| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * লকডাউনে বিয়ে: ইউএনও`র আগমনে খাবার রেখেই পালালো বরযাত্রী   * বার্সেলোনার সঙ্গে নেইমারের নতুন চুক্তি   * বগুড়ায় করোনায় নার্সের মৃত্যু   * একদিনে সর্বোচ্চ ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি   * চট্টগ্রামে বিধিনিষেধ অমান্য করায় ২১৮ মামলা, জরিমানা লাখ টাকা   * জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের মার্কেটে আগুন   * তিউনিসে আল-জাজিরার ব্যুরো অফিসে অভিযান   * স্বজনের লাশ দেখতে গিয়ে সড়কে ঝরল নারীর প্রাণ   * কক্সবাজারের ঈদগাঁও-কে নতুন উপজেলা ঘোষনা   * করোনায় করণীয় নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক বসছে  

   অপরাধ ও অনিয়ম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়ল ২ কোটি টাকার ব্রিজ

অনলাইন ডেস্ক : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার কুয়াকাটা-মিশ্রীপাড়া সড়কের দোবাসীপাড়া খালের ওপর নির্মাণাধীন ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি ধসে পড়েছে।

রোববার (২৭ মার্চ) সকালে হঠাৎ ব্রিজের গার্ডার দুটি ধসে পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ব্রিজে কর্মরত শ্রমিক আবু জাফর বলেন, ‘আমরা চার-পাঁচজন ব্রিজের নিচে পড়ে থাকা কাঠ ও টিন আনতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ হলে আমরা দ্রুত সরে যাই। এরমধ্যেই ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুয়াকাটা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ব্রিজটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈয়দ সোহেল অ্যান্ড দ্বীপ এন্টারপ্রাইজ। এর ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ২৬ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৩ টাকা। গত ২০২০ সাল থেকে ব্রিজটি নির্মাণ কাজ চলছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাঁচামাল ও অপরিকল্পিত ডিজাইনের ফলে এই ব্রিজটি ধসে পড়েছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজটির কাজ করেছে। যেখানে তিন-চারটি গার্ডার প্রয়োজন সেখানে মাত্র দুটি গার্ডার দেয়া হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ব্রিজটি ভেঙে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা হালিম বলেন, ‘আমরা গত ১০-১৫ বছর প্রায় তিন-চারটি ইউনিয়নের মানুষ চরম দুর্ভোগে ছিলাম। মনে করছিলাম ব্রিজটি হচ্ছে একটু শান্তিতে চলতে পারব। কিন্তু তাও কাজ শেষ হওয়ার আগে ভেঙে পড়ল। সরকারের উচিত এদের বিচারের আওতায় আনা। সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করা উন্নয়ন প্রকল্পে এমন অনিয়ম মেনে নেয়া যায় না।’

নির্মাণাধীন ব্রিজটি কুয়াকাটা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফ আলী শিকদার বলেন, ‘এই ব্রিজটির কাজ যাতে ভালোভাবে হয়, সে জন্য আমি যথেষ্ট তদারকি করেছি। কিন্তু এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ইঞ্জিনিয়ার মিলে মেয়াদ উত্তীর্ণ সিমেন্ট এবং কাজের ধীরগতির কারণে আজ ব্রিজটি ভেঙে গেল।’

কুয়াকাটা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামান বলেন, ‘আমি মাত্র ক-দিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমি আসলে বলতে পারব না কীভাবে এটা হলো। তবে আমরা খতিয়ে দেখছি।’

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘আজকে কুয়াকাটা পৌরসভার যে ব্রিজটি ভেঙে গেল, এটা আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা তদন্ত করব। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আজাদ। তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

সূত্র: -জাগোনিউজ২৪.কম

নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়ল ২ কোটি টাকার ব্রিজ
                                  

অনলাইন ডেস্ক : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার কুয়াকাটা-মিশ্রীপাড়া সড়কের দোবাসীপাড়া খালের ওপর নির্মাণাধীন ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি ধসে পড়েছে।

রোববার (২৭ মার্চ) সকালে হঠাৎ ব্রিজের গার্ডার দুটি ধসে পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ব্রিজে কর্মরত শ্রমিক আবু জাফর বলেন, ‘আমরা চার-পাঁচজন ব্রিজের নিচে পড়ে থাকা কাঠ ও টিন আনতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ হলে আমরা দ্রুত সরে যাই। এরমধ্যেই ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুয়াকাটা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ব্রিজটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈয়দ সোহেল অ্যান্ড দ্বীপ এন্টারপ্রাইজ। এর ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ২৬ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৩ টাকা। গত ২০২০ সাল থেকে ব্রিজটি নির্মাণ কাজ চলছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাঁচামাল ও অপরিকল্পিত ডিজাইনের ফলে এই ব্রিজটি ধসে পড়েছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজটির কাজ করেছে। যেখানে তিন-চারটি গার্ডার প্রয়োজন সেখানে মাত্র দুটি গার্ডার দেয়া হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ব্রিজটি ভেঙে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা হালিম বলেন, ‘আমরা গত ১০-১৫ বছর প্রায় তিন-চারটি ইউনিয়নের মানুষ চরম দুর্ভোগে ছিলাম। মনে করছিলাম ব্রিজটি হচ্ছে একটু শান্তিতে চলতে পারব। কিন্তু তাও কাজ শেষ হওয়ার আগে ভেঙে পড়ল। সরকারের উচিত এদের বিচারের আওতায় আনা। সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করা উন্নয়ন প্রকল্পে এমন অনিয়ম মেনে নেয়া যায় না।’

নির্মাণাধীন ব্রিজটি কুয়াকাটা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফ আলী শিকদার বলেন, ‘এই ব্রিজটির কাজ যাতে ভালোভাবে হয়, সে জন্য আমি যথেষ্ট তদারকি করেছি। কিন্তু এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ইঞ্জিনিয়ার মিলে মেয়াদ উত্তীর্ণ সিমেন্ট এবং কাজের ধীরগতির কারণে আজ ব্রিজটি ভেঙে গেল।’

কুয়াকাটা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামান বলেন, ‘আমি মাত্র ক-দিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমি আসলে বলতে পারব না কীভাবে এটা হলো। তবে আমরা খতিয়ে দেখছি।’

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘আজকে কুয়াকাটা পৌরসভার যে ব্রিজটি ভেঙে গেল, এটা আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা তদন্ত করব। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আজাদ। তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

সূত্র: -জাগোনিউজ২৪.কম

স্বামী ঢাকায়, প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর..
                                  

অনলাইন ডেস্ক : জামালপুরে সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের কাওয়ামারা গ্রামে পরকীয়া করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছেন প্রাক্তন স্বামী-স্ত্রী। এ সময় সুযোগ পেয়েই পালিয়ে যান পরকীয়া প্রেমিক। পরে বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে অনশন করেন প্রেমিকা। এমনকি বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকিও দেন তিনি।

রোববার (২০ জুন) দুপুরে ওই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সাব্বির ওই গ্রামের মজর আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (২০ জুন) দুপুর ২টার দিকে পিংনা গ্রামের সুজাত আলী ডিগ্রি কলেজের ভেতরে প্রবেশ করেন সাব্বির ও তার প্রাক্তন স্ত্রী। দীর্ঘক্ষণ পরও তারা বাইরে বের না হওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন ভেতরে গিয়ে দু’জনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। এক পর্যায়ে আরও লোকজন জড়ো হলে পালিয়ে যান সাব্বির। এরপর তার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন প্রাক্তন স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, সাব্বির এবং ওই নারীর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। বনিবনা না হওয়ায় বিচ্ছেদ হয় তাদের। এরপর পার্শবর্তী চিতুলিয়া গ্রামের নাজাত আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় ওই নারীর। নাজাত চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। সেই সুযোগে সাব্বিরের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।

অনশনরত নারী বলেন, সাব্বির আমাকে অসহায় অবস্থায় ফেলে পালিয়েছে। তার পরিবারের লোকজনও ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করব।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মজিদ জানান, এখনো এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে জনপ্রতিনিধি ও দুই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র: আরটিভি অনলাইন

নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীকে পেতে শ্যালিকাকে অপহরণ
                                  

অনলাইন ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে স্ত্রীকে ফিরে পেতে শ্যালিকা অপহরণের অভিযোগে বিল্লাল হোসেন (২৫) নামের যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৪ জুন) রাতে রাজধানীর মানিকনগর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার শ্যালিকাকেও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার বিল্লাল হোসেন মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার উড়ারচর এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর সূত্র জানায়, বিল্লালের সঙ্গে এক বছর আগে মোহাম্মদ হোসেনের বড় মেয়ের (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া চলতো। ৬ মাস আগে মেয়ে তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। বিল্লাল স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে ফেরানোর জন্য নানাভাবে হুমকি দিতেন।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বিয়ের পর জানতে পারি বিল্লাল মাদকাসক্ত। নিয়মিত সে আমার মেয়েকে মারধর করতো। মেয়ে আমার বাসায় চলে আসায় তাকে নিয়ে যেতে নানাভাবে হুমকি দিত। মেয়ে বিল্লালের বাড়িতে না ফেরায় শনিবার আমার ছোট মেয়েকে (৫) অপহরণ করে। পরে সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, বিল্লালকে গ্রেফতারের পর আদালত পাঠানো হয়েছে।

স্ত্রী-শ্যালিকাকে ভারতে পাচারের অভিযোগে স্বামীসহ গ্রেপ্তার ২
                                  

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহে স্ত্রী ও শ্যালিকাকে পাচারের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

র‌্যাব ১৪-এর অধিনায়ক আবু নাঈম মো. তালাত জানান, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বালিহাটা কান্দাবাড়ি গ্রামের রইজ উদ্দিনের ছেলে ইউসুফ মিয়া (২৬) ও নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লি গ্রামের মসলেম শেখের ছেলে রাব্বিল শেখ (২৮)।

র‌্যাব কর্মকর্তা নাঈম বলেন, “সম্প্রতি ইউসুফ প্রেমের ফাঁদে ফেলে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ২২ বছরের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। পরে স্ত্রী ও ১৯ বছর বয়সী শ্যালিকাকে ভারতে পাচার করেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন রাব্বিল শেখ।”

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, গত ৫ জুন অভিযোগ পাওয়ার পর র‌্যাব গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রথমে ইউসুফকে তার বাড়ি থেকে, পরে রাব্বিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তাদের কাছ থেকে দুই লাখ ২৪ হাজার টাকা, ক্রেডিট কার্ড ও কিছু স্বর্ণালংকার জব্দ করে র‌্যাব।

তিনি বলেন, “মানব পাচারকারী চক্রটি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতে দীর্ঘদিন ধরে নারী পাচার করে আসছে। চক্রের সব সদস্যকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে র‌্যাব।”

মাদারীপুরে ভাবিকে ধর্ষণের অভিযোগ
                                  

জেলা প্রতিনিধি : মাদারীপুরের শিবচরে সদ্য বিবাহিত বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে (ভাবি) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দেবরের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দিবাগত রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (১১ জুন) সকালে এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে তার ছোটভাই নিরব শেখকে(১৯) অভিযুক্ত করে শিবচর থানায় মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত নিরব শেখ উপজেলার কাইয়ুম শেখের ছেলে।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে অভিযুক্তের বড় ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ওই গৃহবধূর। বিয়ের পর থেকেই ভাবিকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন দেবর নিরব। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই গৃহবধূর স্বামী স্থানীয় বাজারে যান। এসময় নিরব তাকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন। রাতে স্বামী বাড়িতে আসলে খুব খুলে বলেন ওই নারী। পরে শুক্রবার সকালে গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শিবচর থানায় মামলা দায়ের করেন।

শিবচর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আব্দুর রশিদ বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নিরব পলাতক। ধর্ষণের আলামত জব্দ করা হয়েছে।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ওই গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

চোখে মরিচের গুঁড়া দিয়ে ছিনতাই, ৩ তরুণী আটক
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকার ধামরাইয়ে নারীর চোখে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে তার গহনা ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে জনতার হাতে আটক হয়েছেন ছিনতাই চক্রের তিন তরুণী সদস্য।


মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে পৌর শহরের উত্তরপাতা দোয়েল সাংস্কৃতিক শিল্পী গোষ্ঠী ভবনের পাশের রাস্তা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার কামতা গোলড়া গ্রামের লিয়াকত আলীর দুই মেয়ে শিরিন আক্তার ও সালমা আক্তার এবং অপরজন একই গ্রামের আব্দুস সালামের মেয়ে সুমি আক্তার। তারা পৌর শহরের ইসলামপুর কমিশনার মোড়ের একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে ছিনতাই করে আসছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সুইটি আক্তার নামে এক নারী যাত্রী ইসলামপুর এলাকা থেকে ধামরাই পৌর বাজারে যাওয়ার উদ্দেশে একটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠেন। ওই সিএনজিতে আগে থেকেই ওই তিন তরুণী বসেছিলেন। ওই সিএনজিতে পৌর শহরের উত্তরপাতা নামক স্থানে পৌঁছালে ওই তিন তরুণী সুইটি আক্তারের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে তার পরণের গহনা ও নগদ টাকাকড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে।

ওই নারী যাত্রী চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা ওই সিএনজিটি থামান। বিষয়টি জানার পর ওই তিন ছিনতাইকারী তরুণীকে আটক করে মারধর করে স্থানীয়রা। পরে ওই ছিনতাইকারীদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার এসআই মো. আব্দুর রশিদ বলেন, নারী ছিনতাইকারী চক্রের ৩ নারী সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ওই তিন ছিনতাইকারী তরুণীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ফকিরের দরবার শরীফে চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যা করল ভক্তরা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কল্যাণপুর দরবার শরীফের ভেতরে রাশেদ (২৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার ঘটেছে। মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে দরবার শরীফের ভেতরে তাছের ফকিরের ভক্তরা তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (৬ জুন) দুপুরে মোবাইল চুরির অভিযোগে কল্যাণপুর দরবার শরীফের ভেতরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহত রাশেদ দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের হরিনগাছী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত রাশেদের বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার ছেলে রাশেদ ৫-৬ মাস ধরে কল্যাণপুর দরবার শরীফের মুরিদ হিসেবে ওই দরবার শরীফেই থাকত। রোববার সকালে দরবার শরীফরে লোকজন তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ভেতরে ফেলে রাখে। পরে রাশেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে দরবার শরীফের লোকজন পালিয়ে যায়।

দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে থানায় নেয়া হয়েছে।

৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে গলা কেটে হত্যা, শাশুড়ি-দেবর আটক
                                  

অনলাইন ডেস্ক : নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় নিজ ঘরে শাহানুর বেগম (৩৫) নামে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার রাতে উপজেলার জোয়াড়ি ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহানুর ভবানীপুর জোলাপাড়া গ্রামের চা দোকানি রাশেদুল ইসলাম রাশেদের স্ত্রী। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের শাশুড়ি রশেনা বেগম ও দেবর আবদুর রশিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

স্থানীয়রা জানান, চলমান লকডাউনে ব্যবসায় মন্দা যাওয়ায় কয়েক দিন আগে শাহানুর বেগমের স্বামী রাশেদ কাজের সন্ধানে ঈশ্বরদী যান। এ সময় তিনি তিন সন্তানসহ বাড়িতেই থাকতেন।

বুধবার রাতে ঘটনাস্থলের পাশেই গানের অনুষ্ঠান চলছিল। শাহানুরের দুই সন্তানকে নিয়ে শাশুড়িসহ পরিবারের সবাই গানের অনুষ্ঠানে যান। এ সময় এক বছরের শিশুসন্তান নিয়ে নিজ ঘরেই ঘুমিয়েছিলেন তিনি।

ফাঁকা বাড়িতে একা থাকার সুযোগে কে বা কারা তাকে হত্যা করে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে গানের অনুষ্ঠান থেকে বাড়িতে ফিরে নিহতের আট বছরের শিশুকন্যা তার মায়ের রক্তাক্ত লাশ দেখে চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসেন।

এ সময় নিহতের এক বছরের শিশুটি মায়ের পাশে রক্তে গড়াগড়ি খাচ্ছিল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার সকালে সিআইডি এসে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহের পর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে, কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে পরে জানানো হবে।

সূত্র: যুগান্তর

নোয়াখালীতে ধর্ষণ মামলায় যুবক গ্রেফতার
                                  

জেলা প্রতিনিধি : নোয়াখালীতে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় মিল্লাত হোসেন (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২ মে) বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বুধবার দুপুরে ওই নারী বাদী হয়ে মিল্লাতের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

গ্রেফতার মিল্লাত হোসেন সূবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর মহিউদ্দিনের কামাল উদ্দিনের ছেলে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় আট বছর আগে তার স্বামী মারা যান। ৩০ মে (রোববার) রাতে প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে গেলে মিল্লাত তার ঘরে ডুকে। পরে সে ওই রাতে তাকে ধর্ষণ করেন।

ওসি জিয়াউল হক জানান, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।’

টঙ্গীতে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত
                                  

অনলাইন ডেস্ক : গাজীপুরের টঙ্গীতে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মো. রোকন শিকদার (৩৩) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩১ মে) রাতে টঙ্গী হাজী মাজার বস্তি এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

নিহত রোকন শিকদার টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তির এলাকার বাসিন্দা।

র‍্যাবের দাবি, নিহত রোকন শিকদার অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে মাজার বস্তি এলাকায় মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে র‌্যাব-১ এর একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। র‌্যাবের সঙ্গে গুলি বিনিময়কালে মাদক ব্যবসায়ী রোকন শিকদার নিহত হন।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।

সাড়ে চার হাজার ইয়াবাসহ আটক ৫
                                  

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযানে সাড়ে চার হাজার ইয়াবাসহ পাঁচজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আবদুল মান্নান খাঁ, মো. ইফতেখার মাহাবুব ফুয়াদ, মো. জাফর, মো. আনাস ইবনে জামান এবং মো. ওসমান রাফিন।

রোববার রাতে র‌্যাব-১০ এর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত এসব অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে চার হাজার ৫৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার ভোরে যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ কুতুবখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৭৯৩ পিস ইয়াবাসহ আবদুল মান্নান খাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এছাড়া শনিবার রাতে কুতুবখালী মাদ্রাসা রোডের কিতাব মার্কেট এলাকায় অপর একটি অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ ইফতেখার মাহাবুব ফুয়াদকে গ্রেপ্তার করে ব্যাটালিয়নের পৃথক দল। একই দিন র‌্যাব-১০ এর অপর একটি দল ঢাকার কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার জিঞ্জিরা বাজার এলাকায় একটি অভিযান চালিয়ে ৩০২ পিস ইয়াবাসহ জাফর, আনাস ইবনে জামান এবং ওসমান রাফিন নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, তারা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। বেশ কিছুদিন ধরে যাত্রাবাড়ী ও দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছিল। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদক মামলা করা হয়েছে।

সিলেটে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না
                                  

অনলাইন ডেস্ক: গত শুক্র ও শনিবার কয়েকদফা ভূমিকম্পের পর সিলেটজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ছোট ছোট ভূমিকম্পের কারণে বড় ধরণের ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন আশঙ্কা থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কিছুটা তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। নগরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোও তালিকা তৈরি করছে সিটি করপোরেশন।

ইতোমধ্যে নগরের ২৫ টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এরমধ্যে ৭টি ভবনকে ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বন্ধ রাখার নোটিশ দেওয়া ভবনগুলো আরও ৫ বছর আগেই ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিলো সিসিক। তবে অজ্ঞাত কারণে সে উদ্যোগ থেমে যায়। এইসময়ে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনগুলো।

জানা যায়, ২০১৬ সালে ভূমিকষ্পে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নগরের ৩২টি ভবনকে চিহ্নিত করে সিসিক। সেসময় ওই ভবনগুলো ‘অতি দ্রুত’ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় সিলেট সিটি করপোরেশন। মালিকপক্ষ না ভাঙলে নিজেরাই ভবনগুলো ভেঙে দেবে বলে জানায় সিসিক। এরমধ্যে দুএকটি ভবন ভাঙ্গার কাজ শুরুও করে সিসিক। তবে এরপরই আটকে যায় কাজ।

পরে সিসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভাঙা নয়, মেরামত করা হবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো। কিন্তু সেই মেরামতও পাঁচ বছরে সম্পন্ন হয়নি।

সে সময় সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, কেবল ৩২টি নয়, নগরীতে আরো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের তালিকা করে নোটিশ দেওয়া হবে। এদের মধ্যে শপিং মল, অ্যাপার্টমেন্ট, হোটেলও রয়েছে। যদিও এসব বহুতল ভবনের বেশিরভাগেরই নির্মাণ অনুমোদন নেই। তবে এই তালিকা করার কাজও আর এগোয়নি।

২০১৬ সালে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরিচালিত জরিপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তৈরিকৃত তালিকায় ছিলো অনেক বাসা-বাড়ি, বিপনীবিতান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হোটেল, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।

তালিকাতে থাকা বিপনীবিতানগুলো হচ্ছে- নগরীর জিন্দাবাজারস্থ রাজা ম্যানশন, বন্দরবাজারস্থ মধুবন সুপার মার্কেট, সুরমা মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি বিপনীবিতানও।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা অন্যান্য ভবন হলো- কালেক্টরেট ভবন-৩, সমবায় ভবন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, কাস্টমস ও ভ্যাট অফিস ভবন, সিলেট জেলা এসএ রেকর্ড অফিস, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কারিগরী ইনস্টিটিউট, সিলেট সরকারী অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, মদিনা মার্কেট এলাকার কিছু বাসা-বাড়ি, আজমীর হোটেল, মাহমুদ কমপ্লেক্স এর পিছনের বাসা, সিটি সুপার মার্কেট বন্দরবাজার, জিন্দাবাজারের রহমান প্লাজা, মিতালী ম্যানশন, সিলেট মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, শেখঘাটের পুরাতন পাসপোর্ট অফিসের সাথের বাসা, সিলেট মদন মোহন কলেজের নবনির্মিত ভবন, পূর্ব শাহী ঈদগাহের খান কুঞ্জ, কালাশীল এলাকার মান্নান ভিউ, শুভেচ্ছা-২২৬ শেখঘাট, চৌকিদেখীর সরকার ভবন, যতরপুরের নবপুষ্প ২৬/এ নম্বর বাড়ি, ভাতালিয়ার ১১৮ নম্বর বাসার সীমানা দেয়াল, পুরান লেনের কিবরিয়া লজ, ভার্থখলার বাবর ট্রাভেলস ও খার পাড়া মিতালী আবাসিক এলাকার ৭৪ নম্বর বাড়ি।

এরপর ২০১৯ সালের আরেক জরিপে জানানো হয় নগরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আছে ২৫টি। সেগুলো হলো- জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উত্তর পাশের কালেক্টরেট ভবন-৩, জেলরোডস্থ সমবায় ব্যাংক ভবন, একই এলাকায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাবেক কার্যালয় ভবন, সুরমা মার্কেট, বন্দরবাজারস্থ সিটি সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজারের মিতালী ম্যানশন, দরগাগেইটের হোটেল আজমীর, বন্দরবাজারের মধুবন সুপার মার্কেট, টিলাগড় কালাশীলের মান্নান ভিউ।

এছাড়া, নগরের শেখঘাট এলাকায় শুভেচ্ছা-২২৬ নম্বর ভবন, যতরপুরের নবপুষ্প ২৬/এ বাসা, চৌকিদেখির ৫১/৩ সরকার ভবন, জিন্দাবাজারের রাজাম্যানশন, পুরানলেনের ৪/এ কিবরিয়া লজ, খারপাড়ার মিতালী-৭৪, মির্জাজাঙ্গাল মেঘনা এ-৩৯/২, পাঠানটুলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বাগবাড়ির একতা ৩৭৭/৭ ওয়ারিছ মঞ্জিল, একই এলাকার একতা ৩৭৭/৮ হোসেইন মঞ্জিল, একতা-৩৭৭/৯ শাহনাজ রিয়াজ ভিলা, বনকলাপাড়া নূরানি-১৪, ধোপাদিঘীর দক্ষিণ পাড়ের পৌরবিপণী মার্কেট ও ধোপাদিঘীরপাড়ের পৌর শপিং সেন্টার। এর মধ্যে পুরানলেনের ৪/এ কিবরিয়া লজটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়ে মেরামত করা হয়েছে।

গত শুক্র ও শনিবার কয়েকদফা ভূমিকম্পের পর রোববার এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শনে যায় সিসিক। পরিদর্শন শেষে সিসিকের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন/ইমারতের তালিকায় থাকা সুরমা মার্কেট, সিটি সুপার মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, সমবায় মার্কেট, মিতালী ম্যানশ্যান ও রাজা ম্যানশন মার্কেট আগামী ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এদিকে জিন্দাবাজারের জেন্টস গ্যালারী নামক একটি দোকান ও ফনিটুলার একটি আবাসিক ভবন ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন এবং ফায়ায় সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছ থেকে নকশা অনুমোদন না করিয়ে এবং মাটির পরীক্ষা ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে এসব বহুতল ভবন। এ ছাড়া প্রায় শতাধিক ভবন রয়েছে যেগুলো নির্মাণ করা হয়েছে দীর্ঘদিন আগে। এসব ভবন এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে ফাটল ধরা এসব ভবনে ঝুঁকি নিয়েই চলছে বসবাস। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবনের ব্যাপারে এত দিন অনেকটাই উদাসীন ছিল সিলেট সিটি করপোরেশন।

৫ বছর আগেই উদ্যোগ নিয়েও কেনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভাঙা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিলো। তবে পরে বিশেষজ্ঞরাই ভবনগুলো না ভেঙে সংস্কারের পরামর্শ দেন। কিছু ঝুঁকিপূর্ণূ ভবন মালিক কর্তৃপটক্ষ সংস্কার করেছেনও। আবার কয়েকটি মামলা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে।

সূত্র : সিলেটটুডে২৪

বিনামূল্যের ঘরের জন্য ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন ইউপি সদস্য!
                                  

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘সরকারি বাড়ি’ দেয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন ইউপি সদস্য। কিন্তু তিন বছর পার হলেও সেই সরকারি বাড়ি পাননি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোছা. ফুলবানু।

ভূক্তভোগী ফুলবানু ওই ইউনিয়নের নবানী ঘোষালপুর গ্রামের ভ্যানচালক তালিমুল ইসলামের স্ত্রী। গত ২৩ মে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও এ ব্যাপারে কোনো প্রতিকার পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই নারী।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিন বছর পূর্বে উপজেলার ৩নং খানপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) লুৎফর রহমান সরকারি বাড়ি তৈরি করে দেয়ার নাম করে ফুলবানুর নিকট থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন। পরে ওই ইউপি সদস্য অনেক টালবাহানা করে সময় পার করলেও এখনও সেই সরকারি বাড়ি প্রাপ্তির তালিকায় ফুলবানুর নাম তুলতে পারেননি।

অবশেষে ভুক্তভোগী ওই নারী ইউপি সদস্যকে দেওয়া ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার ও ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেন।

এ ব্যাপারে কথা হলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান বলেন, ফুলবানু আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সরকারি বাড়ি করে দেয়ার নাম করে টাকা নেয়ার প্রশ্নই আসে না! ভূমিহীনদেরকে সরকারি বাড়ি দেয়ার বিষয়টি ইউএনও অফিস, উপজেলা ভূমি ও ইউপি চেয়ারম্যান দেখেন, এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই।

৩নং খানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ইউপি সদস্য লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে এরকম কোনো অভিযোগ শুনিনি। কেউ এমন অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার বলেন, ইউপি সদস্য লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বাড়ি করে দেয়ার নাম করে ঘুষ নেয়ার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ

অবৈধ সংযোগে দৈনিক ২০ কোটি টাকার গ্যাস চুরি!
                                  

অনলাইন ডেস্ক: মাত্র তিন দিনে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের কিছু এলাকায় তিতাস গ্যাস ৭০ হাজারের বেশি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যেগুলোর মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ২০ কোটি টাকার গ্যাস চুরি হতো।

এসব অবৈধ সংযোগের মধ্যে শিল্প কারখানা ও বাণিজ্যিক লাইনও রয়েছে। গ্যাস পেতে সংযোগগুলোর বিপরীতে মাসে মাসে টাকাও দিচ্ছিলেন গ্রাহকরা।

তবে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে না গিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কিছু কর্মকর্তা ও স্থানীয় কিছু ‘দালালদের’ পকেটে যেত।

তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ বলেন, “আমি কেবল চারটা সাইটে অভিযান চালিয়েছি। এরকম আরও ১০/১২টা হাব রয়েছে অবৈধ গ্যাসের। পর্যায়ক্রমে অন্য এলাকায়ও অভিযান চলবে।”

জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও তিতাসের শীর্ষ ব্যক্তিরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে আরও কিছু অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে, যা আগামী এক মাসের মধ্যে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া সম্ভব হবে।

এরপর তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান, যিনি তিতাস গ্যাসেরও চেয়ারম্যান।

তিতাস ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন, তিতাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজস ছাড়া বিশাল এই অবৈধ কারবার সম্ভব নয়; তাদের কেউ কেউ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, “তিতাস ও জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের সমর্থন ছাড়া বছরের পর বছর ধরে এতবড় চুরি চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

“আরও ছয় বছর আগে তিতাসকে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিল বিইআরসি। এতদিনে কী কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো না সেটা নিয়েই বরং আলোচনা করা উচিত।“

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ বলেন, “২০১১-১২ সালে এই অবৈধ সংযোগের সূত্রপাত। তারপর ধীরে ধীরে এর ব্যাপ্তি বেড়েছে। স্থানীয় কিছু অসাধু মানুষ এই অবৈধ সংযোগের জন্য জনগণের কাছ থেকে চাঁদা তুলেছে। আমাদের কিছু লোকও এর ভাগ পেয়েছে। এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত।”

জড়িতদের চিহ্নিত করে মামলা করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মামলা নিয়ে এই মুহূর্তে ভাবছি না। দেশের সম্পদ আগে বাঁচাতে হবে। মামলার বিষয়টি পরে আসবে।“

এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ‘জনগণের’ অনেকের সংশ্লিষ্টতা থাকায় কতদিন সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা যাবে সেটাই আশঙ্কা তিতাস গ্যাসের এমডির। তিনি বলেন, “কীভাবে আমাদেরকে সরানো যায়, অভিযান বন্ধ করা যায় এসব নিয়ে তারা সংগঠিত হচ্ছে।”

জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান বলেন, “এই অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের কাজটি গত এক বছর ধরেই করে যাচ্ছি। এখন কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।

“আগে কেবল অবৈধ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করা হত। এখন একেবারে উৎসমুখ থেকে সংযোগ বন্ধ করে দিচ্ছি। ফলে কিছু বৈধ সংযোগধারীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।“

তিন দিনে ৭২ হাজার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এখানে হয়তো কয়েকশ বৈধ গ্রাহক রয়েছে। তাদেরকে আমরা পরে সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”

অবৈধ সংযোগের সমস্যাটা নারায়ণগঞ্জে বেশি উল্লেখ করে তিতাসের চেয়ারম্যান বলেন, “বিচ্ছিন্ন করা সংযোগগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকার গ্যাস চুরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”

এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছর ২০/২৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিএম কিংবা এজিএম পর্যায়ের কর্মকর্তাও ছিলেন। অনেককে চিরস্থায়ীভাবে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ও চাকরিচ্যুতি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যারা খুব বেশি সম্পত্তির মালিক হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে এনবিআর কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য দিয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। “এখন আমরা সিবিএ নেতাদেরকেও ছাড় দিচ্ছি না। কারণ তারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।“

আগামী এক মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

তিতাসের এমন পদক্ষেপের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রশংসা করার পক্ষপাতি নন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “এতদিন তারা অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি কেন। তাদের লোকজনই সংযোগ দিয়েছে, তারাই বিচ্ছিন্ন করেছে। বিচ্ছিন্ন করার জন্য তাদের প্রসংশা করছি না। এতদিন এই সংযোগ থাকল কী করে আমি সেই প্রশ্ন তুলছি।“

এর সঙ্গে তিতাসের লোকজন জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলেন, “একারণেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এত সময় লেগেছে। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার হওয়া উচিত।

“তারা ঘুষ নিয়েছে, কেজির মাপে ওজন করে ঘুষ নিয়েছে। ধরা পড়ার পরও এগুলোর বিচার হয়নি। জ্বালানি সচিব তিতাসের বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার পরও বিচার হয়নি। তাহলে কী করে এর প্রতিকার হবে।“

৭০ হাজার সংযোগ বিচ্ছিন্ন

রোজার ঈদের পরের দিন থেকে টানা সাতদিন ধরে চলে এই অভিযান। এর মধ্যে ৭০ হাজার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে তিন দিন। বাকি দিনগুলোতে সংযোগের ম্যাপ ও মাঠের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন তিতাসের কর্মকর্তারা। এগুলোর বেশিরভাগ আবাসিক সংযোগ। এর মধ্যে শিল্প কারখানা ও বাণিজ্যক লাইনও রয়েছে বলে তিতাসের কর্মকর্তারা জানান।

তিতাস গ্যাস জানায়, ১৫ থেকে ২২ মে পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ, কাঞ্চন এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এই অভিযানকালে অবৈধ সংযোগের নেটওয়ার্ক দেখে মূল পয়েন্ট থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

গত ১৫ মে সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বিআর স্পিনিং মিলের পাশে থাকা ৮ ইঞ্চি ব্যাসের ১৪০ পিএসজিআই ভাল্ব আউটলেট থেকে অবৈধভাবে নেওয়া ১০ কিলোমিটার লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

এতে সামুরকান্দি, বোস্তল, তালতলা, মদনপুর, দড়িকান্দি, গাড়েরপাড় ও ফাউসা এলাকার সাত হাজার বাসাবাড়ি, ১০০টি ছোট শিল্প, পাঁচটি রেস্টুরেন্টের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা গেছে। ২২ মে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ায় চনপাড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে থাকা রিভার ক্রসিং ভাল্ব বন্ধের মাধ্যমে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের খামারপাড়া, তালাশকুর, নগর পাড়া গ্রামের প্রায় ৮ কিলোমিটার বিতরণ লাইনের দুই হাজার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ২০ মে রূপগঞ্জের কাঞ্চন এলাকায় ৫০ পিএসআইজি চাপের ৬ ইঞ্চি ব্যাসের বিতরণ লাইন থেকে যাওয়া এক হাজার বৈধ ও ৪০ হাজার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ১৪০ পিএসআইজির ৮ ইঞ্চি ব্যাসের ৫ কিলোমিটার ডেডিকেটেড গ্যাস লাইন বসানো হয়েছিল টিকে গ্রুপের জন্য। এই বৈধ লাইন থেকে বৈদ্যেরগাঁও, মাথাভাঙা, রসুলপুর, ইমামপুর, বাঘাবন্দি, ষোলআনিসহ অন্যান্য এলাকায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার পাইপলাইন টেনে ১২ হাজার অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়েছিল।

গত ২২ মে তারিখের অভিযানে এসব সংযোগ গোড়া থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীদের একজন নারায়ণগঞ্জের মনির হোসেন। সরকার বৈধ সংযোগ বন্ধ রাখার কারণেই তিনি এমন সংযোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।

তিনি নতুন গ্যাস সংযোগ চালুর মাধ্যমে এগুলোকে বৈধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আক্তার হোসেন নামে আরেকজন বলেন, কোনো নোটিস ছাড়া হঠাৎ করে কাঞ্চন পৌরসভায় গ্যাস বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

উত্তরা জুট মিল অ্যান্ড ফাইবার ইন্ডাসট্রিজের সিবিএর (শ্রমিক সংসদের সভাপতি) সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, নোটিস ছাড়া আবাসিক লাইনের পাশাপাশি শিল্প লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

বৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী তারিকুল ইসলাম বিপুল বলেন, “অবৈধ গ্রাহকদের জন্য আমরা কেন ভোগান্তির শিকার হবো। তিনি পুনরায় তাদের সংযোগ দ্রুত চালুর অনুরোধ করেন। বৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী শাহিন মিয়া অবৈধ সংযোগগুলোও বৈধ করে দেওয়ার পরামর্শ দেন। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি।

সূত্র : বিডিনিউজ

এক দশকে পাচার হয়েছে ১৪ হাজার কোটি!
                                  

অনলাইন ডেস্ক: বিটুমিন আমদানির চোরাবালিতে রিজার্ভ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা। অঙ্কটি ঠিক কত, সেটি নিখুঁতভাবে বলা মুশকিল। তবে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে গত এক দশকে দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে অন্তত ১৪ হাজার কোটি টাকা। বিটুমিন আমদানির পরিমাণ, এর গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক বাজারদর বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। অর্থপাচারের প্রকৃত অঙ্কটি আরো বড় হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

সড়ক-মহাসড়ক টেকসই হয়—এমন বিটুমিন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা জারি আছে সরকারের তরফে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় বছরের পর বছর কেবল ভাঙে আর ভাঙে নতুন নির্মিত সড়কও। এর পেছনে গচ্চা যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। গলদ খুঁজতে অনুসন্ধানে নামে প্রতিবেদক। বিটুমিনের মান যাচাই করতে নেমে পাওয়া গেল অর্থপাচারের অবিশ্বাস্য চোরাবালি, যেখানে প্রতিবছর হারিয়ে যাচ্ছে বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে তিন লাখ ১৯ হাজার ৬৬১ টন বিটুমিন আমদানি করেছে ৪২টি প্রতিষ্ঠান। ৩৪৬টি চালানে আনা বিটুমিনগুলোর অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু দেখানো হয়েছে প্রায় এক হাজার ১১০ কোটি টাকা। বাল্ক এবং ড্রামে আমদানি করা এসব বিটুমিন কাস্টমস থেকে খালাস করা হয় ৬০ থেকে ৭০ গ্রেড ঘোষণা দিয়ে। কিন্তু এগুলোর মান নিয়ে তৈরি হয় সন্দেহ। সত্যিকার অর্থে ৬০ থেকে ৭০ গ্রেডের বিটুমিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে তা খুবই টেকসই হওয়ার কথা, যা বাস্তবে দেখা যায় না। তাই সড়কসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এসব বিটুমিনের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

কয়েকজন আমদানিকারকের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা অবলীলায় এগুলোকে উন্নত গ্রেড বলে দাবি করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে বের হয় আসল রহস্য। আমদানি করা বিটুমিনগুলো আসলে উন্নত মানের নয়। ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় এসব বিটুমিনের কোনো কোনোটির গ্রেড পাওয়া গেছে ১০২, কোনোটি ৯৫, আবার কোনোটি ৯৮। বিটুমিন বিশেষজ্ঞরা এগুলোকে আলকাতরার চেয়েও নিম্নমানের বলে দাবি করছেন। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারাও বলছেন, আমদানি করা বিটুমিনের কোনো মানই নেই। বিএসটিআই, বুয়েট ও বিপিসির কোনো অনুমোদন ছাড়াই এগুলো খালাস হয়ে হরহামেশা ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে রাস্তা কোনোভাবেই টেকসই হচ্ছে না। অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিবিদ ও এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব বিটুমিনকে ৬০ থেকে ৭০ গ্রেড ঘোষণা দেওয়া একটি পরিকল্পিত কৌশলমাত্র। আসলে পুরো ঘটনাটি বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রাপাচারের একটি ফাঁদ।

আন্তর্জাতিক বাজারদর যাচাই করে দেখা গেছে, ৮০ থেকে ১০০ গ্রেড মানের বিটুমিনের বাজারমূল্য ১৫০ থেকে ১৮০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। গড়ে ১৬০ ডলার বা ১৩ হাজার ৬০০ টাকা দর বিবেচনায় ৯ মাসে আমদানি করা বিটুমিনের প্রকৃত মূল্য দাঁড়ায় ৪৩৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ ৯ মাসে আমদানিকারকরা বিদেশে পাঠিয়েছেন প্রায় এক হাজার ৫২২ কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে খালাস করা বিটুমিনের টনপ্রতি মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে গড়ে ৫৬০ ডলার বা ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি টন বিটুমিনের বিপরীতে বিদেশে পাঠানো হয় বাড়তি ৩৪ হাজার টাকা। ফলে বিটুমিনের প্রকৃত মূল্যের বাইরে বাড়তি প্রায় এক হাজার ৮৭ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দেওয়া তথ্য মতে, প্রতিবছর গড়ে চার লাখ ২০ হাজার টন বিটুমিন আমদানি করে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ হিসাবে প্রকৃত মূল্যের বাইরে প্রতিবছর বিদেশে পাচার হচ্ছে অন্তত এক হাজার ৪২৮ কোটি টাকা, যা ১০ বছরে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ২৮০ কোটিতে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন, ‘বিটুমিন আমদানিকারকরা যদি অর্থ পাচার করে থাকেন, তাহলে সেটি দেখার আইনগতভাবে দায়িত্ব আছে আমাদের। অর্থপাচারবিষয়ক বা মানি লন্ডারিং কিংবা সন্ত্রাসে অর্থায়ন—এগুলো প্রতিরোধের দায়িত্ব কেন্দ্রীয়ভাবে বিএফআইইউকে দিয়েছে সরকার। কিন্তু এই বিষয়টি এখনো আমাদের নজরে কেউ আনেনি। আমি এ বিষয়ে ইউনিটে খবর নেব।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানি লন্ডারিং নিয়ে কোনো অভিযোগ কিংবা গণমাধ্যমে কোনো রিপোর্টে এলে সেটি নিয়ে আমরা কাজ করি। আমরা সেগুলো তদন্ত করি ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সবাইকে এ অভিযোগ তদন্ত করার জন্য প্রেরণ করি। সুতরাং নিম্নমানের বিটুমিন আমদানির আড়ালে যদি অর্থপাচার হয়ে থাকে, এমন কোনো রিপোর্ট হলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ৪২টি প্রতিষ্ঠান ৩৪৬টি চালানে বিটুমিন আমদানি করেছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য মতে, গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) আমদানি করা বিটুমিনের পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৮০ হাজার ২৭৫ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল চার লাখ ২০ হাজার ৭৪১ টন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্রেডভেদে মূল্য অনেক রকম হলেও সব মানের বিটুমিনের ডিউটি একই। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অল্প দামে নিম্নমানের বিটুমিন এনে উন্নত মানের বিটুমিন উল্লেখ করা হয়। বিদেশে টাকাও পাঠানো হয় উন্নত মানের দর অনুযায়ী।

জানা গেছে, ড্রামে পেট্রোলিয়াম বিটুমিন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি প্রতি টনে সাড়ে চার হাজার টাকা নির্ধারিত। এ ছাড়া এর ওপর ২ শতাংশ অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) এবং ৫ শতাংশ অ্যাডভান্স ট্যাক্স (এটি) দিতে হয়। তবে বাল্ক আকারে আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি টনে সাড়ে তিন হাজার টাকা নির্ধারিত এবং ২ শতাংশ এআইটি এবং ৫ শতাংশ এটি দিতে হয়।

বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) উৎপাদন করছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন। বিপুল ঘাটতির সুযোগ নিয়ে দেশে গড়ে উঠেছে আমদানিকারকদের একটি শক্তিশালী চক্র। অর্থপাচারের কৌশল জিইয়ে রাখতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিটুমিন ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনাকেও পাত্তা দিচ্ছে না সংঘবদ্ধ চক্রটি। ফলে আমদানি করা মানহীন ও ভেজাল বিটুমিন ব্যবহার একটুও কমেনি।

ইস্টার্ন রিফাইনারির কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি করা বেশির ভাগ বিটুমিনই ৮০ থেকে ১০০ গ্রেডের। বিটুমিন আমদানির এলসি খুলে কার্যত আনা হয় ভেজাল কেরোসিন মেশানো আলকাতরা। কিন্তু আমদানিকারকরা ঠিকই উন্নত গ্রেড দেখিয়ে সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করছেন। বিপিসির একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএসটিআই, বুয়েট ও বিপিসির কোনো অনুমোদন ছাড়াই ভেজাল বিটুমিন বন্দর থেকে খালাস করা হচ্ছে। ফলে কোনো রকম পরীক্ষায় অবতীর্ণ না হয়েও খুব সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেটটি।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিটুমিন আমদানির আড়ালে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে। অর্থাৎ যে দামে বিটুমিন কেনা হচ্ছে তার থেকে অনেক বেশি দাম দেখানো হচ্ছে। এখানে অতিরিক্ত টাকাটা বিদেশে পাঠিয়ে বা পাচার করে দেওয়া হচ্ছে।

নিম্নমানের বিটুমিন প্রসঙ্গে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘আমি যখন দাম কম দিয়ে কিনব, তখন অবশ্যই আমি নিম্নমানের জিনিস পাব। এটা খুবই স্বাভাবিক। গ্রামাঞ্চলে রাস্তাঘাটে ব্যবহার করা বিটুমিনের মান খুবই খারাপ। এক বছরের মধ্যে এসব রাস্তা ধসে যায়, দেবে যায় এবং টান দিলে পুরোটা উঠে যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যে বিটুমিন ব্যবহার করা হয়, পৃথিবীর কোনো দেশে এগুলো ব্যবহার করা হয় না। সুতরাং বিটুমিনের ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা উচিত।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থপাচার আগেও ছিল, এখনো আছে। আমরা সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকি যে ব্যাংকগুলোর এলসি খোলার সময় কী মূল্যমানের কী খোলা হচ্ছে, সেটি দেখা এবং একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যের তথ্য-উপাত্তগুলো খতিয়ে দেখা। ওই মূল্যমানের পণ্য যেটি আমদানিকারকরা ঘোষণা দিচ্ছেন, সেটি ঠিক আছে কি না, সেগুলো ক্রস চেক করে দেখা উচিত। বিশেষ করে মান ও দামের ক্ষেত্রে কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না, তা দেখা উচিত। বিটুমিন আমদানিকারকদের এখানে একটি সিস্টেমের ভেতরে আনতে হবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমদানিকারকদের এখানে দুটি বিষয় আছে। একটি হলো তাঁরা নিম্নমানের বিটুমিন এনে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। আরেকটি হলো প্রক্রিয়াগতভাবে ওভার ইনভয়েসিংয়ের কারসাজি। এ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মূল্য ও অতিরিক্ত মূল্যের মধ্যে যে ফারাক থাকে, তা দেশের বাইরে পাচার করা হয়।

তিনি বলেন, নিম্নমানের বিটুমিন আমদানিকারকদের এ প্রক্রিয়ায় অর্থপাচার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নজরদারি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে ঘোষিত পণ্যের দাম ও কোয়ালিটি বিশ্ববাজারে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এ প্রক্রিয়ায় অর্থপাচার বন্ধ করা যাবে না।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আরো বলছেন, মানহীন বিটুমিন ব্যবহারের কারণে সড়ক মেরামত ব্যয় গত এক দশকে অন্তত চার গুণ বেড়েছে। আমদানি করা ভেজাল বিটুমিন ব্যবহার ঠেকাতে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। তবু এটি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার বন্ধে বড় বাধা আমদানিকারকদের একটি সিন্ডিকেট। তারা কম দামে নিম্নমানের বিটুমিন এনে অনুমোদন ছাড়াই নানা কৌশলে খালাস করছে। একদিকে অর্থপাচার হচ্ছে, অন্যদিকে নিম্নমানের ভেজাল বিটুমিনে ক্ষতির মুখে সড়ক-মহাসড়ক। এতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে সরকার। গুটিকয়েক আমদানিকারকের লোভের মাসুল দিচ্ছে দেশের মানুষও।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

জমির দখল নিতে হত্যাচক্রে সাবেক এমপি আউয়াল
                                  

অনলাইন ডেস্ক: জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দুপুর। রাজধানীর পল্লবীর আলীনগরের বুড়িরটেক এলাকায় নিজ ভিটার বিশাল বটবৃক্ষের নিচে গতকাল শনিবার নির্বাক বসে ছিলেন আকলিমা বেগম। পেছনে তাদের প্রায় ১০ একর জমি। সেই জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে কুনজর ছিল সাবেক এমপি এমএ আউয়ালের। নিজেদের জমি রক্ষায় শেষ পর্যন্ত জীবন দিতে হয়েছে আকলিমার ছেলে মো. সাহিনুদ্দিনকে। এ হত্যা মামলায় আউয়াল এখন রিমান্ডে।

আকলিমার আশঙ্কা- ছেলে হত্যার বিচার পাবেন না তিনি। সাক্ষীদের ভয় দেখিয়ে দূরে রাখা হবে। এরই মধ্যে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেছেন প্রভাবশালীরা।

আলীনগরে হ্যাভেলি প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট নামে একটি হাউজিং কোম্পানি রয়েছে আউয়ালের। পুলিশ, র‌্যাব ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, জমি দখলে বাধা দেওয়ার কারণেই ১৬ মে পরিকল্পিতভাবে সাহিনুদ্দিনকে প্রকাশ্যে তার সন্তানের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, আউয়ালের নির্দেশে এই হত্যা মিশন সম্পন্ন হয়।

কিলিং মিশনে সরাসরি যুক্ত মো. সুমনকে সাবেক এমপি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘লাশ চাই- ১০, ২০, ৩০ লাখ যা লাগে দেব।’ হত্যা মিশনের আগে অগ্রিম খরচ হিসেবে আউয়ালের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়েছে সুমন। সাহিনুদ্দিনকে খুন করার পর জড়িতদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা দিয়ে বাকি অর্থ নিজের কাছে রেখে দেয় সে। পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, পল্লবীতে দীর্ঘদিন ধরে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এমএ আউয়াল। জমি দখল ও পরবর্তী সময়ে তার নিয়ন্ত্রণ নিতে ওই এলাকায় বড় ক্যাডার বাহিনী রয়েছে তার। আউয়ালের ওই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিল পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের বাসিন্দা ও স্থানীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুমন।

এখন পর্যন্ত নৃশংস এ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক এমপি আউয়ালের পাশাপাশি তার ম্যানেজার আবু তাহের ও মো. টিটুর নাম উঠে এসেছে। তারা মিশন সম্পন্ন করার জন্য সুমনকে দায়িত্ব দেন।

তদন্ত সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছে অন্তত আটজন। তাদের মধ্যে ভিডিওতে দু’জনকে স্পষ্ট দেখা যায়। তারা হলো- মো. মানিক ও মো. মনির। মানিক বৃহস্পতিবার র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। এ হত্যা মামলায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গতকাল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে দীপু ও মুরাদ। হত্যা মিশনে জড়িত ইকবাল ও টিটু গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।

গতকাল পল্লবীর আলীনগরে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু খালি প্লটের ওপর হ্যাভেলি প্রপার্টিজের সাইনবোর্ড। সেখানে ইটের ছোট প্রাচীর দিয়ে প্লট ভাগ করা হলেও কোনো ভবন তৈরি করা হয়নি। আলীনগরেই দীর্ঘকাল বসবাস করছে সাহিনুদ্দিনের পরিবার।

তার মা আকলিমা জানান, সাহিনুদ্দিনের দাদা মো. আলীর নামে ওই এলাকার নাম আলীনগর। আলী দুটি বিয়ে করেছিলেন। দুই পক্ষে তার ১৪ সন্তান। ওই এলাকায় তার অনেক সম্পদ রয়েছে। অনেক অংশীদার এরই মধ্যে সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে আকলিমাদের অনেক সম্পদ বিক্রি করা হয়নি।

আকলিমা জানান, আলীনগরের বেশ কিছু জমিজমা হ্যাভেলি নিয়েছে। তাই তারাও আউয়ালের কাছে কিছু সম্পদ বিক্রির প্রস্তাব দেন। প্রতি কাঠা ৩০ লাখ টাকা চান। তবে আউয়াল এতে সাড়া দেননি। জোর করে তাদের জমির ওপর ঘর তোলেন। এ নিয়ে স্থানীয় এমপির কাছেও তারা নালিশ দেন। বছর দুয়েক আগে ওই এমপি নির্দেশ দেন, যাতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত না হই। তবে তাতে আউয়াল কর্ণপাত করেননি।

আকলিমার ভাষ্য, জমিজমা তার ছেলে সাহিনুদ্দিন দেখভাল করতেন। জমির বিরোধ নিয়ে একাধিক দফায় তার ওপর আউয়ালের ভাড়াটে লোকজন হামলাও করে। এ নিয়ে মামলা-জিডির পরও তারা ছিল বেপরোয়া।

সাহিনুদ্দিনের নানি জাহানারা বেগম বলেন, মামলা করলেও লাভ কী! আউয়ালের টাকা খেয়ে পুলিশ সব চেপে যায়। জমির জন্য শেষ পর্যন্ত নাতির প্রাণ গেল। পুলিশ তৎপর হলে জীবনটাও অন্তত বাঁচত ওর। মিথ্যা মামলায় পুলিশ তার দুই নাতিকে গ্রেপ্তারও করে।

স্থানীয় বাসিন্দা মেজর (অব.) মোস্তফা কামাল বলেন, হ্যাভেলি প্রপার্টিজের দক্ষিণ পাশে তার ৮৪ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর তার ঘর সুমন বাহিনীকে দিয়ে কয়েকবার ভাঙচুর করেছেন আউয়াল। থানায় মামলা হলেও পুলিশকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছেন আসামিরা। হ্যাভেলি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৮ একর ৬২ শতাংশ জায়গাও দীর্ঘদিন দখল করে আছে। সরকারের জমি প্লট বানিয়ে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আউয়াল। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ আরও জোরালো ভূমিকা রাখলে অনেকে এসব কোম্পানির প্রতারণা থেকে বাঁচত। সেখানে জমি দখল নিয়ে হ্যাভেলি একাধিক লোককে খুন ও গুম করেছে। হত্যার শিকারদের অনেকে জমির মালিক ছিলেন। আরেক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি সাগুফতাও সেখানে সরকারি জমি দখলে রেখেছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (মিরপুর বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ার্দার তাবেদুন নবী দখলের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, হ্যাভেলি ও সাগুফতা মিলে সরকারি ১৯ একর জায়গা দখল করে রেখেছে। এ নিয়ে মামলাও চলছে। হ্যাভেলির সঙ্গে একটি মামলায় আমরা জিতেছি। আইন কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে হ্যাভেলির দখল থেকে ওই জায়গা উদ্ধার করা হবে।

আলীনগরের স্থানীয় যুবক মো. রিপন বলেন, সুমন এলাকায় দীর্ঘদিন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। জমি দখল করতে সহায়তা ও চাঁদাবাজি ছিল তার পেশা। একসঙ্গে স্কুলে পড়লেও সে আমার গ্যারেজ থেকে চাঁদা দাবি করে। কয়েক দিন আগে হঠাৎ এলাকার বেশকিছু জমির ওপর হ্যাভেলি প্রপার্টিজের ১২টি সাইনবোর্ড ও ঘর তুলে দেয় সুমন। সে আউয়ালের লোক, এটা এলাকার সবার জানা।

এখানকার জমির আরেক মালিক জনি হোসেন বলেন, পল্লবীতে জমির বিরোধ নিয়ে এর আগে একাধিকবার খুনোখুনি হয়েছে। ছয়-সাত বছর আগে মোমিন বকশ নামে একজনকে হত্যা করা হয়। সাহিনুদ্দিনের আরেক অংশীদার বানেছা বেগম বছর চারেক ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তার জমির ওপর অনেক আগেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছিল হ্যাভেলি। বানেছাকে গুম করে জাল কাগজপত্র তৈরি করে তার জমির দখল আউয়াল নিয়েছে বলে বিশ্বাস তার স্বজনের।

জনি হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন খাজনা না দেওয়ায় তাদের কিছু জমি সরকার নিয়ে নেয়। পরে তা অবমুক্ত করতে সাহিনুদ্দিনের আরেক ভাই মাইনুদ্দিন সহায়তা চান আউয়ালের। এর বিনিময়ে তার কাছে কিছু জমি বিক্রির কথা ছিল। তবে অবমুক্ত করতে এসে পুরো জমি দখলের পাঁয়তারা করেন আউয়াল।

স্থানীয়রা বলছেন, সাহিনুদ্দিন খুনে জড়িত সুমন ওই এলাকার ত্রাস। তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনীর অধিকাংশ মাদকাসক্ত। সুমনের চাঁদাবাজির একটি ভাগ পায় স্থানীয় বিহারি যুবক আড্ডু। শুধু অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে তাদের মাসিক আয় কোটি টাকার ওপর। আড্ডুর মাধ্যমে সুমন স্থানীয় এক কাউন্সিলরের প্রশ্রয় পেয়ে আসছে। ওই কাউন্সিলর আড্ডুর গুরু। এ ছাড়া আড্ডুর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সখ্য রয়েছে। পল্লবী থানা পুলিশের একটি অসাধু চক্র জমিজমা ও অন্যান্য অনৈতিক বাণিজ্যে জড়িত এই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মাসোয়ারা পায় বলে অভিযোগ আছে। জমি দখল করতে গিয়ে কোনো প্রভাবশালী মহল কারও ওপর হামলা করলে সেই ঘটনায় যথাযথ ধারায় মামলা হয় না। ছোটখাটো অভিযোগ দিয়ে অনেক তথ্য আড়াল করা হয়। উল্টো আবার প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে পাল্টা মামলা নেয় পুলিশ। নিহত সাহিনুদ্দিন ও তার ভাই মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে গত ঈদুল ফিতরের আগে হ্যাভেলির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। পল্লবী থানার এসআই অনয় চন্দ্র পালের সঙ্গে এই চক্রের অনৈতিক সখ্য আছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অনয়ের ভাষ্য- ‘এ ব্যাপার ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।’

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বলেন, পল্লবীর এই দুষ্টচক্র ভেঙে দিতে সামনে আরও বড় অপারেশন চালানো হবে। অপরাধীর কোনো পরিচয় দেখা হবে না।

গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি মানস কুমার পোদ্দার বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বের করা হচ্ছে। আরও কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে। আউয়ালকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আউয়াল তরীকত ফেডারেশনের মহাসচিব থাকাকালে ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে এমপি হন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে তরীকত ফেডারেশনের মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর পরই তিনি ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তিনি এর চেয়ারম্যান।

সূত্র : সমকাল


   Page 1 of 44
     অপরাধ ও অনিয়ম
নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়ল ২ কোটি টাকার ব্রিজ
.............................................................................................
স্বামী ঢাকায়, প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর..
.............................................................................................
নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীকে পেতে শ্যালিকাকে অপহরণ
.............................................................................................
স্ত্রী-শ্যালিকাকে ভারতে পাচারের অভিযোগে স্বামীসহ গ্রেপ্তার ২
.............................................................................................
মাদারীপুরে ভাবিকে ধর্ষণের অভিযোগ
.............................................................................................
চোখে মরিচের গুঁড়া দিয়ে ছিনতাই, ৩ তরুণী আটক
.............................................................................................
ফকিরের দরবার শরীফে চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যা করল ভক্তরা
.............................................................................................
৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে গলা কেটে হত্যা, শাশুড়ি-দেবর আটক
.............................................................................................
নোয়াখালীতে ধর্ষণ মামলায় যুবক গ্রেফতার
.............................................................................................
টঙ্গীতে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত
.............................................................................................
সাড়ে চার হাজার ইয়াবাসহ আটক ৫
.............................................................................................
সিলেটে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না
.............................................................................................
বিনামূল্যের ঘরের জন্য ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন ইউপি সদস্য!
.............................................................................................
অবৈধ সংযোগে দৈনিক ২০ কোটি টাকার গ্যাস চুরি!
.............................................................................................
এক দশকে পাচার হয়েছে ১৪ হাজার কোটি!
.............................................................................................
জমির দখল নিতে হত্যাচক্রে সাবেক এমপি আউয়াল
.............................................................................................
পল্লবীতে সন্তানের সামনে শাহীন উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি মনির বন্ধুকযুদ্ধে নিহত
.............................................................................................
হাসপাতালে থাকতে চান বাবুল আকতার
.............................................................................................
রোজিনাকে আটকে রেখে হেনস্তার নতুন ভিডিও ভাইরাল
.............................................................................................
ছিনতাকারীর হাতে খুন মোটরসাইকেল আরোহী
.............................................................................................
কোয়ারেন্টিন ধর্ষণের শিকার তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টা
.............................................................................................
নোয়াখালীতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ
.............................................................................................
খিলক্ষেতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত
.............................................................................................
কোয়ারেন্টাইনে তরুণীকে ধর্ষণ, সেই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
.............................................................................................
স্ত্রীকে হত্যা করতে খুনি ভাড়া করেন বাবুল
.............................................................................................
ভ্যানচালকের থাপ্পড়ে প্রাণ গেল যাত্রীর!
.............................................................................................
বেতাগী-কচুয়া খেয়াঘাটে ১০ টাকার ভাড়া ৫০০!
.............................................................................................
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদী পারাপার, ৬ ট্রলার আটক
.............................................................................................
শহীদ উদ্দিনের কর্নেল পদবি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন
.............................................................................................
পণ্যবাহী ফেরি যাত্রীতে বোঝাই
.............................................................................................
মুনিয়ার মৃত্যু রহস্যের জট খুলে দেবে ৫টি তথ্য
.............................................................................................
পাটুরিয়ায় কমলেও শিমুলিয়ায় ঘরমুখী মানুষের স্রোত
.............................................................................................
বাগেরহাটে স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আত্মসমর্পণ
.............................................................................................
ময়মনসিংহে পর্নোগ্রাফি ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ৪
.............................................................................................
অবৈধ মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রের অর্থ যাচ্ছে বিটকয়েনে
.............................................................................................
রাস্তা তো নয়, যেন মরণ ফাঁদ!
.............................................................................................
সিলেটে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৫ যাত্রীর মৃত্যু
.............................................................................................
ক্রমাগত ‘গুম-খুনের হুমকি পেয়ে’ মুনিয়ার বোনের জিডি
.............................................................................................
ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩
.............................................................................................
সাভারে অপহৃত শিশু মানিকগঞ্জে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
.............................................................................................
গৃহবধূ ও যুবককে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন, ঘরে তালা
.............................................................................................
ডাক্তারকে চড় মারলেন নার্স, অতঃপর পাল্টা ঘুষি!
.............................................................................................
রামুতে ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার আসামীরা গ্রেফতার হয়নি : বাদী পরিবার নিরাপত্তাহীন
.............................................................................................
শেরপুরে ট্রাকের চাপায় নিহত ১: আহত ৩
.............................................................................................
দুটি অ্যাম্বুলেন্সই নষ্ট, চালকও নেই!
.............................................................................................
ছেলেসহ সাংবাদিক জুয়েলের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা
.............................................................................................
ডিলারদের প্রতারণা, প্যাকেজে বিক্রি হচ্ছে টিসিবির পণ্য
.............................................................................................
সিলিংয়ে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ
.............................................................................................
ঈশ্বরদীতে অর্ধশতাধিক মানুষ বোঝাই ট্রাক আটক
.............................................................................................
গাজীপুরে ছুরিকাঘাতে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু, আটক ১
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop