| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * একাদশ জাতীয় সংসদের ১৫তম অধিবেশন শুরু ১৪ নভেম্বর   * আগামীকাল প্রেসক্লাব কোলকাতায় `বঙ্গবন্ধু সংবাদ কেন্দ্র` উদ্বোধন করবেন তথ্যমন্ত্রী   * শীতে ত্বক ও পা ফাটা রোধে এখনই যা করবেন   * ২০২২ সালের পর উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থাকবে না: তাপস   * আফগান ইস্যুতে ইরানে ছয় দেশের বৈঠক   * অভিমান করে হাঁটছিলেন রেললাইনে, বাঁশঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণ   * গুলশানের দগ্ধ ৩ জন শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে   * এসএসসি পরীক্ষায় নজরদারি থাকবে ফেসবুক-টুইটারে   * বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক সপ্তাহের মধ্যেই টিকাদান   * জাতীয় প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবে  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
যে আমলকারীকে জান্নাতি বলেছেন বিশ্বনবি

মিয়া আবদুল হান্নান : আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ মর্মে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আল্লাহর ইবাদত কর আর তার সঙ্গে কাউকে শরিক করো না’ যারা এ নির্দেশনা মেনে চলবে; তাদের জান্নাতি বলেছেন বিশ্বনবি। বিশেষ কয়েকটি গুণের অধিকারীদের জান্নাতি বলেছিলেন প্রিয় নবি। জান্নাতি লোকদের সেসব গুণ কী কী?

জান্নাতে যাওয়ার জন্য শিরকমুক্ত থাকার বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা কখনো শিরকের গুনাহ ক্ষমা করবেন না। যুগে যুগে মানুষকে শিরকমুক্ত রাখতেই অসংখ্য নবি-রাসুলের আগমন ঘটেছে। তবে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপমাসহ জান্নাতি ব্যক্তির পরিচয় তুলে ধরেছেন এভাবে-


১. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, এক বেদুইন (সাহাবি) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন, যা পালনে আমি জান্নাতে যেতে পারি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন-

> আল্লাহর ইবাদাত করবে;

> তার সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না;

> ফরজ নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে;

> ফরজ জাকাত আদায় করবে;

> রমজান মাসে রোজা পালন করবে।

সে (বেদুইন সাহাবি) বললেন, ‘ওই আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ; আমি এর চেয়ে বেশি করব না।

যখন বেদুইন (সাহাবি) ফিরে যাচ্ছিল; তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (উপস্থিত সাহাবাদের) বললেন, যে জান্নাতি কোনো ব্যক্তিকে দেখতে পছন্দ করে, সে যেন এ ব্যক্তিকে দেখে নেয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)

২. হজরত আবু আইয়ুব আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায়, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে এমন একটি আমল শিখিয়ে দিন; যে আমল আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। সেখানে উপস্থিত সবাই বলল- তার কী হয়েছে? তার কী হয়েছে?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-

> তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে;

> আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না;

> নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে;

> জাকাত আদায় করবে এবং

> আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে।

একে ছেড়ে দাও। হাদিস বর্ণনাকারী বলেন, তিনি ঐ সময় তাঁর সাওয়ারির ওপর ছিলেন। (বুখারি ও মুসলিম)

উভয় হাদিসে ইবাদত দ্বারা উদ্দেশ্য কী হতে পারে?

কোরআন-সুন্নাহর গবেষণায় ইসলামিক স্কলারদের মতে এর দ্বারা ৪টি বিষয় উদ্দেশ্য; তাহলো-

১. আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা যাবে না। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। শুধু আল্লাহরই ইবাদত করতে হবে।

২. আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করা যাবে না। সব বিষয়ে শুধু আল্লাহকেই ভয় করতে হবে। ভালো কাজ করায় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকায় আল্লাহকেই ভয় করতে হবে।

৩. আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে কোনো কিছু না চাওয়া বা প্রত্যাশা করা। চাইতে হবে শুধু আল্লাহর কাছে। তিনি মানুষকে সবকিছু দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

৪. আল্লাহকে ছাড়া আর কারও উপর ভরসা করা যাবে না। সব বিষয়ে মহান আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার উপর ভরসাকারীদে স্বয়ং আল্লাহ ভালোবাসেন।

সুতরাং কোনো মুমিন যদি হাদিসের অনুসরণে শিরকমুক্ত ঈমানের সঙ্গে নামাজ, জাকাত, রোজা এবং আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রেখে ইবাদত-বন্দেগি করে তবে তার জন্য জান্নাত সুনিশ্চিত।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, হাদিসে নির্দেশিত জান্নাতি ব্যক্তি হওয়ার জন্য উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করা। নিজেদের জান্নাতি হিসেবে তৈরি করতে শিরকমুক্ত ঈমান নিয়ে নামাজ, রোজা, জাকাত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী শিরকমুক্ত থাকার পাশাপাশি নামাজ, রোজা, জাকাত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রেখে নিজেদের ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত রাখার তাওফিক দান করুন। দুনিয়াতে থেকেই সুনিশ্চিত জান্নাতের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে আমলকারীকে জান্নাতি বলেছেন বিশ্বনবি
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ মর্মে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আল্লাহর ইবাদত কর আর তার সঙ্গে কাউকে শরিক করো না’ যারা এ নির্দেশনা মেনে চলবে; তাদের জান্নাতি বলেছেন বিশ্বনবি। বিশেষ কয়েকটি গুণের অধিকারীদের জান্নাতি বলেছিলেন প্রিয় নবি। জান্নাতি লোকদের সেসব গুণ কী কী?

জান্নাতে যাওয়ার জন্য শিরকমুক্ত থাকার বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা কখনো শিরকের গুনাহ ক্ষমা করবেন না। যুগে যুগে মানুষকে শিরকমুক্ত রাখতেই অসংখ্য নবি-রাসুলের আগমন ঘটেছে। তবে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপমাসহ জান্নাতি ব্যক্তির পরিচয় তুলে ধরেছেন এভাবে-


১. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, এক বেদুইন (সাহাবি) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন, যা পালনে আমি জান্নাতে যেতে পারি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন-

> আল্লাহর ইবাদাত করবে;

> তার সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না;

> ফরজ নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে;

> ফরজ জাকাত আদায় করবে;

> রমজান মাসে রোজা পালন করবে।

সে (বেদুইন সাহাবি) বললেন, ‘ওই আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ; আমি এর চেয়ে বেশি করব না।

যখন বেদুইন (সাহাবি) ফিরে যাচ্ছিল; তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (উপস্থিত সাহাবাদের) বললেন, যে জান্নাতি কোনো ব্যক্তিকে দেখতে পছন্দ করে, সে যেন এ ব্যক্তিকে দেখে নেয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)

২. হজরত আবু আইয়ুব আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায়, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে এমন একটি আমল শিখিয়ে দিন; যে আমল আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। সেখানে উপস্থিত সবাই বলল- তার কী হয়েছে? তার কী হয়েছে?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-

> তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে;

> আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না;

> নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে;

> জাকাত আদায় করবে এবং

> আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে।

একে ছেড়ে দাও। হাদিস বর্ণনাকারী বলেন, তিনি ঐ সময় তাঁর সাওয়ারির ওপর ছিলেন। (বুখারি ও মুসলিম)

উভয় হাদিসে ইবাদত দ্বারা উদ্দেশ্য কী হতে পারে?

কোরআন-সুন্নাহর গবেষণায় ইসলামিক স্কলারদের মতে এর দ্বারা ৪টি বিষয় উদ্দেশ্য; তাহলো-

১. আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা যাবে না। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। শুধু আল্লাহরই ইবাদত করতে হবে।

২. আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করা যাবে না। সব বিষয়ে শুধু আল্লাহকেই ভয় করতে হবে। ভালো কাজ করায় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকায় আল্লাহকেই ভয় করতে হবে।

৩. আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে কোনো কিছু না চাওয়া বা প্রত্যাশা করা। চাইতে হবে শুধু আল্লাহর কাছে। তিনি মানুষকে সবকিছু দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

৪. আল্লাহকে ছাড়া আর কারও উপর ভরসা করা যাবে না। সব বিষয়ে মহান আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার উপর ভরসাকারীদে স্বয়ং আল্লাহ ভালোবাসেন।

সুতরাং কোনো মুমিন যদি হাদিসের অনুসরণে শিরকমুক্ত ঈমানের সঙ্গে নামাজ, জাকাত, রোজা এবং আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রেখে ইবাদত-বন্দেগি করে তবে তার জন্য জান্নাত সুনিশ্চিত।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, হাদিসে নির্দেশিত জান্নাতি ব্যক্তি হওয়ার জন্য উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করা। নিজেদের জান্নাতি হিসেবে তৈরি করতে শিরকমুক্ত ঈমান নিয়ে নামাজ, রোজা, জাকাত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী শিরকমুক্ত থাকার পাশাপাশি নামাজ, রোজা, জাকাত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রেখে নিজেদের ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত রাখার তাওফিক দান করুন। দুনিয়াতে থেকেই সুনিশ্চিত জান্নাতের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঈদে মিলাদুন্নবী : আল্লাহর রহমতে সিক্ত হওয়ার দিন
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : ধুলির ধরায় রহমতের ভান্ডার নিয়ে এসেছেন প্রিয় নবি। বিশ্বব্যাপী তাঁরই জন্মদিন উপলক্ষ্যে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠছে মুমিন মুসলমান। মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর রহমতে সিক্ত হওয়ার দিন আজ। কিন্তু কীভাবে? কোন উপায়ে রহমত পেয়ে ধন্য হবে মুমিন?

কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবির প্রতি দরূদ ও সালাম তথা রহমত বর্ষণের বিষয়টি ঘোষণা করেছেন এভাবে-
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ নবির ওপর রহমত নাজিল করেন এবং ফেরেশতারাও তাঁর জন্য রহমত কামনা করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ পড় এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও।’


এ আয়াতের উপর আমল করেই দরূদ ও সালাম পাঠের মাধ্যমে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর আজকের দিনে আল্লাহর অফুরন্ত রহমত পেয়ে ধন্য হওয়ার সর্বোত্তম দিন আজ। ঈমানদার মুমিন মুসলমান আজ প্রিয় নবির প্রতি সালাম জানাবে এভাবে-
‘আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ’ অর্থাৎ হে আল্লাহর রাসুল! আপনার প্রতি সালাত ও সালাম।’

আল্লাহ তাআলা নিজেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর রহমত বর্ষণ করেন ফেরেশতারাও রহমতের দোয়া করেন আর এ নির্দেশ ঈমানদার মানুষের প্রতিও।

অফুরন্ত রহমতে যেভাবে সিক্ত হবে মুমিন
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতিবিজড়িত বেলাদাত, নবুয়ত, হিজরত ও ওফাত উপলক্ষ্যে তাঁর স্মরণ ও তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরূদ ও সালামে মিলবে অফুরন্ত রহমত। কেননা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণেই রয়েছে ক্ষমা ও রহমত প্রাপ্তি ঘোষণা। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা প্রমাণিত। তাহলো-
১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ‘যে আমার ওপর একবার দরূদ পড়বে, বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করবেন। (মুসলিম, তিরমিজি)

২. হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পড়বে আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত বর্ষণ করবেন। তার ১০টি গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তার জন্য রহমতের ১০ দরজা খুলে দেয়া হবে। (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ)


৩. হজরত আমের ইবনে রবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (খুতবা দেয়ার সময়) বলতে শুনেছি, ‘আমার ওপর দরূদ পাঠকারী যতক্ষণ দরূদ পড়তে থাকবে, ফেরেশতারা তার জন্য ততক্ষণ দোয়া করতে থাকে। সুতরাং বান্দার ইচ্ছা যে, সে দরূদ বেশি পড়বে না কম পড়বে।’ (মুসনাদে আহমদ, ইবনে মাজাহ)

৪. হজরত রুওয়াইফি ইবনে ছাবিত আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এ দরূদ পাঠ করবে তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে।’ (তাবারানি, ইবনে বাযযার)

৫. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন ওই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে কাছাকাছি হবে, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরূদ পড়েছে।’ (তিরমিজি)

৬. হজরত উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আল্লাহর জিকিরের খুব তাগিদ দিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ করে থাকি। আমি আমার দোয়ার কতভাগ আপনার জন্য নির্ধারণ করব? তিনি বললেন, তোমার যে পরিমাণ ইচ্ছা।
আমি বললাম, চারভাগের এক ভাগ? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। তবে বেশি করলে আরও ভালো।
আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। তবে বেশি করলে আরও ভালো।
আমি বললাম, তাহলে তিন ভাগের দুই ভাগ? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা হয়। তবে বেশি করলে আরও ভালো।
আমি বললাম, তাহলে কি আমার দোয়ার পুরোটাই হবে আপনার প্রতি দরূদ? তিনি বললেন, তবে তো তোমার উদ্দেশ্য হাসিল হবে। তোমার গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ (তিরমিজি, তাবারানি)

৭. হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে মুসলমানের দান করার সামর্থ্য নেই সে যেন তার দোয়ায় বলে-
اَللهُمَّ صَلِّى عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَ رَسُوْلِكَ وَ صَلِّى عَلَى الْمُؤمِنِيْنَ وَ الْمُؤمِنَات وَ المُسْلِمِيْنَ وَ الْمُسْلِمَات
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিকা ওয়া সাল্লি আলাল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।’
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসুলিকা ওয়া সাল্লি আলাল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।’ এটা (দরূদ) ওই ব্যক্তির জন্য জাকাত তথা সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (ইবনে হিব্বান)

৮. মুমিনের দরূদ ও সালাম শুনেন প্রিয় নবি
মুমিন মুসলমানের পড়া দরূদ ও সালাম প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌছানো হয়। দরূদ পৌছানোর দায়িত্ব আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা নিযুক্ত করে রেখেছেন। এ ফেরেশতা মদিনায় প্রিয় নবির রওজায় দরূদ পাঠকারীর পরিচয়ও পেশ করেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার জমিনে বিচরণকারী (এমন) কিছু ফেরেশতা আছেন, তাঁরা আমার কাছে উম্মতের পক্ষ থেকে পাঠানো সালাম পৌঁছে দেয়।’ (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ)

মনে রাখতে হবে
দরূদবিহীন কোনো দোয়াই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না বরং তা আসমান এবং জমিনের মাঝে ঝুলে থাকে, যা আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। হাদিসে এসেছে-
হজরত উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘যে পর্যন্ত না তুমি তোমার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ না পড়বে ততক্ষণ এ দোয়া আসমানে যাবে না বরং তা আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলে থাকবে।’ (তিরমিজি)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বমানবতার জন্য রহমত ও অনুপম আদর্শ। তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণ করতে কুরআনে পাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাঁর প্রতি দরূদ পাঠেই যদি এত বেশি ফজিলত লাভ করা যায়। তবে তার হুকুম আহকাম কিংবা দিকনির্দেশনা পালন করলে মুমিনের মর্যাদা কতবেশি হবে তা অনুমেয়।

সুতরাং রবিউল আউয়াল হোক মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ গ্রহণের মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ গ্রহণে কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনাই হোক মুমিন মুসলমানের দীপ্ত প্রত্যয়। আদর্শ গ্রহণের যে ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা-
‘অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (চরিত্রের) মধ্যে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। (সুরা আহযাব : আয়াত ২১)’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবির সর্বোত্তম আদর্শ গ্রহণে ঈদে মিলাদুন্নবীর আজকের দিনে বেশি বেশি দরূদ পাঠের মাধ্যমে উল্লেখিত ফজিলত ও অফুরন্ত রহমত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
                                  

অনলাইন ডেস্ক : আজ বুধবার ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। পরে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনেই তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

এই দিনটি পালন করতে দেশব্যাপী নানা আয়োজন করেছে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সারাবিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার (২০ অক্টোবর) এক বাণীতে বলেন, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। মহানবী (সা.)- এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। করোনা মহামারিসহ আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে প্রিয় নবী (সা.) এর অনুপম জীবনাদর্শ, তার সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মসজিদে-মসজিদে এবং নিজ-নিজ বাসায় কোরআন খতম ও জিকির আজকারের মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামিনের বিশেষ রহমত কামনা করেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পক্ষকালব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলাসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর উদ্যোগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনীর উপর পক্ষকালব্যাপী আলোচনা সভা ও মাহফিলসহ বিশেষ কর্মসূচি মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকেই পালন শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার (১৭ অক্টোবর) এক প্রজ্ঞাপনে ১৯ অক্টোবরের (মঙ্গলবার) পরিবর্তে ২০ অক্টোবর (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি পুর্ননির্ধারণ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আজ ১৯ অক্টোবর ২০২১ মঙ্গলবার। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি। ২৯ আগষ্ট ৫৭০ ঈসায়ী সোমবার এ দিন মানব জাতির শিরোমণি মহানবী হজরত মুহম্মদ হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম ও ওফাতের দিন।এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সাঃ) নামে পরিচিত। প্রায় এক হাজার চারশত ৪৩ বছর আগে এই দিনে আরবের মরু প্রান্তরে মা আমিনার কোল আলো করে ১২ রবিউল আউয়াল জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ ( সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) আবার ১২ রবিউল আউয়াল এই দিনে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। মোট জীবনকাল বাইশ হাজার তিনশত ৩০ দিন।

এক সময় গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।

তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানান অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃংখলা। এ যুগকে বলা হতো আইয়ামে জাহেলিয়াত। তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং মূর্তিপূজা করত। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহ তাআলা রাব্বুল ইজ্জৎ রাসুলুল্লাহকে (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে প্রেরণ করেন এই ধরাধামে। মহানবী অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেম অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। পঁচিশ বছর বয়সে মহানবী হজরত বিবি খাদিজাতুল কুবরা(রা.) নামের এক ধর্ণাঢ্য মহিলার সঙ্গে ১২ রবিউল আউয়াল অহি লাভের ১৫ বছর আগে (সাদি মোবারক)- বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নব্যুয়ত প্রাপ্ত হন। আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করেন। পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’। আল-কুরআন : রাসুলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি আপনাকে গোটা মানব জাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্ররণ করেছি (সুরা সাবা: ২৮ আয়াত, সুরা আরাফ: আয়াত,১৮৮) আপনাকে প্রেরন করছি বিশ্বজগতের প্রতি রহমত হিসাবে( সুরা আম্বিয়াঃ আয়াত-১০৭), যাতে তোমরা আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনো এবং রাসুলকে সাহায্য করো ও সম্মান করো (সুরা ফাত্হ,আয়াত: ৯), যারা আল্লাহ্ ও তার রাসুলকে অমান্য করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি ( সুরা, জিন: আয়াত: ২৩)আমি প্রতেক রাসুলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি যাতে তিনি তার কাছে স্পষ্টভাবে(দ্বীনকে) উপাস্থাপন করতে পারেন ( সুরাঃইবরাহিম,আয়ত: ৪) রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তর আদর্শ ( উসওয়াতুন হাসানা, সুরা আহযাব, আয়াতঃ ২১)।তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রের উচ্চতম স্তরে অধিষ্ঠিত ( সুরা-কলম,আয়াতঃ৪)।হে মু`মিনগণ! তোমরাও নবীর জন্যে দরূদ পড় এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও( সুরা: আহযাব-আয়াতঃ ৫৬)।
সব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বালাগাল উলা বি কামালিহী, কাশাফাদ্দুজা বিজামালিহী, হাসুনাত জামিউ খিসালিহী, সল্লু আ`লাই ওয়া আলিহী। অর্থাৎঃ- সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছিলেন তিনি নিজ মহিমায়, কাটিল তিমির রাত তাঁর নুরের আভায়,চরিত্র মাধুর্য তাঁর মনোরম, তাঁর উপরে ও বংশ পরে দরুদ ও সালাম। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে। ঈদে মিলাদুন্নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলক্ষে মুসলিমবিশ্ব মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণে ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানান।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এ উপলক্ষে আজ থেকে বায়তুল মোকাররমের উত্তর চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজন থাকছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় মসজিদে প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিল, সপ্তাহব্যাপী সেমিনার, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান, রাসুল করিম (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর, কেরাত মাহফিল, হামদ-নাত প্রতিযোগিতা, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও শিক্ষাবিষয়ক আলোচনা সভা। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি মৃত্যুর উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নত খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হিংসা ও অহংকার নেক আমল ধ্বংস করে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মানুষের জীবনের সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতিকারক দিক হলো হিংসা ও অহংকার। হিংসা এবং অহংকার মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনকে করে তুলে বিষময়। হিংসা মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে করে তুলে দুর্বিষহ ও বিষময়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, আল্লাহর জমিনে তোমরা দম্ভ ভরে চল না, কেননা তুমি কখনই এ জমিন বিদীর্ণ করে এর নিচে যেতে পারবে না, আর উচ্চতায় তুমি কখনো পর্বতসমানও হতে পারবে না। (সুরা বনী ইসরাইল, আয়াত ৩৭)।

সুরা হুজরাতের ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, হে ইমানদারগণ, তোমাদের কোনো সম্প্রদায় যেন অপর কোনো সম্প্রদায়কে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়েও উত্তম। আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়েও উত্তম। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না।
ইমানের পর মন্দ নামে ডাকা কতই না নিকৃষ্ট। যারা এ আচরণ থেকে ফিরে না আসবে তারা জালেম। আমাদের মনে রাখতে হবে হিংসা-বিদ্বেষ একটি মারাত্মক ব্যাধি। হিংসুক ব্যক্তি যখন হিংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয় তখন তাকে পরিত্যাগ করা অবশ্য কর্তব্য।

মানুষ কেন একজন আরেকজনকে হিংসা করে? সমাজবিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে তা হলো- পরশ্রীকাতরতা, শত্রুতা, দাম্ভিকতা, একে অপরকে ঈর্ষা করা, নেতৃত্ব পাওয়া, নিজেকে যোগ্য ভাবা, ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল করা, ক্ষমতা পাওয়া ইত্যাদি।

হিংসুক ব্যক্তি মনে করে সে-ই সমাজে সম্মানিত ও দামি আর সবাই তার চেয়ে নগণ্য। এ জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হিংসা-বিদ্বেষ থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য পবিত্র কোরআনে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

সুরা ফালাকের ৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে- ‘হিংসুক ব্যক্তির হিংসার অনিষ্ট থেকেও আমি তোমার আশ্রয় চাই, যখন সে হিংসা করে।’

নবী করিম (সা.) বলেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাক। কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়, যেমন আগুন কাঠের টুকরাকে খেয়ে ফেলে। (জ্বালিয়ে দেয়)। (আবু দাউদ, মিশকাত)।

হিংসুটেকে সমাজে কেউ পছন্দ করে না। সবাই তাকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখে। সমাজে সবার সঙ্গে বসবাস করলেও কেউ তাকে ভালো জানে না।

সুরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন সেজন্য কি তারা তাদের ঈর্ষা করে?

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনও ঈর্ষাকারীকে পছন্দ করেন না। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে অহংকারও অনেক বড় গুনাহের কাজ। আমাদের মনে রাখতে হবে অহংকারের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছিল প্রথম পাপ।

অহংকারীকে আল্লাহতায়ালা কখনো পছন্দ করেন না। কবিরা গুনাহর মধ্যে অহংকার অন্যতম। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বুঝে না বুঝেই অহংকার করি। যা কাম্য নয়। কারণ অহংকাই পতনের মূল।

আল্লাহ বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব, যারা আমার ইবাদত নিয়ে অহংকার করে তারা শিগগিরই অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সুরা মুমিন (৪০), আয়াত ৬০)।

অহংকারবশত ইবলিশ আল্লাহর আদেশ অমান্য করল এবং আদমকে সেজদা না করার দরুন জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হলো।

সুন্দর চরিত্র জান্নাতের সোপান
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : নৈতিকতা মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণ। মানুষের বাহ্যিক কথাবার্তা, আচার-ব্যবহার, আলাপচারিতা, লেনদেন সর্বোপরি পুরো দৈনন্দিন জীবনযাপনে নৈতিকতার প্রভাব ফুটে ওঠে। আখলাক এর আরবি প্রতিশব্দ। বিখ্যাত আরবি ভাষাবিদ আল্লামা আবদুল কাহির আল জুরজানি এর পরিচিতিতে বলেন, ‘অন্তরের প্রতিক্রিয়া যা বাহ্যিক আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো ধরনের চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ পায়। তার কর্ম ভালো হলে তা উত্তম চরিত্র বলে গণ্য হবে। আর কর্ম মন্দ হলে তা মন্দ চরিত্র হিসেবে গণ্য হবে। (আত তারিফাত, পৃষ্ঠা : ১০১)

নৈতিকতার মাপকাঠি : পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে নৈতিকতার মূল কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়দের দানের নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করেছেন, তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।’ (সুরা : নাহাল, আয়াত : ৯০)

মহানবী (সা.)-এর চরিত্রের নমুনা : মহানবী (সা.) ছিলেন উত্তম চরিত্রের সব গুণাবলির আধার। তাঁর সব গুণে মুগ্ধ ছিলেন পরিচিতজনরা। সাআদ বিন হিশাম (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, হে উম্মুল মুমিনিন, আমাকে মহানবী (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে কিছু বলুন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আপনি কি পবিত্র কোরআন পাঠ করেননি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, করেছি। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র ছিল কোরআনসদৃশ।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৪৬)
সুন্দর চরিত্র জান্নাতের সোপান : আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, মানুষকে সবচেয়ে জান্নাতে নেবে এমন কিছু সম্পর্কে রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ভয় ও সুন্দর চরিত্র।’ অতঃপর মানুষকে যা জাহান্নামে নেবে এমন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, মুখ ও লজ্জাস্থান।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৪)

অজ্ঞদের এড়িয়ে চলার নির্দেশ : মহান আল্লাহ প্রিয়নবী (সা.)-কে সমাজের অজ্ঞদের অবান্তর প্রশ্ন এড়িয়ে চলতে বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি ক্ষমা অবলম্বন করুন। সৎকাজের নির্দেশ দিন এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলুন।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৯৯)

অনৈতিকতা ও পাপাচার পরিহার : মহানবী (সা.) সব ধরনে অনৈতিকতা ও পাপাচার পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন। আবু জর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) আমাকে বলেন, ‘তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় করো। মন্দ কাজ করে ফেললে এরপর ভালো কাজ করো। তাহলে মন্দের কাজের গুনাহ মুছে দেবে। মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৭)

আল্লাহ মানুষের কাজ দেখেন : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের অবয়ব দেখেন না। তোমাদের আকার-আকৃতিও দেখেন না। তবে তিনি তোমাদের অন্তর ও কর্মগুলো দেখেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)

জুমার দিনের সুন্নাত আমল
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : সপ্তাহের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার দিন জুমা। দিনভর আমল ইবাদতের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। জুমার দিনের সুন্নাত আমলগুলো কী?

জুমার দিনের সেরা আমল

জুমার দিনের সেরা আমল নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে জুমার ফরজ নামাজ আদায়ে আগে আগে মসজিদে চলে আসা। মসজিদে প্রবেশ করে কাউকে অতিক্রম না করে নামাজ পড়ে খুতবা শোনার অপেক্ষায় বসে বসে থাকা। কারো সঙ্গে কথা না বলে চুপচাপ জিকির-আজকার করা। ইমামের খুতবা দেওয়া শুরু করলে তা মনেোযোগের সঙ্গে শোনা।

জুমার দিনের সুন্নাতি আমলের দিকনির্দেশনা

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার নামাজ পড়া ছাড়াও বিশেষ কিছু সুন্নাতি আমলের কথা একাধিক হাদিসের বর্ণনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তাহলো-

১. দোয়া করা

হজরত আবু লুবাবা ইবনু আবদুল মুনজির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমার দিন হলো সপ্তাহের দিনসমূহের নেতা এবং তা আল্লাহর কাছে বেশি সম্মানিত। এ দিনটি আল্লাহর কাছে কোরবানির দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে বেশি সম্মানিত। এ দিনে রয়েছে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য

আল্লাহ তাআলা এ দিনে আদমকে (আলাইহিস সালাম) সৃষ্টি করেন। এ দিনই আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীতে পাঠান আর এ দিনই আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করেন। এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে; যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে তখন তিনি তাকে তা দান করেন; যদি না সে হারাম জিনিসের প্রার্থনা করে। আর এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। (এ কারণে) নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারা, আসমান-জমিন, বায়ু, পাহাড়-পর্বত ও সমুদ্র সবই জুমার দিন শংকিত হয়।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহামদ, মিশকাত)

২. দরূদ পাঠ

হজরত শাদ্দাদ ইবনু আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিন আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে এবং তাতে বিকট শব্দ হবে। অতএব তোমরা এ দিন আমার উপর প্রচুর পরিমাণে দুরূদ পাঠ করো। তোমাদের দুরূদ অবশ্যই আমার কাছে পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কীভাবে আমাদের দুরূদ আপনার কাছে পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো অচিরেই মাটির সঙ্গে একাকার হয়ে যাবেন? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ নবিদের দেহ মাটির জন্য খাওয়া হারাম করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজাইমাহ, আবু দাউদ, মিশকাত)

৩. ইমামের পাশে বসে খুতবাহ শোনা

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে জুমার নামাজে এসে ইমামের কাছাকাছি হয়ে বসলো এবং নীরবে মনোযোগ সহকারে খুতবাহ শুনলো, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের এবং আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। আর যে ব্যক্তি কংকর স্পর্শ করলো, সে অনর্থক কাজ করলো।’ (ইবনে মাজাহ, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ, যদি না কবীরা গুনাহ করা হয়।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, তারগিব)

৪. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া

হজরত আওস ইবনু আওস আস-সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন (স্ত্রী সহবাসজনিত) গোসল করলো এবং নিজে গোসল করলো এবং সকাল সকাল যানবাহন ছাড়া পায়ে হেঁটে মসজিদে গিয়ে ইমামের কাছাকাছি বসলো, মনোযোগ সহকারে প্রথম থেকে খুতবাহ শুনলো এবং অনর্থক কিছু করলো না, তার জন্য প্রতি কদমে এক বছরের রোজা রাখা ও রাত জেগে নামাজ পড়ার সমান সাওয়াব রয়েছে।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

মনে রাখা জরুরি

যারা আগে আগে মসজিদে যাবে নীরবে ইমামের পাশ বসে খুতবাহ শুনবে তাদের জন্য কোরবানির সাওয়াব নির্ধারিত। হাদিসের বর্ণনা থেকেও তা প্রমাণিত-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জুমার দিন হলে মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং লোকেদের আগমনের ক্রমানুসারে তাদের নাম লেখেন। যেমন প্রথম আগমনকারীর নাম প্রথমে।

ইমাম যখন খুতবাহ দিতে বের হন, তখন তারা তাদের নথি গুটিয়ে নেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবাহ শোনেন। নামাজ এ প্রথম আগমনকারীর সাওয়াব একটি উট কোরবানিকারীর সমান; তারপরে আগমনকারীর সওয়াব একটি গরু কোরবানিকারীর সমান; তারপর আগমনকারীর সওয়াব একটি মেষ কোরবানিকারীর সমান; এমনকি তিনি মুরগী ও ডিমের কথা উল্লেখ করেন। অন্য বর্ণনায় সাহল ইবনু আবু সাহলের রেওয়ায়েতে আরও এসেছে, ‘এরপর যে ব্যক্তি আসে, সে কেবল নামাজ পড়ার সাওয়াব পায়।’ (ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তা মালিক, দারেমি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জুমার দিন নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা। আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ে হেঁটে মসিজদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া। জুমার দিন সুন্নাতি আমলে নিজেদের নিয়োজি রাখা। হাদিসের ওপর আমল করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিন যথাযথভাবে সুন্নাতি আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জুমার নামাজ কি ফরজ?
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : ইয়াওমুল জুমআ তথা শুক্রবার জোহরের সময় যে নামাজ পড়া হয় তাই জুমার নামাজ। সবার জানা আছে যে, জোহরের নামাজ ৪ রাকাত কিন্তু জুমা পড়া হয় ২ রাকাত। তাহলে জুমার নামাজ কি ফরজ? এ সম্পর্কে হাদিসের দিকনির্দেশনা কী?

হ্যাঁ, জুমার দিন জোহরের সময় ২ রাকাত নামাজ পড়া ফরজ। এটি মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের বিশেষ দিনের ফরজ ইবাদত। এ নামাজ পড়তে দ্রুত আসার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। কোরআনে এসেছে-


یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الۡبَیۡعَ ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ

‘হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বন্ধ কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ৯)

কোরআনের এ নির্দেশনা এবং হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী জুমার নামাজ ফরজ। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন-

হজরত জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘হে মানবমন্ডলী! তোমরা মরে যাওয়ার আগেই আল্লাহর কাছে তওবা করো এবং কর্মব্যস্ত হয়ে পড়ার আগেই সৎ কাজের দিকে দ্রুত ধাবিত হও। তাঁর অধিক জিকিরের মাধ্যমে তোমাদের রবের সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক স্থাপন করো এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে অধিক পরিমাণে দান-খয়রাত করো, এজন্য তোমাদের রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হবে, সাহায্য করা হবে এবং তোমাদের অবস্থার সংশোধন করা হবে।


তোমরা জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার এই স্থানে আমার এই দিনে, আমার এই মাসে এবং আমার এই বছরে তোমাদের উপর কেয়ামতের দিন পর্যন্ত জুমার নামাজ ফরজ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি আমার জীবদ্দশায় বা আমার ইন্তেকালের পরে, ন্যায়পরায়ণ অথবা জালেম শাসক থাকা সত্ত্বেও জুমার নামাজকে তুচ্ছ মনে করে বা অস্বীকার করে তা বর্জন করবে, আল্লাহ তার বিক্ষিপ্ত বিষয়কে একত্রে গুছিয়ে দেবেন না এবং তার কাজে বরকত দান করবেন না।

সাবধান! তার নামাজ, যাকাত, হজ, রোজা এবং অন্য কোনো নেক আমল গ্রহণ করা হবে না, যতক্ষণ না সে তওবা করে। যে ব্যক্তি তওবা করে, আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল করেন। সাবধান! নারী পুরুষের, বেদুইন মুহাজিরের এবং পাপাচারী মুমিন ব্যক্তির ইমামতি করবে না। তবে স্বৈরাচারী শাসক তাকে বাধ্য করলে এবং তার তরবারি ও চাবুকের ভয় থাকলে স্বতন্ত্র কথা।’ (ইবনে মাজাহ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় আসার আগেই এ দিন জুমার নামাজ পড়া হতো। হজরত আবু উমামাহ আসআদ ইবনু যুরারাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে বনু বাইয়াদার প্রস্তরময় সমতল ভূমিতে অবস্থিত ‘নাকিউল খাযামাত’-এ জুমার নামাজ পড়া শুরু হয়। ৪০ জন মুসল্লিসহ মদিনায় সর্ব প্রথম জুমার নামাজ পড়া হয়। সে সময় থেকে শুরু করে আজও তা অব্যাহত আছে। এ প্রসঙ্গে অন্য হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুর রহমান ইবনু কাব ইবনু মালিক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, আমার বাবা অন্ধ হয়ে গেলে আমি ছিলাম তার পরিচালক। আমি তাকে নিয়ে যখন জুমার নামাজ আদায় করতে বের হতাম; তিনি আজান শুনলেই আবু উমামাহ আসআদ ইবনু যুরারাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং দোয়া করতেন। আমি তাকে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া করতে শুনে কিছুক্ষণ থামলাম, এরপর মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ! কি বোকামী! তিনি জুমার আজান শুনলেই আমি তাকে আবু উমামাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া করতে শুনি, অথচ আমি তাকে এ ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করিনি? আমি তাকে নিয়ে (প্রতি জুমায়) যেমন বের হতাম, তদ্রূপ একদিন তাকে নিয়ে জুমার উদ্দেশে বের হলাম।

তিনি যখন আজান শুনলেন তখন তার অভ্যাস মাফিক ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে বাবা! জুমার আজান শুনলেই আমি কি আপনাকে দেখি না যে, আপনি আসআদ ইবনু যুরারাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তা কেন? তিনি বলেন, প্রিয় বৎস! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মক্কা থেকে (মদিনায়) আসার আগে তিনিই সর্বপ্রথম বনু বাইয়াদার প্রস্তরময় সমতল ভূমিতে অবস্থিত ‘নাকিউল খাযামাত’-এ আমাদের নিয়ে জুমার নামাজ পড়েন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা তখন কতজন ছিলেন? তিনি বলেন, চল্লিশজন পুরুষ।’ (ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ)

সুতরাং জুমার দিন জোহরের সময় ২ রাকাত জুমার নামাজ পড়া ফরজ। মুসলিম উম্মাহ এদিন আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক জুমার ফরজ নামাজ পড়তে দ্রুত মসজিদে ধাবিত হয়। ইসলামের দিকনির্দেশনাও এটি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিন আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত জুমা আদায়ে মসজিদে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। জুমার ফরজ নামাজ যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

অহংকার করা ইসলামে নিষিদ্ধ
                                  

অনলাইন ডেস্ক : অহংকার মানব জীবনের এক জঘন্য স্বভাব, যা মানুষের আত্মোপলব্ধিকে ভুলিয়ে দেয়। মানুষ নিজেকে শ্রেষ্ঠ ও অন্যকে হেয় জ্ঞান করতে থাকে। এ জন্য অহংকার করা ইসলামে নিষিদ্ধ।

আল্লাহ বলেন- তুমি পৃথিবীতে অহংকার করে চল না। নিশ্চয়ই তুমি জমিনকে ধ্বংস করতে পারবে না এবং পাহাড়ের উচ্চতায়ও পৌঁছতে পারবে না। (ইসরা ৩৭)।

আল্লাহতায়ালা অন্যত্র বলেন- এটা নিঃসন্দেহ যে, আল্লাহ জানেন যা তারা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে; তিনি অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (নাহল ২৩)।
আল্লাহতায়ালা অন্যত্র বলেন- অহংকারবশত তুমি মানুষকে অবজ্ঞা কর না এবং পৃথিবীতে অহংকার করে বিচরণ কর না, কারণ আল্লাহ কোনো অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (লুকমান ১৮)।

উপরিউক্ত আয়াতে আল্লাহতায়ালা দাম্ভিক ও অহংকারীকে অপছন্দ করেন বলে ঘোষণা করেছেন। মহান আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এ মানুষের মধ্যে কেউ সাদা, কেউ কালো, কেউ ধনী, কেউ গরিব। মানুষের মাঝে এ ভেদাভেদ আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন।

আবার সবার রিজিকের ব্যবস্থাও তিনি করেন। মানুষ কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কোনো না কোনো কাজে ও প্রয়োজনে তাকে অন্যের সাহায্য নিতে হয়। অপরের মুখাপেক্ষী হতে হয়। কাজেই অহংকার করা মানুষের সাজে না। অহংকারের পরিণতি সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আমাকে উপদেশ দিন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি রাগ কর না। সে কয়েকবার একই কথা জিজ্ঞেস করল, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেকবার একই জবাব দিলেন, তুমি রাগ কর না। (বুখারি, মিশকাত হা/৫১০৪)।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ওই ব্যক্তি শক্তিশালী নয় যে প্রতিপক্ষকে আছাড় দিয়ে ফেলে দিতে পারে। বরং সে ব্যক্তিই প্রকৃত শক্তিশালী, যে রাগের সময় নিজেকে সংযত করে রাখতে পারে। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৫)।

হজরত হারিছা ইবনে ওহাব (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- আমি কি তোমাদের জান্নাতি লোকের কথা বলব না? তারা হলো সরলতার দরুন দুর্বল, যাদের লোকেরা হীন, তুচ্ছ ও দুর্বল মনে করে। আল্লাহ তাদের এত ভালোবাসেন যে, তারা কোনো বিষয়ে কসম করলে তাদের সত্যে পরিণত করেন। তারপর নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদের কি জাহান্নামিদের কথা বলব না? তারা হলো, যারা অনর্থক কথা নিয়ে বিবাদ করে, আর যারা বদমেজাজি অহংকারী। (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৬)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তখন এক ব্যক্তি বলল, কেউ তো পছন্দ করে যে তার পোশাক ভালো হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, এটাও কি অহংকার? তিনি বললেন, আল্লাহ নিজে সুন্দর এবং সুন্দরকে পছন্দ করেন। অহংকার হলো, হককে অহংকার করে পরিত্যাগ করা এবং মানুষকে হীন ও তুচ্ছ মনে করা। (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৮)।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

শয়তানের চ্যালেঞ্জ ও আল্লাহর ক্ষমার নমুনা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : বান্দার গোনাহ ক্ষমা করায় আল্লাহ তাআলা কত মহান! শয়তান মানুষকে বিপথগামী করার যে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেছে, এর প্রেক্ষিতে বান্দা ইসতেগফার করলেই আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন মর্মে ঘোষণা দিয়েছেন। আবার ক্ষমার দরজার বিশালতার বিবরণও এসেছে হাদিসের বর্ণনায়। শয়তানের চ্যালেঞ্জ ও ক্ষমার বর্ণনায় কী সুসংবাদ দিয়েছেন বিশ্বনবি?

উম্মতে মুহাম্মাদিকে ক্ষমা প্রার্থনায় মনোযোগী হতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংখ্য হাদিসের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কেননা মহান আল্লাহ একাধিক আয়াত নাজিল করে বান্দাকে ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবার কথা বলেছেন। মহান আল্লাহ মুমিন বান্দাকে এ মর্মে নির্দেশ দিচ্ছেন যে-
১. وَأَنِ اسْتَغْفِرُواْ رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُواْ إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُم مَّتَاعًا حَسَنًا إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ وَإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنِّيَ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ كَبِيرٍ
‘আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশি করে (প্রতিদান) দেবেন আর যদি তোমরা বিমুখ হতে থাক, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা দিবসের আজাবের আশঙ্কা করছি।’ (সুরা হুদ : আয়াত ৩)


২. وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩১)

৩. يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يَوْمَ لَا يُخْزِي اللَّهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা কর- ‘আন্তরিক তওবা’। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মুচে দেবেন এবং তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করবেন; যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। আল্লাহ সেদিন নবি এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবে- হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৮)

আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা নির্দেশ এবং ফজিলত শুনে প্রিয় নবি উম্মতে মুহাম্মাদিকে বেশি বেশি ক্ষমা-প্রার্থনায় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি নিজেও প্রতিদিন ৭০/১০০ বার তাওবাহ করতেন। যা উম্মতের জন্য এক মহান শিক্ষা। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় ওঠে এসেছে-

১. ক্ষমা প্রার্থনায় বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া
হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-
‘ইবলিস তার রবকে বলেছে, আপনার ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম! আমি বনি আদমকে পথভ্রষ্ট করতেই থাকবো; যতক্ষণ তাদের মধ্যে রূহ থাকে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম! আমি তাদের ক্ষমা করতে থাকবো; যতক্ষণ তারা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা (তাওবাহ-ইসতেগফার) করে।’ (মুসনাদে আহমাদ)


উম্মতকে তাওবাহ-ইসতেগফারের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭০/১০০ বার তাওবা করতেন। হাদিসে এসেছে-
> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন ৭০ বারের বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করি।’ (বুখারি, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

> হজরত আগার্র ইবনে ইয়াসির মুযানি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সমীপে তওবাগ কর ও তাঁর কাছে ক্ষমা চাও! কেননা, আমি প্রতিদিন ১০০ বার করে তওবাহ করে থাকি।’ (মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

২. বান্দার প্রতি মহান আল্লাহ ক্ষমার বিশালতা
মানুষের প্রতি মহান আল্লাহর ক্ষমা ও উদারতা কত বেশি তা ফুটে ওঠেছে অন্য এক হাদিসে। দীর্ঘ এক হাদিসের শেষ দিকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওবার দরজার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে-
হজরত জির্র ইবনে হুবাইশ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি মোজার উপর মাসাহ করার মাসআলা জিজ্ঞাসা করার জন্য সাফওয়ান ইবনু আস্‌সালের কাছে গেলাম। তিনি বললেন, ‘হে জির্র! তোমার আগমনের উদ্দেশ্য কি?’ আমি বললাম, ‘জ্ঞান অন্বেষণ।’ তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই ফেরেশতামণ্ডলী ঐ অন্বেষণের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে বিদ্যার্থীর জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন।’
এরপর আমি বললাম, ‘পেশাব-পায়খানার পর মোজার উপর মাসাহ করার ব্যাপারে আমার মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু আপনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন সাহাবি, তাই আপনার কাছে জানতে এলাম যে, আপনি এ ব্যাপারে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিছু আলোচনা করতে শুনেছেন কি না?’
তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ! যখন আমরা বিদেশ সফরে বের হতাম, তখন তিনি আমাদেরকে (সফরে) তিনদিন ও তিন রাত মোজা না খোলার আদেশ দিতেন (অর্থাৎ আমরা যেন এই সময়সীমা পর্যন্ত মাসেহ করতে থাকি), কিন্তু বড় অপবিত্রতা (সঙ্গম, বীর্যপাত ইত্যাদি) হেতু অপবিত্র হলে (মোজা খুলতে হবে)। কিন্তু পেশাব-পায়খানা ও ঘুম থেকে উঠলে নয়। (এ সবের পর রীতিমত মাসেহ করা বৈধ)।’

আমি বললাম, ‘আপনি কি তাঁকে ভালোবাসা সম্পর্কে কিছু আলোচনা করতে শুনেছেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ। আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সফরে ছিলাম।

(একবার) আমরা তাঁর সঙ্গে বসা ছিলাম। এমন সময় এক বেদুঈন অতি উঁচু গলায় ডাক দিল- ‘হে মুহাম্মাদ!’
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাকে উঁচু আওয়াজে জবাব দিলেন, ‘এখানে এস!’

আমি তাকে (বেদুঈনকে) বললাম, ‘আরে তুমি নিজের আওয়াজ নীচু কর! কেননা, তুমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসেছো। তাঁর কাছে এ রকম উঁচু গলায় কথা বলা তোমার (বরং সকলের) জন্য নিষিদ্ধ।’
সে (বেদুঈন) বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমি তো আস্তে কথা বলবই না।’
বেদুঈন (প্রিয় নবির কাছে জানতে চেয়ে) বলল, ‘কোনো ব্যক্তি কিছু লোককে ভালোবাসে; কিন্তু সে তাদের (মর্যাদায়) পৌঁছতে পারেনি? (এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?)।’
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, ‘মানুষ কেয়ামতের দিন ঐ লোকদের সঙ্গে থাকবে, যাদেরকে সে ভালবাসবে।’
পুনরায় তিনি আমাদের সাথে কথাবার্তা বলতে থাকলেন। এমনকি তিনি পশ্চিম দিকের একটি দরজার কথা উল্লেখ করলেন- ‘যার প্রস্থের দূরত্ব ৪০ কিংবা ৭০ বছরের পথ অথবা তিনি বললেন, ওর প্রস্থে একজন আরোহী ৪০ কিম্বা ৭০ বছর চলতে থাকবে।
(এই হাদিসের একজন বর্ণনাকারী হজরত সুফিয়ান বলেন যে, এই দরজা সিরিয়ার দিকে অবস্থিত।) আল্লাহ তাআলা আসমান-জমিন সৃষ্টির দিন এই দরজাটি সৃষ্টি করেছেন এবং সেই সময় থেকে তা তওবার জন্য খোলা রয়েছে। পশ্চিম দিক থেকে সূর্য না উঠা পর্যন্ত এটা বন্ধ হবে না।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

৩. ক্ষমা চলবে অবিরাম
হজরত আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রাতে নিজ হাত প্রসারিত করেন; যেন দিনে পাপকারী (রাতে) তওবা করে এবং দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন; যেন রাতে পাপকারী (দিনে) তওবাহ করে। যে পর্যন্ত পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় না হবে, সে পর্যন্ত (ক্ষমার এ ধারা অবিরাম) এই রীতি চালু থাকবে।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় হওয়ার আগে তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা গ্রহণ করবেন।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

হজরত আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনু ওমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবাহ সে পর্যন্ত কবুল করবেন, যে পর্যন্ত তার প্রাণ কণ্ঠাগত না হয়।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

সুতরাং মানুষের উচিত, গুনাহ বা অন্যায়র ধরন যেমনই হোক সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তাওবাহ করে সঠিক পথে ফিরে আসা। বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা। তার তাতেই মুমিন হবে সফলকাম।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর দয়া ও অনুকম্পায় পেতে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সাহু সিজদা কি ও কেন?
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : ঈমানের পর নামাজ হচ্ছে মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নামাজে মানুষের ভুল হয়ে গেলে সাহু সিজদা দেয়া ওয়াজিব। মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও মানুষ নামাজে ভুলের কারণে কি করবে তা জানে না। সাহু সিজদার বিষয়টি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা তুলে ধরা হলো-

সাহু সিজদা কি?
অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য যে শিক্ষা দেয়া হয় তাকে সাহু সিজদা বলে। তবে মনে রাখতে হবে, ইচ্ছাকৃত ভুল করলে নামাজ হবে না। পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে।

কেন সাহু সিজদা করতে হবে
ইমামের ফজর, মাগরিব ও এশার নামাজে সুরা ফাতিহা এবং মিলানো সূরার পুরোটুকু বা তিন আয়াত পরিমাণ নিঃশব্দে পড়লে। জোহর ও আসরের নামাজে শব্দ করে পড়লে, এ জন্য সাহু সিজদা করতে হবে।

ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে, সুন্নত নামাজের যে কোনো রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য একটি সুরা পড়ার আগে ভুলে তিনবার সুবহানাল্লাহ বলার সময় পরিমাণ দেরি করলে, তাশাহহুদ চার রাকাত বা তিন রাকাতবিশিষ্ট নামাজে প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর দাঁড়াতে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় ভুলে দেরি করলে বা দরুদ ও দোয়া মাছুরা পড়ে ফেললে সাহু সিজদা করতে হবে।

প্রথম বা শেষ বৈঠকে ‘আত্তাহিয়্যাতু’ পড়তে ভুলে গেলে, চার বা তিন রাকাতবিশিষ্ট নামাজের প্রথম বৈঠক করতে ভুলে গেলে। দ্বিতীয় বা শেষ রাকাতে দাঁড়ানোর কাছাকাছি হয়ে বসে গেলে সাহু সিজদা করতে হবে। একই রাকাতে ধারাবাহিকভাবে দুবার সূরা ফাতিহা পড়ে ফেললে অথবা সূরা ফাতিহার জায়গায় বেখেয়ালে আত্তাহিয়্যাতু বা অন্য অন্য কোনো দোয়া পড়লে সাহু সিজদা করতে হবে। বিতর নামাজে দোয়ায়ে কুনুত ছুটে গেলে সাহু সিজদা করতে হবে। শেষ রাকাআতে ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে পুনরায় বসে সাহু সিজদা করে নামাজ শেষ করতে হবে।

এক কথায় নামাজে অনিচ্ছকৃত ভুল হলে সাহু সিজদা করতে হবে। সাহু সিজদা না করলে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে।

সাহু সিজদা আদায়ের নিয়ম : নামাজের শেষ বৈঠকে কেবল তাশাহ্হুদ (আত্তাহিয়্যাতু) শেষ করে ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে আল্লাহু আকবর বলে দুটি সিজদা করে পুনরায় আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ, দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করতে হয়।

পরিশেষে....
সাহু সিজদার মাধ্যমে নামাজে অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো হিফাজতে সচেষ্ট থাকা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সুন্দর ও ধীরস্থিরভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি ২০ অক্টোবর
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : বাংলাদেশের আকাশে আজ পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই প্রবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি পালিত হবে ২০ অক্টোবর।

বৃহস্পতিবার ১৪৪৩ হিজরি সনের পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবির (সা.) তারিখ নির্ধারণ ও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখার খবর পাওয়া যায়নি। তাই শনিবার থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। সে হিসাবে ২০ অক্টোবর ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ইদে মিলাদুন্নবি (সা.) পালিত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. আউয়াল হাওলাদার (দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব), ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. মো. মুশফিকুর রহমান (অতিরিক্ত সচিব), বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক আবদুল্লাহ সাজ্জাদ (অতিরিক্ত সচিব), ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনিম হাসান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. নজরুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. ছাইফুল ইসলাম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহেনূর মিয়া, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (অর্থ) মো. জহিরুল ইসলাম মিয়া, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের পিএসও আবু মোহাম্মদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহ. আছাদুর রহমান, মাদরাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ মো. এ কে এম আবদুল মান্নান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নেয়ামতুল্লা, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম প্রমুখ।

এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন শোলাকিয়া মসজিদের গ্র্যান্ড ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

আজ চাঁদ দেখা গেলে ঈদে মিলাদুন্নবী ১৯ অক্টোবর
                                  

ধর্ম ডেস্ক : আজ সন্ধ্যায় রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামী ১৯ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ঈদে মিলাদুন্নবি পালিত হবে। আজ ১৪৪৩ হিজরির সফর মাসের ২৯ তারিখ। রবিউল আউয়াল মাস গণনা ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ নির্ধারণে (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক বসবে।

১৪৪৩ হিজরির সফর মাসর ২৯ তারিখ আজ। সন্ধ্যায় দেশের আকাশে রবিউল আউয়ালের চাঁদ দেখা গেলে ৮ অক্টোবর (শুক্রবার) থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। সে হিসেবে ঈদে মিলাদুন্নবী হবে আগামী ১৯ অক্টোবর (মঙ্গলবার)।

আর আজ সন্ধ্যায় (৭ অক্টোবর) চাঁদ দেখা না গেলে সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে ০৯ অক্টোবর (শনিবার) রবিউল আউয়াল মাস শুরু হবে। সে হিসেবে আগামী ২০ অক্টোবর (বুধবার) ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হবে।

তাই রবিউল আউয়াল মাস গণনা ও ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ জানতে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আরবি ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’র শাব্দিক অর্থ- হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিনের আনন্দোৎসব। বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা ১২ রবিউল আউয়াল হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও মৃত্যু (ওফাত) দিবস হিসেবে পালন করেন।

বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন রাষ্ট্রীয়ভাবে সবার জন্য সাধারণ ছুটি থাকে। এ দিন বাংলাদেশের প্রায় সব মসজিদ, খানকাহ, দরগাহ ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ঈদে মিলাদুন্নবী, সীরাতুন্নবী, উসওয়াতুন্নবী এবং মাজিউন্নবীসহ নানা শিরোনামে মিলাদ-মাহফিল, আলোচনাসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ঈদে মিলাদুন্নবী: চাঁদ দেখা কমিটির সভা বৃহস্পতিবার
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ নির্ধারণ ও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ১৪৪৩ হিজরি সনের পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ নির্ধারণ ও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৯৫৫৬৪০৭ টেলিফোন ও ০২-৯৫৬৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

আরবি ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’র শাব্দিক অর্থ- মহানবীর (সা.) জন্মদিনের আনন্দোৎসব। মুসলমানরা ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হয়রত মুহম্মদ (সা.) এর জন্ম ও মৃত্যু (ওফাত) দিবস হিসেবে পালন করে। কারণ এ দিনেই মহানবী (সা.) ইন্তেকালও করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) দিন সাধারণ ছুটি।

জুমআ কি গুনাহ মাফের বিশেষ দিন?
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মুসলিম উম্মাহর কাছে জুমআ’র দিন অনেক মর্যাদা ও সম্মানের। আল্লাহ তাআলার মর্যাদাপূর্ণ দিনসমূহের মধ্যে জুমআ বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য বহন করে। আল্লাহ তাআলা বিশেষ মর্যাদার কারণে এ দিন মানুষের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। হাদিসের বর্ণনা থেকে প্রমাণিত কারণগুলো হলো-

১. শ্রেষ্ঠ দিন জুমআ


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমুআ’র দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহ তাআলার কাছে তা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ)

বিশ্বনবি আরো বলেন, ‘যে সব দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়; তন্মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমআ’র দিন। সেই দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সেই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সেই দিনেই জান্নাত থেকে তাকে বের করা হয়েছে।’ (মুসলিম)

২. ঈদের দিনের সমতুল্য

হজরত ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি যখন এ আয়াতটি তেলাওয়াত করেন- ‘তখন তার কাছে একজন ইয়াহুদি ছিল। সে বলল, যদি আয়াতটি আমাদের ওপর নাযিল হত তাহলে আমরা দিনটিকে ঈদের দিন বানিয়ে নিতাম। অতঃপর ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আয়াতটি ঈদের দিনেই নাযিল হয়েছে (আর তা ছিল) জুমআ’র দিন ও ‘আরাফার দিন।’ (তিরমিজি)


৩. গুনাহ মাফের দিন

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘এক জুমআ’ থেকে অপর জুমআ’ এতদুভয়ের মাঝে (গুনাহের জন্য) কাফ্‌ফারা হয়ে যায়, যদি কবিরা (বড়) গুনাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে থাকে।’ (মুসলিম)

৪. পুরো বছর নামাজ-রোজার সাওয়াব পাওয়ার দিন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআ’র দিন ভালো করে গোসল করে সকাল সকাল মসজিদে আসবে এবং ইমামের কাছেবর্তী হবে এবং মনোযোগ দিয়ে (খুতবা) শ্রবণ করবে ও চুপ থাকবে তার জুমআ’র নামাজে আসার প্রত্যেক কদমে এক বছরের নামাজ ও রোজা পালনের ছওয়াব হবে।’ (তিরমিজি, নাসাঈ)

৫. দোয়া কবুলের দিন

প্রিয়নবি বলেন, নিশ্চয় জুমআ’র দিনে এমন একটি সময় আছে যে সময়ে কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কোনো ভালো জিনিসের প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, তা সামান্য সময় মাত্র।’ (বুখারি ও মুসলিম); কেউ কেউ বলেন, এটি আসরের নামাজের পরের সময়।

৬. মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের দিন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জুমআ’ থেকে আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতকে বিভ্রান্ত করে রেখেছিলেন। ফলে ইয়াহুদিদের জন্য ছিল রবিবার। অতঃপর আল্লাহ আমাদেরকে নিয়ে এসেছেন এবং আমাদেরকে জুমআ’র দিনের জন্য পথ দেখিয়েছেন অতঃপর শনি তারপর রবি। এমনিভাবে কিয়ামতের দিনও তারা আমাদের পরে হবে। দুনিয়ার অধিবাসীদের মধ্যে আমরা সবার পরে এবং কিয়ামতের দিন আমাদের ফয়সালা সাবার আগে হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

৭. ফেতনা থেকে মুক্তির দিন

বিশ্বনবি বলেন, ‘কোনো মুসলিম যদি জুমআ’র দিনে অথবা জুমআ’র রাত্রিতে মৃত্যুবরণ করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা করবেন।’ (তিরমিজি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের জন্য জুমআর নামাজ ও এ দিনের ইবাদত-বন্দেগি এবং আমল মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা জুমআ আদায়ে গুরুত্ব দেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশ এভাবে এসেছে কুরআনে-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ - فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيراً لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

‘হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ৯-১০)

মনে রাখা জরুরি

যে বা যারা জুমআর নামাজ হতে বিমুখ থেকে খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা পার্থিব কোনো কাজ-কর্মে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। আল্লাহ তাআলাও তার দিক থেকে বিমুখ থাকেন। অর্থাৎ সে ব্যক্তির কোনো ইবাদাত-বন্দেগি আল্লাহর তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা অনেক বড় অভিসম্পাত। কুরআনুল কারিমের অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা এ কথা তুলে ধরেছেন এভাবে-

‘তারা যখন কোনো ব্যবসায়ের সুযোগ অথবা ক্রীড়াকৌতুক দেখে; তখন আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সেদিকে ছুটে যায়। (হে রাসুল) আপনি বলে দিন, আল্লাহর কাছে যা আছে (ছাওয়াব ও নৈকট্য লাভে), তা ক্রীড়াকৌতুক ও ব্যবসায় অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। আল্লাহ সর্বোত্তম রিযিকদাতা।’ (সুরা জামআ : আয়াত ১১)

কুরআনে আয়াত নাজিলের পরও হাদিসে বিশেষভাবে জুমআ থেকে বিরত না থাকার ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হয়েছে এভাবে-

হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর নামাজ হতে বিমুখ থাকে এবং খেলাধুলা ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকবে আল্লাহ তাআলা তার থেকে বিমুখ থাকবেন। আল্লাহ স্বয়ং সমৃদ্ধ এবং অধিক প্রশংসিত। (দারাকুতনি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর দিন দুনিয়ার সকল প্রকার কাজ-কর্ম, খেল-তামাশা, ক্রীড়াকৌতুক, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিহার করে নামাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে সরাসরি জুমআ পরিত্যাগকারীকে অভিসম্পাত করা হয়েছে।

তাই আল্লাহর অভিশাপ ও উত্তম রিযিক থেকে বঞ্চিত না হতে উম্মতে মুহাম্মাদির সব সময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ জুমআর প্রতি গুরুত্বরোপ করা জরুরি। আল্লাহর ঘোষণা তিনি জুমআ পালনকারীদের জন্য রেখেছেন সর্বোত্তম রিজিক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর বিধান পালনে যথা সময়ে জুমআর নামাজ আদায়ের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাওফিক দান করুন। গুনাহমুক্ত জীবন লাভের তাওফিক দান করুন। কোরআন-সুন্নাহর উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

টাখনুর নিচে কাপড় পরা হারাম কেন?
                                  

ধর্ম ডেস্ক : টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরা নিষিদ্ধ। যারা লুঙ্গি বা পাজামা টাখনুর নিচে পরবে তাদের ভয়াবহ পরিণতির কথা বলেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। টাখনুর নিচে কাপড় পরা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ ও পরিণতি কী? এ সম্পর্কে হাদিসের দিকনির্দেশনাই বা কী?

পুরুষদের জন্য টাখনুর নিচে কাপড় পরা হারাম, কবিরা গুনাহ এবং জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ হলো টাখনুর নিচে কাপড় পরা যাবে না। তা নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য এ নির্দেশনাই যথেষ্ট। তারপরও টাখনুর নিচে কাপড় পরা বিষয়ে নিষিদ্ধের কারণ, সতর্কতা ও শাস্তির বিষয়টি হাদিসের একাধিক বর্ণনায় উঠে এসেছে। তাহলো-


১. গোড়ালির নিচের অংশ জাহান্নামে যাবে
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ইজার (লুঙ্গি/পাজামা) বা পরিধেয় কাপড়ের যে অংশ পায়ের গোড়ালির নিচে থাকবে; সে অংশ জাহান্নামে যাবে।’ (বুখারি)

২. আল্লাহ রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না
> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ কেয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির দিকে (দয়ার) দৃষ্টি দেবেন না, যে ব্যক্তি অহংকার করে ইযার (লুঙ্গি/পাজামা) বা পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে (টাখনুর নিচে) পরেছে।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

> হজরত আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‌কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে ফিরে তাকাবেন না। এমনকি তাদের গুনাহ থেকেও পবিত্র করবেন না। বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথাটি তিনবার বলেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তারা কারা? যাদের মুক্তির কোনো পথ নেই। তিনি বললেন, তারা হলো-
> যে ব্যক্তি পায়ের গোড়ালির নিচে কাপড় (লুঙ্গি/প্যান্ট/পাজামা) ঝুলিয়ে পরে।
> যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম/শপথ করে ব্যাবসার পণ্য বিক্রয় করে।
> যে ব্যক্তি উপকার করার পর আবার খোঁটা দেয়।` (মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)

৩. মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেবেন
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন অথবা আবুল কাসিম বলেছেন, ‘এক ব্যক্তি আকর্ষণীয় জোড়া কাপড় পরতো আর চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে পথ অতিক্রম করতো; হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেন। কেয়ামত পর্যন্ত সে এভাবে ধ্বসে যেতে থাকবে।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)


৪. নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ
টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরার ব্যাপারে যেমন বিশেষ সতর্ক করেছেন; তেমনি ঝুলিয়ে কাপড় পরা হারাম বা নিষিদ্ধের কারণও তিনি তুলে ধরেছেন এভাবে-
হজরত জাবের ইবনে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, `টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরার ব্যাপারে সাবধান হও। কারণ, তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ অহংকার করাকে পছন্দ করেন না।` (আবু দাউদ)

মূলকথা হলো
টাখনুর নিচে কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। ইসলামি শরিয়তের আলোকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা করতে নিষেধ করেন তা করা হারাম বা কবিরা গুনাহ। অথচ টাখনুর নিচে কাপড় পরতে বিশ্বনবি শুধু নিষেধই করেননি বরং শাস্তি ও পরিণতির কথাও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। টাখনুর নিচে কাপড় পরা নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য হাদিসের এ নির্দেশনাই যথেষ্ট।

সুতরাং মুমিন মুসলমান পুরুষদের উচিত, পায়ের গোড়ালি বা টাখনুর নিচে যে কোনো কাপড় পরা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। যেহেতু বিষয়টি সম্পর্কে হাদিসে সতর্কতা ও শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের নির্দেশনা মেনে পোশাক পরার ক্ষেত্রে হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।


   Page 1 of 17
     ইসলাম
যে আমলকারীকে জান্নাতি বলেছেন বিশ্বনবি
.............................................................................................
ঈদে মিলাদুন্নবী : আল্লাহর রহমতে সিক্ত হওয়ার দিন
.............................................................................................
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
.............................................................................................
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী
.............................................................................................
হিংসা ও অহংকার নেক আমল ধ্বংস করে
.............................................................................................
সুন্দর চরিত্র জান্নাতের সোপান
.............................................................................................
জুমার দিনের সুন্নাত আমল
.............................................................................................
জুমার নামাজ কি ফরজ?
.............................................................................................
অহংকার করা ইসলামে নিষিদ্ধ
.............................................................................................
শয়তানের চ্যালেঞ্জ ও আল্লাহর ক্ষমার নমুনা
.............................................................................................
সাহু সিজদা কি ও কেন?
.............................................................................................
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি ২০ অক্টোবর
.............................................................................................
আজ চাঁদ দেখা গেলে ঈদে মিলাদুন্নবী ১৯ অক্টোবর
.............................................................................................
ঈদে মিলাদুন্নবী: চাঁদ দেখা কমিটির সভা বৃহস্পতিবার
.............................................................................................
জুমআ কি গুনাহ মাফের বিশেষ দিন?
.............................................................................................
টাখনুর নিচে কাপড় পরা হারাম কেন?
.............................................................................................
জুমআর নামাজে দ্রুত আসা কি জরুরি?
.............................................................................................
ওমরায় মুসল্লির সংখ্যা বাড়াচ্ছে সৌদি
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা আজ
.............................................................................................
আশুরার ফজিলত করণীয় ও বর্জনীয়
.............................................................................................
মহররম মাসে রোজা রাখার ফজিলত বরকত
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা ২০ আগস্ট
.............................................................................................
ভুলে গোনাহ করে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে যে আমল ও দোয়া করবেন
.............................................................................................
‌প্রতিটি জুমআ`র দিনের সওয়ার ও মর্যাদা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা`র মতোই গুরুত্বপূরণ ফজিলত
.............................................................................................
জুমআ মুসলমানদের সাপ্তাহিক বিশেষ নামায পড়িবার এবং ইবাদতের দিন
.............................................................................................
হজ শেষে ওমরাহ শুরু; বিদেশিরাও পাচ্ছে অনুমতি!
.............................................................................................
ঈদুল আজহা পালন ও কোরবানি হবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশে: আমরা মনের পশুত্ব কোরবানি দেই
.............................................................................................
কুরবানির পশু চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে কী করণীয়
.............................................................................................
কাবা শরিফে পরানো হয়েছে স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ
.............................................................................................
কুরবানির বিকল্প কোনো ইবাদত নেই
.............................................................................................
যেসব আমলে কোরবানির সমান সওয়াব
.............................................................................................
চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২১ জুলাই
.............................................................................................
যেসব কারণে জুমআর দিনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বেশি
.............................................................................................
দাওয়াতের অন্যতম পথ ওয়াজ মাহফিল
.............................................................................................
যে ২টি জিনিস না থাকলে কুরবানি কবুল হবে না
.............................................................................................
ডিজিটাল স্কেলে ওজন করে গরু-ছাগল বিক্রি করা জায়েজ?
.............................................................................................
জুমআর নামাজ পড়ার নিয়ম
.............................................................................................
আল্লাহ যাদের রিজিক সম্প্রসারিত করেন
.............................................................................................
জুমআর দিন আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ ফজিলত
.............................................................................................
জুম`আ নামাজ খুতবা পূর্বক বয়ানে ইস্তিগফারের যত ফজিলত
.............................................................................................
কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে কী করবেন?
.............................................................................................
ইমাম খােমেনী (রহ.)-কে স্মরণ ৩২তম জান্নাতগমন বার্ষিকীতে
.............................................................................................
মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত
.............................................................................................
ঋণমুক্ত হওয়ার আমল
.............................................................................................
বিপদগ্রস্ত মুসলিমের পাশে দাঁড়ানো কর্তব্য
.............................................................................................
হজ ব্যবস্থাপনার নতুন আইন পাসের সুপারিশ
.............................................................................................
আজান ও ইকামাত ছাড়া মসজিদে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সৌদি আরব
.............................................................................................
জান্নাতের পথে বাধা সৃষ্টি করবে যেসব কাজ
.............................................................................................
ঈদের দিনের বিশেষ ৯ আদব
.............................................................................................
প্রেরণার উৎস বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop