বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * পদত্যাগ করছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী   * করোনায় আরও ৪৫৪ মৃত্যু, শনাক্ত আড়াই লাখের নিচে   * পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮, এখনো নিখোঁজ ৬৫   * সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন সামরিক বিমান   * ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি রিভা আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে   * শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘চোখ ওঠা’ ছড়াচ্ছে দ্রুত   * পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি : করতোয়ার তীরে শোকের মাতম, নিহত বেড়ে ২৪   * দেশীয় মাছ ও শামুক সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান   * জাপানে শক্তিশালী টাইফুনের আঘাত, ২ জনের মৃত্যু   * একদিনে আরও ৪৪০ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়

অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ জানা যাবে আজ (সোমবার) সন্ধ্যায়। রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখতে আজ সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ নির্ধারণে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়
                                  

অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ জানা যাবে আজ (সোমবার) সন্ধ্যায়। রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখতে আজ সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ নির্ধারণে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ জানা যাবে সোমবার
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ জানা যাবে সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর)। পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখতে ওইদিন সন্ধ্যায় সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) তারিখ নির্ধারণে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

দেশবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন হাফেজ তাকরিম
                                  

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিশ্ব দরবার থেকে দেশের জন্য তিনটি বড় অর্জন নিয়ে এসেছেন। এরমধ্যে পবিত্র মক্কায় ৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয়, লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত ১০ম আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় সপ্তম এবং তেহরানে অনুষ্ঠিত ৩৮তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে।

চলতি বছরে বিশ্ব থেকে কুড়িয়ে আনা বড় এই তিনটি সাফল্যের কারণে দেশব্যাপী নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন তাকরিম। অভিবাদন জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও ইসলামিক স্কলাররা।

ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম পুরস্কার হাতে তাকরিমের একটি ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে ক্যাপশন লিখেছেন। যার অর্থ : ‘মাশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। তোমাকে নিয়ে গর্বিত ছোট ভাই। দয়া করে আমাদের জন্য দোয়া করো।’

সাবেক ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক রাজ লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। মহান অর্জন। আল্লাহ তোমাকে একজন সঠিক মুসলমান হিসেবে কবুল করুক।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তাকরিমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসলামি আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি। তিনি লেখেন, সাবাস তাকরিম! দোয়া ও অভিনন্দন তোমায়। ওর তেলাওয়াতে একটা বিশেষ আবেদন আছে। রীতিমতো মন ছুঁয়ে যায়। আমার ভালো লাগে খুব। সাফল্যের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। তাকরিমরা বেশি বেশি জন্ম নিক এ ভূখণ্ডে। ছড়িয়ে দিক কোরআনের সুধা বিশ্বময়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং লন্ডন প্রবাসী বিশিষ্ট স্কলার ড. মাহমুদুল হাসান লিখেছেন, কিশোর সালেহ তাকরিমের লাজুক বিজয়ী ও বিনয়ী হাসি অন্তরে যেমন ভালোলাগা-বোধ সৃষ্টি করে, তেমনি তার সুমিষ্ট তেলাওয়াত মন স্পর্শ করে; পবিত্রতা-বোধ তৈরি করে। শুধু দোয়া করি, তাকরিমদের চারকিকে যেন তৈরি হয় প্রজ্ঞাপূর্ণ অভিভাবকত্বের দুর্ভেদ্য দুর্গ— যাতে খ্যাতি ও সম্পদের আগ্রাসী হাতছানিতে হারিয়ে না যায় তাদের বিজয় ও অর্জন। হুজুগের দমকা হাওয়ায় চারাগুলো যেন অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়ে না যায়। তাদের বিনয় যেন দম্ভে রূপ না নেয়। আল্লাহর কাছে তাদের সুরক্ষা কামনা করছি।

তাকরিমের এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হক। শুক্রবার সকালে পাঠকপ্রিয় উপন্যাস ‘মা’-এর রচয়িতা নিজের ফেসবুক পেজে তাকরিমকে নিয়ে প্রকাশিত প্রথম আলোর একটি নিউজের ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লেখেন, অভিনন্দন, সালেহ আহমাদ তাকরিম।

এ ছাড়াও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে হাফেজ তাকরিমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি লিখেন, তাকে ও তার শিক্ষক-অভিভাবকদের অভিনন্দন। মহান আল্লাহ তার কল্যান দান করুন। তার সম্মানিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, তাকে খুব বেশি পাবলিক প্রোগ্রামে উপস্থাপন করে তার সামনে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলে দেবেন না। এবার তাকে নিবিড়ভাবে ভালো আলেম ও উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ দিন। আমাদের নিজেদের সামান্য স্বার্থে ব্যবহার কিংবা অতি মাতামাতির কারণে এ ধরনের সম্ভাবনাময় ছেলেরা হারিয়ে যায়।

এভাবে আরও অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানাভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাকরিমকে।

যাদের নেক আমল ধূলিকনায় পরিণত হবে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : নেক আমল। মানুষের জন্য অনেক মূল্যবান। মহান আল্লাহ মানুষের প্রতিটি ভালো কাজের জন্যই নেক দান করেন। অথচ গোপনে কিছু অপরাধের (হারাম কাজ করার) কারণে মানুষের মূল্যবান অর্জিত পাহাড়সম নেক আমলও ধূলিকনায় পরিণত হবে। যে কারণে পাহাড়সম নেক আমলও ধূলিকণায় পরিণত হবে সে সম্পর্কে হাদিসে পাকে কী বলেছেন নবিজি?

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন সাহাবিদের সঙ্গে কেয়ামতের ভয়াবহতা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এমন সময় আলোচনা প্রসঙ্গে নিজ নিজ পাপের স্মরণে সতর্কতামূলক হাদিসটির বর্ণনা এভাবে তুলে ধরেন-

হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আমি আমার উম্মাতের কিছু দল সম্পর্কে অবশ্যই জানি; যারা কেয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমলসহ উপস্থিত হবে। মহামহিম আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেবেন। হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে (মনের অজান্তে) আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। তিনি (নবিজি) বললেন, তারা তোমাদেরই ভাই এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতোই ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক যে, একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে (হারাম কাজে) লিপ্ত হবে।’ (ইবনে মাজাহ)

সুতরাং সাবধান! রাত জেগে ইবাদত করে একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত কথা ও কাজে জড়িয়ে নিজেদের পাহাড়সম নেক ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকি। বাস্তব জীবনে হালাল-হারাম মেনে জীবন গড়ি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কুরআন প্রতিযোগিতায় ১১১ দেশের মধ্যে ৩য় বাংলাদেশের তাকরিম
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশি হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরিম।

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কার হারাম শরিফে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১১ দেশের ১৫৩ জন হাফেজ অংশ নেয়। তাদের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সালেহ আহমাদ তাকরিম।


সৌদির স্থানীয় সময় বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে পবিত্র মক্কায় হারাম শরিফে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

তৃতীয় স্থান অর্জন করায় হাফেজ তাকরিমের হাতে এক লাখ রিয়াল পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা। এছাড়া সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্টও দেওয়া হয় তাকে।

‘৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা’ শীর্ষক এ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মক্কার গভর্নর খালেদ আল ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সৌদির ইসলাম ও দাওয়াহবিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আল শেখসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

সালেহ আহমাদ তাকরিম টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ভাদ্রা গ্রামের হাফেজ আব্দুর রহমানের ছেলে। সে ঢাকার ‘মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামি’র হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। গত ৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে যায় তাকরিম।

এর আগে গত মে মাসে আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে তাকরিম। ২০২০ সালের পবিত্র রমজান মাসে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশন আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় সালেহ আহমাদ তাকরিম।

এছাড়া লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত দশম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায়ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেয় সালেহ আহমাদ তাকরিম। ওই প্রতিযোগিতায় সপ্তম স্থান অর্জনের পাশাপাশি সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে বিশেষ সম্মাননাও অর্জন বাংলাদেশি এ হাফেজের।

আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আজ বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা। মহানবী (সা.)-এর রোগমুক্তি দিবস। প্রতিবছর হিজরি সালের সফর মাসের শেষ বুধবার মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্মারক দিবস হিসেবে পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা উদযাপিত হয়।

এ উপলক্ষে বাদ জোহর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ হযরত মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আল আযহারীর। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. আনিছুর রহমান সরকার।

জানা গেছে, ২৩ হিজরির শুরুতে মহানবী (সা.) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ক্রমেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইমামতি পর্যন্ত করতে পারছিলেন না তিনি। ২৮ সফর মহানবী (সা.) সুস্থ হয়ে ওঠেন। দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার। ওই দিন শেষবারের মতো গোসল করে নামাজে ইমামতি করেন তিনি। তার সুস্থতার খবরে সাহাবিরা উচ্ছ্বসিত হয়ে হাজার হাজার স্বর্ণমুদ্রা, বহু উট ও দুম্বা দান করেন। তবে পরদিন আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন মহানবী (সা.)।

ফারসিতে দিনটিকে আখেরি চাহার সোম্বা নামে অভিহিত করা হয়। ফারসি শব্দমালা আখেরি চাহার সোম্বা অর্থ শেষ চতুর্থ বুধবার। মহানবী (সা.) জীবনে শেষবারের মতো রোগমুক্তি লাভ করেন বলে দিনটিকে মুসলমানরা প্রতিবছর ‘শুকরিয়া দিবস’ হিসেবেও উদযাপন করে। তারা নফল ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে দিবসটি অতিবাহিত করে। তাই উম্মতে মুহাম্মদির আধ্যাত্মিক জীবনে আখেরি চাহার সোম্বার গুরুত্ব ও মহিমা অপরিসীম।

মন জয় করার ১১ টি সহজ উপায়
                                  

ড. মো: শাহজাহান কবীর :

আপনি কি আপনার দাওয়াত অন্যের মাঝে সহজে ছড়িয়ে দিতে চান?

তাহলে ১১ টি গোপন চাবি আপনার হাতে তুলে দিলাম।যা দ্বারা সহজে অন্যের হৃদয় রাজ্যে গোপনে প্রবেশ করে তাদের স্বপ্নের রাজা হয়ে যেতে পারেন আপনিও, ইনশাআল্লাহ!

❖১.উত্তম-চরিত্র: এর দ্বারা অধীনস্থদের শ্রদ্ধা ও ভক্তি অর্জন করা যায়।ফলে তাদের দ্বারা লক্ষ বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। কারণ, মানুষ যখন ঊর্ধ্বতনদের পক্ষ হতে মানবিক ও অমায়িক আচরণে মুগ্ধ হয়ত খনি তারা ঝরঝরা মনোভাব নিয়ে কাজ আঞ্জাম দেয়।

❖ ২.কথা ও কাজে মিল রাখুন : আপনি যে কাজ করতে আদেশ কিংবা নিষেধ করবেন, নীতিগত ভাবে নিজে অবশ্যই তার উপর আমল করবেন।যেমন জামায়াতে নামায পড়ার উপর আপনি খুব উপদেশ এবং কড়াকড়ি করেন কিন্তু তিনি নিজেই মাঝে-মধ্যে ফজরের জামায়াত ফেল করেন। অনুরূপ আপনি টিভির আজে-বাজে প্রোগ্রাম দেখতে নিষেধ করেন, অথচ নিজেই টিভিতে বাজে প্রোগ্রাম দেখেন। এ অভ্যাস দূর করতে হবে। আপনি আদর্শ হতে এক চুলও নড়বেন না। তাহলে সাথীরা আপনার অনুসরণ করবে। এভাবে সবার আস্থা অর্জন করা যায় এবং সমালোচনা এড়ানো যায়।

❖৩. সাম্যও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা : স্বজনপ্রীতি, বন্ধুপ্রীতি, আত্মীয়করণ, দলীয় করণ ইত্যাদির সীমানা পেরিয়ে আপনাকে হতে হবে সবার জন্য সমান। কথা, কাজ, বেতন, পুরষ্কার, তিরস্কার সর্বক্ষেত্রে ইনসাফের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। তাহলে অধীনস্থরা মানসপটে সঞ্চিত সংকীর্ণতাকে ঝেড়ে ফেলে উদারতা ও আত্ম-শক্তি অর্জন করবে।
একই সাথে তারা আপনাকে উপহার দেবে নিষ্ঠা ও প্রাণবন্ততা। আর হ্যাঁ,
ভালোদেরকে ভালো বলবেন এবং মূল্যায়ন করবেন এবং উৎসাহ দিবেন ভুলবেন না! কারণ যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের মূল্যায়ন না হলে উদ্যমী কর্মীরা মনোবল হারিয়ে ফেলে।

❖৪. ক্ষমা প্রদর্শন ও পজিটিভ হোন : অনেক সময় প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা প্রদর্শন করলে ভুলকারী অধিক শিক্ষা পায়, ভুল সংশোধনের প্রতি অধিক প্রয়াসী হয় এবং তার হৃদয়ে আপনার প্রতি স্বচ্ছ ও বর্ধিত ভালবাসা সৃষ্টি হয়। এভাবে আপনি অপরাধীকে সংশোধন করে নিজের ভক্তে পরিণত করতে পারেন।

❖৫. সংযত আত্মার অধিকারী হোন : আপনাকে অর্থ, নারী, বিলাসিতা অলসতা ও অন্যান্য ফেতনা থেকে দূরে থাকতে হবে। তাহলে অধীনস্থদের প্রতি দৃঢ়তা এবং প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন।

❖৬. সব সময় নিজের মতামতকে চাপিয়ে দিবেন না : বরং সবার সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

❖৭. কল্যাণকামী হওয়া : রাসূলে পাক (সা.) এরশাদ করেন, “আল্লাহ তায়ালা যাকে কোন জনসমষ্টির দায়িত্বশীল করলেন, আর সে তাদের জন্যকল্যাণ কামনা করল না, সে জান্নাতের গন্ধও পাবেনা।” (সহীহ বুখারী)

❖৮. আমিত্ব পরিহার করুন : কারণ এতে আর যাই হোক, অন্যের হৃদয় রাজ্যে গড়ে উঠা ভালবাসা, মর্যাদা আর ব্যক্তিত্বের পাহাড় বরফের মত গলেগলে নিঃশেষ হয়ে যায়।

❖৯. জ্ঞান ও প্রজ্ঞা : আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে থাকেন তবে সেখানকার সকল বিভাগের কাজ-কর্ম সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে। কুরআন-হাদিসের পাশাপাশি হিসাব, ইংরেজি, ম্যানেজমেন্ট, কম্পিউটার ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে যে, সুপারভাইজর যদি নিজেই কাজ না বুঝে, তাহলে তার দ্বারা সব সময় অর্ধেক সাফল্য আশা করতে হবে। গভীর দৃষ্টি, সূক্ষ্মচিন্তা শক্তি, দ্রুত সমস্যা উপলব্ধি এবং দ্রুত সমাধান, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদান এসব গুলোকে এক কথায় প্রজ্ঞা বলে।

❖১০. প্রতিভা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা : যার মধ্যে এই গুণ গুলো রয়েছে তার মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত অফুরন্ত কল্যাণের সমাহার ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন :

وَمَنْيُؤْتَالْحِكْمَةَفَقَدْأُوتِيَخَيْرًاكَثِيرًا
“যাকে হেকমত বা প্রজ্ঞা দেয়া হয়েছে তাকে দেয়া হয়েছে প্রভূত কল্যাণ।” (সূরা বাকারা: ২৬৯)
পক্ষান্তরে এই গুণ যার মধ্যে নেই, সাফল্য তাকে ধরা দিবেনা।

❖১১. ধৈর্য ও সহনশীলতা : এটি বিরোধীদের মোকাবেলা এবং নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এই গুণ টিকে সাফল্যের চাবি কাঠি বলা যায়।

তাছাড়া, মানুষকে তার সুন্দর নাম ধরে ডাকা, পূর্বের কোন ঘটনার খোজ খবর নেয়া, হাসি মুখে কথা বলা, চা-নাস্তার আসর বসানো, উপকার করা, নিজেকে তার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা, কোমলতা, উদারতা, ওয়াদা ঠিক রাখা এসবই মানুষকে মানুষের কাছে এনে দেয়।তবে সব কিছুর আগে খুলুসিয়াত কথা যেন ভুলে না যাই।

শুধু উপদেশ নয়, আমলও করতে হবে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : অল্প উপদেশ কিংবা আমল যে কারো নাজাতের জন্য যথেষ্ট। যদি তা যথাযথ হয়। কথার সঙ্গে কাজের মিল হয়। আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে এ রকম অসংখ্য উপমা তুলে ধরেছেন। সবই মুসলিম উম্মাহর মুক্তি ও কল্যাণের জন্য। উম্মতে মুহাম্মাদির কল্যাণ ও মুক্তির জন্য। ইহুদি-নাসারারা যে কাজটি করতো মুসলিম উম্মাহর সে কাজটি করা যাবে না। শুধু উপদেশ দেওয়া নয় বরং আমলও করতে হবে। এমনটিই এসেছে কোরআনের দিকনির্দেশনায়।

আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে এমন সব ঘটনাও তুলে ধরেছেন, যা আগের আসমানি কিতাবগুলোতে ছিল। আবার সেসব কিতাবের অনুসারীরা কোন বিষয়গুলো নিজেদের ইচ্ছা মতো ব্যবহার করছে তাও বলেছেন।

ইহুদিদের প্রতি নির্দেশ ছিল- তোমরা ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহ তাআলার উপর, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর; নামাজ কায়েম কর, জাকাত আদায় কর এবং মুসলমানদের সঙ্গে নামাজের জামাতে শামিল হও। এগুলো ছিল পূর্ববর্তী আয়াতের নির্দেশ। ইহুদিরা যখন এ নির্দেশকে অমান্য করে তখন তাদের লক্ষ্য করে আমলের বিষয়টি তুলে ধরলেন। আর এটি উম্মতে মুসলিমার জন্যও খুব জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘তোমরা কি মানুষকে ভাল কাজের আদেশ দিচ্ছ আর নিজদেরকে ভুলে যাচ্ছ? অথচ তোমরা কিতাব তেলাওয়াত কর। তোমরা কি বুঝ না?’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৪৪)

সুতরাং শুধু সৎ কাজের আদেশ দিয়ে বসে থাকলেই চলবে না বরং নিজেদেরও আমল করতে হবে। তবেই মিলবে মুক্তি। এ আয়াতেও বলা হয়েছে, তোমরা মানুষদের সৎ কাজের আদেশ দিয়ে থাক। অথচ আল্লাহ তাআলা তোমাদের কিতাব তাওরাতে শেষ নবি ও তাঁর প্রতি প্রেরিত গ্রন্থ কোরআনের উপর ঈমান আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, সে নির্দেশ তোমরা পালন করছ না। এবং যে সত্য প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন তা মানুষের মাঝে প্রকাশ করছ না। তাই এ আয়াতে আল্লাহ তাদেরকে প্রশ্ন করে বলেন, এ স্ববিরোধী নীতি যে কত বড় অন্যায়, তা কি তোমরা উপলব্দি করো না?

তাফসিরে এসেছে, মদিনায় কোনো কোনো ইহুদি তাদের সম্প্রদায়ের লোকদের গোপনে ইসলাম কবুল করতে উদ্বুদ্ধ করতো, ইসলামের সত্যতা স্বীকার করে মানুষকে ইসলাম গ্রহণের জন্য অনুপ্রাণিত করতো, কিন্তু তাদের কেউ কেউ উপদেশ দিলেও নিজেরা ইসলাম কবুল করতো না। এ আয়াতের সম্বোধন তাদেরকেও করা হয়েছে।

ঠিক এভাবে প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রেই শুধু উপদেশ নয়, বরং উপদেশের পাশাপাশি আমলও করতে হবে। তবেই এ আয়াতের হক বাস্তবায়ন হবে। দুনিয়ার সফলতার পাশাপাশি পরকালের মুক্তি মিলবে সহবে। তাই যার মানুষকে সৎ কাজের নির্দেশ দেবে, তারা নিজেরাও সৎ কাজের অন্তর্ভূক্ত হবে। যারা এ কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে না তাদের জন্যই এ আয়াত সতর্কবাণী।

আল্লাহ তআলা সবাইকে কথা ও কাজে মিল রেখে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হজরত আবু বকর (রা.) যে দোয়াটি পড়তেন
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : সুখ-দুঃখ, আনন্দ-ব্যথা তথা সব সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করেই মানুষের কাজ। কেননা দোয়াকে ইবাদত বলেছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহর এই স্মরণকে জিকিরও বলা হয়ে থাকে। দুনিয়ার সব অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহ তাআলা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে বিভিন্ন দোয়া ও আমল মানুষের জন্য দিয়েছেন। যার মাধ্যমে মানুষ দুনিয়ার অনিষ্ট ও আখিরাতে মুক্তি পাবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এমন একটি দোয়াট সকাল-সন্ধ্যায় এবং ঘুমানোরর সময় পড়তে বলেছেন। দোয়াটি হলো-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আলিমাল গাইবি ওয়াশ্‌শাহাদাতি ফাত্বিরাস্ সামা-ওয়াতি ওয়ালআরদি রাব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালিকাহু। আশ্‌হাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা আউজুবিকা মিন শার্‌রি নাফসি ওয়া মিন্ শাররিশ শাইত্বানি ওয়া শিরকিহি।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি অদৃশ্য ও দৃশ্যকে জান, আসমান ও জমিনের তুমি স্রষ্টা, প্রত্যেক বস্তুর তুমি প্রতিপালক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আমি আমার মনের কুমন্ত্রণা, শয়তানের কুমন্ত্রণা ও তার শিরক থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও মিশকাত)

হে আল্লাহ! আপনি উম্মাতে মুসিলমাকে সকাল-সন্ধ্যা এবং ঘুমানোর সময় এ দোয়াটি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মানুষের জন্য আল্লাহর ক্ষমা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আল্লাহ তাআলা মানুষকে ক্ষমা করবেন। কারণ তিনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। কোরআনের সেই আয়াতেও তা পরিলক্ষিত হয়। যখন হজরত আদম আলাইহিস সালামকে বেহেশত থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তখনও আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি এতটাই দয়াপরবশ ছিলেন যে, হজরত আদম আলাইহিস সালামকে তিনি করুণার দৃষ্টিতে লক্ষ্য করে ক্ষমা প্রার্থনার কিছু কথা শিক্ষা দিয়েছিলেন। হজরত আদম আলাইহিস সালামও তা শিখে নিয়েছিলেন। বিষয়টি আল্লাহ তাআলা এভাবে তুলে ধরেন-

এরপর (হজরত) আদম স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, এরপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। (সুরা বাকারা : আয়াত ৩৭)

আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা হজরত আদম আলাইহিস সালামকে গুনা মাফের পদ্ধতি শিখিয়ে ছিলেন। যাতে বনি আদম কোনো গুনা করে ফেললেই আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে।

শয়তান হজরত আদম আলাইহিস সালামের সঙ্গে কসম খেয়ে বলার কারণে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছিলেন। কারণ কোনো ব্যক্তি কসম করে মিথ্যা বলতে পারে এটা হজরত আদম আলাইহিস সালামের ধারণাও ছিল না। যা ছিল স্পষ্ট প্রতারণা। যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাআলা শাস্তি স্বরূপ তাঁদের উভয়কে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিলেন।

এরপর হজরত আদম আলাইহিস সালাম পৃথিবীতে অবতরণ করার পর ৩০০ বৎসর পর্যন্ত লজ্জায় আসমানের দিকে মাথা উত্তোলন করেননি। আর এতো বেশি পরিমাণ কান্না করেছিলেন যে, তার উপমা পেশ করতে তাফসিরে এসেছে, সব নবি-রাসুলসহ সারা দুনিয়ার মানুষের চোখের পানি একত্র করা হলেও হজরত আদম আলাইহিস সালামের চোখের পানির বেশি হবে।

এ আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, বান্দা যতই অন্যায় করুক যদি আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চায় তবে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো চোখের পানি বিসর্জন দেয়া। আল্লাহর কাছে আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালামের বিখ্যাত সেই দোয়া বেশি বেশি পড়া। তাহলো-

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা জ্বলামনা আংফুছানা ওয়া ইন লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’

অর্থ : ‘হে আমাদের রব! আমরা নিজদের উপর জুলুম করেছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদেরকে দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

মুসলিম উম্মাহর উচিত, অশ্রুসিক্ত নয়নে আল্লাহ তাআলার কাছে তার রহমত বরকত ও মাগফেরাত কামনা করা। আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুসলিমাকে তাঁর শিখানো ভাষায় ক্ষমা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে আমলে পাবেন পরকালে পছন্দের পুরস্কার
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : রাগ মানুষের জন্য খুব বেশি ক্ষতিকর। শান্তি, স্বস্তি ও নিরপত্তার জন্য রাগমুক্ত থাকার বিকল্প নেই। যে ব্যক্তি রাগ সংবরণ করতে পারবেন, দুনিয়াতে যেমন তার জন্য রয়েছে শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা তেমনি পরকালে রয়েছে পুরস্কার বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা। কী সেই পুরস্কার?

১. হজরত সাহল ইবনু মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার রাগ প্রয়োগে (প্রতিশোধ নেওয়ার) ক্ষমতা থাকার সত্ত্বেও সংযত থাকে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সব সৃষ্টিকূলের মধ্যে থেকে ডেকে নেবেন এবং তাকে হুরদের মধ্য থেকে তার পছন্দমত যে কোনো একজনকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেবেন।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

২. নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক সাহাবির ছেলে থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এরপর পরকালে আল্লাহ তাকে ডাকবেন এর স্থানে বলেন, আল্লাহ তাকে শান্তি ও ঈমানের দ্বারা পরিপূর্ণ করবেন। তারপর বলেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সৌন্দর্যবর্ধক পোশাক পরা থেকে বিরত থাকে এবং বর্ণনাকারী বিশর বলেন, আমার ধারণা তিনি নম্রতা পরিত্যাগের কথা বলেছেন, আল্লাহ তাকে সম্মানের পোশাক পরাবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিবাহ করবে আল্লাহ তাকে রাজমুকুট পরাবেন।’ (আবু দাউদ, মিশকাত)

৩. হজরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তিকে তোমরা বড় বীর মনে করো? সাহাবিগণ বললেন, যাকে কেউ যুদ্ধে হারাতে পারে না। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘না’, বরং প্রকৃত বীর হলো সেই ব্যক্তি যে রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখতে পারে।’ (আবু দাউদ, মুসলিম)

রাগ নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?

হজরত মুয়াজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, দুই ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে পরস্পরকে গালি দিতে লাগলো। তাদের একজন এতটা রাগান্বিত হলো যে, মনে হচ্ছিল, রাগের প্রচন্ডতায় তার নাক ফেটে যাবে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি যা বললে রাগের প্রতিক্রিয়া চলে যাবে। তখন মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তা কী? তিনি বললেন, সে বলবে-

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাশ শায়ত্বানির রাঝিম।’

অর্থ : ’হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাইছি।’

আব্দুর রাহমান বলেন, তখন মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে (রাগান্বিত ব্যক্তিকে) তা পড়ার তাকিদ দিতে থাকলেন। কিন্তু সে তা পড়তে সম্মত হলো না এবং ঝগড়া করতে থাকলো এবং তার রাগ আরও বৃদ্ধি পেলো।’ (আবু দাউদ, মিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)

হজরত সুলাইমান ইবনু সুরাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে দুই ব্যক্তি পরস্পরকে গালি দিতে লাগলো। তখন তাদের একজনের চোখ লাল হতে থাকে ও ঘাড়ের রগ মোটা হতে থাকে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি অবশ্যই এমন একটি বাক্য জানি এ ব্যক্তি তা বললে নিশ্চয়ই তার রাগ চলে যাবে। তাহলো-

উচ্চারণ : ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাঝিম।’

অর্থ : ‘অভিশপ্ত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইছি।’ লোকটি বললো, আপনি কি আমার পাগল ভাব দেখছেন!’ (আবু দাউদ, বুখারি ও মুসলিম)

মোটকথা হলো- রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রাগ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। তবেই দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ ও পুরস্কার পাবেন মুমিন মুসলমান।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় রাগমুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। কোনো কারণে রাগ চলে আসলে হাদিসের আমল করার মাধ্যমে রাগমুক্ত থেকে পরকালের পছন্দমতো পুরস্কার পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বাবা-মার অবাধ্যতার পরিণতি
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : বাবা-মা দুনিয়াতেই সন্তানের জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম। যারা দুনিয়াতে বাবা-মাকে সন্তুষ্ট করতে পারবে; উভয় জাহানের সফলতার তাদের জন্য। আর যারা দুনিয়াতে বাবা-মার সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ তাদের দুনিয়া ও পরকাল দুটিই ব্যর্থ। নবিজির হাদিসের দিকনির্দেশনাই এর জলন্ত প্রমাণ। কী এসেছে হাদিসে?

১. নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর মায়ের অবাধ্যতাকে হারাম করেছেন। কন্যা-সন্তানদিগকে জীবন্ত কবর দেয়া; দানের ব্যাপারে নিজে দান না করে অন্যের কাছে পাওয়ার মনোভাষণা চিন্তা করা; অযথা বাদানুবাদ তথা তর্ক-বিতর্ক করা; অধিক যাঞ্চা ও সম্পদের অপচয়কেও হারাম করেছেন।’ (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য অনেক সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। অথচ প্রতিটি সতর্কবার্তাতেই বাবা-মার সঙ্গে অবাধ্যতার কুফল বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে।

২. নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওমর ইবনে হাজামকে ইয়েমেনবাসীর কাছে এ মর্মে পত্র লিখে পাঠান যে, ‘কেয়ামতের দিন যে সব ব্যাপারে কবিরা গোনাহসমূহের মধ্যে জঘন্যতর প্রতিপন্ন হবে; তাহলো- আল্লাহর সঙ্গে শরিক সাব্যস্ত করা; কোনো মুমিনকে হত্যা করা; আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের সময় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা; বাবা-মার অবাধ্যতা; বিবাহিত নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ রটানো; যাদু বিদ্যা শিক্ষা করা, সুদ খাওয়া এবং ইয়াতিমের সম্পদ গ্রাস করা। (ইবনে হিব্বান)

৩. হজরত ইবনে ওমর বর্ণনা করেন, ‘তিন ব্যক্তি এমন- যাদের প্রতি কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা অপ্রসন্ন থাকবেন; তারা হলো- বাবা-মার অবাধ্য ব্যক্তি; মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি; উপকার করে খোঁটা দানকারী।’ অতঃপর বললেন, ৩ ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না; তারা হলো বাবা-মার অবাধ্য ব্যক্তি; দাইয়ুস অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি যার স্ত্রী ব্যভিচারিণী অথচ সে তাতে বাধা দান করেনি বা তার প্রতিকার করেনি এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারী। (ইবনে হিব্বান)

৪. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন নবিজি বলেছেন, ‘জান্নাতের হাওয়া পাঁচশত বছরের পথ অতিক্রম করে আসে। কিন্তু উপকার করার পর যে খোটা দেয়; বাবা-মার অবাধ্য ব্যক্তি এবং মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি এ হাওয়ার পরশটুকুও পাবে না। (তাবারানি, জামে সগির)


৫. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, ৪ ব্যক্তি এমন রয়েছে, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা জান্নাত দান না করলেও তা সঙ্গত হবে। তারা হলো- মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি; সুদখোর, ইয়াতিমের সম্পদ গ্রাসকারী এবং বাবা-মার অবাধ্য ব্যক্তি। (মুসতাদরেকে হাকেম)

৬. হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজি থেকে বর্ণনা করেন, ‘আল্লাহ তাআলা তাঁর ইচ্ছামাফিক অনেক গোনাহের শাস্তি কেয়ামতের দিন দেয়ার জন্য রেখে দেবেন; কিন্তু বাবা-মার অবাধ্যতা এমনই একটি গোনাহ যার শাস্তি আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই দিয়ে দেন।

৭. হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘তিন ব্যক্তি এমন রয়েছে, যাদের ফরজ ও নফল কোনো ইবাদতই আল্লাহ তাআলা কবুল করেন না। তারা হলো- বাবা-মার অবাধ্য ব্যক্তি; উপকার করে খোঁটা দানকারী এবং তাকদিরকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী। (কিতাবুসসুন্নাহ)

৮. হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘তিনটি ব্যাপার এমন; বর্তমানে যেগুলোর কোনো আমলই ফলদায়ক নয়। আর তাহলো- আল্লাহর সঙ্গে কাউক শরিক করা; বাবা-মার অবাধ্যতা ও জিহাদ চলাকালে যুদ্ধক্ষেত্রে পৃষ্ঠপ্রদর্শন। (তাবারানি)

৯. হজরত ইবন আবু আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হজরত আলকামার মৃত্যু সম্পর্কে একটি দীর্ঘ হাদিস রয়েছে। মৃত্যুকালে সে কোনো ভাবেই মুখে তাওহিদের কালেমা উচ্চারণ করতে পারছিল না। এ সাহাবীর প্রতি তাঁর মা অসন্তুষ্ট ছিল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশে তাঁর মা তাঁকে ক্ষমা করে দেন এবং তখনই তাঁর মুখে তাওহিদের কালেমা নিঃসৃত হয়।

বাবা-মার অবাধ্যতার কুফল সম্পর্কিত একটি উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা রয়েছে। যা মানুষকে বাবা-মার অবাধ্যতা থেকে মুক্ত রাখবে। আর তাহলো-

হজরত শাহর ইবনে হাওশাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি আসরের নামাজের পর লক্ষ্য করলেন যে, এমন এক ব্যক্তি- যার মাথার অংশ ছিল গাধার এবং অবশিষ্ট দেহ মানুষের। সে কবর হতে বের হয়ে তিনবার গাধার মতো বিকট আওয়াজ দিয়ে পুনরায় কবরে চলে যায়। তার মাতাকে জিজ্ঞাসা করে জানা গেল যে, ঐ ব্যক্তি মদপান করত। তার মা তাকে এ (মদপানের) জন্য তিরস্কার করলে সে বলত, তুমিতো গাধার মতো চিৎকারই করতে থাক।’ অতঃপর একদিন আসরের সময় তাঁর মৃত্যু হয় এবং এখন প্রতিদিনই আসরের পর কবর ফাঁক হয়। তখন সে বের হয়ে গাধার মতো বিকট শব্দে তিনবার চিৎকার দিয়ে আবার কবরে আবদ্ধ হয়। (ইসফাহানি)

সুতরাং বাবা-মার সঙ্গে অবাধ্যতা নয়। দুনিয়া ও পরকালের শান্তি-মুক্তি ও সফলতায় বাবা-মার খেদমতের বিকল্প নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বাবা-মার অবাধ্যতা থেকে হেফাজত করুন। দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে বাবা-মার খেদমতে নিয়োজিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জুমার নামাজ সম্পর্কে আল্লাহ যেসব নির্দেশ দিয়েছেন
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মুসলিম উম্মাহর কাছে জুমার দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত মূল্যবান। কারণ আল্লাহ তাআলা এ দিনটি আগের নবি-রাসুলদের উম্মতদেরকে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা জুমার দিনটিকে সাপ্তাহিক ইবাদাতের দিন হিসেবে গ্রহণ করেনি। তাদের মধ্যে কেউ শনিবারকে আবার কেউ রোববারকে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। জুমার দিনটি মুমিন মুসলমানের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আল্লাহ তাআলার কাছে জুমার দিনটি অত্যন্ত মর্যাদাবান হওয়ার কারণেই তিনি দুনিয়ার শুরু থেকেই বেশিরভাগ কল্যাণমূলক কাজ ও ঘটনা এদিনে সম্পন্ন করেছেন। সর্বোপরি এ দিনেই কিয়ামাত অনুষ্ঠিত হবে। আর এ দিনেই রয়েছে কল্যাণ ও উত্তম জীবিকার সন্ধানে নেমে পড়ার নির্দেশ।

আল্লাহ তাআলার কাছে জুমার দিনটি এতই পছন্দনীয় ও মর্যাদাবান যে, তিনি এ দিনে উম্মাতে মুহাম্মাদির জন্য স্পেশালভাবে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নামাজের পরপরই রিজিকের সন্ধানে জমিনে বিচরণ করতে বলেছেন। আবার নামাজের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের ধর্মীয় নেতাদের (ইমামদের) নসিহত শোনাকে আবশ্যক করে দিয়েছেন।

১. জুমার দিনের নামাজ ও ইবাদাত-বন্দেগি ফজিলত অন্যান্য দিনের ইবাদাত-বন্দেগির তুলনায় বেশি। বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহ জুমার নামাজ কেন পড়বেন? জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে কী নির্দেশ দিয়েছেন? তা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘হে ঈমানদারগণ! জুমার দিনে যখন তোমাদেরকে নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়; তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। ইহা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ। (সুরা জুমা : আয়াত ৯)

কুরআনের এ নির্দেশ অনুযায়ী জুমার নামাজের আজান দেওয়ার পর মানুষের একমাত্র আবশ্যক কর্তব্য হলো, জুমার নামাজ আদায়ের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদের দিকে দ্রুততার সঙ্গে অগ্রসর হওয়া। নামাজের সময় সব ধরনের খেল-তামাশা, কাজ-কারবার বন্ধ রাখা এবং নামাজ শেষ হওয়ার পর জীবিকার সন্ধানে নেমে পড়া।

২. জুমার আজানের পর দুনিয়ার অন্য যে কোনো কাজ, তা হতে পারে চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, আনন্দ-বিনোদন বা খেল-তামাশা; এ সব কিছুতে বান্দা যেন থমকে না যায় সে জন্য আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন-

‘তারা যখন কোনো ব্যবসায়ের সুযোগ অথবা ক্রীড়াকৌতুক দেখে তখন আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সেদিকে ছুটে যায়। বলুন, আল্লাহর কাছে যা আছে, তা ক্রীড়াকৌতুক ও ব্যবসার অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। আল্লাহ সর্বোত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা জুমা : আয়াত ১১)

৩. এর আগের আয়াতে আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দুনিয়ার সকল কাজ-কর্ম রেখে আল্লাহর হুকুম পালনে কেউ যদি এগিয়ে আসে আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির জন্য উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। কেননা আল্লাহ তাআলাই বান্দার সর্বোত্তম রিজিকদাতা। আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন-
‘এরপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সুরা জুমা : আয়াত ১০)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে অভয় দিয়ে বলেন, তোমরা নামাজ আদায় করে, তাঁর জিকিরের সঙ্গে জীবিকার সন্ধান করলে তিনিই বান্দাকে উত্তম রিজিক দান করবেন। তিনিই বান্দাকে দুনিয়ার উত্তম জীবিকাসহ অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজে সফলতা দান করবেন।

এ কারণেই মুসলিম উম্মাহ পূর্ণ উদ্যোমের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায়ে মসজিদের দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়া উচিত। বান্দার প্রতি কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী এ কথা প্রতিয়মান হয় যে, বান্দার উত্তম রিজিক ও কল্যাণ লাভের জন্য জুমার নামাজ আদায় করা শর্ত। কারণ আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার কাজ-কর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য, খেল-তামাশা ও আনন্দ-ফূর্তি বাদ দিয়ে জুমার নামাজ আদায় করতে বলেছেন।

আবার নামাজ শেষে জীবিকার সন্ধানে জমিনে ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁকে ফজিলতপূর্ণ দিনে অধিক স্মরণ করতে বলেছেন। এ দিনে আল্লাহর স্মরণ, নামাজ ও চেষ্টার বিনিময়ের ফলেই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে উত্তম রিজিক তথা জীবিকা দান করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার নামাজ পড়ার নির্দেশ বাস্তবায়নে দ্রুত এগিয়ে আসার তাওফিক দান করুন। এ দিনে বেশি বেশি ইবাদাত-বন্দেগি করে আল্লাহ নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমে উত্তম রিজিকসহ সকল অনুগ্রহ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

পবিত্র আশুরা আজ
                                  

অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র আশুরা আজ। কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মরণে দিনটি বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ত্যাগ ও শোকের প্রতীকরূপে দিনটি পালন করা হয় মুসলিম বিশ্বে। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহরম মহানবী হযরত মুহম্মদ (সঃ) এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তার পরিবারবর্গ ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শাহাদতবরণ করেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাদের এ আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মার জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।

এদিন বিশ্বাসঘাতক ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালার প্রান্তরে শহীদ হন তারা। ইসলামের সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য তাদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার।

আজ সরকারি ছুটি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ প্রবন্ধ, নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে।

এটি একটি ঘটনাবহুল দিন। মহান আল্লাহ তায়ালা এ দিনেই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এ দিনেই আদম (আ.) কে সৃষ্টি করে তাকে বেহেশতে স্থান দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে শয়তানের প্ররোচনায় ভুলের কারণে এ দিনেই তাকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে আল্লাহ প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। হযরত নুহ (আ.) সাড়ে ৯০০ বছর ধরে তাওহিদের বাণী প্রচারের পর যখন সেই যুগের মানুষ আল্লাহর বিধিনিষেধ পালনে অস্বীকৃতি জানায়, তখন নেমে আসে আল্লাহর গজব। ফলে হজরত নুহ (আ.) এর সম্প্রদায় ধ্বংস হয়েছে। পবিত্র আশুরার দিনেই হযরত ইবরাহিম (আ.) শত বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন।

তবে কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনা ছাড়াও ইসলামের ইতিহাসে এই দিনে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। হযরত মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে এই দিনে পরিত্রাণ লাভ করেছিলেন তার অনুসারীদের নিয়ে নীল নদ পার হয়ে। তাদের পেছনে থাকা ফেরাউন সদলবলে নীল নদে ডুবে যায়। এমন অনেক তাৎপর্যময় ঘটনা ঘটেছিল এই দিনে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে পুরান ঢাকার হোসনি দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এ মিছিলের মহড়া দিয়েছেন শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) বাদ জোহর মিছিল হোসনি দালান থেকে বের হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।

এছাড়া মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, ফরাশগঞ্জ, পল্টন, মগবাজার থেকেও তাজিয়া মিছিল বের হয়। এর মধ্যে হোসনি দালান থেকে সবচেয়ে বড় মিছিল বের হয়। এ মিছিলে হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশুর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। লাল-কালো আর সবুজ অক্ষর-খচিত নিশান হাতে তারা খালি পায়ে মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতমে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে রাজপথে।

অন্যদিকে, সুষ্ঠুভাবে তাজিয়া মিছিল সম্পন্ন করতে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি বহন নিষিদ্ধ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ ও র্যাব।

কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন নতুন ওসি মোঃ মামুন অর রশীদ
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মোঃ মামুন অর রশীদ যোগদান করেন রাজধানী ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেষে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) হিসেবে। মোঃ মামুন অর রশীদ ময়মনসিংহ থাকাকালিন সময় পঞ্চম বারের মতো ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন। সে সময় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত মাসিক সভায় এ ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো ও ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম (বিপিএম পিপিএম) ওসি মামুন অর রশীদকে শ্রেষ্ঠত্বের সনদ প্রদান করেন। মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, বিশেষ অভিযান পরিচালনা, ওয়ারেন্ট তামিল, কমিউনিটি পুলিশিং এবং আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সুন্দর রাখার লক্ষে মেধা, দক্ষতার জন্য পর পর পঞ্চমবারের মতো ওসি মামুন অর রশীদ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আজ ৮ আগস্ট ২০২২ সোমবার বিকেল ৬ টার সময় কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রশংসা করেন, ২০০৬ সালে ইন্সপেক্টর হিসেবে কেরানীগঞ্জ থানায় নিষ্ঠার সাথে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিজ ইচ্ছায় তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ওসি হয়ে মামুন অর রশীদ যোগদান করেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) হিসেবে। কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। ওসি মামুন অর রশীদ বলেন, আমরা সবাই জুয়া, মাদক, বাল্যবিবাহ, সন্ত্রাস, এবং জঙ্গিবাদ কে ‘না’ বলি।

আপনারা যার যার অবস্থান থেকে পুলিশ কে সাহায্য করুন এতে নিরাপদ থাকবে আপনার এবং আমার সন্তান, পরিবার। নতুন ওসির কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সময় মামুন অর রশীদ আরো বলেন মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা একান্তভাবে দরকার। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ রায়হান খান-দৈনিক সমকাল, সহ-সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন- দৈনিক মানব জমিন, সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ মোস্তফা কামাল-বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা(বাসস), শফিক চৌধুরী- দৈনিক ভোরের কাগজ, সাইফুল ইসলাম- দৈনিক ক্যাপশন, মিয়া আবদুল হান্নান- দৈনিক এশিয়া বাণী , এইচ এম আমীন- দৈনিক ইত্তেফাক, রাকিব হোসেন- দৈনিক নয়া দিগন্ত, আলতাফ হোসেন মিন্টু- দৈনিক কালের কন্ঠ, আবু জাফর- দৈনিক যুগান্তর , নাজিমুদ্দিন ইমন-দৈনিক আজকের প্রতিদিন, এরশাদ হোসেন- বাংলাদেশের খবর, রাজু আহমেদ- দৈনিক দেশ রুপান্তর, মোঃ লিটন খান- দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ,মাসুদ মুন-বাংলদেশের আলো টিটু আহমেদ- দৈনিক মানব কন্ঠ প্রমুখ।

১০ মহররমের ঐতিহাসিক ২০ ঘটনা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আজ বাংলাদেশে ৯ আগস্ট ২০২২ মঙ্গলবার আশুরা দিবসের ছুটি। মহররম মাসের ১০ তারিখের ১৪৪৪ হিজরী নতুন বছরের শুরুর মাস। আরবি ভাষায় নতুন বছর( জেদিদ ছানা)। আর এই মাসে কোথায়! কখন কি ঘটেছিলো। পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকেই নানা ঘটনাপ্রবাহের ঐতিহ্য বহন করে আসছে পবিত্র মহররম মাস। বিশেষত কারবালার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মহররম মাস আরও বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে ইতিহাসের পাতায়।

১০ মহররম ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে শাহাদতের অমিয় সুধা পান করেন হজরত হোসাইন (রা.)। হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম তাৎপর্যমণ্ডিত একটি মাস। মুসলিম ইতিহাসে এ মাসটি বিভিন্ন কারণে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।আসমান-জমিন সৃষ্টিসহ পৃথিবীতে অনেক স্মরণীয় ও যুগান্তকারী ঘটনা এ মাসের ১০ তারিখে অর্থাৎ পবিত্র আশুরার দিন সংঘটিত হয়েছিল। মহররম সংশ্লিষ্ট ২০টি ঘটনার সংক্ষিপ্ত শিরোনাম নিন্মে তুলে ধরা হলো-
১. আকাশ জমিন পাহাড়-পর্বত সব কিছু সৃষ্টি। ২. আদম (আ.)-এর সৃষ্টি । ৩. নূহ (আ.) মহাপ্লাবন শেষে জুদি পাহাড়ে অবতরণ। ৪. হজরত ইবরাহিম (আ.) নমরুদের প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তিলাভ। ৫. দীর্ঘ ১৮ বছর রোগ ভোগের পর হজরত আইয়ুব (আ.)-এর দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তিলাভ। ৬. হজরত সুলাইমান (আ.)কে পৃথিবীর রাজত্ব দান। ৭. হজরত ইউনুস (আ.)কে ৪০ দিন পর দজলা নদীতে মাছের পেট থেকে উদ্ধার। ৮. হজরত মূসা (আ.) ফেরাউনের কবল থেকে রক্ষা। ৯. হজরত ঈসা (আ.)-এর পৃথিবীতে আগমন এবং জীবতাবস্থায় আসমানে উত্তোলন। ১০. হজরত ইদ্রিস (আ.)কে আসমানে উত্তোলন। ১১. হজরত দাউদ (আ.)কে বিশেষ সম্মানে ভূষিত। ১২. খায়বার যুদ্ধের বিজয় অর্জন। ১৩. মাদায়েন এবং কাদিসিয়ার যুদ্ধে বিজয় অর্জন। ১৪. হজরত আদম (আ.)-এর জান্নাতে প্রবেশ। ১৫. হজরত আদম (আ.)কে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় প্রেরণ এবং গুনাহ মার্জনার পর তার সঙ্গে হাওয়া (আ.)-এর পুনঃসাক্ষাৎ লাভ। ১৬. হজরত নূহ (আ.)কে তুফান ও প্লাবন থেকে পরিত্রাণ প্রদান। ১৭. হজরত সোলায়মান (আ.)কে হারানো বাদশাহি ফিরিয়ে দেওয়া। ১৮. হজরত ইয়াকুব (আ.) কর্তৃক হারানো পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ। ১৯. প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা শরিফ থেকে হিজরত করে মদিনা শরিফে আগমন। ২০. হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার ৭৭ ঘনিষ্ঠজন স্বৈরশাসক ইয়াজিদের সৈন্য কর্তৃক কারবালা প্রান্তরে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ। (সূত্র ঃ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১/১৩২)।প্রশ্নঃ নবিজীর এতগুলি সাহাবা কেউই মাতাম করে নাই ইমাম হোসাইন এর জন্য?এই মাতাম করার প্রথা ত বৃটিশ আমল থেকে শুরু, চার মাযহাবের কোনো ইমাম ত এই ধরণের হাদিস লিখেই যান নি,এবং এর সনদ ও নাই,এসব ভাবগম্ভীর কথা বলে লোকদের ভুল পথে আনা হচ্ছে।মাতাম করা বিদাত এবং এতে মানুষের ঈমান নষ্ট হচ্ছে।
উত্তর ঃ আপনারা বলছেন কোনো সাহাবাই মাতাম করেন নাই,আচ্ছা এতগুলি সাহাবা জীবিত থাকতে ইমাম হোসাইন কে এভাবে খুন হতে হয়েছিল কেনো??ইমাম হোসাইন আঃ এর পরিবারের সবাইকে খুন করা হলো এত কঠিনাভাবে শাস্তি দিয়ে কেনো?

এত হাজার হাজার সাহাবারা যদি একত্রিত হয়ে ইমাম হোসাইন এর পাশে দাড়াত,তাহলে ইয়াজিদের কি ক্ষমতা থাকত ওনাকে নির্মম ভাবে হত্যা করার ? সৌদি আরব তখন ইয়াজিদ এর ক্ষমতায় ছিল,কারওই সাহস ছিল না প্রকাশ্যে ইমাম হোসাইন আঃ এর জন্য মাতাম করার,কেও সত্য প্রচার করার চেষ্টা করলে তাকে খুন করে ফেলা হত।এমনকি ইয়াজিদ তার বাহিনী দের নিয়ে হাদীস কে বিকৃতভাবে প্রচার করার চেষ্টাও করেছিল। বৃটিশ আমল থেকে আশুরার মাতামের প্রথা আসে নি,এটি চালু ছিল ইরাক ইরান দেশগুলিতে আশুরার পরের বর্ষগুলি থেকে যেখানে ইয়াজিদ এর ক্ষমতা ছিল না।

বরং যখন থেকে বৃটিশ আমল শুরু হলো,ইসলাম থেকে সুফিবাদের পতন ঘটল,বৃটিশরা অশিক্ষিত মুসলমানদের কে ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্র করে মাদ্রাসা প্রথা চালু করলো,যার উদ্দেশ্য ছিল ওহাবী মতবাদ প্রচার প্রসার ও সুফিজম তথা আধ্যাত্মবাদ এর সত্যটা শান্তির বানী সমস্ত ইসলাম থেকে মুছে দেওয়া। বৃটিশরাই প্রথম মাদ্রাসা ব্যবস্থা চালু করে,ইসলামের কিতাব গুলিকে বিকৃত করে মুসলমানদের কে দুর্বল করে দেয়া হয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাবে।আর আজ তাই মুসলমানরা সত্যকে জানার চেষ্টা সাহস করে নাই,হাদীস কোরান আস্ত গিলে খেয়েছে,এর গভিরের অর্থকে জানার চেষ্টা করে নাই,ওদের কে যেভাবে অন্ধভাবে শিক্ষা দেয়া হয়েছে,সে অন্ধকার থেকে আজও মুসলমান দেশগুলি বের হয়ে আসতে পারে নাই। মুসলমানদের বিশ্বাস চিন্তা চেতনাকে শুধুমাত্র মসজিদের ভিতরেই আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে,যাতে তারা মসজিদের বাইরে চিন্তা করার ক্ষমতা না রাখে। অথচ নবীজি সাঃ ইসলাম কে যদি শুধুমাত্র মসজিদের ভিতর সীমাবদ্ধ করে রাখতেন,তাহলে উনি রাজনীতি করতেন না,সংসার করতেন না,ব্যবসা বাণিজ্য করতেন না,এমন কি সত্যের জন্য যুদ্ধ করতেন না।উনি ইসলাম কে শুধুমাত্র মসজিদের ভিতর সীমাবদ্ধ করে রাখেন নাই।
এক সময় মুসলমানরা সারা পৃথিবীতে রাজত্ব করেছিল যা অমুসলিমদের জন্য হিংসার কারণ হয়ে দাড়িয়েছিল,যার প্রতিশোধ নিতে তারা মুসলমানদের ধর্মের ভিতর ঢুকে মুসলমান হয়ে মুসলমানদের কিতাব তথা হাদিস কে বিকৃতভাষ্য করে জঙ্গিয় চিন্তা চেতনায় ভড়িয়ে দেয়,তাই মুসলমান দেশগুলিতে যুদ্ধ দন্ড লেগে থাকে যা অন্য ধর্মের দেশগুলিতে নাই।


   Page 1 of 14
     ইসলাম
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়
.............................................................................................
ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ জানা যাবে সোমবার
.............................................................................................
দেশবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন হাফেজ তাকরিম
.............................................................................................
যাদের নেক আমল ধূলিকনায় পরিণত হবে
.............................................................................................
কুরআন প্রতিযোগিতায় ১১১ দেশের মধ্যে ৩য় বাংলাদেশের তাকরিম
.............................................................................................
আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা
.............................................................................................
মন জয় করার ১১ টি সহজ উপায়
.............................................................................................
শুধু উপদেশ নয়, আমলও করতে হবে
.............................................................................................
হজরত আবু বকর (রা.) যে দোয়াটি পড়তেন
.............................................................................................
মানুষের জন্য আল্লাহর ক্ষমা
.............................................................................................
যে আমলে পাবেন পরকালে পছন্দের পুরস্কার
.............................................................................................
বাবা-মার অবাধ্যতার পরিণতি
.............................................................................................
জুমার নামাজ সম্পর্কে আল্লাহ যেসব নির্দেশ দিয়েছেন
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা আজ
.............................................................................................
কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন নতুন ওসি মোঃ মামুন অর রশীদ
.............................................................................................
১০ মহররমের ঐতিহাসিক ২০ ঘটনা
.............................................................................................
আশুরায় নবিজির (সা.) রোজা পালনের কারণ ও ফজিলত
.............................................................................................
জুমার দিন ও নামাজের ফজিলতপূর্ণ যত ঘোষণা
.............................................................................................
জুমার মুসল্লিদের জন্য যেসব পুরস্কার নির্ধারিত
.............................................................................................
পবিত্র হজ আজ : ক্ষমার আশায় আরাফায় হাজিদের প্রার্থনা
.............................................................................................
আরাফাতের ময়দানে খুতবা দেবেন শায়খ আবদুল করিম আল ঈসা
.............................................................................................
লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা` ধ্বনিতে এখন মক্কা মুকাররামা মুখরিত
.............................................................................................
ঈদুল আজহা কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়
.............................................................................................
কোরবানির আগে যেসব কাজ করতে হবে
.............................................................................................
হজে নারীদের তাওয়াফ ও সায়ী
.............................................................................................
নবিজী (সা.) তিন তাসবিহ ৩ কুল কেন পড়তেন?
.............................................................................................
নামাজ যখন মর্যাদা বৃদ্ধি ও গুনাহ মাফের কারণ
.............................................................................................
জোহরের সঙ্গে জুমার নামাজের পার্থক্য কী?
.............................................................................................
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইবাদত তাহাজ্জুদ
.............................................................................................
রোগ-ব্যাধি-মহামারিমুক্ত থাকতে নবিজীর আমল
.............................................................................................
জুমার নামাজ কত রাকাত ও পড়ার নিয়ম কী?
.............................................................................................
৬ রোজা রাখার সময় ও নিয়ম
.............................................................................................
পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
.............................................................................................
সারাদেশে ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত
.............................................................................................
পবিত্র শবে কদর আজ
.............................................................................................
ইতেকাফকারী মসজিদের ভেতর কী করবেন, কী করবেন না?
.............................................................................................
জুমার দিন সহজ আমলের বিশেষ প্রতিদান
.............................................................................................
রমজানে অধিক দোয়ার গুরুত্ব
.............................................................................................
অসুস্থ ব্যক্তির কি রোজা রাখতেই হবে?
.............................................................................................
শুরু হলো সিয়াম সাধনার মাস
.............................................................................................
প্রথম রমজানে ইফতারের সময়
.............................................................................................
চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু রোববার
.............................................................................................
রমজান শুরু কবে, জানা যাবে কাল
.............................................................................................
রমজানের চাঁদ দেখে যে দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
আদম (আ.)-এর আমল থেকেই রোজার বিধান
.............................................................................................
মসজিদ নির্মাণ সদকায়ে জারিয়া
.............................................................................................
শান্তি ও সম্প্রীতি শেখায় ইসলাম
.............................................................................................
রোজার আগেই ১১টি আমলের প্রস্তুতি খুবই জরুরি
.............................................................................................
আজ শুক্রবার রাতেই লাইলাতুন নিসফি মিন শা`বান
.............................................................................................
মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের ফজিলত
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Dynamic Scale BD