ইসলাম ডেস্ক : সুরা কাহফ পবিত্র কোরআনের ১৮ নম্বর সুরা। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরায় ১১০টি আয়াত রয়েছে। সুরা কাহফে বর্ণিত তিনটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথম পর্যায়ে সাত যুবকের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যারা ঈমান রক্ষার জন্য নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে দূরবর্তী কোনো পাহাড়ের গুহায় গিয়ে আত্মগোপন করে এবং সেখানে ৩০৯ বছর ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ে হজরত মুসা (আ.) ও হজরত খিজির (আ.)-এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে দুনিয়ার ক্ষমতাবান বাদশাহ জুলকারনাইনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি সারাবিশ্ব শাসন করেছেন এবং পৃথিবী ভ্রমণ করেছিলেন।
হাদিসে এই সুরা পাঠের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। বিশেষত জুমার দিন তা তেলাওয়াতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এই সুরা পাঠের কয়েকটি বিশেষত্ব তুলে ধরা হলো-
আল্লাহর রহমত বর্ষণ: হাদিসের বর্ণনা অনুসারে সুরা কাহফ তেলাওয়াতের অন্যতম ফজিলত হলো, তা পাঠ করলে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত অবতীর্ণ হয়। হজরত বারা বিন আজিব (রা.) বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি (নামাজে) সুরা কাহফ তেলাওয়াত করছিল। তখন বাড়ির একটি চতুষ্পদ জন্তু লাফাতে শুরু করে। অতঃপর সে সালাম বলল। তখন কুয়াশা বা একখণ্ড মেঘ তাকে আবৃত রাখে। বারা বিন আজিব (রা.) বর্ণনা করেছেন যে সে বিষয়টি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বর্ণনা করেন। তিনি তাকে বলেন, ‘হে অমুক! তুমি সুরাটি তেলাওয়াত করো। কারণ এটি আল্লাহর রহমত বা প্রশান্তি, যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল।’ -সহিহ বোখারি: ৩৬১৪
আকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত আলোকিত হয়: বিশেষ করে জুমার দিন এই সুরা তেলাওয়াতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসের বর্ণনা অনুসারে জুমাবার সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতর দিন। সুরা কাহফ তেলাওয়াত এই দিনের অন্যতম আমল। হজরত মুআজ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহফের শুরু ও শেষ তেলাওয়াত করবে তার পায়ের নিচ থেকে মাথা পর্যন্ত নূর প্রজ্জ্বলিত হবে। আর যে ব্যক্তি পুরো সুরা তেলাওয়াত করবে তার জন্য আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত নূর প্রজ্জ্বলিত হবে।’ -মুসনাদে আহমদ: ৪৩৯/৩
জুমার নামাজে বিশেষ সওয়াব: হজরত সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহতায়ালা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ -সহিহ বোখারি: ৮৮৩
পুরো সপ্তাহের গুনাহ মাফ: কেয়ামতের দিন এই সুরা তার পাঠকারীকে আলোকিত করবে। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পড়বে, তার পায়ের নিচ থেকে আসমান পর্যন্ত নুর প্রজ্জ্বলিত হবে এবং কেয়ামতের দিন তার জন্য উজ্জ্বল হবে। আর দুই জুমার মধ্যবর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’ -তাফসিরে ইবনে কাসির: ৬/৩৯৮
সপ্তাহব্যাপী নুর হয়ে থাকবে: কেউ প্রতি জুমায় এই সুরা তেলাওয়াত করলে এক জুমা থেকে অন্য জুমার মধ্যবর্তী সময় তার জন্য নুর প্রজ্জ্বলিত করে রাখা হয়। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমা পর্যন্ত নূর প্রজ্জ্বলিত হবে।’ -সুনানে দারিমি: ৩৪০৭
দাজ্জাল থেকে সুরক্ষা: এই সুরা পাঠ করার মাধ্যমে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাবে।’ -সহিহ মুসলিম: ৮০৯
যেসব আয়াত পাঠে রয়েছে বিশেষ মর্যাদা: হাদিসে বর্ণিত আয়াতগুলো অর্থাৎ শুরুর ১০টি বা শেষের ১০টি আয়াত পড়া যেতে পারে। পারলে পুরো সুরা মুখস্থ করা উত্তম। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহফের শেষ ১০ আয়াত পড়বে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাবে।’ -মুসনাদে আহমদ: ৪৪৬/৬
আরেক বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহফের ১০ আয়াত পড়বে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাবে।’ -জামে তিরমিজি: ২৮৮৬
মহান আল্লাহ সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।