কূটনৈতিক প্রতিবেদক: ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুরের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক সেমিনারের আয়োজন করেছে। “দ্য লিগ্যাসি অব দ্য নবাব: অ্যান ওড টু দ্য লাইফ অ্যান্ড টাইমস অব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুর” শীর্ষক এ সেমিনারে উপমহাদেশের মুসলিম রাজনৈতিক জাগরণ, শিক্ষা বিস্তার ও জনকল্যাণে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
বুধবার (১৭ জুন) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ইতিহাসবিদ, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং নবাব পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুরের প্রপৌত্র নবাবজাদা খাজা সামিউল্লাহ আসকারি।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, নবাব সলিমুল্লাহর দূরদর্শী নেতৃত্ব, জনসেবা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ভিত্তি নির্মাণে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
হাইকমিশনার ১৯০৬ সালে ঢাকায় অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় নবাব সলিমুল্লাহর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
সেমিনারে বিভিন্ন বক্তা নবাব সলিমুল্লাহর জীবন ও কর্মের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ড. মোহাম্মদ আলমগীর ঢাকার নবাব পরিবারের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, বঙ্গের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়ে নবাব সলিমুল্লাহ নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করেছেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহিদ আফরোজ কবির পূর্ববঙ্গে শিক্ষা বিস্তারে নবাব সলিমুল্লাহর অগ্রণী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও পৃষ্ঠপোষকতা সমাজে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন এনেছে এবং তা আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।
ঢাকা ট্রিবিউনের সাবেক সম্পাদক ও কাউন্টারপয়েন্টের সম্পাদক জাফর সোবহান মুসলিম রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান এবং উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাঁর দূরদর্শী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
নবাবজাদা খাজা সামিউল্লাহ আসকারি তাঁর প্রপিতামহের স্মৃতিচারণ করে বলেন, জনসেবা, শিক্ষা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের যে আদর্শ নবাব সলিমুল্লাহ রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয়।
অনুষ্ঠানের শেষে হাইকমিশনার আলোচকদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন।
এ উপলক্ষে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুরের জীবন, কর্ম ও অবদান নিয়ে বিরল আলোকচিত্র ও ঐতিহাসিক দলিলসমৃদ্ধ একটি বিশেষ ফটো প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়। এছাড়া তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।