মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জুয়েল, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লস্করপুর এলাকার গুগালীছড়া নদীর পানি বেড়ে স্থানীয় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে। মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ির আশপাশ ও পুকুর। পানির স্রোত ঠেকাতে নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারাই বাঁধ মেরামতের কাজে নেমেছেন। তবে পানির চাপ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা।
স্থানীয়দের চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সবুজ ফসলের মাঠ। যে জমিতে কয়েক মাসের শ্রম, ঘাম ও অর্থ বিনিয়োগ করে ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষকেরা, সেই জমিই এখন পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কায়। কৃষকদের ভাষায়, ফসল নষ্ট হলে শুধু একটি মৌসুমের ক্ষতি নয় অনেক পরিবারের ঘরে নেমে আসবে অভাবের অন্ধকার।
লস্করপুর ছাড়াও জয়পাশা ও দানাপুর এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি, পুকুর ও মাছের ঘের প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি বাড়তে থাকলে ঘরবাড়িতে পানি ঢোকার পাশাপাশি পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়া, ফসল নষ্ট হওয়া এবং রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গুগালীছড়া নদীর বাঁধ ভাঙন এখন তাদের কাছে নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতি বছর বর্ষা এলেই কোথাও না কোথাও বাঁধ দুর্বল হয়ে ভেঙে পানি ঢোকে। তখন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, সাময়িকভাবে বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বর্ষা শেষ হলে স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি আবারও আড়ালে পড়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর এভাবে বাঁধ ভাঙা ও জোড়াতালি দিয়ে মেরামতের কারণে সমস্যাটি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। নদীর তীর সংরক্ষণ, টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না করলে আগামী দিনগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
কৃষকরা বলছেন, তাদের জমিই পরিবারের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। ফসলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের খাবার, চিকিৎসা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। সেই ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেলে একদিকে যেমন খাদ্য ও উৎপাদনের ক্ষতি হবে, অন্যদিকে কৃষক পরিবারগুলো ঋণ ও আর্থিক সংকটে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন প্রতিবছর বাঁধ ভাঙার পর পরিদর্শন ও সাময়িক সংস্কারই যদি সমাধান হয়, তাহলে স্থায়ী সমাধান হবে কবে? গুগালীছড়ার ভাঙন থেকে লস্করপুরসহ আশপাশের মানুষ কবে নিরাপদ হবে
দ্রুত পানি নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে চলতি মৌসুমে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, পুকুর ও মাছের ঘেরসহ ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং গুগালীছড়া নদীর বাঁধের স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।