কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের অনেক শহরের বাতাস দূষিত হয়ে পড়েছে। এজন্য কানাডার বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কানাডা বন ও ঝোপঝাড়ের যথাযথ পরিচর্যা না করায় যুক্তরাষ্ট্রে দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাস ঢুকছে। তিনি এ ঘটনাকে কানাডার ইচ্ছাকৃত অবহেলা বলে দাবি করেন। এমনকি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ফোন করবেন বলেও জানান।
শুক্রবার পর্যন্ত কানাডাজুড়ে ৮৮৮টি দাবানল জ্বলছিল। এর মধ্যে প্রায় ১৯০টি আগুন অন্টারিও প্রদেশে, যার বেশিরভাগই নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।
এদিকে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রকে সমালোচনা না করে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর কানাডার জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, দাবানল মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। ১৯৮২ সালের অগ্নিনির্বাপণ চুক্তি এবং ২০২৫ সালের জি-৭ সম্মেলনের সহায়তা কাঠামোর আওতায় দুই দেশ নিয়মিত একে অপরকে সহযোগিতা করছে।
তিনি আরও জানান, দাবানল প্রতিরোধ ও বন সংরক্ষণে কানাডা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।
তিনি বলেন, দাবানল এমন একটি সংকট, যা কোনো সীমান্ত মানে না। তাই সমন্বিতভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা আবারও কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার পুরোনো প্রস্তাব সামনে আনেন। তবে এ ধরনের বক্তব্য কানাডায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত বছর ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এরপর থেকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কেও টানাপোড়েন চলছে। এখনো ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হয়নি।