বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * তুরস্ক-সিরিয়ায় হতাহতদের স্মরণে জাতিসংঘে নীরবতা পালন   * ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ১১ জন হাসপাতালে   * ১২ ঘণ্টা না যেতেই তুরস্ক-সিরিয়ায় ফের শক্তিশালী ভূমিকম্প   * তুুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৫০০   * দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৭ লাখ : বিআইডিএস   * ভূমিকম্পে তুরস্কে প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়াতে পারে: ইউএসজিএস   * ভূমিকম্পে কেবল তুরস্কেই নিহত ৯১২   * যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই ট্রাজেডি কাটিয়ে উঠব: এরদোগান   * লাশ হয়ে ফিরলেন ৭১৪ নারী : ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট   * তুরস্কে উদ্ধারকারী দল পাঠাবে নেদারল্যান্ডস  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মরণোত্তর দেহদান সম্পর্কে ইসলাম যা বলে

মিয়া আবদুল হান্নান : যা কিছু কল্যাণকর তা-ই ধর্ম। ধর্ম একে অপরের প্রতি দয়া, মায়া ও ভালোবাসতে শেখায়। একজন মানুষ সে যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন, কোনো ভাবেই সে যেন একে অপরের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় বরং কল্যাণ লাভ করে এটাই ধর্মের শিক্ষা। মানুষ একে অপরের বিপদ-আপদে এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক। তাই মরণোত্তর দেহদানও এমনই একটি কল্যাণকর কাজ।

আজ থেকে হাজার বছর আগে যা মানুষের কল্পনায়ও ছিল না আজ তা মানুষের হাতের মুঠোয় এসে গেছে আর এখন ভাবছে যে এসব বৈধ না অবৈধ। আল্লাহ তাআলা তো এমন নয় যে, তিনি যে দেহ দান করেছেন তা ছাড়া অন্য দেহ বানাতে পারবেন না বা এই দেহের ওপরই তার বিচার করতে হবে। কোনো দুর্ঘটনার কারণে যদি কারো দেহ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে দেহের কোনো অংশ না পাওয়া যায়, তাহলে কি এ ব্যক্তির কাছ থেকে আল্লাহ তাআলা হিসাব নেবেন না? বাহ্যিক দেহের সঙ্গে আল্লাহ তাআলার হিসাব নেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে আল্লাহ পাকের কাছে চলে যায়; তখন দেহ তার কাছে যায় না বরং যায় আত্মা। আমরা কেবল দেহ ত্যাগ করি। আর দেহকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানানোর শিক্ষা এ জন্যই দেওয়া হয়েছে, যাতে আল্লাহ পাকের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির কোনো ধরনের অমর্যাদা না হয়।

এছাড়া দেহকে যদি সুন্দরভাবে দাফন করা না হতো, তাহলে পরিবেশও দূষিত হতো। ইসলাম যেহেতু পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, তাই এর শিক্ষাও পরিপূর্ণ। এছাড়া পবিত্র কোরআনুল কারিমে এ বিষয়ে বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে, আমাদের দেহ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেলেও তিনি তা একত্র করতে সক্ষম এবং তা তিনি করবেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা বলে, আমরা যখন হাড়গোড়ে পরিণত হব এবং চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাব; এরপরও কি সত্যিই এক নতুন সৃষ্টির আকারে আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? তুমি বল, তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে গেলেও কিংবা তোমাদের বিবেচনায় এর চেয়েও কঠিন সৃষ্টিতে পরিণত হলেও তোমাদের পুনরুত্থান অবশ্যম্ভাবী। এতে তারা অবশ্যই বলবে, কে পূর্বাবস্থায় আমাদের ফিরিয়ে আনবে? তুমি বল, যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন, তিনিই। তখন তারা তোমার উদ্দেশ্যে মাথা নাড়িয়ে বলবে, এমনটি কখন ঘটবে? তুমি বল, এমনটি অতি শিগগিরই ঘটতে পারে। যেদিন তিনি তোমাদের আহ্বান করবেন, এরপর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে চলে আসবে। আর তোমরা অনুমান করবে যে, সামান্য সময়ই অবস্থান করেছিলে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ৪৯-৫২)

এছাড়া আমাদের চোখ, কান, হৃদয় সবই তো আল্লাহর সৃষ্টি। তাঁর সৃষ্ট দেহের অংশ দিয়ে তাঁর আরেক বান্দার উপকার করতে কে বাধা দেওয়ার অধিকার রাখে? এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘আর তিনিই তোমাদের জন্য কান, চোখ এবং হৃদয় সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর না বললেই চলে। আর তিনিই পৃথিবীতে তোমাদের বীজরূপে বপন করেছেন এবং তারই দিকে তোমাদের একত্র করা হবে। তিনিই প্রাণ দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। আর দিন-রাতের পরিবর্তন তাঁরই কাজ। তবুও কি তোমরা বুঝবে না? (সুরা মুমিনুন: আয়াত ৭৮-৮০)

তাই আমাদের দেহের কোনো অংশ কারো কল্যাণের জন্য দান করলে আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্ট হবেন না। কারণ তিনি আবার সব কিছুই একত্র করতে পারেন এবং করবেন। আর একজনের অঙ্গ আরেক জনের মধ্যে যে প্রতিস্থাপন করা হবে, তা-ও উঠে এসেছে হাদিসের বর্ণনায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জালের পরিচয় বর্ণনা করতে গিয়ে তা উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আপন শক্তির প্রকাশ করতে সে এক ব্যক্তিকে হত্যা করবে এবং পুনরায় জীবিত করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই ভবিষ্যদ্বাণী কি আজ অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়নি? আজ আমরা কী দেখছি, চিকিৎসাশাস্ত্রের বিশেষজ্ঞরা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের হৃৎপিণ্ড কেটে বের করে রোগীর রক্তবাহী শিরাকে কৃত্রিম যান্ত্রিক হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করে রোগীর আসল হৃৎপিণ্ডকে অপারেশনের মাধ্যমে গ্লানিমুক্ত করে যথাস্থানে স্থাপন করে রোগীকে পুনর্জীবিত ও সুস্থ করছেন। অপারেশন অবস্থায় রোগী জ্ঞানহারা মৃতবৎ পরে থাকে। এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা সদ্য মৃত ব্যক্তির সুস্থ হৃৎপিণ্ডকে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে সংযোজন করে তাকে সুস্থ করে তুলছেন।

এ ধরনের ব্যবস্থাপত্র যে পৃথিবীতে একসময় হবে তার ইঙ্গিত ১৪শ বছর আগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে দিয়েছেন। ইসলামে যদি এসবকে অবৈধ আখ্যায়িত করা হতো, তবে তিনি অবশ্যই আমাদের এসব থেকে বিরত থাকতে বলতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন মহাবিজ্ঞানী, তিনি জানতেন একসময় বিজ্ঞান উন্নতি করবে আর একের অঙ্গ আরেক জন প্রতিস্থাপন করে সুস্থ হয়ে উঠবেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের যেসব অসাধারণ উন্নতি হয়েছে, তা কি আমাদের জন্য আল্লাহ পাকের বিশেষ অনুগ্রহ নয়? আমার মৃত্যুর পর আমার দেহের কোনো অঙ্গ যদি আরেক জনের দেহকে সুস্থতা দানে সক্ষম হয় এবং সে সুস্থ হয়ে মানুষের জন্য কল্যাণে পরিণত হয়, এটা কি আমার জন্য পাপ হবে? বরং এটা আমার জন্য সদকায়ে জারিয়া সমতুল্য পুণ্যও হবে। আর এই সদকায়ে জারিয়া এমন হবে যার পুণ্য চলতে থাকবে।

সুতরাং মরণোত্তর দেহদানের মূল উদ্দেশ্য হতে হবে পুণ্য অর্জন করা। দেহকে যদি গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হয় তা-ও পুণ্য হবে। আল্লাহ মানুষের নিয়ত দেখেন যে, কে কোন নিয়তে মরণোত্তর দেহদান করছেন। নিয়ত যদি সৎ হয় তবে আল্লাহ তার প্রতিদান দেবেন আর অসৎ নিয়তে দান করলে নিয়ত অনুযায়ী সে প্রতিদান পাবে।

তাই যাদের ধারণা, মরণোত্তর দেহদানের অনুমতি দিলে মানুষ পাচার ও লাশ চুরির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এটা মোটেও ঠিক নয়। কেননা চুরি-ডাকাতি, হত্যা এসব চলতেই থাকবে, তাই বলে কোনো পুণ্যের কাজকে অবৈধ বলে আখ্যা দেওয়া ঠিক নয়। আল্লাহ তাআলা ইচ্ছে করলে সব দেহকে একটি খণ্ডে সৃষ্টি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখে দেহকে ভিন্ন ভিন্ন খণ্ড-বিখণ্ডে বিভক্ত করে সৃষ্টি করেছেন। যেন দেহের একটি খণ্ড নষ্ট হলে তার চিকিৎসা করে এটিকে সুস্থ করে তোলা যায়।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্যের শিক্ষাও দিয়েছেন এবং রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারো কোনো অসুস্থতা দেখলে চিকিৎসাপত্র দিতেন। তাই কারো দেহের কোনো অংশ অকেজো হয়ে গেলে তিনি যদি কারো দান করা অঙ্গ ব্যবহার করে সুস্থ হয়ে ওঠেন, এ ক্ষেত্রে আল্লাহ পাকের কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে বলে আমার জানা নেই।

তাই যে কোনো বিষয়কে অবৈধ আখ্যা দেওয়ার আগে ভেবে দেখতে হবে এ সম্পর্কে আল্লাহ ও রাসুলের শিক্ষা কী ছিল? যিনি প্রকৃত ইসলামের অনুসরণকারী; তিনি সব সময় সবার কল্যাণ কামনা করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অন্যের উপকার সাধনে নিয়োজিত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মরণোত্তর দেহদান সম্পর্কে ইসলাম যা বলে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : যা কিছু কল্যাণকর তা-ই ধর্ম। ধর্ম একে অপরের প্রতি দয়া, মায়া ও ভালোবাসতে শেখায়। একজন মানুষ সে যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন, কোনো ভাবেই সে যেন একে অপরের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় বরং কল্যাণ লাভ করে এটাই ধর্মের শিক্ষা। মানুষ একে অপরের বিপদ-আপদে এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক। তাই মরণোত্তর দেহদানও এমনই একটি কল্যাণকর কাজ।

আজ থেকে হাজার বছর আগে যা মানুষের কল্পনায়ও ছিল না আজ তা মানুষের হাতের মুঠোয় এসে গেছে আর এখন ভাবছে যে এসব বৈধ না অবৈধ। আল্লাহ তাআলা তো এমন নয় যে, তিনি যে দেহ দান করেছেন তা ছাড়া অন্য দেহ বানাতে পারবেন না বা এই দেহের ওপরই তার বিচার করতে হবে। কোনো দুর্ঘটনার কারণে যদি কারো দেহ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে দেহের কোনো অংশ না পাওয়া যায়, তাহলে কি এ ব্যক্তির কাছ থেকে আল্লাহ তাআলা হিসাব নেবেন না? বাহ্যিক দেহের সঙ্গে আল্লাহ তাআলার হিসাব নেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে আল্লাহ পাকের কাছে চলে যায়; তখন দেহ তার কাছে যায় না বরং যায় আত্মা। আমরা কেবল দেহ ত্যাগ করি। আর দেহকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানানোর শিক্ষা এ জন্যই দেওয়া হয়েছে, যাতে আল্লাহ পাকের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির কোনো ধরনের অমর্যাদা না হয়।

এছাড়া দেহকে যদি সুন্দরভাবে দাফন করা না হতো, তাহলে পরিবেশও দূষিত হতো। ইসলাম যেহেতু পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, তাই এর শিক্ষাও পরিপূর্ণ। এছাড়া পবিত্র কোরআনুল কারিমে এ বিষয়ে বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে, আমাদের দেহ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেলেও তিনি তা একত্র করতে সক্ষম এবং তা তিনি করবেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা বলে, আমরা যখন হাড়গোড়ে পরিণত হব এবং চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাব; এরপরও কি সত্যিই এক নতুন সৃষ্টির আকারে আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? তুমি বল, তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে গেলেও কিংবা তোমাদের বিবেচনায় এর চেয়েও কঠিন সৃষ্টিতে পরিণত হলেও তোমাদের পুনরুত্থান অবশ্যম্ভাবী। এতে তারা অবশ্যই বলবে, কে পূর্বাবস্থায় আমাদের ফিরিয়ে আনবে? তুমি বল, যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন, তিনিই। তখন তারা তোমার উদ্দেশ্যে মাথা নাড়িয়ে বলবে, এমনটি কখন ঘটবে? তুমি বল, এমনটি অতি শিগগিরই ঘটতে পারে। যেদিন তিনি তোমাদের আহ্বান করবেন, এরপর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে চলে আসবে। আর তোমরা অনুমান করবে যে, সামান্য সময়ই অবস্থান করেছিলে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ৪৯-৫২)

এছাড়া আমাদের চোখ, কান, হৃদয় সবই তো আল্লাহর সৃষ্টি। তাঁর সৃষ্ট দেহের অংশ দিয়ে তাঁর আরেক বান্দার উপকার করতে কে বাধা দেওয়ার অধিকার রাখে? এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘আর তিনিই তোমাদের জন্য কান, চোখ এবং হৃদয় সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর না বললেই চলে। আর তিনিই পৃথিবীতে তোমাদের বীজরূপে বপন করেছেন এবং তারই দিকে তোমাদের একত্র করা হবে। তিনিই প্রাণ দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। আর দিন-রাতের পরিবর্তন তাঁরই কাজ। তবুও কি তোমরা বুঝবে না? (সুরা মুমিনুন: আয়াত ৭৮-৮০)

তাই আমাদের দেহের কোনো অংশ কারো কল্যাণের জন্য দান করলে আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্ট হবেন না। কারণ তিনি আবার সব কিছুই একত্র করতে পারেন এবং করবেন। আর একজনের অঙ্গ আরেক জনের মধ্যে যে প্রতিস্থাপন করা হবে, তা-ও উঠে এসেছে হাদিসের বর্ণনায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জালের পরিচয় বর্ণনা করতে গিয়ে তা উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আপন শক্তির প্রকাশ করতে সে এক ব্যক্তিকে হত্যা করবে এবং পুনরায় জীবিত করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই ভবিষ্যদ্বাণী কি আজ অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়নি? আজ আমরা কী দেখছি, চিকিৎসাশাস্ত্রের বিশেষজ্ঞরা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের হৃৎপিণ্ড কেটে বের করে রোগীর রক্তবাহী শিরাকে কৃত্রিম যান্ত্রিক হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করে রোগীর আসল হৃৎপিণ্ডকে অপারেশনের মাধ্যমে গ্লানিমুক্ত করে যথাস্থানে স্থাপন করে রোগীকে পুনর্জীবিত ও সুস্থ করছেন। অপারেশন অবস্থায় রোগী জ্ঞানহারা মৃতবৎ পরে থাকে। এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা সদ্য মৃত ব্যক্তির সুস্থ হৃৎপিণ্ডকে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে সংযোজন করে তাকে সুস্থ করে তুলছেন।

এ ধরনের ব্যবস্থাপত্র যে পৃথিবীতে একসময় হবে তার ইঙ্গিত ১৪শ বছর আগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে দিয়েছেন। ইসলামে যদি এসবকে অবৈধ আখ্যায়িত করা হতো, তবে তিনি অবশ্যই আমাদের এসব থেকে বিরত থাকতে বলতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন মহাবিজ্ঞানী, তিনি জানতেন একসময় বিজ্ঞান উন্নতি করবে আর একের অঙ্গ আরেক জন প্রতিস্থাপন করে সুস্থ হয়ে উঠবেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের যেসব অসাধারণ উন্নতি হয়েছে, তা কি আমাদের জন্য আল্লাহ পাকের বিশেষ অনুগ্রহ নয়? আমার মৃত্যুর পর আমার দেহের কোনো অঙ্গ যদি আরেক জনের দেহকে সুস্থতা দানে সক্ষম হয় এবং সে সুস্থ হয়ে মানুষের জন্য কল্যাণে পরিণত হয়, এটা কি আমার জন্য পাপ হবে? বরং এটা আমার জন্য সদকায়ে জারিয়া সমতুল্য পুণ্যও হবে। আর এই সদকায়ে জারিয়া এমন হবে যার পুণ্য চলতে থাকবে।

সুতরাং মরণোত্তর দেহদানের মূল উদ্দেশ্য হতে হবে পুণ্য অর্জন করা। দেহকে যদি গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হয় তা-ও পুণ্য হবে। আল্লাহ মানুষের নিয়ত দেখেন যে, কে কোন নিয়তে মরণোত্তর দেহদান করছেন। নিয়ত যদি সৎ হয় তবে আল্লাহ তার প্রতিদান দেবেন আর অসৎ নিয়তে দান করলে নিয়ত অনুযায়ী সে প্রতিদান পাবে।

তাই যাদের ধারণা, মরণোত্তর দেহদানের অনুমতি দিলে মানুষ পাচার ও লাশ চুরির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এটা মোটেও ঠিক নয়। কেননা চুরি-ডাকাতি, হত্যা এসব চলতেই থাকবে, তাই বলে কোনো পুণ্যের কাজকে অবৈধ বলে আখ্যা দেওয়া ঠিক নয়। আল্লাহ তাআলা ইচ্ছে করলে সব দেহকে একটি খণ্ডে সৃষ্টি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখে দেহকে ভিন্ন ভিন্ন খণ্ড-বিখণ্ডে বিভক্ত করে সৃষ্টি করেছেন। যেন দেহের একটি খণ্ড নষ্ট হলে তার চিকিৎসা করে এটিকে সুস্থ করে তোলা যায়।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্যের শিক্ষাও দিয়েছেন এবং রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারো কোনো অসুস্থতা দেখলে চিকিৎসাপত্র দিতেন। তাই কারো দেহের কোনো অংশ অকেজো হয়ে গেলে তিনি যদি কারো দান করা অঙ্গ ব্যবহার করে সুস্থ হয়ে ওঠেন, এ ক্ষেত্রে আল্লাহ পাকের কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে বলে আমার জানা নেই।

তাই যে কোনো বিষয়কে অবৈধ আখ্যা দেওয়ার আগে ভেবে দেখতে হবে এ সম্পর্কে আল্লাহ ও রাসুলের শিক্ষা কী ছিল? যিনি প্রকৃত ইসলামের অনুসরণকারী; তিনি সব সময় সবার কল্যাণ কামনা করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অন্যের উপকার সাধনে নিয়োজিত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ইসলামে মাতৃভাষার মর্যাদা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : ভাষা আল্লাহর এক অনুপম নিদর্শন। বর্ণ, শব্দ, বাক্য, উচ্চারণে নানা বৈচিত্র্য বিদ্যমান। যা মুসলমানের জন্য শিক্ষণীয়। ভাষায় আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে ওঠে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘এবং তার নির্দেশনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে। (সুরা রুম-২২)। অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘দয়াময় আল্লাহ, শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন। সৃজন করেছেন মানুষ। শিক্ষা দিয়েছেন ভাষা। (সুরা আর-রহমান, ১-৪)।

আমাদের মহানবির (সা.) ভাষা ছিল সর্বাধিক সুফলিত। তিনি বলতেন, ‘আরবদের মধ্যে আমার ভাষা সর্বাধিক সুফলিত। তোমাদের চেয়েও আমার ভাষা অধিকতর মার্জিত ও সুফলিত। তাই মাতৃভাষার চর্চা, বিশুদ্বভাবে বলা রাসুলের (সা.) সুন্নত।’ ইসলামের প্রসারে, দীনের দাওয়াতের অন্যতম মাধ্যম ভাষা। সুন্দর, শুদ্ধ ভাষায় মানুষকে বোঝানো সম্ভব। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে বিজ্ঞানসম্মত ও উত্তম ভাষণ দ্বারা আহ্বান করো এবং তাদের সাথে সদ্ভাবে আলোচনা করো।’ (সুরা নাহল-১২৫)।

স্বজাতির ভাষা যা; সে ভাষায় ভাষাভাষি করে আল্লাহপাক রাসুল পাঠিয়েছেন। এতেই বোঝা যায়, মাতৃভাষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষি করে পাঠিয়েছি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য।’ (সুরা ইবরাহীম, আয়াত-৪)।

হজরত ঈসার (আ.) ওপর ইনজিল কিতাব তার মাতৃভাষা হিব্রুতে নাজিল হয়েছিল। তাওরাত সুরিয়ানি ভাষায় নাজিল হয়। সুরিয়ানি ছিল হজরত মুসার (আ.) মাতৃভাষা। শুধু মাতৃভাষা নয়, অন্য ভাষা শেখা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত আনসারি (রা.) ইয়াহুদি, খ্রিষ্টানদের ভাষা শিখেছেন। তাকে দিয়ে রাসুল (সা.) ইয়াহুদি, খ্রিষ্টানদের চিঠি লেখাতেন। আবার ইয়াহুদি, খ্রিষ্টানদের চিঠি তিনি পড়ে শোনাতেন। (বুখারি-২৬৩১)।

দ্বীনের দাওয়াতের জন্য ভাষা শিক্ষা জরুরি। মুসা (আ.) তার ভাষিক জড়তা দূর করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। ‘হে আমার রব, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। হে আমার রব, আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।’ (সুরা ত্বহা-২৫-২৮)।

হজরত হারুন (আ.) খুব সুন্দর স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতেন। মানুষকে বোঝাতে পারতেন। হয়তো সে কারণে মুসা (আ.) তাকে সঙ্গী হিসেবে আল্লাহর কাছে চাইলেন। যখন তিনি ফেরাউনকে ইসলামের দাওয়াত দিতে যান। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে প্রভু, আমার ভাই হারুন আমার চেয়ে সুন্দর ও স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারে। সুতরাং তাকে আমার সঙ্গে সাহায্যকারী হিসেবে প্রেরণ করুন।’ (সুরা ক্বাসাস-৩৪)। খারাপ, কদর্য ভাষা মুনাফিকের লক্ষণ। তারা যখন ঝগড়া-বিবাদ করে; তখন কদর্য ভাষা ব্যবহার করে।

হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যখন সে বিবাদে লিপ্ত হয়, সীমালঙ্ঘন করে কদর্য ভাষা ব্যবহার করে।’ (বুখারি-২৩২৭)। কারো সঙ্গে মতের অমিল হতেই পারে। তাই বলে নোংরা ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। কদর্য ভাষায় আক্রমণ করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষেধ। এটি কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষি ও গালাগালকারী হয় না।’ (তিরমিজি-২০৪৩)।

মুসলিমদের গালি দেওয়া স্পষ্ট ফাসেকি কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি (আল্লাহর অবাধ্য আচরণ) এবং তার সঙ্গে লড়াই-ঝগড়া করা কুফরি।’ (বুখারি-৬০৪৫, ৭০৭৬; তিরমিজি-১৯৮৩)। যত যা-ই হোক, ভাষা সংযত রাখতে হবে। এমন না যে, নোংরা ভাষায় কথা বললে আপনার মর্যাদা বাড়বে। তর্কে জিতবেন। বরং খারাপ ভাষা আপনার মর্যাদা কমিয়ে দিতে পারে।

ফেব্রুয়ারি মাস এলেই নয়, সারাবছর মাতৃভাষার চর্চা বাঞ্ছনীয়। মাতৃভাষার চর্চা অবশ্যই ইসলাম সমর্থিত একটি ভালো কাজ। তাই ঘরে-বাইরে সর্বত্র ভাষার ব্যবহারে যত্নবান হওয়া সময়ের দাবি।

পবিত্র শবে মেরাজ ১৯ ফেব্রুয়ারি
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ায় মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে ১৪৪৪ হিজরি সালের রজব মাস গণনা শুরু হবে। পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি (২৬ রজব) রোববার দিনগত রাতে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনিম হাসান।

সভায় অতিরিক্ত সচিব জানান, সব জেলাপ্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৪ হিজরি সালের রজব মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়া গেছে। এজন্য মঙ্গলবার থেকে রজব মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।

শবে মেরাজের দিন বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ দিন ঐচ্ছিক ছুটি।

‘শবে মেরাজ’ অর্থ ঊর্ধ্ব গমনের রাত। মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব দিনগত রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে মহানবী হয়রত মোহাম্মদ (স.) আল্লাহ তা’য়ালার সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন। এ বছর সেই রাতটি পড়েছে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি।

শবে মেরাজ মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদার। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল ইবাদত-বন্দেগির মধ্যদিয়ে এ মূল্যবান রাত কাটান। এই দিন অনেকে নফল রোজাও রাখেন।

শবেমেরাজ কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়
                                  

পবিত্র শবেমেরাজের তারিখ নির্ধারণ ও পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখার জন্য সন্ধ্যায় সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান সভাপতিত্ব করবেন।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে, ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র শবেমেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখার লক্ষ্যে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া দেশের আকাশে কোথাও চাঁদ দেখা গেলে ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ এবং ০২-৪১০৫০৯১৭ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাতে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সময় থাকতে যেসব জিনিসের মূল্যায়ন করতে বলেছেন নবিজি (সা.)
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : সময় থাকতে পাঁচটি জিনিসের মূল্যায়ন করতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এটি মুসলিম উম্মার প্রতি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নসিহত এবং বিশেষ অসিয়ত। যেন উম্মতের প্রতিটি সদস্য সৌভাগ্যবান, সফল ও সর্বাঙ্গীণ সুন্দর জীবন লাভ করতে পারে। সেই হাদিসটি কী?

হজরত আমর ইবনু মায়মুন আল আওদি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিয়ে বললেন: পাঁচ জিনিসের আগে পাঁচ জিনিসকে মূল্যায়ন করো। তাহলো-
১. যৌবনকে মূল্যায়ন করো বার্ধক্যের আগে।
২. সুস্থতাকে মূল্যায়ন করো অসুস্থ হওয়ার আগে।
৩. স্বচ্ছলতাকে মূল্যায়ন করো দারিদ্র্যতা আসার আগে।
৪. অবসরকে মূল্যায়ন করো ব্যস্ততার আগে। এবং
৫. জীবনকে মূল্যায়ন করো মৃত্যু আসার আগে।’ (জামে ১০৭৭, আত্ তারগিব ওয়াত তারহিব ৩৩৫৫, মুসান্নাফ ইবনু আবি শায়বা ৩৪৩১৯, শুআবুল ঈমান ১০২৪৮, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৭৮৪৬, মিশকাত,৫১৭৪)
.
কী বলা হয়েছে হাদিসটিতে?
১. ‘বার্ধক্য আসার আগেই যৌবনকে গুরুত্ব দাও’
বার্ধক্যের আগে যৌবনকালকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মানব জীবনের তিনটি কালের মধ্যে যৌবনকাল নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ। একথা সর্বজন স্বীকৃত যে একজন মানুষের যৌবন হচ্ছে তার সব কাজ-কর্মের তৎপরতার উৎস। যৌবনের ইবাদতও মহান আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ। হাদিসে এসেছে-
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যৌবনকাল ইবাদতে কাটানো যুবক সেই সাত ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে মহান আল্লাহ কেয়ামতের কঠিন অবস্থায় তাঁর আরশের ছায়াতলে স্থান দান করবেন আর সেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না।’ (বুখারি ৬৬০, মুসলিম ১০৩১, নাসায়ী ৫৩৮০, তিরমিজি ২৩৯১, আহমাদ ৯৬৬৫, ইবনু হিব্বান ৪৪৮৬, ইরওয়া ৮৮৭, মিশকাত ৭০১)

২. ‘অসুস্থতার আগেই সুস্থতাকে গুরুত্ব দাও’
প্রতিটি সুস্থ মূহুর্তকে পরিপূর্ণভাবে সদ্ব্যবহার করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। সুস্থতা মানুষের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার এক অপার মহিমা বিশাল নেয়ামত। সুস্থ অবস্থায় মানুষ আল্লাহর ইবাদত করার যে সামর্থ রাখে অসুস্থ হলে তার আর সামর্থ থাকেনা। কারণ মানুষের শরীর একটা স্বয়ংক্রীয় যন্ত্র বিশেষ। তাই এ যন্ত্রের একটু ব্যতিক্রম হলেই শরীরে নানা ধরণের বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তার নাম অসুস্থতা। সুস্থতা আল্লাহর একটি বড় নিয়ামত। মানুষ সুস্থ থাকলে সবকিছু করতে পারে কিন্তু অসুস্থ হয়ে গেলে আর কোনো কাজ করতে পারে না। তাই যখন সে সুস্থ থাকে তখন তাকে নেয়ামত মনে করে ইবাদতে মশগুল হওয়া প্রয়োজন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
‘যে ব্যক্তি তার দিনটি পারিবারিক নিরাপত্তাবোধ ও সুস্থতার মধ্য দিয়ে শুরু করতে পারলো এবং নিজের দিনটিকে কাজে লাগাতে পারলো সে যেন সমগ্র দুনিয়া অধিকার করলো।’ (তিরমিজি ২৩৪৬, ইবনে মাজাহ ৪১৪১)

৩. ‘দারিদ্রতার আগেই স্বচ্ছলতাকে গুরুত্ব দাও’
অভাব অফুরন্ত। মানুষের একটি অভাব পুরণ হলে আরেকটি এসে হাজির হয়। এজন্য সে মনে করে আর একটু স্বচ্ছল হলে ভালো কাজটি করব। কিন্তু সে জানে না বর্তমানের চেয়ে সে আরো দরিদ্র হয়ে যেতে পারে। মানব দেহে যেমন যে কোন সময় অসুস্থতা আসতে পারে, ঠিক তেমনি যে কোন সময় মানব জীবনে দারিদ্রতাও এসে যেতে পারে। কারণ স্বচ্ছলতা এবং অস্বচ্ছলতা এর কোনটাই মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। মহান আল্লাহ বলেন-

‘নিশ্চয় তোমার রব যাকে ইচ্ছা করেন তার রিযিক বাড়িয়ে দেন। যাকে ইচ্ছা করেন তার রিযিক সংকীর্ণ করে দেন। তিনি অবশ্যই তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত, পূর্ণ দ্রষ্টা।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ৩০)

৪. ‘ব্যস্ততা আসার আগেই অবসরকে গুরুত্ব দাও’
হাদিসের এ অংশে অবসরকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। ইসলামে অলস সময় কাটানোকে সম্পূর্ণভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে ব্যস্ততা ও অবসর দুটোই বান্দাহর জন্য নেয়ামত। ব্যস্ততা এজন্য নেয়ামত যে, ব্যস্ততা মানুষের অনেক অন্যায় ও বেহুদা কাজ থেকে বিরত রাখে। আর অবসর এই অর্থে নিয়ামত যে, সে এই অবসরে অনেক ভালো কাজ সম্পন্ন করে নেকী লাভ করতে পারেন।

৫. ‘মৃত্যু আসার আগেই জীবনকে গুরুত্ব দাও’
পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়া মাত্রই মানুষের জীবন শুরু হয় এবং মৃত্যুর মাধ্যমে তার জীবনের অবসান ঘটে। তবে পৃথিবী নামক এই গ্রহে কার অবস্থান কতটুকু সময় তা মানুষ কেউ বলতে পারবে না। কারণ জীবন-মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। কে কখন কীভাবে মৃত্যু বরণ করবে এটা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে বলেছেন-

‘বল যে মৃত্যু হতে তোমরা পলায়ন করছ তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। (সুরা জুমুআ : আয়াত ৮)
তাই এখনই মৃত্যু এসে যেতে পারে এই চিন্তা করে জীবনের প্রতিটি মুহুর্তকে কাজে লাগানোই হচ্ছে মুমিন জীবনের প্রধানতম কাজ।
মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে এ হাদিসের গুরুত্ব ও মর্যাদা উপলব্ধি করে কাজে পরিণত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নবীজি সা. যেভাবে জীবনযাপন করত
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : বিশ্ব মুসলমানদের হৃদয়ের তীর্থস্থান মসজিদুল হারাম থেকে সামান্য দূরেই আখেরী নবী রাসুল (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহর ঘর অবস্থিত। সেটি ‘শিআবে আলী’র প্রবেশমুখে অবস্থিত। বনি হাশেম গোত্র যেখানে বাস করত সেটিই ‘শিআবে আলী’ হিসেবে তখন পরিচিত ছিল। আর বাবা আবদুল্লাহর এ ঘরেই প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে রাসুল (সা.) এ ঘরেই বসবাস করতেন বলে জানা যায়। নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য । সাদাদিধে জীবন যাপন ছিল নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের অন্যতম অংশ।

তিনিঅনাড়ম্বরপূর্ণ ও দরিদ্রতা পছন্দ করতেন। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) দোয়া করে বলেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দরিদ্র অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখো, দরিদ্র থাকা অবস্থায় মৃত্যু দিও এবং কিয়ামত দিবসে দরিদ্রদের দলভুক্ত করে হাশর করো।
এ কথা শুনে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এমন বলছেন কেন? তিনি বললেন, হে আয়েশা! তারা তো তাদের সম্পদশালীদের চেয়ে চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আয়েশা! তুমি প্রার্থনাকারী দরিদ্রকে ফিরিয়ে দিও না। যদি দেওয়ার মতো কিছু তোমার নিকট না থাকে, তাহলে একটি খেজুরের টুকরা হলেও তাকে দিও। হে আয়েশা! তুমি দরিদ্রদের ভালোবাসবে এবং তাদেরকে তোমার সান্নিধ্যে রাখবে। তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তোমাকে তার সান্নিধ্যে রাখবেন। (তিরমিজি , হাদিস : ২৩৫২) হজরত আয়শা (রা.) মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর বলেছিলেন, আখেরী নবী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবিতকালে আমাদেরকে কয়েকবার শুধু পানি আর খেজুর খেয়েই দিন কাটাতে হয়েছিল। এমনকি, যেদিন তার মৃত্যু হয় সেদিনও আমাদের ঘরে পানি ও খেজুর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। (বোখারি)। সাদাসিধে জীপন যাপন করলেও নবীজি মানুষ ছিলেন। দুনিয়ার জীবন যাপনের জন্য তিনি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ব্যবহার করতেন। নিজের ও পরিবারের থাকার জন্য তিনি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। মদিনায় হিজরত করার পর হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে মসজিদে নববি নির্মাণ করেন। মসজিদে নববির পাশের ও সংলগ্ন ভূমির মালিক ছিলেন হারিস ইবনে নোমান (রা.)। সেখানে তাঁর বাড়ি ছিল। কিন্তু তিনি তা মহানবী (সা.)-এর প্রয়োজনে ছেড়ে দেন। তিনি উপহার হিসেবে ছেড়ে দিলেও রাসুল (সা.) তাঁকে উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করেন। তাঁর পুরো বাড়িই রাসুল (সা.) ও তাঁর পবিত্র স্ত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হতো। (আল ওয়াফা বি-আহওয়ালিল মোস্তফা, পৃষ্ঠা-২৬০) সেখানে মোট ৯টি ঘর নির্মাণ করা হয়। অবকাঠামোতে কাঁচা ইট ও খেজুরের ডাল ব্যবহার করা হয়। চারটি ঘরের সামনে পাথরের দেয়াল বা বেড়া ছিল। অন্যগুলোর সামনে শক্ত মাটির দেয়াল ছিল, যেন কেউ সহজেই ঢুকে যেতে না পারে। প্রতিটি ঘরের ছিল দরজা ও জানালা। হাদিসের বর্ণনা থেকে পাওয়া যায়, আয়েশা (রা.)-এর ঘরে এক পাল্লাবিশিষ্ট কাঠের দরজা ছিল এবং তার সামনে পর্দা ঝোলানো থাকত। কোনো কোনো ঘরের সামনে ছোট কক্ষও ছিল। সে ক্ষেত্রে মূল কক্ষে লাকড়ির তৈরি দরজা থাকত এবং ছোট কক্ষের দরজায় পর্দা ঝোলানো থাকত। হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘরে সাধারণ পশমের তৈরি কাপড়ের পর্দা ব্যবহৃত হতো। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিছানা ছিল চামড়ার তৈরি এবং তার ভেতরে ছিল খেজুরগাছের ছাল। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৫৬) অন্য বর্ণনায় এসেছে, তাঁর ব্যবহৃত বালিশও ছিল চামড়ার তৈরি, যার ভেতরে ছিল খেজুরগাছের ছাল। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪১৪৬)

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর বর্ণনায়ও হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘরের আসবাবের বিবরণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, আখেরী নবী ‘রাসুল (সা.) একটি চাটাইয়ের ওপর শুয়ে ছিলেন। চাটাইয়ের ওপর কিছুই ছিল না। তাঁর মাথার নিচে ছিল খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার বালিশ। আমি তাঁর শরীরে চাটাইয়ের দাগ দেখে কেঁদে ফেললাম। তিনি বলেন, কাঁদছ কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কায়সার ও কিসরা ভোগ-বিলাসে মত্ত অথচ আপনি আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে তাদের জন্য পার্থিব জীবন ও আমাদের জন্য পরকাল। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯১৩)

এক মুসলমানের প্রতি অন্যের পাঁচ অধিকার
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : ছোট্ট একটি হাদিসে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক মুসলমানের প্রতি অন্য মুসলমানের দায়িত্ব তুলে ধরেছেন। তাদের একজনের প্রতি অন্য জনের রয়েছে পাঁচটি অধিকার। সেই অধিকারগুলো কী? এর শিক্ষাই বা কী?

মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজ জীবনে চলতে গেলে প্রতিনিয়তই পরস্পরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়ে থাকে। মানুষের চারপাশে থাকা সমাজের এক জনের সঙ্গে অপর জনের রয়েছে ৫ টি হক বা অধিকার। পরস্পরের সঙ্গে আচার-আচরণ সম্পর্কে হাদিসের সুস্পষ্ট দিকনির্দশন এভাবে ওঠে এসেছে-


হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন (এক) মুসলমানের ওপর (অপর) মুসলমানের পাঁচটি হক রয়েছে। আর তাহলো-

১. সালাম দিলে সালামের উত্তর দেওয়া;
২. কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া;
৩. কেউ মুত্যুবরণ করলে তার জানাজার নামাজে শরিক হওয়া
৪. কেউ দাওয়াত দিলে তা গ্রহণ করা এবং
৫. কেউ হাঁচি দিলে তার উত্তর দেওয়া। (বুখারি ও মুসলিম)

হাদিসের শিক্ষা

এ হাদিসে এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের প্রাপ্য পাঁচটি হকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ পাঁচটি হকই ফরজে কিফায়া পর্যায়ের। হকগুলো হলো-

০১. সালাম দেয়া সুন্নাত; উত্তর দেয়া ওয়াজিব। এটি এমন একটি সুন্নাত, যা ফরজের মতোই উত্তম। কেননা সালামের মাধ্যমে বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ পায়। এর মাধ্যমে একটি ওয়াজিব আদায় করা হয়।

০২. প্রতিবেশি অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া সুন্নাত। তাঁর খোঁজ খবর নেয়া। এমনকি প্রতিবেশি যদি অমুসলিমও হয় তবুও তার খোঁজ-খবর নেয়া জরুরি।

০৩. মৃতব্যক্তির জানাযায় অংশগ্রহণ করা ফরজে কিফায়া। মৃতব্যক্তির জানাযা আদায় থেকে দাফন পর্যন্ত সঙ্গ দেয়া মুস্তাহাব।

০৪. দাওয়াতের দুটি অর্থ হতে পারে-

> কাউকে সাহায্য করার জন্য কেউ আহ্বান করলে, তাঁর ডাকে সাড়া দেওয়া; তাকে সাধ্যমতো সাহায্য করা।

> কারো দাওয়াত কবুল করা; এ দাওয়াত কবুল করা তখনই আবশ্যক, যখন তা গ্রহণ করলে কোনো গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। এমনিভাবে মেজবানের কামাই-রোজগার যদি হালাল হয় তবে দাওয়াত গ্রহণ করা ওয়াজিব। আর কামাই-রোজগার যদি সুস্পষ্ট হারাম হওয়া প্রমাণিত হয় তবে দাওয়াত বর্জন করা ওয়াজিব।

০৫. কোনো মুসলমান হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে, তাঁর উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা। হাঁচির উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ ভালো-মন্দ উভয়েই সমান। তবে নেককারদের হাঁচির জবাব হাসিমুখে দেওয়া উত্তম।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁদের হকগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার দোয়া
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : বিপদাপদে মানুষ অধৈয্য হয়ে যায়। হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। স্বাভাবিক জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পায়। অথচ সকল বিপদাপদ থেকে হিফাজতকারী হলেন মহান আল্লাহ তআলা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠিন বিপদাপদের মুহূর্তে আল্লাহর সাহায্য লাভের কথা বলেছেন। যা এখানে তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাস তুর আওরাতিনা ওয়া আমিন রাওয়াআতিনা।’ (মুসনাদে আহমাদ)

অর্থ : হে আল্লাহ আমাদের সকল দুর্বলতাকে আপনি ঢেকে রাখুন এবং আমাদের অস্থিরতাকে স্থিরতায় পরিণত করুন।

উৎস : খন্দকের যুদ্ধের সময় সাহাবায়ে কেরামগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আবেদন করলাম হে আল্লাহর রাসুল! এ কঠিন মুহূর্তে আমাদের জন্য কোনো দোয়া আছে কি? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট এভাবে দোয়া কর। সাহাবায়ে কেরামগণ উপরোক্ত দোয়াটি করলে আল্লাহ তাআলা বাতাসের মাধ্যমে শত্রু বাহিনীকে ধ্বংস করে দেন।

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, বিপদাপদে উক্ত দোয়া পড়ে আল্লাহ তাআলার সাহায্য লাভ করা। আল্লাহ সবাইকে তাঁর সাহায্য নসিব করুন। আমিন।

সালাম ফেরানোর পর যে দোয়া পড়তে হয়
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : উপকারি জ্ঞান, পবিত্র রিজিক ও কবুলযোগ্য আমলের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহের বিকল্প নেই। যারা আল্লাহর কাছে চাইবে মহান আল্লাহ তাদের এ জিনিসগুলো দান করবেন। এ কারণে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজ পড়ে সালাম ফেরানোর পরপরই মহান আল্লাহর কাছে এভাবে ধরণা দিতেন-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিযকান ত্বইয়্যেবান ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারি জ্ঞান চাই; পবিত্র রিজিক চাই এবং কবুলযোগ্য আমলের প্রার্থনা করি।’ (নাসাঈ ৯২৫)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজের সালাম ফেরানোর পরপরই তাঁর কাছে এ দোয়া বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন। তিনি মানুষকে উপকারি জ্ঞান, হালাল রিজিক ও কবুলযোগ্য আমল দান করুন। আমিন।

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণাম কী?
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : দুনিয়া ও আখেরাতের অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাক্ষ্য দেওয়া। দুনিয়াতে যেভাবে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার-ফয়সালা করা হয়। তেমনি পরকালেও বিচার-ফয়সালায় এ সাক্ষ্যের বিষয়টি থাকবে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে সত্য সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। মিথ্যা সাক্ষ্য থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। কারণ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া মারাত্মক অপরাধ। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় তিনটি বড় (কবিরা) গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না? উপস্থিত সবাই বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, (সেগুলো হলো)-

১. আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা;

২. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, তিনি হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। এবার সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, শুনে রাখ

৩. মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। এ কথাটি এত অধিকবার বলতে থাকলেন যে, সাহাবাগণ মনে মনে বলতে লাগলেন, ‘আর যদি তিনি না বলতেন। (বুখারি)

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া মারত্মক অপরাধ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেলান দিয়ে বসা থেকে সোজা হয়ে বসে একাধিকবার মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যাপারে তাগিদ করাই প্রমাণিত হয় যে, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। পাশাপাশি সত্য সাক্ষ্যকে গোপন করাও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া নামান্তর।


মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণাম

১. কবিরা গুনাহ

কবিরা গুনাহের অন্যতম হলো মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা। হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কবিরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।’ (বুখারি ২৬৫৩; মুসলিম৮৮) ।

২. শিরকের সমতুল্য আপরাধ

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া শিরকের ন্যায় মহাপাপ। এ সম্পর্কে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-

‘মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার সাথে সমতুল্য। এরপর তিনি কোরআনের আয়াত পড়লেন- ‘অতএব তোমরা মূর্তির অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক, মিথ্যা কথা পরিহার কর, একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও। তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কর না (সুরা হজ : আয়াত ৩০-৩১)। (বায়হাকি)

৩. অন্যের প্রতি জুলুম

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া অন্যের প্রতি জুলুম করার শামিল। এই জুলুমের দ্বারা কখনো অন্যের সম্পদ এমনকি কখনো অন্যের জীবনও চলে যেতে পারে। হজরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, ‘একদিন দুই ব্যক্তি উত্তরাধিকার সম্পর্কীয় ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ে সাক্ষী ছাড়া শুধু প্রাপ্যের দাবি নিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসেছিল। এমতাবস্থায় তিনি বললেন-

‘আমি যদি তোমাদের কাউকে তার ভাইয়ের হক (তোমাদের একজনের মিথ্যা বলার কারণে) দিয়ে দেই, তখন আমার সে ফয়সালা দোষী ব্যক্তির জন্য হবে জাহান্নামের একখন্ড আগুন। এ কথা শুনে তারা উভয়েই বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার অংশটি আমার সঙ্গীকে দিয়ে দিন। তখন তিনি বললেন, না, বরং তোমরা উভয়ে (সমানভাবে) বণ্টন করে নাও। আর বণ্টনে হক পন্থা অবলম্বন করবে এবং পরস্পরের মধ্যে লটারি করে নেবে। এরপর তোমরা একে অপরকে ঐ অংশ থেকে ক্ষমা করে দেবে।’ (আবু দাউদ ৩৫৮৪; মিশকাত ৩৭৭০)

৪. অন্যের হক নষ্ট করা হয়

মিথ্যা সাক্ষ্যর দেওয়ার মাধ্যমে অন্যের হক নষ্ট করা হয়। একজনের হক অন্যকে দিয়ে দেওয়া হয় এবং অন্যকে তার প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত করা হয়। আর এটা যেহেতু বান্দার হক সেহেতু বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমরা কি জান নিঃস্ব কে? সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মাঝে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি যার কোনো অর্থ ও বাহন নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে নামাজ, রোজা ও জাকাতের নেকি নিয়ে কেয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবে। অপরদিকে সে (দুনিয়াতে) অন্যায়ভাবে কাউকে গালি দিয়েছে, অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ ভক্ষণ করেছে, কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, এমন ব্যক্তিরাও উপস্থিত হবে। তখন তার নেকি থেকে তাদের এক এক করে পরিশোধ করা হবে। কিন্তু তাদের পাপ্য পরিশোধের আগে তার নেকি শেষ হয়ে গেলে তাদের পাপ থেকে (জুলুম পরিমাণ) নিয়ে তার উপর চাপানো হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম ২৫৮১; তিরমিজি ২৪১৮; মিশকাত ৫১২৮)

৫. মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার ভাল আমল কবুল হবে না

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে ব্যক্তির ভাল আমলও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা সম্পকে বলেন-

‘যে লোক মিথ্যা কথা বলে এবং সে অনুসারে কাজ করা আর মূর্খতা পরিহার করে না, আল্লাহর কাছে তার পানাহার বর্জনের কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি ৬০৫৭; আবু দাউদ ২৩৬২; তিরমিজি ৭০৭; ইবনু মাজাহ ১৬৮৯)

৬. হালাল-হারামে রদবদল হয়

মিথ্যা সাক্ষ্যের দ্বারা আল্লাহর হালালকৃত বিষয় অনেক সময় হারাম করা হয় আবার অনেক সময় হারামকে হালাল করা হয়।

৭. কেয়ামতের অন্যতম আলামত

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

‘কেয়ামতের কাছাকাছি সময়ে ব্যক্তি বিশেষকে নির্দিষ্ট করে সালাম দেওয়ার প্রচলন ঘটবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। ফলে স্বামীর ব্যবসায়ে স্ত্রীও সহযোগিতা করবে। রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা ছিন্ন করা হবে। মিথ্যা সাক্ষ্যদানের প্রচলন হবে এবং সত্য সাক্ষ্য গোপন করা হবে, লেখনীর প্রসার ঘটবে।’ (মুসনাদে আহমাদ ৩৮৭০; আদাবুল মুফরাদ ৮০১)

৮. জাহান্নামে যাওয়ার কারণ

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে অনেকেরই জাহান্নামে যাওয়ার কারণও হতে পারে। হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, কোনো লোক জ্ঞাতসারে নিজ পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করলে সে আল্লাহর সঙ্গে কুফরি করলো এবং যে ব্যক্তি নিজেকে এমন বংশের সঙ্গে সম্পর্কিত দাবি করল যে বংশের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নিল।’ (বুখাবি ৩৫০৮; মুসলিম ৬১)

সুতরাং সব সময় সত্য সাক্ষ্য প্রদান করতে হবে। সত্য সাক্ষ্য গোপন থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে সত্য সাক্ষ্য দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জুমার প্রথম খুতবা : জুমার দিন উম্মতের জন্য বিশেষ উপহার
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আজ শুক্রবার। জুমার দিন। ২৫ নভেম্বর ২০২২ ইংরেজি, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বাংলা, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৪ হিজরি। রবিউস সানি মাসের শেষ জুমা আজ। আজকের জুমার আলোচ্য বিষয়- জুমার দিন উম্মতের জন্য বিশেষ উপহার। আল্লাহ তাআলা কোরআন-সুন্নায় জুমার দিনের অনেক নেয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন। এ দিনের আমল ইবাদতের কথা বলেছেন। এ প্রার্থনা প্রসঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা কী?

সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি একক, তার কোনো অংশীদার নেই। যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক। যার পরে আর কোনো নবি নেই। আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে জুমা পড়ার নির্দশ দিয়ে বলেন-

হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে নামাজের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ৯)

আল্লাহ তাআলা আগের সব জাতিকে ইবাদতের জন্য একটি দিন নির্ধারণের সুযোগ দিয়েছেন। তারা সবাই ইবাদতের দিন নির্ধারণে ভুল করেছেন। ইহুদিরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য শনিবারকে নির্বাচন করেছে আর নাসারারা নির্ধারণ করেছে রোববারকে। অথচ সবচেয়ে সম্মানিত দিন হল জুমাবার। এ দিনের অনেক ফজিলত, অনেক বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা মেহেরবানী করে সে দিনটি উম্মতে মুহাম্মদীকে দান করেছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
আমরা পরে আগমনকারীরাই কেয়ামতের দিন অগ্রগামী হব। তবে অন্যদেরকে (আসমানি) কিতাব দেওয়া হয়েছে আমাদের আগে। এই দিন (অর্থাৎ শ্রেষ্ঠতম একটি দিনে সকলে একত্র হয়ে বিশেষ ইবাদত করা) তাদের উপর ফরজ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এতে মতবিরোধ করেছে। আর আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক দিনটির পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং এক্ষেত্রে মানুষ আমাদের অনুগামী। ইহুদিদের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার পরের দিন শনিবার আর খ্রিস্টানদের শ্রেষ্ঠ দিন এর পরের দিন রোববার। (বুখারি ৮৭৬; মুসলিম ৮৫৫)

আরেক হাদিসে বিষয়টি এভাবে এসেছে- নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
আল্লাহ তাআলা আমাদের আগের উম্মতকে জুমার (সপ্তাহের এক দিন জমা হয়ে ইবাদত করার) ব্যাপারে সঠিক দিনের পথ দেখাননি। ফলে ইহুদিদের জন্য হয়েছে শনিবার আর খ্রিস্টানদের জন্য হল রবিবার। এরপর আল্লাহ তাআলা আমাদের এনেছেন এবং জুমার জন্য সঠিক দিনের নির্দেশনা দান করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা (সম্মানিত দিন) নির্ধারণ করেছেন এভাবে- জুমাবার, শনিবার, রোববার।
(শ্রেষ্ঠ দিবস নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেমন অন্যান্যরা আমাদের অনুগামী) তেমনি কেয়ামতের দিনও তারা হবে আমাদের অনুসারী। আমরা দুনিয়ায় সবার শেষে আগমণকারী, কিন্তু কেয়ামতের দিন হব সবার থেকে অগ্রগামী। সেদিন আমাদের ফায়সালা করা হবে সকলের আগে।’ (মুসলিম ৮৫৬; নাসাঈ ১৩৬৮; ইবনে মাজাহ ১০৮৩)

জুমার দিনের পাঁচটি বিশেষ ফজিলত

জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার অন্যতম একটি বিষয় হল, এ দিন কালক্রমে সংঘটিত এমন কিছু মহাঘটনার নীরব সাক্ষী, যা পৃথিবীর মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল বা পৃথিবীকে নবজীবন দান করেছিল। এমনিভাবে এ দিনই সংঘটিত হবে ঐ মহাপ্রলয়, যা এই নশ্বর পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটিয়ে এক অবিনশ্বর জগতের সূচনা করবে। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনযির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
‘নিশ্চয় জুমার দিন হল সমস্ত দিনের সর্দার। জুমার দিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে মহান দিবস। এমনকি এই দিন আল্লাহ তাআলার কাছে ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর তথা ইসলামের দুই ঈদের দিন থেকেও মহান।
জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ দিন আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন। এ দিন তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এদিনেই আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করেছেন। জুমার দিন একটা সময় আছে, যাতে বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাইবে আল্লাহ তাআলা তাকে তা-ই দান করবেন, যদি না সে হারাম কোনো বিষয়ের প্রার্থনা করে। তদ্রূপ, কেয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই।
নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ পর্যন্ত জুমার দিন (কেয়ামতের আশঙ্কায়) ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। পৃথিবী, আকাশ, বাতাস, পাহাড়, পর্বত, সাগর সবকিছু জুমার দিন (কেয়ামতের আশঙ্কায়) উদ্বিগ্ন থাকে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ৫৫৫৯; মুসনাদে আহমাদ ১৫৫৪৮; ইবনে মাজাহ ১০৮৪১)

অন্য হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
সূর্য যেসব দিন উদিত হয় অর্থাৎ দিনসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এদিন আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁকে দুনিয়াতে নামানো হয়েছে। এদিন তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর তওবা কবুল হয়েছে। এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। মানুষ ও জিন ছাড়া এমন কোনো প্রাণী নেই, যা কেয়ামত কায়েম হওয়ার ভয়ে জুমার দিন ভোর থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত চিৎকার করতে থাকে না। জুমার দিন একটা সময় আছে, কোনো মুসলিম যদি সে সময় নামায আদায় করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাকে তা দান করবেন।’ (মুয়াত্তা মালেক ২৯১; মুসনাদে আহমাদ ১০৩০৩; আবু দাউদ ১০৪৬; নাসাঈ ১৪৩০; ইবনে হিব্বান ২৭৭২)

জুমার দিনে পুরো সৃষ্টিজগৎ ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে
জুমার দিন সমস্ত প্রাণী এ ভয়ে আতঙ্কিত থাকে যে, না জানি আজই কেয়ামত কায়েম হয়ে যায়। অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন নেই। মানুষ ও জিন ছাড়া এমন কোনো প্রাণী নেই, যা জুমার দিন (কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কায়) ভীতসন্ত্রস্ত থাকে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৫৫৬৩; মুসনাদে আহমাদ ৭৬৮৭; মুসনাদে আবু ইয়ালা ৬৪৬৮)

জুমার দিন সপ্তাহের সব দিনের সর্দার
হজরত আবু লুবাবা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে যে, নিশ্চয়ই জুমার দিন হল সমস্ত দিনের সর্দার। জুমার দিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে মহান দিবস। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসেও উল্লিখিত হয়েছে যে, সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। বিষয়টি আরও একাধিক হাদিসে বিবৃত হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত অন্য হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
সূর্য যে সব দিন উদিত হয় অর্থাৎ দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম দিন হল জুমার দিন। এই দিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিন তাকে জান্নাতে দাখেল করা হয়েছে। ঐ দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। কেয়ামতও সংঘটিত হবে এ দিনেই। (মুসলিম ৮৫৪; মুসনাদে আহমাদ ৯৪০৯; তিরমিজি ৪৮৮)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

‘জুমার দিন হচ্ছে, সকল দিনের সর্দার। এই দিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিন তাঁকে জান্নাতে দাখেল করা হয়েছে এবং এই দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। আর জুমার দিনই সংঘটিত হবে কেয়ামত।’ -মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস ১০২৬

জুমার রাতে বান্দার আমল পেশ করা হয়

জুমার দিনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল, জুমারাতে আল্লাহ তাআলার কাছে বান্দাদের আলম পেশ করা হয়। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ أَعْمَالَ بَنِي آدَمَ تُعْرَضُ كُلّ خَمِيسٍ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، فَلَا يُقْبَلُ عَمَلُ قَاطِعِ رَحِمٍ.
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অর্থাৎ জুমারাতে আদম সন্তানের আমল (আল্লাহর সামনে) পেশ করা হয়। তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের আমল কবুল করা হয় না। (মুসনাদে আহমাদ ১০২৭২; আলআদাবুল মুফরাদ ৬১২)

জান্নাতের ‘ইয়াউমুল মাজিদ’
জুমার দিনের একটি বিশেষ ফজিলত হল, জান্নাতবাসীদের জন্য এ দিনটি মহা আনন্দ ও বিশেষ প্রাপ্তির দিন। জান্নাতে প্রতি জুমার দিন বিপুল আনন্দ ও প্রাপ্তির সমাহার ঘটবে। আল্লাহ তাআলার বিশেষ ব্যাবস্থাপনায় নবী-রাসুল, নেককার বান্দাগণের মিলন-উৎসব হবে।
সর্বোপরি জান্নাতিরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দীদার পেয়ে ধন্য হবে, যা হল জান্নাতের সর্বোচ্চ নেয়ামত। তাই ফেরেশতারা জুমার দিনকে স্মরণ করেন ‘ইয়াউমুল মাযীদ’ তথা অনন্য প্রাপ্তিদিবস নামে। হাদিসে পাকে এসেছে- হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

জিবরীল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসেছেন শুভ্র আয়নার মত একটা জিনিস নিয়ে। আয়নাটিতে একটি কালো দাগ। আমি বললাম, এটা কী?
জিবরীল আলাইহিস সালাম বলেছেন, এটি হল জুমার দিন। এ দিনকে আল্লাহ তাআলা আপনার এবং আপনার উম্মতের জন্য ঈদের দিন বানিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং আপনারা ইহুদি ও নাসারা থেকে অগ্রগামী। (তাদের বিশেষ ইবাদতের দিন যথাক্রমে শনিবার ও রবিবার, যা জুমার দিনের পরে আসে।) এই দিন একটা সময় আছে, যে সময় বান্দা আল্লাহর কাছে যে কল্যাণই প্রার্থনা করে আল্লাহ তাকে তা-ই দান করেন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, জুমার দিনকে কালো দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা হল কেন?
জিবরীল আলাইহিস সালাম জবাব দিয়েছেন, এই যে কেয়ামত দিবস তা এ দিনেই সংঘঠিত হবে। আখেরাতে৩ জুমার দিনকে আমরা ‘ইয়াউমুল মাযীদ’ নামে স্মরণ করব।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, ‘ইয়াউমুল মাযীদ’ কী?
জিবরীল আলাইহিস সালাম উত্তর দিয়েছেন, জান্নাতে আল্লাহ তাআলা প্রশস্ত ও সুগন্ধময় একটা উপত্যকা বানিয়েছেন এবং এতে তিনি শুভ্র মেশকের একাধিক টিলা স্থাপন করেছেন। জুমার দিন এলে আল্লাহ তাআলা এ উপত্যকায় অবতরণ করবেন। তখন সেখানে নবীগণের জন্য স্বর্ণের মিম্বরসমূহ রাখা হবে, শহীদগণের জন্য মুক্তার অনেক চেয়ার পাতা হবে এবং জান্নাতী হুরেরা আপন আপন কক্ষ থেকে অবতরণ করবে। এরপর সকলে মিলে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও মাহাত্ম্যের স্তুতি গাইতে থাকবে।
জিবরীল আলাইহিস সালাম আরও বলেন, এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করবেন, (হে ফেরেশতারা!) আমার বান্দাদের (বিশেষ পোশাক) পরিধান করাও। সে অনুযায়ী তাদের সজ্জিত করা হবে।
তখন আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেবেন, আমার বান্দাদের জন্য (বিশেষ) খাদ্য পরিবেশন কর। আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তাদের জন্যই বিশেষ ভোজনের ব্যবস্থা করা হবে।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমার বান্দাদের সামনে (বিশেষ) পানীয় উপস্থিত কর। সে হিসাবে তাদের সামনে পানীয় পরিবেশন করা হবে।
এরপর আল্লাহ তাআলার আদেশ, আমার বান্দাদের আতর-খোশবু লাগিয়ে দাও। তখন তাদেরকে সুরভিত করা হবে।
এবার আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করবেন, (হে আমার বান্দারা!) তোমরা আমার কাছে কী চাও?
তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমরা কেবল আপনার রিদা ও সন্তুষ্টি কামনা করি।
আল্লাহ তাআলা উত্তর দেবেন, আমি তোমাদের প্রতি রাজি হয়ে গেছি। (তবারানীর বর্ণনায় আছে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য এমন এমন নেয়ামতের দ্বার উন্মুক্ত করবেন, যা কখনো কোনো চোখ দেখেনি এবং কোনো হৃদয় কল্পনা করেনি।)
তারপর সবাইকে নিজ নিজ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা নির্দেশ করবেন। সকলে আপন আপন জান্নাতে চলে যাবে এবং হুরেরা ঐসব কক্ষে আরওহণ করবে, যার প্রত্যেকটিই সবুজ (মূল্যবান রত্ন) পান্না বা লাল ইয়াকুতের তৈরি। (মুসনাদে আবু ইয়ালা ৪২২৮; তবারানি ৩/৫৫ ২১০৫৪)

মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি জুমার দিনের নেয়ামত পাওয়ার চেষ্টা ও দোয়া করা। দুনিয়া ও পরকালের জীবন নেয়ামতে পরিপূর্ণ করে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দিনব্যাপী ইবাদত-বন্দেগি করা।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে বেশি বেশি জুমার দিন আমল ইবাদতে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। কোরআন-সুন্নায় ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ক্ষমা প্রার্থনায় যে দোয়া পড়তে ভালোবাসতেন নবিজি (সা.)
                                  

মিয়া আব্দুল হান্নান : আল্লাহ তাআলা মানুষকে ভালোবাসেন বলেই ক্ষমা চাইলে তিনি বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে ক্ষমা চাওয়ার অনেক দোয়া ও আমল শিখিয়েছেন। এরমধ্যে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ একটি দোয়াও শিখিয়েছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে এ দোয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেছিলেন। দোয়াটি কী?

আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার একটি দোয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য তুলে ধরেছেন। মুমিন মুসলমান রোনাজারি ও ক্ষমা প্রার্থনায় আত্মনিয়োগ করবে আর বলবে-

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করে দিতে ভালোবাসেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।

অনেকেই দোয়াটিকে শবে কদরের রাতের দোয়া হিসেবেই জানেন। কিন্তু প্রত্যেক রাতেই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানান। যে কেউ প্রতি রাতে মহান আল্লাহর কাছে নবিজির শেখানো দোয়ায় ক্ষমা চাইবে, মহান আল্লাহ ওই বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন।

আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক হবে ৬ আমলে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : জীবনের সফলতা পেতে আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার বিকল্প নেই। ইবাদত ও আমলে বান্দার এমন কিছু অনুভূতি রয়েছে, যা তাকে আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরিতে সুযোগ করে দেয়। মুমিন মুসলমানের জন্য এ অনুভূতি ও কাজগুলো খুবই জরুরি। সুসম্পর্ক তৈরির আমল ৬টি কী?

মানুষের প্রতি আল্লাহর অবিরত রহমত নাজিল হয়। মায়ের গর্ভের ভ্রুণ থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ আল্লাহর এ রহমত ভোগ করে। তাঁর রহমতেই মানুষ বেড়ে ওঠে। আল্লাহর এ রহমত ও নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনই তাঁর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক তৈরি হয়। আল্লাহর সঙ্গে বান্দার অনুভূতি ও কাজগুলো হবে এমন-

১. আল্লাহর প্রশংসা করা

আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক স্থাপনের অন্যতম ও প্রধান কাজই হচ্ছে, প্রতি মুহূর্তে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও প্রশংসা করা। আর তা করতে হবে কথা, কাজ ও সম্মতির মাধ্যমে। কোনোভাবেই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা থেকে দূরে থাকা যাবে না। কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি এ নির্দেশই দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সূরা বাক্বারা : আয়াত ১৫২)

২. আল্লাহকে ভয় করা

যে মুমিন মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা মিশ্রিত ভয় রাখবে, তার সঙ্গে আল্লাহর বুন্ধত্ব স্থাপন হবে। যেভাবে মহান আল্লাহ বলেন-

‘যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তরে তার কাছে উপস্থিত হত।’ (সুরা কাফ : আয়াত ৩৩)

আল্লাহ তাআলা বান্দার সব অবস্থা দেখেন এবং জানেন এ অনুভূতির ফলে বান্দার হৃদয়-মন আল্লাহর ভয় ও ভক্তি-শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে, তাঁর অবাধ্যতায় লজ্জিত হয়, তাই আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ ও আনুগত্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাওয়াটাকে রীতিমতো অপমান মনে করে। এ অনুভূতিই বান্দাকে আল্লাহর বন্ধুত্বে পরিণত করে দেয়।

৩. আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা

আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর ক্ষমতাবান। বান্দা তাঁর অধীন এবং তাঁর দিকে ছাড়া বান্দার পালানোর, মুক্তির ও আশ্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং যে বান্দা সব সময় আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে, তাঁরই দিকে ধাবিত হয়, তাঁর ওপর ভরসা করে, সে বান্দা মহান আল্লাহর বন্ধুতে পরিণত হয়। কারণ বান্দা বিশ্বাস করে যে-

- ‘এমন কোনো জীবজন্তু নেই; যে তাঁর পূর্ণ আয়ত্তাধীন নয়।’ (সুরা হুদ : আয়াত ৫৬)

- ‘আর আল্লাহর ওপরই তোমরা নির্ভর কর, যদি তোমরা মুমিন হও।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৩)

৪. আল্লাহর রহমত কামনা করা

আল্লাহর সঙ্গে ওই বান্দার সুসম্পর্ক তৈরি হয়, যে বান্দা সব সময় আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও প্রতি মুখাপেক্ষী নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বান্দাকে অভয় দিয়ে বলেছেন, বিপদ-মুসিবত যত কিছুই আসুক না কেন তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে সরে দাঁড়িও না। আল্লাহ বলেন-

‘তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হইও না।’ (সরা যুমার : আয়াত ৫৩)

৫. আল্লাহর ক্ষমতায় বিশ্বাসী হওয়া

মানুষ শুধু সৃষ্টিগতভাবেই দুর্বল নয়; বরং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে কোনো বিষয়ে মুখোমুখি হওয়ার ক্ষমতা মানুষ কেন; কারোরই নেই। তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। আল্লাহর ক্ষমতায় একান্ত বিশ্বাসী ব্যক্তিই আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক গঠনে সক্ষম। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আর কোনো সম্প্রদায়ের জন্য যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছে করেন, তবে তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই। (সুরা রাদ : আয়াত ১১)

৬. আল্লাহর কাছে আশা করা

আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক গঠনে তাঁর প্রতি আশা এবং ভয় পোষণ করার বিকল্প নেই। বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়, তাঁর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যায়, তখন মনে হয় যেন আল্লাহর দেয়া হুমকি বা আজাব তাকে চেপে ধরেছে।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করে, অনুসরণ-অনুকরণ করে, তাঁর হুকুম-আহকাম পালন করে, মনে হয় যেন সে ব্যক্তি আল্লাহর দেয়া প্রতিশ্রুতিকে সত্যে পরিণত করছে। এ বিশ্বাসই মানুষকে তার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আল্লাহ বলেন-

- ‘আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তাহলে তারাই কৃতকার্য।’ (সুরা নুর : আয়াত ৫২)

- ‘কেউ কোনো সৎকাজ করলে সে তার দশ গুণ পাবে। আর কেউ কোনো অসৎ কাজ করলে তাকে শুধু তার অনুরূপ প্রতিফলই দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। (সুরা আনআম : আয়াত ১৬০)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কুরআনের নির্দেশগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি। আর তাতেই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক তৈরি হবে। দুনিয়া ও পরকালে সফলতা লাভ করবে মুমিন।

হে আল্লাহ! মুমিন মুসলমানকে আপনার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের তাওফিক দান করুন। আপনাকে অভিভাবক, তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আপনার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক করুন। আমিন।

আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী স্থান সওয়াবে পূর্ণ হয় যে আমলে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : কুরআন মানুষের জীবন বিধান। হাদিস মানের এ জীবন-বিধানকে চলার পথকে সহজ করে দেয়। কোরআন-সুন্নাহর সম্বন্বয়ে গঠিত জীবন-যাপনই পরকালের কল্যাণ সাধিত হয়। নবিজি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরকালের কল্যাণে অসংখ্য ছোট ছোট আমলের উপদেশ দিয়েছেন। দৈনন্দিন জীবনের এসব ছোট ছোট আমলের অনেক ফজিলতও বর্ণনা করেছেন তিনি। এমনই একটি ছোট্ট আমল বর্ণনা করেছেন যা মানুষের ওজন দণ্ডের জন্য যথেষ্ট ও আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী স্থান সওয়াবে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। কী সেই ছোট্ট আমল?

হজরত আবু মালিক হারেছ ইবনে আছেম আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ। আর আলহামদুলিল্লাহ ওজন দণ্ডের পরিমাপককে পরিপূর্ণ করে দেবে। আর সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেবে। নামাজ হচ্ছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি। সাদকা হচ্ছে (ঈমানের) নিদর্শন। সবর বা ধৈর্য হচ্ছে জ্যোতির্ময়। আর আল-কুরআন হবে তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে দলিল প্রমাণ স্বরূপ। বস্তুত সকল মানুষই প্রত্যেক ভোরে নিজেকে আমলের বিনিময় বিক্রি করে দেয়। তার আমল দ্বারা নিজেকে (আল্লাহর আজাব থেকে) মুক্ত করে অথবা তার নিজের ধ্বংস সাধন করে। (মুসলিম)

হাদিসটি উম্মাতে মুহাম্মাদির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমলি দিকনির্দেশনা। ছোট ছোট এ আমলগুলোতে পাবে পরকালীন জীবনের উন্নতি। যারাই এর বিপরীতে চলতে থাদের জন্যই হবে কঠিন বিপদ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ফজিলতপূর্ণ জিকিরের আমলগুলো দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সচ্ছলতার জন্য যেসব আমল করবেন
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : ধনী-দরিদ্র, সচ্ছল-অসচ্ছল বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত মানুষ। কারো সম্পদশালী হওয়া আর কারো নিঃস্ব হওয়া সবই আল্লাহর ইচ্ছাধীন। অনেক সময় দেখা যায়, প্রচণ্ড পরিশ্রম ও সঠিক আমলের ফলে অনেকে জীবনে আসে সচ্ছলতা। সাংসারিক জীবন হয় সুখময়। তাই প্রচণ্ড পরিশ্রমের বিরামহীন প্রচেষ্টার পাশাপাশি করতে হবে আমল। যার বিনিময়ে দূর হবে অভাব-অনটন। ফিরে আসবে সুখ ও সমৃদ্ধি। কী সেই সব আমল?

১. আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভরসা করা

আল্লাহর নির্দেশ পালনের সঙ্গে তাঁর নিষিদ্ধ কাজগুলো বর্জন করা। তাঁর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা এবং ভরসা রাখা। রিজিক তালাশ করাসহ সব কাজে তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা। কারণ যে আল্লাহর ওপর অটল এবং অবিচল আস্থা ও ভরসা রাখে, তিনি তার সবকিছু ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। আর তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (সুরা তালাক : আয়াত ২-৩)

২. ক্ষমা প্রার্থনা করা

তওবা-ইসতেগফার তথা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা দ্বারা গুনাহ মাফ হয়। যাবতীয় বিপদাপদ দূর হয়। সচ্ছলতা ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ হয় জীবন। আল্লাহ তাআলা নুহ আলাইহিস সালামকে এ মর্মে নির্দেশ দেন-

‘অতঃপর (আমি নুহকে) বলেছি, তোমরা তোমাদের পালন কর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র (রিজিক উৎপাদনে) বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন, তোমাদের ধন–সম্পদ ও সন্তান–সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী–নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০–১২)

এ কারণেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইসতেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করবে আল্লাহ তাআলা তাকে যাবতীয় বিপদাপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন এবং তাকে অকল্পনীয় স্থান থেকে রিজিক দান করবেন।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)

৩. সুরা ওয়াকেয়া পড়া

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকেয়া তেলাওয়াত করবে সে কখনও অভাব-অনটনে পড়বে না। এ হাদিসের রাবি (বর্ণনাকারী) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কন্যাদেরকে প্রতি রাতে এ সুরা তেলাওয়াত করার নির্দেশ দিতেন।’ (মিশকাত ২১৮১)

৪. সাদকা করা

আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা। আল্লাহর রাস্তায় কোনো কিছু দান করলে তা বিফলে যায় না, সে সম্পদ ফুরিয়ে যায় না। বরং তা বাড়তে থাকে। আল্লাহ বলেন-

‘বলুন, নিশ্চয়ই আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় করো, তিনি তার বিনিময় দেবেন। তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা : আয়াত ৩৯)

৫. আত্মীয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা

আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখা মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অন্যতম ইবাদত। এ ইবাদতে শুধু রিজিক বাড়ে এমন নয়, বরং হায়াতও বাড়ে বলে উল্লেখ করেছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে পাকে এসেছে–

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শোনেছি। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার জীবিকা প্রশস্ত করতে চায় এবং আয়ু বাড়াতে চায় সে যেন অত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (বুখারি ৫৯৮৫)

৬. আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া

নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলে নেয়ামত (জীবিকা/সচ্ছলতা) বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেবো। আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আজাব বড়ই কঠিন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৭)

৭. বিয়ে করা

আল্লাহ তাআলা বান্দাকে বিয়ের মাধ্যমেও সচ্ছলতা দান করেন। কারণ সংসারে নতুন যে কেউ যুক্ত হয়, সে তার রিজিক নিয়েই আসে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩২)

মুমিন মুসলমানের উচিত, দুনিয়ার জীবনকে সচ্ছল করতে, অভাব-অনটনহীন থাকতে, আল্লাহর অনুগ্রহ ও উত্তম জীবিকা পেতে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক আমল করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। সচ্ছল ও অভাবমুক্ত জীবন পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পাপকে তুচ্ছ মনে করার ভয়াবহতা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আল্লাহর বিধানের বিপরীত কাজই পাপ। এ পাপকে অবহেলা করা বা কোনো কিছু মনে না করা কিংবা সাধারণ বিষয় মনে করা গুনাহের কাজ। তাই পাপের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অনেকেই আছেন, যারা পাপকে তুচ্ছ মনে করে। পাপ বা গুনাহকে তুচ্ছ মনে করা যাবে কি?

কেরামান কাতেবিন (সম্মানিত দুই লেখক) আমাদের কারো গুনাহ লেখার আগে আল্লাহ আমাদের তওবার ব্যাপারে অনেক সুযোগ দিয়েছেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই ভুলকারী মুসলিম বান্দার জন্য বামপাশের ফেরেশতা ছয় ঘন্টা পর্যন্ত কলম উঠিয়ে রাখে। বান্দা যদি অনুতপ্ত হয় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তাহলে তা মাফ করে দেওয়া হয়, নতুবা একটি গুনাহ লেখা হয়। (তাবারানি, বায়হাকি)

বর্তমান সময়ে মানুষ আল্লাহকে ভয় করে না, রাতদিন বিভিন্ন গুনাহ করে চলেছে। এদের কেউ কেউ আবার গুনাহ কিছুই মনে করে না। তাদের কাছে গুনাহ একেবারেই তুচ্ছ। কেউ কেউ ছোট গুনাহকে খুবই তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখে থাকে। যেমন বলে থাকে, একবার খারাপ কিছু দেখলে কিংবা কোন বেগানা নারীর সঙ্গে করমর্দন করলে ক্ষতি কী?

আবার অনেকেই আগ্রহ ভরে হারাম জিনিসের দিকে নজর দেয়। পত্র-পত্রিকায় বা টিভি সিরিয়াল বা সিনেমার দিকে; এমনকি এদের কেউ কেউ যখন জানতে পারে যে এটি হারাম, তখন খুবই রসিকতা করে প্রশ্ন করে, এতে কত গুনাহ রয়েছে? এটি কি কবিরা গুনাহ নাকি সগিরা গুনাহ? অথচ এ কথাগুলো কত মারাত্মক। যা তুলনাই করা যায় না। ইমাম বুখারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহির এই হাদিস দুটি পড়ুন-

১. হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘তোমরা এমন সব কাজ কর যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম। কিন্তু আমরা রাসুলুল্লাহর যুগে এগুলোকে মনে করতাম ধ্বংসকারী।’

২. হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, একজন মুমিন গুনাহকে এভাবে দেখে থাকে যে, সে যেন এক পাহাড়ের নিচে বসে আছে যা তার মাথার উপর ভেঙ্গে পড়বে। পক্ষান্তরে পাপী তার গুনাহকে দেখে যেন মাছি তার নাকের ডগায় বসেছে, তাকে এভাবে তাড়িয়ে দেয়।

গুনাহের বিষয়টি কত বিপজ্জনক, তা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিস থেকে প্রমাণিত। তাহলো-

‘তোমরা নগণ্য ছোট ছোট গুনাহ থেকে সাবধান হও! নগণ্য ছোট ছোট গুনাহগুলোর উদাহরণ হল ঐ লোকদের মতো যারা কোন মাঠে বা প্রান্তরে গিয়ে অবস্থান করল এবং তাদের প্রত্যেকেই কিছু কিছু করে লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ) সংগ্রহ করে নিয়ে এলো। শেষ পর্যন্ত এতটা লাকড়ি তারা সংগ্রহ করলো যা দিয়ে তাদের খাবার পাকানো হল। নিশ্চয় নগণ্য ছোট ছোট গুনাহতে লিপ্ত থাকা ব্যক্তিদের যখন সেই নগণ্য ছোট ছোট গুনাহগুলো গ্রাস করবে (পাকড়াও করবে) তখন তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে।’

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, ‘তোমরা নগণ্য ছোট ছোট গুনাহ থেকে সাবধান হও; কেননা সেগুলো মানুষের কাঁধে জমা হতে থাকে এরপর তাকে ধ্বংস করে দেয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, জামে)

এ কারণেই ইসলামিক স্কলারগণ বলেছেন, যখন সগিরা গুনাহর সঙ্গে লজ্জাশরম কমে যাবে, কোনো কিছুতে ভ্রূক্ষেপ করবে না, আল্লাহর ভয় থাকবে না এবং আল্লাহর ব্যাপারে ভক্তি হবে না তখন একে কবিরা গুনাহতে পরিণত করবে।

এজন্যই বলা হয়েছে যে, ক্রমাগত পাপ করলে তা আর সগিরা থাকে না এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে কবিরা থাকে না। অর্থাৎ ক্রমাগতভাবে সগিরা গুনাহ করতে থাকলে তা কবিরা গুনাহে পরিণত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকলে কবিরা গুনাহ আর থাকে না তা মাফ হয়ে যায়।

পাপের রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি ও কঠিন পরিণতি। সে কারণে পাপ বা গুনাহের কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা জরুরি। আল্লাহ তাআলা ঈমানদারকে এভাবে সতর্ক করে পাপ থেকে বেঁচে থাকতে ঘোষণা করেন-

হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবাহ কর; বিশুদ্ধ তওবাহ। সম্ভবতঃ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কর্মগুলোকে মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদীমালা প্রবাহিত। সেই দিন আল্লাহ তাআলা নবি এবং তাঁর বিশ্বাসী বান্দাদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের জ্যোতি তাদের সামনে ও ডানে আলোকিত হবে। তারা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জ্যোতিকে পূর্ণতা দান কর। আর আমাদেরকে ক্ষমা কর। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৮)

মনে রাখতে হবে

মানুষ গুনাহ করবেই। আর গুনাহের কারণেই বান্দা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। এমন একটি বর্ণনাও এসেছে হাদিসে। তাহলো-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যার হাতে আমার জীবন! যদি তুমি পাপ করতে না পারো তবে আল্লাহ তোমাকে অস্তিত্ব থেকে সরিয়ে নেবেন এবং তিনি এমন লোকদের দেবেন যারা পাপ করবে এবং আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা চাইবে এবং তিনি তাদের ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম)

সে কারণে কেউ যদি পাপ বা গুনাহ করে তবে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। কোরআনের বর্ণনায় বিষয়টি এভাবে এসেছে-

‘হে আমাদের রব! তুমি আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা কর, আমাদের মন্দ কাজসমূহ গোপন কর এবং মৃত্যুর পর আমাদেরকে পুণ্যবানদের সাথে মিলিত কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৩)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে আল্লাহর দয়া তথা রহমত থেকে নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহর প্রতি গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে প্রচন্ড আশাবাদী হতে বলেছেন এভাবে-

(হে রাসুল! আপনি) ঘোষণা করে দিন (আমার এ কথা), হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি (গুনাহ বা পাপ দ্বারা) জুলুম করেছ, তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সব পাপ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা যুমার : আয়াত ৫৩)

এ ঘোষণা মুমিন বান্দার জন্য, ইবাদতকারী বান্দার জন্য আশার বাণী। তাই বলে গুনাহের ব্যাপারে অবহেলা করা যাবে না। আল্লাহর কাছে ক্ষমা পেতে অনুনয়-বিনয়ের মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহর স্মরণাপন্ন হতে হবে। বিশুদ্ধ তওবাহ করতে হবে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, গুনাহ নিয়ে অবজ্ঞা কিংবা তুচ্ছ মনে করা কোনোভাবেই উচিত নয়। গুনাহের কাজ থেকে দূরে থাকা খুবই জরুরি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা পেতে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখার বিকল্প নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে গুনাহ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তওবা করে নিজেদের শুধরিয়ে নেওয়ার তাওফিক দান করুন। গুনাহমুক্ত জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন।


   Page 1 of 16
     ইসলাম
মরণোত্তর দেহদান সম্পর্কে ইসলাম যা বলে
.............................................................................................
ইসলামে মাতৃভাষার মর্যাদা
.............................................................................................
পবিত্র শবে মেরাজ ১৯ ফেব্রুয়ারি
.............................................................................................
শবেমেরাজ কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়
.............................................................................................
সময় থাকতে যেসব জিনিসের মূল্যায়ন করতে বলেছেন নবিজি (সা.)
.............................................................................................
নবীজি সা. যেভাবে জীবনযাপন করত
.............................................................................................
এক মুসলমানের প্রতি অন্যের পাঁচ অধিকার
.............................................................................................
আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার দোয়া
.............................................................................................
সালাম ফেরানোর পর যে দোয়া পড়তে হয়
.............................................................................................
মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণাম কী?
.............................................................................................
জুমার প্রথম খুতবা : জুমার দিন উম্মতের জন্য বিশেষ উপহার
.............................................................................................
ক্ষমা প্রার্থনায় যে দোয়া পড়তে ভালোবাসতেন নবিজি (সা.)
.............................................................................................
আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক হবে ৬ আমলে
.............................................................................................
আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী স্থান সওয়াবে পূর্ণ হয় যে আমলে
.............................................................................................
সচ্ছলতার জন্য যেসব আমল করবেন
.............................................................................................
পাপকে তুচ্ছ মনে করার ভয়াবহতা
.............................................................................................
আজ পবিত্র ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী (সা.)
.............................................................................................
বিশ্ব নবী (সাঃ) এর জীবনদর্শন অহিংস দেশ গড়ার পথ দেখায়: রাহাত হুসাইন
.............................................................................................
জুমার প্রথম খুতবা : নবিজি (সা.) বিশ্ববাসীর জন্য রহমত
.............................................................................................
আত্মশুদ্ধি অর্জনের গুরুত্ব
.............................................................................................
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়
.............................................................................................
ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ জানা যাবে সোমবার
.............................................................................................
দেশবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন হাফেজ তাকরিম
.............................................................................................
যাদের নেক আমল ধূলিকনায় পরিণত হবে
.............................................................................................
কুরআন প্রতিযোগিতায় ১১১ দেশের মধ্যে ৩য় বাংলাদেশের তাকরিম
.............................................................................................
আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা
.............................................................................................
মন জয় করার ১১ টি সহজ উপায়
.............................................................................................
শুধু উপদেশ নয়, আমলও করতে হবে
.............................................................................................
হজরত আবু বকর (রা.) যে দোয়াটি পড়তেন
.............................................................................................
মানুষের জন্য আল্লাহর ক্ষমা
.............................................................................................
যে আমলে পাবেন পরকালে পছন্দের পুরস্কার
.............................................................................................
বাবা-মার অবাধ্যতার পরিণতি
.............................................................................................
জুমার নামাজ সম্পর্কে আল্লাহ যেসব নির্দেশ দিয়েছেন
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা আজ
.............................................................................................
কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন নতুন ওসি মোঃ মামুন অর রশীদ
.............................................................................................
১০ মহররমের ঐতিহাসিক ২০ ঘটনা
.............................................................................................
আশুরায় নবিজির (সা.) রোজা পালনের কারণ ও ফজিলত
.............................................................................................
জুমার দিন ও নামাজের ফজিলতপূর্ণ যত ঘোষণা
.............................................................................................
জুমার মুসল্লিদের জন্য যেসব পুরস্কার নির্ধারিত
.............................................................................................
পবিত্র হজ আজ : ক্ষমার আশায় আরাফায় হাজিদের প্রার্থনা
.............................................................................................
আরাফাতের ময়দানে খুতবা দেবেন শায়খ আবদুল করিম আল ঈসা
.............................................................................................
লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা` ধ্বনিতে এখন মক্কা মুকাররামা মুখরিত
.............................................................................................
ঈদুল আজহা কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়
.............................................................................................
কোরবানির আগে যেসব কাজ করতে হবে
.............................................................................................
হজে নারীদের তাওয়াফ ও সায়ী
.............................................................................................
নবিজী (সা.) তিন তাসবিহ ৩ কুল কেন পড়তেন?
.............................................................................................
নামাজ যখন মর্যাদা বৃদ্ধি ও গুনাহ মাফের কারণ
.............................................................................................
জোহরের সঙ্গে জুমার নামাজের পার্থক্য কী?
.............................................................................................
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইবাদত তাহাজ্জুদ
.............................................................................................
রোগ-ব্যাধি-মহামারিমুক্ত থাকতে নবিজীর আমল
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Dynamic Scale BD