| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * মতিঝিলে `বিচ্ছু বাহিনী`র ৫ সদস্য গ্রেফতার   * ফরিদপুরে করোনা-উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু   * করোনাকালে ডেঙ্গু নিয়ে অবহেলা না করার অনুরোধ   * ফেরিতে উঠতে গিয়ে নদীতে পড়ে গেলেন ৩ যাত্রী   * করোনায় আরও ২২৮ জনের মৃত্যু   * মাস্কবিহীন কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না   * মহারাষ্ট্রে ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধস, নিহত বেড়ে ১৩৮   * টিকা নিতে ১ কোটির বেশি মানুষের নিবন্ধন   * দৌলতদিয়ায় উভয়মুখী যাত্রীর চাপ   * পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা: ফেরির ২ চালককে দায়ী করে প্রতিবেদন  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ঈদুল আজহা পালন ও কোরবানি হবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশে: আমরা মনের পশুত্ব কোরবানি দেই

মিয়া আবদুল হান্নান : বছর ঘুরে আবারো এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের জীবনে ঈদুল আজহা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাদের সামর্থ্য অনুসারে প্রতিটি বছর ঈদুল আজহার দিনে পশু কোরবানি দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে মুসলমানরা পবিত্রতা অর্জন করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, হাজার বছর ধরে কোরবানির ধারাবাহিকতা পালন করলেও, এর সঠিক তাৎপর্য মুসলমানরা অনুধাবন করতে পেরেছে বলে মনে হয় না। একইভাবে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রকৃত মর্ম অনুধাবন এবং তা গ্রহণেও মুসলমানরা ব্যর্থ বলা যায়। আর তাই মুসলিম সমাজে এখনো সত্যিকারের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এখনো হিংসা, হানাহানি আর অশান্তি বিরাজ করছে। এর প্রকৃত কারণ হচ্ছে আমরা পশু কোরবানি দিলেও আমাদের মনের ভেতরে লুক্কায়িত পশুত্বকে কোরবানি দিতে পারিনি। সুতরাং সত্যিকারের ঈদুল আজহার শিক্ষা কাজে লাগাতে হলে আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির পাশাপাশি নিজেদের মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা পশুত্বকেও কোরবানি দিতে হবে। তাহলেই কেবল ঈদুল আজহার শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর এবং শান্তির সমাজ নির্মাণ সম্ভব।

পবিত্র ঈদুল আজহার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং এর তাৎপর্য আমরা মুসলমানরা সবাই কমবেশি জানি। কয়েক হাজার বছর আগে মহান আল্লাহ তার প্রিয় নবী হজরত ইবরাহিম আ:কে তার প্রাণপ্রিয় সন্তান হজরত ইসমাঈলকে আ: আল্লাহর নামে কোরবানিই ঈদুল আজহা পালন সার্থক হবে এবং আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানিও সার্থক হবে।
আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানির কথা ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী হজরত ইব্রাহিম ( আঃ)তার পুত্র হজরত ইসমাঈল (আঃ) কে আল্লাহর নামে কোরবানির প্রস্তুতি নিলে আল্লাহ তাদের ওপর অত্যন্ত খুশি হন এবং পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-এর পরিবর্তে একটি পশু জবাই করার নির্দেশ দেন। তখন আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী হজরত ইব্রাহিম (আঃ) তার প্রাণপ্রিয় সন্তান হজরত ইসমাঈল- আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর নামে কোরবানি করা থেকে বিরত থাকেন এবং তার পরিবর্তে একটি পশু জবাই করেন। সেই ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয় এবং মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর নামে পশু কোরবানি দিয়ে থাকে। এই মাসে পবিত্র হজ পালিত হয় এবং সারা বিশ্বের কয়েক লাখ মুসলমান মক্কায় হজ পালন শেষে পশু কোরবানি দেন। এই হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা ও কোরবানির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। সাধারণভাবে কোরবানি শব্দের অর্থ হচ্ছে কোনো কিছু ত্যাগ করা। ইসলামের পরিভাষায় কোরবানি শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে একজন মুসলমান কর্তৃক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় তাঁরই উদ্দেশ্যে কোনো কিছু উৎসর্গ করা। ইসলাম ধর্ম মতে, আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলাম, নাজিলকৃত ধর্মগ্রন্থ কুরআন এবং তাঁর প্রেরিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রদর্শিত গাইডলাইন মোতাবেক যারা এই পৃথিবীতে নিজেদের জীবন পরিচালনা করবে তারা সেই বিচারের দিনে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করবে এবং পুরস্কার হিসেবে আল্লাহ তাদেরকে চির শান্তির বেহেশতে স্থান দেবেন। অন্যদিকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে যারা চলেনি তারা সেই বিচারের দিনে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে ব্যর্থ হবে এবং শাস্তিস্বরূপ দোজখে নিক্ষিপ্ত হবে। স্বাভাবিকভাবেই ইসলামের দৃষ্টিতে এই দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং তা হচ্ছে আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। আল্লাহ তার সৃষ্ট জীব মানুষের জন্য এই পৃথিবীতে চলার যেই গাইডলাইন দিয়েছে তার মধ্যে এই কোরবানিও একটি। কোরবানি মুসলমানদের জীবনে একটি অত্যন্ত আনন্দের দিন। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর নামে পশু কোরবানি দেয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। স্বাভাবিকভাবেই কষ্টে উপার্জিত অর্থ ব্যয় করে কোরবানি দিতে পারায় প্রতিটি মুসলমান আনন্দিত হয়। পশু কোরবানি দেয়ায় আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এটাই প্রতিটি মুসলমান বিশ্বাস করে। ইসলামের নির্দেশ অনুসারে কোরবানির গোশত তিন ভাগ করতে হয়। এক ভাগ গরিব আত্মীয় স্বজন, এক ভাগ গরিব দুস্থদের মধ্যে বিতরণ এবং এক ভাগ নিজের জন্য রাখা যায়। এভাবে প্রত্যেক মুসলমানের ঘরে জবাইকৃত পশুর গোশত রান্না হয় বিধায় সবার ঘরেই আনন্দ থাকে এবং এক ধরনের শান্তি নেমে আসে। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই সেই ত্যাগ, সেই কোরবানি এবং সেই শান্তি আবারো বিদায় নেয়। মুসলিম সমাজে আবারো চলে হিংসা হানাহানি এবং বিদায় নেয় সহমর্মিতা আর ফিরে আসে অশান্তি। এর প্রকৃত কারণ, আমরা কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছি। আল্লাহর পথে পশু কোরবানি হচ্ছে একটি প্রতীক মাত্র। এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছে, আমরা আমাদের অর্থ-সম্পদ, সময়, শ্রম এমনকি প্রয়োজন হলে নিজেদের জীবনও আল্লাহর পথে উৎসর্গ করব। অর্থাৎ আমাদের সবকিছুই আল্লাহর জন্য এবং তার সন্তুষ্টির জন্য। এর উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট দিনে নিজেদের অর্থ ব্যয় করে আল্লাহর পথে পশু কোরবানি দিলাম। আর প্রয়োজনে সারা বছরই আমরা আমাদের অর্থ, শ্রম, সময়, সম্পদ সবই বিনাদ্বিধায় এবং সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহর নির্ধারিত এবং নির্দেশিত পথে ব্যয় করব। অথচ এই ত্যাগ তিতিক্ষার অনুশীলন আজ মুসলিম সমাজে বিদ্যমান নেই। আমরা কেউ কাউকে সহ্য করতে পারি না। অপরের কল্যাণ করতে আমরা এগিয়ে আসি না। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আমাদের মধ্যে নেই। ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুটতরাজ আজ আমাদের সমাজের নিত্যদিনের চিত্র। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসলিম আজ উদ্বাস্তু। কেউ থাকে অট্টালিকায়, কেউ থাকে বস্তিতে। কারো জীবন কাটে লাগামহীন বিলাসিতায় আর কারো জীবন কাটে ক্ষুধার তাড়নায়। একটি মুসলিম সমাজে বা একটি মুসলিম দেশের দুটি মুসলিম পরিবারের জীবনযাত্রার মধ্যে এতটা পার্থক্য হয় কিভাবে? অর্থ, সম্পদ আর আভিজাত্যের বিচারে দুনিয়ার সব মানুষ কখনোই এক সমান হতে পারবে না এটা নিরেট সত্য। কিন্তু তাই বলে ধনী-গরিবের মাঝখানে এতটা ব্যবধান থাকবে কেন? নিশ্চয় আমরা কোরবানির প্রকৃত শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পারিনি।

ঈদুল আজহা আসে, ঈদুল আজহা যায়। কোরবানি আসে, কোরবানি যায়। প্রতি বছর আল্লাহর নামে পশু উৎসর্গ করা হয়। কিন্তু মুসলিম সমাজে কোনো পরিবর্তন আসে না।

ন্যায়বিচার আজ নির্বাসিত। মজলুমের আর্তনাদে মানবতা বিপন্ন। একইভাবে চলছে নারী নির্যাতনের অব্যাহত প্রতিযোগিতা। এখানে এখনো চলছে অন্যায়, অবিচার এবং ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার। রাস্তার পাশে, রেললাইনের ধারে অনাহারে-অর্ধাহারে পড়ে থাকা মানুষটির প্রতি আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই না। টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে ব্যর্থ রোগাক্রান্ত মানুষটির দুর্দশা লাঘবে অর্থ ব্যয় করি না। এতিম আর অসহায় শিশুর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই না। আমানত এবং ওয়াদা রক্ষা করছি না। অহরহ এবং প্রতিনিয়তই মিথ্যা কথা বলছি। আমরা কেবল অর্থ, সম্পদ আর আভিজাত্য অর্জনের পেছনে লাগামহীন এক প্রতিযোগিতায় বিরামহীন ছুটছি। এর বাইরে অন্য কোনো দিকে ফিরে তাকানোর যেন সময় নেই। অথচ এসব তো মুসলিম সমাজের চিত্র নয়! আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘তোমরা দুনিয়াবাসীকে রহমত করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন।’ (সূরা বাকারা-১৯৫) মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: বলেছেন, ‘যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনিই উত্তম।’

অথচ মুসলমানদের কাছে এখন মানবসেবাটাই সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে উপেক্ষিত বিষয়। তাহলে কোরবানির শিক্ষা আমরা গ্রহণ করলাম কোথায়? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, কোরবানির শিক্ষা বাস্তবায়নে তাহলে বাধা কোথায়? সম্ভবত, আমাদের ভেতর লুকিয়ে থাকা শয়তানরূপী পশুটাই সত্য ও সুন্দরের পথে পথচলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এই পশুত্বই আমাদের মনের সুকোমল প্রবৃত্তি ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই কোরবানির শিক্ষা গ্রহণ করে সুন্দর সমাজ নির্মাণ করতে হলে আমাদের সবাইকে নিজেদের ভেতরের পশুত্বকে কোরবানি করতে হবে। আমাদের মন থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, লালসা দূর করতে হবে। গড়তে হবে একটি সুন্দর মন। তাহলেই ঈদুল আজহা পালন সার্থক হবে এবং আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানিও সার্থক হবে।

ঈদুল আজহা পালন ও কোরবানি হবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশে: আমরা মনের পশুত্ব কোরবানি দেই
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : বছর ঘুরে আবারো এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের জীবনে ঈদুল আজহা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাদের সামর্থ্য অনুসারে প্রতিটি বছর ঈদুল আজহার দিনে পশু কোরবানি দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে মুসলমানরা পবিত্রতা অর্জন করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, হাজার বছর ধরে কোরবানির ধারাবাহিকতা পালন করলেও, এর সঠিক তাৎপর্য মুসলমানরা অনুধাবন করতে পেরেছে বলে মনে হয় না। একইভাবে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রকৃত মর্ম অনুধাবন এবং তা গ্রহণেও মুসলমানরা ব্যর্থ বলা যায়। আর তাই মুসলিম সমাজে এখনো সত্যিকারের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এখনো হিংসা, হানাহানি আর অশান্তি বিরাজ করছে। এর প্রকৃত কারণ হচ্ছে আমরা পশু কোরবানি দিলেও আমাদের মনের ভেতরে লুক্কায়িত পশুত্বকে কোরবানি দিতে পারিনি। সুতরাং সত্যিকারের ঈদুল আজহার শিক্ষা কাজে লাগাতে হলে আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির পাশাপাশি নিজেদের মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা পশুত্বকেও কোরবানি দিতে হবে। তাহলেই কেবল ঈদুল আজহার শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সুন্দর এবং শান্তির সমাজ নির্মাণ সম্ভব।

পবিত্র ঈদুল আজহার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং এর তাৎপর্য আমরা মুসলমানরা সবাই কমবেশি জানি। কয়েক হাজার বছর আগে মহান আল্লাহ তার প্রিয় নবী হজরত ইবরাহিম আ:কে তার প্রাণপ্রিয় সন্তান হজরত ইসমাঈলকে আ: আল্লাহর নামে কোরবানিই ঈদুল আজহা পালন সার্থক হবে এবং আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানিও সার্থক হবে।
আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানির কথা ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী হজরত ইব্রাহিম ( আঃ)তার পুত্র হজরত ইসমাঈল (আঃ) কে আল্লাহর নামে কোরবানির প্রস্তুতি নিলে আল্লাহ তাদের ওপর অত্যন্ত খুশি হন এবং পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-এর পরিবর্তে একটি পশু জবাই করার নির্দেশ দেন। তখন আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী হজরত ইব্রাহিম (আঃ) তার প্রাণপ্রিয় সন্তান হজরত ইসমাঈল- আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর নামে কোরবানি করা থেকে বিরত থাকেন এবং তার পরিবর্তে একটি পশু জবাই করেন। সেই ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয় এবং মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর নামে পশু কোরবানি দিয়ে থাকে। এই মাসে পবিত্র হজ পালিত হয় এবং সারা বিশ্বের কয়েক লাখ মুসলমান মক্কায় হজ পালন শেষে পশু কোরবানি দেন। এই হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা ও কোরবানির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। সাধারণভাবে কোরবানি শব্দের অর্থ হচ্ছে কোনো কিছু ত্যাগ করা। ইসলামের পরিভাষায় কোরবানি শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে একজন মুসলমান কর্তৃক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় তাঁরই উদ্দেশ্যে কোনো কিছু উৎসর্গ করা। ইসলাম ধর্ম মতে, আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলাম, নাজিলকৃত ধর্মগ্রন্থ কুরআন এবং তাঁর প্রেরিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রদর্শিত গাইডলাইন মোতাবেক যারা এই পৃথিবীতে নিজেদের জীবন পরিচালনা করবে তারা সেই বিচারের দিনে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করবে এবং পুরস্কার হিসেবে আল্লাহ তাদেরকে চির শান্তির বেহেশতে স্থান দেবেন। অন্যদিকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে যারা চলেনি তারা সেই বিচারের দিনে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে ব্যর্থ হবে এবং শাস্তিস্বরূপ দোজখে নিক্ষিপ্ত হবে। স্বাভাবিকভাবেই ইসলামের দৃষ্টিতে এই দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং তা হচ্ছে আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। আল্লাহ তার সৃষ্ট জীব মানুষের জন্য এই পৃথিবীতে চলার যেই গাইডলাইন দিয়েছে তার মধ্যে এই কোরবানিও একটি। কোরবানি মুসলমানদের জীবনে একটি অত্যন্ত আনন্দের দিন। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর নামে পশু কোরবানি দেয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। স্বাভাবিকভাবেই কষ্টে উপার্জিত অর্থ ব্যয় করে কোরবানি দিতে পারায় প্রতিটি মুসলমান আনন্দিত হয়। পশু কোরবানি দেয়ায় আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এটাই প্রতিটি মুসলমান বিশ্বাস করে। ইসলামের নির্দেশ অনুসারে কোরবানির গোশত তিন ভাগ করতে হয়। এক ভাগ গরিব আত্মীয় স্বজন, এক ভাগ গরিব দুস্থদের মধ্যে বিতরণ এবং এক ভাগ নিজের জন্য রাখা যায়। এভাবে প্রত্যেক মুসলমানের ঘরে জবাইকৃত পশুর গোশত রান্না হয় বিধায় সবার ঘরেই আনন্দ থাকে এবং এক ধরনের শান্তি নেমে আসে। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই সেই ত্যাগ, সেই কোরবানি এবং সেই শান্তি আবারো বিদায় নেয়। মুসলিম সমাজে আবারো চলে হিংসা হানাহানি এবং বিদায় নেয় সহমর্মিতা আর ফিরে আসে অশান্তি। এর প্রকৃত কারণ, আমরা কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছি। আল্লাহর পথে পশু কোরবানি হচ্ছে একটি প্রতীক মাত্র। এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছে, আমরা আমাদের অর্থ-সম্পদ, সময়, শ্রম এমনকি প্রয়োজন হলে নিজেদের জীবনও আল্লাহর পথে উৎসর্গ করব। অর্থাৎ আমাদের সবকিছুই আল্লাহর জন্য এবং তার সন্তুষ্টির জন্য। এর উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট দিনে নিজেদের অর্থ ব্যয় করে আল্লাহর পথে পশু কোরবানি দিলাম। আর প্রয়োজনে সারা বছরই আমরা আমাদের অর্থ, শ্রম, সময়, সম্পদ সবই বিনাদ্বিধায় এবং সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহর নির্ধারিত এবং নির্দেশিত পথে ব্যয় করব। অথচ এই ত্যাগ তিতিক্ষার অনুশীলন আজ মুসলিম সমাজে বিদ্যমান নেই। আমরা কেউ কাউকে সহ্য করতে পারি না। অপরের কল্যাণ করতে আমরা এগিয়ে আসি না। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আমাদের মধ্যে নেই। ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুটতরাজ আজ আমাদের সমাজের নিত্যদিনের চিত্র। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসলিম আজ উদ্বাস্তু। কেউ থাকে অট্টালিকায়, কেউ থাকে বস্তিতে। কারো জীবন কাটে লাগামহীন বিলাসিতায় আর কারো জীবন কাটে ক্ষুধার তাড়নায়। একটি মুসলিম সমাজে বা একটি মুসলিম দেশের দুটি মুসলিম পরিবারের জীবনযাত্রার মধ্যে এতটা পার্থক্য হয় কিভাবে? অর্থ, সম্পদ আর আভিজাত্যের বিচারে দুনিয়ার সব মানুষ কখনোই এক সমান হতে পারবে না এটা নিরেট সত্য। কিন্তু তাই বলে ধনী-গরিবের মাঝখানে এতটা ব্যবধান থাকবে কেন? নিশ্চয় আমরা কোরবানির প্রকৃত শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পারিনি।

ঈদুল আজহা আসে, ঈদুল আজহা যায়। কোরবানি আসে, কোরবানি যায়। প্রতি বছর আল্লাহর নামে পশু উৎসর্গ করা হয়। কিন্তু মুসলিম সমাজে কোনো পরিবর্তন আসে না।

ন্যায়বিচার আজ নির্বাসিত। মজলুমের আর্তনাদে মানবতা বিপন্ন। একইভাবে চলছে নারী নির্যাতনের অব্যাহত প্রতিযোগিতা। এখানে এখনো চলছে অন্যায়, অবিচার এবং ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার। রাস্তার পাশে, রেললাইনের ধারে অনাহারে-অর্ধাহারে পড়ে থাকা মানুষটির প্রতি আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই না। টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে ব্যর্থ রোগাক্রান্ত মানুষটির দুর্দশা লাঘবে অর্থ ব্যয় করি না। এতিম আর অসহায় শিশুর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই না। আমানত এবং ওয়াদা রক্ষা করছি না। অহরহ এবং প্রতিনিয়তই মিথ্যা কথা বলছি। আমরা কেবল অর্থ, সম্পদ আর আভিজাত্য অর্জনের পেছনে লাগামহীন এক প্রতিযোগিতায় বিরামহীন ছুটছি। এর বাইরে অন্য কোনো দিকে ফিরে তাকানোর যেন সময় নেই। অথচ এসব তো মুসলিম সমাজের চিত্র নয়! আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘তোমরা দুনিয়াবাসীকে রহমত করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন।’ (সূরা বাকারা-১৯৫) মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: বলেছেন, ‘যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনিই উত্তম।’

অথচ মুসলমানদের কাছে এখন মানবসেবাটাই সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে উপেক্ষিত বিষয়। তাহলে কোরবানির শিক্ষা আমরা গ্রহণ করলাম কোথায়? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, কোরবানির শিক্ষা বাস্তবায়নে তাহলে বাধা কোথায়? সম্ভবত, আমাদের ভেতর লুকিয়ে থাকা শয়তানরূপী পশুটাই সত্য ও সুন্দরের পথে পথচলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এই পশুত্বই আমাদের মনের সুকোমল প্রবৃত্তি ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই কোরবানির শিক্ষা গ্রহণ করে সুন্দর সমাজ নির্মাণ করতে হলে আমাদের সবাইকে নিজেদের ভেতরের পশুত্বকে কোরবানি করতে হবে। আমাদের মন থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, লালসা দূর করতে হবে। গড়তে হবে একটি সুন্দর মন। তাহলেই ঈদুল আজহা পালন সার্থক হবে এবং আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানিও সার্থক হবে।

কুরবানির পশু চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে কী করণীয়
                                  

প্রশ্ন: কুরবানির পশু চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে করণীয় কী?


উত্তর: কুরবানির পশু যদি চুরি হয়ে যায় বা মরে যায় আর কুরবানিদাতার ওপর পূর্ব থেকে কুরবানি ওয়াজিব থাকে তা হলে আরেকটি পশু কুরবানি করতে হবে। গরিব হলে (যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়) তার জন্য আরেকটি পশু কুরবানি করা ওয়াজিব নয়।

তথ্যসূত্র: বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯

কাবা শরিফে পরানো হয়েছে স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ
                                  

ধর্ম ডেস্ক : বছরজুড়ে কালো গিলাফ বা কিসওয়ায় আবৃত থাকে পবিত্র কাবা শরিফ। প্রত্যেক বছর হজের দিন ৯ জিলহজ ফজরের পরপরই পরানো হয় নতুন গিলাফ। এটি পুরনো রেওয়াজ। হজে অংশগ্রহণকারী আরাফা মুজদালিফা ও মিনা থেকে ফিরে এসে নতুন গিলাফ দেখেই মুগ্ধ হয়।

কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরানোর আগে হজের প্রস্তুতিস্বরূপ প্রতি বছর হজের কয়েক দিন আগে কাবা শরিফের নিচের দিকে ৩ মিটার জায়গা উন্মুক্ত করে সাদা কাপড়ে আবৃত করা হয় কালো গিলাফ। আর হজের দিন এ গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ পরানো হয়। পুরনো গিলাফের বিভিন্ন অংশ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের সরকার প্রধানসহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।

কাবা শরিফের এ গিলাফ পরিবর্তনের কাজে মসজিদুল হারামের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও দায়িত্বশীলগণ নেতৃত্ব দেন। এ সময় সৌদি বাদশার প্রতিনিধিসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাদা কাপড়ে মোড়ানো নতুন গিলাফের লম্বা রোলগুলো বিশেষ গাড়িতে করে হারাম শরিফের চত্বরে নিয়ে আসা হয়। পরে দায়িত্বশীলরা তা সম্মানের সঙ্গে কাঁধে বহন করে পবিত্র কাবা শরিফের চত্বরে নিয়ে যান।

কাবা শরিফের দরজা ও বাইরের গিলাফ দুটোই মজবুত রেশমি কাপড় দিয়ে তৈরি করা। গিলাফের মোট পাঁচটি টুকরো বানানো হয়। চারটি টুকরো চারদিকে ও পঞ্চম টুকরোটি দরজায় লাগানো হয়। টুকরোগুলো পরস্পর সেলাইযুক্ত। কাবা শরিফের গিলাফের প্রতিটি কাপড়ের জন্য প্রয়োজন হয় ৬৭০ কেজি রেশম, ১৫০ কেজি র্স্বর্ণ ও রুপার চিকন তার। ৪৭ থান সিল্কের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় এই গিলাফ। এর মোট আয়তন ৬৫৮ বর্গমিটার। প্রতিটি থান এক মিটার লম্বা, ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া, যা পরস্পরের সঙ্গে সেলাই করা।

উল্লেখ্য যে, প্রতিবছরই সতর্কতামূলকসহ মোট দুইটি করে গিলাফ তৈরি করা হয়। এ গিলাফগুলো হাতে তৈরিতে সময় লাগে মোট আট থেকে নয় মাস। অন্যটি মেশিনে মাত্র এক মাসে তৈরি করা হয়। মক্কার উম্মুদ জুদ নামক এলাকার বিশেষ কারখানায় তৈরি হয় গিলাফগুলো।

কুরবানির বিকল্প কোনো ইবাদত নেই
                                  

মাহমুদ আহমদ : বিশ্বময় মহামারি করোনার এ দিনে আমাদের সামনে উপস্থিত হচ্ছে ঈদুল আজহা। করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেকেই হয়তো ভাবছেন এবার কুরবানি না দিলে কি এমন ক্ষতি হবে। আসলে বিষয়টি এমন নয়।

পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সামর্থ্যবানদের অবশ্যই কুরবানিতে অংশ নিতে হবে। কেননা ইসলামে ঈদুল আজহার দিনে কুরবানি করার গুরুত্ব অপরিসিম।

রাসুল করিম (সা.) ‘ঈদুল আজহিয়া’ উপলক্ষে নিজেও কুরবানি করতেন এবং তার সাহাবিদেরকেও কুরবানি করার জন্য তাগিদ দিতেন। এ ব্যাপারে হাদিসে অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে।

যেমন হজরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) হিজরতের পর মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন এবং তিনি প্রতি বছরই ‘ঈদুল আজহিয়া’ উপলক্ষ্যে মদিনায় কুরবানি করতেন (তিরমিজি)।

শুধু তাই নয়, ঈদুল আজহার কুরবানির প্রতি রাসুলের (সা.) এতদূর খেয়াল ছিল যে, ওফাতের পূর্বে তিনি তার জামাতা ও পিতৃব্য পুত্র হজরত আলীকে (রা.) ওসিয়ত করেন, তার ওফাতের পর যেন মহানবীর (সা.) পক্ষে ঈদুল আজহিয়া উপলক্ষ্যে সর্বদা কুরবানি করা হয়। হজরত আলীও (রা.) তাই করেছিলেন যা মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছিলেন।

হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, হজরত হাবসা (রা.) বলেন, তিনি হজরত আলীকে (রা.) দেখলেন ঈদুল আজহায় দু’টি দুম্বা কুরবানি করছেন। হজরত আলীকে (রা.) তিনি জিজ্ঞেস করলেন, দু’টি দুম্বা কোরবানি করার উদ্দেশ্য কী? এতে হজরত আলী (রা.) বললেন, আমাকে মহানবী (সা.) ওসিয়্ত করেছেন, আমি যেন মহানবীর (সা.) পক্ষে তার ওফাতের পরেও কুরবানি করতে থাকি। এজন্য তিনি হজরত রাসুলের (সা.) পক্ষে কুরবানি করেন (আবু দাউদ) ।

ঈদুল আজহার দিন কোরবানি করা মহানবীর (সা.) শুধু ব্যক্তিগত কর্মই ছিল না, বরং তিনি তার সাহাবাদেরকেও এর আদেশ দিতেন।

হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত বারা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) ঈদুল আজহার দিন খুতবা প্রদান করেন এবং বলেন, এ দিন প্রথমে মানুষ ঈদের নামাজ পড়বে এবং তারপর কুরবানি করবে। সুতরাং যে এমন করে, সে তার সুন্নতকে লাভ করেছে (বোখারি ও মুসলিম)।

আরেক স্থানে তিনি (সা.) বলেন, যার আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্বেও ঈদুল আজহিয়া উপলক্ষ্যে কুরবানি করে না, সে কেন আমাদের ঈদগাহে এসে নামাজে শামিল হয়? (মুসনাদ আহমদ)।

মহানবীর (সা.) এই আদেশকে সাহাবারা (রা.) খুব ভালভাবেই স্মরণ রেখেছিলেন আর সাধ্যমত তারা কুরবানি করতেন।

বর্ণনায় এসেছে, একবার এক ব্যক্তি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ঈদুল আজহার কুরবানি কি জরুরী? এতে তিনি বললেন, মহানবী (সা.) নিজে কুরবানি করতেন এবং তার অনুবর্তিতা রূপে সাহাবাগণও কুরবানি করতেন।

ওই ব্যক্তি তার প্রশ্নটি পুনরুত্থাপনপূর্বক বললেন, কুরবানি কি ওয়াজিব? হজরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) বললেন, তুমি কি আমার কথা বুঝতে পার না? আমি স্পষ্ট করে বললাম, মহানবী (সা.) নিজেও কুরবানি করতেন এবং তার অনুবর্তীতায় অন্য মুসলমানরাও করতেন (তিরমিজি)।

ঈদুল আজহার দিন কোরবানি করা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ। যেমন হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত জায়েদ বিন আরকাম (রা.) বলেন, সাহাবায়ে কেরামরা মহানবীর (সা.) কাছে নিবেদন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! ঈদুল আজহার এই যে কুরবানি, এটি কেন করা হয়?

এতে মহানবী (সা.) বললেন, এটি তোমাদের প্রধান পূর্ব পুরুষ ইব্রাহিমের প্রবর্তিত রীতি বা সুন্নত। এরপর সাহাবারা (রা.) নিবেদন করলেন, আমাদের জন্য এতে লাভ কী? তখন তিনি (সা.) বললেন, কুরবানির জন্তুর প্রত্যেকটি লোম কোরবানিকারীর জন্য এক একটি পুণ্য, যা তাকে আল্লাহতায়ালার কাছে পুরস্কার লাভের যোগ্য করে তুলবে (ইবনে মাজা)।

এ থেকে সহজেই উপলব্ধি করা যায়, ঈদুল আজহায় কুরবানির গুরুত্ব কত ব্যাপক। কুরবানির আদেশ রয়েছে বলে, যে কোন ধরনের পশু কুরবানি করলেই কিন্তু চলবে না।

মনে রাখতে হবে, কুরবানির পশু নিখুঁত হওয়া চাই। এব্যাপারে বিভিন্ন হাদিসেও উল্লেখ রয়েছে। হজরত আলী (রা.) বলেন, তিনি (সা.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা যেন কুরবানির পশুর চোখ, কান ভালভাবে দেখে নেই। যে পশুর কানের শেষ ভাগ কাটা গিয়েছে অথবা যার কান গোলাকার ছিদ্র করা হয়েছে বা যার কান পেছনের দিক থেকে ফেরে গিয়েছে তা দিয়ে আমরা যেন কোরবানি না করি (তিরমিজি)।

হজরত আলী (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) শিং ভাঙ্গা ও কান কাটা পশু দিয়ে আমাদেরকে কোরবানি করতে নিষেধ করেছেন (ইবনে মাজাহ)। তাই এ বিষয়টির ওপর খুব গুরুত্ব দিতে হবে।

বর্তমান যেহেতু করোনাকাল চলছে, অনেক খেটে খাওয়া ও দরিদ্র মানুষ অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন, তাই এই ঈদে তাদের কথা চিন্তা করে আমাদেরকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে প্রকৃত অর্থে ঈদুল আজহার গুরুত্ব উপলব্ধি করে তার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে কুরবানি করার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

যেসব আমলে কোরবানির সমান সওয়াব
                                  

ইসলাম ডেস্ক : কোরবানি তো তারাই দেবে, যাদের সামর্থ্য রয়েছে। যাদের রয়েছে কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার মতো নেসাব ও সম্পদ, তাদের ওপরই কোরবানি ওয়াজিব।

কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানি, ইচ্ছা করলে অসামর্থ্যবানরাও কোরবানির সওয়াব হাসিল করতে পারে। তারাও পারে আল্লাহর অফুরন্ত রহমত কুড়াতে, এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে। এটি শুধু কোরবানির ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রেও।

জান্নাত কেবল ধনীদের জন্য নয়, বরং এতে সবার প্রবেশাধিকার রয়েছে। তবে শর্ত হলো— প্রত্যেকে তার অবস্থা অনুযায়ী দায়িত্ব আদায় করা। যারা গরিব, তারা যদি আপন অবস্থার ওপর শোকর ও সবর করে, এবং অন্যান্য ফরজ দায়িত্বগুলো আদায় করে, তা হলে সে ধনীদের ৫০০ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। নবীজি (সা.) হাদিসে এমনটিই বলেছেন।

এমনিতে তো প্রত্যেক মুসলমানই একটি কোরবানির সওয়াব অবশ্যই পাবে। জীবনে সে কোরবানি করুক বা না করুক। কারণ আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) তার প্রিয় উম্মতের পক্ষ থেকেও কোরবানি করেছেন। এর দ্বারা উম্মতের ওয়াজিব দায়িত্ব পূর্ণ হবে না; কিন্তু সওয়াব প্রাপ্ত হবে।

এটি ছাড়াও আসন্ন কোরবানিতে দরিদ্ররাও দুভাবে কোরবানির সওয়াব কামাই করতে পারে।

১. কোরবানি করার নিয়ত ও আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। হায়, আমি যদি পারতাম, তা হলে আমিও কোরবানি করতাম। বহু মানুষ কাল কেয়ামতের মাঠে বহু নেকি নিয়ে ওঠবে শুধু নিয়তের কারণে। অথচ এ আমল সে জীবনেও করেনি এবং এটা করার সামর্থ্য তার ছিল না।

এ জন্য নবীজি (সা.) বলেছেন— ‘মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়েও সরস।’

২. যারা কোরবানির সামর্থ্য রাখে না, তারা যদি ঈদের দিন ক্ষৌর কর্ম করে। অর্থাৎ জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর ক্ষৌরকার্য না করে ঈদের নামাজ পড়ে এসে ক্ষৌরকর্ম করে।

একটি হাদিসে এমন ব্যক্তিকে একটি কোরবানির সওয়াব দেওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

আমর বিন আস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন: আমাকে আজহার দিনকে ঈদ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে আল্লাহতায়ালা সমগ্র উম্মতের জন্য ঈদ করেছেন।

জনৈক ব্যক্তি বললেন, আমার কাছে ধার করা দুধের বকরি ছাড়া আর কিছু না নেই, আমি কি কোরবানি করবে? নবীজি বললেন— না। তুমি তোমার চুল, নখ, গোঁফ কাটবে, এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এর দ্বারা তুমি আল্লাহর কাছে পূর্ণ কোরবানির সওয়াব প্রাপ্ত হবে। (সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং ৪৩৬৫, আবু দাউদ, ২৭৮৯)

কাজেই, যাদের এখনও জরুরি ক্ষৌরকর্মের প্রয়োজন রয়েছে, তারা জিলহজের চাঁদ ওঠার আগেই তা সেরে নিন। প্রয়োজন না থাকলে করার দরকার নেই। এর পর ঈদের দিনের অপেক্ষা করুন। সেদিন এই ক্ষৌরকার্য সম্পন্ন করুন। ইনশাআল্লাহ একটি পূর্ণ কোরবানির সওয়াব পাবেন।

জরুরি মাসয়ালা

ক্ষৌরকার্য ঈদের প্রথম দিন সম্ভব না হলে ২য়, ৩য় দিনও করা যাবে। সকালে সম্ভব না হলে বিকাল বা রাতেও করা যাবে।

যারা কোরবানি করবেন, তারাও ঈদের দিন ক্ষৌরকার্য করা মুস্তাহাব। (সহীহ মুসলিম: ১৯৭৭)

ক্ষৌরকর্মের মধ্যে দাড়ি শেভ করা অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এক মুষ্ঠির নিচে দাড়ি কাটা মাকরূহে তাহরিমি।

চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২১ জুলাই
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের আকাশে রোববার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী ২১ জুলাই (বুধবার) দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।

রোববার বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপন করেন। কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) মহামারিতে বিধিনিষেধের মধ্যে এবার এ উৎসব উদযাপন করতে হতে পারে।

সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রোববার বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪২ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সোমবার (১২ জুলাই) থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। ২১ জুলাই (১০ জিলহজ) বুধবার দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

এর আগে ফেনীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে চাঁদ দেখা গেছে। আমি এখানকার চাঁদ দেখা কমিটির মিটিংয়ে আছি। আমরা এখন ঢাকায় জাতীয় কমিটির কাছে চাঁদ দেখার তথ্য জানিয়ে দেব।’

শনিবার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আগামী ২০ জুলাই ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। হজ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই।

ঈদুল ফিতরের পর ঈদুল আজহা মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এ উৎসবে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাদের প্রিয় বস্তু অর্থাৎ পশু কোরবানি করেন।

ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ই লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে হজব্রত পালনরত অবস্থায় থাকেন। হাজিরা ঈদের দিন সকালে কোরবানি দেন। কিন্তু করোনার কারণে এবারও পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে হজ করতে যাওয়ার সুযোগ বাতিল করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হজের সুযোগ পাবে শুধু সৌদি আরবের বাসিন্দা এবং দেশটিতে বসবাসরত বিদেশিরা।

এবার ঈদে ২০, ২১ ও ২২ জুলাই সরকারি ছুটি থাকার কথা। এরপর ২৩ ও ২৪ জুলাই (শুক্র ও শনিবার) রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি। যদিও করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে কিছুদিন ধরে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সারাদেশের মানুষের জীবন। শিল্প কারখানা ছাড়া বন্ধ সরকারি-বেসরকারি অফিস।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রেল, সড়ক ও নৌপথে রাজধানী ছাড়েন অসংখ্য মানুষ। চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত। বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এখনও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি নেই। তাই মনে করা হচ্ছে ঈদও কাটবে বিধিনিষেধের মধ্যে।

যেসব কারণে জুমআর দিনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বেশি
                                  

ধর্ম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলার কাছে জুমআর দিন দুই ঈদের দিনের চেয়েও মর্যাদাবান এবং উত্তম। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এ দিনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। এ কারণেই জুমআর দিনটি ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করার নির্দেশ এসেছে কুরআন এবং সুন্নায়। আল্লাহ তাআলা বলেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ - فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيراً لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
‘মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।` (সুরা জুমআ : আয়াত ৯-১০)

এ আয়াতে জুমআর দিনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সুস্পষ্ট। এ দিন আজানের সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে বেচাকেনা বন্ধ করে জুমআ আদায় মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা। আর কেন এ দিন ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করা জরুরি। তা ওঠে এসেছে হাদিসের একাধিক বর্ণনায়। তাহলো-

১. জুমআর দিন দুই ঈদের দিনের চেয়েও মর্যাদাবান এবং উত্তম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমুআর দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহ তাআলার কাছে তা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ)

২. জুমআর দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে অন্য হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ঘোষণা করেন, ‘যে সব দিনগুলোতে সূর্য উঠে; তন্মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমআর দিন। এই দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই জান্নাত থেকে তাকে বের করা হয়েছে।’ (মুসলিম)

৩. জুমআর দিন ইসলামের পূর্ণতার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বনবি। হজরত ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি যখন এ আয়াতটি তেলাওয়াত করেন-
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا
তখন তার কাছে একজন ইয়াহুদি ছিল। সে বলল, যদি আয়াতটি আমাদের ওপর নাজিল হতো তাহলে আমরা দিনটিকে ঈদের দিন বানিয়ে নিতাম। অতপর ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আয়াতটি ঈদের দিনেই নাজিল হয়েছে (আর তা ছিল) জুমআ’র দিন ও ‘আরাফার দিন।’ (তিরমিজি)


৪. জুমআর দিন বান্দার গোনাহ মাফের দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, `এক জুমআ থেকে অপর জুমআ- এতদুভয়ের মাঝে (গোনাহের জন্য) কাফ্‌ফারা হয়ে যায়, যদি কবিরাহ (বড়) গোনাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে থাকে।’ (মুসলিম)

৫. বছরব্যাপী নামাজ-রোজার সাওয়াব পাওয়ার মাধ্যমও জুমআর দিনের ইবাদত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন ভালো করে গোসল করে সকাল সকাল মসজিদে আসবে এবং ইমামের কাছাকাছি হবে এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে ও চুপ থাকবে তার জুমআর নামাজে আসার প্রত্যেক কদমে এক বছরের নামাজ ও রোজা পালনের সাওয়াব অর্জিত হবে।’ (তিরমিজি, নাসাঈ)

৬. জুমআর দিনটিতে বান্দার সব দোয়া কবুল হয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই জুমআর দিনে এমন একটি সময় আছে যে সময়ে কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কোনো ভালো জিনিসের প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, তা সামান্য সময় মাত্র।’ (বুখারি ও মুসলিম); কেউ কেউ বলেন, এটি আসরের নামাজের পরের সময়।

৭. জুমআর দিনটি উম্মতে মুহাম্মাদির ইবাদতের জন্য নির্ধারিত বিশেষ দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জুমআ থেকে আল্লাহ আমাদের আগের উম্মতকে বিভ্রান্ত করে রেখেছিলেন। ফলে ইয়াহুদিদের জন্য ছিল রোববার। অতপর আল্লাহ আমাদেরকে নিয়ে এসেছেন এবং আমাদেরকে জুমআর দিনের জন্য পথ দেখিয়েছেন অতপর শনি তারপর রবি। এমনিভাবে কেয়ামতের দিনও তারা আমাদের পরে হবে। দুনিয়ার অধিবাসীদের মধ্যে আমরা সবার পরে এবং কেয়ামতের দিন আমাদের ফয়সালা সাবার আগে হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

৮. জুমআর দিন কেয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন। হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমআর দিনেই কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।’ (মুসলিম)

৯. ফেতনা থেকে মুক্তির দিন জুমআ। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কোনো মুসলিম যদি জুমআর দিন অথবা জুমআর রাতে মৃত্যুবরণ করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফেতনা থেকে রক্ষা করবেন।’ (তিরমিজি)

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর জন্য জুমআর দিনের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে যেমন, তেমনি জুমআর নামাজও মুমিন মুসলমানের জন্য বিশেষ মর্যাদা লাভের নামাজ। তাই কোনোভাবেই এ নামাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। এ দিনের আমল ও ইবাদতগুলো যথাযথভাবে আদায় করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ দিনের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার এবং বিশেষ মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হাদিসের উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দাওয়াতের অন্যতম পথ ওয়াজ মাহফিল
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : কোরআন কারিমের ৭৭টি নামের এক নাম হলো ‘ওয়াজ’ বা উপদেশ। মহান আল্লাহ হলেন প্রথম ওয়ায়েজ বা ওয়াজকারী। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন দ্বিতীয় ওয়ায়েজ—এই সূত্রে নবী করিম (সা.)-এর উত্তরাধিকারীরা ওয়ায়েজিন। এই উম্মতের দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করবেন ওয়ারেসাতুল আম্বিয়া তথা নবীদের উত্তরাধিকারী উলামায়ে কিরাম। আর উলামায়ে কিরামের দায়িত্ব হলো এই দাওয়াতি কাজ কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত রাখা। ওয়াজ, নসিহত, বয়ান, খুতবা, তাফসির ইত্যাদি দাওয়াতের প্রচলিত মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করো হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সঙ্গে তর্ক করবে উত্তম পন্থায়।’ (আল কোরআন, পারা-১৪, সূরা: নাহল, আয়াত: ১২৫)।

দাওয়াতি আলোচনার বিভিন্ন ধরন রয়েছে। যেমন: ওয়াজ, নসিহত, বয়ান, খুতবা, তাফসির ইত্যাদি। ‘ওয়াজ’ হলো সুন্দর, আকর্ষণীয়, যুক্তিপূর্ণ ও হৃদয়স্পর্শী আবেদনময় আলোচনা। সাধারণত ওয়াজ সুরেলা কণ্ঠে উপমার মাধ্যমে আকর্ষণীয় উপায়ে গল্প–কাহিনির সমন্বয়ে পরিবেশন করা হয়। যিনি ওয়াজ করেন, তাকে ওয়ায়েজ বলে। ওয়ায়েজিন হলো এর বহুবচন। ল‘নসিহত’ হলো কল্যাণ কামনায় আন্তরিক আদেশ বা অনুজ্ঞাসূচক চূড়ান্ত নিবেদন। এর জন্য ব্যক্তিত্ব, অধিকার ও কল্যাণকামী হওয়া প্রয়োজন। যিনি নসিহত করেন, তাঁকে নাসিহ বলা হয়। নাসিহিন এর বহুবচন। হাদিস শরিফে আছে, ‘নসিহত অর্থাৎ সদুপদেশ বা কল্যাণ কামনাই দ্বীন বা ধর্মের মূল কথা।’ (বুখারি)। ‘বয়ান’ হলো বক্তৃতা বা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, যাতে নির্ধারিত বিষয়ের বিবরণভিত্তিক সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকে। এর জন্য পর্যাপ্ত বিষয়জ্ঞান, দালিলিক প্রমাণ প্রয়োজন। কোরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘দয়াময় আল্লাহ, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন, তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনি তাকে শিখিয়েছেন ভাব প্রকাশ করতে “বয়ান”।’ (আল কোরআন, পারা: ২৭, সূরা: আর রহমান, আয়াত: ১-৪)। ‘খুতবা’ হলো ভাষণ, যাতে দায়িত্বশীল ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত বিশেষ কোনো বিষয়ে কর্মসূচির উল্লেখ করে থাকেন। যিনি খুতবা প্রদান করেন, তাঁকে খতিব বলা হয়। এর বহুবচন খুতাবা। এর মূল হলো খিতাব অর্থাৎ সম্বোধন বা উপস্থাপন। ‘তাফসির’ হলো কোরআনের নির্ধারিত অংশ বা বিষয়ে যোগ্য মুফাসসির কর্তৃক মূলনীতির ভিত্তিতে সুন্নাহ, ফিকাহ ও প্রয়োজনীয় ইসলামি শাস্ত্রসমূহের আলোকে ব্যাখ্যা করা। যিনি তাফসির করেন, তাঁকে ‘মুফাসসির’ বলা হয়। ‘মুফাসসিরিন’ হলো এর বহুবচন। এ জন্য অগাধ ইসলামি জ্ঞানের প্রয়োজন, বিভিন্ন গ্রন্থে মুফাসসিরের জন্য ১০ থেকে ৪০টি বিষয়ের জ্ঞান থাকার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু সব তাফসিরকারক আলেম তাফসিরের শর্তে মুফাসসিরের মানোত্তীর্ণ নন; তাই যাঁরা নিজে মুফাসসির না হলেও অন্য মুফাসসিরদের তাফসির পড়ে মানুষের কাছে তা পেশ করেন, তাঁদের জন্য অন্তত দুটি শর্ত প্রযোজ্য। যথা: ব্যক্তির বিশ্বস্ততা ও সূত্রের গ্রহণযোগ্যতা। অর্থাৎ ব্যক্তিকে দ্বীনদার, পরহেজগার, ন্যায়নিষ্ঠ হতে হবে, বর্ণনায় সততা থাকতে হবে এবং তিনি যেসব তাফসিরগ্রন্থ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন, সেগুলো বিশুদ্ধ ও অবিসংবাদী হতে হবে। এ ধরনের তাফসির উপস্থাপনকারীদেরও বর্তমানে মুফাসসির নামে আখ্যায়িত করা হয়। এঁরা মুফাসসিরে হাকিকি বা প্রকৃত মুফাসসির নন, বরং তাঁরা মুফাসসিরে মাজাজি বা রূপকার্থে মুফাসসির। ওয়াজে সাধারণত কোরআনের আয়াত, নবীজি (সা.)-এর হাদিস, ফিকহি মাসায়িল ও উপদেশমূলক কাহিনি মূল প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত। যে ওয়াজে কোরআনের বয়ান সবচেয়ে বেশি, তারপর হাদিসের বয়ান এবং গল্প-কাহিনি সবচেয়ে কম, সেই ওয়াজ বেশি উপকারী। যে ওয়াজ এর যত বিপরীত, তার উপকারিতাও তত কম। ওয়াজে সাধারণত তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত, ইমান ও আমল, হক্কুল্লাহ তথা আল্লাহর হক ও হক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক; হারাম ও হালাল, জান্নাত ও জাহান্নাম ইত্যাদি থাকা উচিত। তবে ওয়াজে বিতর্কিত মাসআলা–মাসায়িল, অপ্রয়োজনীয় অভিনব বিষয়, মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য, বিভেদ, ভুল-বোঝাবুঝি ও সংশয় সৃষ্টি হতে পারে—এমন কোনো বিষয় থাকা অনুচিত। দ্বীনি ইলম শিক্ষা ও দাওয়াতি কাজের জন্য সনদ বা সূত্রপরম্পরা থাকা জরুরি। সনদ ছাড়া ইসলামি প্রচারকার্য অনধিকারচর্চার শামিল। সনদ দুই প্রকার—একটি হলো সংক্ষিপ্ত, অন্যটি বিস্তারিত। প্রথমটি নিজের আমলের জন্য যথেষ্ট, দ্বিতীয়টি শিক্ষাদান ও প্রচারের জন্য অপরিহার্য। আজকাল অনেকেই তাফসির মাহফিল করেন, কিন্তু তাতে শুধু ওয়াজই করে থাকেন। ওয়াজ-নসিহত করারও কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষাগত ইলমি যোগ্যতা, অবয়ব সুরত সুন্নাত মুতাবিক হওয়া, আখলাক সিরাত নবী (সা.)-এর আদর্শে আদর্শিত হওয়া, তাকওয়ার অধিকারী মুত্তাকি হওয়া, ইখলাসওয়ালা মুখলিস হওয়া, তাওয়াক্কুল আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা থাকা, ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু হওয়া, কপটতামুক্ত সরলমনা হওয়া, বিনয়ী হওয়া, সুমিষ্টভাষী হওয়া, ভদ্র ও মার্জিত রুচিসম্মত হওয়া, দূরদর্শী হওয়া, সব বিষয়ে মতামত না দেওয়া বা কোনো বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য না করা, নিজের বিদ্যা ও পাণ্ডিত্য জাহির না করা, হিকমতের সঙ্গে কথা বলা, প্রয়োজনমতো কোরআনের আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করা, সহিহ কাহিনি বলা, উদ্ধৃতি যেন নির্ভুল হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা, শব্দ–বাক্য ও উচ্চারণ শুদ্ধ হওয়া, তাজবিদসহ বিশুদ্ধ তিলাওয়াত করা, গ্রামারসহ আরবি পাঠ করা, কথায় ও কাজে মিল থাকা, উম্মতের ইসলাহ তথা সংশোধন ও কল্যাণকামিতার মনোভাব থাকা, ইতিবাচক কথা ও আশার বাণী শোনানো এবং নিয়ত সহিহ থাকা। হাদিয়া দেওয়া ও নেওয়া সুন্নত। তবে ওয়াজ করে তার বিনিময় গ্রহণ না করাই উত্তম। এতে এর সুফল বা প্রভাব কমে যায়। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অনুসরণ করো তাদের, যারা তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চায় না এবং যারা সৎপথপ্রাপ্ত।’ (আল কোরআন, পারা: ২৩, সূরা: ইয়াসিন, আয়াত: ২১)।
ধর্মীয় সেবা দিয়ে পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ হলেও তা উত্তম নয়। তাই সামর্থ্যবানদের জন্য তা পরিহার করাই শ্রেয়। এটাই ইখলাস ও তাকওয়ার উচ্চ স্তর। নবী-রসুলগণ দাওয়াতি কাজের শেষে সাধারণত এভাবেই বলতেন, ‘আমি তোমাদের নিকট এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না; আমার পুরস্কার তো জগৎসমূহে

যে ২টি জিনিস না থাকলে কুরবানি কবুল হবে না
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। শুধু ইবাদতই নয় বরং আল্লাহর ভালোবাসার অনন্য নজির স্থাপনের অন্যতম আমল। যে কোনো ইবাদত ও আমলের জন্য ২টি জিনিস খুবই জরুরি। যা না হলে কোনো ইবাদতই কবুল হবে না। কুরবানির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য। কী সেই ২টি বিষয়; যা না হলে কুরবানি হবে না?

কুরআন-সুন্নায় এ কথাটি প্রমাণিত যে, কোনো আমলই নেক, সালেহ বা ভালো হয় না; কিংবা আল্লাহর কাছে কবুল বা নৈকট্যদানকারীও হয় না; যতক্ষণ না তাতে দু’টি শর্ত পূরণ হয়। তাহলো-


১. ইখলাস

কুরবানি হতে হবে শুধু আল্লাহর জন্য। লোক দেখানোর জন্য, গোশত খাওয়ার জন্য। সুনাম-সুখ্যাতির জন্য যত বড়, সুন্দর ও দামি পশুই জবাই করা হোক না কেন, তাতে ইখলাস না থাকলে এ কুরবানি আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। অর্থাৎ কুরবানি হতে হবে খাঁটিভাবে আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তা না হলে এ কুরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। যার প্রমাণ হলো- হাবিল এবং কাবিলের কুরবানি। আল্লাহ তাআলা কুরবানি কবুল হবে কার তা এভাবে উল্লেখ করেছেন-

إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ

অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহ তো মুত্তাকি (পরহেজগার ও সংযমীদের) কুরবানিই কবুল করে থাকেন।ক` (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৭)


অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা কুরবানি কবুল হওয়ার বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট করেছেন এভাবে-

لَن يَنَالَ اللهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ

অর্থ : `আল্লাহর কাছে কখনোও ওগোলোর (কুরবানির পশুর) গোশত পৌঁছে না এবং রক্তও না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের (মানুষের অন্তরের) তাকওয়া (সংযমশীলতা); এভাবে তিনি ওগুলোকে (কুরবানির পশুগুলোকে) তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। এই জন্য যে, তিনি তোমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন। আর তুমি সুসংবাদ দাও সৎকর্মশীলদেরকে।` (সুরা হজ : আয়াত ৩৭)

২. আল্লাহ ও তার রাসুলের বিধি-বিধান অনুসরণ করা

আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিধি-বিধান অনুসরণ করা ছাড়া কোনোভাবেই কুরবানিসহ কোনো ইবাদত, আমলই কবুল হবে না। বিষয়টি আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে এভাবে তুলে ধরেছেন-

فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَّلاَ يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدا

অর্থ : যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে; সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।` (সুরা কাহফ : আয়াত ১০)

সুতরাং যারা কুরবানি করবেন, তাদের কুরবানি কবুল হওয়ার জন্য এ দুইটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। যারা শুধু বছরজুড়ে এ পশু জবাইয়ের গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরবানি দেয়; তাদের কুরবানিও গ্রহণযোগ্য হবে না।

পাশাপাশি সমাজে সুনাম বৃদ্ধি কিংবা আত্ম-মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে মোটা-তাজা ও সুন্দর গুরু কিনে দিয়ে কুরবানি দিলেও তা কবুল হবে না। যারা এমনটি করবে, তাদের পশু জবাই যে, ইবাদত ও কুরবানির আমল নয়; এটি সুস্পষ্ট।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরবানির জন্য একনিষ্ঠ নিয়ত ও কুরআন-সুন্নাহর বিধি-বিধান মেনে তাঁরই সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জনের তাওফিক দান করুন। হাদিসের আমল নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডিজিটাল স্কেলে ওজন করে গরু-ছাগল বিক্রি করা জায়েজ?
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : রাজধানী ঢাকার কোরবানির হাটগুলোতে ইদানীং জীবিত পশুর ওজন মাপার জন্য বসানো হয়েছে ওজন মাপার ডিজিটাল স্কেল। এসব স্কেলের এক পাশ দিয়ে গরু বা ছাগল প্রবেশ করিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখে আরেক পাশ দিয়ে বের করা হয়। এতে স্কেলে ওই পশুটির ওজন পরিমাপ হয়ে যায়।

পশু কেনাবেচায় ক্রেতা-বিক্রেতার মূল্য নির্ধারণের সন্দেহ দূর করার জন্যই এ স্কেল বসানো হয়েছে। ছোট সাইজের গরু কেজিপ্রতি ৩০০-৩২০ টাকা দরে আর বড় ও সুন্দর আকৃতির গরু ৩৫০-৪০০ টাকা দরে বিক্রির চুক্তি হওয়ার পর ওজন মাপার স্কেলে উঠানো হয় এবং এতে সর্বমোট কেজির সংখ্যা ও তার দাম বেরিয়ে আসে। তাই যারা গরু বিক্রি করেন তারাও বিক্রির সময় গরুর ওজন দেখেন, আর যারা কেনেন তারাও ওজন দেখে নেন।

এখন প্রশ্ন হলো— শরিয়তের দৃষ্টিতে এভাবে জীবন্ত গরু-ছাগল ওজন করে বিক্রি করা বৈধ হবে কিনা?

ফিকহে হানাফির পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে যদিও জীবন্ত পশু ওজন করে বিক্রিকে নাজায়েজ বলা হয়েছে; কিন্তু পরবর্তী সময় হাঁস-মুরগি ওজন করে বিক্রির প্রচলনের কারণে মুফতিয়ানে কেরাম একে জায়েজ বলে ফতোয়া দিয়েছেন।

আর বর্তমানে জীবন্ত গরু-ছাগলও ওজন করে বিক্রির প্রচলন হয়ে গেছে, বিধায় তাও জায়েজ হবে। উপরন্তু এ পদ্ধতিতে ক্রেতা-বিক্রেতার ধোঁকাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

এ ছাড়া আলোচ্য পদ্ধতিটি পশুর মূল্য নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া মাত্র। আগেকার কিতাবসমূহে ওই পদ্ধতিতে পশু বিক্রি নাজায়েজ বলার একটি কারণ এও ছিল যে, চুক্তির সময় পশুর নিশ্চিত চূড়ান্ত মূল্য কারওই জানা থাকে না।

কিন্তু চুক্তির মজলিসেই যখন স্কেল দ্বারা মেপে তার সঠিক পরিমাপ বের করা হয়, তখন তার পুরো মূল্যও উভয়পক্ষের জানা হয়ে যায়। আর এতে তাদের মাঝে কোনোরূপ ঝগড়া সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বাকি থাকে না।

জুমআর নামাজ পড়ার নিয়ম
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মুসলমানদের ইবাদতের শ্রেষ্ঠ দিবস জুমআ। এ দিন উত্তমরূপে ওজু ও গোসল করে সুন্দর পোশাকে পরিপাটি হয়ে সুগন্ধি মেখে জুমআর নামাজ পড়ার মাধ্যমে আগের জুমআ থেকে বর্তমান জুমআ পর্যন্ত সংগঠিত সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। অথচ এখনও এমন অনেকেই আছেন, যারা জুমআর নামাজ পড়ার নিয়মই জানে না। কীভাবে আদায় করবেন জুমআ?

সঠিক নিয়মে নামাজ পড়ার ফজিলত
সুন্নাতের অনুসরণে ‍জুমআ আদায়ের সাওয়াব ও ফজিলত অনেক বেশি। হাদিসে এসেছে- জুমার দিন যে ব্যক্তি গোসল করে প্রথম ভাগে পায়ে হেঁটে মসজিদে যায়, ইমামের খুব কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবাহ শোনে, কোনো কিছু নিয়ে খেল-তামাশা করে না, ওই ব্যক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন এবং সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সাওয়াব। সুবহানাল্লাহ!

জুমআর নামাজ দুই রাকাআত
জুমআর নামাজের আগে দুইটি খুতবাহ মনোযোগ সহকারে শোনার পর ইমামের সঙ্গে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা। এদিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে দুই রাকাআত জুমআর নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানদের উপর ফরজ।

জুমআর নামাজের ওয়াক্ত
জুমআর দিন জোহরের ওয়াক্তে এ নামাজ পড়তে হয়। জুমআ পড়ার জন্য মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামআতের সঙ্গে পড়তে হয়।

জুমআর নামজের জন্য প্রস্তুতি
জুমআর দিন দুপুরের আগে গোসল করে পরিষ্কার পোশাক পরে সুগন্ধি/তেল ব্যবহার করে আজানের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে উপস্থিত হওয়া।

মসজিদে অবস্থান
মসজিদে গিয়ে বসার আগেই দুই রাকাআত দুখুলুল মসজিদ আদায় করা। অনেকেই নামাজ শুরু হওয়ার আগে দুখুলুল মসজিদ ২ রাকাআত, তাহিয়্যাতুল ওজু ২ রাকাআত, কাবলাল জুমআ ৪ রাকাআত নামাজ পড়ে থাকেন। সুযোগ থাকলে খুতবাহর আগে এ নামাজগুলো পড়ে নেওয়া। তবে তবে এই নামাজগুলো জুমআর নামাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

খুতবাহ শোনা
ইমাম মিম্বারে ওঠলে মনোযোগের সঙ্গে খুতবাহ শোনা। ইমাম দুইটি খুতবাহ দেবেন। প্রথম খুতবায় নসিহত দেবেন। দ্বিতীয় খুতবার সময় অনেক দোয়া করা হয়। এ সময় ইমামের দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমিন বলা।

জুমআর নামাজ পড়া
অতঃপর জুমআর নামাজ পড়ার জন্য মুয়াজ্জিন খুতবা দেওয়া শুরু করলে নামাজের জন্য দাঁড়ানো। অনেকেই খুতবাহ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইমাম মিম্বার থেকে নামার আগেই নামাজের জন্য দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দেন। এমনটি কোনোভাবেই করা যাবে না। এটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।

এভাবে ইমামের সঙ্গে দৃঢ়স্থিরভাবে জুমআর দুই রাকাআত নামাজ আদায় করা। জুমআর নামাজের সালাম ফেরানোর পর নিয়মিত তাসহিব ও আমল করা।

জুমআর নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা না করা। বরং মসজিদে নামাজে অংশগ্রহণকারী অন্য কারো ইবাদত-বন্দেগিতে সমস্যা হয় এমন আওয়াজ ও কাজ না করা।

উল্লেখ্য, জুমআর দিনের সুন্নাত কাজগুলো সুন্দরভাবে সম্পাদন করা জরুরি। আর তাতে রয়েছে রহমত ও বরকত। এ দিন আসর থেকে মাগরিবের ইবাদত ও মসজিদে অবস্থান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা যথাযথভাবে আদায় করলে আল্লাহ তাআলা ইবাদতকারীর দোয়া কবুল করে নেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথভাবে জুমআর নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। জুমআর দিনের ফজিলত ও মর্যাদা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আল্লাহ যাদের রিজিক সম্প্রসারিত করেন
                                  

মাহমুদ আহমদ

হালাল উপার্জন এবং হালাল ভক্ষণের মাঝে যে প্রশান্তি তা অন্য কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা অর্থ-সম্পদ উপার্জনের জন্য বৈধ-অবৈধ কতইনা চেষ্টা-প্রচেষ্টা করি। যার আছে সে আরো চাই, চাওয়ার আমাদের শেষ নেই।


বিশ্বজগতের সকলের রিজিকের ব্যবস্থার মালিক হলেন সৃষ্টিকর্তা। তিনি যাকে চান প্রভূত রিজিক দান করেন। আমাদের কাজ হল তার নির্দেশ অনুযায়ী পরিশ্রম করে হালাল উপার্জন করা।

যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন: ‘তুমি বল, নিশ্চয় আমার রব যার জন্য চান রিজিক সম্প্রসারিত করে দেন এবং সংকুচিতও করে দেন কিন্তু অধিকাংশ, লোক তা জানে না।’ (সুরা সাবা : আয়াত ৩৬)

রিজিকে বরকতের মালিকও আল্লাহ, আমাদের কাজ হল হালাল উপার্জনের জন্য চেষ্টা-প্রচেষ্টা করা আর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা।

হজরত মাকহুল (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এ বাক্যগুলো সাতবার বলবে আল্লাহতায়ালা তার সত্তরটি অভাব দূর করবেন। (তন্মধ্যে) সবচেয়ে হাল্কা বিপদ হলো মানুষের অভাব।

দোয়াটি হলো-‘লা হাউলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ- লা মালজায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি।’

অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং নেক আমলে মশগুল হওয়া সম্ভব না। আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তার কাছেই আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।

আমাদেরকে সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। আমরা যদি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করে কোন কাজে লেগে যাই আর দোয়া করতে থাকি তাহলে দেখবেন কোথা থেকে রিজিক আসছে তা আমরা কল্পনাও করতে পারব না।

হজরত আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অভাবে পতিত হয়, অত:পর তা সে মানুষের কাছে সোপর্দ করে তার অভাব মোচন করা হয় না। পক্ষান্তরে যে অভাবে পতিত হয়ে এর প্রতিকারে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হয় তবে অনিতবিলম্বে আল্লাহ তাকে তড়িৎ বা ধীর রিজিক দেবেন।’ (তিরমিজি )

আমাদের অভাব মোচনের জন্য চাই জাগতিকতাকে প্রাধান্য না দিয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং আল্লাহর নির্দেশ মত চলে জীবন পরিচালনা করা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি ঝামেলামুক্ত হও, আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাত ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না।’ (তিরমিজি)

অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি আমাদেরকে সর্বদা ইস্তেগফারে রত থেকে সময় অতিবাহিত করতে হবে। আমরা যদি পবিত্র হৃদয় নিয়ে ইস্তেগফার করি তাহলে আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং আমাদের রিজিকে প্রভূত বরকত দিবেন।

হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের সংস্থান করে দেবেন।’ (আবু দাউদ)

আসলে আমাদের মাঝে যখন অভাব দেখা দেয় তখন আল্লাহর দিকে ঝুকি কিন্তু অভাব দূর হওয়া মাত্রই আল্লাহকে ভুলে যাই আর কৃপণতা দেখাই।

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)কে বলতে শুনেছি তিনি ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কামনা করে তার রিজিক প্রশস্ত করে দেয়া হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বোখারি ও মুসলিম)

আসুন, রিজিক বৃদ্ধির জন্য অধিকহারে ইস্তেগফার করি এবং আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখি। দয়াময় আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন আর আমাদের রিজিকে প্রভূত বরকত দিন, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

জুমআর দিন আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ ফজিলত
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আজ শুক্রবার। মুমিন মুসলমানের সাপ্তাহিক ইবাদতের নির্ধারিত দিন। এ দিন আজানের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য রেখে মসজিদের দিকে দ্রুত যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। । শুধু সবার আগে মসজিদে যেতেই হাদিসে বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন বিশ্বনবি। জুমআর দিন সবার আগে মসজিদে গেলে বিশেষ কী সাওয়াব মিলবে?

মুসলমানদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ জুমআর দিন। বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সূর্য উঠা দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়াছে। এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনে তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। কেয়ামতও হবে এই জুমার দিনে।’ (মুসলিম, আবু দাউদ)


বিশেষ ফজিলত
জুমআর নামাজ পড়তে আগে আগে মসজিদ যাওয়ার ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি। পশু কুরবানি না করেও এ দিন কুরবানি সাওয়াব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এ দিনে। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরয গোসল করলো। অতপর-
১. প্রথমে (সবার আগে) মসজিদে গেল, সে যেন একটি উট কুরবানি করল।
২. আর যে দ্বিতীয় মুহূর্তে গেল, সে যেন একটি গরু কুরবানি করল।
৩. আর যে তৃতীয় মুহূর্তে গেল, সে যেন একটি শিংওয়ালা দুম্বা কুরবানি করল।
৪. আর যে চতুর্থ মুহূর্তে গেল, সে যেন একটি মুরগি কুরবানি করলো।
৫. আর যে পঞ্চম মুহূর্তে গেল, সে যেন একটি ডিম কুরবানি করলো।
অতপর যখন ইমাম সাহেব বের হয়ে আসেন তখন ফেরেশতাগণ জিকির শুনতে থাকেন।’ (বুখারি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জুমআর দিন কুরবানি না করেও কুরবানির সাওয়াব পেতে সবার আগে মসজিদে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত ফজিলত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জুম`আ নামাজ খুতবা পূর্বক বয়ানে ইস্তিগফারের যত ফজিলত
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : প্রত্যেক সপ্তাহে শুক্রবার জুম`আর দিন আজ ১৮ জুন ২০২১ শুক্রবার। যোহরের সময়ে জুমার নামাজ জামাতের সাথে পড়া ফরজ। জুম`আ নামাজ নিজ ঘরে একাকী পড়া যায় না। জুম`আ নামাজ আদায় খুতবা পূর্ব বয়ানে "তওবা ইস্তিগফার" নিয়ে আলোচনা। গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করার নামই ইস্তিগফার। মানুষ যতই গুনাহ করুক, মহান আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠচিত্তে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করেন। ইস্তিগফারের পার্থিব ও অপার্থিব অনেক ফজিলত আছে। নুহ (আ.)-এর দাওয়াত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন। তিনি তোমাদের সম্পদ, সন্তান দিয়ে সমৃদ্ধ করবেন এবং তোমাদের জন্য উদ্যান ও প্রবাহিত নদ-নদী স্থাপন করবেন।’ (সুরা : নুহ, আয়াত : ১০-১২) অতীত ও বর্তমানের তাওবা : প্রকৃত ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে তাওবা সম্পন্ন হয়। এর একটি অপরটির পরিপূরক। আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, দুই ধরনের গুনাহ আছে। এক ধরনের গুনাহ অতীতে সংঘটিত হয়েছে। এর ইস্তিগফার হলো, গুনাহর অনিষ্টতা থেকে পরিত্রাণ চাওয়া। আরেক ধরনের গুনাহ, যা ভবিষ্যতে হওয়ার আশঙ্কা আছে। এর তাওবা হলো, তা আগামী দিনে না করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করা। তা ছাড়া তাওবার মাধ্যমে অগাধ কল্যাণ লাভ হয়। (মাদারিজুস সালিকিন : ১/৩০৮)

ইস্তিগফার সব সময়ের আমল : মানুষ যেকোনো সময় পাপ করতে পারে। তাই সর্বদা ইস্তিগফার করা চাই। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আমার বান্দারা, তোমরা রাতে-দিনে পাপাচারে লিপ্ত থাকো। আমি তোমাদের সবার গুনাহ ক্ষমা করি। অতএব তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করব।’ (মুসলিম) ক্ষমা প্রার্থনার পুরস্কার জান্নাত : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে অগ্রসর হও এবং ওই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আকাশ ও পৃথিবীর মতো, যা তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যারা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছে। তা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা প্রদান করেন।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২০) আল্লাহ ক্ষমা প্রার্থনাকারীকে ভালোবাসেন : মানুষ আল্লাহর অবাধ্য হয়ে পাপ করতে পারে। তবে পাপকাজ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা সবার জন্য জরুরি। অপর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘ওই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, যদি তোমরা গুনাহ না করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের নিয়ে যাবেন এবং এমন জাতি আনবেন, যারা গুনাহ করবে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর তিনি তাদের ক্ষমা করবেন।’ (মুসনাদে আহমদ ও মুসলিম) ক্ষমা প্রার্থনার সঙ্গে চাই দৃঢ়তা : আল্লাহর সব ধরনের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেও মুমিনরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের একমাত্র কথা ছিল, হে আমাদের রব, আমাদের পাপ ও আমাদের কাজের সীমা লঙ্ঘন তুমি ক্ষমা করো, আমাদের সুদৃঢ় রাখো এবং কাফিরদের বিপক্ষে আমাদের সহায়তা করো।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৪৭) রাতের শেষভাগে ক্ষমা প্রার্থনা : আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সর্বোত্তম সময় হলো রাতের শেষভাগ। শেষরাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুত্তাকিরা ওই দিন প্রস্রবণবিশিষ্ট জান্নাতে অবস্থান করবে। তাদের রব প্রদত্ত সব নিয়ামত তারা উপভোগ করবে। কারণ পার্থিব জীবনে তারা সৎকর্মশীল ছিল। তারা রাতের খুব অল্প অংশ ঘুমাত। তারা শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করত।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৫-১৮) ক্ষমা চাইতেন নবীজি (সা.) : আল্লাহ নবীজি (সা.)-এর জীবনের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়ার পর এবং তাকে সব ধরনের ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে রাখার পরও রাসুল (সা.) প্রতিদিন অসংখ্যবার ইস্তিগফার করেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘আমি প্রতিদিন একশত বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) আল্লাহ সবাইকে ক্ষমা প্রার্থনা করার তাওফিক দিন। আমিন।

কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে কী করবেন?
                                  

ধর্ম ডেস্ক : কুরবানি মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম ইবাদত। এ ইবাদতে অংশগ্রহণ করতে চাইলে কুরবানির মাস জিলহজের শুরু থেকেই বেশ কিছু করণীয় ও বর্জনীয় কাজ রয়েছে। অনেকে ইসলামিক স্কলাররা করণীয় কাজগুলোকে ওয়াজিব আর বর্জনীয় কাজগুলোকে হারাম বলেছেন।

কুরবানি করার ইচ্ছাপোষণকারী ব্যক্তির জন্য সুন্নাহ থেকে এ কথাগুলো (করণীয়) প্রমাণিত, যে ব্যক্তি কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছা বা সংকল্প করেছে তার জন্য ওয়াজিব হলো- জিলহজ মাস প্রবেশের (শুরু হওয়ার) সঙ্গে সঙ্গে কুরাবানির (দিন) পশু জবেহ না করা পর্যন্ত সে যেন তার দেহের কোনো লোম বা চুল, নখ ও চর্মাদি না কাটে। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখবে এবং তোমাদের মধ্যে কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করবে, তখন সে যেন কুরবানি না করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ (কাটা) হতে বিরত থাকে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে- ‘সে যেন তার (মরা বা ফাটা) চামড়ার কিছুও স্পর্শ না করে।’ (মুসলিম)


কুরবানি দাতার জন্য জিলকদ (চলতি) মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই এ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। কারণ আরবি মাসগুলো ২৯ ও ৩০ দিনে হয়। তাই মাসের শেষ দিকে নতুন (জিলহজ) মাস শুরু হওয়ার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। কারো ক্ষুরকর্ম বাকি থাকলে জিলকদ মাসের শেষ দিকে সম্পন্ন করাই উত্তম।

মনে রাখতে হবে
কুরবানি করার ইচ্ছা আছে তারপরও যদি কেউ জেনে-শুনে ইচ্ছা করেই চুল-নখ কাটে, তবে তার জন্য জরুরি যে, সে যেন আল্লাহর কাছে ইসতেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করে। তবে তার জন্য কোনো কাফফারা নেই। সে স্বাভাবিকভাবেই কুরবানি করবে।

একান্ত প্রয়োজনে...
কুরবানি করার ইচ্ছাপোষণকারীর নখ, চুল কিংবা চামড়া কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তা কেটে ফেলায়ও কোনো দোষ নেই।

কুরবানির করার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু…
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার আগে কুরবানি করার ইচ্ছা বা সামর্থ্য ছিল না; ওই অবস্থায় কেউ জিলহজ মাসে চুল-নখ বা চামড়া কেটে ফেলল। তারপর কুরবানি করার ইচ্ছা পোষণ করে; তখন থেকে তারপর থেকে কুরবানির আগ পর্যন্ত তা আর কাটবে না।


অসিয়তকারী ব্যক্তি…
কুরবানি করার জন্য যদি কেউ কাউকে দায়িত্ব দেয় কিংবা অসিয়ত করে তবে ওই দায়িত্ব দেওয়া বা অসিয়ত করা ব্যক্তিও নখ-চুল কাটবে না। অবশ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য এ করণীয় মেনে চলার প্রয়োজন নেই।

ঠিক এভাবে...
যারা কুরবানি করবেন, তাদের স্ত্রী, পুত্র কিংবা আত্মীয়দের মধ্যে যারা কুরবানি করবে না; তারাও এ নিষেধাজ্ঞায় শামিল হবে না। তাদের চুল-নখ কিংবা চামড়া কাটতে কোনো বাধা নেই। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ বংশধরের তরফ থেকে কুরবানি করতেন অথচ তিনি তাদের নখ-চুল কাটতে নিষেধ করেছেন বলে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।

সুতরাং কুরবানি করতে আগ্রহীরা জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার আগেই প্রয়োজনীয় চুল-নখ কেটে পরিচ্ছন্ন হবেন। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে পশু জবেহ করার পর্যন্ত সুন্নাতের উপর যথাযথ আমল করবেন।

ইমাম খােমেনী (রহ.)-কে স্মরণ ৩২তম জান্নাতগমন বার্ষিকীতে
                                  

মাে. হুমায়ুন কবির

ইমাম খােমেনী বিংশ শতাব্দীতে
ইরানে ইসলামী বিপ্লবের রূপকার
৩২তম জান্নাতগমন বার্ষিকীতে
সারা দুনিয়া প্রভাব দেখে তার।

ইসলামী বিপ্লব সফলের পরে
ইয়াসির আরাফাতকে ডাকেন ঘরে
ইসরাইলী দূতাবাস বন্ধ করে
তথায় প্যালেস্টাইন দূতাবাস গড়ে।

আজ অবরুদ্ধ ছােট্ট গাজায়
বিপ্লবের প্রভাব দেখা যায়
দৃঢ় প্রতিরোধের দীপ্ত প্রভায়
সারা দুনিয়ায় আলাে ছড়ায়।

আল্লাহু আকবার ধ্বনির তােড়ে
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর পতাকা ওড়ে
অবরুদ্ধ গাজীর আকাশ জুড়ে
আতংকে ইসরাইল মৃত্যুপুরে।

সেদিন খুব বেশী দূরে নয়
ইসরাইল বরণ করবে পরাজয়
পবিত্র আল-কুদস হবে বিজয়
ইমাম খােমেনীর হাতের ছোঁয়ায়।


   Page 1 of 16
     ইসলাম
ঈদুল আজহা পালন ও কোরবানি হবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশে: আমরা মনের পশুত্ব কোরবানি দেই
.............................................................................................
কুরবানির পশু চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে কী করণীয়
.............................................................................................
কাবা শরিফে পরানো হয়েছে স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ
.............................................................................................
কুরবানির বিকল্প কোনো ইবাদত নেই
.............................................................................................
যেসব আমলে কোরবানির সমান সওয়াব
.............................................................................................
চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২১ জুলাই
.............................................................................................
যেসব কারণে জুমআর দিনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বেশি
.............................................................................................
দাওয়াতের অন্যতম পথ ওয়াজ মাহফিল
.............................................................................................
যে ২টি জিনিস না থাকলে কুরবানি কবুল হবে না
.............................................................................................
ডিজিটাল স্কেলে ওজন করে গরু-ছাগল বিক্রি করা জায়েজ?
.............................................................................................
জুমআর নামাজ পড়ার নিয়ম
.............................................................................................
আল্লাহ যাদের রিজিক সম্প্রসারিত করেন
.............................................................................................
জুমআর দিন আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ ফজিলত
.............................................................................................
জুম`আ নামাজ খুতবা পূর্বক বয়ানে ইস্তিগফারের যত ফজিলত
.............................................................................................
কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে কী করবেন?
.............................................................................................
ইমাম খােমেনী (রহ.)-কে স্মরণ ৩২তম জান্নাতগমন বার্ষিকীতে
.............................................................................................
মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত
.............................................................................................
ঋণমুক্ত হওয়ার আমল
.............................................................................................
বিপদগ্রস্ত মুসলিমের পাশে দাঁড়ানো কর্তব্য
.............................................................................................
হজ ব্যবস্থাপনার নতুন আইন পাসের সুপারিশ
.............................................................................................
আজান ও ইকামাত ছাড়া মসজিদে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সৌদি আরব
.............................................................................................
জান্নাতের পথে বাধা সৃষ্টি করবে যেসব কাজ
.............................................................................................
ঈদের দিনের বিশেষ ৯ আদব
.............................................................................................
প্রেরণার উৎস বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)
.............................................................................................
প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য
.............................................................................................
শবে কদরের বরকত লাভে ৪ আমল
.............................................................................................
আজ দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর
.............................................................................................
জুমাতুল বিদায় মুসল্লিদের আমীন! আমীন! ধ্বনি
.............................................................................................
করোনা থেকে মুক্তি পেতে জুমাতুল বিদায় বিশেষ দোয়া
.............................................................................................
করোনা থেকে পরিত্রাণ পেতে জুমাতুল বিদায় বিশেষ দোয়া
.............................................................................................
‘শবে কদর’ হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী
.............................................................................................
পবিত্র কাবার হাজরে আসওয়াদের স্বচ্ছ ছবি প্রকাশ
.............................................................................................
রমজান মাসেও পাপ মোচন না হওয়া চরম দুর্ভাগ্যজনক
.............................................................................................
নারীরা কোথায় এবং কীভাবে ইতিকাফ করবেন
.............................................................................................
বছরের মাঝে সম্পদ কমে গেলে জাকাত দিতে হবে?
.............................................................................................
রোজা মোমেনদের জন্য ঢালস্বরূপ হেদায়েত পুর্ণ সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন
.............................................................................................
ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ
.............................................................................................
পুণ্য অর্জনের অফুরন্ত সুযোগের পবিত্র মাহে রমজান মাস
.............................................................................................
যেসব নিয়ম-কানুন মেনে পালন করা যাবে এবারের ওমরাহ
.............................................................................................
ইদুল ফিতরের জামাত নিয়ে সিদ্ধান্ত আগামীকাল
.............................................................................................
যেসব কারণে রমজানে কোরআন তেলাওয়াত গুরুত্বপূর্ণ
.............................................................................................
রোজা কবুল হওয়ার জন্য ৬ আমল
.............................................................................................
ক্ষমার দশকের প্রথম তারাবিহ পড়া হবে আজ
.............................................................................................
বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী, এই রমজান মাসে যার জন্ম
.............................................................................................
এ বছরের জনপ্রতি ফিতরা নির্ধারণ
.............................................................................................
রোজাদারের জন্য ১০টি সুসংবাদ!
.............................................................................................
রোজাদারের জন্য আল্লাহর বিশেষ পুরস্কার
.............................................................................................
সৌদি আরবে ওমরায় বিদেশীদের মানতে হবে যে নিয়ম
.............................................................................................
ইফতারে দেরি না করার পুরস্কার ও ফজিলত
.............................................................................................
চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop