২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লাইনআপ যেন বিশ্ব ফুটবলের দুই ভিন্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। শেষ আটে জায়গা করে নেওয়া দলগুলোর অর্ধেকই অতীতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে, আর বাকি চারটি দল এখনও প্রথম শিরোপার অপেক্ষায়। তাই এবারের কোয়ার্টার ফাইনাল শুধু নকআউট লড়াই নয়, এটি অভিজ্ঞতা ও ক্ষুধার, ঐতিহ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষারও এক আকর্ষণীয় দ্বৈরথ।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চার দল হলো আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন। আর্জেন্টিনা তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন (১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২), ইংল্যান্ড একবার (১৯৬৬), ফ্রান্স দুইবার (১৯৯৮ ও ২০১৮) এবং স্পেন একবার (২০১০) বিশ্বকাপ জিতেছে। চার দলেরই স্কোয়াডে রয়েছে বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা, আর সেই অভিজ্ঞতাই নকআউট ফুটবলে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে বেলজিয়াম, মরক্কো, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড এখনও বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারেনি। তবে শিরোপাহীন মানেই তারা অনভিজ্ঞ নয়। বেলজিয়াম ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সেরা বিশ্বকাপ ফল। মরক্কো ২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ে। সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের অন্যতম সংগঠিত দল হিসেবে পরিচিত, আর ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নকআউট পর্বে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
এই আট দলের উপস্থিতি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরেছে। বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা সব সময় সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না, আবার শিরোপাহীন হওয়াও স্বপ্ন দেখার পথে বাধা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মরক্কোর উত্থান, বেলজিয়ামের ধারাবাহিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নরওয়ের নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে, বিশ্ব ফুটবলের ব্যবধান আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে।
আর্জেন্টিনা এখনও শিরোপাধারী হিসেবে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে, ইংল্যান্ড প্রায় ছয় দশকের শিরোপাখরা কাটাতে চায়, আর স্পেন চাইছে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরতে। অন্যদিকে বেলজিয়াম, মরক্কো, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের সামনে সুযোগ ইতিহাস নতুন করে লেখার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, বড় ট্রফি জিততে অভিজ্ঞতার মূল্য অপরিসীম। কিন্তু একই ইতিহাস এটাও মনে করিয়ে দেয়, নতুন চ্যাম্পিয়নের জন্ম হয় তখনই, যখন কোনো দল অতীতের পরিসংখ্যানকে অস্বীকার করে নতুন গল্প লেখে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল শুধু চারটি ম্যাচের সমষ্টি নয়; এটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঐতিহ্য রক্ষার লড়াই এবং নতুন চার চ্যালেঞ্জারের ইতিহাস গড়ার স্বপ্নের মঞ্চ।