তাজরিন আক্তার মুন্নি মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে উপজেলায় পদ্মা নদী ভাঙনে অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুরের নদীভাঙনকবলিত এলাকায় এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় হরিরামপুর উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন,
‘ভাঙনকবলিত মানুষের ঘড়বাড়ি ভাঙ্গন জমিজমা দুর্ভোগ-দুর্দশা সরেজমিনে দেখে গেলাম। অসহায় নিরীহ মানুষ ভয়াল পদ্মার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ও দিশেহারা। ভাঙ্গন কবলিত মানুষের প্রধান দাবি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। কিন্তু এটি প্রতিকার করা খুব সহজ নয়। দ্রুত কিছু জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব। তবে তাতে স্থায়ী কোনো সমাধান হবে না। কারণ এ এলাকার পুরোটাই বালুময়।
তিনি আরো বলেন, ‘আগামী শুষ্ক মৌসুমে কীভাবে স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধ করা যায়, সে বিষয়ে একটি পরিকল্পনা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ভাঙনকবলিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা স্বচক্ষে দেখার জন্য আমরা এখানে এসেছি। অসহায় ও ভিটেমাটি হারা মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাদের জন্য কিছু শুকনো খাদ্যসামগ্রী সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্যভাবেও তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা চলছে।
স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে এমপি শান্ত বলেন, ‘স্থায়ী বাঁধ কীভাবে নির্মাণ করা যায়, আমরা সেই পথেই এগোচ্ছি। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও নকশার বিষয় রয়েছে। আশা করছি, অচিরেই এর কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান। এ সময় হরিরামপুর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রতন, সাবেক সভাপতি হান্নান মৃধা, গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিক বিশ্বাসসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধান অতিথি মঈনুল ইসলাম খান শান্ত নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের হাতে প্যাকেটজাত শুকনো খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। ত্রাণ সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি দেখা যায়।
নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এখন স্থানীয় মানুষের প্রধান দাবি