বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * জুলাইমাস জুড়ে বৃষ্টির আভাস   * নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের ওপর গুলি, স্নাইপারসহ নিহত ২   * সেতু ভেঙে ভোগান্তিতে ৪ ইউনিয়নের মানুষ   * ট্রাম্পের ওপর হামলা   * ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী   * রাস্তা বন্ধ না করে আদালতে আসুন : শিক্ষার্থীদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   * পশ্চিমবঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৬ জন নিহত   * বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী   * কোটা ইস্যুতে কাউকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে দেবে না ছাত্রলীগ   * শিগগির ক্লাসে ফিরছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা  

   শিক্ষাঙ্গন -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
শেষ ধাপেও কলেজ পায়নি ১২ হাজার শিক্ষার্থী

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফলাফল শুক্রবার (১২ জুলাই) রাতে প্রকাশিত হয়েছে। এটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী কলেজ পায়নি। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এমন শিক্ষার্থী রয়েছে ৭০০ জন।

একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফল প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকারও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তপন কুমার সরকার জানান, ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী—তিন ধাপে আবেদন নেওয়ার কথা ছিল। তিন ধাপ শেষেও ১২ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী কলেজ বরাদ্দ পায়নি। তার মধ্যে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৭০০ জনের মতো।

তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে সম্পর্কে তপন কুমার জানান, আলোচনাসাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তিবঞ্চিত হোক, এমনটা কারও কাম্য নয়।

অধ্যাপক তপন কুমার বলেন, হিসাব অনুযায়ী এসএসসিতে কৃতকার্য দেশের প্রায় ১৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজে আসন আছে ২৫ লাখের মতো। এরপরেও শিক্ষার্থীদের ভর্তিবঞ্চিত হওয়ার কারণ পছন্দের কলেজ না পাওয়া।

ভর্তি তথ্যানুযায়ী, তিন ধাপে আবেদনের পর ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশন শেষে ১৫ জুলাই থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ৩০ জুলাই সারাদেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।

এই ধাপে উত্তীর্ণদের করণীয়

তৃতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট থেকে নিজ পোর্টালে লগইন করে পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে নিশ্চায়ন ফি পরিশোধ করতে হবে। যাদের নিশ্চায়ন এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, তারা তাদের চূড়ান্ত নির্বাচনের পিডিএফ ডাউনলোড করতে পারবে। সশরীরে কলেজে ভর্তির সময় এ পিডিএফের প্রয়োজন পড়বে।

নীতিমালা অনুযায়ী—এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৫ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা, জেলায় ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে দেড় হাজার টাকা।

নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ভার্সনে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, ইংরেজি ভার্সনে সাড়ে ৮ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ভার্সনে ৫ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৬ হাজার টাকা, জেলায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে বাংলা ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর কোনো শিক্ষার্থীরা ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু করা যাবে না। কিংবা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত ছাড়পত্রের বরাতে ভর্তি করা যাবে না।

শেষ ধাপেও কলেজ পায়নি ১২ হাজার শিক্ষার্থী
                                  

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফলাফল শুক্রবার (১২ জুলাই) রাতে প্রকাশিত হয়েছে। এটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী কলেজ পায়নি। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এমন শিক্ষার্থী রয়েছে ৭০০ জন।

একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে তৃতীয় ও শেষ ধাপের ফল প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকারও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তপন কুমার সরকার জানান, ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী—তিন ধাপে আবেদন নেওয়ার কথা ছিল। তিন ধাপ শেষেও ১২ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী কলেজ বরাদ্দ পায়নি। তার মধ্যে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৭০০ জনের মতো।

তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে সম্পর্কে তপন কুমার জানান, আলোচনাসাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তিবঞ্চিত হোক, এমনটা কারও কাম্য নয়।

অধ্যাপক তপন কুমার বলেন, হিসাব অনুযায়ী এসএসসিতে কৃতকার্য দেশের প্রায় ১৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজে আসন আছে ২৫ লাখের মতো। এরপরেও শিক্ষার্থীদের ভর্তিবঞ্চিত হওয়ার কারণ পছন্দের কলেজ না পাওয়া।

ভর্তি তথ্যানুযায়ী, তিন ধাপে আবেদনের পর ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশন শেষে ১৫ জুলাই থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ৩০ জুলাই সারাদেশে একযোগে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।

এই ধাপে উত্তীর্ণদের করণীয়

তৃতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট থেকে নিজ পোর্টালে লগইন করে পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে নিশ্চায়ন ফি পরিশোধ করতে হবে। যাদের নিশ্চায়ন এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, তারা তাদের চূড়ান্ত নির্বাচনের পিডিএফ ডাউনলোড করতে পারবে। সশরীরে কলেজে ভর্তির সময় এ পিডিএফের প্রয়োজন পড়বে।

নীতিমালা অনুযায়ী—এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৫ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা, জেলায় ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে দেড় হাজার টাকা।

নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ভার্সনে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, ইংরেজি ভার্সনে সাড়ে ৮ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ভার্সনে ৫ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৬ হাজার টাকা, জেলায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে বাংলা ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর কোনো শিক্ষার্থীরা ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু করা যাবে না। কিংবা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত ছাড়পত্রের বরাতে ভর্তি করা যাবে না।

মধ্যরাতে ঢাবিতে বিক্ষোভ
                                  

চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র সারজিস আলমকে হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়ো হলে হল প্রশাসন তাকে তার কক্ষে পৌঁছে দেয়।

এ সময় সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, হল ছাত্রলীগের একাধিক পদপ্রত্যাশী নেতা তাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগের শীর্ষ একজন নেতার নির্দেশ রয়েছে বলে জানান। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলগেটে জড়ো হন। পরে শীর্ষ নেতা এ রকম কোনো নির্দেশ দেননি বলে তিনি জানতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, এরপর পদপ্রত্যাশী নেতারা আমার কাছে এসে মাফ চেয়েছেন। তারা চেয়েছেন আমাকে বের করতে পারলে রাজনৈতিক ফায়দা পাবে বা ক্রেডিট নিতে পারবেন। তবে তারা মাফ চেয়ে অনুশোচনা করায় তাদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

এরপর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইশতিয়াক এম সৈয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সারজিসকে তার কক্ষে পৌঁছে দেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ইশতিয়াক সৈয়দ গণমাধ্যমকে বলেন, ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল যে সারজিসকে হল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা হলগেটে ভিড় করেন। মূলত তাকে কিছুই করা হয়নি। তবুও আমি তাকে কক্ষে পৌঁছে দিয়ে এসেছি।

ত্রিমুখী আন্দোলনে অচল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
                                  

শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাগাতার আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ত্রিমুখী আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীদের সব একাডেমিক ক্লাস ও পরীক্ষা। এমনকি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে বন্ধ রয়েছে প্রশাসনিক ভবন, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি।


গতকাল সোমবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রিমুখী এ আন্দোলনের সূচনা হয়। মঙ্গলবারও এ কর্মসূচি চলছে। কবে নাগাদ এটির অবসান হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। শিক্ষার্থীরা কবে ক্লাসে ফিরবেন, কবে শুরু হবে বন্ধ হয়ে যাওয়া পরীক্ষাগুলো— তা বলার উপায় নেই। তবে, সরকার যদি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবিকৃত ‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহার করে তবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার স্বাভাবিক পাঠদান ও পরীক্ষা শুরু হবে। তবে, শিক্ষার্থীরা হয়তো কোটা পুনর্বহালের বিরুদ্ধে মাঠে আন্দোলনরত থাকবেন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন’ প্রত্যাহার এবং পূর্বের পেনশন স্কিম চালু রাখার দাবিতে গত ২০ মে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। এর ধারাবাহিকতায় ২৬ মে বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেন ঢাবি শিক্ষকরা। এরপর ২৮ মে দুই ঘণ্টা এবং ২৫-২৭ জুন তিন দিন ঢাবিতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়। গত ৩০ জুন পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হয়।

সরকার ‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রত্যাহার না করায় সোমবার (১ জুলাই) থেকে ঢাবিতে পূর্বঘোষিত সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও কর্মবিরতি শুরু করে। এ দিন সকাল থেকে সবধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন ঢাবি শিক্ষকরা। এ ছাড়া ৩০ জুন পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকেই শিক্ষকরা ঢাবির কলা ভবনের সামনের গেটে অবস্থান নেন। বেলা ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহার না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। তবে, শিক্ষকদের এ আন্দোলন পরিস্থিতি বিবেচনা করে যথা সময়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, কত টাকা বেতন-বোনাস পাই, আমরা সেটি কখনও হিসাব করি না। তাহলে কোন হিসাবে আমাদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন? কোন হিসাবে আমাদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৫৯ করার চিন্তা করেন? কোন হিসাবে আমাদের নমিনি (মনোনীত ব্যক্তি) নির্বাচনের ক্ষেত্র সংকুচিত করেন? এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। না হলে এ পেনশন স্কিম কখনও সর্বজনীন হবে না। আজ এই সর্বাত্মক আন্দোলন শুধু আমাদের জন্য নয়, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য, আগামী প্রজন্মের জন্য, শিক্ষাব্যবস্থার জন্য, প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য। তাই কোনো শক্তিই এ আন্দোলন থেকে আমাদের সরিয়ে দিতে পারবে না।

ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, আমরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে আজ (সোমবার) থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেছি। আমরা সরকারের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছি। বৈষম্যমূলক ও মর্যাদাহানিকর প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাহার, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি। এ দাবিগুলো মানার আগ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থামাব না।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

এদিকে, হাইকোর্ট কর্তৃক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের আদেশের বিরুদ্ধে এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কোটা বাতিল চেয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।

এর আগে, ৫ জুন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল ‘যথাযথ’ ঘোষণা করে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

তবে, হাইকোর্টের এ রায় প্রত্যাখ্যান করে তাৎক্ষণিকভাবে সে দিন বিকেলে আন্দোলন করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরের দিনও একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এরপর গ্রীষ্মকালীন ও ঈদুল আযহার ছুটি শেষ হওয়ার পরের দিন থেকে কোটা পুনর্বহাল বাতিলের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে রাজপথে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।


বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে কর্মচারীদের আন্দোলনের ফলে বন্ধ থাকা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির গেটে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনকে সাধুবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত এ আন্দোলন চলমান থাকবে বলে ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

তবে, উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি খুলে দেওয়ার কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুর রহমান।

শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি

১. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা।

২. পরিপত্র বহাল-সাপেক্ষে কমিশন গঠনপূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যতীত)।

৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া।

৪. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী শারজিস ইসলাম বলেন, আমাদের আন্দোলন মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নয়। তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বাংলাদেশ গঠনে তারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের অবদান আমরা অস্বীকার করি না। কিন্তু তাদের সন্তান, উত্তরসূরিরা বৈষম্যমূলকভাবে সুবিধা ভোগ করবেন— এটা মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি বংশানুক্রমিক নয়। সাংবিধানিকভাবে প্রত্যেক নাগরিকের সমান সুযোগ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আজও আমাদের বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতেও পোষ্য কোটা দেওয়া হয়েছে। এ পোষ্য কোটার ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারী শ্রেণিকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একটি পরিবারের একজন যেখানে চাকরিতে রয়েছেন সেখানে অন্যদেরও সেই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অথচ আমার-আপনার বাবা-মা যারা শ্রমজীবী, কৃষক, কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, স্বাধীন এই বাংলায় কোটা বৈষম্যের কোনো স্থান নেই।

ঢাবি শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান বলেন, দেশের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একযোগে আন্দোলন করার আহ্বান জানাচ্ছি। আগামী ২ থেকে ৪ জুলাই আমাদের কর্মসূচি থাকবে। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে আমাদের গণপদযাত্রা শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি

অন্যদিকে, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও কর্মবিরতির পর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ৩০ জুন থেকে তারা পূর্ণ কর্মবিরতি শুরু করেন। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম থেকেও তারা বিরত ছিলেন। গতকাল সোমবার তারা শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং কর্মবিরতি পালন করেন। তবে, মঙ্গলবার কোনো অবস্থান কর্মসূচিতে যাননি তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কারিগরি কর্মচারী সমিতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ সম্মিলিতভাবে এ কর্মবিরতিতে অংশ নেয়।

কর্মচারীদের এ আন্দোলনের ফলে ৩০ জুন থেকেই বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন। সরেজমিনে গিয়েও এ চিত্র লক্ষ্য করা যায়। এ ছাড়া সব বিভাগের কার্যক্রমও তারা বন্ধ করে দেন। হলেও কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করতে আসেননি। এমনকি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারেরও। মেডিকেল সেন্টারের হোমিওপ্যাথি বিভাগে সেবা না পেয়ে ফেরত আসার অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসকও সেবা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তবে, চক্ষু ও দন্ত বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগে সেবা প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে সহকারী মেডিকেল অফিসার হালিমা সাদিয়া বলেন, কর্মবিরতির কারণে সেবা দিচ্ছেন না তারা। কর্মবিরতি শেষ হলে সেবা পাওয়া যাবে।

পরিষদের নেতারা বলেন, আমরা এ বৈষম্যমূলক প্রত্যয় স্কিম বাতিল চাই। আমাদের ওপর জুলুম হিসেবে এ প্রত্যয় স্কিম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলমান থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. আব্দুল মোত্তালিব বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হলে টয়লেট পরিষ্কার করার জন্যও কেউ থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়া হবে। পানি থাকবে না, বিদ্যুৎ থাকবে না, টয়লেট পরিষ্কার বা ময়লা পরিষ্কার করারও কেউ থাকবে না। গাড়ি চলবে না, অফিস চলবে না, কোনো কিছুই চলবে না, সব বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা আমাদের পেট বাঁচানোর তাগিদে এগুলো করতে বাধ্য হব।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব

ত্রিমুখী এ আন্দোলনের ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর। একদিকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে ভেবে তারা ক্যাম্পাসে চলে এসেছিলেন। তবে, হঠাৎ এ আন্দোলনে সব স্থবির হয়ে যাওয়ায় তারা আবার বাড়িতেও ফিরতে পারছেন না। আন্দোলন কত দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়েও সন্দিহান তারা। অন্যদিকে, লাইব্রেরি বন্ধ করে দেওয়ায় পড়াশোনার সুযোগও সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, মঙ্গলবার পরীক্ষা হবে ভেবে বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে এসেছি। তবে, হঠাৎ এ আন্দোলনে ভার্সিটি বন্ধ হয়ে গেল। কবে খুলবে তা-ও জানি না। এখন না পারছি বাড়ি চলে যেতে, না পারছি থাকতে। লাইব্রেরিও বন্ধ করে দেওয়া হলো।

‘পড়াশোনা করে লাভ কী? যেখানে ৫৬ শতাংশ কোটাধারীরাই পড়াশোনা না করে চাকরি পেয়ে যাবেন! যদি এইচএসসি শেষে কোনো কাজে ঢুকতাম বা বিদেশে চলে যেতাম, এত দিনে ফ্যামিলি চালানোর সামর্থ্য তৈরি হতো। তাই আজ কোটা আন্দোলনে যোগ দিয়েছি নিজের অধিকার আদায়ের জন্য।’

সার্বিক বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, কর্মবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে নাকি অল্প দিনের মধ্যে শেষ হবে, সেটি এখনও বলা যাচ্ছে না। তা-ই কবে থেকে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে এখনই বলা যাচ্ছে না।

 

নিউজ/সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে আজ
                                  

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ বুধবার (২৬ জুন) থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে। যদিও ঈদুল আজহা, গ্রীষ্মকালীন ছুটিসহ আগামী ৩ জুলাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ছিল। কিন্তু পরে তা কমিয়ে ২৬ জুন পর্যন্ত করা হয়।

এবার পবিত্র ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়েছে ১৩ জুন থেকে, ২ জুলাই পর্যন্ত যা চলার কথা ছিল।

ছুটি সংক্ষিপ্ত করার কারণ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুক্তি হলো, পাঠদানের কর্মদিবস বছরব্যাপী কমেছে। এ ছাড়া শনিবারের বন্ধ পুনর্বহাল করার কারণে কর্মদিবস কমে যাবে। এ জন্য গ্রীষ্মের ছুটির এক সপ্তাহ কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি কমেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষাপঞ্জি হিসেবে আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৩ জুলাই যথারীতি শুরু ক্লাস শুরু হবে। একইসঙ্গে এখন থেকে স্কুল-কলেজে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার দুদিনই বহাল থাকবে।

জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজ পায়নি সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষার্থী
                                  

একাদশ শ্রেণির প্রথম ধাপের ভর্তির ফলাফল প্রকাশ হয়েছে আজ রাত ৮টায়। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৪৮ হাজার শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে কোনো পছন্দের কলেজ পায়নি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েও প্রথম ধাপে ভর্তির জন্য কলেজ মনোনয়ন পায়নি সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষার্থী।‌ আর একজনও শিক্ষার্থী পায়নি ২২০টি‌ কলেজ।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, একাদশে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিল প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পছন্দের কলেজ পেয়েছে প্রায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার শিক্ষার্থী। ফলে প্রায় ৪৮ হাজার শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে কোনো পছন্দের কলেজ পায়নি। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ৮ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। আর একজন শিক্ষার্থীও পায়নি এমন কলেজের সংখ্যা ২২০টি।

কলেজ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের কী হবে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, কলেজ পছন্দের সময় সব ভালো মানের কলেজকে পছন্দ দিয়েছে।‌ তাদের উচিত ছিল তার প্রাপ্ত নম্বরের দিকে নজর রেখে কলেজ পছন্দ দেওয়া।

তাদের ভর্তিতে সমস্যা হবে না জানিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, এসব শিক্ষার্থীদের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিতীয় ধাপে চলে যাবে। এখন শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদনে গিয়ে পছন্দক্রমে পরিবর্তন আনতে হবে। কলেজ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে, তারা যেন পছন্দক্রমে নতুন কিছু কলেজ যোগ করে। তবে আমাদের আসনের কোনো সংকট নেই। সব শিক্ষার্থীই ভর্তি হতে পারবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের পর থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত নিশ্চায়ন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এরপর ৩০ জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপে আবেদন শুরু হবে, যা চলবে ২ জুলাই পর্যন্ত।

৪ জুলাই রাত ৮টায় দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। এরপর টানা চারদিন ধরে চলবে দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিতদের নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া। ৯ ও ১০ জুলাই তৃতীয় ধাপে আবেদন নেওয়া হবে, যার ফল প্রকাশ করা হবে ১২ জুলাই রাত ৮টায়। তাদের নিশ্চায়ন করতে ১৩ ও ১৪ জুলাই। শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হবে ১৫ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে। ক্লাস শুরু হবে ৩০ জুলাই।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটি কমতে পারে
                                  

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকাল মিলিয়ে মোট ২০ দিনের ছুটি চলছে। গত ১৩ জুন শুরু হওয়া এই ছুটি আগামী ২ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সেই ছুটি এক সপ্তাহ কমানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

শিক্ষা প্রশাসন সূত্র বলছে, ঈদের ছুটি শেষে অফিস খুলবে বুধবার (১৯ জুন)। প্রথম কর্মদিবস বা দ্বিতীয় কর্মদিবস বৃহস্পতিবার (২০ জুন) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ছুটি সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনার কারণ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুক্তি হলো, নতুন কারিকুলামে চলতি বছরের বেশ গ্যাপ রয়েছে। শীত ও অতিগরমের কারণে এবার ১৫ দিনের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সেই ক্ষতি পোষাতে গ্রীষ্মের ছুটি কাটছাঁট করা হতে পারে। পাঠদানের কর্মদিবস বছরব্যাপী কমেছে। এছাড়া ঈদের পর শনিবারের বন্ধ পুনর্বহাল রাখার কারণে কর্মদিবস কমে যাবে। তাই গ্রীষ্মের ছুটির এক সপ্তাহ কমতে পারে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর সৈয়দ জাফর আলী বলেন, গ্রীষ্মের ছুটি কমানোর বিষয়ে একটি প্রস্তাব রয়েছে। এখন কী করবে, সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

তার বক্তব্য, বাংলাদেশে আবহাওয়ার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় জুন-জুলাই মাসে অতি গরম থাকে। এই সময় ছুটি দেওয়া না দেওয়া সমান কথা। আমার প্রস্তাব হলো গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করে তা শীতের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করা।

২০২৩ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করা হয়। সে বছরে ছুটি বাতিলের যুক্তি ছিল, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর আগে নির্বাচনী ডামাডোল শুরু হবে। সেই কারণে ছুটি বাতিল করা হয়।

গত বছর শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ছুটি ছিল। বাতিল করা গ্রীষ্মকালীন ছুটি পরে শীতকালীন ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।

কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজপথে ঢাবির শিক্ষার্থীরা
                                  

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাসহ ৩০ শতাংশ কোটা বাতিল নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। ‘কোটা পদ্ধতি মানি না’, ‘হাইকোর্টের রায় মানি না’, ‘কোটা বাতিল করো, করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

এরপর চার শতাধিক শিক্ষার্থী একটি মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু, কলাভবন হয়ে রাজু ভাস্কর্যেে যান। এসময় তারা কোটা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন বক্তব্য দেন।

রাজু ভাস্কর্যে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা আবার মিছিল নিয়ে কলাভবন হয়ে লাইব্রেরিতে যান। লাইব্রেরির সামনে গিয়ে তারা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এসময় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমরা ২০১৮ সালে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমরা তখন রক্ত দিয়েছি। তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিল। কিন্তু আবারও আজ হাইকোর্ট সেই কোটা পুনর্বহাল করেছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা হাইকোর্টের এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করছি।’

নাহিদ বলেন, ‘একটা দেশে কখনো ৫৬ শতাংশ কোটা থাকতে পারে না। এটা সেই দেশের মেধাবীদের সঙ্গে তামাশা করার মতো। আমরা আমাদের সঙ্গে এ তামাশা মেনে নেবো না। আমরা রাজপথে এসেছি, আজকের এটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। আমরা আবারও কালকে আসবো। যদি এ রায় বহাল থাকে তাহলে আমরা রাজপথে আবারও নামতে বাধ্য হবো। আমরা আমাদের দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরে যাবো না।’

কর্মসূচি ঘোষণা করে নাহিদ হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে রাজু ভাস্কর্যে আবারও একটি সমাবেশ করা হবে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাবো, এ রায় যেন বহাল না থাকে। শিক্ষার্থীরা এরকম বৈষম্য মানবে না।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাড়ে ১৪ লাখ, ২৯ জুন থেকে কোচিং সেন্টার বন্ধ
                                  

আগামী ৩০ জুন থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন। পরীক্ষা ‘গুজব ও নকলমুক্ত’ পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য ২৯ জুন থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।

বুধবার (৫ জুন) সচিবালয়ে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ৫০ হাজার ২৮১ জন ও ছাত্রী ৭ লাখ ৫০৯ জন। মোট কেন্দ্র দুই হাজার ৭২৫টি ও মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৬৩টি।

এইচএসসি পরীক্ষা ৩০ জুনই শুরু হবে : ঢাকা শিক্ষা বোর্ড
                                  

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে একটি বিজ্ঞপ্তি গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটিকে ভুয়া আখ্যায়িত করে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকা।

শনিবার সকালে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর তারিখ সম্পর্কিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচারিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা শাখা কর্তৃক ইস্যু করা নয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সময়সূচি অনুসারে আগামী ৩০ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।

পূর্বঘোষিত পরীক্ষা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আবুল বাসারও।

উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়।‌ সূচি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ৩০ জুন শুরু হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১১ আগস্ট। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১২ আগস্ট থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে শেষ করতে হবে।

রুটিন অনুযায়ী, প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

 এসএসসিতে ফেল করলেও কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে!
                                  

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এসএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ রাখা হচ্ছে। তবে পরের দুই বছরের মধ্যে তাকে পাবলিক মূল্যায়নে অংশ নিয়ে বিষয়গুলোতে উত্তীর্ণ হতে হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তৈরি করা ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২–এর মূল্যায়ন কৌশল ও বাস্তবায়ন নির্দেশনা’ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ মে) কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিভিশন কোর কমিটিতে পাস হয়েছে প্রতিবেদনটি। এনসিটিবি হয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এটি চূড়ান্ত হবে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, একাদশে ভর্তি হয়েও মান উন্নয়নের জন্য এক বা একাধিক অথবা সব বিষয়ে পুনরায় পাবলিক মূল্যায়নে (এসএসসি) অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। অনন্য, অর্জনমুখী, অগ্রগামী, সক্রিয়, অনুসন্ধানী, বিকাশমান ও প্রারম্ভিক– শীর্ষক ৭টি সূচকের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হবে শিক্ষার্থীর রিপোর্ট কার্ড। এতে সব বিষয়ে পারদর্শিতা বা সর্বোচ্চ সূচক অনন্য, আর সর্বনিম্ন সূচক হলো প্রারম্ভিক।

গত বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। আর চলতি বছর বাস্তবায়ন করা হয় দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে। এরপর ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে, ২০২৬ সালে একাদশ এবং ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে এই শিক্ষাক্রম চালু হবে।

নতুন শিক্ষাক্রমে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষা হবে। অবশ্য পরীক্ষার নাম অপরিবর্তিত থাকবে। এই পরীক্ষা ২০২৬ সালে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এরপরই নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবে শিক্ষার্থীরা।

হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্প্রিং ২০২৪-এর নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
                                  

অনলাইন ডেস্ক : হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্প্রিং ২০২৪-এ ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৬ মে) সকালে ঢাকার অদূরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসের অডিটরিয়ামে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক, হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ মোতাওয়াল্লী ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রওশন জাহান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল লক্ষ্মীপুর (ইউনানী) এর প্রিন্সিপাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক হাকীম কামরুন নাহার পলিন।

এ সময় ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া নবাগতদের উদ্দেশ্যে বলেন, নবীনরাই হচ্ছে আমাদের প্রাণশক্তি, তারাই এদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাতা। হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ নৈতিকতা, জ্ঞান, সততা ও সমৃদ্ধ শিক্ষার সমন্বয়ে আলোকিত মানুষ গড়তে চায়। আজকে যারা এই ক্যাম্পাসে নতুন, সেই তোমরাই হবে সেই প্রত্যাশার কাক্সিক্ষত পথিক।


অনুষ্ঠানে নবাগত শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হামদর্দ বাংলাদেশের পরিচালকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। নবীনবরণ শেষে বিভিন্ন বিভাগের স্প্রিং সেশনে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

একাদশে ভর্তি আবেদন শুরুর সম্ভাব্য সময় জানা গেল
                                  

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল রোববার (১২ মে) প্রকাশিত হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ফলের ভিত্তিতে অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নেওয়া হবে। সেই ভর্তি কার্যক্রম শুরু হতে পারে ২৬ মে। এ প্রক্রিয়া চলতে পারে ১১ জুন পর্যন্ত। তবে সোমবার (১৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে বৈঠক হবে। সেখানে চূড়ান্ত হবে দিনক্ষণ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, একাদশে ভর্তির আবেদন, ভর্তির সময়সীমার খসড়া করা হয়েছে। সেখানে ২৬ মে তারিখ থেকে আবেদন শুরুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তা চূড়ান্ত হতে পারে।

শিক্ষা বোর্ড বলছে, ক্লাস শুরু হবে জুলাইয়ের শেষ দিকে। সারাদেশে একাদশ শ্রেণিতে আসন ২৪ লাখ। যা পাস করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেক বেশি। তাই ভর্তিতে কোনো সংকট হওয়ার কথা না।

এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩ শিক্ষার্থী। যা গত বছরের পাসের তুলনায় দুই দশমিক ছয়-পাঁচ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব জানান, গত বছরের মতো এবারও উত্তীর্ণদের ফলাফল ও পছন্দের ভিত্তিতে কলেজ বরাদ্দ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভর্তির জন্য কোনো পরীক্ষা বা হাতে হাতে কোনো আবেদন নেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন করতে পারবে।

জানা গেছে, চলতি বছরও অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণির ভর্তির আবেদন করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী যতগুলো কলেজে আবেদন করবেন, তার মধ্য থেকে তার মেধা, কোটা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি কলেজে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

তবে যেসব শিক্ষার্থী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হিসেবে এসএসসি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা বোর্ডে ম্যানুয়ালি ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া প্রবাসীদের সন্তান ও বিকেএসপি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বোর্ডে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবে। এক্ষেত্রে বোর্ড প্রমাণপত্র যাচাই-বাছাই করে শিক্ষার্থীকে ভর্তির ব্যবস্থা নেবে।

গ্রুপ নির্বাচন যেভাবে
বিজ্ঞান গ্রুপ থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের যে কোনো একটি নির্বাচন করতে পারবেন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণরা শুধু এই দুই গ্রুপের মধ্য থেকে যে কোনো একটি নির্বাচন করতে পারবেন।

শাহবাগে চাকরিপ্রত্যাশীদের অবরোধ, যানজটে ভোগান্তি
                                  

অনলাইন ডেস্ক : পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রত্যাশীরা।

শনিবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা। এর আগে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে পদযাত্রা সহকারে গণভবন অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশ বাধা দেয়।

এর আগে দুপুর ১টা থেকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘চাকরির বয়স ৩৫ প্রত্যাশী সমন্বয় পরিষদ’র ব্যানারে সমাবেশ শুরু করেন আন্দোলনরতরা। সমাবেশ থেকে গণভবন অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশ বাধা দেয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্বের প্রায় ১৬২টি দেশে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা কমপক্ষে ৩৫ বছর, তার মধ্যে কিছু দেশে তা উন্মুক্ত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল হয়েও বিভিন্ন রাজ্যভেদে চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪৫ বছর, মালদ্বীপে ৪৫ বছর, শ্রীলঙ্কায় ৪৫ বছর, নেপালে ৩৫ বছর, আফগানিস্তানে ৩৫ বছর। ভারতসহ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো অনেক গবেষণা করেই চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে ন্যূনতম ৩৫ বছর করেছে। কিন্তু আমাদের মাত্র ৩০ বছর। পৃথিবীর দ্বিতীয় জনবহুল, এক নম্বর অর্থনীতি ও উদীয়মান পরাশক্তি রাষ্ট্র চীনেও চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৪০ বছর পর্যন্ত।

তারা বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে প্রায় আড়াই বছর ধরে তেমন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি বা নিয়োগ পরীক্ষা হয়নি। বাংলাদেশ থেকে লকডাউন উঠিয়ে নেওয়ার পর থেকে প্রতি সপ্তাহান্তে ১০-১৫টি বা ততধিক পরীক্ষা একই দিনে, একই সময়ে হয়েছে। ফলে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে অনেক চাকরিপ্রত্যাশী। কোভিড-১৯ এর শুরুতে যাদের বয়স ২৭-২৯ বছর ছিল তাদের বয়স এখন ৩০ বা ততধিক। ফলে চাকরিপ্রার্থীরা বাস্তবিক অর্থে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ৩০ বছরের পরিবর্তে সাড়ে ২৭ বছর পেয়েছে। আমরা সার্টিফিকেটধারী শিক্ষার্থীরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারিনি।

পরিষদের সমন্বয়ক শরিফুল ইসলাম শুভ বলেন, আমরা চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি চাই। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ৩৫ চাই। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩০ আগস্ট থেকে লাগাতার কর্মসূচি পালন করছি। সরকারি-বেসরকারি, আধা সরকারি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিতসহ দেশে বিদ্যমান সব ধরনের চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর করতে হবে। বিষয়টি উপলব্ধি করে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে মেধা ও দক্ষতা বিবেচনায় রেখে বাস্তবতার নিরিখে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’ বলে উল্লেখ করেছিল। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

আজ সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে কয়েক দফা ছুটি ঘোষণার পর আজ রোববার (৫ মে) থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরোদমে ক্লাস চলবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়েরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদানে বেশকিছু শর্ত মানতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে গত ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের শর্তাদি পালন সাপেক্ষে রোববার থেকে দেশের সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

২৫ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির ধারাবাহিকতায় তাপপ্রবাহের কারণে গত ২০ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ঘোষিত ছুটি শেষ হওয়ার পর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো।

এতে আরও বলা হয়, তাপপ্রবাহ সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত অ্যাসেম্বলি বন্ধ থাকবে। শ্রেণি কার্যক্রমের যে অংশটুকু শ্রেণিকক্ষের বাইরে পরিচালিত হয়ে থাকে এবং সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসতে হয়, সেসব কার্যক্রম সীমিত থাকবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাপপ্রবাহ ও অন্যান্য কারণে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকার ফলে যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ এবং নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিখন ফল অর্জনের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত শনিবারও শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।

আজ রোববার থেকে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়েও যথারীতি ক্লাস চলবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া শর্তগুলো মেনে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, এক শিফটে পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলবে। দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়ে প্রথম শিফট সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা এবং দ্বিতীয় শিফট সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলবে। এছাড়া তাপপ্রবাহ সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত অ্যাসেম্বলি বন্ধ থাকবে।

রোববার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অঞ্চলভেদে কয়েকদিন ধরেই বন্ধ রাখা হয়েছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গরম কিছুটা সহনীয় হওয়ায় আগামীকাল রোববার (৫ মে) সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে।

তবে ক্লাস শুরুর আগে কোনো প্রতিষ্ঠানেই অ্যাসেম্বলি করা যাবে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরের কোনো শিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নেওয়ানো যাবে না।

শনিবার (৪ মে) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ২৫ এপ্রিল যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, তার শর্তাদি পালন সাপেক্ষে আগামীকাল রোববার থেকে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে রোববার দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ঘোষিত ছুটি শেষ হওয়ায় নতুন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাস হবে।

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে গত ২১ এপ্রিল সারাদেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ছিল। তবে ২০ এপ্রিলে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এরপর ২৮ এপ্রিল শর্তসাপেক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। পরদিন সোমবার (২৯ এপ্রিল) হাইকোর্ট দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধের আদেশ দেন।

এদিকে, একই দিনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে।

তবে আদালতের আদেশ হাতে না পাওয়ায় কোনো নির্দেশনা দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে যেহেতু বিচার বিভাগ আদেশ দিয়েছেন, সেই আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলেন জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ঢাকাসহ ২৫ জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আজ
                                  

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বর্ধিত ছুটির পর শনিবার (৪ মে) সারা দেশে মাধ্যমিকের শ্রেণিকার্যক্রম নিয়মিতভাবে শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে বন্ধ থাকছে ঢাকাসহ দেশের ২৫ জেলার মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সব জেলা (রাজশাহীর ৮টি ও খুলনার ১০টি); ঢাকা বিভাগের ঢাকা ও টাঙ্গাইল; চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর এবং রংপুর বিভাগের রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে আজ শনিবার (৪ মে)।

শুক্রবার (৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এমএ খায়েরের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অংশে তীব্র তাপদাহ এখনও বিরাজমান থাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শনিবার থেকে যথারীতি সারা দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণিকার্যক্রম চালু রাখার কথা ছিল। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে ছয়দিন (শুধুমাত্র শুক্রবার ছুটি) মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পাঠদান কার্যক্রম চলার কথা।

প্রসঙ্গত, ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ২১ এপ্রিল সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ছিল। তবে ২০ এপ্রিলে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ২৮ এপ্রিল শর্তসাপেক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। পরদিন সোমবার (২৯ এপ্রিল) হাইকোর্ট দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধের আদেশ দেন।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন জানিয়েছেন, আগামী রোববার (৫ মে) থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া শর্তগুলো মেনে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে হবে। যদি চলমান তাপমাত্রার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, এ বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


   Page 1 of 39
     শিক্ষাঙ্গন
শেষ ধাপেও কলেজ পায়নি ১২ হাজার শিক্ষার্থী
.............................................................................................
মধ্যরাতে ঢাবিতে বিক্ষোভ
.............................................................................................
ত্রিমুখী আন্দোলনে অচল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
.............................................................................................
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে আজ
.............................................................................................
জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজ পায়নি সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষার্থী
.............................................................................................
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটি কমতে পারে
.............................................................................................
কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজপথে ঢাবির শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাড়ে ১৪ লাখ, ২৯ জুন থেকে কোচিং সেন্টার বন্ধ
.............................................................................................
এইচএসসি পরীক্ষা ৩০ জুনই শুরু হবে : ঢাকা শিক্ষা বোর্ড
.............................................................................................
 এসএসসিতে ফেল করলেও কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে!
.............................................................................................
হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্প্রিং ২০২৪-এর নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
একাদশে ভর্তি আবেদন শুরুর সম্ভাব্য সময় জানা গেল
.............................................................................................
শাহবাগে চাকরিপ্রত্যাশীদের অবরোধ, যানজটে ভোগান্তি
.............................................................................................
আজ সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা
.............................................................................................
রোববার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা
.............................................................................................
ঢাকাসহ ২৫ জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আজ
.............................................................................................
প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা নিয়ে যে নির্দেশনা দিলো মন্ত্রণালয়
.............................................................................................
আজ সারাদেশে স্কুল-কলেজ-মাদরাসা বন্ধ
.............................................................................................
আপিল করবে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ২ মে পর্যন্ত ছুটি বহাল
.............................................................................................
আজ ২৭ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ
.............................................................................................
রোববার থেকে খুলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্ধ থাকবে প্রাক-প্রাথমিক
.............................................................................................
শনিবার সাপ্তাহিক ‘ছুটিই থাকছে’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
.............................................................................................
তীব্র গরমে প্রাথমিক-মাধ্যমিকে অনলাইনে ক্লাস চালুর চিন্তা
.............................................................................................
প্রচণ্ড গরমে অনলাইন ক্লাসে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
.............................................................................................
গরমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আরও ৭ দিন বন্ধের দাবি
.............................................................................................
তৃতীয় দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন বুয়েট শিক্ষার্থীদের
.............................................................................................
ঢাবির সব ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ
.............................................................................................
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি শুরু
.............................................................................................
জবি ছাত্রীর আত্মহত্যা: অভিযুক্তদের গ্রেফতারে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম
.............................................................................................
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশ
.............................................................................................
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষাও হবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে
.............................................................................................
জাবিতে আসন প্রতি লড়বে ১০৮ জন
.............................................................................................
মাহতাবকে চাকরিচ্যুতির কারণ জানাল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি
.............................................................................................
এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরও ৯৬৫০ জন নতুন শিক্ষক-কর্মচারী
.............................................................................................
এইচএসসির নির্বাচনী পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
.............................................................................................
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ২৩ ফেব্রুয়ারি
.............................................................................................
শনিবারও অফিস করার সিদ্ধান্ত জবির নতুন উপাচার্যের
.............................................................................................
ষষ্ঠ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন শেষ হচ্ছে আজ
.............................................................................................
কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৯১.২৫ শতাংশ
.............................................................................................
সোমবারের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ঘনীভূত হতে পারে
.............................................................................................
সিলেট বোর্ডে কমেছে পাসের হার-জিপিএ ৫
.............................................................................................
এইচএসসিতে পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা
.............................................................................................
এইচএসসির ফল প্রকাশ, পাসের হার ৭৮.৬৪ শতাংশ
.............................................................................................
এইচএসসির ফল প্রকাশ ১১টায়, জানা যাবে যেভাবে
.............................................................................................
এইচএসসির ফল রোববার, অপেক্ষায় সাড়ে ১৩ লাখ পরীক্ষার্থী
.............................................................................................
না ফেরার দেশে জবি শিক্ষার্থী শিহাব
.............................................................................................
হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
.............................................................................................
এইচএসসির ফল প্রকাশ ২৬ নভেম্বর
.............................................................................................
নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ-সপ্তমে সামষ্টিক মূল্যায়ন শুরু আজ
.............................................................................................
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল প্রকাশ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত । ফোন: ০২-৭১৯৩৮৭৮ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪
Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: [email protected]
   All Right Reserved By www.dailyasiabani.com Dynamic Scale BD