বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * মানুষ শুধু গরু দেখছে, কিনছে না   * আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবার জিরা আমদানি   * পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ   * এক্সপ্রেসওয়েতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ   * শিগগির যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখছেন না বাইডেন   * বঙ্গবন্ধু সেতুতে একদিনে ৩ কোটি ২১ লাখ টাকার টোল আদায়   * ট্রেনে ঈদযাত্রা: ২৪ জুনের ফিরতি টিকিট দেওয়া হচ্ছে আজ   * জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি   * ট্রেনে ৩য় দিনের ঈদযাত্রা শুরু, স্টেশনে উপচেপড়া ভিড়   * আর্জেন্টিনার রাজধানীতে ব্যাপক সংঘর্ষ  

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ

সৌদি আরবে চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ।এ বছর সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষ হজ পালন করবেন। আর বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করবেন ৮৫ হাজার ২৫৭ জন।

আজ শুক্রবার (১৪ জুন) মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রার মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। তাই হাজিরা সেখানে অবস্থান করবেন। এরপর আরাফার ময়দান, মুজদালিফা, মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপ, মাথা মুণ্ডন, সাফা-মারওয়া সায়ী, তাওয়াফ, দমে শোকর আদায়ের মাধ্যমে আগামী মঙ্গলবার (১৮ জুন) শেষ হবে পাঁচদিনের হজের কার্যক্রম।

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার থেকে শুরু হলেও অনেক হজযাত্রীকে বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁবুর শহর মিনায় নেওয়া শুরু করছেন মুয়াল্লিমরা। এশার নামাজের পর মক্কার নিজ নিজ আবাসন থেকে ইহরামের কাপড় পরে মিনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন হাজিরা। মিনায় গিয়ে হাজিরা ফজর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন নিজ নিজ তাঁবুতে।

এরপর ৯ জিলহজ সকাল থেকে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হতে শুরু করবেন হাজিরা। এদিন দুপুর থেকে সুর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ফরজ। মূলত এদিনকেই হজের দিন বলা হয়। দিনটি ইয়াওমুল আরাফা হিসাবেও পরিচিত। এরপর হাজিরা আরাফার ময়দান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় রাত যাপন এবং পাথর সংগ্রহ করবেন।

হাজিরা ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরে যাবেন। সেখানে তারা বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ ও সায়ী করবেন। এরপর হাজিরা আবার মিনায় ফিরে ১১ এবং ১২ জিলহজ অবস্থান করবেন। এ সময় প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা।

এবার আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা প্রদান করবেন মসজিদুল হারামের জনপ্রিয় ইমাম ও খতিব শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ বিন মুয়াক্বল আল মুয়াইকিলি। একইসঙ্গে তিনি মসজিদে নামিরাতে নামাজও পড়াবেন।

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ
                                  

সৌদি আরবে চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ।এ বছর সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষ হজ পালন করবেন। আর বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করবেন ৮৫ হাজার ২৫৭ জন।

আজ শুক্রবার (১৪ জুন) মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রার মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। তাই হাজিরা সেখানে অবস্থান করবেন। এরপর আরাফার ময়দান, মুজদালিফা, মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপ, মাথা মুণ্ডন, সাফা-মারওয়া সায়ী, তাওয়াফ, দমে শোকর আদায়ের মাধ্যমে আগামী মঙ্গলবার (১৮ জুন) শেষ হবে পাঁচদিনের হজের কার্যক্রম।

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার থেকে শুরু হলেও অনেক হজযাত্রীকে বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁবুর শহর মিনায় নেওয়া শুরু করছেন মুয়াল্লিমরা। এশার নামাজের পর মক্কার নিজ নিজ আবাসন থেকে ইহরামের কাপড় পরে মিনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন হাজিরা। মিনায় গিয়ে হাজিরা ফজর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন নিজ নিজ তাঁবুতে।

এরপর ৯ জিলহজ সকাল থেকে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হতে শুরু করবেন হাজিরা। এদিন দুপুর থেকে সুর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ফরজ। মূলত এদিনকেই হজের দিন বলা হয়। দিনটি ইয়াওমুল আরাফা হিসাবেও পরিচিত। এরপর হাজিরা আরাফার ময়দান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় রাত যাপন এবং পাথর সংগ্রহ করবেন।

হাজিরা ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরে যাবেন। সেখানে তারা বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ ও সায়ী করবেন। এরপর হাজিরা আবার মিনায় ফিরে ১১ এবং ১২ জিলহজ অবস্থান করবেন। এ সময় প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা।

এবার আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা প্রদান করবেন মসজিদুল হারামের জনপ্রিয় ইমাম ও খতিব শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ বিন মুয়াক্বল আল মুয়াইকিলি। একইসঙ্গে তিনি মসজিদে নামিরাতে নামাজও পড়াবেন।

ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ইহরাম। নির্দিষ্ট স্থান থেকে হজ ও ওমরার নিয়তে নির্ধারিত নিয়মে ইহরাম বাঁধতে হয়। ইহরাম পরিধানের পর বৈধ অনেক কিছু হারাম বা নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো আমরা এখানে তিন প্রকারে ভাগ করে উল্লেখ করছি। প্রথম উল্লেখ করবো ইহরাম অবস্থায় নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য নিষিদ্ধ কাজগুলো, তারপর শুধু পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ কাজগুলো, তারপর শুধু নারীর জন্য নিষিদ্ধ কাজগুলো।

নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য নিষিদ্ধ কাজ আটটি:
১. মাথার চুল, গোঁফ, দাড়ি, শরীরের অন্যান্য জায়গার লোম মুণ্ডন করা, ছোট করা কিংবা উঠিয়ে ফেলা।
২. ইহরামের অবস্থায় নখ কাটা বা নখ উঠিয়ে ফেলা। তবে কোনো নখ ভেঙ্গে গেলে কষ্টদায়ক অংশটুকু কেটে ফেলে দিলে কোনো অসুবিধা নেই।
৩. ইহরাম অবস্থায় ইহরামের কাপড়ে, শরীরে অথবা শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে এমন কিছুতে সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৪. বিয়ে করা, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বা অভিভাবক বা উকিল হয়ে কাউকে বিয়ে দেওয়া।
৫. যৌন কামনার সঙ্গে চুম্বন করা, স্পর্শ করা কিংবা জড়িয়ে ধরা। যৌন আবেদন সৃষ্টি করে এমন কথাবার্তা বলা বা রসিকতা করা।
৬. যৌন মিলন করা।
৭. নিজে শিকার করা বা কাউকে শিকার করতে সহযোগিতা করা।
৮. ক্ষতিকর নয় এমন কীট-পতঙ্গ, পশু-পাখি মারা।

ইহরাম অবস্থায় শুধু পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ যেসব কাজ
১. মাথা ঢাকা। পুরুষের জন্য ইহরাম অবস্থায় এমন কিছু দিয়ে মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ যা মাথার সাথে লেগে থাকে যেমন পাগড়ি, বিভিন্ন প্রকারের টুপি ও রুমাল ইত্যাদি। তবে এমন কিছু দিয়ে মাথা ঢাকা যায়, যা মাথার সাথে লেগে থাকে না যেমন, ছাতা, গাড়ির ছাদ, তাঁবু ইত্যাদি।
২. সেলাই করা কাপড় পরা। পুরুষদের জন্য ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা কাপড় পরা নিষিদ্ধ। সেলাইকৃত কাপড়ের অর্থ হলো, এমন কাপড় যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের অবয়ব অনুযায়ী তৈরি করা হয় যেমন জুব্বা, পাঞ্জাবি, পাজামা, প্যান্ট, গেঞ্জি, আণ্ডারওয়্যার, মোজা, হাত বা পায়ের মোজা।
৩. পায়ের পাতার ওপরের অংশ ঢেকে যায় এমন জুতা পরা।

ইহরাম অবস্থায় নারীর জন্য সেলাই করা পোশাক, মাথা ঢাকা ইত্যাদি বৈধ হলেও দুটি কাজ নিষিদ্ধ:
১. হাত মোজা পরা।
২. নেকাব পরিধান করা। তবে পরপুরুষ সামনে চলে এলে ওড়না ঝুলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য চেহারা আবৃত করা যবে।

বলাবাহুল্য, এ দুটি কাজ পুরুষের জন্যও নিষিদ্ধ। কিন্তু পুরুষদের জন্য যেহেতু সেলাইকৃত যে কোনো পোশাক নিষিদ্ধ, মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ তাই এগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না।

ঈদুল আজহা কবে জানা যাবে শুক্রবার
                                  

দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা কবে উদযাপিত হবে, জানা যাবে শুক্রবার। ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ ও হিজরি ১৪৪৫ সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনার জন্য শুক্রবার (৭ জুন) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। এদিন জানা যাবে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা ১৬ জুন হবে নাকি ১৭ জুন।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৪৪৫ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা এবং পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার (৭ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

যেসব নম্বরে টেলিফোন করে তথ্য জানানো যাবে– ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭।


ফ্যাক্স নম্বর : ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১।

জুমার দিন মুনাফিকের তালিকায় ওঠে যাদের নাম
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : জুমার দিন জোহরের পরিবর্তে জুমা ওয়াজিব মুসলমান প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন (যিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন নন) মুকিম (যিনি মুসাফির নন) স্বাধীন (যিনি ক্রিতদাস নন) নগর বা লোকালয়ের অধিবাসী পুরুষদের ওপর; যার এমন কোনো গ্রহণযোগ্য অসুবিধা, অসুস্থতা বা বার্ধক্য নেই যে কারণে তিনি মসজিদে উপস্থিত হতে ও জুমা আদায় করতে অক্ষম। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

জুমার নামাজ প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জামাতের সাথে আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু তা চার প্রকার লোকের উপর ওয়াজিব নয়; ক্রীতদাস, নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তি। (সুনান আবু দাউদ: ১০৬৭)

যাদের ওপর জুমা ওয়াজিব তাদের জুমা আদায়ে অবহেলা করার কঠোর নিন্দা এসেছে বিভিন্ন হাদিসে। গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া তিনটি জুমা ছেড়ে দিলে তাদের অন্তরে মোহর পড়ে যায় এবং মুনাফিকদের তালিকায় তাদের নাম লিখিত হয় বলে সতর্ক করা হয়েছে। আবুল জা’দ জুমায়রি (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

যে ব্যক্তি অলসতা করে ধারাবাহিকভাবে তিনটি জুমার জামাতে অনুপস্থিত থাকে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন। (সুনানে নাসাঈ: ১৩৭২) অর্থাৎ সেই অন্তর হেদায়াত পাওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়।

আরেকটি হাদিসে এসেছে, ইচ্ছাকৃত তিনটি জুমা ছেড়ে দিলে তার নাম মুনাফিকদের তালিকায় লিখিত হয়। উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

যে ব্যক্তি কোনো ওজর ছাড়া তিনটি জুমা ছেড়ে দেয়, তার নাম মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিখিত হয়ে যায়। (তাবরানি)

যারা অকারণে জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়, হতে পারে জুমার এই বরকতময় দিনেই তাদের অন্তরে মোহর পড়ে যাবে এবং তাদের নাম আল্লাহর দরবারে মুনাফিক হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে যাবে। তাই এ ব্যাপারে সবার সতর্ক হওয়া কর্তব্য। জুমার ব্যাপারে অবহেলা করে মসজিদে যেতে বিলম্ব করাও সমীচীন নয়।

জুমার দিন খুতবার আগেই মসজিদে চলে যাওয়া আবশ্যক। জুমার আজানের পর দুনিয়াবি কাজকর্ম করার ব্যাপারে কোরআনে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। দ্রুত মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন,

হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে। (সুরা জুমা: ৯)

জুমার আজান হয়ে গেলে মসজিদে চলে যাওয়া, সব দুনিয়াবি কাজ বন্ধ করে দেওয়া কুরআনের সরাসরি নির্দেশে ওয়াজিব বা অবশ্য কর্তব্য।

ভাগ্যে যেখানে যার মৃত্যু লেখা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : এই দুনিয়ায় কোনো প্রাণী অমর নয়। সব প্রাণীরই মৃত্যু হবে। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের যাত্রা শেষে মানুষসহ সব প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন সব প্রাণীরই মৃত্যু হবে, এই দুনিয়ার জীবন ধোঁকা ও বিভ্রম ছাড়া কিছুই নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেওয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা পাবে। আর দুনিয়ার জীবন শুধু ধোঁকার সামগ্রী। (সুরা আলে ইমরান: ১৮৫)

কার মৃত্যু কখন কোথায় কী অবস্থায় ঘটবে তা কারও জানা নেই। এর জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই আছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

নিশ্চয় আল্লাহর কাছে কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ূতে যা আছে, তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (সুরা লোকমান: ৩৪)

সবার মৃত্যুর দিনক্ষণ, স্থান, তারিখ নির্ধারিত। নির্ধারিত স্থানে নির্ধারিত সময়ের এক মুহূর্ত আগে বা পরে কারো মৃত্যু হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন,

যখন তাদের সময় আসবে, তখন তা এক মুহুর্তকালও আগে কিংবা পরে হবেনা। (সুরা আরাফ: ৩৪)

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে সব সৃষ্টির তাকদীর লিপিবদ্ধ করেছেন যখন আল্লাহর সিংহাসন পানির ওপর ছিল। (সহিহ মুসলিম)

যে জায়গায় যার মৃত্যু লেখা আছে, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। সে যদি দূর দেশে থাকে, কপালের লিখন তাকে ওই জায়গায় টেনে নিয়ে যায়। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা যখন তার কোনো বান্দাকে নির্ধারিত স্থানে মৃত্যু দান করতে চান; তখন সেখানে তার কোনো না কোনো প্রয়োজন সৃষ্টি করে দেন। (মুসতাদরাকে হাকেম)

অর্থাৎ যেখানে তার মৃত্যু লেখা আছে, সে কোনো কাজে ওই জায়গায় যায় এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যু থেকে কেউ পালাতে পারবে না। মানুষ যদি সুদৃঢ় দুর্গের ভেতরেও অবস্থান করে, তবুও নির্ধারিত সময়ে তার মৃত্যু হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবে, যদি তোমরা সুদৃঢ় দুর্গেও অবস্থান কর। যদি তাদের কাছে কোন কল্যাণ পৌঁছে তবে বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’। আর যদি কোন অকল্যাণ পৌঁছে, তখন বলে, ‘এটি তোমার পক্ষ থেকে’। বল, ‘সব কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে’। এই জাতির কী হল তারা কোন কথা বুঝতে চায় না! (সুরা নিসা: ৭৮)

হজের মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। কোনো ব্যক্তি যদি কাবা ঘরে যাওয়া ও ফিরে আসা পরিমাণ অর্থের মালিক হয়, এছাড়াও তার মৌলিক খরচ ও পরিবারের ভরণপোষণের খরচ থাকে, তবে তার উপর হজ ফরজ। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘তোমরা হজ ও ওমরাহ আল্লাহর জন্য পালন কর।’ (সুরা বাকারা: ১৯৬)

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য। (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)

হজ তিন প্রকার
১. ওমরাহ ছাড়া শুধু হজ। একে ইফরাদ হজ বলে। এমন হজকারীকে বলা হয় মুফরিদ।
২. এক এহরামে একসাথে হজ ও ওমরাহ পালন। একে কেরান হজ বলে। এমন হজকারীকে বলা হয় কারিন।
৩. দুই এহরামে আলাদা আলাদাভাবে হজ ও ওমরাহ। একে তামাত্তু হজ বলে। এমন হজকারীকে বলা হয় মুতামাত্তি। নতুন হাজিদের জন্য তামাত্তু করা ভালো।

হজের নিয়ত
কারিন হাজি নিয়ত করবেন, ‘হে আল্লাহ, আমি হজ ও ওমরাহর নিয়ত করলাম, আমার জন্য সব সহজ করে দিন, আমার হজ কবুল করে নিন।’

আর মুতামাত্তি ও মুফরিদ হাজি নিয়ত করবেন, ‘হে আল্লাহ, আমি হজের নিয়ত করলাম, আমার জন্য হজের সব কাজ সহজ করে দিন, আমার হজ কবুল করে নিন।’

হজের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি
ইসলামে আমল যেমন কাম্য, তেমনই আমলটা সঠিক ও পরিপূর্ণ হওয়াও কাম্য। আল্লাহর রাসুল (সা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন— হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে ওজুর পূর্ণতা, নামাজের পূর্ণতা, আপনার পূর্ণ সন্তুষ্টি ও পূর্ণ মাগফিরাত কামনা করি। (মুসনাদে হারিস: ৪৬৯)

একটা হলো আমল শুদ্ধ হওয়া, আরেকটা হলো পরিপূর্ণ হওয়া। ওজুতে মুখ ধোয়া ফরজ, কিন্তু মুখ ধোয়ার আগে আমরা হাত ধুই, কুলি করি, মেসওয়াক করি, নাকে পানি দিই—এই কাজগুলো ওজুকে পূর্ণতা দেয়। তো হজ আদায়কারীদের কাম্য হওয়া উচিত তাদের হজ যেন পরিপূর্ণ হয়, কেবল আল্লাহর জন্য হয়। হাদিসে এসেছে, কেউ যদি যৌনতা, অশ্লীলতা ও নিষিদ্ধ সব কাজ থেকে বিরত থেকে হজ করে কেয়ামতের দিন তাকে সদ্য জন্মগ্রহণকারী শিশুর মতো গুনাহমুক্ত অবস্থায় ওঠানো হবে। (সহিহ বুখারি: ১৫২১)


হজের জন্য প্রস্তুত হতে যে কাজগুলো করবেন:
এক. খালেস নিয়ত: নিয়ত যে সহিহ হতে হবে, এটা আমরা সবাই জানি। তবে সত্যি বলতে, নিয়তই হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কাজ। আল্লাহ না করুন, হজের নিয়তে যদি রিয়া বা লোক দেখানোর কোনো উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে সওয়াবের বদলে শিরকের গুনাহ নিয়ে ঘরে ফিরতে হতে পারে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, আমি আমার উম্মতের জন্য গোপন শিরককে সবচেয়ে বেশি ভয় করি। তাই আগে নিয়ত ঠিক করা, তারপর হজ করা।

দুই. তওবা: খাঁটি তওবা করে আল্লাহর ঘরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া। তাহলে আল্লাহর দরবারে হজ পালনকারীর অবস্থা ও অবস্থান ভিন্ন হবে। তার দোয়া ও আমল কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

তিন. তাকওয়া: শ্রেষ্ঠ পাথেয় হলো তাকওয়া। কোরআনে আছে—‘আল্লাহ কেবল মুত্তাকি লোকের এবাদতই কবুল করেন।’ (সুরা মায়েদা: ২৭) তাই মুত্তাকি হতে হবে।

চার. হালাল সম্পদ: সম্পদ হালাল হতে হবে। হালাল-হারাম মিশ্রিত হলে হবে না। দশ টাকা দিয়ে কাপড় কিনেছেন, এর মধ্যে এক টাকা হারাম, তবু হবে না। আল্লাহ নিজে পাক-পবিত্র, তিনি পবিত্রতাকেই কেবল পছন্দ করেন।

পাঁচ. হজের উদ্দেশ্য জানা: হজের হাকিকত, হজের শিক্ষা, হজের সফর থেকে কী নিয়ে আসবেন, কেন যাচ্ছেন, হজের তাওফিক আল্লাহর কত বড় নেয়ামত—এসব জানা।

ছয়. হজের মূল আমল সম্পর্কে জানা: হজ নিয়ে আলোচনার আগে হজের আমলগুলো ভাগ করে নেওয়া জরুরি। হাজি সাহেব আলেম না হলে অনেক সময় হজের ব্যবস্থাপনামূলক নিয়মকেও এবাদত মনে করে। তাই দুই ধরনের আমলকে আলাদা করলে পালন করা সহজ হবে।

এক ধরনের কাজ হলো সবসময়ের আমল। যেমন আপনি কীভাবে ঘর থেকে বের হবে, কীভাবে বাহনে আরোহণ করবেন। এই বিষয়গুলোও হজের আলোচনায় আসে। কিন্তু এসব হজের জন্য নির্ধারিত আমল নয়। অন্যদিকে যে কাজগুলো হজের জন্য ফরজ কিংবা ওয়াজিব সেগুলো বিশেষভাবে বুঝতে হবে।

সাত. হজের বিষয়গুলো বুঝে নেওয়া: হজ সংক্রান্ত প্রত্যেকটি নাম আরবি ভাষায়। এই পারিভাষিক নামগুলো মুখস্থ করার প্রয়োজন নেই। কেবল বিষয়গুলো বুঝে নিলেই হবে।

আট. ইতিহাস জানা: হজের সাথে সম্পৃক্ত সবকিছুর ইতিহাস জানা। একেকটা বস্তু একেকটা জায়গা—মিনা, মুজদালিফা, সাফা, মারওয়া, ইসলামের ইতিহাস ও রাসুলের (সা.) জীবনের সাথে এগুলোর সম্পর্ক জানা ও বোঝা।

জুমার দিন কেয়ামত সংঘটিত হবে
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : ইসলামে জুমার দিন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। জুমার দিনের এ বিশেষ মর্যাদার কারণ হলো, এ দিন সৃষ্টিকুলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে ও ঘটবে। এভাবেও বলা যায় যে জুমার দিনটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে আল্লাহ জুমার দিনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন এবং আরও কিছু কাজের জন্য এ দিনটিকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। হাদিসে এসেছে, আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছিল জুমার দিন, তাকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল জুমার দিন, তার তওবা কবুল হয়েছিল জুমার দিন, তার মৃত্যুও হয়েছিল জুমার দিন। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এ দিন আল্লাহ তাআলা আদমকে (আ.) সৃষ্টি করেছেন। তাকে দুনিয়াতে নামানো হয়েছে এ দিন। তার মৃত্যুও হয়েছে এ দিন। তার তাওবা কবুল হয়েছে এ দিন। এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। মানুষ ও জিন ছাড়া এমন কোনো প্রাণী নেই, যা কেয়ামত কায়েম হওয়ার ভয়ে জুমার দিন ভোর থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত চিৎকার করতে থাকে না। জুমার দিন একটা সময় আছে, কোনো মুসলিম যদি সে সময় নামায আদায় করে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাকে তা দান করবেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৬, সুনানে নাসাঈ: ১৪৩০)

এ ছাড়া কিছু হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামত সংঘটিত হবে জুমার দিন এবং এ কারণে মানুষ ও জিন ছাড়া পুরো সৃষ্টিজগত এ দিন ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন,

দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এ দিন আল্লাহ তাআলা আদমকে (আ.) সৃষ্টি করেছেন। তাকে দুনিয়াতে নামানো হয়েছে এ দিন। তার মৃত্যুও হয়েছে এ দিন। তার তাওবা কবুল হয়েছে এ দিন। এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। মানুষ ও জিন ছাড়া এমন কোনো প্রাণী নেই, যা কেয়ামত কায়েম হওয়ার ভয়ে জুমার দিন ভোর থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত চিৎকার করতে থাকে না। জুমার দিন একটা সময় আছে, কোনো মুসলিম যদি সে সময় নামায আদায় করে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাকে তা দান করবেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৬, সুনানে নাসাঈ: ১৪৩০)

আরেকটি হাদিসে নবিজি (সা.) বলেছেন আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারাও জুমার দিন সন্ত্রস্ত থাকেন, শুধু তাই নয়, আকাশ, বাতাস, সাগর, পাহাড়-পর্বতসহ সমস্ত পৃথিবী এ দিন উদ্বিগ্ন ও ভীত থাকে। রাসুল (সা.) বলেন,

জুমার দিন দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। জুমার দিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে মহান দিন। এমনকি এ দিন আল্লাহ তাআলার কাছে ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর তথা ইসলামের দুই ঈদের দিন থেকেও মহান। জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ দিন আল্লাহ তাআলা আদমকে (আ.) সৃষ্টি করেছেন। এ দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এ দিনেই আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করেছেন। জুমার দিন একটা সময় আছে, যে সময় বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাইবে আল্লাহ তাআলা তাকে তা-ই দান করবেন, যদি না সে হারাম কোনো বিষয়ের প্রার্থনা করে। কেয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিন। জুমার দিন নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারা কেয়ামতের আশঙ্কায় ভীত-সন্ত্রস্ত থাকেন। উদ্বিগ্ন থাকে পৃথিবী, আকাশ, বাতাস, পাহাড়, পর্বত, সাগর সবকিছু। (মুসনাদে আহমাদ: ১৫৫৪৮, সুনানে ইবনে মাজা: ১০৮৪১)

সুতরাং জুমার দিন আমাদেরও বেশি বেশি কেয়ামতের কঠিন দিনের কথা স্মরণ করা উচিত। আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর কথা মনে করে সেজন্য নিজেদের প্রস্তুত করা, গুনাহগুলোর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।

হারামাইনে আজ যারা জুমার নামাজ পড়াবেন
                                  

আজ সৌদি আরবে ৩ মে ২০২৪ইং মোতাবেক ২৪ শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরি। ১৪৪৫ হিজরির শাওয়াল মাসের চতুর্থ জুমা আজ। মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে আজ জুমার নামাজের ইমামতি করবেন প্রখ্যাত দুই আলেম ও কারি।

আজ মসজিদে হারামে জুমার নামাজ পড়াবেন আলেম ও কারি শেইখ ফয়সাল গাজ্জাবী। তার বাবার নাম জামিল, দাদার নাম হাসান। ১৯৬৫ সালে তিনি সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।

শেইখ ফয়সাল গাজ্জাবী মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন যথাক্রমে ১৯৯৬ এবং ২০০২ সালে।

তিনি ২০০৮ সালে মসজিদে হারামের ইমাম এবং ২০১৬ সালে মসজিদে হারামের খতিব নিযুক্ত হন।

আজ মসজিদে নববীতে জুমার নামাজ পড়াবেন ড. আহমদ ইবনে আলী আল হুজাইফি। তিনি প্রবীণ আলেম ও কারি, মসজিদে নববির খতিব শায়খ আলি আল হুজায়ফির ছেলে।

শায়েখ আহমদ আল হুজাইফি মদিনার ইসলামি ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ওই ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি তাইবাহ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

২০১৯ সাল থেকে মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি মদিনার মসজিদে কুবার ইমাম ও খতিব ছিলেন।

সূত্র: ইনসাইড দ্য হারামাইন

মেঝের তাপ থেকে বাঁচতে টুপির ওপর সিজদা করা যাবে?
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : সিজদার সময় সাতটি অঙ্গ মাটিতে লাগানো বা সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করা ওয়াজিব; অঙ্গগুলো হলো, চেহারা, দুই হাত, দুই হাঁটু ও দুই পায়ের আঙ্গুল। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,

আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কপাল, (এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশরা করে নাককেও এর অন্তর্ভুক্ত করেন,) আর দুই হাত, দুই হাঁটু, দুই পায়ের আঙ্গুলসমূহ। আর আমরা যেন চুল ও কাপড় না গুটাই। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায় সিজদার সময় কপাল ও নাক মাটিতে লাগাতে হবে। সাধারণ অবস্থায় টুপি বা পাগড়ির প্যাচের ওপর সিজদা করাও মাকরুহ। তবে প্রচন্ড রোদের কারণে মেঝে বা রাস্তা উত্তপ্ত হয়ে থাকলে যদি জমিনে কপাল ঠেকানো কষ্টকর হয়, তাহলে পাগড়ি বা টুপির একাংশ কপালের উপর টেনে নিয়ে তার ওপর সিজদা করা যাবে। এতে নামায মাকরুহ হবে না। সাহাবায়ে কেরামও অনেক সময় প্রচন্ড শীত বা গরমে সরাসরি মাটিতে সিজদা করতে কষ্ট হওয়ার কারণে পাগড়ির পেঁচের ওপর সিজদা করেছেন বলে বর্ণিত রয়েছে।

বিশেষ ওজর ছাড়া টুপি বা পাগড়ির ওপর সিজদা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। হাদিসে এসেছে, নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে পাগড়ির উপর সিজদা করতে দেখে তার কপালের দিকে ইশারা করে বলেন, তোমার পাগড়ি আরো ওঠাও। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ২/৫০০)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকেও বর্ণিত আছে যে, তিনি পাগড়ির উপর সিজদা করা অপছন্দ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ২/৫০০)

কেউ যদি সিজদার সময় জমিনে শুধু মাথা রাখে অর্থাৎ চুলের অংশ জমিনে রাখে কপালের কোনো অংশই জমিনে না লাগে তবে তার সিজদা আদায় হবে না। তাই তার নামাজও হবে না। কারণ সিজদার অঙ্গ কপাল, মাথা নয়।

সিজদা নামাজের অন্যতম ফরজ বা রোকন। সিজদা যথাযথভাবে আদায় করা ছাড়া নামাজ হবে না। তাই সিজদা যথাযথভাবে আদায়ের প্রতি যত্নবান হওয়া আমাদের কর্তব্য।

তীব্র গরমে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন
                                  

তাপদাহে পুড়ছে দেশ। দিনদিন তাপমাত্রার পারদ ওপরের দিকে উঠছে। প্রখর তাপে বিপর্যস্ত জনজীবন। গরম ও অস্বস্তিতে হাঁসফাঁস করছে সাধারণ মানুষ। চলমান এই অবস্থা আরও তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় আবহাওয়া অধিদপ্তর, ‘হিট অ্যালার্ট’ বা তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তার সময় আরও তিন দিন বাড়িয়েছে।

হাদিসের বর্ণিত আছে যে,

প্রখ্যাত সাহাবি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় ও প্রচণ্ড গরম পড়ায় একদিন নবী (সা.) এর কাছে কিছু লোক এলো। (গরমের তীব্রতায়) তারা কাঁদছিল। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাদের জন্য এভাবে দোয়া করলেন-

اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مَرِيئًا نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ ‏

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাস কিনা গাইসান মুগিসান মুরিয়্যান নাফিয়ান গাইরা দাররিন আজিলান গাইরা আজিলিন।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদেরকে বিলম্বে নয় বরং তাড়াতাড়ি ক্ষতিমুক্ত-কল্যাণময়, তৃপ্তিদায়ক, সজীবতা দানকারী, মুষল ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করো।

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাদের ওপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায় (এবং বৃষ্টি হয়)। (আবু দাউদ ১১৬৯, ইবনু খুযাইমাহ ১৪১৬)

হাদিসে গরমকে আল্লাহর ক্রোধ বলা হয়েছে। আর আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচার জন্য নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন দান সদকা করতে বলেছেন, তেমনি দোয়াও শিখিয়ে গেছেন।

দোয়াটি হলো-

اَللهم إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আউজুবিকা মিন যাওয়ালি নি-মাতিকা ওয়া তাহাউলি আফিয়াতিকা ওয়া ফুজাআতি নিকমাতিকা ওয়া জামিয়ি সাখাতিকা।

অর্থ: হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহের অপসরণ, নিরাপত্তার প্রত্যাবর্তন, আকস্মিক পাকড়াও এবং যাবতীয় অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (মুসলিম ২৭৩৯, আবু দাউদ ১৫৪৫)

তাই আসুন দুর্বিষহ এ সময়ে শান্তির বৃষ্টি চেয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করি। সম্ভব হলে ‘সালাতুল ইসতিসকা’ বা বৃষ্টির নামাজ পড়ি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

দুনিয়ার বিপদ আল্লাহর পরীক্ষা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : দুনিয়াবি বিপদ-আপদ যেমন আল্লাহর শাস্তি হিসেবে আসে, পরীক্ষা হিসেবেও আসে। মুমিন ব্যক্তিদের দুনিয়াতে ভয়, ক্ষুধা, জীবন ও সম্পদের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করার ঘোষণা দিয়ে কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি (এসবের) কোনকিছুর দ্বারা নিশ্চয়ই পরীক্ষা করব, ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ প্রদান কর। (সুরা বাকারা: ১৫৫)

কিছু হাদিস থেকে বোঝা যায় দুনিয়াবি বিপদে জর্জরিত হওয়া অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহর নেক বান্দা হওয়ার আলামতও হতে পারে। দুনিয়াবি বিপদে ফেলে আল্লাহ তাআলা তাদের গুনাহ মাফ করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদগ্রস্ত করেন। (সহিহ বুখারি: ৫৬৪৫)

মুসআব ইবন সাদ তার বাবা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবিজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসুল, দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি মসিবতের সম্মুখীন করা হয়? তিনি বললেন, নবিগণ, এরপর যারা ভাল মানুষ তারা, এরপর যারা ভাল তারা। একজন তার দীনদারীর অনুপাতে পরীক্ষায় নিপতিত হয়। যদি সে তার দীনে মজবুত হয় তবে তার পরীক্ষাও তুলনামূলকভাবে কঠোরতর হয়; আর সে যদি দীনের ক্ষেত্রে দুর্বল ও হালকা হয় তবে সে তার দীনদারির অনুপাতেই পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। এভাবে বান্দা বিপদ-আপদে পড়তে থাকে শেষ পর্যন্ত সে পৃথিবীতে এমন মুক্তভাবে বিচরণ করতে থাকে যে তার ওপর আর কোন গুনাহর দায় থাকে না। (সুনানে তিরমিজি: ২৩৯৮, সুনানে ইবনে মাজা: ৪০২৩)

বিদায়ের প্রাক্কালে রোজাদারের কাছে রমজানের বারতা
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : পৃথিবীর যেখানে, যে প্রান্তে, যে জনপদেই মুসলিম রয়েছে, সকলের প্রতি আমাদের হৃদয় নিংড়ানো অভিনন্দন এই জন্য যে তারা এই দেশের ক্রান্তিলগ্নে ফিলিস্তিন মুসলমানেরা ইসরায়েল ইয়াহুদী নাসারাদের দ্বারা নির্যাতিত নিষ্পেষিত সময়ে এসেও মহান মোবারক মাস মাহে রমজানের পবিত্রতায় সিক্ত হয়েছেন, রোজা পালন করে নিজেদের তাপিত প্রাণ শীতল করেছেন, নিজেদের আত্মার তৃপ্তি পরিতৃপ্তি অর্জনের পথে ধাবিত হয়েছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লার সন্তুষ্টি এবং রেজামন্দি হাসিলের প্রচেষ্টায় কল্যানের কাজে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন। শুকরিয়া আদায় করে শেষ করা যাবে না সেই মহামহিয়ান রাব্বুল কারিমের যিনি আমাদের পুনরায় এই ২০২৪ সালের রমজানপ্রাপ্তির অতুল সৌভাগ্য দানে ধন্য, কৃতার্থ এবং সৌভাগ্যমন্ডিত করেছেন। আমাদের ছোট,সমবয়সী,বড় রোজা রাখার, ঈদুল ফিতর উপভোগ করার সৌভাগ্য হয়নি মহান আল্লাহর ডাকে সারা দিয়ে চলে গেছে পরপারে। মহান আল্লাহ্ তিনি যদি রমজানের আগে আমাদের উঠিয়ে নিতেন অথবা যদি আমাদের অসুস্থ করে দিতেন, যদি অক্ষম করে দিতেন, যদি বিরূপ এবং প্রতিকুল অবস্থায় ফেলে রাখতেন, যদি ইবাদতের গুরুত্ব এবং মূল্য অনুধাবনের মত চিন্তা এবং ভাবনার ক্ষমতা তিরোহিত করে উদভ্রান্ত করে রাখতেন, যদি তাকে চেনার, বুঝার এবং ডাকার মাহাত্ম আত্মস্থ করার মত দিল, দেমাগ এবং মস্তিষ্ক না দিতেন, যদি তাঁর পথ `সিরাতুল মুস্তাকিমে` চলার তাওফিক না দিতেন- তাহলে তো আমরা রমজানের স্বাদ, সুফল ও মর্যাদা বুঝতে পারতাম না, রমজান দ্বারা উপকৃত হতে পারতাম না। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লার অনুগ্রহ তিনি ঈমান ও ইসলামের সঙ্গে, সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায়, নিরাপদ ও নিশ্চয়তার মধ্যে রোজা অতিবাহিত করার সুযোগ দান করেছেন। রমজানের শুরুতে আমরা আনন্দ প্রকাশ করেছি এবং পরস্পরকে অভিনন্দন জানিয়েছি, মাহে রমজানের শুভেচ্ছা এবং শুভকামনায় অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছি। দীর্ঘ একটি মাস সিয়াম সাধনা সমাপনান্তে এখন বেদনাভারাক্রান্ত এমন একটি বিদায়ের ক্ষন আমাদের সামনে উপস্থিত, যখন আমরা পরস্পর পরস্পরকে সান্ত্বনা দেব এবং ধৈর্য্যধারণে উৎসাহিত করব, কল্যানকর কাজ অব্যাহত রাখার প্রেরণা জাগিয়ে তুলতে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাব। কারণ, রহমত, বরকত, ক্ষমা এবং নাজাতের ধারা বইয়ে দেয়া প্রিয় মাহে রমজান চলে গেলো আমাদের থেকে বিদায় নিয়ে। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা যেমন আমাদেরকে ব্যথিত করে, অন্তরকে কাঁদায়, চোখকে অশ্রুসিক্ত করে, বিচ্ছেদ আর বিরহের কষ্টগুলো আমাদের মনের আকাশে কালো মেঘের সৃষ্টি করে, পবিত্র মাহে রমজানও তো ঠিক তেমনই, হৃদয়ে আনন্দের হিল্লোল বইয়ে দেয়া, ইবাদতের মওসুম, ইবাদতের বসন্তকাল খ্যাত পরম প্রিয় ঈদ মোবারক মাস কল্যাণকর রমজান মাস যুগোপযোগী বারংবার আমাদের ফিরে ফিরে আসুক প্রত্যাশা আমাদের।

আল্লাহুমাগফিরলী ওয়াহদীনি, ওয়ারযুক্বুনী ওয়া আফিনী। অর্থ : আয় আল্লাহ্ আমাকে মাফ করুন, আমাকে হিদায়ত দান করুন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমাকে নিরাপত্তা দিন।
আ`উযু বিল্লাহি মিন দীক্বিল মাক্বামী ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ । অর্থ : আল্লাহ পাকের নিকট কিয়ামতের দিবসের কঠিন্য ও বিপদ থেকে পানাহ্ চাচ্ছি।
নিতান্ত আফসোস এবং দুঃখবোধ হয়, আমরা অধিকাংশ মানুষই মাহে রমজানের বিদায়ের প্রাক্কালে এসব অনুভূতি লালন করি না, আমাদের ভেতরে এই অনুভব ও অনুভূতিরই উপস্থিতি নেই যে, পবিত্র মাহে রমজান আমাদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে, আমাদের ভাব ও ভাবনায় নেই যে কী অমূল্য সময় জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের। রমজান আবারও আসবে। যত দিন আল্লাহর ইচ্ছা—তিনি পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখেন রমজান আসবে, প্রতিবছরই আসবে, যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে আসবে, রোজাদাররা রোজা রাখবে, মুসল্লিরা মসজিদ আবাদ করবে; কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা থাকব কি না? আর যদিও থাকি, তবে কী অবস্থায় থাকব?
সুতরাং এ বছর মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লা যে রমজান দান করেছিলেন তাঁর একান্ত অনুগ্রহ ছিল। এ অনুগ্রহ লাভে আমরা যেমন আনন্দিত হয়েছিলাম, তেমনি তার বিদায়ে ব্যথিত হয়ে রইলাম। তবে তাকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেব না। বর্তমানে কোথাও কোথাও ধুমধামের সঙ্গে রমজানকে বিদায় জানানো হয়। ‘জুমাতুল বিদা’ (রমজানের শেষ জুমা) কেন্দ্রিক আয়োজন তার একটি দৃষ্টান্ত। এসব আনুষ্ঠানিকতা রমজানের মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী। রমজানের শিক্ষা হলো যতটুকু সময় মেলে একান্তে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লার ইবাদত করবে, মসজিদে অবস্থান করবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লার জিকিরে মগ্ন থাকবে, রমজানের যে সামান্য সময় মধ্যে হতে চলে গেলো,তাতে কোরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লার দরবারে অশ্রু বিসর্জন করবে। ইবাদত, জিকির ও চোখের পানি যেহেতু আল্লাহর জন্য, তাই মানুষ-দেখানো আয়োজন নিষ্প্রয়োজন। শোকযাত্রা ও বড় আয়োজনে রমজানকে বিদায় জানানোর মধ্যে, এমনকি হাজারবার ‘বিদায়’ শব্দ উচ্চারণেও কোনো উপকার নেই। বুদ্ধিমানের কাজ হলো- অতীতের সময়ের সদ্ব্যবহার হলে আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা আদায় করা, সদ্ব্যবহার করতে না পারলে লজ্জিত-ব্যথিত হয়ে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং যতটুকু সময় অবশিষ্ট ছিলো তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা। লজ্জা ও তাওবা বান্দার কাজের অপূর্ণতা দূর করে এবং আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লার নৈকট্য দান করে।
মানুষ যত বেশি মূল্যবান জিনিস হাতছাড়া করে, ততো বেশি ব্যথিত হয় এবং তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে। আর তা হারিয়ে না গেলেও আগামী ১৪৪৬ হিজরী সনের রমজান মাস পাবোকি একমাত্র মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের কৃপাময় দানের উপর তাওয়াক্বাল। এবং আগামী বছর সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এখন ভেবে দেখতে হবে, রোজা ও রমজানের সঙ্গে আমরা কেমন আচরণ করেছি এবং কিভাবেই তা তাকে বিদায় জানাচ্ছি। অন্তর সাক্ষ্য দেবে- রমজানের কোনো অধিকার আমরা আদায় করতে পারিনি, আমরা নিজেরাও রমজানের জন্য যোগ্য ছিলাম না, তার পরও আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লা যখন নিজ অনুগ্রহে আমাদের তা দান করলেন আমরা তার যথাযথ মূল্যায়ন করিনি। করতে পারিনি। যা করেছি বহুগুণে বৃদ্ধি করে মহান আল্লাহ্ তা কবুল করুন আমীন।
যদি কোনো বাদশাহ আপনার কাছে আসেন এবং আপনি তাঁর আপ্যায়ন করেন। আর যাওয়ার সময় তাঁকে বলেন- আপনার কি চমৎকার আপ্যায়নই না করলাম, এমন আপ্যায়ন আপনি কোথায় পাবেন? তাহলে বাদশাহ অপমান বোধ করবেন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে শাস্তিও দিতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি আপনার অপূর্ণতার কথা স্বীকার করেন এবং অপারগতা প্রকাশ করেন, তবে তিনি খুশি হয়ে আপনাকে পুরস্কৃত করবেন। রমজান মুমিনের জন্য বাদশাহর চেয়েও সম্মানিত অতিথি। সে এসেছিল এবং এখন বিদায় নিচ্ছে। রোজার ব্যাপারে রাজাধিরাজ মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘রোজা আমার জন্য এবং আমি নিজে তার প্রতিদান দিই।’ সে মহিমান্বিত রোজা আমাদের ঘরে এসেছিল। এসে সে কী পেয়েছে? তার কি আদর-আপ্যায়ন হয়েছে? না আমরা ঠিকমতো রোজা রেখেছি, না আমরা নামাজ আদায় করেছি। কতটা অমনোযোগ নিয়ে তিলাওয়াত করেছি! আমরা গোপনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লার
বান্দাদের কোনো সাহায্য করেছি? অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছি? প্রতিবেশীরা যেন নিরুদ্বেগে রোজা রাখতে পারে সে চিন্তা কখনো এসেছে মাথায়? মূলত আমরা এমন কিছুই করতে পারিনি, যা আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা যায়, যা দেখে মহান আল্লাহ খুশি হবেন। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লা ভগ্নহৃদয় মানুষের কাছে থাকেন। মানুষ ফরিয়াদ করবে, হে প্রতিপালক! আমরা আপনাকে কোথায় খুঁজব? আমরা দরিদ্র, আমাদের মাটি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে, আমরা অপবিত্র। অন্যদিকে আপনি মহান, আপনাকে কোথায় খুঁজে পাব? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লা বলবেন, আমাকে অনুসন্ধান করতে হলে ভগ্নহৃদয় মানুষের কাছে করো, ব্যথিতপ্রাণ মানুষের কাছে যাও।
যেহেতু আমরা রোজার অধিকার আদায় করিনি, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লার দরবারে পেশ করার মতো ইবাদতও করতে পারিনি, তাই যে সামান্য সময়টুকু আছে, তা তাওবা ও ইস্তিগফারে অতিবাহিত করব। আমাদের করা সামান্য ত্রুটিপূর্ণ ইবাদতগুলো যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লা নিজ অনুগ্রহে কবুল করে নেন সেই প্রার্থনা করব।
আগামীকাল ঈদ। ঈদের আনন্দ তাদের জন্য, যারা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লা এবং তাঁর রাসুল করিম সাল্লুল্লাহ আলাইহিসসালাম নির্দেশনা মতে রোজা অতিবাহিত করতে পেরেছে। কিন্তু রমজানের হক যে ব্যক্তি আদায় করেনি, তার জন্য আনন্দ কোথায়? সে নিজের অবহেলা, অমনোযোগ ও অপূর্ণতার জন্য মনস্তাপে পুড়বে। বহু মানুষ রোজা রাখে না কিন্তু ঈদের আনন্দ অতিশয় উৎসাহ এবং আয়েশের সাথে পালন করে। আর কিছু মানুষ ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে রমজানের সব সংযমকে পর্যন্ত বিসর্জন দিতে কার্পন্য করে না। তারা এ কথা বেমালূম ভুলে যায় যে মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লা বলেছেন, ‘তোমরা খাও, পান করো; কিন্তু অপচয় কোরো না।’

কিছু মানুষ এখনও এমন রয়েছে, যারা রোজা রাখে না কিন্তু ইফতার খেতে সামান্য পরিমান ভুল করেন না। তাদের বোধ করি, চিন্তাটা এমন যে, রোজা না রেখে করেছি একটা অন্যায় ইফতার গ্রহন না করে কি আরেক অন্যায় যোগ করবো না কি তার সাথে? ইফতারির কথা আর কি বলি? তারা শেষ রাতের আরামের ঘুম হারাম করে উঠে সাহরি খেতেও ভুল করেন না। তাদের কি যে অপার্থিব এক আনন্দ এই রোজার মাসটি ঘিরে! সত্যিই বিচিত্র, সত্যিই আজিব এবং আশ্চর্য্য বিষয় বটে! তবে, তাদের জন্য ৃআমাদের প্রাণঢালা শুভকামনা, অনিঃশেষ ফরিয়াদ হে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লার দরবারে, তারা যেন ইফতার-সাহরি গ্রহণের পাশাপাশি রোজা রাখার প্রতিও মনযোগী হতে পারেন,মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ সুবহানাহু ওয়া তাআ`লা তাদেরকে সেই তাওফিক প্রদান করুন,আমীন।

অনুলেখক: মিয়া আবদুল হান্নান, ইউনিট প্রধান- দৈনিক এশিয়া বাণী।
মূল : উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, বিদগ্ধ দায়ী সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.)

তারাবির নামাজ ৩০ রোজা আমরা কিভাবে রমজানকে বিদায় জানাবো?
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : গতকাল দিনগত রাতে দীর্ঘ ১১ মাস অপেক্ষার পরে রমজান মাস এসেছিলো ১ মাস তারাবিহর নামাজ শেষে সারাদেশে মসজিদ বাসা বাড়িতে মুসল্লিরা ২ রাকাত শুকরিয়াতান নামাজ আদায় করে ১৪৪৫ সালে রমজান মাসের তারাবিহর নামাজকে কান্নাকাটি মাধ্যমে বিদায় সম্ভাষণ জানিয়েছেন মুসলিমগন।

বিদায় মাহে রমজান, ব্যথিত মুমিনের হৃদয়।
ঈদের সুসংবাদ নিয়ে হেসে উঠবে শাওয়ালের চাঁদ। বিদায় নেবে সাধনা সংযম ও ইবাদতের মহিমান্বিত মাস মাহে রমজান। তাই ব্যথিত প্রতিটি মুমিনের হৃদয়। মনের কোনে একটি প্রশ্ন বার বার উকি দেয়, দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত সফরে আবার কী ফিরে পাবো আগামী রমজান? নাকি আমার জীবন থেকে চিরতরে বিদায় নিলো রহমত মাগফিরাত ও নাজাতে মোড়ানো বরকতময় এই মাস। রমজানুল মোবারকের শেষ বিদায় অনেকেরই হৃদয় ব্যথিত ও চোখ অশ্রুসিক্ত হয়, আরজ করেন মহান আল্লাহর দরবারে, আমাদের জীবনে আবার যেন ফিরে আসে মাহে রমজান।

তবে রমজানুল মোবারক শেষ হয়ে গেলেও এ মাসের সংযমের শিক্ষা জীবনের সব ক্ষেত্রে ধারণ ও লালন করতে হবে আমৃত্যুকাল। সুদ, ঘুষ, মিথ্যাচার, দুর্নীতি, হিংসা ও লালসা ইত্যাদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বর্জন করতে হবে রমজানের মতো রমজান-পরবর্তী জীবনেও। কেননা প্রকৃত মুমিন ১২ মাসই রমজানের মতো অতিবাহিত করেন। তারাবিহর নামাজ শেষ, আমরা ৫ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়বো না, মহান আল্লাহ্ রাব্বুল ইজ্জৎ যেন ঈমানের সাথে তৌফিক দান করুন।

ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ. তার গভর্নদের লিখে পাঠান যে, তোমরা রমজান মাস ইস্তেগফার ও সদকার মাধ্যমে খতম কর। কারণ, সদকা রোজাদারের জন্য পবিসয়ে সাহুর ন্যায়।‘ আব্দুল আজিজ তার পত্রে বলেন, ‘তোমরা আবু বকরের ন্যায় বল: তারা বলল, হে আমাদের রব, আমরা নিজদের উপর যুলক করেছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদেরকে দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব। [আরাফ :২৩]
আর যদি আপনি আমাকে মাফ না করেন এবং আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। [হুদ : ৪৭]
আর যিনি আশা করি, বিচার বিদসে আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেবেন। [শুআরা : ৮২]
হে আল্লাহ, আমি আমার ওপর যুলক করেছি, তুমি আমাকে ক্ষমা কর।‘ [কাসাস : ১৬]
আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম যালিম। [আম্বিয়া : ৮৭, লাতায়েফ : ৩৮৭]
ঈদের রাতের আমল :
রমজানের মাগফেরাত যেহেতু রোজা ও কিয়ামের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাই আল্লাহ তাআলা রমজান শেষে তার শুকরিয়া আদায় ও তাকবির বলার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি বলেন: ‘তার জন্য তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর। [বাকারা : ১৮৫]
এর ব্যাখ্যায় ইবনে মাসউদ বলেন: আল্লাহর পরিপূর্ণ তাওয়া অর্জন করা। অর্থাৎ তার এবাদত করা গোনা না করা। তার স্বরণ করা তাকে না ভুলা এবং তার শুকরিয়া আদায় করা তার কুফরি না করা।‘ ঈদের দিনের সূর্যাস্ত থেকে ঈদের সালাত আদায় পর্যন্ত তাকবির বলা বিধেয়। পুরুষরা মসজিদে, বাজারে ও ঘরে জোড়ে জোড়ে তাকবির বলবে। [তাফসিরে ইবনে আবি হাতেম : ২/৪৪৬]
ঈদের দিনের সুন্নত :
সালাতে যাওয়ার আগে ঈদের দিন খেজুর খাওয়া। বেজোড় সংখ্যায় খেজুর খাওয়া সুন্নত। আনাস রা. বলেন: ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর না খেয়ে ঈদের সালাতের জন্য বের হতেন না, তিনি বিজোর সংখ্যায় খেজুর খেতেন।‘ [বুখারি : ৯৫৩]

নারীরাও তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে ঈগগাহে যাবে। তারা সালাতে ও জিকিরে অংশ গ্রহণ করবে।আমাদের অনেকেই নিজ সন্তানদের পোষাক আশাকের ক্ষেত্রে উদাসীন থাকি, এটা মোটেও ঠিক নয়। বরং তাদের ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক পোশাক-আষাক পড়তে বাধ্য করা।আবার অনেককে দেখা যায়, ঈদ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বের হয়ে যায়, গান-বাদ্যতে রাত কাটিয়ে দেয়, এটা কখনো ঠিক নয়। বরং এবাদত, ইস্তেগফার ইত্যাদির মাধ্যম ঈদ অতিবাহিত করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে তওফিক দান করুন।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতকারী ও সদকাকারীদের চেনে নেবে। তারা আল্লাহর রহমত প্রত্যাশা করে, তারা জানে যে, আল্লাহ ক্ষমাকারী, তাই তারা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে।

গোনাহগাররা যদি আল্লাহর মাগফেরাত সম্পর্কে না জানতো, তবে তাদের অন্তর জ্বলে যেত, তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যেত। কিন্ত তারা যখন আল্লাহর ক্ষমার কথা স্বরণ করে, তাদের অন্তর তৃপ্তিতে ভরে যায়। তাদের কেউ বলেছেন: ‘হে আল্লাহ, আমাদের গোনাহ অনেক, কিন্তু তোমার মাগফেরাত খুব বড়। হে আল্লাহ, আমার গোনাহ ও তোমার মাগফেরাতের মধ্যে তুলনা করে দেখ।‘ [লাতায়েফ : ৩৭০]
এ হচ্ছে নেককারদের দোয়া। তারা এভাবেই রমজান অতিবাহিত করেন। তাদেরই শোভা পায় এর সমাপ্তিতে ক্রন্দন করা। কারণ, এর মর্যাদা তারা বুঝে। এতদ সত্বেও তারা ভীত থাকে, কবুল না হওয়ার ভয়ে সঙ্কীত থাকে। তারা জানে আসল বিষয় হচ্ছে কবুল হওয়া, পরিশ্রম করা নয়। অন্তরের পবিত্রতাই আসল পবিত্রতা, শরীরের পবিত্রতা নয়।

মাহরুম কত রাত জাগরণকারী, মাহরুম কত ঘুমন্ত ব্যক্তি। কত ঘুমন্ত অন্তর আল্লাহর জিকিরে মশগুল, কত জাগ্রত অন্তর আল্লাহর অপরাধে লিপ্ত। কিন্তু বান্দাদের উচিত নেককাজের জন্য চেষ্টা করা এবং তার কবুলের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করা। এটাই নেককারদের অভ্যাস। হে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ আপনি আপনার বান্দাদের মাফ করে নেক হায়াৎ তৈয়বা দান করুন, আমীন।

২৯ রমজানের রোজার ফজিলত “এক হাজার কবুল হজ্জের সাওয়াব প্রদান করা হয়
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : সৌদি আরবে আগামী বুধবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দেশটিতে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।

সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে যে আগামীকাল মঙ্গলবার দেশটিতে শেষ রোজা হবে। তার পরদিন শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবের এক দিন পর ঈদ উদ্‌যাপিত হয়ে থাকে।আজ ২৯ রমজান, ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার আগামীকাল বুধবার ৩০ টি রোজা পরিপূর্ণ হচ্ছে। সৌদি আরবে আগামী বুধবার ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে এবং একদিন পরই চিরাচরিতভাবে বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মুসলমানরা আগামী বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন । মুসলমানদের সুভাগ্য ৩০ টি রোজা পালন করতে পারছেন।

কোরআন খতমের সেরা মুহুর্ত : রমজান মাসের শেষ দশকে বিশেষত কদরের রাতে আল্লাহ তায়ালা কোরআন মাজিদ নাজিল করেছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,
‘নিশ্চয় আমি কদর রজনীতে কুরআন অবতীর্ণ করেছি।’ (সূরা কদর, আয়াত : ১)আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘আমি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি বরকতপূর্ণ রজনীতে, বস্তুত আমি সতর্ককারী।’ (সূরা দুখান, আয়াত : ৩)
এখানে বরকতময় রজনী বলে শবে কদরকে বোঝানো হয়েছে। আমরা যারা রমজানে কোরআন তিলাওয়াত করি তারা শেষ দশকে কোরআন খতম করলে তা বেশি ফজিলতপূর্ণ।
ইতিকাফ :নাজাতের শেষ দশকের গুরুত্বপূর্ণ আমল ইতিকাফ। দুনিয়ার সকল ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে একনিষ্ঠচিত্তে আল্লাহর ঘরে বসে ইবাদত করাকে ইতিকাফ বলা হয়। ইতিকাফে আল্লাহর কাছে বান্দার আবেদন অনেকটা এমন ধাকে যে— ক্ষমা না নিয়ে ঘরে ফিরব না।

রাসূল সা. শেষ দশকে নিয়মিত ইতিকাফ করতেন। মদিনার জীবনে একটি রমজানে (জিহাদের সফরে থাকার কারণে) ইতেকাফ করতে পারেননি। তাই পরবর্তী বছর ২০ দিন ইতিকাফ করে তা পূরণ করে নিয়েছেন। সাহাবিরাও তার সাথে ইতিকাফে অংশগ্রহণ করেছেন।

সদকাতুল ফিতরসদকাতুল ফিতর : মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা রমজানের শেষে ঈদুল ফিতরের দিন আদায় করতে হয়। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে ফিতরা আদায়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং নিয়ম-নীতি শিক্ষা দিয়েছেন।

নবীযুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ ইসলামের পাঁচ রোকন ও দ্বীনের অন্যান্য মৌলিক আমল ও ইবাদতের মতো সদাকাতুল ফিতরও নিয়মিত আদায় করছেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সা. সদাকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন। অর্থহীন, অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয়, তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার জোগানোর জন্যই এটা জরুরি। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২২৭)
তাই সকলের কর্তব্য, খুশিমনে এই ফিতরা আদায় করা, যেন এর মাধ্যমে গরিবের মুখে হাসি ফোটানো যায় এবং নিজের রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ হয়।হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, যারা আমার সৃষ্টির প্রতি দয়া করে আমি তাদের প্রতি দয়াশীল হই। সৃষ্টিকুলের প্রতি দয়ার্দ্র হওয়ার উপযুক্ত সময় রমজান। এ গুণটি কোনও মুমিনের মধ্যে এসে গেলে তিনি সফল। মানবতার প্রতি কোমল ও সদাচার হওয়ার অনেক উপলক্ষ রয়েছে রমজানে। যারা এ উপলক্ষগুলো যথাযথ কাজে লাগাতে পারবেন তারাই রমজানের পুরো ফজিলত লাভের আশা করতে পারেন।
রহমত, মাগফেরাত, নাজাত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে রমজান এসেছিল। জীবনের জন্য অনিবার্য এই বিষয়গুলো আমরা কতটা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি তা নিজেরাই ভালো জানি। রমজানের পুরোপুরি হক আদায় করে রোজা আমরা কেউই রাখতে পারিনি। আমাদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও রোজায় কিছু ত্রুটি- বিচ্যুতি হয়েই গেছে। সেই ত্রুটিগুলো শুধরানোর উপযুক্ত সময় এটাই। শেষ মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে পারলে আশা করা যায় রমজানের পুরোপুরি প্রাপ্তি আমরা নিশ্চিত করতে পারবো। হে রাব্বুল ইজ্জৎ আমাদের আমল কবুল ও ভুলত্রুটি ক্ষমা করো, আমীন।

২৮ রমজানের রোজার ফজিলত জান্নাতের নেয়ামত দ্বিগুন করা হয়
                                  

মিয়া আবদুল হান্নান : রমজানের ২৮ তারিখের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয় – “জান্নাতের নেয়ামত দ্বিগুন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে পবিত্র লাইলাতুল কদর। পবিত্র শবে কদরের রাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মতো সারাদেশে লাইলাতুলকদর রাতে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। গুনাহ মাফের আশায় পবিত্র শবে কদরে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহর রহমত কামনা করে পবিত্র শবে কদর পালন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। রাতভর মসজিদসহ বাসাবাড়িতে নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরাআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকরে মশগুল ছিলেন তারা। ১৪৪৫ হিজরির ২৮ রমজান আজ। জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির অষ্টম দিন অতিবাহিত হচ্ছে আজ। রমজানের শেষ দশকের ৮ ম দিন, আগামীকাল ৯ এপ্রিল, ২৯ রমজান লাইলাতুলকদর তালাশ ও নফল নামাজ আদায় করে সারা রাত এবাদত বন্দিগীতে মশগুল থাকা। আজকের দিনে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ সহজ হওয়ার একটি দোয়া তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ওয়াফ্‌ফির হাজ্জি ফিহি মিনান নাওয়াফিল; ওয়া আকরিমনি ফিহি বি-ইহদারিল মাসাইল; ওয়া ক্বার্‌রিব ফিহি ওয়াসিলাতি ইলাইকা মিন বাইনিল ওয়াসাইল; ইয়া মান লা ইয়াশগালুহু ইলহাহুল মুলিহহিন। অর্থ : হে আল্লাহ! এ দিনে আমাকে নফল ইবাদাতের পর্যাপ্ত সুযোগ দাও। ধর্মীয় শিক্ষার মর্যাদায় আমাকে ভূষিত কর। তোমার নৈকট্য লাভের পথকে আমার জন্যে সহজ করে দাও। হে পবিত্র সত্ত্বা! যাকে, অনুরোধকারীদের কোনো আবেদন-নিবেদন ন্যায় বিচার থেকে টলাতে পারে না। মঙ্গলবার মাগরিব নামাজের পরপরই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে কদরের রাতের গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এশার জামাতে অংশ নেন বায়তুল মোকাররমের কাছের ও দূর থেকে আসা মুসল্লিরা। নামাজ শেষে তারা পরিবার, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা ও তীব্র দাবদাহ থেকে স্বস্তির দোয়া করেন। মহান আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরের রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ইবাদত-বন্দেগি করে থাকেন। পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন এ রাতে মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া, মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে শবে কদরের রজনী পালন করছেন । আমাকে নফল ইবাদাতের পর্যাপ্ত সুযোগ দাও।হে আমার মালিক আমাকে ক্ষমা করো, আমীন।

পবিত্র লাইলাতুল কদর শনিবার
                                  

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে শনিবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর পালিত হবে। এদিন মহান রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে পবিত্র লাইলাতুল কদরের রজনী পালন করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

মহান আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরের রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এ রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এবাদত-বন্দেগি করে থাকেন।

পবিত্র রমজান মাসের লাইলাতুল কদরে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া, মিলাদ মাহফিলের মধ্যদিয়ে শবে কদরের রজনী কাটাবেন।

পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এছাড়া পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। শবে কদর উপলক্ষে আগামী রোববার সরকারি ছুটি থাকবে।


   Page 1 of 24
     ইসলাম
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ
.............................................................................................
ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ
.............................................................................................
ঈদুল আজহা কবে জানা যাবে শুক্রবার
.............................................................................................
জুমার দিন মুনাফিকের তালিকায় ওঠে যাদের নাম
.............................................................................................
ভাগ্যে যেখানে যার মৃত্যু লেখা
.............................................................................................
হজের মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি
.............................................................................................
জুমার দিন কেয়ামত সংঘটিত হবে
.............................................................................................
হারামাইনে আজ যারা জুমার নামাজ পড়াবেন
.............................................................................................
মেঝের তাপ থেকে বাঁচতে টুপির ওপর সিজদা করা যাবে?
.............................................................................................
তীব্র গরমে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন
.............................................................................................
দুনিয়ার বিপদ আল্লাহর পরীক্ষা
.............................................................................................
বিদায়ের প্রাক্কালে রোজাদারের কাছে রমজানের বারতা
.............................................................................................
তারাবির নামাজ ৩০ রোজা আমরা কিভাবে রমজানকে বিদায় জানাবো?
.............................................................................................
২৯ রমজানের রোজার ফজিলত “এক হাজার কবুল হজ্জের সাওয়াব প্রদান করা হয়
.............................................................................................
২৮ রমজানের রোজার ফজিলত জান্নাতের নেয়ামত দ্বিগুন করা হয়
.............................................................................................
পবিত্র লাইলাতুল কদর শনিবার
.............................................................................................
রমজানের ২৬ রোজার ফজিলত ৪০ বছর ইবাদতের সমান সওয়াব প্রদান করা হয়
.............................................................................................
২৫ রমজান জুমআতুলবিদা কবরের শাস্তি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়
.............................................................................................
রোজাদারের যে কোন ২৪টি দোয়া কবুল করা হয়
.............................................................................................
রমজানের ২৩ তারিখের রোজার ফজিলত “জান্নাতে রোজাদারের জন্য একটি শহর নির্মান করা হয়
.............................................................................................
রমজানের ২২ তম রোজার ফজিলত : রোজ হাশরের ময়দানের সকল চিন্তা থেকে মুক্ত করা হয়
.............................................................................................
ইতেকাফে বসার নিয়ম প্রস্তুতি ও মাগফিরাতের বিদায় নাজাতের ১০ দিন শুরু
.............................................................................................
১৯ তম রোজার ফজিলত : পৃথিবীর সকল পাথর-কংকর টিলা- টংকর রোজাদারের জন্য দোয়া করতে থাকে
.............................................................................................
১৮ তম রোজার ফজিলত : রোজাদার এবং তার মা-বাবার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হয়
.............................................................................................
১৭ তম রোজার ফজিলত : রমজানে একদিনের জন্য নবীগনের সমান সাওয়াব দেওয়া হবে
.............................................................................................
১৬ তম রোজার ফজিলত : আল্লাহ রোজাদারকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করেন
.............................................................................................
যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ ও মাকরুহ হয়
.............................................................................................
১৫ তম রোজার ফজিলত : রমজানের ১৫ রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয় সমস্ত ফিরিস্তারা রোজাদারের জন্য দোয়া করে
.............................................................................................
১৪ তম রোজার ফজিলত : রমজানের ১৪ তারিখের রোজাদারদের হাশরের ময়দানে হিসাব- নিকাশ সহজ করা হবে
.............................................................................................
রমজানের ১৩ নম্বর রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয় হাশরের ময়দানের সকল বিপদ থেকে নিরাপদ করা হবে
.............................................................................................
রমজানের ১২ তারিখের রোজার মাগফিরাতের দ্বিতীয় দিনের ফজিলত সম্পর্কে বলা হয় হাশরের ময়দানে রোজাদারের চেহারা পূর্ণিমা চাঁদের মতো উজ্জল করা হবে
.............................................................................................
রমজান মাসের ১১ তম রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়-রোজাদারের মৃত্যু নবজাতকের ন্যায় নিষ্পাপ নিশ্চিত হয়
.............................................................................................
রহমতের ১০ দিনের বিদায় মাগফিরাতে রোজা শুরু ফজিলত দেখে নেওয়ার আমল
.............................................................................................
এবার ফিতরা কত, জানা যাবে বৃহস্পতিবার
.............................................................................................
নবম রমজানের ফজিলত নবী-রাসূলদের সাথে দাড়িয়ে ইবাদতের সমান সওয়াব দেওয়া হয়
.............................................................................................
রমজানের ফজিলত : রোজাদারের উপর ইবরাহীম আঃ এর মতো রহমত বর্ষণ
.............................................................................................
সপ্তম রোজার দোয়া ও ফযিলত : আল্লাহর স্মরণ করা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় রহমত
.............................................................................................
রমজানে আল্লাহর ক্রোধ তোমার নির্দেশ অমান্য করার কারণে এই দিনে আমায় লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করো না
.............................................................................................
রমজান রহমতের পঞ্চম রোজা। রোজা মুসলমাদের ধর্মীর ৫টি স্তম্বের একটি
.............................................................................................
পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম জুমা আজ
.............................................................................................
রমজানের চতুর্থ রোজা ফজিলত : আসমানি চার কিতাবের বর্ণ সমান সাওয়াব
.............................................................................................
রোজা রমজান পালনের অর্থ শুধু উপবাস করা বা অভুক্ত থাকা নয়
.............................................................................................
রমজান মুমিনের জীবনে বিশেষ বরকত নিয়ে আসে
.............................................................................................
রোজা রাখার যে স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেকেরই অজানা
.............................................................................................
জুমার দিন নবিজির (সা.) জন্য দোয়া
.............................................................................................
দুধপানকারিনী ও গর্ভবতী মায়ের রোজা
.............................................................................................
রাগ নিয়ন্ত্রণে কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা
.............................................................................................
পবিত্র শবে বরাত আজ
.............................................................................................
মজার ছলে বাজি ধরা জায়েজ?
.............................................................................................
জুমার খুতবায় যে আয়াত পাঠ করতেন নবিজি (সা.)
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: [email protected]
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Dynamic Scale BD