বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * হরমুজে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজসহ ১০টি জাহাজে হামলা ইরানের   * ইরান যুদ্ধ কবে শেষ হবে জানালেন ট্রাম্প   * কারেন্ট জালের কারখানায় অভিযানে ৪২ হাজার রিল জব্দ   * এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী   * ফিলিপাইনে ফেরিতে ভয়াবহ আগুনে ৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৮৭   * ছেলের বিয়ের বাজার করে বাড়ি ফিরছিলেন, সড়কে প্রাণ গেল বাবা-মায়ের   * জালিয়াতির অভিযোগের পর ডব্লিউএইচও’র পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ   * আর্থিক ঝুঁকিতে ১৫ ব্যাংক   * অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী   * নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন সম্পূর্ণ হবে না : রিজভী  

   মতামত
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে পরিবেশগত সংকট: ঝুঁকিতে মানুষ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য
  Date : 06-07-2026

আরিফুল ইসলাম : জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় পরিবেশগত ও মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত কয়েক দশকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি উৎপাদন, বনাঞ্চল, নদী, সমুদ্র, বন্যপ্রাণী এবং সামগ্রিক পরিবেশের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকে দায়ী করা হয়। শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যানবাহন, বন উজাড় এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও অন্যান্য গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এসব গ্যাস পৃথিবীর তাপ ধরে রাখে, যার ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্রে পরিবর্তন ঘটছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন দেশে তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী খরা, আকস্মিক বন্যা, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং দাবানলের ঘটনা বেড়ে গেছে। অনেক অঞ্চলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পানির সংকট দেখা দিচ্ছে এবং খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় এলাকাগুলো ভাঙন, লবণাক্ততা এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। অনেক এলাকায় লবণাক্ততার কারণে কৃষিজমির উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। নদীভাঙনে প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, বনাঞ্চল ধ্বংস এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে। বন কার্বন শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু বনভূমি কমে যাওয়ায় সেই প্রাকৃতিক সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি বহু প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে, যার ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
বায়ুদূষণ, প্লাস্টিক দূষণ এবং নদী-খাল দখল ও দূষণের মতো সমস্যাও পরিবেশগত সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। শহরাঞ্চলে যানবাহন ও শিল্পকারখানার ধোঁয়ার কারণে বায়ুর মান খারাপ হচ্ছে, যা মানুষের শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নদী ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলার কারণে জলজ প্রাণীর জীবন হুমকির মুখে পড়ছে এবং পানিদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, সৌর ও বায়ুশক্তির প্রসার, বনায়ন কর্মসূচি জোরদার করা, শিল্পকারখানায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
এছাড়া একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নদী-খাল পরিষ্কার রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা এবং বেশি বেশি গাছ লাগানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ শিক্ষা জোরদার করা এবং তরুণদের জলবায়ু সচেতন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও সময়ের দাবি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন কোনো একক দেশের সমস্যা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময়, জলবায়ু অর্থায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। পরিবেশ রক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য বিশ্বব্যাপী সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
সবশেষে পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব ও সচেতন অংশগ্রহণই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।



সংবাদটি পড়া হয়েছে : 381        
  
  সর্বশেষ
হরমুজে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজসহ ১০টি জাহাজে হামলা ইরানের
মহাখালীতে ভবনে আগুন
এসবিএসি ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ মাকছুদুর রহমান সরকার এফসিএমএ
ইরান যুদ্ধ কবে শেষ হবে জানালেন ট্রাম্প



প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: তাজুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: ২১৯ ফকিরের ফুল (১ম লেন, ৩য় তলা), মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০ থেকে প্রকাশিত ।
ফোন: ০২৪১০৭০৯৯৬ মোবাইল: ০১৮৩৪৮৯৮৫০৪, ০১৭২০০৯০৫১৪

Web: www.dailyasiabani.com ই-মেইল: dailyasiabani2012@gmail.com