| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * খিলক্ষেতে ক্রেনের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত   * চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি, বেড়েছে মাছ-মুরগি-চিনির দাম   * বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের দ্বিগুণ: আইএইচএমই   * দৌলতদিয়ায় ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়   * স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই গণপরিবহনে, চলছে আন্তঃজেলা বাসও   * উন্নত দেশগুলোর চেয়ে একাই বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস ছড়ায় চীন   * জার্মানিতে একদিনে ১০ লাখ মানুষের টিকা গ্রহণ   * করোনা থেকে মুক্তি পেতে জুমাতুল বিদায় বিশেষ দোয়া   * মাস্ক পরা নিয়ে সরকারের ৮ নির্দেশনা   * বাংলাদেশ ১০ হাজার রেমডেসিভির দিল ভারতকে  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
করোনা থেকে মুক্তি পেতে জুমাতুল বিদায় বিশেষ দোয়া

মিয়া আবদুল হান্নান : আজ রমজান মাসের শেষ জুমা। পবিত্র জুমাতুল বিদা। এ দিনকে ইবাদতের মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিন জুমা আদায়ের জন্য এলাকার মসজিদে আগেভাগে গিয়ে উপস্থিত হন মুসল্লিরা।

নামাজে শরিক হতে আগেভাগেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে প্রবেশ করেন মুসল্লিরা। এরপরই ইমাম সাহেবের সংক্ষিপ্ত বয়ানে আবারও মনে করে দেওয়া হয় স্বাস্থ্যবিধির কথা।

নামাজ আদায়ের পর আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দেশের মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া করা হয় ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব হতে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের সকল মানুষের সুরক্ষা, অসুস্থদের দ্রুত আরোগ্য লাভ, মহামারি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির জন্য।

নামাজ শেষে এক মুসল্লি বলেন, সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে। করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্ব। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি। তিনি যেন আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দেন, রক্ষা করেন। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করে দেন।

করোনা মহামারি থেকে রক্ষা দেশের অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্ম মতে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ দেখেছে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যু আর লকডাউননের কঠোর বিধিনিষেধ।

প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ মে) দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪১ জন। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এটি সবচেয়ে কম মৃত্যু। এর আগে গত ৩০ মার্চ ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭৯৬ জনে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮২২ জনের দেহে। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৬০ জনে।

এছাড়া বুধবার (৫ মে) দেশে করোনায় ৫০ জন মারা যান, আর নতুন করে শনাক্ত হয় ১ হাজার ৭৪২ জন।

করোনা থেকে মুক্তি পেতে জুমাতুল বিদায় বিশেষ দোয়া
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আজ রমজান মাসের শেষ জুমা। পবিত্র জুমাতুল বিদা। এ দিনকে ইবাদতের মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিন জুমা আদায়ের জন্য এলাকার মসজিদে আগেভাগে গিয়ে উপস্থিত হন মুসল্লিরা।

নামাজে শরিক হতে আগেভাগেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে প্রবেশ করেন মুসল্লিরা। এরপরই ইমাম সাহেবের সংক্ষিপ্ত বয়ানে আবারও মনে করে দেওয়া হয় স্বাস্থ্যবিধির কথা।

নামাজ আদায়ের পর আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দেশের মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া করা হয় ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব হতে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের সকল মানুষের সুরক্ষা, অসুস্থদের দ্রুত আরোগ্য লাভ, মহামারি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির জন্য।

নামাজ শেষে এক মুসল্লি বলেন, সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে। করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্ব। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি। তিনি যেন আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দেন, রক্ষা করেন। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করে দেন।

করোনা মহামারি থেকে রক্ষা দেশের অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্ম মতে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ দেখেছে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যু আর লকডাউননের কঠোর বিধিনিষেধ।

প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ মে) দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪১ জন। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এটি সবচেয়ে কম মৃত্যু। এর আগে গত ৩০ মার্চ ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭৯৬ জনে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮২২ জনের দেহে। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৬০ জনে।

এছাড়া বুধবার (৫ মে) দেশে করোনায় ৫০ জন মারা যান, আর নতুন করে শনাক্ত হয় ১ হাজার ৭৪২ জন।

করোনা থেকে পরিত্রাণ পেতে জুমাতুল বিদায় বিশেষ দোয়া
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : করোনাভাইরাস মহামারি থেকে পরিত্রাণ পেতে আগামীকাল শুক্রবার (৭ মে) পবিত্র জুমাতুল বিদার নামাজ শেষে সারাদেশে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৬ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। করোনাভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব থেকে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের সব মানুষের সুরক্ষা, অসুস্থদের দ্রুত আরোগ্য লাভ, মহামারি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে ২৪ রমজান ১৪৪২ হিজরি (৭ মে, ২০২১) পবিত্র জুমাতুল বিদার নামাজ শেষে দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য দেশের সব মসজিদের সম্মানিত খতিব, ইমাম, মুসুল্লি ও মসজিদ কমিটিকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একই উপলক্ষে দেশের অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্ম মতে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

‘শবে কদর’ হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ মর্যাদার এক রাত শবে কদর। কুরআনের ভাষায় এটিকে ‘লাইলাতুল কদর’ বলা হয়। এ রাতের মর্যাদায় আল্লাহ তাআলা একটি সুরা নাজিল করেছেন। আর এ রাতেই আল্লাহ তাআলা মানুষের মুক্তির সনদ আল-কুরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। এ রাত ও কুরআন নাজিল প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন-
‘নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কী জান? শবে কদর হলো- এক হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। শান্তি আর শান্তি, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত (নাজিল হতে) থাকে।’ (সুরা আল-কদর)

মর্যাদার এ রাতে কুরআন নাজিল ও এর বরকত সম্পর্কে সুরা দুখানে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন এভাবে-
‘শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি একে (কুরআন) নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় (লাওহে মাহফুজ থেকে ফেরেশতাদের কাছে) স্থিরিকৃত হয়। আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা দুখান : আয়াত ২-৬)

মর্যাদার এ রাত সম্পর্কে হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোনাহ মাফের কথা উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সাওয়াবের আশায় রাত লাইলাতুল কদর তথা (মর্যাদার নির্ধারিত রাত) জেগে ইবাদাত করে, তার বিগত জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (বুখারি)

কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বুঝা যায়, ‘লাইলাতুল কদর’ মর্যাদার একটি রাত। মর্যাদার এ রাতটি পেলে কী দোয়া পড়তে হবে, সে সম্পর্কেও এসেছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। অন্য হাদিসে এসেছে-
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- ‘হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন রাতে ‘লাইলাতুল কদর’ হবে, তা যদি আমি জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো? আপনি বলে দিন-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

তবে কোন দিন বা তারিখে আসে এ রাত?
মর্যাদার এ রাতটি কবে হবে তা সুস্পষ্ট বা নির্দিষ্ট করে বলার বা জানার কোনো সুযোগ নেই। তবে এ কথাটি সুস্পষ্ট যে, তা রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় যে কোনো রাতে হবে। সে আলোকে তা হবে- ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাত। অর্থাৎ ২০ রমজান দিবাগত রাত, ২২ রমজান দিবাগত রাত, ২৪ রমজান দিবাগত রাত, ২৬ রমজান দিবাগত রাত এবং ২৮ রমজান দিবাগত রাত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতেও হাদিসে পাকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এভাবে-
> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের শেষ ১০ দিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’ (বুখারি)
> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর।’ (বুখারি)

২৭ রমজান শবে কদর
তবে কেউ কেউ শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে ২৭ রমজান ‘লাইলাতুল কদর’ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কেও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদিসে এসেছে-
হজরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কদরের রাত অর্জন করতে ইচ্ছুক, সে যেন তা ২৭ রমাজনের রাতে অনুসন্ধান করে।’ (মুসনাদে আহমাদ)

অন্য যে রাতগুলোও সম্ভাবনাময়
২৭ রমজানের রাত ছাড়া লাইলাতুল কদর পাওয়ার বেশি সম্ভাবনাময় রাতগুলো হলো-
> ২৫ রমজানের রাত।
> ২৯ রমজানের রাত।
> ২১ রমজানের রাত।
> ২৩ রমজানের রাত।

লাইলাতুল কদরের বিশেষ নিদর্শন
> রাতটি বেশি অন্ধকার হবে না।
> গরম ও শীতের তীব্রতা থাকবে না। অর্থাৎ সুন্দর শান্তিদায়ক আবহাওয়া বিরাজ করবে।
> মৃদু শীতল (বসন্তের) বাতাস প্রবাহিত হবে।
> সে রাতের ইবাদতে মানুষ বিশেষ তৃপ্তি অনুভব করবে। যা অন্য রাতের ইবাদতে অনুভূত হয় না।
> প্রকৃত ঈমানদার রোজাদার স্বপ্নে তা জানতে পারবে।
> সে রাতে রহমতের বারিধারায় (বৃষ্টিতে) সিক্ত হবে জমিন।
> পূর্ণিমার চাঁদের মতো হালকা আলোক রষ্মিসহ সূর্য উদয় হবে।’ (ইবনে খুযায়মাহ, বুখারি, মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মর্যাদার রাত লাইলাতুল কদর দান করুন। এ রাতে বরকত ও কল্যাণে মুমিন বান্দার বিগত জীবনের গোনাহ মাফ করে দিন। পরবর্তী পুরো বছরের কল্যাণ বরকত ও উত্তম রিজিকে পরিপূর্ণ করে দিন। আমিন।

পবিত্র কাবার হাজরে আসওয়াদের স্বচ্ছ ছবি প্রকাশ
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ মসজিদুল হারামে অবস্থিত হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরের সবচেয়ে স্বচ্ছ ছবি তুলেছে সৌদি কর্মকর্তারা। ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে সম্মানিত স্থান পবিত্র কাবা ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে স্থাপিত হাজরে আসওয়াদ। এসময় মাকামে ইবরাহিমের ছবিও তোলা হয়। 

সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদ পরিচালনা পর্ষদ জানায়, ৪৯ হাজার মেগাপিক্সেলের এই ছবিগুলো তুলতে ৭ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এসময় ফক্স স্ট্যাক প্যানোরামা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক হাজার ৫০টি ছবি তোলা হয়। প্রায় ৫০ ঘণ্টা সময় ব্যয়ে তা ব্যবহারযোগ্য করা হয়। 

 

Detailed Pictures of Maqam e Ibrahim (Station of Abraham) taken recently. pic.twitter.com/4w7U8MgSuK

— Haramain Sharifain (@hsharifain) May 5, 2021

 

হাদিসে বর্ণিত জান্নাতি পাথরটি পবিত্র কাবা ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত। ৩০ সেন্টিমিটার ব্যাসরেখার কালো ও লালচে বর্ণের পাথরটি ডিম্বাকৃতির। 

কালো পাথরটি ভূমি থেকে দেড় মিটার ওপরে অবস্থিত। সুরক্ষার জন্য খাঁটি রৌপ্য দিয়ে তৈরি ফ্রেমের ভেতর তা রাখা হয়। তাছাড়া হাজরে আসওয়াদ তাওয়াফের শুরু এবং সমাপ্তিস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

প্রকল্প ও প্রকৌশল বিভাগের সেক্রেটারি সুলতান বিন আতি আল কুরাশি বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ কালো পাথরের প্রযুক্তিগত ও প্রকৌশলগত দিক পর্যালোচনার জন্য পাথরের বিস্তারিত বিবরণ সংরক্ষণ করে এবং থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে তা প্রিন্ট করা হয়। 

হাজরে আসওয়াদের মর্যাদা
ইসলামে হাজরে আসওয়াদ একটি ঐতিহাসিক পাথর। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘জান্নাত থেকে আনার পর হাজরে আসওয়াদ ধবধবে সাদা ছিল। অতঃপর আদম সন্তানের গুনাহে তা কালো বর্ণ ধারণ করে`। (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ৮৭৭, মুসনাদে আহমদ, হাদিস নম্বর : ২৭৯২)

আরেক হাদিসে এসেছে, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, `আল্লাহর শপথ, আল্লাহ তা`আলা কেয়ামতের দিন পাথরটি পুনরুত্থান করবেন। সে দুই চোখ দিয়ে দেখবে। নিজের জিহ্বা দিয়ে কথা বলবে। তখন যারা তাকে চুমু দিয়েছিল তাঁদের জন্য দোয়া করবে`। (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ৯৬১, ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর : ২৯৪৪) 

জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) মক্কায় এসে হাজরে আসওয়াদের কাছে আসেন। অতঃপর তা স্পর্শ করে এর ডান দিকে হাঁটা শুরু করেন। তিন বার হালকা দৌঁড়ান ও চার বার হাঁটেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর : ১২১৮)
সূত্র : সৌদি গেজেট

রমজান মাসেও পাপ মোচন না হওয়া চরম দুর্ভাগ্যজনক
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ রাসুল (সা.)-এর তিনটি বদদোয়া : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী (সা.) মিম্বারে উঠলেন এবং বলেন—আমিন, আমিন, আমিন। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি মিম্বারে উঠছিলেন এবং বলছিলেন, আমিন, আমিন, আমিন। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই জিবরাইল আমার কাছে এসেছিল। সে বলল, যে রমজান পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, সে জাহান্নামে যাবে এবং আল্লাহ তাকে দূরে সরিয়ে দেবেন—বলুন আমিন। আমি বললাম আমিন, যে তার মা-বাবা উভয়কে পেল অথবা তাদের একজনকে পেল অথচ তাদের মাধ্যমে সে পুণ্যের অধিকারী হতে পারল না এবং সে মারা গেল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহ তাকে দূরে সরিয়ে দেবেন—বলুন আমিন। আমি বললাম আমিন, যার কাছে আপনার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করল না এবং মারা গেল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং আল্লাহ তাকে দূরে সরিয়ে দেবেন—বলুন আমিন। আমি বললাম আমিন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ১৮৮)

রমজান পাপ পরিহার করার মাস : আল্লাহ তাআলা রমজান মাসে সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩)

আর আল্লাহভীতির মূলকথা হলো গুনাহ ও পাপ থেকে বেঁচে থাকা। এ জন্যই রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও তদনুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি, তার এই পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮০৪)

অপর হাদিসে এসেছে, ‘অনেক রোজাদার এমন আছে, যাদের রোজা পালনের সার হলো তৃষ্ণার্ত আর ক্ষুধার্ত থাকা।’ (সুনানে তিবরানি, হাদিস : ৫৬৩৬)

রমজান পাপমোচনের সময় : পবিত্র রমজানের বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন এবং পাপ মার্জনা করেন। যেমন ইফতারের আগমুহূর্ত। এই সময়গুলোতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করা এবং অতীত পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা আবশ্যক। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যতক্ষণ না সে ইফতার করে এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৫২)

এ ছাড়া স্বয়ং রোজাও পাপ মার্জনার মাধ্যম। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজান মাসের রোজা পালন করবে, আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০১)

যদি রমজানে পাপ পরিহার এবং অতীত পাপের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করা হয়, তবে রোজা মুমিনের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ, যতক্ষণ না তা ত্রুটিযুক্ত করা হয়।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২২৩৩)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসরা বলেন, ‘রোজাকে ঢালস্বরূপ বলার কারণ হলো তা মানুষকে পৃথিবীতে পাপাচার থেকে রক্ষা করে এবং পরকালে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে।’ (আরবাউনান-নাবাবিয়্যা বি-তালিকি ইবনে উসাইমিন, পূব্জা ৫৫)

আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন : মানুষ সত্তাগতভাবেই অপরাধপ্রবণ। নবী-রাসুল ও আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহপ্রাপ্ত বান্দা ছাড়া বেশির ভাগ মানুষই ভুলত্রুটি ও পাপের শিকার। তবে পাপ করার পর বান্দা যখন আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে যায় এবং তাওবা করে, তখন সে আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন পবিত্রতা অর্জনকারীকে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)

মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ রাতে তাঁর (অনুগ্রহের) হাত প্রসারিত করেন দিনের পাপাচারীদের ক্ষমা করে দিতে এবং দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন রাতের পাপাচারীদের ক্ষমা করে দিতে; (এই ধারা অব্যাহত থাকবে) সূর্য পশ্চিম দিক দিয়ে ওঠা তথা কিয়ামত পর্যন্ত।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭১৬৫)

রমজানে গুনাহ মাফ না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক : রমজান পেয়েও গুনাহ মাফ করাতে না পারা দুর্ভাগ্যজনক। যেমনটি আলোচ্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। অন্য এক বর্ণনায় মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক ধুলোধূসরিত হোক, যে রমজান পেল এবং তার গুনাহ মাফ করার আগেই তা বিদায় নিল।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৫)।

তাই আসুন, রমজানের অবশিষ্ট দিনগুলোতে নিজের গুনাহ মাফের চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। আমিন।

সুত্র ঃ কালের কন্ঠ

নারীরা কোথায় এবং কীভাবে ইতিকাফ করবেন
                                  

অনলাইন ডেস্ক : রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। মাহে রমজানের বরকত ও ফজিলত বিশেষত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদরের বরকত ও ফজিলত লাভের শ্রেষ্ঠতম উপায় হচ্ছে ইতিকাফ।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মদিনার জীবনে নিয়মিত প্রতি রমজানে ইতিকাফ করতেন। এক রমজানে কোনো কারণে ইতিকাফ ছুটে গেলে পরবর্তী রমজানে ২০ দিন ইতিকাফ করে তা পূরণ করে নিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৪৬৩)

ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- `আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির নিয়তে যে ব্যক্তি মাত্র একদিন ইতিকাফ করবে আল্লাহতায়ালা তার ও জাহান্নামের মাঝে তিনটি পরিখার সমান দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন। প্রতিটি পরিখার দূরত্ব হবে আসমান-জমিনের মধবর্তী দূরত্বের সমান।`

(আল-মু`জামুল আওসাত লিত-তবারানী, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৮/৩৫১-৩৫২; শুআবুল ঈমান ৩/৪২৫, হাদিস: ৩৯৬৫)

ইতিকাফ শুধু পুরুষের জন্য নয়। নারীদের জন্যও ইতিকাফের বিধান রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র স্ত্রীরা ইতিকাফ করতেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন- `নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীগণ ইতিকাফ করেছেন।` (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৩৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৭২)

আমাদের দেশে নারীরা খুব কমই ইতিকাফ করেন। অথচ ইতিকাফ অত্যন্ত সওয়াব ও ফজিলতের কাজ এবং নারীদের জন্য তা খুব সহজও বটে।

কারণ তারা ঘরেই ইতিকাফ করবেন। ফলে নিয়ম মেনে সংসারের খোঁজখবরও নিতে পারবেন। সংসার ঠিক রেখে তাদের ইতিকাফও হয়ে যাবে। সুতরাং এমন সুযোগ হাতছাড়া করা মোটেই উচিত নয়।

নারীদের মধ্যে ইতিকাফের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি হওয়া উচিত। পুরুষদের উচিত নারীদের ইতিকাফের জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং সুযোগ তৈরি করে দেয়া। তাহলে পুরুষরাও সওয়াব পাবেন।

এখানে নারীদের ইতিকাফ সম্পর্কিত কিছু প্রয়োজনীয় মাসয়ালা উল্লেখ করা হলো।

নারীদের ইতিকাফের বিধান: রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ পুরুষের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। অর্থাৎ মহল্লার মসজিদে পুরুষদের মধ্যে একজনও যদি ইতিকাফ করে তাহলে পুরো মহল্লাবাসী দায়মুক্ত হয়ে যাবে। আর নারীদের জন্য ইতিকাফ করা মুস্তাহাব।

নারীদের ইতিকাফের স্থান: মহিলাদের নামাজের স্থান তাদের ঘরের অন্দরমহল; মসজিদ নয়। তারা ঘরে নামাজ পড়েও পুরুষদের মসজিদে নামাজ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াবের অধিকারী হন বলে সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেন নারী বেশি সওয়াব হাসিল করার আশায় মসজিদে আসার জন্য উদগ্রীব না হয়।

এ অর্থে নারীদের ঘর মসজিদের সদৃশ বলে পরিগণিত। তাই নারী ঘরে তাদের নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে ইতিকাফ করবেন। যদি আগে থেকেই ঘরে নামাজের জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত না থাকে তাহলে ইতিকাফের জন্য একটি স্থান নির্ধারিত করে নিবেন। এরপর সেখানে ইতিকাফ করবেন।

(উমদাতুল ক্বারী ১১/১৪৮; মিরকাতুল মাফাতীহ ৪/১৪৪৬; হেদায়া ১/২৩০; মাবসূতে সারাখসী ৩/১১৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/১১৩; ফাতাওয়া আলমগীরী ১/২১১; আওজাযুল মাসালিক ৫/৪৬১-৪৬৬; ফাতাওয়া দারুল উলূম যাকারিয়া ৪/৬৯৯)

ইতিকাফের স্থান পর্দায় আবৃত করা: নারীরা তাদের ইতিকাফের স্থান পর্দা দিয়ে ঢেকে নিবেন। যেন ঘরে কোনো বেগানা পুরুষ লোক আসলে তাদের স্থান পরিবর্তন করতে না হয়।

নারীর ইতিকাফ পুরুষের জন্য যথেষ্ট নয়: রমজানের শেষ দশকে মসজিদে গিয়ে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা এর বিধান পুরুষদের জন্য, নারীদের জন্য নয়। সুতরাং মহিলারা চাই ঘরে ইতিকাফ করুক কিংবা মসজিদে পুরুষদের দায়িত্ব আদায় হবে না।

এজন্য মহল্লার মসজিদে পুরুষদের মধ্য হতে একজনও যদি ইতিকাফ না করে তাহলে পুরো মহল্লাবাসী সুন্নতে মুআক্কাদা তরক করার কারণে গুনাহগার হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ২/১১৩; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ১৩/১৪৫)

স্বামীর অনুমতি গ্রহণ: বিবাহিত নারী ইতিকাফ করতে চাইলে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। স্বামীর অনুমতি ছাড়া ইতিকাফ করা অনুচিত। আর স্বামীদের উচিত, যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া স্ত্রীদের ইতিকাফে বাধা না দেওয়া। তাদের ইতিকাফের সুযোগ করে দেওয়া। এতে উভয়ই সওয়াব পাবেন। (রদ্দুল মুহতার ২/৪৪১; ফাতাওয়া আলমগীরী ১/২১১)

মাসয়ালা: স্বামী স্ত্রীকে ইতিকাফের অনুমতি দেওয়ার পর আর বাধা দিতে পারবেন না। বাধা দিলেও সে বাধা গ্রহণযোগ্য নয় এবং স্ত্রীর জন্য তা মানাও জরুরি নয়। (রদ্দুল মুহতার ২/৪৪১; ফাতাওয়া আলমগীরী ১/২১১)

স্বামী ও সন্তানের দেখাশোনার প্রয়োজন হলে: যে নারীর স্বামী বৃদ্ধ বা অসুস্থ কিংবা তার ছোটছোট ছেলে-মেয়ে রয়েছে এবং তাদের সেবা-শুশ্রূষা করার কেউ নেই, সে মহিলার জন্য ইতিকাফ করার চেয়ে তাদের সেবাযত্ন করা উত্তম।

ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রী-সম্ভোগ: ইতিকাফ অবস্থায় রাতেও স্ত্রী-সহবাস করা যাবে না। করলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। তদ্রূপ স্ত্রীকে চুম্বন, আলিঙ্গন ও উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করাও বৈধ নয়। যদি এসবের কারণে বীর্যপাত ঘটে তাহলে ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে। (সুরা বাকারা: ১৮৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮৫, আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৫০; ফাতাওয়া আলমগীরী ১/২১৩)

ঋতুস্রাব অবস্থায় ইতিকাফ: মহিলাদের ঋতুস্রাব অবস্থায় ইতিকাফ করা সহিহ নয়। কেননা এ অবস্থায় রোজা রাখা যায় না। আর সুন্নত ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। (বাদায়েউস সানায়ে ২/২৭৪; ফাতাওয়া আলমগীরী ১/২১১)

মাসয়ালা: নারীদের ইতিকাফে বসার আগেই তাদের ঋতুস্রাবের দিন-তারিখ হিসাব করে বসা উচিত। যাতে ইতিকাফ শুরু করার পর পিরিয়ড শুরু হয়ে না যায়। তবে কারও রমজানের শেষ দশকে পিরিয়ড হওয়ার নিয়ম থাকলে তিনি পিরিয়ড শুরু হওয়া পর্যন্ত নফল ইতিকাফ করতে পারবেন।

ওষুধের মাধ্যমে ঋতুস্রাব বন্ধ রেখে ইতিকাফ করা: মহিলারা ওষুধ-বড়ি খেয়ে ঋতুস্রাব বন্ধ রেখে রোজা রাখলে এবং ইতিকাফ করলে রোজা ও ইতিকাফ সহিহ হবে। তবে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বিধায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ইতিকাফ অবস্থায় ঋতুস্রাব শুরু হলে: ইতিকাফ শুরু করার পর ঋতুস্রাব শুরু হয়ে গেলে ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে। পরে শুধু একদিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৫০২)

ইতিকাফের স্থান থেকে বের হওয়া: মহিলারা ঘরের যে স্থানটিকে ইতিকাফের জন্য নির্ধারিত করবেন তা তাদের ক্ষেত্রে মসজিদের মতোই গণ্য হবে। প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া তারা সেখান থেকে বের হতে পারবেন না। প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া সে স্থানের বাইরে ঘরের অন্যত্র গেলেও ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া আলমগীরী ১/২১১; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮২)

মাসয়ালা: প্রাকৃতিক প্রয়োজন বলতে বুঝায়, পেশাব-পায়খানা। সুতরাং ইতিকাফ অবস্থায় মহিলারা পেশাব-পায়খানার জন্য ইতিকাফের স্থান থেকে বের হতে পারবেন। ওজুর জন্য বাইরে যেতে পারবেন। আর যদি এসবের জন্য ইতিকাফ-কক্ষের ভিতরেই রুচিসম্মত সংযুক্ত বাথরুম থাকে তাহলে এর জন্য বাইরে যেতে পারবেন না।

মহিলাদের ইতিকাফের সুযোগ না হলে: মহিলাদের ইতিকাফের কারণে যদি সন্তান প্রতিপালন, ঘর-সংসারের নিরাপত্তা এবং তার উপর অর্পিত অপরিহার্য কাজ পালনে ব্যাঘাত না ঘটে তবেই তারা স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে ইতিকাফ করতে পারবেন।

অন্যথায় তাদের জন্য ইতিকাফ না করে নিজ দায়িত্ব যাথাযথভাবে পালন, সংসার দেখা-শোনা, স্বামীর সেবা ইত্যাদিতেই অগণিত কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তারা কাজের ফাঁকে যথাসাধ্য দুআ-জিকির, তাসবীহ, কুরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, দ্বীনী বইপত্র পাঠ ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করবেন।

আল্লাহতায়ালা সবাইকে তার ইবাদত বন্দেগিতে সময় ব্যয় করার তাওফীক দান করুন।

বছরের মাঝে সম্পদ কমে গেলে জাকাত দিতে হবে?
                                  

মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী : প্রশ্ন: কারো বছরের শুরুতে নেসাব পরিমাণ মাল ছিল ও বছরের শেষেও নেসাব পরিমাণ মাল আছে। তবে বছরের মাঝখানে কমে গিয়েছিল। তার কি জাকাত দিতে হবে?

উত্তর: যদি কারো কাছে বছরের শুরু ও শেষে নেসাব পরিমাণ মাল থাকে কিন্তু বছরের মাঝখানে কয়েক মাস নেসাব থেকে মাল কম যায়। তাহলে তাকে জাকাত দিতে হবে। তবে যদি বছরের মাঝখানে সম্পদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। তাহলে আগের হিসাব বাদ যাবে।

পুনরায় যখন নেসাবের মালিক হবে তখন থেকে নতুন হিসাব ধরা হবে। এবং তখন থেকে এক বছর অতিবাহিত হলে জাকাত ফরজ হবে।

তথ্যসূত্র: ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-১৮৪,ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৭৫, হেদায়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৯৬, ফতোয়ায়ে উসমানি, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৬২।

উত্তর দিয়েছেন- মাওলানা মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, খতিব, পীর ইয়ামেনী জামে মসজিদ, গুলিস্তান ও সিনিয়র মুহাদ্দিস ও মুফতি, জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম নতুনবাগ মাদ্রাসা, রামপুরা, ঢাকা

রোজা মোমেনদের জন্য ঢালস্বরূপ হেদায়েত পুর্ণ সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : বিদায় নিয়েছে রহমতের ১০ দিন, মাগফিরাতের আজ ৯ দিন মাত্র ১দিন বাকি, আগামী ৪ মে ২০২১ মঙ্গলবার নাজাতের ১০ দিন শুরু হবে তবে আগামীকাল সোমবার দিবাগত রাতে তারাবিহর নামাজ আদায় করতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা রমজানের রোজাকে ফরজ করেছেন। পাশাপাশি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন- রোজা মুমিনদের জন্য কল্যাণকর তথা উপকারী। রমজান মাসেই নাজিল করা হয়েছে কোরআন। মানুষের জন্য হেদায়েত, সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা পালন করে। তবে কেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা সফরে থাকলে এ সংখ্যা অন্য সময়ে পূরণ করবে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মোমিনগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের প্রতিও; যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত: ১৮৩)। ইসলামে গ্রহণযোগ্য প্রয়োজন ছাড়া রোজা ছেড়ে দেওয়া অন্যায়। রোজা ওই সব ব্যক্তির ওপর ফরজ, যারা প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন ও শারীরিকভাবে রোজা পালনে সক্ষম। রোজা রাখা বা ইফতার করার ক্ষেত্রে অলসতা বা ইফতারে তাড়াহুড়ো করার কোনো সুযোগ নেই। আর ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা অস্বীকার করারও কোনো সুযোগ। যদি কেউ অলসতা বশত রোজা পালন না করে, তবে তার জন্য ভয়ানক কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে। হাদিসে এসেছে, আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম, একটি সম্প্রদায় উল্টোভাবে ঝুলছে! তাদের গলা ফাড়া। গলা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? বলা হলো, এরা সেই সব ব্যক্তি, যারা বিনা কারণে রমজান মাসের রোজা ভঙ্গ করেছিল। (সহিহ ইবনে খুজাইমা) মানব জীবনে রমজান মাস ও রোজার রয়েছে বিরাট ভূমিকা। রোজা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। রমজানে ভেঙে ফেলা রোজার বিনিময় কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব নয়। একটি রোজার পরিবর্তে সারা জীবন রোজা আদায় করলেও যথেষ্ট হবে না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি প্রয়োজন ও রোগ ছাড়া রমজানের একটি রোজা ভেঙে ফেলল, তার সারা জীবনের রোজা দ্বারাও এই কাজা আদায় হবে না, যদিও সে সারা জীবন রোজা পালন করে। (বুখারি, হাদিস : ১৮১১) তবে কোনো ব্যক্তি যদি রোজা রাখলে তার রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়, অথবা অন্য কোনো নতুন রোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা হয়, অথবা রোগমুক্তি বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে রোজা ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি রয়েছে। তবে তাকে সুস্থ হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া রোজা কাজা আদায় করে নিতে হবে।

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ
                                  

মুফতি রেজাউল হক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ : ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে হিজরি দ্বিতীয় সনের সতেরোই রমজান মদিনা থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের লড়াই `বদরযুদ্ধ`।

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে হিজরি দ্বিতীয় সনের সতেরোই রমজান মদিনা থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের লড়াই `বদরযুদ্ধ`।

তাওহিদ-একত্ববাদের বার্তাবাহী প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নিয়ে আসা ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধবাদী বিশাল সৈন্য সামন্তের মোকাবিলায় ইমানদার বান্দাদের ছোট একটি দলের শশস্ত্র সংগ্রাম ছিল এটি। এক পক্ষ অর্থাৎ আল্লাহর নবির (সা.) সঙ্গে মাত্র ৩১৩ জন প্রায় নিরস্ত্র মুজাহিদ।

অপরপক্ষে অবিশ্বাসীদের নেতা আবু জেহেলের নেতৃত্বে ছিল এক হাজার প্রশিক্ষিত সৈন্যের সুসজ্জিত বাহিনী। এ যুদ্ধে মানুষের ধারণাপ্রসূত সব রকমের চিন্তা ও উপলব্ধির বাইরে গিয়ে আল্লাহতায়ালা অস্ত্র-শস্ত্রহীন ইমানদারদের অতিক্ষুদ্র দলটিকে বিজয় দান করেন।

সেদিন বদরের প্রান্তরে ইমান ও কুফর, ন্যায় ও অন্যায়ের এক অন্যরকম ইতিহাস রচিত হয় যা যুগ যুগ পর্যন্ত এক আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। মুসলমানরা বিশ্বাস করেন জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। সম্মান অপমান আল্লাহর হাতে।

এ বিশ্বাস ও চেতনা লালন করে পৃথিবীর যে প্রান্তে যখনই মুসলমানরা অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন তারা সংখ্যায় বা সম্পদে কম হলেও আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেছেন।

পক্ষান্তরে আল্লাহর ওপর ভরসাহীন অঢেল সম্পদ ও প্রচুর সৈন্য সামন্তের বহরে সুসজ্জিত মুসলমানদের পরাজয়ের বর্ণনায় ইতিহাসের পাতা ভরপুর হয়ে আছে।

বদরের যুদ্ধ শুরুর আগে আল্লাহর নবি (সা.) দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ, তুমি যদি চাও দুনিয়াতে তোমার ইবাদত করার কেউ না থাকুক, তাহলে এই ক্ষুদ্র দলটিকে নিশ্চিহ্ন হতে দাও। আল্লাহতায়ালা রাসূলে কারিম (সা.) এর দোয়া কবুল করেছিলেন। কুরাইশদের অহমিকা ও দম্ভ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন বাহ্যিক উপায় উপকরণের তুচ্ছতা। তাই নিরস্ত্র মুষ্টিময় মুজাহিদের কাছে পরাজিত হয় সুসজ্জিত বিশাল বাহিনী। তাদের পক্ষে নিহত হলো ৭০ জন। বন্দি হয় আরও ৭০ জন। আর মুসলমানদের মধ্যে শহিদ হন মাত্র চৌদ্দজন।

যুদ্ধের এ ধরনের ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ অভাবনীয়। কিন্তু তা ছিল আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ। তিনি স্বল্পসংখ্যক মানুষকে বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়ী করে দেখিয়ে দিলেন অবিশ্বাসী লোকদের প্রকৃত দুর্বলতা ও অসহায়তা। তাই বদরের যুদ্ধ ইমানদারদের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ।

মহানবি (সা.) মদিনায় হিজরত করে যাওয়ার দ্বিতীয় বছরে যুদ্ধের অনুমতি নিয়ে হজরত জিবরাইল (আ.) কুরআন মজিদের কয়েকটি আয়াত নিয়ে আসেন-`যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো হচ্ছে, তাদেরকে (যুদ্ধের) অনুমতি দেওয়া হলো এ জন্য যে, তারা নির্যাতিত হয়েছে।

আর আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সক্ষম। তাদেরকে নিজেদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল অন্যায়ভাবে শুধু এ কারণে, তারা বলে আমাদের প্রভু আল্লাহ।` (সূরা হজ ৩৭)। অবিশ্বাসীদের প্রতিরোধ করার অনুমতি লাভের পর আল্লাহর নবি (সা.) বদর যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

বদরের প্রান্তরে ইসলাম বিজয়ের সূচনা হয়েছিল। তাই প্রতি বছর সতেরোই রমজান এলেই বিশ্ব মুসলিম শ্রদ্ধা ও গৌরবের সঙ্গে বদরের বিজয়কে স্মরণ করেন।

পুণ্য অর্জনের অফুরন্ত সুযোগের পবিত্র মাহে রমজান মাস
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : মানব জীবনের যাবতীয় পাপ থেকে নিজেকে পবিত্র করা ও পরকালীন জীবনের পাথেয় পুণ্য অর্জনের অফুরন্ত সুযোগের মাস পবিত্র মাহে রমজান। রহমতের ১০ দিন বিদায় নিয়েছে, বরকতের ১০ দিনের মধ্যে ১৭ রমজান বাকি আছে ৩ দিন ও মাগফিরাতের ১০ শুরু হবে ৪ মে মঙ্গলবার থেকে পয়গাম নিয়ে উপস্থিত ইবাদতের বসন্তকাল। পুণ্যময় এ মাসে মহান রবের ইবাদত উপাসনায় আলোকিত হয় মুমিনের জীবন। ব্যর্থ সে ব্যক্তি, যে রমজান মাস পেয়েও এর যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারলো না এবং নিজের পাপমোচন করাতে পারলো না। যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও পাপ ক্ষমা করানো থেকে বঞ্চিত হলো আখেরী মহানবী (সাল্লুল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তাকে ধিক্কার দিয়ে বলেছেন, `ওই ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক, যার কাছে রমজান মাস এসে চলে গেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করা হয়নি।` (আদাবুল মুফরাদ : ৫০২) দীর্ঘদিনের পাপের অভ্যাস ছাড়া অনেকের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ১১ মাস পাপের সমুদ্রে নিমজ্জিত থাকার ফলে এ মাসেও লাগামহীনভাবে পাপনিদ্রায় বিভোর থাকে। বড় আক্ষেপের বিষয়, এ পবিত্র মাসেও ভেসে আসে গান-বাজনার আওয়াজ।

অনেকে আবার রোজাদারের সামনে প্রকাশ্যে পানাহার করে বেড়ায়। নামাজ-রোজার কথা ভুলে গিয়ে চলে খেলাধুলার প্রতিযোগিতা। অবসরতা কাটাতে কোথাও জমে ওঠে জুয়া ও আড্ডার আসর। এসব রমজানের

পবিত্রতা ও মহত্ত্বকে ধ্বংস করে। অনেকে দিনভর রোজা রাখে, আবার গীবত, পরনিন্দা ও মিথ্যা কথাসহ বিভিন্ন পাপ কাজেও লিপ্ত থাকে— এমন ব্যক্তির ভাগ্যে শুধু ক্ষুধাই জোটে। এ জন্যই রাসুলুল্লাহ (সাল্লুল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বলেছেন, `কতো রোজাদার আছে, যাদের রোজার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। কতো সালাত আদায়কারী আছে যাদের রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না।` (ইবনে মাজা : ১৬৯০)। অন্য হাদিসে এসেছে, `যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও তদানুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি, তার এই পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।` (বুখারি : ১৯০৩) পাপের উপসর্গ নিয়ে বেড়ে উঠেছে যার জীবন, অন্যায়ের প্রবণতা মিশে আছে রক্ত বিন্দু বিন্দু কণিকায়, পবিত্র রমজান মাসেও যে ব্যক্তি পাপ-পঙ্কিলতা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারছে না— তার উচিত আল্লাহর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনায় মনোনিবেশ করা। কেননা দোয়া হলো মুমিনের হাতিয়ার। যেভাবে আল্লাহ শারীরিক অসুস্থতা থেকে সুস্থ করেন, সেভাবেই তিনি আত্মার ব্যাধির প্রতিকার করেন। আল্লাহর দরবারে ঝরা অশ্রু, কখনো বৃথা যায় না । পাপের ভারে ন্যুব্জ বান্দা যখন আল্লাহকে ডাকে তখন তিনি সাড়া দেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, `তোমরা আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেবো।` (সুরা গাফির : ৬০)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, `কে তিনি যিনি, আর্তের ডাক শোনেন যখন সে তাকে ডাকে এবং কে তার দুঃখ দূর করেন?` (সুরা: নামল : ৬২)। পাপের আঁধারে নিমজ্জিত ব্যক্তির পক্ষে রাতারাতি পাপমুক্ত হওয়া দুষ্কর, এর জন্য চাই ধৈর্য ও অবিরাম চেষ্টা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে পরিচালিত হওয়ার চেষ্টা করে আল্লাহ তার পথ খুলে দেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, `যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।` (সুরা আনকাবুত : ৬৯) পাপের আনন্দ শেষ হয়ে থেকে যায় এর অশুভ পরিণাম। ইবাদতের কষ্ট শেষ হয়ে থেকে যায় এর শুভ পরিণাম। তাই পাপের শাস্তি ও এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে চিন্তার মাধ্যমে পাপমুক্ত হওয়া সহজ। আখেরাতের অপেক্ষমাণ কঠিন আজাব ছাড়াও এই পৃথিবীতে পাপের নগদ শাস্তি হলো— দুঃখ, দুর্দশা, অশান্তি, অস্থিরতা ও হতাশা। এ ছাড়াও পাপের কারণে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার দূরত্ব তৈরি হয়; পাপী ব্যক্তি থেকে তাঁর রহমতের দৃষ্টি উঠে যায়। তারা বিপদাপদ ও বিপর্যয়ে আপতিত হয়, দূরারোগ্য রোগ-ব্যাধি, মহামারি আক্রান্ত হয় এবং রুজিরোজগারের সঙ্কটে জর্জরিত হয়। গুনাহ যেমনভাবে মানুষের শারীরিক কষ্ট ও শাস্তির কারণ, তেমনিভাবে তা আত্মিক রোগ-ব্যাধিরও কারণ। কারও থেকে একটি গুনাহ সংগঠিত হলে সেটি আরেকটি গুনাহতে লিপ্ত হওয়ার কারণ হয়। হাফেজ ইবনুল কাইয়্যুম (রহঃ) বলেন, গুনাহের একটি নগদ শাস্তি হলো, এর দ্বারা সে আরেকটি গুনাহের শিকার হয়। অনুরূপভাবে নেক কাজের একটি নগদ পুরস্কার হলো, একটি নেক কাজ আরেকটি নেক কাজের দিকে টেনে নেয়। (মায়ারিফুল কুরআন : ৭/৭০১)। রমজানে অভিশাপ্ত শয়তানকে বন্দি করে রাখা হলেও প্রত্যেকের সঙ্গে `নফসে আম্মারা` কিন্তু ঠিকই রয়েছে— যা মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং কুপ্রবৃত্তির প্রতি আহবান করে। তাই সব ধরনের গুনাহের উপকরণ থেকে দূরে থাকতে হবে, বিশেষত দৃষ্টিকে হেফাজত রাখতে হবে। সেহরি ও ইফতারে পরিমিত পানাহার করা উচিত। কারণ, মাত্রাতিরিক্ত খাবার আহারের ফলে ইবাদতে অলসতা তৈরি হয় এবং গুনাহের প্রবৃত্তি জাগ্রত হয়। আমরা যদি ভোজনবিলাসী না হয়ে মহানবীর (সা.) প্রকৃত সুন্নত এবং সাহাবিদের রোজা রাখার পদ্ধতি অনুসরণ করে ভোজনে সংযমী হয়ে সীমিতভাবে সেহরি ও ইফতার করি, তা হলে এর মধ্যদিয়ে আমাদেও কৃপ্রবৃত্তিকে দুর্বল হবে এবং সুকুমারবৃত্তিগুলো বিকশিত হবে। রমজান সংযমের মাস, সাধনার মাস, ত্যাগের মাস। কিন্তু আমরা রমজানের এই বার্তাকে ভুলে গিয়ে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিদের অনুসৃত পথ পরিহার করে সেহরি ও ইফতারে এতটাই ভোজনবিলাসী, খাদ্য ভোগী হয়ে উঠি যা রমজানের সংযম, সাধনা ও ত্যাগের বার্তাকে ভুলিয়ে দেয়। ফলে আমাদের কুপ্রবৃত্তি দুর্বল না হয়ে আরও হিংস্র ও পাশবিক হয়ে ওঠে। কাম, লিপ্সা, রাগ, মোহ আরও বেড়ে যায়। আমাদের সুকুমারবৃত্তিগুলো বিকশিত না হয়ে আরও নিস্তেজ হয়ে যায়। মাহে রমজানে গুনাহ থেকে বাঁচতে হলে অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করে সৎ সঙ্গ গ্রহণ করতে হবে। কেননা মানুষ পাপ কাজে অসৎ সঙ্গীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই পাপ থেকে বেঁচে থাকতে সৎ ও ভালো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত। মহানবী (সা.) ভালো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে বলেছেন। তিনি বলেন, `তুমি মুমিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও সঙ্গী হবে না এবং তোমার খাদ্য যেন পরহেজগার লোকে খায়।` (আবু দাউদ : ৪৮৩২)। রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো, তাকওয়া বা খোদাভীতি

আল্লাহ তায়ালা বলেন, `হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের ওপরও; যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।` (সুরা বাকারা : ১৮৩)। আমাদের সবার মনে সর্বদা এই চেতনা জাগ্রত রাখতে হবে যে, প্রতি মুহূর্তে আমরা যা করছি আল্লাহ তায়ালা তা দেখছেন। যেমন পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, `তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন।` (সুরা হুজরাত : ১৮) আর এভাবে আল্লাহর ধ্যান দিলে জাগরুক রাখতে পারলেই পাপমুক্ত জীবনযাপন সম্ভব। তখন কেউ কারও ওপর জুলুম করবে না, একে অন্যের হক নষ্ট করবে না। আল্লাহ তায়ালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করবে না এবং যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ ও পাপাচারে লিপ্ত হবে না। এরই নাম তাকওয়া। রহমতের এই বসন্তকালে আসুন আমরা খোদাভীতি অর্জন করি এবং নিজেদের পাপ কর্মের জন্য খাঁটি মনে তওবা করে ভবিষ্যতেও যাবতীয় পাপকর্ম থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে একটি পুণ্যময় রমজান কাটাই। তবেই অনিন্দ্য সুন্দর হবে আমাদের ইহকাল ও পরকাল।

যেসব নিয়ম-কানুন মেনে পালন করা যাবে এবারের ওমরাহ
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের মহামারিতে পবিত্র রমজান মাসে ওমরাহ পালনসহ পবিত্র মক্কা-মদিনা শহরে ইবাদত বন্দেগীর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি আরবের সরকার। টিকাগ্রহণ করাকে সেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মহামারির কারণে গত বছরের অক্টোবরে সাত মাস পর পবিত্র দুই মসজিদে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। তারপর লাখ লাখ মানুষ মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে নামাজ ও ওমরা পালন করেছেন। এই রমজানের প্রথম ১০ দিনেই অন্তত ১৫ লাখ মুসল্লি মসজিদুল হারামে প্রার্থনা করেছেন বলে জানা গেছে।

সৌদি হজ এবং ওমরা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. আমর আল-মাদ্দাহ জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ৫০ হাজার ওমরা পালনকারীসহ এক লাখ মুসল্লিকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রার্থনার অনুমতি দিচ্ছে সরকার। এবার বেশ কয়েকটি দেশের মসুল্লিরা ওমরাহ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি জানান, গত বছরের ২০ আগস্ট জারি করা এক রাজকীয় ফরমানে নির্দেশ দেয়া হয় যে, মসজিদুল হারামে প্রবেশে ইচ্ছুক সকলকেই বাধ্যতামূলকভাবে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে হবে। দেশ-বিদেশ থেকে আসা সকল মুসল্লি ও ওমরা যাত্রীকে এজন্য তাদের টিকাগ্রহণের সনদ প্রদর্শন করেই অনুমতির আবেদন করতে হবে।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদিত টিকা এবং তাদের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই দেশটির হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিক-নির্দেশনা অনুসারে হজের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও টিকা অনুমোদনের তথ্যাবলী নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, একজন ওমরা যাত্রীর অবস্থান ইতমার্না এবং তাওয়াক্কালনা নামক দুটি অ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশিত হবে। জায়গা বরাদ্দ নিশ্চিত হলে অভ্যর্থনা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সনদ দেখানোর পর তাকে মসজিদে নামাজ আদায় বা ওমরা পালনের জন্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। অভ্যর্থনা কেন্দ্রে প্রথমে অনুমতিপত্রের মেয়াদ পরীক্ষা করা হবে, তারপর দেখা হবে টিকাগ্রহণের তথ্য নির্ভুল কিনা।

এ ছাড়া, মক্কায় আসার আগে ওমরা যাত্রীদের সুনির্দিষ্ট পরিবহন কোম্পানিকে ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। এসব সংস্থা বিশেষভাবে জীবাণুমুক্ত করা বাহনে যাত্রীদের আনা-নেওয়ার কাজে যুক্ত আছে।

ইদুল ফিতরের জামাত নিয়ে সিদ্ধান্ত আগামীকাল
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী মাসের ১৩ বা ১৪ মে বাংলাদেশের মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এ ধর্মীয় উৎসবে জামাতে নামাজ আদায় করা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি থাকায় ঈদুল ফিত‌রের জামাত মসজিদে হবে না ঈদগাহে আদায় করা যাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বৈঠকে বসবে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

গত বছর ঈদুল ফিত‌রেরনোমাজের জামাত উন্মুক্ত স্থান আদায় করা সম্ভাব হয়‌নি। এবারও ক‌রোনা সংক্রম‌ণের হার উচ্চমূখি হওয়ায় এবারও ঈদুল ফিত‌রের নামাজের জামাত মস‌জি‌দে না ঈদগা‌হে হবে সে সিদ্ধান্ত নিতেই আগামীকাল বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগামীকাল কালকের বৈঠকে দেশের বিভিন্ন মসজিদে নামাজ না হলে কোন পদ্ধতিতে জামাত আদায় করা হবে তার মাসআলা দেবেন দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে একটি সূত্রে জানা গেছে, ঈদের জামাত নিয়ে আগামী মঙ্গলবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান সভাপ‌তি‌ত্বে বৈঠ‌কে বসবেন। বৈঠ‌কে ক‌রোনার সংক্রমণ নি‌য়ে আলোচনার পর ঈদের জামাত অনুষ্ঠা‌নের বিষ‌য়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হ‌বে বলে জানান হয়।

ইদের জামাত নিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান সাংবা‌দিক‌দের জানান, আগামী মঙ্গলবার এ বিষ‌য়ে আমাদের একটি অফিসিয়াল মিটিং হবে, সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

সুত্র ঃ IBN24 

যেসব কারণে রমজানে কোরআন তেলাওয়াত গুরুত্বপূর্ণ
                                  

অনলাইন ডেস্ক: আল কোরআন এক অলৌকিক গ্রন্থ, যা মানবজাতির পথনির্দেশক হিসেবে প্রেরিত হয়েছে।কোরআন আল্লাহর বাণী, যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ আল কোরআন গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ আছে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে সন্দেহাতীতভাবে ক্রমান্বয়ে ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। রমজান মাসে কোরআন অবতরণ হয়েছে বলে রমজান মাসকে  কোরআনের মাস হিসেবে ধারা হয়।

কোরআন অবতরণের মাস : মানবজাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তাআলার প্রেরিত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআন মাজিদ রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে। কোরআন অবতরণের সূত্র ধরেই রমজান মাস শ্রেষ্ঠ মাস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি এবং সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

কোরআন অবতরণের সূচনা : রমজান মাসের কদরের রাতে নবী (সা.)-এর প্রতি কোরআন অবতরণের ধারাবাহিকতা শুরু হয়ে যা সুদীর্ঘ ২৩ বছরে পরিপূর্ণ হয়েছে। শুরুটা মহিমান্বিত কদরের রাতে হওয়ার কারণে আল্লাহ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে কদরের  রাতে আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ১)

হেরা গুহায় প্রথম ওহি : রাসুলুল্লাহ (সা.) রবিউল আউয়াল মাসের ৮ তারিখ মতান্তরে ১২ তারিখ (৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাস) সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন। (সিরাতুল মুস্তফা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫১) রবিউল আউয়াল মাসে জন্ম হিসেবে ৪০ বছর পর রবিউল আউয়াল মাসেই নবী (সা.)-এর বয়স ৪০ বছর পূর্ণ হয়। তখন থেকে তিনি বিভিন্ন সত্য স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে তাঁর কাছে একাকিত্ব আকর্ষণীয় হয়ে উঠলে তিনি হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতে শুরু করেন।

পুরো কোরআন প্রথম আসমানে স্থানান্তর : আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদকে রমজান মাসের কদরের রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে বাইতুল ইজজাতে স্থানান্তর করেন। কোরআন মাজিদ লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘বরং এটি মহান কোরআন, লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত।’ (সুরা : বুরুজ, আয়াত : ২১-২২)

রমজান মাসে কদরের রাতে আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদকে সেখান থেকে প্রথম আসমানে বাইতুল ইজজাতে নিয়ে রেখেছেন। সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ২৩ বছরে নবী (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কদরের রাতে কোরআন মাজিদ পুরোটাই লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে বাইতুল ইজজাতে অবতীর্ণ করেছেন। (ইবনে কাসির, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৪৪১; তাফসিরে কুরতুবি, ২০তম খণ্ড, পৃ. ১২৯)

রোজা ও কোরআনের সুপারিশ : রোজা রোজাদারের জন্য আর কোরআন তার পাঠকারীর জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করবেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে, রোজা বলবে, হে প্রতিপালক! আমি দিনের বেলা তাকে পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অতঃপর উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৬৬২৬)

রমজানে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কোরআন তিলাওয়াত : রাসুলুল্লাহ (সা.) সারা বছর রাত জেগে নামাজ আদায় করতেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। এতে তাঁর পা ফুলে যেত। আল্লাহ বলেন, ‘আপনাকে কষ্ট-ক্লেশ দেওয়ার জন্য আমি আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করিনি।’ (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ২)

রমজানে আমাদের দায়িত্ব : কোরআনের সাথে রমজানের নিবিড় সম্পর্কের কারণে এই বরকতময় মাসে পুণ্যবান মনীষীরা রোজা রাখার মহান হুকুম পালনেরসাথে সাথে অন্য নফল ইবাদতের মধ্যে কোরআন তিলাওয়াতকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। রমজানের পুরো মাসকে পবিত্র কোরআনের জন্য ওয়াক্ফ করে দিতেন। তাঁদের কেউ কেউ সাধ্যানুযায়ী অধিকবার কোরআন খতমের প্রতি মনোনিবেশ করতেন। আবার অনেকের মনোযোগ থাকত কোরআনের গভীরে গিয়ে নিগূঢ় তথ্য ও রহস্যগুলো উদঘাটন করে তার মুক্তামালায় জীবনকে সাজিয়ে নেওয়া। এই পবিত্র মাসে আমাদের কাম্য হলো—

১.   সহিহ-শুদ্ধভাবে কোরআন পড়তে না জানলে এই রমজানেই কোরআন শেখার দৃঢ়সংকল্প নিয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা শুরু করা।

২.   কোরআন পড়তে জানলে একাধিক খতম হওয়ার মতো বেশি করে তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা।

৩.   কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি কোরআনের মর্মবাণী বোঝার জন্য তাফসির ও হাদিস অধ্যয়নসহ হক্কানি আলেমদের সাহচর্য লাভ করা।

৪.   কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী সুন্নাহমাফিক আমল করে কোরআনের সঙ্গে সুমধুর সম্পর্ক গড়ে তোলা।

৫.   তারাবির নামাজে কোরআন শুনে খতম করা।

৬.   রমজান মাসে গড়ে তোলা অভ্যাস বছরজুড়ে চালু রাখা।

পরিশেষে বলা যায়, কোরআনের মাসে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হোক, এটাই হওয়া উচিত সবার প্রচেষ্টা ও প্রত্যয়। এতেই পূর্ণতা পাবে রমজানের আবেদন। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন।

রোজা কবুল হওয়ার জন্য ৬ আমল
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ সাধারণত পানাহার ও কিছু জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকাকে রোজা মনে করা হয়। কিন্তু এটাই রোজার শেষ কথা নয়, বরং রোজার কয়েকটি স্তর রয়েছে। প্রতিটি স্তরের মর্যাদায় রয়েছে তারতম্য। ইমাম গাজালি (রহ.) ‘ইহয়াউ উলুমিদ্দিন’ গ্রন্থে রোজার তিনটি স্তর বর্ণনা করেছেন। ক. সাধারণের রোজা, খ. বিশেষ শ্রেণির রোজা, গ. অতি বিশেষ শ্রেণির রোজা।

ক. সাধারণের রোজা হলো পানাহার ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থাকা।
খ. বিশেষ শ্রেণির রোজা হলো পেট ও লজ্জাস্থানের চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখ, কান, জিহ্বা, হাত, পা অর্থাৎ তার সব অঙ্গ পাপমুক্ত রাখা।

গ. অতি বিশেষ শ্রেণির রোজা হলো নিজের অন্তরকে দুনিয়া ও তার মোহ মুক্ত করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে বিমুখ হওয়া।

ইমাম গাজালি (রহ.) রোজার তিন শ্রেণি উল্লেখ করে বলেন, প্রথম প্রকারের রোজা কোনো মুমিনের প্রত্যাশা হতে পারে না। আর তৃতীয় শ্রেণির রোজা দীর্ঘ সাধনার ব্যাপার। মুমিনের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্বিতীয় শ্রেণির রোজা পালন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় শ্রেণি তথা আল্লাহভীরু ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের রোজার ছয়টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেন। তা হলো—

১. দৃষ্টি অবনত রাখা : আল্লাহ যার প্রতি তাকাতে নিষেধ করেছেন বা তিনি তাকানো অপছন্দ করেন, এমন সব কিছু থেকে দৃষ্টি অবনত রাখা। এবং সেসব বিষয় থেকেও দৃষ্টিকে সংরক্ষণ করা, যা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তীর। যে আল্লাহর ভয়ে দৃষ্টি সংরক্ষণ করবে, সে ঈমান ও তার মিষ্টতা লাভ করবে।’ (মুসনাদে হাকিম)

২. জিহ্বা সংযত করা : মিথ্যা, পরনিন্দা, অপবাদ, অশ্লীলতা, গালি ও অনর্থক কথা থেকে নিজের জবান সংরক্ষণ করা। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘দুটি স্বভাব রোজার মাহাত্ম্য নষ্ট করে দেয়। মিথ্যা ও পরনিন্দা।’ (সিয়ারু আলামুন-নুবালা)

৩. কান সংরক্ষণ করা : আল্লাহর অপছন্দনীয় সব বিষয় থেকে নিজের কান সংরক্ষণ করা। গান-বাদ্য, মিথ্যা-পরনিন্দা, অর্থহীন গালগল্প থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মিথ্যা শ্রবণকারীর নিন্দা করে বলেছেন, ‘তারা মিথ্যা শ্রবণকারী ও অবৈধ সম্পদ ভক্ষণকারী।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৪৬)

৪. অন্য অঙ্গগুলোকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখা : হাত-পাসহ বাকি অঙ্গগুলোকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখা রোজাদারের জন্য আবশ্যক। যেমন—অন্যায়ভাবে কাউকে আঘাত করবে না, অন্যায় কাজে যাবে না এবং হারাম খাবার খাবে না। রোজার উদ্দেশ্য গুনাহ পরিহার করা। পাপ পরিহার না করলে রোজার কল্যাণ লাভ করা যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কিছু রোজাদার এমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছাড়া তাদের আর কোনো প্রাপ্তি থাকে না।’ (মুসনাদে আহমদ)

৫. ইফতার ও সাহরিতে কম খাওয়া : রোজাদার ব্যক্তি ইফতার ও সাহরিতে কম খাবে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) কম খেতে উৎসাহিত করেছেন। রোজাদার ব্যক্তি যথাসম্ভব দিনের বেলা কম ঘুমাবে। এতে ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও দুর্বলতা বেশি অনুভূত হয়। প্রতি রাতে সামান্য পরিমাণ হলেও তাহাজ্জুদ আদায় করবে, যেন তার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

৬. আশা ও ভয় নিয়ে ইফতার করা : ইফতারের সময় বান্দা রোজা কবুল হওয়ার এবং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় নিয়ে ইফতার করবে। কেননা আল্লাহ তাআলা রমজানে বান্দার প্রতি অনুগ্রহশীল হওয়ার ঘোষণা যেমন দিয়েছেন, ঠিক তেমনি পাপ মার্জনা করাতে না পারলে শাস্তিরও ঘোষণা দিয়েছেন। কেননা ঈমান আশা ও ভয়ের মধ্যবর্তী অবস্থানের নাম।

ছয়টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করার পর ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, এই ছয়টি হলো সেই আমানত, যা রক্ষা করতে হাদিসে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই রোজা আমানত। তোমরা তোমাদের আমানত রক্ষা করো।’ (বিস্তারিত দেখুন : ইহয়াউ উলুমিদ্দিন : ১/৪৫৪-৪৫৯)

ক্ষমার দশকের প্রথম তারাবিহ পড়া হবে আজ
                                  

ধর্ম ডেস্ক : মাগফেরাতের দশকের প্রথম তারাবিহ আজ। ১১ রোজার প্রস্তুতি রোজাদাররা রাতের কিয়ামে অতিবাহিত করবে রাত। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। ক্ষমা পেতে রোজাদাররা অবিশ্বাসীদের আকাঙ্ক্ষার কথা যেমন ত‍ুলে ধরবে তেমনি আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামত গুণে শেষ করতে না পারার বর্ণনা শুনে প্রশান্তি ও ইবাদতে মনোযোগী হবে রোজাদার। সুরা নাহলে আল্লাহ তাআলা বলেন-

- وَإِن تَعُدُّواْ نِعْمَةَ اللّهِ لاَ تُحْصُوهَا إِنَّ اللّهَ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ

`যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।`

আজকের তারাবিহতে হাফেজে কুরআনগণ সুরা হিজর ও সুরা নাহল তেলাওয়াত করবেন। সংক্ষেপে এ দুই সুরার আলোচিত বিষয়গুলোর কয়েকটি দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হলো-

সুরা হিজর (১-৯৯)

সিরিয়া ও মদিনার মধ্যবর্তী অঞ্চলের নাম হিজর। এ স্থানে বসবাসকারীরা ছিল নাফরমান। আল্লাহর অবাধ্যতায় তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তাদের ধ্বংসের বর্ণনা রয়েছে এ সুরায়। তাদের মতো যারা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরোধিতায় চলে তাদের জন্যও রয়েছে অশুভ পরিণতি। এটি মুমিন মুসলমানদের জন্য শিক্ষণীয় একটি সুরা।

ইসলাম বিদ্বেষীদের মনোভাব, ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রতি আল্লাহর হুশিয়ারি, মানবজাতির উত্থান-পতনের ইতিবৃত্ত, শয়তানের ধোঁকার আলোচনা করা হবে আজ। কাওমে লুতের চারিত্রিক বিকৃতি ও ধ্বংসের ঘটনা গুরুত্ব পেয়েছে এ সুরায়।

সুরার শুরুতেই অবিশ্বাসীদের মুসলিম হওয়ার আকাঙ্খার কথা বর্ণিত হয়েছে। তারা আফসোস করে বলতে থাকবে-

رُّبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُواْ لَوْ كَانُواْ مُسْلِمِينَ

`কাফেররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, কি চমৎকার হত! যদি তারা মুসলমান হত।` (সুরা হিজর : আয়াত ২)

পবিত্র রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা এ কুরআন নাজিল করেছেন। আবার কুরআনের হেফাজতের দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন স্বয়ং তিনি। সে কারণে কুরআন থাকবে নিরাপদ, অবিকল ও অবিকৃত। আল্লাহ তাআলা বলেন-

`আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।` (সুরা হিজর : আয়াত ৯)

রমজানে আল্লাহ তাআলা বিতাড়িত শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখেন। এ ছাড়াও শয়তানের প্রতি আল্লাহ অগ্নিস্ফুলিগ্ন ছুড়ে মারেন। যাতে মানুষ শয়তানের ধোকা থেকে বেঁচে থাকে। আল্লাহ বলেন-

- আমি আকাশকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছি। কিন্তু যে চুরি করে শুনে পালায়, তার পশ্চাদ্ধাবন করে উজ্জ্বল উল্কাপিন্ড।` (সুরা হিজর : আয়াত ১৭-১৮)

আজকের তারাবিহতে পড়া হবে সেই চিরন্তন মহাসত্য বাণী। যে গবেষণায় বিজ্ঞানীরা হয়রান পেরেশান। আল্লাহ তাআলাই মানুষকে জীবন দান করেন আবার মৃত্যুদান করেন। কেউ আগে আসে আগে যায়, আবার কেউ পরে আসে পরে যায়। আল্লাহ বলেন-

- `আমিই জীবনদান করি, মৃত্যুদান করি এবং আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী। আমি জেনে রেখেছি তোমাদের অগ্রগামীদেরকে এবং আমি জেনে রেখেছি পশ্চাদগামীদেরকে।` (সুরা হিজর : আয়াত ২৩-২৪)

মানুষ ও জ্বীনের সৃষ্টি সম্পর্কে রয়েছে সুস্পষ্ট বর্ণনা। আল্লাহ কিভাবে কোন উপাদান দিয়ে মানুষ এবং জ্বীনকে সৃষ্টি করেছেন তা বর্ণনা করেছেন। এ মানুষ সৃষ্টির পর আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা মানুষকে সেজদা করলে করেনি ইবলিস, এ কথাও আবার তিনি এ সুরায় উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন-

- `আমি মানবকে পচা কর্দম থেকে তৈরি বিশুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি। এবং জিনকে এর আগে লু এর আগুনের দ্বারা সৃজন করেছি। আর আপনার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদেরকে বললেনম, আমি পচা কর্দম থেকে তৈরি বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্ট একটি মানব জাতির পত্তন করব। অতপর যখন তাকে ঠিকঠাক করে নেব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁক দেব, তখন তোমরা তার সামনে সেজদায় পড়ে যাবে। তখন ফেরেশতারা সবাই মিলে সেজদা করল। কিন্তু ইবলিস সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হতে স্বীকৃত হল না। আল্লাহ বললেন, হে ইবলিস, তোমার কি হলো! যে তুমি সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হতে স্বীকৃত হলে না? (সে) বলল, আমি এমন নই যে, একজন মানবকে সেজদা করব, যাকে আপনি পচা কর্দম থেকে তৈরি ঠনঠনে বিশুষ্ক মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বললেন, তবে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। তুমি বিতাড়িত। আর তোমার প্রতি ন্যায় বিচারের দিন পর্যন্ত অভিশাপ।` (সুরা হিজর : আয়াত ২৬-৩৫)

শয়তান সে দিন থেকেই মুমিন মুসলমানরে প্রতি শত্রুতা পোষণ করে আসছে। আল্লাহর সঙ্গে মুমিন মুসলমানকে পথভ্রষ্ট করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে শয়তান। সে কথাও ওঠে এসেছে এ সুরায়। আল্লাহ বলেন-

- ` সে বলল, হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ বললেন, তোমাকে অবকাশ দেয়া হল। সেই অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত। সে বলল, হে আমার পলনকর্তা! আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথ ভ্রষ্ঠ করে দেব।` (সুরা হিজর : আয়াত ৩৬-৩৯)

সে কারণেই আল্লাহ তাআলা মানুষকে শয়তানের পথ পরিহার করে মুত্তাকিদের পথ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাকওয়া তথা আল্লাহকে ভয় করার কথা বলেছেন। আর তাতে মুত্তাকিদের ঠিকানা হলো জান্নাত। আল্লাহ বলেন-

- `নিশ্চয় খোদাভীরুরা বাগান ও নির্ঝরিনীসহূহে থাকবে। বলা হবে, এগুলোতে নিরাপত্তা ও শান্তি সহকরে প্রবেশ কর। তাদের অন্তরে যে ক্রোধ ছিল, আমি তা দূর করে দেব। তারা ভাই ভাইয়ের মত সামনা-সামনি আসনে বসবে। সেখানে তাদের মোটেই কষ্ট হবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিস্কৃত হবে না। আপনি আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন যে, আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু।` (সুরা হিজর : আয়াত ৪৫-৪৯)

এ সুরায় আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাকে গোনাহ থেকে ক্ষমা লাভের সান্ত্বনা দিয়েছেন। মুমিন বান্দার জন্য রহমতের দরজা সব সময় খোলা। তাওবার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ মুমিন বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন।

এছাড়াও এ সুরায় বৃদ্ধ বয়স হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সন্তান লাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। আবার গোনাহের কারণে নবী লুত ও সালেহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের ধ্বংসের কথা বলেছেন। যা মানুষের ঈমানকে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে নিয়ে আসবে।

সুরা নাহল (১-১২৮)

সুরা নাহলও মক্কায় অবতীর্ণ। এর প্রেক্ষাপট ব্যাপক এবং সুপ্রশস্ত। বিশেষ করে এ সুরায় এত বেশি নিয়ামাতের কথা এসেছে, যার কারণে এ সুরাটি সুরাতুন নিয়াম নামেও পরিচিত। এ সুরায় আল্লাহর গুণ-বৈশিষ্ট্য, বিশ্বনবির প্রতি ওহি ও পরকাল- এ তিনটি বিষয়ে গভীর আলোচনা করা হয়েছে।

এ সুরায় মহান রবের অগণিত নেয়ামতের সেই ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, বান্দা চাইলেও তার নেয়ামত গুণে শেষ করতে পারবে না। আল্লাহ বলেন-

- وَإِن تَعُدُّواْ نِعْمَةَ اللّهِ لاَ تُحْصُوهَا إِنَّ اللّهَ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ

`যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।` (সুরা নাহল : আয়াত ১৮)

সব জগতের সব সৃষ্টিই মহান আল্লাহর ইবাদত করে। আল্লাহকে ভয় করে। কেননা সব নেয়ামত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দা পেয়ে থাকে। যার বর্ণনা এভাবে ওঠে এসেছে। আল্লাহ বলেন-

- `যা কিছু নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আছে তা তাঁরই ইবাদত করা শাশ্বত কর্তব্য। তোমরা কি আল্লাহ ব্যতিত কাউকে ভয় করবে? তোমাদের কাছে যে সমস্ত নেয়ামত আছে, তা আল্লাহরই পক্ষ থেকে। অতপর তোমরা যখন দুঃখে-কষ্টে পতিত হও তখন তাঁরই কাছে কান্নাকাটি কর। এরপর যখন আল্লাহ তোমাদের কষ্ট দুরীভূত করে দেন, তখনই তোমাদের একদল স্বীয় পালনকর্তার সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করতে থাকে। যাতে ঐ নেয়ামত অস্বীকার করে, যা আমি তাদেরকে দিয়েছি। অতএব মজা ভোগ করে নাও-সত্বরই তোমরা জানতে পারবে। তারা আমার দেয়া জীবনোপকরণ থেকে তাদের জন্যে একটি অংশ নির্ধারিত করে, যাদের কোনো খবরই তারা রাখে না। আল্লাহর কসম, তোমরা যে অপবাদ আরোপ করছ, সে সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।` (সুরা নাহল : আয়াত ৫২-৫৬)

এছাড়াও হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাজিলকৃত বিধানের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনাকারী তাওহিদ, ঈমান, কুফরি, হিদায়াত ও গোমরাহী সংক্রান্ত মানবীয় ইচ্ছা ও আল্লাহর ফয়সালার বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।

হালালকে হারাম করা ও হারামকে হালাল করা- এ বিষয়ে পৌত্তলিকদের ধ্যান-ধারণার আলোচনা ও আল্লাহর পথে হিজরত, মুসলমানদেরকে নির্যাতনের মাধ্যমে ইসলাম ত্যাগে বাধ্য করা প্রসঙ্গও পাঠ করা হবে আজ।

ঈমান গ্রহণের পর পুনরায় কুফরি গ্রহণ করলে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে শাস্তি নির্ধারিত করা হয়েছে এ সুরার মাধ্যমে। পারস্পারিক লেন-দেন, ন্যায়-বিচার, পরোপকার, আল্লাহর পথে দান ও ওয়াদা পালনের বিষয়াবলীও আলোচিত হয়েছে এ সুরায়।

সর্বোপরি গোটা মানবজীবন, তার ঘটনাবলীও পরিণাম, গোটা পরকালীন জীবন, তার মূল্যবোধ ও দৃশাবলী এবং সমগ্র অদৃশ্য জগত, তার বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্য, মানব সত্ত্বা ও প্রকৃতির ওপর তার সুগভীর প্রভাব- এ সব কিছু নিয়েই এ সুরার আলোচনা ও পটভূমি গঠিত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাদ্বয় বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী, এই রমজান মাসে যার জন্ম
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : আমি ও আমার সঙ্গিয় বন্ধুদের ইরাকের রাজধানী বাগদাদ নগরীতে পৌঁছাতেই তৎসময় বেলা সারে ১১ টা বাজে ঘড়ির কাঁটায়, আমরা বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী রওজামুবারক জেয়ারত করবো, মসজিদে আজান হলে জুম`আ নামাজ আদায় করবো নিয়ত ছহীহ। বড় পীরের রওজা শরীফ জেয়ারত করে মসজিদ থেকে বেড় হলাম না, যেহেতু আমারা আজনবী (ভিনদেশী) দীর্ঘক্ষণ বসে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া আদায় করছি, জুম`আ নামাজ আদায় করছি, হাজার হাজার বিভিন্ন দেশের মুসলমান। তবে পাকিস্তানের তাবলীগ জামাতের মুসল্লী বেশি বেশি দেখা। বড় পীরের মাজার বাঁ মসজিদের দক্ষিণ পাশে দাঁড়ায়ে একটি স্মৃতি স্বরূপ একটি ছবি তোলা হলো মাজারের সেবকের (খাদেমের) সাথে দাঁড়িয়ে আরেকটি ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখলাম। আমার কাহিনী থাক মূল বিষয়টি নিয়ে লেখাছি। বড় পীর আবদুল কাদের জীলানী (রহ.)-এর পূর্ণ নাম মুহিউদ্দিন আবু মোহাম্মদ ইবনে আবু সালেহ মুছা জঙ্গী (রহ.)। তিনি একজন কামেল সুফী ধর্মপ্রচারক ছিলেন। তার নামে কাদেরিয়া তরীকার নামকরণ করা হয়েছে। ৪৭০ হিজরীতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৬১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। পিতৃকুলে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হাসান (রা.)-এর সরাসরি বংশধর ছিলেন। তার জননী ছিলেন আবদুল্লাহ আস মাউমেয়ী (রহ.)-এর কন্যা ফাতিমা (রহ.)। তারা উভয়েই সে যুগের শ্রেষ্ঠ দরবেশ ছিলেন। তিনি যে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, তার নাম নীক বা নায়ক। উহা কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণে গীলান বা জীলান জিলায় অবস্থিত। আঠারো বছর বয়সে তিনি পড়াশুনার জন্য বাগদাদে প্রেরীত হন। তিনি আল্লামা তিবরিযা (রহ.) এর নিকটে ভাষাতত্ত¡ এবং কয়েকজন শায়খ বা উস্তাদের নিকট হাম্বালী মতান্তরে শাফেয়ী ফিকাহ অধ্যায়ন করেন। তার ৪৮৮ হতে ৫২১ হি. পর্যন্ত জীবনকাল সম্পর্কে যতটুকু জানা যায়, তা হলো এ সময়ে তিনি হজ্জ ও বিবাহ করেন। কারণ তার পুত্র-কন্যার মধ্যে একজনের জন্ম হিজরী ৫০৮ সালে। কোনো কোনো গ্রন্থাকারের মতে, তৎকালে তিনি ইমামে আযম ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাযারের খাদিমও ছিলেন। তিনি আবু খায়ের মোহাম্মাদ ইবনে মুসলিম (রহ.)-এর নিকট সুফীবাদ শিক্ষা করেন। এক সাক্ষাতকারে তিনি স্থির দৃষ্টিতে তাকাতেই আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) সুফী মতে দীক্ষিত হয়ে পড়েন। উস্তাদ আবুল খায়ের (রহ.)-এর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করতে তাকে যথেষ্ট শ্রম স্বীকার করতে হয়। আবুল খায়েরের (রহ.) খানকাহ্্র মধ্যে একজন আইনজ্ঞ ব্যক্তির অনুপ্রবেশ অন্যান্য শিক্ষারত সাধকদের ক্ষোভ প্রকাশের কারণ হয়েছিল বলে জানা যায়। কিছুকাল পরে আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) সুফী পরিচ্ছদ লাভের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন। বাগদাদে হাম্বলী ফিকহের একটি মাদরাসা ছিল। সেই মাদরাসার প্রিন্সিপাল কাযী আবু সাঈদ মাখযুমী (রহ.) তাকে শিক্ষা দান করেন। ৫২১ হি. সালে সুফী ইউসুফ আল হামযানী (রহ.)-এর পরামর্শে তিনি প্রকাশ্যে প্রচার কার্য আরম্ভ করেন। প্রথমে তার শ্রোতার সংখ্যা ছিল অল্প। ক্রমশঃ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি বাগদাদের হালবা দ্বারের বিখ্যাত কক্ষে আসন গ্রহণ করেন। কিন্তু শ্রোতার সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলায় তাকে দরজার বাইরে যেতে হয়। যেখানে তার জন্য একটি বিরাত বা খানকাহ নির্মিত হয়। ৫২৮ হিজরী সনে জনসাধারণের চাঁদায় পার্শ্ববর্তী অট্টালিকাগুলো মুবারাকুল মাখযুমীর মাদরাসার অন্তর্ভুক্ত করে আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-কে তার প্রিন্সিপাল নিযুক্ত করা হয়। তার কার্যপ্রণালীর প্রকৃতি ছিল সম্ভবতঃ জামালুদ্দিন আয-জাওযীর অনুরূপ। শুক্রবার প্রাতে ও সোমবার সন্ধ্যায় তিনি তার মাদরাসায় ওয়াজ করতেন। রোববার প্রাতে করতেন খানকায়। তার অসংখ্য ছাত্রের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীকালে দরবেশ বলে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার ধর্মোপদেশ শ্রবণে অনেক ইয়াহূদী ও খ্রিস্টান ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল বলে জানা যায়। এতে অনেক মুসলমান ও উচ্চতর জীবন লাভে ধন্য হয়। বহুস্থানে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার ফলে বহুস্থান হতে তার নিকট নযর-নিয়াজ আসত। এর দ্বারা তিনি প্রার্থীদের চাহিদা পূরণ করতেন এবং সর্বদাই গৃহদ্বার খোলা রাখতেন। দেশের সকল অংশ হতে তার নিকট ইসলামী আইন সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রেরিত হতো। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই এগুলোর উত্তর দিতেন। এতে অনুমতি হয় যে, তৎকালীন খলীফাগণ তার অনুরক্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত (১) আল গুনিয়াতুত তালেবীন (২) আল ফাতহুর রাব্বানী, (৩) ফতুহুল গায়ব, (৪) সিররুল আসরার প্রভৃতি। আল্লাহ পাক তাকে কুরব ও মানজেলাতের আ’লা হতে আলা দারাজাত দান করুন আমীন।


   Page 1 of 14
     ইসলাম
করোনা থেকে মুক্তি পেতে জুমাতুল বিদায় বিশেষ দোয়া
.............................................................................................
করোনা থেকে পরিত্রাণ পেতে জুমাতুল বিদায় বিশেষ দোয়া
.............................................................................................
‘শবে কদর’ হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী
.............................................................................................
পবিত্র কাবার হাজরে আসওয়াদের স্বচ্ছ ছবি প্রকাশ
.............................................................................................
রমজান মাসেও পাপ মোচন না হওয়া চরম দুর্ভাগ্যজনক
.............................................................................................
নারীরা কোথায় এবং কীভাবে ইতিকাফ করবেন
.............................................................................................
বছরের মাঝে সম্পদ কমে গেলে জাকাত দিতে হবে?
.............................................................................................
রোজা মোমেনদের জন্য ঢালস্বরূপ হেদায়েত পুর্ণ সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন
.............................................................................................
ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ
.............................................................................................
পুণ্য অর্জনের অফুরন্ত সুযোগের পবিত্র মাহে রমজান মাস
.............................................................................................
যেসব নিয়ম-কানুন মেনে পালন করা যাবে এবারের ওমরাহ
.............................................................................................
ইদুল ফিতরের জামাত নিয়ে সিদ্ধান্ত আগামীকাল
.............................................................................................
যেসব কারণে রমজানে কোরআন তেলাওয়াত গুরুত্বপূর্ণ
.............................................................................................
রোজা কবুল হওয়ার জন্য ৬ আমল
.............................................................................................
ক্ষমার দশকের প্রথম তারাবিহ পড়া হবে আজ
.............................................................................................
বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী, এই রমজান মাসে যার জন্ম
.............................................................................................
এ বছরের জনপ্রতি ফিতরা নির্ধারণ
.............................................................................................
রোজাদারের জন্য ১০টি সুসংবাদ!
.............................................................................................
রোজাদারের জন্য আল্লাহর বিশেষ পুরস্কার
.............................................................................................
সৌদি আরবে ওমরায় বিদেশীদের মানতে হবে যে নিয়ম
.............................................................................................
ইফতারে দেরি না করার পুরস্কার ও ফজিলত
.............................................................................................
চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা
.............................................................................................
রমজানের চাঁদ দেখতে সন্ধ্যায় বসছে কমিটি
.............................................................................................
ওয়াক্ত ও তারাবি নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ২০ জন
.............................................................................................
অসুস্থদের রোজার প্রস্তুতি
.............................................................................................
রমজান শুরু কবে জানা যাবে মঙ্গলবার
.............................................................................................
মুমিনের জীবনকে গুনাহমুক্ত করে রোগব্যাধি
.............................................................................................
আজ পবিত্র শবে বরাত
.............................................................................................
হজ করতে গেলে এবার মানতে হবে যেসব শর্ত
.............................................................................................
সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ
.............................................................................................
মাহে রমজানের প্রস্তুতিতে শাবান মাসের ভূমিকা অপরিসীম
.............................................................................................
হজযাত্রীদের টিকা নেয়ার সময়সূচি
.............................................................................................
প্রিয়নবী (সা.) শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখতেন
.............................................................................................
রোজা রেখে করোনার টিকা নেওয়া যাবে কি না জানালো ধর্ম মন্ত্রণালয়
.............................................................................................
কোরআনে এক অকৃতজ্ঞ জাতির কথা
.............................................................................................
২৯ মার্চ সোমবার সবে বরাত ঘোষণা
.............................................................................................
শবেবরাত কবে জানা যাবে রবিবার
.............................................................................................
পবিত্র শবে মেরাজ আজ
.............................................................................................
পবিত্র শবে মিরাজ কাল
.............................................................................................
এবারের হজ বড় পরিসরেই হচ্ছে
.............................................................................................
রমজানের ৬ নিত্যপণ্যের মজুত পর্যাপ্ত
.............................................................................................
সম্রাট আওরঙ্গজেবের হাতে লেখা কোরআন
.............................................................................................
দোজখের আগুন থেকে বাঁচার ছোট্ট আমল ও দোয়া
.............................................................................................
২৯ বছর গবেষণার পর জবি শিক্ষিকার ইসলাম গ্রহণ
.............................................................................................
অ্যালকোহল মিশ্রিত পারফিউম কি জায়েজ? এতে নামাজের ক্ষতি হবে?
.............................................................................................
আগের জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছিল যেসব পাপে
.............................................................................................
হজ যাত্রীদের করোনার টিকা বাধ্যতামূলক
.............................................................................................
জুমআ`র দিনের ফজিলত ৮০ বছরের নফল এবাদতের সওয়াব লাভ ও ৮০ বছরের গুনাহ্ মাফ
.............................................................................................
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হলো ঈদে মিলাদুন্নবীকে
.............................................................................................
পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ ১১ মার্চ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop