আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের তেলের প্রধান ঘাঁটি খার্গ আইল্যান্ডে হামলা চালানোর জন্য আমেরিকা ব্যবহার করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দু’টি ঘাঁটি, এমনটাই দাবি করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটিতে হামলার ঝাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। রবিবারও দুবাইতে একাধিক হামলা হয়েছে। তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে দুবাই মেরিনা এবং আল সুফৌ সংলগ্ন এলাকায়।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরা তেল টার্মিনালেও রবিবার হামলা চালিয়েছে ইরান। সেখানে তেল তোলার কাজ থমকে গিয়েছে। ফুজাইরা কেন্দ্রে হামলার কারণে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুরু কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি, এর ফলে জর্ডনের এক নাগরিক আহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত আর কোনও হতাহতের খবর নেই।
শনিবারও দুবাইতে হামলা হয়। শহরের মধ্যভাগ থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় একাধিক বার। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে নিশানা করে ১৮০০-র বেশি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে ১৬০০টি ড্রোন, ২৯৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫টি ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র। পশ্চিম এশিয়ার আর কোনও দেশে এত হামলা করা হয়নি। ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে সরকারি হিসাবে মোট ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, খার্গ আক্রমণের জন্য আমেরিকা ব্যবহার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস আল-খাইমার একটি ঘাঁটি। এ ছাড়াও একটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে খার্গে বোমা ফেলা হয় এবং সেটি দুবাইয়ের খুব কাছে অবস্থিত। আমেরিকার এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেছেন আরাঘচি। পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে কোনও জনবহুল এলাকায় প্রত্যাঘাত না করার চেষ্টা তাঁরা করবেন। ইরানের এই দাবি প্রসঙ্গে সংবাদসংস্থা এপি আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনীর প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা কোনও মন্তব্য করেনি।
ইরানের লাগাতার হামলার মুখেও আঞ্চলিক শান্তির বার্তা দিয়েছে আমিরশাহি সরকার। সে দেশের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাঁদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে এখনও যুক্তি দিয়ে তাঁরা পরিস্থিতি বিবেচনা করছেন এবং আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে ধৈর্য ধরে আছেন।
কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও রবিবার কয়েকটি হামলা হয়েছে। এ ছাড়া, বাহরিন, ওমান এবং সৌদি আরবে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে সৌদি যে ১০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে বলে দাবি করছে, ইরান সেগুলির দায় স্বীকার করেনি।