মিয়া আবদুল হান্নান : প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর (কষ্ট) ভোগ করিবে। (সূরা আম্বিয়া, ৩৫ আয়াত)
মানুষের মৃত্যুর সময় হইতেই পরকাল আরম্ভ হয়। সাধারণ মানুষের মৃত্যু যন্ত্রণা সম্বন্ধে কোন ধারণাই নাই, কারণ মৃত্যু একবারই আসে এবং মৃত্যুর পর মানুষ আর ফিরিয়া আসে না। পাক কোরআনেও মৃত্যু যন্ত্রণার বর্ণনা নাই, আভাস আছে মাত্র।মানুষের জীবনীশক্তি (রূহ) শরীরের সর্বত্র ছড়াইয়া রহিয়াছে, এই প্রাণকে টানিয়া বাহির করিবার সময় দেহের সর্বত্র যে ধারণাতীত যন্ত্রণা আরম্ভ হয়, ভাষায় তাহা বর্ণনা করা যায় না, এই সঙ্কটময় মুহূর্তের বর্ণনা করা অসম্ভব। মৃত্যুর যন্ত্রণা ও কবর আযাবের চাইতে মানুষের বড় মসিবত আর নাই। আল্লাহ পাক কোরআনে জানাইয়া দিয়াছেন যে, "মৃত্যুর বিকার (কষ্ট) সত্যভাবেই উপস্থিত হইবে”। (সূরা ক্বাফ, আয়াত: ১৯ ) বুদ্ধি যদি তোমার থাকে তবে মৃত্যুকে ভুলিও না, ইহার প্রস্তুতির জন্য সর্বদা চিন্তা কর।
আঁখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ- ভোগবিলাস বিনাশকারী মৃত্যুর চিন্তা অধিক পরিমাণ কর, আমরা মৃত্যু যন্ত্রণার অবস্থা যেরূপ জানি, পশু পক্ষীরা যদি সেরূপ জানিত তবে আমাদের কাহারও ভাগ্যে স্থূলকায় পশু-পক্ষীর মাংস ভক্ষণ ঘটিত না; অর্থাৎ মৃত্যু যন্ত্রণার ভয়ে তাহারা মোটা তাজা হতো না। তিনি হযরত আনাস (রাঃ) কে বলেছিলেন তোমরা অধিক পরিমাণে মৃত্যুর চিন্তা কর, ইহা তোমাকে পরহেজগার বানাবে, তোমার গোনাহ মাফ হবে। যে ব্যক্তি পরকালের চিন্তা করে দৈনিক ২০ বার মৃত্যুর চিন্তা করে সে শহীদের দরজা লাভ করবে।
খলীফা হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ (রহঃ) বলেছেন যে, অধিক পরিমাণে মৃত্যু চিন্তা কর, ইহাতে তোমার দুইটি উপকার হবে: ১। যদি তুমি দরিদ্র হয়ে থাক, তবে তোমার মনে শান্তি ও ধৈর্য আসবে। ২। আর যদি ধন-সম্পদে ডুবে থাক তবে ধন-সম্পদের অলীক মোহ দূর হবে।
হযরত ঈসা (আঃ) মানুষ দেখিলেই বলতেন- হে বন্ধুগণ! তোমরা আমার জন্য প্রার্থনা কর যেন আল্লাহ পাক আমার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ করেন। মৃত্যু যন্ত্রণা যে কি ভীষণ ব্যাপার তাহা বুঝতে পেরে আমি ভয়ে জীবনস্মৃত হয়েছি।
মৃত্যু যন্ত্রণা এমন ভয়ঙ্কর যে, আঁখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সাল্লুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত মৃত্যুর সময় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছিলেন যে, হে আল্লাহ! মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর মৃত্যুর যন্ত্রণা সহজ কর।
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, একদিন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর সহিত হযরত আজরাইল (আঃ) এর সাক্ষাৎ হলে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁকে বলেন যে, আপনি পাপীগণের প্রাণ হরণ করার সময় যে মূর্তি ধারণ করেন আমি আপনার সেই মূর্তি দেখিতে চাই। হযরত আজরাইল (আঃ) বলিলেন যে, আপনি আমার সেই মূর্তি দেখে ঠিক থাকিতে পারবেন না, নবীবর জেদ করলে অগত্যা হযরত আজরাইল (আঃ) সেই মূর্তি ধারণ করেন। এই ঘোর কৃষ্ণবর্ণ আকাশ-পাতালব্যাপী দীর্ঘ স্থূলকায় দেহধারী ভীষণাকার। ----চলমান।