""বাবা""
সৈয়দ জাভেদ সালেহউদ্দিন
রোজ সকালে দিনের শুরু
আয়না দেখে সবে
আমি দেখি তোমার ছবি
কাদায় যখন সবে।
রক্তশিরায় অনুভবে
শুধুই তোমার বদন,
বহু যুগের কাল গড়িয়ে
থামছে না মোর রোদন।
আল্লাহ,খোদা,ভগবানের
খোঁজে সবাই ছুটে,
অনুভবে লভি তোমায়
বিশ্বভূবন লুটে।
মুখোশধারী চারিপাশে
স্ত্রী পুত্র জায়া,
টাকা ছাড়া আমায় তারা
কেউ করেনা মায়া।
রোগে শোকে তক্তাপোশে
একলা শুয়ে ব্যাকুল,
নিজের কাছে লাগে আমায়
চাবি দেওয়া পুতুল।
অক্সিজেনের বোতল নিয়ে
শ্বাসের সময় একা,
হঠাৎ হঠাৎ পাইযে আমি
বাবা তোমার দেখা।
ছেলে আমার মহাজ্ঞানী
রাত্রি জেগে রয়,
মোবাইলের নেশার বুদে
দুপুরে ভোর হয়।
স্ত্রী আমার বেজায় ভালো
দুচোখ তাহার কৃষকালো,
নিজ ভূবনে আত্মহারা
স্বামী থেকেও স্বামীহারা।
আমি তাহার মহাবাধা
হতে তাহার বিশ্বরাধা,
কন্ঠে তাহার আগুন ঝরে
ক্ষোভ সকলি আমার পড়ে।
নিমগাছেতে আম ধরেনা
এসব কথা সবার জানা,
কাক কখনো হয়না সাদা
শরীর ঘষে মাটি-কাদা।
যার যা স্বভাব যায়না পোড়া
যতই থাকুক সনদ মোড়া,
পরিবারের রক্ত যেমন
গড়ে উঠে ঠিক সে তেমন।
মাঝ আকাশে সূর্য ঢলে
দু`দিন পরে মাটির তলে,
যেকটা দিন ধরায় আছি
সুখ শান্তি ভালোবাসি।
থাকলে ইতর প্রাণের মাঝে
মোর প্রানেতেও ইতর নাচে,
একটা জীবন ফিরবে না আর
ধরায় করি অন্ন সাবাড়।
দুচোখ দিয়ে পানির ধারা
গড়িয়ে পড়ে মুখে,
বাবা তুমি দেখ আমি
আছি বেজায় সুখে।
স্মিথ হেসে শিয়র বসে
ডাকেন বাবা `জয়`,
আমি বলি বাবাই আমার
কবর যেন তোমার বুকে হয়।।