নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভার মাধ্যমে মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের দাবি জানান।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হলরুমে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।
সভায় নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ না করায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগী হয়নি এবং জুলাই সনদ উপেক্ষা করে পুরোনো রাজনৈতিক ধারার দিকে ফিরে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তির পথ বন্ধ হবে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, আহতদের পুনর্বাসন ও সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে গণহত্যার প্রতিটি ঘটনার বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের পিতা শেখ জামাল হাসান বলেন, গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। তা না হলে শহীদ ও আহতদের সঙ্গে অবিচার করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শহীদ জিহাদ হোসেনের পিতা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, চাঁদার দাবিতে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন নিয়ে তাঁর সন্তান জীবন দিয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
শহীদ ফারহান ফাইয়াজের পিতা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয়ে না দেখে ন্যায়বিচারের দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের বিষয়ে সরকারের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাচ্ছে না।
এ সময় শহীদ রেজাউল করিমের পিতা আল-আমীন মীর, শহীদ আলিফের পিতা সৈয়দ গাজীউর রহমান এবং আহত জুলাই যোদ্ধা শাহ আলম গাজী ও কামরুল ইসলামও বক্তব্য দেন। তাঁরা গণহত্যার বিচার এবং গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সভায় কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন আব্দুস সবুর ফকির, মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, ড. আব্দুল মান্নান, মো. শামছুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম এবং শাহীন আহমেদ খানসহ অন্যরা। বক্তারা শহীদ পরিবার ও আহতদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন নূরুল ইসলাম বুলবুল। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে অনলাইন প্রচারাভিযান, শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, বিশেষ আলোচনা সভা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বেচ্ছায় রক্তদান, শ্রমিক সমাবেশ, বিশেষ দোয়া, গণমিছিল এবং ঐতিহাসিক সমাবেশ। এছাড়া জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনা নিয়ে একটি বিশেষ বুলেটিন প্রকাশ, তিন দিনব্যাপী নাট্য উৎসব, ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং পাঁচটি নতুন বিপ্লবী গান প্রকাশেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।