মিয়া আবদুল হান্নান : এটি রমজানের নাজাতের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর একটি, যাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা এবং ইবাদতে মগ্ন থেকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।
২৫ রমজানের বিশেষ ফজিলত ও আমল:
কবরের আজাব মুক্তি: ২৫ রমজানে রোজা পালনের মাধ্যমে কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। নাজাতের রাত: রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাত (২৫ ২৭, ২৯) ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হয়, এর কোনো একটি রাত লাইলাতুল কদর।
লাইলাতুল কদর তালাশ: এই রাতে ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাতে সাওয়াব অর্জনের বিশেষ সুযোগ থাকে।
ইতিকাফ ও ইবাদত: শেষ দশকে নবীজি (সা.) ইতিকাফ করতেন এবং বিশেষভাবে ইবাদত করতেন, যা এই সময়ে পালনের সুন্নাহ।
গুনাহ মাফ: রহমত, বরকত ও নাজাতের এই মাসে বিশেষ করে শেষ দশকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এই রাতটি বিশেষ ইবাদত, মোনাজাত ও গুনাহ মাফের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২৫ রমজানের রোজার ৫ এপ্রিল শুক্রবার জুমআ ফজিলত সম্পর্কে স্বতন্ত্রভাবে বলা হয় – কবরের শাস্তি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। নাজাতের শেষ দশকের বিজোড় রাত ২১, ২৩, ২৫ রমজান বিদায় নিয়ে চলে গেছে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে আজ জুমআতুল বিদা রমজান মাসের শেষ জুমআ। আগামী ২৬ রমজান দিনগত রাতে লাইলাতুল কদর২৭ রমজান তারপরেও ২৯তম রমজান রাতে শবে কদর তালাশ কর। মুসলিম উম্মাহর কাছে এটি একটি পবিত্র দিন রোজাদারকে স্মরণ করিয়ে দেয়, রমজানের শেষলগ্নে এর চেয়ে ভালো কোনো দিন আর পাওয়া যাবে না।বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, নবীজি সাল্লুল্লাহ আলাইহিসসালাম বলেন, ‘তোমরা রোজার শেষ দশকের বিজোড় রাতে শবে কদরের সন্ধান কোরো। কদর মানে সম্মানিত, কদর মানে নিয়তি। শবে কদর ফারসি, আরবিতে লাইলাতুল কদর, মানে কদরের রাত। এ সম্পর্কে কোরআন মজিদে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা নাজিল হয়েছে। আল্লাহ যে রাতে কোরআন অবতীর্ণ করেছেন, সে রাতকে বরকতময় করেছেন। সেটিই কদরের রাত। আল্লাহ বলেন, ‘হা-মিম, শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, আমি তো এ (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি এক লাইলাতুল মোবারক (সৌভাগ্যের রাত্রিতে)। আমি তো সতর্ককারী। এ-রাত্রিতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়। আদেশ তো আমারই। আমিই রাসুল পাঠিয়ে থাকি, এ তোমার প্রতিপালকের তরফ থেকে অনুগ্রহ। তিনি সব শোনেন, সব জানেন।’ (সুরা দুখান, আয়াত: ১-৬,) রমজানের তিনটি অংশ—রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত। হাদিসে আছে, রমজানের প্রথম অংশ রহমতের, মাঝখানের অংশ ক্ষমার, শেষ অংশ মুক্তির। আল্লাহ বলেন, ‘বলো, হে আমার দাসগণ! তোমরা যারা নিজেদের ওপর জুলুম করনা, জান্নাত অনুগ্রহের ব্যাপারে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ্ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।` (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)।
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যায় না। তিনি বলেন, ‘যারা পথভ্রষ্ট তারা ছাড়া আর কে তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ থেকে হতাশ হয়?’ (সুরা হিজর, আয়াত:৫৬)। যারা হতাশ হয় না, আল্লাহ তাদের তিনটি নেয়ামত দান করেন, বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, গুনাহ মাফ করেন, কঠিন কাজ সহজ করে দেন।কদরের রাতে পুরো ত্রিশ পারা কোরআন একত্রে লাওহে মাহফুজ থেকে অবতীর্ণ করেন। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে তেইশ বছর ধরে প্রয়োজনমতো বিভিন্ন উপলক্ষে দুনিয়ায় নাজিল হতে থাকে। কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ, এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
রোজার মাস জুড়ে বিশেষত শেষ দশকে কদরের রাত খোঁজা মোস্তাহাব; আরও নির্দিষ্ট করে বললে, রমজানের শেষ দশকের নাজাতের বিজোড় রাত ২১, ২৩, ২৫ বিদায় নিয়ে চলে গেছে , ২৭ ও ২৯তম রাতে। বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, নবীজি সাল্লুল্লাহ আলাইহিসসালাম বলেন, ‘তোমরা রোজার শেষ দশকের বিজোড় রাতে শবে কদরের সন্ধান কোরো। আল্লাহ বলেন, ‘আমি এ (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কাদরে (মহিমার রাত্রিতে)। মহিমার রাত্রি সম্বন্ধে তুমি কী জান? মহিমার রাত্রি হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সে-রাতে প্রত্যেক কাজে ফেরেশতারা ও রুহ (জিবরাইল) অবতীর্ণ হয় তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে। এ শান্তি! ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।’ (সুরা কদর, আয়াত: ১-৫)।