নিজস্ব প্রতিবেদক: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এ উপলক্ষে রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এবং লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াছিন আরাফাত, পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানছুরসহ স্বাস্থ্য ও আইটি বিভাগের দায়িত্বশীলরা সভায় অংশ নেন।
সভায় লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের প্রস্তুতি পর্যালোচনার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। উদ্বোধনী সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
লংমার্চের পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার ছাড়াও বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হচ্ছে।
জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে লংমার্চ সফল করতে দেশবাসী ও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের নেতারা। একই সঙ্গে কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সব রাজনৈতিক দল, সরকার, সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ ও সড়ক বিভাগের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।