-ড. বি এম শহীদুল ইসলাম
_______________________
স্টাফ রিপোর্টার: দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকার এবং সচেতন নাগরিকদের সোচ্চার হতে হবে। বর্তমানে সমাজে ও রাষ্ট্রের প্রশাসনসহ প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। দুর্নীতির এ অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে এবং জাতিকে দূষণমুক্ত করতে হলে সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক দলসমূহ ও সচেতন দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং কঠোর অভিযান চালাতে হবে। এছাড়া মাদকের ছোবলে যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। সারা দেশে মাদকের প্রভাব এতোটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যেকটি শহরে-গ্রামে-গঞ্জে মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক পাচারকারীদের যন্ত্রণায় দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। মাদকাসক্তের কারণে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক অনাচার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ বুধবার "জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা" শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ গবেষক কলামিস্ট, ইসলামী চিন্তাবিদ, ঢাকাস্থ "জমজম এডুকেশন এন্ড রিসার্স ফাউন্ডেশন"-এর চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বি এম শহীদুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের নাগরিকগণ ও সচেতন অভিভাবকগণ সতর্ক হলে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল ও মাদকাসক্তের দৌরাত্ম দূর করা সম্ভব হবে এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে। ড. শহীদ আরো বলেন, নৈতিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় রীতি-নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত না থাকার কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, সামাজিক বৈষম্য ও মাদকাসক্তের হার কমে যাবে। সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় দেশ চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হবে। প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে কোনো প্রতিফলন না থাকায় দুর্নীতির পরিসর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মাদকাসক্তের প্রভাব বলয় সম্প্রসারিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে জাতির গৌরবময় ভবিষ্যত যুবসমাজ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেমিনারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সমাজসেবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে মাদক দমন ও মাদকদ্রব্য চোরাচালান বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার ও বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।