সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট বাজারের পালপাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে বিভিন্ন মণ্ডপের জন্য প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত কাজ করছেন তারা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রতিমা তৈরির খরচ অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ বাড়লেও লাভ হচ্ছে মাত্র ৩০ শতাংশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘরে পালপাড়ায় দেখা যায়, প্রতিমা তৈরিতে মাটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন চলছে প্রতিমার শাড়ির ডিজাইন, মাথা ও অন্যান্য অংশের গঠন তৈরির কাজ। সব প্রতিমার গঠন শেষ হলে শুরু হবে রং-তুলির কাজ।
কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূজার প্রায় ২০ দিন আগে প্রতিমায় রং-তুলির কাজ শুরু করা হবে। এ বছর ভদ্রঘাট পালপাড়ায় দুই শতাধিক প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে একটি প্রতিমার আনুমানিক দাম ২৫ হাজার টাকা। আকার ও কাজের ধরনভেদে সর্বনিম্ন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কারিগরদের পাশাপাশি জেলার বাইরে থেকেও বগুড়া, পাবনা, রংপুর ও নাটোর জেলার কারিগররা এসে এখানে প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত হয়েছেন। তৈরি করা প্রতিমাগুলো টাঙ্গাইল, নাটোর, বগুড়া ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা নিয়ে যাবেন।
ভদ্রঘাটের পালপাড়ার কারিগরদের অনেক পুরোনো ক্রেতা রয়েছে। প্রায় ৪০ জন স্থায়ী ক্রেতা রয়েছেন এক গৌড় পাল কারিগরের কাছে। তিনি বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে প্রতি বছরই এসব ক্রেতা এখান থেকে প্রতিমা সংগ্রহ করেন।
কারিগরদের হিসাব অনুযায়ী, ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া একটি প্রতিমা তৈরিতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিমা তৈরির উপকরণ ও শ্রমের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাদের দাবি, সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় লাভ বাড়েনি; বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশের মতো লাভ থাকে।
কারিগররা বলছেন, খরচ বাড়লেও প্রতিমার দাম ইচ্ছেমতো বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলে আগের তুলনায় খুব বেশি লাভ থাকছে না। তবে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশার প্রতি টান এবং পূর্বপুরুষদের ব্যবসা ধরে রাখতেই এখনও তারা প্রতিমা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রতিমা তৈরির কারিগর বলরাম পাল বলেন, একেকটি প্রতিমার একেক দাম। আমাদের এলাকায় ২১৬টি প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। দামের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। তাই কত টাকার প্রতিমা বিক্রি হবে, সেটি বিক্রি শেষ না হওয়ার আগে বলা যাচ্ছে না।
নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে কামারখন্দ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরির স্থানগুলোতেও পুলিশের নজরদারি রয়েছে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার স্যার বিকেলে ওই এলাকা পরিদর্শন করবেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ভদ্রঘাটের পালপাড়া এলাকার তৈরি প্রতিমা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যায়। এসব প্রতিমা পরিবহন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির স্থানগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
এ বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হবে ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে এবং মূল পূজা শুরু হবে ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে।