কামরুল হাসান : পবিত্র রমজানের আধ্যাত্মিক আবহে দেশ, জাতি ও মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় মানিকগঞ্জে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মানিকগঞ্জ শাখা। ব্যবসায়ী সমাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে সমিতির নিজস্ব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ দোয়া ও ইফতার মাহফিলে জেলার ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। রমজানের সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশের সার্বিক কল্যাণ, শান্তি ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মানিকগঞ্জ বড় বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফিরোজ। মোনাজাতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপির মমতাময়ী মা মরহুমা হুরন নাহার রশীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো এবং সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত হারুনার রশীদ খান মুন্নু এমপি-এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
মোনাজাতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। পাশাপাশি বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সামগ্রিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
সমিতির সভাপতি তপন কুমার নাগের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া হাবু, জেলা বিএনপির সাবেক স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহিদুজ্জামান নাজমুল, জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি রুস্তম উদ্দিন ভূঁইয়া বাবু, কবিরুল ইসলাম কবির, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া মানিকগঞ্জ জেলা জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সমিতির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা বলেন, রমজান কেবল আত্মশুদ্ধির মাসই নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ারও সময়। ব্যবসায়ী সমাজ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার—এই উপলব্ধি থেকে সমাজের কল্যাণ ও জাতীয় ঐক্যের প্রত্যাশা নিয়ে এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।