|| ড. বি এম শহীদুল ইসলাম ||
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২১/০৮/২০২৬ তারিখে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে গত ২০/০৮/২০২৬ তারিখে সংসদ ভবন এলাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের পক্ষে কর্নেল ড. অলি আহমদ। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদ সংসদের ভোটে বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তবে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় মির্জা ফখরুলের। মুক্তিযুদ্ধের তার ভূমিকা কি ছিল সেটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই তেমনটি নয়। তারপর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ অতিক্রম করে এবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রবীণ এ কমিউনিস্ট ঘরানার বামপন্থী রাজনীতিবিদ। জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রবীণ এ রাজনীতিককে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন সংসদ সদস্যরা। জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সরকারি দলের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৫৫ এবং বিরোধী দলের পক্ষে ভোট পড়েছে ৮৮টি। ভোটদানে বিরত থেকেছেন ৬জন সংসদ সদস্য। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হওয়ার আগে ১৩তম সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। তারপর প্রায় ৭৯ বছর বয়সী এ রাজনীতিক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আগে সিভিল সার্ভিসের শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য হিসেবে অর্থনীতির শিক্ষকতা করেন মির্জা ফখরুল। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দায়িত্বও পালন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় মির্জা ফখরুল সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন বলে জানা যায়। তারপর মূল দল কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন। মূলত তিনি কমিউনিস্ট দর্শনের রাজনীতিবিদ।উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন বিএনপির এ নেতা। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় কমিউনিস্ট থেকে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে অগ্রসর হন তিনি।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানই শেষ পর্যন্ত জাতিকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়। সে সময় তিনি বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে কেউ কেউ মনে করেন। তবে তার পিতা মির্জা নুরুল আমিন যে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি ছিলেন, তা দেশবাসী জানে। পরে তিনি ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে যোগ দেন শিক্ষকতা পেশায় এ বাম রাজনীতিবিদ। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। একই সময়ে সরকারি চাকরির অংশ হিসেবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। এছাড়া ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন। মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দিতে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। এর দুই বছর পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের জন্মস্থান উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে এ পদটি মেয়র হিসেবে পরিচিত। এর কিছুদিন পর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা সাহেব। এতে করে বুঝা যায় তিনি দল পরিবর্তন করতে পছন্দ করেন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন আলমগীর। তার বাবা ছিলেন তৎকালীন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক সদস্য মির্জা রুহুল আমিন। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে স্বৈরাচারী শাসক ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন তিনি সুযোগ বুঝে বিএনপিতে যোগ দেন। ঐ বছর ৬ ডিসেম্বর গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতন ঘটে এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। ২০১১ সালে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলামকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। তার আগে তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। পরে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ তাকে কাউন্সিলর মাধ্যমে মহাসচিবের স্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে সংবিধান অনুযায়ী দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয়েছে তাঁকে। এজন্য মনোনয়ন পত্র দাখিলের আগেই তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। সুতরাং অফাসিয়ালি তিনি এখন বিএনপির কেউ নন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম এখন বাংলাদেশ ও এদেশের জনগণের প্রতিনিধি। তবে রাষ্ট্রপতি হবার পর তিনি দলীয় প্রীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন কিনা বলা মুশকিল।
যাইহোক মির্জা ফখরুলের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের সময়টিই ছিল বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনে ব্যাপক দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে পড়েন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকেও কারাবন্দি হতে হয় জায়া অরফ্যানেজ ট্র্যাস্ট মামলায়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি মারা যান। তাঁর ছেলে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তথা ১/১১ সরকার নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে দেশে আসার সুযোগ দেয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার আওয়ামী সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও জটিলতার কারণে দেশে ফিরতে পারেননি তারেক রহমান। এহেন পরিস্থিতিতে লন্ডন থেকে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় দলের সামনের সারির প্রধান নেতা হিসেবে দল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মির্জা ফখরুল। তবে এ সময় তাকে বিভিন্ন সময় কারাবরণ করতে হয়। মহাসচিব হওয়ার আগে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রথমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। দীর্ঘদিন দলের অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মির্জা। ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঐ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন করলে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তখন কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল।
২০১৮ সালের ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিতর্কিত নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বগুড়ার একটি আসন থেকে দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মির্জা ফখরুল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। যদিও দলের অন্য পাঁচ সংসদ সদস্যকে সংসদে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তারা ২০২২ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঐ বছর দলীয় নির্দেশে তারাও এক সময় পদত্যাগ করেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গঠিত হয়। এরপরই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মির্জা আলমগীর। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হওয়ার কারণে সংবিধান অনুযায়ী বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয়েছে তাঁকে। এ সময় আবেগঘন এক অনুষ্ঠানে তার এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন ঐ অনুষ্ঠানে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে বেসরকারি বীমা কোম্পানিতে কাজ করেছেন। এ দম্পতির দুই মেয়ে রয়েছে। তারা দুজনই শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। ছোট মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা আলমগীর একজন মধ্যপন্থী ও বিনয়ী রাজনীতিক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন বলে অনেকেই মনে করেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, এমনকি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও ব্যক্তিগতভাবে তাকে নাকি প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন সময়। তবে একথার সত্যতা যাচাই করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ ও বিএনপি নেতাসহ অন্যান্য রাজনীতিবিদরা দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলামকে স্বাগত জানিয়েছেন। এমনকি বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার সাথে কোলাকুলির দৃশ্য জনগণের দৃষ্টি এড়ায়নি। বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে ফখরুলকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক নেতারাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বঙ্গভবনে উপস্থিত ছিলেন। তবে জনশ্রুতি আছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পিতা মির্জা নুরুল আমিন মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বীরোধিতা করেছেন। মির্জা ফখরুলের পিতা মির্জা নুরুল আমিন ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার বিরুদ্ধে একনিষ্ঠভাবে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে মিলে-মিশে মির্জা নুরুল আমিন গণহত্যা, খুনখারাবি ও নারী নির্যাতনের সাথে জড়িত ছিলেন বলে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে মির্জা ফখরুলের বয়স ছিল ২৫ বছর। এমন একজন টগবগে যুবক সে সময় যুদ্ধে কেন যাননি, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে অনেক প্রশ্ন রয়েছে! সচেতন নাগরিকদের অনেকেই বলেন, তিনি তার পিতার সাথে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছেন। অর্থাৎ মির্জা ফখরুল তার রাজাকার পিতা মির্জা নুরুল আমিনের নেতৃত্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন একজন কুখ্যাত রাজাকারের পুত্র রাজাকার কিভাবে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত পদ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন? এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে এমন কিছু অপরিপক্ক বক্তব্য রেখেছেন, যা একজন মুসলিম হিসেবে ইসলামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি একথা সুস্পষ্ট করে বলেছেন যে, "আমরা শরীয়তের আইনে বিশ্বাস করি না"। একজন কমিউনিস্ট দর্শনের রাজনীতিবিদ হিসেবে একথা বলা তার জন্য স্বাভাবিক, কিন্তু তিনি যদি নিজেকে মুসলিম সন্তান হিসেবে দাবি করে থাকেন, তাহলে এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। প্রায় ৯২% ভাগ মুসলমানের দেশে এমন ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য এদেশের জনগণ মেনে নেয়নি। তাই রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের আগে তাকে জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এছাড়া দেশের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি জনগণের নিকট কতটুকু নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে পারবেন এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল পদের মর্যাদা আদৌ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে জনগণ শঙ্কায় রয়েছেন। কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো প্রকৃত অবস্থা বুঝা যাবে। সেই দিনের অপেক্ষায় জাতিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণের হয়ে কি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবেন?
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক গবেষক ও কলামিস্ট।