বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * হরমুজে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজসহ ১০টি জাহাজে হামলা ইরানের   * ইরান যুদ্ধ কবে শেষ হবে জানালেন ট্রাম্প   * কারেন্ট জালের কারখানায় অভিযানে ৪২ হাজার রিল জব্দ   * এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী   * ফিলিপাইনে ফেরিতে ভয়াবহ আগুনে ৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৮৭   * ছেলের বিয়ের বাজার করে বাড়ি ফিরছিলেন, সড়কে প্রাণ গেল বাবা-মায়ের   * জালিয়াতির অভিযোগের পর ডব্লিউএইচও’র পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ   * আর্থিক ঝুঁকিতে ১৫ ব্যাংক   * অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী   * নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন সম্পূর্ণ হবে না : রিজভী  

   মতামত
ভাসানীর চোখে শহীদ জিয়া: সার্বভৌমত্বের কালজয়ী মেলবন্ধন
  Date : 20-06-2026

- প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং আন্তার্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ, দূরদর্শী এবং গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মধ্যকার আদর্শিক মেলবন্ধন। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর এক চরম ভূরাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে এই দুই মহান নেতার ঐতিহাসিক একাত্মতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর এনে দিয়েছিল। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে যখন এই সম্পর্কের গভীরতা ব্যবচ্ছেদ করি, তখন স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, মওলানা ভাসানীর জহুরি চোখ শহীদ জিয়ার মাঝে খুঁজে পেয়েছিল এক আপসহীন, দেশপ্রেমিক ও খাঁটি জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রনায়ককে, যিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মওলানা ভাসানী তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার মোহগ্রস্ততা কিংবা স্তাবকতাকে কখনোই প্রশ্রয় দেননি। কিন্তু সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখনই জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের দুয়ার উন্মোচনে হাত দিলেন, মওলানা ভাসানী তখন নিঃশর্তভাবে এই তরুণ ও উদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। ভাসানীর দৃষ্টিতে জিয়াউর রহমান কেবল একজন সামরিক শাসক বা রাষ্ট্রপতি ছিলেন না;  বরং তিনি ছিলেন শোষিত ও অবরুদ্ধ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। ১৯৭৬ সালের মে মাসে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের প্রাক্কালে মওলানা ভাসানীকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি কেন জিয়ার সরকারকে সমর্থন করছেন, তখন তাঁর বজ্রকণ্ঠের উত্তর ছিল ঐতিহাসিক। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, "জিয়াউর রহমান কোনো ক্ষমতার মোহে অন্ধ নন, তাঁর চোখ দেশপ্রেম ও জাতীয় স্বার্থে নিবেদিত। এই মুহূর্তে জিয়ার হাত শক্তিশালী করা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা।"

ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মওলানা ভাসানী এবং শহীদ জিয়ার চিন্তার ঐক্য ছিল অভূতপূর্ব। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সমকালীন ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে পরিচালিত `ফারাক্কা লংমার্চ` আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী যখন লাখো জনতাকে নিয়ে মরণফাঁদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তখন রাষ্ট্রীয় ও নৈতিকভাবে এই আন্দোলনকে পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। ভাসানীর এই মাঠপর্যায়ের গণআন্দোলনকে শহীদ জিয়া আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ফ্রন্টে অত্যন্ত চতুরতার সাথে ব্যবহার করেন এবং একই বছর নভেম্বরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফারাক্কা ইস্যুটি উত্থাপন করে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠা করেন। ভাসানী অনুধাবন করেছিলেন, তাঁর মাঠের লড়াইকে আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক রূপ দেওয়ার জন্য জিয়ার মতো একজন প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।

তদুপৰি, মওলানা ভাসানী শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ এবং ‘উনিশ দফা’ কর্মসূচির মাঝে সাধারণ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির এক বাস্তবমুখী প্রতিফলন দেখতে পেয়েছিলেন। ভাসানী আজীবন যে উৎপাদনমুখী ও স্বনির্ভর অর্থনীতির স্বপ্ন দেখতেন, শহীদ জিয়া ‘খাল খনন কর্মসূচি’ এবং গ্রামীণ বিপ্লবের মাধ্যমে তা বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেছিলেন। ভাসানী তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতেও শহীদ জিয়ার সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং দেশের মাটির প্রতি গভীর মমত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করে গেছেন। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুর ঠিক পূর্বে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মওলানা ভাসানী রাষ্ট্রপ্রধান জিয়াউর রহমানকে কাছে ডেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর আপসহীন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার যে ঐতিহাসিক নসিহত করেছিলেন, তা ছিল মূলত এক মহান জননেতা কর্তৃক একজন যোগ্য উত্তরসূরির হাতে রাষ্ট্র ও জাতীয়তাবাদের মশাল তুলে দেওয়ার শামিল।

মূলত, মওলানা ভাসানীর দৃষ্টিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রধান রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ঢাল। সমকালীন বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক জটিলতা, তিস্তা সংকট কিংবা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে গঙ্গাচুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে ট্রান্সবাউন্ডারি নদীর অধিকার নিয়ে যে বৈশ্বিক টানাপোড়েন চলছে, সেখানে ভাসানী-জিয়া দর্শনের যৌথ প্রাসঙ্গিকতা আজ আরও বেশি অনিবার্য। রাষ্ট্র বিনির্মাণে, আধিপত্যবাদ প্রতিরোধে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে এই দুই মহান নেতার আদর্শিক মেলবন্ধনই হোক আমাদের রাজনৈতিক শুদ্ধাচার ও পররাষ্ট্রনীতির চিরন্তন দিকনির্দেশক।



সংবাদটি পড়া হয়েছে : 276        
  
  সর্বশেষ
হরমুজে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজসহ ১০টি জাহাজে হামলা ইরানের
মহাখালীতে ভবনে আগুন
এসবিএসি ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ মাকছুদুর রহমান সরকার এফসিএমএ
ইরান যুদ্ধ কবে শেষ হবে জানালেন ট্রাম্প



প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত ।
ফোন: ০২৪১০৭০৯৯৬ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪

Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com