- প্রফেসার ড. আসিফ মিজান, উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া) এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক
বাইনারির ফাঁদ ও কাঠামোগত পরিবর্তনের অনিবার্যতাঃ
একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি অগ্রযাত্রার প্রধান অন্তরায় হলো রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তন না করে কেবল ক্ষমতার প্রতীকী বা বাহ্যিক রূপান্তর ঘটানো। উত্তর-ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রসমূহের ইতিহাসে দেখা গেছে, শাসনব্যবস্থার মৌলিক পদ্ধতির গুণগত পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেবল ‘রঙ বদল’ বা শাসক গোষ্ঠীর প্রতিস্থাপন সমাজকে এক অন্তহীন বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়। অতীতে বাংলাদেশে ‘মুক্তিযোদ্ধা বনাম রাজাকার’ এবং ২০২৪-এর জুলাই-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে ‘জুলাইপন্থী বনাম দোসর’—এই ধরনের বাইনারি বা দ্বিমুখী মেরুকরণ রাজনৈতিক আধিপত্য বা ‘হেজেমনি’ (Hegemony) বজায় রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতার এই দখলের লড়াই এবং নতুন শত্রু খোঁজার মনস্তত্ত্ব রাষ্ট্রকে একটি চিরস্থায়ী সংকটের আবর্তে বন্দি করে ফেলে। এই বৃত্ত থেকে বের হতে হলে প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল রূপান্তর এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে একটি সংকীর্ণ গোষ্ঠীতন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠে সমন্বিত সমাজ হিসেবে বিনির্মাণ করা।
ফানো-র তত্ত্ব: বিপ্লবোত্তর এলিট শ্রেণী ও ‘বৈধতার সাইনবোর্ড’ঃ
উত্তর-ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিক ফ্রান্ত্স ফানো (Frantz Fanon) তাঁর আকর গ্রন্থ `The Wretched of the Earth` (পৃথিবীর লাঞ্ছিত ভাগ্যহত)-এ বিপ্লব বা মুক্তি-সংগ্রাম পরবর্তী ক্ষমতার রূপান্তর নিয়ে গভীর সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। ফানো দেখীদের স্পষ্টীকরণ অনুযায়ী, ঔপনিবেশিক বা স্বৈরাচারী শক্তির পতনের পর যে নতুন এলিট বা গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে, তারা গণঅভ্যুত্থানের সামগ্রিক রক্তস্মৃতি ও ত্যাগের ইতিহাসকে একচেটিয়া রূপ দিয়ে নিজেদের শ্রেণীস্বার্থ ও রাজনৈতিক আধিপত্য রক্ষা করতে চায়।
এর বাস্তব রূপান্তর আমরা দেখতে পাই যখন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দল—যেমন জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিপ্লবের একক কৃতিত্ব দাবিদার এনসিপি (NCP)—পুরো শাসনকাঠামো ও গণআকাঙ্ক্ষাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। ফানোর ভাষায়, এটি তখন রূপান্তরিত হয় ‘বৈধতার সাইনবোর্ডে’, যার একচ্ছত্র স্বত্বাধিকারী দাবি করে সেই নির্দিষ্ট গ্রুপ। ফলস্বরূপ, এই ঐতিহাসিক স্মৃতির ওপর কোনো ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন, যৌক্তিক সমালোচনা বা এমনকি কার্টুনের মতো নিরীহ শৈল্পিক প্রকাশকেও একপ্রকার ‘বিপ্লববিরোধী’ অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ফানোর তাত্ত্বিক কাঠামো অনুযায়ী, এই নতুন এলিটদের তৈরি করা মনোপলি বা একচেটিয়াত্বের বাইরে যেকোনো ভিন্নমতকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘শত্রু’ বা ‘দোসর’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়।
দুর্খাইমের সমাজতত্ত্ব: ইতিহাসের ‘পবিত্রকরণ’ ও যৌথ মালিকানার অস্বীকৃতিঃ
ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুর্খাইম (Émile Durkheim) তাঁর সমাজتাত্ত্বিক বিশ্লেষণে (বিশেষ করে `The Elementary Forms of the Religious Life` গ্রন্থে) দেখিয়েছেন, সমাজ কীভাবে কোনো ধর্মনিরপেক্ষ বস্তু, প্রতীক বা ঘটনাকে বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করে ‘পবিত্র’ (The Sacred) হিসেবে ঘোষণা করে।
যখন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ফ্রন্ট বা নবগঠিত দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা ঐতিহাসিক কোনো ঘটনাকে (যেমন—বিগত দিনে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ ধারণার একচেটিয়া রাজনৈতিক ব্যবহার এবং বর্তমানে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’কে কেন্দ্র করে একই প্রবণতার পুনরাবৃত্তি) দুর্খাইমীয় অর্থে ‘পবিত্র’ বস্তুতে রূপান্তর করে নিজেদের কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা চালায়, তখন সেই পবিত্রতার ওপর যেকোনো সাধারণ প্রশ্নও ‘ধর্মনিরপেক্ষ ধর্মদ্রোহীতা’ (Secular Blasphemy) হিসেবে বিবেচিত হয়। অথচ ঐতিহাসিক সত্য হলো—জুলাই অভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ ছাত্র-জনতা, শ্রমিক এবং দীর্ঘ লড়াইয়ে লিপ্ত থাকা সকল রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত আত্মত্যাগের এক মহাকাব্য। একে যখন কোনো একটি গোষ্ঠী নিজেদের একান্ত সম্পত্তি মনে করে অবদমন শুরু করে, তখন সমাজ যুক্তি বা বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা সইতে পারে না; বরং ভিন্নমতকে সামাজিক পাপ হিসেবে গণ্য করে। অতীতে একটি মহৎ শব্দকে ক্ষমতার বর্ম বানানোর যে নির্মম পরিণতি আমরা দেখেছি, বর্তমানের নতুন কোনো ঐতিহাসিক স্মৃতির ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি রাষ্ট্রকে অগ্রগতির বদলে কেবল অন্ধকারের দিকেই নিয়ে যাবে।
সমন্বিত সমাজ বিনির্মাণের নতুন দর্শন: `সকলের প্রধানমন্ত্রী` ও উদারনৈতিক রাষ্ট্রদর্শনঃ
এই সংকীর্ণ ও দখলের রাজনীতির বিপরীতে বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি এবং তাঁর রাজনৈতিক দল বিএনপি-র সাম্প্রতিক রাষ্ট্রদর্শন ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে একটি নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ এমন একটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মুখোমুখি হচ্ছে, যা জুলাই অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক গোষ্ঠীর ওপর না চাপিয়ে অত্যন্ত উদারভাবে ফ্যাসিস্ট বিরোধী সকল শক্তি ও রাজনৈতিক দলের যৌথ অংশীদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয়। কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং ‘সকলের প্রধানমন্ত্রী’ হওয়ার উদারনৈতিক মানসিকতা ধারণ করে একটি `ইন্টিগ্রেশন সোসাইটি` (Integration Society) বা সমন্বিত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তাঁর এই প্রয়াস রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১. ‘জিরো প্রতিশোধ’ নীতি (Zero-Vengeance Policy): বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তবে বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রনায়কোচিত অবস্থান হলো রাজনৈতিক ভিন্নতার কারণে কারো ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতভিন্নতা কখনো শত্রুতা বা প্রতিহিংসায় রূপ নিতে পারে না। এই ‘জিরো প্রতিশোধ’ নীতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ক্ষয়িষ্ণু ও সংঘাতময় রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে চিরতরে বদলে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে।
২. অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ দেশের সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, কেউ দেশের বাইরে বা পেছনে পড়ে থাকবে না। প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। এটি দুর্খাইমের সামাজিক সংহতি (Social Solidarity) তত্ত্বের এক আধুনিক রাজনৈতিক প্রতিফলন, যেখানে বৈচিত্র্যকে স্বীকার করে সমাজকে একসূত্রে বাঁধা হয়।
৩. জাতীয় ঐক্য ও সুশাসনের অঙ্গীকার: ১৩তম জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। তিনি ফ্যাসিবাদ ও একনায়কতন্ত্রের চিরতরে অবসান ঘটিয়ে একটি দায়বদ্ধ, জনবান্ধব ও মূল্যবোধভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সকল দল ও মতের মানুষকে নিয়ে একটি ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতার আলো: উদাহরণ
ক্ষমতার এই মনস্তত্ত্ব, পদ্ধতির বদল ও সফল জাতীয় সংহতির বৈশ্বিক নজির অসংখ্য:
১. নেলसन ম্যান্ডেলার দক্ষিণ আফ্রিকা: বর্ণবাদের অবসান ঘটিয়ে নেলসন ম্যান্ডেলা যখন ক্ষমতায় আসেন, তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতিশোধের আগুনকে প্রশমিত করে `ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন`-এর মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ সমন্বয়ে `রেইনবো নেশন` বা সমন্বিত সমাজ গঠন করেছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশের ‘জিরো প্রতিশোধ’ নীতি ম্যান্ডেলার সেই বৈশ্বিক রাষ্ট্রদর্শনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
২. ফরাসি বিপ্লবোত্তর জ্যাকোবিন শাসন (নেতিবাচক উদাহরণ): ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার বাণী অনতিবিলম্বে রবসপিয়রের ‘টেরর অফ রেইন’ (Terror of Reign) বা সন্ত্রাসের রাজত্বে পরিণত হয়েছিল। বিপ্লবের পবিত্রতা ও একক কর্তৃত্ব রক্ষার নামে ভিন্নমতাবলম্বী ও বুদ্ধিজীবীদের গিলোটিনে চড়ানো হয়েছিল, যা পদ্ধতি না বদলানোর একটি ক্লাসিক নেতিবাচক উদাহরণ।
৩. আরব বসন্তের পরবর্তী বাস্তবতা (মিশর): ২০১১ সালের তাহরির স্কয়ারের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাতিষ্ঠানিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংস্কারের অভাব ছিল স্পষ্ট। ক্ষমতার রঙ বদল হলেও পদ্ধতি না বদলানোর কারণে সেখানে একনায়কতন্ত্রের সুদূরপ্রসারী পুনর্বাসন ঘটেছে।
করণীয় এবং উত্তরণের পথ: পদ্ধতির আমূল পরিবর্তনঃ
একজন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, এই অন্তহীন বিভাজন ও দখলের লড়াই বন্ধ করে একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:
১. একচেটিয়াত্বের অবসান ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন: ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন: বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন) স্থায়ী ও আইনগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
২. ‘আমরা বনাম ওরা’ মেরুকরণ রোধ ও নাগরিক সাম্য: `আমরা বনাম ওরা`—এই বিভাজনমূলক ন্যারেটিভ রাষ্ট্রযন্ত্র বা নতুন কোনো দলের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে আইনের শাসন এবং প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৩. বাক-স্বাধীনতা ও শৈল্পিক প্রকাশের অবারিত সুযোগ: কোনো রাজনৈতিক ঘটনা বা ইতিহাসই কোনো একক দলের সম্পত্তি বা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। কার্টুন, সাহিত্য, সমালোচনা এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারকে কোনোভাবেই অপরাধীকরণ করা যাবে না; বরং সুস্থ বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ককে উৎসাহিত করতে হবে।
৪. রাজনৈতিক সংস্কৃতির কাঠামোগত রূপান্তর (Structural Reform): কেবল ক্ষমতার হাতবদল বা শাসকের রঙ পরিবর্তন কোনো সমাধান নয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদারনৈতিক দর্শনকে ধারণ করে স্বৈরতান্ত্রিক আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে ভেঙে সম্পূর্ণ জবাবদিহিমূলক এবং প্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।
অতএব, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রুখতে হলে আমাদের অবশ্যই ক্ষমতার ‘পবিত্রকরণের রাজনীতি’ এবং যেকোনো জাতীয় অর্জনের একচেটিয়া দলীয়করণের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থান এদেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফসল, যা কোনো নির্দিষ্ট দলের কুক্ষিগত করার হাতিয়ার বা স্বৈরাচারী ক্ষমতার নতুন সাইনবোর্ড হতে পারে না। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদারনৈতিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রদর্শন এবং সমন্বিত সমাজ গঠনের যে প্রয়াস, তা যদি মাঠপর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, তবেই বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার থেকে মুক্ত হতে পারবে। মেধা, যোগ্যতা, বহুত্ববাদ এবং পরমতসহিষ্ণুতার ওপর ভিত্তি করে একটি মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য। কেবল তবেই একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।