বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকা থেকে ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস)–এর কয়েক কোটি টাকা মূল্যের গুরুত্বপূর্ণ তার চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি শুধু বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং ফ্লাইট নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে বিমানবন্দরের রানওয়ে সংলগ্ন এলাকা থেকে এসব মূল্যবান তার চুরি হয়। তবে ঘটনার পরপরই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। পরে শনিবার ঘটনাটি জানাজানি হলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
রবিবার (১৫ মার্চ) এ ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সদর দফতর। বেবিচকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কয়েকদিন আগে চুরির ঘটনা ঘটলেও কক্সবাজার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তা তাৎক্ষণিকভাবে সদর দফতরকে অবহিত করেনি। বিষয়টি পরে প্রকাশ্যে আসলে রবিবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেডিও নেভিগেশন ব্যবস্থা, যা কুয়াশা বা খারাপ আবহাওয়ার সময় পাইলটদের নিরাপদে রানওয়েতে বিমান অবতরণে সহায়তা করে। এই ব্যবস্থার তার চুরি হওয়ায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর অবাধ বিচরণের খবর বিভিন্ন সময় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এবার নেভিগেশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ তার চুরির ঘটনা বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মর্তুজা হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকা থেকে এমন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির তার চুরি হওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।