বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * পদত্যাগ করছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী   * করোনায় আরও ৪৫৪ মৃত্যু, শনাক্ত আড়াই লাখের নিচে   * পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮, এখনো নিখোঁজ ৬৫   * সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন সামরিক বিমান   * ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি রিভা আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে   * শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘চোখ ওঠা’ ছড়াচ্ছে দ্রুত   * পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি : করতোয়ার তীরে শোকের মাতম, নিহত বেড়ে ২৪   * দেশীয় মাছ ও শামুক সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান   * জাপানে শক্তিশালী টাইফুনের আঘাত, ২ জনের মৃত্যু   * একদিনে আরও ৪৪০ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে  

   লাইফস্টাইল -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
নাক-কান-গলার ক্যানসার কেন হয়, কী করবেন?

ক্যানসার রোগটির কথা শুনলেই আমরা এক ধরনের আতঙ্কে আক্রান্ত হই। মনে করি, বোধ হয় জীবনটা শেষ হয়ে গেল, জীবনের আলো বুঝি নিভে গেল। দেশে প্রতিনিয়ত ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এর পরিসংখ্যান আরও ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। তবে ক্যানসারের চিকিৎসা জটিল হলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসা হলে এবং নিয়মিত চিকিৎসকের ফলোআপে থাকলে সুস্থ হওয়া সম্ভব। শুরুতেই যদি আমরা সতর্ক হই, ক্যানসার যদি খুব দ্রুত নির্ণয় করা যায়, তাহলে দেখা যায়, তাদের পাঁচ বছরের যে সার্ভাইভাল সেটি অনেক বেশি হয়। শুরুতেই মানুষ চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। এবং তখন যা হয়, দেরিতে রোগ নির্ণয় হয় এবং শেষ দিকে ভালো কিছু হওয়ার থাকে না। মনে রাখতে হবে, হেলথ কেয়ার এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া-সবার অবদান রাখতে হবে।


এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের হেড-নেক সার্জন ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী।

হেড-নেক ক্যানসার কী?

মাথার খুলির মুখের অঞ্চল এবং গলার ভেতরে অনেকগুলো স্ট্রাকচার বা অঙ্গ আছে যেমন- নাক, সাইনাস, নাকের পিছনে ন্যাসোফ্যারিংস, মুখ, মুখগহ্বর, জিহবা, গলার টনসিল, শ্বাসনালি, খাদ্যনালি, থাইরয়েড গ্রন্থি, লালাগ্রন্থি সেগুলোর সমষ্টিগত ক্যানসারকে হেড-নেক ক্যানসার বলা হয়। আমাদের গলার ভিতরের দিকে একটা আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে যেটিকে আমরা মিউকাস মেমব্রেন বলি। এ মিউকাস মেমব্রেনের আবরণে ক্যানসারই বেশি হয় এবং যেটিকে আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় Squamous Cell ক্যানসার বলে থাকি। তবে একে বিশেষজ্ঞরা প্রতিরোধযোগ্য মরণব্যাধি নামে আখ্যায়িত করে থাকেন। যদি প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করা যায় তাহলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়।

নাক-কান-গলার ক্যানসারের কারণ কী

* তামাক ও মদ্যপান মূল কারণ বিবেচ্য হলেও আমাদের দেশের জন্য পান-সুপারি-জর্দা অনেকাংশে দায়ী। বলা হয়ে থাকে নাক-কান-গলার ক্যানসারের মধ্যে ৭৫ শতাংশই তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের কারণে হয়। বেশিরভাগ ওরোফ্যারেনজিয়াল ক্যানসারের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হলো তামাকের ব্যবহার। মদ্যপানের সঙ্গে ধূমপান যৌথভাবে ওরোফ্যারেনজিয়াল ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়াতে পারে।

* অতিরিক্ত রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস।

* সুপারি চেবানোর অভ্যাস/দীর্ঘক্ষণ সুপারি পাতা গালের চিপায় রেখে চেবানো থেকে এ ধরনের ক্যানসার হতে পারে।

* অতিরিক্ত ঝাল এবং মসলা জাতীয় খাবার নিয়মিতভাবে খাওয়ার অভ্যাস থেকে হতে পারে মুখ এবং মুখ গহ্বরের ক্যানসার।

* হিউম্যান প্যাপিলমা ভাইরাস (HPV-16) নামে এক ধরনের ভাইরাস এর সংক্রমণকে ইদানীং ওরোফ্যারেনজিয়াল ক্যানসারের জন্য দায়ী বলে ধরা হচ্ছে। এ ভাইরাস গলা ছাড়াও মহিলাদের জরায়ু ক্যানসারের কারণ হতে পারে।

* এ ছাড়া কিছু নির্দিষ্ট প্যাকেটজাত লবণাক্ত খাবার এবং যারা বিভিন্ন ফার্নিচার কারখানায় কাঠ ও রঙের কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে নাক এবং নাকের পিছনের ক্যানসার হওয়ার সম্ভবনা বা ঝুঁকি থাকে।

* জেনেটিকস বা বংশগত কারণ থেকে হতে পারে তবে খুব কম।

* GERD (Gastro Oesophageal Reflyx Disorder) অর্থাৎ এসিডিটি সমস্যা হতে খাবার পাকস্থলী থেকে বেরিয়ে আসার রোগে দীর্ঘদিন ভুগলে গলার ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

* সবুজ শাক-সবজি এবং ভিটামিন সি-জনিত পুষ্টিকারক খাবার নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ না করলে।

* Bad oral hygiene অর্থাৎ মুখের ভিতর অপরিষ্কার রাখলে এবং দাতের ক্রনিক ইনফেকশন।

* মহিলাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে রক্তশূন্যতায় (Iron defficiency) ভুগলে।

নাক, কান ও গলার ক্যানসারের উপসর্গগুলো কী কী

সাধারণত ৬০ শতাংশ রোগী অ্যাডভান্স স্টেজে ডাক্তারের নিকট আসেন। বিলম্বে আসার প্রধান কারণ হলো অসচেতনতা, অবহেলা, রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত না থাকা এবং অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা। প্রথমে এ রোগীরা কবিরাজ, হোমিওপ্যাথি ইত্যাদি চিকিৎসা নিয়ে রোগ সারানোর চেষ্টা করে। দেখা যায়, যাকে সামান্য টিউমার ভেবে গুরুত্ব দেননি, সেটিই বহুদিন ধরে বয়ে চলেছে প্রাণঘাতি ক্যানসারের জীবাণু। কারণ এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যথাহীন, এতে সামান্য কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায় তা প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়। তাই রোগীরা দেরি করে আসে। ঘাড়ের গোটা বা লিম্ফ নোড এবং আসল জায়গা থেকে অন্যান্য অঙ্গে ক্যানসারের বিস্তারের ভিত্তিতে ক্যানসারকে ৪টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে।

* মুখের এবং গলার ভেতরে বা বাইরে ঘা/ক্ষত/ আলসার যা প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও সহজে শুকায় না, বরং দিনে দিনে বেড়ে যায়। এ ক্ষতের কারণে খাবার চিবাতে বা গিলতে কষ্ট হয় এবং জলপান করতেও অসুবিধা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে মনে হয় গলায় কিছু আটকে আছে।

* গলা বা হেড-নেক আক্রান্ত অঞ্চলে ফোলাভাব অর্থাৎ লাম্প যাকে টিউমার বলে থাকি। মুখ-গলা এবং ঘাড়ের পিছনে ফোলা অংশ সৃষ্টি।

* একপাশে গলাব্যথা যা স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

* জিহবা নাড়াতে অসুবিধা।

* দাঁত নড়ে যাওয়া বা দাঁতে ব্যথা এবং ফোলা।

* এ অঞ্চলের টিউমারের সঙ্গে কানে ব্যথা। এক্ষেত্রে কানে কোনো সমস্য নেই, গলার ক্যানসারের কারণে কানে ব্যথা হয়।

* কর্কশ কণ্ঠ। অর্থাৎ কোনো কোনো সময় গলার স্বরভঙ্গ নিয়েও রোগী আসতে পারেন। তবে স্বরভঙ্গ হলেই যে ক্যানসার মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়বেন তা কিন্তু নয়। গলার কণ্ঠের পরিবর্তন বা গলা ভাঙা যে কোনো কারণে হতে পারে। প্রাথমিক ওষুধ খাওয়ার পরও তিন সপ্তাহের অধিক স্বরভঙ্গ থাকলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই দেরি না করে একজন নাক-কান-গলা এবং হেড-নেক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। এ গলাভাঙা থেকে হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

* অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস। সঙ্গে অরুচি এবং ক্ষুধামান্দা।

* জিহবা অথবা মুখের ভিতরের উপরিত্বকে সাদা/লাল ছোপ বা প্যাচ।

* নাকের ক্যানসারের ক্ষেত্রে নাক দিয়ে রক্ত আসা। হঠাৎ মুখের গঠনগত পরিবর্তন।

* মুখ দিয়ে অস্বাভাবিক রক্তপাত। কাশির সঙ্গে রক্ত।

* চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া এবং মুখ খুলতে অসুবিধা।

* থাইরয়েড গ্রন্থি যেটা গলার সামনের দিকে থাকে, সেটা দীর্ঘদিন ফুলে শক্ত হয়ে থাকা। অনেক সময় এ থাইরয়েড গ্রন্থির ফুলার সঙ্গে গলার কণ্ঠস্বর ভেঙে যেতে পারে।

* মুখের উভয় পাশে কানের ঠিক নিচে যে লালা গ্রন্থি আছে সেটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে শক্ত হয়ে গিয়ে যদি মুখ বেঁকে যায় এবং সঙ্গে এ লালা গ্রন্থির ফোলায় ব্যথা থাকতে পারে।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে অবশ্যই খোঁজ-খবর নিয়ে একজন নাক-কান-গলা এবং হেড-নেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানো উচিত। মনে রাখবেন, সজাগ দৃষ্টিতে সচেতনভাবে বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে আমাদের এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে নাক-কান-গলা এবং হেড-নেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর ভরসা রাখতে হবে। নাক-কান-গলার ক্যানসারের সুচিকিৎসা আমাদের দেশেই সম্ভব।

নাক-কান-গলার ক্যানসারের চিকিৎসা পদ্ধতি

ক্যানসার চিকিৎসায় সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি এবং কম্বাইন্ড থেরাপি প্রচলিত আছে এবং এসবের ফলে ক্যানসারমুক্তির হার দিন দিন বাড়ছে। জনসচেতনতা ও চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসারই এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার পরও যে হারে ক্যানসার বাড়ছে সেই তুলনায় আমাদের দেশে চিকিৎসা সুবিধা অপ্রতুল। অবশ্য খুশির খবর হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব বিভাগীয় হাসপাতালে ক্যানসার হাসপাতাল স্থাপনের যুগোপযোগী প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন দেখিয়ে ক্যানসার ধরা পড়লে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করানো উচিত।

চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে- ক্যানসারের ধরন এবং পর্যায়, টিউমারের অবস্থা, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং রোগীর সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর। হেড-নেক ক্যানসারের চিকিৎসা রোগের এবং রোগীর ফ্যাক্টর বিবেচনা করে নিম্নে উল্লেখিত এক বা একাধিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে করা হতে পারে-

* সার্জারি/অপারেশন : প্রাথমিক টিউমারের অস্ত্রোপচার যেমন-জিহবার ক্যানসার ক্ষত অপসারণ (গ্লসেকটমি)/চোয়ালের আক্রান্ত একটি অংশের অপসারণ (ম্যানডিবুল্যাকটমি)/মুখের শক্ত উপরিতলের একটি বা সমগ্র অংশের অপসারণ (ম্যাক্সিল্যাকটমি)/ঘাড়ের ব্যবচ্ছেদ এবং আংশিক বা গোটা ল্যারিংক্সের বা স্বরযন্ত্রের অপসারণ (ল্যারিঙ্গোটমি)/ঘাড়ের গোটা অপসারণ (নেক ডিসেকশন)/ক্যানসার আক্রান্ত থাইরয়েড গ্রন্থির টিউমার অপসারণ (থাইরয়েডেকটমি)/ক্যানসার আক্রান্ত লালাগ্রন্থি প্যারোটিড টিউমারের অপসারণ (প্যারোটিডেক্টমি) করে থাকেন আমাদের শ্রদ্ধেয় ইএনটি এবং হেড-নেক ক্যানসার বিশেষজ্ঞ সার্জনরা।

* রেডিওথেরাপি : বহিরাগত বিম রেডিয়েশন বা আভা বিকিরণ এবং অভ্যন্তরীণ রেডিয়েশন বা বিকিরণ থেরাপি মিলে রেডিয়েশন থেরাপি সৃষ্টি হয়। রেডিওথেরাপি নিয়ে সমাজে ভ্রান্ত ধারণা আছে যে অনেকে মনে করে থাকেন রেডিওথেরাপিতে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়, এটা পুরোপুরি একটা কুসংস্কার। আসলে এক্সরে-তে যেভাবে রেডিয়েশন দেওয়া হয় ঠিক তেমনি রেডিওথেরাপিতে নির্দিষ্ট ক্যানসার আক্রান্ত স্থানে বিকিরণ দেওয়া হয়।

* কেমোথেরাপি দেওয়া যেতে পারে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে।

* অ্যাডভানসড ক্ষেত্রে মিলিতভাবে সার্জারি এবং রেডিওথেরাপি।

ক্যানসারের চিকিৎসায় প্রায়ই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাই বলে আতঙ্কিত না হয়ে ক্যানসার মোকাবিলার জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে নিতে হবে। কারণ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগে সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সমাধান রয়েছে। ভয়কে করতে হবে জয়। রোগীকে চিকিৎসার ব্যাপারে আগ্রহী হতে হবে, ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে।

হেড-নেক ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়

প্রতিরোধের উপায় একেকটা ক্যানসারের জন্য একেক ধরনের। যদিও পুরোপুরি প্রতিরোধ অসম্ভব, তবুও ঝুঁকি কমানোর জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি।

* তামাক পাতা-জর্দাকে না বলুন : তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য যেমন-কাঁচা তামাক, জর্দা, মুখের ভিতরে পান পাতা রেখে দেওয়া এবং অতিরিক্ত সুপারি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে এবং মুখের ভিতর পরিষ্কার রাখতে এসব থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রতিদিন উন্নতমানের টুথপেস্ট দিয়ে সঠিক নিয়মে দাত ব্রাশ করতে হবে।

* ধূমপান থেকে দূরে থাকুন : ধূমপানের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। বিশ্বে যত ধরনের ক্যানসার আছে তার মধ্যে ৯০ শতাংশ ক্যানসারই ধূমপানের কারণে হয়। এমনটাই জানাছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। প্রতিদিন ধূমপানের ফলে ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাঁধে ক্যানসার। আমেরিকান ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ডেল ও রিচার্ড পেটোর মতে, মানবদেহে যত ধরনের ক্যানসার হতে পারে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধূমপান ও তামাকের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে।

* দীর্ঘ সময় সূর্যের ক্ষতিকর আলো থেকে ত্বক রক্ষা করুন: সূর্যের তাপ নির্গত অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের স্বাস্থ্য এবং ত্বকের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ ছাড়াও মুঠো ফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন ক্যানসারের অন্যতম কারণ হতে পারে।

* স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করা উচিত : শরীরের নানা রোগের পিছনে খাদ্যভাসের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রাখুন। এ ছাড়াও খাদ্য তালিকায় রাখুন আঁশ জাতীয় খাবার।

* সহবাস করুন সুরক্ষিত উপায়ে : অবাঞ্ছিত যৌন সংসর্গেও ছড়াতে পারে ক্যানসার। সুতরাং সুরক্ষিত উপায়ে সহবাস করুন।

* প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করুন : ব্যায়াম ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। কারণ, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা সুস্থ জীবনাচারী। এ ছাড়াও নিয়মিত ব্যায়ামে শরীরের হরমোন প্রবাহ, কোষ বৃদ্ধির হার থাকে স্বাভাবিক। সেইসঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

* পরিহার করুন অতিরিক্ত মসলা জাতীয় ঝাল খাবার : সবসময় কম আঁচে খাবার রান্না করুন। গবেষকরা বলেন, যারা নিয়মিত অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত ঝাল মসলা জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।

* জানুন পরিবারের মেডিকেল ইতিহাস : ক্যানসারের লক্ষণ সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য পেতে আপনার পারিবারিক চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। এ ছাড়াও পরিবারের সদস্যদের পুরোনো এ ধরনের কোনো রোগ আছে কিনা সেই সম্বন্ধে আগে জানুন।

* মুখে কৃত্রিম দাঁত থাকলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন দাঁত ভালোমতো ফিট থাকে।

নাক-কান-গলার ক্যানসার কেন হয়, কী করবেন?
                                  

ক্যানসার রোগটির কথা শুনলেই আমরা এক ধরনের আতঙ্কে আক্রান্ত হই। মনে করি, বোধ হয় জীবনটা শেষ হয়ে গেল, জীবনের আলো বুঝি নিভে গেল। দেশে প্রতিনিয়ত ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এর পরিসংখ্যান আরও ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। তবে ক্যানসারের চিকিৎসা জটিল হলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসা হলে এবং নিয়মিত চিকিৎসকের ফলোআপে থাকলে সুস্থ হওয়া সম্ভব। শুরুতেই যদি আমরা সতর্ক হই, ক্যানসার যদি খুব দ্রুত নির্ণয় করা যায়, তাহলে দেখা যায়, তাদের পাঁচ বছরের যে সার্ভাইভাল সেটি অনেক বেশি হয়। শুরুতেই মানুষ চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। এবং তখন যা হয়, দেরিতে রোগ নির্ণয় হয় এবং শেষ দিকে ভালো কিছু হওয়ার থাকে না। মনে রাখতে হবে, হেলথ কেয়ার এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া-সবার অবদান রাখতে হবে।


এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের হেড-নেক সার্জন ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী।

হেড-নেক ক্যানসার কী?

মাথার খুলির মুখের অঞ্চল এবং গলার ভেতরে অনেকগুলো স্ট্রাকচার বা অঙ্গ আছে যেমন- নাক, সাইনাস, নাকের পিছনে ন্যাসোফ্যারিংস, মুখ, মুখগহ্বর, জিহবা, গলার টনসিল, শ্বাসনালি, খাদ্যনালি, থাইরয়েড গ্রন্থি, লালাগ্রন্থি সেগুলোর সমষ্টিগত ক্যানসারকে হেড-নেক ক্যানসার বলা হয়। আমাদের গলার ভিতরের দিকে একটা আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে যেটিকে আমরা মিউকাস মেমব্রেন বলি। এ মিউকাস মেমব্রেনের আবরণে ক্যানসারই বেশি হয় এবং যেটিকে আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় Squamous Cell ক্যানসার বলে থাকি। তবে একে বিশেষজ্ঞরা প্রতিরোধযোগ্য মরণব্যাধি নামে আখ্যায়িত করে থাকেন। যদি প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করা যায় তাহলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়।

নাক-কান-গলার ক্যানসারের কারণ কী

* তামাক ও মদ্যপান মূল কারণ বিবেচ্য হলেও আমাদের দেশের জন্য পান-সুপারি-জর্দা অনেকাংশে দায়ী। বলা হয়ে থাকে নাক-কান-গলার ক্যানসারের মধ্যে ৭৫ শতাংশই তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের কারণে হয়। বেশিরভাগ ওরোফ্যারেনজিয়াল ক্যানসারের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হলো তামাকের ব্যবহার। মদ্যপানের সঙ্গে ধূমপান যৌথভাবে ওরোফ্যারেনজিয়াল ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়াতে পারে।

* অতিরিক্ত রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস।

* সুপারি চেবানোর অভ্যাস/দীর্ঘক্ষণ সুপারি পাতা গালের চিপায় রেখে চেবানো থেকে এ ধরনের ক্যানসার হতে পারে।

* অতিরিক্ত ঝাল এবং মসলা জাতীয় খাবার নিয়মিতভাবে খাওয়ার অভ্যাস থেকে হতে পারে মুখ এবং মুখ গহ্বরের ক্যানসার।

* হিউম্যান প্যাপিলমা ভাইরাস (HPV-16) নামে এক ধরনের ভাইরাস এর সংক্রমণকে ইদানীং ওরোফ্যারেনজিয়াল ক্যানসারের জন্য দায়ী বলে ধরা হচ্ছে। এ ভাইরাস গলা ছাড়াও মহিলাদের জরায়ু ক্যানসারের কারণ হতে পারে।

* এ ছাড়া কিছু নির্দিষ্ট প্যাকেটজাত লবণাক্ত খাবার এবং যারা বিভিন্ন ফার্নিচার কারখানায় কাঠ ও রঙের কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে নাক এবং নাকের পিছনের ক্যানসার হওয়ার সম্ভবনা বা ঝুঁকি থাকে।

* জেনেটিকস বা বংশগত কারণ থেকে হতে পারে তবে খুব কম।

* GERD (Gastro Oesophageal Reflyx Disorder) অর্থাৎ এসিডিটি সমস্যা হতে খাবার পাকস্থলী থেকে বেরিয়ে আসার রোগে দীর্ঘদিন ভুগলে গলার ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

* সবুজ শাক-সবজি এবং ভিটামিন সি-জনিত পুষ্টিকারক খাবার নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ না করলে।

* Bad oral hygiene অর্থাৎ মুখের ভিতর অপরিষ্কার রাখলে এবং দাতের ক্রনিক ইনফেকশন।

* মহিলাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে রক্তশূন্যতায় (Iron defficiency) ভুগলে।

নাক, কান ও গলার ক্যানসারের উপসর্গগুলো কী কী

সাধারণত ৬০ শতাংশ রোগী অ্যাডভান্স স্টেজে ডাক্তারের নিকট আসেন। বিলম্বে আসার প্রধান কারণ হলো অসচেতনতা, অবহেলা, রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত না থাকা এবং অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা। প্রথমে এ রোগীরা কবিরাজ, হোমিওপ্যাথি ইত্যাদি চিকিৎসা নিয়ে রোগ সারানোর চেষ্টা করে। দেখা যায়, যাকে সামান্য টিউমার ভেবে গুরুত্ব দেননি, সেটিই বহুদিন ধরে বয়ে চলেছে প্রাণঘাতি ক্যানসারের জীবাণু। কারণ এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যথাহীন, এতে সামান্য কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায় তা প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়। তাই রোগীরা দেরি করে আসে। ঘাড়ের গোটা বা লিম্ফ নোড এবং আসল জায়গা থেকে অন্যান্য অঙ্গে ক্যানসারের বিস্তারের ভিত্তিতে ক্যানসারকে ৪টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে।

* মুখের এবং গলার ভেতরে বা বাইরে ঘা/ক্ষত/ আলসার যা প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও সহজে শুকায় না, বরং দিনে দিনে বেড়ে যায়। এ ক্ষতের কারণে খাবার চিবাতে বা গিলতে কষ্ট হয় এবং জলপান করতেও অসুবিধা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে মনে হয় গলায় কিছু আটকে আছে।

* গলা বা হেড-নেক আক্রান্ত অঞ্চলে ফোলাভাব অর্থাৎ লাম্প যাকে টিউমার বলে থাকি। মুখ-গলা এবং ঘাড়ের পিছনে ফোলা অংশ সৃষ্টি।

* একপাশে গলাব্যথা যা স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

* জিহবা নাড়াতে অসুবিধা।

* দাঁত নড়ে যাওয়া বা দাঁতে ব্যথা এবং ফোলা।

* এ অঞ্চলের টিউমারের সঙ্গে কানে ব্যথা। এক্ষেত্রে কানে কোনো সমস্য নেই, গলার ক্যানসারের কারণে কানে ব্যথা হয়।

* কর্কশ কণ্ঠ। অর্থাৎ কোনো কোনো সময় গলার স্বরভঙ্গ নিয়েও রোগী আসতে পারেন। তবে স্বরভঙ্গ হলেই যে ক্যানসার মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়বেন তা কিন্তু নয়। গলার কণ্ঠের পরিবর্তন বা গলা ভাঙা যে কোনো কারণে হতে পারে। প্রাথমিক ওষুধ খাওয়ার পরও তিন সপ্তাহের অধিক স্বরভঙ্গ থাকলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই দেরি না করে একজন নাক-কান-গলা এবং হেড-নেক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। এ গলাভাঙা থেকে হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

* অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস। সঙ্গে অরুচি এবং ক্ষুধামান্দা।

* জিহবা অথবা মুখের ভিতরের উপরিত্বকে সাদা/লাল ছোপ বা প্যাচ।

* নাকের ক্যানসারের ক্ষেত্রে নাক দিয়ে রক্ত আসা। হঠাৎ মুখের গঠনগত পরিবর্তন।

* মুখ দিয়ে অস্বাভাবিক রক্তপাত। কাশির সঙ্গে রক্ত।

* চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া এবং মুখ খুলতে অসুবিধা।

* থাইরয়েড গ্রন্থি যেটা গলার সামনের দিকে থাকে, সেটা দীর্ঘদিন ফুলে শক্ত হয়ে থাকা। অনেক সময় এ থাইরয়েড গ্রন্থির ফুলার সঙ্গে গলার কণ্ঠস্বর ভেঙে যেতে পারে।

* মুখের উভয় পাশে কানের ঠিক নিচে যে লালা গ্রন্থি আছে সেটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে শক্ত হয়ে গিয়ে যদি মুখ বেঁকে যায় এবং সঙ্গে এ লালা গ্রন্থির ফোলায় ব্যথা থাকতে পারে।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে অবশ্যই খোঁজ-খবর নিয়ে একজন নাক-কান-গলা এবং হেড-নেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানো উচিত। মনে রাখবেন, সজাগ দৃষ্টিতে সচেতনভাবে বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে আমাদের এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে নাক-কান-গলা এবং হেড-নেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর ভরসা রাখতে হবে। নাক-কান-গলার ক্যানসারের সুচিকিৎসা আমাদের দেশেই সম্ভব।

নাক-কান-গলার ক্যানসারের চিকিৎসা পদ্ধতি

ক্যানসার চিকিৎসায় সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি এবং কম্বাইন্ড থেরাপি প্রচলিত আছে এবং এসবের ফলে ক্যানসারমুক্তির হার দিন দিন বাড়ছে। জনসচেতনতা ও চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসারই এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার পরও যে হারে ক্যানসার বাড়ছে সেই তুলনায় আমাদের দেশে চিকিৎসা সুবিধা অপ্রতুল। অবশ্য খুশির খবর হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব বিভাগীয় হাসপাতালে ক্যানসার হাসপাতাল স্থাপনের যুগোপযোগী প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন দেখিয়ে ক্যানসার ধরা পড়লে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করানো উচিত।

চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে- ক্যানসারের ধরন এবং পর্যায়, টিউমারের অবস্থা, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং রোগীর সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর। হেড-নেক ক্যানসারের চিকিৎসা রোগের এবং রোগীর ফ্যাক্টর বিবেচনা করে নিম্নে উল্লেখিত এক বা একাধিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে করা হতে পারে-

* সার্জারি/অপারেশন : প্রাথমিক টিউমারের অস্ত্রোপচার যেমন-জিহবার ক্যানসার ক্ষত অপসারণ (গ্লসেকটমি)/চোয়ালের আক্রান্ত একটি অংশের অপসারণ (ম্যানডিবুল্যাকটমি)/মুখের শক্ত উপরিতলের একটি বা সমগ্র অংশের অপসারণ (ম্যাক্সিল্যাকটমি)/ঘাড়ের ব্যবচ্ছেদ এবং আংশিক বা গোটা ল্যারিংক্সের বা স্বরযন্ত্রের অপসারণ (ল্যারিঙ্গোটমি)/ঘাড়ের গোটা অপসারণ (নেক ডিসেকশন)/ক্যানসার আক্রান্ত থাইরয়েড গ্রন্থির টিউমার অপসারণ (থাইরয়েডেকটমি)/ক্যানসার আক্রান্ত লালাগ্রন্থি প্যারোটিড টিউমারের অপসারণ (প্যারোটিডেক্টমি) করে থাকেন আমাদের শ্রদ্ধেয় ইএনটি এবং হেড-নেক ক্যানসার বিশেষজ্ঞ সার্জনরা।

* রেডিওথেরাপি : বহিরাগত বিম রেডিয়েশন বা আভা বিকিরণ এবং অভ্যন্তরীণ রেডিয়েশন বা বিকিরণ থেরাপি মিলে রেডিয়েশন থেরাপি সৃষ্টি হয়। রেডিওথেরাপি নিয়ে সমাজে ভ্রান্ত ধারণা আছে যে অনেকে মনে করে থাকেন রেডিওথেরাপিতে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়, এটা পুরোপুরি একটা কুসংস্কার। আসলে এক্সরে-তে যেভাবে রেডিয়েশন দেওয়া হয় ঠিক তেমনি রেডিওথেরাপিতে নির্দিষ্ট ক্যানসার আক্রান্ত স্থানে বিকিরণ দেওয়া হয়।

* কেমোথেরাপি দেওয়া যেতে পারে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে।

* অ্যাডভানসড ক্ষেত্রে মিলিতভাবে সার্জারি এবং রেডিওথেরাপি।

ক্যানসারের চিকিৎসায় প্রায়ই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাই বলে আতঙ্কিত না হয়ে ক্যানসার মোকাবিলার জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে নিতে হবে। কারণ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগে সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সমাধান রয়েছে। ভয়কে করতে হবে জয়। রোগীকে চিকিৎসার ব্যাপারে আগ্রহী হতে হবে, ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে।

হেড-নেক ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়

প্রতিরোধের উপায় একেকটা ক্যানসারের জন্য একেক ধরনের। যদিও পুরোপুরি প্রতিরোধ অসম্ভব, তবুও ঝুঁকি কমানোর জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি।

* তামাক পাতা-জর্দাকে না বলুন : তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য যেমন-কাঁচা তামাক, জর্দা, মুখের ভিতরে পান পাতা রেখে দেওয়া এবং অতিরিক্ত সুপারি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে এবং মুখের ভিতর পরিষ্কার রাখতে এসব থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রতিদিন উন্নতমানের টুথপেস্ট দিয়ে সঠিক নিয়মে দাত ব্রাশ করতে হবে।

* ধূমপান থেকে দূরে থাকুন : ধূমপানের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। বিশ্বে যত ধরনের ক্যানসার আছে তার মধ্যে ৯০ শতাংশ ক্যানসারই ধূমপানের কারণে হয়। এমনটাই জানাছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। প্রতিদিন ধূমপানের ফলে ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাঁধে ক্যানসার। আমেরিকান ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ডেল ও রিচার্ড পেটোর মতে, মানবদেহে যত ধরনের ক্যানসার হতে পারে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধূমপান ও তামাকের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে।

* দীর্ঘ সময় সূর্যের ক্ষতিকর আলো থেকে ত্বক রক্ষা করুন: সূর্যের তাপ নির্গত অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের স্বাস্থ্য এবং ত্বকের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ ছাড়াও মুঠো ফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন ক্যানসারের অন্যতম কারণ হতে পারে।

* স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করা উচিত : শরীরের নানা রোগের পিছনে খাদ্যভাসের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রাখুন। এ ছাড়াও খাদ্য তালিকায় রাখুন আঁশ জাতীয় খাবার।

* সহবাস করুন সুরক্ষিত উপায়ে : অবাঞ্ছিত যৌন সংসর্গেও ছড়াতে পারে ক্যানসার। সুতরাং সুরক্ষিত উপায়ে সহবাস করুন।

* প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করুন : ব্যায়াম ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। কারণ, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা সুস্থ জীবনাচারী। এ ছাড়াও নিয়মিত ব্যায়ামে শরীরের হরমোন প্রবাহ, কোষ বৃদ্ধির হার থাকে স্বাভাবিক। সেইসঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

* পরিহার করুন অতিরিক্ত মসলা জাতীয় ঝাল খাবার : সবসময় কম আঁচে খাবার রান্না করুন। গবেষকরা বলেন, যারা নিয়মিত অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত ঝাল মসলা জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।

* জানুন পরিবারের মেডিকেল ইতিহাস : ক্যানসারের লক্ষণ সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য পেতে আপনার পারিবারিক চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। এ ছাড়াও পরিবারের সদস্যদের পুরোনো এ ধরনের কোনো রোগ আছে কিনা সেই সম্বন্ধে আগে জানুন।

* মুখে কৃত্রিম দাঁত থাকলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন দাঁত ভালোমতো ফিট থাকে।

চুল দ্রুত ঘন ও লম্বা করবেন যেভাবে
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : লম্বা ও ঘন চুল পেতে কে না চায়! তবে প্রতিদিনের দূষণ, চুলে তাপ দেওয়ার বিভিন্ন যন্ত্রসহ নানা ধরনের কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে অনেকেই চুলের নানা সমস্যায় ভোগেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো চুল পড়ার সমস্যা। অনেকের তো চুল পড়তে পড়তে টাক দেখা যায় মাথায়।

আপনিও যদি এই সমস্যায় ভোগেন তাহলে কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমেই চুল আরও ঘন ও লম্বা করতে পারবেন, তাও আবার দ্রুত। জেনে নিন করণীয়-

>> পেঁয়াজের রস চুলের জন্য খুবই উপকারী এক উপাদন। এতে থাকা পুষ্টিগুণ চুল ঘন ও লম্বা করতে সাহায্য করে। নারকেল তেল, লেবুর রস ও পেয়াঁজের রস একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা কোনো শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

>> চালের পানিও চুলের যত্নে দারুন কার্যকরী। সারারাত ভেজানো চালের পানি একটি স্প্রে বোতলে ঢেলে পুরো চুলে ব্যবহার করুন। নিয়মিত এটি ব্যবহারেই আপনি পাবেন ঘন ও লম্বা চুল।

>> চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও নতুন চুল গজাতে ডিমের মাস্কের জুড়ি মেলা ভার। ঘরেই সপ্তাহে অন্তত একবার চুলে ব্যবহার করুন ডিমের মাস্ক।

>> ক্যানস্টর অয়েলও চুলের জন্য অনেক উপকারী। বিশেষ করে নতুন চুল গজাতে এই তেল দুর্দান্ত কাজ করে। মাথার ত্বকে আলতো হাতে ব্যবহার করুন এই তেল।

>> মেথি চুল আরও ঘন ও উজ্জ্বল করে। ৮-১০ ঘণ্টা মেথি ভিজিয়ে রেখে তা ব্লেন্ড করে ঘন পেস্ট তৈরি করে চুলে ব্যবহার করুন।

>> সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে ২-৩ বার চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল ভালো থাকবে। কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারের কারণেও অনেক সময় চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে।

>> চুল ঘন করতে চাইলে সঠিক খ্যাদ্যাভ্যাসও জরুরি। এজন্য পাতে রাখুন প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাডিস, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার।

>> চুলে অত্যধিক তাপ ব্যবহার করা বন্ধ করুন। এতে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাঁধাপ্রাপ্ত হয়।

>> নিয়মিত চুল আঁচড়াতে হবে। তাহলে চুলের ফলিকলগুলো আরও সক্রিয় হয়ে চুল দ্রুত ঘন ও লম্বা করে।

>> ক্যাস্টর অয়েলের পাশাপাশি চুলে নিয়মিত ব্যবহার করুন জলপাই তেল। এই তেলে থাকে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা চুলের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। হালকা গরম করে এই তেল মাথার ত্বকে মালিশ করুন।

প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচাবে ৫ পানীয়
                                  

বর্ষাকাল এলেও এখনো ঝুম বৃষ্টির দেখা নেই। প্রচণ্ড গরমে চারদিক তপ্ত হয়ে উঠেছে। এমন সময় হিট স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এক্ষেত্রে দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে দেখা দেয় শারীরিক জটিলতা। এক্ষেত্রে শরীর একবারেই পানিশূন্য হয়ে পড়ে।

রোদে যারা দীর্ঘক্ষণ পরিশ্রম করেন তাদের যেমন হিট স্ট্রোক হতে পারে, আবার বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রেও এমনটি হতে পারে। এছাড়া শরীরে পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিার দরুনও গরমে হিট স্ট্রোক হতে পারে।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ কী কী?

প্রথমেই হতে পারে হিট ক্র্যাম্প। এর ফলে মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে ও সব সময় পিপাসা পায়। পরবর্তী সময়ে দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়। এছাড়া শরীরের তাপ বেড়ে যায় ও প্রচুর ঘাম হয়।

হিট স্ট্রোক হলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়। ঘাম বন্ধ হয়ে যায়। ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়। এমনকি নিঃশ্বাস দ্রুত হয় ও নাড়ির স্পন্দন কমে আসে বা দ্রুত হয়।

রক্তচাপ কমে যায়। খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্ন ইত্যাদি। এমনকি রোগী অজ্ঞান হয়েও যেতে পারে।

তাই হিট স্ট্রোক হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা উচিত। ঘরোয়া উপায়েই হিট স্ট্রোকের ঝুঁকে এড়ানো সম্ভব। এজন্য পুষ্টিকর কিছু খাবার খেতে পারেন। বিশেষ করে কিছু পানীয় আছে, যেগুলো পান করলে গরমে শরীর ঠান্ডা থাকবে ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমবে।

>> বাটার মিল্কে থাকে প্রোবায়োটিক, প্রোটিন এবং ভিটামিন। যা আপনার দেশের তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। তাই গরমে বাইরে থেকে ঘরে ফিরেই পান করুন বাটার মিল্ক।

>> আয়ুর্বেদ অনুসারে বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর সামান্য মধুর সঙ্গে পেঁয়াজের রস মিশিয়ে পান করার উপকারিতা অনেক। এতে দেহের তাপমাত্রা ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে।

>> গরম কাটানোর জন্য তেঁতুলও অনেক উপকারী। তেঁতুল দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে ও পানিশূন্যতা রোধ করে। এজন্য পানিতে কয়েকটি তেঁতুল সেদ্ধ করে সঙ্গে গুড় মিশিয়ে পান করুন। এতে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে আবার শরীরও থাকবে ঠান্ডা।

>> কাঁচা আমের জুস পান করলেও শরীর হবে ঠান্ডা। কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। একইসঙ্গে ডায়রিয়াও প্রতিরোধ করে।

>> ছাতু খেলে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক ইত্যাদি খনিজ চাহিদা পূরণ হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও ভালো ছাতু। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণও থাকে নিয়ন্ত্রণে।

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে ও পেটের স্বাস্থ্যের ভালো রাখে ছাতু। গরমে ছাতু খেলে শরীর ঠান্ডা হয় ও পানিশূন্যতাও দূর হয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

গরমে ঈদের পোশাক যেমন হবে
                                  

ঈদের আয়োজন শুরু হয়েগেছে। দোকানগুলোতে এখনই ভিড় জমতে শুরু করেছে। করোনায় অনেকগুলো উৎসব আমরা মন খুলে পালন করতে পারিনি। এবার সেই কড়াকড়ি নেই। আর তাই ঈদের আয়োজনে পোশাক কিনতে ভিড় করছেন মানুষেরা। যেহেতু গরমে ঈদ তাই পোশাক নির্বাচনে কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতেই হবে।

কাপড়

গরমে পোশাকের ক্ষেত্রে কাপড়ের দিকে নজর রাখা জরুরি। এসময় সবচেয়ে মানানসই হলো সুতির কাপড়। এতে গরম কম লাগবে, সেইসঙ্গে পাবেন আরামও। এতে সারাদিনের ঘোরাফেরায় মোটেই অস্বস্তি লাগবে না। পাতলা তাঁত ও খাদি কাপড়ের পোশাকও এসময় আরামদায়ক। সুতি কাপড়ের পাশাপাশি লিনেন, ধুপিয়ান, ভয়েল, মসলিন, চিকেন ও তাতের কাপড় গরমের জন্য উপযোগী। যেহেতু উৎসব তাই এর আমেজও ধরে রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে পরতে পারেন কৃত্রিম মসলিন বা পাতলা চোষা কাতান।

পোশাকের রং

গরমে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাপড়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ রং। শীতে যেমন খুশি তেমন রঙের কাপড় পরা গেলেও গরমে তা চলবে না। এসময় সাদা, হালকা গোলাপি, আকাশি, হালকা হলুদ, ধূসর, হালকা বেগুনি, হালকা নীল, বাদামিসহ হালকা রঙের পোশাক বেছে নিন।

সাদা ও অন্যান্য হালকা রঙের পোশাক তাপ শোষণ করার পাশাপাশি চোখকে প্রশান্তি দেয়। এসময় খুব বেশি উজ্জ্বল ও গাঢ় রঙের পোশাক পরবেন না। হালকা রঙের পোশাকেই আপনাকে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল দেখাবে।

স্বস্তিদায়ক পোশাক

পোশাক ব্যবহারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্বস্তি। যে পোশাক আপনাকে অস্বস্তি দেবে, সেটি পরে নিশ্চয়ই বেশি সময় থাকতে পারবেন না। এসময় খুব বেশি টাইট ফিটিংস পোশাক পরলে সেটি অস্বস্তিদায়ক হবে। তাই একটু ঢিলেঢালা পোশাক বেছে নিন।

হাইনেকের বদলে কলার ছাড়া গলার জামা পরতে পারেন। এতে আরাম পাবেন। হাতা ছোট হলেই ভালো। গরমে ফুল স্লিভ বা থ্রি কোয়ার্টার খুব একটা আরাম দেবে না।

ছেলেদের পোশাক

ঈদে ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রেও সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এই কাপড়ের পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়া কিনতে পাবেন। বাটিক, ভেজিটেবল ডাই, টাইডাই, সুবোরি, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক ইত্যাদির ডিজাইন করা পোশাক পাওয়া যাবে।

এসময় ফর্মালের বদলে কিনুন ক্যাজুয়াল শার্ট। এগুলো গরমে আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল। ফুল হাতার বদলে হাফ হাতার শার্ট পরতে পারেন। পোশাকের রং হিসেবে বেছে নিতে পারেন হালকা নীল, ধূসর, সাদা, অফহোয়াইট, অলিভ ঈত্যাদি। ঈদের নামাজ কিংবা দাওয়াতের জন্য এসময় সুতির পাঞ্জাবিই ভালো।

দাদের চিকিৎসায় জেনে নিন করণীয়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : বর্তমানে দাদের ওষুধ যত্রতত্র ব্যবহার হচ্ছে। দাদের ওষুধ ফর্সা হওয়ার জন্য ব্যবহার করেন অনেকেই। পেভিসন, মাইকোসন, ফাঙ্গারিলিক্সি, নিওস্টেনিক্সি- এগুলো মিক্স প্রেপারেশন ক্রিম। এগুলো ব্যবহার করলে দাদ কখনো ভালো হবে না।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইউনাইটেড হাসপাতালের ডার্মাটোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. জিনাত মেরাজ।

দাদের ওষুধ এখন খুব স্লো কাজ করে। এজন্য ধৈর্য ধরে টানা চার-পাঁচ মাস দাদের ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। দাদের জন্য যেসব ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন- অক্সিফান লোশন, ফাঙ্গিট্যাক ক্রিম, লিউলিজল ক্রিম (Lulizol Cream), ক্লোট্রিমেজোল ক্রিম, ফাঙ্গিডাল ক্রিম (Fungidal cream)। এছাড়া নতুন ইবারকোনাজল ক্রিম (eberconazole cream) পাওয়া যায় এখন।

এ ধরনের ক্রিম চার মাস ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া আপনার সঙ্গে যারা থাকে, বাচ্চা হোক বা স্বামী-স্ত্রী হোক তাদের সাবান ব্যবহার করতে হবে। কিটোকোনাজোল ও লুলিকোনাজোল সাবান পাওয়া যায়। এই সাবান গায়ে মেখে পাঁচ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

আর যার দাদ হয়েছে তার ক্ষেত্রে গোসলের ১৫ মিনিট আগে সারা শরীরে কিটোকোনাজোল শ্যাম্পু লাগাতে হবে। অথবা সাইক্লোপাইরক্স শ্যাম্পু লাগাতে পারেন। শ্যাম্পু লাগানোর পর কাপড় পরতে হবে। আধা ঘণ্টা পর গোসল করতে হবে।

এই কাজটা শীতকালে সপ্তাহে তিনবার করতে পারেন। কিন্তু এটা অনেক সময় নিয়ে করতে হবে, অন্তত চার-পাঁচ মাস। এটা না করলে ঘন ঘন আপনাকে ওষুধ পরিবর্তন করতে হবে। চিকিৎসকরা আরও কঠিন কঠিন ওষুধ দেবেন, কিন্তু আপনার দাদ ভালো হবে না, আরও অনেক ঝামেলা হবে।

সূত্র: ডক্টর টিভি

ওমিক্রনের নতুন উপধরন আরও বেশি সংক্রামক
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এর প্রভাবে মৃদু উপসর্গ দেখা দিলেও ঝুঁকি বাড়ছে লং কোভিডের। করোনার এই ভ্যারিয়েন্টের স্পাইক প্রোটিনে ঘটেছে নানা পরিবর্তন।

ফলে ভাইরাসটি অনেক দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ওমিক্রন আতঙ্কের মধ্যেই নতুন করে এর উপধরন মিলেছে অনেক কোভিড আক্রান্তের শরীরে। নতুন গবেষণা বলছে, সেই উপধরন নাকি ওমিক্রনের তুলনায় দেড়গুণ বেশি সংক্রামক।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ওমিক্রন বিএ১ এর তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক বিএ২। সম্প্রতি ডেনমার্কের এক সংস্থা স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউট এই গবেষণা করেছে।

এই সংস্থার তথ্যমতে, ওমিক্রনের বিএ১ এর তুলনায় বিএ২ অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি এই বিএ২ উপধরন প্রধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, ওমিক্রনের এই উপধরন এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন- ডেনমার্ক, কাতার, নেপাল, ফিলিপিনস ও ভারতসহ প্রায় ৫৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

তবে আক্রান্তদের মধ্যে তেমন কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা যায়নি। ওমিক্রনের দুই ধরনের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই বলেই জানা যাচ্ছে।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই উপধরনগুলোর বিরুদ্ধেও দারুণ কাজ করবে ভ্যাকসিন। যারা করোনার দুটি ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন, তাদের তেমন চিন্তার কোনো কারণ নেই।

গবেষণাটি করা হয়েছে ডিসেম্বর ২০২১-২০২২ এর মধ্যে। এই গবেষণায় অংশ নেয় ৮০০০ পরিবার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভয় পেয়ে কোনো লাভ নেই। বরং থাকতে হবে সতর্ক।

তাই সবারই উচিত এ সময় করোনাবিধি মেনে চলা। একমাত্র মাস্ক পরার মাধ্যমেই নিরাপদ থাকা সম্ভব। পাশাপাশি হাত ধুতে হবে নিয়মিত।

স্যানিটাইজারও ব্যবহার করুন প্রয়োজন অনুসারে। আর অবশ্যই নিতে হবে করোনা ভ্যাকসিন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া/ইন্ডিয়াটিভিনিউজ

কোথায় কতক্ষণ বেঁচে থাকে ওমিক্রন?
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। করোনার এই ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে একদেশ থেকে অন্য দেশে। বিশেষজ্ঞরা একেই বলছেন করোনার তৃতীয় ঢেউ।

বিশ্বব্যাপী বেড়েই চলেছে ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা। গত বছরের শেষ দিকে এই ভাইরাস দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া যায়। তখনই বিজ্ঞানীরা এই ভ্যারিয়েন্টের পরীক্ষায় ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন।

দেখা যায়, এই ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনে ঘটেছে অনেক পরিবর্তন। স্পাইক প্রোটিনের পরিবর্তনের কারণেই ভাইরাসটি হয়ে উঠেছিল মারাত্মক। তাই সবাইকেই এই ভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন বিজ্ঞানীরা।

ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই গবেষণা শুরু করেন বিজ্ঞানী। এই ভাইরাস এতটা দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যায় কীভাবে?

এর একটি কারণ হলো স্পাইক প্রোটিনে মিউটেশন। এ ছাড়াও আর কী কী কারণ থাকতে পারে, তার খোঁজেই লেগে পড়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি জাপানের কিয়োটো প্রিফেকচারাল ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিনের গবেষকরা জানতে পেরেছেন কোথায় কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে ওমিক্রন।

করোনার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ওমিক্রন বেশি সময় প্লাস্টিক ও ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে। এই বেঁচে থাকার ক্ষমতাই করোনার অন্যান্য ধরনের চেয়ে ওমিক্রনকে আলাদা করেছে।

কোথায় কতক্ষণ বাঁচে ওমিক্রন?

প্লাস্টিকের উপর করোনার মূল স্ট্রেন ৫৬ ঘণ্টা, আলফা ১৯১.৩ ঘণ্টা, বিটা ১৫৬ ঘণ্টা, গামা ৫৯.৩ ঘণ্টা, ডেল্টা ১১৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। আর ওমিক্রন বাঁচতে পারে ১৯৩.৫ ঘণ্টা।

এক্ষেত্রে ত্বকের উপর আসল করোনা ভাইরাস ৮.৬ ঘণ্টা, আলফা ১৯.৬ ঘণ্টা, ১৯.১ ঘণ্টা বিটা, ১১ ঘণ্টা গামা, ১৬.৮ ঘণ্টা ডেল্টা ও ওমিক্রন বাঁচতে পারে ২১.১ ঘণ্টা।

এ সক্রিয়তার কারণেই ওমিক্রন ছড়িযে পড়ছে দ্র্রুত। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। মাস্ক ছাড়া একেবারেই চলাফেরা করা যাবে না।

সূত্র্র: রয়টার্স/এনডিটিভি/ডেসার্টনিউজ

বিরল রোগে আক্রান্ত ৬ ভাই-বোনের বিশ্বরেকর্ড
                                  

ফিচার ডেস্ক : তিন ভাই তিন বোন একই রোগে আক্রান্ত। স্বাভাবিক আর দশজন মানুষের চেয়ে তাদের শরীর চামড়ার রং একেবারেই ভিন্ন। একটু বেশিই সাদা। সেই সঙ্গে চুল, চোখের পাপড়ি, ভ্রু সবই সাদা। জন্মগতভাবেই তারা এই জিনগত রোগে আক্রান্ত। পাকিস্তানের একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম এই ৬ ভাই-বোনের।

নাসিম আখতার, গোলাম আলী, হায়দার আলী, মুকাদাস বিবি, মুসারত বেগম এবং সবচেয়ে ছোট মোহাম্মদ রফি। তবে এজন্য তারা নাম লিখিয়েছেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। ২০২১ সালের মে মাসে অ্যালবিনো রোগে আক্রান্ত এই ভাইবোনকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

অ্যালবিনিজম এক ধরনের জেনেটিক অবস্থা। যা শরীরে মেলানিন উৎপাদন করে। মেলানিন শরীরের একটি রাসায়নিক যা ত্বক, চুল এবং চোখের রঙ নির্ধারণ করে। রাসায়নিকটি অপটিক্যাল নার্ভের বিকাশের সঙ্গেও জড়িত। এর ঘাটতি হলে শরীরের রং পরিপূর্ণভাবে বিকাশ পায় না।

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত দম্পতি আসলাম পারভেজ এবং শামীম আখতারের ছয় সন্তান তারা। তারা দুজনই এই রোগে আক্রান্ত জন্ম থেকেই। মূলত বাবা-মা দুজনের এই সমস্যা থাকলে তা সন্তানদের মধ্যেই দেখা যায়।

ছোট থেকে তারা তাদের শরীরের রঙের জন্য নানান ঝামেলার মুখোমুখি হয়েছেন। স্কুলে পড়তে গিয়ে শৈশবেই হয়েছেন বৈষম্যের শিকার। অন্যান্য ছেলেমেয়েরা এই সাদা রঙের জন্য ভয়ে কাছে আসত না। তা তাদের বন্ধুর সংখ্যাও ছিল খুবই কম। তবে যতই বড় হয়েছেন, নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন এসবের সঙ্গে।

ছোট ভাই রাফি বলেন, তাদের ছয় ভাইবোন সবারই দৃষ্টিশক্তি দুর্বল ছিল। যে কারণে সবসময় তারা একে অপরকে সাহায্য করেছেন। তারা বিশ্বাস করতেন, যেহেতু তাদের দৃষ্টিশক্তি ততটা ভালো নয়, তাই সবাই একসঙ্গে থাকলে কেউ তাদের ক্ষতি করতে পারবে না।

ভাইবোনরা সবসময় তাদের বড় বোন নাসিম আখতারের প্রতিনিধিত্ব করা নিরাপদ আশ্রয়ের উপর নির্ভর করেছেন। নাসিম আখতার কাজ করেন NHS পুনর্বাসন কর্মকর্তা হিসেবে।

নাসিমা বলেন, তিনি সবার বড় এবং তিনি আগেই সব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন। তাই তার ভাইবোনরা যেন তার মতো বাধার সম্মুখীন হতে না হয় এজন্য সব সময় তাদের পরামর্শ দিয়েছেন, আগলে রেখেছেন।

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডের এই স্বীকৃতি তাদের জীবনকে অনেক সহজ করবে। এমনকি তাদের মতো সমাজে আরও যারা আছেন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। একই সঙ্গে অন্যদেরও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সহায়তা করবে বলে মনে করেন তিনি।

সূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস

খাওয়ার ধরনই বলে দেবে আপনি কেমন!
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : আপনি কীভাবে বসেন, হাঁটেন কিংবা কথা বলেন, এমনকি কপালের ভাঁজ, তিল ইত্যাদি আপনার সম্পর্কে অনেক কিছুই প্রকাশ করে। তবে কি জানেন, খাবার খাওয়ার ধরন দেখেও কিন্তু টের পাওয়া যায় আপনার ব্যক্তিত্ব কেমন? নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন! চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক-

>> যারা ধীরে ধীরে খাবার খায়, তাদের সাধারণত অনেক ধৈর্য থাকে। তারা প্রতিটি কামড়ের স্বাদ গ্রহণ করতে ভালোবাসেন। এজন্য খেতে সময় নেন। যা ধৈর্যের বহিঃপ্রকাশ।

এ ধরনের মানুষেরা তাদের কর্মজীবনেও একই প্যাটার্ন অনুসরণ করে। যদিও ধীরে ধীরে খাওয়ার বিষয়টি আশেপাশের মানুষের কাছে বিরক্তির কারণ হতে পারে।

>> অনেকেই দ্রুত খাবার খান, তারা মাল্টিটাস্কার। এমন ব্যক্তিরা কখনো সময়সীমা মিস করেন না। প্রকৃতপক্ষে তারা নির্দিষ্ট কোনো কাজ আগে থেকেই করে রাখেন। এ ধরনের লোকেরা খুব প্রতিযোগিতামূলক হন।

>> যদি খাওয়ার সময় অন্যের প্লেটে সার্ভিং করতে পছন্দ করেন, তাহলে আপনি একজন গোছানো স্বভাবের ব্যক্তি। যিনি মানুষের প্রতি যত্নবান।

এমন ব্যক্তিরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকেন। অগোছালো ও অপরিষ্কার ঘর-বাড়ি বারবার গোছানোর অভ্যাস থাকে তাদের।

>> আপনি যদি কষ্ট করে রান্না না করে রেস্টুরেন্টে কিংবা অনলাইনে অর্ডার করেই বেশিরভাগ সময় খেয়ে থাকেন, তাহলে আপনি অবশ্যই অলস ব্যক্তি।

এ ধরনের মানুষদের ব্যর্থ হওয়ার ভয় থাকে। তবে তারা শিখতে ও প্রশ্ন করতে আগ্রহী থাকেন অন্যদের চেয়ে।

>> খাওয়ার সময় কি আপনার প্লেট অগোছালো হয়ে থাকে! সব তরকারি মিলিয়ে কিংবা খাবার প্লেটে ছড়িয়ে খান? এমন দৃশ্য দেখতে নোংরা লাগলেও, যারা এভাবে খান তারা কিন্তু খুব বন্ধুত্বপূর্ণ ও কাজের ক্ষেত্রেও দায়িত্ববান হন।

তারা কাজ পছন্দ করেন। এমন ব্যক্তিরা জানেন কীভাবে তাদের প্রিয়জনকে সময় দিতে হয়। তবে কখনো কখনো তারা সময়জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

>> যারা নতুন নতুন খাবার খেতে আগ্রহী কিংবা পরীক্ষামূলক খাবার তৈরি করতে পছন্দ করেন, তারা স্বভাবতই জীবনে ঝুঁকি নিতে পারেন। এমন ব্যক্তিরা সব সময় রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়ার চেষ্টা করেন। তারা প্রচণ্ড সাহসী হন।

>> অনেকেই খাওয়ার সময় শব্দ করে খান। যদিও এ অভ্যাস অন্যের বিরক্তির কারণ হতে পারে। তবে জানেন কি, এ ধরনের মানুষেরা বহির্মুখী ও খুব বন্ধুত্বপূর্ণ হন। অন্যরা তাকে নিয়ে কী ভাবছেন, সে বিষয়ে ভাবেন না এমন ব্যক্তিরা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

দাঁড়িয়ে পানি পান করে যেসব ক্ষতি করছেন নিজের
                                  

পানি কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, শরীরে পানির ভারসাম্যও ঠিক রাখে। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী কতটা পানি কোন কোন কাজে ব্যবহৃত হবে তার মাত্রাও ঠিক হয়। চিকিৎসকদের মতে, দাঁড়িয়ে পানি পান করার চেয়ে বসে পানি পান করা অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। শরীরের পেশি, হাড়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবস্থান, সবকিছুর সাথে সামঞ্জস্য রেখেই পান করতে হবে পানি। রক্তচাপ, স্নায়বিক ক্রিয়াকলাপ, কিডনির কার্যকারিতা ইত্যাদি নানা দিক খতিয়ে দেখে, বসে পানি পানেরই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

হেলথ কেয়ার ডট কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী দাঁড়িয়ে পানি পানের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে তুলে ধরা হলো-

স্নায়বিক উত্তেজনার দিক খতিয়ে দেখলে বসে পানি পান করাই ভালো। চিকিৎসকদের মতে, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে স্নায়ু উত্তেজিত হয় ও রক্তচাপ বেড়ে যায়।

বেশিরভাগ সময়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়। শরীরের ভেতরের ছাঁকনিগুলি কুঁচকে যায় ও নেফ্রনগুলো শরীর থেকে টক্সিন সরানোর সুযোগ পায় কম। তাই শরীরকে পরিশ্রুত করার কাজ বাধা পায়।

দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে ধাক্কা দেয়। পাচকরসের ক্ষরণ কমে হজমের সমস্যা দেখা যায়।

এভাবে পানি খেলে তা হৃদযন্ত্রের ওপরেও অতিরিক্ত চাপ ফেলে। বুকের পেশির উপর এই চাপের ফলে বিষম খাওয়া থেকে শুরু করে শ্বাসরোধ পর্যন্ত হতে পারে।

পানি পানের নিয়ম:

শরীর অনুযায়ী পানির প্রয়োজন বাড়ে-কমে। নিজের শরীরে কতটুকু পানি প্রয়োজন তা জেনে নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে। এক জায়গায় বসে ছোট ছোট চুমুকে ধীরেসুস্থে পানি খান। পানি পান করার সময় কথা বলার চেষ্টা বা হাঁপাতে হাঁপাতে পানি পান করলে তা যেকোনো সময় শ্বাসনালীতে গিয়ে বড় বিপদ ঘটাতে পারে। তাই এড়িয়ে চলুন সেসব।

শীতে বাড়ছে চর্মরোগের প্রকোপ
                                  

শীত এলেই প্রকৃতি হয়ে উঠে ধুলিজীর্ণ। ঘরে-বাইরে চলে ধুলোর উৎসব। আর তাতে সব বয়সী মানুষের ত্বকে শুষ্কতাজনিত সমস্যা দেখা দেয়। অনেকের হাত-পা ফাটা শুরু হয়। দেখা দেয় সোরিয়াসিস নামক চর্মরোগ।

উত্তরের পাহাড় ডিঙিয়ে বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে জেঁকে বসছে শীত। প্রতিদিনই তাপমাত্রা একটু একটু করে কমছে। বিশেষত দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো এরইমধ্যে শীতে কাঁপতে শুরু করেছে। এতে করে দেশের সারাদেশেই হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতকালীন চর্মরোগের প্রকোপ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সরেজমিনে মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ ধরনের রোগীর চাপ দেখা গেছে।

ঢামেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫৫০-৬০০ জন রোগী আসে। শীতে সব মিলিয়ে রোগীর কম এলেও আগের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়েছে চর্ম রোগীর সংখ্যা। আগে এ বিভাগটিতে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী এলেও শীত শুরুর পর দৈনিক গড়ে ১৫০ বা তারও বেশি রোগী আসছে। যেন শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চর্মরোগী।

সকালে হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগে রোগীর চাপ কিছুটা কম থাকলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে সংখ্যা অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ লাইন দেখা যায় পুরুষ ও নারী রোগীদের। ওই বিভাগের সামনে কথা হয় চর্ম রোগের ডাক্তার দেখাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আসা জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, হাঁটু ও পায়ে চুলকানি। গরমের সময় ভালোই থাকে তেমন অসুবিধা হয় না। কিন্তু শীত এলেই সমস্যা বাড়ে। বেশি চুলকায়, টানে। আগে কখনো আসিনি। এবারই প্রথম এখানে ডাক্তার দেখাতে এলাম। এতদিন অন্য জায়গায় ডাক্তার দেখিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

শীত এলেই হাতের চামড়া উঠা শুরু হয়। বাড়ে এলার্জিও- বলছিলেন রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে একই বিভাগে ডাক্তার দেখাতে আসা রিয়াজ উদ্দিন।

চর্ম রোগে মাঝ বয়সী বা বৃদ্ধরাই ভুগছে, তা নয়। শীতে এ রোগে শিশু-কিশোরদেরও ভোগান্তি বাড়ছে। মায়ের সাথে ডাক্তার দেখাতে আসা ১৫ বছর বয়সী কিশোর সাইমন ইসলাম হোসেন জানায়, শরীরের দুই উরুর দুপাশে চুলকায়। গরমের সময় এমন হয় না। শীত এলেই একটু একটু চুলকানো শুরু হয়। পরে তা বাড়তে থাকে।

শীতজনিত চর্মরোগীর চাপ কেমন এবং কী ধরনের রোগীর আধিক্য, এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ঢামেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগের চিকিৎসক সাইদুর রহমান শামীম বলেন, শীতকালে কিছু বিশেষ চর্মরোগ ছাড়া মোট রোগীর সংখ্যা কমই। তবে এ সময়টাতে খুশকি, শুষ্কতাজনিত ত্বকের রোগ, হাত-পা ফাটা রোগ, জন্মগত এলার্জিজনিত রোগ ও চুল পড়া রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সঠিক চিকিৎসায় এসব রোগ থেকে দ্রুতই মুক্তি মেলে। শীত কমে এলে এ ধরনের রোগীর সংখ্যাও কমবে।

হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. ফারহানা নিশাদ বলেন, শীতকালে শুষ্কতা বেড়ে যাওয়ায় চুলকানিও বাড়ে। ফলে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও অনেক বেড়ে যায়। সময়মতো চিকিৎসা নিলে চর্মরোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় সহজে। চর্মরোগীদের ক্রিম ব্যবহারসহ পানি কম ধরা ও গরম পানি ব্যবহার করা জরুরি। এসব রোগীর ক্ষেত্রে আমরা শীতকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ভালো মানের ওলিভ ওয়েলসহ ত্বক ভালো রাখার ক্রিম ব্যবহারেরও পরামর্শ দিই।

সূত্র: জাগো নিউজ

বাঁধাকপি খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়
                                  

শীতের সবজি বলতে যেগুলোর কথা মাথায় আসে, তার মধ্যে অবশ্যই থাকে বাঁধাকপি। কেউ বলে পাতাকপি, কেউবা বাঁধাকপি। তবে নামে নয়, গুণে পরিচয় এই সবজির। নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই বাঁধাকপি কিন্তু হালের কোনো সবজি নয়, বরং এর চাষ হয়ে আসছে চার হাজার বছর ধরে। চীন, মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপ আর মেসোপটেমিয়ায় বাঁধাকপি আবাদের ইতিহাস মেলে।

বাঁধাকপি খাওয়া যায় কাঁচা, রান্না করে ও শুকিয়ে। এর পুষ্টিগুণও কোন পদ্ধতিতে খাওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে। এক কাপ আধা সেদ্ধ বাঁধাকপিতে পাওয়া যায় আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সির তিন ভাগের এক ভাগ।

এতে ম্যাঙ্গানিজ, ডায়াটারি ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন এ থাকায় শরীরে ছোট-বড় কোনো রোগকেই ধারে কাছে ঘেঁষতে দেই না।

বাঁধাকপিতে রয়েছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। এর ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস কোষকে সজীব রাখে, কোষের প্রদাহ দূর করে, ফোলা কমায়; যা ক্যানসার, হার্টের অসুখ, ডায়বেটিস প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়।

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে থাকায় এই সবজিটি নিয়মিত খেলে ব্রেন পাওয়ারও বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে নার্ভের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে।

এর ফাইবার হজমে সহায়তার পাশাপাশি পাকস্থলী ও অন্ত্রের ভেতরের অংশকে শক্তিশালী করে এবং পাকস্থলীর আলসার নিরাময় করে।

আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে বাঁধাকপি হয়। তাই পুষ্টির জন্য বেশি বেশি খেতে পারি এই সবজি। শীতকালজুড়ে রাখতে পারি সালাদে। আর এই বাঁধাকপি দিয়ে নানা ধরনের পদও রান্না হয়ে থাকে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় গাজর
                                  

অনলাইন ডেস্ক : গাজর একটি শীতকালীন সবজি। তবে এখন প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। পুষ্টিগুণে ভরপুর গাজর কাঁচা ও রান্না দু’ভাবেই খাওয়া যায়। গাজরের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা-

১. ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে: গাজর ক্যান্সার প্রতিরোধক। গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত গাজর খেলে ফুসফুস, স্তন, কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায় অনেকটাই।

২. দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে: গাজরে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন। এই বিটা ক্যারোটিন লিভারে পৌঁছে ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়, যা চোখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. হার্ট ভালো রাখে: গাজরে থাকা প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই উপাদানগুলো হার্টের ধমনির ওপর কোনো আস্তরণ জমা হতে দেয় না। সেই সঙ্গে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

৪. দাঁত ভালো রাখে: দাঁতের সুস্থতার জন্যও গাজর বেশ উপকারী। গাজরের রস দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া এতে ভিটামিন ‘সি’ থাকায় মাড়ির সুস্থতা বজায় রাখে। মাড়ি ফোলা ও দাঁত থেকে রক্ত পড়ার মতো সমস্যার সমাধানেও গাজর বেশ উপকারী।

৫. স্মৃতিশক্তি বাড়ে: গাজরে থাকা প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন মস্তিষ্কের ক্ষয় রোধ করে। তাই মস্তিষ্কেও শক্তি বৃদ্ধি করতে বেশি করে গাজর খান।

শতবর্ষী বৃদ্ধা অনায়াসে তুলতে পারেন ৬০ কেজি
                                  

ফিচার ডেস্ক : বয়স একটি সংখ্যা মাত্র। কোনো কাজে বাঁধা হতে পারে না এই সংখ্যা। মনের অদম্য ইচ্ছা আপনাকে যে কোনো বয়সে এনে দেবে সাফল্য। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শত বছরেও দিব্যি ওজন তুলছেন এই নারী।

ফ্লোরিডার এডিথ মুরওয়ে ট্রায়না ১০০ বছর বয়সে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠালেন। তাও আবার সবচেয়ে বেশি বয়সের পেশাদার ভারোত্তোলক হিসেবে।

জীবনের ১০০টি বসন্ত পার করে এডিথে শরীরে এখন বয়সের ছাপ। কাঁধ একটু সামনের দিকে ঝুঁকে গিয়েছে। কিন্তু ইচ্ছে শক্তিতে এতটুকু ভাটা পড়েনি। এক সময় নাচের শিক্ষিকা ছিলেন এডিথ। ৯১ বছর বয়সে প্রথম ভারোত্তোলন শুরু করেন এডিথ।


বন্ধু কারমেন গাটওর্থের আমন্ত্রণে তার জিমে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই অন্যান্যদের ভারোত্তোলন করতে দেখেন। সকলে পারলে তিনি পারবেন না কেন? বয়সের তোয়াক্কা না করেই শুরু করে দেন ভারোত্তোলন। প্রথম প্রথম সমস্যা হতো। তবে ধীরে ধীরে ভার তোলা এডিথের অভ্যাসে পরিণত হয়।

এখন নাকি প্রায় ৬০ কেজি ওজন তুলতে পারেন এডিথ। আর এর জন্য বিভিন্ন জায়গায় পুরস্কারও পেয়েছেন। এবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের খাতাতেও নাম লিখিয়ে ফেললেন শতায়ু। ফ্লোরিডার এডিথ হয়ে উঠেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সের পেশাদার ভারোত্তোলক।


নিজের এই কৃতিত্বে এডিথ তো খুশিই, তার চেয়েও বেশি আনন্দিত বন্ধু তথা ট্রেনার কারমেন। সাফল্যের পরও প্রশিক্ষণে একদিনও কামাই নেই এডিথে। আরও বেশি ওজন নিজের হাতে তুলতে চান তিনি।

সূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড

আপনার বাসায় কি ফ্রিজে ডিম রাখেন, অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আপনার বাসার ফ্রিজে ডিম রাখেন? তাহলে অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ এবং বাড়াচ্ছেন মারাত্মক অসুখের ঝুঁকি, গবেষকরা এমনটাই মত দিয়েছেন! গবেষকদের দাবি, ফ্রিজে ডিম রাখা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। গবেষকদের মতে, ফ্রিজের তাপমাত্রা শূন্যরও অনেক নিচে থাকে বলে খাবার রাখা নিরাপদ, সহজে নষ্ট হয়ে যায় না। কিন্তু ফ্রিজে ডিম রাখলে তার মধ্যে একধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়।

আমরা রান্না করার সময় সাধারণত ফ্রিজ থেকে ডিম বের করে সরাসরিই ব্যবহার করে ফেলি! তাই ডিমে জন্ম নেওয়া ব্যাকটেরিয়া জীবিত অবস্থায় থাকে এবং খাদ্যে বিষক্রিয়া ও নানা রকম সংক্রমণ ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, ফ্রিজে ডিম রাখার পদ্ধতি বিশ্বকে শিখিয়েছিল আমেরিকা। ফ্রিজে ডিম রাখলে তা বেশি দিন ভালো থাকে। বাইরে ডিম রাখলে কয়েক দিনের মধ্যেই খারাপ হয়ে যায়। তারপর থেকেই গোটা দুনিয়া এই নিয়মে অভ্যস্ত হয়েছে, এমনকি ফ্রিজের সব-মডেলেই ডিম রাখার জন্য আলাদা তাক থাকে।
বাইরে বেশিদিন ডিম রাখলে খারাপ হয়ে যায়, এদিকে ফ্রিজেও ডিম রাখা নিরাপদ নয়, জন্ম নেয় ক্ষতিকারক ব্যকটিরিয়া! তাহলে উপায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কয়টা ডিম লাগবে সে কয়টা ডিমই কিনুন এবং রান্না করে ফেলুন। অযথা বেশি ডিম কিনে জমিয়ে রাখবেন না।সুস্বাস্থ্যের জন্য ডিমের প্রতি নির্ভরশীল থাকেন অনেকেই। শরীরে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি রূপচর্চার কাজেও উপকারী এই ডিম। তবে ডিম কেবল খাওয়া বা রূপচর্চাতেই কাজে লাগে এমন ভাবলে মস্ত ভুল করবেন। আমরা জানিও না দৈনন্দিন কাজে ডিম অনেকভাবে ব্যবহার করা যায়:

# কন্ডিশনার: হঠাৎ কন্ডিশনার ফুরিয়ে গিয়েছে? চিন্তার কারণ নেই। অলিভ অয়েল আর ডিমের কুসুম একসঙ্গে মিশিয়ে শ্যাম্পুর পর লাগিয়ে রাখুন চুলে। বাজারচলতি কন্ডিশনারের চেয়ে এই ঘরোয়া ব্যবহারে চুল ভাল হবে.
# গাছের জন্য: ডিম সেদ্ধর পর সেই জল ও ডিমের খোলা গুঁড়িয়ে গাছের গোড়ায় দিন। ডিমের খোলা গাছের শরীরে ক্যালসিয়ামের জোগান বাড়াতে খুব কার্যকর। গাছকে নানা পতঙ্গের হাত থেকেও বাঁচায় ডিমের খোলা।
# গয়না পরিষ্কার: রূপোর গয়না দিন কয়েক পরলেই কালো হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। বাতাসের অক্সিজেনের প্রভাবেই এমনটা হয়। ডিম এই গয়নাগুলোকে পরিষ্কার করে ঝকঝকে করে দিতে পারে সহজেই। ডিম অনেক ক্ষণ ধরে খুব শক্ত করে সেদ্ধ করে নিতে হবে এ ক্ষেত্রে। এর পর খোসা ছাড়িয়ে দু`ভাগ করে কুসুম ছাড়িয়ে নিন। এ বার সেই কুসুম একটি ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রেখে হাত দিয়ে ঝুরঝুরো করে গুঁড়িয়ে নিন। এ বার তাতে হালকা কোনও পেপার টাওয়েল বিছিয়ে তার উপর রাখুন রুপোর গয়নাগুলো। পাত্রের মুখের চার পাশে ময়দার প্রলেপ লেপে বায়ুনিরুদ্ধ করে বন্ধ করে দিন। দু`দিন পর সেই গয়নাগুলো বার করলেই দেখবেন, কালো ভাব একেবারে উধাও। ডি-অক্সিডাইজার হিসেবে ডিমের এই ব্যবহার নানা গয়নাতেও ব্যবহার করা হয় রক্ত বন্ধ করতে: দুর্ঘটনাবশত কেটে গেলে দেখা যায় অনেক সময় রক্ত বন্ধ হতে চায় না। এ সময় ডিমকে কাজে লাগান। এমনিতে বাড়িতে ডিম মজুত থাকে প্রায় সকলেরই। কিংবা কোথাও পিকনিকে গেলে ডিম সেদ্ধ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া আমাদের বরাবরের অভ্যাস। সেদ্ধ ডিমের খোলা ও সাদা অংশের মাঝে যা পাতলা খোসা থাকে তা ছাড়িয়ে নিন। সেই খোসা ক্ষতস্থানে চেপে ধরে থাকলেই রক্ত বন্ধ হবে দ্রুত। এমনকি দ্রুত ক্ষতের দাগ মেলাতেও এটি বেশ কার্যকর।

ভিটামিন `ডি`র ঘাটতি পূরণে রোদে কখন কীভাবে থাকতে হবে
                                  

অনলাইন ডেস্ক : গরমের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে ভিটামিন `ডি` ঘাটতিজনিত সমস্যা বেড়েই চলেছে। এর কারণ কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন ডি একটি স্টেরয়েড হরমোন, যা শরীরে প্রোটিন তৈরিতে নিয়ন্ত্রণকারীর ভূমিকায় থাকে এবং এর ঘাটতি হলে শিশু থেকে বয়স্ক সবারই নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শরীরে এর ঘাটতি হলে শিশুদের রিকেট রোগ হয় অর্থাৎ পা বেঁকে যেতে পারে, মাথার খুলি বড় হয়ে যেতে পারে। বেশিদিন এই রোগে ভুগলে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে। আবার বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড়ক্ষয় কিংবা ব্যথাসহ নানা সমস্যা তৈরি হয় ভিটামিন ডি-র অভাব থেকেই। একইসাথে বেড়ে যায় দৈহিক ওজন কিংবা প্রয়োজনীয় ওজন না হওয়ার সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

এসব কারণেই এ ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে রক্তে ভিটামিন ডি-র মাত্রা পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। তবে বাংলাদেশে ঠিক কত মানুষ ভিটামিন ডি-র ঘাটতিতে ভুগছেন তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই।
ঢাকার মাতুয়াইল মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহমুদা হোসেন বলেছেন, শহরে প্রায় সবার মধ্যেই ভিটামিন-ডি`র ঘাটতিজনিত সমস্যা আছে।

তিনি বলেন, `এটি সত্যি, তেমন কোনো গবেষণা আমরা পাইনি। কিন্তু করোনার সময়কাল বিবেচনা করলেও অনুধাবন করা যায় যে, গ্রাম বা শহরে মাঠে-ঘাটে যারা কায়িক শ্রমের কাজ করে, তাদের মধ্যে এ সমস্যা কম। কারণ, তারা সরাসরি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকে।`

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বিশ্বের অন্তত ১০০ কোটি মানুষেরই ভিটামিন ডি`র ঘাটতি আছে এবং তারা এ সমস্যাকে গ্লোবাল হেলথ প্রবলেম বলে আখ্যায়িত করেছে।

আর এ সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় সঠিক নিয়ম ও সময় দিয়ে সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকা।

রোদের দেশেও কেন ভিটামিন ডি ঘাটতি?

ডা. মাহমুদা হোসেন বলেছেন, শহরে বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা কমে যাচ্ছে, কিন্তু যারা বেরুচ্ছে তারাও পর্যাপ্ত সময় রোদে থাকে না কিংবা রোদে থাকলেও পোশাকের কারণে শরীর সরাসরি রোদ পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, বিশেষ করে শহর এলাকাগুলোতেই বেশি হচ্ছে। কারণ, এখানে বাইরে খোলা জায়গা কম - যেখানে মানুষ সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকতে পারে।

`আবার যারা বেরুচ্ছে, তারা কিন্তু হয় যানবাহনে বা রোদে হাঁটলেও পোশাকে পরিপূর্ণ ঢাকা থাকছে।`

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যাবিষয়ক পরিচালক কাওসার আফসানা বলেছেন, ভিটামিন ডি সূর্যের আলো থেকে প্রয়োজনমতো পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে পোশাকটা সত্যিকার অর্থেই বড় একটি বাধা। কারণ, পুরো শরীর এমনকি হাত-পা পুরোটা ঢেকে বাইরে যায় ছেলে-মেয়ে সবাই। ফলে হাত ও পায়ে পর্যন্ত সূর্যের আলো লাগে না।

`এ কারণে গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে ভিটামিন ডি ঘাটতির প্রবণতা ব্যাপক। অন্যদিকে সূর্যালোকে পর্যাপ্ত সময় না থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশে এর টেস্ট করার খরচটা বেশি হওয়ার কারণে, এটি পরীক্ষা করার প্রবণতা তুলনামূলক কম।`

তিনি বলেন, করোনার শুরুর দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিন্তু সতর্ক করেছে যে, ভিটামিন ডি ঘাটতি যেন না হয়। কারণ, এই ঘাটতি আছে এমন কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার প্রভাব কিন্তু বেশি হবে।

রোদে কখন কীভাবে থাকতে হবে?

মাহমুদা হোসেন বলেছেন, সানলাইট বা সূর্যের আলো শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। সাধারণত সকাল ১০টার পর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময়টুকুতে সূর্যের আলোর সাথে যে রশ্মি আসে, সেটাই শরীরের জন্য বেশি উপকারী।

তিনি বলেন, শারীরিক সক্রিয়তা এবং সাথে সূর্যের আলো- এগুলো সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

কাওসার আফসানা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের শরীরের গড় রং তুলনামূলক কালো, তাই সাদাদের তুলনায় এখানকার মানুষদের একটু বেশি সময় রোদে থাকতে হবে সূর্যের আলো থেকে পাওয়া ভিটামিন `ডি` শরীরে যথাযথভাবে গ্রহণের জন্য।

`এখানে বাচ্চাদের শরীর কিছুটা উন্মুক্ত রাখা কিংবা মাঠেঘাটে কৃষক শ্রমিকরা খালি গায়ে কাজ করেনন, তারা ভিটামিন ডি বেশি পেয়ে থাকেন। শহরে সেভাবে সম্ভব না হলেও অন্তত হাত ও পায়ে যেন সূর্যের আলো লাগে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।`

সূর্যই কি ভিটামিন ডির একমাত্র উৎস?

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ভিটামিন ডির অন্যতম উৎস। সূর্য যখন প্রখর থাকে, তখনই অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে পৌঁছায়। কিন্তু এর বাইরে দুধ, কুসুমসহ ডিম এবং চর্বিযুক্ত খাদ্যে ভিটামিন ডি থাকে।

মাহমুদা হোসেন বলেছেন, এর বাইরে কারও ভিটামিন ডি দরকার হলে প্রয়োজনে চিকিৎসক সাপ্লিমেন্টারি ওষুধ দিতে পারেন। তিনি বলেন, বয়স্কদের ক্ষেত্রে সমস্যা অনেক বেশি, তাই বয়স্কদেরও রোদে যাওয়া উচিত ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য।

ড. কাওসার আফসানা বলেছেন, সঠিক নিয়মে সূর্যের আলোতে থাকলে এবং ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

তবে কাচের জানালার ভেতরে থেকে রোদ উপভোগ করলে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় না এবং যারা বাইরে সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন - তারাও সানস্ক্রিনের কারণে রোদ থেকে ভিটামিন ডি নিতে পারেন না।

এসব কারণে সানস্ক্রিন ছাড়াই রোদে বের হওয়া এবং রোদে থাকার সময় অন্তত হাত পা ও মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন কাওসার আফসানা ও মাহমুদা হোসেন।

যদিও শুধু খাবার থেকে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ডি পাওয়া একটু কঠিন হতে পারে। তবে মাছ, ডিম, দইয়ের মতো খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি রয়েছে।

ভিটামিন ডি কেন প্রয়োজন?

সুস্থ হাড়, দাঁত এবং পেশির জন্য ভিটামিন `ডি`র প্রয়োজন সেকথা আমরা অনেকেই জানি। আমরা জানি ভিটামিন ডি`র অভাবে হাড় ঠিকমতো গড়ে ওঠে না এবং শিশুরা রিকেট নামে রোগের শিকার হতে পারে এবং প্রাপ্তবয়স্করা অস্টিওম্যালাসিয়া নামে দুর্বল হাড়ের রোগে ভুগতে পারেন।

কিন্তু এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন ডি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে।

কোনো কোনো গবেষণা বলছে, শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রার ভিটামিন ডি থাকলে তা সাধারণ সর্দিজ্বর এবং ফ্লু-তেও সাহায্য করে। তবে তারা একথাও বলছেন, এই গবেষণার তথ্যপ্রমাণ সবক্ষেত্রে একরকম নয়। কিছু রকমফেরও আছে।

ব্রিটেনের পুষ্টিবিষয়ক বিজ্ঞান গবেষণা উপদেষ্টা কমিটি এখন একটি গবেষণা চালাচ্ছে, যাতে দেখা হচ্ছে সংক্রমণজনিত বক্ষব্যাধিতে ভিটামিন ডি ঠিক কীভাবে কাজ করে।


   Page 1 of 12
     লাইফস্টাইল
নাক-কান-গলার ক্যানসার কেন হয়, কী করবেন?
.............................................................................................
চুল দ্রুত ঘন ও লম্বা করবেন যেভাবে
.............................................................................................
প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচাবে ৫ পানীয়
.............................................................................................
গরমে ঈদের পোশাক যেমন হবে
.............................................................................................
দাদের চিকিৎসায় জেনে নিন করণীয়
.............................................................................................
ওমিক্রনের নতুন উপধরন আরও বেশি সংক্রামক
.............................................................................................
কোথায় কতক্ষণ বেঁচে থাকে ওমিক্রন?
.............................................................................................
বিরল রোগে আক্রান্ত ৬ ভাই-বোনের বিশ্বরেকর্ড
.............................................................................................
খাওয়ার ধরনই বলে দেবে আপনি কেমন!
.............................................................................................
দাঁড়িয়ে পানি পান করে যেসব ক্ষতি করছেন নিজের
.............................................................................................
শীতে বাড়ছে চর্মরোগের প্রকোপ
.............................................................................................
বাঁধাকপি খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়
.............................................................................................
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় গাজর
.............................................................................................
শতবর্ষী বৃদ্ধা অনায়াসে তুলতে পারেন ৬০ কেজি
.............................................................................................
আপনার বাসায় কি ফ্রিজে ডিম রাখেন, অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ
.............................................................................................
ভিটামিন `ডি`র ঘাটতি পূরণে রোদে কখন কীভাবে থাকতে হবে
.............................................................................................
শীতে জুতো-মোজা পরলে পায়ে বাজে গন্ধ হচ্ছে?
.............................................................................................
হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় রেইনবো ডায়েট
.............................................................................................
জলপাই দিয়ে টক-ঝাল আচার তৈরির রেসিপি
.............................................................................................
শীতকালে সুস্থ থাকতে ৯টি পরামর্শ
.............................................................................................
রেসিপি : প্রেসার কুকারে রসগোল্লা তৈরি
.............................................................................................
শীতে ত্বক সজীব রাখতে যা খাবেন
.............................................................................................
রেসিপি : বুন্দিয়ার লাড্ডু
.............................................................................................
কলার চিপস
.............................................................................................
চিকেন চিজ বল তৈরির রেসিপি
.............................................................................................
শীতে যে ৫টি ফলে ত্বক হবে উজ্জ্বল
.............................................................................................
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে কী হয়?
.............................................................................................
রেসিপি: গাজরের সন্দেশ
.............................................................................................
ত্বক ভালো রাখতে চিনির ব্যবহার
.............................................................................................
কফি পান করলে কমবে চর্বি
.............................................................................................
অতিরিক্ত চুল পড়া কমাতে যা করবেন
.............................................................................................
চুলের খুসকি দূর করতে সাহায্য করে নিম পাতা
.............................................................................................
করোনায় জুসের বদলে যা খাবেন
.............................................................................................
শীতে ঠোঁট ফাটা রোধে যা করবেন
.............................................................................................
করোনা: মোবাইল ফোন জীবাণুমুক্ত রাখতে কী করবেন
.............................................................................................
পূজার রেসিপি : খাসির কষা মাংস
.............................................................................................
পেঁয়াজ সংরক্ষণের ৮ উপায়
.............................................................................................
শরতের সাজ
.............................................................................................
অ্যালোভেরার এই গুণগুলো জানতেন?
.............................................................................................
চিকেন খাবসা তৈরির রেসিপি জেনে নিন
.............................................................................................
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যা খাবেন
.............................................................................................
প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়ার উপকারিতা
.............................................................................................
স্তন ক্যান্সারের ৫ লক্ষণ
.............................................................................................
খুসকি সমস্যার সমাধান
.............................................................................................
খালি পেটে কলা খাওয়ার আগে যা করবেন
.............................................................................................
ওজন বেড়েছে? নিয়ন্ত্রণে আনবেন যেভাবে
.............................................................................................
ঠাণ্ডার সমস্যায় ভিটামিন সি
.............................................................................................
তেজপাতার ৫ ঔষধি গুণ
.............................................................................................
যে ৫ ভুলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে
.............................................................................................
বাড়িতে বসে নিজেই করা যাবে করোনা টেস্ট, আসছে `ম্যাজিক কিট`
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Dynamic Scale BD