| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * জাতিসংঘের সভাপতি পদে নির্বাচন করবে বাংলাদেশ   * ১০০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ায় মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন   * দুই ক্যাচ মিসে হতাশার হার বাংলাদেশের   * কলকাতা প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টারের উদ্বোধন ২৮ অক্টোবর   * ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী   * আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়েছে, দায় এড়াতে পারে না সামাজিক মাধ্যম : তথ্যমন্ত্রী   * সমুদ্র অর্থনীতির অমিত সম্ভাবনা, দরকার সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন   * সীমান্ত সুরক্ষায় আরও কঠোর আইন চীনের   * ত্রিপুরার পৌর-পঞ্চায়েত নির্বাচনে সব কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে তৃণমূল   * ফেনীতে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু  

   কৃষি সংবাদ
  মাল্টা চাষে ভাগ্য খুলছে অনেকের
 

অনলাইন প্রতিবেদন : নরসিংদীতে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে মাল্টা চাষ। বিদেশি এই ফল চাষে ভাগ্য খুলছে অনেকের। তবে এই ফল ইউরোপের গন্ডি পেরিয়ে চাষ হচ্ছে নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায়। হেক্টর প্রতি এক লাখের বেশি করে অর্থ উপার্জন হচ্ছে এই মাল্টা চাষে। অল্প পুঁজিতে লাভ অধিক লাভজনক হওয়ায় মাল্টার বাণিজ্যিক আবাদের দিকে ঝুঁকছে বেকার যুবক ও কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নরসিংদীতে লেবুজাতীয় ফলগুলো ভালো ফলন হয়। এই মাটি লেবু জাতীয় ফসলের জন্য উপযোগী। সেই চিন্তা ভাবনা থেকে ২০১১ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে ২০১৩ সালে সাফল্য পেয়ে ২০১৬ সাল থেকে প্রথম মাল্টা আবাদ শুরু হয়েছে। এই এলাকায় বারি মাল্টা-১ চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। খরচ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় ফলটি অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টা চারা রোপন করে একটানা ২০ বছর ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটা গাছ থেকে প্রথম বছর ১০ থেকে ২০ কেজি হারে ফল পাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় বছর থেকে গড়ে এক মণের বেশি ফল সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত চারা রোপণের দুই বছর পর গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়।


জেলায় এ বছর ৫৩ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে শিবপুর, রায়পুরা, বেলাবো ও মনোহরদী এই চার উপজেলায় মাল্টার ভালো ফলন পাচ্ছে চাষিরা। আগামীতে মাল্টা চাষের আরও পরিধি বাড়াতে উপজেলা কৃষি অফিস ও নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস মনিটরিং ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন মাল্টা চাষিদের ।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সাইট্রাস ফসলের মধ্যে মাল্টা অন্যতম জনপ্রিয় ফল। বিশ্বের সর্বমোট উৎপাদিত সাইট্রাস ফসলের দুই তৃতীয়াংশ হলো মাল্টা। ভিয়েতনাম, উত্তর পশ্চিম ভারত ও দক্ষিণ চীন মাল্টার আদি উৎপত্তি স্থল। তবে বর্তমানে এই ফলটি বিশ্বের উষ্ণ ও অব–উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকায় বেশি চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশে এই ফলটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং দিন দিন এর চাষ বেড়ে চলছে। কমলার তুলনায় এর অভিযোজন ক্ষমতা বেশি হওয়ায়, পাহাড়ি এলাকার ফলটি বর্তমানে নরসিংদী লাল মাটি এলাকায় সহজেই চাষ করা যাচ্ছে। এখানকার কৃষকরা মাল্টা চাষ করে সফল হচ্ছেন। এই এলাকার মাল্টা মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়ে থাকে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের বিরাজনগর গ্রামের কৃষক ইউসুফ মিয়ার বাগানে একশ গাছে ঝুলছে মাল্টা।

কৃষক ইউসুফ মিয়া বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর সৌদি আরবে ছিলেন। ২০১৭ সালে প্রবাস থেকে দেশে এসে বেকার হয়ে পড়েন। তখন তিনি নিজের জমিতে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৪০ শতক জমিতে ১০০ মাল্টার চারা লাগান।

তিনি আরও বলেন, প্রথম বছরে অল্প ফলন আসলেও বর্তমানে প্রতিটি মাল্টা গাছে ২৫০ থেকে ৩০০টি করে মাল্টার ফলন ধরেছে। বাগানের মাল্টার উপযোগী ফলন আনতে প্রতিটি গাছের পিছনে দিয়েছেন বাড়তি পরিচর্যা। বাগান করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। এই বছর ইতিমধ্যে তার এ বাগান থেকে ৪০থেকে ৪৫ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রিও করেছেন এবং আরও ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। তার এই বাগান দেখে স্থানীয় অনেক কৃষক মাল্টা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বলে জানান তিনি।

মাল্টা চাষি ফোরকান আহমেদ বলেন, এক সময় বেকার ছিলাম, সবার দেখাদেখি আমি আমার বাড়িতে মাল্টা চাষ করেছি। মাল্টা চাষ করে অনেক লাভবান ও স্বাবলম্বী হচ্ছি। যদি আমার মতো আশেপাশে যারা বেকার রয়েছে তারা সকলে যদি অল্প অল্প করে মাল্টা চাষ করে তাহলে আমাদের দেশে যে বেকারত্ব রয়েছে তা একটু হলেও ঘুচবে। সবাই যদি মাল্টা চাষের প্রতি আগ্রহী হই তাহলে বিদেশি মাল্টা আর আমদানি করতে হবে না। আমাদের দেশের সবুজ মাল্টা দিয়ে একদিন চাহিদা মেটানো যাবে।

মাল্টা চাষি মো. আবুল হোসেন বলেন, আমার বাগানে

১২০টা মাল্টার গাছ আছে। এই বাগান করতে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রথম বছর যখন ফল আসে তখন ১৫ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করি। এবার বাগানে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। আশা করি এবার ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি করতে পারবো। এই মাল্টা চাষ করে আমরা অনেক লাভবান। বাজারে এই ফল ১৮০ টাকা করে বিক্রি করে। অনেক পাইকার ফল কেনার জন্য যোগাযোগ করে বাগানে এসে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা করে ক্রয় করেন।

মাল্টা চাষি নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, আমার বাগানে মাল্টা ৫ থেকে ৬টায় এক কেজি হয়। একটা গাছে ২৫০ থেকে ৩০০ মাল্টা আসে। এই ফল ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা করে বিক্রি করা যায়।

আমাদেরকে বাজারে যেতে হয় না। বেপারীরা বাড়ি থেকে ফল কিনে নিয়ে যায়।

মাল্টা চাষি মো. সুলতান মিয়া বলেন, হলুদ মাল্টা একটা বিদেশি ফল। এই মাল্টায় বিষাক্ত ঔষধ দেওয়া হয়। আমাদের দেশের সবুজ মাল্টা যখন খাওয়ার উপযুক্ত হয় তখন আমরা কোন বিষাক্ত ঔষধ দিই না। এই জন্য সবুজ মাল্টা খুব চাহিদা। নরসিংদীর আশেপাশে জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে পাইকাররা বাগানে এসে ফল কিনে নেয়।

এই মাল্টা সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় চাহিদা অনেক ভাল এবং পরিশ্রম কম। অল্প খরচ হওয়ায় আমরা খুব লাভবান। এই মিলে যদি বাগানে ফলন আসে তাহলে আগামীতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাহিরেও দিতে পারবো।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রশিদ বলেন, নরসিংদীতে এই মৌসুমে ৫৩ হেক্টর জমিতে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ করা হচ্ছে।

শিবপুর, রায়পুরা, বেলাবো ও মনোহরদী এই চার উপজেলায় মাল্টার ভালো ফলন পাচ্ছে চাষীরা। আমরা ভিয়েতনাম জাতের একটা মাল্টা সারা বছর ফলন আসে। সেইটাও আমরা অনেক বাগানে রোপন করতে দিয়েছে যাতে সারা বছর উৎপাদন হয়। আর এই মাল্টা উৎপাদন হলে বিদেশ থেকে যে কোটি টাকার মাল্টা আমদানি করতে হয় সে আমদানি নির্ভর কমে আসবে। এছাড়া প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ১২ মেট্রিক টন ফল ওঠার আশা রাখছে কৃষিবিভাগ।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 103        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     কৃষি সংবাদ
মাল্টা চাষে ভাগ্য খুলছে অনেকের
.............................................................................................
রাজশাহীতে শুরু হয়েছে গাছ থেকে আম নামানো
.............................................................................................
কুড়িগ্রামে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষে তিন বন্ধুর সাফল্য
.............................................................................................
হলুদ তরমুজ চাষে সফল জহিরুল
.............................................................................................
সব ধানে চিটা, ১০ মিনিটের গরম বাতাসে সর্বনাশ
.............................................................................................
অপ্রচলিত ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সহযোগিতা করা হবে: কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
বগুড়ায় মরিচের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
পেঁয়াজের বিকল্প নিয়ে গবেষণায় সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানী
.............................................................................................
আলু চাষে ব্যস্ত নীলফামারীর কৃষকেরা
.............................................................................................
আশ্বিন মাসের কৃষি
.............................................................................................
নওগাঁয় আমের ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগান ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
বরগুনায় কাঁকড়া চাষ প্রসার লাভ করছে
.............................................................................................
গম চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি হিলির চাষিরা
.............................................................................................
যশোরের গদখালিতে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা
.............................................................................................
সীমান্ত এলাকায় গম চাষে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যৌথ গবেষণা কেন্দ্র চালু
.............................................................................................
দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলার ধানে `ব্লাস্টের সংক্রমণ`
.............................................................................................
হালদায় ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মাছ
.............................................................................................
এবার ধানে ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণ
.............................................................................................
ভোলায় যে কারণে অসময়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরমুজ
.............................................................................................
Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale
Digital Load Cell
Digital Indicator
Digital Score Board
Junction Box | Chequer Plate | Girder
Digital Scale | Digital Floor Scale

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop