স্টাফ রিপোর্টার: মাদকদ্রব্য ও জুয়া খেলা মানসিকভাবে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মানুষের মস্তিষ্ককে বিকারগ্রস্ত করে, মাতাল করে ফেলে।
সমাজকে কলুষিত ও ধ্বংস করে তোলে। এমতাবস্থায় সমাজকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই মদ ও জুয়া খেলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গতকাল তাফসীর ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে আলহাজ্ব মোঃ শহীদুল ইসলাম বাবু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত "মদ ও জুয়া প্রতিরোধে ইসলামের ভূমিকা" শীর্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ গবেষক কলামিস্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইসলামী চিন্তাবিদ মারটিনবিল বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যান্টসভিল বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাক্তন ফেলো সৌদি আরবের রিয়াদ কলেজের সাবেক শিক্ষক এবং ঢাকাস্থ "জমজম এডুকেশন এন্ড রিসার্স ফাউন্ডেশন"-এর চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. বি এম শহীদুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন; মাদকাসক্তের প্রভাবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবারে মারামারি, বিশৃঙ্খলা ও গন্ডগোলের অন্যতম কারণ হচ্ছে-মাদকসেবন ও জুয়া খেলার প্রাচুর্য। এছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব-কলহ ও সংসারে অশান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায় জুয়াকে কেন্দ্র করে। এমনকি কখনো কখনো পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও সংঘটিত হয়। কখনো কখনো ছেলে-মেয়েরা অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
ড. শহীদ বলেন; বর্তমানে ক্যাসিনো নামে জুয়ার নতুন ভার্সন চালু হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে এসব ভার্সনের আমদানি করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সমাজকে নৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে মানুষকে বিরত রাখতে হবে। প্রয়োজনে সমাজের সচেতন নাগরিকগণ দলবদ্ধ হয়ে প্রতিটি পাড়ায় ও মহল্লায় গিয়ে খুঁজে বের করে এসব বিপদগ্রস্ত মানুষকে বুঝাতে হবে। তবেই সমাজে অপরাধ প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসবে। অন্যথায় রাষ্ট্রের মূল অর্গানিজম ধ্বংস হয়ে যাবে। নৈতিক অধঃপতনের কারণে দিন দিন অপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ফলে জাতি সামগ্রিকভাবে অশান্তির অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হবে। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে অভিযান শুরু করতে হবে। তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্র মুক্তি পাবে। তিনি এসবের বিরুদ্ধে সকলকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।____