জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস সোসাইটি (বিসিআরএস) সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ শহীদ তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে দেওয়া এক বার্তায় সংগঠনটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আ হ ম মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিক এবং নির্বাহী পরিচালক শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহত যোদ্ধাদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (OHCHR)-এর অনুসন্ধান প্রতিবেদনে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত গেজেটে ৮৩৬ জন শহীদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে দুই সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫৬৪ জনের পার্থক্য দেখা যায়।
বিসিআরএসের মতে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকা অথচ সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া এসব নিহত ব্যক্তির পরিচয়, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং তারা কেন সরকারি তালিকায় স্থান পাননি—এসব বিষয় তদন্ত করে জাতির সামনে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী সংঘাত ও গুলিবর্ষণে বহু পথশিশু, কিশোর-কিশোরী এবং নিরীহ পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন। তাই এসব নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, তাদের পরিবারের সন্ধান এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বিসিআরএস নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো প্রত্যেক মানুষের পরিচয় রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ, তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং সব নিহতের পরিবারের জন্য সমান মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ইতিহাসের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সত্য তুলে ধরতে একটি নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ শহীদ তালিকা প্রণয়ন সময়ের দাবি।