| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * মতিঝিলে `বিচ্ছু বাহিনী`র ৫ সদস্য গ্রেফতার   * ফরিদপুরে করোনা-উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু   * করোনাকালে ডেঙ্গু নিয়ে অবহেলা না করার অনুরোধ   * ফেরিতে উঠতে গিয়ে নদীতে পড়ে গেলেন ৩ যাত্রী   * করোনায় আরও ২২৮ জনের মৃত্যু   * মাস্কবিহীন কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না   * মহারাষ্ট্রে ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধস, নিহত বেড়ে ১৩৮   * টিকা নিতে ১ কোটির বেশি মানুষের নিবন্ধন   * দৌলতদিয়ায় উভয়মুখী যাত্রীর চাপ   * পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা: ফেরির ২ চালককে দায়ী করে প্রতিবেদন  

   কৃষি সংবাদ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
রাজশাহীতে শুরু হয়েছে গাছ থেকে আম নামানো

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার বাগানে গাছ থেকে পরিপক্ব আম নামানো শুরু হয়েছে। তবে, প্রথমে নামছে কেবল গুটি জাতের আম। এবং সুপরিচিত গোপালভোগ নামবে আরও পরে।
রাজশাহীর পাবা উপজেলার মথুরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বেশ কিছু গাছ থেকে গুটি আম পাড়া হচ্ছে। এগুলো সবই প্রায় আগাম জাতের। পরে প্লাস্টিকের ক্যারেটে করে সেই আম তোলা হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যানে। এর পর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট বাজারে।
পরিপক্ক এই আম কাঁচা অবস্থাতেই বিক্রি করা হচ্ছে। রাজশাহীতে সাধারণত এই সবুজ (কাঁচা) আমই বিক্রি করা হয়। এগুলো বাড়ি নিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে রেখেই পাকিয়ে সবাই খেতে পারেন। যে কারণে কোনো বিষাক্ত কেমিক্যালের ভয় থাকেনা। আর অল্পকিছু আম গাছেই পেকে যায়। সেগুলো খুচরা বাজারে বিক্রি করা হয়।
এদিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী, শনিবার থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। তবে, কোনো আম আগে পাকলে স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানাতে হবে। তার পরিদর্শন শেষেই গাছ থেকে নামানো যাবে আম। রাজশাহীতে সাধারণত সবার আগে পাকে গুটি জাতের আম।

জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে এই আমটি নামাতে পারছেন চাষিরা। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রানিপছন্দ ২৫ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা নামানো যাবে ২৫ মে থেকে এবং খিরসাপাত বা হিমসাগর ২৮ মে থেকে নামানো যাবে। এছাড়া ল্যাংড়া আম ৬ জুন, আম্রপালি এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা ও বারি-৪ জাতের আম।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গুটি আম প্রতি বছরই একটু আগে পাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাই অনেকেই আজ গুটি আম নামাতে শুরু করেছেন। তবে আঁশযুক্ত এই আমের স্বাদ তুলনামূলক কম।’
রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবদুল জলিল বলেন, ‘বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী কেবলমাত্র গাছে পাকলেই আম পাড়তে পারবেন চাষিরা। তবে, যদি কোনো আম আগেই পেকে যায় সেগুলোও ভাঙতে পারবেন। কিন্তু এজন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাতে হবে বলে জানান তিনি।

রাজশাহীতে শুরু হয়েছে গাছ থেকে আম নামানো
                                  

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার বাগানে গাছ থেকে পরিপক্ব আম নামানো শুরু হয়েছে। তবে, প্রথমে নামছে কেবল গুটি জাতের আম। এবং সুপরিচিত গোপালভোগ নামবে আরও পরে।
রাজশাহীর পাবা উপজেলার মথুরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বেশ কিছু গাছ থেকে গুটি আম পাড়া হচ্ছে। এগুলো সবই প্রায় আগাম জাতের। পরে প্লাস্টিকের ক্যারেটে করে সেই আম তোলা হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যানে। এর পর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট বাজারে।
পরিপক্ক এই আম কাঁচা অবস্থাতেই বিক্রি করা হচ্ছে। রাজশাহীতে সাধারণত এই সবুজ (কাঁচা) আমই বিক্রি করা হয়। এগুলো বাড়ি নিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে রেখেই পাকিয়ে সবাই খেতে পারেন। যে কারণে কোনো বিষাক্ত কেমিক্যালের ভয় থাকেনা। আর অল্পকিছু আম গাছেই পেকে যায়। সেগুলো খুচরা বাজারে বিক্রি করা হয়।
এদিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী, শনিবার থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। তবে, কোনো আম আগে পাকলে স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানাতে হবে। তার পরিদর্শন শেষেই গাছ থেকে নামানো যাবে আম। রাজশাহীতে সাধারণত সবার আগে পাকে গুটি জাতের আম।

জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে এই আমটি নামাতে পারছেন চাষিরা। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রানিপছন্দ ২৫ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা নামানো যাবে ২৫ মে থেকে এবং খিরসাপাত বা হিমসাগর ২৮ মে থেকে নামানো যাবে। এছাড়া ল্যাংড়া আম ৬ জুন, আম্রপালি এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা ও বারি-৪ জাতের আম।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গুটি আম প্রতি বছরই একটু আগে পাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাই অনেকেই আজ গুটি আম নামাতে শুরু করেছেন। তবে আঁশযুক্ত এই আমের স্বাদ তুলনামূলক কম।’
রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবদুল জলিল বলেন, ‘বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী কেবলমাত্র গাছে পাকলেই আম পাড়তে পারবেন চাষিরা। তবে, যদি কোনো আম আগেই পেকে যায় সেগুলোও ভাঙতে পারবেন। কিন্তু এজন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাতে হবে বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রামে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষে তিন বন্ধুর সাফল্য
                                  

অনলাইন ডেস্ক: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিন বন্ধু মিলে প্রথমবারের মতো গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। উপজেলার মধ্যে এবারেই প্রথম নতুন জাতের এই তরমুজ চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনার কারণে কলেজ বন্ধ। অন্য শিক্ষার্থীদের মতো অনেকদিন ধরে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন রাজারহাট উপজেলার অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তিন বন্ধু মাহমুদুল হাসান, নুর আলম সরকার এবং মনিরুল ইসলাম। তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে কিছু সময় কৃষি কাজে ব্যয় করবেন তারা। কী করা যায় চিন্তা ভাবনার একপর্যায়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নতুন জাতের গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে তিনজনে মিলে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

পরে তারা রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন হরিশ্বর তালুক মৌজায় ৪০ শতাংশ জমি লিজ গ্রহণ করে। পরে ইউটিউবে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষের পদ্ধতি দেখে ইন্টারনেটের দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী তরমুজের বীজ অর্ডার করেন। এরপর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা নিয়ে তারা হলুদ বর্ণের তরমুজ চাষ করেন।

শুরু থেকে মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে ফলন হয় এই তরমুজের। বর্তমানে তরমুজ ক্ষেতের জাংলায় ঝুলছে শত শত গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ। নতুন জাতের সেই তরমুজ ও চাষের পদ্ধতি জানার জন্য প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসুক জনতা এসে ভিড় করছেন তরমুজ ক্ষেতে।

গত দু’দিন পূর্বে প্রথম পর্যায়ে তরমুজ কর্তন করেন তরুন চাষীরা। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে তাসনিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শম্পা আক্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আশিকুর ইসলাম সাবু, রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র তরুণ উদ্যোক্তা নুর আলম সরকার বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে প্ল্যান পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার জন্য কিছু করা দরকার। সেই চিন্তাভাবনা থেকে ভাবলাম যদি কৃষিতে ভালো প্রযুক্তি আনা যায় অনেক ভালো ফলন পাওয়া যাবে এবং উন্নত ফসলগুলো করা যাবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষামূলকভাবে আমরা তরমুজ চাষ করি।

অপর তরুণ উদ্যোক্তা মাহবুবুল হাসান বলেন, আমরা তিন বন্ধু মিলে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষাবাদ করেছি এবং আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করছি। আমাদের পরবর্তী প্রজেক্টে আরও ভালো কিছু করব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শম্পা বেগম বলেন, এটা জাত হলো গোল্ডেন ক্রাউন, পুষ্টিমান এবং স্বাধে মিষ্টতায় এটা বাজারের অন্যান্য তরমুজের থেকে দ্বিগুণ স্বাধ বিশিষ্ট। ইউটিউব ভিডিও ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে তারা গোল্ডেন ক্রাউন নামক তরমুজ চাষ করেছেন। প্রথমবারে তারা ৪০ শতক জমিতে চাষাবাদ করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে তাসনিম জানান, রাজারহাট উপজেলায় প্রথমবারের মতো তিনজন তরুণ উদ্যোক্তার উদ্যোগে গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে। আমরা সরেজমিনে তাদের প্রথম হারভিষ্টিংয়ে সামিল হয়েছি। এখানে উৎপাদন যথেষ্ট ভালো হয়েছে এবং এলাকার মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। স্থানীয় বাজারেও এটার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। সকলের মতামত হচ্ছে এটা যথেষ্ট স্বাদ এবং পুষ্টিযুক্ত একটি ফল। আমরা আশা করছি এই তরুণ তিন উদ্যোক্তার পথ অনুসরণ করে অন্যরাও এগিয়ে আসবে।

হলুদ তরমুজ চাষে সফল জহিরুল
                                  

জেলা প্রতিনিধি : তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষক জহিরুল ইসলাম। দেখতে নয়নাভিরাম আর খেতে সুস্বাদু এই তরমুজ বিক্রি করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তার থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন এলাকার অন্য ফল চাষিরাও।

মেহেরপুরের গাংনীর গাড়াবাড়িয়া মাঠে জহিরুল ইসলাসের ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে ঝুলছে হলুদ রঙের তরমুজ। জেলায় এই প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। তাই এ তরমুজ চাষ দেখতে ভিড় করছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে নিচ্ছেন চাষের পরামর্শও।

চাষি জহিরুল ইসলাম জানান, অনলাইন থেকে উৎসাহিত হয়ে এ তরমুজ চাষের প্রতি আগ্রহী হন তিনি। অনলাইল থেকে ঠিকানা নিয়ে বীজ সংগ্রহ করেন। পরে বিশেষ কায়দায় জমি প্রস্তুত করে বীজ রোপণ করেন। কচি ডগা থেকে লতা বেড়ে ওঠা পর্যন্ত কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। সেক্স ফেরোমিন পদ্ধতিতে বালাই দমন করা হয়।

তিনি আরও জানান, রোপণ থেকে ফল পাকা পর্যন্ত সময় লাগে ৬০ দিন। বীজ, সার, মাচা আর সুতোর জাল বাবদ প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। আর তাতে পাওয়া যায় অন্তত দুই লাখ টাকা।

চায়না জাতের এ তরমুজ দেখতে দূর দূরান্ত থেকে এসে ভিড জমাচ্ছেন। ফল চাষিরাও পরামর্শ নিচ্ছেন এ তরমুজ চাষের।

পরামর্শ নিতে আসা চাষি ইন্তাজুল জানান, হলুদ তরমুজ চাষের খবর শুনে তিনি পরামর্শ নিতে এসেছেন। অল্প খরচে স্বল্প সময়ে এ তরমুজ চাষে বেশ লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি। একই কথা জানালেন চাষি কামরুল ইসলাম ও ইয়ারুল।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দীন জানান, এ অঞ্চলের মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। চাষি জহিরুল এ অঞ্চলে প্রথম এ তরমুজ আবাদ শুরু করেন। তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অনেকেই আসছেন এ জাতের তরমুজ চাষের ব্যাপারে পরামর্শ নিতে। লাভজনক এ তরমুজ চাষের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে এবং চাষিদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

সব ধানে চিটা, ১০ মিনিটের গরম বাতাসে সর্বনাশ
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের শেফালী বিশ্বাস (৫৮)। ঘরে অসুস্থ পঙ্গু স্বামী আর চার মেয়ে। এবার ৩ বিঘা জমিতে ধান বুনে স্বপ্ন দেখেছিলেন ঘরে তোলার। যাতে সারা বছরের খাবার যোগান হয়। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ের পরেই মাত্র কয়েক মিনিটের গরম বাতাসে তার সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এখন চিন্তায় রয়েছেন কীভাবে যোগান হবে সারা বছরের খাবার। কীভাবেই বা চলবে সংসার।

শুধু শেফালী বিশ্বাসই নয় তার মত একই অবস্থা ওই গ্রামের অপর্ণা রানী খান, দয়ানন্দ ঘরামী, জুড়ান বিশ্বাস, সুরেশ সেন, চিত্তরঞ্জন ঘরামী, দেবাশিষ মণ্ডলসহ জেলার চার উপজেলার শত শত কৃষকের।

এক রাতের মধ্যে শত শত হেক্টর জমির ধানের শীষ সবুজ থেকে সাদা হয়ে নষ্ট হয়েছে। কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন লু হাওয়ার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। জেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে কৃষি বিভাগ খবর পেয়ে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠে নেমেছে।

সরেজমিনে গিয়ে ও গোপালগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জে এ বছর ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এসব জমিতে এখন ধানের ফ্লাওয়ারিং স্টেজ চলছে। কিন্তু হঠাৎ করে গত রোববার রাতে জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া, তাড়াইল, পাকুরতিয়া, লেবুতলা, বর্ণি, কুশলী, পাটগাতী, বরইহাটি ও গোপালপুর, কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের মাচারতারা, আমতলী, তালপুকুরিয়া, কান্দি, হিরণ ও আমতলী, কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ও সদর উপজেলার চর মানিদাহ গ্রামের উপর দিয়ে কাল বৈশাখীর গরম হাওয়া প্রবাহিত হয়।

এরপর সোমবার সকালে কৃষকেরা তাদের জমিতে গিয়ে দেখেন সব ধান সাদা হয়ে গেছে। ক্ষেতের উঠতি বোরো ধানের শীষে যে গুলোতে কেবল মাত্র ‘দুধ’ এসেছে সেই ধানের শীষ সব চিটায় পরিণত হয়ে সাদা বর্ণ ধারণ করেছে। যেসব জমিতে ধানের ফ্লাওয়ারিং হচ্ছে সে সব জমির ধান গরম বাতাসে পুড়ে গিয়ে সাদা বর্ণ ধারণ করেছে। এতে উৎপাদনের প্রায় শতকরা বিশ ভাগ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আর এতে জেলার শত শত কৃষক কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সারা বছর কী খেয়ে দিন কাটাবেন এখন সেই চিন্তায় পড়েছেন তারা। ধার দেনা, ব্যাংক লোন ও ঋণ নিয়ে এসব কৃষকরা তাদের জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ধান নষ্ট হওয়ায় কীভাবে ধার দেনা ও ঋণ শোধ করবেন সেই চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের দয়ানন্দ ঘরামী ও জুড়ান বিশ্বাস বলেন, রাতে গ্রামের উপর দিয়ে কাল বৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। মাত্র বিশ মিনিটের গরম বাতাসে আমার জমির ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে। এক ছটাক ধানও ঘরে তুলতে পারবো না। সারা বছর পরিবার পরিজন নিয়ে কী খাবো চিন্তায় শেষ এখন।

একই গ্রামের অপর্না রানী খান বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ। ছোট ছোট দুটো বাচ্চা রয়েছে। আমি নিজ হাতে তিন বিঘা জমিতে ধান লাগাইছি দেনা করে। কিন্তু আমার জমির সব ধান এখন নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমার আর কোনো পথ নেই কোনো আয় রোজগার নেই। এখন আমার মরন ছাড়া আর কোনো গতি নেই।

একই গ্রামের দেবাশিস মণ্ডল, নকুল ঘরামী, চিত্তরঞ্জন ঘরামী বলেন, এ বছর ধার দেনা, ব্যাংক লোন ও ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছি। কিন্তু জমির ধান সব শেষ হয়ে গেলো। দেশে এখন করোনার সাথে লকডাউন চলছে। সারা বছরের খাবার তো দুরের কথা এখন ধার দেনা কীভাবে শোধ করবো তা বুঝতেই পারছি না। আমাদের মরণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

একই গ্রামের কৃষক রঞ্জিত সেন, সুরেশ সেন বলেন, রাত ১০টার দিকে কাল বৈশাখীর ঝড়ো হাওয়ার বইতে শুরু করে। এরই এক পর্যায়ে হঠাৎ করে গরম বাতাস আসে। তখন আমরা বুঝতে পারিনি ধানের ক্ষতি হবে। সকালে রোদ ওঠার পর জমিতে গিয়ে দেখি ফুলে বের হওয়া ধানের শীষগুলো শুকিয়ে গেছে। এখন আমরা কি করবো তা বুঝে উঠতে পারছি না। সরকার যদি আমাকে সাহায্য সহযোগিতা না করে তাহলে ঋণ করে সারা বছর চলতে হবে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কৃষকরা খবর দেয়ার পর আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে গিয়ে দেখি জমির ধানগুলো সাদা বর্ণ ধারণ করে নষ্ট হয়ে গেছে। এ বছর টুঙ্গিপাড়ায় ৮ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিটুল রায় বলেন, ফ্লাওয়ারিং হওয়া ধানে গরম বাতাসের কারণে পরাগায়ন শুকিয়ে গেছে। যে কারণে ধান গাছগুলো ঠিক আছে কিন্তু শীষগুলো শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোটালীপাড়ায় প্রায় ৬ থেকে ৭ শত হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন স্থানে ধান নষ্ট হবার কথা স্বীকার করে গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, গরম বাতাসে জেলার টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী ও সদর উপজেলার বোরো ধানের বেশ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষতির পরিমাণ লিপিবদ্ধ করার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিষয়টি ভাঙ্গা ধান গবেষণা ইনিষ্টিটিউটকে জানানো হয়েছে। তাদের একটি দল গোপালগঞ্জে এসে বিষয়টি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবেন। এরপর তারা আমাদের জানিয়ে করণীয় ঠিক করবেন।

সুত্র ঃ বাংলাদেশ জার্নাল

অপ্রচলিত ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সহযোগিতা করা হবে: কৃষিমন্ত্রী
                                  

কাজু বাদাম, কফি, ড্রাগন ফলসহ দেশে অপ্রচলিত ফসলের চাষাবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রক্রিয়াজাতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবন থেকে উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিসারদের অনুকূলে গাড়ি বিতরণকালে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রচলিত ফসলের সাথে কাজু বাদাম,কফি, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত ফসলের চাষাবাদ, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের অনেক জেলাতে কাজু বাদাম, কফি প্রভৃতি চাষ সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারে এগুলোর চাহিদা অনেক বেশি, দামও বেশি। সেজন্য এসব ফসলের চাষাবাদ ও প্রক্রিয়াজাত বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চাষাবাদের জমি বাড়ানোর সুযোগ খুব একটা নেই, বরং জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। সেজন্য একই জমিতে বার বার ফসল উৎপাদন করতে হবে, ফসলের নিবিড়তা বাড়াতে হবে এবং ফসলে বৈচিত্র্য আনতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। কৃষিতে এ সরকারের এখন মূল লক্ষ্য হলো খোরপোশের কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও লাভজনক করা।

এ সময় কৃষিকাজ করে কৃষকেরা যাতে লাভবান হতে পারেন, নিজেদের জীবনে গুণগত পরিবর্তন আনতে পারেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উন্নত-সমৃদ্ধ জীবন উপহার দিতে পারে সে লক্ষ্যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বগুড়ায় মরিচের বাম্পার ফলন
                                  

বগুড়ায় হাসতে শুরু করেছে মরিচ চাষীরা। মরিচের মত লাল হাসিতে ভরে উঠতে শুরু করেছে চাষীদের মনও। বগুড়ায় এবারও মরিচের বাম্পার ফলন পেতে যাচ্ছি চাষীরা। কৃষি বিভাগ বলছে চলতি বছর জেলায় এবার প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি মরিচ উৎপাদন হবে। বগুড়ায় ভাল মরিচের ফলন পেতে চাষীরা রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে মরিচ। জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলায় চাষীরা সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ করে থাকে। এখন সেই চাষের পর মরিচ রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে সেসব বাজারে তুলে বিক্রি করা হবে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, অর্থকরী ফসল মরিচ চাষ করে কৃষক লাভবান হয় বলে মরিচ চাষে তারা প্রতিবছর আগ্রহ দেখায়। চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফলন পাওয়া গেছে প্রতি হেক্টরে ২.৫ মে.টন করে। সেই হিসেবে ফলন পাওয়া যাবে এবছর ১৮ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে জেলায় মরিচ চাষ হয় ৭ হাজার ৬৬৬ হেক্টর জমিতে। ফলন পাওয়া যায় প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন।

কৃষি অফিস বলছে, মরিচ চাষে প্রতি বিঘায় ফলন পাওয়া যায় ৮ থেকে ৯ মন। জমি উর্বরা হলে ১০ মন মরিচ পাওয়ার সম্ভবানা থাকে। জমি থেকে লাল মরিচ উঠে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মন। সেই মরিচ শুকিয়ে ১০ মন পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা হাজার টাকা। শুকনা মরিচ এবছর বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা মন। জেলার মরিচ চাষীদের উঠানে এখন মরিচ শুকানোর কাজ চলছে। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আহমেদ জানান, বগুড়ার সোনাতলায় এবার ১৩৬০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। ওই উপজেলার কৃষকেরা তিনটি হাইব্রিড জাতের মধ্যে সনিক, ১৭০১ ও বিজলী প্লাস এবং স্থানীয় উন্নত জাতের মরিচের ব্যাপক করেছে।

এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। মরিচের বীজ বপনের ৩০-৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং ৬০-৭০ দিনের মধ্যে কৃষক গাছ থেকে মরিচ উত্তোলন শুরু করে। এটি একটি অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। এই উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে রাক্ষুসী যমুনা ও বাঙালী নদী। তাই বন্যার পর চরাঞ্চলে এবং অন্য জমিতে পলি জমায় প্রতিবছর সেগুলো জমিতে মরিচের বাম্পার ফলন হয়। প্রতিবিঘা জমিতে ১২/১৫ মন মরিচ উৎপন্ন হয়। প্রতিমন কাচা মরিচ হাটে বাজারে ১৬শ টাকা থেকে ১৮শ টাকায় বিক্রয় করতে দেখা গেছে। আবার টোপা ও সুট মচির ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ও বালুয়া হাট সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক তাদের উৎপাদিত কাঁচা মরিচ ও শুকনা মরিচ বাজারজাত করণ করছে। সোনাতলায় উৎপন্ন মরিচ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেচা বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এবার কৃষক ভালো দাম পেয়ে নগদ অর্থ ঘরে তুলতে সক্ষম হচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা খাবুলিয়া এলাকায় সাইদুর রহমান জানান, এবার তিনি ৬/৭ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। প্রতিবছর তিনি ওই পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করেন। মরিচ চাষে লাভ ভাল হয়। এমনকি সারাবছর খাওয়া চলে। সোনাতলার পাকুল্যা এলাকার কৃষক ছলিম উদ্দিন জানান, এবার তিনি ৫/৬ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে তিনি মোটা অংকের টাকা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

ঠাকুরপাড়া এলাকার বুলু প্রামানিক জানান, এবার তিনি ৬/৭ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের মরিচ বপন করেছেন। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা মরিচ বিক্রি করেছেন। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফলন পাওয়া গেছে এখন পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে ২.৫ মে.টন করে। ফলন পাওয়ার গড় একই থাকলে জেলায় মরিচের বাম্পার ফলন হবে।

 
পেঁয়াজের বিকল্প নিয়ে গবেষণায় সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানী
                                  

 

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

রান্নার অন্যতম উপকরণ পেঁয়াজ। ভারত এই পণ্য রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে এর ঝাঁজ (দাম) বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। তাই বলে বাঙালির রান্নায় পেঁয়াজ থাকবে না তা কেমন করে হয়। এমন অবস্থায় পেঁয়াজের বিকল্প খুঁজছিলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ‘চিভ’ নামে এক মসলার জাত চাষে সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

দীর্ঘদিন ‘চিভ’ নিয়ে গবেষণা শেষে উত্তর চীন, সাইবেরিয়া ও মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের মসলা জাতীয় বহুবর্ষজীবী ফসল চাষে এ সাফল্য পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূর আলম চৌধুরী। এ কাজে তার সহযোগী ছিলেন ড. মোস্তাক আহমেদ, ড. আলাউদ্দিন খান ও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

 

তারা উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন চিভের ওপর গবেষণা করেন। এতে তারা সফলও হয়েছেন। উদ্ভাবন করেছেন বছর জুড়েই চাষ ও ফলনের উপযোগী বারি চিভ-১ নামের একটি জাত।

পেঁয়াজ ও রসুনের স্বাদ বা গুণাগুণ থাকায় আপৎকালীন সময়ে এর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে ‘চিভ’- এমন ভাবনায় ২০১৭ সালে গবেষণা শুরু করেন বারি’র বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তারা বারি চিভ-১ নামের একটি উচ্চ ফলনশীল জাত অবমুক্ত করেছেন। এই ফসলকে ঘিরে অনেকটা পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প তৈরিতে আশার সঞ্চার হয়েছে।


বারির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূর আলম চৌধুরী জানান, পৃথিবীর অনেক দেশে চিভ সাধারণত স্যুপ, সালাদ ও চাইনিজ ডিসে ব্যবহৃত হয়। এর পাতা লিলিয়ান আকৃতির ফ্ল্যাট, কিনারা মসৃণ ও এর ভালভ লম্বা আকৃতির। চিভের স্বাদ অনেকটা পেঁয়াজ-রসুনের মতো। পণ্যটি হজমে সাহায্য ও রোগ নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণাগুণও বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান। চিভ সাধারণত দেশের পাহাড়ি এলাকা সিলেট ও চট্টগ্রামে চাষ হয়ে থাকে। এছাড়াও এখন দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা, বগুড়া ও লালমনিরহাট এলাকায় চিভ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। চিভ গাছ একবার লাগালে দীর্ঘদিন ধরে ফল পাওয়া যায়। বাড়ির আঙিনায় বা টবে এই ফসলের চাষ করা যায়।

 

এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরও জানান, বিবিএস ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী আমাদের দেশে বর্তমানে বাৎসরিক পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৭.৩৫ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদা রয়েছে ২২ লাখ মেট্রিক টন। বাকি পেঁয়াজ বিদেশ থেকে আনতে হয়। পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে চিভকে ব্যবহার করা গেলে আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে। এছাড়াও চিভের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি সারা বছর ধরেই চাষ করা যায়।

 

বারি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের চিভ-১ গাছের উচ্চতা ৩০-৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাতার দৈর্ঘ্য হয় ২৩-৩০ সেন্টিমিটার। ভাল্ভ লম্বা আকৃতির, দৈর্ঘ্য এক থেকে দেড় সেন্টিমিটার। প্রতি হেক্টরে পাতাও গাছসহ উৎপাদন হয় ১০-১২ টন। চারা লাগানোর সময় থেকে ৬৫-৭০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ শুরু হয়। বছরে ৪-৫বার ফসল সংগ্রহ করা যায়।

 

বারির মশলা ফসল বিশেষজ্ঞ গাজীপুর আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্রের (বিএআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প হিসেবে আদর্শ একটি মশলা জাতীয় ফসল চিভ। এর গুণাগুণ পেঁয়াজ-রসুনের চেয়েও বেশি। ব্যাপকভাবে চাষ করা গেলে দেশে পেঁয়াজ-রসুনের ঘাটতি চিভ দিয়েই মেটানো সম্ভব হবে।

আলু চাষে ব্যস্ত নীলফামারীর কৃষকেরা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : কৃষি নির্ভর উত্তরের জেলা নীলফামারীর প্রধান ফসল ধান, আলু ও ভুট্টা। আগাম আমন ধান ঘরে তুলতে না তুলতেই আগাম আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোমর বেঁধে নেমেছেন আলু চাষে। কৃষি বিভাগ বলছে, আগাম আলু চাষ এ অঞ্চলে লাভজনক হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের।

এক সময়ের অভাবী জনপদ হিসেবে পরিচিত নীলফামারী এখন বদলে যাওয়া এক জনপদ। কৃষি বিভাগের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও ব্যবহার, জমি এক ফসলি থেকে তিন/চার ফসলি, কৃষক ও কৃষি শ্রমিকের অক্লান্ত শ্রম আর চেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এ জনপদ। কাজের অভাবে এখন আর আশ্বিন ও কার্তিক মাসে কৃষক বা কৃষি শ্রমিকরা বেকার থাকেন না। জেলার তিন উপজেলার বেশ কিছু জমিতে আগাম আমন ধান কাটার পাশাপাশি চলছে আগাম আলু চাষ। তবে জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা আগাম আলু চাষে এগিয়ে। আগাম অলু চাষ শুরু হয়েছে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। আগাম আলু ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে বাজারে চলে আসবে। এর দামও ভালো পাওয়া যায়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আলুর বীজ রোপণে কিছুটা দেরি হলেও ভালো ফলনে আশাবাদী কৃষকেরা।

আলু উৎপাদনে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সঠিকভাবে সার ও কীটনাশকের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, তারা সুষ্ঠুভাবে যেন চাষ করতে পারে এ বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করে যাব।

এবার আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন হবে ১২ টন বলে আশা কৃষি বিভাগের।

 
আশ্বিন মাসের কৃষি
                                  

কাশফুলের শুভ্রতা, দিগন্ত জোড়া সবুজ আর সুনীল আকাশে ভেসে বেড়ানো চিলতে সাদা মেঘ আমাদের মনে করিয়ে দেয় বর্ষার শেষে আনন্দের বার্তা নিয়ে শরৎ এসেছে। সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা। বর্ষা মৌসুমের সবটুকু ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া আর চলতি মৌসুমের পুরো পাওনা আদায় করতে কার্যকরি প্রস্তুতি নেবার সময় এখন। এ প্রেক্ষিতে আসুন সংক্ষেপে জেনে নেই আশ্বিন মাসের বৃহত্তর কৃষি ভুবনের করণীয় বিষয়গুলো।

আমন ধান
আমন ধানের বয়স ৪০-৫০ দিন হলে ইউরিয়ার শেষ কিস্তি প্রয়োগ করতে হবে।
সার প্রয়োগের আগে জমির আগাছা পরিস্কার করে নিতে হবে এবং জমিতে ছিপছিপে পানি রাখতে হবে।
এ সময় বৃষ্টির অভাবে খরা দেখা দিতে পারে। সে জন্য সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। ফিতা পাইপের মাধ্যমে সম্পূরক সেচ দিলে পানির অপচয় অনেক কম হয়।
নিচু এলাকায় আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থানীয় উন্নত জাতের শাইল ধানের চারা রোপন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি গুছিতে ৫-৭টি চারা দিয়ে ঘন করে রোপন করতে হবে।
শিষ কাটা লেদা পোকা ধানের জমি আক্রমণ করতে পারে। প্রতি বর্গমিটার আমন জমিতে ২-৫টি লেদা পোকার উপস্থিতি মারাত্মক ক্ষতির পূর্বাভাস। তাই সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় মাজরা, পামরি, চুঙ্গী, গলমাছি পোকার আক্রমণ হতে পারে। এক্ষেত্রে নিয়মিত জমি পরিদর্শণ করে, জমিতে খুটি দিয়ে, আলোর ফাঁদ পেতে, হাতজাল দিয়ে পোকা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
খোলপড়া, পাতায় দাগ পরা রোগ দেখা দিতে পারে। তাছাড়া সঠিক বালাইনাশক সঠিক মাত্রায়, সঠিক নিয়মে, সঠিক সময় শেষ কৌশল হিসাবে ব্যবহার করতে হবে।


নাবি আমন রোপণ

কোন কারণে আমন সময় মতো চাষ করতে না পারলে আশ্বিনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিআর ২২, বিআর ২৩, বিনাশাইল বা স্থানীয় জাতের চারা রোপণ করা যায়।
গুছিতে ৫-৭টি চারা রোপণ করতে হবে।
অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ইউরিয়া প্রয়োগ ও অতিরিক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে কাঙ্খিত ফলন পাওয়া যায় এবং দেরির ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়।
আখ

আখের চারা উৎপাদন করার উপযুক্ত সময় এখন।
সাধারণত বীজতলা পদ্ধতি এবং পলিব্যগ পদ্ধতিতে পারা উৎপাদন করা যায়।
পলিব্যাগে চারা উৎপাদন করা হলে বীজ আখ কম লাগে এবং চারার মৃত্যুহার কম হয়।
চারা তৈরি করে বাড়ির আঙ্গিনায় সুবিধাজনক স্থানে সারি করে রেখে খড় বা শুকনো আখের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
চারার বয়স ১-২ মাস হলে মূল জমিতে রোপন করতে হবে।
কাটুই বা অন্য পোকা যেন চারার ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিনা চাষে ফসল আবাদ

মাঠ থেকে বন্যার পানি নেমে গেলে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় বিনা চাষে অনেক ফসল আবাদ করা যায়।
ভুট্টা, গম, আলু, সরিষা, মাসকালাই বা অন্যান্য ডাল ফসল, লালশাক, পালংশাক, ডাটাশাক বিনা চাষে লাভজনকভাবে অনায়াসে আবাদ করা যায়।
সঠিক পরিমান বীজ, সামান্য পরিমান সার এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে লাভ হবে অনেক।
যেসব জমিতে উফশী বোরো ধানের চাষ করা হয় সেসব জমিতে স্বল্প মেয়াদি টরি-৭ ও কল্যাণী জাতের সরিষা চাষ করতে পারেন।
শাক-সবজি

আগাম শীতের সবজি উৎপাদনের জন্য উঁচু জয়গা কুপিয়ে পরিমাণ মতো জৈব ও রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া প্রয়োগ করে শাক উৎপাদন করা যায়।
শাকের মধ্যে মুলা, লালশাক, পালংশাক, চিনা শাক, সরিষা শাক অনায়াসে করা যায়।
সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, টমেটো, বেগুন, ব্রকলি বা সবুজ ফুলকপিসহ অন্যান্য শীতকালীন সবজির চারা তৈরি করে মূল জমিতে বিশেষ যতেœ আবাদ করা যায়।
কলা

অন্যান্য সময়ের থেকে আশ্বিন মাসে কলার চারা রোপণ করা সবচেয়ে বেশি লাভজনক। এতে ১০-১১ মাসে কলার ছড়া কাটা যায়।
ভাল উৎস বা বিশ্বসস্ত চাষি ভাইয়ের কাছ থেকে কলার অসি চারা সংগ্রহ করে রোপণ করতে হবে।
কলার চারা রোপণের জন্য ২-২.৫ মিটার দূরত্বে ৬০ সেমি. চওড়া এবং ৬০ সেমি গভীর গর্ত করে রোপণ করতে হবে।
গর্তপ্রতি ৫-৭ কেজি গোবর, ১২৫ গ্রাম করে ইউরিয়, টিএসপি ও এওপি সার এবং ৫ গ্রাম বরিক এসিড ভালভাবে মিশিয়ে৫-৭ দিন পর অসি চারা রোপণ করতে হবে।
কলা বাগানে সাথি ফসল হিসেবে ধান, গম, ভুট্টা ছাড়া যে কোন রবি ফসল চাষ করা যায়।
গাছপালা

বর্ষায় রোপণ করা চারা কোনো কারণে মরে গেলে সেখানে নতুন চারা রোপণের উদ্যোগ নিতে হবে।
রোপণ করা চারার যত্ন নিতে হবে এখন। যেমন- বড় হয়ে যাওয়া চারার সঙ্গে বাঁধা খুঁটি সরিয়ে দিতে হবে এবং চারার চারদিকের বেড়া প্রয়োজনে সরিয়ে বড় করে দিতে হবে। মরা বা রোগাক্রান্ত ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে।
চারা গাছসহ অন্যান্য গাছে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় এখন।
গাছের গোড়ার মাটি ভালো করে কুপিয়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। দুপুর বেলা গাছের ছায়া যতটুকু স্থানে পড়ে ঠিক ততটুকু স্থান কোপাতে হবে। পরে কোপানো স্থানে জৈব ও রাসায়নিক সার ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে।
প্রাণিসম্পদ

হাঁস-মুরগির কলেরা, ককসিডিয়া, রাণীক্ষেত রোগের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রাথমিকভাবে টিকা প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রাণি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক।
এ মাসে হাঁস-মুরগির বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে পারেন। বাচ্চা ফুটানোর জন্য অতিরিক্ত ডিম দেবেন না। তাছাড়া ডিম ফুটানো মুরগির জন্য অতিরিক্ত বিশেষ খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
আশ্বিন মাসে গবাদিপশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো দরকার।
গবাদি পশুকে খোলা জায়গায় না রেখে রাতে ঘরের ভিতরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
পানিতে জন্মানো পশু খাদ্য এককভাবে না খাইয়ে শুকিয়ে খরের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
এ সময় ভুট্টা, মাসকলাই, খেসারি বুনো ঘাস উৎপাদন করে গবাদিপশুকে খাওয়াতে পারেন।
গর্ভবতী গাভীকে, সদ্য ভূূমিষ্ঠ বাছুর ও দুধালো গাভীর বিশেষ যতœ নিতে হবে।
এ সময় গবাদি প্রাণির মড়ক দেখা দিকে পারে। তাই গবাদিপশুকে তড়কা, গলাফুলা, ওলান ফুলা রোগের জন্য প্রতিষেধক, প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চত করতে হবে।
মৎস্যসম্পদ

বর্ষায় পুকুরে জন্মানো আগাছা পরিস্কার করতে হবে এবং পুকুরের পাড় ভালো করে বেধে দিতে হবে।
পুকুরের মাছকে নিয়মিত পুষ্টিকর সম্পুরক খাবার সরবরাহ করতে হবে।
এ সময় পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে।
তাছাড়া পুকুরে জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রোগ সারাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ।
এ সময় সরকারি ও বেসরকারি মাছের খামার থেকে জিওল মাছের পোনা সংগ্রহ করে পুকুরে ছাড়ার ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, আশ্বিন মাসে সারা দেশ জুড়ে ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু হয়। আমন ধান রক্ষাসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতির মাত্রা কমানোর জন্য এ অভিযান চলে। এককভাবে বা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় ইঁদুর দমন করলে কোন লাভ হবে না। ইঁদুর দমন কাজটি করতে হবে দেশের সকল মানুষকে একসাথে মিলে এবং ইঁদুর দমনের সকল পদ্ধতি ব্যবহার করে। ইঁদুর নিধনের ক্ষেত্রে যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় সেগুলো হলো- পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চাষাবাদ, গর্তে ধোঁয়া দেয়া, ফাঁদ পাতা, উপকারী প্রাণী যেমন- পেঁচা, গুইসাপ, বিড়াল দ্বারা ইঁদুর দমন, বিষটোপ এবং গ্যাস বড়ি ব্যবহার করা। আসুন সবাই একসাথে ইঁদুর দমন করি। কৃষির যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার নিকটস্থ উপজেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা ১৬১২৩ এ নম্বরে যে কোনো মোবাইল অপারেটর থেকে কল করে নিতে পারেন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা কৃষিকে নিয়ে যাবে উন্নতির শিখরে।


কৃষিবিদ মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন
তথ্য অফিসার (কৃষি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫

নওগাঁয় আমের ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগান ব্যবসায়ীরা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ল্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত, মল্লিকা, নাগ ফজলি শেষে নওগাঁর বরেন্দ্রর হাটে উঠতে শুরু করেছে আম্রপলি জাতের সুস্বাদু আম। মৌসুমের মাঝামাঝি সব জাতের আম গাছ থেকে নামানোর পর এক সাথে হাটে তোলায় কেনা বেচায় জমজমাট আড়ৎগুলো। গেল দু বছর আম বেচাকেনায় নানা কারণে লোকসান দিলেও এবার অনেকটা দ্বিগুণ দর পাওয়ায় দারুণ খুশি বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। বরেন্দ্রর সুমিষ্ট আম বিদেশের রপ্তানির সুযোগ চায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা। আর কৃষি বিভাগ বলছে, বিদেশে রপ্তানি উপযোগী আম উৎপাদনে কাজ করছে তারা।

জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকার বাগান থেকে পঞ্চম ধাপের আম নামানো হচ্ছে। ল্যাংড়া, খিরসাপাত, নাগ ফজলি মল্লিকা শেষে সব শেষ গাছ খেকে সুমিষ্ট জাতের আম আম্রপলি গাছ থেকে নামানোর পর হাটে তোলা হচ্ছে । মৌসুমের মাঝামাঝিতে পরিপক্ব আম এক সাথে হাটে তোলায় কেনাবেচায় জমজমাট আড়ৎগুলো। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এসব আম কিনতে ভিড় করছেন জেলার সাপাহার আমের হাটে। এবার অনেকটা দ্বিগুণ দরে আম বিক্রি করতে পারায় বাড়তি লাভের আশা করছেন বাগান মালিকরা।

জেলার আড়ৎগুলোতে আম্রপালি ২৩শ থেকে ২৪শ টাকা, ল্যাংড়া ২২শ থেকে ২৩শ টাকা এবং মল্লিকা ও স্থানীয় জাতের আম ১৪শ থেকে ১৬শ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

নওগাঁর সাপাহারের আম ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি কার্তিক চন্দ্র সাহা বলেন, এখন আমের দাম মণে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি। বর্তমানে এখানে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসেছে।

বরেন্দ্র’র সুস্বাদু জাতের আম বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সরকারের সহায়তা চান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

নওগাঁর সাপাহারের উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আলী বলেন, এটা আমরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করতে পারলে আমরা একটা ভালো ফলাফল পাব বলে মনে করি।

পোরশা উপজেলার চেয়ারম্যান মো. মুনজুর মোরশেদ বলেন, আমাদের হিমসাগর ও খিরসাপাত যেভাবে জিআইএ সার্টিফিকেট পেয়েছে সেভাবে যাতে আমাদের ল্যাংড়া আমটাও সার্টিফিকেট পায় সেই ব্যবস্থা করার জন্য আমি তাদের দৃষ্টি কামনা করছি।

বিদেশে রপ্তানি উপযোগী নিরাপদ ও গুণগত মানের আম উৎপাদনে কৃষি বিভাগ বাগান মালিকদের সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

নওগাঁর পোরশা উপজেলার কৃষি অফিসার মো. মাহফুজ আলম বলেন, কৃষি বিভাগের কৃষকরা যেই পরিচর্যা করেছে তাতে কৃষকরা খুশি, কৃষি বিভাগ খুশি এবং দেশবাসী নিরাপদ আম খেতে পারছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার ১৯ হাজার হেক্টর জমির আম বাগান থেকে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা।

বরগুনায় কাঁকড়া চাষ প্রসার লাভ করছে
                                  

অনলাইন ডেস্ক : জেলার মৎস্য চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে কাঁকড়া চাষে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন। গত ১৫ বছরে এ অঞ্চলে কাঁকড়ার চাষ প্রসার লাভ করেছে। জেলার প্রায় দেড় হাজার কাঁকড়া ঘেরে কয়েক হাজার মৎস্য চাষির জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। অনুকূল পরিবেশের কারণে দিনদিন কাঁকড়া চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট চাষি ও মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছে। শুরুর দিকে বরগুনা জেলার আমতলী, পাথরঘাটা, তালতলী উপজেলায় বেশীরভাগ কাঁকড়া ঘের গড়ে উঠলেও বামনা, বেতাগী ও বরগুনা সদরের মৎস্য চাষিরাও আগ্রহভরে কাঁকড়া চাষ শুরু করেছেন।

আমতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়ায় মনির গাজীর বড় সাইজের ডোবা সাদৃশ্য পুকুরটির চারপাশ বাশেঁর চাটাই ও মশারীর জাল দিয়ে ঘেরা। মাঝ বরাবর চাটাইয়ের বেড়া ও মশারীর জাল পুকুর দুইভাগে ভাগ করেছে। এ এলাকায় সাধারণত মাছ চাষের জলাশয়ে এত সুরক্ষা দেখা যায় না। সবুজ নামের এক কর্মী পুকুরে নেমে হাতরিয়ে বড় বড় সাইজের কাঁকড়াতুলে আনছে। ঐ যুবকটি জানাল এখানে ছোট ছোট কাঁকড়া পরিচর্যা করে বড় করা হয়। কাঁকড়া জন্য খুব বেশী পরিচর্যা দরকার পড়েনা। নিয়মিত খাবার দিলেই চলে। তবে পুকুরপাড়ে শক্ত ও ভাল বেড়ার দরকার পড়ে। না হলে কাঁকড়াগুলো হেটে হেটেই চলে যাবে। এখানকার কাঁকড়া খুলনা ও বাগেরহাটে চালান করা হয়।

ঘেরের পাশেই মনির গাজী’র তার মাছের আড়ত। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে গত ১৫ বছর ধরে তিনি গলদা ও বাগদা চিংড়িসহ বিভিন্ন সাদা মাছের আড়তদারী করছেন। স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে কাঁকড়া কিনে তা খুলনা, বাগেরহাট এলাকায় চালান করতেন। জেলেদের জালে ধরা কাঁকড়াগুলো আড়তে আসতে আসতেই দুর্বল হয়ে পড়ত। কাঁকড়াগুলোকে খুলনা পাঠানোর সময়ে অর্ধেকই মারা পড়ত। সেসময় থেকেই মনির ভাবতে শুরু করলেন কীভাবে তরতাজা কাঁকড়া চালানে পাঠানো যায়। সে ভাবনা থেকেই গত বছর তিনি কাঁকড়া নাসিং শুরু করেন। মনির জানালেন, ‘চালানে পাঠালে এখনও কাঁকড়া মারা পড়ে। তবে খুবই কম পরিমানে।’ মনির গাজীর সাফল্য দেখে ঐ এলাকার শতাধিক উদ্যোগী মানুষ কাঁকড়া চাষ শুরু করেছেন।

আমতলী উপজেলার মৎস্য দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জগদিশ চন্দ্র বসু জানিয়েছেন, ‘উপকূলীয় এলাকা হিসেবে বরগুনাতে কাঁকড়া মোটাতাজা করণ ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। ভার্দ্র থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত জেলেদের জালে প্রচুর কাঁকড়ার বাচ্চা ধরা পড়ে এবং অহেতুক মারা পড়ে। সেগুলোকে মোটতাজাকরণের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন সম্ভব। জেলা মৎস্য বিভাগ কাঁকড়া চাষে উদ্যোগীদের প্রশিক্ষণসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

জেলার পাথরঘাটায় কয়েক বছর আগে প্রায় তিন একর জায়গা ইজারা নিয়ে কাঁকড়ার ঘের করেছিলেন বরিশালের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ করে ঘেরে তা বড় করা হয়। বাজার থেকে ছোট ও গুড়া মাছ কিনে কাঁকড়াকে খাওয়ানো হয়। ৪১ দিন পড়ে ঐ কাঁকড়াগুলো প্রায় ৭শ থেকে ৮শ গ্রাম ওজনের হয়। বারমাস চলে কাঁকড়ার ব্যবসা। প্রতি দেড় মাসে ৫০ হাজার টাকা মূলধনে ১ লাখের বেশী টাকা আসে বলে তিনি জানান।

উন্নত পদ্ধতিতে কাঁকড়ার চাষ ও মোটাতাজাকরণে পাথরঘাটায় এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক প্রশিক্ষিত চাষি রয়েছেন। যাদের আয়ের উৎসই এখন কাঁকড়া চাষ। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে এ চাষিদের কারিগরী সহযোগিতা করছে সংগ্রাম নামের একটি স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।

চাষিরা বলছেন, মৎস্য আহরণ ও ধান চাষের চেয়ে বেশি লাভবান হওয়াতে কাঁকড়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন তারা। সাধারণ শক্ত খোলসযুক্ত ও নরম খোলসযুক্ত এ দুই ধরনের কাঁকড়া রফতানি করা হয়। রফতানিকরা কাঁকড়ার ৯৫ ভাগ হলো শক্ত খোলসযুক্ত। পাথরঘাটার বিভিন্ন ছোট ছোট খাল, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে আহরণকারীরা আহরণ করে চাষিদের কাছে বিক্রি করে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আহরণকারীরা নদী-নালায় ছোট ছোট কাঁকড়া আহরণ করছেন। খামারে বাচ্চা কাঁকড়া বড় করা এবং খোলস পাল্টানো কাঁকড়া ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক কাঁকড়ার বিক্রয়যোগ্য আকার পর্যন্ত মোটাতাজাকরণ করা হয়।

পাথরঘাটার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল জানান, কৃষি চাষের বিকল্প কাঁকড়া চাষ। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের কোনো আইনগত বাধা নেই। চাষি যেটাকে লাভবান মনে করবে সেটিই করতে পারবে।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরদার মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, কাঁকড়া চাষ লাভজনক। সরকারিভাবে আমরা কিছু সংখ্যক কাঁকড়া চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমরা সব সময় তাদের পরমার্শ দিচ্ছি। অনেকেই কাঁকড়া চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। বাসস

গম চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি হিলির চাষিরা
                                  

আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি পোঁকা মাকড়ের প্রকোপ না থাকায় দিনাজপুরের হিলিতে গম চাষে প্রত্যাশামতো ফলন পেয়েছেন চাষিরা।

উপজেলায় বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণ গম উৎপাদন হওয়ায় বেশ খুশি কৃষক। এতে আবাদ খরচ উঠে আসার পাশাপাশি আগামী মৌসুমের জন্য উন্নতমানের বীজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন তারা। স্থানীয় কৃষি অফিস বলছে, চলতি বছর শুধু হিলিতেই দেড়শো হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে কয়েক জাতের গম।

যশোরের গদখালিতে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালিতে জমে ওঠেছে ফুলের বেচাকেনা।এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এ বাজারে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম। সামনের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বসন্ত উৎসব ও ভ্যালেনটাইন দিবস উপলক্ষে ফুল বেচা-কেনায় ব্যস্ত ফুল চাষি ও ক্রেতারা। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারি ফুল ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন গদখালিতে।সারা বছর ফুলচাষিরা ফুল বিক্রি করলেও তাদের মূল লক্ষ্য থাকে ফেব্রুয়ারি মাসের তিনটি উৎসব। এছাড়া বাংলা নববর্ষেও ফুলের জমজমাট বেচাকেনা হয়ে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গদখালি ও পানিসার এলাকায় সাড়ে ৬ হাজারের বেশি কৃষক বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন রজনীগন্ধ্যা, গোলাপ, রডস্টিক, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, জিপসি, কেলেনডোলা, চন্দ্রমল্লিকাসহ ১২ ধরনের ফুল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৩ উপজেলায় ফুল চাষ হয়ে থাকে।এ জেলায় মোট ৬৪৬ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলায় ফুল চাষ হয়েছে ৬৩৫ হেক্টর জমিতে। ঝিকরগাছায় ফুল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৮শ’ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে বলে জানান ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম ।এ উপজেলার গদখালি, পানিসারা, হাড়িয়া, নীলকন্ঠ নগর, চাওরা, কৃষ্ণচন্দ্রপুর, চাঁদপুর, বাইশা, পাটুয়াপাড়া, নারানজালি গ্রামসহ প্রায় ৫০টি গ্রামে ফুল চাষ হয়ে থাকে। এছাড়া শার্শা উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে এবং কেশবপুর উপজেলায় ফুল চাষ হয়েছে ১ হেক্টরের সামান্য বেশি জমিতে।
পানিসারা গ্রামের ফুলচাষি হারুন-অর-রশিদ ও আবু মুসা জানান, তারা প্রত্যেকে এক একরের বেশি জমিতে ফুল চাষ করেছেন। ফুলের উৎপাদনও ভালো হয়েছে।ইংরেজি নববর্ষসহ সামনের তিনটি উৎসবে তারা সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি করে থাকেন।গদখালি বাজারের ফুলের পাইকারি ব্যবসায়ী আবু সাইদ জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই ফুলের বাজার দর বেশ ভালো। চলতি মাসে সামনের তিন উৎসবের আগে ফুলের দাম আরো বাড়বে। ফলে চাষিরা লাভবান হবে বলে তিনি জানান। এ বাজারের ফুলের আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী শেখ আহমেদ বাসসকে বলেন, তিনি প্রতিদিন ঢাকা ও চট্রগ্রামে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ফুল পাইকারি বিক্রি করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর দাস বাসসকে জানান,এ উপজেলার গদখালি, পানিসারা, নাভারন ও মাগুরা ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হয়ে থাকে।এ চারটি ইউনিয়নের সাড়ে ৬ হাজারের বেশি ফুল চাষি ফুল চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন।এ বছর উপজেলায় ৬৩৫ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে। ফুলের চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রদর্শনীসহ ফুলচাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে। বাসস

সীমান্ত এলাকায় গম চাষে নিষেধাজ্ঞা
                                  


অনলাইন ডেস্ক
ভারতে আগামী দুই বছর বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গম চাষ করা যাবে না বলে জানিয়েছে সে দেশের কৃষি দপ্তর। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে গমের ফসলে হুইট ব্লাস্ট নামের একটি ছত্রাক রোগ ছড়িয়ে পড়ার পরে কৃষি বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ওই রোগ ভারতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত অঞ্চলের যেসব এলাকায় এবছর গম চাষ করেছিলেন, তা ইতিমধ্যেই জ্বালিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় পরের দুবছর যাতে কেউ গম চাষ না করেন, তার জন্য এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রচার।
পশ্চিমবঙ্গের দুটি জেলা - নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদের ওপরে কৃষি দপ্তরের বিশেষ নজর দিচ্ছে - কারণ সেখান থেকেই ভারতে রোগ ছড়ানোর সবথেকে বেশী সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ ও সীমান্তবর্তী এলাকা হরিহরপাড়ার জন প্রতিনিধি মোশারফ হোসেন জানান, "গত মরসুমে শুধু আমাদের মুর্শিদাবাদ জেলাতেই প্রায় ৪৮০ হেক্টর জমিতে বোনা গম এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
প্রথমে ব্রাজিলে গমের ফলনে এই ছত্রাক রোগ দেখা যায় - তারপরে সেটি দক্ষিণ আমেরিকার নানা দেশেও ছড়ায়। এটা এশিয়ার এই অঞ্চলের রোগ নয়। তবে বাংলাদেশও সম্প্রতি ওই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যৌথ গবেষণা কেন্দ্র চালু
                                  

অনলাইন ডেস্ক : এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি যৌথ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র চালু হয়েছে। 

চীন-দক্ষিণ এশিয়ার এক্সপো কর্তৃপক্ষের একটি ওয়েব পোস্ট অনুযায়ী দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই যৌথ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি কৃষিখাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবনে যৌথভাবে কাজ করবে।
গত ১২ থেকে ১৮ জুন কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়া কমিউনিটি এক্সপো এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ফেয়ার (এসএসএসিইআইএফ) -এ ইউনান প্রদেশের ভাইস-গভর্নর ঝাং ঝুলিন এ কথা জানান।
ইউনান একাডেমি অফ এগ্রিকালচার সায়েন্স এবং জিয়াংসু একাডেমি এগ্রিকালচার সায়েন্স সেন্টারটি প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
এ সময় ভাইস-গভর্নর ঝাং বলেন, ইউনান দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলবায়ু ও পরিবেশের অংশ, তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।বাসস

দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলার ধানে `ব্লাস্টের সংক্রমণ`
                                  

অনলাইন ডেস্ক : গমের পর এবার দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও যশোরে ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ছত্রাক নাশক ছিটিয়েও রোধ করা যাচ্ছে না ব্লাস্টের সংক্রমণ। ভয়াবহ এ রোগের সংক্রমণ যাতে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ কৃষি বিজ্ঞানীদের।

আর কদিন পরেই শুরু হবে বোরো ধান মাড়াই মৌসুম। সবুজ বর্ণ ফিকে হয়ে সোনালী বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে মাঠের ধান। পাকা ধানে গোলা ভরার স্বপ্নে কৃষক যখন বিভোর ঠিক তখনি দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ জেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ। ছত্রাকজনিত এ রোগের আক্রমণে ধানের শীষ সাদা ও পাতা ধূসর বর্ণ ধারণ করছে। শুকিয়ে চিটায় পরিণত হচ্ছে ধান।

খুলনা, চুয়াডাঙ্গা সাতক্ষীরা নড়াইল বাগেরহাট ও যশোর জেলায় এ বছর ধানে ব্লাস্টের সংক্রমণ ঘটেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, পাঁচ জেলার ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ১১শ` হেক্টর জমির ধান। শেষ সময়ে এসে ধানে ব্লাস্টের সংক্রমণ দেখা দেয়ায় দিশেহারা কৃষকেরা।

গমের পর প্রধান খাদ্যশস্য ধানে ব্লাস্টের সংক্রমণ ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে সর্তক করেছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, `যখন শীষে আক্রমণ হয় তখন ছত্রাক নাশক দিয়ে কোন উপকার হয় না। সম্মিলিত একটা প্রয়াস এবং জরুরি ব্যবস্থা নেয়া উচিত এই ব্লাস্ট প্রতিরোধে। কারণ এটা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।`

২০১৬ সালে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গাসহ ৮ জেলার ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণে গমের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ঐ এলাকার ৮০-৯০ শতাংশ গমের আবাদ কমে যায়। এমন অবস্থায় ঐ অঞ্চলে ব্লাস্ট সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি কৃষকের। সূত্র: সময় টিভি


   Page 1 of 2
     কৃষি সংবাদ
রাজশাহীতে শুরু হয়েছে গাছ থেকে আম নামানো
.............................................................................................
কুড়িগ্রামে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষে তিন বন্ধুর সাফল্য
.............................................................................................
হলুদ তরমুজ চাষে সফল জহিরুল
.............................................................................................
সব ধানে চিটা, ১০ মিনিটের গরম বাতাসে সর্বনাশ
.............................................................................................
অপ্রচলিত ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সহযোগিতা করা হবে: কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
বগুড়ায় মরিচের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
পেঁয়াজের বিকল্প নিয়ে গবেষণায় সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানী
.............................................................................................
আলু চাষে ব্যস্ত নীলফামারীর কৃষকেরা
.............................................................................................
আশ্বিন মাসের কৃষি
.............................................................................................
নওগাঁয় আমের ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগান ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
বরগুনায় কাঁকড়া চাষ প্রসার লাভ করছে
.............................................................................................
গম চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি হিলির চাষিরা
.............................................................................................
যশোরের গদখালিতে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা
.............................................................................................
সীমান্ত এলাকায় গম চাষে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যৌথ গবেষণা কেন্দ্র চালু
.............................................................................................
দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলার ধানে `ব্লাস্টের সংক্রমণ`
.............................................................................................
হালদায় ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মাছ
.............................................................................................
এবার ধানে ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণ
.............................................................................................
ভোলায় যে কারণে অসময়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরমুজ
.............................................................................................
কিশোরগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো আবাদ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop