ড. বি এম শহীদুল ইসলাম
ফুলের বাগানে অনেক ফুলের সমাহার ঘটে। তবে সব ফুলের সুবাস একই রকম হয় না। কোনো কোনো ফুলের সুগন্ধে আকুল করে মন, স্বার্থহীনভাবে ঘ্রাণ ছড়িয়ে দেয় দিক দিগন্তে। সৌরভে ভরপুর করে তোলে প্রাকৃতিক পরিবেশ। আনন্দে উদ্বেলিত হয় সমাজ ও সংস্কৃতি। এমনই একটি সৌরভে সুগন্ধে আকুল করা ফুটন্ত ফুলকে নিয়ে আজকের এ অবতরণা করছি, যে ফুল অপর একটি ঘ্রাণযুক্ত ফুল পরিপূর্ণরূপে প্রস্ফুটিত হবার আগেই ঝরে গেছে মহিমান্বিত রবের ইশারায়। যিনি দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার ঘ্রাণ ছড়িয়ে অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর প্রচারে আমৃত্যু অবদান রেখে গেছেন। যারা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দ্বীনের ঝাণ্ডাকে সমুন্নত করার জন্য কাজ করে গেছেন, তাদেরই একজন হচ্ছেন-দ্বীনের একনিষ্ঠ খাদেম দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বিখ্যাত সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ এক সময়ে জামায়াতের বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের প্রবীণ রাহবার বৃহত্তর যশোর-৪ অসনের ১৯৭৯ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ১৯৮৬ সালে ঝিনাইদহ-৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা এ এস এম মোজাম্মেল হক-এর একান্ত ঘনিষ্ঠজন বন্ধুবর ও সহযোদ্ধা সততা ও ন্যায়-নীতির প্রতীক প্রয়াত মুন্সী আব্দুল মজিদ।
তার পুরো নাম হচ্ছে- মো: আব্দুল মজিদ বিশ্বাস। ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন যশোর জেলার মহেশপুর থানার হুদাদুর্গাপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে এটি ঝিনাইদহ জেলার অন্তর্গত। তার পিতার নাম সৈয়দ আলী হোসেন বিশ্বাস। আলী হোসেন বিশ্বাস একজন সম্ভ্রান্ত ধর্মানুরাগী সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন এবং সে সময়ে তিনি প্রায় শতাধিক বিঘা জমির স্বত্ত্বাধিকারী ছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। আব্দুল মজিদ বিশ্বাসের মাতার নাম মোসা: সায়েরা খাতুন। তিনিও একজন ধর্মপ্রাণ নারী ছিলেন। আব্দুল মজিদ বিশ্বাস দ্বীনের রাহবার হিসেবে অতন্দ্র প্রহরির ন্যায় ভূমিকা পালন, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, বিশ্বস্ততা এবং নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রচারের কারণে এলাকার মানুষের নিকট তিনি ‘মুন্সী’ উপাধিতে ভূষিত হন। তারপর থেকে তিনি আব্দুল মজিদ মুন্সী নামে সমধিক পরিচিত হয়ে যান। তিনি ছিলেন ইসলামের একনিষ্ঠ ভক্ত ও খাদেম। আল্লাহর বিধান ও রাসুল (সা)- আদর্শ প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। ইসলামী আন্দোলনের এ অকুতোভয় সৈনিক ইসলামী বিপ্লবী চেতনার ধারক ও বাহক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দ্বীনের খেদমতে কাজ করে গেছেন। তারই জীবনের আলেখ্য ও ইসলামী আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং যুবসমাজকে নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তার অবদান সম্পর্কে আমার আজকের এ অবতারণা। মূলত মুন্সী আব্দুল মজিদ ইসলাম প্রচার ও যুবসমাজকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার কাজে অবদান রেখেছেন। তিনি উপলব্ধি করতেন যে, একজন সত্যিকার মুমিন হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে হলে শুধু নিজে এবং নিজের পরিবারবর্গ নয়, গোটা সমাজকে সংশোধন করে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে গড়ে তোলা অপরিহার্য। সেক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা)-এর বিধান অনুসরণ ও বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। তারপর তিনি পবিত্র কুরআন শিক্ষা ও প্রচারের কাজ শুরু করেন এবং ইসলামী জীবন বিধান প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। উদ্দেশ্য ছিল কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শ মানুষের নিকট পৌঁছে দেয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তা বাস্তবায়নের কাজে মনোনিবেশ করা। তার কুরআন তেলাওয়াত এতোটা মাধুর্যময় ছিল যে, শ্রোতাদের মনকে মোহিত ও মনোমুগ্ধকর করে তুলতো। ফজরের নামাজের পর তিনি প্রতিদিন নিজ বৈঠকখানার বারান্দায় কুরআন তেলাওয়াত করতেন ও তাফহীমুল কুরআনের তাফসীর অধ্যয়ন করতেন। তার মাঝে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল। মুন্সী সাহেব এতো চমৎকার ও সুললিত কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত করতেন যে, অনেকেই গ্রামের মাঠ থেকে তেলাওয়াতের শব্দ শুনে মুগ্ধ হয়ে যেতেন। তিনি দীর্ঘদিন হুদাদুর্গাপুর মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন গ্রামে একটি মাত্র মসজিদ ছিল। গ্রামের পশ্চিম অর্ধ অংশের সর্বস্তরের মানুষের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে মুন্সী আব্দুল মজিদের বাড়ির উত্তর পার্শ্ব সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে "বায়তুন নূর জামে মসজিদ" নামে আর একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হলে, তিনি গ্রামবাসীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ঐ মসজিদের সভাপতি নির্বাচিত হন। অর্থাৎ তিনি বায়তুন নূর জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি ঐ মসজিদের সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। মুন্সী সাহেব তার জীবদ্দশায় আযান একামাত ঈমামতি জানাজা নামাজ এমনকি জুম্মার খুতবাসহ সব ধরণের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান চর্চা করেছেন তার গ্রামের উভয় মসজিদে। ঈদের জামায়াতেও কখনো কখনো ইমাতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ছোট বড় সবার কাছে তার সম্মান মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
এক সময় তিনি এলাকার যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে ধর্মীয় চেতনা ও সঠিক জ্ঞান দানের লক্ষ্যে সর্ব সাধারণের অনুরোধে পবিত্র কুরআন শিক্ষার আসর বসালেন। তার নিজ বৈঠকখানায় বিনা পারিশ্রমিকে তিনি মানুষকে কুরআনের মহান বাণী ও রাসুল (সা)-আদর্শের শিক্ষা দিতেন। তার এ কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ে ছোটবড় সকলেই দলে দলে তার নিকট পবিত্র কুরআন শিক্ষার আসরে যোগদান করেন। এমনকি শিশুরাও তার কাছে কুরআনের মহান বাণী শিক্ষার লক্ষ্যে ভীড় জমাতো। আমার মতো একজন আল্লাহর ক্ষুদ্র বান্দা হিসেবে শৈশবে তার নিকট কুরআন শিক্ষার হাতেখড়ি নিয়েছি। এ মহৎ ব্যক্তির নিকট থেকে অনেকে হেদায়েতের আলোর পথ পেয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। বর্ষা মৌসুমে গ্রামের অপর প্রান্তে মুসল্লীরা মসজিদে যেতে না পারায় মুন্সী সাহেবের নিজ বৈঠকখানায় তার নেতৃত্বে নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত হতো এবং পবিত্র রমজান মাসে তিনি তারাবিহর নামাজের ইমামতি করতেন। মুন্সী আব্দুল মজিদ বিভিন্ন সময় এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন মেয়াদে পার্শ্ববর্তী পাথরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। একাধিক বার পাথরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছিলেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০০৬ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত হুদাদুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় মুন্সী আব্দুল মজিদ স্কুলের পাশে অবস্থিত তার নিজের জমি থেকে মাটি থেকে স্কুলের মাঠ ভরাটের কাজে সহযোগিতা করেছেন। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৬ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার বাড়ি সংলগ্ন “বায়তুন নুর জামে মসজিদ” কমিটিতে একাধারে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিবাহিনীর একান্ত সহযোগী ছিলেন। তার বাড়ির বৈঠকখানায় মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান করতেন। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পর দেশ শান্ত হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ১৯৭২ সালে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং জামায়াতের তৎকালীন আমির ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমের নাগরিকত্ব অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়। তার নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তৎকালীন সরকারের নিকট আবেদন করা হলে কোনো কাজ হয়নি। তারপর অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসুচি পালন করা হয়। মুন্সী আব্দুল মজিদ অত্যন্ত সাহসিকতা ও বলিষ্ঠতার সাথে গণস্বাক্ষর কর্মসুচিতে নেতৃত্ব দান করেন। এলাকার প্রতিটি গ্রামে, মহল্লায়, বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তিনি মানুষকে বুঝান এবং অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষে জনমত গঠন ও তাদের স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালে আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী পুনরায় কাজ শুরু করলে যাদবপুর ইউনিয়ন জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনের সময় মুন্সী আব্দুল মজিদকে নাযেম বা সভাপতি, শিক্ষক সাইদুর রহমানকে সেক্রেটারি ও বিএসসি শিক্ষক গোলাম রহমানকে অর্থ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করেন সাবেক এমপি মাওলানা এ এস এম মোজাম্মেল হক। তারপর থেকে আরো বলিষ্ঠভাবে ইসলামের খেদমতে মুন্সী আব্দুল মজিদ অতন্দ্র প্রহরির ন্যায় কাজ করেন। তিনি সক্রিয়ভাবে জামায়াতের সাথে যুক্ত থাকার সুবাদে তার বাড়িতে তাফহীমুল কুরআনসহ অসংখ্য কুরআনের তাফসীর ও ইসলামী সাহিত্যের সমাহার আমরা দেখেছি। যা কালের সাক্ষী হয়ে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
১৯৭৯ সালে আইডিএল-এর নামে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান ঝিনাইদহ-৩ আসনে (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) তৎকালীন যশোর-৪ আসনে নির্বাচনে এ এস এম মোজাম্মেল হকের পক্ষে তিনি ব্যাপকভাবে প্রচারণার কাজে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মুন্সী আব্দুল মজিদ জামায়াতে ইসলামীর একজন একনিষ্ঠ খাদেম হিসেবে দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করেন। জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে তিনি অসাধারণ ভালো বাসতেন। তিনি তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের এ সবুজ ভূখণ্ডে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হোক, তা মনেপ্রাণে প্রত্যাশা করতেন। কিন্তু তার আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা আজও পর্যন্ত অপুরণীয় রয়ে গেছে। ২০০৬ সালের ৩০ আগষ্ট ইসলামের এ নিবেদিতপ্রাণ বীর সেনানী মুন্সী আব্দুল মজিদ তার মেয়ের বাড়িতে রাতের খাবার শেষে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়ার সময় ওযু করে দুই রাকাত নামাজ আদায়ের পর রাত সাড়ে ১০টার সময় হঠাৎ অসুস্থতা বোধ করেন এবং সাথে সাথেই মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়ার সফর শেষ করে তারই সান্নিধ্যে পাড়ি জমান। কিন্তু সাথে সাথে আমাকে সংবাদ না দিয়ে পরদিন সকালে জানানো হয়। ঐদিন সকাল ১০টায় ঢাকার উত্তরায় স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আনন্দঘন অনুষ্ঠান ছিল। আমার সভাপতিত্বে এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমানের প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আমি সংবাদ পেয়ে অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন সাহেবকে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার অনুরোধ জানিয়ে সপরিবারে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে মাগরিবের নামাজের কিছুক্ষণ পূর্বে উপস্থিত হয়ে জানাযা নামাজের ইমামতি করার সুযোগ পাই। তারপর তার নিজ বাসভবন সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তার মাতা-পিতার কবরের পাশে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হয়। ঝিনাইদহ-৩ আসনের জামায়াতের বর্তমান এমপি অধ্যাপক মতিয়ার রহমানসহ জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ও সর্বস্তরের দল-মত নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক মানুষ তার জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। যার স্মৃতিকে অমর করে রাখার মানসে আমার আজকের এ অবতারণা। ইসলাম ও কুরআন সুন্নাহর জন্য তার সকল কর্ম তৎপরতা ও প্রচেষ্টাকে আল্লাহ তায়ালা যেন কবুল করে নেন, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। তিনি সবসময় শহিদী মৃত্যু কামনা করতেন। তাই আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে শহিদী মর্যাদায় ভূষিত করেন সেটিই পরিবারের চাওয়া। তার স্বপ্ন ছিল বাংলার জমিনে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সচক্ষে দেখে যাওয়া।, কিন্তু সম্ভব হয়নি। তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে, যারা শত জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার, হামলা, মামলা অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছেন লক্ষ্য পানে- একটি শান্তিপূর্ণ ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য।
বাঙালি জাতি আজ বড় বিপন্ন জাতিতে পরিণত হয়েছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ কঠিন সংকটময় মুহুর্ত অতিক্রম করছে। দুর্নীতি, অপশাসন, কুশাসন, অপসংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় বৈষম্য, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। গোটা দেশ মাদকের করালগ্রাসে ছেয়ে গেছে, যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ সকল সেক্টরে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে। নারী নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হানাহানি বেড়ে গেছে। এমতাবস্থায় মানবিক নেতা বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা খ্যাতিমান চিকিৎসা বিজ্ঞানী সাহসী ও সৎ রাজনীতিবিদ ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসীকে বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত ও শপথ নিতে হবে। পবিত্র সীরাতের (স) এ মাসে সকল মানবরচিত দর্শন ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ইসলামকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের সত্যিকার দুর্গ হিসেবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের এ সবুজ ভূখণ্ডে একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণ ও ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চূড়ান্ত বিপ্লবের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই মুন্সী আব্দুল মজিদের হৃদয়ে দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে-ইনশাআল্লাহ।
লেখক: শিক্ষাবিদ গবেষক ও কলামিস্ট।