আন্তর্জাতিক: প্রাকৃতিক সভ্যতা নির্মাণ করা হল চীনা জাতির টেকসই উন্নয়নের সাথে জড়িত একটি মৌলিক মহাপরিকল্পনা। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বাধীন সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটি, প্রাকৃতিক সভ্যতা নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। এই লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে একের পর এক যুগান্তকারী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। তাত্ত্বিক রূপরেখা থেকে শুরু করে বাস্তব প্রয়োগ পর্যন্ত,—চীনের পরিবেশগত সভ্যতা আজ এক ঐতিহাসিক, রূপান্তরমূলক এবং সর্বব্যাপী পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্বমঞ্চে এক অভাবনীয় পরিবেশগত অলৌকিকতা ও সবুজ উন্নয়নের বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ নীতি বাস্তবায়নের কাজ শুরুর পর থেকে, দেশের অর্থনীতি যখন তীব্র গতিতে এগিয়ে চলছিল, তখন পরিবেশগত সমস্যাগুলোও ক্রমান্বয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। অতিরিক্ত সম্পদের অপচয় এবং দূষণের মতো বিষয়গুলো দেশের টেকসই উন্নয়নের পথে এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে "উন্নয়ন নাকি পরিবেশ রক্ষা এবং এই দুইয়ের মধ্যে কীভাবে সুষম সমন্বয় সাধন করা সম্ভব?”—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে, ২০০৫ সালেই, তত্কালীন চ্যচিয়াং প্রদেশের সিপিসি সম্পাদক হিসেবে সি চিন পিং তাঁর সেই ঐতিহাসিক দর্শন উপস্থাপন করেছিলেন: "সবুজ পাহাড় ও স্বচ্ছ জলই হলো আসলে সোনার পাহাড় ও রুপার পাহাড়।" এই দর্শন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যকার গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে ব্যাখ্যা করে। সিপিসি-র অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে, "সুন্দর চীন" হয়ে ওঠে দেশ পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি, যা পরবর্তীতে দেশের সংবিধানেও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সিপিসি-র কুড়িতম জাতীয় কংগ্রেসেও "সবুজ উন্নয়নকে তরান্বিত করা এবং মানুষ ও প্রকৃতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে প্রসারিত করার" এক মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।
মানবতার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক সভ্যতার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, "পৃথিবীর সকল জীবনের জন্য একটি অভিন্ন কল্যাণের সমাজ" গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন পিক ও ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিউট্রালিটি অর্জনের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়নে মাঠে নামেন।
সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে সরাসরি জড়িত পরিবেশগত সমস্যাগুলো দূর করতে, চীন নীল আকাশ, স্বচ্ছ জল এবং বিশুদ্ধ মাটি রক্ষার লড়াইকে অত্যন্ত গভীরে নিয়ে গেছে। দূষণকারী শিল্প কারখানা বন্ধ করা থেকে শুরু করে, পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন হিটিং ব্যবস্থার রূপান্তর এবং সরাসরি উত্সমুখ থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে, জলভাগের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে মাটির ঝুঁকি কমানোর ফলে, চীনের সামগ্রিক পরিবেশ আজ এক চমত্কার ও স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
সাধারণ মানুষের মাঝেও পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা এখন একটি জনপ্রিয় ফ্যাশন ও সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। পরিবেশবান্ধব কেনাকাটা ও সবুজ যাতায়াত থেকে শুরু করে, পানি ও বিদ্যুতের সাশ্রয় এবং ময়লা-আবর্জনা সুনির্দিষ্টভাবে আলাদা করার মতো অভ্যাসগুলো, আজ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি স্তরে মিশে গেছে, যা সামগ্রিকভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। বৈশ্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় চীনের নেতৃত্ব, আজকের চীনকে বৈশ্বিক পরিবেশগত সভ্যতা বিনির্মাণের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অংশীদার, মহান অবদানকারী এবং দূরদর্শী নেতায় পরিণত করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ এবং অঞ্চলের সাথে চীন বিভিন্ন ধরনের সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের সহযোগিতা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। সমুদ্রের তীব্র বাতাসকে কাজে লাগানো এবং সূর্যের প্রখর আলোকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে চীনের যে বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত একচ্ছত্র শ্রেষ্ঠত্ব ও সক্ষমতা রয়েছে, তা আজ চীন বিশ্বমঞ্চে বিভিন্ন সাশ্রয়ী পণ্য ও সেবার মাধ্যমে, বিভিন্ন দেশের মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিচ্ছে; যা টেকসই এবং একটি সুন্দর ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে অনন্য অবদান রাখছে।
সূত্র:শুয়েই-আলিম-জিনিয়া,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।