আদেবা করিম: শৈশব একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। একজন মানুষ কখনোই তার শৈশবের স্মৃতিগুলো মন থেকে মুছে ফেলতে পারে না। অনেক মানুষ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের সেই সময়টিতে ফিরে যেতে চান। এই সময়ে শিশুদের খেলাধুলা, পড়াশোনা এবং পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো দরকার। কারণ ভালো অভ্যাসগুলো শৈশবেই গড়ে ওঠে। একটি শিশু শৈশবকালে যে বিষয়গুলো শেখে,সেগুলো ভবিষ্যৎ জীবনেও তাকে সাহায্য করে।
বর্তমানে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে পড়াশোনা, তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য আদান-প্রদান করা সহজ হয়। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় স্কুল বন্ধ থাকায় টিভি ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস চালানো হয়।
তবে, এই সুবিধাগুলোর পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে –শিশুদের জীবনের স্মার্টফোনর ব্যবহার কি প্রয়োজনের চেয়ে সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে ?
কিছুদিন আগে খবর দেখার সময় মাছরাঙ্গা টেলিভিশনে মাসিয়া নামের তিন বছর বয়সী একটি শিশুকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেখি।
প্রতিবেদন অনুসারে, তাকে খুব অল্প বয়স থেকেই খাবার খাওয়ানোর সময় এবং কান্না থামানোর জন্য ফোন দেওয়া হতো।যখন তাকে ফোন দেওয়া হতো, সে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিত এবং কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকত। কিন্তু ফোনটি কেড়ে নিলেই সে কান্না করতো এবং অস্থির হয়ে যেত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে তার আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। নতুন মানুষ দেখলে ভয় পায়, কথা বলতে সমস্যা হয়।এসবের জন্য তার মা তাকে একটি Speech Therapy Centre-এ নিয়ে যান।
মাসিয়ার ঘটনা দেখে আমার মনে একটি প্রশ্ন জাগে — শিশুকে শান্ত রাখার জন্য আমরা কি তাদের সুন্দর শৈশবকে প্রযুক্তির কাছে হারিয়ে দিচ্ছি?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের নির্দেশনায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যক্রম, কম বসে থাকা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার না করে খেলাধুলা, বিশ্রাম এবং পরিবার ও অন্যদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
আমার মনে একটি প্রশ্ন আসে—কেন আজ অনেক শিশু খেলাধুলা বা বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর বদলে স্মার্টফোনকেই বেশি পছন্দ করছে?
এই সমস্যাটি শুধু ধনী বা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোই ভোগ করে না। শহরের বস্তি এলাকাতে অনেক ছোট বাচ্চাদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়া হয়েছে। অনেক বাবা-মা কাজে যাওয়ার আগে সন্তানকে ব্যস্ত রাখার জন্য মোবাইল দিয়ে যান।আবার অনেক শিশু খাওয়ার সময় কার্টুন, ভিডিও বা গান দেখে।
কোভিড-১৯ এর সময় অনলাইন ক্লাসের জন্য শিশুদের ফোন ব্যবহার করতে হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও, বেশিরভাগ বাচ্চাদের পক্ষে তাদের ফোন থেকে দূরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছিল। গেমস, ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার শিশুদেরকে সবসময় তাদের মোবাইল ফোনের প্রতি আকৃষ্ট করে। এখন মোবাইল এবং ইন্টারনেট কম দামে পাওয়া যায়।
স্মার্টফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিশুদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং শিক্ষাগত জীবনকে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।বেশি সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করলে ঘুমের সমস্যা ও চোখের সমস্যা হতে পারে।এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিশুদের শারীরিক কাজের সময়ও কমিয়ে দিতে পারে।শিশুরা বেশি সময় ফোন ব্যবহার করলে তাদের প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগ কমে যেতে পারে।এটি তাদের সামাজিক দক্ষতাকেও দুর্বল করে তুলতে পারে।পুরানো দিনে, পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলাই ছিল শিশুদের শেখার প্রথম বিদ্যালয়।
পড়াশোনার সময় খুব ঘন ঘন স্মার্টফোন ব্যবহার করলে মনোযোগ কমে যায়।ফোনের নোটিফিকেশন খুব সহজেই শিশুকে তার পড়াশোনা এবং অন্যান্য কাজ থেকে মনোযোগ সরে যেতে পারে।
সুতরাং, সমস্যাটি স্মার্টফোনের কারণে নয়, বরং স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে।
শৈশব শিশুদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি একটি মৌলিক অধিকার। সকল শিশুর একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর এবং স্বাভাবিক শৈশব কাটানোর অধিকার রয়েছে। আমার মতে, শৈশব হওয়া উচিত আনন্দের একটি সময়,যেখানে প্রতিটি শিশু নিজের মতো করে বড় হতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত,কিছু পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার কারণে অনেক শিশু এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
তবে এখানে মূল নৈতিক প্রশ্ন হলো —পারিবারিক সমস্যা বা দারিদ্র্যের কারণে কি কোনো শিশুকে তার স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত করা উচিত?
Rights-Based Ethics-এর কথা মাথায় রেখে, শিশুদের অধিকার এবং কল্যাণকে সর্বদা বিবেচনায় রাখতে হবে। একইভাবে, কল্যাণের নীতি মনে করিয়ে দেয় যে পিতামাতা, বিদ্যালয় এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষদের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করে।
বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের প্রথম শিক্ষক। সন্তানদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানো শুধু বাবা-মায়ের দায়িত্ব নয়, প্রযুক্তির নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের শেখানোও তাদের কর্তব্য। শিশুরা সাধারণত বড়দের দেখেই অনেক কিছু শেখে। তাই বাবা-মায়ের নিজেদের ফোনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে সঠিক আদর্শ হিসেবে কাজ করা প্রয়োজন।
কিছুদিন আগে, আমি একটি শপিং মলে একটি বিষয় লক্ষ্য করেছিলাম।একজন বাবা তাঁর সন্তানের সাথে ছিলেন কিন্তু নিজের ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ছেলেটা তার বাবার মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছিল যাতে সে কিছু কথা বলতে পারে, কিন্তু তার বাবা তার দিকে কোনো মনোযোগ দিচ্ছিল না কারণ তিনি তার মোবাইল ফোন নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলেন।কিছুক্ষণ পর শিশুটি বাবার হাত ছেড়ে খেলনার দিকে দৌড়ে গেল।
এই বিষয়টি আমাকে ভাবিয়েছে যে, বাবা-মায়ের উচিত যখনই তারা তাদের সন্তানদের বাইরে নিয়ে যান, তখন কিছু সময়ের জন্য ফোন রেখে সন্তানকে সময় দেওয়া। সন্তানের কথা শোনা এবং তাদের অনুভূতিগুলো বোঝা হলো আবেগগত দায়িত্বের অংশ।
বাবা-মায়ের উচিত একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে তাদের সন্তানদের ফোন ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করা।এর ফলে তারা কোনো ফোন ব্যবহার না করেই পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারে। এর ফলে শিশুরা বুঝতে পারবে যে, পরিবারের সাথে সময় কাটানো এবং অন্যদের সাথে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তানদের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখার দিকে পরিচালিত করা এবং প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই বাবা-মায়েরা দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধায়ক হয়ে উঠবেন। তবে, শিশুরা যখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তখন তাদের সুরক্ষা প্রদান করা শুধুমাত্র তাদের বাবা-মায়ের দায়িত্ব হতে পারে না। যেসব কোম্পানিগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, তাদের শিশুদের নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখা উচিত।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো মজার ভিডিও,গেম এবং পুরস্কারের মাধ্যমে শিশুদের আকৃষ্ট করে।
অটোপ্লে,ইনফিনিট স্ক্রল এবং নোটিফিকেশন শিশুদের অনলাইনে আরও বেশি সময় কাটাতে উৎসাহিত করে। স্টেকহোল্ডার এথিকস অনুসারে, একটি কোম্পানির দায়িত্ব শুধু ব্যবসায়িক না। এর মধ্যে সেইসব মানুষও অন্তর্ভুক্ত যারা কোম্পানির পণ্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়, যেমন শিশুরা।
তাই, কোম্পানিগুলোর শুধু বেশি ভিউ বা এনগেজমেন্ট অর্জনের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত না। তাদের শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ কন্টেন্ট তৈরি করা উচিত।
যে কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম শিশুদের ক্ষতি করতে পারে, তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। প্রয়োজন হলে,একটি কোম্পানি তার ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য নিজস্ব নীতি ও ফিচার পরিবর্তন করতে পারে।
তবে, একটি কোম্পানির মুনাফা কি শিশুর কল্যাণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
মুনাফা অর্জন করা একটি স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কাজ। কিন্তু যখন এটি একটি শিশুর কল্যাণের ক্ষতি করে মুনাফা অর্জন করে, তখন এটি একটি নৈতিক দ্বিধায় পরিণত হয়। আমার মতে, শিশুদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা ব্যবসার লাভের চেয়ে বেশি মূল্যবান। এর পাশাপাশি,শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যও নিরাপদ রাখা জরুরি। শিশুর নাম, ছবি, ফোন নম্বর, ঠিকানাট মতো ব্যক্তিগত তথ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংগ্রহ করা উচিত না।কোনো অ্যাপ বা প্রতিষ্ঠান কেবল প্রয়োজনীয় তথ্যই সংগ্রহ করা উচিত এবং তা সংগ্রহের কারণ জানানো উচিত। ।নেওয়া তথ্য এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে কেউ চুরি করতে, ভুলভাবে ব্যবহার করতে বা অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করতে না পারে। শিশুর উপর কোনো ধরনের অবাঞ্ছিত বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা উচিত নয়। এই তথ্য ব্যবহার করে শিশুর সাথে বৈষম্য করা উচিত না।
এখন সমস্যাগুলো বাংলাদেশেও দেখা যাচ্ছে। শিশুরা অনলাইনে নানা সমস্যায় পড়ছে।ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, সাইবার বুলিং, ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন প্রতারণার মতো ঘটনা তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। শিশুদের ব্যক্তিগত জীবন রক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল জগতে তাদের নৈতিক আচরণ শেখানোও প্রয়োজন। শিশুরা যাচাই-বাছাই ছাড়া মিথ্যা তথ্য ছড়াবে না। তারা অনলাইনে কোনো ব্যক্তিকে গালিগালাজ করবে না। তারা এমনভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করবে যাতে তারা নিজেদের এবং অন্যদের ক্ষতি না করে।
শুধু নৈতিকতা শেখানোই যথেষ্ট নয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণও দিতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর মোবাইল, কম্পিউটার বা ইন্টারনেট নেই,তাদের পড়াশোনায় সমস্যা না হয়,সেদিকে বিদ্যালয়ের খেয়াল রাখাতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিচার করার জন্য পরীক্ষার ফলাফলই একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত না। শিক্ষার্থীরা কী এবং কতটা ভালোভাবে শিখছে, তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার করা উচিত। শিক্ষকদের নতুন প্রযুক্তি ও AI সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট এবং প্রযুক্তির কারণে শিক্ষার্থীদের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করা উচিত না। অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা উচিত,যা তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে।
এছাড়াও, সরকারেরও এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে শিশুরা যেন প্রযুক্তির নিরাপদ এবং সমান সুযোগ পায়। শহরের শিশুদের যেমন ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, তেমনি গ্রামের শিশুদেরও একই রকম অধিকার থাকা উচিত।প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে, এমন ব্যবস্থা থাকা দরকার যেখানে শিশুরা অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। সরকারি স্কুলগুলোতে প্রযুক্তি থাকা উচিত এবং প্রতিবন্ধী শিশুদেরও প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করতে হবে। সরকারের উচিত অনলাইন শিক্ষার কার্যকারিতা এবং এই শিক্ষা শিশুদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা তা তদারকি করা।
শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রচেষ্টা একক ব্যক্তির দায়িত্ব নয়। পরিবার, সরকার, বিদ্যালয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা সবাই মিলে কাজ করলে প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুদের একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
যদিও স্মার্টফোনের কিছু অসুবিধা থাকতে পারে, এর সাথে প্রচুর সুবিধাও জড়িত রয়েছে। তাবে সব শিশুর ফোন ব্যবহার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া ঠিক না।
প্রযুক্তির সাহায্যে শিশুরা অনেক নতুন কিছু শিখতে পারে এবং সৃজনশীলভাবে নিজেদের প্রকাশ করতে পারে,তাই শুধু নেতিবাচক ফলাফলের পরিবর্তে প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক মনোভাবকে বিবেচনা করা উচিত।
বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে শিক্ষার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বেশিরভাগ বেসরকারি স্কুল এখন হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারের মাধ্যমে অভিভাবকদের পড়াশোনার বিষয়, ছবি, নোটিশ ও প্রতিদিনের বিভিন্ন তথ্য জানায়। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, অভিভাবকরা প্রযুক্তির সাথে ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারেন না। বিশেষ করে গ্রামের অনেক বাবা-মা প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত নন।এর ফলে সন্তানদের প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।এ কারণেই শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের পদ্ধতিতে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এখন শিশুরা যেভাবে ফোন ব্যবহার করছে,এর প্রভাব ভবিষ্যতে তাদের জীবনে পড়তে পারে।
একটি ফোনের কারণে শিশুর শৈশব যেন নষ্ট না হয়। সেই শৈশবকে সুরক্ষিত রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।