অনলাইন ডেস্ক : ঈদ যাত্রায় স্বস্তি নিশ্চিত করতে সব ধরণের যানবাহনে জ্বালানি বিক্রির বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খণিজ সম্পদ বিভাগ। কিছুক্ষণের মধ্যেই এই বিষয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে আতঙ্কিত লোকজন বেশি তেল কেনা শুরু করলে গত ৬ মার্চ রেশনিং করা হয়। মোটরবাইকে ২ লিটার, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি ও মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির আদেশ জারি করা হয়। কয়েকদিন পরে রাইডশেয়ারিং চালকদের ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়। একই সঙ্গে ২৫ শতাংশ রেশনিং থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়।
বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপরেশন) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন আজাদ বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আজকে বৈঠকে দূরপাল্লার যানবাহনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই নতুন ঘোষণা আসতে যাচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঈদ যাত্রা যাতে সুন্দর হোক তার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাতে কেউ আক্ষেপ প্রকাশ করার সুযোগ না পান। জনগণের প্রতি অনুরোধ হচ্ছে আতঙ্কিত হয়ে বেশি কিনবেন না। তেলের মজুদ আতঙ্কিত হওয়ার পর্যায়ে এখনও যায়নি।
অন্যদিকে শনিবার (১৪ মার্চ) এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের সীমা তুলে দেওয়া হচ্ছে। তারপর থেকেই বিষয়টি আলোচনা চলছে। তবে এখনও চূড়ান্ত কোন ঘোষণা আসেনি বিপিসি কিংবা জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে।
এর আগে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, অর্ধেকের কম তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাহকদের তেল দিনে না পারায় অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের অনেক পাম্প তেল তোলা বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপরেশন) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন আজাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বলেন, ইতোপূর্বে সিলেটে এভাবে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, পরে বিভাগীয় শহরে রেশনিং কমিয়ে দেওয়ায় আন্দোলন থেকে সরে এসেছে। আগামীকাল রেশনিং কমে গেলে রাজশাহী ও খুলনার পাম্পমালিকরাও নিশ্চয় বিষয়টি বুঝেবেন। আর তাদেরও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণ দুর্ভোগে পড়ে এমন কোন সিদ্ধান্ত তারা নেবেন বলে আমি মনে করি না।
ইরান যুদ্ধের কারণে ৫ মার্চ থেকে আতঙ্ক ছড়তে শুরু করে। ওই দিন অনেকেই গাড়ির ট্যাংক ভর্তি করে নিতে থাকেন। এতে বাড়তি চাপে সংকটের শঙ্কায় তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আতঙ্কিত লোকজনের ভীড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। অনেক জায়গা থেকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোল পাম্পে পুলিশ ও ডিপো গুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তারপরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। জ্বালানি নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কেটে যাচ্ছে। তারপরও চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। দেশের অনেক এলাকা পাম্পগুলো তেল শুন্য হয়ে পড়েছে। এতে করে চরম দূর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে জনগণকে।