পেপটিক আলসারের ওষুধ
পাকা বেলের শাঁসে সেই ফাইবার আছে যা আলসার উপশমে সাহায্য করে। সপ্তাহে তিন দিন বেলের শরবত করে খান আলসার কমাতে। এছাড়া বেলের পাতা সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সেই পানি খেলেও কিন্তু অনেক কমে যায় আলসার।

ডায়াবেটিস কমায়
পাকা বেলে আছে মেথানল নামের একটি উপাদান যা ব্লাড সুগার কমাতে কাজ করে। তবে ভালো ফল পেতে পাকা বেল শরবত করে নয়, এমনিই খেতে হবে।

যক্ষ্মা কমায়
পাকা বেলে আছে অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল উপাদান, যা যক্ষ্মা কমাতে সাহায্য করে। তবে ভালো ফল পেতে আপনাকে ব্রাউন সুগারের সঙ্গে বা মধু দিয়ে বেলের শরবত করে রাতে খেতে হবে শুতে যাওয়ার আগে। এটি টানা চল্লিশ দিন খান। উপকার পাবেন।

ক্যান্সার দূরে রাখে
বেলে আছে অ্যান্টি প্রলেফিরেটিভ ও অ্যান্টি মুটাজেন উপাদান। এই উপাদান টিউমার হতে দেয় না সহজে। আর যেহেতু এই ফলে হাই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান আছে তাই ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

ম্যালেরিয়া কমায়
ম্যালেরিয়া হলে কাঁচা বেল নিয়ে গুঁড়া করে নিন। এবার ১ চামচ এই বেল গুঁড়া নিয়ে তার সঙ্গে তুলসির রস নিন। সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন দিনে দুইবার। এটি কিন্তু অসাধারণ উপকার করে।

রক্ত শুদ্ধ করে
রক্তের মাধ্যমেই পুষ্টিগুণ আমাদের শরীরের সব অংশে পরিবাহিত হয়। তাই রক্তের শুদ্ধ থাকাটা খুব দরকার। বেল এই রক্ত শুদ্ধ করতে খুব ভালো কাজ দেয়। খানিকটা পাকা বেলের রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে খেলে এটি রক্ত শুদ্ধ করে। ট্যান দূর করে। শুধু রক্ত নয়, কিডনি ও লিভারের কাজও ঠিক করে।

লিভারের যত্ন
বেল বিটা ক্যারোটিনের সমৃদ্ধ উৎস। আর বিটা ক্যারোটিন হল লিভার ভালো রাখার অন্যতম মূল চাবিকাঠি। বেলে আছে থিয়ামিন আর রাইবোফ্লেভিন। এই দুই উপাদানই লিভারের শক্তি বাড়ায় খুব ভালোভাবে।

ব্লাড প্রেসার কমায়
বেল আপনার ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখবে। সাধারণ যেমন বেলের শরবত খান সেভাবে খেলেই হবে। মিষ্টি এই শরবত কিন্তু আপনার এই চাপ থেকে আপনাকে অনেক দূরে রাখবে।

আমাশয় কমায়
আমাশয় হলে কচি বেল টুকরো করে কেটে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত। সেই পানি পরের দিন ছেঁকে নিয়ে খান। দেখবেন এতে খুব ভালো ফল পাবেন।

রাতে দেরি করে খেলে যেসব অসুখের সম্ভাবনা থাকে
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সারাদিনের ব্যস্ততার পরে সন্ধ্যা হলেই যেন ক্লান্তি ঘিরে ধরে। বাসায় ফিরে বিছানায় গা এলিয়ে একটু গড়াগড়ি, আলসেমি, বাসার কাজ করতে করতেই কখন সময় গড়িয়ে যায়, টেরও পাওয়া যায় না। নাগরিক জীবনে নানা অভ্যাসের কারণে তাই রাতের খাবারটা দেরি করে খাওয়ার রীতি গড়ে ওঠে।

কিন্তু জীবনযাপনের এই ধারাই আমাদের কত বড় বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছি না। এই অভ্যাসের কারণে শরীরে বাসা বাধছে ভয়ানক সব অসুখ। বদহজম, গ্যাস্ট্রিক তো আছেই, তাছাড়াও নানা জটিল অসুখের শিকার হতে পারেন এই কারণে।

বিভিন্ন দেশের গবেষণা ও চিকিৎসকদের পরামর্শ ইঙ্গিত বলে দিচ্ছে, এমন অভ্যাসে ভালো নেই আপনার শরীর। দূরারোগ্য ব্যাধিও দূরে নেই।

বিখ্যাত জার্নাল ‘অ্যাডভান্সেস ইন নিউট্রিশন’-এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একদল চিকিৎসক দাবি করেছেন, বেশি রাতে মশলাযুক্ত খাবার খেলে টাইপ ২ ডায়াবিটিসের সম্ভাবনা বহুলাংশে বাড়ে।

পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিন’-এর চিকিৎসকেরা দেখিয়েছেন, বেশি রাতে খাওয়ার ফলেই বেড়ে যায় কোলেস্টরেলের মাত্রা। ফলে কয়েক গুণ বেড়ে যায় হার্টের অসুখের আশঙ্কা। এমনকি, ঘুমের মধ্যে যে কোনো সময় হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে দীর্ঘ দিন বেশি রাতে খাওয়ার ফলে স্মৃতিজনিত সমস্যাও হতে পারে।

ক্লান্ত শরীরে মানুষের খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যায়। বেশি রাতে, ক্লান্ত শরীরে যারা খান, তারা স্বাভাবিকের থেকে ৩১৫ ক্যালোরি বেশি খেয়ে ফেলেন। ঘুমের দফারফা তো বটেই। এর ফলে ক্যালোরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমেরও দফারফা হয়। লাগামছাড়া ভাবে বাড়তে থাকে ওজন।

বেশি রাতে খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা অবধারিত। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস ডেকে আনে আলসারের মতো রোগ।

বৈশাখে কী খাবেন?
                                  

বর্ষবরণের দিনটি বিভিন্ন দেশীয় খাবার থাকে আমাদের আয়োজনে। ভোরবেলা নানারকম ভর্তা আর মাছ ভাজা দিয়ে পান্তা খাওয়া, সেইসঙ্গে নানা মিষ্টান্ন, মুড়ি-মুড়কি, নাড়ু তো রয়েছেই। অন্যান্য উৎসবের মতোই এই দিনটিতেও নতুন পোশাক পরার, ব্যতিক্রম খাবারের আয়োজন করার ট্রেন্ড গড়ে উঠছে। চলুন জেনে নেয়া যাক বৈশাখে কেমন খাবার খাবেন, কিভাবে খাবার ঘর সাজাবেন-

কেমন হবে বৈশাখের খাবার
বৈশাখে হরেকরকম ভর্তা আর মাছ ভাজা দিয়ে পান্তার পাশাপাশি কাঁচা আমের জুস, মাঠা, লাচ্ছি, বাঙ্গির শরবত, তরমুজের জুস খেতে পারেন। এই জাতীয় তরল দেহের তরলের চাহিদা মেটায়। দইয়ের লাচ্ছি বা মাঠা তারল্যের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেহে ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।

বাইরের খোলা খাবার, বাইরের জুস, কোমল পানীয়, কড়া চা ও কফি, আইসক্রিম ইত্যাদি এড়িয়ে চলা উচিত। বাইরের জুসে যে পানি মেশানো হয়, তা থেকে অনেক পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা থাকে। বাইরের আচার, চাটনি, মুরালি ইত্যাদিতে অনেক রঙের ব্যবহার হয়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

সবজির আচারি খিচুড়ি
উপকরণ: তেল ১/২ কাপ, রসুন কুঁচি ৩ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুঁচি ৩ টেবিল চামচ, শুকনো মরিচ ৪-৫ টি, পাঁচ ফোড়ন ১ টেবিল চামচ (আস্ত), হলুদ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, পানি(সামান্য), লবণ স্বাদমতো, পেঁপে ১/২ কাপ (কিউব করে কাটা), বরবটি ১/২ কাপ, গাজর ১/২ কাপ (কিউব করে কাটা), ফুলকপি ১/২ কাপ, নাজিরশাইল চাল ১/২ কেজি, ডাল ১ কাপ, টক মিষ্টি আমের আঁচার ১ কাপ।

প্রণালি: প্রথমে তেল গরম করে রসুন কুঁচি, পেঁয়াজ কুঁচি, শুকনো মরিচ, পাঁচ ফোড়ন দিয়ে বাদামি করে ভেঁজে নিতে হবে। এবার হলুদ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, আদা বাটা ও সামান্য পানি দিয়ে মশলা ভালোমত কষিয়ে স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিতে হবে। এরপর পেঁপে, বরবটি, গাজর, ফুলকপি দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করে নিতে হবে। এরপর আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে পানি ঝরিয়ে রাখা নাজিরশাইল চাল, ডাল দিয়ে ভালো মতো কষিয়ে এবং পরিমান মতো পানি দিয়ে ২০ মিনিট ঢেকে দিয়ে ভালোভাবে রান্না করে নিতে হবে। রান্না হয়ে গেলে টক মিষ্টি আমের আঁচার দিয়ে পুরো খিচুড়িটি ভালোভাবে নেড়ে মিলিয়ে নিলেই হয়ে যাবে মজাদার সবজির আচারি খিচুড়ি।

কাচকি মাছ ভর্তা
উপকরণ: কাচকি মাছ এক কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি ১ টেবিল চামচ, রসুন কুচি ২ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৪টি, ধনেপাতা কুঁচি ১ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো।

প্রণালি: কাচকি মাছ ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। কাচকি মাছ, পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, কাঁচামরিচ অল্প তেলে কড়াইতে হালকাভাবে ভাজুন। ভাজা হলে লবণ ও ধনেপাতা দিয়ে পাটায় বেটে ভর্তা তৈরি করুন।

কেমন হবে পহেলা বৈশাখের সাজ
                                  

পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব। বিশ্বজুড়ে কোটি বাঙালি এই দিনটি উৎসবে-আনন্দে পালন করেন। বর্ষবরণের রীতি প্রায় সব দেশেই রয়েছে। আমাদের দেশেও এ রীতি বেশ পুরনো। তবে আগে এ উৎসব গ্রামকেন্দ্রিক হলেও বিগত একযুগেরও বেশি সময় ধরে শহরেও পালন করা হচ্ছে বর্ষবরণ। সবাই আনন্দ নিয়ে বরণ করে নেয় বাংলা নববর্ষকে। সাজ এবং পোশাকে নিজেকে অনন্য করে তুলতে চান সব ফ্যাশনপ্রেমী মানুষই। চলুন জেনে নেই কেমন হবে বৈশাখের সাজ-পোশাক-

পোশাক
বৈশাখি পোশাকে কাপড় হিসেবে বেছে নিন কটন, এন্ডিকটন, ভয়েল কিংবা লিলেনের মতো কাপড়। রঙের ক্ষেত্রে বৈশাখ মানেই লাল-সাদা। অন্যান্য রং যে পরা যাবে না, এমন নয়। তাই লাল-সাদার পাশাপাশি হলুদ, লেমন, পার্পেল, বাসন্তির মতো রংও বেছে নিতে পারেন। শাড়ি যদি একদমই সামলে না রাখতে পারেন তবে কামিজ কিংবা কুর্তিও পরতে পারেন।

মেকআপ
এ সময় গরম যেহেতু বেশি থাকে, তাই ভারী সাজ না দিয়ে হালকা সাজ দেয়া ভালো। চোখের শ্যাডো হালকা ব্রাউনিশ বা গ্রিনিশ থাকবে। আইব্রো টাচআপ অবশ্যই দেবেন। আমরা অনেক সময় এটি দিতে ভুলে যাই। চোখে কাজল, আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন। এরপর আইল্যাশ লাগাবেন। লিপস্টিকের ক্ষেত্রে লাল রং বেছে নিতে পারেন। আই মেকআপ হালকা নিতে পারেন।

চুলের সাজ
চুল না ছেড়ে হালকা বেঁধে দিতে পারেন। করতে পারেন সাধারণ বেণী বা ফ্রেঞ্চ বেণী। আবার সামনে একটু মেসি স্টাইল করে, পেছনটা খোঁপা করা যেতে পারে। সামনের দিকে ফ্রেন্স বেণী করে পেছনে খোঁপাও করা যেতে পারে। মাঝখানে একটি সিঁথি করে খোঁপা করতে পারেন। খোঁপা বা বেণীতে ফুল লাগাতে ভুলবেন না যেন।

গয়না
বৈশাখে শাড়ির সঙ্গে মাটির গয়না বেছে নেয়া ভালো। মাটির মালা হতে হবে লম্বা। আবার কাঠ, রুপা, মুক্তা বা তামার মালা পরতে পারেন। ভারী গয়না পরতে না চাইলে ফুলের মালা বেছে নিন। বাঙালি নারী গয়না না পরলেও দু’হাত ভর্তি চুড়ি সাজ পূর্ণ করে দেয়। শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে রেশমি চুড়ি পরতে পারেন। মাটির বা কাঠের চুড়িও কিন্তু বেশ মানিয়ে যায়।

বয়স ধরে রাখবে যেসব খাবার
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সময়ের সাথে সাথে চেহারায় বয়সের ছাপ পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিক বিষয়টিই মেনে নিতে কষ্ট হয় আমাদের। ত্বকে বলিরেখা কিংবা মাথায় পাকা চুলের দেখা পেলে আয়নার সামনে দাঁড়াতে ইচ্ছে হয় না আর। আমাদের ত্বকে আর চুলেই বয়সের ছাপ সবচেয়ে আগে পড়ে। তবে এমনকিছু খাবার আর পানীয় আছে যেগুলোনিয়মিত খেলে চেহারায় দীর্ঘদিন পর্যন্ত বয়সের ছাপ পড়বে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

পঁয়ত্রিশ পেরোলেই হাড় দুর্বল হতে থাকে। বাত বা অস্টিওপরেসিসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাতে চেহারায় ‘বুড়োটে’ ছাপ পড়ে যায়। এই সমস্যা ঠেকাতে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান হল ক্যালসিয়াম। আর টক দইয়ের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। তাই হাড় সুস্থ রাখতে প্রতিদিন পাতে রাখুন ১ বাটি টক দই।

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে তার ডিটক্সিফিকেশন অত্যন্ত জরুরি। ব্রকোলিতে রয়েছে এমন অনেক উপাদান যা শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে কোষকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন পাতে রাখুন ব্রকোলি। উপকার পাবেন।

চেহারার তারুণ্য ধরে রাখতে বাদামের জুড়ি মেলা ভার। বাদাম, বিশেষ করে আখরোটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা ত্বককে মসৃণ করে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে তোলে। আখরোটে কোলেস্টেরলের মাত্রা একেবারে সামান্যই থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন যে কোনো বাদাম।

অলিভ অয়েল ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং একই সঙ্গে যে কোনো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন। তাছাড়া ১ চামচ অলিভ অয়েল নিয়ে প্রতিদিন অন্তত দু’বার করে ত্বকে মালিশ করুন। উপকার পাবেন।

টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপেন। এই লাইকোপেন এমন একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা বিভিন্ন চর্মরোগ প্রতিরোধ করতে খুবই কার্যকর। এটি ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক থাকে উজ্জ্বল।

পালং শাকে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়েম, ফাইবার, ভিটামিন আর মিনারেল (খনিজ)। এই শাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেণ্ট রয়েছে যা শরীরের ‘ফ্রি র্যাডিকেল’ ধ্বংস করে দিয়ে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

হলুদে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আর অ্যান্টি ইনফ্লামমেটরি উপাদান যা আমাদের হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এরই সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের শুষ্কতা দূর করে তাকে করে তোলে উজ্জ্বল, দীপ্তিময়।

ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে ডালিম অত্যন্ত উপকারী একটি উপাদান। ডালিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ত্বকের নমনীয়তা বজায় রেখে তাকে টানটান রাখতে সাহায্য করে। তাই দিন শুরু করুন ১ গ্লাস ডালিমের রস খেয়ে।


   Page 1 of 10
     লাইফস্টাইল
যে পাঁচটি বিষয় নিয়ে পুরুষরা কথা বলে না
.............................................................................................
টাক পড়া বন্ধে যা খাবেন
.............................................................................................
ইফতারে পান করুন লেবুর শরবত
.............................................................................................
গরমে ডাবের পানি কেন খাবেন?
.............................................................................................
রোজায় খেজুর খাবেন যে কারণে
.............................................................................................
ঝড়-বৃষ্টিতে ত্বকে যেসব সমস্যা হতে পারে
.............................................................................................
হাঁটুর সুস্থতায় যা করবেন
.............................................................................................
গরমে সুস্থ থাকতে ১০ পরামর্শ
.............................................................................................
সকালে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা
.............................................................................................
মুখে ব্রণের দাগ? জেনে নিন দূর করার উপায়
.............................................................................................
গরমে অসুস্থতা থেকে রক্ষা পেতে যা জানা জরুরি
.............................................................................................
বেলের কিছু উপকারিতা
.............................................................................................
রাতে দেরি করে খেলে যেসব অসুখের সম্ভাবনা থাকে
.............................................................................................
বৈশাখে কী খাবেন?
.............................................................................................
কেমন হবে পহেলা বৈশাখের সাজ
.............................................................................................
বয়স ধরে রাখবে যেসব খাবার
.............................................................................................
ওজন কমাতে প্রতিদিন একটি কলা
.............................................................................................
মেদ বাড়ার ৫ কারণ
.............................................................................................
ব্লিচ ছাড়াই কাপড় সাদা করতে. . .
.............................................................................................
গরমে মাথা ব্যথা কমাতে যা করবেন...
.............................................................................................
বরফের ৫ ব্যবহার, যা আপনার জানা প্রয়োজন
.............................................................................................
অতিরিক্ত ঘাম থেকে মুক্তি পেতে . . .
.............................................................................................
ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে...
.............................................................................................
ছারপোকা ও তেলাপোকা থেকে বাঁচতে বেকিং সোডা
.............................................................................................
কোমর ব্যথা তৈরি করে যে ৫টি অভ্যাস
.............................................................................................
কিডনি সুস্থ রাখতে যা খাবেন, যা খাবেন না
.............................................................................................
শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় চিরতা
.............................................................................................
গোলমরিচের যত গুণাগুণ!
.............................................................................................
ত্বক ফর্সা করুন ৫ উপায়ে
.............................................................................................
চুল পড়া বন্ধে যা করবেন
.............................................................................................
যে ৫ কারণে স্ট্রবেরি খাবেন
.............................................................................................
ত্বক ভালো রাখতে ফলের রস
.............................................................................................
দাঁড়িয়ে পানি পান স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়
.............................................................................................
ফাগুনের সাজ
.............................................................................................
ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল দূর করুন
.............................................................................................
সকালে খালি পেটে পানি পানের সুফল
.............................................................................................
খেজুরের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
.............................................................................................
মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস নয়!
.............................................................................................
জেনে নিন হলুদের উপকারিতা
.............................................................................................
নাক ডাকার সমস্যা দূর করবে যে পানীয়
.............................................................................................
বালিশের নিচে রসুন রাখলে কী হয়?
.............................................................................................
নতুন বছরে সম্পর্কে আনুন নতুনত্ব
.............................................................................................
‘নারী-পুরুষের সম্মতির ভিত্তিতে শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণ নয়’
.............................................................................................
‘মাইক্রো চিটিং’ করছে না তো প্রিয় মানুষটি !
.............................................................................................
চাকরি যেভাবে ত্বকের বয়স বৃদ্ধির কারণ
.............................................................................................
তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছলে যেসব ক্ষতি হয়
.............................................................................................
দাম্পত্য জীবন সুন্দর রাখার উপায়
.............................................................................................
শীতেও থাকুন ফ্যাশনেবল
.............................................................................................
শিশুর যত সুন্দর নাম
.............................................................................................
সারাদিন ক্লান্তিহীন থাকতে যা করবেন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]