কামরুল হাসান: দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপজেলার বিল বিলপৌলী, বালিয়াটি ডিসি পার্ক এলাকা, বিলবরাইদ, তিল্লীসহ একাধিক সম্ভাব্য স্থান ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষানুরাগী, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার বিস্তারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দেশের মানবসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক কর্মবাজার—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিদর্শনকালে তিনি সম্ভাব্য স্থানগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যাপ্ত জমির প্রাপ্যতা, পরিবেশগত উপযোগিতা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয় সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, কারিগরি মূল্যায়ন এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোত্তম স্থান নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আফরোজা খানম রিতা বলেন, “সাটুরিয়ায় একটি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষার সুযোগ পাবে। এতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে এবং তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। শিল্পায়ন, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া হাবু, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিস মাখন, সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার,জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, জেলা যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি কবিরুল ইসলাম কবির, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আব্দুল খালেক শুভ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুর রহমান খান সজীবসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত স্থান চূড়ান্ত করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের কাজ শুরু হলে সাটুরিয়া উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে আধুনিক কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের কর্মবাজারে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিস্তার বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রয়োজন। সাটুরিয়ায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই হবে না; বরং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।