মিয়া আবদুল হান্নান : দেখা যাবে সেটাই হবে। এই জন্য আজকে আমাদের উপর যে মামলা-হামলা, দেশব্যাপী ৫৫ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা। বিএনপি ও সব অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, এই মামলার বিষয়টা যদি আমরা দেখি। ওয়ান ইলেভেনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ১৫টি। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল ১২টি। একদিনে এক রাতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহার হয়ে গেল। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার হওয়া তো দূরের কথা, তাঁর বিরুদ্ধে এখন অর্ধশতাধিক মামলা বলবৎ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার অক্টোপাসের মতো মামলাগুলো দিয়েছে। তারা আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চারদিক থেকেই নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে।
এতে প্রমাণ হয় যে, একই দেশে দুই ধরনের নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। যার কারণে আমরা দেখছি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপর স্যাংশন আসছে। ইভেন সর্বশেষ যে স্যাংশনটা, আমি স্যাংশন বলবো এই জন্য যে, ভিসা নীতি কেন করা হয়েছে? আজকে যারা এই সরকারকে উলঙ্গভাবে সমর্থন করছে এবং ভোটারবিহীন নির্বাচন করার জন্য সেই সুযোগটা যাতে তারা না পায়, এই জন্যই তারা আজ যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ ভিসা নীতি চালু করেছে। এবং এই পর্যায়ে শুধু এটা নয়, র ্যাবের উপর স্যাংশন দিয়েছিল। কীভাবে তারা শত শত মানুষ গুম করেছিল। ইলিয়াস আলীর মতো নেতা, যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য তাঁকে গুম করা হয়েছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলর চৌধুরী আলমকে গুম করা হয়েছে। সুমনের মতো ছাত্র নেতাসহ শত শত ছাত্র নেতাকে গুম করে হত্যা করেছে। জনগণের জন্য আমরা যে আন্দোলন করছি, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো, লোডশেডিং বন্ধ ও দ্রব্যমূল্যের দাম কমানোর দাবিতে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জনতার ওপরও তারা গুলি চালাচ্ছে।
নুরে আলম ও ভোলার ছাত্র নেতা আব্দুর রহিম শহীদ হলেন। নারায়ণগঞ্জের শাওন প্রধান, মুন্সিগঞ্জের লাল মিয়াসহ অনেককে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড কেন? ভয়-ভীতি কেন? মামলা-হামলা কেন? একদলীয় শাসনের আবরণে দেশকে একটা দলের অধীনে রেখে আগামী সংসদ নির্বাচন করাই তাদের লক্ষ্য। জনগণের মতামতের কোনো মূল্য নেই। যার জন্য জনগণ আজ ফুঁসে উঠেছে। জনগণ আজ রাজপথে নেমেছে।
অতএব সেই ১৯৯০ সালে যেভাবে ছাত্র-জনগণের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন হয়েছিল, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছিল, ঠিক ২০২৩ সালে এমনি করে ছাত্র-জনতার এবং জনগণের মধ্যে গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে ইনশাল্লাহ। সেই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এটিই জনগণের আজ প্রত্যাশা। সেই লক্ষ্যেই আজ জনগণ মাসে নেমেছে, ঢাকাবাসী মাঠে নেমেছে। অতএব এর ব্যতিক্রম কিছু হবে না। যার জন্য অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া।
এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তা সুদূরপ্রসারী- দেশ যাবে কোন পথে, ফায়সালা হবে রাজপথে। বর্তমানে বিএনপি`র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় রাজপথের আন্দোলনকে নিশ্চিত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে রাজপথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপি`র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। রাজপথে ফায়সালা হয়েছিল `৫২-র ভাষা আন্দোলনে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিন রাজপথে সালাম, বরকত, রফিক এদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল মাতৃভাষার দাবি। `৬২-র শিক্ষা আন্দোলন। ওয়েজ উল্লাহ বাবুল, ছাত্র নেতা মতিউর তাদের রক্তের বিনিময়ে সফল হয়েছিল। এর পরবর্তীতে `৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। শহীদ আসাদের রক্তের বিনিময়ে গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছিল রাজপথে। `৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ সফল হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরোত্তমের ঘোষণার মধ্য দিয়ে। সশস্ত্র সংগ্রাম, লাখ লাখ জনতার রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন অনেক শহীদের রক্তের বিনিময়ে রাজপথে ফায়সালা হয়েছিল। আমরা গণতন্ত্র পেয়েছি। আজকেও ২০২৩ সালে এমনিভাবে এই সরকার ক্ষমতা ছাড়বে না। ফয়সালা হতে হবে রাজপথেই। ইতিমধ্যে ২০ জন নেতা শহীদ হয়েছেন। হয়তো আরো অনেকে হবেন, কিন্তু অবশেষে আন্দোলনই সফল হবে। আমরা সফলতার দ্বারপ্রান্তে আছি। ইনশাল্লাহ সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পাবে।
এই অর্থে বাংলাদেশের জনগণকে আজ আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হবে। আমাদের যে প্রত্যাশা তারা যেমন ওয়ান ইলেভেনে বিনা দোষে আমাদের জেলে নিয়ে গেছে। জেলে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়েছে। আলহাজ আমান উল্লাহ আমান বলেন, ২০০৭ সালে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, সাজা দিয়েছে। ২০১০ সালে আমার স্ত্রীকে এবং অনেককে হাইকোর্ট থেকে খালাস দিয়েছে। সেই মামলায় নতুন করে আবার আমাদের সাজা দিয়েছে। আমাদের আন্দোলন যাতে সফল না হয়, তড়িঘড়ি করে আমাদের বিরুদ্ধে সাজা দিয়েছে। পৃথিবী যদি সত্য হয়, আল্লাহ যদি সত্য হন, অবশ্যই আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা এই মিথ্যা মামলা থেকে মুক্ত হবো। এই মামলা-হামলা আল্লাহর তরফ থেকেই ফায়সালা হবে। তারাও জুলুমের প্রতিদান পাবে।
আন্দোলনের যে ধারাবাহিকতা আমাদের যে বক্তব্য, আমাদের সামনে এগোনোর পথ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্ধারণ করতে হবে। আমি ব্যক্তিজীবনে যত আন্দোলন করেছি, হারিনি। যতবার নির্বাচন করেছি, হারিনি। হলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন-চার বার এমপি হয়েছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে নয়। হারা কী জিনিস সেটা জনগণেরআমার জীবনে লেখা হয়নি। আমান উল্লাহ আমান আরও বলেন, আমি আশা করি আগামী দিনে সঠিকভাবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন হয়, তখনও আমি জনগণের ম্যান্ডেট পাবো ইনশাল্লাহ। এটা আমার প্রত্যাশা এবং সে অনুযায়ী আমি আমার কাজ চালিয়ে যাবো।।
ব্যক্তিজীবনে ছোটবেলা থেকে যেভাবে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি, সেটা অব্যাহত আছে এবং অব্যাহত থাকবে মৃত্যুর আগপর্যন্ত। এবং যে দল দিয়ে আমি রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সর্বশেষ মৃত্যুর কফিনে যেন বিএনপির পতাকাটা থাকে, সেই রাজনীতি করে যাবো মৃত্যুর আগপর্যন্ত। ব্যতিক্রম হবে না কোনোদিন ইনশাআল্লাহ্।
(নব্বইর - গণঅভ্যুত্থান ও কিছু কথা বই থেকে)
চলমান- ১৬