| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * খিলক্ষেতে ক্রেনের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত   * চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি, বেড়েছে মাছ-মুরগি-চিনির দাম   * বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের দ্বিগুণ: আইএইচএমই   * দৌলতদিয়ায় ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়   * স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই গণপরিবহনে, চলছে আন্তঃজেলা বাসও   * উন্নত দেশগুলোর চেয়ে একাই বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস ছড়ায় চীন   * জার্মানিতে একদিনে ১০ লাখ মানুষের টিকা গ্রহণ   * করোনা থেকে মুক্তি পেতে জুমাতুল বিদায় বিশেষ দোয়া   * মাস্ক পরা নিয়ে সরকারের ৮ নির্দেশনা   * বাংলাদেশ ১০ হাজার রেমডেসিভির দিল ভারতকে  

   শিল্প-সাহিত্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী লাইফ সাপোর্টে

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বাংলা একাডেমির সচিব এএইচ এম লোকমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ সিরাজী পাকস্থলীজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। তার চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

বাংলা একাডেমির সচিব আরও বলেন, হাবীবুল্লাহ সিরাজীর করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্টে তিনি নেগেটিভ হয়েছেন।

বাংলাদেশ স্পেশালিস্ট হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার অ্যান্ড ডিরেক্টর আল ইমরান চৌধুরী জানান, ওনি ক্লোন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এছাড়া কিডনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওনার অবস্থা ভালো না। ওনাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এছাড়া একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। পায়খানার রাস্তাটা পেট দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ওনার অবস্থা ভেরি ক্রিটিক্যাল।

বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক দিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বইমেলা চলাকালে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। সোমবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কার্ডিয়াক, হজম সমস্যাসহ ফ্রোজেন শোল্ডার নিয়ে এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসেও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। ২৭ ফেব্রুয়ারি তার হার্টে রিং পরানো হয়। পরে ২ মার্চ বাসায় ফিরেছিলেন।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হন কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আশির দশকে জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে ভূমিকা রাখা হাবিবুল্লাহ সিরাজী ২০১৬ সালে একুশে পদক পান। তার আগে ১৯৯১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী জাতীয় কবিতা পরিষদে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে চারবার দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী লাইফ সাপোর্টে
                                  

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বাংলা একাডেমির সচিব এএইচ এম লোকমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ সিরাজী পাকস্থলীজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। তার চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

বাংলা একাডেমির সচিব আরও বলেন, হাবীবুল্লাহ সিরাজীর করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্টে তিনি নেগেটিভ হয়েছেন।

বাংলাদেশ স্পেশালিস্ট হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার অ্যান্ড ডিরেক্টর আল ইমরান চৌধুরী জানান, ওনি ক্লোন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এছাড়া কিডনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওনার অবস্থা ভালো না। ওনাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এছাড়া একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। পায়খানার রাস্তাটা পেট দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ওনার অবস্থা ভেরি ক্রিটিক্যাল।

বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক দিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বইমেলা চলাকালে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। সোমবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কার্ডিয়াক, হজম সমস্যাসহ ফ্রোজেন শোল্ডার নিয়ে এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসেও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। ২৭ ফেব্রুয়ারি তার হার্টে রিং পরানো হয়। পরে ২ মার্চ বাসায় ফিরেছিলেন।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হন কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আশির দশকে জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে ভূমিকা রাখা হাবিবুল্লাহ সিরাজী ২০১৬ সালে একুশে পদক পান। তার আগে ১৯৯১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী জাতীয় কবিতা পরিষদে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে চারবার দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

করোনায় চলে গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ওপার বাংলার বিখ্যাত বাঙালি কবি শঙ্খ ঘোষ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

কয়েক মাস ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন ভারতের এই রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ ও সাহিত্য সমালোচক। লকডাউনে একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, ভর্তি হতে হয়েছিল হাসপাতালে। তবে করোনার কারণে বেশিরভাগ সময় ঘরেই চিকিৎসা নিয়েছেন ৮৮ বছর বয়সী কবি।

করোনা সংক্রমণ ধরা পরার পর ঝুঁকি না নিয়ে বাড়িতেই নিভৃতবাসে ছিলেন। তিনি নিজেও হাসপাতালে যেতে চাননি। তাই বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে আচমকাই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। বুধবার সকালে তাকে ভেন্টিলেটরে দেওয়া হয়। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ভেন্টিলেটর খুলে নেওয়া হয়।

শঙ্খ ঘোষের আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। তার পিতা মনীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং মাতা অমলা ঘোষ। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান চাঁদপুর জেলায় ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। বংশানুক্রমিকভাবে পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বানারিপাড়া গ্রামে।

প্রখ্যাত এই বাঙালি কবি বড় হয়েছেন পাবনায়। পিতার কর্মস্থল হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর পাবনায় অবস্থান করেন এবং সেখানকার চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৫১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলায় কলা বিভাগে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

বঙ্গবাসী কলেজ, কলকাতার সিটি কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন কবি শঙ্খ ঘোষ। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে অবসর নেন। ১৯৬০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া রাইটার্স ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, শিমলাতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ আডভান্স স্টাডিজ এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেন।

দিনগুলি রাতগুলি, এখন সময় নয়, নিহিত পাতালছায়া, আদিম লতাগুল্মময়, মূর্খ বড় সামাজিক নয়ে, বাবরের প্রার্থনা ছাড়াও ৩৪টির বেশি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে শঙ্খ ঘোষের। এছাড়া ৪৮টির বেশি গদ্যগ্রন্থ ও ছোট কিশোরদের জন্য অসংখ্য লেখা লিখেছেন তিনি।

দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে ভারতের পদ্মভূষণ, সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার, রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কারসহ বহু সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষ।

সুত্রঃ ঢাকা টাইমস

কবি মনজুরে মওলা আর নেই
                                  

অনলাইন ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক কবি ও প্রাবন্ধিক মনজুরে মওলা।

রোববার (২০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বাংলা একাডেমি থেকে জানানো হয়, মনজুরে মওলার জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন।

জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর করোনা পজিটিভ হওয়ার পর মনজুরে মাওলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা যান তিনি।

মনজুরে মওলা পেশাজীবনে ছিলেন আমলা৷ আশির দশকের শুরুর দিকে তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন।

তার মেয়াদকালেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ‘ভাষা শহীদ গ্রন্থমালার’ ১০১টি বই বাংলা একাডেমিতে তার অসামান্য কীর্তি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
                                  

অনলাইন ডেস্ক : আজ ১২ ভাদ্র। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনার এক বছর পর ১৯৭৬ সালের শোকের মাসেই এদিনে শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে শোভাযাত্রা সহকারে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে গমন, পুষ্পার্ঘ অর্পণ এবং ফাতেহা পাঠ ও পরে কবির মাজার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা। সকাল সাড়ে দশটায় প্রশাসনিক ভবনস্থ অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে আলোচনা সভা ।বাংলা একাডেমি কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সকালে একাডেমির পক্ষ থেকে জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
বেলা ১১ টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্বাগত বক্তৃতা করবেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। একক বক্তব্য দিবেন এ এফ এম হায়াতুল্লাহ। এতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে রয়েছে নজরুলের কবিতা থেকে আবৃত্তি এবং নজরুলগীতি পরিবেশনা।

কবি,সাহিত্যিক শঙ্খ ঘোষ নজরুলের মৃত্যু নিয়ে লিখেছেন, নজরুলের কথা আজ যখনই মনে পড়ে আমাদের, মনে পড়ে মিলনগত এই অসম্পূর্ণতার কথা। আর তখন মনে হয়, বাক শক্তিহারা তাঁর অচেতন জীবনযাপন যেন আমাদের এই স্তম্ভিত ইতিহাসের এক নিবিড় প্রতীকচিহ্ন। যে সময়ে থেমে গেলো তার গান, তাঁর কথা, তাঁর অল্পকিছু আগেই তিনি গেয়েছিলেন, `ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে, জাগায়োনা জাগায়োনা ।`
রবীন্দ্রনাথকে উদ্দেশ্য করে তাঁর এই কথাগুলো নজরুলকেই ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলে শঙ্খ ঘোষ বলেন, `তাঁর কথাগুলো আমরা যেন ফিরিয়ে দিতে পারি তাঁকেই, `যেন আমরাই ওগুলি বলছি নজরুলকে লক্ষ্য করে।`
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম `দুখু মিয়া`। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।

বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।

নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করে। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্বপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেন এবং ধানমন্ডিতে কবিরকে একটি বাড়ি দেন। বাসস

কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী
                                  

`তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদ্ঘাটন-সূর্যের মতন। রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন। উদয়দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে-চির-নূতনেরে দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ।`

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর `হে নূতন` গানে চির নতুনের মধ্যে দিয়ে তার নিজের পৃথিবীকে আগমনের শুভক্ষণকে তুলে ধরেছিলেন। আজ সেই পঁচিশে বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জয়ন্তী।

বাঙলির মানসপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সদাই বিরাজমান। তিনি আমাদের অহংকার। বাঙালির জীবনের যত ভাবনা, বৈচিত্র্য আছে, তার পুরোটাই লেখনী, সুর আর কাব্যে তুলে ধরেছেন কবিগুরু।

আজ কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জম্মগ্রহণ করেন তিনি। সার্বজনীন এ কবি বাংলাভাষা সাহিত্যকে নিয়ে গেছেন বিশ্ব দরবারে। তাইতো নাগরিক মধ্যবিত্ত মননে আজও বাজে কবির অনিন্দ্যসুন্দর সব গান।
আনন্দ, বেদনা, কিংবা বিরহ, ভালোবাসা প্রতিটি প্রকাশেই বাংলা ভাষাভাষির প্রাণের আশ্রয় রবীন্দ্রনাথ।

নিজের সময়ে থেকেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধারণ করেছিলেন অনাগত কালকে। তাইতো সব সৃষ্টি কর্মই এখনো সমান আবেদন নিয়ে মুগ্ধ শ্রোতারা। মধ্যযুগীয় উপনিবেশিক সাহিত্যের বেড়াজাল থেকে বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতায় মুক্তি দিয়েছিলেন কবিগুরু।

বাংলা সাহিত্যের অনন্যপ্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখনীতে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা সাহিত্যের সব কটি ধারা। কবিগুরুর হাতেই মূলত সার্থক বাংলা ছোটগল্পের সূত্রপাত। এরপর গান-কবিতায় তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মূলত সে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন বাংলা সাহিত্যকে।

রবীন্দ্রনাথ বাংলার কবি, বাঙালির কবি। তবে তিনি নিজেকে বিশ্বচরাচরের অংশ হিসেবে বিশ্বাস করতেন। বাঙালির উদ্দেশে তিনি বলেছেন, `তুমি নিছক বাঙ্গালী নও, তুমি বিশ্বচরাচরের অংশ।` সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রেমের মধ্যে বাঁচতে বলেছেন রবীন্দ্রনাথ। সঙ্গে যুক্ত করতে বলেছেন- প্রাণীজগৎ, নিসর্গ, প্রকৃতিকে । শুধু তাই নয়, শিল্পের জগত, কল্পনার জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের বিস্তার ঘটাতে বলেছেন । পাশাপাশি কাজ করেছেন কৃষক ও জনমানবের জন্যও।

পিতা দেবেন্দ্রনাথ দেশ ভ্রমণের নেশায় বছরের অধিকাংশ সময় কলকাতার বাইরে অতিবাহিত করতেন। তাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা কেটেছিল ভৃত্যদের অনুশাসনে।

শৈশবে তিনি কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নরম্যাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

৮ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশে তিনি ইংল্যান্ড যান। সেখানে তিনি ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।

প্রায় দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে ১৮৮০ সালে কোনো ডিগ্রি না নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। ১৮৮৩ সালের ভবতারিণীর সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ হয়েছিল মৃণালিনী দেবী।

এর মধ্যেই চলতে থাকে তার সাহিত্যচর্চা। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উড়িষ্যার জমিদারি তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন।

১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৌঁছে দিয়েছেন বিকাশের চূড়ান্ত সোপানে। বাংলা ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলী রচনা করে ১৯১৩ সালে পান সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। যার অর্থ দিয়ে তিনি এ দেশে শাহজাদপুরের দরিদ্র কৃষকদের ঋণ দেয়ার উদ্দেশে প্রতিষ্ঠা করেন কৃষি ব্যাংক। ওপার বাংলায় গড়ে তোলেন শান্তিনিকেতন।

আবার রাজপথে নেমে এসেছেন। করেছেন বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে। পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছুড়ে ফেলেন ব্রিটিশ সরকারের দেয়া `নাইটহুড` উপাধিও।
এদিকে চলমান মহামারি করোনার কারণে জনসমাগম এড়াতে এবছর দিনটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই কবিগুরুকে স্মরণ করতে সরকারিভাবে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

আজ (৮ মে) সকাল ১০টায় বিটিভিতে এটি দেখানো হবে। এটির সহযোগিতায় আছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

ধারণকৃত বিশেষ অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ ছায়ানটেও। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা জানান, সকাল সাড়ে নয়টায় একটি ভিডিও অনুষ্ঠান প্রচার করবে তারা। `ওই মহামানব আসে` শিরোনামের এ আয়োজনটি গ্রন্থনা করেছেন ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুন। দেখানো হবে ছায়ানটের ওয়েবসাইটে।

আজ চৈত্রসংক্রান্তি
                                  

অনলাইন ডেস্ক : বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ ৩০ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। বাংলা সনের সবশেষ মাস চৈত্রের শেষ দিন। চৈত্র মাসের এ দিনটি বাঙালির সনাতন সম্প্রদায়ের লৌকিক আচারের দিন ‘চৈত্রসংক্রান্তি’। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই কেটে যাবে দিনটি। দিনটি শেষ হলেই শুরু বাংলা নববর্ষ ১৪২৭। নববর্ষকে আবাহন করতেও থাকবে না কোনো আনুষ্ঠানিকতা। করোনার ভয়াবহতা আমাদের জানান দিচ্ছে লোকসমাগমের অনুষ্ঠান করো না।

বাঙালি সনাতন হিন্দুরা বাংলা মাসের শেষ দিনে শাস্ত্র ও লোকাচার মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস ক্রিয়াকর্ম করে থাকেন। আচার অনুযায়ী, এ দিনে বিদায় উত্সব পালন করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। দোকানপাট ধুয়েমুছে বিগত বছরের যত সব জঞ্জাল, অশুচিতাকে দূর করতে চায়। কারণ রাত পেরোলেই খোলা হয় ব্যবসায়িক হিসাবনিকাশের নতুন খাতা। সে উত্সবের চিরচেনা নাম ‘হালখাতা’। তবে করোনার কারণে সব হালখাতা সব আয়োজন বন্ধ। বৈশাখকে বরণ করতে এ বছর আর কোনো আয়োজন চলছে না। বাংলা নববর্ষকে বরণের জন্য রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে বের হবে না মঙ্গল শোভাযাত্রা। রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের প্রভাতি আয়োজন শুরু ১৯৬৭ সাল থেকে। এরপর ১৯৭১ সাল ছাড়া প্রতি বছরই অনুষ্ঠিত হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে এবার সেই বর্ষবরণ আর মঙ্গল শোভাযাত্রা হচ্ছে না।

প্রতিবছর রাজধানীতে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ও গানের দল সুরেরধারা দিনটি ব্যাপক আয়োজনে উদযাপন করলেও এবার কোনো আয়োজন নেই। নাগরিক জীবনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে পুরোধা সংগঠন ছায়ানটও তাদের ঐতিহ্যবাহী রমনা বটমূলের প্রভাতি অনুষ্ঠান বাতিল করলেও রমনা বটমূলের বিগত কয়েক বছরের অনুষ্ঠানগুলোর ভিত্তিতে একটি ধারণকৃত অনুষ্ঠান বিটিভি প্রচার করবে।

এ প্রসঙ্গে ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন বলেন, বর্তমান মহামারিতে বিশ্বজুড়ে অগণ্য মানুষের জীবনাবসান ও জীবনশঙ্কার ক্রান্তিলগ্নে ছায়ানট এবার ‘উৎসব নয়, সময় এখন দুর্যোগ প্রতিরোধের’ এই অঙ্গীকার নিয়ে সীমিত আকারে অনুষ্ঠান উপস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন (১৪ এপ্রিল) সকাল ৭টায় অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করবে। বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুনের সমাপনী কথন যুক্ত করা হয়েছে। বিটিভি ছাড়াও অনলাইনে ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেল থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করা যাবে।

বিশ্ব বাঙালি পুরস্কার পেলেন যারা
                                  

বাংলাদেশ ও ভারতের ৫ জন কীর্তিমান বাঙালি পাচ্ছেন এ পুরস্কার। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন-প্রফেসর এমিরেটস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (বাংলাদেশ), অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় (ভারত), অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ (বাংলাদেশ), কবি পার্থ বসু (ভারত) এবং অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য (ভারত, সাবেক ভিসি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়)। শিশুদের হাতদিয়ে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

পুলিশের প্রেম
                                  

মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন : চট্টগ্রামের একটা আলোচিত ঘটনা দিয়ে লেখালেখিটা শুরু করতে চাই। গণমাধ্যমের বদৌলতে ঘটনাটি সবার মুখেমুখে।

৭ জানুয়ারি-২০১৯, রাত আটটা। কনকনে শীত। চট্টগ্রাম মহানগরের আগ্রাবাদ জাতিতাত্বিক জাদুঘরের সামনের ফুটপাতে ময়লা পানিতে ভরপুর ছোট্ট নালা। সেই নালার পাশে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। আশপাশে বহু মানুষ দাঁড়িয়ে ওই নারীর আর্তনাদ দেখছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যু যন্ত্রণা উপেক্ষা করে ওই নারী ফুটপাতে জন্ম দিলেন ফুটফুটে এক শিশু। মায়ের নাড়িতে জড়িয়ে থাকা নবজাতকটি (শিশুটি) ফুটপাতের ধুলোবালিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিল। ততক্ষণেও কোনো লোক এগিয়ে এলো না। বাড়িয়ে দেননি কেউ সহযোগিতার হাত, ওই অসহায় মানসিক ভারসাম্যহীন প্রসূতি মা ও তাঁর পিতৃপরিচয়হীন শিশু সন্তানটির প্রতি। অনেকটা সবাই হা করে শিশুটির ভুবন ফাটানো কান্না আর মায়ের আত্মচিৎকার উপভোগ করছিলেন।
এরকম পরিস্থিতিতে কোনো বিবেকবান মানুষ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে ? মোটেও না।
মুহুর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে এলেন একজন মানুষ। তিনি দ্রুত মা ও শিশুটিকে নিয়ে গেলেন পাশের হাসপাতালে। পকেটের টাকা খরচ করে প্রাণে বাঁচলেন মা ও শিশুকে।
যিনি মা ও শিশুটিকে রক্ষা করলেন তাঁর নাম মাসুদুর রহমান। তিনি পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য। তিনি ডবলমুরিং থানা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাসুদুর রহমান। মানবিক ভুমিকা পালনের জন্য এসআই মাসুদুর রহমানের সুনাম আজ দেশব্যাপী। মুমুর্ষ মানব সন্তানকে প্রাণে বাঁচিয়ে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জল করেছেন।
পুুলিশ শুধু খারাপ কাজটি করে, তা কিন্তু না। এসআই মাসুদুর রহমানের মতো অনেক মানবিক পুলিশ দেশে আছেন। এরকম মানবিক কাজের উদাহরণ অনেক দেয়া যায়। পুলিশের জন্মও সম্ভবত একারণে।
ইংরেজি ‘Police’ শব্দের অর্থ তা ই প্রমাণ করে।
যেমনঃ-
P-Polite (ভদ্র)
O-Obedient (বাধ্য)
L-Loyet (অনুগত্য, বিশ্বস্ত)
I-Intelligent (বুদ্ধিমান, মেধাসম্পন্ন)
C-Courageous (নির্ভিক, সাহসী)
E-Efficient (দক্ষ)
অর্থাৎ পুলিশের আচরণ হবে সুন্দর ও মানবিক। একজন পুলিশ সদস্য সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করেন, মানুষকে অন্যায় কাজ থেকে দুরে রাখতে পারেন। মানুষ যেটা পারেনা, পুলিশ সেই কাজটা করে দেখিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন। একজন আদর্শবান পুলিশ দেশ ও জাতির সম্পদ। একজন পুলিশ সরকারের আইন প্রয়োগকারী, আইন রক্ষাকারী ও মানুষকে বিভিন্ন আইনি সহায়তা দিয়ে থাকেন। তবে কিছু পুলিশ সদস্য তাঁর মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে বিভিন্ন খারাপকাজ অথবা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ঘুষ-দুর্নীতি অথবা অন্যায়ভাবে আয়রোজগার করেন। তাঁরা মানুষের কাছে মানবিক পুলিশ হতে পারেন না। পুলিশের মতো সকল পেশায় এরকম কিছু দুষ্টবুদ্ধি-খারাপ প্রকৃতির মানুষ থাকেন। তারা তাদের দায়িত্ব আদর্শ এবং দায়বদ্ধতা থেকে বিচ্যুত হয়ে যান। অন্যদিকে একজন মানবিক, সৎ, বুদ্ধিসম্পন্ন ও সাহসী পুলিশই পাওে, পুলিশ বাহিনীর সুনাম ধরে রাখতে, দেশের আইনশৃংখলা ঠিক রাখতে। জনগণের বন্ধু হতে।

বাংলাদেশ পুলিশের কাজ অনেক। আইনশৃংখলা রক্ষা, অপরাধ দমন, অপরাধীদের গেস্খপ্তার, মামলা গস্খহণ, বিচারে সহায়তা, সড়কের শৃংখলারক্ষা, ভিআইপি নিরাপত্তা-প্রটৌকলসহ অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয় পুলিশকে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগও পুলিশের নিতে হয়। বলতে গেলে এক পুলিশের অনেক কাজ।

দেশে এখন পুলিশের মোট জনবল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫২০ জন। জাতিসংঘের মান অনুযায়ী শান্তির সময় নাগরিক এবং পুলিশের আদর্শ অনুপাত হলো ৪০০:১। কিন্তু বাংলাদেশে এই অনুপাত বর্তমানে ৮২২: ১। আর বাংলাদেশ পুলিশের মোট জনবলের শতকরা ৭ ভাগ এখন নারী। ১৯৮৯ সন থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরাও ধারাবাহিকভাবে অংশ নিচ্ছেন। মিশনে নারী পুলিশ যুক্ত হয়েছে ২০১০ সন থেকে। শান্তি মিশনে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে জাতিসংঘের নয়টি মিশনে ১ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। এরমধ্যে নারী পুলিশ সদস্যের সংখ্যা তিন শতাধিক। আগে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের হাতে মানুষ লাঠি দেখতো। এখন লাঠি তুলে নিয়ে পুলিশ সদস্যের হাতে দেয়া হচ্ছে পদপর্যাদা অনুপাতে আগ্নেয়াস্ত্র। যে কারণে পুলিশ সদস্যরা এখন অনেক দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছেন। রাজধানীর হোলি আর্টিজান হামলা তার দৃষ্টান্ত হতে পারে। পুলিশ অতিদক্ষতার সাথে সেই দিনের জঙ্গিহামলার ভয়াবহতম ঘটনাটি দমন করতে পেরেছিল।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে দেশ থেকে জঙ্গি ও মাদক নির্মৃল করতে হবে।

দেশের মানুষকে রক্ষা করতে পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনী টেকনাফ, কক্সবাজারসহ সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান শুরু করেছে। টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। ইয়াবামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃংখলা বাহিনীর এই অভিযান চলবে। এক্ষেত্রে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া পুলিশ অথবা কোনো বাহিনীর একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ পুলিশ আর্ন্তজাতিক পুলিশি সংস্থা-ইন্টারপোল এর সদস্য। পুলিশ সদর দপ্তরে আছে ইন্টারপোল ডেস্ক। এই ডেস্কের মাধ্যমে তথ্য বিনিময় ছাড়াও নানা ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। এর বাইরে বাংলাদেশ পুলিশে এখন ফরেনসিক, সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, পোস্ট ব্লাস্ট ইনভেস্টিগেশন, ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন, বেসিক ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ও কম্পিউটারের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ অনেক আধুনিক ও দায়িত্বশীল। দিনদিন পুলিশকে মানবিক হতে বাধ্য করছে।

বাংলাদেশের পর্যটন জেলা কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনসহ উল্লেখযোগ্য দর্শণীয় স্থান সমূহের অবস্থানও কক্সবাজারে। প্রতিবছর অন্তত ২০-২৫ লাখ দেশিবিদেশি পর্যটক কক্সবাজারে ছুটে আসছেন প্রাকৃতির লীলাখেলা দর্শণে। তাঁরা মুগ্ধ হন সমুদ্রে উত্তাল রূপ আর সবুজ পাহাড়ের ঝরণা দেখে। স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি পর্যটকেরাও দুইটা বিষয়ে হতাশ হন।

প্রথমটা মাদক চোরাচালান, আর দ্বিতীয়টা রোহিঙ্গা সমস্যা। ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৯ লাখের মতো রোহিঙ্গা জনগোষ্টি। আগে আসা রোহিঙ্গাসহ বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি আশ্রয়শিবিরে থাকছে ১১ লাখ ১৯ হাজারের মতো রোহিঙ্গা। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মানবতার মা’ উপাধি পেয়েছেন। বিশ্বব্যাপী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি বেড়েছে। বাংলাদেশ সরকার এখন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আশ্রয়শিবির ছেড়ে পালানোর সময় ইতিমধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে ৬০ হাজার ৫৩০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে আটক করে পুনরায় ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৭৪৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা, যশোর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের ক্যাম্প থেকে পাচার ও নানা অপরাধের জড়িত ৫৬৬ জন দালালকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে। গত কয়েক মাসে পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে প্রায় সাত কোটি টাকার ইয়াবা। এসময় ৯০ জন মাদকব্যাবসায়ীকে গেস্খপ্তার করে পুলিশ। মাদক নির্মূল, অপরাধ দমনের পাশাপাশি ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্টির শান্তিশৃংখলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কাজ করে যেতে হবে পুলিশকে। কারণ পুলিশ জনগনের বন্ধু।
আরেকটি ঘটনা দিয়েই প্রতিবেদনটা শেষ করতে চাই।

মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদাড়ক এই ঘটনাটা ১ বছর আগের। ২০১৮ সনের ৮ ফেব্রুয়ারি ভোররাতের ঘটনা এটি। টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের খুরেরমুখ এলাকায় সেদিন ভোরে ডুবে গিয়েছিল রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা। নৌকায় যাত্রী ছিল ৫৪ জন। স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় সেদিন পুলিশ-বিজিবি সমুদ্রউপকূল থেকে একে একে উদ্ধার করেন ৫১ জন রোহিঙ্গা নারী পুরুষ শিশুকে। কিন্তু তিনটি শিশুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শিশু তিনটির বয়সও কম। বয়স মাত্র চার থেকে নয় মাস। দুধের তিন শিশুকে হারিয়ে মায়েরা সৈকতের বালুচরে হামাগুড়ি দিয়ে আকাশভাঙা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন। পরিণতির জন্য তাঁরা মিয়ানমারের বর্বর সামরিকজান্তার ওপর অনবরত অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন রোহিঙ্গারা মায়েরা। আর ক্ষণেক্ষনে আল্লাহকে ডাকছিলেন, যেন শিশু সন্তানগুলো জীবীত অবস্থায় ফিরে পান তাঁরা। অসহায় মা’দের দুরবস্থা সেদিন উপস্থিত অনেকের চোখে অশ্রু ঝরিয়েছিল। সেদিনও অন্য দশজনের মতো পুলিশ সদস্যরা নিরব থাকতে পারেনি। তাঁরা সমুদ্রে ঝাঁপ দিলেন। তল্লাশি চালিয়ে তাঁরা তুলে আনলেন তিন শিশু উন্মে সলিমা ( ৪ মাস), মো. আয়ূব ( ৭ মাস) ও আবদুল নবীকে ( ৯ মাস)।

লোকজনের সামনে মায়েরা সন্তানদের কুলে তুলে নিলেন। আদর করতে শুরু করেন শিশুর মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে। এক সময় মা’দের আদর থেমে গেল। কান্নার বোলটা বাড়তে থাকে। মা’দের বিলাপের করুণ সূর উপস্থিত লোকজনের বুঝতে দেরী হয়নি-তিন শিশুর কেউ বেঁচে নেই।

উদ্ধার ৫১ রোহিঙ্গা নারী পুরুষকে গাড়িতে তুলে ক্যাম্পে দিকে রওয়ানা দিলেন বিজিবি সদস্যরা। তিন শিশুর লাশ পড়ে আছে বালুচরে। লাশের মালিক পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিন শিশুর লাশ দাফনের কাজটিও করতে হবে পুলিশকে। কারণ পুলিশ জনগণেরই বন্ধু। মানুষের আবেগ-ভালোবাসা যেখানে শেষ হয়, পুলিশের প্রেম শুরু হয় সেখান থেকেই।

লেখক-
মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন)
কক্সবাজার।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মালিকানা ২ ব্যক্তির কাছে : মির্জা ফখরুল
                                  

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেনেডি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে সদ্য মহাকাশে পাঠানো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর মালিকানা দুই ব্যক্তির কাছে চলে গেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি তোলেন। তবে তিনি এ বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওটারও (বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১) মালিকানা চলে গেছে, জানেন তো? এই স্যাটেলাইটের মালিকানা চলে গেছে দুজন লোকের হাতে। সেখান থেকে আপনাদের কিনে নিতে হবে।’
তবে মহাকাশে এই কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর বিষয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘স্যাটেলাইট, ঠিক আছে ঘুরুক। এটা আগে ঘুরুক, ওটা আবর্তন করুক পৃথিবীতে। পরিক্রমা করুক তখন দেখা যাবে।’
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের মাধ্যমে। মহাকাশে উগগ্রহ পাঠানোর তালিকায় ৫৭তম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান।
দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এ সভার আয়োজন করে। সভায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ডা. সামীউল আলম সুধীনের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলারও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচাযর্ অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়ার সভাপতিত্বে যুগ্ম মহাসচিব এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর পরিবচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন, ড্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক আবদুল কুদ্দস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, শেরে বাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যলয়ের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি সেলিম ভুঁইয়া ও ড্যাবের প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু।

দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেবেন অনন্ত জলিল
                                  

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রাজীব হোসেনের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নিতে চান ব্যবসায়ী এবং জনপ্রিয় চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জন্মদিনে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এমন ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন তিনি।
ওই পোস্টে অনন্ত জলিল লেখেন, ‘বন্ধুগন, আসসালামু আলাইকুম। আজকের দিনে আল্লাহতায়ালা তার সুন্দর ধরণী আর সুন্দর সুন্দর সৃষ্টির মাঝে আমাকে পাঠিয়েছেন, আজ আমার জন্মদিন, তাই শুকুর আলহামদুলিল্লাহ্। রাব্বুল আলআমিনের নিকট আমি কৃতজ্ঞ, এ কারণে যে এমন আনন্দের দিনে তিনি আমাকে স্বপরিবারে মক্কায় অবস্থান করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তবে মন খারাপ আরেক কারণে, ….. কিছু দিন আগে বাস দূর্ঘটনায় রাজিব নামে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী তার হাত হারিয়ে ছিলেন। এবং আজ তিনি পৃথিবী হতে বিদায় নিয়েছেন। যা আমাকে বেশ মর্মাহত করেছে। বাবা-মা হারা এই সন্তান তার ছোট দুই ভাইকে পিতা-মাতার স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছিলো। কিন্তু রাজিবের অকাল বিদায়ে তার দুই ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। তাই আমার জন্মদিনে আমি চাচ্ছি যে পরিবার হারা এই দুই সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিতে।’
এদিকে অনন্ত জলিলের ইচ্ছার ব্যাপারে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মৃত রাজীবের মেঝ খালা খাদিজা বেগম লিপি। তিনি জানান, এতে তাদের আপত্তি নেই। ঢাকায় ফিরে তারা অনন্ত জলিলের সঙ্গে দেখা করবেন।
রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান ও আবদুল্লাহ এবং চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল
রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান ও আবদুল্লাহ এবং চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তামিরুল মিল্লাত নামের একটি দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান (১৩) ও আবদুল্লাহ (১১)। তারা কোরআনে হাফেজ। মাদ্রাসার পাঠ চুকিয়ে হাসান সপ্তম শ্রেণিতে ও আবদুল্লাহ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।
ঢাকায় যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের একটি মেসে থাকতেন রাজীব। তার বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের দাসপাড়ায়। আগেই মা-বাবা মারা গেছেন। তাই রাজীব ঢাকায় টিউশনি করে এবং চাচা, খালাসহ সবার সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছিলেন।
গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে বিআরটিসি বাসের সঙ্গে স্বজন পরিবহনের বাস টক্কর দিতে গেলে বাস দুটির মাঝখানে পড়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। সরকারি তিতুমীর কলেজের এ ছাত্রকে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরদিন ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সরকারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। তবে সোমবার মাঝরাতে সবাই কাঁদিয়ে রাজীব চলে যান না ফেরার দেশে।

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই দ্রুত ফিরিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
                                  

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের লাখ লাখ মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক কারণে তাদের এখানে থাকতে দেয়া হয়েছে। তবে মিয়ানমারকে অবশ্যই নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।
বিশ্ববাসী এই সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার সকালে সাভার সেনানিবাসে সিএমপি কোরের বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সাভার সেনানিবাসের কোর অব মিলিটারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, এখন আর আমাদের কেউ হেয় চোখে দেখে না। আমাদের সঙ্গে সবাই সম্মানজনক আচরণ করে। আমরা মুক্তিযোদ্ধা জাতি। আমরা সবার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।
অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রাম পর্যন্ত উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২০২১ সালের মধ্যে কোনো ঘর অন্ধকারে থাকবে না। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি করব বলে ঘোষণা দিয়েছিলাম। আজ বাংলাদেশ ডিজিটাল হিসেবে গড়ে উঠেছে। আগামীতে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।

মিয়ানমার সফর বাতিল করলেন প্রিন্স চার্লস
                                  


অনলাইন ডেস্ক :
ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লস তার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরসূচি থেকে মিয়ানমারের নাম বাদ দিয়েছেন। ব্রিটিশ যুবরাজের এ সফরের অংশ হিসেবে মিয়ানমারে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হলো।
চার্লস ও ক্যামিলা ৩১ অক্টোবর সিঙ্গাপুর সফরের মধ্য দিয়ে তাদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর শুরু করবেন। এরপর মালয়েশিয়া যাবেন। সেখান থেকে ভারতে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ১১ দিনের সফর শেষ হবে।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ ওঠার পর যুবরাজের সফরসূচিতে এ পরিবর্তন আনা হলো। চলতি মাসের শেষের দিকে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর করবেন প্রিন্স চার্লস।
গত মাসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর উদ্ধৃত করে ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান জানায়, এ সফরের অংশ হিসেবে মিয়ানমারেও যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল চার্লসের। তার সহযোগিরাও স্বীকার করেছেন, মিয়ানমারকেও সফরসূচিতে রাখার কথা বিবেচনায় ছিল। তবে যুবরাজের চূড়ান্ত সফরসূচি থেকে মিয়ানমারের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।
বুধবার ইস্যুকৃত চূড়ান্ত সফরসূচিতে দেখা যায়, সেখানে মিয়ানমারের নাম নেই। ব্রিটেনের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের বিভাগীয় প্রধান ফিলিপ মেলন বলেছেন, ‘আমরা জানাচ্ছি যে, আমরা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া সফরে যাব।’
রাখাইন রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় গত মাসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত করে ব্রিটেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও মিয়ানমারে চার্লসের সফরের বিরোধিতা করে আসছিল।
বার্মা ক্যাম্পেইন অ্যাট ইউকে নামের মানবাধিকার সংগঠনের পরিচালক মার্ক ফার্মানার বলছেন, ‘এই সময়ে প্রিন্স চার্লসের মতো কারও মিয়ানমার সফরে যাওয়ার মানে দাঁড়াবে সে দেশের সরকার ও সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিকে বৈধতা দেয়া।’
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট থেকে দ্বিতীয়বারের মত সহিংসতায় উত্তাল হয়ে ওঠেছে রাখাইন রাজ্য। গত সোমবার (২ অক্টোবর) পর্যন্ত ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

অপু-শাকিব কাহিনী : যা শিখলাম
                                  

সারওয়ার-উল-ইসলাম

আমাদের দেশের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে একটা প্রবণতা আছে এ রকম, বাজার যখন তাদের ভালো তখন তাঁরা বিয়ের বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চান।
এই মানসিকতাটা কেন?
বিয়ের কথা জানাজানি হলে কি তাঁদের ছবি কম চলবে? ছবি ফ্লপ খাবে? এই আশঙ্কাটা কার? প্রযোজক নাকি পরিচালকের? নাকি অভিনেতা-অভিনেত্রীর?
যদি এটা আশঙ্কাই হয়ে থাকে তবে এই আশঙ্কা থেকে কি সুফল বা কল্যাণ বয়ে আনছে?
যে অভিনেতা বা অভিনেত্রী বিয়ে করে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, কিন্তু ওই আশঙ্কার কারণে বিয়েটা গোপনে রাখেন, তাতে দুজনের জীবন কি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায় না?
ধরে নিই, একজন অভিনেতার সব ছবি সুপার-ডুপার হিট হয়। অন্যদিকে গোপনে বিয়ে করা তাঁর স্ত্রী একসময়ের হিট অভিনেত্রী মা হওয়ার কারণে লম্বা সময় চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকায় বাজার পড়তির দিকে। পরিচালকরা তাঁর প্রতি আগ্রহী দেখান না আগের মতো। এখন যদি সেই অভিনেত্রী তাঁর মা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে উত্থাপন করেন, তা হলে কি সেটা অপরাধ? নাকি সেটা তাঁর অধিকার?
পরিচালক প্রযোজক বা ওই অভিনেতার জন্য সেই উত্থাপন বা ফাঁস করে দেওয়াটা কি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে?
তা হলে প্রশ্ন, দাম্পত্য জীবন বড় নাকি ব্যবসা? স্বামীর অধিকার বা সন্তানের পিতৃত্ব দাবি আগে নাকি টাকা আগে? সবচেয়ে বড় কথা মানবিকতা আগে নাকি অর্থ আগে?
যদি তাই হয় তবে বলতে হবে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিয়ে করা ঠিক না। বা বিয়ে করলেও সন্তান জন্ম দেওয়ার চিন্তা করা উচিত না।
এটা হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান চলচ্চিত্র-নাটকজগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষদের মানসিকতা। আমরা এটাকে কি বাহবা দেব না `ধিক্কার` জানাব সেই প্রশ্ন সবার কাছে।
`ধিক্কার` শব্দটা ব্যবহার করলাম এই জন্য যে, এই যদি হয় আমাদের চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষদের অবস্থা তা হলে বুঝতে হবে তাঁদের মানসিকতা কতটা নিচু পর্যায়ের। তা হলে তো তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েই এই জগতে প্রবেশ করতে পারেন যে, বিয়েশাদী তাঁরা করবেন না যতদিন তাঁরা বুড়ো না হবেন, যতদিন তাঁদের বাজার না পড়ে যাবে।
বিষয়টা কি ভাবনার না, তাঁদের এই মানসিকতা দেখে মনে হয় নায়করাজ রাজ্জাক, মিষ্টি মেয়ে কবরী, বিউটি কুইন শাবানা, ড্রিম গার্ল ববিতার মতো বহু সুপারহিট ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বিয়ে না করেই খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছিলেন।
কিংবা পাশের দেশের অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, অজয়-কাজল, মাধুরী দীক্ষিতরা বিয়ে না করেই সুপারহিট হয়েছিলেন।
হায়রে আমাদের মানসিকতা! হায়রে আমাদের অর্থ আয়ের `রুচিহীন` চিন্তাধারা! এভাবে গোপনে বিয়ে করে সন্তান জন্ম দিয়ে সমাজে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়ে অনেক রুচিহীন মানসিকতার প্রকাশ ঘটান তাঁরা। তাঁরা মনে করেন, আকাশের `তারা` হয়ে গেলে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে যান। সমাজ, সংসার, ধর্মীয় মূল্যবোধ সব তুচ্ছ তাঁদের কাছে। এসব তথাকথিত `তারা`রা সমাজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে নিজেদের সম্পৃক্ত করে মহান হওয়ার ধান্দা খোঁজেন।
আসলে এখন শটকাটে অনেক কিছু পাওয়া সম্ভব। মিডিয়ার কল্যাণে রাতারাতি বিখ্যাত হওয়ার মওকা আছে। দু-একটা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে মিডিয়ার সঙ্গে ভালো ভাব রেখে চললে অনেকেই সুপারডুপার অভিনেতা-অভিনেত্রী হয়ে যান। তখন আর নিচের দিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করেন না। মনে করেন পুরো জাতি তাঁর জন্য পাগল। তাই তাঁর সবকিছু সবাই সহজেই মেনে নেবে।
এই নিম্ন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে হবে সেই মানুষদের, যাঁরা এখনো চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত আছেন মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে। যে মূল্যবোধের কারণে এখনো সমাজ ও রাষ্ট্র তাঁদের সম্মান দেয়।
আর যাঁরা আলু-পটোলের ব্যবসা বাদ দিয়ে বা অন্য কোনো অনৈতিক-রুচিহীন ধান্দায় চলচ্চিত্রের প্রযোজক বা পরিচালক হয়ে গেছেন, যাঁরা টাকার গুণে যশখ্যাতি পেয়েছেন অথচ বাংলাদেশের ঐহিত্য-ইতিহাস থেকে সব সময় দূরে থাকেন; সিনেমা বানান অন্যেরটা দেখে বা চুরি করে, তাঁরা যতদিন এই ইন্ডাস্ট্রিজে থাকবেন ততদিন এই রুচিহীন মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটতেই থাকবে।
অপু বিশ্বাসের মতো নায়িকাদের টেলিভিশনে শিশুসন্তানসহ হাজির হয়ে স্ত্রীর অধিকার আদায়ের জন্য কাকুতি মিনতি জানাতে হবে। পরবর্তী সময়ে যা ঘটছে, তা সচেতন পাঠকমাত্রই জানেন।
শেষ দৃশ্যে চলচ্চিত্রশিল্পে `নিষিদ্ধ` হতে থাকবেন শাকিবের মতো অভিনেতারা।
এই চর্চার অবসান দেখতে চাই আমরা।
লেখক : ছড়াকার ও সাংবাদিক।

বই-ই মানুষকে পরিপূর্ণ করে
                                  

মনিরুল ইসলাম মনি

একটা সময় মানুষের বিনোদনের প্রধান মাধ্যমই ছিল বই। বই পড়ার কিন্তু নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা ছিল না তখন।যার যখন খুশি; তখনই বই নিয়ে বসে যেত। বই নিয়ে আমারও অনেক মজার মজার স্মৃতি আছে। যখন খুব ছোট ছিলাম। বাজারে যাওয়া তখনও শিখিনি। বড়জোর বাড়ির পাশের কলেজটাতে যেতাম বিকেলে খেলাধুলা করতে।

তখন কলেজে বইয়ের ছেঁড়া পাতা কিংবা পত্রিকার পাতা পেলেই পড়তে লেগে যেতাম। স্কুলে বাদাম দিত যে কাগজে; সেই কাগজটি না ফেলে- কী লেখা আছে তাতে নিমিষেই পড়ে নিতাম। বাড়ির পাশের ওষুধের দোকানে গিয়ে নিয়মিত পত্রিকা পড়তাম। আমার বাবা-মা বেশি শিক্ষিত না হলেও তাঁরা কিন্তু কখনোই পড়ার ব্যাপারে বাধা দিতেন না। বরং আরো উৎসাহ দিতেন।

বলা ভালো আমি পাঠ্য বইয়ের চেয়ে ফিকশন-নন ফিকশন বই-ই বেশি পড়তাম; যখন একটু বড় হলাম।বাজারে আব্বা আমাকে সাইকেলে চড়িয়ে নিয়ে যেতেন। তখন আমি কোনো কিছু খেতে চাইতাম না। আমার আবদার ছিল বইয়ের। সময়টা ছিল ৯৫/২০০৭ এর দিকে। তারপর থেকে বইয়ের প্রতি আস্তে আস্তে কেমন যেন আগ্রহ কমে গেল। কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ করিনি।

সময় বদলেছে, এরই মধ্যে বদলে গেছে অনেক কিছু। আমি বদলেছি, আপনিও বদলেছেন, অনেকেই বদলেছে। প্রযুক্তির প্রসারতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ ঝুকে গেছে প্রযুক্তির দিকে। বই ঢুকে গেছে প্রযুক্তির ভেতর। কিন্তু তাতে আর অতটা মজা নেই। বলাবাহুল্য বইয়ের পিডিএফ ভার্সন পড়লে মনে হয় যেন খেলনা বই পড়ছি কিংবা কোনো কৃত্রিমতাকে অনুসরণ করছি।

আজ বিশ্ব বই দিবস। ১৯৯৫ সালের ২৩ এপ্রিল হতে প্রতিবছর জাতিসংঘের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কোর উদ্যোগে এই দিবসটি পালন হয়ে আসছে। এ বছর বই দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো `বই পড়া, বই ছাপানো, বইয়ের কপিরাইট সংরক্ষণ করা` ইত্যাদি বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো।

বই দিবসের ইতিহাস বা ইতিবৃত্ত জানাটাও কিন্তু খুব জরুরি। ১৯৮২ সালে ইউনেস্কো লন্ডনে আন্তর্জাতিক গ্রন্থ-সম্মেলনের আয়োজনে ১০ বছর `পড়ুয়া সমাজ` গঠনের প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়। সেই সম্মেলনের ১৩ বছর পর ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো প্রতি বছর ২৩ এপ্রিলকে সব দেশকে বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস হিসেবে পালন করার আহ্বান জানায় এবং ১৯৯৫ সাল থেকে দিবসটি উদযাপন শুরু করে। স্কুলের বার্ষিক ছুটির কারণে এর আগে থেকেই অবশ্য গ্রেট ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ড ৪ মার্চকে বিশ্ব গ্রন্থ দিবস হিসেবে পালন করে আসছিল।

কয়েকটি কারণে ইউনেস্কো ২৩ এপ্রিলকে গ্রন্থ দিবস ঘোষণা করেছিল। আধুনিক উপন্যাসের জনক ও বিখ্যাত উপন্যাস `ডন কুইকসোট`-এর লেখক স্পেনীয় ঔপন্যাসিক কারভানতির মৃত্যুদিন ২৩ এপ্রিল বড় একটি কারণ। অন্যদিকে শেক্সপিয়রের জন্মদিন। আবার স্পেনে ১৯২৫ সালের এই দিনটি থেকে প্রেমিককে একটি গোলাপ ফুলের বদলে বই উপহার দেয় প্রেমিকা। সেখানে বই উপহার দেওয়ার দিন হিসেবে আজও উদযাপিত হয়ে আসছে ২৩ এপ্রিল। অন্যদিকে বিশ্বের বেশ কয়েকজন বিখ্যাত লেখকের জন্মদিন ২৩ এপ্রিল। যেমন আধুনিককালের অন্যতম বিখ্যাত ঔপন্যাসিক ভ্লাদিমির নবোকভ।

তবে সম্ভবত শেক্সপিয়রের জন্মদিন ও কারভেনতিসের মৃত্যুদিন এবং স্পেনে `বই উপহার দেওয়ার দিন` হিসেবে এদিন উদযাপিত হয়ে আসছে অনেক দিন ধরে। সেই বিবেচনায় আজ (২০১৭) থেকে ২২ বছর(১৯৯৫) আগে দিনটিকে বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনেস্কো।

বই পড়ারও কিছু বিশেষত্ব আছে। মণীষীদের মতে নিচের দশটি কারণে প্রতিটি মানুষেরই নিয়মিত বই পড়া দরকার-

১) মানসিক উদ্দীপনা বাড়াতে: স্থবির মনের উদ্দীপনা বাড়াতে বইয়ের চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না।

২) স্ট্রেস কমানো : খুবই মানসিক চিন্তায় আছেন। সুন্দর একটি বই পড়া শুরু করুন। দেখবেন অবসাদ কমে যাচ্ছে।

৩) জ্ঞান বাড়াতে : কথা একটাই বই হলো জ্ঞানের ভাণ্ডার।

৪) শব্দভাণ্ডার বিস্তার : একমাত্র বই পড়ার মাধ্যমেই আপনি নতুন শব্দভাণ্ডারে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।

৫) স্মৃতি উন্নয়ন : বই আপনার স্মরণশক্তি বাড়াতে দারুণ এক কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

৬) বিশ্লেষণাত্মক চিন্তার দক্ষতা : বই পড়ার মাধ্যমে আপনার যেকোনো একটা বিষয়ে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অথবা দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

৭) চিন্তার উৎকর্ষতা : শুধু যে আপনি ভালো বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অর্জন করবেন তা না। ভালো বই পাঠ চিন্তার উৎকর্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৮) ভালো লেখার ক্ষমতা : বই পড়লে শুদ্ধ করে, সুন্দর শব্দ চয়নে লিখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৯)প্রশান্তি : মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে বইয়ের চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না।

১০) বিনোদন : নির্জনতায় নিজের মতো করে শব্দহীন বিনোদন চান। নিজের মাঝে নির্মল পরিবেশের সুন্দর একটি আবহ তৈরি করতে চান। তবে বই, বই আর বই।

আপনি একটু যাচাই করে দেখবেন, বই পড়ুয়ারা কিন্তু কথা খুব কম বলে। তারা অন্যর কথা মনোযোগের সঙ্গে শোনে। আর দুই/একটি কথা বললেও রেফারেন্স বা কোটেশন ছাড়া বলে না। তাই বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা উৎসবে আমরা বই উপহার দেওয়ার রীতি চালু করি।

পৃথিবীর সব লেখক, পাঠক, মুদ্রাকর, ছাপাকর্মী, বইয়ের বিপণনকারীসহ বইয়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে সম্পৃক্ত সবাইকে বিশ্ব বই দিবসের শুভেচ্ছা।

আসুন বই পড়ি, জীবন গড়ি। পৃথিবীকে জানার চেষ্টা করি।

লেখক : ছড়াকার ও সাংবাদিক।

যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া দ্বন্দ্ব: আরেকটি মহারণ?
                                  

তাসরুজ্জামান বাবু ।। প্রবাদ আছে, রাজায় রাজায় লড়াই হয় উলু খাগড়ার প্রাণান্ত। বর্তমানে হয়েছে সেই দশা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরিয়ার দুই পাগলাটে শাসক ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে পেশী প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। অথচ অস্বস্তিতে ভুগছে পুরো বিশ্ব। বিশেষত আমাদের মতো থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রির জনগণ (সোজা বাংলায়: ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা) এইসব যুদ্ধাযুদ্ধিতে নিরতিশয় আশংকা বোধ করেন। কারণ, বেশিরভাগ ছোট-খাটো দেশই বৃহৎ রাষ্ট্রের নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়েছে যুদ্ধ নামের এই শত্রু শত্রু খেলার মাধ্যমেই। আর তাই ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখে না ডরিয়ে পারে? এর কারণ হলো, শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বাঁধলে ছোট দেশগুলোর যুদ্ধোত্তর আত্ম-ভবিষ্যৎ চিন্তা করে যুদ্ধে না জড়িয়ে উপায় থাকে না। এভাবেই দু-দু টো বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। এবার কি তবে তিন নম্বরটি ঘটতে চলেছে? সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে খান খান হওয়ার পর ঠাণ্ডা লড়াই কিছুটা স্তিমিত হয় বলে বিশ্ব কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় আসে। যেহেতু তখন সারা বিশ্বে একক শক্তিধর দেশ হিসেবে অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। যেসব উৎকণ্ঠিত দেশ ন্যাম-এ যোগ দিয়েছিল তারা কিছুটা স্বস্তি পায় এই ভেবে যে, টানাটানির হাত থেকে বাঁচা গেলো কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আমেরিকার কাছে গোদের ওপর বিষফোঁড়া হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উত্তর কোরিয়া। উত্তাল বিশ্ব রাজনীতির পরিমণ্ডলে সমাজতান্ত্রিক ও মার্কবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ কমিউনিস্ট শাসিত এই দেশটি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করে আমেরিকার মাথাব্যথা বাড়িয়ে দেয়। তার সঙ্গে গলায় গলায় পিরিত এখন রাশিয়া ও চীনের। অন্যদিকে, আমেরিকার সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। আগের মতোই পুঁজিবাদ বনাম সমাজতন্ত্রের এক ঠাণ্ডা লড়াই যেনো।

সম্প্রতি যে বিষয়টি উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে তা হলো, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী যেই না কোরিয়া অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে আর অমনি আক্রমণ মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়ে বসেছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হান সং রিয়ল মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমাদের শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা রয়েছে। আর মার্কিন হামলার মুখে আমরা নিশ্চিতভাবেই সে অস্ত্র হাতে নিয়ে বসে থাকবো না। মার্কিন বাহিনী যেভাবে আক্রমণ করবে আমরা তার সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি জানান, উত্তর কোরিয়া মানসম্পন্ন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে সরে আসবে না।

বিষয়টা হাল্কাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তলে তলে জল অনেকদূর গড়িয়েছে। অলরেডি উত্তর কোরিয়া তাদের নাগরিকদের রাজধানী থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। ভাগ্য মন্দ হলে শীঘ্রই আরেকটি যুদ্ধের বাদ্য শুনতে পেতে পারে বিশ্ব।

আমেরিকা দাবি করেছে, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এ পর্যন্ত পাঁচ দফা পরমাণু বোমা পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া। এছাড়া, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও অব্যাহত রেখেছে দেশটি। আর এইসব বলতে না বলতেই আমেরিকা নিজেই আরেকটি অস্ত্র পরীক্ষা করে ফেললো। পারমানবিক বোমার বাইরে তাদের সবচেয়ে বড় বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটালো আফগানিস্তানে। নিহত হলো ৯০ জন। যদিও আমেরিকার দাবি সেটা আইএস এর ঘাঁটি ছিলো এবং আফগানিস্তানের প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলছেন, আফগান সরকারের সমন্বয়েই এ হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এ হামলার নিন্দা জানিয়ে টুইট করেছেন এই বলে, এটি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং এর মাধ্যমে নতুন এবং বিপজ্জনক একটি অস্ত্র পরীক্ষার জন্য আফগানিস্তানকে খুবই অমানবিক এবং নির্মমভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বাস্তবিকও তাই, আর কোনো যায়গা পেলো না আমেরিকা, চামে চামে আফগানিস্তানের মাটিতে ল্যাব টেস্টটা সেরে ফেললো! যায় যাবে তার যাবে!

এই সংকটের জন্য দায়ী মূলত উত্তর কোরিয়া এবং আমেরিকার নিজস্ব সামরিক শক্তি নজিরবিহীনভাবে বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনমনীয় ও হঠকারী মনোভাব। কেউ ছেড়ে কথা বলতে রাজি নয়। সুর নরম করছে না কেউই।

সংকট নিরসনের জন্য দ্বিমুখী প্রস্তাব দিয়েছে চীন। প্রথমত, উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে। এর লক্ষ্য হবে, কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করে শান্তিচুক্তি সই, যা ৬০ বছরের পুরনো কোরিয়ান ওয়ার আর্মিস্টাইস অ্যাগ্রিমেন্টকে প্রতিস্থাপন করবে।
কথা হচ্ছে, আমেরিকা কিংবা উত্তর কোরিয়া চীনের এই প্রস্তাব শুনবে তো? শুনলে হয়তো এই যাত্রায় পার পাওয়া যাবে নয়তো পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক মেরুর পাল্টাপাল্টি আক্রমণে আরেকটি মহারণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যার পরিণাম সমগ্র বিশ্বকেই ভোগ করতে হবে।

লেখক: যন্ত্রপ্রকৌশলী, বাংলাদেশ রেলওয়ে
(সংগৃহীত)

নববর্ষ: ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব ।। যতীন সরকার
                                  

যতীন সরকার : আবহমান কাল ধরেই বাংলার লোকসমাজ `নববর্ষ` উদযাপন করে এসেছে। লোকসমাজের সেই উদযাপনে একটুও কৃত্রিমতা ছিল না। লৌকিক ধর্মনিরপেক্ষ রীতিতে চিরায়ত ঐতিহ্যের ধারাবাহিক অনুবর্তিতাতেই উদযাপিত হতো বাংলা ও বাঙালির নববর্ষ। কিন্তু `পাকিস্তান` নামক কৃত্রিম ও জঘন্য রাষ্ট্রটির চাঁইয়েরা বাঙালির এই ঐতিহ্যানুসারিতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলল।

তারা নববর্ষের মতো সকল ধর্মনিরপেক্ষ লৌকিক ঐতিহ্যমণ্ডিত উৎসবের মধ্যেই হিন্দুয়ানির ভূত দেখতে পেলে। নববর্ষ ও ঋতুবরণমূলক উৎসবকে তারা চিহ্নিত করল প্রকৃতিপূজা বলে। এ-রকম উৎসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকেই তারা প্রকৃতি-পূজক তথা ইসলামবিরোধী তথা ইসলামি রাষ্ট্র পাকিস্তানের শত্রু বলে অভিযুক্ত করল। এর ফলে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেল গ্রামীণ লোকসমাজও। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রামেও নববর্ষ উৎসবের তাল কেটে যায়। গ্রামীণ মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যেও পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক ভাবধারার প্রভাবে নববর্ষ উৎসবের প্রতি বিমুখতা দেখা দেয়। অন্যদিকে শহুরে এলিটরা তো দীর্ঘদিন ধরেই লৌকিক ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন, নববর্ষ উৎসব উদযাপনের রীতিনীতি বা ভাবনাধারার সকল পরিচয়চিহ্নই তাদের মনোভূমি থেকে অপগত।

এ অবস্থাতেই শহুরে এলিটদের যে অংশটির চিত্তে পাকিস্তানি ভাবধারার প্রতি বিরোধিতা ও বাঙালিত্বের প্রতি আকর্ষণ দেখা দেয়, সে অংশটির মধ্যেও একধরনের শূন্যতা অত্যন্ত প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এরা স্বভাবতই নববর্ষের মতো উৎসব সম্পর্কে পাকিস্তানপন্থিদের বক্তব্য মেনে নিতে পারেন না। কিন্তু লৌকিক ঐতিহ্য ও জীবনচেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে নববর্ষ উৎসবটি কী পদ্ধতিতে উদযাপন করে পাকিস্তানপন্থি প্রচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায়, তা-ও বুঝে উঠতে পারেন না। তাই পাক জামানার গোড়ার দিকে (অর্থাৎ বিগত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে) শহুরে এলিটদের বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মধ্যে প্রতিবাদী চেতনার প্রকাশ ঘটে, কিন্তু তাদের উদযাপিত উৎসবের মধ্যে প্রাণের ছোঁয়া তেমন একটা পাওয়া যায় না, সে-উৎসব বাঙালিত্বের মর্মবাণীর ধারক হয়ে ওঠে না।

তবু, এ অবস্থাতেই, বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে শহর-নগরের সচেতন শিক্ষিত বাঙালিদের মধ্যে বাঙালিত্বের বোধ অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে। সেই বোধ থেকেই তাদের ভেতর রবীন্দ্রপ্রীতির নতুনতর উৎসারণ ঘটে, নজরুলের খণ্ডায়নরোধের তাগিদ দেখা দেয়। এককথায়, বাঙালিত্বের প্রকৃত রূপের প্রতিষ্ঠাদানের লক্ষ্যেই তাদের বোধ পুষ্ট হয়ে ওঠে। দেশজুড়ে বাঙালিত্বের চেতনার ধারক অনেক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে উঠতে থাকে। এসব সংগঠনের মধ্যে একান্ত উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য নিয়ে দেখা দেয় তদানীন্তন প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকার `ছায়ানট`।

ছায়ানট একটি অসাধারণ ও অবিস্মরণীয় কাজ করেছিল। রমনার বটমূলে যে বছর ছায়ানটের উদ্যোগে নববর্ষ উদযাপনের প্রবর্তন ঘটে, সে বছর থেকেই বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে একটি নবধারা সূচিত হয়ে যায়। এর দৃষ্টান্তে উদ্বুদ্ধ হয় বাংলাদেশের পুরো বাঙালি সমাজ; সারা দেশের প্রতিটি শহরে-বন্দরে উদযাপিত হতে থাকে বাংলা নববর্ষ উৎসব; এবং সেক্ষেত্রে সর্বত্র ছায়ানটেরই অনুকরণ ও অনুসরণ চলে। এই উৎসবে ধর্মতান্ত্রিকতার কোনো ছায়াপাত নেই, সকল প্রকার ধর্মতন্ত্রী সাম্প্রদায়িক রীতিনীতির স্পর্শ থেকে মুক্ত এই উৎসব, ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালিত্বের বোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলে এই উৎসবে এসে মিলিত হয়। এ উৎসবের সূচনামন্ত্র কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের `এসো হে বৈশাখ`, পুরাতনের হৃদয় টুটে নতুনকে ফুটিয়ে তোলার আর্তিই ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হতে থাকে এ উৎসবে গানে-কবিতায়-নৃত্যে।

আসলে ছায়ানট সূচিত নাগরিক বাঙালির এই নববর্ষ উৎসবের ভাবাদর্শ ও রীতি-পদ্ধতি সবই কবি রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে পাওয়া। জীর্ণ পুরাতনকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে নতুনকে সাদরে বরণ করে নেওয়ার উৎসাহ রবীন্দ্রনাথের ভেতর জীবনভরই বিদ্যমান ছিল। সে উৎসাহ থেকেই বাঙালির নববর্ষ উৎসবকে তার অসাধারণ সৃষ্টিশীলতার স্পর্শে তিনি নতুনতর রূপে ও তাৎপর্যে মণ্ডিত করে তুলেছিলেন। শান্তিনিকেতন আশ্রমকে কেন্দ্র করেই তিনি নববর্ষ উৎসবের নবরূপায়ণ ঘটিয়েছিলেন। সেই আশ্রমে নববর্ষ উৎসব পালনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি লিখেছিলেন-

`আমাদের যে সংকল্প ব্যবহারের দ্বারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আমাদের যে বিশ্বাসের দ্বারা কর্মকে বেগ জোগায় তা যখন দৈনিক অন্ধ অভ্যাসের বাধায় স্রোত হারিয়ে ফেলে, তখন এই সকল জরার তামসিকতা সরিয়ে দিয়ে সত্যের প্রধানতম নবীনতার সঙ্গে নতুন পরিচয়ের প্রয়োজন হয়, নইলে জীবনের ওপর কেবলি ম্লানতার স্তর বিস্তীর্ণ হতে থাকে। আমাদের কর্মসাধনার অন্তর্নিহিত সত্যের ধূলিমুক্ত উজ্জ্বল রূপ দেখবার জন্য আমরা বৎসরে বৎসরে এই আশ্রমে নববর্ষের উৎসব করে থাকি। যে-উৎসাহের উৎস আমাদের উদ্যমের মূলে তার গতিপথে কালের আবর্জনা যা-কিছু জমে ওঠে এই উপলক্ষে তাকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করি।`

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শান্তিনিকেতন আশ্রমের ক্ষুদ্র পরিধিতে নববর্ষ উৎসবের যে নবরূপায়ণ ঘটিয়েছিলেন, সেই নবরূপায়িত উৎসবই আশ্রমের গণ্ডিভেদ করে বৃহত্তর ক্ষেত্রে ক্রমে প্রসারিত হতে থাকে। রবীন্দ্রানুরাগী শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত বাঙালি রবীন্দ্র উদ্ভাবিত রীতিতেই বর্ষবরণ তথা নববর্ষ উৎসব উদযাপনে উৎসাহী হয়ে ওঠেন।

বিশ শতকের মধ্যপর্বে বাংলা অঞ্চলের যে ভূখণ্ডটি `পাকিস্তান` নামক এক মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রের শাসনাধীন হয়ে পড়ে, সে ভূখণ্ডের সচেতন শিক্ষিতজনের পক্ষেও কিন্তু পূর্বসূরিদের পন্থানুসরণ করা সম্ভব হয় না। সামান্যতম রবীন্দ্রানুরাগ প্রকাশ করলেও কর্তৃপক্ষীয় ধমক খেতে হয় তাদের।

এ রকম এক বিরূপ ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে ছায়ানট যখন রমনার বটমূলে রবীন্দ্র প্রবর্তিত রীতির অনুসরণে নববর্ষ উৎসব উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে, তখন শত্রুর প্রতিরোধের মোকাবিলা করার কথা মাথায় রেখেই তাকে তা করতে হয়। অর্থাৎ ছায়ানটের মতো সুকুমার কলার অনুশীলনকারী সংগঠনটিও তার সুকোমল ও নিরীহ রূপ বজায় রাখতে পারে না, তাকেও সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। তবে, তাকে একা একা সংগ্রামে নামতে হয় না। ছায়ানটের সঙ্গে কোনো রকম সম্পর্ক ছিল না যাদের, বাঙালিত্বের চেতনায় উদ্বুদ্ধ এ রকম সকল শিক্ষিত সচেতন নগরবাসীও ছায়ানটের নববর্ষ উৎসব উদযাপনে হন সকর্মক সহযোগী। এর ফলে উৎসবটিতে যুক্ত হয় প্রতিবাদের প্রতিরোধের নবতর মাত্রা। সেই প্রতিবাদ প্রতিরোধই বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে এক মোহনায় এসে মিলিত হয়ে যায়।

স্বাধীন রাষ্ট্র রূপে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর নববর্ষ উৎসব আরো অধিকতর উৎসাহের সঙ্গে উদযাপিত হতে থাকে। নববর্ষ আর স্বাধীনতার মূল্যবোধ যেন একাকার হয়ে যায়।

এ রকম একাকার হয়ে যাওয়াটাই অসহ্য ঠেকে স্বাধীনতার দুশমনদের। পাকিস্তানবাদের উত্তরাধিকার যারা এটি স্বাধীন বাংলাদেশেও বহন করছে, তাদের আসল লক্ষ্য এ দেশে পাকিস্তানায়ন ঘটানো। সেই লক্ষ্যেই তারা ইতিমধ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, পাকিস্তানের মতোই এ দেশটিকে ধর্মতন্ত্রী রাষ্ট্রে পরিণত করতে তারা তৎপর হয়ে উঠেছে।

কিন্তু তাদের সেই তৎপরতা তথা অপতৎপরতা প্রচণ্ড মার খাচ্ছে ঐ নববর্ষ উৎসবের কাছেই। প্রতিবছর পয়লা বৈশাখেই নববর্ষ উৎসবের সমারোহের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি তাদের নির্দ্বিধ প্রত্যয়ের কথা ঘোষণা করে। তারা জানিয়ে দেয় যে, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের মতো বিবিধ ধর্মীয় সম্প্রদায়ে অন্তর্ভুক্ত থেকেও জাতি হিসেবে তারা এক ও অভিন্ন। ধর্মগত সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের চেয়ে ভাষাগত ও কৃষ্টিগত জাতি পরিচয়টাই তাদের কাছে অনেক বড়। সেই জাতি-পরিচয়ের গৌরবই তাদের ধর্মনিরপেক্ষ নববর্ষ উৎসবে প্রতি বৎসর ঘোষিত এবং দেশটিকে পাকিস্তানের মতো সাম্প্রদায়িক ধর্মতন্ত্রী রাষ্ট্র বানানোর সকল অপপ্রয়াস প্রত্যাখ্যাত। `ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার`- এই প্রত্যয় তাদের চিত্তমূলে একান্ত সুদৃঢ় রূপেই প্রতিষ্ঠিত।

এই সুদৃঢ় প্রত্যয় গণচিত্ত থেকে উৎপাটন করে ফেলার জন্য পাকিস্তানবাদের ধারক-বাহক বাংলাদেশি নামীয়রা নানা কৌশলেরই সন্ধান করছে। সে সব কৌশলের মধ্যে যেমন আছে ধর্মতন্ত্রের মৌলবাদী ভাষ্যের অবিরাম প্রচার চালিয়ে মানুষের মস্তিষ্ককোষ ধর্মান্ধতার মৌতাতে আচ্ছন্ন করে ফেলার অপচেষ্টা, তেমনই আছে লোভের জাল বিছিয়ে তাতে মানুষকে আটকে রাখা এবং ভয়ের নির্মম প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে জনগণকে ধর্মনিরপেক্ষতার পথ থেকে ফিরিয়ে আনা। এই ভয়ের প্রদর্শনী তারা `উদীচী`র মতো অসাম্প্রদায়িক সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিংবা আওয়ামী লীগ বা কমিউনিস্ট পার্টির মতো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী রাজনৈতিক দলের সমাবেশে যেমন ঘটিয়েছে, তেমনই ঘটিয়েছে ছায়ানটের নববর্ষের অনুষ্ঠানে। ছায়ানটের অনুষ্ঠানে বোমা ফেলাটা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ওই ধর্মতন্ত্রী মৌলবাদীরা মনে করেছিল যে, একবার যদি রমনার বটমূলের নববর্ষের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেওয়া যায়, তাহলে আর কোনো বছরেই মানুষ সে অনুষ্ঠানের ধারে কাছে যাবে না, সবাই ভয়ে জবুথবু হয়ে ঘরের কোণে বসে থাকবে। এভাবেই সকলে ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব পালন করা থেকে নিজেদের নিবৃত্ত করবে এবং দেশে ধর্মনিরপেক্ষ ভাবনারও সমাপ্তি ঘটবে।

প্রতিবারের নববর্ষ উৎসবে যোগদানকারী মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বহুগুণিত হচ্ছে। শুধু ঢাকায় নয়, দেশের সকল শহরে নগরে-বন্দরে। ভয় পাওয়ার বদলে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী মানুষ এভাবেই ধর্মতন্ত্রী মৌলবাদীদের চিত্তে ভয়ের কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। আমরা একান্তভাবেই বিশ্বাস করতে পারি যে, বাঙালি নববর্ষ উৎসব পালনের মধ্য দিয়েই জানিয়ে দিয়েছে যে ধর্মতন্ত্রী মৌলবাদীদের সকল কৌশলই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এ দেশের মানুষ প্রকৃত মানুষের ধর্মের অনুসারী, ধর্মকে তারা হৃদয়-কন্দরে একান্ত শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার সঙ্গে লালন করে। ধর্মকে সাম্প্রদায়িকতার যূপকাষ্ঠে তারা বলি দেয় না। ইহলৌকিক ও আদিভৌতিক রাষ্ট্রনীতির অধীন বানিয়ে ধর্মের পবিত্রতায় ও আধ্যাত্মিকতায় সামান্য কালিমা লেপনেও এ দেশের মানুষ রাজি নয়। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যই তারা পাকিস্তানবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কেউই কোনোমতেই এ দেশে যে পাকিস্তানবাদের পুনঃপ্রত্যাবর্তন ঘটাতে পারবে না, প্রতিবছর ধর্মনিরপেক্ষ রীতিতে নববর্ষ উৎসব পালন করেই এ দেশের মানুষ তা জানিয়ে দেয়।

লেখক: শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক


   Page 1 of 1
     শিল্প-সাহিত্য
কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী লাইফ সাপোর্টে
.............................................................................................
করোনায় চলে গেলেন কবি শঙ্খ ঘোষ
.............................................................................................
কবি মনজুরে মওলা আর নেই
.............................................................................................
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী
.............................................................................................
আজ চৈত্রসংক্রান্তি
.............................................................................................
বিশ্ব বাঙালি পুরস্কার পেলেন যারা
.............................................................................................
পুলিশের প্রেম
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মালিকানা ২ ব্যক্তির কাছে : মির্জা ফখরুল
.............................................................................................
দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেবেন অনন্ত জলিল
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের অবশ্যই দ্রুত ফিরিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
মিয়ানমার সফর বাতিল করলেন প্রিন্স চার্লস
.............................................................................................
অপু-শাকিব কাহিনী : যা শিখলাম
.............................................................................................
বই-ই মানুষকে পরিপূর্ণ করে
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া দ্বন্দ্ব: আরেকটি মহারণ?
.............................................................................................
নববর্ষ: ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব ।। যতীন সরকার
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop